ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : ঝিনাইদহ-৪ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার ভারতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেলেও তাকে আনুষ্ঠানিক মৃত ঘোষণা করা হয়নি। তাই এই মুহূর্তে ওই সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করার সুযোগ নেই। আসন শূন্য ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করবে সংসদ সচিবালয়। তবে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা না হলেও জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে ওই আসনের সকল তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো আসন খালি হলে সংসদ সচিবালয় থেকে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ওই আসনটি শূন্য (মৃত্যুর তারিখ থেকে) ঘোষণা করা হয়। পরে গেজেটে কপি পাঠানো হয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে। নির্বাচন কমিশন ওই শূন্য আসনে ৯০দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের আয়োজন করে। তবে অন্য মৃত্যুর ঘটনা ও আনোয়ারুল আজীম আনারের ‘মৃত্যুর’ ঘটনা এক নয়। অতীতে যেসব সংসদ সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন বা হত্যাকাণ্ডে শিকার হয়েছেন তার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, দাফন বা সৎকার হয়েছে। কিন্তু ভারতে ‘হত্যাকাণ্ডের’ শিকার হওয়া আনোয়ারুল আজীম আনারের মৃত্যুর ঘটনাটি কোন সোর্স থেকে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃতদেহ এখনো পাওয়া যায়নি, এমনকি কবে মারা গেছেন, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অবশ্য আনারের হত্যাকাণ্ডের খরব প্রকাশের দিনই (২২ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। এমনকি আনোয়ারুল আজীম আনার ভারতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল ভারতের সরকার বা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ওই সংসদ সদস্যের মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। এ অবস্থায় ওই সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করবে সংসদ সচিবালয়। তার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলে সংসদ থেকে ওই আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হবে।
এ বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, সংসদ সদস্য আনারের ঘটনাটি ব্যতিক্রম। অতীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। আমাদের সামনে কোন নজির নেই। কার্যপ্রণালী বিধিতেও এ বিষয়ে কোন নির্দেশনা নেই। এজন্য আরো অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ৫ জুন অনুষ্ঠেয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের আগেই একটি সুারাহা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, তাদের হত্যার বিষয়টি দৃশ্যমান ছিল। তাদের ডেডবডি পাওয়া গেছে এবং জানাজা হয়েছে। সেই হিসাবে তাদের আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন সরকারের পক্ষ না জানালেও সংসদ নিশ্চিত হয়েছিল তারা মারা গেছেন। কারণ সবই চোখের সামনে ঘটেছিল। কাজেই ওই ঘটনার সঙ্গে এটা মেলানোর সুযোগ নেই।
স্পিকার আরো বলেন, এখানে সমস্যা হচ্ছে, তার দেহ পাওয়া যায়নি। তাই এখনো আমরা অপেক্ষা করছি। আমাদের কোন একটা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানতে হবে। সেটা হয়তো উনার মৃত্যুসনদ বা কোনো কাগজ আমাদের কাছে আসতে হবে, যেখানে প্রমাণ হবে উনি মারা গেছেন। সেটা আসতে হবে। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আনাররের আসন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা ও আলোচনা চলছে। আগামী ৫ জুন সংসদ অধিবেশনের আগে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হবে, সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলেও জানান স্পিকার।
এদিকে সংসদ সচিবালয় থেকে ঝিনাইদহ-৪ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা না হলেও জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে ওই আসনের তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে। সংসদের ওয়েবসাইটে জাতীয় আসন, সংসদ সদস্যের পাসপোর্ট সাইজের ছবি, তার নাম, রাজনৈতিক দলের বা স্বতন্ত্র নাম ও নির্বাচনী এলাকা উল্লেখ থাকে। নামের ওপর ক্লিক করলে স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানাসহ আরো কিছু তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু সেখানে ওই আসনের সংসদ সদস্য সম্পর্কে এই মুহূর্তে কোনো তথ্য নেই।
সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news
* অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়
ইত্তেহাদ নিউজ, এয়ার পোর্ট রোড, আবুধাবী ,সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইমেইল: [email protected], web:www.etihad.news
এম এম রহমান, প্রধান সম্পাদক, ইত্তেহাদ নিউজ, এয়ার পোর্ট রোড, আবুধাবী, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত