Brand logo light
ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ‘নরক’: নির্যাতন, যৌন সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ তথ্য

ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ‘নরক’: নির্যাতন, যৌন সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ তথ্য

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

ইসরায়েলি কারাগারের একটি কক্ষ। সেখানে টানা পাঁচ দিন চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আহমেদ আবদেল আলকে। বিবস্ত্র করে চলত প্রহার। কানের কাছে প্রচণ্ড শব্দে বাজানো হতো হিব্রু ও ইংরেজি গান। যন্ত্রণায় যখনই জ্ঞান হারাতেন, তখনই বৈদ্যুতিক শক বা লাঠির আঘাতে তাকে জাগিয়ে তোলা হতো। আহমেদ আবদেল আল একা নন, তার মতো অন্তত ৫৯ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইসরায়েলি কারাগারে কাটানো দিনগুলোকে ‘নরক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) গত ৪ অক্টোবর ২০২৩ থেকে মুক্তি পাওয়া সাংবাদিকদের ওপর একটি বিস্তারিত অনুসন্ধান চালিয়ে এই ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সাংবাদিকদের ওপর চালানো অমানবিক শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের চিত্র। Read more: Palestinian journalists recount torture in Israeli prisons নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক জানান, বন্দিরা নির্দিষ্ট কিছু কক্ষকে ‘ডিসকো রুম’ বলে ডাকতেন। সেখানে উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে তাদের ঘুমাতে দেওয়া হতো না। এমনকি জিপ-টাই দিয়ে তার জননাঙ্গ বেঁধে মারধর করা হয়, যার ফলে পরে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বের হতো। সেনারা তাকে বলেছিল, ‘তুমি আর পুরুষ থাকবে না।’ সিপিজে বলছে, অন্তত ১৭ জন সাংবাদিক তাদের ওপর যৌন সহিংসতার কথা জানিয়েছেন এবং ১৯ জন অবমাননাকর নগ্ন করে তল্লাশির শিকার হয়েছেন। ৫৯ জন সাংবাদিকের মধ্যে ৫৮ জনই জানিয়েছেন যে তারা নির্যাতন বা সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৬ জন জানিয়েছেন তাদের পাঁজরের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে বা মেরুদণ্ডে আঘাত করা হয়েছছে। বন্দিদের ওজন গড়ে ২৩.৫ কেজি পর্যন্ত কমে গেছে। সাংবাদিক আহমেদ শাকুরা ১৪ মাসে ৫৪ কেজি ওজন হারিয়েছেন। ক্ষতস্থানে পচন ধরলেও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এক সাংবাদিকের চোখের দৃষ্টি সাময়িকভাবে চলে গিয়েছিল। সিপিজের তথ্যমতে, ২০২৩ সাল থেকে অন্তত ৯৪ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে ৩০ জন এখনও কারাগারে আছেন। মুক্তিপ্রাপ্তদের অধিকাংশকেই (৪৮ জন) কোনও অভিযোগ ছাড়াই ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিটেনশন’-এর আওতায় আটকে রাখা হয়েছিল। কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় অনেককে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-আত্রাশকে বলা হয়েছিল, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় যদি শুভ সকাল-ও লেখো, আমরা তোমাকে খুঁজে বের করব।’ আল জাজিরার সাংবাদিক আমিন বারাকাকে তার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং কারা কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট কোনও জবাব দেয়নি। তারা দাবি করেছে, বন্দিদের আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রাখা হয়। তবে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম এই ডিটেনশন সেন্টারগুলোকে ‘নির্যাতন ক্যাম্পের নেটওয়ার্ক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী কমিটি (সিএটি) ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো এই ‘পদ্ধতিগত ও ব্যাপক’ নির্যাতনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সিপিজের আঞ্চলিক পরিচালক সারা কুদাহ বলেন, ‘এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। সাংবাদিকদের ভয় দেখাতে এবং গাজা ও পশ্চিম তীরের খবর বাইরে আসা বন্ধ করতে এটি একটি পরিকল্পিত কৌশল।

কৃষি ও জলবায়ু

জুন ২৫, ২০২৫

ঢাকা, ২৫ জুন ২০২৫ – জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে দিন দিন বেড়ে চলেছে খাদ্য নিরাপত্তা সংকট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বিস্তার, অনিয়মিত বৃষ্টি ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষিজ উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এক সমীক্ষায় জানিয়েছে, ২০২৪ সালে উপকূলীয় ১২টি জেলার মধ্যে অন্তত ৭টিতে ধানের উৎপাদন কমেছে ২০ শতাংশের বেশি। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, ভোলা ও খুলনার কিছু অঞ্চলে একাধিক মৌসুমে চাষ সম্ভব হচ্ছে না। জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. ফারজানা রহমান বলেন, “উপকূলীয় মাটিতে লবণাক্ততার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ গুণ বেড়ে গেছে। এতে ধান, পাট, সবজি এমনকি মাছের চাষেও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ফলস্বরূপ এলাকার মানুষ বিকল্প জীবিকার সন্ধানে স্থানান্তর হচ্ছে।” স্থানীয় চাষিরা বলছেন, আগে যেখানে বছরে তিনবার ফসল হতো, এখন একবারও সঠিকভাবে ফসল ঘরে তোলা যাচ্ছে না। অনেকেই জমি ফেলে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা উপকূলীয় মানুষের জীবনে নতুন করে আঘাত হানে। ২০২৫ সালের মে মাসেই ঘূর্ণিঝড় ‘নির্মল’-এর আঘাতে বরগুনা ও পটুয়াখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে বহু কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে পড়ে এবং মিষ্টি পানির পুকুরে লবণাক্ত পানি ঢুকে যায়। পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার ২০২৫–৩০ সময়কালের জন্য একটি ‘জলবায়ু সহনশীল কৃষি কর্মপরিকল্পনা’ তৈরি করেছে, যার আওতায় উপকূলীয় কৃষকদের লবণসহিষ্ণু ফসল চাষে উৎসাহিত করা হবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড উপকূলবর্তী এলাকায় নতুন করে বাঁধ নির্মাণ ও পুরাতন বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করেছে, যাতে জোয়ারের পানি কৃষিজমিতে প্রবেশ না করতে পারে। তবে গবেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগগুলো কার্যকর করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরণের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, যদি জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় কৃষিজ উৎপাদন আরও ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের শঙ্কা নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তব ও প্রতিদিনকার চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

মাদক

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

অর্থনীতি

বাংলাদেশের অর্থনীতি চলতি (২০২৪–২৫) অর্থবছরে প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৩ শতাংশ হতে পারে, যা সরকার নির্ধারিত ৭.৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক কম। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, মূল্যস্ফীতির চাপ, বিদেশি রিজার্ভ সংকট, এবং টাকার অবমূল্যায়ন এই প্রবৃদ্ধি হ্রাসের পেছনে বড় কারণ। মূল্যস্ফীতি ও আমদানি নির্ভরতা এপ্রিল মাসে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.২ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম উচ্চ। খাদ্যদ্রব্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল ও মুরগির মাংসে। বাজারে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। একজন ভ্যানচালক বলেন, “আগে ২০০ টাকায় একবেলার বাজার হতো, এখন ৫০০ টাকায়ও পেট ভরে না।” রেমিটেন্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২৩ সালের তুলনায় রেমিটেন্স প্রবাহ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এখনও তা পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬.৫ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ২০২১ সালে এটি ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। এর ফলে এলসি খোলা, আমদানি পণ্য ছাড়, এবং আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধে চাপে পড়ছে সরকার ও বেসরকারি খাত। সরকার কী বলছে? অর্থমন্ত্রী কামাল সংসদে বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, যুদ্ধ ও জলবায়ুজনিত সমস্যার কারণে আমাদের কিছুটা ধাক্কা খেতে হচ্ছে। তবে সরকার দক্ষভাবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।” সরকার এবার কৃষি, গার্মেন্টস, ও এসএমই খাতে বেশি বিনিয়োগের দিকে নজর দিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি বলেন, “আমদানিতে জটিলতা, ঋণের উচ্চ সুদহার, এবং কর কাঠামোর অনিশ্চয়তা ব্যবসার পরিবেশকে কঠিন করে তুলছে। সরকারের উচিত প্রণোদনা ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।” বিশ্লেষকদের মত অর্থনীতিবিদ ড. সালেহীন মাহমুদ বলেন, “সরকার যদি অবকাঠামো উন্নয়ন ও মুদ্রানীতি সঠিকভাবে পরিচালনা করে, তবে পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে সতর্ক থাকতে হবে—মূল্যস্ফীতির লাগাম না টানলে সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।” বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে। যেখানে উন্নয়নের চিত্র আছে, সেখানেই আছে দুর্বল মুদ্রানীতি, রিজার্ভ সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপ। আগামী ছয় মাসে সরকারের নীতিগত পদক্ষেপগুলোই নির্ধারণ করবে—বাংলাদেশ সামনের দিকে এগোবে না কি আরও চাপে পড়বে।
বাংলাদেশ
মাদারীপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ
ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ফ্যামিলি কার্ড
ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0

নির্বাচিত সংবাদ

View more
অনুসন্ধানী সংবাদ
সংবাদ
এয়ারলাইন স্পাইসজেট
বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: বিকল্প রুটে স্পাইসজেট, বাড়ছে জ্বালানি ব্যয়ের শঙ্কা

ভারতের স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা স্পাইসজেটকে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বকেয়া এয়ার ন্যাভিগেশন চার্জ পরিশোধ না করায় ঢাকা এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে সংস্থাটির পূর্বাঞ্চলগামী একাধিক ফ্লাইটকে এখন বিকল্প আকাশপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কারণে স্পাইসজেটের কলকাতা থেকে গুয়াহাটি ও ইম্ফলগামী ফ্লাইটগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪ এর তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা–গুয়াহাটি ও কলকাতা–ইম্ফল রুটের সাম্প্রতিক ফ্লাইটগুলো বাংলাদেশ আকাশসীমা এড়িয়ে বিকল্প রুটে পরিচালিত হয়েছে। বাড়তে পারে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব ভারতের স্বল্প দূরত্বের রুটগুলোতে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশের আকাশসীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘস্থায়ী হলে স্পাইসজেটের জ্বালানি খরচ এবং সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। বর্তমানে সংস্থাটি আর্থিক চাপের মধ্যেই রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রান্তিকে স্পাইসজেট ২৬৯ দশমিক ২৭ কোটি রুপি নিট লোকসানের কথা জানিয়েছে। বাড়তি পরিচালন ব্যয় ও এককালীন কিছু খরচের কারণে মুনাফায় ধাক্কা লেগেছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থার প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশি আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্পাইসজেট। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিষয়টি সমাধানে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “পরিচালনাগত ও প্রক্রিয়াগত বিষয়, যার মধ্যে ন্যাভিগেশন–সংক্রান্ত চার্জও রয়েছে, সেগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত আলোচনা চলছে। এগুলো শিল্পখাতের স্বাভাবিক বিষয়। সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা গঠনমূলকভাবে কাজ করছি। আমাদের ফ্লাইট পরিচালনায় কোনও প্রভাব পড়েনি এবং আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধি মেনে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সেবা দিয়ে যাচ্ছি।” শেয়ারবাজারে প্রভাব নতুন এই পরিস্থিতির প্রভাব শেয়ারবাজারেও দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জে  লেনদেনে স্পাইসজেটের শেয়ার প্রায় ১ শতাংশ কমে ১৬ দশমিক ৮১ রুপিতে নেমে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। তবে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘায়িত হলে স্বল্পমূল্যের এই বিমান সংস্থাটির জন্য তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে খাত–সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের অভিমত।

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

করাচিতে ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
করাচিতে ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১২

পাকিস্তানের করাচিতে একটি তিন তলা ভবনে হঠাৎ ভয়াবহ বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।  বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রথম তলায় বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণটি ঘটেছে। এ ঘটনায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছে উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপ থেকে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নাজিয়া নামে ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশু রয়েছে। এছাড়া এক মহিলার মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুকেও। আহতদের মধ্যে আরও শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাদের সবাইকে হাসপাতালে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও দুজন আটকা পড়েছেন। উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনের চারপাশে সরু রাস্তাঘাটের কারণে কঠিন হয়ে পড়ছে উদ্ধার অভিযান। বর্তমানে এলাকাটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ এবং অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত থাকায় ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
স্বাগত জানাল ফ্রান্স, তারেক রহমানকে অভিনন্দন
ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
রাজনীতি
আত্মহত্যা
আত্মহত্যা: নীরব মানসিক ব্যাধি

ফারজানা আক্তার: আত্মহত্যা একটি নীরব মানসিক ব্যাধি। এটি কেবল একটি শব্দ নয়, এর পিছনে লুকিয়ে আছে হাজারো নীরব আর্তনাদের বাস্তবতা। একটি অল্পবয়সী জীবন, যার বয়সটা রঙিন ফানুশের ওড়ানোর সময়, হাজার স্বপ্নের জাল বোনার কথা সেই মানুষটাই সাদাকালো পৃষ্ঠার মলাটে নিজেকে চিরবিদায় জানানোর ঘোর নেশায় মত্ত। প্রতিদিন নানা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়া আত্মহত্যার বার্তা যেন এক নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এই নীরব আত্মঘাতক হাহাকার একটি নক্ষত্রের আলোকে অন্ধকারে ধাবিত করে। মানুষটি বুঝে ওঠার আগেই জীবনের ধ্বংসাত্মক খেলার কাছে হার মানে। আর পৃথিবীকে বিনিময়ে দিয়ে যায় তার নিথর সমাধি। আত্মহত্যার পিছনে সবচেয়ে দায়ী ভূমিকা রাখে মানসিক যত্নের অবহেলা তথা আত্মসচেতনতার অভাব। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীতে আমরা যেন ভুলতে চললাম মানসিক যত্নের গুরুত্ব কতটুকু! আমরা মানসিক যত্ন নিয়ে ততটা তৎপর নই, অথচ মানসিক ভারসাম্য ধরে রাখাটা সহজ নয়। নেতিবাচকতা একজন মানুষকে নীরবে আত্মহত্যার মতো সর্বনিকৃষ্ট কাজের সম্মুখীন করে। ধীরে ধীরে সেই ব্যক্তি বোঝার পূর্বেই জীবনের সর্বোচ্চ মূল্য দিতে হয়। তাই মনের যত্নের বিকল্প নেই। মনের যত্ন নেওয়ার অর্থ হলো শারীরিক যত্নের ন্যায় মানসিকভাবে নিজেকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখা। আত্মহত্যার কারণ বহুবিধ এবং জটিল কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা প্রতিরোধযোগ্য। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে আত্মহত্যা করেছে প্রায় ১৩ হাজার ৪৯১ জন। গড়ে প্রতিদিন আত্মহত্যার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪১ জনে। ডিসেম্বর মাসের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান এখনও প্রস্তুত না হওয়ায় সর্বশেষ চিত্র পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আর্থিক সহায়তায় সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) পরিচালিত জাতীয় জরিপ (২০২২-২৩) অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে আত্মহত্যা করেছেন ২০ হাজার ৫০৫ জন। পুলিশের হিসাবে ২০২৪ সালে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৯২০ জন। আত্মহত্যা ব্যক্তিগত, পারবারিক, সামাজিক নানা কারণে হয়ে থাকে। WHO অনুমান করে যে ২০% মানুষ আত্মহত্যা করে তারা কীটনাশক বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুলিশের বিবরণীতে ফাঁস, বিষপান, গায়ে আগুন, রেললাইনে ঝাঁপ ও অন্যান্যÑ এই পাঁচভাবে আত্মহত্যার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা। এরপর ব্যবহৃত পদ্ধতি বিষপান। কেবল ব্যক্তির জীবনই নিঃশেষ করে না, বরং সেই ব্যক্তির পরিবারেও আজীবনের কুপ্রভাব পড়ে। তা ছাড়াও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষরা আত্মহত্যা করা ব্যক্তিকে অনুসরণ করে। এর ঝুঁকি বর্তমান সমাজে বেড়েছে। ফলে এই বিষয়ে উদ্দীপনা হয় এমন বিষয়গুলোর প্রতি সচেতন হতে হবে। বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস একটি সচেতনতামূলক দিন, যেটি বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর আত্মহত্যা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের অনেক দেশে ২০০৩ সাল থেকে পালন করা হয়। এই দিবসটি পালন করতে আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থার সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্য ফেডারেশন একসঙ্গে কাজ করে। ২০১১ সালে অনুমনিক ৪০টি দেশ এই দিবসটি উদ্‌যাপন করে। ২০১৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করা মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের নিম্ন আয়ের কোনো দেশেই আত্মহত্যা প্রতিরোধে কোন কৌশল বা কর্মপন্থা ঠিক করা নেই, যেখানে নিম্ন মধ্য-আয়ের দেশসমূহের ১০% এবং উচ্চ আয়ের সব দেশেই এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়। তবে তা যেন বাস্তবায়িত হয় সে বিষয়ে সচেতন নাগরিক সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি যেন তৎপর চলতে থাকে। মনে রাখতে হবে মানসিক সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগ। এটি নিরাময়ে আমাদের তাদের প্রতি সহনশীল, বন্ধুত্বপরায়ণ হতে হবে। আমরা যদি সকলে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের নির্মম তিক্ততা অনুধাবন করে সহনশীল হই এবং সরকার মানসিক ব্যাধির প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরনের ক্যাম্পেইন ও নানা সৃজনশীল পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হই, তবে ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা মানসিক সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবে। সামষ্টিক সচেতনতা নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আত্মহত্যার প্রবণতা ও হার তুলনামূলক হ্রাস পাবে। ফারজানা আক্তার  শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা 

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
চা-পাতা সংগ্রহ করছেন এক নারী শ্রমিক।
সবুজ বাগানে জীবন যাদের অনুজ্জ্বল

চা-বাগান মানেই চোখ জুড়ানো সবুজ, কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ি ঢাল, সারি সারি চা-গাছ আর সেই গাছের ফাঁকে ফাঁকে নীরবে নুয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষ গজিয়ে ওঠা সবুজ কচি পাতা তুলছে। কি অপূর্ব এক দৃশ্য। এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ বঞ্চনার ইতিহাসÑ যেখানে চা-শ্রমিকদের জীবন আজও অচল হয়ে এক জায়গায় স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, অবহেলা ও বৈষম্যের প্রতীক হয়ে। আমাদের দেশের চা-চাষের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ এবং পুরাতন। ১৮৫৪ সালে সিলেটে যখন ব্রিটিশরা চায়ের বাগান তৈরি করে চা উৎপাদন শুরু করে তখন সিংহভাগের দখলে ছিল ব্রিটিশ বণিকরা। মাইলের পর মাইল বিশাল এই চা-বাগানে কাজ করবার জন্য দরকার ছিল বিপুলসংখ্যক শ্রমিক। বিহার, উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে কর্মহীন, শিক্ষাহীন, ভিন্ন ভাষাভাষী ও শ্রমিকশ্রেণির হিন্দু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজনকে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চা-বাগান এলাকাগুলোতে নিয়ে আসা হয়। বাগানের মাঝে ছোট মাটির ঘরে চা-শ্রমিকদের বসবাস শুরু হয়। প্রতিশ্রুতি ছিল কাজ, বাসস্থান ও নিরাপদ জীবনের। বাস্তবে তারা পেয়েছে শোষণ, বন্দিত্ব আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলা দরিদ্রতা। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র বদলেছে, সরকার বদলেছে, কিন্তু চা-শ্রমিকদের ভাগ্য কার্যত বদলায়নি। তাদের ঘরে রাত্রে ঘুমানোর খাট নাই, তাদের থাকার ঘরে বৃষ্টির রাতে তিন-চারবার ঘুমের স্থান বদলাতে হয়, কারণ বৃষ্টি বেশি হলে ওপরের ছাদ থেকে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় পানি পড়ে। এই হচ্ছে তাদের নিয়তি।    চা বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত চা-বাগানের সংখ্যা ১৭১টি। এই বাগানগুলোর মালিক হচ্ছে জেমস ফিনলে, ডানকান ব্রাদারস, নেশনেল টি কোম্পানি, দেউন্দি টি কোম্পানি, এম আহমদ টি অ্যান্ড ল্যান্ড। তার মধ্যে প্রায় ১০টি চা-বাগান সম্পূর্ণ অসুস্থ। এই বাগানগুলোতে চা-পাতা তোলা হয় না কর্মচারী/বাবুগণ বিগত ৪৮ মাস যাবৎ কোনো বেতন পান না। সবাই বাগানে থেকেই বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করে জীবন চালাচ্ছেন। বাগানের শ্রমিকরা দৈনিক ভিত্তিক মজুরিতে কাজ করেন, কেউবা তাদের বাগানের কাছে অবস্থিত খাসিয়াপুঞ্জিতে খাসিয়া মেয়েদের সঙ্গে পানগাছ থেকে পান তুলতে সাহায্য করেন। আবার অনেক বেকার শ্রমিক পাশের শহরে রিকশা, ঠেলাগাড়ি চালান অথবা দিনমজুরের কাজ করে থাকেন। এই বাগানগুলো মূলত সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, পঞ্চগড় ও রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত। সবচেয়ে বেশি চা-বাগান রয়েছে মৌলভীবাজারে ৯৬টি। বাগানগুলোতে শ্রমিকের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি। তবে, পরিবারসহ চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর মোট সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ বা তার বেশি। যাদের বেশিরভাগ নারী। জানা গেছে, প্রায় ৬৪ শতাংশই নারী, যাদের প্রায় সবাই খুব ছোটবেলা থেকেই চা-বাগানে কাজ করতে বাধ্য হন।    মৌলভীবাজার তথা পুরো সিলেটের চায়ের রাজ্যে আমার নিজের পর্যবেক্ষণের আলোকে বলছি, দেশে যখন শহুরে শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে বিতর্ক হয়, তখন চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি যেন রাষ্ট্রীয় বিবেকের কাছে অদৃশ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্দোলনের পর মজুরি কিছুটা বাড়লেও তা এখনও ন্যূনতম মানবিক জীবনের জন্য যথেষ্ট নয়। দৈনিক কয়েকশ টাকায়Ñ যেখানে খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, পোশাক সবই জোগাড় করতে হয় সেখানে চা-শ্রমিক পরিবারগুলো দিনের পর দিন অপুষ্টি আর অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছে। আসলে একজন চা-শ্রমিকের কাজ শুধু চা-পাতা তোলা নয়। পাহাড়ি ঢালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা, রোদবৃষ্টি উপেক্ষা করে কাজ করা, নির্দিষ্ট কোটা অর্থাৎ জনপ্রতি আড়াই কেজি কাঁচাপাতা প্রতিদিন বিকাল ৫টার মধ্যে তোলা পূরণ না হলে মজুরি কাটা যায়, সব মিলিয়ে এ এক কঠিন শ্রমযাপন। অথচ সেই শ্রমের ন্যায্যমূল্য তারা পান না।  বেশিরভাগ চা-শ্রমিক আজও বাগান কর্তৃপক্ষের দেওয়া কুঁড়েঘরে বসবাস করেন। জরাজীর্ণ ঘর, বিশুদ্ধ পানির সংকট, স্যানিটেশনের ভয়াবহ অবস্থাÑ এসব যেন চা-বাগানের নিত্যচিত্র। আধুনিক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতির গল্প চা-শ্রমিকদের ছুঁতে পারেনি। ৭ ফুট বাই ১৪ ফুট ঘরে পুরো পরিবারের বাস, শিক্ষা-স্বাস্থ্য নিয়ে সুযোগই নেই। উপরন্তু দ্রব্যমূল্য পাল্লা দিয়ে বাড়লেও তাদের বেতন সেভাবে বাড়ে না। এভাবে নানা বঞ্চনা নিয়ে দুর্দশার জীবন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশের চা-শ্রমিকরা। দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন হলেও চা-বাগান যেন এখনও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। এখানে পৌঁছে না আধুনিকতার আলো, মেলে না জীবনধারণের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা।  দেশের চা-বাগানের মধ্যে ৯৬টির অবস্থান মৌলভীবাজারে। আর এখানকার চা-শ্রমিকদের বিশেষ করে নারীদের দুর্দশা-বঞ্চনা আর ক্রীতদাসের মতো জীবনের যেন শেষ নেই। চা-বাগানের নিজস্ব হাসপাতাল বা ডিসপেনসারিগুলোতে চিকিৎসা সীমিত। গুরুতর রোগে আক্রান্ত হলে শহরে যাওয়ার সামর্থ্য অনেকের নেই। মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিশুমৃত্যু, অপুষ্টিÑ সব মিলিয়ে চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠী আজও এক প্রান্তিক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। বাংলাদেশের কোনো শিল্পাঞ্চলে কোনো মদের দোকান নেই শুধু ব্যতিক্রম চা-বাগান। প্রতিটি চা-বাগানে একাধিক মদের দোকান আছে। স্থানীয় ভাষায় মদের পাটটা বলে। প্রায় সব চা-শ্রমিকই মদপানে আসক্ত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে নিবন্ধিত আছে ৮৪টি মদের পাটটা। আধো আলো আর আধো ছায়ার মধ্যে চা-বাগানগুলো তাদের উপস্থিতি টিকিয়ে রাখে। জানা গেছে, সেখানে চা-চাষে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত ভূমির পরিমাণ ১,১৪,০১৪ হেক্টর কিন্তু বাস্তবে চাষ হচ্ছে ৫০,৪৭০ হেক্টরে। চা-বাগানে প্রাকৃতিক বন ধ্বংস হচ্ছে, তাই বন্যপ্রাণীও চা-বাগান এলাকা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। বিস্ময়কর সত্য হলো চাশিল্প ঘিরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রায় ১৫টি প্রতিষ্ঠান, সেখানে চা-শ্রমিকের উপস্থিতি নেই।  শিক্ষাই পারে দারিদ্র্যের শিকল ভাঙতেÑ এই সত্যটি চা-শ্রমিকদের জীবনে বারবার প্রমাণিত হয়নি। বাগানের ভেতরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা আর ঝরে পড়ার হার অত্যন্ত বেশি। শিশুরা অল্প বয়সেই কাজে নেমে পড়েÑ কারণ পরিবার চালাতে অতিরিক্ত আয়ের দরকার। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম চা-শ্রমিক হিসেবেই রয়ে যাচ্ছে। একজন চা-শ্রমিকের সন্তান চা-শ্রমিক ছাড়া অন্য কিছু হতে পারবেÑ এই স্বপ্ন এখনও অনেকের কাছে বিলাসিতা। চা-শ্রমিকদের বড় একটি অংশ আদিবাসী ও নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তারা সামাজিকভাবেও বৈষম্যের শিকার। জাতীয় মূলধারার রাজনীতি, প্রশাসন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের প্রতিনিধিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। ভোটের সময় তারা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ভোটের পরে তাদের দাবিদাওয়ার কথা ভুলে যাওয়া হয়। নাগরিক অধিকার থাকলেও বাস্তবে সেই অধিকার প্রয়োগের সুযোগ সীমিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চা-শ্রমিকদের আন্দোলন দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছে। মজুরি বৃদ্ধি, রেশন সুবিধা, চিকিৎসা ও শিক্ষা উন্নয়নের দাবি তুলেছেন তারা। সরকার ও মালিকপক্ষ আলোচনায় বসেছে, কিছু প্রতিশ্রুতিও এসেছে। কিন্তু বাস্তবায়নের গতি ধীর, অনেক ক্ষেত্রেই অসম্পূর্ণ। এ কথা সত্য যে, বিগত সরকারের আমলে চা-শ্রমিকদের বিষয়ে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তাদের দুর্দশাকে রাষ্ট্রীয় আলোচনায় নিয়ে আসে। যদিও এসব উদ্যোগ প্রত্যাশার তুলনায় সীমিত। সবচেয়ে আলোচিত অবদান ছিল চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি। দীর্ঘ ১৯ বছর পর ২০২২ সালে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। সরকারের মধ্যস্থতায় মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত আসে। এতে চা-শ্রমিকদের আন্দোলনের একটি তাৎক্ষণিক সুরাহা হলেও মজুরি এখনও ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় অপর্যাপ্ত রয়ে গেছে। তৎকালীন সরকার চা-শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা কিছুটা অর্থ বাড়ায়। ভিজিডি, ভিজিএফ, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও বয়স্ক ভাতা কর্মসূচিতে চা-শ্রমিক পরিবারের অংশগ্রহণ বেড়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি চা-বাগানে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র উন্নয়ন ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকার ‘চা-শ্রমিক উন্নয়ন নীতিমালা’ প্রণয়নের কথা বললেও তার পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই এসব দায়িত্ব মালিকপক্ষের ওপরই ন্যস্ত রয়ে গেছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, সরকার চা-শ্রমিকদের সমস্যা স্বীকার করছে, তবে কাঠামোগত বৈষম্য দূরীকরণ ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর সংস্কার দরকার ছিল, তা এখনও অপূর্ণই রয়ে গেছে। আমি মনে করি, চা-শ্রমিকদের জন্য দয়া নয়, প্রয়োজন অধিকারভিত্তিক নীতি। তাই ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মানবিক জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করতে হবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবাকে বাগান কর্তৃপক্ষের দয়ার ওপর না রেখে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। তাদের নিরাপদ বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে হবে। চা-শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিতে হবে, যাতে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। চায়ের কাপ হাতে আমরা যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি, তখন খুব কমই মনে রাখি এই চায়ের পেছনে রয়েছে নিঃস্ব মানুষের ঘাম, ক্লান্তি আর অদৃশ্য কান্না। বাংলাদেশের চা-শিল্প টিকে আছে চা-শ্রমিকদের শ্রমে। অথচ তারাই আজ সবচেয়ে অবহেলিত। মনে রাখতে হবে, চা-শ্রমিকদের উন্নয়ন মানে কেবল একটি শ্রমগোষ্ঠীর উন্নয়ন নয়Ñ এটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার এক অপরিহার্য শর্ত। আমি বলতে চাই, সবুজ চা-বাগানের সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন সেই সবুজের ভেতর থাকা মানুষগুলোর জীবনেও সবুজতা ফিরে আসবে। মতি লাল দেব রায় কলাম লেখক ও সমাজ সংগঠক

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
Professional ethics and responsibility
গণমাধ্যম: পেশাগত নীতিনৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ

ড. মাহরুফ চৌধুরী: গণমাধ্যম কেবল সংবাদ পরিবেশনের একটি যান্ত্রিক মাধ্যম নয়; এটি সমাজের দর্পণ, রাষ্ট্রচিন্তার বাহক এবং নাগরিক চেতনা ও মূল্যবোধ নির্মাণের এক অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এই কারণেই গণমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যে স্তম্ভ রাষ্ট্রের নির্বাহী ও আইন প্রণয়নকারী ক্ষমতার পাশাপাশি নিরপেক্ষ সত্তা হিসেবে জনস্বার্থ রক্ষা এবং ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে গণমাধ্যম জনমত গঠন, সত্য উন্মোচন এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ভূমিকা পালন করেছে। ফলে এই প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা যেমন ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বর্তমান সময়েও তা প্রশ্নাতীত। এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক পেশাজীবীর, বিশেষ করে সাংবাদিক, সম্পাদক, কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে কলাম লেখক পর্যন্ত সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, নৈতিকতা ও সৌজন্যবোধ চর্চা করা একটি নৈতিক দায়। কারণ গণমাধ্যমে ব্যক্তিগত আচরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি সরাসরি প্রভাব ফেলে জনচিন্তা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক মূল্যবোধের ওপর। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের বাস্তবতায় এই পেশাগত চরিত্র ও নৈতিক চর্চা এখনও ব্যতিক্রম, নিয়মনীতি হয়ে ওঠেনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গণমাধ্যম একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠার বদলে ক্ষমতা, সুবিধা ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঘেরাটোপে আবদ্ধ এক অপরিণত পেশার জগতে পরিণত হয়েছে। এখানে কোনো ব্যক্তিবিশেষকে অভিযুক্ত করা, আক্রমণ করা কিংবা খাটো করার উদ্দেশ্য নেই। বরং সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণে গণমাধ্যমের যে নিরন্তর ও অপরিহার্য ভূমিকা, সেই ভূমিকাকে গভীরভাবে স্বীকার করেই কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে পেশাদারত্ব ও নৈতিকতার প্রশ্নগুলো সামনে আনার একটি আন্তরিক প্রয়াস মাত্র। সমালোচনার লক্ষ্য এখানে ব্যক্তি নয়, বরং কাঠামো, সংস্কৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ যেগুলো শক্তিশালী না হলে গণমাধ্যম তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারে না ও জনমনে গ্রহণযোগ্যতা হারায়। লেখক হিসেবে নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা এবং অন্য লেখকদের কাছ থেকে শোনা তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই নিবন্ধে গণমাধ্যমে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত কিছু মৌলিক সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এসব সমস্যা একদিকে লেখকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে, অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের নৈতিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে তোলে। এই প্রেক্ষাপটে লেখালেখির পরিবেশ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মান আরও সুসংহত ও বলিষ্ঠ করার প্রয়োজনীয়তার কথাই এখানে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে, সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকীয় পর্ষদে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে এই লেখার মূল আবেদন। পত্রপত্রিকার পক্ষ থেকে লেখকদের প্রতি ন্যূনতম সম্মান প্রদর্শন, পেশাগত সৌজন্য বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দেওয়া। প্রথমত, লেখকদের সঙ্গে সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষের সৌজন্যবোধ ও পেশাগত শিষ্টাচারের ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ না করলেই নয়। একজন লেখক যখন কোনো সংবাদপত্রে লেখা পাঠান বা ই-মেইলের মাধ্যমে সম্পাদকীয় দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখন সেই লেখার প্রাপ্তি স্বীকার করা ন্যূনতম পেশাগত দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। এটি কোনো অতিরিক্ত সৌজন্য নয় বরং আধুনিক পেশাগত যোগাযোগের একটি স্বীকৃত নীতি। একজন লেখকের ন্যায্য প্রত্যাশা থাকে তার লেখা গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সেটি প্রকাশযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে কি না, কিংবা আদৌ তা পড়া হয়েছে কি নাÑ এই ন্যূনতম তথ্য জানার। যদি লেখা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে আনুমানিক কবে নাগাদ তা প্রকাশিত হতে পারে, সেই ধারণা দেওয়া পেশাগত স্বচ্ছতারই অংশ। আবার লেখা প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট অনলাইন লিংক কিংবা ই-পেপারের কপি লেখককে পাঠানো কোনো ব্যক্তিগত অনুগ্রহ নয়; এটি পেশাগত সৌজন্য ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের স্বাভাবিক পরিধির মধ্যেই পড়ে। দ্বিতীয়ত, লেখকের লেখায় সম্পাদনার নামে অতিরিক্ত বা অযাচিত হস্তক্ষেপ একটি গুরুতর নৈতিক ও আইনি প্রশ্নের জন্ম দেয়। গণমাধ্যমের নীতিমালার অংশ হিসেবে বানান, শব্দচয়ন কিংবা বাক্যগঠনের ত্রুটি সংশোধন করা সম্পাদকীয় দায়দায়িত্বের স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় অংশ এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। বরং এই ধরনের সম্পাদনাই একটি পত্রিকার পেশাগত মানের উৎকর্ষ সাধন এবং তাকে দৃশ্যমান করে। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন এসব সীমার বাইরে গিয়ে লেখার অংশ বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেটেছেঁটে ফেলা তথা বক্তব্য, কাঠামো বা অন্তর্নিহিত অর্থে প্রভাব পড়ে এমন কোনো পরিবর্তন, সংকোচন কিংবা সংযোজন করা হয়, অথচ তা প্রকাশের আগে লেখককে অবহিত করা হয় না। এটা সম্পূর্ণ পেশাগত নীতির পরিপন্থী, অনৈতিক, বেআইনি ও লেখকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং পত্রিকা কর্তৃপক্ষের স্বৈরাচারী মনোবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ। মনে রাখা জরুরি, একটি লেখা কেবল কিছু শব্দ বা বাক্যের যান্ত্রিক সমষ্টি নয়; এটি লেখকের চিন্তা, শ্রম, মেধা, অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সততার বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে লেখার বিষয়বস্তু, দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শনের নৈতিক ও আইনি দায়ভারও বহন করেন লেখক নিজেই। সে কারণেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইন ও নীতিমালায় লেখকের এই অধিকারকে কপিরাইট বা মেধাস্বত্ব এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কোনো লেখায় লেখকের সম্মতি ছাড়া মৌলিক পরিবর্তন আনা শুধু অনৈতিকই নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা বিদ্যমান আইনি কাঠামোরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অতএব, লেখকের অনুমতি বা অন্তত অবহিতকরণ ছাড়া লেখার বক্তব্যগত পরিবর্তন করা মানে ব্যক্তিগত লেখককে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে পেশাগত নীতিনৈতিকতা, সম্পাদকীয় স্বচ্ছতা এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই খাটো করা। একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমে সম্পাদক ও লেখকের সম্পর্ক হওয়া উচিত সহযোগিতামূলক ও সম্মান-নির্ভর, যেখানে সম্পাদনা হবে মানোন্নয়নের উপায়, কর্তৃত্ব আরোপের অস্ত্র নয়। তৃতীয়ত, লেখকের সম্মানী বা পারিশ্রমিক প্রদানের প্রশ্নটি এখনও আমাদের দেশের গণমাধ্যম জগতে এক ধরনের উপেক্ষিত ও অনানুষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। দুঃখজনকভাবে, বহু গণমাধ্যম মালিকের বিরুদ্ধেই নিয়মিতভাবে সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে, যা আমাদের সংবাদপত্র জগতের একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করে। তা সত্ত্বেও বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিক, সম্পাদক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের শ্রম, সময় ও মেধার বিনিময়ে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। এই স্বীকৃত বাস্তবতার আলোকে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে যে লেখকরা সেই পত্রিকার জন্য নিয়মিতভাবে লেখা পাঠান, কনটেন্ট সমৃদ্ধ করেন এবং পাঠক তৈরিতে ভূমিকা রাখেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নীতির ব্যতিক্রম কেন ঘটবে? লেখালেখি কোনো শখের কাজ মাত্র নয়; এটি সময়, শ্রম, মনন ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রস্তুতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি পেশাগত কর্মকাণ্ড। এর জন্য প্রচুর সময়, শ্রম ও মেধা ব্যয় করতে হয়। সুতরাং লেখকের পারিশ্রমিক প্রদান বা সময়মতো তা পরিশোধ করা কোনো দয়া বা সদিচ্ছার বিষয় নয়; এটি একটি স্পষ্ট নৈতিক ও পেশাগত দায়। একজন পেশাজীবী হিসেবে এই প্রশ্নটি প্রতিদিন নিজেকে করা সাংবাদিক ও সম্পাদকদের নৈতিক দায়িত্ব। স্বৈরাচারমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ কায়েম করতে হলে পেশাজীবীদেরও নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। নিজেরা বৈষম্যমূলক ও স্বৈরাচারী আচরণ করে অন্যের কাছ থেকে ন্যায্য ও অস্বৈরাচারী আচরণ আপনি কীভাবে আশা করেন? কারণ গণমাধ্যমে নৈতিকতা কেবল প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুতে সীমাবদ্ধ নয়; তা প্রতিফলিত হয় পেশাগত আচরণ, শ্রমের মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বোধের মধ্য দিয়েও। মূলত, আমরা যে সমাজ কল্পনা করি এবং যে রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি, সেই মূল্যবোধ যদি আমাদের নিজ নিজ আচার-আচরণ, পেশাগত চরিত্র ও নৈতিক চর্চার ভেতরে প্রতিফলিত না হয়, তবে তা অন্যের কাছে কিংবা বৃহত্তর সমাজের কাছে প্রত্যাশা করাই অবাস্তব। ব্যক্তিগত ও পেশাগত আচরণের সঙ্গে ঘোষিত আদর্শের এই বিচ্ছিন্নতাই রাষ্ট্র ও সমাজজীবনের অন্যতম মৌলিক সংকট। গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক পেশাজীবীর দায়িত্ব কেবল লেখা প্রকাশ বা সংবাদ পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং মানবিক ‘সোনালি নীতি’ তথা ‘আপনি আচরি ধর্ম, অপরে শিখাও’, পেশাগত সৌজন্য ও নৈতিক নীতিমালা মেনে চলার মাধ্যমেই তারা একটি কল্যাণমুখী, ন্যায়ভিত্তিক এবং দায়িত্বশীল সমাজ নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। কারণ গণমাধ্যমের প্রকৃত শক্তি শব্দে নয়, বরং সেই শব্দের পেছনে থাকা নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতায় নিহিত। প্রকৃতপক্ষে, আমরা যে সমাজ কল্পনা করি বা যে রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি, সেই মূল্যবোধ যদি আমাদের নিজেদের আচার-আচরণ, পেশাগত চরিত্র ও নৈতিক চর্চার ভেতরে প্রতিফলিত না হয়, তবে তা অন্যের কাছে কিংবা বৃহত্তর সমাজের কাছে প্রত্যাশা করাই অবাস্তব। নৈতিকতা কখনোই কেবল দাবি বা উপদেশের বিষয় নয়; এটি প্রতিদিনের অনুশীলনের মধ্য দিয়েই অর্থবহ হয়ে ওঠে। তাই প্রতিটি পেশাজীবীর বিশেষ করে, গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্তদের মানবিক ‘সোনালি নীতি’র পাশাপাশি নিজ নিজ পেশাগত নীতিনৈতিকতা আন্তরিকভাবে অনুসরণ করা অপরিহার্য। একটি কাঙ্ক্ষিত কল্যাণমুখী সমাজ নির্মাণ কোনো একক গোষ্ঠীর দায়িত্ব নয়; এটি সম্মিলিত নৈতিক অনুশীলনের ফল। সেই অনুশীলনের সূচনা হওয়া উচিত নিজের জায়গা থেকে। নিজ নিজ দায়িত্বের ক্ষেত্রে যদি আমরা পেশাদারত্ব, সৌজন্য ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করতে পারি, তবেই আমাদের গণমাধ্যমগুলো সত্যিকার অর্থে সমাজ ও রাষ্ট্রের অব্যাহত নির্মাণের অগ্রদূত হিসেবে তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে সক্ষম হবে।   ড. মাহরুফ চৌধুরী ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, যুক্তরাজ্য

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
রোহিঙ্গা সংকট
রোহিঙ্গা সংকট: নতুন সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা উচিত

এ এইচ এম ফারুক:   ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনী তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’-এর নামে রোহিঙ্গাদের ওপর যে বর্বরোচিত নিধনযজ্ঞ চালায়, তা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্টতম গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এবং আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সময় হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং অসংখ্য নারীকে গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এমএসএফ-এর পরিসংখ্যান বলছে, অভিযানের প্রথম এক মাসেই অন্তত ৯,৪০০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৭৩০ জনই ছিল শিশু। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো একে মানবাধিকারে চরম বিপর্যয় হিসেবে গণ্য করেছে এবং তুর্কি সংবাদমাধ্যমগুলো এই সংকটকে মুসলিম উম্মাহর ওপর এক পরিকল্পিত জাতিগত নিধন হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছে।   এই ভয়াবহ হামলা ও নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা আজ আর কেবল মানবিক সংকট নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক চরম বাস্তব হুমকি। বিভিন্ন তথ্যমতে প্রায় ১০ লক্ষ নিবন্ধিতসহ প্রায় ১৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় কোনো কোনো সংস্থার ধারণা এ সংখ্যা আরও বেশি।     পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্ত অঞ্চল ঘেঁষে কক্সবাজারে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান আমাদের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জনতাত্ত্বিক কাঠামো, অর্থনীতি এবং পরিবেশকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে। এই ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি থ্রেট’ মোকাবিলায় এবং একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজতে এখন দল-মতনির্বিশেষে ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য এবং সরাসরি সরকার প্রধান তথা নির্বাচন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর অধীনে একটি ‘বিশেষ কমিশন’ বা বিশেষ সেল গঠন করা সময়ের দাবি। দীর্ঘদিনের প্রথাগত ও মন্থর কূটনীতি থেকে বেরিয়ে এসে এখন আমাদের ‘বাস্তব সক্ষমতা’ এবং কৌশলগত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।   এই সংকটের অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৭ সালে যে মানবিকতাকে কেন্দ্র করে আমরা সীমান্ত খুলে দিয়েছিলাম, সেই সংকটের সমাধান না হওয়ায় বাংলাদেশ এখন এক ভয়াবহ চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে আছে। নির্যাতনের আগুনের মুখ থেকে প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে আসা লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীর এই বোঝা এখন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকির এক চরম বাস্তব পরীক্ষা। এ বিষয়ে দেশি বিদেশী সংস্থা কাজ করছে।       এই সংকটের বহুমাত্রিক ঝুঁকি এবং সমাধানের নতুন কৌশলগুলো নিয়ে সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব গ্লোবাল স্টাডিজ (আইআইজিএস) রাজধানী ঢাকায়— ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: নির্বাচন–পরবর্তী সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শিরোনামে আয়োজন করে এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার।   উক্ত সেমিনারে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, সামরিক বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব একমত হয়েছেন যে, রোহিঙ্গা সংকট এখন বাংলাদেশের অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্রমহ্রাসমান সহায়তার প্রেক্ষাপটে এই উপস্থাপনাটি স্পষ্ট করে যে, বিদ্যমান গৎবাঁধা উপায়ে আর সমাধান সম্ভব নয়। সেমিনারে উত্থাপিত প্রস্তাবনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেবল শরণার্থী সমস্যা হিসেবে দেখার দিন শেষ; একে এখন জাতীয় নিরাপত্তার এক নম্বর চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতার নতুন সমন্বয় প্রয়োজন।   গবেষণা ও সেমিনারের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর একটি অসহনীয় ও ক্রমবর্ধমান বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভরণপোষণে বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যয়ের পরিমাণ বছরে ১০০ কোটি ডলারের (১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি) মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর ইউক্রেন বা ফিলিস্তিন সংকটের দিকে সরে যাওয়ায় রোহিঙ্গাদের জন্য ‘জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান’ (জেআরপি)-এর তহবিল দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। ২০১৭ সালে যেখানে তহবিলের জোগান ছিল ৭৩%, ২০২৩-২৪ সালে তা ৫০%-এর নিচে নেমে এসেছে। ফলে এই বিপুল ব্যয়ের সিংহভাগ এখন বাংলাদেশের নিজস্ব রাজস্ব বাজেট এবং সাধারণ করদাতার ওপর চাপ হিসেবে জেঁকে বসছে, যা দেশের জাতীয় উন্নয়ন বাজেটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।       অর্থনৈতিক এই রক্তক্ষরণের সমান্তরালে কক্সবাজার ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলে চলছে অপূরণীয় পরিবেশগত বিপর্যয়। সেমিনারে আলোচিত তথ্যানুযায়ী, রোহিঙ্গাদের আবাসনের জন্য উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় ৮ হাজার একরের বেশি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ইতিমধ্যেই বিলীন হয়ে গেছে। পাহাড় কাটার ফলে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে এবং বর্ষাকালে পাহাড় ধসের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়েছে। এর চেয়েও ভয়ঙ্কর চিত্র হলো ভূ-গর্ভস্থ পানি নিয়ে। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় কৃষিজমিকে মরুভূমিতে রূপান্তর করতে পারে। গবেষকদের মতে, এটি এখন আর স্থানীয় সমস্যা নেই, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক বাস্তুসংস্থানের জন্য একটি ‘ইকোলজিক্যাল সিকিউরিটি থ্রেট’ বা পরিবেশগত নিরাপত্তাহীনতায় পরিণত হয়েছে। এই বিপুল পরিবেশগত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য এক নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।   ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। ওআইসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক উত্থাপিত এই প্রস্তাবে ১০৫টি দেশ সমর্থন জানালেও গত আট বছরে প্রত্যাবাসনে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশ আর ১৩ লাখ রোহিঙ্গার এই বিশাল বোঝা বহন করতে পারছে না। গত আট বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও নিরাপদে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি, যা বৈশ্বিক কূটনীতির এক চরম ব্যর্থতা। আন্তর্জাতিক লবিং যখন লক্ষ্য অর্জনে ধীরগতি সম্পন্ন হয়, তখন রাষ্ট্রকে তার নিজস্ব নিরাপত্তা কৌশল ও ‘হার্ড পাওয়ার’ ব্যবহারের কথা ভাবতে হয়।   রোহিঙ্গা সংকটের চলমান স্থবিরতার মধ্যে সম্প্রতি এক নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল, যা এখন অনেকটা ধূম্রজালে পরিণত হতে চলেছে।       পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মিয়ানমার জান্তা সরকার কিংবা আরাকান আর্মির (এএ) অসহযোগিতামূলক মানসিকতা এবং রাখাইনের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের সংকট। তবে ড. ইউনুসের যে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক প্রভাব রয়েছে, তা ব্যবহার করে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর বৈশ্বিক চাপ প্রয়োগের এক অনন্য সুযোগ তাঁর ছিল এবং আছে। সাধারণ কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়েও ড. ইউনুস অনেক বেশি সাহসিকতা ও ক্ষমতা নিয়ে এই ইস্যুতে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারতেন। যেখানে বিশ্বনেতারা তাঁর একটি ডাকে সাড়া দেন, সেখানে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে না পারাটা এক ধরণের ব্যর্থতা হিসেবেই রয়ে যাবে। যদি রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ঈদ করতে পারতেন, তবে আন্তর্জাতিক মহলে ড. ইউনুসের এই আশ্বাস কেবল একটি ‘রাজনৈতিক অলঙ্কার’ হিসেবেই নাথেকে বরং মর্যাদার হয়ে উঠতে পারতো।   পাশাপাশি বাস্তবিক অর্থে এটি স্পষ্ট যে, কেবল ব্যক্তিগত প্রভাব নয়, বরং সেই প্রভাবকে ‘বাস্তব সক্ষমতা’ (Hard Power) ও কার্যকর দ্বিপাক্ষিক দরকষাকষিতে রূপান্তর করতে না পারলে এই মানবিক ট্র্যাজেডির অবসান সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের দেওয়া এই বিশাল আশ্বাসের বাস্তবায়ন না হওয়া বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক নৈতিক অবস্থানকেও দুর্বল করে দিতে পারে। উপরন্তু নতুন সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর জন্য এক বিশাল পরীক্ষা হিসেবে তোলা রেখে গেলেন এই বিষফোড়াবিবেচ্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুটি।   সেমিনারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও এই জাতীয় ঐক্যের সুরে সংহতি প্রকাশ করেন। মামুনুর রশিদ খান (বিএনপি অঙ্গসংগঠন কৃষক দল), এ কে এম রফিকুন নবী (জামায়াতে ইসলামী), হুমায়রা নূর (এনসিপি), আবু হানিফ (গণ অধিকার পরিষদ), শামসুল আলম (ইসলামী ঐক্যজোট), অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এবং সামরিক-বেসামরিক বিশেষজ্ঞগণ প্রত্যেকেই সংকটের বহুমাত্রিকতা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে ইস্পাতকঠিন ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেন।     আইআইজিএস আয়োজিত সেমিনারে অংশগ্রহণকারী নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকদের বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ এতদিন যে ‘ধীরে চলো’ নীতি অবলম্বন করেছে, তা এখন অকার্যকর। এই সংকট সমাধানে সামরিক, কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক—তিনটি ফ্রন্টেই নতুন ও সাহসী কৌশল প্রণয়ন জরুরি।   নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ প্রস্তাব করেন যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ‘ডেস্ক’ দিয়ে ১১ লাখ মানুষের এই বিশাল ও জটিল সংকট সমাধান সম্ভব নয়। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে একটি ‘বিশেষ রোহিঙ্গা কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দেন, যেখানে ২৪ ঘণ্টা কেবল এই ইস্যু নিয়ে কাজ করার মতো একটি ডেডিকেটেড বিশেষজ্ঞ দল থাকবে। আইআইজিএস-এর চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান সামরিক ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে একটি সঠিক ও যুগোপযোগী ‘নিরাপত্তা নীতি’ (Security Policy) প্রণয়নের ওপর জোর দেন।   এফএসডিএস-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, রাজনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান না হলে ‘বাস্তব সক্ষমতা’ ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পথে এগোতে হবে। তিনি সরকারের জন্য একটি আলাদা ‘টাস্কফোর্স’ গঠনের পরামর্শ দেন। তিনি সতর্ক করেন যে, ক্যাম্পে প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার নতুন শিশু যুক্ত হচ্ছে, অথচ আন্তর্জাতিক অর্থায়নে এক ধরণের ক্লান্তি তৈরি হয়েছে।     সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির এবং মিয়ানমারে বাংলাদেশ মিশনে দায়িত্বপালনকারি মেজর (অব) এমদাদুল ইসলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘রিয়েলিটি চেক’-এর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, রাখাইনের বর্তমান নিয়ন্ত্রক এখন ‘আরাকান আর্মি’ (এএ)। সুতরাং, কেবল নেপিডো বা জান্তা সরকারের সাথে আলোচনা করে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না; যারা মাঠ পর্যায়ে ভূমি নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের সাথে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা ‘ট্র্যাক-টু ডিপ্লোম্যাসি’ স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি।   সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট ও সাহসী পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। যেমন-   আন্তর্জাতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা: আলোচকরা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বিষয়টি পুনরায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জোরালোভাবে উত্থাপন এবং নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে প্রয়োজনে মিয়ানমারের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) আরোপের জন্য কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেন।     কৌশলগত বিভ্রান্তি নিরসন: বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতিতে ‘কৌশলগত বিভ্রান্তি’ চিহ্নিত করে বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেন যে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশটির ওপর বাংলাদেশের যে ধরণের প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ ছিল, তা আমরা যথাযথভাবে নিতে পারিনি। তাঁরা ‘ধীরে চলো’ নীতির পরিবর্তে আরও সক্রিয় ও আক্রমণাত্মক কূটনীতি গ্রহণের তাগিদ দেন।   অপরাধ দমনে প্রযুক্তি: রোহিঙ্গা সংকটকে বর্তমানে বাংলাদেশের ‘নম্বর ওয়ান ন্যাশনাল সিকিউরিটি থ্রেট’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করা হয় যে, ক্যাম্পগুলো এখন ‘ট্রান্স-ন্যাশনাল ক্রাইম’ বা আন্তর্জাতিক অপরাধের ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা দমনে কেবল প্রথাগত পুলিশি ব্যবস্থা নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। আইআইজিএস-এর ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আখতার শহীদ এ ক্ষেত্রে দলীয় বিভাজনের বাইরে গিয়ে একটি ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।   তথ্যসূত্র: ১. ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পথেই এগোতে হবে’, প্রথম আলো, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬। ২. ‘রোহিঙ্গাসংকট সমাধানে বিশেষ কমিশন ও টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব’, কালের কণ্ঠ, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬। ৩. ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব গৃহীত’, বাসস, ২০ নভেম্বর ২০২৫। ৪. ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: নির্বাচন–পরবর্তী সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারের কার্যবিবরণী, আইআইজিএস, জানুয়ারি ২০২৬। ৫. ‘ড. ইউনুস ও জাতিসংঘ মহাসচিবের রোহিঙ্গা শিবির সফর এবং প্রত্যাবাসন প্রতিশ্রুতি’, আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ও সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তি, ২০২৫-২৬।   সেমিনারের আলোচকদের সমন্বিত মতামতের ভিত্তিতে এই সংকট উত্তরণে নিম্নোক্ত সুপারিশসমূহ বিবেচনা করা যেতে পারে:   ১. ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল অন রোহিঙ্গা: প্রস্তাবিত বিশেষ কমিশন ও টাস্কফোর্সকে একীভূত করে একটি শক্তিশালী ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল অন রোহিঙ্গা’ গঠন করা। ২. নিরাপত্তানীতি পুনর্মূল্যায়ন: মিয়ানমার ইস্যুকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনা। ৩. আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক লবিং: প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সামরিক ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনা তথা নিবিড় লবিং চালিয়ে যাওয়া। ৪. জাতীয় ঐক্য সনদ: সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি ‘জাতীয় ঐক্য সনদ’ তৈরি করা, যাতে রাষ্ট্রক্ষমতায় পরিবর্তন আসলেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের জাতীয় অবস্থানে কোনো পরিবর্তন না ঘটে।   পরিশেষে বলা যায়, রোহিঙ্গা সংকট এখন আর কেবল আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার বিষয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী অস্তিত্বের ওপর এক গভীর ক্ষত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের গতানুগতিক প্রস্তাবনাগুলো যে প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, ২০ নভেম্বরের সাধারণ পরিষদের রেজোলিউশন ও পরবর্তী আট বছরের স্থবিরতা তার বড় প্রমাণ। আইআইজিএস সেমিনারের আলোচকদের মতে, রোহিঙ্গা সংকট এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং এই সংকট সমাধানে কালক্ষেপণ করার অর্থ হলো জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও বিপন্ন করা।   এই কঠিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে কেবল সুবিধাই দিচ্ছে। তাই সময় এসেছে ঘরের রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তিকে এক টেবিলে বসে একটি 'জাতীয় ঐক্য সনদ' তৈরি করার। একইসাথে, প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘বিশেষ কমিশন’ বা টাস্কফোর্সের মাধ্যমে সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতার সমন্বিত প্রয়োগ ঘটাতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ১৪ লক্ষাধিক মানুষের এই বিশাল বোঝা চিরস্থায়ী করার সামর্থ্য বাংলাদেশের নেই। বাংলাদেশের উচিত তার বাস্তব সক্ষমতা ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে বিশ্বকে এই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যে—আমরা আর এই বোঝা বয়ে বেড়াতে চাই না। এখন যদি আমরা কঠোর ও কৌশলী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হই, তবে ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমাদের চড়া মূল্য দিতে হতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে ‘জাতীয় ঐক্য’ ও ‘বিশেষ কমিশন’ গঠনই এখন আমাদের সামনে একমাত্র কার্যকরী বিকল্প।   লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। [email protected]

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ
নিরাপদ পানির অধিকার ও স্যানিটেশন

ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ: একটি উন্নত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো জনস্বাস্থ্যের টেকসই উন্নয়ন। বর্তমানে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল যখন সরগরম, তখন অত্যন্ত মৌলিক একটি বিষয়—নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (WASH)— নির্বাচনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আসা অপরিহার্য ছিল।   সম্প্রতি ‘নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কস’ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তাদের ৮ দফা সংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে। ২০২৫ সালের ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে’ (MICS) অনুযায়ী, দেশের ৭৩ শতাংশ মানুষ বেসিক স্যানিটেশনের আওতায় এলেও গুণগত মান, টেকসই ব্যবস্থাপনা ও বৈষম্যহীন প্রাপ্যতা এখনও একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ।   জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও মানবিক পুনর্গঠনের একটি রূপরেখা। সরাসরি ‘ওয়াশ’ শব্দটির কারিগরি ব্যবহার এখানে কম হলেও, এর সংস্কার প্রস্তাবগুলো পানি ও স্যানিটেশন অধিকার নিশ্চিত করতে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।   সনদে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতার কথা (পয়েন্ট ১৮ ও ১৯) বলা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (DPHE) বা ওয়াসার মতো সংস্থাগুলোর মাঠ পর্যায়ের কাজ যদি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অধীনে থাকে, তবে বরাদ্দ ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা আসবে।   গবেষণায় দেখা যায়, ‘বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকারের অংশগ্রহণ পানি ব্যবস্থাপনায় কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে’ (World Bank, 2021)। সনদে মৌলিক অধিকারের তালিকা সংশোধন ও সম্প্রসারণের কথা ((পয়েন্ট ৯) বলা হয়েছে। নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনকে যদি সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তবে এটি রাষ্ট্রের জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করবে।   নেটওয়ার্কের অন্যতম দাবি ছিল জাতীয় বাজেটে ওয়াশ খাতে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ভৌগোলিক বৈষম্য কমাতে একটি ‘WASH Equity Index’ তৈরি করা। বিএনপি তাদের ইশতেহারে বস্তিবাসী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য উন্নত পানি ও স্যানিটেশনের কথা বলেছে। এবি পার্টি প্রান্তিক পর্যায়ে সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।   তবে জুলাই সনদের মূল সুর —বৈষম্যহীন সাম্য— অনুসরণ করে কোনও দলই সুনির্দিষ্ট ‘ইক্যুইটি ইনডেক্স’ বা বাজেটের একটি নির্দিষ্ট অংশ (যেমন জিডিপির ১ শতাংশ) ওয়াশ খাতের জন্য বরাদ্দের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি। অথচ এসডিজি ৬ অর্জনে বাংলাদেশের জন্য বর্ধিত বিনিয়োগ অপরিহার্য।   নেটওয়ার্ক আর্সেনিক, লবণাক্ততা ও বন্যারোধী টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের আহ্বান জানানো হয়েছিল। সনদে (পয়েন্ট ৬.১) জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষেত্রে ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ শব্দবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনকে একটি জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে পরিণত করেছে। জামায়াতে ইসলামী উপকূলীয় অঞ্চলে লোনা পানি প্রবেশ রোধে শক্তিশালী টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   বিএনপি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কথা বলেছে, যা ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরেন্দ্র ও উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পৃষ্ঠস্থ পানি সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়েছে। এটি ‘ওয়াটার স্ট্রেস’ মোকাবিলায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।   নেটওয়ার্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে নারী ও কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে ও মানসম্মত মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী নিশ্চিত করা। বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রধান দলগুলোর ইশতেহারে এই বিষয়টি প্রায় অনুপস্থিত। মাসিক স্বাস্থ্যবিধি কেবল একটি নারী স্বাস্থ্য ইস্যু নয়, এটি কিশোরীদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া রোধে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে প্রায় ৪১ শতাংশ কিশোরী মাসিকের সময় স্কুলে অনুপস্থিত থাকে (World Bank, 2018)। এই ‘পিরিয়ড পভার্টি’ নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর নীরবতা হতাশাজনক।   নেটওয়ার্ক ফিক্যাল স্লাজ ম্যানেজমেন্ট এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছিল। বিএনপি ‘সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ প্রবর্তন এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও সার উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সিপিবি শহরগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও বসবাসযোগ্য করতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কথা বলেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সকল শিল্পকারখানায় ইটিপিস্থাপন বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার করেছে। এটি জলাশয়ের দূষণ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।   অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ওয়াশ খাতে বিনিয়োগ একটি উচ্চফলনশীল পদক্ষেপ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, ওয়াশ পরিষেবাগুলিতে বিনিয়োগকৃত প্রতি ১ ডলারের বিপরীতে স্বাস্থ্য খরচ হ্রাস এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ৪.৩ ডলার পর্যন্ত অর্থনৈতিক লাভ ফিরে আসে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারে এই অর্থনৈতিক লাভজনক দিকটি তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা ওয়াশকে কেবল একটি ‘সামাজিক সেবা’ হিসেবে দেখেছে, যা আদতে একটি ‘অর্থনৈতিক বিনিয়োগ’।   জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর মূল চেতনা হলো বৈষম্যহীনতা। বাংলাদেশে বর্তমানে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার বিশাল ফারাক বিদ্যমান। জুলাই সনদের ৯ নম্বর পয়েন্টের আলোকে যদি ‘নিরাপদ পানির অধিকার’ মৌলিক অধিকারে উন্নীত হয়, যা ইতোমধ্যেই হাইকোর্ট বিভাগ নিশ্চিত করেছে, তবে রাষ্ট্র এই বৈষম্য দূর করতে বাধ্য থাকবে।   রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার ও জুলাই সনদের এই তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, দলগুলো ভৌত অবকাঠামো (নদী খনন, বাঁধ নির্মাণ) নিয়ে যতটা সচেতন, গুণগত মান ও জেন্ডার সংবেদনশীলতা (মাসিক স্বাস্থ্যবিধি, ইক্যুইটি ইনডেক্স) নিয়ে ততটাই উদাসীন।   জুলাই সনদের সংস্কার অনুযায়ী স্থানীয় সরকারকে ওয়াশ বাজেটের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দিতে হবে। পিরিয়ড পভার্টি দূর করতে করছাড় ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার থাকতে হবে। জলবায়ু অর্থায়নের একটি বড় অংশ উপকূলীয় ওয়াশ অবকাঠামোতে বরাদ্দ করতে হবে।   নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (WASH) সবার মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করা হবে এবং শহর–গ্রাম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অন্তর্ভুক্তিমূলক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে বলে কথা দিয়েছে এনসিপি তাদের ইশতেহারে। তারা আরও বলেছে যে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য জেন্ডার–সংবেদনশীল WASH ও মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সুবিধা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা হবে।   আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের উচিত হবে জুলাই সনদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রার্থীদের প্রশ্ন করা—আপনার উন্নয়ন পরিকল্পনায় আমার নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা কোথায়? রাজনৈতিক অঙ্গীকার যখন কেবল কাগজের ইশতেহার থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, তখনই কেবল আমরা একটি প্রকৃত ‘মানবিক রাষ্ট্র’ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবো।   লেখক: আইনজীবী এবং উন্নয়নকর্মী

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
আমীন আল রশীদ
ইতিহাসের সেরা না হোক, অন্তত ‘ভালো’ নির্বাচন হোক

জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম এবং দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ দুই নেত্রীকে (খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা) ছাড়া প্রথম নির্বাচন—যেটি ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হবে বলে একাধিকবার আশ্বাস দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস—সেই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। আপনি যখন লেখাটি পড়ছেন, ততক্ষণে অনেকেই ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার দুপুরের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পাওয়া যাবে।   গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও আধুনিক অটোমেশন সিস্টেম ও একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের কারণে দ্রুততম সময়ে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। যদিও দুর্গম কিছু এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে ফলাফল পেতে সামান্য বিলম্ব হতে পারে, তবে কোনোভাবেই তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে না। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন যে, অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনি পরিবেশ অনেক বেশি চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে।   একই দিনে দুই ভোট   এবারের নির্বাচনে ফলাফল হবে দুটি। কারণ এবার একই দিনে দুটি নির্বাচন হচ্ছে। একটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অন্যটি জুলাই সনদ প্রশ্নে গণভোট।   ভোটারদের হাতে দুটি ব্যালট পেপার দেওয়া হচ্ছে। একটিতে তিনি জাতীয় নির্বাচনে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আরেকটি জুলাই সনদে উল্লিখিত সংস্কার প্রস্তাবগুলোয় তার সম্মতি আছে কিনা, সেই প্রশ্নে হ্যাঁ বা না সিল মারবেন। যদিও এই গণভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি ও সংশয়ের অন্ত নেই। এমনকি বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য সরকারের তরফে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া কাঙ্ক্ষিত ছিল, তাও চোখে পড়েনি। বরং ব্যালট পেপারে হ্যাঁ ও না দুটি অপশন থাকলেও সরকার শুরু থেকেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে প্রধান উপদেষ্টা নিজে এবং তার উপদেষ্টাগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানোর সাফাই গেয়েছেন, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারি কর্মচারীদের হ্যাঁ বা না ভোটের পক্ষে প্রচার চালানোকে আইনত দণ্ডনীয় বলেছে। তার মানে হ্যাঁ-না ভোটের প্রশ্নে সরকারের মধ্যেই দ্বিধা ও বিভ্রান্তি ছিল, আছে।   বাংলাদেশে অতীতের তিনটি গণভোটের অভিজ্ঞতা বলছে, গণভোটের ফলাফল আসলে পূর্বনির্ধারিতই থাকে। অর্থাৎ হ্যাঁ না ভোটে সাধারণত হ্যাঁ জয়ী হয়। কারণ ‘হ্যাঁ’ জিতলেই কেবল সরকার তার লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারে বা নিজের কর্মকাণ্ডে জনগণের বৈধতা বা সম্মতি আদায় করতে পারে।   তবে এবারের গণভোট যেহেতু হচ্ছে অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এবং একটি নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে, সুতরাং এবার গণভোটের ফলাফল নির্ধারিত নয় বা গণভোটের জনগণের মতামতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে, এটিই প্রত্যাশিত। যেসব প্রশ্নে গণভোট হচ্ছে, আশা করা যায় দেশের অধিকাংশ মানুষই সেসব সংস্কারের পক্ষে। সংস্কার মানে যদি হয় ইতিবাচক পরিবর্তন, তাহলে সেই পরিবর্তন কে না চায়? কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় এই সংস্কারের পক্ষে জনগণের মতামত নেওয়া হচ্ছে সেটি ত্রুটিপূর্ণ। অথচ এই ত্রুটি এড়িয়ে আগে নির্বাচন, তারপর সংসদে সংস্কার প্রস্তাবগুলো পাস করে গণভোটে দিলে এই বিতর্ক এড়ানো যেতো। তার আগে সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ব্যাপারে জনগণকে সুস্পষ্টভাবে জানানো এবং এগুলো যে সত্যিই দেশের কল্যাণের জন্য করা হচ্ছে, সেই বিশ্বাস জনমনে প্রতিষ্ঠিত করা উচিত ছিল। কেননা অধিকাংশ মানুষের কাছেই সংস্কার প্রস্তাবগুলো পরিষ্কার নয়। উপরন্তু এই ধারণাও জনমনে আছে যে, জুলাই সনদের মূল লক্ষ্য মুক্তিযেুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংবিধানকে পাল্টে দেওয়া এবং জুলাই অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। জুলাইযোদ্ধাদেরকে মুক্তিযাদ্ধাদের সমান করে তোলার চেষ্টা ইত্যাদি। সেইসাথে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ফ্যাক্টগুলোর বাইরে গিয়ে নতুন বয়ান প্রতিষ্ঠার যে প্রচেষ্টা গত দেড় বছর ধরে চলছে, সেটির আইনি ভিত্তি দেওয়ার জন্য গণভোট নেওয়া হচ্ছে—এমন ধারণাও জনমনে আছে। কিন্তু সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাই সনদ বা গণভোটের ব্যাপারে মানুষের মনে পরিষ্কার ধারণা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এটা ধারণা করাই যায় যে, বিপুল সংখ্যক মানুষ না বুঝেই গণভোটে হ্যাঁ বা না দেবেন। অনেকে পরিচিতজনের কথায় হ্যাঁ বা না দেবেন। অর্থাৎ সেখানে তার নিজের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে না। অনেকে হয়তো জটিলতা এড়ানোর জন্য গণভোটে অংশই নেবেন না। কেবল জাতীয় নির্বাচনের ব্যালটে সিল দেবেন।   এবার জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট নেওয়ার পেছনে সরকারের হয়তো এরকম একটি উদ্দেশ্য ছিল যে, জাতীয় নির্বাচনের পরে আবার একটি গণভোটে খুব বেশি মানুষ সাড়া দেবে না। তাই যেহেতু জাতীয় নির্বাচনের মানুষ ভোট দিতেই যাবে অতএব একই দিনে গণভোটের ব্যপারেও তাদের মতামত নেওয়া যায়। কিন্তু কাজটা সহজ করতে গিয়ে একটা বড় ধরনের ত্রুটি জিইয়ে রাখা হলো যা ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে পারে।   তারপরও দেশ ও মানুষের কল্যাণেই এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে—এই বিশ্বাস থেকে প্রত্যাশা করা যায় যে, প্রধান উপদেষ্টার ভাষায় এবার ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ না হলেও অন্তত একটা ভালো নির্বাচন হবে। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ভবনে উন্নয়ন সহযোগীদের জন্য আয়োজিত ব্রিফিং শেষে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলারও বলেছিলেন, ‘এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো নির্বাচন।’   ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো নির্বাচন   ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো নির্বাচন বলতে আসলে কী বুঝায়—সেটি অনেক বড় তর্ক। সেই তর্কে না গিয়েও এটা বলা যায় যে, ভালো নির্বাচন মানে হলো তফসিল ঘোষণার পর আগ্রহী সব প্রার্থী নির্বিঘ্নে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তারা রাজনৈতিক কারণ বা অন্য কোনোভাবে প্রভাবিত হবেন না। প্রতীক বরাদ্দের পরে প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে প্রচার-প্রচারণা চালাবেন এবং সেখানে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে যা নিশ্চিত করবে নির্বাচন কমিশন। কোনও প্রার্থীকে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার বা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে সরকারের কোনও বাহিনী চাপ প্রয়োগ করবে না। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ভোটের একটি সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকবে। ভোটের দিন ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্ভয়ে ফিরবেন। জাল ভোট, কেন্দ্রদখল বা সহিংসতা হবে না। ভোট গণনায় কোনও ধরনের কারচুপি হবে না। কোনও নির্দিষ্ট প্রার্থীকে জয়ী করার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা উৎসাহ দেখাবেন না বা এ বিষয়ে তাদের ওপর কোনও ধরনের রাষ্ট্রীয় চাপ থাকবে না। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরে প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থী সেটি মেনে নেবেন।   অনেক সময় ভোট সুষ্ঠু বা শান্তিপূর্ণ হলেও সেখানেও কারচুপি হতে পারে। ভোটের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। সুতরাং সহিংসতামুক্ত নির্বাচন মানেই সেটি গ্রহণযোগ্য ভোট নাও হতে পারে। একটি নির্বাচনকে তখনই ভালো নির্বাচন বলা যায় যখন সেটি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়। সেই হিসাবে বাংলাদেশে বিগত দিনে হওয়া ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে পঞ্চম, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া আর কোনও নির্বাচনই বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল না। ওই তিনটি নির্বাচন নিয়েও পরাজিত দলের পক্ষ থেকে কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু ভালো নির্বাচনের সংজ্ঞা অনুযায়ী সেগুলো ছিল গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য।   গত তিনটি নির্বাচনে যে মানুষেরা ভোট দিতে পারেনি বা ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি, তারা এবার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে কোনও ধরনের ভয়-ভীতি ও চাপমুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারলেই খুশি হবে। কেননা সংবিধান যে জনগণকে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক বলে ঘোষণা করেছে, সেই মালিকানা প্রয়োগের প্রধান উপায় যে ভোট—সেই ভোট দিতে না পারার ক্ষোভও যে আওয়ামী লীগের পতনের পেছনে বিরাট ভূমিকা রেখেছে, সে বিষয়ে দ্বিমতের সুযোগ কম। অতএব এবারও যদি মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারে বা এবারও যদি সরকার নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে এবং কোনও একটি দল বা জোটকে জিতিয়ে আনার ব্যাপারে ভূমিকা রাখে—তাহলে দেশ যে সংকটের ভেতরে ছিল, তার চেয়ে বড় সংকটে পতিত হবে।   নির্বাচন কমিশন যতই নিরপেক্ষ থাকুক, নির্বাচন কেমন হবে সেটা পুরোপুরি নির্ভর করে ডিসি-এসপিদের ওপরেই। বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামো এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব কিনা—সেটি অনেক পুরনো তর্ক। কেননা নির্বাচন কমিশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি যতই দলনিরপেক্ষ, সৎ, সাহসী ও যোগ্য হোন না কেন; মাঠ প্রশাসন যদি না চায়, তাহলে ভালো নির্বাচন করা সম্ভব নয়। ভোট কেমন হবে, সেটি নির্ভর করে যে সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে; তারা কেমন ভোট চায়, তার ওপর। মাঠ প্রশাসন যেহেতু সরকার তথা নির্বাহী বিভাগের অধীন এবং নির্বাচন কমিশনের কথা না শুনলে যেহেতু তাদের কোনও শাস্তির ভয় নেই কিংবা শাস্তি হলেও নির্বাহী বিভাগ থেকে তার ‘সুরক্ষা’ ব্যবস্থার যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে; মাঠ প্রশাসন তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশের বাইরে যাবে না। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন কী নির্দেশনা দিল, তার চেয়ে বড় কথা- সরকার বা নির্বাহী বিভাগ তাকে কী বলছে?   নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেই। ভোট পরিচালনায় যে বিপুল সংখ্যক জনবল দরকার, সে পরিমাণ লোক তার নেই। ফলে তাকে পুরো নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্ভর করতে হয় নির্বাহী বিভাগ তথা সরকারের ওপর। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ বলছে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন ভোট পরিচালনার জন্য সরকারের কাছে যে সহায়তা চাইবে, সরকার সেটি দিতে বাধ্য। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে যারা থাকেন তারা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কর্মী নন। বরং তারা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োজিত এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তা ব্যক্তিরা যা বলবেন, যে নির্দেশনা দেবেন, তার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। সুতরাং তারা কতটা নিরপেক্ষভাবে ভয়-ভীতি ও লোভের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন, তার ওপর নির্ভর নির্বাচনটি কেমন হবে। অর্থাৎ মাঠ প্রশাসন যদি ইসিকে সহায়তা না করে; তারা যদি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর মতো আচরণ করে; মাঠ প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ না থাকে বা থাকতে না পারে— তাহলে খুব ভালো নির্বাচন কমিশনের পক্ষেও ভালো নির্বাচন করা সম্ভব নয়।   ধরা যাক, সিইসি ও কমিশনার হিসেবে দেশের সবচেয়ে মেধাবী, যোগ্য, সৎ ও সাহসী মানুষেরাই নিয়োগ পেলেন। কিন্তু একটি নির্বাচন শুধু নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে না। পুরো সিস্টেম যদি ভালো নির্বাচনের সহায়ক না হয়, তাহলে একজন সিইসি এবং চারজন কমিশনারের পক্ষে কিছুই করার নেই। তাদের নিয়ত যদি ‘সহিহ’ হোক না কেন, পুরো সিস্টেম যদি তাদেরকে সহযোগিতা না করে তাহলে তাদের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব নয়।   যদি সরকার তথা নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে পুরোপুরি সহযোগিতা না দেয়; যদি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে দায়িত্বশীল আচরণ না করেন, তাহলে শুধুমাত্র পুলিশিং বা বিচার করে নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক রাখা সম্ভব নয়।   বিগত তিনটি নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত খারাপ নির্বাচন হয়েছে, এ বিষয়ে দ্বিমতের সুযোগ কম। কিন্তু এই খারাপ নির্বাচনের দায় শুধু ওই তিন সিইসির নয়। এটা পুরো নির্বাচনি ব্যবস্থার ত্রুটি।   মনে রাখতে হবে, পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণ হওয়ার পরও সেই ভোট গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। যেমন- একটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের ফল ঘোষণা পর্যন্ত কোনও হানাহানি হলো না, কোনও প্রার্থীর প্রচারে বাধা দেওয়া হলো না, কাউকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ দেওয়া হলো না; কিন্তু দেখা গেলো মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি বা ভোটার উপস্থিতি খুবই কম।   যেহেতু সংবিধানে ন্যূনতম ভোটের বিধান নেই, অর্থাৎ নির্বাচনে কত শতাংশ ভোট পেতে হবে এবং প্রাপ্ত ভোটের কত শতাংশ না পেলে জয়ী বলা যাবে না—এমন কোনও বিধান যেহেতু সংবিধানে বা নির্বাচনি আইনে (আরপিও) নেই, ফলে অনেক সময় দেখা গেছে ১০ শতাংশ ভোট পেয়েও অনেকে এমপি বা মেয়র নির্বাচিত হয়ে গেছেন। এটিকে সুষ্ঠু ভোট বলা হলেও কোনও অর্থেই ভালো নির্বাচন বলা যায় না। আবার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেলে সেখানে কোনও ভোটই হয় না। ভোট না হলে সেখানো কোনও সংঘাত হয় না। তাতে ওই ভোটটি শান্তিপূর্ণ বা সংঘাতমুক্ত হলো বটে, কিন্তু এটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নয়।   পরিশেষে, ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো নির্বাচন প্রয়োজন নেই, বরং অন্তর্বর্তী সরকার যদি নির্বাচনে কোনও ধরনের প্রভাব বিস্তার না করে বা করতে না পারে; সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মাঠ প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ ও নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করে—তাহলেই একটা ভালো নির্বাচন করা সম্ভব এবং সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ যাদেরকে চাইবে তারা যদি সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে সেটিই হবে দেশ ও জাতির জন্য বিরাট পাওয়া।   লেখক: সাংবাদিক    

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0

Follow us

Top week

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)
মিডিয়া

পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
জাতীয় পার্টি
জনসমর্থন হারিয়েছে জাতীয় পার্টি,ভরাডুবির কারণ নেতৃত্ব সংকট!

জিএম কাদের এবং ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। জিএম কাদের ২৪৩ আসনে প্রার্থী দিলেও একটি আসনেও জিততে পারে নি। অন্যদিকে জাপার অপর অংশ ২৮টি আসনে প্রার্থী দিলেও একটি আসনেও জিততে পারে নি। কেন এই পরাজয়?  রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্ব সংকট, সাংগঠনিক দুর্বলতা, জোটনির্ভর রাজনীতি এবং ভোটারদের আস্থাহীনতাই এ পরাজয়ের অন্যতম কারন।  বৃহত্তর রংপুরের জাতীয় পার্টির দুর্গ ভেঙ্গে খানখান হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির কোনো প্রার্থী মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি।  সূত্রমতে, মতে রাজনীতিতে টিকে থাকতে শক্তিশালী তৃণমূল সংগঠন অপরিহার্য। কিন্তু জাতীয় পার্টির অনেক জেলা ও উপজেলা কমিটি কাগুজে অবস্থায় রয়েছে। নিয়মিত কর্মসূচি, রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ও জনসংযোগ কার্যক্রমে ঘাটতি থাকায় দলটি ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেনি। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার মতো নতুন নেতৃত্ব ও বার্তাও দৃশ্যমান ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টি বড় দলের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করেছে। এতে স্বল্পমেয়াদে কিছু আসন পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে। ভোটারদের একটি অংশ দলটিকে ‘কিংমেকার’ বা ক্ষমতাসীনদের সহযোগী হিসেবেই দেখে, বিকল্প শক্তি হিসেবে নয়। ফলে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় সমর্থন কমেছে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে জাপা নির্বাচনে অংশ নেয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলেমিশে মন্ত্রিসভায় থাকে, আবার বিরোধী দলেরও ভূমিকা পালন করে জাতীয় পার্টি। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও সমঝোতার মাধ্যমে আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দল হয়। এরপর ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও জাপা মাত্র ১১ আসন পেয়েছিল। নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কেন ভরাডুবি এ বিষয়ে পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে জনকণ্ঠ থেকে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। যার ফলে পার্টির কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায় নি। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির অপর অংশের নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু জনকণ্ঠকে বলেন, জিএম কাদেরের একরোখার কারণে এমন ভরাডুবি হয়েছে। আমরা বলেছিলাম নির্বাচনে না যেতে। তিনি আমাদের কথা শুনলেন না। দল থেকে আলাদা হয়ে গেলেন। ঐক্যবদ্ধ থাকলে নির্বাচনে ভরাডুবি হতো না। এ দায়-দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে।  নির্বাচনে পার্টির ভরাডুবির বিষয়ে আমরা বসে আলোচনা করবো। এই অংশের অপর নেতা সুনীল শুভ রায় বলেন, এই পরাজয়ের দায় দায়িত্ব জিএম কাদেরের। কারণ তিনিই দলকে ভেঙেছেন।  তিনি আরও বলেন, আমাদের ভোট বিএপির প্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপি প্রার্থী ভোট পেয়েছেন। আমাদের জাপা ছোটখাটো জোট ছিল। সম্মিলিত জাতীয় জোট নির্বাচনে ২৮ প্রার্থী দিয়েছিল। কিন্ত কোনো প্রার্থীই জয়লাভ করতে পারেনি।  ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রয়াত  হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাত ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল জাতীয় পার্টির। ওই বছরের ৭ মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে দলটি। এর দুই বছরের মধ্যে ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল বর্জন করলে জাপা ২৫১ আসনে জয়লাভ করে। তবে ওই সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন ঘটে এরশাদ শাসনের। এরপর আর ক্ষমতায় যাওয়া হয়নি দলটির। পরবর্তীতে যত নির্বাচন হয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদন্ধ হয়ে নির্বাচন করেছে।  জাতীয় পার্টির জন্ম হয়েছে সামরিক শাসনের প্রেক্ষাপটে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলটি গণতান্ত্রিক ধারায় সক্রিয় থাকলেও বিরোধীরা অতীতের শাসনামলকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করে। তরুণ প্রজন্মের কাছে দলটির ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে ইতিবাচক বর্ণনা তুলে ধরতে না পারাও একটি কারণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে স্থানীয় জনপ্রিয়তা বড় ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি এমন প্রার্থী দিয়েছে, যাদের এলাকায় সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল ছিল। আবার কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে ভোট বিভক্ত হয়েছে। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল না থাকায় ফলাফল নেতিবাচক হয়েছে। কয়েকটি নির্বাচন বিশ্লেষণ করেল দেখা যায় জাতীয় পার্টি একক ভাবে নির্বাচন করে কোন আশানুরূপ ফল অর্জন করতে পারেনি। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি সারাদেশে ৩৫টি আসনে জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও এককভাবে অংশ নিয়ে সারাদেশে ৩২টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় পার্টি। ২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে জাতীয় পার্টি পায় মাত্র ১৪টি আসন। ২০০৬ সালে জাতীয় পার্টি যোগ দেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে। আর এই মহাজোটে গিয়েই ধস নামতে শুরু করে জাতীয় পার্টির। ২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ২৯টি আসন ছাড় পায় এরশাদের জাপা। ২০০৯ সালে গঠিত হাসিনা সরকারের মন্ত্রী ছিলেন জিএম কাদের। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভমি ধস হয়েছে জাতীয় পার্টির। পাটিৃর চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুর–৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে তৃতীয় হয়েছেন। এখানে  জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিন্দ্বী বিএনপির শামসুজ্জামান শামু পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। অন্যদিকে জিএম কাদের পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট। জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ আসনে নির্বাচন করে নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। দলের ‘দুর্গ’খ্যাত কুড়িগ্রামে একটি আসনেও জয় পাননি জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থীরা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতে লাঙ্গল প্রতীকে দলটির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনোটিতেই বিজয়ী হতে পারেননি। বরং চারটি আসনের তিনটিতেই জামানত হারিয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতেগড়া দল জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বারবার ভাঙনের মুখে পড়ে। এর মধ্যে নব্বইয়ের গণআন্দোলনে এরশাদের পতনের পর প্রথমবারের মতো ভাঙন ধরে জাতীয় পার্টিতে। দ্বিতীয় দফার ভাঙন হয় ১৯৯৭ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে। কাজী জাফর ও শাহ মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে, ২০০১ সালে নাজিউর রহমানের নেতৃত্বে চতুর্থ দফা এবং ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে জাপায় পঞ্চমবারের মতো ভাঙন ধরে। ২০১৯ সালে এরশাদ মারা যাওয়ার পর সবশেষ ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল তার স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একটি অংশ ভাগ হয়ে যায়।  প্রসঙ্গত, জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০(ক) ধারায় দলের চেয়ারম্যানকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের শোকজ কিংবা কারণ দর্শনোর নোটিস ছাড়াই যে কাউকে বহিষ্কার করতে পারবেন। এর আগে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে মহাসচিব থেকে বহিষ্কার করে মুজিবুল হক চুন্নুকে মহাসচিব করা করেছিলেন জিএম কাদের। দলের গঠনতন্ত্রের ‘বিতর্কিত’ ২০(ক) ধারাকে কেন্দ্র করে ফের ভাঙতে যাচ্ছে জাপা। একই সঙ্গে দলের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরকে শীর্ষপদ থেকে সরাতে জোট বাঁধে। অবশেষে রুহুল আমিন হাওলাদার ও ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন আরেকটি জাপার সৃষ্টি হয়। কাউন্সিলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তম বারের মতো ভেঙে যায় জাতীয় পার্টি। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চেয়ারম্যান ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জাতীয় পার্টির মহাসচিব নির্বাচিত হন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর
পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুরের ঐতিহাসিক বিজয়

দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৩ আসন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯১ সালের পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা দলটির দখলেই ছিল আসনটি। কখনও কোনো নির্বাচনে এখানে জয় পায়নি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই ইতিহাস বদলে গেছে। এই প্রথমবারের মতো আসনটি দখলে নিতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি সমর্থিত জোট। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জোট প্রার্থী নুরুল হক নুর ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন। যদিও তিনি সরাসরি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেননি, তবুও জোট সমঝোতার মাধ্যমে আসনটি বিএনপির ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোটের ফলাফল এবারের নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ৯৬ হাজার ৭৬৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নুরুল হক নুর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৭৬ ভোট। আসনটিতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অতীত নির্বাচনের ইতিহাস পটুয়াখালী-৩ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আনওয়ার হোসেন হাওলাদার এবং ১৯৮৮ সালে একই দল থেকে মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে একে এম জাহাঙ্গীর হোসাইন বিজয়ী হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন গোলাম মাওলা রনি। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত হন এস এম শাহজাদা। তবে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপি থেকে শাহজাহান খান জয়ী হয়েছিলেন। ওই নির্বাচন আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি প্রধান রাজনৈতিক দল বর্জন করেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই আসনে এবার পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় ইস্যু, জোট সমঝোতা এবং তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এ বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নুরুল হক নুরের বিজয়ের মাধ্যমে শুধু একটি আসন পরিবর্তন হয়নি, বরং দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনের এ ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। দীর্ঘদিনের একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে বিএনপি সমর্থিত জোটের এই বিজয় আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশলে প্রভাব ফেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যাওয়া হেভিওয়েট প্রার্থীরা
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন: হেভিওয়েটদের চমকপ্রদ পরাজয়

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হয়েছে। বেসরকারিভাবে প্রকাশিত হয়েছে ফলাফলও। ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। এছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ আরও বিভিন্ন দল আসন পেয়েছে। আবার দলগুলোর মধ্য থেকে হেরে গেছেন অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও। দেশব্যাপী হেরে যাওয়া এসব হেভিওয়েট প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-২ আসনের খুলনা নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা-১ আসনের জামায়াতের আলোচিত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী, এনসিপির সারজিস আলম, বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুম, জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু। তালিকা থেকে বাদ পড়েনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং ফুটবলার আমিনুল হকের নাম। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের পরাজয় খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগারের কাছে পরাজিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। মোহাম্মদ আলি আসগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট। ব্যবধান ২ হাজার ৬০৮। পোস্টাল কেন্দ্রসহ আসনটিতে মোট কেন্দ্র ছিল ১৫১টি। পরওয়ার ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে। ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ছিলেন। এ আসনের লক্ষাধিক ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাদের ভোট পেতে দুই প্রার্থীই চেষ্টা চালিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত হিন্দু ভোট ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যবধান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকেরা। মির্জা আব্বাসের কাছে হেরে গেলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত আসন ছিল ঢাকা-৮। ওসমান হাদীর মৃত্যুর পর এ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মির্জা আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে পোস্টাল ভোটসহ তিনি পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট। মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট। সবমিলিয়ে ভোটের ব্যবধান ৫ হাজার ২৩৯। হেরে গেছেন ফুটবলার আমিনুল হক ঢাকা-১৬ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হয়েছেন ধানের প্রতীকে নির্বাচন করা সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ১৩৭টি কেন্দ্রে মো. আব্দুল বাতেন মোট ভোট পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮২৩ ভোট এবং আমিনুল হক পেয়েছেন মোট ৮৪ হাজার ২০৭ ভোট। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর হেরে গেলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক ঢাকা-১৩ আসনে (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শ্যামলী) হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ২ হাজার ৩২০ ভোটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মামুনুল হককে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি ভোট। এই আসনে অংশ নেওয়া বাকি সাতজন প্রার্থী মিলে একসাথে পেয়েছেন ৩ হাজার ৮১৩ ভোট। দুই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের পরাজয় এদিকে বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। বেসরকারিভাবে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী বরিশাল-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ারের কাছে ৩৭ হাজার ৯০৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন তিনি। পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট, মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট। এছাড়াও বরিশাল-৬ আসনে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ভোট পেয়ে তৃতীয়স্থান অর্জন করেন তিনি।  সেখানে পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট। জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও হেরে গেছেন পঞ্চগড়-১ (তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় সদর ও অটোয়ারী) আসনে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমিরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরেছেন ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী সারজিস আলম। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পালন করছেন। বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে সারজিস আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ৮ হাজার ৩০৪। কৃষ্ণ নন্দী হেরেছেন ৫০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে খুলনা-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ছিলেন কৃষ্ণ নন্দী। প্রথা ভেঙে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সাবেক সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে সেখানে দলীয় প্রার্থী করে জামায়াতে ইসলামী। এঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচিত হলেও  তার ওপর ভরসা রাখতে পারেনি সেখানকার হিন্দুরা। ফলে ‍বিএনপি প্রার্থীর কাছে তাকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হতে হয়েছে। সে আসনে বিএনপির আমির এজাজ খান পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট, কৃষ্ণ নন্দী পান ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৫১ হাজার ৬। হেরেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতবদিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ হেরেছেন ধানের শীষের প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদের কাছে। ভোটের ব্যবধান ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোট। ১২৪ কেন্দ্রের ফলাফলে আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট। হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট। হেরে গেলেন হেভিওয়েট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ২০০৮ সালে খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে একমাত্র বিএনপির প্রার্থী হিসেবে খুলনা-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে নির্বাচন করে এবার তিনি ৫ হাজার ৫৯২ ভোটে পরাজিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের কাছে। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। অপরদিকে শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট। হেরে গেলেন তাসনিম জারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এভিডেন্স-বেইজড হেলথ কেয়ার বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা ডা. তাসনিম জারা। দেশের রাজনীতি বদলানো স্বপ্ন নিয়ে তখন থেকেই তিনি ছিলেন সোচ্চার। শুরু থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির সাথে জড়িত থাকলেও শেষ মুহূর্তে সরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দেন তিনি। একই আসনে নির্বাচন করেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ, এনসিপির প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া। বেসরকারিভাবে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ আসনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন হাবিবুর রশিদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট। তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: রেকর্ড ২১৩ আসনে জয় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক আসন পেয়ে বিজয়ী হয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি। এ পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে ২১৩টি সংসদীয় আসনে জয় লাভ করেছে দলটি। এর আগের রেকর্ড ছিল ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক ভাবে ১৯৩টি আসনে জয় পেয়েছিল বিএনপি। এই নির্বাচনে বিএনপি দলটির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অংশ নিয়েছিল। এছাড়া ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও বড় জয় পেয়েছিল বিএনপি। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৪০টি আসনে জয় লাভ করেছিল দলটি। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে ৫৯ দশমিক ৪৪ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে। আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২৯৯টি আসনে গড়ে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এ ভোটের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইসি জানিয়েছিল, ভোটের হার পরে জানানো হবে। ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অধিকাংশ আসনে পোস্টালভোট যুক্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে এই পরিসংখ্যান জানালে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোট গণণা সম্পন্ন করেই এ তথ্য জানানো হবে। এর আগে, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ১২টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এছাড়া সবচেয়ে কম ৪৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছিল ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
সেনাবাহিনী
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: মাঠে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ সদস্যের বিশাল নিরাপত্তা বলয়। নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যরা একযোগে কাজ করছেন। বাহিনীগুলোর প্রধানদের ভাষ্য—এবারের নির্বাচনকে তারা একটি ‘উদাহরণমূলক’ নির্বাচনে পরিণত করতে চান, যেখানে ভোট হবে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক। সেনাবাহিনী মোতায়েন, চলছে যৌথ অভিযান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় আগেই সেনাবাহিনীকে সারা দেশে মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি নির্বাচনি মহড়া পরিচালনা করছে সেনাসদস্যরা। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সহিংসতা প্রতিরোধে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে। তারা ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ বিপুল প্রস্তুতির মাঝেও জনমনে শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। নেত্রকোনায় পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ এবং বগুড়ায় দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, এতে নিহত হয়েছেন পাঁচজন। এসব ঘটনার মধ্যে ৮৯টি সংঘর্ষ হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে। বগুড়ার পারশুন গ্রামে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. আতোয়ার হোসেন। অন্যদিকে, নেত্রকোনার পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক ভোটকেন্দ্রে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আকাশ, নৌ ও স্থল—তিন স্তরের নিরাপত্তা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় আকাশপথে দায়িত্ব পালন করবে বিমানবাহিনী উপকূল ও নদী এলাকায় থাকবে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড স্থলভাগে কাজ করবে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সশস্ত্র বাহিনী: ১ লাখ ৮ হাজার বিজিবি: ৩৭ হাজারের বেশি কোস্টগার্ড: ৩ হাজার ৫০০ পুলিশ: ১ লাখ ৫৭ হাজার আনসার: ৫ লাখ ৬৭ হাজার এছাড়া র‍্যাব সদস্যরাও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবেন। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, সারা দেশে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে স্ট্যাটিক ফোর্স, বাইরে মোবাইল টিম এবং জরুরি পরিস্থিতিতে স্ট্রাইকিং ফোর্স। তিনি জানান, ৮০–৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহারের প্রস্তুতি অবৈধ অস্ত্রকে বড় হুমকি উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, লুট হওয়া লাইসেন্সকৃত অস্ত্রের মধ্যে ১ হাজার ৩৩০টি উদ্ধার করা হয়েছে, বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। রাজধানীতে কড়া নজরদারি ঢাকা মহানগরীতে যৌথবাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ধানমন্ডি, বনানী, খামারবাড়ি, বসিলা ও শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চলছে। শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, অবৈধ অস্ত্র ও দ্রব্য ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি চলছে। বনানী থানার ওসি কাজী রফিক আহমেদ জানান, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যাশা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সব মিলিয়ে প্রশাসনের প্রত্যাশা—কঠোর নিরাপত্তা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও সমন্বিত বাহিনীর উপস্থিতির মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
বিএনপির একক নেতায় পরিণত হলেন তারেক রহমান: প্রথম নির্বাচনেই নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে এটিই তার জীবনের প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যেখানে তিনি নিজেও একজন প্রার্থী। দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর এক মাসের মধ্যেই বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে নির্বাচনী মাঠে নামেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে বর্ণনা করলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার অতীত, দুর্নীতির অভিযোগ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এসব অভিযোগ বিএনপি বরাবরের মতোই প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং দলটি দাবি করছে—এগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ। প্রায় সতের বছর যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার সময় তাকে দেওয়া হয় বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা। এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি, খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্বের পর সরাসরি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দশ দিন পর, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তারেক রহমান। যদিও তিনি ২০১৮ সাল থেকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে লন্ডন থেকে দল পরিচালনা করছিলেন। নেতৃত্বে আসা কতটা অনিবার্য ছিল? রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে তারেক রহমানের আসাটা ছিল অনেকটাই অনিবার্য। “২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই দলটি কার্যত তারেক রহমানের নেতৃত্বেই চলছিল। তাই চেয়ারম্যান হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণে কোনো বড় অনিশ্চয়তা ছিল না,” বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিদেশে থেকেও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা তারেক রহমানের বড় রাজনৈতিক সাফল্য। “দেশের বাইরে থেকেও তিনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ছিলেন এবং দল ভাঙতে দেননি। তবে এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তার সিদ্ধান্তগুলো কতটা পরিণত হয়,” বলেন তিনি। আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে নতুন চ্যালেঞ্জ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেই বিএনপির দীর্ঘদিনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ফলে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে এসেছে একসময়ের মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি চাইছে তারেক রহমানকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মধ্যপন্থী গণতন্ত্রের’ প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপন করতে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দলটির জন্য একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জও বটে। অতীতের বিতর্ক ও মামলা ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে আঠারো মাস কারাভোগ করেন তারেক রহমান। মুক্তির পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি লন্ডনে চলে যান এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় ‘হাওয়া ভবন’কে কেন্দ্র করে তারেক রহমান ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিরোধীরা তখন তাকে একটি সমান্তরাল ক্ষমতার কেন্দ্রের প্রধান হিসেবে বর্ণনা করে। বিএনপি এসব অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ একাধিক মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি এসব মামলা থেকে খালাস বা অব্যাহতি পান। তার নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে থাকা ৩৩টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য ও শিক্ষা বিএনপির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর। তবে নির্বাচনী হলফনামায় তার জন্মসাল উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৬৮। হলফনামা অনুযায়ী তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘উচ্চ মাধ্যমিক’। সামনে কী অপেক্ষা করছে? এই নির্বাচনই তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মহিউদ্দিন আহমদের ভাষায়, “তিনি রাজনীতির সংঘাত, দমন-পীড়ন ও নির্বাসনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো—এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি কেবল দলের নেতা নাকি ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্বের উপযোগী রাজনীতিক হয়ে উঠতে পারেন কি না।” ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই তারেক রহমান প্রথমবারের মতো একক নেতৃত্বে বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করলেন। এই নির্বাচনের ফলই নির্ধারণ করবে—তার রাজনৈতিক উত্থান কতটা স্থায়ী ও প্রভাবশালী হতে যাচ্ছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সবার আগে সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকা
নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সবার আগে সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলমান আসরে সবার আগে সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করল দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। ডি গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ৩ ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে পরের পর্বে উঠেছে প্রোটিয়ারা। শনিবার ভারতের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৭৫ রান। নিউজিল্যান্ডের লড়াকু সংগ্রহ কিউইদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন Mark Chapman। এছাড়া ৩২ রান যোগ করেন Daryl Mitchell। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি তাদের। মার্করামের ব্যাটে জয়ের বন্দনা ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা কিছুটা সতর্ক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। কিন্তু অধিনায়ক Aiden Markram ক্রিজে সেট হওয়ার পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় প্রোটিয়াদের হাতে। ৪৪ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মার্করাম। তার ব্যাটিং নৈপুণ্যে ১৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের বড় জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচে রানের রেকর্ড এই ম্যাচে দুই দল মিলে মোট ৩৫৩ রান করে, যা চলতি আসরের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মিলিত রান। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে গড়ে ওঠে আরও একটি ব্যক্তিগত রেকর্ড। ডি ককের নতুন মাইলফলক দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান Quinton de Kock টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েন। তিনি ছাড়িয়ে যান ভারতের কিংবদন্তি অধিনায়ক MS Dhoniকে। ডি ককের ডিসমিসালের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩-এ। ডি গ্রুপ থেকে টানা তিন জয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা এখন সুপার এইট পর্বের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেবে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সামনে অপেক্ষা করছে বাঁচা-মরার লড়াই।  

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
রাদারফোর্ড-মোতি
রাদারফোর্ড-মোতির নৈপুণ্যে টানা দ্বিতীয় জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের

ব্যাটার শেরফানে রাদারফোর্ড ও স্পিনার গুদাকেশ মোতির কল্যাণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।  গতরাতে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। ব্যাট হাতে রাদারফোর্ড ৪২ বলে অনবদ্য ৭৬ এবং স্পিনার মোতি ৩ উইকেট নেন।  মুম্বাইয়ে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮ রানে দুই ওপেনারকে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় উইকেটে ২৮ বলে ৪৭ রান যোগ করে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন শিমরোন হেটমায়ার ও রোস্টন চেজ। দলীয় ৭৭ রানের মধ্যে বিদায় নেন তারা। হেটমায়ার ২৩ ও চেজ ৩৪ রান করেন।  এরপর রোভম্যান পাওয়েলকে নিয়ে ২৯ বলে ৫১ এবং জেসন হোল্ডারের সাথে ৩২ বলে ৬১ রানের জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৬ রানের সংগ্রহ এনে দেন রাদারফোর্ড। পাওয়েল ১৪ ও হোল্ডার ১৭ বলে ৩৩ রান করেন। ২টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৪২ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন রাদারফোর্ড।  জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিংয়ের সামনে বড় ইনিংস খেলতে পারেনি ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা। ১৯ ওভারে ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায় তারা। দলের হয়ে স্যাম কারান ৪৩, জ্যাকব বেথেল ৩৩ ও ফিল সল্ট ৩০ রান করেন।  মোতি ৩৩ রানে ৩টি ও চেজ ২৯ রানে ২ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন রাদারফোর্ড।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
Japan aims to make 'new history' at Women's Asian Cup
নারী এশিয়ান কাপে ‘নতুন ইতিহাস’ গড়ার লক্ষ্য জাপানের

আগামী মাসের নারী এশিয়ান কাপের শিরোপা জিতে “নতুন ইতিহাস” গড়তে চায় জাপান, এমনটাই জানিয়েছেন দলের কোচ নিলস নিয়েলসেন। বৃহস্পতিবার ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন নিয়েলসেন। যেখানে তিনি ইংল্যান্ডভিত্তিক ১৬ জন খেলোয়াড়কে দলে রেখেছেন। জাপান এশিয়ার একমাত্র দেশ যারা নারী বিশ্বকাপ জিতেছে, তবে এ পর্যন্ত খেলা ২০ আসরের এশিয়ান কাপে তারা মাত্র দু’বার শিরোপা জিতেছে। সর্বশেষ শিরোপা আসে ২০১৮ সালে। জাপান নারী দলের প্রথম বিদেশী কোচ গ্রিনল্যান্ডে জন্ম নেওয়া নিয়েলসেন মনে করেন, আগামী ১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে এবারই জাপানের সামনে সেরা সুযোগ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেয়া ৫৪ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, “ঐতিহাসিকভাবে এই টুর্নামেন্ট জাপানের জন্য সহজ ছিল না। আমরা নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। আমাদের এমন একটি দল আছে যারা শিরোপা জিততে সক্ষম। তাই ট্রফি না জেতা পর্যন্ত আমরা সন্তুষ্ট হতে পারছি না।” ২৬ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হিনাতা মিয়াজাওয়া, যিনি ২০২৩ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটির ইউই হাসেগাওয়া ও আওবা ফুজিনোও রয়েছেন। ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য এবং ১৬৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ডিফেন্ডার সাকি কুমাগাই এখনও দলে আছেন। জাপানের ঘরোয়া ডব্লিউই লিগ থেকে মাত্র চারজন খেলোয়াড় দলে সুযোগ পেয়েছেন। নিয়েলসেন জানান, চোট-আঘাতের সমস্যা না থাকায় চূড়ান্ত দল নির্বাচন খুব কঠিন ছিল না। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি দল পেয়েছি যেখানে সব ধরনের বৈচিত্র্য আছে। প্রায় সব পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত। একই ধরনের অনেক খেলোয়াড় আমরা নেইনি। কারণ মাঠে কাউকে বদলি করলে আমরা ভিন্ন কিছু যোগ করতে চাই।” প্রথম রাউন্ডে তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকা জাপান ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে। নিয়েলসেন বলেন, “প্রতিপক্ষ যে কৌশল নিয়ে আসুক না কেন, আমাদের স্কোয়াডে তার জবাব দেওয়ার মতো সমাধান আছে বলেই আমি বিশ্বাস করি।”

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
তামিম
জীবনে প্রথম ভোট দিয়ে উচ্ছসিত তামিম

উৎসবমুখর পরিবেশে জীবনের প্রথমবারের মত ভোট দিতে পেরে উচ্ছসিত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। আজ বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একটি বুথে ভোট প্রদান করেন তামিম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের তামিম ইকবাল বলেন, ‘জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। খুবই এক্সাইটেড। পরিবেশ খুবই ভাল লাগছে। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি।’ পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফাইড পেজে ভোট দেওয়ার ছবি দিয়ে তামিম লিখেন, ‘ভোট আমার নাগরিক অধিকার। নিজে ভোট দিলাম এবং দেখলাম স্বতস্ফূর্ত উৎসাহে অনেকেই ভোট দিচ্ছেন। সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সবাইকে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’ যে কেন্দ্রে তামিম ভোট দিয়েছেন, সেটি চট্টগ্রাম-৯ আসন। কোতোয়ালি থানার এ আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, ১১ দলীয় জোটের এ কে এম ফজলুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুস শুক্কুর, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ, বাসদের মো. শফি উদ্দিন কবির, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন, নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছার মজুমদার, জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী ও জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরী।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
Ashraful-Akbar-Saifuddin
ভোট দিলেন আশরাফুল-আকবর-সাইফুদ্দিনরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফাইড পেজে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা।  ঢাকা-৯ আসনে দক্ষিণ বনশ্রী মডেল হাই স্কুলে ভোট দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় দলের বর্তমান ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। ভোট দেওয়ার ছবি আপলোড করে ফেসুবকে আশরাফুল লিখেছেন, ‘সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আজ ভোট দিলাম। দায়িত্ববোধ শেখানো শুরু ঘর থেকেই।’ রংপুরে নিজ এলাকায় প্রথমবার ভোট দিয়েছেন ২০২০ সালে আইসিসি যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলি। নিজ এলাকার মানুষদের সাথে ভোট দেওয়ার ছবি আপলোড করেছেন তিনি। ছবির ক্যাপশনে আকবর লিখেছেন, ‘প্রথম ভোট।’ আকবরের মত প্রথমবার ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান। নিজ এলাকা দৌলতপুরে ভোট দিয়েছেন তিনি। ভোট কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি ফেসবুকে দিয়েছেন সোহান। ছবির ক্যাপশনে সোহান লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, প্রথমবার ভোট দিলাম।’ জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে আনন্দিত জাতীয় দলের ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয়। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘দিয়ে আসলাম, জীবনের প্রথম ভোট।’ ফেনিতে ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ভোট দেওয়ার ছবি ফেসবুকে আপলোড করে সাইফুদ্দিন লিখেছেন, ‘অবশেষে  ভোট দিলাম। যেখানে আমার শৈশব কেটেছে, মাটির গন্ধে বড় হওয়া সেই চেনা জায়গাতেই। এটা শুধু একটা ভোট নয়, এটা নিজের শিকড়কে ছুঁয়ে দেখার অনুভূতি, নিজের দায়িত্বকে অনুভব করার এক নীরব গর্ব। ছোটবেলার স্মৃতি, আজকের সিদ্ধান্ত- এই দুটো একসাথে মিলেই আজকের দিনটা আমার কাছে আলাদা।’ ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের হার্ডহিটার ব্যাটার সাব্বির রহমানও। ফেসবুকে এই ডান-হাতি ব্যাটার লিখেছেন, ‘আমার ভোটটা কিন্তু দিয়ে দিলাম।’ সবমিলিয়ে এবার সারাদেশে ভোটার রয়েছেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
বিসিবি পরিচালক মোখলেছুর
দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে বিসিবি পরিচালক মোখলেছুর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আবারও অস্বস্তি, আবারও দুর্নীতির গন্ধ। দুর্নীতি ও ফিক্সিং- সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিতর্কিত বিসিবি পরিচালক মোখলেছুর রহমান শামীম দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোয় নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। মাঠের ক্রিকেটে শুদ্ধতার কথা বলা বোর্ডের অন্দরেই যখন অনিয়মের অভিযোগ ঘুরপাক খায়, তখন সেটি শুধু একজন পরিচালকের বিষয় থাকে না- পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই টালমাটাল হয়ে ওঠে। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, শামীমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ একদিনের নয়। স্বার্থের সংঘাত, আর্থিক অনিয়ম এবং ফিক্সিং- সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বোর্ডের ভেতরে আলোচনায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব অভিযোগ নতুন তথ্য ও নথির সঙ্গে জড়িত হয়ে সামনে আসায় আর চুপ থাকার সুযোগ ছিল না বিসিবির সামনে। পরিস্থিতির চাপে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি, আর দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে অভিযুক্ত পরিচালককে। এ ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়েছে- বাংলাদেশ ক্রিকেটে দুর্নীতি শুধু মাঠের খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরেও তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত সত্য উন্মোচন করবে, নাকি এটি পরিণত হবে আরেকটি চাপা পড়ে যাওয়া অধ্যায়ে। অভিযোগের সূত্রপাত যেভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) মোখলেছুর রহমান শামীমকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সূত্রপাত হঠাৎ করে নয়। বিসিবি ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বোর্ডের অভ্যন্তরে আলোচনায় ছিল। তবে এতদিন এসব অভিযোগ নির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে গড়ায়নি। পরিস্থিতির মোড় ঘুরতে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে, যখন কিছু অভ্যন্তরীণ নথি, সন্দেহজনক যোগাযোগের তথ্য এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত প্রশ্ন সামনে আসে। সূত্রগুলো বলছে, এসব তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়- একাধিক ঘটনায় স্বার্থের সংঘাত এবং নিয়ম বহির্ভূত যোগাযোগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিষয়টি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগে সীমাবদ্ধ না থেকে ধারাবাহিকভাবে সামনে আসায় বিসিবির ভেতরেই উদ্বেগ বাড়তে থাকে। বোর্ডের এক দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষায়, “অভিযোগগুলো যদি বিচ্ছিন্ন হতো, তাহলে হয়তো অভ্যন্তরীণভাবেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যেত। কিন্তু যখন একই ধরনের প্রশ্ন বারবার উঠতে থাকে এবং নতুন নতুন তথ্য সামনে আসে, তখন বোর্ডের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।” এই প্রেক্ষাপটেই বিষয়টি আর উপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না বিসিবির সামনে। শেষ পর্যন্ত অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড, যার ধারাবাহিকতায় তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্ত পরিচালকের দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনা ঘটে। কী ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ মোখলেছুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগগুলো কয়েকটি স্তরে বিভক্ত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রথম এবং সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো স্বার্থের সংঘাত। অভিযোগ রয়েছে, বিসিবির পরিচালক পদে থাকার সময় তিনি এমন কিছু সিদ্ধান্তে যুক্ত ছিলেন, যেগুলোতে ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা ঘনিষ্ঠ মহলের সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বোর্ডের নীতিমালায় স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও, কিছু সিদ্ধান্ত সেই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। দ্বিতীয় স্তরের অভিযোগগুলো আর্থিক অনিয়ম ঘিরে। ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রকল্প, চুক্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিসিবির ভেতরেই প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা ও নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়া এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। তৃতীয় এবং সবচেয়ে স্পর্শকাতর অভিযোগটি ফিক্সিং-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে। যদিও এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি, তবে অভিযোগের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার কারণে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। এ কারণেই বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়। দায়িত্ব ছাড়লেন কেন বিসিবির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান তদন্ত প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত রাখতে মোখলেছুর রহমান শামীম সাময়িকভাবে তার পরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বোর্ডের ভাষায়, এটি একটি নৈতিক সিদ্ধান্ত, যাতে তদন্ত কমিটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং কোনো ধরনের প্রভাব বা স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ না ওঠে। তবে বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন বলে মনে করছেন বিসিবির ভেতরের একাধিক সূত্র। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একান্তই স্বেচ্ছায় নেওয়া হয়নি। অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর খুব দ্রুতই বিষয়টি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ক্রিকেট বিশ্লেষক, সাবেক খেলোয়াড় ও সমর্থকদের একাংশ বিসিবির ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলতে থাকেন। বিশেষ করে ফিক্সিং-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ সামনে আসার পর বোর্ডের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও সমালোচনার মাত্রা বাড়তে থাকে, যা বিসিবির ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করে। বোর্ডের এক দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষায়, “এই চাপ উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। পরিস্থিতি সামাল দিতেই তাকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।” ফলে তদন্তের স্বার্থের পাশাপাশি বোর্ডের ভাবমূর্তি রক্ষাই দায়িত্ব ছাড়ার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত কমিটি- কতটা স্বাধীন? মোখলেছুর রহমান শামীমকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের পরিণতি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে বিসিবি গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের ওপর। বোর্ড সূত্র জানায়, কমিটির মূল দায়িত্ব হলো অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সুপারিশ করা। কাগজে-কলমে এই দায়িত্বগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী মনে হলেও, বাস্তবে তদন্তের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, তদন্ত কমিটির সদস্যদের বড় একটি অংশই বিসিবির বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে ‘নিজেদের লোক দিয়ে নিজেদের তদন্ত’- এই সমালোচনা জোরালো হচ্ছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এতে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এক ক্রীড়া বিশ্লেষক বলেন, “বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কমিটি যতই সদিচ্ছা দেখাক না কেন, বাইরের নিরপেক্ষ নজরদারি ছাড়া আস্থা তৈরি করা কঠিন।” সমালোচকদের আশঙ্কা, যদি তদন্ত প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে প্রতিবেদন যাই হোক না কেন- তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। ফলে এই তদন্ত শুধু শামীম ইস্যু নয়, বিসিবির সামগ্রিক সুশাসন পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। বিসিবিতে দুর্নীতির অভিযোগ- নতুন নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ইতিহাসে বিতর্ক ও অভিযোগ নতুন কোনো ঘটনা নয়। অতীতেও একাধিকবার দুর্নীতির অভিযোগে বিসিবিকে বিব্রত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ছিল ফিক্সিং কেলেঙ্কারি, যেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কঠিন সময় পার করেছে এবং একাধিক খেলোয়াড়কে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এর পাশাপাশি আর্থিক অনিয়ম, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। কখনো টিকিট বিক্রি, কখনো অবকাঠামো উন্নয়ন, আবার কখনো লিগ পরিচালনা- প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রশ্ন উঠেছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে। যদিও বিসিবি প্রায়শই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বা অভ্যন্তরীণ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বাসযোগ্য সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মোখলেছুর রহমান শামীম ইস্যুকে অনেকেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। বরং এটিকে বিসিবির দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করছেন। সমালোচকদের মতে, বারবার একই ধরনের অভিযোগ ওঠা প্রমাণ করে- সমস্যা ব্যক্তি নয়, বরং ব্যবস্থার ভেতরেই রয়ে গেছে। খেলোয়াড় বনাম পরিচালক: দ্বিমুখী মানদণ্ড? শামীম ইস্যু ঘিরে সবচেয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে- খেলোয়াড় ও পরিচালকদের ক্ষেত্রে বিসিবির আচরণ কি সমান? সমালোচকদের দাবি, এখানে স্পষ্ট একটি দ্বিমুখী মানদণ্ড কাজ করছে। অতীতে ফিক্সিং বা অনৈতিক আচরণের অভিযোগে খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ আজীবন নিষিদ্ধ হয়েছেন, কারও ক্রিকেট ক্যারিয়ার কার্যত শেষ হয়ে গেছে। অথচ পরিচালনা পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলেও, সেসব ক্ষেত্রে তদন্ত দীর্ঘায়িত হয় এবং সিদ্ধান্ত নিতে গড়িমসি দেখা যায়- এমন অভিযোগ বহুদিনের। শামীমের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও তিনি পদে বহাল ছিলেন, পরে চাপের মুখে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ান। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈষম্য ক্রিকেট প্রশাসনের প্রতি আস্থাকে দুর্বল করে দেয়। একজন সাবেক খেলোয়াড়ের মন্তব্য, “খেলোয়াড়রা যদি নিয়ম ভাঙে, শাস্তি নিশ্চিত। কিন্তু পরিচালকের ক্ষেত্রে নিয়ম যেন নমনীয় হয়ে যায়।” এই প্রশ্নের সঠিক জবাব না মিললে, বিসিবির নৈতিক অবস্থান আরও প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভিন্ন সুর শামীমের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোখলেছুর রহমান শামীম। তার দাবি, তাকে জড়িয়ে যে অভিযোগগুলো তোলা হয়েছে, সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিচালিত অপপ্রচার। গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমি কোনো ধরনের দুর্নীতি বা ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত নই। তদন্তেই সত্য বেরিয়ে আসবে।” তবে এখন পর্যন্ত অভিযোগগুলোর নির্দিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা তথ্যভিত্তিক জবাব প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। সমালোচকদের মতে, শুধু অস্বীকার করাই যথেষ্ট নয়; বরং প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত ও যোগাযোগের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। বিসিবির ভেতরের একটি সূত্র জানায়, তদন্ত চলাকালীন শামীম প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা না বলার কৌশল নিয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠদের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই তিনি বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন। তবে ততদিনে জনমত কোন দিকে যায়, সেটাই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রতিক্রিয়া শামীমকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ফেসবুক, এক্স (টুইটার) ও ইউটিউবে বিসিবির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমী। অনেকেই মনে করছেন, বোর্ড নিজেই যখন স্বচ্ছ নয়, তখন ক্রিকেটের উন্নয়ন শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকে। “বোর্ড আগে নিজেকে শুদ্ধ করুক”- এমন মন্তব্য বারবার উঠে আসছে। কেউ কেউ আবার লিখেছেন, “দুর্নীতি যদি প্রশাসনেই থাকে, ক্রিকেট এগোবে কীভাবে?” এই প্রতিক্রিয়াগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে, বিসিবির প্রতি আস্থার জায়গাটি কতটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের মতে, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে নৈতিকতা আশা করা হলেও, প্রশাসনের ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড প্রয়োগ না হওয়া হতাশাজনক। এই জনমত বিসিবির জন্য একটি সতর্ক বার্তা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তির প্রশ্ন বিসিবির কোনো পরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বরাবরই সদস্য বোর্ডগুলোর সুশাসন ও স্বচ্ছতার ওপর নজর রাখে। অতীতে বিভিন্ন বোর্ডে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে আইসিসি হস্তক্ষেপের নজিরও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শামীম ইস্যু যদি সঠিকভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে বিসিবির ওপর বাড়তি নজরদারি আসতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে এবং বিভিন্ন সহযোগিতা ও উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষকের ভাষায়, “ক্রিকেট এখন শুধু মাঠের খেলা নয়, প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতাও বড় বিষয়।” এই কারণেই তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সামনে কী অপেক্ষা করছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী শামীম ইস্যুতে কয়েকটি পথ খোলা রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার পরিচালক পদ বাতিলসহ বিসিবির অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। গুরুতর অপরাধের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থার পথও খোলা থাকবে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, বিসিবিতে তদন্ত প্রক্রিয়া অনেক সময় দীর্ঘায়িত হয়। ফলে দ্রুত ও দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত আসবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের বড় প্রত্যাশা- এবার যেন তদন্ত শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। এই ইস্যুর পরিণতি শুধু একজন পরিচালকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না; বরং বিসিবি আদৌ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পথে হাঁটতে চায় কি না, সেই পরীক্ষাও দেবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
খেজুর
দাম কমেনি খেজুরের

শুল্ক ছাড়ের পর মানুষের আশা ছিল খেজুরের দাম এবার নাগালের মধ্যে থাকবে। কিন্তু শুল্ক ছাড়ের পর খেজুর কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। এমনকি গত বছরের থেকেও এবার খেজুরের দাম বাড়তির দিকে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি থাকায় জাহাজ বার্থিং পেতে বিলম্ব হয়েছে, যা সাপ্লাই চেইনকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম আসার পথে থাইল্যান্ড উপকূলে ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ইরাকি খেজুরসহ একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন আগে ইরাকি খেজুর ১৫০ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হতো, বর্তমানে সেই খেজুর ১৮০-১৮৫ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। ১০ কেজির কার্টন পাইকারি ২ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকা হয়েছে। দেশের মানুষের সুবিধার জন্য সরকার খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে, যা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে শুল্ক কমানোর কারণে দাম কমার কথা থাকলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে তার প্রতিফলন বাজারে নেই। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খেজুর আমদানিকারক ও বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, থাইল্যান্ড উপকূলে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ইরাকি খেজুরবাহী একটি জাহাজ ডুবে গেছে এবং চট্টগ্রাম বন্দরে চার দিনের কর্মবিরতির ফলে সৃষ্ট জাহাজ জটে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে জনপ্রিয় ইরাকি খেজুরের সরবরাহ কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। তিনি বলেন, বিক্রেতাদের অধিক মুনাফা করার প্রবণতাই দাম বাড়ার পেছনে বড় কারণ। তবে আমদানিকৃত খেজুরের পরিমাণ চাহিদার চেয়ে বেশি হলে রমজান শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বাজার দ্রুতই স্থিতিশীল হয়ে আসবে। তবে সামগ্রিকভাবে বাজারে খেজুরের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সৌদি আরব, তিউনিসিয়া বা আরব আমিরাতের মতো বড় উৎসগুলো থেকে আসা খেজুরের দাম বাড়েনি। বাজারে বর্তমানে বস্তা খেজুর (বাংলা খেজুর) কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা। জাহিদি খেজুর ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দাবাস ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, বরই ৪৮০ থেকে ৬৫০ টাকা, কালমি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, সুক্কারি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১২০০ টাকা, মরিয়ম ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং মেডজুল ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
সংসদ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন: বিএনপি ৩৫–৩৬টি, জামায়াত পেতে পারে ১১–১৩টি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। সাধারণ আসনে প্রাপ্ত সংখ্যার ভিত্তিতে দলটি প্রায় ৩৫টি নারী আসন পাচ্ছে। একই হিসাবে জামায়াতে ইসলামী পাচ্ছে ১১টি আসন। এতেই সংরক্ষিত নারীর আসনের সিংহভাগই যাবে বিএনপির ঝুলিতে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন ও সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইন বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া যায়।   সংরক্ষিত নারী আসনের হিসাব কীভাবে নির্ধারিত সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সংসদে প্রাপ্ত সাধারণ আসনের ভিত্তিতে প্রতিটি দলের নারী আসনের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত প্রাপ্ত আসন সংখ্যা × ৫০ ÷ ৩০০—এই সূত্রে নারী আসনের হিসাব করা হয়।   সাধারণ আসনে কারা কতটি আসন পেয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন—প্রতিটি দল পেয়েছে ১টি করে আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৭টি আসন।   আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকায় এখন পর্যন্ত ২৯৭ আসনের ফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-১ আসন ছেড়ে দেওয়ায় সংসদে দলটির প্রতিনিধি সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৮ জনে।   জাতীয় সংসদের নারী আসনের নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, বিএনপি ৩৪ দশমিক ৬৬ আসন বা ৩৫টি আসন পাবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১ দশমিক ৩৩ বা ১১ টি আসন পাবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ১টি আসন পাবে (যদি জোট করে) । জাতীয় নাগরিক পার্টি পাবে ১টি আসন। অন্য ছোট দলগুলো নিজেদের মধ্যে জোট না করলে কোনো আসন পাবে না। তবে জোট করলে পাবে ১টি আসন। এক্ষেত্রে বিএনপির আরো একটি আসন বেড়ে দাঁড়াবে ৩৬টি। আবার জোটগত ভাবে যদি নির্বাচন করে তাহলে বিএনপি ৩৫ টি আসনই পাবে। তবে জামায়াতের দুটি আসন বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ টি হবে। দল/জোট নারীর আসন (আনুমানিক) বিএনপি ৩৫–৩৬টি জামায়াতে ইসলামী ১১–১৩টি জাতীয় নাগরিক পার্টি ১টি স্বতন্ত্র/ছোট দল (জোট করলে) ১টি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংসদের নারী সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছি। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে চাই আমরা। এছাড়া শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন ঈদের পরে করা হবে।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে ভোট হয় শেরপুর-৩ আসনের একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ার কারণে। ওই আসনে পরবর্তীতে নতুন তফসিলের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। এছাড়া তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচন পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ গ্রহণ করে। জাতীয় পার্টিসহ ৪১ টি দল কোনো আসন পাইনি।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
বিএনপি জামায়াত
নির্বাচনে বিএনপি ৪৯.৯৭ শতাংশ, জামায়াত ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে : ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানান।  ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।  অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে ২৫৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছে।  বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা প্রতীকে ৩৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে।  জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে ১৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট।   ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। ইসি সচিব জানান, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ২৯৭টি আসনের প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।   তিনি জানান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া ৭টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। আখতার আহমেদ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর গণভোটে কাস্টিং ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। 

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
পাকিস্তান আমলে দু্ই বার এবং স্বাধীন বাংলাদেশে দুই বার নিষিদ্ধ হয়েছিল জামায়াতে ইসলামী
স্বাধীনতার বিরোধিতা থেকে বাংলাদেশের সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াত

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে যত আসন পেয়েছে, তা আগে আর কখনোই পায়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধিতা করা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির নেতাদের পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগী হিসেবে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। সেই ইতিহাসকে সাথে নিয়েই এবার বাংলাদেশের সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াত। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলটি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাজধানী ঢাকায় কোনো আসন পেতে সক্ষম হলো। এবার তারা রাজধানী ঢাকার ১৫টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছে, যার একটিতে জিতেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। ঢাকা জেলার ২০টি আসনে তার জয় সাতটিতে।অবশ্য খুলনায় নিজের আসনে হেরে গেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। কিন্তু সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা এককভাবে ৬৮টি সংসদীয় আসনে জয় পেয়েছে এবং এগুলোসহ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মোট ৭৭টি আসন নিয়ে এবার প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনের ফলই বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে জামায়াতের এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় অর্জন। তাদের মতে, নির্বাচনকে ঘিরে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও প্রতিকূল পরিবেশে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার দক্ষতার পাশাপাশি অনেক আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারণে দলটি আগের তুলনায় এবার অনেক বেশি আসন পেয়েছে। একই সঙ্গে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের না থাকাটাও কোনো কোনো জায়গায় জামায়াতকে সুবিধা দিয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। তবে জামায়াত নেতাদের দিক থেকে এ বিষয়ে কোনো মূল্যায়ন বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একজন নেতা বলেছেন, দলীয় বৈঠকে এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। এবার নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগে থেকেই জামায়াত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ক্ষমতায় যাওয়ার আলোচনা সামনে নিয়ে আসেন এবং সেটিই পুরো নির্বাচনী প্রচারে দল ও জোটের মুখ থেকে উঠে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে সবসময়ই সমালোচনার শিকার হওয়া জামায়াতে ইসলামী এর আগে বিএনপির সঙ্গে মিলে ক্ষমতার অংশীদার হলেও এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা দলটির নেতাদের মুখে এভাবে আগে কখনোই শোনা যায়নি। কিন্তু ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দৃশ্যপট পাল্টে যায় এবং পুরনো মিত্র বিএনপির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করে দলটি। শেষ পর্যন্ত অনলাইন ও অফলাইনে দলটির নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা এমন প্রচার শুরু করে যে, দলটি ক্ষমতায়ও আসতে পারে। এক পর্যায়ে চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকা তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিসহ ১০টি দল নিয়ে জোট গঠন করে দলটি। পরে নির্বাচনী প্রচারের সময় জনসভায় কয়েকজনকে মন্ত্রী করা হবে বলেও পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার পর তিনি সরকার গঠন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন। দল ক্ষমতায় গেলে কী কী করবেন- গত ২০শে জুন তাও তুলে ধরেছিলেন শফিকুর রহমান। বিশেষ করে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে 'জামায়াত ক্ষমতায় যাচ্ছে' এমন একটি প্রচার গড়ে তোলা হয় নির্বাচনের আগে থেকেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়টি বাস্তবে পরিণত হয়নি। তবে এবারের ভোটে দলটি ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ফল করেছে। এর আগে ১৯৯১ সালের নির্বাচনেই এককভাবে অংশ নিয়ে ১৮টি আসন পেয়েছিল জামায়াত। জামায়াতের রাজনীতির একজন পর্যবেক্ষক ও দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলছেন, জামায়াতের নেতৃত্ব, সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাই এতো আসনে জয়ের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি। "এর কৃতিত্ব হলো জামায়াত আমিরের। তিনি জামায়াতকে নবজন্ম দিয়েছেন এবং সব ধর্ম ও পেশার মানুষদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে পরিণত করেছেন। দীর্ঘদিন বৈরি পরিবেশে থেকেও দলটি নির্বাচনে ভালো করার মূল ভিত্তি হলো তাদের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি। মি. বাবর বলেন, এবারই ঢাকায় প্রথম আসন জেতা এবং ঢাকার এলিট এলাকা বলে পরিচিত জায়গাগুলোতে জামায়াতের শক্ত অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে এই নির্বাচনে। প্রসঙ্গত, গুলশান-বনানীকে অনেকে এলিট বা অভিজাত এলাকা বলে থাকেন। এই এলাকায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে পাঁচ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থীকে পরাজিত করতে পেরেছেন। জামায়াত ৩০টি আসনের ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে। দলটির দাবি, ভোট পুনর্গণনা হলে ঢাকা-১৭সহ অনেক আসনের ফল পাল্টে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, জামায়াতের সাংগঠনিক কাজ ও এর মাধ্যমে আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকেও তরুণদের মধ্যে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারার বিষয় নির্বাচনে আসন বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। "আওয়ামী লীগ নেই। ফলে তাদের সমর্থকরা হয়তো কোথাও কোথাও বিকল্প হিসেবে জামায়াতকে ভোট দিয়েছে। তবে জামায়াত সারাদেশেই সংগঠনকে সক্রিয় করতে পেরেছে। তরুণদের মধ্যে তাদের অবস্থানও নির্বাচনে ভালো ফল করতে সহায়তা করেছে,"  বলেছেন তিনি। নিষিদ্ধ থেকে সংসদে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক অস্তিত্ব দৃশ্যত স্বাধীন বাংলাদেশে বিলীন হয়ে যায়। ১৯৭২ সালের সংবিধানে তখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। এ অবস্থায় দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অনেকে তখনকার ক্রিয়াশীল কিছু রাজনৈতিক দলে ভিড়ে যান। দলটির বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের লতিফুর রহমানসহ অনেকেই তখন জাসদ ছাত্রলীগ কিংবা জাসদের রাজনীতিতে মিশে যান। দলটির ওয়েবসাইটে বলা আছে যে, এখনকার আমির শফিকুর রহমান নিজেও জাসদ ছাত্রলীগে সক্রিয় ছিলেন। তবে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর জামায়াতের জন্য পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ১৯৭৬ সালের তেসরা মে তখনকার রাষ্ট্রপতি এ. এস. এম সায়েম একটি অধ্যাদেশ জারি করেন, যার মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধ ও স্বাধীনতার বিরোধিতার ইস্যুতে জনমনে তীব্র ক্ষোভের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দলটির গোপনে সক্রিয় থাকা নেতারা তখনো জামায়াত নামে দলের কার্যক্রম না শুরু করে ভিন্ন নামে দল গঠন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কৌশল নেন। এর ধারাবাহিকতা ১৯৭৬ সালেই আরও কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল মিলে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আই.ডি.এল) নামের একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামী তৎপরতা শুরু করে। দৃশ্যত এই নির্বাচনের মাধ্যমেই জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ভিন্ন পরিচয়ে হলেও স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদে প্রথমবারের মতো আসতে সক্ষম হন। জামায়াতে ইসলামীর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে আইডিএল- এর ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর ছয় জন এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।   গোপন থেকে স্বনামে প্রকাশ্যে আইডিএল এর ব্যানারে জামায়াত নেতাদের সংসদে যাওয়ার পর ১৯৭৯ সালের মে মাসে জামায়াতে ইসলামীর নামেই একটি কনভেনশন আহ্বান করা হয় দলটির তখনকার একজন নেতা আব্বাস আলী খানের নেতৃত্বে। সেই কনভেনশনেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রধান ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত গোলাম আযমের একটি ভাষণ পড়ে শোনানো হয়। এই কনভেনশনে একটি নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয় এবং তার ভিত্তিতে ১৯৭৯ সালের ২৭শে মে চার দফা কর্মসূচী নিয়ে জামায়াতে ইসলামী স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের প্রকাশ্য কর্মতৎপরতা শুরু করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন গোলাম আযম। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ দিকে ২২শে নভেম্বর ঢাকা ছেড়ে পাকিস্তান চলে যান তিনি। পরে ১৯৭৮ সালে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে অসুস্থ মাকে দেখার কথা বলে ঢাকায় এসে তিনি আর ফিরে যাননি। তবে গোলাম আযম স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৮১ সালে প্রথম জনসমক্ষে আসেন। যদিও এর আগে ১৯৭৯ সালে জামায়াত সক্রিয় হওয়ার পর থেকে তার নির্দেশনাতেই দলটি পরিচালিত হয়েছে বলে দলটির নেতারা পরবর্তীতে প্রকাশ করেছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত এক নেতা একেএম নাজির আহমেদের বই 'রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী' তে বলা হয়েছে, "১৯৭৮ সনে দেশে ফেরার পর থেকে অধ্যাপক গোলাম আযম বারবার আমিরে জামায়াত নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। তার নাগরিকত্ব ছিল না বিধায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ভূমিকা পালন করতেন ভারপ্রাপ্ত আমির জনাব আব্বাস আলী খান"। এর মধ্যে ১৯৮১ সালের মে মাসে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতায় আসেন আরেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। একপর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলো এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলে তাতে সামিল হয় জামায়াতে ইসলামীও। আন্দোলন সামাল দেওয়ার জন্য এরশাদ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যখন আলোচনায় বসেন, তখন জামায়াতে ইসলামীকেও ডাকা হয়েছিল। এরশাদ সরকারের অধীনে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালে। জামায়াতের ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য অনুযায়ী, দলটি সেই নির্বাচনে দলটির ১০ জন এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত অংশ নেয়নি। সরকার গঠনে ভূমিকা জেনারেল এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসনে জয়লাভ করে। ওই নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সরকার গঠনের জন্য অন্য দলের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। তখন জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি এবং মূলত এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে দলটি। তখন বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে যে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হয় তাতে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ছিল বলে পরে জানা যায়। কিন্তু এর মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তীব্র গণআন্দোলন তৈরি হলে ৯২ সালের মার্চ মাসে গোলাম আযমকে গ্রেফতার করে 'বিদেশি নাগরিক হয়ে দেশের একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল'। তখন নাগরিকত্বের প্রশ্নে হাইকোর্টে জামায়াত রিট মামলা করে এর পক্ষে রায় পেয়েছিল। কিন্তু তখন সরকার হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গিয়েছিল। এরপর সুপ্রিমকোর্টে আপিল বিভাগ থেকে নাগরিকত্ব ফিরে পেয়ে ১৬ মাস জেল খাটার পর মুক্তি পেয়েছিলেন গোলাম আযম। কিন্তু এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দল আন্দোলন গড়ে তুললে তাতেও আলাদা থেকেই সামিল হয় জামায়াত। তখন বিএনপি সরকারের সময়ে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন বর্জন করেছিল আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ আন্দোলনরত দলগুলো। এক পর্যায়ে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাশ করে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তখনকার খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের জুনে হওয়া নির্বাচনে জামায়াত মাত্র তিনটি আসনে জয় পেতে সক্ষম হয়। পরে আবার বিএনপির সাথে মিলে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনেও সামিল ছিল জামায়াতে ইসলামী এবং এক পর্যায়ে বিএনপির জোটে জামায়াত সরাসরি যোগ দেয়। তাদের চারদলীয় জোট ২০০১ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল জয় পেলে প্রথমবারের মতো ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার সুযোগ পায় জামায়াত। দলটির তখনকার দুই শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ খালেদা জিয়ার নেতৃ্ত্বাধীন সরকারে মন্ত্রীত্ব পান। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল তাদের মধ্যেই ওই দুজনও ছিলেন। সংকট ও বিপাকে পড়ে নাম বদল বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন- সেই ইস্যুতে রাজনৈতিক সংকট সহিংসতায় রূপ নিলে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে হওয়া নির্বাচনে জামায়াত মাত্র দুটি আসনে জয় পায়। ওই বছর নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পাওয়ার জন্য 'জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ' নাম পরিবর্তন করে 'বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী' করা হয়। ওই নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে কোণঠাসা হয়ে পড়ে জামায়াতে ইসলামী। অনেকেই মনে করেন, বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য কিংবা নানা প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এলেও ১৯৭৯ সালে সক্রিয় হওয়ার ৪০ বছর পর এসে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে চরম কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটি এবং শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালে নিবন্ধন হারিয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় দলের নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়। এর আগে থেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সময় দলটির গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতা আটক হলে বেশ চাপের মুখে পড়ে দলটি। ওই বছরেই সংবিধানের সঙ্গে গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট। পরে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে দলটি। এরপর তিনটি নির্বাচনে জামায়াত আর অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালের বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিলেও জামায়াত নেতারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজা খাটা অবস্থায় ২০১৪ সালের অক্টোবরে মারা যান গোলাম আজম। একই ধরনের মামলায় ২০১৫ সালে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের এবং ২০১৬ সালে আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হলে চরম বিপাকে পড়ে দলটি। ২০২৩ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নিবন্ধন অবৈধ বলে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে দলটির আপিল আবেদন খারিজ করে দেয়। এর ফলে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ই বহাল থাকে। পরে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর আদালতের নির্দেশে আবার দলটি নিবন্ধন ফিরে পায়। চারবার নিষিদ্ধ হওয়ার ইতিহাস আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে ২০২৪ সালের ৩১শে জুলাই জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে দলটি দ্বিতীয়বারের মতো নিষিদ্ধ হয়। এর আগে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের পর ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। এর আগে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর যাত্রা শুরু হয়েছিলো মূলত ব্রিটিশ আমলে। সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী ১৯৪১ সালের ২৬শে অগাস্ট লাহোরের ইসলামিয়া পার্কে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ নামে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে পরের বছরেই এর সদর দপ্তর লাহোর থেকে নেওয়া হয় ভারতের পাঠানকোটে। ধর্মের কথা বলা হলেও অনেকেই মনে করেন মূলত ভারতের কমিউনিজম বিরোধী শক্তি হিসেবেই এ সংগঠনটির জন্ম হয়েছিল এবং তখনকার ব্রিটিশ শাসকদের আনুকূল্যও তারা পেয়েছিলো। ১৯৪৫ সালে এর প্রথম কনভেনশন হয় অবিভক্ত ভারতে এবং এর দু'বছর পর দেশভাগের আগ পর্যন্ত এই সংগঠনটি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলো। ইসলামি সংবিধানের দাবিতে ১৯৪৮ সালে প্রচারণা শুরু করলে পাকিস্তান সরকার জননিরাপত্তা আইনে সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদীকে গ্রেফতার করে। তবে ওই বছর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানেও জামায়াতের কার্যক্রম শুরু হয়। দু'বছর পর মি. মওদুদী জেল থেকে ছাড়া পান। রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে ১৯৫৮ সালে অন্য সব দলের সাথে জামায়াতের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করেন তখনকার সেনা শাসক আইয়ুব খান। ১৯৬৪ সালের জানুয়ারিতে জামায়াতকে আবার নিষিদ্ধ করা হয়। মওদুদী ও গোলাম আজমসহ অনেককে আটক করা হয়। সে বছরের শেষ দিকে দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ১৫১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে চারটি আসন পায় দলটি। এরপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয় দলটি। তখন পাকিস্তানি শাসকদের সহযোগিতায় শান্তি কমিটি গঠন করা হয়। এই দলটির নেতৃত্বেই রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনী হয়েছিলো যারা ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডসহ যুদ্ধকালীন গণহত্যায় সহযোগিতার জন্য তীব্রভাবে সমালোচিত।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
১০ নতুন মুখ সংসদে
বরিশালে ২১ আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিএনপি জোটের জয়, ১০ নতুন মুখ সংসদে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগে নিরঙ্কুশ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ও তাদের জোট সমর্থিত প্রার্থীরা। বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিএনপি ও তাদের শরিকরা বিজয়ী হয়েছেন। বাকি দুটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং একটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী। বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম ফলাফলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে বিভাগের প্রতিটি আসনে গণভোটে ‘হ্যা’ ভোট বিজয়ী হয়েছে বলে জানা গেছে। ১০ নতুন মুখ সংসদে বিভাগের সব আসন মিলিয়ে প্রথমবারের মতো ১০ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন, যা এবারের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। ভোলা জেলা: চার আসনেই বিএনপি জোটের প্রাধান্য ভোলা জেলার চারটি আসনের মধ্যে: ভোলা-১: গরুর গাড়ি প্রতীকের আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি) দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত। ভোলা-2: ধানের শীষের হাফিজ ইব্রাহিম দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী। ভোলা-৩: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সপ্তমবারের মতো নির্বাচিত। ভোলা-৪: ধানের শীষের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত। বরিশাল জেলা: পাঁচ আসনের চিত্র বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফলাফল: বরিশাল-১: এম জহির উদ্দিন স্বপন তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত। বরিশাল-২: সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু প্রথমবারের মতো জয়ী। বরিশাল-৩: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। বরিশাল-৪: মো. রাজিব আহসান প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য। বরিশাল-৫: অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার পঞ্চমবারের মতো জয়ী। বরিশাল-৬: আবুল হোসেন খান দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত। পটুয়াখালী: চার আসনে ভিন্নধর্মী ফলাফল পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনের ফলাফল: পটুয়াখালী-১: আলতাফ হোসেন চৌধুরী তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত। পটুয়াখালী-২: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রথমবারের মতো জয়ী। পটুয়াখালী-৩: ট্রাক প্রতীকের নুরুল হক নূর (গণ অধিকার পরিষদ) প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। পটুয়াখালী-৪: এ বি এম মোশাররফ হোসেন দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী। বরগুনা: দুই আসনে দুই দল বরগুনা-১: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মো. অলি উল্লাহ প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। বরগুনা-২: ধানের শীষের মো. নূরুল ইসলাম মনি চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত। ঝালকাঠি: দুই আসনেই বিএনপি ঝালকাঠি-১: রফিকুল ইসলাম জামাল প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। ঝালকাঠি-২: ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী। পিরোজপুর: বিএনপি ও জামায়াতের ভাগাভাগি পিরোজপুর জেলার তিনটি আসনের মধ্যে: পিরোজপুর-১: জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাসুদ সাঈদী প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। পিরোজপুর-২: আহম্মদ সোহেল মনজুর প্রথমবারের মতো জয়ী। পিরোজপুর-৩: মো. রুহুল আমীন দুলাল প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত। সারসংক্ষেপ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগে বিএনপি ও তাদের জোটের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২১টির মধ্যে ১৮টি আসনে জয়, ১০ জন নতুন মুখের অভিষেক এবং সব আসনে গণভোটে ‘হ্যা’ ভোটের বিজয়—এই তিনটি বিষয় এবারের নির্বাচনে বরিশালকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল
নাটোর-১ আসনে ইতিহাস গড়লেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে প্রথম নারী ও সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল (৪১)। এবারের নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগে একমাত্র বিজয়ী নারী প্রার্থীও তিনি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে তিনি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদ (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৪৩১ ভোট। ১৮ বছর পর বিএনপির আসন পুনরুদ্ধার দীর্ঘ ১৮ বছর পর বিএনপির হারানো এই আসনটি পুনরুদ্ধার করলেন পুতুল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই আসনে বিএনপির কোনো জনপ্রতিনিধি ছিলেন না। ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বিএনপি সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের কন্যা। ফজলুর রহমান পটল ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এলাকায় শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন। বিজয়ী পুতুলের প্রতিক্রিয়া বাবার মৃত্যুর পর হারানো আসন পুনরুদ্ধারের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পুতুল বলেন, “মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এই বিজয় লালপুর-বাগাতিপাড়ার সব মানুষের।” তিনি নির্বাচনি মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করা দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। রাজশাহী বিভাগে একমাত্র নারী বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে পুতুলের জয় শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর এই আসনে বিএনপির প্রত্যাবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ✍️ প্রতিবেদন: নিজস্ব প্রতিনিধি 📍 স্থান: নাটোর 📅 প্রকাশের তারিখ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
স্বল্প চাষে কম খরচে বেশি লাভ
স্বল্প চাষে কম খরচে বেশি লাভ

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জিরো টিলেজ বা বিনা চাষে আবাদ পদ্ধতি। জমি চাষ না করে কিংবা স্বল্প চাষে ফসল উৎপাদনের এই কৌশল কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জিরো টিলেজ পদ্ধতিতে জমি চাষ না করে আগের ফসলের অবশিষ্টাংশ রেখেই সরাসরি বীজ বপন করা হয়। এতে উৎপাদন খরচ কমে, সময় ও শ্রম সাশ্রয় হয়। নবীনগরে সরিষা, মসুর, খেসারি ও রসুনে এই পদ্ধতিতে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া হালকা বালুমাটিতে বাদামও জিরো টিলেজ পদ্ধতিতে আবাদ করা হয়েছে। রাজস্ব অর্থায়নে কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল রিকভারি ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্রকল্প (বি-স্ট্রং) এর আওতায় চলতি বোরো মৌসুমে নবীনগর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের শতাধিক স্থানে বাদাম, সরিষা ও ডালজাতীয় ফসলের আবাদ করা হয়েছে। শ্রীরামপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের কৃষক নিজাম উদ্দিন বলেন, ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হোসেনের পরামর্শে তিনি বিনা চাষে সরিষা আবাদ করেন। উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় একটি প্রদর্শনীর উপকরণ পান। তিনি জানান, আগে জমি চাষ, মই দেওয়া ও প্রস্তুত করতে বেশি সময় ও খরচ হতো, কিন্তু জিরো টিলেজ ব্যবহারে খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। পাশাপাশি মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকায় সেচের প্রয়োজনও কম হয়েছে। বিদ্যাকুট ইউনিয়নের কৃষক কুলসুম আক্তার জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গৌতম ভৌমিকের উৎসাহে তিনি প্রথমবারের মতো বিনা চাষে সরিষা আবাদ করেছেন। তার জমির ফসল অন্যদের তুলনায় দ্রুত পরিপক্ব হওয়ায় এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান কাটার আগে রিলে পদ্ধতিতে ও বিনা চাষে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি মসুর ২৫ বিঘা, রসুন ১০ বিঘা এবং বাদাম ২৫ বিঘা জমিতে বিনা চাষে ও স্বল্প চাষে আবাদ হয়েছে। নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, জিরো টিলেজ পদ্ধতি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধি পায়, উপকারী অণুজীব সক্রিয় থাকে এবং মাটির ক্ষয় কম হয়। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কম হওয়ায় এটি পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে কৃষকদের সময় ও অর্থ—দুটোই সাশ্রয় হয়। তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্লটে সরিষা, মসুর ও খেসারি সহজভাবে এবং নির্দিষ্ট শর্তে বাদাম জিরো টিলেজ পদ্ধতিতে আবাদ করে আশাব্যঞ্জক ফলন পাওয়া যাচ্ছে। সঠিক প্রশিক্ষণ, মানসম্মত যন্ত্রপাতি ও কৃষক সচেতনতা বাড়ানো গেলে নবীনগরে জিরো টিলেজ আবাদ আরও বিস্তৃত হবে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষকের লাভ বাড়বে এবং অঞ্চলটি টেকসই কৃষির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
লিফলেট থেকে জন্মাবে গাছ
লিফলেট থেকে জন্মাবে গাছ

লিফলেট থেকে জন্মাবে গাছ, এমনটা শুনে নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন কি অবান্তর কথা বলছি! একদমই না। নিশ্চয়ই সিড পেপার দিয়ে কলম, ক্যালেন্ডার তৈরির কথা জানেন। যে কাগজ দিয়ে কলম তৈরি করে ব্যবহারের পর মাটিতে ফেলে দিলে গাছ জন্মায়। সেই কাগজের কথাই বলছিলাম। যা পরিচিত ‘বন-কাগজ’ বা ‘সিড পেপার’ নামে। এবার বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্ত হলো এক অভিনব ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা ও প্রার্থী প্রচারণায় ব্যবহার করছেন এই বিশেষ ধরনের বীজযুক্ত কাগজের লিফলেট, যা মাটিতে পড়লেই পরিণত হতে পারে সবজির চারা গাছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। প্রচারণার কাগজ মাটিতে পড়ে নষ্ট না হয়ে যদি গাছ হয়ে ওঠে, তাহলে সেটি হবে ‘জিরো ওয়েস্ট’ ভাবনার বাস্তব উদাহরণ। এটি কিন্তু একেবারেই নতুন কোনো উদ্ভাবন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বীজযুক্ত কাগজ বা পোস্টার ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় নির্বাচনসহ নানা সামাজিক ও সচেতনতামূলক প্রচারণায় সিড পেপার ব্যবহৃত হচ্ছে। কীভাবে তৈরি হয় বন-কাগজ? বন-কাগজ তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটিও পরিবেশবান্ধব। এটি মূলত পরিত্যক্ত বা ব্যবহৃত কাগজ থেকে তৈরি করা হয়। প্রথমে কাগজগুলো ছোট টুকরো করে প্রায় ৪২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়, যাতে কাগজ পুরোপুরি গলে যায়। এরপর সেই গলিত কাগজ থেকে মণ্ড তৈরি করে নির্দিষ্ট ফ্রেমের মধ্যে বসানো হয়। পরবর্তী ধাপে বিশেষ পদ্ধতিতে কাগজের মণ্ডের সঙ্গে বীজ যুক্ত করা হয়, যাতে কাগজ শুকানোর পরও বীজের কার্যকারিতা নষ্ট না হয়। সবশেষে কাগজ শুকিয়ে লিফলেট বা পোস্টারের আকার দেওয়া হয়। জানেন কি, কীভাবে বন-কাগজ থেকে গাছ জন্মায়? বন-কাগজ মূলত এমন এক ধরনের কাগজ, যার ভেতরে বিভিন্ন সবজি বা ভেষজ উদ্ভিদের বীজ সংযুক্ত থাকে। এই লিফলেট পুরোটা বা ছিঁড়ে ছোট টুকরো করে মাটিতে পুঁতে বা ফেলে দিলে, মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকলে ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই বীজ অঙ্কুরোদ্গম শুরু হয়। মাটি যদি শুষ্ক হয়, তবে কাগজটি মাটির ওপর রেখে হালকা পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিতে হয়। উপযুক্ত পরিবেশে একটি বন-কাগজ থেকে চারা গজিয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই গাছে পরিণত হয়। এই কাগজ এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে অর্থাৎ এক বছরের মধ্যে মাটিতে ফেললে সেখান থেকে গাছ জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে। কোন ধরনের গাছের বীজ ব্যবহা করা হয় এই সিড পেপারে? সাধারণত ভেষজ উদ্ভিদ ও ফলের বীজ দিয়ে এই কাগজ তৈরি করা হলেও এবারের নির্বাচনে পাঁচ ধরনের দেশি সবজির বীজ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বেগুন, টমেটো, মরিচ, লালশাক ও ডাঁটাশাক। এগুলো সহজে জন্মায় এবং ঘরোয়া পরিবেশে পরিচর্যাও তুলনামূলক কম লাগে। তাই লিফলেট পেলে বারান্দায় টবে লাগিয়ে দিন। কিছুদিনের মধ্যে সবজির চারা পাবেন। মাসখানিক পর পাবেন সবজি। এই পরিবেশবান্ধব লিফলেট তৈরির খরচ সাধারণ কাগজের তুলনায় কিছুটা বেশি। প্রতিটি বন-কাগজের লিফলেট তৈরিতে খরচ পড়ছে প্রায় ৮ টাকা। তবে উদ্যোক্তাদের মতে, পরিবেশের জন্য এর সুফল বিবেচনায় এই ব্যয় যুক্তিসংগত। পরিবেশ দূষণ কমানো এবং ‘জিরো ওয়েস্ট’ লক্ষ্য অর্জনের পথে এই ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখছেন পরিবেশবিদরা।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
There are no curtains in homes in the Netherlands.
নেদারল্যান্ডসের বাড়িতে পর্দা থাকে না

নেদারল্যান্ডসের কোনো আবাসিক এলাকায় সন্ধ্যার সময়ে ঘরে আলো জ্বলে উঠলে মানুষের বসার ঘর, সোফা, ল্যাম্প, ডাইনিং টেবিল, এমনকি পরিবারের একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া অনেক সময় বাইরে থেকে স্পষ্ট দেখা যায়। ভিনদেশি দর্শনার্থীদের কাছে এটি অবাক করা বা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। পৃথিবীর অনেক দেশে অন্ধকার নামলেই জানালার পর্দা টানা হয়। কিন্তু নেদারল্যান্ডসে প্রায় সব জানালা। শুধু রাতেই নয়, দিনের বেলাতেও জানালাগুলো প্রায়ই পর্দাহীন দেখা যায়।এই অভ্যাস বহু বছর ধরে চলে আসছে। খোলা জানালার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। সবচেয়ে আলোচিত ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো ক্যালভিনিজম, যা একটি প্রোটেস্ট্যান্ট ঐতিহ্য এবং ডাচ ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ক্যালভিনিজম বিনয়, সততা এবং স্বচ্ছতাকে মূল্য দেয়। এই ঐতিহ্য অনুসারে খোলা জানালা সততা ও স্বচ্ছতার প্রতীক হিসেবে ধরা হতে পারে। এই ধারণা অনুযায়ী, খোলা পর্দা বোঝায় যে, ঘরে লুকানোর কিছু নেই, জীবনযাপন সৎ ও শালীন। তবে গবেষক ও ইতিহাসবিদদের মতে, এই ব্যাখ্যা পুরোপুরি যথেষ্ট নয়। আধুনিক ডাচ সমাজ অনেকটাই ধর্মনিরপেক্ষ, তবুও এই অভ্যাস এখনো রয়ে গেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও এই অভ্যাসকে প্রভাবিত করেছে, যদিও সরাসরি কারণ নয়। জার্মান দখলের সময় সময় কঠোর ‘ব্ল্যাকআউট’ নিয়ম চালু ছিল। রাতে ঘর থেকে কোনো আলো বাইরে বের হতে না দেওয়ার জন্য জানালায় মোটা পর্দা বা ঢাকনা ব্যবহার বাধ্যতামূলক ছিল। বাইরে আলো দেখা গেলে জরিমানা হতো। যুদ্ধ শেষে মানুষ আবার পর্দা সরিয়ে আলো উন্মুক্ত করতে স্বস্তি বোধ করেছিল। যদিও এই অভিজ্ঞতা আলো ও স্বাধীনতার প্রতি মনোভাব গঠনে ভূমিকা রেখেছিল, তবুও এটি একমাত্র বা প্রধান কারণ নয়। জলবায়ুও এর একটি ভূমিকা রাখে। নেদারল্যান্ডসে বিশেষ করে শরৎ ও শীতকালে সূর্যালোক কম থাকে। ছোট দিন, মেঘলা আকাশ এবং দীর্ঘ সন্ধ্যা দিনের আলোকে মূল্যবান করে তোলে। সম্ভব প্রাকৃতিক আলো ঘরে ঢুকতে দেওয়া মানুষ পছন্দ করে, এতে ঘর উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত লাগে। সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য কারণটি সামাজিক আচরণ। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক আস্থাভিত্তিক সম্প্রদায়ের লোকেদের পর্দা খোলা রাখার প্রবণতা বেশি। খোলা জানালা বাসিন্দাদের রাস্তা ও আশেপাশের জীবন সম্পর্কিত সচেতন রাখে। তারা দেখতে পারে কে পাশ দিয়ে যাচ্ছে, বাইরে কী ঘটছে, এবং সবকিছু নিরাপদ কিনা। এইভাবে খোলা পর্দা আস্থার অনুভূতিকে সমর্থন করে। জানালাটি তখন ভেতর ও বাইরের মাঝে কঠিন দেয়াল নয়, বরং নরম এক সীমানা হিসেবে কাজ করে। ডাচ বাড়িগুলো অনেক সময় সরু হয়, কিন্তু সামনের জানালা বড়। পর্দা টানলে আলো কমে যায়, ঘর ছোট ও গুমোট লাগে। তাই অনেকেই খোলামেলা, আলো ভরা পরিবেশ পছন্দ করেন। এমনকি ঘরের সাজসজ্জাও অনেক সময় এমনভাবে করা হয়, যেন তা আংশিকভাবে বাইরে থেকে দৃশ্যমান থাকবে এ বিষয়টি মাথায় রেখেই।   খোলা জানালা মানে ডাচরা অপরিচিতদের আমন্ত্রণ জানায় না। বাইরে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ তাকানো এখনও অভদ্র বলে বিবেচিত। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক ঝলক দেখা স্বাভাবিক, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ তাকানো নয়। এক নীরব সামাজিক বোঝাপড়া। এখানে গোপনীয়তা রক্ষা হয় কাপড়ের পর্দায় নয় বরং সামাজিক শিষ্টাচারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
Destination weddings
জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং

একসময় বাঙালি বিয়ে মানেই ছিল পাড়া-প্রতিবেশী, কমিউনিটি সেন্টার, শত শত অতিথি আর কয়েক দিনব্যাপী আয়োজন। কিন্তু সময় বদলেছে। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, ভ্রমণপ্রিয় মানসিকতা আর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব সব মিলিয়ে বিয়ের ধারণাতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের নাম ডেস্টিনেশন ওয়েডিং। আজ এটি আর শুধু অভিজাতদের বিলাসিতা নয়, বরং মধ্যবিত্ত তরুণ তরুণীদের কাছেও হয়ে উঠছে কাঙ্ক্ষিত এক অভিজ্ঞতা।   ডেস্টিনেশন ওয়েডিং কী? ডেস্টিনেশন ওয়েডিং বলতে বোঝায় নিজের শহর বা বসবাসের জায়গা ছেড়ে অন্য কোনো পর্যটনকেন্দ্র, ঐতিহাসিক স্থান বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যপূর্ণ এলাকায় সীমিত অতিথি নিয়ে বিয়ের আয়োজন করা। সমুদ্র সৈকত, পাহাড়, রিসোর্ট, হেরিটেজ প্রপার্টি বা বিদেশের কোনো শহর সবই হতে পারে এই ধরনের বিয়ের গন্তব্য।     এই ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের উৎপত্তি মূলত পশ্চিমা দেশগুলোতে। ইউরোপ ও আমেরিকায় ১৯৮০-৯০-এর দশকে ছোট পরিসরে বিয়ে করার প্রবণতা বাড়তে থাকে। সেই সময় থেকেই সমুদ্র সৈকত বা রিসোর্টে বিয়ের ধারণা জনপ্রিয় হয়। পরে বলিউড তারকাদের হাত ধরে ভারতে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। রাজস্থান, গোয়া, উদয়পুর কিংবা বিদেশে ইতালি, থাইল্যান্ড এই সব জায়গায় তারকাদের বিয়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়।   বাংলাদেশে এই ধারণা তুলনামূলক নতুন। ২০১০ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে এটি পরিচিত হতে শুরু করে। শুরুতে ধনী ব্যবসায়ী পরিবার বা শোবিজ অঙ্গনের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এই আয়োজন। তবে গত পাঁচ-সাত বছরে মধ্যবিত্ত তরুণ সমাজের মধ্যেও ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের চাহিদা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। কক্সবাজার, সাজেক, বান্দরবান, সিলেট কিংবা দেশের বিভিন্ন রিসোর্ট এখন বিয়ের জনপ্রিয় গন্তব্য।   ডেস্টিনেশন ওয়েডিং জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, সীমিত অতিথি। প্রচলিত বিয়েতে আত্মীয়-স্বজন, পরিচিত-অপরিচিত মিলিয়ে অতিথির সংখ্যা কয়েক শ’ ছাড়িয়ে যায়। ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ে সাধারণত কাছের মানুষদের নিয়েই আয়োজন করা হয়, ফলে খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে।   দ্বিতীয়ত, একসঙ্গে বিয়ে ও ভ্রমণ। বিয়ে উপলক্ষে বর–কনে ও অতিথিরা একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পান। এতে আয়োজনের ক্লান্তি কমে, আনন্দ বাড়ে। তৃতীয়ত, ভিন্নতা ও ব্যক্তিগত ছোঁয়া। পাহাড়, সমুদ্র বা ঐতিহাসিক প্রাসাদের মাঝে বিয়ে এই অভিজ্ঞতা প্রচলিত কমিউনিটি সেন্টারের বিয়ের চেয়ে আলাদা এবং স্মরণীয়।   ডেস্টিনেশন ওয়েডিং জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে বিয়ের ভিডিও ও ছবির ঝলক মানুষকে আকৃষ্ট করছে। ‘পারফেক্ট ওয়েডিং ফটো’ বা ‘ড্রিম ওয়েডিং’ এই ধারণাগুলো তরুণদের মনে গভীরভাবে গেঁথে গেছে।   অনেকে মনে করেন ডেস্টিনেশন ওয়েডিং মানেই আকাশছোঁয়া খরচ। বাস্তবে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। অতিথি সংখ্যা কম হওয়ায় খাবার, হল ভাড়া ও অন্যান্য খরচ অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে যাতায়াত, থাকা ও সাজসজ্জার খরচ যোগ হওয়ায় বাজেট পরিকল্পনা না করলে ব্যয় বাড়তে পারে। বাংলাদেশে একটি মাঝারি মানের ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের খরচ ১৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব বলে জানান ইভেন্ট প্ল্যানাররা।   তবে এই ট্রেন্ডের কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের অনেকেই এখনো ডেস্টিনেশন ওয়েডিংকে পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারেন না। আত্মীয়স্বজন বাদ পড়া নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। এছাড়া দেশের ভেতরে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও অভিজ্ঞ ওয়েডিং প্ল্যানারের অভাবও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।   তবে এতসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দিনে বাংলাদেশে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং আরও জনপ্রিয় হবে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, রিসোর্ট ও হোটেলের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তরুণদের জীবনধারার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারা আরও বিস্তৃত হবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
এপস্টেইন
ক্ষমতার আড়ালে বিকৃত লালসা: এপস্টেইন থেকে ইতিহাসের কুখ্যাত শাসকরা

ক্ষমতা মানুষকে কী দেয় নিরাপত্তা, প্রভাব, নাকি ভয়ংকর দায়মুক্তি? জেফরি এপস্টেইনের নামটি সামনে এলে এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে বেশি উঠে আসে। আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে এপস্টেইন কেস দেখিয়েছে, অর্থ ও ক্ষমতার জোরে কীভাবে বছরের পর বছর ধরে শিশু যৌন নির্যাতন ও পাচারের মতো অপরাধ আড়ালে রাখা যায়। আদালতের নথি, ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য এবং তদন্তে উঠে এসেছে রাজনীতিবিদ, ধনকুবের, রাজপরিবার-ঘনিষ্ঠ বহু প্রভাবশালীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। এপস্টেইন একা ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি ব্যবস্থার প্রতীক, যেখানে ক্ষমতাবানরা নিজেদের অপরাধ ঢেকে রাখতে সক্ষম হন।   এই বাস্তবতা নতুন নয়। ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায় প্রাচীন ও মধ্যযুগের বহু শাসক, রাজা কিংবা ধর্মীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তির বিরুদ্ধেও শিশু নির্যাতন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের শোষণ কিংবা চরম যৌন বিকৃতির অভিযোগ রয়েছে। তখনকার দিনে আইন ও নৈতিকতার সংজ্ঞা ভিন্ন ছিল, কিন্তু অনেক ঘটনায় সমসাময়িক দলিল, চিঠিপত্র ও ইতিহাসবিদদের বিবরণ স্পষ্টভাবে অনৈতিক আচরণের দিকেই ইঙ্গিত করে।     তৃতীয় শতকের রোমান সম্রাট এলাগাবালুস ইতিহাসে কুখ্যাত তার বেপরোয়া জীবনযাপনের জন্য। প্রাচীন ইতিহাসবিদ ক্যাসিয়াস ডিও ও হেরোডিয়ান তার শাসনকালকে নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাদের বিবরণে দেখা যায়, রাজপ্রাসাদে অল্পবয়সী কিশোরদের উপস্থিতি, যৌন পরিচয়ের সীমা ভাঙা আচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ছিল নিয়মিত ঘটনা। যদিও আধুনিক ইতিহাসবিদরা কিছু বিবরণ অতিরঞ্জিত হতে পারে বলে সতর্ক করেন, তবুও একাধিক স্বাধীন সূত্রে তার বিকৃত লালসার উল্লেখ থাকায় বিষয়টি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া যায় না।   একাদশ শতকের পোপ বেনেডিক্ট নবম ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি একাধারে ধর্মীয় নেতা ও রাজনৈতিক শাসক। সমসাময়িক ধর্মীয় লেখকরা তাকে ‘নৈতিকভাবে কলুষিত’ বলে উল্লেখ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে তিনি কিশোরদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতেন এবং পাপাল ক্ষমতা ব্যক্তিগত ভোগের জন্য ব্যবহার করতেন। চার্চ ইতিহাসে তিনি অন্যতম বিতর্কিত পোপ হিসেবে পরিচিত, যার আচরণ খোদ গির্জার ভেতরেই তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।     মধ্যযুগে ইউরোপীয় রাজদরবার ছিল প্রায় সম্পূর্ণভাবে রাজার ইচ্ছাধীন। অনেক ক্ষেত্রে রাজাকে প্রশ্ন করার সুযোগই ছিল না। কিছু শাসকের বিরুদ্ধে কিশোর বা অল্পবয়সী দাসদের যৌন শোষণের অভিযোগ পাওয়া যায় দরবারি নথি ও সমালোচনামূলক লেখায়। তবে সে সময় এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসত খুব কমই; রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া প্রায় কেউই মুখ খুলত না। ফলে অনেক ঘটনা ইতিহাসে শুধু ইঙ্গিত আকারেই থেকে গেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
রেখা বিশ্বাস
তৈরি ফুলেই সংসার চলছে রেখা বিশ্বাসের

বিলের খুব পরিচিত আগাছা হচ্ছে শোলা। হ্যাঁ, এটা সবার কাছে আগাছা বা অপ্রয়োজনীয় হলেও কারো কারো কাছে শিল্পের উপকরণ, আয়ের ব্যবস্থা। শোলা গাছ সংগ্রহ করে তার ভেতরের সাদা অংশ দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের ফুল ও মালা। হস্ত শিল্পীরা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে শোলা কেটে বিভিন্ন আকার দেন এবং পরে তাতে রং ও সুতা দিয়ে আকৃতি দেন। তাতে তৈরি হয় নানা ধরনের ফুল, মালা, বাচ্চাদের খেলনা এবং ঘর সাজানোর উপকরণ।   মাগুরা জেলের ১নং পৌরসভার কাদিরাবাদ গ্রামে শোলার তৈরি ফুল দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এগুলো বিক্রি করে সংসার চলছে অনেকগুলো পরিবারের। এলাকার নারী-পুরুষ সবাই মিলে শিল্পের ছোঁয়ায় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে শোলা কেটে বিভিন্ন আকার দেন এবং পরে তাতে রং ও সুতা দিয়ে আকৃতি প্রদান করেন। শোলার তৈরি ফুলগুলো নষ্ট হয় না, রং উজ্জ্বল থাকে এবং অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এই ফুল ও মালা নানা পূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হয়।   ফুল তৈরির প্রধান কারিগর রেখা বিশ্বাস বলেন, ‘মাঘ মাসে বিলের পানি শুকিয়ে গেলে ফুল শোলা কুড়িয়ে এনে ফুল, মালা তৈরি করে হাটে বাজারে বিক্রি করি। শোলার তৈরি চাঁদমালা, মুকুট, কদম কিংবা ঝোরা ফুল তৈরি করি। একই সঙ্গে শুভ কাজ বা মানতের জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়। আমাদের অনেক প্রতিবেশী হাতের কাজে সহযোগিতা করেন বলে আমরা ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।’   তিনি আরও বলেন, ‘এই ফুল-মালা বিক্রি করে আমাদের সারাবছর সংসার চলে। আমরা যদি সরকারি কোনো সাহায্য পাই তাহলে একটা কারখানা করতাম, এতে আমাদের কাজ আরও বেশি হতো, আয়ও বাড়ত।’   কারিগর রেখার স্বামী রনজীত বিশ্বাস বলেন, ‘কাঁচা শোলার সংকট আছে, মাঠে পানি কম হওয়ায় শোলা কম হয়। বছরে ২টা মৌসুম শ্রাবণ ও মাঘ মাসে আমরা এই কাজ বেশি করি। এই দুই সিজনেই ১ লাখ টাকা উপার্জন হয়। শত কষ্টের মধ্যেও এখনো বাপ-দাদার এই হস্তশিল্প পেশাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছি। এই গ্রামের ১২ থেকে ১৫টি পরিবার এ পেশায় নিয়োজিত আছে। আমরা সরকারি সহযোগিতা পেলে হয়তো আরও বড় পরিসরে ফুল তৈরির কারখানা করতাম।’   এলাকার যুবক সিজান বলেন, ‘রেখা দিদিকে ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি তিনি ও তার স্বামী মিলে এই শোলার তৈরি কদম ফুল, ঝোরা ফুল তৈরির মাধ্যমেই এ শিল্পকর্মটি বাঁচিয়ে রেখেছেন। বংশ পরম্পরায় তারা এ পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাদেরকে যদি সরকারি সহায়তা বা কোনো সংস্থা সহযোগিতা করতো তাহলে তারা এই শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারতো। একদিন হয়তো রেখা দিদি সফল নারী উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারবে, পাশাপাশি এলাকার অনেক নারী কর্মীরাও তার সঙ্গে কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করতে পারবে।’   কাদিরাবাদ গ্রামের প্রবীণ রাজকুমার বলেন, ‘রেখা ও রনজীত দীর্ঘদিন ধরে এই ফুল, মালা, মুকুট তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তারা অনেক কষ্ট করেন, এই কাজের ভেতর দিয়ে সংসার চালাতে হিমসিম খায়। আমি আশীর্বাদ করি তারা যেন ভালো কিছু করতে পারে, তাদের যেন ভালো হয়।’

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
শিক্ষা মন্ত্রণালয়
মাধ্যমিকে সব ক্লাস ৪৫ মিনিট না রেখে বিষয়ভিত্তিক সময় বাড়ানোর সুপারিশ

মাধ্যমিক পর্যায়ে সব বিষয়ের জন্য নির্ধারিত অভিন্ন ৪৫ মিনিটের ক্লাস কাঠামো থেকে সরে আসার সুপারিশ করেছে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গঠিত কনসালটেশন কমিটি। সুপারিশ অনুযায়ী,  প্রতিটি বিষয়ের জন্য এক সপ্তাহে নির্ধারিত মোট সময় অপরিবর্তিত রেখে দৈনিক ক্লাসের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানো যেতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গঠিত কনসালটেশন কমিটির খসড়া প্রতিবেদনে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সব বিষয়ের জন্য নির্ধারিত অভিন্ন ৪৫ মিনিটের পাঠদান পিরিয়ডে আবদ্ধ না থেকে একটি বিষয়ের জন্য এক সপ্তাহের মোট সময় ঠিক রেখে দিনের পাঠদান পিরিয়ড দীর্ঘতর করা যেতে পারে। এছাড়া পিছিয়ে থাকা শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ের মধ্যে অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য অভিভাবকদের থেকে সীমিত ফি নেওয়া যেতে পারে। এতে আরও বলা হয়, প্রতি বিদ্যালয়ে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং এলাকার টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষকদের বা অন্য বিশেষ সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষণ-শিখন পরিকল্পনা ও শিক্ষার্থীর দক্ষতা অর্জনের মাত্রা যাচাই করতে হবে। এটি যাচাইয়ের ভিত্তিতে পরবর্তী এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত শিক্ষণ-শিখনের মান উন্নয়নের জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।  কমিটি বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সমাজপাঠ ও বিজ্ঞান বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা সীমিত রাখতে বলেছে। আর অষ্টম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা (জেএসসি ইত্যাদি) বাতিল করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা বাদ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে অভিন্ন শিক্ষাক্রমের আলোকে পড়িয়ে একাদশ শ্রেণিতে গিয়ে বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ইত্যাদি শাখায় বিভাজন করারও সুপারিশ করেছে।   

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের ১৪ হাজার ৩৮৫ পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ ফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় সর্বাধিক ২ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর কুমিল্লা থেকে ২ হাজার ৫৬৪ জন, কুড়িগ্রাম থেকে ২ হাজার ৪৬০ জন, দিনাজপুর থেকে ২ হাজার ৪২১ জন, গাইবান্ধা থেকে ২ হাজার ২৯৫ জন, সিরাজগঞ্জ থেকে ২ হাজার ১২৩ জন এবং সুনামগঞ্জ থেকে ২ হাজার ৬০ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল গত ২১ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। একই সঙ্গে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়। গত বছরের ৫ ও ১২ নভেম্বরের বিজ্ঞাপনের আলোকে ৬১টি জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা ১ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে গত ৯ জানুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। সহকারী শিক্ষকের ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৯৫টি আবেদন জমা পড়ে এবং মোট ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
শিক্ষা মন্ত্রণালয়
কোচিং সেন্টার ও নোট-গাইড বন্ধে কঠোর বিধান রেখে শিক্ষা আইনের খসড়া প্রস্তুত

দেশে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘শিক্ষা আইন, ২০২৬’ এর খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার।  প্রস্তাবিত এই আইনে বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার এবং নোট-গাইড বইয়ের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জনগণের মতামতের জন্য এ সংক্রান্ত খসড়া আইন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন, ২০২৬ (খসড়া) এর উপর নির্ধারিত [email protected] ইমেইলে মতামত পাঠাতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত আইনকে ১১টি অধ্যায় এবং ৫৫টি ধারায় বিন্যস্ত করা হয়েছে। জনগণের মতামতের পর তা চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত আইন বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) বাসসকে জানিয়েছেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে শিক্ষাকে নাগরিকের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  তিনি বলেন, ‘আইন কখনোই খুব বিস্তারিত হয় না। এটি মূলত দিকনির্দেশনা দেয়। ভবিষ্যতে বিধিমালা ও নীতির মাধ্যমে একে আরও কার্যকর করা হবে।’  শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এই আইনটি দীর্ঘ আলোচনার ফল। মাঠপর্যায়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসক, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন জেলার অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে খসড়া তৈরি করা হয়েছে।  এটি শিক্ষা আইন, ২০২৬ নামে অভিহিত হবে বলে খসড়ায় বলা হয়েছে। খসড়া আইনের ১৫ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হওয়ার তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সকল প্রকার বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার, গাইড বই এবং নোট বইয়ের কার্যক্রম দেশে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের মূল পাঠ্যবইমুখী করতে ধারাবাহিকভাবে এসব কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করা হবে। আইনে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক এবং ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাকে শিশুর মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের জন্য নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। খসড়া আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হওয়ার তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সকল প্রকার বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার, গাইড বই এবং নোট বইয়ের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। সরকার বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে এবং শিক্ষার্থীদের মূল পাঠ্যবইমুখী করতে ধারাবাহিকভাবে নিরুৎসাহিত করবে। তবে সরকার অনুমোদিত ‘সহায়ক পুস্তক’ এর ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। প্রস্তাবিত খসড়া আইনে প্রথমবারের মতো কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সমান গুরুত্ব দিয়ে ডিপ্লোমা পর্যায় পর্যন্ত উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি ও মানসিক নিপীড়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে খসড়া আইনে। ৩৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীকে শারীরিক আঘাত বা মানসিক নির্যাতন করলে তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া র‌্যাগিং ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খসড়া আইনে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে ‘অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল’ এর ভূমিকা জোরদার এবং স্নাতক পর্যায়ে অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর কথা বলা হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউজিসি কর্তৃক নির্ধারিত অভিন্ন ন্যূনতম যোগ্যতা অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে ‘জাতীয় গবেষণা পরিষদ’ এবং ‘কেন্দ্রীয় গবেষণাগার’ স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিধান বিষয়ে খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি ইউনিক আইডি বা স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর থাকবে, বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে, সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় বা ইজারা দিতে পারবে না, ই-লার্নিং ও দূরশিক্ষণ জনপ্রিয় করতে দেশব্যাপী একটি সাধারণ অনলাইন লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে। খসড়া আইনে বলা হয়েছে, এই আইন আপাতত বলবৎ অন্য যেকোনো আইনের ওপর প্রাধান্য পাবে। যদি অন্য কোনো আইনের সঙ্গে এই আইনের বিরোধ দেখা দেয়, তবে এই আইনটিই কার্যকর হবে বলে প্রস্তাবিত আইনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট: এক শিক্ষকেই সামলাচ্ছেন একাধিক শ্রেণি

দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক সংকট একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই সংকট আরও প্রকট। অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় একজন শিক্ষককেই একাধিক শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে করে পাঠদানের মান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহও কমে যাচ্ছে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদ্যালয়েই শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি বিদ্যালয়ে তিন থেকে চারজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যায়, কোনো কোনো স্কুলে মাত্র একজন বা দুজন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিদ্যালয় চালানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন শিক্ষককে একসঙ্গে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান করতে হয়, যা কোনোভাবেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না।   এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা চরম মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। একজন শিক্ষক যখন একই সময় একাধিক শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের পড়ান, তখন স্বাভাবিকভাবেই কোনো শ্রেণির উপর পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনে ব্যর্থ হয়। এইভাবে ধাপে ধাপে শিখনের ঘাটতি তৈরি হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ভবিষ্যত শিক্ষাজীবনেও।   শুধু পাঠদানের ক্ষেত্রেই নয়, একজন শিক্ষককে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ, মিডডে মিল, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হিসাব রাখা, নানা রিপোর্ট প্রস্তুত করাসহ আরও অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষক যতই আন্তরিক হোন না কেন, সীমিত জনবল ও অপ্রতুল সময়ের কারণে শিক্ষার মান উন্নয়ন অসম্ভব হয়ে পড়ে।   অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরাও এই সংকটের কারণে দুর্বল ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে। একজন শিক্ষক একসঙ্গে দুই-তিনটি শ্রেণির ক্লাস নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একঘেয়েমি সৃষ্টি হয় এবং তারা ধীরে ধীরে স্কুলে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এর ফলে ঝরে পড়ার হারও বাড়ছে।   সরকার শিক্ষক নিয়োগে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সংকট কাটছে না। অনেক সময় নিয়োগপ্রাপ্তরাও দুর্গম এলাকায় যোগদান করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন, ফলে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতেই সংকট সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।   এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত ও কার্যকর শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা দরকার। বিশেষ করে দুর্গম ও গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুলগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, স্থায়ী পদ সৃষ্টি, নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রণোদনা প্রদান এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর বিকল্প শিক্ষা পদ্ধতিও বিবেচনায় আনা যেতে পারে, যাতে শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় পাঠ গ্রহণ করতে পারে।   প্রাথমিক স্তরেই যদি শিক্ষার্থীরা মানসম্পন্ন শিক্ষা না পায়, তবে তা পুরো শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই এখনই সময় কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার, যেন একজন শিক্ষককে আর একা একাধিক শ্রেণির ভার বইতে না হয় এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে এগিয়ে যেতে পারে।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0
কারিগরি শিক্ষার প্রসারে প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

দেশে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্প নির্ভর অর্থনীতিতে টিকে থাকতে হলে শুধু সাধারণ শিক্ষায় নয়, বাস্তবভিত্তিক ও হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সেই বিবেচনা থেকেই সরকার এবার কারিগরি শিক্ষার প্রসারে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি অঞ্চলের যুবসমাজকে দক্ষ করে তোলা এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।   বর্তমানে দেশে কারিগরি শিক্ষার পরিসর সীমিত। অধিকাংশ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র জেলা বা বিভাগীয় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ। ফলে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার তরুণরা এই ধরনের শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তবে নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপিত হবে, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে করে একদিকে যেমন স্থানীয়ভাবে দক্ষ জনবল গড়ে উঠবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানেও নতুন দ্বার খুলবে।   প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে মূলত বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক্স, গাড়ি মেরামত, ফ্রিজ ও এসি রিপেয়ারিং, কম্পিউটার ও আইটি, ফ্যাশন ডিজাইন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, সৌরবিদ্যুৎ এবং রোবোটিক্সের মতো চাহিদাসম্পন্ন কোর্স চালু করা হবে। এসব কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিখে চাকরি বা আত্মকর্মসংস্থানের উপযোগী হয়ে উঠবে। প্রশিক্ষণের শেষে তাদের সার্টিফিকেটও প্রদান করা হবে, যা চাকরির ক্ষেত্রেও মূল্যায়িত হবে। তাছাড়া অনেকে নিজের উদ্যোগেও ব্যবসা শুরু করতে পারবে, যার ফলে বেকারত্ব হ্রাস পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।   এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সরবরাহ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জ্ঞান অর্জনে সক্ষম হয়। প্রশিক্ষকেরাও হবেন অভিজ্ঞ ও দক্ষ, যারা যুগোপযোগী পদ্ধতিতে পাঠদান করবেন। কিছু প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে বিশেষায়িত করাও হবে, যেমন কোনো এলাকায় কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ বেশি, আবার অন্য এলাকায় আইটি নির্ভর প্রশিক্ষণ বেশি দেওয়া হবে। এইভাবে স্থানীয় চাহিদা ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের ধরন নির্ধারণ করা হবে।   এই উদ্যোগ শুধু কর্মসংস্থানের দিক থেকেই নয়, সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নারী ও প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে, যাতে কারিগরি শিক্ষা সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ শেষে ঋণ সুবিধা, উদ্যোক্তা পরামর্শ ও চাকরির সংযোগও দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, যা প্রকল্পকে বাস্তবিক ও দীর্ঘমেয়াদি সফলতায় রূপান্তর করবে।   সার্বিকভাবে বললে, প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের এই উদ্যোগ গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজ আরও দক্ষ, আত্মনির্ভর ও ভবিষ্যতমুখী হয়ে উঠবে, যা স্মার্ট বাংলাদেশের পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0
অনলাইন ক্লাসের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে, বাড়ছে শিখন ঘাটতি

করোনা মহামারির সময় থেকেই দেশে অনলাইন ক্লাসের প্রচলন শুরু হয়। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা পদ্ধতির এই প্রয়োগ অনেকটাই জরুরি অবস্থা মোকাবিলার অংশ ছিল। শুরুতে শিক্ষার্থীরা নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে বিষয়টি গ্রহণ করলেও ধীরে ধীরে এর প্রতি আগ্রহ কমতে শুরু করে। এখন দেখা যাচ্ছে, অনলাইন ক্লাসের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন ঘাটতির হার বাড়ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন ক্লাস কার্যকর হতে হলে নির্দিষ্ট অবকাঠামো, উপযুক্ত পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখার কৌশল প্রয়োগ করতে হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র হচ্ছে, দেশের অনেক শিক্ষার্থী এখনো নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা পায় না। আবার অনেকের বাড়িতে নেই প্রয়োজনীয় ডিভাইস, কিংবা থাকলেও তা পরিবারের একাধিক সদস্যের মাঝে ভাগ করে ব্যবহার করতে হয়। ফলে নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বলতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতার অভাব শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে মনোযোগ হারানোর অন্যতম কারণ।   শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যাই নয়, অনলাইন ক্লাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থী প্রশ্ন করার সুযোগ পায় না। অনেক সময় তারা বুঝেও না বোঝার ভান করে ক্লাস শেষ করে দেয়। এতে করে বিষয়বস্তুর প্রতি আগ্রহ কমে যায় এবং শিখনে ঘাটতি দেখা দেয়। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস অনেক সময় একঘেয়েমি ও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে বেশি সময় মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, ফলে শেখার গতি ব্যাহত হয়।   শিক্ষকদের একাংশ মনে করেন, অনলাইন ক্লাসে পাঠদানের পদ্ধতি এখনও যথাযথভাবে মানসম্মত হয়নি। অধিকাংশ শিক্ষকই শুধু পাঠ্যবই পড়ে শোনান, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আকর্ষণ সৃষ্টি করে না। অপরদিকে, অনেক শিক্ষক নিজেরাও প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বচ্ছন্দ নন, ফলে ক্লাস পরিচালনায় তারা দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্লাসে সম্পৃক্ততা কমে যায় এবং তারা পড়াশোনা থেকে ধীরে ধীরে বিমুখ হয়ে পড়ে।   অভিভাবকরাও বলছেন, শিশুদের ঘরে বসে অনলাইনে পড়াশোনায় আগ্রহ ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। অনেক সময় তারা মোবাইল বা ল্যাপটপে ক্লাসের নাম করে অন্য কিছুর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে, যা পড়াশোনার ক্ষতি করে। এছাড়া দীর্ঘসময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখে সমস্যা, মানসিক অস্থিরতা ও একাকীত্বও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন হাইব্রিড লার্নিং পদ্ধতি—যেখানে অফলাইন ও অনলাইন উভয় মাধ্যমকে ভারসাম্যের সঙ্গে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া অনলাইন ক্লাসের কনটেন্টকে আরও ইন্টারেক্টিভ ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তোলা, শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নত করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও আগ্রহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।   দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। নয়তো এই ধারাবাহিক শিখন ঘাটতি আগামী দিনে একটি প্রজন্মের শিক্ষা ও দক্ষতার মানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0
শিশুর অটিজমের ঝুঁকি
গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে শিশুর অটিজমের ঝুঁকি!

জাপানের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পরবর্তী সময়ে মায়েরা যদি তীব্র মানসিক চাপ কিংবা বিষণ্নতায় ভোগেন, তবে তাদের সন্তানদের মধ্যে অটিজমের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  ২৩ হাজারেরও বেশি মা ও শিশুর ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় মাতৃকালীন মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে শিশুর বিকাশের এক গভীর যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। তারা লক্ষ্য করেছেন, মায়ের মানসিক চাপের ফলে শিশুদের মধ্যে অটিজম-সদৃশ লক্ষণের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। এই গবেষণার ফলাফলকে আরও জোরালো করতে বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের ওপর জৈবিক পরীক্ষা চালিয়েছেন, যা প্রমাণ করেছে যে মাতৃকালীন মানসিক চাপ শিশুর বিকাশে নেতিবাচক পরিবর্তন আনে। গবেষণায় অটিজমের ঝুঁকির ক্ষেত্রে লিঙ্গভেদে ভিন্নধর্মী ফল পাওয়া গেছে। সাধারণত মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে অটিজমের লক্ষণ বেশি দেখা গেলেও, মায়ের বিষণ্নতার প্রভাব মেয়ে শিশুদের ওপর বিশেষভাবে লক্ষণীয়।  যেসব মেয়ে শিশু মাতৃকালীন বিষণ্নতার শিকার হয়েছে, তাদের জন্মের সময় ওজন কম হওয়া এবং মায়ের সঙ্গে মানসিক বন্ধন দুর্বল হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। বিপরীতে, ছেলেদের ক্ষেত্রে মায়ের মানসিক অবস্থা নির্বিশেষে অটিজমের লক্ষণগুলো স্বাভাবিকভাবেই বেশি প্রকট ছিল। এই ঝুঁকির পেছনে জৈবিক কারণ হিসেবে অক্সিটোসিন হরমোনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন গবেষকরা। অক্সিটোসিন মূলত সামাজিক আচরণ ও মা-শিশুর আত্মিক বন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। মানসিক চাপের কারণে এই হরমোনের মাত্রায় বিঘ্ন ঘটলে তা শিশুর সামাজিক বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, যা পরবর্তীকালে অটিজমের কারণ হতে পারে।  এছাড়া ১৪০,০০০ গর্ভবতী নারীর ওপর পরিচালিত অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে বিষণ্নতা কাটানোর ওষুধ ব্যবহার করলে শিশুদের অটিজমের ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। গবেষকরা বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন যে গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান জন্মদানের পর নিয়মিতভাবে মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে মায়েদের মানসিক সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা গেলে শিশুদের অটিজমের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।  এই গবেষণার ফলাফল মেয়েদের মধ্যে অটিজম শনাক্তকরণের প্রচলিত পদ্ধতি এবং গর্ভাবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় রূপান্তর: ‘স্বাস্থ্য–খাত সংস্কার’ ও শরীরে ‘পাখি–ফ্লু’ আঘাত

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবাখাতে যুগান্তকারী সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন উপদ্রুত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ‘পাখি–ফ্লু’র প্রথম প্রাদুর্ভাব। একদিকে প্রতিরোধমূলক আইন নিয়ে চলেছে বড় আলোচনা, অন্যদিকে জীবাণুমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এখন জোরদার চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের বড় ধাপ স্বাস্থ্য ক্ষেত্র সংস্কার কমিশন একটি ঐতিহাসিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেছে, যেখানে প্রস্তাব রাখা হয়েছে: প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ‘সবার জন্য বিনামূল্যে’ নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক অধিকার ঘোষণার দাবি । স্বতন্ত্র ও স্থায়ী ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠনের পরামর্শ, যা জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির পরামর্শদাতা ও মান–নিয়ন্ত্রক সংস্থা হবে । তবে, বাজেট বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের স্পষ্ট পথিকা এখনও তৈরি হয়নি—স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় যৌথ কমিটি জরুরি । এ ছাড়াও, কমিশন ১৫% জাতীয় বাজেট স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ, আর রোগ–নিয়ন্ত্রণ ও ঔষধ ও মানবশক্তি বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে । পাখি–ফ্লু: দেশে ৭ বছর পর প্রথম আঘাত জেসোর জেলার একটি পোল্ট্রি খামারে ‘হাইলি প্যাথোজেনিক অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা’ (HPAI) শনাক্ত হয়েছে — ৩,৯৭৮টি মুরগির মধ্যে ১,৯০০টি মারা যায়, বাকি বাদী করা হয়েছে । এটি পড়ে আদালতকারি ভ্যাকসিনেশন, খামার পর্যবেক্ষণ ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়েছে। পরিবেশগত এবং আর্থ–সামাজিক হুমকি দূষণজনিত রোগ: ঢাকা শহরের বায়ুমণ্ডল সাম্প্রতিক হারে “হাজার্ডাস” পর্যায়ে পৌঁছয়, যা সাধারণ মানুষ ও হাঁপানির রোগীদের জন্য বিপজ্জনক—অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আইন–সচেতনার জন্য আবেদন জানিয়েছেন । চিকিৎসা ব্যবস্থার ঝুঁকি: উঁচু রক্তচাপ ও NCD–এর কারণে মৃত্যুর হার বেড়ে ৭১%, কিন্তু তিনি শুধু ৪.২% বাজেট বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ । কী বলা হলো এক নজরে? বিষয় অবস্থা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে ঘোষণা, আইনকে সাংবিধানিক অধিকার বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন গঠন প্রস্তাব বাজেট বরাদ্দ ১৫% দাবি প্রতিষ্ঠিত রোডম্যাপ এখনও অপেক্ষায় পাখি–ফ্লু প্রথম প্রাদুর্ভাব, ১,৯০০ মুরগি মারা গিয়েছে পরিবেশমূলক স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ দূষণ ভয়াবহ, NCD–সংক্রান্ত মৃত্যুহার ও উদ্বেগ বিশ্লেষণ স্বাস্থ্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য সবার নাগাল নিশ্চিত না হলে বড় পরিকল্পনার সফলতা অনিশ্চিত। ‘স্বাস্থ্য–কমিশন’ গঠন ও বাজেটে বড় পরিবর্তন আনা গেলে জাতীয় স্বাস্থ্য মানে দীর্ঘমেয়াদি লাভ হবে। তবে অপরদিকে, নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব ও দূষণের মতো অপ্রত্যাশিত হুমকি মোকাবিলার জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একাধিক স্তরে প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ না দিলে জনগণের নিরাপদ–সেবা পাওয়া ঝুঁকির সম্মুখীন। বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তনের মুখে, তবে বাস্তবায়ন ও সময়ানুবর্তী পন্থা নিশ্চিত না হলে সব প্রচেষ্টা বৃথা। সরকারের উচিত দ্রুত রোডম্যাপ প্রকাশ করে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0
ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়ছে, সতর্ক থাকার পরামর্শ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

দেশজুড়ে আবারও বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি জুন মাসের প্রথম তিন সপ্তাহেই ৪ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আশঙ্কা করছে, বর্ষা মৌসুমে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে আগেভাগেই সতর্ক থাকতে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের তথ্যমতে, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রতিদিন গড়ে ২০০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। বেশিরভাগ রোগীর বয়স ১৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে।   বাড়ছে জটিলতা চিকিৎসকরা বলছেন, এবার ডেঙ্গুর উপসর্গে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রচলিত জ্বর, ব্যথা ছাড়াও অনেক রোগী পাতলা পায়খানা, বমি ও তীব্র দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবির রহমান জানান, "অনেকে দেরিতে হাসপাতালে আসছেন, ফলে শরীরে প্লেটলেট বিপজ্জনকভাবে কমে যাচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে জটিলতা বাড়ছে।"   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা সোমবার এক জরুরি ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, "শহরাঞ্চলে জমে থাকা পানি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে এডিস মশার প্রজনন বাড়ছে। সবাইকে বাসা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।"   কী করণীয়? বিশেষজ্ঞরা বলেন, পানি জমে থাকে এমন জায়গা—ফুলদানি, পরিত্যক্ত টায়ার, ড্রেন বা প্লাস্টিক পাত্র—সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করা জরুরি। শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি, তাই তাদের বিশেষভাবে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   স্থানীয় সরকারের তৎপরতা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ মশা নিধনে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে। তবে অনেক এলাকাবাসী এখনও অভিযোগ করছেন, তাদের এলাকায় কার্যকর ফগিং বা মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।

জানিফ হাসান জুন ১০, ২০২৫ 0
মেটালযুক্ত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে স্বাস্থ্যঝুঁকি, হুঁশিয়ারি বিশেষজ্ঞদের

দেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে মেটাল বা ভারী ধাতব উপাদান ব্যবহারের কারণে ত্বক ও কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সর্তকতা জারি করেছেন এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাজারে পাওয়া বেশ কিছু নামিদামি ফেয়ারনেস ক্রিমে পারদ (Mercury), সিসা (Lead), আরসেনিক (Arsenic) এবং ক্যাডমিয়াম (Cadmium)-এর মতো ক্ষতিকর উপাদান অনুমোদিত সীমার বহু গুণ বেশি পরিমাণে রয়েছে।   চিকিৎসকদের উদ্বেগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফারহানা পারভীন বলেন, “এসব ক্রিমের ব্যবহারে ত্বক ফর্সা হওয়া তো দূরের কথা, বরং তা ত্বকের স্থায়ী ক্ষত, চুলকানি, ফুসকুড়ি ও পিগমেন্টেশনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এগুলো কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব ফেলে।” তিনি আরও জানান, অনেক নারী দীর্ঘদিন এসব ক্রিম ব্যবহারের পর ত্বকের স্বাভাবিক রঙ হারিয়ে ফেলছেন, আবার কেউ কেউ গুরুতর সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন।   বাজারে অনিয়ন্ত্রিত পণ্য বাজারে অনেক পণ্য বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত করা হলেও তাদের যথাযথ নিবন্ধন নেই। কিছু ক্রিমের গায়ে উপাদানের উল্লেখ থাকলেও তা ভুয়া বা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়।   ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টসকর্মী সালমা খাতুন বলেন, “টিভি বিজ্ঞাপনে দেখে একটা ক্রিম কিনেছিলাম। কয়েকদিন ব্যবহারের পর মুখে জ্বালা-পোড়া শুরু হয়। পরে ডাক্তার দেখিয়ে জানতে পারি তাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ছিল।”   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বক ফর্সাকারী পণ্যে আকৃষ্ট না হয়ে প্রাকৃতিক পরিচর্যায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ত্বক ভিন্ন ভিন্ন কারণে কালচে হতে পারে—তাই সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া যেকোনো ক্রিম ব্যবহার বিপজ্জনক।   সরকারি অবস্থান ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অচিরেই বাজার থেকে ক্ষতিকর ক্রিমগুলো জব্দ করা হবে। পাশাপাশি, ভোক্তাদের সচেতন করার জন্য গণমাধ্যমে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

জানিফ হাসান জুন ৯, ২০২৫ 0
বাড়ছে শিশুদের মধ্যে হাঁপানির প্রকোপ, চিকিৎসকরা বলছেন দূষণ দায়ী

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শিশুদের মধ্যে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই অবস্থার পেছনে বায়ুদূষণই মূল কারণ। জাতীয় শিশু হাসপাতালের শ্বাসযন্ত্র বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫০ জন শিশু শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ শিশুই হাঁপানির লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।   দূষণই মূল দায়ী: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেহরাজুল ইসলাম বলেন, “শিশুরা বায়ু দূষণের সবচেয়ে বেশি শিকার। ধুলাবালি, গাড়ির কালো ধোঁয়া ও শিল্পবর্জ্যের কারণে বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র কণাগুলো তাদের ফুসফুসে গিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি করছে।” তিনি আরও জানান, শুধু শহর নয়, এখন গ্রামীণ এলাকাতেও হাঁপানির হার বেড়েছে, কারণ ধানের খড় পোড়ানো, ইটভাটা ও স্থানীয় সড়কের ধুলোবালি শিশুরা সহজে সহ্য করতে পারে না।   অভিভাবকদের উদ্বেগ: রাজধানীর মুগদা এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “আমার ৬ বছরের ছেলের প্রতিদিন সন্ধ্যার পর কাশি ও নিঃশ্বাসের কষ্ট শুরু হয়। ডাক্তার বলেছেন, এটা হাঁপানি। মাস্ক পরানো ও ঘরের বাইরে কম যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।”   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগ: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুদের হাঁপানির প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। শহরাঞ্চলে স্কুলগামী শিশুদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: চিকিৎসকরা শিশুদের ধুলাবালি ও ধোঁয়ার সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাসায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহার এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।   উপসংহার: শিশুদের শ্বাসযন্ত্রের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। নইলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানিফ হাসান জুন ২৫, ২০২৫ 0
নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক: কীভাবে বাঁচবেন আপনি ও আপনার পরিবার?
নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক: কীভাবে বাঁচবেন আপনি ও আপনার পরিবার?

বিশ্ব এখন আবার এক অজানা ভাইরাসের আতঙ্কে। কোভিড-১৯ এর দুঃসহ অভিজ্ঞতা এখনও সবার মনে তাজা। সেই রকমই আরেকটি ভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে। যদিও এর নাম, প্রকৃতি ও বিস্তার এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি, তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন এটি সংক্রমণযোগ্য এবং মানুষের জীবনধারায় নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে। এই নতুন ভাইরাস মূলত সর্দি, জ্বর, গলা ব্যথা ও ক্লান্তি দিয়ে শুরু হয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, বমি, কিংবা দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে না পারলেও এ নিয়ে চলছে গবেষণা। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—আবার কি লকডাউন আসছে? আবার কি স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে? মাস্ক, স্যানিটাইজার, দূরত্ব—সব আবার শুরু? এমন আতঙ্কের সময় সবচেয়ে প্রয়োজন সচেতনতা ও প্রস্তুতি। আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের উচিত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তোলা। প্রথমেই আসি ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, বিশেষ করে বাইরে থেকে এসে, খাবার খাওয়ার আগে ও পরে। অ্যালকোহল-ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারও উপকারী। চোখ, মুখ ও নাক বারবার স্পর্শ না করাই ভালো, কারণ এখান থেকেই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে। মাস্ক পরার অভ্যাস আবার গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে জনসমাগমপূর্ণ জায়গায় গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। এতে শুধু নিজেকে নয়, অন্যদেরও রক্ষা করা যায়। মনে রাখা দরকার, ভাইরাস বাহক ব্যক্তি নিজে অসুস্থ না হলেও অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম—এই সবগুলোই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ঘরে যদি ছোট বাচ্চা বা বৃদ্ধ কেউ থাকে, তাদের আরও বেশি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, কারণ এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না নেওয়াই ভালো। অনেক সময় গুজব বা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্য মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুসরণ করাই সর্বোত্তম। এছাড়া অফিস বা স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষেরও উচিত প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে কঠোরতা আরোপ করা। যদি ভাইরাসটির প্রকোপ বাড়ে, তবে সরকার কর্তৃক নির্দেশিত নির্দেশিকা মানা জরুরি হবে। সবাই মিলে যদি সচেতনভাবে এগিয়ে আসে, তবে ভয় নয়, বরং দায়িত্ব নিয়েই এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। সবশেষে বলা যায়—নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক সত্য, কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও ভয়াবহ হতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মানা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন—এই তিনটি পথই আমাদের রক্ষা করতে পারে। আপনার সচেতনতা মানেই আপনার পরিবারের নিরাপত্তা। আমরা যদি সবাই সচেতন থাকি, তবে একসঙ্গে এই সংকটও অতিক্রম করা সম্ভব।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও নুসরাত ইমরোজ তিশা
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
সেরা অভিনেত্রী জয়া আহসান
গোলাপি গাউনে মোহময় ভারতীয় সেরা অভিনেত্রী জয়া আহসান

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান—পর্দায় যেমন সাবলীল অভিনয়ে যে কোনো চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে পারেন, তেমনি ব্যক্তিগত স্টাইল ও ফ্যাশন সেন্সেও বরাবরই রুচিশীল। অভিনয় ও পোশাক—এই দুইয়ে মিলে তার সৌন্দর্য হয়ে ওঠে এক অনন্য সমন্বয়। ট্র্যাডিশনাল হোক কিংবা ওয়েস্টার্ন, প্রতিটি সাজেই নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে নজর কাড়তে জানেন এই চিত্রনায়িকা। নতুন বছরের শুরুতেই ভারতে বড় এক স্বীকৃতি অর্জন করে আবারও আলোচনায় এসেছেন জয়া আহসান। পরিচালক সুমন মুখার্জি নির্মিত সিনেমা ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’-তে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি পেয়েছেন সেরা অভিনেত্রী (সমালোচক বিভাগ) পুরস্কার। এই আনন্দঘন মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন জয়া নিজেই। এই খুশির রেশ ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোলাপি রঙের পোশাকে নতুন কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। ছবিগুলোতে ধরা পড়ে তার হাস্যোজ্জ্বল, অকৃত্রিম মুহূর্ত। প্রকাশের পরপরই ছবিগুলো নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। জয়ার রূপের জাদুতে মুগ্ধ হয়ে পড়েন ভক্তরা। বর্তমানে টালিগঞ্জেই সময় কাটাচ্ছেন জয়া আহসান। সেখানে বিভিন্ন ইভেন্টেও নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাকে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক পেজে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করেন এই তারকা। ছবিগুলোতে দেখা যায়, জয়া পরেছেন একটি স্লিভলেস হল্টার-নেক স্টাইল গোলাপি গাউন। পোশাকটির পেছনের অংশে রয়েছে ওপেন ব্যাক ডিজাইন, যা তার লুকে যোগ করেছে আধুনিক ও সাহসী ছোঁয়া। চুলে পরিপাটি পনিটেল এবং কানে ছোট টপ ব্যবহার করে তিনি তার সামগ্রিক লুকে এনেছেন আভিজাত্য ও পরিমিত সৌন্দর্য। ছবির ক্যাপশনে জয়া লেখেন, “গোলাপি আভা, অকৃত্রিম মুহূর্ত, চিরন্তন এক সন্ধ্যা…” ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে দেখা যায় বিভিন্ন পুরস্কারের ক্রেস্ট ও একটি অ্যান্টিক প্রজেক্টর, যা যেন ইঙ্গিত দেয় তার বর্ণাঢ্য ও সফল অভিনয়জীবনের। অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি জয়ার চিরযৌবনা রূপ ও ফ্যাশন সেন্স বরাবরই প্রশংসিত। নতুন এই লুকেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পোস্টের মন্তব্য ঘরে ভক্তদের প্রশংসার বন্যা বইছে। এক ভক্ত লিখেছেন, “পিঙ্ক হিউসে জয়া আহসান মানেই আলাদা এক গ্রেস—ন্যাচারাল, ক্যান্ডিড আর চিরকালীন সৌন্দর্যের নিখুঁত মিল।” আরেকজনের মন্তব্য, “কি মিষ্টি লাগছে!” আরেক ভক্ত লিখেছেন, “অসাধারণ ফ্যাশন সেন্স, চোখ ফেরানো দায়!” প্রসঙ্গত, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই টালিউডে মুক্তি পেতে যাচ্ছে জয়া আহসানের নতুন সিনেমা ‘ওসিডি’। সব মিলিয়ে অভিনয়, স্বীকৃতি ও জনপ্রিয়তায় ক্যারিয়ারের এক তুঙ্গ সময় পার করছেন এই তারকা।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
জাহ্নবী কাপুর
ঘরোয়া চার উপকরণেই চুলের জেল্লা ধরে রাখেন জাহ্নবী কাপুর

কখনও মাসাবার নতুন পোশাক সম্ভারে, কখনও কান চলচ্চিত্র উৎসবের ঝলমলে লালগালিচায়, আবার কখনও নতুন ছবির শুটিং সেটে—সব মিলিয়ে পেশাজীবনের মধ্যগগনে এখন শ্রীদেবী-কন্যা জাহ্নবী কাপুর। অভিনয়ের পাশাপাশি তার ঘন কালো, ঝলমলে চুলের সৌন্দর্য বারবার নজর কেড়েছে অনুরাগীদের। তবে এই সাফল্যের আড়ালে রয়েছে ব্যস্ততা, শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। অভিনয়ের প্রয়োজনে নিয়মিত হিট স্টাইলিং, রাসায়নিক ব্যবহার, ধুলাবালি ও দূষণের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। তবুও কীভাবে চুলের স্বাস্থ্য ও জেল্লা অটুট রাখেন জাহ্নবী? এর উত্তর লুকিয়ে আছে একেবারে সাধারণ রান্নাঘরের উপকরণেই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জাহ্নবী কাপুর জানিয়েছেন তার বিশেষ ‘ডিআইওয়াই’ হেয়ার প্যাকের কথা, যা মাত্র চারটি প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়েই তৈরি। অভিনেত্রীর পছন্দের তালিকায় রয়েছে—টকদই, ডিম, মধু ও নারিকেলের দুধ। এই চারটি উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করেন তিনি। এরপর সেই প্যাক মাথার ত্বক (স্ক্যাল্প) থেকে শুরু করে চুলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ভালোভাবে লাগিয়ে নেন। প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হেয়ার প্যাকটি চুলের জন্য একেবারে পুষ্টির খনি। টকদই ও ডিম প্রাকৃতিকভাবে স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত তেল ও ময়লা দূর করে। অন্যদিকে মধু ও নারিকেলের দুধ প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে, যা চুলকে গভীরভাবে আর্দ্রতা জোগায় এবং নরম ও উজ্জ্বল রাখে। জাহ্নবী কাপুর জানান, এই ঘরোয়া রূপচর্চার পদ্ধতি তিনি বংশপরম্পরায় পেয়ে এসেছেন। তার মা, প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীও নাকি নামিদামি প্রসাধনী ব্র্যান্ডের বদলে ঘরোয়া ভেষজ তেল ও ফলের নির্যাস ব্যবহার করতেই বেশি স্বচ্ছন্দ ছিলেন। বাজারের দামি পণ্যের পেছনে না ছুটে জাহ্নবীর মতো আপনিও চাইলে ভরসা রাখতে পারেন এই সহজ, সাশ্রয়ী ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন হেয়ার প্যাকে। নিয়মিত ব্যবহার করলে আপনার চুলও হতে পারে আরও স্বাস্থ্যবান, মসৃণ ও আকর্ষণীয়—ঠিক সেলিব্রিটিদের মতো।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে কনে বিয়ে
নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে কনে বিয়েতে লাল নয়, কালো পোশাক পরে

বিয়ে, বিয়ের কনে, লাল বেনারসি কিংবা পাশ্চাত্য দেশে সাদা গাউন-এই তো পরিচিত দৃশ্য। বিয়ে মানেই আমাদের চোখে ভাসে উজ্জ্বল লাল বা সাদা সাজ। দক্ষিণ এশিয়া ও পাশ্চাত্যে এই রংগুলো বিয়ের প্রতীক হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কনের পরনে লাল বেনারসি, ঝলমলে গয়না কিন্তু এর ঠিক বিপরীত একটা দৃশ্য দেখা যায় কিছু দেশে। বিশ্বের কিছু দেশে বিয়ের দিনে কনে কালো পোশাক পরেন। আমাদের চোখে কালো রং শোকের প্রতীক হলেও, কিছু সংস্কৃতিতে এই রংকে মর্যাদা, স্থায়িত্ব ও প্রেমের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। স্পেনের বিশেষ করে আন্দালুসিয়া অঞ্চলে কনেরা ঐতিহ্যগতভাবে কালো লেইস বা সিল্কের পোশাক পরতেন। এই পোশাককে বলা হয় ‘ট্রাজে নেগ্রো’, সঙ্গে থাকে লম্বা কালো ঘোমটা বা মান্থিল্লা, মাথায় ফুল বা অলঙ্কার। এখানে কালো রং বোঝায় ‘মৃত্যু পর্যন্ত একসঙ্গে থাকার অঙ্গীকার’। আধুনিক দিনে সাদা গাউন বেশি জনপ্রিয় হলেও ঐতিহ্যবাহী পরিবার বা ফ্লামেঙ্কো সংস্কৃতিতে কালো পোশাক এখনো সম্মানের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়। উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে বিশেষ করে নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে, গ্রামীণ কনেরা ভারী উলের কালো পোশাক পরতেন। সূচিকর্মের সঙ্গে এই পোশাককে বুনান্ড বলা হয়। কালো রং স্থায়িত্ব, ধনসম্পদ এবং পরিণত জীবনের প্রতীক। এছাড়া কালো পোশাক সহজে নোংরা হয় না, তাই বিয়ের পরে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্যও এটি ব্যবহার করা যেত। ফ্রান্স ও ইতালির গ্রামীণ এলাকাতেও কনেরা কালো পোশাক পরতেন। ফ্রান্সে এটি পরিপক্বতা ও দায়িত্বের প্রতীক, আর ইতালিতে ব্যবহারিক কারণেই। কালো গাউনগুলোতে সূক্ষ্ম লেইস, হাতের কাজ এবং কখনো কখনো রুপালি অলঙ্করণ থাকত। কালো বিয়ের পোশাক মানেই একঘেয়ে নয়। সাধারণত লেইস ও সূচিকর্ম থাকে, লম্বা ঘোমটা, সিলভার বা সোনালি গয়না, এবং মাথায় ফুল বা অলঙ্কার। স্পেনে অনেক কনে কালো পোশাকের সঙ্গে লাল গোলাপ বা লিপস্টিক ব্যবহার করেন, যা প্রেম ও শক্তির প্রতীক। কালো পোশাক মানেই গম্ভীর বিয়ে নয়। স্পেনে বিয়েতে থাকে ফ্লামেঙ্কো নাচ, লাইভ গিটার সংগীত এবং রাতভর উৎসব। নরওয়ে ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় বিয়েতে থাকে লোকসংগীত, পারিবারিক ভোজ এবং খোলা আকাশের নিচে আনন্দ। যেখানে কনে বিয়েতে লাল নয়, কালো পোশাক পরে স্পেনে বিয়ের খাবারে থাকে সি-ফুড, পায়েলা, অলিভ অয়েল ও চিজ, এবং ওয়াইন। নরওয়েতে পরিবেশন করা হয় মাছ, মাংস, স্থানীয় রুটি এবং মধু বা বেরি দিয়ে তৈরি ডেজার্ট। এসব খাবার শুধু পেট ভরায় না, ঐতিহ্যকেও তুলে ধরে। আজকাল বিশ্বজুড়ে অনেক কনে ইচ্ছাকৃতভাবে কালো গাউন বেছে নিচ্ছেন। কেউ ঐতিহ্যের কারণে, কেউ ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে। বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকায় ‘ব্ল্যাক ওয়েডিং ড্রেস’ এখন সাহসী ও আধুনিক ট্রেন্ড। আসলে যে কোনো রংই সব জায়গায় একই অর্থ বহন করে না। কোথাও চিরন্তন ভালোবাসা, কোথাও দায়িত্ব ও মর্যাদা। বিশ্বজুড়ে বিয়ের রীতিগুলো শুধু উৎসব নয়, একেকটি সমাজের গভীর বিশ্বাসের প্রতিফলন। তাইতো কালো বিয়ের পোশাক আমাদের শেখায় যে ভালোবাসা শুধু রঙে বাঁধা নয়, সংস্কৃতি ও ইতিহাসও তার অংশ।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
ইউটিউবার শমীক অধিকারী
যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার ইউটিউবার

বাড়িতে তরুণীকে আটকে রেখে যৌন ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ভারতের কলকাতার সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউবার শমীক অধিকারী। এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্তকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত ভুক্তভোগী তরুণীকে ফ্ল্যাটে আটকে রাখেন শমীক। মারধরের পাশাপাশি তাকে একাধিকবার ধর্ষণও করেন, এমন অভিযোগ তরুণীর। এ ঘটনায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্তার অভিযোগ (জিডি) দায়ের করেন তরুণী। ৫ ফেব্রুয়ারি তার অভিযোগের ভিত্তিতে বেহালা থানায় শমীকের বিরুদ্ধে মামলার প্রথম পদক্ষেপ এফআইআর দায়ের করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৭ (২), ৭, ৪ এবং ৩৫১ (২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। থানায় এফআইআর দায়েরের খবরে বাবা মাকে নিয়ে নিখোঁজ হন ইউটিউবার। এরপর পুলিশের চিরুনি অভিযানে তাকে দমদম থেকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতের আলিপুর আদালতে শমীককে পেশ করা হলে শুনানীতে ভুক্তভোগীর সারা শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন পায় আদালত। শমীকের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকায় তাকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। প্রসঙ্গত, ভুক্তভোগী তরুণী শমীক অধিকারীর পূর্ব পরিচিত, বান্ধবী। এ ঘটনার প্রকৃত সত্য খুঁজে পেতে থানায় ইনফ্লুয়েন্সারকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। এদিকে ভুক্তভোগী তরুণীও আদালতে গোপন জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
রাশমিকা
বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল রাশমিকার

দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা ও অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডার বিয়ে নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে রাজকীয় বিয়ের আয়োজন হতে চলেছে এ তারকা যুগলের, এমনটিই জানা গেছে। যদিও এর আগে একবার বিয়ে ঠিক হয় অভিনেত্রীর। বাগদানও হয়ে যায়। কিন্তু বছরখানেকের মাথায় সেই বিয়ে ভেঙে যায়। তিনিও দক্ষিণী সিনেমার অভিনেতা, নাম রক্ষিত শেঠি। অথচ এ অভিনেতার হাত ধরেই নাকি রাশমিকা মান্দানার সিনেমা জগতে অভিষেক হয়। কিন্তু কী কারণে ভাঙে সেই বিয়ে? এর আগে ২০১৬ সালে ‘কিরিক পার্টি’ সিনেমার মাধ্যমে বিনোদনজগতে পা রাখেন অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। সেই সিনেমার প্রযোজক ছিলেন রক্ষিত শেঠি। সেই সিনেমার সেটেই একে অন্যের প্রেমে পড়েন এ তারকা জুটি। ২০১৭ সালে বাগদানও সারেন তারা। যদিও সম্পর্ক টেকেনি তাদের। ২০১৮ সালে রক্ষিত ও রাশমিকার প্রেমে ভাঙন ধরে। বাগদান ভেঙে বেরিয়ে আসেন দুই তারকা।  তবে প্রেমভাঙলেও পরস্পরের প্রতি তিক্ততা পুষে রাখেননি কেউ-ই। যখন রাশমিকা মান্দানার সঙ্গে রক্ষিতের আংটিবদল হয়, তখন অভিনেত্রীর বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। রক্ষিতের ৩৪। দুজনের মধ্যে বয়সের তফাত ১৩ বছরের হলেও সেই পার্থক্যকে বিশেষ আমলে নেননি তারা। আংটিবদলের অনুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাশমিকা মান্দানা এবং রক্ষিত শেঠি। আংটিবদলের পাশাপাশি কেকও কাটেন তারা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আড়াই হাজারের বেশি অতিথি। এদিকে ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গীতা গোবিন্দম’ সিনেমায় বিজয় দেবেরাকোন্ডার বিপরীতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন রাশমিকা মান্দানা। সিনেমা মুক্তি পাওয়ার পর বিজয় ও রাশমিকার সম্পর্কের রসায়ন মনে ধরে যায় দর্শকের। তারপরেই ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিয়ে ভেঙে যায় রাশমিকা ও রক্ষিত শেঠির।  দুই তারকার বাড়ি থেকে আংটিও ফিরিয়ে দেওয়া হয়। রাশমিকা-বিজয়ের ‘ঘনিষ্ঠতা’ই নাকি রক্ষিতের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার কারণ বলে শোনা যায়। তারপর থেকেই নানাভাবে কটাক্ষের শিকার হতে থাকেন অভিনেত্রী। যদিও এ নিয়ে সরাসরি কেউ কখনো কোনো মন্তব্য করেননি।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
ইফতারে যা খাবেন।
রমজানে স্বাস্থ্যকর ইফতার: সঠিক খাবার তালিকায় থাকুক পুষ্টি, শক্তি ও সুস্থতা

রমজানে ইফতার শুধু রোজা ভাঙার সময় নয়, বরং সারাদিনের দীর্ঘ উপবাসের পর শরীরকে পুনরায় শক্তি ও পুষ্টি জোগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। সঠিকভাবে ইফতার মেনু নির্বাচন করলে ক্লান্তি কমে, হজম সহজ হয় এবং সারাদিনের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই ইফতারে প্রয়োজন সচেতন খাদ্যাভ্যাস। 🥤 তরল খাবার দিয়ে ইফতার শুরু ইফতার শুরু করা উচিত হালকা তরল খাবার দিয়ে। প্রথমে পানি মুখে নিয়ে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড বিরতিতে ধীরে ধীরে পান করা ভালো। খুব তাড়াহুড়া করে বা গড়গড় করে পানি পান করা ঠিক নয়। তরল হিসেবে যা রাখা যেতে পারে— লাচ্ছি তাজা ফলের রস ডাবের পানি তোকমার শরবত আখের গুড়ের শরবত লেবু পানি শরবত তৈরিতে তাল মিছরি, গুড়, মধু বা ব্রাউন সুগার ব্যবহার করলে তা তুলনামূলক স্বাস্থ্যসম্মত হয়। 🌴 খেজুর: সুন্নতি ও পুষ্টিকর খাদ্য ইফতারে ২-৩টি খেজুর খাওয়া সারাদিনের ক্লান্তি দ্রুত দূর করতে সাহায্য করে। খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও অল্প পরিমাণ প্রোটিন—যা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। পুষ্টিগুণ বাড়াতে খেজুরের সঙ্গে চিনাবাদাম ও সামান্য মাখন মিশিয়ে পরিবেশন করা যেতে পারে। 🍎 মৌসুমি ফল: প্রাকৃতিক ভিটামিনের উৎস যেকোনো মৌসুমি ফল ইফতার মেনুতে রাখা জরুরি। ফল শরীরে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। মিক্সড ফ্রুটস, ফলের সালাদ বা ফল দিয়ে তৈরি হালকা ডেজার্ট খাওয়া যেতে পারে। 🥗 সবজি: হালকা ও সহজপাচ্য বিকল্প সবজি দিয়ে স্বাস্থ্যকর রেসিপি তৈরি করলে তা শরীরের জন্য উপকারী হয়। যেমন— সবজি স্যুপ (বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য উপযোগী) সবজি স্যান্ডউইচ সবজি নুডলস সবজি রোল সবজি পাকোরা (কম তেলে) খেয়াল রাখতে হবে, রান্নায় যেন অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না হয়। 🧆 ছোলা: প্রোটিনের সহজ উৎস ছোলা প্রোটিনের ভালো উৎস। তবে অতিরিক্ত তেল ও মসলায় ভুনা ছোলা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। স্বাস্থ্যকরভাবে ছোলা খাওয়ার উপায়— সারারাত ভিজিয়ে রেখে সিদ্ধ করা সিদ্ধ ছোলার সঙ্গে পেঁয়াজ, মরিচ, শশা ও টমেটো মিশিয়ে সালাদ তৈরি সামান্য তেলে হালকা ভাজা কাঁচা ভেজানো ছোলাও খাদ্য আঁশ ও প্রোটিনের ভালো উৎস। 🍮 মিষ্টান্ন: পরিমিত থাকাই উত্তম ইফতারে স্বাস্থ্যকর মিষ্টান্ন পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। জিলাপি বা বুন্দিয়া তেলে ভেজে সিরায় ডুবানো হয়, যা বেশি খেলে ক্ষতিকর। বিকল্প হিসেবে রাখা যেতে পারে— ফালুদা কাস্টার্ড পুডিং ফিরনি দুধজাত খাবার শরীরে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সরবরাহ করে। 🍽️ অন্যান্য উপকারী খাবার ইফতারের জন্য চিড়া-দই খুবই ভালো একটি খাবার। এতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এ ছাড়া রাখা যেতে পারে— দই বড়া নুডলস স্যান্ডউইচ রুটি-কাবাব মম শশা   রমজানে ইফতার শুধু খাবার গ্রহণের সময় নয়, বরং সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টিজাত খাবার পরিহার করে পরিমিত ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করলে শারীরিকভাবে ভালো থাকা সম্ভব। সচেতন খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সুস্থ ও কর্মক্ষম রমজানের মূল চাবিকাঠি।  

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
পুষ্টিকর খাবার
রোজায় বেছে নিন পুষ্টিকর খাবার

ডেস্ক রিপোর্ট: শুরু হয়েছে সংযমের মাস পবিত্র রমজান। আত্মিক পরিশুদ্ধির পাশাপাশি এই মাস হতে পারে শরীরকে সুস্থ ও ফিট রাখারও সেরা সময়। তবে ইফতারের টেবিলে বাহারি ভাজাপোড়া, মিষ্টিজাতীয় খাবার ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত পদ অনেক সময় ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সারাদিন উপোস থাকার পর হঠাৎ অতিরিক্ত খাবার খেলে ওজন বেড়ে যাওয়া, অস্বস্তি ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু সঠিক খাবার নির্বাচন, পরিমিত আহার ও নিয়মিত হালকা ব্যায়াম—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে রোজার মাসেও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রমজানে কোন খাবারগুলো আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে— শাকসবজি: কম ক্যালরি, বেশি পুষ্টি   শাকসবজি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্যতম প্রধান সহায়ক। এতে ক্যালরি কম, কিন্তু আঁশ বেশি। আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। যেভাবে খাবেন: ইফতারে শসা, টমেটো, গাজর, লেটুস দিয়ে সালাদ সেহরিতে কম তেলে রান্না করা সবজি ডাল বা স্যুপে মিশ্র সবজি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়ক ফলমূল: প্রাকৃতিক মিষ্টির স্বাস্থ্যকর বিকল্প   ইফতারে মিষ্টিজাতীয় খাবারের বদলে ফল হতে পারে আদর্শ পছন্দ। ফলে থাকে প্রাকৃতিক চিনি, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ইফতারে রাখতে পারেন: তরমুজ আপেল পেয়ারা কমলা পেঁপে খেজুর খেজুরে প্রাকৃতিক গ্লুকোজ দ্রুত শক্তি জোগায়। তবে অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো। প্রোটিন: দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তির উৎস রোজার সময় শক্তি ধরে রাখতে প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পেশি গঠনে সহায়ক এবং দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। খাদ্যতালিকায় রাখুন: গ্রিল বা সেদ্ধ মুরগি মাছ ডিম ডাল ছোলা ভাজা খাবারের বদলে গ্রিল বা সেদ্ধ প্রোটিন গ্রহণ করলে অপ্রয়োজনীয় চর্বি জমা কমে। পূর্ণ শস্য: স্থিতিশীল শক্তির জোগান     সাদা ভাত বা পরিশোধিত ময়দার রুটি দ্রুত হজম হয়ে যায়। এর বদলে পূর্ণ শস্য গ্রহণ করলে শক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়। উপকারী শস্য: ব্রাউন রাইস আটার রুটি ওটস লাল চাল এসব খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। বাদাম ও বীজ: অল্পতেই তৃপ্তি     এক মুঠো বাদাম শক্তি জোগায় এবং অতিরিক্ত স্ন্যাকিং কমায়। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। খেতে পারেন: কাঠবাদাম আখরোট কাজুবাদাম চিয়া বীজ তিসি বীজ পর্যাপ্ত পানি: মেটাবলিজম সচল রাখুন   রোজায় ডিহাইড্রেশন হলে শরীর অনেক সময় ক্ষুধা ও পানিশূন্যতার সংকেত গুলিয়ে ফেলে। পরামর্শ: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ৮–১০ গ্লাস পানি একবারে বেশি না খেয়ে বিরতি দিয়ে পান অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত এড়িয়ে চলুন পানি বিপাকক্রিয়া সচল রাখে এবং হজমে সহায়তা করে। যেসব অভ্যাস মানলে ওজন বাড়বে না ✔️ ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন ✔️ ধীরে ধীরে খাবার খান ✔️ সেহরি কখনো বাদ দেবেন না ✔️ ইফতারের পর ২০–৩০ মিনিট হালকা হাঁটা ✔️ পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন   রমজান শুধু আত্মশুদ্ধির মাস নয়, এটি হতে পারে সুস্থ জীবনযাপনের নতুন সূচনা। খাবারের পরিমাণ নয়, গুণগত মানের দিকে নজর দিন। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত আহার ও নিয়মিত হালকা ব্যায়াম—এই তিন অভ্যাস মেনে চললে মাস শেষে নিজেকে আরও হালকা, ফিট ও প্রাণবন্ত অনুভব করবেন।  

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
রাতে ঘুম
রাতে ঘুম না আসার সমস্যা সমাধান

ঘুম না আসা শুধু এক সাধারণ সমস্যা নয়, এটি আমাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। ঘুমের অভাব স্মৃতি, একাগ্রতা এবং মেজাজকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে এবং হতাশা, স্থূলতা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে কিছু সহজ ও প্রাকৃতিক উপায় ঘুম ভালো করতে সাহায্য করতে পারে।     পানীয়   উষ্ণ দুধ বা ক্যামোমাইল চা রাতে পান করলে ঘুমে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। যদিও এ ধরনের পানীয়ের কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে সম্পূর্ণ প্রমাণিত নয়, তবু এগুলো নিরাপদ। উষ্ণ দুধে ট্রিপটোফ্যান থাকে, যা মস্তিষ্কে সেরোটোনিন বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে। ক্যামোমাইল চায়ে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড মস্তিষ্কের ঘুম-জাগরণের সঙ্গে যুক্ত রিসেপ্টরের সঙ্গে কাজ করতে পারে।   ব্যায়াম   মাঝারি ধরনের অ্যারোবিক ব্যায়াম ঘুমের মান বাড়াতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম না করাই ভালো, কারণ এতে এন্ডোরফিন নিঃসরণের কারণে ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে।   শীতল পরিবেশ   ঘুমের জন্য ঘর যতটা সম্ভব ঠান্ডা রাখা উচিত। সুতি বা আরামদায়ক কাপড় পড়লে ঘুম আরও আরামদায়ক হয়। যারা এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করেন, তাদের সুবিধা বেশি; যারা পারেন না, তাদের ঘর ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করা উচিত।   ঘর অন্ধকার রাখা   স্মার্টফোন বা অন্য আলো ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। রাতে যদি ঘুম থেকে ওঠার প্রয়োজন হয়, তবে টর্চ বা নরম আলো ব্যবহার করুন, যাতে চোখের ক্ষতি বা ঘুম ভাঙা কম হয়।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
ঘুম থেকে উঠার পর বমি পাওয়া
ঘুম থেকে উঠার পর বমি পাওয়া রোগের ইঙ্গিত!

সকালে ঘুম থেকে উঠার পর অনেকের বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। অনেকেই মনে করেন, এটি খালি পেটে থাকার কারণে হয়, আবার কেউ কেউ গ্যাস বা অ্যাসিডজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান, যা সব সময় ঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে সকালে বমি হতে পারে। রাতে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার ফলে পাকস্থলীতে অ্যাসিড জমা হয়। অতিরিক্ত অ্যাসিড সকালে বমি ভাব, বুক জ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। যারা আগেই অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা বেশি দেখা দেয়। হঠাৎ উঠে বসা বা ঝুঁকে পড়লেও এ ধরনের অস্বস্তি বৃদ্ধি পায়। ডিহাইড্রেশন বা শরীরে পানি কম থাকার কারণে অনেক সময় সকালে বমি হতে পারে। রাতে পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া বা অতিরিক্ত চা-কফি পান করলে সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এছাড়া হরমোনের পরিবর্তনও সকালের বমির একটি সাধারণ কারণ। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রথম ত্রৈমাসিকে ‘মর্নিং সিকনেস’ দেখা দেয়। থাইরয়েড সমস্যা বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও সকালের বমির পেছনে দায়ী হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, অনিয়মিত স্লিপ সাইকেল বা মানসিক চাপও সকালে বমি ভাব বাড়াতে পারে। সাময়িক স্বস্তির জন্য সকালে প্রথমে সামান্য উষ্ণ পানি পান করা উচিত। খালি পেটে ভারী বা ঝাল খাবার এড়ানো এবং হালকা খাবার খেয়ে দিন শুরু করা ভালো। রাতে ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করা, তেল-মশলাযুক্ত খাবার কম খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা শরীরকে সাহায্য করবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
ডলারের দাম বাড়ছে: কী প্রভাব পড়ছে আমদানি-রপ্তানিতে?

ডলারের দাম বাড়ার ফলে বাংলাদেশে আমদানি ও রপ্তানি খাতে দেখা দিচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে আমদানিকারকরা পড়ছেন চাপের মুখে, অন্যদিকে রপ্তানিকারীরা কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন। আমদানি খাতে ডলারের দর বাড়ায় বিদেশ থেকে পণ্য আনতে খরচ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জ্বালানি, ভোজ্যতেল, কাঁচামাল, ওষুধের উপাদান এবং প্রযুক্তিপণ্য—এসব আমদানিতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ব্যাংকগুলো ডলার সংকটে ভুগছে, ফলে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে এবং অনেক সময় ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাজারে — পণ্যের দাম বাড়ছে, মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, রপ্তানির ক্ষেত্রে ডলার মূল্য বৃদ্ধির ফলে রপ্তানিকারকরা প্রতি ডলারে বেশি টাকা পাচ্ছেন। এতে তাদের আয় কিছুটা বাড়ছে, যা রপ্তানি খাতকে কিছুটা চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে ডলারের দরবৃদ্ধি একটি প্রণোদনার মতো কাজ করছে। তবে এর একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে — আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অনেক সময় অর্ডারের মূল্য সমন্বয় করে দেয়, ফলে অতিরিক্ত লাভ সবসময় নিশ্চিত হয় না। রেমিট্যান্স প্রেরকদের জন্যও ডলারের দাম বাড়া স্বস্তির খবর। প্রবাসীরা এখন প্রতি ডলারে বেশি টাকা পাচ্ছেন, ফলে ব্যাংক চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে, যদিও আমদানি ব্যয় এখনও বেশি থাকায় চাপে রয়েছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে রপ্তানি ও রেমিট্যান্সকে উৎসাহ দিচ্ছে, অন্যদিকে আমদানির চাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে নানা নীতিগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিয়ন্ত্রিত বিনিময় হার ব্যবস্থা বা managed floating system এর মাধ্যমে ডলারের বাজারে ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে। ডলারের দাম বৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। আমদানিকারকদের উচিত দীর্ঘমেয়াদি মূল্য চুক্তি ও বিকল্প উৎস নির্ধারণ করা। রপ্তানিকারকদের বাজার বৈচিত্র্য ও উৎপাদন দক্ষতায় নজর দেওয়া দরকার। একইসাথে সরকারের উচিত ডলার সংকট মোকাবিলায় কাঠামোগত সংস্কার ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আমদানিনির্ভর শিল্প ও সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ আরও বাড়বে। তাই এখনই প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা, সুচিন্তিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং রপ্তানি ও রেমিট্যান্সকে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে টেকসই করা।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা: বাজারে কেমন প্রভাব পড়বে?
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা: বাজারে কেমন প্রভাব পড়বে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতিতে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস, এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট প্রেক্ষাপটে এই নীতিমালা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। মুদ্রানীতিতে রেপো রেট আগের মতো ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সুদের হারও মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এতে ঋণের খরচ আগের মতোই থাকবে, যার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর কিছুটা চাপ অব্যাহত থাকবে। এই নীতিমালায় মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা শিথিল করে ৭ থেকে ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে। যদিও আগের মুদ্রানীতিতে তা ৬ দশমিক ৫ শতাংশের আশপাশে রাখা হয়েছিল। সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌথভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও বৈশ্বিক বাজারে খাদ্য, জ্বালানি ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধি তা কঠিন করে তুলছে। ফলে নতুন লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাস্তবভিত্তিক বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। নতুন নীতিমালায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং সরকারি খাতে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগে কিছুটা মন্থরতা থাকতে পারে, যদিও সরকারের বড় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে ব্যাংক খাতের সম্পৃক্ততা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশি মুদ্রার বাজারে চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যবস্থাপনা নির্ভর ভাসমান বিনিময় হার’ (managed floating exchange rate) নীতিতে অটল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করবে এবং রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে উৎসাহ দেবে। রপ্তানিকারকদের জন্য প্রণোদনা অব্যাহত রাখা, এবং রেমিট্যান্স উৎসাহে প্রবাসীদের ব্যাংক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এনবিএফআই তথা নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখা সম্প্রসারণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কোনো নতুন শাখা খোলার ক্ষেত্রে এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এতে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই মুদ্রানীতি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হলেও স্বল্পমেয়াদে কিছু চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। উচ্চ সুদের পরিবেশে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ কমে যেতে পারে, যা উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা রক্ষায় স্বচ্ছতা, স্থিতিশীল নীতিমালা ও নিয়মিত তথ্যপ্রবাহ অত্যন্ত জরুরি। এই মুহূর্তে বাজারে প্রতিটি সিদ্ধান্তকেই গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। মুদ্রানীতির বাস্তব প্রয়োগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় তদারকি ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক গতি-প্রবাহ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
শেয়ার বাজারে অস্থিরতা: বিনিয়োগকারীদের কী করণীয়?
শেয়ার বাজারে অস্থিরতা: বিনিয়োগকারীদের কী করণীয়?

বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছে টানা অস্থিরতা। সূচকের উত্থান-পতন, লেনদেনের নিম্নগতি এবং কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে হঠাৎ দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। অনেকেই দিনশেষে লোকসান নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, আবার কেউ কেউ বিনিয়োগ না করেই ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ অবস্থানে রয়েছেন। অস্থিরতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে অর্থনীতির সামগ্রিক চাপ, বিশেষ করে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট। এসব কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ খাতে ঝুঁকছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে দূরে থাকছেন। অন্যদিকে, কিছু কোম্পানির দুর্বল মৌলভিত্তি এবং গুজবের ভিত্তিতে দর বাড়া কিংবা কমা — বাজারকে আরও বেশি অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে উঠেছে কঠিন। বিশেষ করে যারা স্বল্প অভিজ্ঞ, তাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেশি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সময়ে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন ঠান্ডা মাথায় বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগের। প্রথমত, যেসব কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক, যাদের ব্যবসার ভিত্তি শক্ত এবং ডিভিডেন্ড প্রদানে নিয়মিত, সেসব কোম্পানিতেই বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। এই সময় ‘শেয়ার কম দামে কিনে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা’ কৌশল বেশ কার্যকর হতে পারে। দ্বিতীয়ত, গুজব বা বাজারে হঠাৎ ওঠা কোনো খবরের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। অনেক সময় কিছু 'পাম্প অ্যান্ড ডাম্প' স্টকে আকর্ষণীয় মুনাফার লোভ দেখিয়ে ফাঁদ পাতা হয়, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির মুখে ফেলে। তৃতীয়ত, কারও যদি অর্থনৈতিক সংকট থাকে বা ধার করা অর্থ দিয়ে শেয়ার কেনার চিন্তা থাকে, তাহলে আপাতত বাজারে প্রবেশ না করাই উত্তম। কারণ বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল, এবং সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়া প্রযুক্তি ও নিউজভিত্তিক এনালাইসিসের পাশাপাশি মৌলিক বিশ্লেষণ (ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস) করা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেউ চাইলে শেয়ার বাজার সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ নিতে পারে বা অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীর পরামর্শও গ্রহণ করতে পারে। সবশেষে বলা যায়, শেয়ার বাজারে অস্থিরতা নতুন কিছু নয়। ইতিহাস বলছে, প্রতিটি পতনের পরই বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেই ঘুরে দাঁড়ানোর সময়টা ধরতে পারে কেবল ধৈর্যশীল ও সচেতন বিনিয়োগকারীরা। তাই আতঙ্ক নয়, জ্ঞান ও কৌশলের মাধ্যমে বিনিয়োগ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয়।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
ই-কমার্স ব্যবসায় আবারো চাঙ্গা ভাব: পুনর্জাগরণের সময়?
ই-কমার্স ব্যবসায় আবারো চাঙ্গা ভাব: পুনর্জাগরণের সময়?

গত কয়েক বছর ধরে নানা চ্যালেঞ্জ ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর, বাংলাদেশে ই-কমার্স খাত আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিচ্ছে। কিছু বড় বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পতনের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হলেও, বর্তমানে ধীরে ধীরে গ্রাহকদের আস্থা ফিরছে। নতুন উদ্যোক্তারা এ খাতে প্রবেশ করছে, পুরোনো খেলোয়াড়রাও নিজেদের পুনর্গঠনে ব্যস্ত। সব মিলিয়ে ই-কমার্সে এক ধরনের চাঙ্গাভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ই-কমার্স খাত একটি বড় সুযোগ পেয়েছিল। ঘরে বসে কেনাকাটা মানুষের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু প্রতিষ্ঠান সেই আস্থা ধরে রাখতে পারেনি। গ্রাহকের টাকা আটকে যাওয়া, পণ্যের সময়মতো ডেলিভারি না পাওয়া এবং অনিয়মিত রিফান্ড প্রক্রিয়ার কারণে এই খাত সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। সরকারের হস্তক্ষেপ ও নীতিমালার অনুপস্থিতিও সংকটকে আরও তীব্র করেছিল। তবে সেই ধস কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে এই খাতটি। এখন অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারের ডিজিটাল কমার্স গাইডলাইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন (ই-ক্যাব) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বেশ কিছু কঠোর নিয়ম-কানুন বাস্তবায়ন করছে, যাতে গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। এতে ক্রেতারা আবারো আগ্রহী হচ্ছেন অনলাইন কেনাকাটায়। নতুন উদ্যোক্তারা অনেক বেশি স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অনেকেই কাস্টমার কেয়ার, ট্র্যাকিং সিস্টেম, ক্যাশ অন ডেলিভারি এবং সহজ রিফান্ড পলিসি চালু করে গ্রাহকের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। এর পাশাপাশি ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও ছোট ছোট অনলাইন দোকান গড়ে উঠেছে, যারা স্থানীয়ভাবে দ্রুত সার্ভিস দিয়ে মানুষের চাহিদা পূরণ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ই-কমার্সের এখনও বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের তরুণ প্রজন্ম, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এবং স্মার্টফোন প্রবৃদ্ধি ই-কমার্সকে শক্ত ভিত্তি দিচ্ছে। তবে এই খাতকে স্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং গ্রাহকসেবায় উদ্ভাবন খুব জরুরি। সব মিলিয়ে বলা যায়, ই-কমার্স আবারো জেগে উঠছে। এটি শুধু ব্যবসার পুনর্জাগরণ নয়, বরং গ্রাহক-ভিত্তিক একটি নতুন ও সুসংগঠিত ডিজিটাল বাণিজ্য সংস্কৃতির সূচনা। এখন সময়, আস্থার সেই ভাঙা সেতু পুনরায় গড়ে তোলার।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ উচ্চতায়, কেন এত চাহিদা?
স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ উচ্চতায়, কেন এত চাহিদা?

বর্তমানে বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে সর্বোচ্চ উচ্চতায়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। স্বর্ণের প্রতি এই অস্বাভাবিক চাহিদা ও মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একাধিক অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক কারণ। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রাস্ফীতি যখন বাড়ছে, তখন বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছে। ইতিহাস বলছে, মন্দার সময়ে কিংবা রাজনৈতিক অস্থিরতায় স্বর্ণকে মানুষ সবসময় নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখে এসেছে। বর্তমানে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং স্থানীয় মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় বাংলাদেশেও আমদানিকৃত স্বর্ণের মূল্য বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে চীন ও ভারতের মতো বড় দেশের পক্ষ থেকে ব্যাপক পরিমাণে স্বর্ণ কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিয়ের মৌসুম, ধর্মীয় উৎসব এবং ঋতুভিত্তিক চাহিদা এই কেনাকাটাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এই বৈশ্বিক চাহিদা সরবরাহে টান তৈরি করছে, যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের বাজারেও। স্থানীয়ভাবে ব্যাংকে সুদের হার কমে যাওয়ায় অনেকেই আর টাকা জমা না রেখে স্বর্ণে বিনিয়োগ করছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া যারা বিদেশে থাকেন এবং দেশে টাকা পাঠান, তারাও রেমিট্যান্সের টাকা দিয়ে স্বর্ণ কিনে রাখছেন ভবিষ্যতের জন্য। বাংলাদেশে স্বর্ণ আমদানির ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকায় সরবরাহের সমস্যা প্রায়শই দেখা যায়। এই সরবরাহ সংকটও মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। আবার স্থানীয় জুয়েলারি ব্যবসায়ীরাও বাজারে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কখনও কখনও দাম বাড়িয়ে দেন। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে রয়েছে একটি বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জটিল সমীকরণ। যদিও কেউ কেউ আশা করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দাম কমে আসবে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের প্রতি মানুষের আগ্রহ এবং বিনিয়োগ প্রবণতা এখনই কমছে না। ফলে দাম কিছুটা উঠানামা করলেও স্বর্ণের বাজার আরও কিছুদিন চাঙা থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম

বাংলাদেশের অর্থনীতি চলতি (২০২৪–২৫) অর্থবছরে প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৩ শতাংশ হতে পারে, যা সরকার নির্ধারিত ৭.৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক কম। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, মূল্যস্ফীতির চাপ, বিদেশি রিজার্ভ সংকট, এবং টাকার অবমূল্যায়ন এই প্রবৃদ্ধি হ্রাসের পেছনে বড় কারণ। মূল্যস্ফীতি ও আমদানি নির্ভরতা এপ্রিল মাসে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.২ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম উচ্চ। খাদ্যদ্রব্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল ও মুরগির মাংসে। বাজারে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। একজন ভ্যানচালক বলেন, “আগে ২০০ টাকায় একবেলার বাজার হতো, এখন ৫০০ টাকায়ও পেট ভরে না।” রেমিটেন্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২৩ সালের তুলনায় রেমিটেন্স প্রবাহ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এখনও তা পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬.৫ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ২০২১ সালে এটি ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। এর ফলে এলসি খোলা, আমদানি পণ্য ছাড়, এবং আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধে চাপে পড়ছে সরকার ও বেসরকারি খাত। সরকার কী বলছে? অর্থমন্ত্রী কামাল সংসদে বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, যুদ্ধ ও জলবায়ুজনিত সমস্যার কারণে আমাদের কিছুটা ধাক্কা খেতে হচ্ছে। তবে সরকার দক্ষভাবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।” সরকার এবার কৃষি, গার্মেন্টস, ও এসএমই খাতে বেশি বিনিয়োগের দিকে নজর দিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি বলেন, “আমদানিতে জটিলতা, ঋণের উচ্চ সুদহার, এবং কর কাঠামোর অনিশ্চয়তা ব্যবসার পরিবেশকে কঠিন করে তুলছে। সরকারের উচিত প্রণোদনা ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।” বিশ্লেষকদের মত অর্থনীতিবিদ ড. সালেহীন মাহমুদ বলেন, “সরকার যদি অবকাঠামো উন্নয়ন ও মুদ্রানীতি সঠিকভাবে পরিচালনা করে, তবে পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে সতর্ক থাকতে হবে—মূল্যস্ফীতির লাগাম না টানলে সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।” বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে। যেখানে উন্নয়নের চিত্র আছে, সেখানেই আছে দুর্বল মুদ্রানীতি, রিজার্ভ সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপ। আগামী ছয় মাসে সরকারের নীতিগত পদক্ষেপগুলোই নির্ধারণ করবে—বাংলাদেশ সামনের দিকে এগোবে না কি আরও চাপে পড়বে।

Admin জুন ২৫, ২০২৫ 0
বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও অম্লতা বেড়ে চলেছে।
১৫টি ‘জলবায়ু ঝুঁকি’তে আছে বাংলাদেশ

আজ থেকে এক যুগ আগেও মনে করা হতো, বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস এপ্রিল। অর্থাৎ, তীব্র গরমের উষ্ণতম দিনের সংখ্যা এপ্রিল মাসেই বেশি থাকে।কিন্তু আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বাংলাদেশে বছরের উষ্ণতম দিনের সংখ্যা এখন শুধু এপ্রিল মাস তথা গ্রীষ্মকালে সীমাবদ্ধ নেই; বর্ষাকালেও বৃদ্ধি পেয়েছে।তাদের মতে, গ্রীষ্মকালের দৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে বর্ষাকালেও তাপপ্রবাহ চলা, এই সবকিছু ঘটছে মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে।ওয়ার্ল্ড ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি জলবায়ু ঝুঁকিতে আছে, তার মাঝে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ দশে। এর আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ১৪টি জলবায়ু ঝুঁকি চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদে সমন্বিতভাবে ‘জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা’ (ন্যাপ) গ্রহণ করেছিলো সরকার। ন্যাপে বলা হয়েছে, ঐ ১৪টি জলবায়ু ঝুঁকি বা দুর্যোগের হার সময়ের সাথে সাথে বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিগুলোর তীব্রতা বাড়ছে বলেই আবহাওয়ার প্যাটার্ন তথা ধরনের পরিবর্তন এসেছে। চরম উষ্ণতা আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা আগের তিন দশকের চেয়ে তীব্রভাবে বাড়ছে। অর্থাৎ, ১৯৬১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালের পর থেকে এটি ক্রমশ বাড়ছেই। এমনকি গত ত্রিশ বছর ধরে শীতকাল ও বর্ষাকালেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম পড়ছে।     আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, আগে বাংলাদেশে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত তাপপ্রবাহ দেখা যেত। কিন্তু গতবছর সেই তাপপ্রবাহ সেপ্টেম্বরে গিয়ে ঠেকেছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ন্যাপ থেকে জানা যায়, শীতকাল (ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) ও বর্ষা পূর্ববর্তী (মার্চ থেকে মে) সময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমছে। কিন্তু বর্ষা (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) ও বর্ষা পরবর্তী (অক্টোবর থেকে নভেম্বর) সময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়ছে। এসব কারণে, শীতকালে অনেক বেশি শুষ্ক এবং বর্ষাকালে অনেক বেশি ভেজা আবহাওয়া থাকছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোত বাংলাদেশে তীব্র বৃষ্টিপাত হয়েছে। ২০০৪ সালে ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৪১ মিলিমিটার, ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৪০৮ মিলিমিটার, ২০০৯ সালে ঢাকায় ১২ ঘণ্টায় ৩৩৩ মিলিমিটার, ২০২০ সালে রংপুরে ২৪ ঘন্টায় ৪৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এইসব তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছেই। এর মাঝে রংপুরের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বিগত ৬০ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সাল নাগাদ ভবিষ্যতে উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলে বেশি বৃষ্টিপাত হবে এবং পশ্চিমাঞ্চলে এই পরিমাণ কমতে থাকবে। কিন্তু ২০৫০ সালে সারাদেশেই বৃষ্টিপাত বাড়বে।     সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বাংলাদেশে গত ৩০ বছর ধরে উপকূলবর্তী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতিবছর ৩ দশমিক ৮ থেকে ৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিসিএডি)-এর তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলের মানুষের ঘরবাড়ি ও জীবিকা বিপন্ন হওয়ার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় নয় লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ ডুবে যাওয়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে।ন্যাপে বলা হয়েছে যে প্রতিবছর বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি নদী ভাঙনের শিকার হয়। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ প্রায় প্রতিবছরই এমন অবস্থার সম্মুখীন হচ্ছে। এর মাঝে ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪, ২০০৭ ও ২০১৭ সালের বন্যার কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ন্যাপে বলা আছে, এসব বন্যায় দেশের শতশত নদ-নদী প্লাবিত হয়েছিলো এবং হাজার হাজার হেক্টরের ফসল সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়ে গেছে। এমনকি, অনেক পশুপাখি, এমনকি মানুষও মারা গিয়েছিলো। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।   দীর্ঘ সময় ধরে চলা শুষ্ক আবহাওয়া, অপর্যাপ্ত বৃষ্টি, বৃষ্টিপাতের তুলনায় বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের পরিমাণ বেশি হলে খরার সৃষ্টি হয়। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দেখা দেয় পানির অভাব। কুয়া, খাল, বিলের মতো নিত্যব্যবহার্য পানির আধার শুকিয়ে যায়। ১৯৬০ থেকে ১৯৯১ সাল, এই সময়সীমার মাঝে বাংলাদেশ মোট ১৯টি খরার মুখোমুখি হয়েছিলো। এর মাঝে সবচেয়ে তীব্র ছিল ১৯৬১, ১৯৭২, ১৯৭৬, ১৯৭৯ ও ১৯৮৯ সালের খরা। এরপর ১৯৯৭ সালেও তীব্র খরা দেখা দেয়। সেই খরার কারণে কৃষিতে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ক্ষতি মোকাবেলা করতে হয় বাংলাদেশকে। সেসময় ১০ লাখ টন ধান ক্ষতির শিকার হয়। যার মধ্যে ছয় লাখ টন ছিল রোপা আমন। সব মিলিয়ে কৃষিতে এ ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ কোটি ডলার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার রিস্ক অ্যাটলাস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে দেশের প্রায় ২২টি জেলা খরার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে খুবই উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ছয় জেলা। খরাপ্রবণ এসব এলাকা মূলত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। খরাপ্রবণ এসব এলাকা মূলত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। নদী ভাঙন ন্যাপে বলা হয়েছে যে প্রতিবছর বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি নদী ভাঙনের শিকার হয়। সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসের (সিইজিআইএস) তথ্যের বরাত দিয়ে এখানে বলা হয়েছে যে ১৯৭৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে যমুনা নদীর ভাঙ্গন ছিল প্রায় ৯৪ হাজার হেক্টর এবং বৃদ্ধি ছিল সাড়ে ১৪ হাজার হেক্টর। এই সময়ের মাঝে পদ্মায় সাড়ে ৩৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমি ভেঙ্গেছে এবং গড়েছে সাড়ে পাঁচ হাজারেরও কম। এছাড়া, যমুনায়ও ২৫ হাজার ২৯০ হেক্টর জমি বিলীন হয়ে গেছে। সিইজিআইএস বলছে, গত ২২ বছরে পদ্মা ও যমুনা নদীর ভাঙনে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছে। প্রতিবছর বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি নদী ভাঙনের শিকার হয়। আকস্মিক বন্যা ভারী বা অত্যধিক বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সাধারণত এপ্রিল থেকে জুলাই এবং সেপ্টেম্বর থেকে অক্টবরে এরকম বন্যা দেখা যায়। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে উত্তর-পুর্বাঞ্চল সবসময় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে থাকে। এতে করে এই অঞ্চলের কৃষিখাত তীব্র ক্ষতির মুখে পড়ে। অথচ, দেশের ১৮ শতাংশ ধান উৎপাদন হয় এই অঞ্চলে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে বর্ষার আগে ও বর্ষার সময়ে বৃষ্টিপাত বাড়বে, তাই তখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার পরিমাণ আরও বাড়বে। ভারী বা অত্যধিক বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। শহরাঞ্চলের বন্যা বাংলাদেশের শহরাঞ্চলগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘনঘন বন্যা দেখা যাচ্ছে এবং এতে করে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক উদ্বেগও বাড়ছে। গত দুই দশকের মাঝে ২০০৪ সালের ঢাকার বন্যা উল্লেখ করার মতো। কারণ ঐসময় ঢাকায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিলো। সেই বন্যায় শহরের ৮০ শতাংশ এলাকার পাঁচ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। বাংলাদেশের শহরাঞ্চলগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘনঘন বন্যা দেখা যাচ্ছে এবং এতে করে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক উদ্বেগও বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দুর্যোগ হল ঘূর্ণিঝড়। ১৯৬০ থেকে ২০১০ সালে বাংলাদেশে মোট ২১টি ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হয়েছিলো, যেগুলোর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৭ কিলোমিটার থেকে ১১৭ কিলোমিটারেরও বেশি। এগুলোর মাঝে ৩৩ শতাংশ ঘূর্ণিঝড় বর্ষার আগে হয়েছিলো এবং ৬৭ শতাংশ হয়েছিলো বর্ষা পরবর্তীতে। যেখানে ১৯৭১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশে প্রতি দুই থেকে তিন বছরে একটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত করত, সেখানে ২০২৩ সালে চার চারটি ঘূর্ণিঝড় বঙ্গোপসাগর হয়ে বাংলাদেশের ওপরে প্রভাব ফেলেছে।   লবণাক্ততা বৃদ্ধি বাংলাদেশের ২০ শতাংশ এলাকা হল উপকূলীয় অঞ্চল এবং ৩০ শতাংশের বেশি হল আবাদি জমি। কিন্তু যেহেতু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, তাই দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল সমুদ্রগর্ভে বিলীন হলে লবণাক্ততা বেড়ে আরও ভেতরে ঢুকে যাবে। এতে করে ফসলের উৎপাদন কমবে। ন্যাপ-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৩ থেকে ২০০৯ সাল, এই সময়ের মাঝে বাংলাদেশে প্রায় ২৭ শতাংশ লবণাক্ততা বেড়েছে। ১৯৭৩ থেকে ২০০৯ সাল, এই সময়ের মাঝে বাংলাদেশে প্রায় ২৭ শতাংশ লবণাক্ততা বেড়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ আবহাওয়া অফিস বলছে, বছরের প্রতি ঋতুতেই তাপমাত্রা আগের তুলনায় বাড়ছে। বিশেষ করে গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে তাপপ্রবাহের মাত্রা বেড়েই চলেছে। আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বছরের শুরুতে বলেন, “এখন সিজনাল প্যাটার্ন চেঞ্জ হচ্ছে। আগে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে তাপদাহ হতো। কিন্তু ইদানীং সেটা বেড়ে অক্টোবর পর্যন্ত চলছে।” তিনি বলেন যে ২০২৩ সালের মতো এবছরও তাপপ্রবাহ আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি প্রকট। “২০২৩ সাল ছিলো উষ্ণতম বছর, গত বছর দীর্ঘ সময় হিটওয়েভ ছিলো। জুন মাসে দুই সপ্তাহ ধরে হিটওয়েভ ছিল। ঐ সময় দেশের কয়েক জায়গায় ৪০ ডিগ্রির ওপরে তাপমাত্রা ছিল। এই ধরনের হিট ওয়েভ কন্ডিশন ২০২৪ সালেও আসার সম্ভাবনা প্রকট।” মি. রশীদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও নরওয়ের আরও পাঁচজন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞের করা ‘বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল জলবায়ু: আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণে ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সালের প্রবণতা এবং পরিবর্তন’ শীর্ষক জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৮০ এবং ১৯৯০-এর দশকে ঢাকায় মার্চের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহ থেকে তাপপ্রবাহ শুরু হলেও ১৯৯৭ সালের পর থেকে এতে ভিন্নতা দেখা গেছে। এখন রংপুর, খুলনা-সহ প্রায় সব বিভাগে বর্ষা মৌসুমেও তাপপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮০ এবং ১৯৯০-এর দশকে ঢাকায় মার্চের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহ থেকে তাপপ্রবাহ শুরু হলেও ১৯৯৭ সালের পর থেকে এতে ভিন্নতা এসেছে। তীব্র শীত গত ৪৩ বছরে শীতের ক্ষেত্রেও বেশ পরিবর্তন এসেছে। আগে ডিসেম্বরের আগে থেকেই ঢাকায় শীত পড়তো। কিন্তু ২০২৩-২০২৪ সালের শীত মৌসুমে মধ্য ডিসেম্বরেও ঢাকায় শীত অনুভূত হয়নি। অথচ, মি. রশীদদের গবেষণা অনুযায়ী আগে ঢাকায় জানুয়ারিতে শৈত্যপ্রবাহ হত। কিন্তু ১৯৯০ সালের পর থেকেই জানুয়ারি মাসে ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহের পরিমাণ কমে গেছে। আবার জানুয়ারিতে শৈত্যপ্রবাহ হলেও তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নামছে না। অথচ, মানুষের শীত শীত অনুভূতি বেশি হচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালেও খাতায় কলমে তাপমাত্রা খুব একটা নিচে নামেনি। কিন্তু পুরো জানুয়ারি মাস জুড়েই শীতের তীব্র অনুভূতির কথা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিল মানুষ।১৯৯০ সালের পর থেকেই জানুয়ারি মাসে ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহের পরিমাণ কমে গেছে। বজ্রপাত বাংলাদেশে প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত বজ্রপাতের প্রকোপ থাকে বেশি। বজ্রপাতের মাত্রা এবং মৃত্যুর সংখ্যা বিবেচনা করে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার এটিকে বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলেন, বজ্রপাতের সময়সীমা সাধারণত ৩০-৪৫ মিনিটি পর্যন্ত স্থায়ী হয়। সেজন্য ঘন কালো মেঘ দেখা দিলে ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ন্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি মানুষ বজ্রপাতে মারা গেছে এবং আহত হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার। এদের মাঝে বেশিরভাগই পুরুষ। বজ্রপাতে মৃত্যু ঘটে সবচেয়ে বেশি ঘটে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায়।বাংলাদেশে প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত বজ্রপাতের প্রকোপ থাকে বেশি। ভূমিধস জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, আভিকর্ষিক প্রভাবে অপেক্ষাকৃত শুকনা ভূখন্ড, শিলা বা উভয়ের প্রত্যক্ষভাবে নিম্নমুখী অবনমন বা পতন হল ভূমিধস। ভূমিধস হল ভূমিক্ষয়ের একটা বড় কারণ এবং জানামতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবক্ষয়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকায় এটা বেশি ঘটে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে প্রায় প্রতিবছরই পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিধস হতে শোনা যাচ্ছে। এমনকি, সিলেট বিভাগেও বন্যার মাঝে ভারী বৃষ্টিতে ভূমিধস ও ভূমিধসের কারণে মৃত্যু ঘটছে। বাংলাদেশের অন্যতম বড় মাত্রার ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে ২০০৭ সালে। ওই বছরের ১১ই জুন চট্টগ্রামে বৃষ্টিজনিত ভূমিধ্বসে অন্তত ১২২ জনের প্রাণহানি ঘটে। প্রবল বর্ষণের ফলে সেদিন পাহাড় থেকে মাটি ও কাদার ঢল পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বস্তি ও কাঁচা ঘরবাড়ি উপরে ধ্বসে পড়লে বহু মানুষ চাপা পড়ে যায় এবং অনেকে নিখোঁজ হয়। ন্যাপ-এর তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে বর্ষাকালীন ও বর্ষা-পরবর্তী বৃষ্টিপাত বাড়বে এবং তখন পাহাড়ি এলাকায় শতকরা পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ হারে ভূমিধস বাড়বে।      সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি ও অম্লতা জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাশনাল এডাপটেশন প্ল্যান-ন্যাপ) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অতীতের রেকর্ডগুলো বলছে যে বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশ উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় প্রতিবছর বর্ষাকালের আগে শূন্য দশমিক শূন্য এক ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তবে বর্ষাকালে সেই তাপমাত্রা থাকে শূন্য দশমিক শূন্য ৫৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে শীতকালে সেটি কমে শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য চার ডিগ্রি সেলসিয়াস হয় এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে সেটি হয় শূন্য দশমিক শূন্য ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বলা হচ্ছে, নিকটবর্তী সময়ে সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে। এবং, এরপর এটি বাড়তে বাড়তে এক থেকে এক দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। শুধু তাই না, বঙ্গোপসাগরের অম্লতার মাত্রাও প্রতিবছর একটু একটু করে বাড়তে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি ও অম্লতা বৃদ্ধির ক্ষতিকর প্রভাব আছে। এর ফলে সমুদ্রের ইকো-সিস্টেমের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং সামুদ্রিক বিভিন্ন মাছের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন স্বল্পতাও তৈরি করতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
জলবায়ু ঝুঁকি
জলবায়ু পরিবর্তন : কৃষি, উপকূল ও সুন্দরবনে বহুমাত্রিক সংকট

বাতাসে কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পৃথিবীর উঞ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বরফ আচ্ছাদিত অঞ্চলের বরফ গলার পরিমাণ বাড়ছে। এতে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি। এ কারণে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বেই পরিবেশ ও প্রকৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ মোটেও দায়ী নয় অথচ তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা জার্মান ওয়াচে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশের মধ্যে প্রথম সারিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা ম্যাপলক্র্যাফটের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। এ পর্যায়ে বায়ুমণ্ডল এবং সমুদ্রের উষ্ণায়ন, বিশ্ব পানি চক্রে ভারসাম্যহীনতা, তুষারপাত, বরফ গলা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগগুলোকে মানবসৃষ্ট প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদনে জলবায়ুর প্রভাব নিবিড়ভাবে জড়িত। বিরূপ জলবায়ু থাকলে ফসল ভালো হবে না। অতিবৃষ্টি, খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্ব¡াস, ঘূর্ণিঝড়, শীলাবৃষ্টি ছাড়াও অন্যান্য সাময়িক ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় কৃষি সম্প্রসারণের সব পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলার কৌশল রপ্ত করে বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগের কার্যক্রম গ্রহণ না করলে কৃষিতে আগামী দিনে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। এটা ঠিক যে দুর্যোগকে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না, তবে যথাযথ পরিকল্পনা ও অভিযোজনের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে দুর্যোগের ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষিতে সর্বাধিক প্রভাব পড়বে। ফসল উৎপাদনে বিশেষ করে চারটি প্রধান ফসল যথাক্রমে ভুট্টা, ধান, গম ও সয়াবিন উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ অবস্থায় অদূর ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ ভবিষ্যতে উষ্ণায়নের তীব্রতা এবং অভিযোজন ব্যবস্থার কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি। কারণ ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন হওয়ায় প্রায়ই খরা, তাপপ্রবাহ এবং বন্যায় ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যারা দায়ী তারা এ জন্য ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না। তাই বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু ঝুঁকি থেকে পরিত্রাণে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। জলবায়ু ঝুঁকি থেকে পরিত্রাণে বাংলাদেশের গৃহীত কর্মপরিকল্পনার সুফল পাচ্ছে দেশের মানুষ। আবার বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ইতিমধ্যে জলবায়ু ঝুঁকি নিরসনে বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মূলত বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে। এতে ক্রমাগত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে অ্যান্টার্কটিকাসহ হিমালয়ের বরফ গলা জলের প্রবাহে সৃষ্টি হচ্ছে ব্যাপক বন্যাসহ নদ-নদীর দিক পরিবর্তন। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে নদ-নদীর ভাঙন। পাশাপাশি সমুদ্রের পানিতে বাড়ছে লবণাক্ততা। এতে দেশের সমুদ্র উপকূলের মানুষ বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে লবণাক্ত পানি পানে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। নারীরা সন্তান ধারণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এ ছাড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে গ্রীষ্ম মৌসুমে মরূকরণের সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশ্বখ্যাত মরুভূমি গবেষকরা বাংলাদেশকে সতর্ক করে আসছেন বারবার। দেশের এ সমস্যাগুলো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তা সমাধানে ন্যাশনাল এনভাইরনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রণয়ন করে তা ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু করেছে। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা ছাড়াও ঋতুভেদে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্ব¡াস, টর্নেডো, নদীভাঙন, ভূমিধস প্রভৃতি মিলিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বলা হয় বাংলাদেশকে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের ঋতুচক্রের হেরফেরের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগেরও হেরফের ঘটছে। অর্থাৎ আগের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সেই স্বাভাবিক চিত্র এখন আর আমাদের নজরে পড়ে না। এর প্রধান কারণ তাপমাত্রার পরিবর্তন বা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি; এর প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, সমুদ্রস্তরের উচ্চতা, মরূকরণ প্রভৃতির মাধ্যমে দেশে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে, পরিবর্তন হচ্ছে আমাদের চিরচেনা ষড়ঋতুতে। সাহিত্যে বাংলাদেশকে ষড়ঋতুর দেশ বা বছরে ছয় ঋতুর বর্ণনা থাকলেও বাস্তব অর্থে এখন ষড় ঋতু পরিলক্ষতি হয় না। বৃষ্টির সময়ে বৃষ্টি না হয়ে অন্য সময় হচ্ছে, কখনো অতিবৃষ্টি আবার কখনো বন্যা হচ্ছে। অন্যদিকে, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে। ভাঙনের ফলে নদীর গতিপথ পরির্বতন হচ্ছে। অন্যদিকে নদীর পানির বিশাল চাপ না থাকায় সমুদ্রের লোনাপানি যতটুকু এলাকা জুড়ে আটকে থাকার কথা, ততটুকু জায়গায় থাকছে না। পানির প্রবাহ কম থাকার কারণে সমুদ্রের লোনাপানি স্থলভাগের কাছাকাছি চলে আসছে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল এলাকায় ক্রমাগত লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, বাংলাদেশে কম বৃষ্টিপাতের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার সমস্যা দিন দিন আরো প্রকট হয়ে উঠছে। এদিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে বাইন ও সুন্দরী গাছসহ বিভিন্ন গাছের আগামরা রোগ দেখা দিয়েছে। তাতে আবার নানা ধরনের পাতা ও ফুলখেকো বিভিন্ন রকমের কিটের আবির্ভাবও ঘটেছে। এ ব্যাপারে জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের অভিমত, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে ইকোসিস্টেমের বিষয়টি সরাসরি জড়িত। তাই দেশের কোনো অঞ্চলের জলবায়ুর পরিবর্তন হলে সে অঞ্চলের প্রাণিকুল অথবা কীটপতঙ্গের জীবনধারায়ও পরিবর্তন আসে, প্রাণীর অস্তিত্বও সংকটে পড়ে। এমনও হয়, সেসব অঞ্চলের প্রাণিকুলের বিলুপ্তি ঘটে নতুন প্রাণিকুলের সৃষ্টি হয়। মূলত এভাবেই ওই অঞ্চলের জলবায়ুর প্রভাবে বিভিন্ন প্রজাতির কিটের আবির্ভাব ও পূর্বের প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটছে। দেশীয় প্রজাতির গাছগাছালি হারিয়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে বিদেশি গাছের আগ্রাসন। বিদেশি এসব গাছ ও লতাগুল্মের ক্রমাগত বর্ধনের ফলে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের প্রকৃতি থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে প্রায় এক হাজার প্রজাতির নিজস্ব গাছ। উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, বিদেশি আগ্রাসী গাছগুলো এখন আমাদের দেশীয় প্রজাতির গাছ হিসেবে শনাক্ত হচ্ছে। যেমন : সেগুন, মেহগনি, আকাশমণি, রেইনট্রি, বাবলা, চাম্বল, শিশু, খয়ের ও ইউক্যালিপ্টাস এখন অনেকের কাছে দেশীয় প্রজাতির গাছ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। অথচ এগুলো ভিনদেশি গাছ। এসব গাছের কারণে দেশীয় প্রজাতির গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ প্রজাতির গাছগুলোর জন্য প্রচুর জায়গার দরকার হয়। এগুলো দেশি গাছের তুলনায় অনেক দ্রুত মাটি থেকে বেশি পরিমাণে পুষ্টি শুষে নেয়। এ ছাড়া আশপাশে দেশীয় প্রজাতির গাছের বেড়ে ওঠাকে ব্যাহত করে। মূলত এ গাছগুলো ব্রিটিশ আমলে এ অঞ্চলে বিভিন্নভাবে আনা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এর ফলে কৃষিকে নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে এতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষি, চাষাবাদ ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর। তদুপরি অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বহু প্রজাতির ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। আবার আগাছা, পরগাছা, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের অঞ্চলভেদে মাটির গুণাগুণ এবং উপাদানেও তারতম্য ঘটছে। ফলে ফসলের প্রত্যাশিত উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ইরি-বোরো উৎপাদনে প্রচুর সেচের পানির প্রয়োজন হচ্ছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জমিগুলোয় লবণাক্ততার কারণে সেচে ও চাষাবাদে বিপত্তি ঘটছে। আবার লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে চিংড়ি চাষেও ধস নেমেছে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলে সেচের পানিতে আরেক বিপত্তি ঘটছে। সেখানকার ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা বেশি হওয়ায় ফসলের মাধ্যমে তা মানবদেহে প্রবেশ করছে। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ফসলের জমিতে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এ কারণে ফসল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। এমতাবস্থায় দ্রুতই জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি কমানো না গেলে শুধু দেশের নিমাঞ্চলই প্লাবিত হবে না একই সঙ্গে মরূকরণের ঝুঁকিও বাড়বে। অন্যদিকে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে আমাদের বৃক্ষরাজি, বনজ, জলদ ও কৃষিজ, মৎস্য সম্পদের ওপরে। কাজেই জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং এর বিরূপ প্রভাব থেকে পরিত্রাণে আমাদের নিজস্ব সম্পদ, মেধা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা দিয়ে নিরন্তর গবেষণার মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নের পথরেখা নির্মাণসহ মুক্তির পথ খুঁজতে হবে। একই সঙ্গে নদ-নদীর দূষণ, দখল রোধ এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। পাশাপাশি দেশের আনাচে-কানাচে খালি জায়গায় বনায়ন সৃষ্টি করতে হবে এবং অনাবাদি ও পতিত জমি দ্রুত চাষের আওতায় আনতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ দূষণ বা বায়ুদূষণ ঘটে এমন ধরনের কাজকর্ম থেকেও আমাদের নিবৃত থাকতে হবে। একই সঙ্গে অতিমাত্রায় কার্বন নিঃসরণকারী তথা শিল্পোন্নত দেশগুলোর কাছে প্রামাণ্যচিত্রসহ আমাদের আর্জি তুলে ধরতে হবে। এসব করা গেলে রাতারাতি জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করা সম্ভব না হলেও কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জলবায়ুর ভয়াবহ অভিঘাতে বিপর্যস্ত আমাদের জীবনব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের পাশাপাশি কৃষি, প্রকৃতি ও পরিবেশে পরিবর্তন আসছে। এই পরিবর্তন ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমাদের কৃষি, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও প্রকৃতিকে রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে প্রয়োজন অধিকতর কৃষির গবেষণা। প্রত্যাশা থাকবে সরকার এই বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে কৃষিজ উৎপাদন তথা কৃষিতে প্রযুক্তির প্রয়োগ ও অঞ্চলভিত্তিক ফল-ফসল উৎপাদন, বিপণনে মনোযোগী হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ কৃষির ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ডিজিটাল কৃষিই ভবিষ্যৎ
ডিজিটাল কৃষিই ভবিষ্যৎ: জলবায়ু পরিবর্তনের চাপে খাদ্য নিরাপত্তায় বড় চ্যালেঞ্জ

ক্ষেত ভরা ফসল, গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ, গোয়াল ভরা গরু, কলসী কাঁখে গাঁয়ের বধু জল আনতে যাওয়া। গোধুলী লগ্নে সোনালী আকাশে ধুলো উড়িয়ে চলা। ওসব এখন অতীত। আবহাওয়ার বেসামাল বিচরণ মনুষ্য জীবের জন্য এক অশনি সংকেতের নাম জলবায়ুর পরিবর্তন। চিরায়ত ছায়া সুনিবিড় শান্ত গ্রামীণ ঐতিহ্যমণ্ডিত জীবনধারাকে করেছে দূরাহত। দীর্ঘ জীবনের কৃষি পরিণত হয়েছে দীর্ঘশ্বাসে। আগামী তিন দশকে আমাদের খাদ্যের চাহিদা বাড়বে ৮০ শতাংশ। কমবে কৃষিজমি। আবার কৃষকদের এই প্রজন্ম প্রবীণ জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।   তরুণেরা কৃষি ও কৃষিকাজে আগ্রহী নয়। এই অবস্থায় সুস্থ ও সবল সমাজ ধরে রাখতে, সবার মুখে খাবার তুলে দিতে কৃষির উৎপাদন বাড়াতে হবে, তরুণ প্রজন্মকে কৃষিতে আগ্রহী করে তুলতে হবে। শুধু আগ্রহী নয় অংশীদারিত্ব বাড়াতে হবে, সর্বোপরি উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। তবে এ কাজে ডিজিটাল কৃষির কোনো বিকল্প নেই। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না একটা সময় শ্রীলঙ্কায় খাদ্য আমদানি করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত লক্ষণীয় মাত্রায় হ্রাস পেয়েছিলো।। আমরাদের ও অভিজ্ঞতা আছে দেখেছি, টাকা থাকলেও সংকটকালে বিশ্ববাজার থেকে খাদ্য আমদানি কতোটা কঠিন। তাই নিজেদের খাদ্য আমাদের নিজেদের উৎপাদন করতে হবে। তাই উৎপাদন বাড়ানো ও কৃষিকে এগিয়ে নেয়ার সব উপায় ব্যবহার করতে হবে। কৃষি হলো ফসল উৎপাদন, পশুপালন, মৎস্য চাষ, এবং বনায়ন সম্পর্কিত কার্যক্রম। এটি মানব সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপরিহার্য। জমি চাষ ও ফসল উৎপাদন, প্রাণিসম্পদ পালন, পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে কৃষি কার্যক্রম। আমরা কেনো কৃষি নির্ভর, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে আমাদের দেশের ভৌগোলিক, জনসংখ্যাগত এবং ঐতিহাসিক পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। আমাদের দেশ নদীমাতৃক দেশ, যেখানে প্রায় ৭০০ নদী প্রবাহিত হয়েছে। বন্যা, বর্ষা, এবং উর্বর পলিমাটির কারণে এ দেশের মাটি ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আবার প্রাকৃতিকভাবে উষ্ণ জলবায়ু ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত কৃষি কার্যক্রমে সহায়ক। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ শ্রমশক্তি কৃষি খাতে নিয়োজিত। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা অর্জনের প্রধান উৎস কৃষি। অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষিজ পণ্যের রপ্তানি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জনগণের খাদ্য চাহিদার একটি বড় অংশ স্থানীয় কৃষি উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ হয়। ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য, যা কৃষির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। আমাদের গ্রামীণ সমাজের জীবনযাত্রা, উৎসব, এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম কৃষিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। প্রথাগত চাষাবাদ পদ্ধতি এ দেশের মানুষের ঐতিহ্যের অংশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষি খাত হুমকির মুখে পড়লেও স্থানীয় জনগোষ্ঠী এর সঙ্গে অভিযোজিত হয়ে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। পাট বাংলাদেশকে ‘সোনালী আঁশের দেশ’ হিসেবে খ্যাতি এনে দিয়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলে কৃষি কার্যক্রম দারিদ্র্য হ্রাস এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে। জলবায়ুর পরিবর্তন বলতে বোঝায় দীর্ঘ সময় ধরে বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক জলবায়ুর গড় অবস্থার পরিবর্তন। এটি স্বাভাবিকভাবেই ঘটতে পারে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে মানবসৃষ্ট কার্যকলাপ, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, বনভূমি উজাড়, এবং শিল্প দূষণ, এই পরিবর্তনের মূল কারণ হয়ে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তন হলো পৃথিবীর আবহাওয়ার দীর্ঘকালীন পরিবর্তন। এক কথায় বলতে গেলে, পৃথিবী ধীরে ধীরে গরম হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তনটি কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের জন্য নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে ঘটছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। লবণাক্ত পানি ফসলি জমিতে প্রবেশ করে মাটির উর্বরতা হ্রাস করছে। ধান, গম, এবং অন্যান্য প্রধান ফসলের উৎপাদন কমছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরার প্রকোপ বাড়ছে, যা সেচনির্ভর কৃষিকে ব্যাহত করছে। বর্ষাকালে অনিয়মিত বা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকেরা সঠিক সময়ে চাষাবাদ করতে পারছে না। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বন্যার কারণে ফসল তলিয়ে যাচ্ছে এবং কৃষি জমি ধ্বংস হচ্ছে। বন্যার পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি করে, যা চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ধান, গম, এবং অন্যান্য শস্যের ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উষ্ণতার কারণে কীটপতঙ্গ ও রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ফসলের ক্ষতি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নতুন ধরনের ফসলের রোগ এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণ বাড়ছে। কীটনাশক এবং রোগ নিরোধক ওষুধের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যাচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য ব্যয়বহুল। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং নদী ভাঙনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। বন্যা ও লবণাক্ততার কারণে অনেক জমি পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। খরার কারণে সেচের জন্য পানির প্রাপ্যতা হ্রাস পাচ্ছে। পানির অপর্যাপ্ততার কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ফসল উৎপাদনে সমস্যা হওয়ার কারণে কৃষকেরা তাদের আয় হারাচ্ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন করছে। কৃষি এবং জলবায়ু একে অপরের সঙ্গে অত্যন্ত গভীরভাবে সম্পর্কিত। আসলে, কৃষি হলো প্রকৃতির একটি প্রক্রিয়া যেখানে মানুষ জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে ফসল উৎপাদন করে। জলবায়ুর সামান্য পরিবর্তনও কৃষি উৎপাদন, কৃষকদের জীবন ও অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তন আনতে পারে। প্রতিটি ফসল নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সবচেয়ে ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কিছু ফসল দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফলন কমে যায়। উচ্চ তাপমাত্রা ফসলের ফুল ফোটা এবং ফল ধরা প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়। ফসলের জন্য পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও সময়ের অনিয়মিত পরিবর্তন কৃষকদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে। অতিবৃষ্টি বা বৃষ্টির অভাব উভয়ই ফসলের ক্ষতি করে। বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। লবণাক্ততা বা মাটির আর্দ্রতা কমে গেলে চাষযোগ্য জমি কমে যায়। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা এবং তাপপ্রবাহ কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি করে। জলবায়ু পরিবর্তনে এ ধরনের দুর্যোগের তীব্রতা বেড়েছে। কৃষি মৌসুম নির্ধারণে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি মৌসুমের সময় বদলে যাচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন পোকামাকড় ও রোগের বিস্তার বাড়ায়। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে কৃষি খাতকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, এটি সরাসরি আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর নির্ভরশীল। ফসল উৎপাদন, পানি সরবরাহ, মাটির উর্বরতা, এবং কৃষি পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ--সবকিছুই জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষি একটি এমন খাত যেখানে প্রকৃতির ওপর নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। জলবায়ুর সামান্য পরিবর্তনও ফসলের উৎপাদন, কৃষকদের জীবন ও অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তন আনতে পারে। কৃষি উৎপাদনে বৃষ্টি, সূর্যের তাপ, এবং তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যাচ্ছে, যা ফসলের বৃদ্ধিতে সমস্যা সৃষ্টি করছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে এবং ফসলের বৃদ্ধি চক্র বিঘ্নিত হচ্ছে। বন্যার কারণে ফসল ডুবে যায় এবং কৃষি জমি উর্বরতা হারায়। খরা এবং পানির অভাবে সেচব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, যা ফসল উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে লবণাক্ততা বাড়ছে, যা মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে। উপকূলীয় অঞ্চলের ফসল উৎপাদন তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং অতিবৃষ্টির কারণে মাটির ওপরের উর্বরস্তর ধুয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মাটির গঠন ও পুষ্টিমান পরিবর্তিত হচ্ছে। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিবর্তনে নতুন ধরনের পোকামাকড় ও রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে। কীটপতঙ্গের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহারের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়া বা বরফ গলার মতো ঘটনা কৃষকদের সঠিক সময়ে চাষ করতে বাধাগ্রস্ত করছে। ফসল কাটার সময় অনিয়মিত ঝড়-বৃষ্টি ফসলের ক্ষতি করছে। দীর্ঘমেয়াদে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অনিয়মিত আবহাওয়া ফসলের বৈচিত্র্য ও চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় স্থায়ীভাবে জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। দেশের মোট জমির প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের কৃষি উৎপাদন প্রতি বছর প্রায় ১-২ শতাংশ হ্রাস পাচ্ছে। ২০৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে, বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও আফ্রিকার দেশগুলো এই প্রভাবের মুখে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্বের সবচেয়ে অসচ্ছল ২০ শতাংশ মানুষ তাদের আয়ের ৭০ শতাংশ খাদ্যের জন্য ব্যয় করে। আমরা কৃষি নির্ভর দেশ, কারণ দেশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, অর্থনৈতিক কাঠামো এবং জনগণের জীবনযাত্রা কৃষির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের জীবনের মান উন্নত করতে কৃষি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে ১৮টি কৃষি সংস্থা আছে যারা সরাসরি কৃষির সঙ্গে জড়িত। তবুও আমরা প্রদর্শনী প্লটের জন্য সাইনবোর্ড ব্যবহার করছি। কিন্তু না, যতো দিন না প্রতিটি কৃষকের প্লটকে সাইনবোর্ড ছাড়া প্রদর্শনী হিসেবে উপস্থাপন করতে না পারবো। ততোদিন বলতে পারবো না স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। কৃষি ও কৃষক কে বাঁচাতে হবে। তবেই জলবায়ুর পরিবর্তনে আমরা নিজেদের অস্তিত্ব খুজে পাবো।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
জলবায়ু ঝুঁকিতে দেশের কৃষি ও খাদ্য
জলবায়ু ঝুঁকিতে দেশের কৃষি ও খাদ্য

ফারিহা হোসেন: জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এর জন্য বাংলাদেশ দায়ী না হলেও এর বিরূপ প্রভাবে দেশের খাদ্য, কৃষি, স্বাস্থ্যসহ নানাবিধ ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বর্তমান বিশ্বে দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন একটি নৈমিত্তিক ঘটনা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। অতিমাত্রায় গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়সহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।   বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে কৃষি, যা এ দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ শ্রমশক্তি এ খাতে নিয়োজিত। এ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তাসহ জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা এখনো কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল। বিবিএস ২০১৪-১৫-এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটির সঙ্গে প্রতি বছর ২০ লাখ জনসংখ্যা যোগ হচ্ছে। ২০৪৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে হবে প্রায় ২২ দশমিক ৫ কোটি। এ বাড়তি জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ আবশ্যক। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে সামগ্রিকভাবে বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে; যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের কৃষি তথা সার্বিক জীবনযাত্রার ওপর।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শস্যের গুণাগুণ ও উৎপাদনেও পরিবর্তন আসবে। বর্তমান চাষযোগ্য এলাকায় উৎপাদন হ্রাস পাবে। পানির স্বল্পতা বৃদ্ধি পাবে, হ্রাস পাবে মাটির উর্বরতা। একই সঙ্গে নতুন নতুন রোগবালাই দেখা দিতে পারে। ফলে কৃষিতে কীটনাশক ও সারের প্রয়োগ বৃদ্ধি পাবে। কৃষিজমিতে সেচের ব্যাপকতা বাড়বে, বাড়বে ভূমিক্ষয়। কমে যাবে জীববৈচিত্র্য। রাসায়নিকের ব্যাপক ব্যবহার পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। দরিদ্রতা বাড়বে এবং সমাজে এর প্রতিকূল প্রভাব দেখা দেবে। এ কারণে ২১ শতকে সার্বিকভাবে কৃষির উৎপাদন ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে। ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ধান ও গমের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে, শুধু তাই নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এবং ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সমুদ্র উপকূলে নদী ভাঙন বাড়বে, বাড়বে লবণাক্ততার পরিমাণ। সমুদ্র উপকূলে বসবাসকারীদের মধ্যে উদ্বাস্তুর হার বাড়বে, বাড়বে রোগব্যাধি এবং অপুষ্টিজনিত সমস্যা। কাজেই জলাবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়বে দেশের কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর।   বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বহুলাংশে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল। মানুষের মৌলিক প্রয়োজন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জোগান দিয়ে থাকে কৃষি। কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, বীজ, গজানো, পরাগায়ন, ফুল ও ফল ধরা, পরিপক্বতা হতে সুনির্দিষ্ট তাপমাত্রা, আদ্রতা, বৃষ্টিপাত ও সূর্যালোক প্রয়োজন। জলবায়ুর এ উপাদানগুলো পরিবর্তিত হয়েছে কিন্তু বীজ বপন ও চারা রোপণের সময় পরিবর্তন সম্ভব হয়নি। ফলে কৃষি মৌসুমের সঙ্গে ফসলের চাষাবাদে খাপ খাওয়ানো যাচ্ছে না। গড় তাপমাত্রা বাড়ার কারণে গম, ছোলা, মসুর, মুগডালসহ কিছু ধানের উৎপাদন কমে যাওয়ায় কৃষকরাও কৃষি থেকে অনেকাংশে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কাজেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ দীর্ঘমেয়াদি কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। কৃষিকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে হলে কৃষি খাতে, শস্য উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনতে হবে।   মনে রাখা দরকার, প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। তাই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কম বেশি ঝুঁকিতে দেশের সব মানুষ। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষিভিত্তিক উৎপাদনের জন্য যেখানে ছিল যথাযোগ্য তাপমাত্রা, ছিল ছয়টি আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ঋতু, সেখানে দিন দিন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতু হারিয়ে যেতে বসেছে এবং তার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা সবকিছুতে আমূল পরিবর্তন আসছে। ফলে অনিয়মিত, অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত; সেচের পানির অপর্যাপ্ততা; উপকূলীয় অঞ্চলে বর্ষা মৌসুম ছাড়াও বিভিন্ন সময় উপকূলীয় বন্যা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে লবণাক্ত পানিতে জমি ডুবে যাওয়া এবং শুষ্ক মৌসুমে মাটির নিচের লবণাক্ত পানি ওপরের দিকে বা পাশের দিকে প্রবাহিত হওয়ার মতো নানাবিধ সমস্যায় বাংলাদেশের কৃষির ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চিত এবং রীতিমতো হুমকির মুখে।   অসময়ে বৃষ্টিপাত কিংবা বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিভিন্ন রকম ফসল। বর্ষার মাঝামাঝি বন্যা এ দেশে স্বাভাবিক বিধায় এই সময়টুকু মাথায় রেখেই কৃষকরা চাষাবাদ করেন। কিন্তু দেশের উত্তর-পূর্বাংশে, নিকটবর্তী পাহাড়ি ঢলে সৃষ্টি হওয়া অনিয়মিত বন্যা ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। জুন-জুলাইয়ে বৃষ্টিপাতের মাত্রা বেড়ে গেলে হাওর অঞ্চলে শস্যের তেমন ক্ষতিসাধন না করলেও পাট, আখ ও অন্যান্য নিচু জমির ফসল নষ্ট করে। এ রকম বৃষ্টি আমনের বীজতলাও নষ্ট করে দেয়।   জলবায়ুর বিরূপ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য বিশেষ করে বিভিন্ন অভিযোজন কলাকৌশল রপ্ত করতে হবে; যাতে করে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কৃষিকে মুক্ত রাখা বা ঝুঁকি কমানো যায়। এ ছাড়া দুর্যোগমুক্ত সময়ে শস্য বহুমুখীকরণ ও ফসলের নিবিড়তা বাড়িয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। দেশের খাদ্য ও কৃষিব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও দুর্যোগ ঝুঁঁকি হ্রাস কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হলে প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য, উপাত্ত এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন উপযোগী কলাকৌশল ও সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন।   বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিগত ১০০ বছরে এ দেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ৫৮টি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়। ৫০ বছরে হয়েছে ৫৩টি বন্যা, তার মধ্যে ছয়টি ছিল মহাপ্লাবন। ১৫৩ বছরে হয়েছে ২০টি বড় ধরনের ভূমিকম্প। ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এ দেশে ছোট ও বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও কালবৈশাখীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৭টি। তার মধ্যে ১৫টি ছিল ভয়াবহ। এতে সম্পদের ক্ষতি হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা (বিএমডি, ২০০৭)।   তাপমাত্রা বৃদ্ধি জলবায়ুর ও আবহাওয়ার স্বাভাবিক অবস্থাকে অস্বাভাবিক ও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষির ওপর। কেননা, কোনো একটি নির্দিষ্ট শস্যের বেড়ে ওঠার জন্য একটি পরিমিত মানের জলবায়ুর তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আদ্রতা, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি উপাদানগুলোর প্রয়োজন হয়। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা ইতোমধ্যেই বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২১০০ সাল নাগাদ সাগরপৃষ্ঠ সর্বোচ্চ ১ মিটার উঁটু হতে পারে, যার ফলে বাংলাদেশের মোট আয়তনের প্রায় ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হতে পারে।   বৈরী জলবায়ু তা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর মতো ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন ও আবাদ বাড়াতে হবে; নতুন শস্য পর্যায় ও অভিযোজন কৌশলের ওপর ব্যাপক গবেষণা জোরদার করতে হবে; অভিযোজন কৌশল ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে কৃষিজীবী, কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষি গবেষকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে; পরিবেশবান্ধব সমন্বিত ফার্মিং সিস্টেমের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে হবে; নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে ড্রেজিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে, যা সরকার ইতোমধ্যেই শুরু করেছে। উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজবেষ্টনী গড়ে তোলার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; পরিবেশের জন্য হুমকি হয় এমন কর্মকান্ড পরিহার করতে হবে। নেদারল্যান্ডসে পুরো সমুদ্র উপকূল এমনভাবে ড্যাম দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে, যাতে সমুদ্র থেকে নয়, মিটার নিচেও জমিজমা ঘরবাড়ি আছে। আমাদের সমুদ্র উপকূলে এমনিভাবে ড্যাম দিয়ে আটকে দেওয়া যায় কি না, ভেবে দেখতে হবে। এ ছাড়া এখনই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, দেশের এক-চতুর্থাংশ যদি ডুবে যায়, তাহলে সেখানকার লোকজনকে দেশের কোথায় সরিয়ে নেওয়া যাবে। কত লোক সরিয়ে নেওয়া যাবে, তাদের কর্মসংস্থান, বাসস্থান এবং খাদ্য ঘাটতি কীভাবে মেটানো যাবে, এ নিয়ে সুদূরপ্রসারী মহাপরিকল্পনা নিতে হবে। অন্যদিকে, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত কর্মসূচি সরকারকে হাতে নিতে হবে আর জনগণকেও সেই সঙ্গে আন্তরিক হতে হবে, তা বাস্তবায়নের জন্য।   লেখক : ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
জলবায়ু পরিবর্তন
জলবায়ু পরিবর্তনে প্রতি মিনিটে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি ২.৫ লাখ ডলার

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি প্রতি মিনিটে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি। নতুন এক জরিপে বলা হয়েছে, জলবায়ু সংকট এখন আর ভবিষ্যতের সমস্যা নয়। এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। খবর এনডিটিভির। এফআইসিসিআই-ইওয়াই রিস্ক সার্ভে ২০২৬ অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বছরে জলবায়ুজনিত ক্ষতির পরিমাণ ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ঝড়, বন্যা, তাপপ্রবাহ ও পরিবেশের অবনতিই এই ক্ষতির প্রধান কারণ। প্রতিবেদন বলছে, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ এরইমধ্যেই সরবরাহ ব্যবস্থা, খাদ্য উৎপাদন ও শ্রম উৎপাদনশীলতাকে ব্যাহত করছে। ২০০০ সালের পর থেকে ধারাবাহিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষতি ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন সরাসরি অর্থনীতি, ব্যবসা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে প্রভাবিত করছে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
Irregular rainfall disrupts farming
বৃষ্টির অনিয়মিত আচরণে চাষাবাদে ব্যাঘাত, কৃষকদের আয় কমছে দিনদিন

বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রকৃতি ও নির্ধারিত ঋতুচক্র। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি যেমন চাষাবাদের জন্য আশীর্বাদ, তেমনি এর অনিয়মিততা কৃষকের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে বৃষ্টির আচরণে যে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে, তাতে কৃষিজ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। আগে যেখানে একটি নির্দিষ্ট সময়ে চাষাবাদ করা যেত নির্দ্বিধায়, এখন সেখানে কৃষকদের পড়তে হচ্ছে দোটানার মধ্যে। কখন বৃষ্টি হবে, কতটা হবে, কবে হবে—এই অনিশ্চয়তা কৃষকের পরিকল্পনা ভেস্তে দিচ্ছে বারবার।   জুন-জুলাই মাসেই বর্ষাকাল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন অনেক বছরেই দেখা যায়, বৃষ্টি শুরু হচ্ছে দেরিতে অথবা হচ্ছে অতিরিক্ত অল্প সময়ে। এতে করে রোপা আমনের মতো ফসল সময়মতো রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার কখনো বৃষ্টি হচ্ছে হঠাৎ করে অতিরিক্ত, যা বীজতলা ধ্বংস করে দিচ্ছে বা সদ্য রোপণ করা চারা নষ্ট করে দিচ্ছে। আবার কখনো দীর্ঘদিন খরা বিরাজ করায় জমিতে ফাটল ধরছে, শুকিয়ে যাচ্ছে ফসল। এর ফলে ফসল উৎপাদনের পরিমাণ যেমন কমছে, তেমনি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।   অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে চাষাবাদের চক্রে পরিবর্তন আসছে। অনেক কৃষকই নির্ধারিত সময়ে জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। কোনো কোনো অঞ্চলে আবার বৃষ্টি এসে প্রস্তুত জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে, যা চাষাবাদের উপযোগিতা নষ্ট করছে। আবার অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, ধান কাটা-মাড়াইয়ের সময়েই হঠাৎ বৃষ্টি নেমে ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে। এতে করে কৃষকদের শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হচ্ছে না, সাথে বাড়ছে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা।   এক সময়ের নির্ভরযোগ্য কৃষি মৌসুমগুলো এখন অনেকটাই অনির্ভরযোগ্য হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাও অনেক সময় যথাযথ তথ্য দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, ফলে কৃষকরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এমন অবস্থায় অনেক কৃষকই বাধ্য হয়ে কৃষিকাজ ছেড়ে দিচ্ছেন অথবা অন্য পেশায় ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষিখাতের জন্য বড় হুমকি। এতে করে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।   বৃষ্টির অনিয়মিত আচরণ শুধু ধান বা গম নয়, শাকসবজি, তিল, আখ কিংবা মসুরের মতো ফসলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চাষের পর সঠিক সময়ে পানি না পাওয়ায় ফসল স্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে না। আবার বেশি পানি পেয়ে অনেক ক্ষেতেই গাছ পচে যাচ্ছে বা ফলন হচ্ছে অপূর্ণাঙ্গ। এতে কৃষকদের আয় দিনদিন কমছে, আর ঋণগ্রস্ততার হার বাড়ছে।   এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জলবায়ু সহনশীল কৃষি পরিকল্পনা এবং কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। টেকসই চাষাবাদ পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন। কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বীমা, এবং আবহাওয়া তথ্য সেবা সহজলভ্য করতে হবে। একইসাথে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু প্রকৃতির উপর নির্ভর না করে বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদের দিকে এগিয়ে যেতে না পারলে এই অনিয়মিত বৃষ্টির চক্র আগামীতে আরও বড় সমস্যা তৈরি করবে। তাই এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0

Rss feed news

Vaibhav Suryavanshi: কেন বোর্ডের পরীক্ষা দিল না বৈভব সূর্যবংশী? আসল কারণ জানালেন ক্রিকেটারের বাবা
Vaibhav Suryavanshi: কেন বোর্ডের পরীক্ষা দিল না বৈভব সূর্যবংশী? আসল কারণ জানালেন ক্রিকেটারের বাবা

কেন বোর্ডের পরীক্ষা দিল না বৈভব সূর্যবংশী? আসল কারণ জানালেন ক্রিকেটারের বাবা

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
Indore News: ভাগ্নের বিয়েতে নাচতে নাচতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন মামা! তারপর...
Indore News: ভাগ্নের বিয়েতে নাচতে নাচতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন মামা! তারপর...

ভাগ্নের বিয়েতে নাচতে নাচতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন মামা! তারপর...

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
Pakistan Hockey: হোটেলের বিল মেটাতে বাসন মেজেছিলেন পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা! ইস্তফা হকি কর্তার
Pakistan Hockey: হোটেলের বিল মেটাতে বাসন মেজেছিলেন পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা! ইস্তফা হকি কর্তার

হোটেলের বিল মেটাতে বাসন মেজেছিলেন পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা! ইস্তফা হকি কর্তার

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
SIR News: এখনও বাকি নথি যাচাই, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে ধন্দ!
SIR News: এখনও বাকি নথি যাচাই, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে ধন্দ!

এখনও বাকি নথি যাচাই, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে ধন্দ!

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
Supreme Court : 'কী ধরনের সংস্কৃতি আমরা তৈরি করছি ?' ভোটের আগে দান-খয়রাতির কড়া সমালোচনা সুপ্রিম কোর্টের
Supreme Court : 'কী ধরনের সংস্কৃতি আমরা তৈরি করছি ?' ভোটের আগে দান-খয়রাতির কড়া সমালোচনা সুপ্রিম কোর্টের

'কী ধরনের সংস্কৃতি আমরা তৈরি করছি ?' ভোটের আগে দান-খয়রাতির কড়া সমালোচনা সুপ্রিম কোর্টের

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
Pratik ur Rahaman : 'ডর কা মহল, গব্বর সিং আছে কিছু বলা যাবে না', সেলিমের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন প্রতীক উর
Pratik ur Rahaman : 'ডর কা মহল, গব্বর সিং আছে কিছু বলা যাবে না', সেলিমের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন প্রতীক উর

'ডর কা মহল, গব্বর সিং আছে কিছু বলা যাবে না', সেলিমের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন প্রতীক উর

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
Mimi Chakraborty: মিমির বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ টাকার মামলা তনয় শাস্ত্রীর, পাল্টা ২ কোটি টাকার মানহানির মামলা ঠুকলেন অভিনেত্রী!
Mimi Chakraborty: মিমির বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ টাকার মামলা তনয় শাস্ত্রীর, পাল্টা ২ কোটি টাকার মানহানির মামলা ঠুকলেন অভিনেত্রী!

মিমির বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ টাকার মামলা তনয় শাস্ত্রীর, পাল্টা ২ কোটি টাকার মানহানির মামলা ঠুকলেন অভিনেত্রী!

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
Pratik ur Rahaman : ভোটের আগে এবিপি আনন্দে বিস্ফোরক প্রতীক উর রহমান, 'তৃণমূলেই যাচ্ছেন ?'
Pratik ur Rahaman : ভোটের আগে এবিপি আনন্দে বিস্ফোরক প্রতীক উর রহমান, 'তৃণমূলেই যাচ্ছেন ?'

ভোটের আগে এবিপি আনন্দে বিস্ফোরক প্রতীক উর রহমান, 'তৃণমূলেই যাচ্ছেন ?'

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬