Brand logo light

বরিশাল

চন্দ্রমোহন বাজার কমিটির কার্যালয় দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
বরিশালে চন্দ্রমোহন বাজার কমিটির কার্যালয় দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

বরিশাল সদরের চন্দ্রমোহন বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির স্থায়ী কার্যালয় দখল করে সেখানে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র ও বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাজারের খাস জমিতে নির্মিত ওই কার্যালয়ে বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সেখানে দলীয় সাইনবোর্ডও টানানো হয়েছে। জানা গেছে, ২০০৬ সালে বাজারের খাস জমির ওপর পাকা ভবন নির্মাণ করে চন্দ্রমোহন বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করা হয়। বাজারের প্রায় দেড়শ ব্যবসায়ী এই কমিটির সদস্য এবং বাজার পরিচালনা ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এ সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ভবনটি দখলে নিয়ে সেখানে বিএনপির কার্যক্রম চালানো শুরু হয়। সম্প্রতি ভবনের সামনে চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন বিএনপির সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। এ ঘটনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী ফিরোজ আলম—এমন অভিযোগও উঠেছে। চন্দ্রমোহন বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তারিন ঢালী বলেন, প্রায় এক বছর আগে গঠিত কমিটিতে তিনি সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। তবে তার আগ থেকেই কার্যালয়টি ব্যবহার করা হচ্ছিল না। তিনি বলেন, “বিএনপি নেতারা চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে ভবনটি ব্যবহার করছেন কিনা, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।” এদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই বলেন, “বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অফিসটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। সভাপতি ফিরোজ আলম সংস্কার করে সেখানে তাঁর লোকজন নিয়ে বসেন। তবে আমি এ কাজটি পছন্দ করিনি, তাই সেখানে যাই না।” অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাজী ফিরোজ আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হাওলাদার বলেন, “খাস জমিতে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির একটি পাকা ভবন কার্যালয় রয়েছে। তবে বহু বছর ধরে সেটি ব্যবহার করা হয় না। আমি সাধারণত একটি ফার্মেসিতে বসে সভা করি। সেখানে বিএনপির সাইনবোর্ড আছে কিনা, সেটি আমার জানা নেই।”vএ ঘটনার পর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৬, ২০২৬ 0
রাঙ্গাবালীতে সাড়ে ৪ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
রাঙ্গাবালীতে ৪ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে মানহীন নির্মাণ, স্থানীয়দের ক্ষোভ

রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী – পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত প্রায় ৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্পে বাস্তবে মানহীন কাজের চিত্র দেখা গেছে। রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সামুদাফৎ সড়ক হয়ে বটতলা পর্যন্ত ৬.২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাজমুল শাহাদাৎ ট্রেডার্স। প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী সড়কের প্রস্থ ১০ ফুট এবং কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ১ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও অনেক স্থানে তা কম দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার তিন থেকে চার দিন পরও সড়কের ভেতরের অংশ শক্ত হয়নি। সুজন ডাক্তার জানান, “নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করে কাজ করা হচ্ছে। যথাযথ বিটুমিন ব্যবহার না করে কেবল ইট ঢেকে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে।” অন্য একজন বাসিন্দা জব্বার খন্দকার বলেন, “পুরো সড়কজুড়েই অনিয়ম চলছে। ব্যবহৃত ইট নিম্নমানের, যা হাতে চাপ দিলেই গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে। ঢালাইয়ের পুরুত্বও মাত্র দুই ‘সুতা’; সামান্য টান দিলেই উঠে যাচ্ছে।” অটোরিকশা চালক কামাল মাদবর আরও জানান, “অনেক স্থানে আধা ইঞ্চিরও কম ঢালাই, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের উপরিভাগ উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, “উক্ত সড়কের কাজ স্টিমেট অনুযায়ী করা হচ্ছে। প্রতিবেদন প্রকাশে সমস্যা সমাধান হয় না, স্থায়ী সমাধানই গুরুত্বপূর্ণ।” তবে মাঠপর্যায়ে প্রাথমিক স্টিমেটের সঙ্গে বাস্তব পরিমাপের অমিল পাওয়া গেছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাহিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “স্টিমেট অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। কিছু স্থানে কার্পেটিংয়ের পুরুত্বে গড়মিল আছে, সেটি আমি ঠিক করে দেব।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঞা বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের মতে, ৬ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। তাদের দাবী, তদারকি কর্মকর্তাদের সক্রিয় নজরদারি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতার অভাবের কারণে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত প্রকল্প তদারকি করে মানসম্মত সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন
ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন:সভাপতি শাহাদাৎ, সম্পাদক সোহেল আকন

ঝালকাঠি: জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ পরিচালিত হয়। ভোট গণনার পর বিকেলে নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন ৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট মাহেব হোসেন পান ৭৪ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট সোহেল আকন, ৬৩ ভোটে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান পেয়েছেন ৫৩ ভোট। নির্বাচনের অন্যান্য পদে বিজয়ীরা হলেন: সহ-সভাপতি: অ্যাডভোকেট মো. হারুন-অর-রশিদ – ৭৭ ভোট যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: অ্যাডভোকেট মো. গোলাম সরোয়ার লিটন – ৬৭ ভোট, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান মুবিন – ৭০ ভোট অর্থ সম্পাদক: অ্যাডভোকেট আরিফ হোসেন খান – ৯২ ভোট ভিজিল্যান্স সম্পাদক: অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জেল হোসেন – ১২১ ভোট ভর্তি সম্পাদক: অ্যাডভোকেট আমির হোসেন মোল্লা – ৭৮ ভোট লাইব্রেরি সম্পাদক: অ্যাডভোকেট মো. ফিরোজ হোসাইন – ৭৬ ভোট নির্বাহী সম্পাদক: অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার – ১১২ ভোট, অ্যাডভোকেট মোবাশ্বের আলী ভূঁইয়া (বাদশা) – ১০২ ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে, এই নির্বাচনে বিএনপির দুটি গ্রুপ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বাধীন প্যানেল সভাপতি পদসহ ৪টি পদে বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাধারণ সম্পাদক পদসহ ৭টি পদে বিজয়ী হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কেউ জিততে পারেননি। নবনির্বাচিত সভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “আইনজীবীদের অধিকার সংরক্ষণ, পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং সমিতির সার্বিক উন্নয়নে আমি সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।” সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল আকন বলেন, “আইনজীবী সমিতির কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি আদালত অঙ্গনের পরিবেশ উন্নয়নে আমি আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করব।” নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১১টি পদের বিপরীতে ২৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।  হাইলাইটস: সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপির ভেতরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভিজিল্যান্স সম্পাদক পদে সর্বোচ্চ ভোট – ১২১ জামায়াতে ইসলামী কোন পদে জেতেনি জেলা আইনজীবী সমিতির সার্বিক নির্বাচন বিশ্লেষণ

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৬, ২০২৬ 0
বরিশাল আইনজীবী সমিতির নির্বাচন
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম বিতরণে অনিয়ম,আদালত অঙ্গনে উত্তেজনা

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জামায়াত সমর্থক ,আওয়ামীপন্থী ও বিএনপির   পক্ষের বেশ কয়েকজন আইনজীবী দাবি করেছেন, তারা মনোনয়ন ফরম পাননি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত অঙ্গনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, আগামী ২ এপ্রিল বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। তবে একাধিক আইনজীবী অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট কিছু আইনজীবীকে মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়েছে এবং অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীকে ফরম দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইকবাল আজাদ বলেন, তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “আমিসহ অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন আইনজীবীকে মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়নি। নির্দলীয় নির্বাচনকে কলুষিত করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এমনকি জামায়াত নেতা ও জামায়াত সমর্থক অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন মাসুমকেও ফরম দেওয়া হয়নি। আমরা এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।” এদিকে সাবেক ছাত্রদল নেতা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান নান্টুও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমি জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অথচ আমাকেও মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়নি। এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।” বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক কাজী মনির বলেন, তফসিল অনুযায়ী তিনি মনোনয়ন ফরম নিতে আসলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফরম দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “তারা একটি পাতানো নির্বাচনের প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। আমরা এই প্রক্রিয়াকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।” বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস এম সাদেকুর রহমান লিংকন বলেন, “নির্বাচনে সভাপতি পদে ৮ জন, সম্পাদক পদে ১২ জনসহ প্রায় ৬০টি মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হয়েছে। মোট পদ রয়েছে ১১টি। কিছু লোক না এসেই অভিযোগ করছেন যে তারা ফরম পাননি। যারা আমাদের কাছে এসেছেন, তাদের ফরম দেওয়া হয়েছে।” এদিকে মনোনয়ন ফরম বিতরণকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৬, ২০২৬ 0
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সেকশন অফিসার মোঃ শাহীন মিয়া
বরিশালে শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তা মোঃ শাহীন মিয়ার ওপর হামলা, থানায় অভিযোগ দায়ের

বরিশাল: বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলার শিকার হয়েছেন। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সেকশন অফিসার মোঃ শাহীন মিয়া (৪৫) বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে অফিস থেকে সদর রোডের দিকে রওনা দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, নতুল্লাবাদ এলাকায় নির্মাণাধীন আইসিটি ভবনের সামনে পৌঁছালে ১০ থেকে ১২ জন  ব্যক্তি তাকে রাস্তায় ফেলে মারধর করে। ভুক্তভোগী মোঃ শাহীন মিয়া জানান, হামলাকারীরা তাকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি হামলাকারীদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা তার মাথা ও নাকে ঘুষি মেরে তাকে রক্তাক্ত করে। ভয়ে তিনি দৌড়ে ফিরে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ভেতরে আশ্রয় নেন। শাহীন মিয়া জানিয়েছেন, হামলাকারীদের তিনি পূর্বে চিনতেন না, তবে সামনে দেখলে তাদের শনাক্ত করতে পারবেন। এই হামলার কারণে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা আতঙ্কিত। ঘটনার পর প্রশাসনিক স্তরে নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। থানার কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষাক্ষেত্রে সহিংসতা কোনওভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এমন ঘটনার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিসের পরিবেশে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়। মোঃ শাহীন মিয়ার উপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে সকলের নজর রয়েছে। নিবিড় তদন্তের জন্য এয়ারপোর্ট থানা একটি পৃথক টিম গঠন করেছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের মাধ্যমে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। শাহীন মিয়া আরও জানান, তিনি চাইছেন দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা নিরাপদভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে চাইছেন। এই ঘটনার ফলে বরিশালে শিক্ষাক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সুরক্ষার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসনও এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে। এ ঘটনায় জনসাধারণও ক্ষুব্ধ এবং হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তির দাবি করছেন। বিশেষ করে বরিশাল শহরের নতুল্লাবাদ ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শাহীন মিয়ার এই হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাংলা অনলাইন নিউজ সাইট এবং স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর সহিংসতার ঘটনা শীতলমনে অগ্রাহ্য করা যাবে না, এ ধরনের ঘটনার প্রতিকার দ্রুত এবং কার্যকর হওয়া উচিত। বর্তমানে এয়ারপোর্ট থানার কর্মকর্তারা মামলার যথাযথ তদন্ত চালাচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে। শাহীন মিয়া আহত হলেও বর্তমানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। তার পরিবার ও সহকর্মীরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন এবং হামলাকারীদের শনাক্ত ও শাস্তির জন্য পুলিশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে সহিংসতা ও দমনপীড়ন কোনওভাবেই সহ্যযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সেকশন অফিসার মোঃ শাহীন মিয়ার ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত ও শাস্তির প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষাক্ষেত্র সংশ্লিষ্টরা দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সোচ্চার।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৫, ২০২৬ 0
কলাপাড়ায় ইদ্রিস হত্যার প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল
কলাপাড়ায় ইদ্রিস হত্যার প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল, আসামিদের গ্রেফতারের দাবি

কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার সবজি ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস (৪৫) হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১১টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা কার্যালয় থেকে উপজেলা আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা প্রশাসন মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মৌলভী মাহবুবুল আলম, সদস্য সচিব মাওলানা মনিরুল ইসলামসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সভায় বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের জেরে একজন নিরীহ মানুষকে মারধর করে হত্যা করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। নিহত ইদ্রিসকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মী দাবি করে উপজেলা আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “নিহত ইদ্রিস ঈদের সময় ছেলে-মেয়ে ও পরিবার নিয়ে বাড়িতে আসার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ফিরেছেন লাশ হয়ে। ভালো ও সৎ মানুষ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত না হওয়ায় সমাজে গুম, খুন ও সহিংসতা বেড়েছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষ জনপ্রতিনিধিদের হাতেই নিরাপদ নয়।” এদিকে ইদ্রিসের মৃত্যুর ঘটনায় নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে ইদ্রিস খান ফেসবুকে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পোস্ট ও মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পাখিমারা বাজার থেকে তাকে স্থানীয় যুবদল কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে পানির জগ ছুড়ে মারা হয় এবং পরে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরে সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। মঙ্গলবার সকালে নিহতের স্বজনরা মরদেহ কলাপাড়া থানায় নিয়ে আসেন। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। পরে তার মরদেহ নিজ গ্রাম দক্ষিণ দৌলতপুরের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বজন আবু বকর খান বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জহিরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে আরও ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫–৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৫, ২০২৬ 0
জিয়ানগর উপজেলা’ রাখায়  মিষ্টি বিতরণ
ইন্দুরকানীর নাম পুনরায় ‘জিয়ানগর উপজেলা’ ঘোষণা, বিএনপির আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ

পিরোজপুর : পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার নাম পুনরায় ‘জিয়ানগর উপজেলা’ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় পিরোজপুর-১ আসন-এর বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ মোড় থেকে আনন্দ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জিয়ানগর বাজারে গিয়ে শেষ হয়। পরে ব্যবসায়ী ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি এসময় উপস্থিত ছিলেন জিয়ানগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফাইজুল কবির তালুকদার, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানজিদ হাসান শাওন, জেলা যুবদলের সদস্য এস কে আল আমিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। সরকারি প্রজ্ঞাপন ও সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব হেলেনা পারভীন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জারি করা হয়। গত বছরের ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর সভায় নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নাম পরিবর্তনের ইতিহাস উল্লেখ্য, পিরোজপুর সদর উপজেলা-এর পাড়েরহাট, বালিপাড়া ও পত্তাশী ইউনিয়নের ১২৮.৬৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে ১৯৭৬ সালে ইন্দুরকানী থানা গঠিত হয়। ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্দুরকানী কলেজ মাঠে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান-এর নামে ‘জিয়ানগর উপজেলা’ নামকরণ ঘোষণা করেন। সে সময় সংসদ সদস্য ছিলেন দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকার সভায় পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে প্রায় ১৫ বছর পর উপজেলার নাম আবার ‘ইন্দুরকানী’ রাখা হয়। সর্বশেষ সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আবারও উপজেলার নাম ‘জিয়ানগর উপজেলা’ হিসেবে পুনঃনির্ধারণ করা হলো।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ডা. ইকবালুর রহমান
বাকেরগঞ্জবাসীর প্রত্যাশার কেন্দ্রে ডা. ইকবালুর রহমান

বরিশাল জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা বাকেরগঞ্জ উপজেলা। অন্তত পাঁচটি জেলার সঙ্গে সীমান্তঘেঁষা এই উপজেলায় রয়েছে ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। একসময় জেলা হিসেবে পরিচিত এই জনপদ আজও উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। এখনো বহু প্রত্যন্ত গ্রাম যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় পিছিয়ে রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন ধরে নিঃস্বার্থ চিকিৎসা সেবা দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন ডা. ইকবালুর রহমান সেলিম। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘সেলিম ডাক্তার’ নামেই বেশি পরিচিত। তার গ্রামের বাড়ি ১নং চরামদ্দি ইউনিয়নের বাদলপাড়া গ্রামে। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে সেখানেই। স্বনামধন্য চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর পুরো বাকেরগঞ্জজুড়ে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী ও অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবেই তাকে বেশি মানুষ চেনেন। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যেন তার জীবনের মূল লক্ষ্য। সেবায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কয়েকজন সমাজসচেতন ব্যক্তিকে নিয়ে তিনি স্বঅর্থায়নে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক’। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে আয়োজন করেছেন ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প এবং ফ্রি সুন্নতে খাৎনা ক্যাম্প। বরিশালের স্বাস্থ্যখাতে তার সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। তিনি রোগী দেখেছেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল, পলি ডায়াগনস্টিক ও ইসলামিয়া স্পেশালাইজড হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। হাজার হাজার মানুষ তার পরামর্শ ও সহযোগিতায় উপকৃত হয়েছেন। স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদরাসার সঙ্গেও রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক। সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণ তাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে সাধারণ মানুষের কাছে।   জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান বাকেরগঞ্জবাসী স্থানীয় অনেকেই মনে করেন, সৎ, দক্ষ ও উদার ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হলে সমাজের চিত্র দ্রুত বদলানো সম্ভব। তাই আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তাকে প্রার্থী করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাদের বিশ্বাস, দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তিনি ব্যাপক সমর্থন পাবেন।   তবে এ বিষয়ে ডা. ইকবালুর রহমান সেলিমের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি জানান, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। তার ভাষায়, “আমি আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষের সেবা—বিশেষ করে আমার রক্তের সঙ্গে মেশা বাকেরগঞ্জবাসীর সেবা—করে যেতে চাই। আমার সাধ্য অনুযায়ী এ কাজ অব্যাহত রাখবো ইনশাআল্লাহ। তবে রাজনৈতিক পদ বা নির্বাচনে যাওয়া আমার কাছে জরুরি মনে হয় না।” সেবাই যার ব্রত, সেই ডা. ইকবালুর রহমান সেলিমকে ঘিরে বাকেরগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা তাই এখনো অটুট। সময়ই বলে দেবে ভবিষ্যতে এই জনপ্রিয় চিকিৎসকের পথচলা কোন দিকে মোড় নেয়।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৩, ২০২৬ 0
কলাপাড়ায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে হত্যা
কলাপাড়ায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ

 পটুয়াখালীর জেলার কলাপাড়া উপজেলার পাখিমারা-দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা "ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে" নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের  ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম এবং  তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মো. ইদ্রিস আলী খান (৪৫) নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে নিহতের স্বজনেরা তার লাশ থানায় নিয়ে আসেন বিচারের দাবীতে। নিহত ইদ্রিস আলী খান দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী খানের ছেলে। তিনি ঢাকায় সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ চলাকালে ইদ্রিস আলী খান  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে "রাত্রে চুরি করে দিনে খায়" এমন একটা পোস্ট করেন। কিছুদিন আগে ইদ্রিস ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। সেই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে জহিরুল ইসলাম আবুল কালামের মাধ্যমে সমাধানের জন্য ইদ্রিস আলী খান কে পাখিমারা বাজার যুবদলের পার্টি অফিসে ডেকে আনেন। কথার এক পর্যায়ে বলেন, তুই তো ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মী ছিলি, তুই আমার বিরুদ্ধে ই পোস্ট দিছোস, তোর হাতপাখা তোর পিছন দিয়ে ঢুকিয়ে দিব বলেই কিল, ঘুষি চর মারার এক পর্যায়ে অন্যান্য সহযোগীরা হাতের কাছে যা পাইছে তা দিয়েই মারধর শুরু করেন বলে এলাকার সাধারণ লোক মারফত জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী জানা যায়,  গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মো: ইদ্রিস আলী খান পাখিমারা বাজারে গেলে সেখান থেকে জহিরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ইদ্রিসকে ডেকে যুবদলের কার্যালয়ে নিয়ে ব্যাপক মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে যান এবং নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় নিয়ে আসে। এরপর গত সোমবার রাত ১০:০০টার দিকে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ওই ব্যক্তি আমার কাছে  এসেছিল কিন্তু আমি বা আমার সহযোগীরা তাকে কোনো মারধর করিনি।’ এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।’ তবে এখন পর্যন্ত (এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত) ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নাই।সম্ভবত ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করে তারপর থানায় আসবে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এ ব্যাপারে নিহত ইদ্রিস আলী খানের চাচাতো ভাই আবদুর রহিম বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই তাকে এলাকার বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকতে দেখেছি। জহির মেম্বার এলাকায় ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে বেড়াত তাকে কেউ কিছু ভয়ে বলত না। তার বিরুদ্ধে একাধিক অস্ত্র মামলা আছে এবং অসংখ্য হত্যা মামলার আসামী।আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, আমরা এলাকাবাসী তার ফাঁসি চাই। একই এলাকার আরেকজন বাসিন্দা বলেন, আমাদের জানামতে জহির মেম্বার শতাধিক অস্ত্র মামলা ও হত্যা মামলার আসামী। নীলগঞ্জ ইউনিয়নে যত চাঁদাবাজি হয়েছে সবগুলোর নেপথ্যে তার হাত ছিল। পাশাপাশি ০৫ ই আগস্টের পরে যত ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে সবগুলোই তার হাত ধরে হয়েছে,আমরা তার শাস্তি চাই,বিচার চাই।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৩, ২০২৬ 0
ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা
বরিশালে ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

বরিশাল: বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) এক ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অবৈধভাবে অটোরিকশা স্ট্যান্ড উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ এনে নগরীর শ্রমিকরা রোববার (১ মার্চ) বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভ কর্মসূচি দুপুরে নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষুব্ধ অটোরিকশা শ্রমিকরা অভিযুক্ত টিআই আশিক রহমানকে অবরুদ্ধ করে তাকে বরখাস্ত করার দাবি করেন এবং তীব্র স্লোগান দেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির কাছাকাছি স্থায়ী স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী পরিবহন করছেন। কিন্তু কিছু দিন ধরে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আশিক রহমান প্রতি মাসে ২০,০০০ টাকা ‘মাসোহারা’ দাবি করছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের অটোরিকশা আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান বলে তারা জানান। সবশেষ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্ত টিআই স্ট্যান্ডে উপস্থিত হয়ে উচ্ছেদের হুমকি দিলে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ফেটে পড়ে। পরিস্থিতি দৃষ্টিগোচর হলে টিআই আশিক ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সরে যান এবং শ্রমিকরা সেখানে একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) রেজাউল ইসলাম রেজা শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজির কোনো তথ্য আমার জানা নেই এবং এ ধরনের কোনো সম্ভবতাও নেই। শ্রমিকরা মূলত অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ রোধ করতে এমন অভিযোগ তুলেছে।” তিনি জানান, শ্রমিকদের ক্ষোভের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আশিক রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইলেও একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।  বিক্ষোভের কারণে এলাকায় কিছু সময় যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে শ্রমিকদের শান্ত করেন। তবে শ্রমিক প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিলে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ২, ২০২৬ 0
বরিশাল আদালত ভাঙচুর -আইনজীবী গ্রেফতার
বরিশালে এজলাসে ঢুকে হামলা‑হট্টগোল: প্রধান আসামি লিংকন কারাগারে; অন্যান্য আসামিরা এখনও পলাতক

বরিশালে আদালতের এজলাসে ঢুকে হামলা‑হট্টগোলের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে তার পর থেকে অপর  আসামিরা পলাতক রয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গত বুধবার দুপুরে বরিশাল আদালতের আইনজীবী সমিতির একটি কক্ষ থেকে যৌথবাহিনী লিংকনকে গ্রেফতার করে। একই রাতে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ অন্যান্য পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান চালায়; কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। আইনজীবীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো তারা আদালত বর্জন করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এ সময় আদালতে বিচার কার্যক্রম ছিল স্বাভাবিকভাবে চলছিল। আদালতের বিচারকেরা আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতে সরাসরি আসামিদের সঙ্গে কথা বলে শুনানি চালিয়ে নেন বলে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পলাতক আসামিদের খুঁজে গ্রেফতার  অভিযান এখনও চলছে। পুলিশ ও মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন — ➡️ বরিশাল আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীরজা রিয়াজুল ইসলাম, ➡️  পিপি আবুল কালাম আজাদ, ➡️ পিপি নাজিম উদ্দিন পান্না, ➡️ এপিপি হাফিজ উদ্দিন বাবলু, ➡️ এপিপি তারেক আল ইমরান, ➡️ এপিপি আবুল কালাম আজাদ ইমন, ➡️ বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নেতা মহসিন মন্টু, ➡️ মিজানুর রহমান, ➡️ অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, ➡️ অ্যাডভোকেট সাঈদ, ➡️  অ্যাডভোকেট বশির আহমেদ সবুজ। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও নেতাদের জামিনের বিরোধিতা করে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা আদালতের এজলাসে প্রবেশ করে চিৎকার‑চেঁচামেচি ও আসবাবপত্র ধাক্কাধাক্কি করেন। ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শরীয়তউল্লাহ একটি শুনানি পরিচালনা করছিলেন। হঠাৎ দরজা খোলার পর একদল আইনজীবী চিৎকার করে এজলাসে ঢুকেন এবং বেঞ্চগুলোকে ধাক্কা দেন। এক আইনজীবী বিচারকের সামনে যেতে দেখা যায়, যেখানে তিনি আঙ্গুল তুলে চিৎকার করেন এবং বেঞ্চে আঘাত করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এজলাসে প্রথম ঢোকার সময় উপস্থিত ছিলেন সাদিকুর রহমান লিংকন। এরপর তাকে  আইনজীবী সমিতির ভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার গ্রেফতারের পর অন্য আইনজীবীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন ও কর্মবিরতি পালন করেন। বর্তমানে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আদালত কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্ত ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ভোলায় ছয় পা বিশিষ্ট বিরল বাছুরের জন্ম
ভোলার লালমোহনে ছয় পা বিশিষ্ট বিরল বাছুরের জন্ম, দেখতে ভিড় করছে উৎসুক জনতা

ভোলার ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নে ছয় পা বিশিষ্ট একটি বিরল গরুর বাছুরের জন্ম হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর আশপাশের এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ বাছুরটিকে একনজর দেখতে মালিকের বাড়িতে ভিড় করছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বচর উমেদ গ্রামের ডা. আজাহার উদ্দীন রোড সংলগ্ন সৌদি আরব প্রবাসী মোব্বান মো. মনিরের বাড়িতে বাছুরটির জন্ম হয়। জন্মের পরই চমক জন্মের পর দেখা যায়, বাছুরটির স্বাভাবিক চারটি পায়ের পাশাপাশি ঘাড়ের কাছ থেকে আরও দুটি অতিরিক্ত পা বের হয়েছে। এমন অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহল বাড়তে থাকে। চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ খবর পেয়ে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসক এসে বাছুরটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তারা জানান, অতিরিক্ত অঙ্গ থাকলেও বাছুরটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে ও চলাফেরা করতে পারছে। বাছুরটির মালিক মো. শাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন, “শুরুর দিকে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে ডাক্তার এসে পরীক্ষা করে আশ্বস্ত করেছেন। এখন বাছুরটি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে—এতে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।” উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভেটেরিনারি সার্জন) ডা. মো. গোলাম মোস্তফা জানান, এ ধরনের জন্মগত অস্বাভাবিকতা অত্যন্ত বিরল। অনেক সময় ভ্রূণের বিকাশজনিত ত্রুটির কারণে অতিরিক্ত অঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে। বাছুরটি কিছুটা বড় হলে প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অতিরিক্ত দুই পা অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। বর্তমানে বাছুরটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে বিরল এই বাছুরটি দেখছেন। অনেকেই এটিকে ‘প্রকৃতির অদ্ভুত সৃষ্টি’ বলে মন্তব্য করছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাছুরটির সার্বিক শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
বরিশালের বিউটি রোডে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ
বরিশালের বিউটি রোডে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ, ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় উদ্বিগ্ন

বরিশাল: নগরীর বিউটি রোডে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ব্যবসায়ীরা প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা জানাচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, দখল-পাল্টা দখলের দ্বন্দ্বে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চকবাজার এলাকা এখন আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিউটি সুপার মার্কেটের ডেভেলপার পক্ষের দাবি, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে একদল দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে ভবনের নিচতলায় আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে ব্যবসায়ীদের মজুদ করা মালামাল ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, মার্কেটের জমি নিয়ে জুলফিকার আলী চৌধুরীর সঙ্গে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের চুক্তি থাকলেও পরবর্তীতে তিনি জমিটি সন্তানদের নামে দানপত্র করে দেন। এর পর থেকেই অভিযুক্ত সৈয়দ আশিক চৌধুরী মালিকানা দাবি করে নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে আসছিলেন। এর আগে গত বছরও ওই ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল, যা বর্তমানে আদালতে মামলা হিসেবে চলমান। ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের অংশীদার আবুল হাসান কুদ্দুস কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বারবার হামলা ও মামলার পরও কেন সমাধান হচ্ছে না, তা নিয়ে তারা চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কে ভুগছেন। তারা অবিলম্বে অগ্নিসংযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া এই বাণিজ্যিক এলাকায় শান্তি ফিরানো সম্ভব হবে না। ব্যবসায়ীরা এখন জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে শঙ্কিত।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
বানারীপাড়ায় ছাত্রদল-যুবদলের ২ নেতা গ্রেপ্তার
বরিশালের বানারীপাড়ায় সরকারি ব্রিজের মালামাল চুরির ঘটনায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

বরিশাল: বরিশালের বানারীপাড়ায় পুরনো সরকারি ব্রিজের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত মালামাল চুরির অভিযোগে সদর ইউনিয়নের ছাত্রদল ও যুবদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিহাদ আকন (২০) এবং ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. সানি (২২)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতের দিকে বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের গাভা এলাকা থেকে ব্রিজ নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল চুরি করে ট্রলারযোগে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিদ্ধার্থের নেতৃত্বে পুলিশ বানারীপাড়া ফেরিঘাট সংলগ্ন নতুন ব্রিজের নিচে, সন্ধ্যা নদীর মোহনায় অবস্থান নেন। রাত প্রায় ৩টার দিকে সন্দেহভাজন ট্রলারটি সেখানে পৌঁছালে পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে চারটি লোহার রেলপাট, একটি ডিজেল ইঞ্জিন, একটি অক্সিজেন গ্যাস সিলিন্ডার, ব্রিজের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাব এবং চুরির সরঞ্জামসহ ট্রলারটি জব্দ করে। এসময় ট্রলারে থাকা জিহাদ আকন ও সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছেন, তারা গাভা এলাকা থেকে এসব মালামাল চুরি করে নিয়ে আসছিলেন। ঘটনার বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার জিহাদ ও সানিসহ চারজনকে নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গ্রেপ্তারদের বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলমান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
বরিশালের ঘটনায় আদালত অবমাননার রুল
বরিশালে আদালত ভাঙচুর: ১২ আইনজীবীর সনদ বাতিলের সুপারিশ, ৯ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

বরিশালে আদালতের এজলাসে ভাঙচুর ও বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় ১২ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে জননিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সবাই জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদের সদস্য এবং রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন আবদুল্লাহ আল ইউসুফ, যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ, বরিশাল এবং মো. মিল্টন হোসেন, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ, বরিশাল। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন বরিশাল মহানগর দায়রা জজের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় জড়িত বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ সদস্যের আইন পেশার সনদ বাতিলের সুপারিশ করে বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছেও আবেদন পাঠানো হয়েছে। ৯ আইনজীবীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল আদালত অবমাননার অভিযোগে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নয় সদস্যের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসান–এর বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে—আদালত অবমাননার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের বিরুদ্ধে কেন যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। তাদের আগামী ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান। রুল জারি হওয়া নয় আইনজীবী হলেন: সাদিকুর রহমান লিংকন, মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, নাজিমুদ্দিন পান্না, মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, সাঈদ ও হাফিজ উদ্দিন বাবলু। গ্রেপ্তার ও মামলা ঘটনার পর বুধবার সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। মামলার বাদী অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজীব মজুমদার কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেন, একটি মামলার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে ১৫-২০ জন আইনজীবী আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন এবং বিচারকদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও আপত্তিকর স্লোগান দেন। অভিযোগে বলা হয়, দুপুরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে প্রবেশ করে এক আইনজীবীকে শুনানি করতে বাধা দেওয়া হয়। পরে বারের সভাপতি এক আইনজীবীকে ধাক্কা দেন এবং সঙ্গে থাকা অন্যরা জিআরও শম্ভু ও কোর্ট ইন্সপেক্টর তারক বিশ্বাসকে এজলাস থেকে বের করে দেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়—ডায়াসে থাকা মাইক্রোফোন ভাঙচুর, কজলিস্ট ও মামলা রেজিস্টার ছিঁড়ে ফেলা, টেবিল ভাঙচুর, টুল উপড়ে ফেলা এবং বিচারককে জোরপূর্বক এজলাস ত্যাগে বাধ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এতে আদালত এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। প্রশাসনিক পদক্ষেপের অপেক্ষা বর্তমানে বার কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিষয়টি। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না—তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। ঘটনাটি আইনজীবী সমাজ ও বিচারাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
বরিশালের ঘটনায় আদালত অবমাননার রুল
বরিশাল আদালতে বিশৃঙ্খলা: আদালত অবমাননার রুল জারি : সুপ্রিম কোর্ট

বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাসে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খল আচরণের ঘটনায় আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগ। একই সঙ্গে আদালতের বেঞ্চ সহকারী বাদী হয়ে বরিশালে পৃথক মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।   কী ঘটেছিল আদালতে? সুপ্রিম কোর্টের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-এ বিচার কার্যক্রম চলাকালে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। একদল আইনজীবী আদালতকক্ষে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খল আচরণে লিপ্ত হন এবং দায়িত্বরত বিচারকের প্রতি অসদাচরণ করেন। আরও পড়ুন: বরিশাল আদালতে ভাঙচুর : ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা   ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আদালত কক্ষের বেঞ্চ ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। বিচারকের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণও লক্ষ্য করা যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজলাস মূলতবি ঘোষণা করে খাসকামরায় চলে যেতে বাধ্য হন। এর ফলে আদালতের স্বাভাবিক বিচারকার্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।   অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিচারকের অপসারণের দাবিতে আদালতের অভ্যন্তরে ও বাইরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   হাইকোর্টের রুল ও মামলা উল্লেখিত ঘটনা সুপ্রিম কোর্টের নজরে এলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ইতোমধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন। অন্যদিকে, বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বেঞ্চ সহকারী এজহারকারী হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   সংযম ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান বিচার বিভাগের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সংযম, দায়িত্বশীলতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার
বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়ার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট রেটে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট রেটে ঘুষ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার সময়েই বরিশাল সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিসসহ জেলার ১০টি উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বদলি বাণিজ্য, দলিল প্রতি ঘুষ, নকল উত্তোলনে ঘুষ এবং দলিল লেখকদের কাছ থেকে বাৎসরিক অর্থ আদায় এখন ওপেন সিক্রেট। এসব অবৈধ অর্থ আদায়ের জন্য তার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে অফিস সহকারী হালিম সিপাহি ও মহাদেবের নাম উঠে এসেছে। তারাই নির্ধারিত হারে ঘুষের টাকা সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   দুদকের অভিযান ও সটকে পড়ার অভিযোগ ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে গত বছরের ১৬ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালায়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে মোহছেন মিয়া সটকে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেন, ওইদিন তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। কিন্তু জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় তিনি অফিসেই উপস্থিত ছিলেন।   নির্দিষ্ট হারে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী— প্রতিটি দলিলের জন্য নেওয়া হয় ২০০ টাকা নকল উত্তোলনে আদায় করা হয় ৩৫ টাকা প্রায় ৩০০ দলিল লেখকের কাছ থেকে লাইসেন্স নবায়ন বাবদ বছরে ১,৫০০ টাকা করে নেওয়া হয় বদলি বাণিজ্যে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবরেজিস্ট্রার অফিসের একাধিক কর্মচারী জানান, বরিশালে যোগদানের পর থেকেই মোহছেন মিয়া বদলি বাণিজ্য শুরু করেন।   বদলি ও পদোন্নতিতে মোটা অঙ্কের লেনদেন সূত্র মতে, দুর্নীতির দায়ে বদলি হওয়া এক অফিস সহকারীকে চার লাখ টাকার বিনিময়ে পুনরায় বরিশাল সদর অফিসে যোগদান করানো হয়। অন্যদিকে, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক কর্মচারীকে বদলি করা হলে তিনি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। রেকর্ড কিপার বিধান চন্দ্রকে চার লাখ টাকার বিনিময়ে সদর অফিসে বদলি করা হলেও এক মাস পরে যোগদান করতে হয়। পরে দুই মাসের মাথায় তাকে আবার হিজলায় বদলি করা হয়। সম্প্রতি হিজলা উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার অফিসের এক নকলনবিশকে মোহরার পদে পদোন্নতি দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা এবং আগৈলঝাড়া সাবরেজিস্ট্রার অফিসের এক অফিস সহকারীকে পদোন্নতির আশ্বাসে ৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অবসরে যাওয়া এক পিয়নের পেনশনের টাকা ছাড় করাতে ছয় লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে চার লাখ টাকায় সমঝোতা হয় বলে জানা গেছে।   উচ্চ পর্যায়ে অভিযোগ, তবুও ব্যবস্থা নেই এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহছেন মিয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি ঢাকা আইজিআর অফিস পর্যন্ত গেলেও তা রহস্যজনকভাবে নিষ্পত্তি হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলার সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, “একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্য করেন, তাহলে অধীনস্থদের মধ্যেও দুর্নীতির সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়া স্বাভাবিক। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।”   ভুক্তভোগীদের দাবি দলিল করতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী জানান, এমন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন
বরিশালে আদালত ভাঙচুরের অভিযোগে আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন আটক, বিচার কার্যক্রম বন্ধ

বরিশাল : বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে আদালত কক্ষে ভাঙচুরের অভিযোগে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে আটক করা হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে আদালতের এজলাসে ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই আদালতের বিচারকরা বিচার কার্যক্রম স্থগিত করেন। পুরো আদালত চত্বর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। অন্যদিকে সভাপতিকে আটকের প্রতিবাদে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করেন আইনজীবীরা। বরিশাল জজ কোর্টের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, সকালেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী আদালতে প্রবেশ করে। এ সময় বিচারক আদালত বর্জন করেন। পরে আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে আটক করা হয়। এর প্রতিবাদে আইনজীবীরা আদালত বর্জন ও মিছিল করেন।   জামিন ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ–এর সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুস–কে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মহানগর আদালত বর্জন করেন আইনজীবীরা। তারা সংশ্লিষ্ট বিচারকের অপসারণ ও তালুকদার ইউনুসের জামিন বাতিলের দাবি জানান। তালুকদার ইউনুস গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। তার জামিনের পরপরই একাংশ আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।   সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু আইনজীবী মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রবেশ করে হট্টগোল করেন এবং বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এ সময় আদালত কক্ষে থাকা চেয়ার-টেবিল উল্টে ফেলা ও চিৎকার-চেঁচামেচির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইনজীবীদের কর্মসূচি ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
নলকূপ থেকে পানির পরিবর্তে বের হচ্ছে গ্যাস
ভোলায় নলকূপে পানির বদলে গ্যাস

ভোলায় একটি নলকূপ থেকে পানির পরিবর্তে অনবরত গ্যাস বের হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত তিন দিন ধরে এ গ্যাসের উদগিরণ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা নলকূপের মুখে আগুন ধরালে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামে। কীভাবে ঘটলো ঘটনা এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন আগে তুলাতলী গ্রামের বাসিন্দা জেবল হক মাঝির বাড়িতে পানির সংকট মেটাতে একটি নলকূপ বসানো হয়। প্রায় ৭০ ফুট গভীরে পাইপ স্থাপনের পর পানি উত্তোলনের চেষ্টা করা হলে পানি না উঠে ‘সো সো’ শব্দ করে গ্যাস বের হতে শুরু করে। স্থানীয়রা কৌতূহলবশত নলকূপের মুখে লাইটার দিয়ে আগুন ধরালে সঙ্গে সঙ্গে আগুন জ্বলে ওঠে এবং তা কিছু সময় ধরে জ্বলতে থাকে। বাড়ির মালিকের বক্তব্য বাড়ির বাসিন্দা জেবল হক ও নাছিমা জানান, “আমাদের বাড়িতে পানির সমস্যা ছিল। সেই কারণে উঠানে টিউবওয়েল বসানো হয়। কিন্তু পানি না উঠে গ্যাস বের হতে থাকে। পরে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন দিলে টিউবওয়েলের মুখে আগুন জ্বলে ওঠে।” অন্য বাসিন্দা আবু মাঝি, রাবেয়া ও মোসলেম উদ্দিন বলেন, “এটি গ্যাস নাকি অন্য কিছু—সরকারিভাবে পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাবে না। তবে এভাবে আগুন জ্বলতে থাকলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” এলাকাবাসীর উদ্বেগ গ্রামবাসীরা জানান, এর আগে একই এলাকায় ৩০০ ফুট গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সবার মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে সম্ভাব্য প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখলেও অধিকাংশ বাসিন্দা নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের বক্তব্য এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাপেক্স কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তারা এসে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে দেখবেন।” উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সম্ভাব্য কারণ কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ জৈব পদার্থের পচন বা প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষুদ্র স্তর থেকে মিথেন গ্যাস নির্গত হতে পারে। কখনও কখনও অগভীর স্তরেও এ ধরনের গ্যাস পাওয়া যায়, যা চাপের কারণে নলকূপের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। দ্রুত পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর দাবি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কারণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে গ্যাস বের হতে থাকলে অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখন সবার দৃষ্টি প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
বরিশাল গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়ন
বরিশালে গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগীয় কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া-এর রুহের মাগফিরাত কামনায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের হিসাব সহকারী ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হাসান রুপক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মজিবর রহমান সারোয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব নুরুল আমীন, বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালেদ হোসাইন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মানিক লাল দাস, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম, মো. আবুল বাসার ও শাহ আলম। এছাড়া বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তরিক, সাকিবুল হাসান রাসেল, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেলসহ বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, দেশ পরিচালনায় তার অবদান এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। পরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা মরহুমার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
রাজাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজুর ছেলে, কিশোর গ্যাং গ্রুপের প্রধান এবং রাজাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. জায়েদ জোহা খান
রাজাপুরে লাইজুর পুত্র কিশোর গ্যাং প্রধান জোহা ইয়াবাসহ গ্রেফতার

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে রাজাপুর থানা পুলিশ। এ সময় সমির গাজি (৫৫) নামে আরেক সহযোগী পালিয়ে যায়। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজাপুর থানাধীন বাঘরী বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— রাজাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজুর ছেলে, কিশোর গ্যাং গ্রুপের প্রধান এবং রাজাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. জায়েদ জোহা খান (১৮) এবং কেওতা এলাকার মো. ইমন হাসান (২০)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককালে জায়েদ জোহা খানের কাছ থেকে ৬ পিস সাদা ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ইমন হাসানের কাছ থেকে প্রায় ২ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে, পলাতক সমির গাজির সহায়তায় তারা বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি দামে ইয়াবা সংগ্রহ করে রাজাপুরের বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বিক্রি করতেন। রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় রাজাপুর থানায় এসআই মিরাজ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশের কাছে বলেছে, পালিয়ে যাওয়া সমির গাজির সহায়তায় বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা পাইকারি দামে সংগ্রহ করে রাজাপুরের বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বিক্রি করতেন তারা।  রাজাপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় রাজাপুর থানায় এসআই মিরাজ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

Etihad Airways

Etihad Airways Joins Forces With McLaren Racing to Revolutionise Global Travel and Motorsport – Here’s How It Will Impact F1 and Beyond!

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0




অপরাধ

নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষ

দুপক্ষের সংঘর্ষ নরসিংদীতে , গুলিতে স্কুল শিক্ষার্থী নিহত

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও অম্লতা বেড়ে চলেছে।

১৫টি ‘জলবায়ু ঝুঁকি’তে আছে বাংলাদেশ

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0