শিক্ষা

৩০ দিনের মধ্যে বিয়ে না করলে সহকারী শিক্ষককে শাস্তির নোটিশ

c183f7a2ccdede06330f62ae9e2da806b74f39a3ecdb3c1f
print news

টাঙ্গাইলের গোপালপুরের সহকারী শিক্ষককে ৩০ দিনের মধ্যে বিয়ে করার লিখিত নোটিশ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সহকারী শিক্ষকের দাবি, প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম দুর্নীতি গোপন করতে এমন উদ্ভট নোটিশ দিয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

গত ২০১৬ সালে উপজেলার সাজানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে হিন্দু ধর্ম বিষয়ক শিক্ষক রনি প্রতাপ পাল যোগদান করেন। পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কারণে এখনও অবিবাহিত অবস্থায় আছেন তিনি। সম্প্রতি স্কুলের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলামের সাক্ষর জাল করে সোনালী ব্যাংক গোপালপুর শাখা থেকে বেশ কিছু টাকা উত্তোলন এবং বিধি বহির্ভূতভাবে স্কুলের ক্যাশ আত্মসাৎ করার ঘটনায় সকল শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এর মধ্যে শিক্ষা অধিদফতরে দায়ের করা দুর্নীতি অভিযোগ নিয়ে সরকারি একটি তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রধান সাক্ষী হলেন অবিবাহিত হিন্দু শিক্ষক রনি প্রতাপ পাল।

এদিকে প্রধান শিক্ষক রনিকে দুর্নীতির বিষয়ে সাক্ষী না দেয়ার নির্দেশ দিলেও রনি কোনভাবেই প্রধান শিক্ষকের কথা মানছেন না। ফলে সহকারী শিক্ষক রনির অন্যকোন দোষ না পাওয়ায় গত ২৬ জুলাই এক উদ্ভট নোটিশ জারি করেন। ওই নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে রনিকে বিবাহ করার নির্দেশ দেন। অন্যথায় তাকে শাস্তি দেয়া হবে বলে জানান। রনি পারিবারিক সমস্যার কথা জানালেও প্রধান শিক্ষক তা কোনভাবেই মানছেন না। বরং স্কুলের শিক্ষার্থী এবং সহকর্মীদের সামনে নানাভাবে অপমান করতে থাকেন। এতে তার জীবনটা বিষময় হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিলে রনিকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ব্যাপারে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছেন।

রনি জানান, তিনি বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ হিসাব নিরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রধান শিক্ষকের অনেক বিল ভাউচারে সমস্যা ধরা পড়ে। উনি নিজেই বিল করেন, নিজেই পাশ করেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতেন। নতুন সভাপতি দায়িত্ব নেয়ার পর ব্যাংক হিসাব পরিচালনার সঙ্গে তাকে যুক্ত করেননি। এসব দুর্নীতি অনিয়ম নিয়ে যাতে কোন কথা যাতে না বলতে পারেন, এজন্যই প্রধান শিক্ষক তাকে এক মাসের মধ্যে বিয়ে করার নোটিশ দিয়েছেন।

স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন জানান, রনি প্রতাপ ভালো শিক্ষক। তাকে নিয়ে কেউ কখনো কোন প্রশ্ন তোলেননি। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের আর্থিক বিষয়গুলো এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। তার অনেক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। নিজের দুর্নীতি অনিয়ম ধামাচাপা দিতেই রনি প্রতাপকে বিয়ে করার নোটিশ দিয়েছেন।

সাজানপুর এলাকার ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন জানান, যে শিক্ষককে বিয়ে করার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে তিনি খুব ভালো মানুষ। কেউ কখনো তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেননি। নিজের অপকর্ম ঢাকতে প্রধান শিক্ষক এমন কাজ করছেন বলে মনে করছেন। অবিলম্বে দুর্নীতিবাজ এই প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের নানা দুর্নীতি অনিয়মের প্রতিবাদে বুধবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে স্কুলের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছেন। এসময় মানববন্ধনে তারা প্রধান শিক্ষকের দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ে সহশিক্ষা চলমান রয়েছে। এমন প্রতিষ্ঠানে কোন অবিবাহিত শিক্ষক থাকলে নানা অসুবিধা হতেই পারে। নানা অনৈতিক কিছু ঘটতেও পারে। এ জন্য তাকে দ্রুত বিয়ে করার নোটিশ দেয়া হয়েছে।

স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন জানান, রনি প্রতাপ ভালো শিক্ষক। তাকে নিয়ে কেউ কখনো কোন প্রশ্ন তোলেননি। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের আর্থিক বিষয়গুলো এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। তার অনেক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। নিজের দুর্নীতি অনিয়ম ধামাচাপা দিতেই রনি প্রতাপকে বিয়ে করার নোটিশ দিয়েছেন।

সাজানপুর এলাকার ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন জানান, যে শিক্ষককে বিয়ে করার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে তিনি খুব ভালো মানুষ। কেউ কখনো তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেননি।

ওই এলাকার গৌতম চন্দ্র দাস জানান, তার মেয়ে ওই স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ে। প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম নিজের ইচ্ছেমত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। অন্য শিক্ষকদের গুরুত্ব দেন না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজনীন সুলতানা জানান, মঙ্গলবার তিনি বিদ্যালয়টিতে সরেজমিনের গিয়েছিলেন। এই নোটিশ দেয়ার ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক কোন উত্তর দিতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কয়েক বছরের। এটি তদন্তের জন্য সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে আহ্বায়ক এবং অন্য দুটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে সদস্য সচিব করে একটি তদন্ত কমিটির প্রস্তাব করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....
ইত্তেহাদ ডেস্ক :

ইত্তেহাদ ডেস্ক :

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *