মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে ভোটাধিকারকেই ধ্বংস করেছে সরকার: সাকি


ঢাকা অফিস : সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার নামে গণতন্ত্র ও সার্বজনীন ভোটাধিকারকেই ধ্বংস করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের বহির্বিভাগ সংলগ্ন শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
জোনায়েদ সাকি বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছরে এবং ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের ৫৫ বছর পর এসে মুক্তিযুদ্ধের যে অঙ্গীকার ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার তা এমনভাবে ভূলুণ্ঠিত হয়েছে- মানুষকে ন্যূনতম ভোটাধিকার রক্ষার জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারি এক তরফা ও নজিরবিহীন দখল কায়েমের ভোটের মধ্য দিয়ে দেশকে এমন জায়গায় ঠেলে দিয়েছে যে, রাষ্ট্র আজকে ধসে পড়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। এরা (সরকার) আসলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার নামে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা গণতন্ত্র ও সার্বজনীন ভোটাধিকারকেই ধ্বংস করেছে।
তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি শহিদ আসাদের জীবন দান এ অঞ্চলের গণমানুষের মধ্যে এমন এক চেতনার উত্থান ঘটিয়েছিলো যে আইয়ুব খানের মতো স্বৈরশাসকেরও পতন নিশ্চিত হয়েছিলো। শুধু তাই নয় এ গণঅভ্যুত্থানের ভেতর দিয়েই জমিন তৈরি হয়েছিলো ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের। শহিদ আসাদ একজন রাজনীতি সচেতন ছাত্র আন্দোলনের নেতাই ছিলেন না, তিনি কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। মওলানা ভাসানীর ডাকে যখন এদেশের বঞ্চিত নিপীড়িত কৃষক জনতা একের পর এক ঘেরাও এবং হরতাল পালন করছিলেন, সে সময় শহিদ আসাদ এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এ কারণেই শহিদ আসাদের জীবন দান সে লড়াইয়ের প্রেরণাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, সারাদেশে বিদ্রোহের দাবানল সৃষ্টি হয় এবং সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুবের পতন নিশ্চিত হয়।
সাকি বলেন, শহিদ আসাদের চেতনায় বর্তমান স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন দেশ গড়ে তোলার লক্ষে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং ভোট ডাকাত ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের লক্ষে সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূইয়া, জাতীয় পরিষদের সদস্য সেন্টু খান, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ড প্রমুখ।
* সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news