বাংলাদেশ বরিশাল

বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে আ.লীগের নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ

98a80fa8bc220389001b237f9028a89e 657ef5b90ff21
print news

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি : মহাজোটের সমঝোতায় বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এতে নিজেদের প্রার্থী বাদ পড়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তবে সমঝোতা হলেও স্বতন্ত্র এবং ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাপার প্রার্থী, বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন। এর কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর দূরত্বকে দায়ী করছেন নেতা-কর্মীরা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম খালেদ হোসেন স্বপন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরই আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদলের গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। শেষ দিনে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন পক্ষে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে আওয়ামী লীগে হতাশা দেখা দেয়। ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে আসন সমঝোতায় আওয়ামী লীগ বরিশাল-৩ আসনে রাশেদ খান মেননকে চূড়ান্ত করেন। ১৬ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রাশেদ খান মেননকে বরিশাল-২ আসন দিলে মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগে কিছুটা স্বস্তি দেখা দেয়। কিন্তু জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতার ফলে এই আসনটি বর্তমান এমপি গোলাম কিবরিয়াকে ছেড়ে দেওয়া হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানান, আসনটি জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতায় ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আতিকুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে থাকছেন। পাশাপাশি মুলাদী উপজেলার বাসিন্দা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. মো. আমিনুল হক কবীরও প্রার্থী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা-কর্মী এই দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে পারেন। এ ছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক এমপি শেখ মো. টিপু সুলতানও হাতুড়ি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সে ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাইনুল আহসান সবুজ বলেন, ‘বারবার বরিশাল-৩ আসন জোটের শরিকদের ছেড়ে দেওয়া উচিত হয়নি। এতে নেতা-কর্মীদের মনোবল ভেঙে যায়। এ ছাড়া ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনেও গোলাম কিবরিয়া টিপু আওয়ামী লীগের সমর্থন ও ভোটে এমপি হয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগকে অবমূল্যায়ন করে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের নিয়ে ভাগ-বাঁটোয়ারা করেছেন। মুলাদী উপজেলায় দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করেননি কিংবা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কোনো সুবিধা দেননি তিনি। তাই এ বছর তাঁর পক্ষে কোনো নেতা-কর্মী নির্বাচনী কাজ করবেন কি না এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও পৌর মেয়র শফিক উজ্জামান রুবেল বলেন, ‘জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন সমন্বয়ের বিষয়টি শুনেছি। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা ছাড়া তৃণমূল আওয়ামী লীগ কারও পক্ষে কাজ করবে না।’

তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু চ্যালেঞ্জের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘মুলাদী উপজেলার আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং যতটা সম্ভব উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। স্বতন্ত্র এবং ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীদের নির্বাচন করা গণতান্ত্রিক অধিকার। মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে সাধারণ মানুষ লাঙ্গল প্রতীককেই বিজয়ী করবে।

 

* সর্বশেষ  গুরুত্বপূর্ণ  সব  সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখা পেতে আমাদের  ফেসবুক পেইজে  লাইক  দিয়ে  অ্যাকটিভ  থাকুন।  ভিজিট করুন : http://www.etihad.news

* অনলাইন  নিউজ পোর্টাল  ইত্তেহাদ নিউজে  লিখতে  পারেন  আপনিও লেখার বিষয়  ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি প্রকৃতি আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন  [email protected] ঠিকানায়
সংবাদটি শেয়ার করুন....
ইত্তেহাদ ডেস্ক :

ইত্তেহাদ ডেস্ক :

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *