অনুসন্ধানী সংবাদ

লঞ্চ যাত্রী সংকটে মালিক-শ্রমিক দিশেহারা : ৪০০ কোটি টাকা লোকসান

image 227602 1681534942
print news

আরামে যাত্রার জন্য কিছু যাত্রী লঞ্চে যাতায়াত করলেও আগের রমরমা অবস্থা এখনও ফেরেনি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। ফলে লঞ্চ ব্যবসায় নেমে এসেছে ভাটা, যার প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের বেতনে।

এমনকি লঞ্চ মালিকরা সর্বশান্ত হারিয়ে দিশেহারা হয়েছে বলে দাবি করেছেন লঞ্চ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরাম (এসসিআরএফ) সূত্রে জানা যায়, আগে প্রতিদিন ঢাকা থেকে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ লঞ্চে বরিশালসহ উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় যেত। এক বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা ১৭ হাজার কমে ৩৩ হাজার হয়েছে। এই হিসাবে ঢাকার লঞ্চযাত্রী কমেছে ৩৪ শতাংশ। এ ছাড়া আগে ঢাকা থেকে প্রতিদিন অন্তত ৮০টি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যেত। এই সংখ্যা ২০ কমে এখন হয়েছে ৬০। এক বছরে লঞ্চ চলাচল কমেছে ২৫ শতাংশ।

তারা আরও জানায়, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবসায় মন্দার কারণে মালিকরা এক বছরে অন্তত ২০টি লঞ্চ স্ক্র্যাপ (ভেঙে যন্ত্রাংশসহ লোহালক্কড় বিক্রি) করে ফেলেছেন।

সংগঠনটির চেয়ারম্যান মাহাবুব উদ্দিন আহমেদ জানান, আগে সদরঘাট থেকে ঢাকা-বরিশালের বিভিন্ন রুটে প্রায় ২০টি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করত। আর সেটা এখন সেটা নেমেছে মাত্র ৫টিতে। তাও আবার রোটেশনে ৩ দিন চলছে। সে হিসেবে সদরঘাট থেকে নৌপথ প্রায় ৭০ শতাংশ যাত্রী হারিয়েছে।

তিনি জানান, যাত্রীর সংকটের কারণে সর্বশান্ত হয়েছে ৩৫টি লঞ্চ মালিক। তারা প্রায় ৪০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। আর ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় পড়েছে প্রায় ১০০০ পরিবার।

হাই-স্পিড নেভিগেশন গ্রুপের লজিস্টিক ডিজিএম ও আইটি ইনচার্জ শামছুর রহমান জানান, আগে বহু অনলাইনে টিকিট কিনার রিকোয়েস্ট পেতাম। আর এখন এটা আনেক কমে গেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অনেকে চাকরি হারানোর ভয়ে আছেন। তারা বলছেন, একদিকে বেতন ও চাকরির অনিশ্চয়তা, অপরদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জীবনযাপন কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।

এমভি ফারহান লঞ্চের মাস্টার আব্দুল রইস বলেন, আগে একসঙ্গে অনেক লঞ্চ চলতো। এখন রোটেশন করে চলে। লঞ্চ স্টাফদের মাঝে চাকরি হারানোর আতঙ্ক রয়েছে। কারণ, মালিকপক্ষের তো সক্ষমতা থাকতে হবে। তেলের দাম বেড়েছে, জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, যারা এই পেশায় আছেন, অনেক দিন আছেন, অন্য কাজও জানা নেই, লঞ্চ কমে গেলে তাদের অনেকের চাকরি থাকবে না।

সুন্দরবন লঞ্চের স্টাফ মইন উদ্দিন বলেন, ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে, ফলে খরচ বেড়েছে। জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে ১৫ হাজার টাকা বেতনে চলে না। আমরা তাও ১০-১৫ তারিখের মধ্যে বেতন পাই। অনেক লঞ্চে গত মাসের বেতনও দেওয়া হয়নি। সামনে কী যে হবে জানি না।

সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনাকালের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি কোম্পানিগুলো। অনেক কোম্পানিই বসে গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....
ইত্তেহাদ ডেস্ক :

ইত্তেহাদ ডেস্ক :

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *