ব্যস্ত এই জীবনে নিয়ম করে কে কার খেয়াল রাখতে পারে? দিনশেষে নিজের ভার নিজেকেই বহন করতে হয়। তাই নিজের যত্নের (সেলফ কেয়ার) বেলায় অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজেই পদক্ষেপ নিয়ে নিন।
নিজের যত্ন বলতে কি বুঝায়?
সেলফ কেয়ার, সেলফ প্যাম্পারিং শব্দগুলো বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত এবং প্রচলিত। এসব শব্দের অর্থই হলো স্ব-যত্ন বা নিজের যত্ন। নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে ঠিক রাখতে নিজেই কিছু পদক্ষেপ নেয়া বা কিছু কাজ প্রতিদিনের রুটিনে রেখে মেনে চলা হলো স্ব-যত্ন ( সেলফ কেয়ার)।
স্ব-যত্ন কেন প্রয়োজন?
জীবন যাপনের জন্য শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা অপরিহার্য। এই সুস্থতার দায়ভার নিজের। নিজেকে সুখী রাখতে হলেও স্ব-যত্ন প্রয়োজন। স্ব-যত্ন আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। উদ্যমী করে তোলে। নিজেকে প্রাধান্য দিতে শেখায়। নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হলে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া সহজ হয়। তাই স্ব-যত্নের বিকল্প নেই।
কীভাবে করি নিজের যত্ন?
যে কাজের মাধ্যমে আপনার মনে হবে আপনার শরীর ও মন শান্ত এবং সন্তুষ্ট থাকছে সঙ্গে আপনার মনে সবসময় আত্মতৃপ্তি কাজ করছে; সেগুলোই হলো নিজের যত্নের জন্য করা কিছু কাজ।
ভালো লাগার কাজ বেশি করা
কেউ রান্না করতে পছন্দ করেন, কেউবা ছবি আকতে কিংবা কেনাকাটা করতে। যে কাজটি করতে মজা পান, সুন্দর সময় কেটে যায়, একঘেয়ে লাগে না; সেগুলো প্রতিদিন সময় করে করুন। আত্মতৃপ্তি নিয়ে দিন শেষ করতে পারবেন। যখন ভালো লাগবে না, বিরতি নিতে পারেন।
রূপচর্চা করা
নিজের যত্ন নেয়া কিছু কাজের মধ্যে যেমন সহজ; তেমন গুরুত্বপূর্ণ হলো রূপচর্চা করা। নিজেকে ভালোবাসতে সহায়তা করে রূপচর্চা। শারীরিক আরামও দিয়ে থাকে। ঘরে রুমের আলো কমিয়ে , হালকা গান ছেড়ে মুখে বেসন এবং মধুর মিশ্রন লাগিয়ে, দুইটি শসার টুকরো চোখের ওপর দিয়ে শুয়ে থাকুন। মেজাজ ফুরফুরে হবে। ঘরে আলসেমি লাগলে পার্লার বা সেলুনে গিয়ে বডি মেসেজ, অয়েল মেসেজ, ফেশিয়াল করে নিতে পারেন।
বই পড়া/ সিনেমা দেখা/ গান শোনা
এই কাজগুলো কীভাবে নিজের যত্নের মধ্যে পড়ে? এ তো আমোদপ্রমোদের বিষয়। হ্যাঁ, কাজগুলো আমোদপ্রমোদের কাজ হলেও তৃপ্তি দিয়ে থাকে, মন- মেজাজ পরিবর্তন করে থাকে। সঙ্গে নিজের সাথে সময় কাটানো হয়ে যায়। তাই একহাতে কফি আরেক হাতে বই নিয়ে বসে পড়ুন। প্রতি সপ্তাহে ঘরেই নিজের পছন্দের ক্যাটাগরির একটা সিনেমা একা একা দেখুন। আর মন অশান্ত হলেই কানে ইয়ারফোন গুজে প্রিয় গান শুনে নিন।
ব্যায়াম করা
নিজের শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করুন। ব্যায়ামের মাধ্যমেও নিজেকে সময় দেয়া হয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ে। কিছু ব্যায়াম মানসিক সুস্থতাও নিশ্চিত করে। ব্যায়াম মানেই শারীরিক কষ্ট এই মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। কিছু হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমেও নিজের যত্ন নিতে পারেন।
নিজের মনের কথা লিখে রাখা
যতই আশা করুন, নিজের মতো করে অন্য কেউ কোনোদিন আপনাকে বুঝবে না। এমন কিছু মনের কথা থাকে যা কাউকেই বলা যায় না বা বুঝানো যায় না। সেই কথাগুলো টুকে রাখতে পারেন একটি ডায়রিতে। সমাধান বের করার চেষ্টা করে সেটিও লিখে রাখতে পারেন। মন হালকা হবে এবং বুঝতে পারবেন কেউ না থাকলেও আপনি আছেন আপনার সঙ্গে।
প্রিয়জনদের সময় দেয়া
স্ব-যত্ন মানেই যে সবগুলো কাজ একাই করতে হবে তাও নয়। কিছু কাজ প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলে করুন। এতে সুন্দর সময় অতিবাহিত হবে। প্রিয়জনদের নিয়ে ভাবা, তাদের জন্য কিছু করা আপনাকে আত্মতৃপ্তি দেবে। অন্যকে ভালোবাসতে পারলে বুঝবেন আপনি নিজেকেও ভালোবাসেন।
প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো
মানুষের সঙ্গে সময় কাটিয়ে যত না ভালো লাগে, মনোরম প্রকৃতির সঙ্গে আরও ভালো লাগে। প্রকৃতি আপনাকে এমনভাবে মুগ্ধ করবে যা আপনার মনকে প্রাকৃতিকভাবেই শান্ত এবং ফুরফুরে করবে। তাই নিজের যত্ন নিতে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটান। পাহাড়, পর্বত সমুদ্র, জঙ্গলে ঘুরতে চলে যেতে পারেন। সময়সাপেক্ষ মনে হলে বাইরে বৃষ্টি শুরু হলে বারান্দা থেকে উপভোগ করতে পারেন। জোৎস্না রাতে ছাদে হেঁটে আসতে পারেন।
স্ব-যত্ন থেকে সার্থপরতা নয়
নিজের যত্ন নিতে নিতে এতটা আত্মমগ্ন হয়ে না যাই যেন স্বার্থপরতার আখ্যান পেতে হয়। নিজেকে গুরুত্ব দেয়া, সবার আগে নিজেরটা ভাবা অবশ্যই যৌক্তিক; কিন্তু পরিস্থিতি এবং সম্পর্ক বিবেচনায় ত্যাগের মানসিকতাও ধারণ করতে হবে। নাহলে যতই নিজেকে ভালোবাসি বা যত্ন নেই, দিন শেষে সুখ অনুভূত হবে না।
ইত্তেহাদ নিউজ, এয়ার পোর্ট রোড, আবুধাবী ,সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইমেইল: [email protected], web:www.etihad.news
এম এম রহমান, প্রধান সম্পাদক, ইত্তেহাদ নিউজ, এয়ার পোর্ট রোড, আবুধাবী, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত