ইত্তেহাদ স্পেশাল

যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ শতাংশ শুল্কের মুখে বাংলাদেশি পণ্য, রফতানিতে ধসের আশঙ্কা

bd uk
print news

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের রফতানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা শুল্ক হিসেবে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প ঘোষিত এই নতুন শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশি রফতানিকারকদের বর্তমানের ১৫ শতাংশসহ মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। এ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজ ঘোষিত ৯০ দিনের শুল্ক বিরতির সময়সীমা শেষ হতে চলেছে। এ কারণে নতুন শুল্ক হার কার্যকর হতে যাচ্ছে আগামী ১ আগস্ট থেকে। যদিও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, এটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল বুধবার (৯ জুলাই)। এ সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে দর-কষাকষি করতে পারলে শুল্কহার হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে, নইলে ঘোষিত হারই কার্যকর হবে। এর আগে মার্চ মাসেই সব দেশের রফতানি পণ্যের ওপর অন্তত ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশনের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড় শুল্ক হার ছিল ১৫ শতাংশ। নতুন করে ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর হলে মোট শুল্ক হার দাঁড়াবে ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে হলে এখন প্রতি ১০০ টাকায় ৫০ টাকার শুল্ক দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক আরোপ কার্যকর হলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজারে (যুক্তরাষ্ট্রে) পণ্যের প্রতিযোগিতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। রফতানিকারকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত ও ফলপ্রসূ আলোচনা না হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রামের ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৫০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে মার্কিন ক্রেতারা বাংলাদেশি পোশাক কিনতে আগ্রহ হারাবে। এতে রফতানিতে বড় ধস নামতে পারে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, এর প্রভাব ইউরোপের বাজারেও পড়তে পারে। কারণ, তখন ইউরোপের অনেক ক্রেতা এ সুযোগে দাম কমানোর চাপ তৈরি করবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় রফতানিকারক মহলে অসন্তোষ বাড়ছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে। ভারতও চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। অথচ বাংলাদেশ মাত্র এখন আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেছে। বর্তমানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন।

চিঠি চালাচালির প্রেক্ষাপট বলছে, শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসার পর গত এপ্রিলে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ট্রাম্পকে চিঠি লিখে সময় চেয়েছিলেন। বাণিজ্য উপদেষ্টাও জেমিসন গ্রিয়ারকে চিঠি দিয়ে আলোচনার আগ্রহের কথা জানান। এরপর মে মাসে ইউএসটিআর বাংলাদেশকে লিখিত প্রস্তাব পাঠায়। তবে কার্যকর কোনও সমাধান হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা কি তাহলে ব্যর্থ?

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ নীতির আওতায় বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেশজুড়ে উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে—ঢাকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কি তাহলে ব্যর্থ হলো? সময় মতো প্রস্তুতি, কার্যকর লবিং ও কৌশলগত দূরদর্শিতার ঘাটতি—এই তিনটি প্রধান কারণ বিশ্লেষণ করে বোঝা যাচ্ছে, আলোচনার শুরুটা যত আশাব্যঞ্জক ছিল, শেষটা ততটাই হতাশাজনক।

২ এপ্রিল শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র তা তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখে, যা বাংলাদেশের জন্য দরকষাকষির একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। শুরুতে দ্রুত চিঠি চালাচালি ও ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও জুন-জুলাই মাসে এসে ঢাকার পক্ষ থেকে আলোচনা দৃশ্যত শ্লথ হয়ে পড়ে। সরকারি একাধিক সূত্র বলছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কিছু ‘ইতিবাচক বার্তা’ পাওয়ার পর বাংলাদেশ ধরে নেয়— সময় আছে, চুক্তি এখনও সম্ভব। এই অতি-আত্মবিশ্বাসই আলোচনা থামিয়ে দেয়।

সুবিধা কি তাহলে হারিয়েছে ঢাকা?

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিলেও সেই তালিকা সময়মতো পাঠানো হয়নি। অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম দ্রুত ও সুস্পষ্টভাবে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে দরকষাকষি শুরু করে। ঢাকার বিলম্বিত পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের কাছে বাংলাদেশের আগ্রহ ও প্রস্তুতি নিয়েই প্রশ্ন তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিতে এমন কিছু শর্ত ছিল, যা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মের পরিপন্থি। যেমন- যেসব পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে, তা অন্য কোনও দেশকে দেওয়া যাবে না। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনও দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, বাংলাদেশকেও সেটি অনুসরণ করতে হবে—এমন শর্ত যুক্ত করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ খান বলেন, “এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার আশা অবাস্তব। ইতিহাসে কখনোই যুক্তরাষ্ট্র এলডিসিদের প্রতি বিশেষ সহানুভূতি দেখায়নি।”

লবিংয়ের অভাব

বিজিএমইএ’র প্রস্তাব অনুযায়ী ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ লবিস্ট নিয়োগে সরকারের অনীহাও আলোচনার ব্যর্থতায় বড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে লবিং ছাড়া কোনও বাণিজ্য আলোচনায় সফল হওয়া কঠিন। আমরা প্রস্তাব দিলেও সরকার পদক্ষেপ নেয়নি।”

এই বাস্তবতায়, যেখানে ভিয়েতনাম আগেভাগেই কৌশলী অবস্থান নেয়, সেখানে বাংলাদেশ কূটনৈতিক ফ্রন্টে প্রায় এককভাবে লড়াই চালিয়েছে—তাও সময় হারিয়ে।

২৮ জুনে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের দূতাবাসে জানানো হয়—৩ জুলাইয়ের মধ্যে চুক্তি না হলেও শুল্ক কার্যকর এক বছর পর্যন্ত পেছাতে পারে। এ তথ্যে ভর করেই বাংলাদেশ আলোচনার গতি হ্রাস করে। যদিও ৩ জুলাইয়ের পরেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে চিঠি পাঠায়, যা মূলত আলোচনার ওপর তাদের আস্থা হারানোর ইঙ্গিত।

সম্ভাবনা এখনও আছে

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “চুক্তি স্বাক্ষরের আলোচনা চলার মধ্যেই ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতাশাজনক। আমরা এখনও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।”

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান বাবু জানিয়েছেন, আমরা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে আরও সিরিয়াস ও স্পষ্ট হতে হবে। এই বার্তা থেকেই বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই কঠিন অবস্থানে ছিল, কিন্তু বাংলাদেশ ছিল বিভ্রান্ত কৌশলের শিকার।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ায় দেশের রফতানি খাত বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, আগামী ১ আগস্ট থেকে এই শুল্ক কার্যকর হলে অনেক কারখানা রফতানি সংকটে পড়বে, বিশেষ করে যাদের বড় অংশ মার্কিন বাজারনির্ভর।

তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষিতে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল পোশাক খাত। তবে সরকার শুধু আশ্বাস দিলেও আসল চিত্র সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের কিছুই জানানো হয়নি।’ ‘আমরা জিজ্ঞাসা করেছি, কোনও স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে? কোনও জবাব মেলেনি,’ বলেন তিনি।

মাহমুদ হাসান আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘শুল্ক কার্যকরের আগে এখনও তিন সপ্তাহ সময় আছে। আমরা চাই দ্রুত একজন লবিস্ট নিয়োগ দেওয়া হোক এবং দরকষাকষিতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের যুক্ত করা হোক।’

তিনি সতর্ক করেন, এখনই পদক্ষেপ না নিলে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের অপ্রস্তুতি নিয়ে নেতিবাচক বার্তা পেতে পারে। রফতানি বিপর্যয় রোধে সরকারের কাছ থেকে কার্যকর পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতা চান ব্যবসায়ীরা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তৈরি পোশাক

এই শুল্ক আরোপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তৈরি পোশাক, চামড়া ও হোম টেক্সটাইল খাত। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রফতানি বাজার, যেখানে বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়। ৩৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হলে অনেক ক্রেতা বিকল্প দেশ, যেমন- ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া কিংবা মেক্সিকোর দিকে ঝুঁকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নতুন করে আরোপিত শুল্ক দেশের রফতানি খাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধান রফতানি বাজার। এ বাজারে শুল্ক বাড়ানো মানে আমাদের তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়া।’

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের সঙ্গে সংলাপে বসতে হবে। তাদের মাধ্যমে নীতিমালায় ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য আলোচনা ফের শুরু করতে হবে এবং আমাদের পণ্যের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে।’

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ সময়মতো কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ না নিলে দীর্ঘমেয়াদে এর বিরূপ প্রভাব অর্থনীতিতে আরও গভীর হবে।

অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা

মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম।

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, যা দেশের রফতানি আয়ের ৮৫ শতাংশের উৎস এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি, বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।’

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রফতানি গন্তব্য। সেখানে দেশের মোট পোশাক রফতানির প্রায় ২০ শতাংশ পণ্য পাঠানো হয়। মুক্ত বাণিজ্য সুবিধা না থাকায় এমনিতেই প্রতিযোগিতার মুখে থাকা বাংলাদেশি পণ্যগুলো নতুন শুল্কের কারণে আরও অপ্রতিযোগিতামূলক হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ফলে রফতানি আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিতে পড়বে মার্কিন ক্রেতা-নির্ভর বহু কারখানা। এসব কারখানার টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে শ্রমিকদের ওপর। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী শ্রমিক এই খাতের সঙ্গে যুক্ত, যারা অনেক ক্ষেত্রেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী।

এছাড়া, প্যাকেজিং, পরিবহনসহ পোশাক খাতের সহায়ক শিল্প এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এ পরিস্থিতিতে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

আসিফ ইব্রাহিম মনে করেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় বসা, যাতে শুল্ক আরোপে বিশেষ সুবিধা বা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘এই সংকট আমাদের শিল্প বহুমুখীকরণের গুরুত্ব আরও গভীরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে। চামড়া ও জুতা, ওষুধশিল্প, আইটি পরিষেবা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্লু ইকোনমি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।’

দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি জোরদারের দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, একক খাতনির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই টেকসই অর্থনীতির জন্য সুপরিকল্পিত কৌশল গ্রহণ এখন জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ২০২৪ সালে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১০ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর (ইউএসটিআর)।

ইউএসটিআরের প্রাথমিক হিসাবে দেখা গেছে, ওই বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে রফতানি করেছে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বা প্রায় ৩৪ মিলিয়ন ডলার কম। অপরদিকে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করেছে ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ বা ৮৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার বেশি।

বাংলাদেশের রফতানিতে তৈরি পোশাক পণ্যই প্রধান—যা দেশের মোট রফতানির ৮৫ শতাংশেরও বেশি। আর যুক্তরাষ্ট্র একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্য।

এছাড়া রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ প্রায় ৮৬৯ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে, যা দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ১৮ শতাংশ। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশের বেশি তৈরি পোশাক। এ ছাড়া রফতানিযোগ্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে হোম টেক্সটাইল, চামড়ার জুতা, টুপি, পরচুলা ও অন্যান্য চামড়াজাত পণ্য।

তবে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ১৪টি দেশের ওপর নতুন করে উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির ওপর প্রায় ৩৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে, যা তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও বাকি কিছু দেশকে আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত এ শুল্ক থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশ সেই তালিকায় নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত শুল্ক রফতানি সক্ষমতা এবং বাজার প্রতিযোগিতা—দুটিতেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য ও অন্যান্য খাতও এই শুল্কের কারণে হুমকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা।

 

সর্বশেষ  গুরুত্বপূর্ণ  সব  সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের  ফেসবুক পেইজে  লাইক  দিয়ে  অ্যাকটিভ  থাকুন।  ভিজিট করুন : http://www.etihad.news

অনলাইন  নিউজ পোর্টাল  ইত্তেহাদ নিউজে  লিখতে  পারেন  আপনিও। লেখার বিষয়  ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন  [email protected] ঠিকানায় ।

সংবাদটি শেয়ার করুন....
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক :

ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক :

About Author

etihad news is one of the famous Bangla news portals published from Abudhabi-UAE. It has begun with a commitment to fearless, investigative, informative, and independent journalism. This online portal has started to provide real-time news updates with maximum use of Smart Technology.