কলেজ প্রশাসনের ব্যর্থতায় বিএম কলেজে পুনরায় দখল হচ্ছে ফুটপাত

মুহম্মদ ইমন খন্দকার হৃদয়,বরিশাল: বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বি.এম.) কলেজের সামনের ফুটপাতগুলো আবারও অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই কলেজসংলগ্ন এই ফুটপাত এলাকাটি হকারদের দখলে চলে যাচ্ছে, এবং এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বর্তমানে বি.এম কলেজের মসজিদ গেটে ফুটপাত দখল করে পসরা সাজিয়ে বসেছে কিছু দোকানদার। গত ২২ শে জানুয়ারি বি.এম কলেজের সামনে এক শিশু ইজিবাইকের চাপায় মারা গেলে, আন্দোলনে ফেটে পড়ে কলেজের শিক্ষার্থীরা, তারাই সকল অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে। পরবর্তীকালে একাধিকবার কলেজ প্রশাসনের উদ্যোগে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হলেও কলেজ প্রশাসনের গাফিলতি ও নজরদারির অভাবে পুনরায় সেই পুরনো চিত্র ফিরে এসেছে। ফলস্বরূপ, শিক্ষার্থীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে, বিশেষ করে ক্লাস শুরুর ও ছুটির সময় ফুটপাতে হাঁটাচলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। কলেজ শিক্ষার্থী কিশোর কুমার শীল বলেন, “প্রতিদিন রাস্তা পার হতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। ফুটপাতে হাঁটার সুযোগ নেই, বাধ্য হয়ে রাস্তায় চলতে হয়।” স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পথচারীরাও বলছেন, প্রশাসন চাইলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তবে চোখে পড়ার মতো কোনো পদক্ষেপ তারা লক্ষ্য করেননি। অবৈধ ফুটপাত দখলদার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, বি.এম কলেজ ছাত্রনেতা হাসান রাজু ও ইশার নেতৃবৃন্দ তাদের বসতে বলছেন তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, বি.এম কলেজ শাখার সভাপতি মোঃ জিয়াউর রহমান নাইম বলেন,” আমরা কাউকে বসতে বলিনি। উল্টো আমরা উচ্ছেদ অভিযানে বিগত দিনে সহযোগিতা করেছি। কলেজ প্রশাসনকে জানিয়েছি কিন্তু তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কলেজ প্রশাসন যদি কোন উদ্যোগ নেয়, আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। ” এ ব্যাপারে সরকারি ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ তাজুল ইসলাম বলেন,” আমাদের একার পক্ষে উচ্ছেদ অভিযান করা সম্ভব নয় তাই আমরা সিটি কর্পোরেশনকে জানিয়েছি। তারা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলে, আমরা সহযোগিতা করব।” কিন্তু বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ শাখার প্রধান স্বপন কুমার দাস কলেজ প্রশাসনের বক্তব্য অস্বীকার করে বলেন, ” আমরা এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবুও যেহেতু দখল হচ্ছে, বিসিসির পক্ষ থেকে অতিদ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কলেজ প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন যদি সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে পারে।



