ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : ভারত মহাসাগরের উন্মুক্ত জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে নতুন ও উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তারা “অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪” নামে এই হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ছিল মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ‘আর্লি বার্ক’ শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার। ইরানি সূত্র অনুযায়ী, হামলাটি ছিল দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ফল। যুদ্ধজাহাজটি যখন সমুদ্রে একটি সাপ্লাই জাহাজের সঙ্গে জ্বালানি নেওয়ার সময় স্থির অবস্থায় ছিল, তখনই আঘাত হানা হয়—যে সময়টিকে সামরিক ভাষায় সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দ্বিমুখী ক্ষেপণাস্ত্র কৌশল এই হামলায় ব্যবহৃত হয় দুটি ভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র— ‘গদ-৩৮০’: একটি হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘তালাইয়েহ’: সমুদ্রপৃষ্ঠ ঘেঁষে চলা ক্রুজ মিসাইল বিশ্লেষকদের মতে, এই সমন্বিত হামলা আধুনিক ‘Aegis’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে ফেলে, কারণ এটি একসঙ্গে আকাশ ও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আসা হুমকি মোকাবিলা করতে বাধ্য হয়। ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিক্রিয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ডেস্ট্রয়ারটির পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাপ্লাই জাহাজটিতে থাকা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি থেকে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। তবে এই ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পেন্টাগন । বিশ্লেষকদের ধারণা, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই কৌশলগত নীরবতা অবলম্বন করে। সংঘাতের বিস্তার এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই ইসরায়েলের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে বলে জানা গেছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের দিকে ছোড়া বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ইরান অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলের প্ররোচনাতেই যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। অর্থনৈতিক প্রভাব এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সৌদি আরব ও লেবাননকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক ঘটনাবলীতে। সৌদি আরবের আকাশসীমায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুপুরের দিকে আকাশে চারটি অজ্ঞাত উড়োজাহাজ, কয়েকটি ড্রোন এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। একজন মুখপাত্র জানান, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সবগুলো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে জানানো হয়। এ ঘটনায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে একই সময়ে লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় জল, স্থল ও আকাশপথে সমন্বিত হামলায় ৪০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে স্থলবাহিনী অভিযান চালিয়ে হিজবুল্লাহর কয়েকটি সেল ধ্বংস করেছে। এছাড়া নৌবাহিনীও একটি অস্ত্র গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এপ্রিল ২, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইরান দাবি করেছে যে তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে, বুধবার (১ এপ্রিল) চালানো এই অভিযানে ১০০টিরও বেশি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র, আক্রমণকারী ড্রোন এবং অন্তত ২০০টি রকেট ব্যবহার করা হয়েছে। আল-জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলা ইরান এবং তাদের মিত্র “প্রতিরোধ ফ্রন্ট” যৌথভাবে পরিচালনা করেছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল-এর বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা, পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। তাদের দাবি, বাহরাইন-এ অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটি এবং কুয়েত-এর আল-আদিরি ঘাঁটিতে থাকা একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ইউনিট লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এই হামলা “পূর্ণ তীব্রতা ও শক্তি” নিয়ে অব্যাহত থাকবে। তবে এই হামলার বিষয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এপ্রিল ২, ২০২৬
সংবাদ প্রতিবেদন শুধু তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম নয়—এটি সমাজের বাস্তবতা, সমস্যা ও ক্ষমতার কাঠামোকে তুলে ধরার শক্তিশালী হাতিয়ার। অনেকেই মনে করেন রাজনীতি মানেই রাজনৈতিক দলের বক্তব্য, কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি সামাজিক ঘটনাই এক ধরনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ধরা যাক, রাস্তায় একজন অসহায় নারী পড়ে আছেন। এটি শুধু একটি মানবিক ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি। এই ছোট ঘটনাকে ঘিরেই তৈরি হতে পারে একটি বড় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন—যেখানে খোঁজ নেওয়া হবে, কেন তিনি ভাতা পাননি, কেন ঘর পাননি, এবং কারা সেই সুবিধা পেয়েছে। সংবাদ প্রতিবেদনের মৌলিক কাঠামো সংবাদ লেখার ক্ষেত্রে দুটি মৌলিক নিয়ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: ফাইভ ডব্লিউ এইচ (5W1H): কী, কে, কোথায়, কখন, কেন, কীভাবে ইনভার্টেড পিরামিড: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শুরুতে, কম গুরুত্বপূর্ণ শেষে তবে আধুনিক সাংবাদিকতায় এই কাঠামোকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করা জরুরি। বিশেষ করে মানবিক, অনুসন্ধানী বা বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে নতুন স্টাইল প্রয়োজন। অ্যাসাইনমেন্ট কভার করার কৌশল একজন দক্ষ রিপোর্টারকে মাঠে কাজ করার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়: আয়োজকদের যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ করা বক্তাদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা ও রেকর্ড করা গুরুত্বপূর্ণ সময় (টাইমস্ট্যাম্প) নোট করা দ্রুত অনলাইন রিপোর্ট পাঠানো (১০০–২০০ শব্দ) প্রয়োজনে নিজেই ছবি তোলা প্রতিবেদন লেখার সহজ সূত্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেই ঠিক করতে হবে কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—বাজেট, রাজনীতি বা চলমান ইস্যু—যেটি বেশি আলোচিত, সেটিকেই ফোকাস করতে হবে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন: নির্দিষ্ট বিষয় নির্বাচন সরকারি নথি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র সংগ্রহ ভুক্তভোগী, পুলিশ, স্থানীয় প্রতিনিধি—সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলা পূর্বে প্রকাশিত তথ্য যাচাই মানবিক প্রতিবেদন মানবিক প্রতিবেদনে মানুষের গল্পই মুখ্য। তবে: ভুক্তভোগীর বক্তব্য সরাসরি সত্য ধরে নেওয়া যাবে না প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বক্তব্য দিয়ে যাচাই করতে হবে সরেজমিন প্রতিবেদন এখানে রিপোর্টারের নিজের দেখা ও অভিজ্ঞতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি ব্যক্তির গল্প দিয়েও পুরো দেশের চিত্র তুলে ধরা যায়। ক্রসচেকের গুরুত্ব যেকোনো প্রতিবেদনে তথ্য যাচাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত দুই বা তিনটি সূত্র থেকে নিশ্চিত হতে হবে উভয় পক্ষের বক্তব্য নিতে হবে একজন ভালো প্রতিবেদকের গুণ শক্তিশালী নিউজসেন্স বিশ্লেষণ ক্ষমতা নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাস রাজনীতি ও সমাজ সম্পর্কে জ্ঞান সৃজনশীলতা ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা দিন শেষে একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীরতা।
পত্রিকায় প্রকাশের উপযোগী প্রতিবেদন কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন বা সাধারণ প্রতিবেদন কিভাবে লিখতে হয় তা নিয়ে আমাদের জিজ্ঞাসা কিংবা দ্বিধা-দ্বন্দের শেষ নেই। এই দুই ধরণের প্রতিবেদন লেখার কলা-কৌশল নিয়ে আজকে আমরা খুব সহযে আলোচনা করব। ইংরেজি ‘Report writing’-এর পারিভাষিক রূপ ‘প্রতিবেদন লিখন’। আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা, বিষয় বা প্রসঙ্গ সম্পর্কে নির্মোহ, নিরপেক্ষভাবে তথ্যমূলক বিবৃতি লিখনকেই বলে প্রতিবেদন লিখন। বিষয় ও বৈচিত্র্য অনুসারে প্রতিবেদন বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। মূলত সাধারণ প্রতিবেদন বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন এবং সংবাদ প্রতিবেদন লেখার দরকার হয়। ক. প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন সাধারণত আমরা যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকি, সেই প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা, বিষয় বা প্রসঙ্গ সম্পর্কে যে প্রতিবেদন লিখতে হয়, সেটিই প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন বা সাধারণ প্রতিবেদন। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেসব অনুষ্ঠানাদি হয়ে থাকে, যেমন বার্ষিক বিজ্ঞানমেলা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বিতর্ক উৎসব, নবীনবরণ, বর্ষবরণ, বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদ্যাপন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিদায় অনুষ্ঠান, মিলাদ মাহফিল, বইমেলা ইত্যাদি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ অধ্যক্ষের কাছে লিখিত প্রতিবেদনই সাধারণ প্রতিবেদন বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন। ১. সাধারণ প্রতিবেদন লেখার জন্য প্রথমে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সাধারণ আবেদনপত্র লিখতে হয়। ২. আবেদনপত্রের ওপরের বাঁ দিকে তারিখ, এরপর কর্তৃপক্ষের পদবি-ঠিকানা, এরপর বিষয় ও সূত্র বা স্মারক নম্বর লিখতে হয়। (কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত চিঠির নম্বরই সূত্র বা স্মারক নম্বর)। ৩. আবেদনপত্রের শেষে নিচের বাঁ দিকে শিক্ষার্থীর নাম–ঠিকানা (প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত নাম-ঠিকানা) লিখতে হয়। ৪. পরে শিরোনামসহ মূল প্রতিবেদন লিখতে হয়। ৫. মূল প্রতিবেদনের প্রথম অনুচ্ছেদটি 5W + 1H সূত্র ব্যবহার করে লিখতে হয়। অর্থাৎ • W= What (কী ঘটছে/ঘটেছে) • W= Where (কোথায় ঘটছে/ঘটেছে) • W= When (কখন ঘটছে/ঘটেছে) • W= Who (কারা এর সঙ্গে জড়িত/সংশ্লিষ্ট) • W= Why (কেন ঘটছে/ঘটেছে) • H= How (কীভাবে ঘটছে/ঘটেছে) এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একত্র করে শিক্ষার্থী প্রথম অনুচ্ছেদটি লিখবে। ৬. প্রথম অনুচ্ছেদের পর একাধিক অনুচ্ছেদে ধারাবাহিকভাবে পুরো বিষয়টি বর্ণনা করতে হবে। ৭. মূল প্রতিবেদন লেখা শেষে বিনীত নিবেদক, ইতি, প্রতিবেদক এই কথাগুলো লেখা যাবে না। ৮. সাধারণ প্রতিবেদন বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন লেখায় কোনো খাম দিতে হয় না। তবে প্রতিবেদন লেখা শেষে প্রতিবেদক ও প্রতিবেদন–সম্পর্কিত একটি তথ্য-ছক দেওয়া যেতে পারে। খ. সংবাদ প্রতিবেদন অন্যদিকে নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সমস্যা, কোথাও ঘটে যাওয়া জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনা, দুর্ঘটনা বা বিষয় প্রসঙ্গ সম্পর্কে তথ্যমূলক বিবৃতি তুলে ধরে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই সংবাদ প্রতিবেদনের লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে আমরা হয়ে যাই কোনো পত্রিকার সাংবাদিক অর্থাৎ নিজস্ব সংবাদদাতা বা স্টাফ রিপোর্টার বা নিজস্ব প্রতিবেদক বা কোনো জেলা বা থানা প্রতিনিধি। একজন রিপোর্টার হিসেবে সংবাদপত্রে প্রকাশ উপযোগী করে এ ধরনের প্রতিবেদন লিখতে হয়। ১. সংবাদ প্রতিবেদন লিখতে সম্পাদক বা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনপত্র লিখতে হয় না। ২. শিরোনাম (হেডলাইন) দিয়ে প্রতিবেদন লেখা শুরু করতে হয়। হেডলাইন লেখার কতগুলো রীতি আছে। যেমন হেডলাইনের ফন্ট সাইজ সাধারণ লেখার ফন্ট সাইজ থেকে একটু বড় হয়, মূল প্রতিবেদনের ওপরে মাঝখান বরাবর লিখতে হয়। এ ক্ষেত্রে অন্য রঙের কালি ব্যবহার করলে ভালো। ৩. এরপর ডেটলাইন লিখতে হয়। প্রতিবেদকের নাম বা পদবি, প্রতিবেদন লেখার স্থান এবং প্রতিবেদন লেখার তারিখ—এই তিন তথ্যকে একত্রে ডেটলাইন বলে। ৪. ডেটলাইনের পর ইন্ট্রো বা প্রথম পরিচ্ছেদ লিখতে হয়। 5W + 1H সূত্র ব্যবহার করে দারুণভাবে প্রথম অনুচ্ছেদটি লেখা যায়। ৫. প্রথম অনুচ্ছেদের পর একাধিক অনুচ্ছেদে ধারাবাহিকভাবে বিষয়টি বর্ণনা করতে হবে। ৬. মূল প্রতিবেদন লেখা শেষে প্রতিবেদকের নাম, পদবি, বিনীত নিবেদক, ইতি— লেখা যাবে না। ৭. প্রতিবেদন লেখা শেষে খাম দিতে হবে না। ৮. সংবাদ প্রতিবেদন লিখনে প্রতিবেদককে অবশ্যই নির্মোহ ও নৈর্ব্যক্তিক হতে হবে। সংবাদ প্রতিবেদনে ভালো করতে হলে গাইড বই ছেড়ে দৈনিক কোনো পত্রিকার রিপোর্ট মনোযোগ দিয়ে পড়বে। প্রতিবেদন লেখার নিয়ম নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে প্রতিবেদন লেখার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ ও সচেতনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক ও সংবাদ প্রতিবেদন লেখার নিয়ম জানা এখন শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত কর্মশালা ও ক্লাসে প্রতিবেদন লেখার কৌশল শেখানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানান, আগে প্রতিবেদন লেখাকে কঠিন মনে হলেও এখন 5W + 1H সূত্র জানার ফলে বিষয়টি অনেক সহজ হয়েছে। শিক্ষকদের মতে, একটি ভালো প্রতিবেদন হতে হলে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক ও সুসংগঠিত হতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদনে সাধারণত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনুষ্ঠান যেমন বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বর্ণনা দেওয়া হয়। অন্যদিকে সংবাদ প্রতিবেদন লেখা হয় জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ঘটনা তুলে ধরার জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিবেদনের প্রথম অনুচ্ছেদে কী, কোথায়, কখন, কে, কেন এবং কীভাবে—এই ছয়টি প্রশ্নের উত্তর থাকা জরুরি। এতে পাঠক খুব সহজেই পুরো ঘটনার সারাংশ বুঝতে পারেন। এদিকে, নতুন প্রজন্মের অনেকেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লেখালেখির দিকে ঝুঁকছেন। ফলে সংবাদ প্রতিবেদন লেখার দক্ষতা অর্জন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। শিক্ষাবিদরা মনে করেন, নিয়মিত সংবাদপত্র পড়া এবং চর্চার মাধ্যমে খুব সহজেই দক্ষ প্রতিবেদক হয়ে উঠতে পারে। লেখার ধাপ: আবেদনপত্র প্রয়োজন হয় না আকর্ষণীয় শিরোনাম (হেডলাইন) দিয়ে শুরু করতে হয় এরপর ডেটলাইন (স্থান, তারিখ, প্রতিবেদকের পরিচয়) লিখতে হয় প্রথম অনুচ্ছেদে 5W + 1H সূত্র ব্যবহার করতে হয় পরবর্তী অংশে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও বর্ণনা দিতে হয় প্রতিবেদকের ব্যক্তিগত মতামত পরিহার করতে হয় 5W + 1H সূত্রের গুরুত্ব একটি ভালো প্রতিবেদনের মূল ভিত্তি হলো 5W + 1H: What (কি ঘটেছে) Where (কোথায় ঘটেছে) When (কখন ঘটেছে) Who (কারা জড়িত) Why (কেন ঘটেছে) How (কীভাবে ঘটেছে) এই ছয়টি প্রশ্নের উত্তরই একটি প্রতিবেদনের প্রথম অনুচ্ছেদকে শক্তিশালী করে।
মামুনুর রশীদ নোমানী: একটি ভালো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (Investigative Report) সাধারণত ইনভার্টেড পিরামিড (Inverted Pyramid) কাঠামো অনুসরণ করে, যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শুরুতে এবং কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেষে থাকে। এটি তথ্যনির্ভর, নির্ভুল, এবং প্রমাণসমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন । নিচে একটি আদর্শ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কাঠামো দেওয়া হলো: অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মূল কাঠামো: ১. শিরোনাম (Headline): আকর্ষণীয়, তথ্যবহুল ও ঘটনার মূল ভাব প্রকাশ করে এমন শিরোনাম। ২. লিড বা সূচনা (Lead/Introduction): সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, কে, কী, কখন, কোথায়, কেন এবং কীভাবে—এই ৫টি ডব্লিউ (5Ws - Who, What, When, Where, Why) ও ১টি এইচ (How) দিয়ে শুরু । ৩. প্রেক্ষাপট (Background/Context): ঘটনার পেছনের ইতিহাস বা কেন এই অনুসন্ধান করা হলো। ৪. মূল অনুসন্ধানী অংশ (The Investigation): * তথ্যের উৎস ও নথিপত্র বিশ্লেষণ । * সাক্ষাৎকার (ভিকটিম, বিশেষজ্ঞ, অভিযুক্ত) । * সাক্ষ্যপ্রমাণ ও তথ্যের যাচাইকরণ। ৫. বিরোধ বা সংঘাত (Conflict/Climax): কে বা কারা ক্ষতিগ্রস্ত এবং মূল বিরোধের জায়গা। ৬. অভিযুক্তের বক্তব্য (Response): অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ । ৭. উপসংহার ও প্রভাব (Conclusion/Impact): অনুসন্ধানের চূড়ান্ত ফল এবং এটি সমাজে কী প্রভাব ফেলবে। ৮. সুপারিশ বা ভবিষ্যৎ করণীয় (Recommendations): সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে । ৯. প্রতিবেদকের নাম ও তারিখ: প্রতিবেদনের শেষে নিজের নাম ও তারিখ উল্লেখ। লেখার কৌশল ও নিয়ম: স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত ভাষা: বাহুল্যবর্জিত এবং সরাসরি বক্তব্য । তথ্যের সত্যতা: তথ্যনির্ভর এবং প্রামাণ্য দলিল থাকা আবশ্যিক । শিরোনামের যথার্থতা: সংবাদ বা প্রতিবেদনের ভেতরের তথ্যের সাথে শিরোনামের মিল থাকা । একটি কার্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির জন্য এই কাঠামো অনুসরণ করলে তা পাঠকের কাছে স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য হয়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখার ৭টি কাঠামো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শুধু তথ্য প্রকাশ নয়, বরং একটি শক্তিশালী গল্প বলার শিল্প। সমাজের লুকানো সত্য তুলে ধরতে গেলে কেবল তথ্যই যথেষ্ট নয়—গল্পটি কীভাবে বলা হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গল্প বলার বিভিন্ন কাঠামো নিয়ে লেখক Christopher Booker তাঁর বিখ্যাত বই The Seven Basic Plots-এ যে ধারণাগুলো তুলে ধরেছেন, সেগুলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়। নিচে তুলে ধরা হলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো— ১. অভিযাত্রা (The Quest) এই কাঠামোয় গল্প এগোয় একটি লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে—সত্য উদঘাটনের যাত্রা। রিপোর্টার নিজে অথবা কোনো চরিত্র এই অভিযাত্রার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। ➡️ উদাহরণ: দুর্নীতির তথ্য বের করতে দীর্ঘ অনুসন্ধান ২. রহস্যের সন্ধানে (Mystery অনুসন্ধান) সব সময় সত্য পুরোপুরি উন্মোচিত হয় না। কিন্তু অনুসন্ধানের পথ, বাধা ও আংশিক সত্যও একটি শক্তিশালী গল্প হতে পারে। ➡️ যখন তথ্য অসম্পূর্ণ, কিন্তু অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ—তখন এই কাঠামো কার্যকর ৩. দানবের সাথে লড়াই (Overcoming the Monster) এখানে “দানব” হতে পারে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবস্থা। গল্পটি মূলত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের। ➡️ উদাহরণ: কর্পোরেট দুর্নীতি, মানবপাচার চক্র, বা পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৪. শূন্য থেকে শিখরে (Rags to Riches) কোনো ব্যক্তির উত্থানের গল্প—যেখানে তিনি নিচু অবস্থা থেকে উঠে সফলতার শিখরে পৌঁছান। ➡️ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এটি ব্যবহার হয় কোনো চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড তুলে ধরতে ৫. ট্র্যাজেডি (Tragedy) এই কাঠামোয় দেখানো হয় পতনের গল্প—ভুল সিদ্ধান্ত বা লোভের কারণে ধ্বংস। ➡️ উদাহরণ: বড় দুর্ঘটনা, কর্পোরেট পতন, বা অব্যবস্থাপনার ফলাফল ৬. যাওয়া, ফিরে আসা (Voyage and Return) এখানে একটি যাত্রা থাকে, যার শেষে চরিত্র আবার শুরুতে ফিরে আসে—তবে পরিবর্তিত অভিজ্ঞতা নিয়ে। ➡️ উদাহরণ: বিদেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে ফিরে আসা ৭. পুনর্জন্ম (Rebirth) এই কাঠামোয় কোনো চরিত্র বা পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে—অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরে আসা। ➡️ উদাহরণ: অপরাধী থেকে সমাজসেবী হয়ে ওঠার গল্প 📌 কাঠামো ব্যবহারে সতর্কতা একটি প্রতিবেদনে একাধিক কাঠামো একসাথে থাকতে পারে। তবে কোনটি মূল আর কোনটি গৌণ—তা পরিষ্কার রাখা জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— কাঠামো যেন সত্যকে বিকৃত না করে তথ্য যেন গল্পের সাথে মানানসইভাবে উপস্থাপিত হয় পাঠক যেন সহজে বিষয়টি বুঝতে পারে রিপোর্ট লেখার আগে নিজেকে যেসব প্রশ্ন করবেন গল্পের “দানব” আসলে কে? কারা ক্ষতিগ্রস্ত এবং কারা লাভবান? গল্পটি কি সত্যিই উত্থান নাকি এর পেছনে লুকানো দিক আছে? সব তথ্য কি পাওয়া গেছে, নাকি কিছু গোপন আছে? অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে শক্তিশালী করতে সঠিক গল্প কাঠামো নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু লেখাকে সুসংগঠিত করে না, বরং পাঠকের কাছে বিষয়টিকে আরও বোধগম্য ও আকর্ষণীয় করে তোলে। সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য সত্য তুলে ধরা—আর সেই সত্যকে প্রভাবশালীভাবে উপস্থাপন করতে গল্পের কাঠামো হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। লেখক : মামুনুর রশীদ নোমানী: সিনিয়র সাংবাদিক এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল 'বরিশাল খবর'-এর সম্পাদক। দৈনিক শাহনামার প্রধান বার্তা সম্পাদক । ইত্তেহাদ নিউজের সিনিয়র প্রতিবেদক। রিশাল মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ন সম্পাদক । সভাপতি : বরিশাল অনলাইন সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বরিশাল অনলাইন প্রেসক্লাব।নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা : এফ এফ এল বিডি ফাউন্ডেশন।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বা ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট লেখার জন্য সুনির্দিষ্ট বিষয় নির্বাচন, গভীর গবেষণা, তথ্যের সত্যতা যাচাই, এবং নিরপেক্ষ উপস্থাপন অপরিহার্য। এটি সাধারণত একটি আকর্ষণীয় শিরোনাম, ঘটনার প্রেক্ষাপট, বিস্তারিত প্রমাণ, সোর্স বা সাক্ষ্যের উদ্ধৃতি এবং শেষে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ বা উপসংহার নিয়ে সাজানো হয়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখার মূল নিয়মাবলী: বিষয় নির্বাচন ও পরিকল্পনা: জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ও গোপন কোনো ঘটনা (যেমন- দুর্নীতি, অপরাধ, অনিয়ম) বেছে নিন । কাজের শুরুতে একটি খসড়া পরিকল্পনা ও করণীয় তালিকা তৈরি করুন । তথ্য সংগ্রহ (Investigation): সরেজমিনে তদন্ত করুন। সরকারি নথিপত্র, গোপন তথ্য ও নির্ভরযোগ্য সোর্সের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন । তথ্যের সত্যতা যাচাই: সংগৃহীত প্রতিটি তথ্য, দলিল বা অভিযোগের সত্যতা দুই বা ততোধিক সোর্স থেকে নিশ্চিত হোন। কাঠামো তৈরি: আকর্ষণীয় শিরোনাম (Headline): বিষয়বস্তু ফুটে ওঠে এমন শিরোনাম দিন । সূচনা (Lead): প্রথম প্যারাগ্রাফে মূল ঘটনার সারসংক্ষেপ সংক্ষেপে তুলে ধরুন । মূল অংশ (Body): ধারাবাহিকভাবে ঘটনার বিবরণ, প্রমাণ, এবং সাক্ষ্য উপস্থাপন করুন । সাক্ষাৎকার ও উদ্ধৃতি: ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরুন । উপসংহার ও সুপারিশ: প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মতামত বা করণীয় উল্লেখ করুন । ভাষা ও শৈলী: ভাষা স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক হতে হবে। সাহিত্যিক অলংকরণের চেয়ে তথ্যের সত্যতার ওপর জোর দিন । নিরাপত্তা: সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে নিজের ও সোর্সের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। সবসময় মনে রাখবেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নেতিবাচক ঘটনার পাশাপাশি ইতিবাচক বা উন্নয়নমূলক উদ্যোগও উঠে আসতে পারে । অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়—এটি একটি সুসংগঠিত, ধৈর্যপূর্ণ এবং কৌশলনির্ভর প্রক্রিয়া। অনেক সময় রিপোর্টাররা বুঝতেই পারেন না কোথা থেকে শুরু করবেন। বিশেষ করে বড় প্রকল্পে লেখার প্রথম কয়েকটি অনুচ্ছেদই হয়ে ওঠে সবচেয়ে কঠিন কাজ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাধা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিকতা এবং লেখার অভ্যাস। এখানে তুলে ধরা হলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখার ৯টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল— ১. নিজের কাজের ধরণকে গুরুত্ব দিন সব সাংবাদিক একভাবে কাজ করেন না। কেউ কাঠামোবদ্ধভাবে এগোন, আবার কেউ কাজ করেন স্বজ্ঞা ও সৃজনশীলতার ভিত্তিতে। নিজের কাজের ধরণ বুঝে সেটিকে কাজে লাগানোই সবচেয়ে কার্যকর। ২. এলিভেটর পিচ তৈরি করুন স্টোরির মূল ধারণা ২–৪ বাক্যে বলতে না পারলে, বুঝতে হবে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার হয়নি। সংক্ষিপ্ত সারাংশ তৈরি করলে লেখার দিক নির্ধারণ সহজ হয়। ৩. লেখা শুরু করতে দেরি করবেন না অনেকেই রিপোর্টিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত লেখেন না। কিন্তু এতে কাজ জমে যায়। প্রথম খসড়া নিখুঁত না হলেও লিখতে শুরু করাই গুরুত্বপূর্ণ। ৪. মাঠের কণ্ঠকে গুরুত্ব দিন মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রাণ। সরেজমিনে গিয়ে সংগ্রহ করা সাক্ষাৎকার গল্পকে জীবন্ত করে তোলে। ৫. মানুষের গল্পকে কেন্দ্রে রাখুন ডেটা ও তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও পাঠককে ধরে রাখে মানুষের গল্প। কে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কেন হচ্ছে—এসব তুলে ধরাই মূল কাজ। ৬. ভাষা সহজ রাখুন জটিল শব্দ ও প্রযুক্তিগত ভাষা পাঠককে দূরে সরিয়ে দেয়। সহজ, পরিষ্কার ও বোধগম্য ভাষায় লেখা বেশি কার্যকর। ৭. তথ্যের ফাঁক পূরণ করুন অনুসন্ধানে প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় না। সেই ফাঁকগুলো খুঁজে বের করা এবং পূরণ করাই একটি শক্তিশালী প্রতিবেদনের ভিত্তি। ৮. সম্পাদকের সঙ্গে কাজ করুন একটি ভালো সম্পাদক পুরো স্টোরিকে সুসংগঠিত করতে সাহায্য করেন। জটিল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৯. প্রশ্ন করতে থাকুন প্রতিটি তথ্য যাচাই করুন। কোনো বক্তব্য সরাসরি সত্য ধরে নেবেন না। একটি ঘটনার একাধিক দিক থাকতে পারে—সব দিকই খতিয়ে দেখা জরুরি। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যেখানে ধৈর্য, বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক কৌশল অনুসরণ করলে জটিল তথ্যও পাঠকের জন্য সহজ ও প্রভাবশালীভাবে তুলে ধরা সম্ভব। সাংবাদিকতার এই ধারায় সফল হতে হলে শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং গল্প বলার দক্ষতাও সমান জরুরি।
মাসুদ করিম: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় থেকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি ধারণা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—যুদ্ধ এখন আর শুধু ভূখণ্ড দখল বা সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি অর্থনীতি, জ্বালানি এবং বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক জটিল প্রতিযোগিতা। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত—এই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পরও ইরানে সরকার পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। জ্বালানি: যুদ্ধের আসল কেন্দ্রবিন্দু? বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সংঘাতগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্বালানি ও বাণিজ্য পথ। বিশেষ করে: হরমুজ প্রণালি কৃষ্ণসাগর অঞ্চল বৈশ্বিক তেল সরবরাহ চেইন বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। এলএনজি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ করার পর ইউরোপ রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাধ্য হয়। এর ফলে: যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ওঠে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক ইউরোপ স্পট মার্কেটে বেশি দামে গ্যাস কিনতে শুরু করে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি পায় তবে এই লাভের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেন যুদ্ধে বিপুল অর্থ ব্যয়ও করতে হয়েছে। লাভ বনাম ঝুঁকি: জটিল সমীকরণ যদিও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানিকারকরা লাভবান, তবুও বড় কিছু ঝুঁকি রয়ে গেছে: দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ অর্থনীতিকে দুর্বল করতে পারে জোট রাজনীতিতে চাপ বাড়ে সামরিক ব্যয় বাড়তে থাকে এছাড়া, কাতারের মতো দেশ যদি হরমুজ প্রণালির ঝুঁকির কারণে রপ্তানি কমায়, তাহলে বিশ্ববাজারে এলএনজি দাম আরও বাড়তে পারে—যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্বল্পমেয়াদে সুবিধা আনলেও দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ: নতুন ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাতগুলো আসলে তিনটি বিষয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণের লড়াই: জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) সমুদ্রপথ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার সহজ হয়। বাংলাদেশ: চাপের মুখে অর্থনীতি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন: জ্বালানির দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ে ফলে বৈশ্বিক সংঘাতের সরাসরি অংশীদার না হয়েও বাংলাদেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে। নিরাপত্তা বনাম নির্ভরতা দশকের পর দশক ধরে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু যদি সেই নির্ভরতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তা শুধু সামরিক নয়—একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। শেষ কথা: যুদ্ধের শেষ কোথায়? বর্তমান বাস্তবতায় একটি বিষয় পরিষ্কার— এই যুদ্ধের কোনো সহজ সমাপ্তি নেই। এটি: আঞ্চলিক সংঘাতের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে জ্বালানি বাজারকে পুনর্গঠন করছে নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি করছে অতএব, প্রশ্নটি এখন আর শুধু “কে জিতবে?” নয়— বরং “এই যুদ্ধ থেকে কে কতটা লাভবান হবে, আর তার মূল্য কে দেবে?”
মেঘনা গুহ ঠাকুরতা: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ—বাংলার ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় কালরাত। এই রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে চালায় বর্বরোচিত গণহত্যা। তাদের লক্ষ্য ছিল বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া। কিন্তু সেই রক্তাক্ত রাতই উল্টো বাঙালিকে স্বাধীনতার পথে আরও দৃঢ় করে তোলে। সেই রাতের ভয়াবহতার শিকার হন অসংখ্য নিরীহ মানুষ, শিক্ষক, ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী। তাদেরই একজন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা। সেদিন রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন তিনি। সেদিনের ভয়াবহতার কিছু স্মৃতি তুলে ধরেছেন তার একমাত্র মেয়ে অধ্যাপক মেঘনা গুহ ঠাকুরতা। 🔥 গণহত্যার বিভীষিকা ২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি সেনারা হঠাৎ করেই হামলা চালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও পিলখানায়। জগন্নাথ হল, ইকবাল হল (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল)-সহ বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই নির্মম হত্যাযজ্ঞে শুধু ঢাকাতেই হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বন্ধ করে দেওয়া হয় টেলিফোন, রেডিও ও টেলিগ্রাম ব্যবস্থা। 🏠 ৩৪ নম্বর ভবনের সেই রাত অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা থাকতেন শহীদ মিনার আবাসিক এলাকার ৩৪ নম্বর ভবনে। তার মেয়ে মেঘনা গুহ ঠাকুরতা সেই রাতের স্মৃতি তুলে ধরেন। তার ভাষায়, ২৫ মার্চ রাত প্রায় ১১টার দিকে পাকিস্তানি সেনারা তাদের বাসায় হানা দেয়। এক কর্মকর্তা ও দুই সৈনিক এসে জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতাকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে অন্য ফ্ল্যাটগুলোতে তল্লাশি চালায়। এক পর্যায়ে শিক্ষক মনিরুজ্জামান এবং তার সঙ্গে থাকা তিনজন তরুণকে টেনে-হিঁচড়ে এনে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। 💔 “আপনার হাজবেন্ডকেও হয়তো মেরেছে” মনিরুজ্জামানের স্ত্রী এসে মেঘনার মাকে জানান—“আপনার হাজবেন্ডকেও হয়তো মেরেছে।” আতঙ্কিত পরিবার দ্রুত বাইরে গিয়ে দেখতে পায়, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন। মেঘনা জানান, সেনারা তার বাবার নাম ও ধর্ম জিজ্ঞেস করার পর গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঘরে এনে রাখা হয়, কারণ তখন কারফিউ চলছিল। 🏥 মৃত্যুপুরীতে পরিণত ঢাকা মেডিক্যাল ২৭ মার্চ কারফিউ শিথিল হলে তাকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে অবস্থা সংকটজনক হয়ে ওঠে। মেঘনার ভাষায়, হাসপাতালের করিডর, মেঝে—সব জায়গা লাশ ও আহত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ ছিল। চারদিকে রক্তের গন্ধ, আর্তনাদ আর মৃত্যুর মিছিল। চিকিৎসকরা জানান, তাকে আর বাঁচানো সম্ভব নয়। অবশেষে ৩০ মার্চ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 🕯️ ইতিহাসের এক অমোচনীয় ক্ষত ২৫ মার্চের সেই কালরাত শুধু একটি হত্যাযজ্ঞ নয়—এটি বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক নির্মম অধ্যায়। এই রাতেই শুরু হয় দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, যার মাধ্যমে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা সহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ বাঙালির ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে।
জুলহাস আলম: আমাদের শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, সাখাওয়াত আলী খান ৯ মার্চ ২০২৬ প্রয়াত হয়েছেন। স্যারের মৃত্যুতে গণমাধ্যমে ও অন্যান্য খাতে ছড়িয়ে থাকা অগণিত শিক্ষার্থীর হৃদয় ভারাক্রান্ত। আমরা যারা স্যারের সরাসরি ছাত্র, স্যারের বিদায়ে আমরা আবেগাপ্লুত হয়েছি। খবরটা যখনই পেলাম, আমার সামনে একজন শিক্ষকের, একজন অভিভাবকের প্রতিকৃতি ভেসে উঠল। ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি, ব্যাকব্রাশ করা চুল, মোটা ফ্রেমের চশমা, স্মিত হাসি, পরিষ্কার কণ্ঠ, সৌম্য, সুদর্শন একজন মানুষ। বুদ্ধিদীপ্ত চোখ, নরম করে কথা বলার স্টাইল—যুক্তি আবার কখনো হিউমার মিশ্রিত বাক্য চয়ন। শ্রেণীকক্ষে তিনি গল্প বলে ক্লাস নিতেন। যা বলতেন তা ছবির মতো পরিষ্কার। সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা, ফিচার লেখা—এসব বিষয় পড়ানোর সময় ক্লাস প্রাণবন্ত হয়ে উঠত। ২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত অধ্যাপনা থেকে অবসর নেন। তারপরও যুক্ত ছিলেন বিভাগে। অনারারি অধ্যাপক হিসেবে। যুক্ত ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও। স্যারকে প্রথম জানা শুরু করি বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরপরই। বোধ হয় তখনো স্যারের কোনো ক্লাস পাইনি। এর মধ্যে আমি ম্যাস লাইন মিডিয়া সেন্টার (এমএমসি) নামের একটি গণমাধ্যম সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানে টুকটাক লেখালেখির কাজ শুরু করি। সেখানে একটা পাবলিকেশন বের হবে, তাই কিছু সাক্ষাৎকার লাগবে।এমএমসির প্রধান নির্বাহী কামরুল হাসান মঞ্জু ভাই আমাকে বললেন সবগুলো সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য। তিনি আমাকে সাখাওয়াত স্যারের কাছে যেতে বললেন। এদিকে আমি ভয়ে অস্থির। একেবারেই নবীন আমি। কেবল আমি সাংবাদিকতার ফাইভ ডবলিউজ ও ওয়ান এইচ (5W, 1H) এর সাথে পরিচিত হচ্ছি। ...ভয় কেটে গেল। তারপর সাক্ষাৎকার নিয়ে ফিরলাম। পরবর্তী জীবনে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এই ফর্মুলা আমার কাজে লেগেছে। কোনো সাক্ষাৎকার নিতে গেলে কী করে সাক্ষাৎকার প্রদানকারীদের সহজ করে নিতে হয়, আস্থার জায়গায় নিতে হয়, সেই শিক্ষা আমি সেদিন পেয়েছিলাম ক্লাসরুমের বাইরে। একজন প্রথিতযশা অধ্যাপককে ইন্টারভিউ করার সাহস আমার হওয়ার কথা নয়। তাও আবার গণমাধ্যমের পলিসি লেভেল নিয়ে। মুক্ত সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্র নিয়ে। দৌড়ে গেলাম পাবলিক লাইব্রেরিতে। প্রশ্ন তৈরি করতে হবে। শেষে একগুচ্ছ প্রশ্ন তৈরি করে গেলাম স্যারের বাসায়। ভয়ে ভয়ে গেলাম।স্যার একটা সাদা পায়জামা ও ফতুয়া পরে আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কী আশ্চর্য! যেখানে আমি ভয়ে অস্থির—কী থেকে কী বলে ফেলি! তিনি মুহূর্তেই আমাকে সহজ করে দিলেন। বললেন, তোমার হাতে সময় আছে? তাহলে চা খেতে খেতে গল্প করা যাক। আমি বললাম, সময় আছে। স্যার খুশি হলেন, বললেন, শেষে সাক্ষাৎকার দেওয়া যাবে। আমার বাবা, মার খবর নিলেন। কোথায় থাকি, বাড়ি কোথায়, কেন সাংবাদিকতা পড়তে আসলাম ইত্যাদি। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে সাংবাদিকতা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হলো, সেসব নিয়ে গল্প করলেন। নিজের অজান্তেই কখন যেন সহজ হয়ে গেলাম। মনে হলো, একজন অতি আপনজনের সাথে বহুদিন পর দেখা হয়েছে। ভয় কেটে গেল। তারপর সাক্ষাৎকার নিয়ে ফিরলাম। পরবর্তী জীবনে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এই ফর্মুলা আমার কাজে লেগেছে। কোনো সাক্ষাৎকার নিতে গেলে কী করে সাক্ষাৎকার প্রদানকারীদের সহজ করে নিতে হয়, আস্থার জায়গায় নিতে হয়, সেই শিক্ষা আমি সেদিন পেয়েছিলাম ক্লাসরুমের বাইরে। সেই থেকে বুঝতে পেরেছি একজন সোর্স কেবল একজন তাৎক্ষণিক সোর্স নয়, বরং এটা একটা সম্পর্ক, আস্থা ও বিশ্বাসের। বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় আমার শিক্ষক অধ্যাপক আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী স্যারের অনুপ্রেরণায় নিয়মিত একটা দেয়াল পত্রিকা বের করার সিদ্ধান্ত নেই। আমরা কয়েকজন মিলে শুরু করি। হাতে লেখা দেয়াল পত্রিকা বের করলাম। দেয়ালে টানালাম সেটা। একদিন সকালে দেখি সাখাওয়াত স্যার করিডোরে একা দাঁড়িয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে সেটা পড়ছেন। আমি পাশে গিয়ে দাঁড়াতেই তিনি খুব প্রশংসা করলেন। বললেন, এটা ছাপা ফরম্যাটে বের করার চেষ্টা করো। খুব ভালো হবে। আমার মাথায় যথারীতি ভাবনাটা গেঁথে গেল। তৎকালীন বিভাগীয় চেয়ারপার্সন অধ্যাপক সিতারা পারভীন ম্যাডামকে বললাম যে একটা পত্রিকা বের করতে চাই। সাখাওয়াত স্যারের কথা বললাম। ম্যাডাম বললেন, কী করতে চাও সেটার একটা লিখিত প্রস্তাবনা দাও। তারপর গেলাম আহাদুজ্জামান স্যারের কাছে। তিনি তখন আমার টিউটোরিয়াল শিক্ষক। স্যার উৎসাহ দিলেন। লেখা সংগ্রহের কাজ শুরু হলো। আমি তখন সেগুনবাগিচায় অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নিয়ে একটা লেখা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিলাম। পরবর্তীতে এডিটরিয়াল বোর্ড আমার লেখাটাকে কভার স্টোরি বা প্রধান লেখা হিসেবে ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিলো। পত্রিকা বের হলো। প্রথম সংখ্যার প্রথম প্রধান লেখাটা আমার। আমি খুশি অনেক। সাখাওয়াত স্যার আমাকে ডাকলেন। অনেক খুশি হয়েছেন স্যার। অনেক উৎসাহ দিলেন। শিক্ষক তিনিই, যিনি সাধারণত ক্লাসে পড়ান। অনেকেই শিক্ষক হতে পারেন, কিন্তু সবাই গুরু নন। সাখাওয়াত স্যার আমাদের অনেকের কাছেই শিক্ষাগুরু। বিভাগের বাইরে, কোনো টিভি স্টেশনে বা সেমিনারে, যতবারই দেখা হয়েছে, তিনি আদর করে কাছে ডাকতেন, পরম মমতায় খোঁজ খবর নিতেন। একজন ইতিহাস সচেতন, সংস্কৃতিমনা এবং যোগাযোগ ভাবনায় ডুবে থাকা মানুষ ছিলেন স্যার। সাংবাদিকতাকে তিনি অনেক দায়িত্বশীল পেশা হিসেবে তুলে ধরতেন। কবিতা ভালবাসতেন। বিভাগে একবার জীবনানন্দ দাশের কবিতা পড়তে সাহস করলাম। তিনি ছিলেন বিচারক। ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি পড়লাম। তিনি পরে ডেকে আমাকে বললেন, জীবনানন্দ দাশের কবিতায় যে মেলানকলি (Melancholy) আছে সেটা ধরতে কত গভীরে প্রবেশ করতে হয়, সে বিষয়ে কথা বললেন। আমি মুগ্ধ হয়ে স্যারের কথা শুনলাম। কত সহজ করে আমাকে বুঝিয়ে দিলেন! তারপর থেকে জীবনানন্দ দাশ আমার কাছে অন্যরকম অর্থ তৈরি করলো। তিনি বললেন, তার কবিতায় প্রচুর রূপকল্প আছে। চোখ বন্ধ করলে তা অনুভব করা যায়। হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে হয় তা। সাখাওয়াত স্যারের সেই কথাগুলো এখনো আমার কানে বাজছে। সাখাওয়াত স্যার নিজে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন, শিক্ষকতা করেছেন, দেশ-বিদেশের জার্নালে প্রবন্ধ লিখেছেন, পত্রিকায় কলাম লিখেছেন। অভিজ্ঞতায় ভরপুর একজন মানুষ। বিনয়ী, আবার বাবার মতো অভিভাবকসুলভ ছিলেন। সাখাওয়াত স্যার নিজে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন, শিক্ষকতা করেছেন, দেশ-বিদেশের জার্নালে প্রবন্ধ লিখেছেন, পত্রিকায় কলাম লিখেছেন। অভিজ্ঞতায় ভরপুর একজন মানুষ। বিনয়ী, আবার বাবার মতো অভিভাবকসুলভ ছিলেন। মজাও করতেন। একবার বেসরকারি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত একটা তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্যারের সাথে আমিও অতিথি হিসেবে মঞ্চে ছিলাম। পাশাপাশি বসলাম। স্যারকে বললাম, খুব ভালো লাগছে স্যার আপনাকে পেয়ে। আপনার বয়স বাড়েনি স্যার। হাসলেন তিনি। বললেন, তুমি ঠিকই বলেছ, আগে ছিলাম খোকা, আর এখন হয়েছি বুড়ো খোকা! বলেই হাসলেন। স্বভাবসুলভ খোঁজ খবর নিলেন আমার, আমার পরিবারের। জানতে চাইলেন আমার প্রতিষ্ঠান এপি কেমন চলছে ইত্যাদি। খুব খুশি হলেন তিনি। অন্য অতিথিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন এই বলে যে, ও আমার ছাত্র। বিদায়ের সময় মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করলেন, নিজের জন্য দোয়া চাইলেন। প্রিয় সাখাওয়াত স্যার আজ আর নেই। সাংবাদিকতা শিক্ষার একজন পথিকৃৎকে হারালাম আমরা। একজন অভিভাবককে হারালাম আমরা। স্যারের সাথে টুকরো টুকরো স্মৃতি বয়ে চলব সারা জীবন। স্যারের জন্য প্রার্থনা। জুলহাস আলম : ব্যুরো প্রধান, এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
ড. মো. অলিউর রহমান: তিনি নি নেই-এই সত্যটি আজও মেনে নিতে পারছিনা। তাই দুদিন ধরে মনটা খুব ভারী হয়ে আছে। মনে হচ্ছে, আমার খুব চেনা এক পৃথিবী হঠাৎ নিঃশব্দে হারিয়ে গেছে। তার চলে যাওয়া মানেই আমার একান্ত চেনাজগৎ থেকে আলো নিভে যাওয়া। যেন পরিচিত অক্ষরগুলো হঠাৎ ঝাপসা হয়ে যাওয়া। বলছি, আমার-আমাদের শিক্ষাগুরু অধ্যাপক সাখাওয়াত স্যারের কথা, যিনি আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। সম্প্রতি স্ট্রোক করার পর কয়েক দিনের চিকিৎসা শেষে রবিবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে আমার শিক্ষক, পথপ্রদর্শক ও পিতৃসম অভিভাবক 'শিক্ষাগুরু সাখাওয়াত আলী খান স্যার'। আমার একাডেমিক জীবনের প্রতিটি বাঁকেই তার স্নেহময় নির্দেশনা পেয়েছি। প্রায় ৯ বছর ধরে নানা চড়াই-উতরাই অভিজ্ঞতায় তার তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণার সময় আমি শুধু গবেষণার কর্মপদ্ধতিই শিখিনি, অধিকন্তু শিখেছি সততা, নৈতিকতা আর মানবিকতার এক নির্মল পাঠ। এমফিল অধ্যয়নকালেও তার স্নেহময় দিকনির্দেশনা আমাকে অধ্যয়ন-গবেষণার মর্মসন্ধানে অনুপ্রাণিত করেছিল। স্যারের বাসায় গিয়ে দীর্ঘ আলাপ, তার স্নেহময় পরামর্শ-সবই আজ স্মৃতির ভান্ডারে সমুজ্জ্বল। করোনাকালে খালাম্মা মালেকা খান ও স্যারের ছেলে নওশের আলী খানের কড়া অনুশাসন জারি থাকায় স্যারের সঙ্গে দেখা হতো না ঠিকই; কিন্তু স্যারের সঙ্গে মানবিক জীবনের ফোনালাপ ছিল নিয়মিত। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষার ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে সাখাওয়াত স্যারের নাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক (সম্মান) কোর্সের প্রবর্তন তারই হাত ধরে। তিনি বিভাগের চেয়ারম্যান থাকাকালে সাংবাদিকতা শিক্ষার একাডেমিক জগতের যে সম্প্রসারণ ঘটে, তা সময়ান্তরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক ধরে এ দেশে সাংবাদিকতা শিক্ষায় তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ সম্পাদনা ও ফিচার লিখন কোর্সে আমি আজও তার বিকল্প খুঁজে পাইনি-সম্পাদনার শিল্প, কৌশল ও দর্শনের গভীরতা তিনি যেভাবে বোধগম্য করে তুলতেন, তা ছিল সত্যিই অতুলনীয়। সাংবাদিকতায় ফিচার লেখাকে তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতার নিরিখে মানবিক জীবনের গল্প বলার সংবাদ-শিল্পকলায় উন্নীত করতে আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। 'সাখাওয়াত স্যার' এক উষ্ণ মানবিক সম্পর্কের নাম। তিনি ছিলেন আমার কাছে পরশ-মানবব্যক্তিত্ব। দেশ, কাল, সমাজ ও রাজনীতিসচেতন মানুষ ছিলেন তিনি, কিন্তু জাতীয় রাজনীতি তথা সুবিধাবাদী পালাবদলের পঙ্কিল রাজনীতির সামান্য কলুষতাও কোনো দিন তার পরিচ্ছন্ন ও সমুজ্জ্বল ব্যক্তিত্বকে এতটুকু কলুষিত করতে পারেনি। পরিস্থিতির শিকার হয়ে কর্মস্থলের নানা টানাপড়েন ও চড়াই-উতরাইয়ে যখন হতাশ হয়ে পড়তাম, তখন তিনি সান্ত্বনা দিতেন। পিতৃতুল্য অনুশাসনের স্বরে বলতেন- 'আর একটু ধৈর্য ধরো, সামনেই তোমার ভালো দিন অপেক্ষা করছে। তুমি আমাকে না জানিয়ে চাকরি বা দায়িত্ব ছাড়ার আর কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না কিন্তু।' তার এই স্নেহময় বাক্যগুলো আজও আমাকে নিয়ত পথ দেখায়। তার হাস্যোজ্জ্বল, যুক্তিবাদী ও সহিষ্ণু ব্যক্তিত্ব, ভিন্নমতকে শ্রদ্ধাভরে গ্রহণের গুণাবলি-এসব কাছ থেকে না দেখলে বা তার সান্নিধ্যে না এলে বোঝানো যাবে না। তিনি ছিলেন একাধারে অভিজাত পরিবারের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় সংগঠক এবং প্রগতিশীল চেতনার ধারক ও বাহক। স্যারের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষকতার জীবন অবধি বিভিন্ন পরিমণ্ডলে তার যে অপরিমেয় সান্নিধ্য আমি পেয়েছি, তা জ্ঞানচর্চার সততা ও নৈতিকতার কঠিন পাঠ, যা আজীবন আমাকে প্রেরণা জুগিয়ে যাবে। গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকতা বিভাগ চালুর সময় তিনি শুরু থেকেই পাশে ছিলেন। ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর বিভাগের উদ্বোধন করেছিলেন তিনি নিজ হাতে। পাঠক্রম পরিকল্পনা থেকে ক্লাস পরিচালনা অবধি-সব ক্ষেত্রেই তার মূল্যবান পরামর্শ ছিল আমার অনন্য পাথেয়। জাতীয় জীবনে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশ্নে তিনি আমাকে প্রায়ই খোঁজ নিতে বলতেন। কে জানত, তার সেই অনুসন্ধিৎসু যোগাযোগ স্মৃতি একদিন হয়ে উঠবে এমন অফুরান প্রেরণার বাতিঘর। তিনি চলে গেছেন-এ কথা মনে হয় ভুল। কারণ, স্যার আসলে চলে যাননি। তিনি ফিরে এসেছেন আমাদের মূল্যবোধ জাগ্রত করতে-আমাদের চেতনার বর্ধিত পরিসরে। তার পরশ, তার উপস্থিতি আমরা চিরকাল টের পাব। সাংবাদিকতা শিক্ষার এই মহিরুহ, বহু শিক্ষকের শিক্ষক, আমার প্রিয় শিক্ষাগুরু অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। স্যার, আপনার কাছে আমরা চিরঋণী। লেখক: ড. মো. অলিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারপার্সন, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগ গ্রিন ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ। Ph.D. on RTI [1st Ph.D. Degree on the Right to Information Act in Bangladesh]; Title of Thesis: “Journalists’ Access to Information: Pre and Post-Situation Analysis of the Right to Information Act” Fellow of IIJ (Berlin) Germany,M. Phil. in Mass Communication, B.A (Hons.) & M. A in Mass Communication and Journalism। এই নিবন্ধটি অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের স্মরণে তাঁর ছাত্র ড. মো. অলিউর রহমানের একটি আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি। নিবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো: এক জীবনের অফুরান প্রেরণার বাতিঘর বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা: লেখক তাঁর প্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁকে একজন শিক্ষক, পথপ্রদর্শক এবং 'পিতৃসম অভিভাবক' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতায় অবদান: অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদান রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ চালু করার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে তিনি এই পেশায় অসংখ্য শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন। ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ: তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল, যুক্তিবাদী এবং সহনশীল একজন মানুষ। লেখক উল্লেখ করেছেন যে, কঠিন সময়ে স্যার তাঁকে সাহস জোগাতেন এবং সততা ও নৈতিকতার সাথে পথ চলার শিক্ষা দিতেন। তাঁর সান্নিধ্য লেখকদের গবেষণায় এবং পেশাগত জীবনে গভীর অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। শেষ জীবন: সম্প্রতি স্ট্রোক করার পর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও শিক্ষা অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ১. শোকের সূচনা নিবন্ধের শুরুতেই লেখক তাঁর প্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, স্যারের চলে যাওয়া মানে তাঁর পরিচিত জগতের আলো নিভে যাওয়া। সম্প্রতি স্ট্রোক করার পর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ২. শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে স্যার লেখক দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্যারের সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি তাঁকে শুধু শিক্ষক নয়, বরং একজন 'পিতৃসম অভিভাবক' ও পথপ্রদর্শক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ড. অলিউর রহমান তাঁর অধীনে পিএইচডি গবেষণা করেছিলেন এবং দীর্ঘ ৯ বছর স্যারের তত্ত্বাবধানে কাজ করার সময় তাঁর সততা, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলী কাছ থেকে দেখেছেন। ৩. সাংবাদিকতা শিক্ষায় অবদান বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার বিকাশে সাখাওয়াত আলী খানের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ (বর্তমানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ) চালুর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। প্রায় পাঁচ দশক ধরে তিনি সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রসারে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। রিপোর্টিং, ফিচার লিখন এবং সংবাদ সম্পাদনার মতো জটিল বিষয়গুলোকে তিনি অত্যন্ত সহজ ও দর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতেন। ৪. ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য লেখক স্যারের কিছু অনন্য গুণের কথা উল্লেখ করেছেন: তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও যুক্তিবাদী। কর্মক্ষেত্রের নানা চড়াই-উতরাইয়ে লেখক যখন হতাশ হতেন, তখন স্যার তাঁকে সাহস জুগিয়ে বলতেন, "আর একটু ধৈর্য ধরো, সামনে তোমার ভালো দিন অপেক্ষা করছে।" তিনি ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা জানাতেন এবং সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। পরিবার ও সমাজের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ ছিল অনুকরণীয়। ৫. শেষ বিদায় ও কৃতজ্ঞতা নিবন্ধের শেষে লেখক অত্যন্ত আবেগপূর্ণভাবে বলেছেন যে, যদিও স্যার শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ ও শিক্ষা চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর সাংবাদিকতা বিভাগে স্যারের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। সবশেষে তিনি স্যারের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। নিবন্ধটি শেষ হয়েছে স্যারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তাঁর প্রতি চিরস্থায়ী কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ-এর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ স্থানীয় কর্মচারী ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি বিগত সরকারের সময় তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক-এর প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, রেস্টহাউজের ভাড়া পরিশোধ না করা এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের বিষয়ও সামনে এসেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীদের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা প্রদান, ঘুষের বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য, তদন্তের নামে অর্থ আদায় এবং অধীনস্ত কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মতো ঘটনাও ঘটেছে তার মাধ্যমে। কর্মচারীদের একটি অংশ দাবি করেন, নিয়মিত ছুটি ছাড়াই তিনি নিজ জেলা ঝিনাইদহে যাতায়াত করতেন, যা সরকারি বিধি লঙ্ঘনের শামিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত রেষ্টহাউজের ভাড়া পরিশোধ করেননি।নির্ধারিত বাসা থাকলেও তিনি সেখানে না থেকে রেষ্ট হাউজে বিনা ভাড়ায় বিদ্যুৎ,পানি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহন করেছেন। ব্যাংক এশিয়া পোষ্ট অফিসে নিষিদ্ধ থাকলেও তিনি নিয়মিত বাজার ও অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে পোষ্ট অফিসের অভ্যান্তরে বসে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে "প" অদ্যক্ষরের এক নারীকে কু প্রস্তাব দেয়ার কারনে তিনি পোষ্ট অফিস ত্যাগ করেছেন। সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ-এর বিরুদ্ধে বাজেটের টাকা থেকে বিদ্যুৎ বিল,ও বাজার করার অভিযোগও রয়েছে। ভুয়া ভাউচার দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাত, কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরনে সকলেই অতিষ্ঠ। আব্দুর রশিদ-এর সাফ কথা আমাকে তেল দিয়ে চলতে হবে।আমার কথাই আদেশ। সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ পোষ্ট অফিসকে বানিয়েছেন ঘুষের আখড়া। তার কাছে ঘুষই প্রধান।তিনি একই লোককে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বদলী করছেন। যে সেভিংস বিভাগে আত্মসাৎ সেখানেই নুরুল কবির ও তানজিম হোসেনকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বদলী করা হয়েছে। অফিসের মধ্যে তিনি নুরুজ্জামান ও মশিউর রহমানকে নিজের লোক বনিয়েছেন, ফলে তাদের কোন বদলী নাই। কিছু কর্মচারীর দাবি, বাজেটের অর্থ থেকে বিদ্যুৎ বিল ও ব্যক্তিগত খরচ মেটানো, ভুয়া ভাউচার ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তদন্তের মাধ্যমে হয়রানি করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রশিদ-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : ঝালকাঠি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (পুর) মো. খাইরুল ইসলামকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে তলবের পরও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারসাজি এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজে নির্ধারিত মান বজায় না রেখে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অঘোষিত কমিশন এবং প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এতে সৎ ঠিকাদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং নিম্নমানের কাজের ঝুঁকি বাড়ছে। এদিকে, জেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকরাও নির্মাণ কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, নতুন ভবনের কিছু অংশে ফাটল, প্লাস্টার খসে পড়া এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি নিয়ম মেনেই সব কাজ করেছি। দুদকের তলবের বিষয়ে আমি অবগত আছি এবং নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেব।” শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। প্রয়োজনে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনও করা হবে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ৫৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রথম কয়েকজনের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অনিয়মের সঙ্গে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক “সৈয়দ আবেদ আলী” নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। পিএসসিতে চাকরি নিজেই নিয়েছিলেন জালিয়াতি (ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার) করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পিএসসির থেকে চাকরি হারান এবং কারাগারে ছিলেন, এখন জামিনে আছেন। অনুসন্ধানে “আবেদ আলীর” হাতে নিয়োগ পাওয়া একাধিক প্রার্থীর সরাসরি যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ তুলে ধরা হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে কয়েকজন মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি ও ব্যাংক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২২ সালে সম্পন্ন হওয়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (পুর) পদে সরকারি কর্ম কমিশনের সরাসরি নন-ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাতালিকার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়সহ অন্তত চারজন প্রার্থীর সঙ্গে আবেদ আলীর আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই চার কর্মকর্তার মধ্যে অন্যতম হলেন,ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলামকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়োগ ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুতে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর নাম জড়িয়ে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। প্রধান অনিয়ম ও অভিযোগ : নিয়োগে অস্বচ্ছতা: ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে যে, নির্ধারিত যোগ্যতা ও মেধা তালিকার তোয়াক্কা না করে আর্থিক লেনদেন বা রাজনৈতিক প্রভাবে অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ: মো. খাইরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নিয়োগ ও পদায়নকে কেন্দ্র করে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বিভাগীয় ও দুদকের নজরদারি: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কেনাকাটা ও নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চালাচ্ছে। অনেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা ও চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অযোগ্যদের নিয়োগের অভিযোগ: সাধারণ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল যে, যারা সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা বা যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল-২৪ এর অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান 'সার্চলাইট'-এ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বর্তমান অবস্থা: মো. খাইরুল ইসলামের নামে এসব অভিযোগে জড়িয়েছে। অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও এসব অনিয়মে পরোক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে বর্তমান অবস্থা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিয়োগ দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মো. খাইরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। সম্পদ বিবরণী নোটিশ: মো. খাইরুল ইসলামকে তাঁর সম্পদের উৎস ব্যাখ্যা করতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য প্রাথমিক নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগের ধরণ: তাঁর বিরুদ্ধে মূলত ২০২১ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি এবং পরবর্তী সময়ে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সম্পদ গড়ার অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় নাগরিকরা বলছেন, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—দুদকের তলবের পরও কীভাবে তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন? তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন সবার নজর। জনমনে প্রশ্ন স্থানীয় সুশাসনকর্মীরা বলছেন, শিক্ষা খাতে এমন অনিয়ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের প্রশ্ন—দুদকের তলবের পরও কীভাবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা দায়িত্বে বহাল থাকেন?
২৪ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক প্রিম রিজভীকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)‑এর পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন) পদে পদায়ন করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোয় এই নিয়োগকে নিয়ে একধরনের দীর্ঘস্থায়ী অসন্তোষ ও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের ভেতরে যারা দীর্ঘদিন কাজ করছেন, তাদের একটি অংশ মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র আরেকটি “পদায়ন” নয়। এটি বাংলাদেশের প্রশাসন ও রাজনৈতিক আনুগত্যের মিলনক্ষেত্র এবং দীর্ঘ মেয়াদী রাজনৈতিক প্রভাবকে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে দেয়া একটি নতুন অধ্যায়। এই প্রতিবেদনটি রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, ন্যায্য পদায়ন নীতি, ক্যাডার রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিয়ে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করবে। অধ্যাপক প্রিম রিজভী: পেশাগত পথ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রিম রিজভী বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি ২০০৩ সালে কর্মজীবন শুরু করেন ঢাকা কলেজে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে, এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্ব পালন ও পদোন্নতি লাভ করেন। রাজনৈতিক প্রভাবের প্রেক্ষাপটে তার কর্মজীবনের প্রধান স্টেজগুলো ছিল: মাধ্যমিক স্তরে নারী শিক্ষার সম্প্রসারণ ও শিক্ষার মান উন্নয়ন প্রকল্প (SESP)‑এ সহকারী পরিচালক SEQAEP (World Bank অর্থায়নে)‑এ সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ও চেয়ারম্যান পদ BANBEIS‑এর উপ‑পরিচালক (প্রশাসন) মাউশির প্রশিক্ষণ শাখা‑এ উপ‑পরিচালক এনসিটিবি‑র বিশেষজ্ঞ পদে পদায়ন ইত্যাদি প্রিম রিজভীর কর্মজীবনের ব্যাখ্যায় বারবার রাজনৈতিক প্রবণতা ও ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কের অঙ্গেজন স্পষ্ট হয়। রাজনৈতিক প্রভাবের সূত্র: প্রিম রিজভী দেশের রাজনৈতিক অস্থির সময়েও তার নেতৃত্ব ও পদায়ন ধরে রেখেছেন—বিশেষত: আওয়ামী লীগের শাসন আমল (২০০৮‑২০১৪) অন্তর্বর্তী সরকার আমল বর্তমান বিএনপি সরকার আমল এতে প্রশ্ন উঠেছে যে সরকারের পরিবর্তনের সাথে সাথে কি আদৌ তার পদায়নে পারদর্শিতা/যোগ্যতা মূল ভিত্তি ছিল নাকি রাজনৈতিক সহায়তা ও প্রভাব প্রধান ভূমিকা নিয়েছে? পদায়নের বিরোধিতা: শিক্ষাক্যাডারের অভ্যন্তরীণ অবস্থা শিক্ষা ক্যাডারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী: 👉 অধ্যাপক প্রিম রিজভীকে পরিচালক পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপনের পর অবিলম্বে ক্ষোভের সঙ্কেত। বিভিন্ন শিক্ষাক্যাডার কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন যে: দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক ভূমিকার পরও উচ্চতর পদে পদায়নে নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী স্বচ্ছতা ছিল না রাজনৈতিক প্রবণতা ও পুরোনো রাজনৈতিক প্রভাব তার জন্য সুবিধা সৃষ্টি করেছে অনেক কর্মী দীর্ঘদিন অপেক্ষা করলেও পদোন্নতি পায়নি, অথচ রিজভীর মতো কর্মকর্তাদের দ্রুত পদায়ন দেওয়া হয়েছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন: “শুধু নীতিগত ভুল নয়, এটি আমাদের ক্যাডারের ন্যায্য সুযোগের প্রতি আস্থা ভেঙে দেয়। দীর্ঘদিন কাজ করে যারা অধীনজীবনে আছে, তারা দেখছে শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডই নিয়োগের প্রধান ক্রাইটেরিয়া।” এসব মন্তব্য দেশের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ক্যাডার নিয়োগে ন্যায্যতার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব বনাম প্রশাসনিক ন্যায্যতা: বিশ্লেষণ বাংলাদেশে প্রশাসনিক নিয়োগ ও পদায়নকে নিয়ে দীর্ঘদিন বিচার্য প্রশ্ন ওঠে—বিশেষত যখন রাজনৈতিক দলগুলি ক্ষমতায় আসে বা যায়। প্রশাসনিক নিযুক্তি কখনো না কখনো রাজনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত হওয়ায় তা স্বচ্ছতার প্রশ্নের সামনে আসে। বিশ্লেষকরা বলে থাকেন: 👉 প্রশাসনিক পদায়নে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অবশ্যই প্রাধান্য পাওয়া উচিত। 👉 কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, রাজনৈতিক সমর্থন, প্রভাব ও সম্পর্ক বড় ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ, প্রিম রিজভীর ক্ষেত্রে: তিনি আওয়ামী লীগ আমল, অন্তর্বর্তী আমল ও বিএনপি আমল—তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পুরো ১৭ বছর তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রের সাথে যুক্ত ছিলেন, এবং আজও তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এতে প্রশ্ন ওঠে যে কি তিনি প্রকৃতপক্ষে অগ্রাধিকারযোগ্য কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার আধারেই পদায়ন লাভ করেছেন, নাকি রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে বিভিন্ন শাসনামলের প্রভাব এখানে কাজ করেছে? রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া: শিক্ষা সচিবের বক্তব্য যদিও শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক সাংবাদিকদের বলেন: “এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।” এতে একটি ইতিবাচক বিষয়ে ইঙ্গিত থাকলেও শূন্য প্রতিশ্রুতির প্রতিচ্ছবি ও প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে দায়িত্বশীলদের মতো তারা যদি এখনো প্রেক্ষাপটের সত্যতা যাচাইয়ে সচেষ্ট হন, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। সমালোচকদের বক্তব্য: শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বদরুল ইসলাম বলেন, “যদি আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়, তাহলে তা শিক্ষা ক্যাডার কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াবে। এটা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য ক্ষতিকারক।” তাঁর মতে: ক্যাডার নিয়োগে ফুল ফর্মালিটি ও নথিভুক্ত প্রমাণ থাকা উচিত রাজনৈতিক অবস্থান নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন নির্ধারণ করা উচিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলের বাইরে রাখা অবশ্যই জরুরি এই মন্তব্যগুলো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ক্যাডার নিয়োগ নীতির সমালোচনা হিসেবে সামনে এসেছে। প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া: কর্মরত কর্মকর্তাদের অনুভূতি শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে প্রভাবমুক্ত সূত্রগুলোর মতে: অনেকে মনে করেন, দীর্ঘকাল ধরে যারা উচ্চতর দায়িত্বে নেই, তারা অবমূল্যায়িত বোধ করছেন অন্যদিকে, রিজভীর সমর্থকরা মনে করেন তিনি অভিজ্ঞ, পরিচিত ও প্রশাসনিক কাজে পারদর্শী তবে দিনের শেষে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব এক কর্মকর্তা বলেন: “চাকরির সুযোগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে যদি ঝুঁকি থাকে, তাহলে সেটা ক্যাডারের প্রতিরোধ শক্তিকে দুর্বল করে দেয়।” ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট: শিক্ষাক্যাডার ও প্রশাসন শিক্ষা ক্যাডার ও প্রশাসনিক নিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে: 👉 স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের মধ্যে আস্থার পুনর্নির্মাণ করতে পারে। 👉 সরকারি সকল নিয়োগে ব্যাপক নথি ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হলে যেকোন বিতর্ক হ্রাস পেতে পারে। একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেন: “যখন প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাঝে অস্পষ্ট সম্পর্ক থাকে, তখন কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতার সঙ্কট দেখা দেয়।” প্রশাসন কি নিপুণ, নাকি রাজনৈতিক হাতের খেলা? প্রিম রিজভীর নায়েম পরিচালক পদায়ন শুধুমাত্র একটি নিয়োগের ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের শিক্ষা প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বনাম স্বচ্ছতা—এই টানাপোড়েনের একটি পরিচায়ক উদাহরণ। শিক্ষাক্যাডারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, রাজনৈতিক ফর্ক, এবং সরকারি প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে এটি শিক্ষা প্রশাসন ও সরকারি নিয়োগ নীতির বড় একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার প্রশ্ন থেকে যায়: 👉 সরকার কি স্বচ্ছ তদন্ত করবে? 👉 শিক্ষাক্যাডারের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে নিরাশা কি কাটবে? 👉 রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত প্রশাসনিক নিয়োগ সম্ভব কি? এই প্রশ্নগুলো আগামী দিনে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। বছর দুয়েক আগে প্রিম রিজভী শিক্ষা সচিব বরাবর বদলির জন্য একটি দরখাস্ত দেন মাউশির তৎকালীন মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ (যিনি পতিত সরকারের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ খানের আপন ভাগিনা) এর মাধ্যমে। সেখানে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এইচআরএম উইংয়ের উপ-পরিচালক, সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) ডেপুটি প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর উর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ (মাধ্যমিক), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর বিশেষজ্ঞ (প্রাথমিক) এই তিন পদের যে কোনো একটিতে পদায়ন চেয়েছিলেন। বদলির এই দরখাস্তে তিনি উল্লেখ করেন, “বিনয়ের সাথে জানাচ্ছি যে, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হকের একমাত্র কন্যা। আমার পিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময় থেকে আমৃত্যু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহযোগী ও আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন। আমার পিতা ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে M.N.A পদে জয়লাভ করেন (আসন নং NE- 67, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল) (কপি সংযুক্ত)। ১৯৭২ সালে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু গঠিত গণপরিষদে M.C.A হিসাবে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ৯নং সেক্টরে পাক আর্মির সাথে মুখোমুখি যুদ্ধ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালে সাময়িকভাবে স্বাধীন বাংলা সরকারের যোগাযোগ ও খাদ্য মন্ত্রীরও ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে ছিলেন। ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ (লিপ ইয়ার) এ তাঁর মৃত্যুর পরে জাতীয় মর্যাদায় তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবি গোরস্থানে দাফন করা হয়।” অতএব আমাকে আবেদনকৃত পদের যে কোন একটিতে পদায়নের আবেদন জানাচ্ছি।
মামুনুর রশীদ নোমানী: বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্নীতির আরেকটি আলোচিত ঘটনায় পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম এবং ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পিরোজপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এসব মামলা করা হয়। দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, অনুসন্ধানে দেখা গেছে—দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়ে মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার পরিবারের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে, যার বড় অংশেরই বৈধ আয়ের উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় প্রায় ৫১ কোটি টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আরও পড়ুন: * ৩০০ কোটির অবৈধ সম্পদ: সাবেক এমপি মহারাজ ও পরিবারের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দুদকের * কাগজে ১২৮ সেতু, বাস্তবে নেই একটিও! মহিউদ্দীন মহারাজ পরিবারের ২৩৬ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ * পিরোজপুর এলজিইডিতে ১,৬৪৭ কোটি টাকার দুর্নীতিও ‘লুটতরাজ’, নেপথ্যে হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল সিন্ডিকেট * এলজিইডির শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এখনও বহাল তবিয়তে ১২ বছরে সম্পদের পাহাড় মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মহিউদ্দীন মহারাজ নিজের নামে ১২২টি দলিলে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, মার্কেট ও দোকান ক্রয় করেছেন। দুদকের হিসাব অনুযায়ী এসব স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া তার নামে রয়েছে— বিভিন্ন ব্যাংকে বড় অঙ্কের সঞ্চয় ব্যবসায় বিনিয়োগ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার দুটি বিলাসবহুল গাড়ি এসব অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে একই সময়ে তার পরিবারের ব্যয় হিসাব করা হয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ফলে মোট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আয়ের উৎস মাত্র ৩ কোটি টাকা দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই বিশাল সম্পদের বিপরীতে মহিউদ্দীন মহারাজের গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই অর্থের বড় অংশ অবৈধভাবে অর্জিত এবং পরে বিভিন্ন ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে এর উৎস আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যাংক লেনদেনেই সন্দেহ দুদকের তথ্য অনুযায়ী, মহিউদ্দীন মহারাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলোতে বিপুল অঙ্কের লেনদেন পাওয়া গেছে। তদন্তে উঠে এসেছে— প্রায় ৫৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা জমা বিভিন্ন ব্যাংক শাখার মাধ্যমে প্রায় ৫৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা স্থানান্তর এই অর্থের বড় অংশ বিভিন্ন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক লেনদেনের মাধ্যমে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করছে দুদক। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের লেনদেন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় অপরাধ। স্ত্রী উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ মহিউদ্দীন মহারাজের স্ত্রী উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা করেছে দুদক। মামলার এজাহার অনুযায়ী, তার নামে রয়েছে— জমি, ফ্ল্যাট ও দোকানসহ প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ব্যাংক সঞ্চয় ও ব্যবসায় বিনিয়োগসহ প্রায় ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। পারিবারিক ব্যয়সহ মোট হিসাব দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। কিন্তু তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ২ কোটি ৬ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দুদক বলছে, গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও তার নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষার্থী ছেলের নামেও সম্পদ মহিউদ্দীন মহারাজের ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ইফতির নামে রয়েছে— জমি ও দোকানসহ প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ব্যাংক সঞ্চয় ও বিনিয়োগসহ প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। কিন্তু তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দুদকের দাবি, ইফতি একজন শিক্ষার্থী হওয়ায় তার নিজস্ব আয়ের উৎস থাকার কথা নয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, মহিউদ্দীন মহারাজের অবৈধ উপার্জনের অর্থ তার ছেলের নামে দেখিয়ে বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ দুদক জানিয়েছে, পিরোজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের নির্দেশে মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার পরিবারের নামে থাকা সম্পদ ইতোমধ্যে ক্রোক (জব্দ) করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে তদন্ত চলাকালে সম্পদ বিক্রি বা স্থানান্তর করা না যায়। এলজিইডি প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অভিযোগ দুদক সূত্র জানিয়েছে, মহিউদ্দীন মহারাজের বিরুদ্ধে এর আগেও বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে অংশ নিয়ে কাজ না করেই প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আরও আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে। মহিউদ্দীন মহারাজ পিরোজপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগেও আলোচনায় ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিষয়ে এখনো তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও মানিলন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত হলে রাজনৈতিক দুর্নীতি কমানোর ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তারা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, এসব মামলার স্বচ্ছ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামনে কী হতে পারে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলাগুলোর তদন্ত শেষ হলে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবে। এরপর আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতি আইনের অধীনে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ করেই দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর একদিনেই তেলের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। গত এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন জ্বালানি সংকট তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামের হঠাৎ উল্লম্ফন বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই (WTI) অপরিশোধিত তেল সোমবার একদিনেই ১৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০২.৯৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫.১৬ ডলার, যা ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আতঙ্কজনিত কেনাবেচা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলার খবরের পর এই আতঙ্ক আরও বাড়ে। হরমুজ প্রণালি: বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী— প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয় সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বড় তেল উৎপাদক দেশগুলোর রপ্তানি এই পথেই যায় এশিয়ার বড় আমদানিকারক দেশ যেমন চীন, জাপান, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া এই রুটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল যুদ্ধের কারণে যদি এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে বিশ্ববাজারে সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য কেন উদ্বেগজনক বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন টন জ্বালানি তেল আমদানি করে, যার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বাড়লেই বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় কয়েকশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। যদি দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাহলে দেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে। এর ফলে— বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ বাড়বে জ্বালানি ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়বে পরিবহন ও শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়বে বিপিসির লোকসানের ঝুঁকি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র বলছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল আমদানিতে খরচ পড়ছে প্রায় ১৪২ টাকা, কিন্তু দেশে তা বিক্রি করা হচ্ছে ১০০ টাকায়। বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে ১৫টি জাহাজে জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। যদি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে না আসে, তাহলে মাসে অতিরিক্ত খরচ পড়তে পারে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এক্ষেত্রে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে— সরকার ভর্তুকি বাড়াবে তেলের দাম বাড়ানো হবে বিপিসি বড় ধরনের লোকসানে পড়বে বিদ্যুৎ খাতে নতুন চাপ বাংলাদেশের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনও ফার্নেস অয়েল নির্ভর। তেলের দাম বাড়লে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎ কোম্পানির পাওনা প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে বিপিডিবি সরকারের কাছে ৭৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে, কিন্তু বাজেটে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৩৬ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয়-ব্যয়ের বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আইএমএফের চাপ ও নীতিগত সংকট বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির অন্যতম শর্ত হলো— জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানো বাজারভিত্তিক জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক শৃঙ্খলা আনা কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার এক ধরনের নীতিগত দ্বিধায় পড়েছে। যদি ভর্তুকি কমানো হয়, তাহলে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়বে। আর যদি দাম না বাড়ানো হয়, তাহলে সরকারের আর্থিক চাপ বাড়বে। এলএনজি আমদানির বাড়তি ব্যয় দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ক্রমশ বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর ওপর। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী— ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সাত বছরে: এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৩৬ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়লে এই ভর্তুকি আরও দ্রুত বাড়বে। বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জ্বালানি দাম মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে। ভিয়েতনাম: ডিজেল ও পেট্রলের দাম ২১% বৃদ্ধি পাকিস্তান: পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ২০% বাড়িয়ে ৩২০ রুপি যুক্তরাষ্ট্র: এক সপ্তাহে পেট্রলের দাম প্রায় ১০% বৃদ্ধি ইউরোপ: মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা অস্ট্রেলিয়া: পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি দুই ডলার ছাড়িয়েছে চীন, জাপান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। অতীতের জ্বালানি ধাক্কার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ অতীতেও কয়েকবার তেলের দামের বড় ধাক্কা অনুভব করেছে। ২০০৮ সালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৪৭ ডলার পর্যন্ত ওঠে। ২০১১-২০১৪ সময়ে দীর্ঘদিন তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর জ্বালানি মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কা এলে দেশে দীর্ঘ সময় ধরে দাম স্থির রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারের অবস্থান সরকার বলছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। জ্বালানি তেল আমদানির চুক্তিগুলো সাধারণত ছয় মাস মেয়াদি, এবং আগামী জুন পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে তেল আসবে বলে জানিয়েছে বিপিসি। সরকার যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় তেল ব্যবহারে রেশনিং ব্যবস্থা চালু রেখেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আপাতত দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে অর্থনীতির ঝুঁকি অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় তাহলে— তেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়াতে পারে বিদ্যুৎ ভর্তুকি ৭৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে যেতে পারে পরিবহন ব্যয় বাড়বে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে এমন পরিস্থিতিতে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতামত জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, “সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। এলএনজি সরবরাহ কমে গেলে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে।” অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ ড. ইজাজ হোসেন মনে করেন, “দুই সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত না থামলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।” দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি সম্ভাব্য কৌশল রয়েছে— ১. জ্বালানি মজুদ বাড়ানো ২. বিকল্প সরবরাহ উৎস খোঁজা ৩. নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ৪. জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো ৫. বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ও নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানো তবে তারা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্বল্পমেয়াদে সংকট সমাধান করতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট নয়, এটি দ্রুত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে রূপ নিচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে জ্বালানি মূল্য, বিদ্যুৎ ভর্তুকি, মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ—সব ক্ষেত্রেই বড় চাপ তৈরি হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখনই দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতি পুনর্বিবেচনা না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ।
বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গির্জামহল্লা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ‘হানিট্র্যাপ’ ফাঁদ পেতে এক যুবকের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এক তরুণীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হোটেলের মালিক ও ম্যানেজারসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং এটি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কার্যক্রমের ইঙ্গিত দিতে পারে। তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, একই কৌশলে আরও অনেক ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। কীভাবে ফাঁদে পড়েন ভুক্তভোগী মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম খান (ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়নি) গত ৭ মার্চ বিকেলে আব্দুর রহমান নামে এক পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ফোন পান। ফোনে আব্দুর রহমান তাকে জরুরি কাজের কথা বলে নগরীর গির্জামহল্লা এলাকায় আসতে বলেন। সিরাজুল ইসলামের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি রাত প্রায় ৯টার দিকে সেখানে পৌঁছালে তাকে কৌশলে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে হোটেল ইম্পেরিয়ালের চতুর্থ তলার ৪২৮ নম্বর কক্ষে ঢুকতে বলা হয়। কক্ষটিতে ঢোকার পরই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি ও ভিডিও ধারণ ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কক্ষে ঢোকার পর সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি ওত পেতে ছিলেন। একপর্যায়ে চক্রের নারী সদস্য মিলিতা দত্ত ম্যালাইসা তার সঙ্গে কুশল বিনিময়ের ভান করে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করে পরিস্থিতিকে ‘অপত্তিকর’ আকার দেওয়ার চেষ্টা করে। সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমি বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন লোক এসে আমাকে জোর করে বিছানায় বসায়। এরপর তারা বলে আমি নাকি ওই মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত।” তার অভিযোগ, তখনই তারা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। অর্থ দাবি ও ছিনতাই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভিডিও ধারণের পর চক্রের সদস্যরা সিরাজুল ইসলামের কাছে টাকা দাবি করতে থাকে। প্রথমে তারা তার পকেটে থাকা ১২০০ টাকা নিয়ে নেয়। পরে আরও ১৩ হাজার টাকা দিতে চাপ দেয়। প্রাণভয়ে সিরাজুল কৌশলে তার এক পরিচিত ব্যক্তি হিজবুল্লাহ সম্রাটকে বিষয়টি জানাতে সক্ষম হন। পুলিশের অভিযান সিরাজুলের কাছ থেকে খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানা দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশ হোটেল ইম্পেরিয়ালে পৌঁছালে অভিযুক্ত চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মিলিতা দত্ত ম্যালাইসা (চক্রের নারী সদস্য) সান্টু হাওলাদার (সহযোগী) পুলিশ জানায়, তাদের বিরুদ্ধে মামলার ভিত্তিতে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম খান বাদী হয়ে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন— হোটেল মালিক মানিক হাওলাদার ম্যানেজার আব্দুল হাই বশির মোল্লা আবিদ হাসান জাকির হোসেন গাজী আব্দুর রহমানসহ আরও কয়েকজন পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশের বক্তব্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সনজিৎ চন্দ্র নাথ বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ‘হানিট্র্যাপ’ অপরাধ বর্তমানে বিভিন্ন শহরে সংঘবদ্ধভাবে ঘটছে কিনা সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ‘হানিট্র্যাপ’ কী এবং কীভাবে কাজ করে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, ‘হানিট্র্যাপ’ একটি প্রতারণামূলক কৌশল, যেখানে সাধারণত একজন নারী বা পুরুষকে ব্যবহার করে টার্গেট ব্যক্তিকে আপত্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এই ধরনের চক্র সাধারণত কয়েকটি ধাপে কাজ করে— ১. টার্গেট নির্বাচন ২. পরিচিত বা বিশ্বাসযোগ্য কারও মাধ্যমে যোগাযোগ ৩. নির্জন স্থান বা হোটেলে ডেকে নেওয়া ৪. আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি ৫. ভিডিও বা ছবি ধারণ ৬. ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। আবাসিক হোটেলগুলো কেন ঝুঁকিপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক সময় অপরাধীরা আবাসিক হোটেলকে ব্যবহার করে কারণ— সেখানে সহজে কক্ষ ভাড়া পাওয়া যায় পরিচয় যাচাই অনেক সময় দুর্বল সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ সীমিত হোটেল কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে এই ঘটনার ক্ষেত্রেও হোটেল মালিক ও ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আরও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অপরাধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ প্রযোজ্য হতে পারে। যেমন— ছিনতাই প্রতারণা চাঁদাবাজি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র মানহানির হুমকি যদি প্রমাণিত হয় যে হোটেল কর্তৃপক্ষ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই অভিযোগ করেন না ক্রাইম বিশ্লেষকদের মতে, ‘হানিট্র্যাপ’ অপরাধের অনেক ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে না। কারণ— সামাজিক লজ্জার ভয় পারিবারিক সমস্যার আশঙ্কা ব্ল্যাকমেইলের ভয় আইনগত জটিলতা ফলে অপরাধচক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকতে পারে। তদন্ত কোন দিকে এগোচ্ছে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা হচ্ছে— হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ মোবাইল ফোনের ভিডিও ও কল রেকর্ড চক্রের সদস্যদের আর্থিক লেনদেন পূর্বের সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের তথ্য তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এটি একটি সংগঠিত চক্র হতে পারে যারা দীর্ঘদিন ধরে একই পদ্ধতিতে প্রতারণা করে আসছিল। সতর্কতার পরামর্শ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নাগরিকদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে— অপরিচিত বা কম পরিচিত কারও ডাকে নির্জন স্থানে না যাওয়া আবাসিক হোটেলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশকে জানানো ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে আইনগত সহায়তা নেওয়া বরিশালের এই ঘটনাটি শুধু একটি ছিনতাইয়ের অভিযোগ নয়, বরং এটি নগর জীবনে নতুন ধরনের প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে জানা যাবে—এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি বড় কোনো অপরাধচক্রের অংশ। ততদিন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলমান আসরে সবার আগে সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করল দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। ডি গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ৩ ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে পরের পর্বে উঠেছে প্রোটিয়ারা। শনিবার ভারতের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৭৫ রান। নিউজিল্যান্ডের লড়াকু সংগ্রহ কিউইদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন Mark Chapman। এছাড়া ৩২ রান যোগ করেন Daryl Mitchell। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি তাদের। মার্করামের ব্যাটে জয়ের বন্দনা ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা কিছুটা সতর্ক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। কিন্তু অধিনায়ক Aiden Markram ক্রিজে সেট হওয়ার পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় প্রোটিয়াদের হাতে। ৪৪ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মার্করাম। তার ব্যাটিং নৈপুণ্যে ১৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের বড় জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচে রানের রেকর্ড এই ম্যাচে দুই দল মিলে মোট ৩৫৩ রান করে, যা চলতি আসরের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মিলিত রান। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে গড়ে ওঠে আরও একটি ব্যক্তিগত রেকর্ড। ডি ককের নতুন মাইলফলক দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান Quinton de Kock টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েন। তিনি ছাড়িয়ে যান ভারতের কিংবদন্তি অধিনায়ক MS Dhoniকে। ডি ককের ডিসমিসালের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩-এ। ডি গ্রুপ থেকে টানা তিন জয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা এখন সুপার এইট পর্বের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেবে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সামনে অপেক্ষা করছে বাঁচা-মরার লড়াই।
ব্যাটার শেরফানে রাদারফোর্ড ও স্পিনার গুদাকেশ মোতির কল্যাণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গতরাতে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। ব্যাট হাতে রাদারফোর্ড ৪২ বলে অনবদ্য ৭৬ এবং স্পিনার মোতি ৩ উইকেট নেন। মুম্বাইয়ে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮ রানে দুই ওপেনারকে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় উইকেটে ২৮ বলে ৪৭ রান যোগ করে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন শিমরোন হেটমায়ার ও রোস্টন চেজ। দলীয় ৭৭ রানের মধ্যে বিদায় নেন তারা। হেটমায়ার ২৩ ও চেজ ৩৪ রান করেন। এরপর রোভম্যান পাওয়েলকে নিয়ে ২৯ বলে ৫১ এবং জেসন হোল্ডারের সাথে ৩২ বলে ৬১ রানের জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৬ রানের সংগ্রহ এনে দেন রাদারফোর্ড। পাওয়েল ১৪ ও হোল্ডার ১৭ বলে ৩৩ রান করেন। ২টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৪২ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন রাদারফোর্ড। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিংয়ের সামনে বড় ইনিংস খেলতে পারেনি ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা। ১৯ ওভারে ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায় তারা। দলের হয়ে স্যাম কারান ৪৩, জ্যাকব বেথেল ৩৩ ও ফিল সল্ট ৩০ রান করেন। মোতি ৩৩ রানে ৩টি ও চেজ ২৯ রানে ২ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন রাদারফোর্ড।
আগামী মাসের নারী এশিয়ান কাপের শিরোপা জিতে “নতুন ইতিহাস” গড়তে চায় জাপান, এমনটাই জানিয়েছেন দলের কোচ নিলস নিয়েলসেন। বৃহস্পতিবার ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন নিয়েলসেন। যেখানে তিনি ইংল্যান্ডভিত্তিক ১৬ জন খেলোয়াড়কে দলে রেখেছেন। জাপান এশিয়ার একমাত্র দেশ যারা নারী বিশ্বকাপ জিতেছে, তবে এ পর্যন্ত খেলা ২০ আসরের এশিয়ান কাপে তারা মাত্র দু’বার শিরোপা জিতেছে। সর্বশেষ শিরোপা আসে ২০১৮ সালে। জাপান নারী দলের প্রথম বিদেশী কোচ গ্রিনল্যান্ডে জন্ম নেওয়া নিয়েলসেন মনে করেন, আগামী ১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে এবারই জাপানের সামনে সেরা সুযোগ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেয়া ৫৪ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, “ঐতিহাসিকভাবে এই টুর্নামেন্ট জাপানের জন্য সহজ ছিল না। আমরা নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। আমাদের এমন একটি দল আছে যারা শিরোপা জিততে সক্ষম। তাই ট্রফি না জেতা পর্যন্ত আমরা সন্তুষ্ট হতে পারছি না।” ২৬ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হিনাতা মিয়াজাওয়া, যিনি ২০২৩ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটির ইউই হাসেগাওয়া ও আওবা ফুজিনোও রয়েছেন। ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য এবং ১৬৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ডিফেন্ডার সাকি কুমাগাই এখনও দলে আছেন। জাপানের ঘরোয়া ডব্লিউই লিগ থেকে মাত্র চারজন খেলোয়াড় দলে সুযোগ পেয়েছেন। নিয়েলসেন জানান, চোট-আঘাতের সমস্যা না থাকায় চূড়ান্ত দল নির্বাচন খুব কঠিন ছিল না। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি দল পেয়েছি যেখানে সব ধরনের বৈচিত্র্য আছে। প্রায় সব পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত। একই ধরনের অনেক খেলোয়াড় আমরা নেইনি। কারণ মাঠে কাউকে বদলি করলে আমরা ভিন্ন কিছু যোগ করতে চাই।” প্রথম রাউন্ডে তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকা জাপান ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে। নিয়েলসেন বলেন, “প্রতিপক্ষ যে কৌশল নিয়ে আসুক না কেন, আমাদের স্কোয়াডে তার জবাব দেওয়ার মতো সমাধান আছে বলেই আমি বিশ্বাস করি।”
উৎসবমুখর পরিবেশে জীবনের প্রথমবারের মত ভোট দিতে পেরে উচ্ছসিত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। আজ বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একটি বুথে ভোট প্রদান করেন তামিম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের তামিম ইকবাল বলেন, ‘জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। খুবই এক্সাইটেড। পরিবেশ খুবই ভাল লাগছে। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি।’ পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফাইড পেজে ভোট দেওয়ার ছবি দিয়ে তামিম লিখেন, ‘ভোট আমার নাগরিক অধিকার। নিজে ভোট দিলাম এবং দেখলাম স্বতস্ফূর্ত উৎসাহে অনেকেই ভোট দিচ্ছেন। সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সবাইকে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’ যে কেন্দ্রে তামিম ভোট দিয়েছেন, সেটি চট্টগ্রাম-৯ আসন। কোতোয়ালি থানার এ আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, ১১ দলীয় জোটের এ কে এম ফজলুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুস শুক্কুর, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ, বাসদের মো. শফি উদ্দিন কবির, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন, নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছার মজুমদার, জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী ও জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফাইড পেজে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। ঢাকা-৯ আসনে দক্ষিণ বনশ্রী মডেল হাই স্কুলে ভোট দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় দলের বর্তমান ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। ভোট দেওয়ার ছবি আপলোড করে ফেসুবকে আশরাফুল লিখেছেন, ‘সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আজ ভোট দিলাম। দায়িত্ববোধ শেখানো শুরু ঘর থেকেই।’ রংপুরে নিজ এলাকায় প্রথমবার ভোট দিয়েছেন ২০২০ সালে আইসিসি যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলি। নিজ এলাকার মানুষদের সাথে ভোট দেওয়ার ছবি আপলোড করেছেন তিনি। ছবির ক্যাপশনে আকবর লিখেছেন, ‘প্রথম ভোট।’ আকবরের মত প্রথমবার ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান। নিজ এলাকা দৌলতপুরে ভোট দিয়েছেন তিনি। ভোট কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি ফেসবুকে দিয়েছেন সোহান। ছবির ক্যাপশনে সোহান লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, প্রথমবার ভোট দিলাম।’ জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে আনন্দিত জাতীয় দলের ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয়। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘দিয়ে আসলাম, জীবনের প্রথম ভোট।’ ফেনিতে ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ভোট দেওয়ার ছবি ফেসবুকে আপলোড করে সাইফুদ্দিন লিখেছেন, ‘অবশেষে ভোট দিলাম। যেখানে আমার শৈশব কেটেছে, মাটির গন্ধে বড় হওয়া সেই চেনা জায়গাতেই। এটা শুধু একটা ভোট নয়, এটা নিজের শিকড়কে ছুঁয়ে দেখার অনুভূতি, নিজের দায়িত্বকে অনুভব করার এক নীরব গর্ব। ছোটবেলার স্মৃতি, আজকের সিদ্ধান্ত- এই দুটো একসাথে মিলেই আজকের দিনটা আমার কাছে আলাদা।’ ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের হার্ডহিটার ব্যাটার সাব্বির রহমানও। ফেসবুকে এই ডান-হাতি ব্যাটার লিখেছেন, ‘আমার ভোটটা কিন্তু দিয়ে দিলাম।’ সবমিলিয়ে এবার সারাদেশে ভোটার রয়েছেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আবারও অস্বস্তি, আবারও দুর্নীতির গন্ধ। দুর্নীতি ও ফিক্সিং- সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিতর্কিত বিসিবি পরিচালক মোখলেছুর রহমান শামীম দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোয় নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। মাঠের ক্রিকেটে শুদ্ধতার কথা বলা বোর্ডের অন্দরেই যখন অনিয়মের অভিযোগ ঘুরপাক খায়, তখন সেটি শুধু একজন পরিচালকের বিষয় থাকে না- পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই টালমাটাল হয়ে ওঠে। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, শামীমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ একদিনের নয়। স্বার্থের সংঘাত, আর্থিক অনিয়ম এবং ফিক্সিং- সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বোর্ডের ভেতরে আলোচনায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব অভিযোগ নতুন তথ্য ও নথির সঙ্গে জড়িত হয়ে সামনে আসায় আর চুপ থাকার সুযোগ ছিল না বিসিবির সামনে। পরিস্থিতির চাপে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি, আর দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে অভিযুক্ত পরিচালককে। এ ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়েছে- বাংলাদেশ ক্রিকেটে দুর্নীতি শুধু মাঠের খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরেও তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত সত্য উন্মোচন করবে, নাকি এটি পরিণত হবে আরেকটি চাপা পড়ে যাওয়া অধ্যায়ে। অভিযোগের সূত্রপাত যেভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) মোখলেছুর রহমান শামীমকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সূত্রপাত হঠাৎ করে নয়। বিসিবি ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বোর্ডের অভ্যন্তরে আলোচনায় ছিল। তবে এতদিন এসব অভিযোগ নির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে গড়ায়নি। পরিস্থিতির মোড় ঘুরতে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে, যখন কিছু অভ্যন্তরীণ নথি, সন্দেহজনক যোগাযোগের তথ্য এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত প্রশ্ন সামনে আসে। সূত্রগুলো বলছে, এসব তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়- একাধিক ঘটনায় স্বার্থের সংঘাত এবং নিয়ম বহির্ভূত যোগাযোগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিষয়টি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগে সীমাবদ্ধ না থেকে ধারাবাহিকভাবে সামনে আসায় বিসিবির ভেতরেই উদ্বেগ বাড়তে থাকে। বোর্ডের এক দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষায়, “অভিযোগগুলো যদি বিচ্ছিন্ন হতো, তাহলে হয়তো অভ্যন্তরীণভাবেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যেত। কিন্তু যখন একই ধরনের প্রশ্ন বারবার উঠতে থাকে এবং নতুন নতুন তথ্য সামনে আসে, তখন বোর্ডের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।” এই প্রেক্ষাপটেই বিষয়টি আর উপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না বিসিবির সামনে। শেষ পর্যন্ত অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড, যার ধারাবাহিকতায় তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্ত পরিচালকের দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনা ঘটে। কী ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ মোখলেছুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগগুলো কয়েকটি স্তরে বিভক্ত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রথম এবং সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো স্বার্থের সংঘাত। অভিযোগ রয়েছে, বিসিবির পরিচালক পদে থাকার সময় তিনি এমন কিছু সিদ্ধান্তে যুক্ত ছিলেন, যেগুলোতে ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা ঘনিষ্ঠ মহলের সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বোর্ডের নীতিমালায় স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও, কিছু সিদ্ধান্ত সেই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। দ্বিতীয় স্তরের অভিযোগগুলো আর্থিক অনিয়ম ঘিরে। ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রকল্প, চুক্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিসিবির ভেতরেই প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা ও নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়া এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। তৃতীয় এবং সবচেয়ে স্পর্শকাতর অভিযোগটি ফিক্সিং-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে। যদিও এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি, তবে অভিযোগের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার কারণে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। এ কারণেই বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়। দায়িত্ব ছাড়লেন কেন বিসিবির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান তদন্ত প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত রাখতে মোখলেছুর রহমান শামীম সাময়িকভাবে তার পরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বোর্ডের ভাষায়, এটি একটি নৈতিক সিদ্ধান্ত, যাতে তদন্ত কমিটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং কোনো ধরনের প্রভাব বা স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ না ওঠে। তবে বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন বলে মনে করছেন বিসিবির ভেতরের একাধিক সূত্র। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একান্তই স্বেচ্ছায় নেওয়া হয়নি। অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর খুব দ্রুতই বিষয়টি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ক্রিকেট বিশ্লেষক, সাবেক খেলোয়াড় ও সমর্থকদের একাংশ বিসিবির ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলতে থাকেন। বিশেষ করে ফিক্সিং-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ সামনে আসার পর বোর্ডের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও সমালোচনার মাত্রা বাড়তে থাকে, যা বিসিবির ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করে। বোর্ডের এক দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষায়, “এই চাপ উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। পরিস্থিতি সামাল দিতেই তাকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।” ফলে তদন্তের স্বার্থের পাশাপাশি বোর্ডের ভাবমূর্তি রক্ষাই দায়িত্ব ছাড়ার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত কমিটি- কতটা স্বাধীন? মোখলেছুর রহমান শামীমকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের পরিণতি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে বিসিবি গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের ওপর। বোর্ড সূত্র জানায়, কমিটির মূল দায়িত্ব হলো অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সুপারিশ করা। কাগজে-কলমে এই দায়িত্বগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী মনে হলেও, বাস্তবে তদন্তের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, তদন্ত কমিটির সদস্যদের বড় একটি অংশই বিসিবির বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে ‘নিজেদের লোক দিয়ে নিজেদের তদন্ত’- এই সমালোচনা জোরালো হচ্ছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এতে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এক ক্রীড়া বিশ্লেষক বলেন, “বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কমিটি যতই সদিচ্ছা দেখাক না কেন, বাইরের নিরপেক্ষ নজরদারি ছাড়া আস্থা তৈরি করা কঠিন।” সমালোচকদের আশঙ্কা, যদি তদন্ত প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে প্রতিবেদন যাই হোক না কেন- তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। ফলে এই তদন্ত শুধু শামীম ইস্যু নয়, বিসিবির সামগ্রিক সুশাসন পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। বিসিবিতে দুর্নীতির অভিযোগ- নতুন নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ইতিহাসে বিতর্ক ও অভিযোগ নতুন কোনো ঘটনা নয়। অতীতেও একাধিকবার দুর্নীতির অভিযোগে বিসিবিকে বিব্রত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ছিল ফিক্সিং কেলেঙ্কারি, যেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কঠিন সময় পার করেছে এবং একাধিক খেলোয়াড়কে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এর পাশাপাশি আর্থিক অনিয়ম, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। কখনো টিকিট বিক্রি, কখনো অবকাঠামো উন্নয়ন, আবার কখনো লিগ পরিচালনা- প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রশ্ন উঠেছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে। যদিও বিসিবি প্রায়শই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বা অভ্যন্তরীণ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বাসযোগ্য সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মোখলেছুর রহমান শামীম ইস্যুকে অনেকেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। বরং এটিকে বিসিবির দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করছেন। সমালোচকদের মতে, বারবার একই ধরনের অভিযোগ ওঠা প্রমাণ করে- সমস্যা ব্যক্তি নয়, বরং ব্যবস্থার ভেতরেই রয়ে গেছে। খেলোয়াড় বনাম পরিচালক: দ্বিমুখী মানদণ্ড? শামীম ইস্যু ঘিরে সবচেয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে- খেলোয়াড় ও পরিচালকদের ক্ষেত্রে বিসিবির আচরণ কি সমান? সমালোচকদের দাবি, এখানে স্পষ্ট একটি দ্বিমুখী মানদণ্ড কাজ করছে। অতীতে ফিক্সিং বা অনৈতিক আচরণের অভিযোগে খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ আজীবন নিষিদ্ধ হয়েছেন, কারও ক্রিকেট ক্যারিয়ার কার্যত শেষ হয়ে গেছে। অথচ পরিচালনা পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলেও, সেসব ক্ষেত্রে তদন্ত দীর্ঘায়িত হয় এবং সিদ্ধান্ত নিতে গড়িমসি দেখা যায়- এমন অভিযোগ বহুদিনের। শামীমের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও তিনি পদে বহাল ছিলেন, পরে চাপের মুখে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ান। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈষম্য ক্রিকেট প্রশাসনের প্রতি আস্থাকে দুর্বল করে দেয়। একজন সাবেক খেলোয়াড়ের মন্তব্য, “খেলোয়াড়রা যদি নিয়ম ভাঙে, শাস্তি নিশ্চিত। কিন্তু পরিচালকের ক্ষেত্রে নিয়ম যেন নমনীয় হয়ে যায়।” এই প্রশ্নের সঠিক জবাব না মিললে, বিসিবির নৈতিক অবস্থান আরও প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভিন্ন সুর শামীমের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোখলেছুর রহমান শামীম। তার দাবি, তাকে জড়িয়ে যে অভিযোগগুলো তোলা হয়েছে, সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিচালিত অপপ্রচার। গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমি কোনো ধরনের দুর্নীতি বা ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত নই। তদন্তেই সত্য বেরিয়ে আসবে।” তবে এখন পর্যন্ত অভিযোগগুলোর নির্দিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা তথ্যভিত্তিক জবাব প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। সমালোচকদের মতে, শুধু অস্বীকার করাই যথেষ্ট নয়; বরং প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত ও যোগাযোগের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। বিসিবির ভেতরের একটি সূত্র জানায়, তদন্ত চলাকালীন শামীম প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা না বলার কৌশল নিয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠদের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই তিনি বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন। তবে ততদিনে জনমত কোন দিকে যায়, সেটাই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রতিক্রিয়া শামীমকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ফেসবুক, এক্স (টুইটার) ও ইউটিউবে বিসিবির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমী। অনেকেই মনে করছেন, বোর্ড নিজেই যখন স্বচ্ছ নয়, তখন ক্রিকেটের উন্নয়ন শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকে। “বোর্ড আগে নিজেকে শুদ্ধ করুক”- এমন মন্তব্য বারবার উঠে আসছে। কেউ কেউ আবার লিখেছেন, “দুর্নীতি যদি প্রশাসনেই থাকে, ক্রিকেট এগোবে কীভাবে?” এই প্রতিক্রিয়াগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে, বিসিবির প্রতি আস্থার জায়গাটি কতটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের মতে, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে নৈতিকতা আশা করা হলেও, প্রশাসনের ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড প্রয়োগ না হওয়া হতাশাজনক। এই জনমত বিসিবির জন্য একটি সতর্ক বার্তা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তির প্রশ্ন বিসিবির কোনো পরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বরাবরই সদস্য বোর্ডগুলোর সুশাসন ও স্বচ্ছতার ওপর নজর রাখে। অতীতে বিভিন্ন বোর্ডে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে আইসিসি হস্তক্ষেপের নজিরও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শামীম ইস্যু যদি সঠিকভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে বিসিবির ওপর বাড়তি নজরদারি আসতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে এবং বিভিন্ন সহযোগিতা ও উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষকের ভাষায়, “ক্রিকেট এখন শুধু মাঠের খেলা নয়, প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতাও বড় বিষয়।” এই কারণেই তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সামনে কী অপেক্ষা করছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী শামীম ইস্যুতে কয়েকটি পথ খোলা রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার পরিচালক পদ বাতিলসহ বিসিবির অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। গুরুতর অপরাধের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থার পথও খোলা থাকবে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, বিসিবিতে তদন্ত প্রক্রিয়া অনেক সময় দীর্ঘায়িত হয়। ফলে দ্রুত ও দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত আসবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের বড় প্রত্যাশা- এবার যেন তদন্ত শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। এই ইস্যুর পরিণতি শুধু একজন পরিচালকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না; বরং বিসিবি আদৌ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পথে হাঁটতে চায় কি না, সেই পরীক্ষাও দেবে।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : দেশের অন্যতম গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি,দালালি, ক্ষমতার অপব্যবহার, পদোন্নতি, প্রশাসনিক ক্ষমতা ,অর্থের অপব্যবহার ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পিডিবিএফ‑এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা‑কর্মচারীরা তার দুর্নীতি ও অনিয়মে অতিষ্ঠ। পিডিবিএফের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, নিজামুল হক এক আত্মীয়ের প্রভাব ব্যবহার করে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন অভিযোগগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি বদলি, পদায়ন এবং পদোন্নতির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন, কিন্তু এখনো বদলি বা পদোন্নতি প্রদান করা হয়নি। নিজামুল হকের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: পিডিবিএফ‑এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আত্মীয়ের প্রভাবে তিনি নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন। প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিক ক্ষেত্রেও অনিয়োমের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ সমস্ত বিষয়ে অনেক অভিযোগ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে রয়েছে। একাধিক লিখিত অভিযোগ প্রধান কার্যালয়ে রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। কিন্তু তার আত্মীয় থাকার কারণে এই অভিযোগের কোন সুরাহা হয়নি এখন পর্যন্ত। এছাড়া নিজামুল হকের বিরুদ্ধে - ১. দালালি, বদলি ও নিয়োগ‑সংক্রান্ত অভিযোগ পিডিবিএফ‑এর কর্মকর্তারা জানান যে, নিজামুল হক বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেয়ার মাধ্যমে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি পিরোজপুর অঞ্চলের পিডিবিএফ কর্মচারী নাসিমা বেগম, রুমু‑দে, তুনু রানি বিশ্বাস, মন্নান হোসেন, নার্গিস আক্তার, জাহিদ হোসেন, মিলেশ নন্দী বরিশাল অঞ্চলের সেলিনা বেগম, রিতা রানী, ইয়াকুব হোসেনসহ আরো ৩ জনের কাছ থেকে বদলীর জন্য লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এদের দাবি, বদলির নামে একদিকে টাকা নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে আশ্বস্ত করা হয়েছে দ্রুত বদলি বা পদোন্নতি প্রদান করা হবে। অথচ এখনো তাদের বদলী করা হয়নি।টাকাও ফেরৎ দেয়নি নিজামুল হক। ২. পুরাতন মালামাল বিক্রয় ও অর্থের অপব্যবহার অভিযোগে বলা হয়, পিডিবিএফ‑এর বরিশাল অঞ্চলের উপ পরিচালকের অফিসে থাকা পুরাতন মালামাল নিয়ম মেনে বিক্রয়ের বদলে তা থেকে অর্জিত অর্থ ব্যক্তিগত ব্যবহারে ও অস্বচ্ছভাবে ব্যক্তিগতকরণ করা হয়েছে। কর্মচারীদের বক্তব্য, টাকা ব্যয় সংক্রান্ত ভাউচার দেখিয়ে তা অফিস খাতের ব্যয়ের মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।বিভিন্ন সময়ে পুরাতন মালামাল বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । অফিসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা বলে মোটা অংকের ভাউচার দেখিয়ে সেগুলোকে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। ৩. ঋণ ও সম্পত্তি বিরোধ এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন যে ২০১৮‑১৯ অর্থবছরে সাতক্ষীরা কর্মরত অবস্থায় তার সহকর্মীর কাছ থেকে অফিসের মাধ্যমে নেয়া ঋণে নিজামুল হকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ক্রয় করা হয়। সেই টাকা এখনো পরিশোধ হয়নি, এবং ঋণ সংক্রান্ত দলিলপত্র ও ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব সম্পর্কেও প্রশ্ন উঠেছে। ৪. ব্যাঙ্ক লেনদেন ও সন্দেহজনক অর্থপ্রাপ্তি অভিযোগ অনুযায়ী, বানারীপাড়া সোনালী ব্যাংক হিসাব নম্বর ০৫০৭৮২০১০১৮৩০ থেকে চেক নং ৮৭৩১৪০৮‑এর মাধ্যমে ১,২০,০০০ টাকার বিনিময়ে বদলী করা হয়েছে। যাদের দু’জনকে স্বরূপকাঠি ও গৌরনদীর উপজেলায় পদায়ন করেন বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন। ৫. প্রশাসনিক ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য কর্মকর্তারা বলেন, উপ-পরিচালক কর্মকর্তাদের হয়রানি করেন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত কাজে অফিস সময় ও সম্পদ ব্যবহার করেন। এসব আচরণের ফলে অফিসের কর্মপরিবেশে ‘ভয়ের পরিবেশ’ সৃষ্টি হয়েছে এবং কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। পিডিবিএফ পরিচালনা পর্ষদের কাছে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ: পিডিবিএফ‑এর বরিশাল অঞ্চলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবী: স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিরাপদ সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক লেনদেন, হিসাব ও ভাউচার যাচাই‑বাছাই, প্রশাসনিক শক্তির অপব্যবহার ও অনিয়মের দায়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ। তারা মনে করেন, প্রমাণ‑ভিত্তিক তদন্ত হলে “যে কেউ হোক, যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত”। উপ-পরিচালক নিজামুল হকের প্রতিক্রিয়া এ ব্যাপারে নিজামুল হক অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সব নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করি। এই অভিযোগগুলো ভুল তথ্যভিত্তিক ও অসত্য” তবে তিনি কোনো প্রমাণ তুলে ধরতে পারেননি। কর্মকর্তারা বলেন, “ভয়ের পরিবেশের কারণে কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন দেশের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এর অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয় এবং উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো প্রভাবিত হয়। তাই নিজামুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা দরকার বলে মনে করেন পিডিবিএফ বরিশাল অঞ্চলের সাধারন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বরিশাল অফিস : ইতালিতে কাজের স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুবকদের লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কয়েকজন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার বলছে, লাখ লাখ টাকা খরচ করেও তারা ইউরোপে পৌঁছাতে পারেননি; বরং মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে লিবিয়ায়। যেভাবে শুরু হয় যাত্রা ভুক্তভোগীদের একজন মেহেদী হাসান খান। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইতালিতে বৈধভাবে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসে স্থানীয় এক দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিবারের দাবি, জমি বিক্রি, ঋণ ও ধারদেনা করে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা জোগাড় করে দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রথমে নগদ অর্থ এবং পরে ব্যাংকের মাধ্যমে কিস্তিতে টাকা দেওয়া হয়। ইতালির বদলে লিবিয়া মেহেদী হাসান জানান, তাকে প্রথমে সৌদি আরব নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, সেখানে তাদের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে খাবার কম দেওয়া, শারীরিক নির্যাতন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো। এক পর্যায়ে তাকে লিবিয়ার পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে বেনগাজির একটি কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি প্রায় দেড় মাস আটক ছিলেন। ভিডিও কলে মুক্তিপণের দাবি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করিয়ে তার করুণ অবস্থা দেখানো হতো বলে জানান মেহেদী। তার পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত আট লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ করার পর তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন। আরও অনেকের একই পরিণতি স্থানীয় সূত্র বলছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার অন্তত পাঁচজনসহ বিভিন্ন জেলার মোট ১০৮ জন যুবক একইভাবে দালালদের মাধ্যমে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের অনেকেই এখনও লিবিয়ায় আটকা রয়েছেন এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মামলা ও তদন্ত এ ঘটনায় মেহেদী হাসান খান বাদী হয়ে বরিশালের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মতিঝিলের আরামবাগে অবস্থিত ‘বাবে রহমত’—বাহ্যিকভাবে এটি একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, যেখানে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবসেবার বার্তা প্রচার করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র—যেখানে আধ্যাত্মিকতার আবরণে গড়ে উঠেছে হাজার কোটি টাকার এক জটিল, অস্বচ্ছ আর্থিক সাম্রাজ্য। দেওয়ানবাগ দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা পীর সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে বিপুল সম্পদ। অনুসন্ধান বলছে, দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা এই সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যার বড় অংশই অপ্রকাশিত। অভিযোগ রয়েছে, ভক্তদের দানের অর্থই বিভিন্ন কৌশলে ব্যক্তিগত সম্পদে রূপান্তর করা হয়েছে। উত্তরাধিকার নাকি সম্পদের পুনর্বিন্যাস? প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুর পর তার সাত সন্তানের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করা হয়। তবে নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিপুল পরিমাণ জমি, ভবন এবং ব্যাংক আমানত তাদের নামে হস্তান্তর হলেও এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যবসায়িক ব্যাখ্যা নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি—দরবারকেন্দ্রিক অনুদানই ছিল প্রধান অর্থের উৎস। সন্দেহজনক লেনদেন ও অদৃশ্য কোম্পানির জাল ব্যাংক নথি পর্যালোচনায় উঠে এসেছে শতকোটি টাকার লেনদেনের তথ্য। তিন ছেলের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩৬৭ কোটি টাকার লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একাধিক লেনদেন হয়েছে এমন কোম্পানির মাধ্যমে, যেগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব বা কার্যক্রম খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট ইতোমধ্যে এক ছেলের ২৪টি ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছে। এসব অ্যাকাউন্টে জমা ও উত্তোলনের ধরনকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজধানীকেন্দ্রিক সাম্রাজ্য ঢাকার মতিঝিল, মগবাজার, পুরানা পল্টন, মিরপুর, জুরাইন, মেরাদিয়া, বেগুনবাড়ি, দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে একাধিক ভবন ও জমি। ‘বাবে কুতুবুল আকতার’, ‘বাবে রহমত কমপ্লেক্স’, ‘বাবে রিয়াজুল জান্নাত’—এমন নামের ভবনগুলো শুধু ধর্মীয় কার্যক্রম নয়, বরং সম্পদ বিস্তারের চিহ্ন হিসেবেও উঠে এসেছে। মতিঝিলের কেন্দ্রীয় দরবার ঘিরে রয়েছে একাধিক বহুতল ভবন। অভিযোগ রয়েছে, এর কিছু অংশ রাজউকের জমির ওপর নির্মিত। যদিও বহুবার উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সারা দেশে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানে অন্তত ৩০ জেলায় দরবার, খানকা, জমি ও স্থাপনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, রাজশাহী, রংপুর—প্রায় সব বিভাগেই রয়েছে এই নেটওয়ার্ক। এই বিস্তৃতি শুধু ধর্মীয় কার্যক্রমের সীমায় নয়—বরং একটি সংগঠিত সম্পদ ব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দেয়। বিদেশে অর্থের ছাপ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নিবন্ধিত একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দরবার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনও উল্লেখযোগ্য। সন্দেহ রয়েছে, দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ বিদেশে বিনিয়োগ করা হয়েছে। জমি দখল ও ভয়ভীতি অনুসন্ধানে জমি দখলের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। মতিঝিলে এক ব্যক্তির জমিতে উটের খামার গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি—জাল দলিল, প্রভাবশালী মহলের সহায়তা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল করা হয়েছে। একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, প্রতিবাদ করলে হামলা, মামলা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। কেউ কেউ এলাকা ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন। ‘আধ্যাত্মিক’ কেন্দ্রের ভেতরের বাস্তবতা দরবার কমপ্লেক্সে সাধারণ ভক্তদের প্রবেশ সীমিত। মূল ভবনে প্রবেশের জন্য প্রয়োজন বিশেষ অনুমতি। ভেতরে রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যক্তিগত বাহিনী এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের নানা উপকরণ—যা একটি সাধারণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অভিযোগ দেওয়ানবাগ সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, অভ্যন্তরীণ আর্থিক অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেই তাদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। কেউ কেউ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন। কর্তৃপক্ষের অবস্থান দেওয়ানবাগ কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সব সম্পদ পৈতৃক এবং বৈধ উৎস থেকেই অর্জিত। ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়টিও আদালতে বিচারাধীন বলে জানানো হয়েছে। জমি দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তারা বলেছে, এসব বিষয় আদালতে রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই সমাধান হবে। প্রশাসনিক নীরবতা—সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই বিস্তৃত সম্পদ, সন্দেহজনক লেনদেন এবং দখল অভিযোগের পরও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভাব সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। বহুবার নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর অভিযান হয়নি—যা প্রশাসনিক নীরবতার ইঙ্গিত দেয়। দেওয়ানবাগ দরবার শরিফ—একদিকে আধ্যাত্মিকতার বার্তা, অন্যদিকে অস্বচ্ছ সম্পদ, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং দখলের অভিযোগ। এই দ্বৈত বাস্তবতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশ্ন নয়—বরং রাষ্ট্রীয় নজরদারি, জবাবদিহিতা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতার বৃহত্তর প্রশ্নও তুলে ধরে। অনুসন্ধানের শেষ নয়—বরং এখান থেকেই শুরু হতে পারে আরও গভীর তদন্ত। দেওয়ানবাগ দরবার শরীফ বাংলাদেশের একটি পরিচিত তাসাউফ-ভিত্তিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এটি মূলত "মোহাম্মদী ইসলাম" প্রচারের জন্য পরিচিত, যা এর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মাহবুব-ই-খোদা (যিনি দেওয়ানবাগী হুজুর নামেই বেশি পরিচিত) প্রবর্তন করেন। বাবে রহমত : বলতে সাধারণত ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত দেওয়ানবাগ শরীফ দরবারকে বোঝানো হয়। এটি এই দরবার শরীফের মূল কেন্দ্র বা সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত। মূল তথ্য: প্রতিষ্ঠা: ১৯৮৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলার দেওয়ানবাগ এলাকায় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধান কার্যালয়: ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগে অবস্থিত 'বাবে রহমত' এই দরবার শরীফের প্রধান কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠাতা: সৈয়দ মাহবুব-ই-খোদা (১৯৪৯–২০২০)। তিনি নিজেকে "সুফি সম্রাট" হিসেবে পরিচয় দিতেন। মতাদর্শ: এই প্রতিষ্ঠানটি 'মোহাম্মদী ইসলাম' নামক নিজস্ব ধর্মীয় দর্শন প্রচার করে থাকে। উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রসমূহ: দেওয়ানবাগ শরীফের অধীনে বেশ কিছু শাখা বা দরবার রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: বাবে রহমত: মতিঝিল, ঢাকা (প্রধান কার্যালয়)। বাবে মদিনা: নারায়ণগঞ্জ। বাবে জান্নাত: দেওয়ানবাগ, নারায়ণগঞ্জ। এই দরবার শরীফটি তার বিভিন্ন বিতর্কিত ধর্মীয় বক্তব্যের কারণে বিভিন্ন সময়ে ইসলামি দলগুলোর সমালোচনা ও বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে। ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেওয়ানবাগীর মৃত্যুর পর বর্তমানে তাঁর উত্তরসূরিরা এই দরবারের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
M A Rashid, Special Correspondent: A case has been filed against five traffickers and an international human trafficking network following the deaths of five young men from Jagannathpur, Sunamganj, who died in the Mediterranean Sea while attempting to travel from Libya to Greece by boat. On Tuesday (31 March), the case was filed at Jagannathpur Police Station under the Human Trafficking and Fraud Act by Habibur Rahman, father of the deceased Aminur Rahman. According to police and family sources, in December and January, the victims—Aminur Rahman, Ijazul Haque Moni, Sayek Ahmed, Md. Ali Ahmed, and Naim Mia—left the country through brokers, lured by promises of a better life. Each paid between 1.1 to 1.3 million BDT. They were later placed on an unsafe rubber boat in Libya. After drifting at sea for 5–6 days without sufficient food and water, they died. It is alleged that, following instructions from traffickers, their bodies were thrown into the sea. Officer-in-Charge (OC) Shafiqul Islam of Jagannathpur Police Station stated that the case has been filed under the Prevention and Suppression of Human Trafficking Act and the Migrant Smuggling Prevention Ordinance 2026. Police operations are ongoing to arrest the absconding suspects and uncover the roots of the international trafficking network. The alleged ringleader of the trafficking group is an individual known by multiple names, including Motiur Rahman, Johny, Patwari, and Mithu. He is reportedly a resident of Noakhali, Bangladesh, and is currently living in East London. Serious allegations of human trafficking and immigration fraud have been raised against him. According to victims and related sources, he was involved in illegally transporting people from Libya to Greece, charging approximately 1.1 to 1.3 million BDT per person. It is also alleged that, during such journeys, several individuals—including youths from Sylhet—faced extreme inhumane conditions, suffering from severe shortages of food and water, leading to multiple deaths at sea. Further allegations state that proper safety measures were not ensured. Instead of large and safe vessels, small boats were used, and despite passengers’ objections, they were forcibly sent without adequate safety equipment. Additionally, there are accusations of fraud involving false promises of jobs in the United Kingdom. It is claimed that individuals were lured with offers of care worker visas and legitimate employment, but were instead provided with fake or invalid Certificates of Sponsorship (CoS). It should be noted that these are allegations and have not yet been proven in court. However, if proven, they would constitute serious crimes including human trafficking and immigration fraud, subject to strict legal action. Authorities urge anyone who falls victim to such exploitation or fraud to immediately contact the relevant law enforcement agencies.
বাংলাদেশের প্রশাসনে সাম্প্রতিক সচিব নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখন কেবল অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—বরং এটি রূপ নিয়েছে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্নে। ২৫ মার্চ রাতে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৯ জন সচিব নিয়োগের পর থেকেই একের পর এক অসঙ্গতি, অভিযোগ ও অস্বচ্ছতার বিষয় সামনে আসছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত, দ্রুতই আংশিক পিছু হটা নিয়োগের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ২৯ মার্চ তিনজন সচিবের বদলির আদেশ স্থগিত করতে বাধ্য হয় সরকার। একই সঙ্গে দুইজনের দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, “এত দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন নজিরবিহীন”—যা প্রাথমিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বঞ্চিতদের তালিকা বড়, সুযোগ পেলেন মাত্র দু’জন অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত অন্তত ৫২ জন কর্মকর্তার নাম উচ্চ পর্যায়ে বিবেচনায় ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো নেতিবাচক রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও তারা বারবার পদোন্নতি থেকে বাদ পড়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এই নিয়োগে সেই তালিকা থেকে মাত্র দু’জন সচিব পদে উন্নীত হয়েছেন। এতে করে প্রশাসনের একটি বড় অংশ নিজেদের আবারও উপেক্ষিত মনে করছেন। একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “আমরা ভেবেছিলাম এবার অন্তত যোগ্যতা ও বঞ্চনার ইতিহাস বিবেচনা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র।” ক্যাডার ভারসাম্যে ব্যতিক্রম, নাকি পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত? নিয়োগপ্রাপ্ত ৮ জন নিয়মিত সচিবের মধ্যে ২ জন ইকোনমিক ক্যাডার থেকে আসা—যা অতীতের তুলনায় অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তারা সাধারণত প্রকল্প পরিকল্পনা ও মূল্যায়নে দক্ষ হলেও মাঠ প্রশাসন বা বহুমাত্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় তাদের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক সীমিত। ফলে একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় পরিচালনায় তাদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একজন সাবেক সচিব বলেন, “এ ধরনের নিয়োগ ব্যতিক্রম হতে পারে, কিন্তু একে যদি প্রবণতা বানানো হয়, তাহলে প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।” রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা: নিয়োগে কি প্রভাব ফেলেছে? নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তার অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ পূর্ববর্তী সরকারের সময় সুবিধাভোগী ছিলেন, আবার কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে অভিযোগ—তারা অতীতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সেই প্রেক্ষাপটে তাদের পদোন্নতি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ: প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ? ৯ জনের মধ্যে একজনকে চুক্তিভিত্তিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তার নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পূর্ববর্তী পেশাগত অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু প্রক্রিয়াটি যদি অস্বচ্ছ হয়, তাহলে সেটি পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।” ‘উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ’—কিন্তু কে দায় নেবে? জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই পদোন্নতিগুলো ‘উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা’ অনুযায়ী হয়েছে। তবে সেই নির্দেশনার উৎস, মানদণ্ড বা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এতে করে দায়বদ্ধতার প্রশ্ন সামনে আসছে—এই সিদ্ধান্তের দায়িত্ব আসলে কার? প্রশাসনের মনোবলে প্রভাব বিশ্লেষকরা বলছেন, পদোন্নতি ও নিয়োগে যদি স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে তা প্রশাসনের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত, তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়তে পারে, যা প্রশাসনিক কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। শেষ প্রশ্ন: সংস্কার নাকি পুনরাবৃত্তি? সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই নিয়োগ সেই প্রত্যাশাকে কতটা পূরণ করেছে—তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ভাষায়— “পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু ব্যবস্থার পরিবর্তন কোথায়?”
এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া,ঢাকা: আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে সিন্ডিকেট গঠন করে বিভিন্ন ফন্দি ফিকির শুরু করেছে। অথচ ছাত্র জনতার আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ,শ্রমিক লীগকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ! থাকা সত্ত্বেও এ চক্র রয়েছে বহাল তবিয়তে।সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে থাকা আওয়ামীলীগের অনুসারীরা গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন তাদের মধ্যে এই চক্রের সদস্যরা অন্যতম। আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা বতর্মানেও ছাত্র জনতার মহান উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এখনো সক্রিয় রয়েছেন। অথচ অদৃশ্য শক্তির বলে বহাল তবিয়তে রয়েছেন এ সকল কর্মকর্তারা ।তাহার সুত্র ধরে বেরিয়ে আসে কিছু অকল্পনীয় তথ্য সাম্প্রতিক সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে এক চাঞ্চল্যকর সিন্ডিকেট ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, আওয়ামী আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে বহাল থাকায় প্রশাসনিক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।সিনিয়র সচিবের দপ্তরে গঠিত সিন্ডিকেট চক্র। সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দপ্তরে কর্মরত মোঃ সাইফুল ইসলাম নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্রের অন্যতম হোতা। একটি অভিযোগ সুত্রে জানাযায়,এই সিন্ডিকেট মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তারের জন্য ব্যবহার করছে। সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম - সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি এবং ব্যক্তিগত প্রভাব ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এবং পদোন্নতি নিশ্চিত করা। বিদেশি পোস্টিং ও তদবির: মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং তাদের আত্মীয়-স্বজন বিদেশি পোস্টিংয়ের সুযোগ পেতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তদবির চালাচ্ছেন কিছু কর্মকর্তা । গোপনীয় তথ্যের অবৈধ ব্যবহারে উদ্বেগ: সরকারের গোপনীয় তথ্য , গুরুত্বপূর্ণ নীতি সিদ্ধান্তের সময় এই সিন্ডিকেট মন্ত্রণালয়ের গোপন তথ্য অনিয়মিতভাবে বাহিরে পাঠায়। আওয়ামী আমলের নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রভাব:আওয়ামী আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ পদে অবস্থান করছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তারা চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই দপ্তরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে এবং ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের জন্য প্রশাসনিক নিয়ম উপেক্ষা করছে। বিশেষ করে, সিনিয়র সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার গঠিত হয়েছে। তিনি একাধিক আত্মীয়কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ অধিদপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে সক্ষম হয়েছেন। এতে মন্ত্রণালয়ের সাধারণ কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা এবং অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নজরে সিন্ডিকেট গঠন করেন। মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাক দিয়েছে। তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর আনসার উদ্দিন খান পাঠান জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তদন্ত সংস্থার এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং তথ্য নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, সিন্ডিকেটের কিছু সদস্য নির্বাচনী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মন্ত্রণালয়ের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে, যা সরকারকে বিভ্রান্ত করতে পারে। প্রশাসনিক দুর্নীতি ও দপ্তরের অসন্তোষ:মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা জানান, সিন্ডিকেটের কারণে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তারা লিখিতভাবে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি। সিন্ডিকেটের সদস্যরা দপ্তরের সম্পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তদবির চালাচ্ছে এবং প্রভাব বিস্তার করছে। একাধিক বিশ্লেষক মনে করছেন, সিন্ডিকেটের ক্ষমতা অব্যাহত থাকলে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে। তারা বলছেন, এই ধরনের সিন্ডিকেটের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি করা জরুরি। সিন্ডিকেটের সদস্যদের বহাল থাকার প্রভাবে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হচ্ছে।দপ্তরের অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তারা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না। নির্বাচনী সময়ে প্রশাসনিক তথ্যের নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে।বিদেশি পোস্টিং ও তদবিরে সিন্ডিকেটের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে।সাম্প্রতিক ঘটনায় দেখা গেছে, সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিজস্ব তদবির ও প্রভাবের মাধ্যমে বিদেশি ভ্রমণ এবং পদোন্নতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ কর্মচারীরা হতাশার শিকার হচ্ছেন এবং দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার দেশীয় প্রশাসন এবং সরকারি স্বচ্ছতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক পর্যায়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে, সিন্ডিকেটের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি উঠেছে, জরুরি ভিত্তিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বদলি ও দপ্তরের তদারকি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।সিনিয়র সচিব দপ্তরে কর্মরত ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সাইফুল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল এদেরকে যেহেতু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ডেকেছে। তাই গোপনীয়তা রক্ষা ও নির্বাচনকালীন বিভিন্ন তথ্য ফ্যাসিস্ট দের হাতে না যায় তাই জরুরী ভিত্তিতে বদলি করা একান্ত প্রয়োজন।এখন তারা বিএনপি সেজে বিভিন্ন দপ্তরে যাওয়ার চেষ্টা করতেছে।উক্ত অভিযোগের এ সকল প্রমাণ পত্রসহ আরো অনেক প্রমাণ পত্র উক্ত অভিযোগ টিতে সংযুক্তি আকারে রয়েছে, উক্ত অভিযোগটির তদন্ত করলে সরষের ভিতর যে কত বড় ভূত রয়েছে তা বেরিয়ে আসবে।তাদের নিজ এলাকায় একাধিক ব্যক্তি নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীত সাথে জড়িত তার পরিবার। ছাত্র অবস্থায় আওয়ামী লীগের ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন । তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটা সত্য।একথা গুলো তার নিজ এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জানাযায়। আওয়ামী লীগে বড় নেতাদের সাথে বতর্মানে ও কথা হয়। নাম না প্রকাশ করার সত্ত্বে এক কর্মকর্তা বলেন বতর্মান সরকার ক্ষমতা গ্রহনের সাথে সাথে তারা আওয়ামী লীগের শুর পরিবর্তন করে বিএনপির শুরে কথা বলে বিএনপি সাজার চেষ্টা করে সুবিধা নিয়ে সুবিধা জনক স্থান দখল করে নেন। নাম না প্রকাশের সত্ত্বে আরও এক কর্মকর্তা বলেন আওয়ামী লীগে বড় নেতাদের সাথে বতর্মানে ও কথা হয় বদলি হয়।মন্ত্রণালয়ের গোপনীয় তথ্য আওয়ামী লীগের কাছে দিয়ে থাকেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সাইফুল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল এদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।
বরিশাল শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্স—যা সাধারণ মানুষের কাছে গুঠিয়া মসজিদ নামেই বেশি পরিচিত। এটি বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও আকর্ষণীয় মসজিদ কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, এটি এখন ধর্মীয় ও পর্যটন—দুই দিক থেকেই এক অনন্য গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশ থেকেও পর্যটকরা ছুটে আসছেন এই নয়নাভিরাম স্থাপনাটি দেখতে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি শবে বরাত, শবে মেরাজসহ বড় বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিশেষ করে ঈদের সময় এখানে আয়োজিত হয় বিশাল জামাত, যেখানে হাজারো মুসল্লির সমাগম ঘটে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত এই বিশাল প্রকল্পের উদ্যোক্তা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৬ সালে এর কাজ সম্পন্ন হয়। প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার শ্রমিকের শ্রমে গড়ে ওঠে এই স্থাপত্যকর্ম। প্রায় ১৪ একর জমির ওপর নির্মিত এই কমপ্লেক্সে রয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিকল্পনা ও নান্দনিক সাজসজ্জা। মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করলেই ডান পাশে চোখে পড়ে একটি বড় পুকুর, যা এমনভাবে খনন করা হয়েছে যাতে পানিতে পুরো মসজিদের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট দেখা যায়—যা দর্শনার্থীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। পুকুরটির চারপাশ সাজানো হয়েছে নানা রঙের ফুল ও ফলজ গাছ দিয়ে। এছাড়া রয়েছে মোজাইক করা শান বাঁধানো ঘাট, যা পুরো পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পুকুরের বিপরীতে মসজিদের প্রবেশমুখে স্থাপন করা হয়েছে দুটি ফোয়ারা, যা স্থাপনাটির সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সব মিলিয়ে গুঠিয়ার এই মসজিদ কমপ্লেক্সটি শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক জনপদ রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন বাঘা শাহী জামে মসজিদ আজও ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও নান্দনিক স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এই প্রাচীন মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন। ইতিহাস অনুযায়ী, ১৫২৩-১৫২৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার হুসেন শাহী বংশের শাসক সুলতান নসরত শাহ মসজিদটি নির্মাণ করেন। তারও আগে হজরত শাহ দৌলাহ (রহ.) এ অঞ্চলে এসে ইসলাম প্রচার করেন এবং বাঘা এলাকাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরে এ অঞ্চলকে ঘিরেই গড়ে ওঠে একটি সমৃদ্ধ জনপদ। স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে মসজিদটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও দৃষ্টিনন্দন। এতে আছে ১০টি গম্বুজ, চার কোণায় চারটি মিনার এবং অভ্যন্তরে একাধিক মজবুত স্তম্ভ, যা পুরো কাঠামোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে রেখেছে। মসজিদের দেওয়ালজুড়ে টেরাকোটার সূক্ষ্ম কারুকাজ মধ্যযুগীয় শিল্পরীতির এক অসাধারণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে ফুল-লতা ও জ্যামিতিক নকশার অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়। মসজিদটির চারপাশের পরিবেশও অত্যন্ত মনোরম। বিস্তীর্ণ পুকুর, সবুজ বৃক্ষরাজি এবং শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ, ছুটির দিন ও শীত মৌসুমে এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পায়। স্থানীয়দের কাছে এ মসজিদ শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয় বরং এটি তাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। প্রতিদিন এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয় এবং ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা স্থাপনাটিকে একটি জীবন্ত ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে ধরে রেখেছে। সচেতন মহল মনে করেন, এত প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটিকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আরও কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগ। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বাঘা শাহী জামে মসজিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, ‘এই মসজিদ আমাদের গর্ব। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এখানে আসে। এটি শুধু একটি মসজিদ নয়, আমাদের ইতিহাসের অংশ।’দর্শনার্থী সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘প্রথমবার এসে মসজিদের টেরাকোটার কাজ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। এত পুরোনো স্থাপনা হয়েও এখনো এত সুন্দরভাবে দাঁড়িয়ে আছে, এটি সত্যিই বিস্ময়কর।’
সেদিন মক্কা সিটি ট্যুর ছিল। আমরা মসজিদে নামিরা থেকে আরাফাতের ময়দানে গেলাম। আরাফাতের ময়দান ঘুরে মুজদালিফা হয়ে মিনা যাওয়ার পথে পুরাতন স্থাপনা লক্ষ্য করি। স্থাপনাগুলো ড্রেনের মতো, পাহাড়ের পাশ দিয়ে চলে গেছে দৃষ্টিসীমার বাইরে। মনে প্রশ্ন জাগে, এগুলো কী? গুগলে সার্চ দিয়ে হতবাক হয়ে গেলাম। এই হলো নহরে জুবাইদা! নহরের সমার্থক সরু, স্রোতস্বিনী, জলধারা, খাল, নালা। আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের স্ত্রী জুবাইদা বিনতে জাফর মক্কায় হজযাত্রীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল খনন করেছিলেন। যা হজের সময় পানির অভাব দূর করে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। খালটি তায়েফের কাছের ঝরনা থেকে পানি এনে মক্কা পর্যন্ত পৌঁছে দিতো। জুবাইদা নিজে এই বৃহৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা করে ব্যয়ভারও বহন করেন। নহরে জুবাইদা ইসলামি প্রকৌশল ও মানব সেবার বিস্ময়কর নিদর্শন হিসেবে বিদ্যমান। জুবাইদা অত্যন্ত বিদুষী, ধর্মপরায়ণ ও পরোপকারী একজন নারী ছিলেন। জুবাইদা জাফর ইবনুল মানসুরের মেয়ে। জাফর ইবনুল মানসুর খলিফা হারুনুর রশিদের চাচা। জুবাইদার আসল নাম ছিল আমাতুল আজিজ। তার দাদা আল-মানসুর তাকে আদর করে ‘জুবাইদা’ (ছোট মাখনের টুকরা) ডাকতেন। কালক্রমে তিনি ‘জুবাইদা’ নামেই পরিচিতি লাভ করেন। আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের স্ত্রী জুবাইদা বিনতে জাফর মক্কায় হজযাত্রীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল খনন করেছিলেন। যা হজের সময় পানির অভাব দূর করে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। খালটি তায়েফের কাছের ঝরনা থেকে পানি এনে মক্কা পর্যন্ত পৌঁছে দিতো। জুবাইদা নিজে এই বৃহৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা করে ব্যয়ভারও বহন করেন। নহরে জুবাইদা ইসলামি প্রকৌশল ও মানব সেবার বিস্ময়কর নিদর্শন হিসেবে বিদ্যমান। জুবাইদা অত্যন্ত বিদুষী, ধর্মপরায়ণ ও পরোপকারী একজন নারী ছিলেন। জুবাইদা জাফর ইবনুল মানসুরের মেয়ে। জাফর ইবনুল মানসুর খলিফা হারুনুর রশিদের চাচা। জুবাইদার আসল নাম ছিল আমাতুল আজিজ। তার দাদা আল-মানসুর তাকে আদর করে ‘জুবাইদা’ (ছোট মাখনের টুকরা) ডাকতেন। কালক্রমে তিনি ‘জুবাইদা’ নামেই পরিচিতি লাভ করেন।নহরে জুবাইদা কঠিন ভূখণ্ডে সুড়ঙ্গ ও জলপ্রণালি তৈরি করে, বিশাল প্রকৌশল কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছিল। এর নির্মাণে বেশ বাধা অতিক্রম করতে হয়েছিল। কঠিন শিলা কেটে খাল তৈরি করা এর অন্যতম। এটি একটি জটিল প্রকৌশল, যেখানে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ, খালের অংশ এবং জলাধার নির্মাণ করা হয়েছিল, যা পানিকে বাষ্পীভবন থেকে রক্ষা করতো। সে সময় মক্কায় জমজম ছাড়া পানির উৎস ছিল না। হজে প্রচুর মানুষের ভিড়ে পানির তীব্র সংকট দেখা দিতো। উচ্চ মূল্যে পানি ক্রয় করতে হতো। খলিফা হারুনুর রশিদের আমলে পানির অভাব বেশ তীব্র ছিল। তখন এক বালতি পানি বিক্রি হয় ২০ দিরহামে। ১৯৩ হিজরিতে খলিফার মৃত্যুর পর রানি জুবাইদা হজ পালন করতে মক্কা যান। পানির সমস্যা দেখে তিনি একটি খাল কাটার সিদ্ধান্ত নেন। নহরে জুবাইদা খননে আনুমানিক ১৭ লাখ দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) খরচ হয়। জুবাইদার খাল খননের ফলে হাজিদের জন্য বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত হয়। এই ব্যবস্থা মক্কা ও আশেপাশের এলাকার কৃষকদেরও উপকৃত করেছিল। তারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে খালের পানি ব্যবহার করতো। তিনি মক্কা ও মদিনার পথে মুসলিম হজযাত্রীদের জন্য কূপ, জলাধার এবং কৃত্রিম পুল তৈরি করেন। ‘দারব জুবাইদা’ (জুবাইদার পথ) নামে পরিচিত পথটির উন্নয়নেও ভূমিকা রাখেন। খালটি শুধু পানিই সরবরাহ করতো না বরং বাগদাদ থেকে মক্কা পর্যন্ত বিস্তৃত ‘দারব জুবাইদা’কে (হজ্জ্বযাত্রার পথ) সুগম করে তোলে। হজযাত্রীদের সুবিধার জন্য পথে বিশ্রামস্থল, কূপ, পুকুর ও বাতিঘর স্থাপন করা হয়। নহরে জুবাইদা কেবল মক্কার হাজিদের পানির সংকট দূর করেনি বরং শত শত বছর ধরে মুসলিম উম্মাহর সেবা ও নারীর দূরদর্শিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আজকের যুগেও অনেক ক্ষেত্রেই মুসলিম নারীরা অবহেলিত। সেই সময় রানী জুবাইদা কি চিন্তা করেছিলেন! এর ফলপ্রসূ বাস্তবায়নও বাকি রাখেননি। নারী জাগরণের ইতিহাসে তাকে উদাহরণ হিসেবে বলাই যায়। তিনি অনেক নারীর অনুপ্রেরণা। মুসলিম সভ্যতার ইতিহাসে রানী জুবাইদার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। নহরে জুবাইদা শুধু একটি জলধারা ছিল না, এটি রানী জুবাইদার প্রজ্ঞা, উদারতা এবং মুসলিমদের প্রতি ভালোবাসার বহিপ্রকাশ ছিল। বর্তমানে এটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত। একটি কালজয়ী স্থাপনা, যা ছিল প্রকৌশল ও মানবতার অপূর্ব মেলবন্ধন। নহরে জুবাইদার ভগ্নাবশেষ এখনো আরাফাতের ময়দান, মুজদালিফা ও মিনার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নহরটি এখন আর পুরোপুরি সক্রিয় জলধারা না হলেও আমার মতো অনেক পর্যটক ও হাজি নহরে জুবাইদা দেখতে মিনা ও আরাফাতের ময়দানে ছুটে যান। নহর দেখার পরে তারা অভিভূত হয়ে যান এবং মহীয়সী নারী জুবাইদার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে থাকেন।
উত্তরবঙ্গের ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মধ্যে ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ অন্যতম। স্থাপনাটি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামে অবস্থিত। ছোট আকৃতির এ মসজিদে এখনো নামাজ আদায় করা হয়। দেশি-বিদেশি মানুষ এখনো মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন। শালবন ঘেরা মনোরম পরিবেশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদের শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১০১০ বঙ্গাব্দ বা ১৬০৪ সালে নির্মিত হয় এটি। ১২ ফুট দৈর্ঘ ও প্রস্থের মসজিদের উচ্চতা মিনারসহ প্রায় ৩০ ফুট। একসময় নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। বর্তমানে নিয়মিত না হলেও মাঝে মধ্যে দেখতে আসা পর্যটকেরা নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া দুই ঈদের নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।স্থানীয়রা জানান, মসজিদটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয় বরং গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগই পারে এই শতাব্দী প্রাচীন স্থাপনাটিকে রক্ষা করতে। যদিও বা অপরিকল্পিত সংস্কারের কারণে মসজিদটি রক্ষা পেলেও অনেকটা নিদর্শন হারিয়ে ফেলেছে।মসজিদটি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ইউসুফ আলী জানান, তার পূর্বপুরুষরাই মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে আমলে জনবসতি এবং জনসংখ্যা কম থাকায় ছোট পরিসরে নির্মিত হয় মসজিদটি। মাত্র ৮ থেকে ১০ জন মুসল্লি দুই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন। এখন চারপাশে গড়ে উঠেছে জনবসতি। সেই গভীর জঙ্গলের অস্তিত্ব নেই।তিনি জানান, মসজিদটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এখনো টিকে আছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার ফলে এটি প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। ২০১১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে সংস্কার করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করলে বাইরের নকশা এবং কারুকাজ ঠিক রাখা সম্ভব হতো। এতে মসজিদটি জৌলুস হারাতো না। পুরোনো নকশার আদলে নতুন করে ৪টি মিনার ও ১টি গম্বুজ নির্মাণ করলেও বর্তমানে ২টি মিনার ও ১টি গম্বুজ টিকে আছে। স্থানীয় শিক্ষাবিদ মাহাতাব উদ্দীন বলেন, ‘কালের বিবর্তনে মসজিদের ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। আমরা শুনেছি, অতীতে এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। এখন পর্যটকেরা এসে আত্মতৃপ্তির জন্য নামাজ আদায় করেন। তবে দুই ঈদের জামাতের জন্য ব্যবহৃত হয়। অতীতের সেই জঙ্গলঘেরা নির্জন পরিবেশ আর নেই। ঈদগাহ মসজিদটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে।’২০১১ সালে সংস্কার কাজের মিস্ত্রি নুর আলম বলেন, ‘মসজিদটি ব্যবহারের উপযুক্ত ছিল না। মসজিদটির ওপরে বটগাছসহ জঙ্গলে ভরে গিয়েছিল। চুন, সুরকির পলেস্তারা খসে ইটগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। চেষ্টা করেছি পূর্বের নকশা অনুযায়ী সংস্কার করার। যদি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করা যেত, তাহলে উন্নতমানের প্রযুক্তি ও মেডিসিন ব্যবহার করে আগের অবস্থায় আনা যেতো।’
জামালপুর : বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মুসলমানদের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর মধ্যে মসজিদ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এসব মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশৈলীর একেকটি অনন্য নিদর্শন। তেমনই এক দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ জামে মসজিদ। জেলা শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মসজিদটি তার সুউচ্চ মিনার, মনোরম নকশা এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশের কারণে ইতোমধ্যেই একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মুসল্লি ও দর্শনার্থী এখানে ভিড় জমাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৪০ সালে ধর্মপ্রাণ মুসলিম আব্দুল গফুর মণ্ডল সুরকি ও পাথর দিয়ে তিন গম্বুজবিশিষ্ট একটি ছোট মসজিদ নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে তার নাতি, শিল্পপতি হাসান মাহমুদ রাজা পারিবারিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও ইসলামের প্রতি ভালোবাসা থেকে মসজিদটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেন। তখন মসজিদটিকে তিন গম্বুজ থেকে সাত গম্বুজে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে মসজিদটি ১১ তলা বিশিষ্ট এক চমৎকার স্থাপনা—এর মধ্যে সাত তলা মূল মসজিদ ভবন এবং চার তলা সুউচ্চ মিনার রয়েছে। মোগল ও পারসিক স্থাপত্যরীতির সমন্বয়ে নির্মিত এই মসজিদের ভেতর ও বাহিরে সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং রঙিন টাইলসের ব্যবহার একে করেছে দৃষ্টিনন্দন। মসজিদের মূল ভবনে একসঙ্গে প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৪০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। রমজান মাসে এখানে নিয়মিত ইফতারের আয়োজন করা হয় এবং ঈদের নামাজও যথাযথ মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদের চারপাশে সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। সামনে রয়েছে একটি বড় দিঘি, যা মুসল্লিদের অজু ও গোসলের জন্য ব্যবহৃত হয়। ছুটির দিনগুলোতে এখানে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। মসজিদটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি এতিমখানা, নুরানি মাদরাসা, হাফেজিয়া মাদরাসা, একটি কামিল মাদরাসা এবং একটি দাতব্য চিকিৎসালয়। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আবাসিক ব্যবস্থা। জানা যায়, আব্দুল গফুর মণ্ডল ছিলেন এই অঞ্চলের একজন বিশিষ্ট ধর্মপ্রাণ ও জনহিতৈষী ব্যক্তি। তার নাতি হাসান মাহমুদ রাজাও একইভাবে দানশীলতার পরিচয় দিয়ে সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে মসজিদ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণ ও পরিচালনা করে আসছেন। সব মিলিয়ে, মালঞ্চ জামে মসজিদ শুধুমাত্র একটি ইবাদতের স্থান নয়—এটি স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্মীয় শিক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ঐতিহাসিক নিদর্শন ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে পরিচিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট চুয়াডাঙ্গার বড় মসজিদ। স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর কাছে এটি গর্বের একটি নাম। প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো মসজিদটি স্থাপিত হয় ১২০৮ হিজরি, আনুমানিক ১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে। দীর্ঘ সময় ধরে এটি শুধু ইবাদতের স্থানই নয় বরং সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। মসজিদের মুসল্লিদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মসজিদটি এলাকায় ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশেও মসজিদটি তার ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে দাঁড়িয়ে আছে। ১৭৮৬ সালে কুসুম বিবি নামের এক মহীয়সী নারী ৭৩ শতক জমির ওপর নিজ অর্থায়নে মসজিদটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা শহরের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম মসজিদ। এ মসজিদ থেকেই চুয়াডাঙ্গায় প্রথম আজানের সুর ধ্বনিত হয়েছিল। বর্তমানে মসজিদটিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও কিছু কিছু অংশে সংস্কারের প্রয়োজন আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মসজিদের নাম অনুসারেই মহল্লাটির নামকরণ হয়েছে মসজিদপাড়া। চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্র একাডেমি মোড় সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বড় মসজিদটি। শুরুর দিকে মসজিদের ভেতরে দুটি কাতার ও বারান্দায় একটি কাতারে নামাজ আদায় করা যেত। সেই সময় প্রায় ৭০ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারতেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটি সম্প্রসারণ করা হয়। ১৪৩৫ হিজরি ও ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে মূল অবকাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে মসজিদটির সংস্কার কাজ করা হয়। সংস্কারের মাধ্যমে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নামাজের জায়গা সম্প্রসারণ এবং নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়। ফলে বর্তমানে এটি আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি বৃহৎ জামে মসজিদ হিসেবে মুসল্লিদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বড় মসজিদ বা মিনার মসজিদ নামেও মসজিদটি পরিচিত। এর সুউচ্চ মিনার অনেক দূর থেকেই দেখা যায়। তবে বর্তমানে মসজিদের মিনারের তৃতীয় তলার বেলকনির অংশ ভেঙে গেছে। মসজিদের মিনারটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।মসজিদের পাশেই আছে একটি কবরস্থান। এই বড় মসজিদে রেলপাড়া, মসজিদপাড়া, একাডেমি মোড়, জোয়ার্দ্দার পাড়া, বাগানপাড়া, মাঝেরপাড়া, মল্লিকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে আসেন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি জুমার নামাজে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে। এ ছাড়া ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মিলাদ মাহফিল ও কোরআন তিলাওয়াতের আসরেও মসজিদ প্রাঙ্গণ মুখরিত থাকে।মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইবরুল হাসান জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা বড় মসজিদের ইতিহাসে কুসুম বিবির নাম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। এ মসজিদের জমির মূল মালিক ছিলেন পরোপকারী ও ধর্মপ্রাণ নারী কুসুম বিবি। তিনি ৭৩ শতক জমি আল্লাহর ঘর নির্মাণের জন্য দান করেন।’ প্রচলিত আছে, কুসুম বিবি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত রাখতেন। লোককথা অনুযায়ী, নিজের বাড়ি নির্মাণের সময় তিনি মাটির নিচে পাঁচ থেকে ছয় কলসি মোহর খুঁজে পান। বিপুল সম্পদ পেয়ে তিনি ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসে না গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরামর্শ করেন এ মোহর কী কাজে ব্যয় করা যায়। তখন এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ তাঁকে পরামর্শ দেন, এই অর্থ দিয়ে একটি মসজিদ নির্মাণ করলে তা হবে সদকায়ে জারিয়া, যার সওয়াব চিরকাল প্রবাহিত হবে। সেই পরামর্শ হৃদয়ে ধারণ করে কুসুম বিবি নিজের অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। শোনা যায়, সে সময় নির্মাণকাজে ডিমের কুসুম ও সুরকির মিশ্রণ ব্যবহার করে মসজিদের ভিত্তি ও দেওয়াল তৈরি করা হয়। যা সেই যুগের নির্মাণশৈলীর একটি অনন্য উদাহরণ। তাঁর আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও ধর্মীয় অনুরাগের ফলস্বরূপ নির্মিত হয় চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী বড় মসজিদ। প্রথমদিকে এ মসজিদে একসঙ্গে তিন কাতারে দাঁড়িয়ে প্রায় ৭০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। সময়ের পরিবর্তন ও মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটির পরিসর বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। পরে ২০০০ সালে মসজিদটি পুনরায় সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়। আধুনিকায়নের মাধ্যমে বর্তমানে এ মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ৭০০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ জামির হাসান জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি নির্মিত হয়। দীর্ঘ দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এটি এলাকাবাসীর ইবাদত বন্দেগি ও ধর্মীয় চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কুসুম বিবি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় মসজিদের জন্য জমি দান করেছিলেন। বর্তমানে মসজিদের নামে মোট ৭৩ শতক জমি আছে। বর্তমান সভাপতির পূর্বপুরুষরা ছিলেন এ মসজিদের প্রধান দাতা ও পৃষ্ঠপোষক। তাঁদের অবদান ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় মসজিদটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত টিকে আছে এবং ক্রমান্বয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে মুসল্লি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মসজিদটি সংস্কার করা হয়। সে সময় মসজিদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নামাজের স্থান সম্প্রসারণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে এখনো কিছু কাজ বাকি আছে, যেমন- মিনারের উন্নয়ন, অজুখানার আধুনিকায়ন ও সীমানা প্রাচীরের সংস্কার। ধীরে ধীরে মুসল্লি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে। ভবিষ্যতে মসজিদটিকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আছে।’মসজিদ কমিটির সাবেক সেক্রেটারি মোহাম্মদ রিপন মণ্ডল বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা বড় মসজিদ কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি একটি দীর্ঘ সামাজিক ও ঐতিহাসিক যাত্রার সাক্ষী। সময়ের পরিক্রমায় নানা পরিবর্তন, সংস্কার ও সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে এ মসজিদ। প্রাচীন স্থাপত্যধারা ও আধুনিক নির্মাণশৈলীর সমন্বয়ে এটি এলাকাবাসীর গর্বের প্রতীক। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ছিল অপেক্ষাকৃত ছোট পরিসরের ইবাদতখানা। যেখানে স্থানীয় মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন। ক্রমে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের বিস্তারের ফলে পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ, দান ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এর সম্প্রসারণ সম্পন্ন হয়।’ মসজিদের মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ শাহাবুদ্দীন বলেন, ‘আমি ২০১২ সাল থেকে এ মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এটি আমাদের এলাকার ইবাদত ও ধর্মীয় চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মসজিদটি প্রতিষ্ঠার পেছনে কুসুম বিবির অবদান অত্যন্ত মহৎ। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তিনি যে জমি দান করেছিলেন, তারই ফলস্বরূপ আজ আমরা এখানে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করতে পারছি।’মসজিদপাড়ার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব খলিলুর রহমান বলেন, ‘ছোটবেলায় এ মসজিদ প্রাঙ্গণেই অনেক খেলাধুলা করেছি। আমার ছেলেবেলার স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এ মসজিদ। আগে মসজিদটির নকশা ছিল টালির মতো সরল, কিন্তু এখন এটি আধুনিকতার ছোঁয়ায় সমৃদ্ধ হয়েছে। মসজিদটি মোগল আমলের মসজিদের আদলে নির্মিত। এর চুন-সুরকির গাঁথুনি সেই সময়ের নান্দনিক স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে। যেখানে সংস্কারের মাধ্যমে আগের সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। এভাবেই মসজিদটি যুগের পর যুগ টিকে থাকবে এবং নতুন প্রজন্ম এর ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।’
ঝালকাঠি: ঝালকাঠির উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান পলাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, যে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, বরিশাল কর্তৃক ২০২৬ সালের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ১২৩ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা ফি নিচ্ছেন। অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, ১ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়কে ২৭৫ টাকা ফি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে ২ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত নির্দেশনায় ফি কমিয়ে ১২৩ টাকা করা হয়। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথম নির্দেশনাটি অনুসরণ করে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া অব্যাহত রেখেছে। নির্ধারিত ফি বনাম বাস্তব আদায় বোর্ড নির্ধারিত ফি: ১২৩ টাকা বিদ্যালয়ে আদায়: ৩০০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে: ১৭৭ টাকা (প্রায় দ্বিগুণ) নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি অভিযোগ অনুযায়ী— ১ ফেব্রুয়ারি: প্রথম নির্দেশনায় ফি ছিল ২৭৫ টাকা ২ ফেব্রুয়ারি: সংশোধিত নির্দেশনায় কমিয়ে করা হয় ১২৩ টাকা অভিভাবকদের ক্ষোভ অভিভাবকরা বলছেন— “বোর্ড নির্ধারিত ফি মানা হচ্ছে না” “অতিরিক্ত টাকা নেওয়া অন্যায়” “এতে আমাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে” কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ? শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ অভিভাবকদের আর্থিক চাপ বৃদ্ধি সরকারি নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন লিটন হোসেন, শাহাদাত খান ও মিরাজসহ কয়েকজন অভিভাবক বলেন, “বোর্ড নির্ধারিত ফি ১২৩ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায় এবং আমাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।” প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান পলাশ জানান, “আমরা প্রথমে ২৭৫ টাকার নির্দেশনা পেয়েছিলাম। পরবর্তীতে সংশোধিত চিঠিটি পাঁচ দিন পরে দেখার সুযোগ হয়েছিল। তাই পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন বিষয়টি জানার পর সমন্বয় করে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।” বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, “অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। বোর্ডের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা প্রশাসনিক দায়িত্ব। নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।”
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ এখন আর আগের মতো নেই। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, এটি যেন কোনো সবজি ক্ষেত—লাল ও সবুজ শাকে ভরে গেছে পুরো মাঠ। অভিযোগ উঠেছে, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে স্থানীয় একটি এনজিও মাঠটি দখল করে সেখানে সবজি চাষ করেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট শিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরো মাঠজুড়ে শাকের চাষ করা হয়েছে এবং এর তিন পাশ ঘিরে রাখা হয়েছে জাল দিয়ে। ফলে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা তো দূরের কথা, ঠিকমতো অ্যাসেম্বলিও করতে পারছে না। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, মাঠে ঢুকতে গেলেই তাদের বকাঝকা করা হয়, কখনও ভয়ভীতিও দেখানো হয়। এতে তারা মাঠে যাওয়া এড়িয়ে চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআরবি সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই চাষাবাদ করেছে। যদিও প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান দাবি করেন, তিনি বিষয়টি আগে জানতেন না। ছুটি শেষে স্কুলে এসে তিনি এ দৃশ্য দেখেন। অন্যদিকে, এনজিওটির সভাপতি হুমায়ন কবির মন্টু স্বীকার করেছেন যে তাদের পক্ষ থেকেই মাঠে শাকের বীজ বপন করা হয়েছে। তার দাবি, মাঠে ঘাস না থাকায় এটি করা হয়েছে। তবে তিনি এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হুমকিসূচক মন্তব্যও করেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ লিজ দেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ এভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এতে শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী জুবাইরা আক্তার তয়া ও হুমাইরা আকতার তুবা। তারা যমজ বোন। এবার জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেছে। মুখ উজ্জ্বল করেছে বাবা-মা, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে একসঙ্গে সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তি অর্জন করে তারা। উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের তরফবাজিত গ্রামের কম্পিউটার ব্যবসায়ী মোরশেদ হাসান ও তহমিনা আকতার দম্পতির যমজ মেয়ে তারা। মেধাবী শিক্ষার্থী তয়া-তুবা বলে- একইসঙ্গে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তি পাওয়ায় আমরা সবাই খুশি। আগামীতে যেন নিজেদের ও বাবা-মার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি এজন্য সবার কাছে দোয়া প্রত্যাশী। বাবা-মা ও পরিবারের প্রত্যাশা- তয়া-তুবা শিক্ষার ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়বে এবং সমাজে যাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সাদুল্লাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এরশাদ আলী বলেন, দুই বোনের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ ও নম্র আচরণ প্রশংসনীয়। তারা শুধু মেধাবী নয়, চরিত্র গঠনেও সচেতন। আগামীতেও তাদের কাছ থেকে ভালো ফলাফল আশা করছি। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে সাদুল্লাপুরের জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২২ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে তয়া ও তুবা।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : ভারতে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ও রাতের ভোটের সহযোগী।চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ অন্তরে বঙ্গবন্ধু ও মার্চের চেতনা জন্ম-ভাষন স্বাধীনতা বইয়ের লেখক।নারী কেলেংকারীর হোতা। আওয়ামী প্রভাব দেখিয়ে নিয়োগ বানিজ্য।সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ নেতা এখন জামাত নেতা।বলছি বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নুরুল ইসলামের কথা। নুরুল ইসলাম যেখানেই গেছেন সেখানেই তিনি সমালোচিত হয়েছেন।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের চেয়েও তিনি সব সময় সরকারি অর্থ আত্মসাৎ,দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন। বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ এই ফ্যাসিস্ট নুরুল ইসলাম বরিশাল জিলা স্কুলে ১০ সেপ্টেম্বর যোগদান করে একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনটি ক্লাশ বন্ধ রেখে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রোদে দাড় করিয়ে নিয়েছেন সংবর্ধনা।অডিটরিয়াম থাকলেও সেখানে সংবর্ধনার আয়োহন না করে প্রচন্ত গরম ও রোদে দাড় করিয়ে রাখায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরাও। বরিশাল জিলা স্কুলেই নয়। ঝালকাঠির হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়েও ছাত্রীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে রাস্তায় দাড় করিয়ে সংবর্ধনা নিয়ে ছিলেন এই নুরুল ইসলাম।অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসছে একের পর এক নুরুল ইসলামের অপকর্ম। ঝালকাঠিতে থাকাকালিন সময়ে আমির হোসেন আমুকে আর মাদারীপুরে শাজাহান খানকে ম্যানেজ করে চলতেন।পদ-পদবী ঠিক রাখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেনিয়ে বই লিখেছেন।বই ছাপানো,মুজিববর্ষ পালনে তার ব্যক্তিগত কোন টাকা খরচ হয়নি।স্কুলের টাকা দিয়ে নিজের নামে এসব করেছেন। ভুয়া ভাউচার দিয়ে খরচ করেছেন দু হাতে সরকারি অর্থ।তিনি একজন মুজিববাদের সৈনিক ও প্রচারক।হঠাৎ এখন আবার জামাতি হয়ে গেছেন। ঝালকাঠি হরচন্দ্র সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের হিসাব নিয়ে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নয় ছয়ের অভিযোগ করেছিল শিক্ষার্থীরা।এনিয়ে অনেকেই ফেসবুকে হিসাব নিকাশ জানতে চেয়ে পোস্টও করেছিল।তবে তিনি হিসাব দেননি।সচেতনতার সাথে এড়িয়ে গেছেন। বরিশাল জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেই তিনটি ক্লাশ বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের রোদে দাড় করিয়ে সংবর্ধনা নেয়ার সংবাদ প্রকাশ হলে বরিশাল জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ফ্যাসিবাদের দোসর নুরুল ইসলাম বিগত সরকার আমলে ছিলেন প্রভাবশালী। তার ভয়তে তার অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে কেউ কথা বলার সাহস পায়নি। ২০২৪ সালের পহেলা আগষ্ট। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে। যখন পুরো দেশ মৃত্যু পুরি ঠিক সেই সময় ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম শিক্ষার্থীরা যেন আন্দোলনে অংশ গ্রহন না করতে পারে সেজন্য তিনি বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে আটকিয়ে রেখে জোর পুর্বক পাঠদান করাতেন।অতিরিক্ত ক্লাশকে বাধ্যতামুলকও করেন তিনি। কে এই নারী কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে একাধিক বই লেখা বরিশাল জিলা স্কুলের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম এখন জামায়াত নেতা। অর্থ আত্মসাৎ, নারী কেলেঙ্কারি, স্বৈরাচারী সরকারের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বরিশাল নগরীর একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুলে কিভাবে যোগদান করলেন। এমন খবরে সকলে বিস্মিত।হতবাক। ক্ষমতার পালা বদলের পর সুযোগ ও কুট কৌশলে বরিশাল জিলা স্কুলে ফিরে এসেছেন নুরুল ইসলাম। দুর্নীতির অভিযোগে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে বদলি হয়ে আবারো প্রধান শিক্ষক পদে নুরুল ইসলামের যোগদানে সবাই হতবাক হয়েছেন। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে আওয়ামী লীগ পরিচয়দানকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম এখন নতুন মোড়কে জামায়াত পরিচয়ে আসায় বাকরুদ্ধ সবাই। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে ঝালকাঠি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তাকে বদলি করা হয়েছিল। এর আগে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির পাশাপাশি নারী কেলেঙ্কারির মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। ঝালকাঠীর এক অভিজাত হোটেলে নারীসহ ধরা পড়লে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পালিয়ে এসে বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছিলেন। পরে তাকে বরগুনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। বরগুনাতে নানা অঘটনের জন্ম দিয়ে কয়েক মাস পরই বদলি হন মাদারীপুর ইউনাইটেড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। মাদারীপুরে অবস্থানকালে নুরুল ইসলামের দুর্নীতি আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। পরে বদলি হলে ২০২১ সালে বরিশাল জিলা স্কুলে যোগদান করেন। যোগদানের পর নুরুল ইসলাম সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর জাহিদ ফারুকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। এরপরই লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। স্কুলের ছাত্রদের কাছ থেকে প্রতি মাসে আইসিটি বাবদ ২০ টাকা করে আদায় করার পরেও এককালীন ছাত্রপ্রতি ২৪০ টাকা আদায় করতেন। এছাড়াও ভুয়া বিল করে স্কুলের উন্নয়নের নামে বিভিন্ন ফান্ডের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। গত বছরের মে মাসে বরিশাল-২ আসনের (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সাবেক সংসদ-সদস্য মো. শাহে আলম তালুকদারের নির্দেশে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত রাখায় ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি। যা বিভিন্ন পত্রিকায় খবরের শিরোনাম হয়েছিল। এছাড়াও স্কুলে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী না রেখে তাদের সম্মানি নিজেই আত্মসাৎ করতেন। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সালে ‘চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ অন্তরে বঙ্গবন্ধু’ ও ‘মার্চের চেতনা জন্ম-ভাষণ স্বাধীনতা’ নামে দুটি বই লিখে বরিশাল জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন পত্রিকায় ৭ মার্চের ভাষণ, ১৫ আগস্ট, শেখ মুজিবের জন্মদিনে নিয়মিত কলামও লিখতেন এই শিক্ষক। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জড়িত শিক্ষার্থীরা বলেন, বিগত অবৈধ সরকারের সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিবাজ বরিশাল জিলা স্কুলের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দুঃখজনক।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ডে লিঙ্গ ভুল: কী ঘটেছে? বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীকে ভুলভাবে ‘ফিমেল’ বা নারী লিঙ্গ উল্লেখ করে কার্ড মুদ্রণ করা হয়েছে। এই ভুল পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে প্রকাশ পায়, ফলে শিক্ষার্থীদের কলেজ ও শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে। শহরজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক উদ্বেগ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার তৎপরতা এবং কম্পিউটারাইজড ডেটা প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে ধরা পড়ল ভুল? প্রাথমিকভাবে ঝালকাঠি জেলার শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণের সময় ভুল লিঙ্গের তথ্য শনাক্ত করা হয়। পরে অন্য জেলার শিক্ষার্থীদের কার্ডগুলোও পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, মোট ৩৮ হাজার ছেলে শিক্ষার্থীকে ‘ফিমেল’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, “এই ধরনের ত্রুটি কম্পিউটার প্রোগ্রামের সেটিংস এবং অপারেটরের অসাবধানতার কারণে হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংশোধন করতে পারবে। কোনো প্রকার হয়রানি বা অতিরিক্ত খরচ নেই।” বোর্ডের প্রতিক্রিয়া বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইউনুস আলী সিদ্দিকী বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ভুলের জন্য সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড আবার মুদ্রণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো শিক্ষার্থীকে অর্থ ব্যয় করতে হবে না।” তবে এই ঘটনার প্রভাব শুধু কার্ড সংশোধনের খরচেই সীমাবদ্ধ নয়। অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম, বরিশাল বিভাগীয় শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক, বলেন, “শিক্ষার্থীদের হাতে ভুল কার্ড পৌঁছানো মানসিকভাবে তাদের উপর প্রভাব ফেলেছে। এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়, যা আরও গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। নতুন করে কার্ড ছাপাতে যা অর্থ ব্যয় হবে, তা কলেজের ওপর চাপানো যাবে না; বোর্ডকেই তা বহন করতে হবে।” শিক্ষার্থীদের প্রভাব ভুল কার্ড পেয়ে শিক্ষার্থীরা হতাশ ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। কিছু শিক্ষার্থী জানান, তারা যখন কার্ড হাতে পেল, তখন নিজেদের লিঙ্গ ভুলভাবে উল্লেখ করা ছিল, যা তাদের আত্মসম্মান এবং মানসিক শান্তিতে প্রভাব ফেলেছে। এক শিক্ষার্থী বলেন, “পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে, অথচ আমার লিঙ্গ ‘ফিমেল’ লেখা আছে। কার্ড সংশোধনের জন্য এখন আমাকে কলেজ এবং বোর্ডের মধ্যে ছুটতে হচ্ছে। এটি খুবই মানসিক চাপের বিষয়।” শিক্ষার্থীদের এই উদ্বেগ বোঝার পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডকে ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রি প্রক্রিয়ায় ত্রুটি প্রতিরোধের পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং দায় এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে বোর্ডের কর্মকর্তারা কম্পিউটার প্রোগ্রামের সেটিংস এবং অপারেটরের ভুল উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান যুগে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, তাই ডেটা যাচাই এবং ডাবল চেকিং সিস্টেম আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার। এক শিক্ষাবিদ মন্তব্য করেন, “৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর তথ্য ভুল হওয়া খুবই গুরুতর। এটি শুধুমাত্র লজিস্টিক সমস্যা নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সামাজিক সম্মানেও প্রভাব ফেলে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ভুল রোধে সফটওয়্যার ও মানব সম্পৃক্ত প্রক্রিয়া উন্নত করা আবশ্যক।” সমাধান ও পরবর্তী পদক্ষেপ বরিশাল শিক্ষা বোর্ড ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংশোধন করতে পারবে। সংশোধিত কার্ড পুনঃমুদ্রণ করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় বোর্ডকে ফিনান্সিয়াল ও অপারেশনাল দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া, বোর্ডকে ভবিষ্যতের জন্য তথ্য যাচাই ব্যবস্থার শক্তি বাড়াতে হবে, যাতে একই ধরনের ভুল আর না ঘটে। শিক্ষকরা এবং অভিভাবকরা আশা করছেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করতে বোর্ড দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণের সময় ধরা পড়া লিঙ্গ ভুল শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার একটি বড় উদাহরণ। প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর ভুল তথ্য শুধরানো হচ্ছে, কিন্তু এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রভাব এবং প্রক্রিয়াগত ত্রুটির গুরুত্ব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। শিক্ষাব্যবস্থা এখন দায়িত্বশীলভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে, ডিজিটাল ডেটা সঠিকভাবে যাচাই এবং পুনঃমূল্যায়ন করা হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা আর কখনও এই ধরনের ভুলের শিকার হবে না।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য এবং কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহানের বিরুদ্ধে সাইটেশন জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উপ-উপাচার্য হওয়ার প্রাক্কালে তিনি গুগল স্কলারে নিজের প্রোফাইলে অন্য গবেষকদের প্রবন্ধ যুক্ত করেছিলেন। ফলে তার সাইটেশন সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে প্রায় দুই হাজারে পৌঁছায়। পরে উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগের পর তার পূর্বের প্রোফাইলটি গুগল স্কলার থেকে মুছে যায় এবং বর্তমানে বিদ্যমান প্রোফাইলে মাত্র ৩২৬টি সাইটেশন দেখা যাচ্ছে। গবেষণা জগতে একজন গবেষকের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব মাপার অন্যতম সূচক হলো সাইটেশন সংখ্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা গবেষণা অনুদান নির্ধারণে এই সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে সাইটেশন বৃদ্ধি করতে কৃত্রিম পন্থা গ্রহণের অভিযোগও নতুন নয়। মূলত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপ-উপাচার্য এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বেলাল হোসাইনের বিরুদ্ধে সাইটেশন জালিয়াতির বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারের পরই অধ্যাপক হেমায়েত জাহান নিজের প্রোফাইল থেকে অন্য গবেষকদের প্রবন্ধ সরিয়ে নেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষকতার পাশাপাশি ভালো গবেষককে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। সে সময় উপাচার্য হওয়ার প্রয়াসে অধ্যাপক হেমায়েত জাহান কৃত্রিম পন্থায় নিজের প্রোফাইলে অন্য গবেষকের প্রবন্ধ যুক্ত করে সাইটেশন সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করেন। ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর গুগল স্কলারে তার সাইটেশন সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৬০। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যমান প্রোফাইলে মাত্র ৩২৬টি সাইটেশন দেখা যাচ্ছে। জানা যায়, গুগল স্কলারের প্রোফাইল গবেষকরাই পরিচালনা করেন এবং প্রবন্ধগুলো নিজ উদ্যোগে যুক্ত করতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, নামের মিল থাকা বিভিন্ন দেশের গবেষকের প্রবন্ধ ড. হেমায়েত জাহানের প্রোফাইলে যুক্ত করা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহান তার সাইটেশন জালিয়াতির জন্য অস্ট্রেলিয়ান গবেষক Sayka Jahan (S Jahan)-এর বেশিরভাগ গবেষণা প্রবন্ধ নিজের প্রোফাইলে আপলোড করেছিলেন। এসব সাইটেশনের ভিত্তিতেই তিনি ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান এ বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ঘটনাটিকে “অটোমেটিক পদ্ধতির ফল” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের কারণেই হয়তো অতিরিক্ত সাইটেশন যুক্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্যান্য গবেষকদের নাম নজরে এলে বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নেই।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে আমি প্রোফাইলে সাইটেশন বৃদ্ধির বিষয়টি খেয়াল করিনি তাই এভাবে অন্যের আর্টিকেল যুক্ত হয়ে গিয়েছিল” বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক ড. মো. গুলজার হোসেন বলেন, “গুগল স্কলার অটোমেটিক এনাবল করে রেখে অনেকেই অন্যের আর্টিকেল নিজের প্রোফাইলে যুক্ত করে ফেলেন। কিন্তু এখানে কোনো গবেষক যখনই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেন, তখন দেখতে পারেন কারও সাইটেশন যুক্ত হয়েছে কি না। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে আর্টিকেল যুক্ত হওয়ার পর সাজেশনও আসে—সেই আর্টিকেল তার কি না। তাই পদ-পদবি পাওয়ার উদ্দেশ্যে অন্যের সাইটেশন নিজের প্রোফাইলে যুক্ত করে রাখা বড় অন্যায়। এসব জালিয়াতির ব্যাপারে গুগল স্কলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে আইডি বন্ধ করে দেয়।” বিশিষ্ট গবেষক ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. এম শহিদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, “এত কম সময়ে এত বিশাল সংখ্যক সাইটেশন বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। এ ধরনের গবেষকদের আমরা সাধারণত ‘সিউডো সায়েন্টিস্ট’ বলে থাকি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ক্যারিয়ার ইভালুয়েশন করা উচিত। যদি কোনো ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে এভাবে সাইটেশন বৃদ্ধি করে কোনো পদ-পদবি পেয়ে থাকেন, তবে সরকারি বিধি মোতাবেক পদাবনতির বিধান রয়েছে।” প্রসঙ্গত, এটি প্রথম নয়—অধ্যাপক হেমায়েত জাহানকে নিয়ে আগেও রয়েছে নানা বিতর্ক। একটি কলেজের প্রাণীবিদ্যার ছাত্র হলেও ২০০৬ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তবে প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তিনি কীটতত্ত্ব বিভাগে আবেদনই করেননি; আবেদন করেছিলেন এগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগে। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক প্রভাব ও সুসম্পর্কের জেরে নিয়োগের পরপরই জামায়াতপন্থী উপাচার্য ড. আবদুল লতিফ মাসুমের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও তিনি নিয়োগ পান। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি ২০২৫ সালে শিবিরের একটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তার সঙ্গে মনোমালিন্য ও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সম্প্রতি প্রশংসিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত স্কিন, হেয়ার, এলার্জি, চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ রেজওয়ান কায়সার। তার অনন্য সেবা, মানবিক আচরণ এবং চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতির প্রয়োগ তাকে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগীদের প্রতি সহানুভূতি এবং নতুন উদ্ভাবনী ধারণার সংমিশ্রণে অসংখ্য রোগী তার কাছ থেকে সান্ত্বনা পেয়েছেন। স্কিন, হেয়ার, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ রেজওয়ান কায়সারের অনন্য চিকিৎসা পদ্ধতি, মানবিক আচরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তাকে রোগীদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চিকিৎসাক্ষেত্রে দক্ষতার পাশাপাশি রোগীদের প্রতি তার সহানুভূতিশীল মনোভাব এবং বন্ধুসুলভ আচরণ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। অনেক রোগীর মতে, চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক স্বস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সমান গুরুত্ব দেন। ডাঃ কায়সার বলেন, "আমার মূল লক্ষ্য হলো, আমি শুধু রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে নয়, রোগীদের মানসিক শান্তি ও আস্থাও অর্জন করতে চাই।" তিনি জানান, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে চর্ম, হেয়ার এবং এলার্জি চিকিৎসায় উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি তার রোগীদের দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করেন। রোগীদের প্রতি স্নেহ ও সহানুভূতি ডাঃ রেজওয়ান কায়সারের চিকিৎসা শাস্ত্রে দক্ষতার পাশাপাশি, রোগীদের প্রতি তার আন্তরিকতা তাকে মানুষের মন জয় করতে সহায়তা করেছে। তার সহজ-সরল ভাষায় রোগীদের জন্য পরিষ্কার ব্যাখ্যা এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অনেকে। এই চিকিৎসকই একমাত্র যিনি রোগীর সাথে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক স্থাপন করে তাকে তার চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করেন। নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি ডাঃ কায়সারের নেতৃত্বে অনেক চর্ম ও এলার্জি রোগের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তার নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সমাজসেবায় অবদান চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পাশাপাশি, ডাঃ কায়সার বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজেও জড়িত। তার উদ্যোগে অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয় এবং তিনি নিয়মিত চর্মরোগ ও এলার্জি সম্পর্কে সচেতনতামূলক পরামর্শ দিচ্ছেন। ভবিষ্যত পরিকল্পনা ডাঃ মোঃ রেজওয়ান কায়সার আশা করছেন যে, তার কাজের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে আরও উন্নতি আসবে এবং তিনি আরো অনেক নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করবেন। তার লক্ষ্য হলো, সব শ্রেণির মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে তার সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারিত করা। ডাঃ কায়সারের মেধা, পরিশ্রম এবং নৈতিকতা তাকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তিনি দেশের এক অত্যন্ত প্রশংসিত চিকিৎসক হিসেবে তার সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে আরো অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি বরিশালের বগুড়া রোডস্থ স্কিনফিনিটি (স্কিন, হেয়ার, এলার্জী, লেজার, এসথেটিক সেন্টার) এ এবং বাংলাবাজারের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখেন। স্কিনফিনিটির মোবাইল নম্বর: ০১৩০৬৭৮৭০৪, ০১৩০৭০৭৭৫৯০ চিকিৎসা সেবা: চর্মরোগ ও চর্ম লেজার সার্জারি। চুল পড়া ও চুলের যত্ন (হেয়ার)। এলার্জি রোগ। যৌন ও সেক্স রোগ। এস্থেটিক মেডিসিন (সৌন্দর্যবর্ধন)। চর্ম ও এলার্জি রোগে উচ্চতর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি স্কিনফিনিটিতে আধুনিক ও বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করছেন। ডাঃ মো: রেজওয়ান কায়সারের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : ডাঃ মো: রেজওয়ান কায়সার (এমবিবিএস, ডিডি-থাইল্যান্ড, আমেরিকান একাডেমি অফ এস্থেটিক মেডিসিন) বরিশালের আলেকান্দায় স্কিনফিনিটি সেন্টারে স্কিন, চুল, এলার্জি, সেক্স এবং লেজার সার্জারির জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন । তিনি ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন কনসালটেন্ট এবং চর্ম ও যৌন রোগের পাশাপাশি এস্থেটিক মেডিসিনে পারদর্শী। চেম্বারের তথ্য যোগাযোগ ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট: সেন্টারের নাম: স্কিনফিনিটি (স্কিন, হেয়ার, এলার্জি, লেজার, এসথেটিক সেন্টার) ঠিকানা: বগুড়া রোড, বরিশাল-৮২০০ ।
সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু) ডা. সালাহ-আল-দীন-বিন নাসির এবং জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোসার্জারী) ডা. মো. মাহমুদুল্লাহকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। আজ রোববার বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই কৈফিয়ত তলব করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদেশে দুই চিকিৎসককে কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না-পরবর্তী ২ কর্ম দিবসের মধ্যে জানানোর নির্দেশ ও কৈফিয়ত তলব করা হয়।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : জুলাই আগস্ট আন্দোলনের পেক্ষাপটে বদলে গেছে অনেক কিছু। বিদায় নিয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকার। দেশ ছেড়েই পালিয়ে গেছেন ওই সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা। পালিয়ে গেছেন তার অনেক সহযোগী। যারা পালাতে পারেননি তারা রয়েছেন আত্মগোপনে। বর্তমান সরকারের সময় রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সর্বত্র নতুন করে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে । কিন্তু সরকারের সাড়ে দশ মাসেও পরিবর্তন বা সংস্কারের ছোয়া লাগেনি বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগে। ফ্যাসিবাদি সরকারের প্রায় পুরোটা সময় আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ,সাদিক আব্দুল্লাহ,আমির হোসেন আমু ও পঙ্কজ দেবনাথের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল বরিশালে চিকিৎসা বানিজ্য সিন্ডিকেট। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর নেতারাই মূলত এ সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করতো। কথিত ওইসব নেতারা নিজেরা প্রাইস পোস্টিং নিয়ে যাকে খুশি বদলি, নিয়োগ, পদোন্নতিসহ খেয়াল-খুশিমতো ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রাইভেট ভাবে রোগী ও অপারেশনসহ চিকিৎসা বানিজ্য করতো। স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের নেতারা কাউকে তোয়াক্কা করতেন না। কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পেত না। কেউ মুখ খুললেই তাকে জামায়াত-শিবির,সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীসহ নানা ট্যাগ দিয়ে বদলি করানোসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো। সরকার বদল হলেও এখনো পুরোনা সিন্ডিকেটের শক্ত অবস্থানে নিয়ন্ত্রণ করছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্য সেবা খাত।সরকার পরিবর্তন হলেও সিন্ডিকেট পরিবর্তন হয়নি।বরিশালে সিভিল সার্জন ও শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ছাড়া সকলেই বহাল তবিয়তে। এখনো ফ্যাসিস্টদের দোসরদের শাস্তি ,বিচার ও বদলী প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারন চিকিৎসক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা বলেছেন এখনো দোসররা বহাল থাকায় এটা বর্তমান সরকারের অযোগ্যতা ,অদূরদর্শিতা, অক্ষমতাও বলা যায়। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন তারা এখনও কিভাবে বহাল তবিয়তে থাকে এ প্রশ্ন সচেতন মহলের। বিগত ১৬ বছরে যারা পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের এখন পদোন্নতি দেয়া হয়নি।কারো কারো দেয়া হলেও অদ্যাবধি পদায়ন হয়নি অধিকাংশের। এদিকে বরিশালের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে নীরব অস্থিরতা বিরাজ করছে। এতে স্বাস্থ্য সেবায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন ১৬ বছরের সুবিধাভোগী, পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার অন্ধ সমর্থক ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠরা। তারাই প্রশাসনের যাবতীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কৌশলে বাধা সৃষ্টি করছেন। বিগত সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক আছেন এখনো বহাল তবিয়তে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল। বরিশালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে যোগদান করেন ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর।যোগদানের পরেই ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিস্টদের দোসরদের বাদে সকলকে বদলীসহ হয়রানী শুরু করেন। ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল নিজেকে স্বাচিপের উপদেস্টা হিসেবে পদোন্নতি পেতে কোন সমস্যা হয়নি।বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হওয়ার পুর্বে তিনি বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) পদে দ্বায়িত্বে ছিলেন।ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জন অফিসসহ স্বাস্থ্য বিভাগে ঘুষের বাজার খুলে বসেন।নিয়োগ দেন এক একজন দালাল।দালালদের মাধ্যমে ঘুষ আদায় করেন।৫ আগষ্টের পরে ব্যাপক তদবীর করে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন বরিশালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে। বর্তমানে বরগুনা,গলাচিপাসহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রকোপ চলছে। অথচ স্বাস্থ্য বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার বেড়েই চলছে। বরিশাল বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর অবস্থা এখন চরম সংকটে। চিকিৎসকসহ জনবল সংকট, যন্ত্রপাতি বিকল, অনুন্নত অবকাঠামো এবং অব্যবস্থাপনায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে কোনো রকমে চলছে এগুলো। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ খরচে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এতে ক্ষোভ বাড়ছে তাদের। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় মোট ৪১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। তবে, এসব কমপ্লেক্সে চিকিৎসক পদায়ন রয়েছে চাহিদার অর্ধেকেরও কম। মোট ১২৫৪টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে ৫৭১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন, যা মাত্র ৪৫%। বরিশাল বিভাগে ১১০০টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ। কার্য্যক্রম চলে বাসা বাড়িতে বসে।দেখাভাল না করায় অকার্যকর এখন কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান,বরিশালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে সবার কাছে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বরিশাল বিভাগের অসংখ্য উপজেলা হাসপাতালে অপারেশন কার্য্যক্রম বন্ধ,বিভাগ জুড়ে অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে নেই কোন পদক্ষেপ ।দ্রুত সময়ে অযোগ্য ও ফ্যাসিস্টের দোসর দলবাজ ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডলকে বদলী না করা হলে ডেঙ্গু ও করোনা রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রমে উন্নতি হবেনা বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক চিকিৎসকরা। ফ্যাসিস্ট সরকারের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্তদের অন্যতম বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের অর্থপেডিক্স বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও হাসপাতালের অর্থপেডিক্স বিভাগের গুরুত্বপুর্ন দ্বায়িত্বে রয়েছেন ডাঃ মোঃ ফেরদৌস রায়হান (কোড নং ১০০৫১৩৪)।তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী ডাক্তারদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর ঝালকাঠি শাখার পুর্নাঙ্গ কমিটির কোষাধ্যক্ষ । আমির হোসেন আমুর দাপট দেখিয়ে তিনি একই কর্মস্থলে যুগ পার করছেন।তিনি ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ আমুর সুপারিশে রেজিষ্টার থেকে জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদে পদোন্নোতি পেয়েছেন।এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তার।তাকে অন্য কোথাও বদলী হতে হয়নি।আমুর ছোয়ায় একের এক পদোন্নতি লাভ করেন।তার কর্মস্থল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রেখে প্রাইভেট প্র্যাক্টিসে ব্যস্ত থাকেন সব সময়।চেম্বার করেন বরিশালের পপুলার ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে আর রোগীদের অপারেশন করেন ডায়াবেটিকস হাসপাতালে।শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাইন বোর্ড ব্যবহার করে প্রাইভেট চিকিৎসা বানিজ্য করে দু হাতে কামাই করছেন টাকা।লাখ লাখ টাকা মাসে আয় করলেও আয় অনুযায়ী ভ্যাট ও ট্যাক্সের খাতা প্রায় শূন্য। ইতিমধ্যে বরিশাল নগরীর কালুশাহ সড়কের মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় সাড়ে ৬ তলা ভবনের নির্মান কাজ শেষ করেছেন।এখন ভবনে চলছে রংয়ের কাজ।জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ গড়েছেন বরিশাল থেকে ঢাকা।ঢাকায় ফ্লাটও ক্রয় করেছেন নামে বেনামে।সরকারি পদ পদবীকে বানিয়েছেন আলাদিনের চেরাগ।অবৈধ সম্পদ,টাকা আর বাড়ি গাড়িতে ফুলে ফেপে উঠেছেন তিনি।কাউকে তিনি থোরাই কেয়ার করেন না। রোগী ধরা দালাল পোষেন তিনি।দালাল ও প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করে আজ শত শত কোটি টাকার মালিক। এক যুগ ধরে একই কর্ম স্থলে থাকার সুবাদে দালাল নির্ভর ডায়াগনস্টিক সেন্টার ,ক্লিনিক ও দালালদের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহ করে অপারেশন করেন। দীর্ঘ সময় একই কর্মস্হলে চাকরীর নেপথ্যে রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহারও বিধিবহির্ভূত কর্মকান্ড। কয়েকবার বদলীর আদেশ আসলেও প্রতিবারই বিচক্ষণতায় তা ঠেকানোর দুঃসাহস দেখিয়েছেন তিনি।এভাবেই অবৈধ টাকা অর্জনে অনেক দুর এগিয়ে গেছেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের অন্যতম ডোনার ও দূর্নীতির এই স্বপ্নবাজ। ডাঃ ফেরদৌস রায়হানের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমান অর্থ,ব্যাংকে এফডিআর এবং নামে বেনামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়েছেন। একের পর এক বেরিয়ে আসছে ডাঃ ফেরদৌস রায়হানের অবৈধ সম্পদের খবর। একজন সরকারি ডাক্তার হয়ে তিনি কীভাবে এত সম্পদের মালিক হয়েছেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ডাঃ ফেরদৌস রায়হানের অবৈধ সম্পদ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করলেই শত শত কোটির চেয়েও বেশী সহায় সম্পদের তথ্য প্রকাশ পাবে যা জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ। ফ্যাসিস্ট সরকারের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্তদের আরেক ডন ডাঃ সুদীপ হালদার। বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোর ডক্টরস এ্যাসোসোসিয়েশনের সভাপতি,আওয়ামী পন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপ এর বরিশালের সাধারন সম্পাদক, আওয়ায়ামীলীগ নেতা ,সাবেক মেয়র সাদিকের ডানহাত ও ‘র ‘ এর এজেন্ট পরিচয়ে ডাঃ সুদীপ হালদারের আঙ্গুলের ইশারায় চলতো শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ ও শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।সুদীপের কথাই ছিলো শেষ কথা। ৫ আগষ্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও ৩ আগষ্ট সুদীপের অর্থায়নে ও নেতৃত্বে শান্তিকামী চিকিৎসক ও নার্স সমাজ বরিশালের ব্যানারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন জামায়াত -শিবির ও বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকান্ড…..শিরোনামে শান্তি সমাবেশ করে। এতে অংশ নেয় স্বাচিপের নেতা ও তাদের সমর্থক নার্স সমাজ।সুদীপ হালদার শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সৃষ্টি করেছিল এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি।৫ আগষ্টের পরে আত্মগোপনে থাকলেও পরে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় আবার স্বরুপে ফিরেছেন এই ডন। ক্ষমতা প্রয়োগ করে রোগীদের থেকে হাতিয়ে নিতেন বিপুল অর্থ আর তার এই কর্মকান্ড নির্বিঘ্নে করার জন্য তার অধীনস্ত ডাক্তার এবং চথুর্ত শ্রেনীর কর্মচারীদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট অর্থোপেডিক্স অপারেশনে ব্যবহৃত প্লেট স্ক্রু যা রোগীরা নগদ অর্থে ক্রয় করে তার অতিরিক্ত দাম ধার্য করতে সরবারহকারীদের বাধ্য করে সেই থেকে অর্থ আত্মসাত করেন। এছাড়া অপারেশনের সিরিয়াল নিয়েও চলে বানিজ্য। এমনকি হাসপাতাল থেকে রোগী বের করে প্রাইভেটে অপারেশন করার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অতি পুরানো। এ অভিযোগ এতটাই ব্যপক ছিল যার কারনে বিগত ফ্যাস্টিস্ট সরকারের স্বাস্থ্য সচিব পর্যন্ত প্রকাশ্য মিটিংয়ে এই অভিযোগ তুলেছিলেন। তার দূর্নীতির চক্রের বিরুদ্ধে গেলেই শারিরীক এবং মানসিক হামলার শিকার হতে হয়। বাদ যায়নি চিকিথসকগনও।সাগরদীতে পাচঁ তলা ভবন,ঢাকায় ফ্লাটসহ নামে বেনামে গড়েছেন সম্পদ। জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদের পরিমান ছাড়িয়েছে শত কোটির ওপরেও। তিনি ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা সহায় সম্পদের পাহাড়।এছাড়া ডাঃ সুদীপের বিরুদ্ধে নারী ও মদ্যপ পানের অভিযোগ রয়েছে। প্রঙ্গত উল্লেখ্য, মেডিসিন এর ডা. মাসুদ খান ল্যাব বানিজ্য ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় শেবাচিম প্যাথলজির ডা.আশিষ যিনি সুদীপ হালদারের সদস্য তাই ক্ষেপে যান। যার ফলে ডা সুদীপের নির্দেশে তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতারা ডা মাসুদ এর ইসলামী লেবাস কে ইস্যু করে জামাত শিবির ট্যাগ দিয়ে শহীদ আবরার এর মত রুমে আটকে হামলা চালায় যাতে ডা.মাসুদ এর কান এর পর্দা ফেটে যায়। এহেন ভয়ংকর চরিত্রের ডাঃ সুদীপ হালদার ৫ আগষ্ট সরকার পতন ঘটলে গা ঢাকা দিলেও আবার ফিরে আসে।যারপর নাই দুর্নীতি অনিয়ম তা সবই করেছেন এই গডফাদার ডাঃ সুদীপ হালদার।সকল প্রকার প্রমানাদী থাকার পরেও কেন কিভাবে বহাল তবিয়তে রয়েছেন সুদীপ হালদার এসব বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহনকারী ছাত্র জনতা। এছাড়া শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাচিপ নেতা ডাঃ সৌরভ সুতার,ডাঃ মাশরেফুল ইসলাম সৈকত,এফ আর খানসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৩ আগষ্ট শান্তিকামী চিকিৎসক ও নার্স সমাজ বরিশালের ব্যানারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন জামায়াত -শিবির ও বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকান্ড…..শিরোনামে শান্তি সমাবেশ করে। তাদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো সহ সরকার বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। দ্রুততম সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠজন ও স্বাচিপ নেতাদের বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন নিয়ে বদলী ও অপসারনের দাবী জানিয়েছেন সাধারন ডাক্তার,কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) ঘিরে আবারও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী ও দমন-পীড়নে জড়িত একাধিক কর্মচারী এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। কেউ কেউ রাজনৈতিক ভোল পাল্টে বিএনপি বা জামায়াতপন্থী পরিচয় ধারণ করলেও বাস্তবে আগের প্রভাব-প্রতিপত্তি অটুট রয়েছে বলে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। হাসপাতাল সূত্র জানায়, সম্প্রতি চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের একটি কমিটি অনুমোদনের লক্ষ্যে একটি মহল বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার-এর দ্বারস্থ হয়। তাদের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আপত্তি থাকায় তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে তারা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লা-এর মাধ্যমে কমিটি অনুমোদন করান। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির শীর্ষে দু-একজন বিএনপিপন্থী থাকলেও অধিকাংশ সদস্যই ঘোর আওয়ামীপন্থী। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম মল্লিক ওরফে ফেরদৌস। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১ মার্চ ঔষধ চুরির সময় যৌথবাহিনীর হাতে আটক হন তিনি। এ ঘটনায় তৎকালীন উপ-পরিচালক ডা. সুভাষ দাশ কোতোয়ালি থানায় এজাহার (নং-৩২৫৯/০৭) দায়ের করেন। সেখানে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ঔষধ চুরির অভিযোগ উল্লেখ ছিল। তবে পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এর হস্তক্ষেপে অভিযোগ থেকে রেহাই পান বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালে করোনা ওয়ার্ড থেকে ১০০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরির অভিযোগও ওঠে ফেরদৌসের বিরুদ্ধে। তৎকালীন সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললেও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ-এর হস্তক্ষেপে তা আলোর মুখ দেখেনি। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার বদলির আদেশ এলেও তা কার্যকর হয়নি। বরং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার অব্যাহত ছিল। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ৩ আগস্ট চৌমাথা এলাকায় বিএনপি নেতা জিয়া শিকদারের ওপর হামলার সময়ও তাকে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস। তিনি বলেন, “আমাকে যৌথবাহিনী আটক করেছিল, এটা সত্য। তবে মামলায় আমি খালাস পেয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি অভিযোগগুলো তদন্তের দাবি জানান। এ বিষয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুল মোনেম সা’দ বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, “বিতর্কিত কয়েকজনের ডিউটি পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে জনবল সংকট থাকায় তাদের দিয়েই সেবা চালাতে হচ্ছে। ডিজি হেলথ থেকে জনবল পরিবর্তন করা হলে সেবার মান আরও উন্নত হবে।” হাসপাতাল ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বিতর্কিত ব্যক্তিরা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থাকেন—সে বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
চিকিৎসার জন্য শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর দক্ষিনাঞ্চলের কোটি মানুষের নির্ভরতা। বরিশালসহ খুলনা বিভাগের একাংশ ও ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর মাদারীপুর,গোপালগঞ্জের মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান এটি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে সবচেয়ে পুরনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি। অথচ এই হাসপাতালের রোগীসেবায় কেউ সন্তুষ্টি নন ।কোনো কাজে আসছে না গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত কোনো রোগী।এখানে ভর্তি করা হলে ঢাকা মেডিকেল বা বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে প্রেরন করা হয়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। অধিকাংশ যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় কম মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সুবিধা পাচ্ছে না রোগীরা। আছে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যও। হাসপাতালের সর্বত্রই ময়লা-আবর্জনা। তবে সেবা পেতে রোগীর ভোগান্তি সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। একাধিক রোগী ও রোগীদের স্বজনরা ইত্তেহাদ নিউজকে জানিয়েছেন, এখানে হাসপাতালে সেবা পেতে পদে পদে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনিয়ম যেখানে নিয়মে পরিনত, অসভ্যতাই যেখানে সভ্যতা, নোংড়াই যেখানে পরিচ্ছন্নতা! রোগী, স্বজন যেখানে জিম্মি, বর্তমান আলোর পৃথিবীতে এক ভয়ানক অন্ধকার জগতের নাম দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। রোগী ভর্তি থেকে শুরু হয় নানান রকম হয়রানী আর বিরম্বনা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জরুরি বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে ক্যাজুয়ালটি বিভাগটি পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না। জরুরি বিভাগ থেকে আহত রোগীদের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে না পাঠিয়ে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, একশ্রেণীর দালাল চক্রের সঙ্গে জরুরি বিভাগের কর্মচারীদের সিন্ডিকেট রয়েছে। কমিশনের বিনিময়ে জরুরি বিভাগ থেকে রোগী ভাগিয়ে তারা প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকে নিয়ে যায়।কর্মকর্তা কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারীতা, কর্তব্যে অবহেলার কারনে জটিল ধাধায় পরে যায় আগত সাধারন রোগী ও স্বজনরা। আয়া বুয়াদের দাপট আর আচরণ এতটাই জঘন্য। এমনকি ঝাড়ু নিয়েও আক্রমন করতে দেখা গেছে স্বজনদের উপর। কেউ প্রতিবাদ করলেই যেনো তাকে বিপদে পরতে হয়, ভিমরুলের দলের মত সব দলবদ্ধ হয়ে ঝাপিয়ে পরে। এতো গেলো আয়া বুয়া ক্লিনারদের কথা।সিস্টার নার্স আর ডাক্তার, তারাতো বাংলার নবাব। কোন বিষয় কথা বলতে গেলেই ধমকের সুরে কথা বেড়িয়ে আসে তাদের মুখ থেকে। রোগী যখন সংকটময় অবস্থা তখন দশবার ডেকেও তাদের পাওয়া যায়না। তাদের অবহেলার কারনে শিশু মারা গেছে নবজাতক শিশু ওয়ার্ডে। স্বজনদের অভিয়োগ ডাক্তার যদি একটু কেয়ার করত তবে হয়ত শিশু তিনটি বেচে যেতো। এর কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে নাজেহাল করে দেয় তারা। সাংবাদিক পরিচয় দিলে, হুমকী দিয়ে বলা হয়, এটা সরকারী হাসপাতাল, ডাক্তারদের ক্ষমতা অনেক, আপনি যা পারেন করেন গিয়ে। শিক্ষিত ডাক্তারদের এমন অশালীন দৃষ্টতাপূর্ণ আচরনে হতবাগ হয়ে পরে উপস্হিত জনতা। পরিচ্ছন্নতার কথা আর কি বলব, এক কথায় সমগ্র হাসপাতালটি একটি নোংড়া দূর্গন্ধময় ভুবন। বেশিরভাগ বাথরুমের নেই কোন দরজা, পানি ব্যাবহারের ব্যবস্থাও নেই বেশিরভাগ বাথরুমে, নানা অব্যাবস্থাপণা, অনিয়নম আর সেচ্ছাচারীতায় এমন বৃহত্তর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন কতিপয় অমানুষ আর হায়েনার রাজ্যে পরিনত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবী, লাখো মানুষের সেবায় নিয়োজিত এই মহা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিয়ম ও সভ্য আচরণে ফিরে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। ডিউটি রেখে ব্যক্তিগত ক্লিনিকে সময় দেন চিকিৎসকরা : সরকারি ডিউটি রেখে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত ক্লিনিকে সময় দেন। এর ফলে সরকারি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা পড়েন চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনায়। হাসপাতাল ময়লার ভাগাড়: বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল হাসপাতালের মানসিক বিভাগের পাশের এ খোলা জায়গাতে চিকিৎসা বর্জ্য ফেলছে কর্তৃপক্ষ। রাতে সিটি করপোরেশন এসব ময়লা অপসারণ করলেও দিনভর পাখি, কুকুর, বিড়াল এসব বর্জ্য চারদিকে ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ করছে। হাসপাতালের মূল ভবনের পাশেই ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলায় চিকিৎসা নিতে এসে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।রোগীর স্বজনরা জানান, মানসিক বিভাগের পাশে ময়লার ভাগাড় করায় কোনোভাবেই চিকিৎসা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। উল্টো রোগীর সঙ্গে এসে নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানান তারা।এদিকে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দুদফা চিঠি ও বৈঠক করেও কোন সুরাহা করতে পারেনি পরিবেশ অধিদফতর।বরিশাল জেলা পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক বলেন,‘দ্রুত এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমরা বারবার তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিষয়টি দুঃখজনক।’তবে দ্রুত ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের কথা জানিয়ে হাসপাতাল পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালে ২ টি জায়গা নির্ধারণ করেছি। দ্রুত এই দুই জায়গায় ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’১৯৬৮ সালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর ৫৫ বছরেও তৈরি করা হয়নি ডাম্পিং স্টেশন। পরিচ্ছন্নতাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর : হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অডিটোরিয়ামে এক আলোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতাল নোংরা থাকবে এবং মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবে না-এটা আর গ্রহণ করতে রাজি নই। যারা দায়িত্বে রয়েছেন তাদের কাছ থেকে কাজ বুঝে নিতে চাই– যদি না পারেন তবে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে।’ হাসপাতালটির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্য হাসপাতালের তুলনায় এই হাসপাতাল পিছিয়ে আছে। হাসপাতালের বাইরে খারাপ অবস্থা। এখানে চারিদিকে ফুলের গাছ দিয়ে ভরিয়ে দিতে হবে, যাতে মানুষের প্রথম দেখায় ভালো লাগে। এখানে চারিদিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে, হাসপাতালে শীতের মধ্যে মানুষকে শুয়ে থাকতে দেখেছি। এরপরে যখন আসবো এসবের উন্নতি দেখতে চাই।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই হাসপাতালের (শেবাচিম) আগে ক্যান্সারসহ বিশেষায়িত হাসপাতালের কাজ দেখতে গিয়েছিলাম, সেগুলোও অন্যান্য বিভাগের তুলনায় কাজ পিছিয়ে আছে। যারা ঠিকাদার রয়েছেন তাদের বলতে চাই, যে টুকু পিছিয়ে পড়েছে সেটি যেন দ্রুত পূরণ করা হয়, তা নাহলে পেনাল্টিতে পড়তে হবে।’ জানা গেছে, ১৯৭০ সালের ২০ নভেম্বর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কার্যক্রম শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে সব ধরনের রোগের চিকিৎসার ইনডোর-আউটডোর সেবা থাকতে হবে। কিন্তু শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসক ও স্থান স্বল্পতার কারণে একাধিক রোগের ইনডোর-আউটডোর সেবা কার্যক্রম চালু ছিল না। বিশেষ করে কার্ডিওলজি (হৃদরোগ) চিকিৎসার বহির্বিভাগ চালু না থাকায় গরিব ও সাধারণ রোগীরা প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এ অবস্থায় ২০১৫ জানুয়ারিতে এক সভায় স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ জরুরি ভিত্তিতে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদরোগ বহির্বিভাগ চালুর নির্দেশ দেন। প্রতিষ্ঠার ৫১ বছর পর ২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ভাস্কুলার সার্জারি, কার্ডিওলজি, ইউরোলজি ও গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি বহিঃ বিভাগের কার্যক্রম। ববি শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত : শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের বহির্বিভাগে মাকে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত।১৯ জুন বেলা ১১টার দিকে শেবাচিমের নিচতলায় ববি শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। হামলার শিকার সাংবাদিকরা : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষের বিচার চাইলেও বিচার পাননি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। বরং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বক্তব্য নেয়ায় সাংবাদিকদের পিটিয়েছেন কলেজের শিক্ষকরা। ২৪ আগস্ট ওই ছাত্রী র্যাগিংয়ের শিকার হন। এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহের জন্য শনিবার ২৬আগস্ট সাংবাদিকরা কলেজে গেলে হামলার শিকার হন। কলেজ অধ্যক্ষের কাছে র্যাগিংয়ের বিচার চাইতে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এদিন সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার শাকিল মাহমুদ, চিত্র সাংবাদিক সুমন হাসানসহ চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের স্টাফ রিপোর্টার কাওছার হোসেন রানা, বাংলা নিউজ ২৪ এর রিপোর্টার মুসফিক সৌরভ, এশিয়ান টেলিভিশনের রিপোর্টার ফিরোজ মোস্তাফা যান তথ্য সংগ্রহে। এ সময় ভুক্তভোগীর বক্তব্য নেয়ায় সাংবাদিকদের পিটিয়েছেন কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক ডা. সৈয়দ বাকী বিল্লাহ ও প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার সাহা। র্যাগিং ও হামলা: অভিযুক্তকে দিয়েই গঠন করা হলো তদন্ত কমিটি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালের ছাত্রী হলে র্যাগিং ও সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রবীর কুমার সাহাকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।রবিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে এই কমিটি গঠন করা হয় বলে জানান উপাধ্যক্ষ জিএম নাজিমুল হক।কলেজের অধ্যক্ষ ডা. ফয়জুল বাশার ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন। যার প্রধান করা হয়েছে অধ্যাপক উত্তম কুমার সাহাকে। কমিটির অন্য ৩ সদস্য হলেন- অভিযুক্ত প্রবীর কুমার সাহা, প্রভাষক আনিকা ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম। হাসপাতালের কক্ষ ব্যাংকের কাছে ভাড়া : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যাসংকট সত্ত্বেও নিচতলায় একটি বেসরকারি ব্যাংককে কক্ষ ভাড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আপন ছোট ভাইকে ব্যাংকটির চাকরিতে স্থায়ী করতে এ কাজ করেছেন তিনি।হাসপাতালে শয্যাসংকটে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। বারান্দা, শৌচাগারসহ কোথাও নেই একটুও হাঁটার জায়গা। এমন দুর্ভোগের মধ্যেই হাসপাতালের নিচতলায় একটি বেসরকারি ব্যাংককে ভাড়া দেয়া হয়েছে কক্ষবরিশাল নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্যসচিব এনায়েত হোসেন শিপলু বলেন, ‘হাসপাতালের পরিচালক তার ছোট ভাইকে চাকরি দেয়ার সুবাদে হাসপাতালের ভেতর ব্যাংক ভাড়া দিয়েছে। এমন অভিযোগ এখন ওপেন সিক্রেট। হাসপাতালের বাইরে অনেক খালি ভবন রয়েছে। সেখানে ব্যাংক স্থাপন হলেও চলত। হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের ভেতর ব্যাংকটি অবিলম্বে সরিয়ে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে হাসপাতালের নিচতলায় এক হাজার স্কয়ার ফুট জায়গা ভাড়া দেয়া হয়েছে। প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা ভাড়া আসে সেখান থেকে। আমি কোনো দুর্নীতি করিনি।এ বিষয়ে ভাড়া নেয়া বেসরকারি ব্যাংকটির কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিমাসের ভাড়া নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দিয়ে দেয়া হয়। হাসপাতালের ভেতরে ব্যাংকটি খোলা হয়েছে রোগীদের সেবা দেয়ার জন্যই। আমরা চাই রোগীরা নিরাপদে টাকা-পয়সা লেনদেন করুক।ডা. সাইফুল ইসলামের ছোট ভাই মনির হোসেন বলেন, ‘আমি নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমার চাকরির বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আরও ভালো জানে। নার্সদের ঘুমে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা : মধ্যরাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোগী ও স্বজনদের দাবি, সেবা না দিয়ে হাসপাতালের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকেন দায়িত্বরতরা। ডাকাডাকি করেও প্রয়োজনে পাশে পান না নার্সদের। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার দায়সারা জবাব হাসপাতাল প্রশাসনের। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে রাতে বিছানার চাদর টাঙিয়ে ঘুমাচ্ছেন নার্সরা। দরজার সামনে অপেক্ষায় রোগী ও তাদের স্বজনরা। শুধু মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডেই নয়, এমন অবস্থা হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ডাকাডাকি করেও প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায় না নার্সদের। রাতে সেবা চাইতে গেলে উল্টো খারাপ ব্যবহার করেন তারা।রোগীরা জানান, ঠিকমতো নার্সরা আসেন না। সেবা তো দূরে থাক, প্রয়োজনের সময় অনুরোধ করেও আনা যায় না তাদের। ডাক্তার আর প্রশাসনের কাছে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে দাবি তাদের। তবে এসব বিষয় অস্বীকার করেন নার্সরা। তারা জানান, রোগীরা যখন আসে তখনই সেবা দেয়া হয় তাদের। পাশাপাশি রাতে রোটেশন অনুযায়ী সেবা দেয়া হয় রোগীদের। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দৈনিক গড়ে রোগী ভর্তি থাকেন ২ হাজার। আর তাদের সেবা দিতে বর্তমানে নার্স আছেন ৯৪৬ জন। বছরজুড়ে কার্ডিয়াক বিভাগের এসি বিকল, গরমে রোগীদের ভোগান্তি এক বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের সব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেশিন। একে তো চলছে তীব্র দাবদাহ, তার ওপর মাত্র ৪৩টি শয্যার বিপরীতে রোগী থাকেন প্রায় দ্বিগুণ। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, দফায় দফায় চিঠি চালাচালি করেও সমাধান মিলছে না। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কার্ডিওলজি বিভাগে তারা বেড না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ওয়ার্ডে শয্যার চেয়ে রোগী বেশি। বাইরে প্রচণ্ড গরম। ভেতরে মানুষ ঠাসাঠাসি। এসি না থাকায় তাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সিসিইউ ও পিসিসিউতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। কার্ডিওলজি বিভাগে শয্যা সংখ্যা ৪৩টি। কিন্তু রোগী প্রায় দ্বিগুণ। মেঝেতে শুয়েও নিতে হয় চিকিৎসা।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সিসিইউতে থাকা ১০টি, পিসিসিউর ৮টি, ইকো ও ইটিটি কক্ষে ১টি করে মোট ২০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেশিনের সবই বিকল। দফায় দফায় চিঠি চালাচালি করেও সমাধান মিলেনি বলে জানান পরিচালক।বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে থাকা ২০টি এয়ার কন্ডিশনই ব্যবহার অনুপযোগী। বিভিন্ন দফতরে লিখিত জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।’ তবে দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের দাবি, রোগীদের কষ্ট লাঘবে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হবে। বরিশাল গণপূর্ত মেডিকেল কলেজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব এ সমস্যার সমাধান করা হবে। যাতে করে রোগী ও স্বজনদের কষ্ট লাঘব হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ ৫০০ শয্যার হাসপাতালটিতে দৈনিক গড়ে ২ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। আর প্রতিদিন বহির্বিভাগে সেবা নেন তিন হাজার রোগী। শয্যা সংকট, মেঝেতেই চলছে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছরেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়নি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অত্যাধুনিকসব যন্ত্রপাতি থাকলেও অধিকাংশই বিকল। ভোগান্তির অপর নাম শয্যা সংকট। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও সমস্যার সমাধান না পাওয়ার আক্ষেপ খোদ হাসপাতালের পরিচালকের। শয্যা সংকটে মেঝেতেই চলছে চিকিৎসাসেবা। ৫৪ বছর আগে নির্মাণ করা হাসপাতালটির ভবনের অবস্থাও জরাজীর্ণ। খসে পড়ছে পলেস্তারা। পানি সংকট ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে। রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণেরও অভিযোগ রয়েছে নার্সসহ হাসপাতালের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।দীর্ঘদিন ধরে বিকল এমআরআই, সিটিস্ক্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। তাই স্বাস্থ্যের যেকোনো পরীক্ষায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোই ভরসা রোগীদের।বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক সময় ইমার্জেন্সি মোকাবিলা করতে পারি না। তবে প্যাথলজি বিভাগে আমরা দুই শিফট চালু করেছি।’ সংকটের বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন মহলে জানিয়েও কোনো সমাধান মিলছে না বলে আক্ষেপ করেন হাসপাতাল পরিচালক। রমরমা ট্রলি বাণিজ্য, বিপাকে রোগীরা : বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালে জমে ওঠেছে ট্রলির ব্যবসা। কোনো রোগী টাকা ছাড়া ট্রলিতে উঠতে পারে না। এছাড়া প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির কথা জানে বলেও সরল স্বীকারোক্তি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তবে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। হাসপাতালে ঢুকতেই ইমারজেন্সি চত্বরে দেখা যায় বেশ কয়েকটা ট্রলি। আর এখানেই ঝগড়া-বিবাদ। হাসপাতালে ট্রলি পেতে এমন বাগ্বিতণ্ডা নিত্যদিনের। ট্রলিতে রোগী উঠলেই গুনতে হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, নিচে পরীক্ষা করতে গেলে যার ট্রলি তাকে ১০০ টাকা দেয়া লাগে। এ ছাড়া রোগী সুস্থ হোক বা না হোক, নাশতা খাওয়ার টাকা দিতে হবে।রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, ট্রলিতে আসা-যাওয়াসহ বিছানার চাদর পাওয়া,পরিষ্কার করানো থেকে শুরু করে যে কোনো বিনামূল্যের সরকারি সুবিধা ভোগ করতে টাকা দিতে হয় একদল স্বেচ্ছাসেবক নামধারীদের। আর সরকারি স্টাফরা দুর্ব্যবহার করেন রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে। রোগী ও স্বজনরা বলেন, ২০০ টাকা দিতেই হবে। না হলে তারা এমনভাবে রোগীকে টান দেয় যে রোগীর মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা এসব কর্মী ছড়িয়ে আছেন হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে। তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই কাজের বিনিময়ে খুশি হয়ে যা দেয় সেটাই তারা নেয়। স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, ‘আমরা জোর করে টাকা নেই না। রোগীকে পৌঁছে দিলে স্বেচ্ছায় কিছু টাকা তারা দেন। সেগুলো নিয়ে থাকি।হাসপাতালের বিভিন্ন শাখায় এসব নামধারী স্বেচ্ছাসেবক আছেন অন্তত ২৫০ জন। চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মী সংকট থাকায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পানির জন্য হাহাকার : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাহিদার অর্ধেকেরও কম পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, স্বজনসহ কর্মচারীরা। সংকট নিরসনে স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে। লিফটে পানি নিয়ে ওঠা যাবে না। তাই ৫তলা পর্যন্ত সিঁড়ি বেয়ে বালতিতে পানি নিয়ে উঠছেন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা। প্রতিনিয়ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমন চিত্র। শুধু তিনিই নন, পানির নিদারুণ কষ্টে আছেন তিন তলার সার্জারি নারী ওয়ার্ডের চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের পাশে থাকা স্বজনরা। হাসপাতালের প্রতিটি ফ্লোরে পানিসংকটের ভোগান্তি সইতে হচ্ছে তাদের। মাসখানেক ধরে হাসপাতালের আনসার কোয়ার্টারে পানির সংকট পৌঁছেছে চরমে। দিনে দুবার যে পানি দেয়া হচ্ছে, তা-ও আবার ব্যবহার অনুপযোগী। বারবার বলা সত্ত্বেও মিলছে না কোনো স্থায়ী সমাধান। শেবাচিমের আনসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২ ঘণ্টা পানি থাকে; সেটাও দুগন্ধযুক্ত ও ময়লা। এখানে খাওয়ার মতো পানি নেই।প্রতিদিন হাসপাতালে রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষার্থী, স্টাফ, আনসার ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ৫ থেকে ৬ লাখ গ্যালন পানি ব্যবহারের চাহিদা রয়েছে। অথচ মাত্র দুটি সেন্ট্রাল পাম্পের মাধ্যমে ট্যাঙ্কে পানি উঠানো হয় মোট চাহিদার অর্ধেকেরও কম।বরিশাল গণপূর্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী বলেন, এখানে যে পানি সরবরাহের সিস্টেম; এটা ১৯৬৮ সালে যেভাবে চলত এখনো ঠিক সেভাবে চলছে। কোনো আপডেট করা হয়নি।রোগীদের চাপ বাড়লেও সে অনুযায়ী পানি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়েনি। বার্ন ইউনিট বন্ধ, বিপাকে দগ্ধ রোগীরা : যাত্রীবোঝাই লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের উদ্ধার করে পাঠানো হয় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তবে হাসপাতালের বার্ন ইউনিট বন্ধ থাকায় চিকিৎসা চলে সার্জারি বিভাগে। একসঙ্গে এত রোগীকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। প্রায় ৫ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ নামে লঞ্চে অগ্নিদগ্ধ ৭২ জন রোগী।রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, সার্জারি বিভাগে অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সরাই রোগীদের একমাত্র ভরসা। হাসপাতালটির বার্ন ইউনিট বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন দগ্ধ রোগীরা। সার্জারি ওয়ার্ডের আগে থেকে অনেক রোগী ভর্তি থাকায় দগ্ধদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ২০১৫ সালের ১২ মার্চ হাসপাতালের নিচতলায় আটটি শয্যা নিয়ে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ চালু করা হয়েছিল। বিভাগে আটজন চিকিৎসক ও ১৬ জন নার্সের পদ রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিটটি ৩০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। চালু থাকা পাঁচ বছরে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি রোগী বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিয়েছেন।শেবাচিমের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. এমএ আজাদের রহস্যজনক মৃত্যুর পর ইউনিটটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ধুঁকে ধুঁকে চলছে চিকিৎসাসেবা : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের মেশিনগুলোর অর্ধেকেরও বেশি অচল। ব্যক্তি মালিকানার ল্যাবের সঙ্গে হাসপাতালের শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট জড়িত থাকায় বছরের পর বছর পার হলেও সরকারের ডায়াগনস্টিক মেশিন সচল হচ্ছে না। এতে ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ বেশি রোগী নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে চিকিৎসাসেবা। বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটির একমাত্র এমআরআই মেশিনটি ২০০৭ সালে চালু হয়। ৯ বছর কোনোমতে চললেও, গত ৬ বছর ধরে বিকল। এছাড়াও হাসপাতলের একমাত্র সিটি স্কান মেশিনটি চালু হয় ২০১৪ সালে। গত ৪ বছর ধরে বন্ধ। আরও জানা গেছে, হাসপাতালের ২২টি ইউনিটি মোট ৪৫০টি মেশিনের মধ্যে পুরোপুরি অচল ৮৫টি আর মেরামতযোগ্য আছে ৭৪টা মেশিন। সচল রয়েছে ২৯১টি। অভিযোগ পাওয়া গেছে, সরকারি মেশিনগুলো যখন অচল, তখন হাসপাতালের আশপাশে একের পর এক গড়ে উঠছে ব্যক্তি মালিকানার ল্যাব। রোগীদের অভিযোগ, সরকারি মেশিন নষ্টের অজুহাত দেখিয়ে বেশি টাকায় বাধ্য করা হয় বাইরের ল্যাবে পরীক্ষা করাতে। এসব ল্যাবের সঙ্গে হাসপাতালের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অথচ ধারণ ক্ষমতার প্রতিদিন তিনগুণ বেশি রোগী সেবা নেয় এই হাসপাতাল থেকে। অক্সিজেন সিলিন্ডার উধাও : বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) করোনা ওয়ার্ড থেকে ১শ’ অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং ৩০টি সিলিন্ডার মিটার উধাও হয়ে গেছে। এ ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু সন্ধান চালিয়ে উধাও হওয়া কোন সিলিন্ডার উদ্ধার করতে পারেনি তারা। মেডিকেলের স্টোর সূত্র জানায়, করোনা ওয়ার্ডের ওয়ার্ড মাস্টারদের মাধ্যমে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সিলিন্ডার মিটার সরবরাহ করা হয়। কোন ওয়ার্ডে কতটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সিলিন্ডার মিটার নেয়া হয়েছে তার তালিকা করা হয়েছে। ওই তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ড তল্লাশি করে অন্তত ১শ’ সিলিন্ডার ও ৩০টি সিলিন্ডার মিটারের হদিস পাওয়া যায়নি। নন কোভিড ওয়ার্ডেও সেগুলোর খোঁজ মেলেনি। বিষয়টি পরিচালককে অবহিত করা হলে তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ৮টার অফিসে ১০টায়ও যান না চিকিৎসকরা : দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি দল সকাল সোয়া ৯টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে গিয়ে বেশিরভাগ শিক্ষককে (চিকিৎসক) অনুপস্থিত পেয়েছেন। পরে ডা. মনিরুজ্জামান শাহিনের কাছে চিকিৎসকদের গত এক সপ্তাহের বায়োমেট্রিক হাজিরা রিপোর্ট দেখতে চাইলে অধ্যক্ষ দিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অধ্যক্ষের বাদানুবাদ হয়েছে।সকাল ৮টায় কর্মস্থলে হাজিরার কথা থাকলেও বরিশাল মেডিকেল কলেজের বেশিরভাগ শিক্ষক ১০টার পরে কর্মস্থলে যান। তাঁরা রাত ২-৩টা পর্যন্ত প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখেন। বিশেষ করে নিউরোলজি মেডিসিনের ডা. অমিতাভ সরকার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় দুদক কর্মকর্তারা মেডিকেল কলেজে অভিযান চালান। এ দিনও এই দুই চিকিৎসককে সকাল সাড়ে ৯টায় কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।বরিশাল দুদকের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি দল সকাল ৯টার দিকে প্রথমে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। দলের সদস্যরা বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে পরিচালকের কক্ষে গিয়ে বসেন। সেখান থেকে সকাল সোয়া ৯টায় যান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামানের কার্যালয়ে। তখন তিনি কক্ষে ছিলেন না। দুদক দল আসার খবর পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি করে কার্যালয়ে পৌঁছান। তাঁর কাছে গত এক সপ্তাহের বায়োমেট্রিক হাজিরা রিপোর্ট চাইলে দিতে অস্বীকার করে তিনি দুদক টিমের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান। একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দুদক টিমের ছবি তুলে রাখার হুমকি দিচ্ছেন অধ্যক্ষ। তখন দুদকের এক কর্মকর্তা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয় দিলে অধ্যক্ষ পাল্টা বলেন, ‘আমি উড়ে এসেছি নাকি?’ এর কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা একে একে অধ্যক্ষের কক্ষে আসা শুরু করেন। তাঁরা সকাল ১০টার দিকে হাজিরা দেন অধ্যক্ষের কক্ষে। সাড়ে ১০টার দিকে দুদক টিম মেডিকেল কলেজ ত্যাগ করে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন : মানববন্ধনে বক্তারা হাসপাতালের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি, অকেজো যন্ত্রপাতি চালু, লিফট, এসি সচলসহ দালালের দৌরাত্ম্য রোধের দাবি জানান। তারা চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের সেবা না পাওয়ারও প্রতিবাদ করেন। আর এ জন্য হাসপাতালে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠনের তাগিদ দেন। রেহানা বেগমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান বক্তা বেসরকারি সংস্থা স্কোপ এর নির্বাহী পরিচালক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, ‘শেবাচিম হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার কারণে সেবা থেকে রোগীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের এখানে চিকিৎসা হচ্ছে না। তাদের ঢাকায় রেফার করা দুঃখজনক। এমনটাই যদি করতে হয়, তাহলে বড় বড় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা কি করেন।’ তিনি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠনের তাগিদ দেন।
ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়-এর ছয়জন সাবেক শিক্ষার্থী ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি স্ব-স্ব কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। তাদের এই সাফল্যে বিদ্যালয় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। যারা যোগদান করেছেন ২০০৯ ব্যাচের আনোয়ার রহমান ইমন, ২০১২ ব্যাচের নির্জনা রাউত তন্বী, ২০১৩ ব্যাচের অনন্যা সরকার, ২০১৪ ব্যাচের আনিসুর রহমান রিয়াদ, নিশাত ফারহানা ও জয়িতা দাস—এই ছয় কৃতী শিক্ষার্থী এখন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের গর্বিত সদস্য। আনিসুর রহমান রিয়াদ নেত্রকোনার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগ দিয়েছেন আনিসুর রহমান। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পুম্বাইল গ্রামের ফজলুর রহমান ও রওশন আরা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। তিনি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। আনিসুর রহমান জানান, স্কুলজীবন শেষ করার আগেই তার বাবা আকস্মিকভাবে ইন্তেকাল করেন। বাবার স্বপ্ন পূরণে তিনি নিরলস পরিশ্রম করেছেন। আজ তিনি সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারলেও তার বাবা এই দিনটি দেখে যেতে পারেননি—এ কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। নিশাত ফারহানা কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন নিশাত ফারহানা। তিনি পৌর শহরের ধামদী গ্রামের বাসিন্দা, বড়ভাগ হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দিন মাস্টার ও রায়হানা আক্তার দম্পতির কন্যা। তিনি গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। জয়িতা দাস ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন জয়িতা দাস। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের দত্তপাড়া এলাকার সঞ্জিত কুমার দাস ও বীণা রানী দাসের মেয়ে। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ-এর ডেন্টাল ইউনিট থেকে বিডিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। অনন্যা সরকার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অনন্যা সরকার। তিনি উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অমরেশ সরকার ও মাকরঝাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বন্দনা রানী পাল দম্পতির কন্যা। তিনিও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। নির্জনা রাউত তন্বী হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল সার্জন হিসেবে যোগ দিয়েছেন নির্জনা রাউত তন্বী। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ পৌর সদরের চরহোসেনপুর গ্রামের হোমিও চিকিৎসক তাপস চন্দ্র রাউত ও প্রতিমা রাণী রাউতের কন্যা। তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ-এর ডেন্টাল বিভাগ থেকে বিডিএস সম্পন্ন করেন। মেয়ের এই সাফল্যে তার বাবা-মা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। আনোয়ার রহমান ইমন কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন আনোয়ার রহমান ইমন। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার দত্তপাড়া থানা রোডের মজিবুর রহমান ও মমতাজ রহমানের সন্তান। তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। এর আগে তিনি মেডিকেল অফিসার (মা ও শিশু স্বাস্থ্য) হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে কর্মরত ছিলেন। বিদ্যালয়ের প্রতিক্রিয়া বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম মোস্তফা কামাল বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের ছয়জন সাবেক শিক্ষার্থী একই বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এটি আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন।” এই সাফল্য শুধু বিদ্যালয়ের নয়, পুরো ঈশ্বরগঞ্জবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়। ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থী যেন এভাবে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
বাংলাদেশের ছোট পর্দার একসময়ের পরিচিত মুখ ও আলোচিত শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা নতুন জীবনের পথে পা রেখেছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই বিয়ের খবর নিশ্চিত করেন লুবাবা। একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ। দুটি আত্মা, এক কিবলা—দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য। আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।” এর আগে থেকেই শোবিজ অঙ্গন থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে নিজের জীবনের আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন লুবাবা, যা তার অনুসারীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। বিয়ের ঘোষণার পর তার পোস্টে শুভেচ্ছার বন্যা বইতে দেখা যায়। অনেকেই তার নতুন জীবনের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন। একজন মন্তব্য করেন, “মাশাআল্লাহ, আল্লাহ তোমাদের দাম্পত্য জীবন রহমতের চাদরে মুড়িয়ে রাখুন।” আরেকজন লেখেন, “আল্লাহ আপনাদের ভালো রাখুক।” অন্য এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “আল্লাহ যার হেদায়াত চান তাকে কেউ আটকাতে পারে না।” আবার কেউ কেউ কম বয়সে বিয়েকে ‘সুন্নাহ পালন’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশংসাও করেছেন। উল্লেখ্য, শিশু শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া লুবাবা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত জীবন ও ধর্মীয় অনুশীলনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তার এই পরিবর্তন এবং অল্প বয়সে বিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
শোবিজের আলোচিত শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা অভিনয়জগৎ থেকে সরে গিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। পোস্টে লুবাবা লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ। দুইটি আত্মা, এক কিবলা। দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য। আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।” এর মাধ্যমে তিনি তার বিয়ের খবর নিশ্চিত করেন। পোস্টের সঙ্গে একটি ছবিও শেয়ার করেন, যা ইতোমধ্যে সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত কিছুদিন ধরেই লুবাবার জীবনযাপনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। সম্প্রতি তিনি একটি দীর্ঘ পোস্টে নিজের আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি ধর্মীয় জীবনধারায় ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেন। লুবাবার এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছেন তার অনুসারীরা। বিয়ের খবর প্রকাশের পর সামাজিকমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। একজন মন্তব্য করেন, “মাশাআল্লাহ, আল্লাহ তোমাদের দাম্পত্য জীবন রহমতের চাদরে মুড়িয়ে রাখবেন ইনশাআল্লাহ।” আরেকজন লেখেন, “আল্লাহ আপনাদের ভালো রাখুক।” উল্লেখ্য, সিমরিন লুবাবা প্রয়াত মঞ্চ ও টেলিভিশন অভিনেতা আবদুল কাদেরের নাতনি। দাদার অনুপ্রেরণায় খুব অল্প বয়সেই অভিনয়ে আসেন তিনি। শিশুশিল্পী হিসেবে বিভিন্ন নাটক, বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। তবে গত বছর হঠাৎ করেই জানা যায়, তিনি শোবিজ ছেড়ে দিয়েছেন। সে সময় তার মা জাহিদা ইসলাম জেমি গণমাধ্যমকে জানান, লুবাবা নিজ উপলব্ধি থেকেই ধর্মীয় জীবন বেছে নিয়েছেন এবং নেকাব পরা শুরু করেছেন। এই পরিবর্তনের ফলে মিডিয়ায় কাজ করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। এখন বিয়ের মাধ্যমে সেই পরিবর্তিত জীবনের আরেকটি নতুন ধাপ শুরু করলেন লুবাবা।
দিঘার তালসারি সৈকতে শুটিং চলাকালীন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে রহস্যের অবসান হতে পারে। সোমবার (৩০ মার্চ) পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার শুটিং চলাকালীন রাহুলদের ধারাবাহিক ভোলে বাবা পার করেগা-এর ক্যামেরা ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাহুলের মৃত্যু হওয়ার কয়েক মুহূর্তের ঘটনা সেই ফুটেজে ধরা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সৈকতে ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন রাহুল ও নায়িকা শ্বেতা মিশ্র সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যান। শট অনুযায়ী দুজনকেই বেশি গভীরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। কিন্তু হাওয়ার কারণে তারা নির্দেশনার প্রতি মনোযোগ দিতে পারেননি। উদ্ধার হওয়া ফুটেজ অনুযায়ী, প্রথমে শ্বেতা পড়ে যান এবং রাহুল তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এরপর বড় ঢেউয়ে পড়ার ফলে রাহুল তলিয়ে যান। সহশিল্পীরা শ্বেতাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও রাহুলকে উদ্ধার করতে স্পিডবোট ব্যবহার করা হয়। পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল জানিয়েছেন, শুটিং চলাকালীন রাহুল ও শ্বেতা হাঁটুর নিচ অবধি পানিতে ছিলেন। শটের সময় ড্রোন শটও নেওয়া হচ্ছিল। রাহুল শ্বেতার হাত ধরে আরও এগিয়ে গিয়েছিলেন। অনেকেই রুখতে চেয়েছিলেন, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। শ্বেতার পরনে শাড়ি থাকায় স্রোতের সঙ্গে তার চলাফেরায় সমস্যা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত রাহুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরিচালক দাবি করেছেন, শুটিং অনুযায়ী এত গভীরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল না। পুলিশ সূত্রে বলা হচ্ছে, ক্যামেরার ফুটেজ বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।
নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ প্রযোজিত এবং ওমর ফারুক পরিচালিত নতুন মিনি ধারাবাহিক ‘চেনা অচেনা’ ৩১ মার্চ থেকে ইউটিউবের সিনেমাওয়ালা এন্টারটেইনমেন্ট চ্যানেলে শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকে কেন্দ্রে আছেন অভিনেতা এ্যালেন শুভ্র ও অভিনেত্রী তাবাসসুম ছোঁয়া, যারা এর আগে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘দেনা পাওনা’‑তে খাইরুল ও নিপা চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। ‘দেনা পাওনা’ ধারাবাহিকে তাদের খুনসুটি ও রসায়ন সামাজিক মাধ্যম এবং দর্শক সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনায় ঠাঁই করে। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার তারা নতুন গল্প, চরিত্র ও দ্বন্দ্ব নিয়ে হাজির হয়েছে ‘চেনা অচেনা’‑তে। ধারাবাহিকটির গল্পে দেখা যাবে, রাতুল (এ্যালেন শুভ্র) ও আয়রা (তাবাসসুম ছোঁয়া)‑র অপ্রত্যাশিত সম্পর্ক জড়িয়ে পড়েছে সমাজের বাস্তবতা, রসিকতা ও মানবিক আবেগের সঙ্গে। আমেরিকায় প্রেমিক থাকা সত্ত্বেও আয়রাকে তাড়িয়ে তুলেছে মাত্র সাত দিনের মধ্যে বিয়ে আর পরিবারের চাপ। পরিস্থিতি দেখা দিলে আয়রা ঠিক করে রাস্তার ভিখারি রাতুলকে টাকা দিয়ে নিজের ‘স্বামী’ সাজিয়ে ঘরে নিয়ে আসে। প্রথমে শুধুই ছলনা ও নকলের সম্পর্ক হলেও ধীরে ধীরে সেটি পরিবারে মিশে যায় এবং সত্যিকারের আবেগে রূপ নেয়। তবে বাধা আসে আয়রার চাচার চরিত্র থেকে; তিনি তার ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের দিক দিয়ে আয়রাকে অন্য কারো সাথে বিয়ে করতে চান। এই চাপ‑প্রঠিকূলতার মধ্যেই রাতুল একের পর এক বিপদ পেরিয়ে সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। ‘চেনা অচেনা’‑তে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, ডা. এজাজুল ইসলাম, শিল্পী সরকার অপু, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, এমএনইউ রাজু, এবি রোকন ও তানজিম হাসান অনিক। পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, “জীবনে অনেক সময় পরিস্থিতি মানুষকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যা সে আগে কখনও ভাবেনি। পরিবার ও ব্যক্তিগত পছন্দের দ্বন্দ্ব এখানে ফুটিয়ে তুলেছি। ‘চেনা অচেনা’ এমন একটি যাত্রা, যেখানে মিথ্যাতে শুরু হওয়া সম্পর্ক ধীরে ধীরে সত্যিকারের সম্পর্কের দিকে ধাবিত হয়।” ধারাবাহিকটি প্রতি মঙ্গল ও বুধবার দুপুর ১২টায় নিয়মিত আপলোড হবে ইউটিউবে।
দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা ও সুলেখক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আকস্মিকভাবে প্রয়াত হয়েছেন। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তাঁর এই চলে যাওয়া সহকর্মী ও ভক্তদের জন্য গভীর শোকের বিষয়। তবে মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা গোপন রহস্য। ভারতের ওড়িশার তালসারিতে মেগা সিরিয়ালের শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনা ঘটেছে। নির্মাতা লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুটিং শিডিউলে কোনো পানির ওপর দৃশ্য ধারণের পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু জানা যায়, শুটিং ঠিকই পানির ওপর চলছিল, যা নির্মাতার অগোচরে হতে পারে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, শুটিং চলাকালীন তাদের কাছে কোনো অনুমতি চাওয়া হয়নি। দুর্ঘটনার খবর দিঘা কোস্টাল পুলিশের মাধ্যমে ওড়িশা পুলিশের কাছে পৌঁছায়। অনুমতি ছাড়া ভিন রাজ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শুটিংয়ের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। রাহুলের মৃত্যুকে ঘিরে তিনটি ভিন্ন তত্ত্ব উঠেছে: উপাদানভিত্তিক সূত্র: শুটিং শেষে ক্লান্তি কাটাতে রাহুল সৈকতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ আসা জোয়ারের টানে তিনি তলিয়ে যান। নৌকায় শুটিং সূত্র: নৌকার ওপর ‘টপ শট’ নেওয়া হচ্ছিল, উত্তাল ঢেউ নৌকাকে উল্টে দেয়। শ্বেতা মিত্রের বয়ান: রাহুল ও শ্বেতা মিত্র নৌকার ওপরই ছিলেন। বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় দুজনই পানিতে পড়ে যান। শ্বেতা তীরে উঠতে সক্ষম হলেও রাহুলের জীবন রক্ষা হয়নি। এই পরস্পরবিরোধী তথ্যের কারণে পুলিশ বিষয়টিকে ‘সাধারণ দুর্ঘটনা’ হিসেবে দেখছে না। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ (UD) মামলা রুজু করেছে। পরিবারের অনুমতিক্রমে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রোডাকশন ইউনিটের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
বলিউডের বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। অভিনয়ের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা তাকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। কিন্তু মা হওয়ার পর তার জীবনেও এসেছে নতুন চ্যালেঞ্জ। ভারতের গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ভারতের সদগুরুর সোশ্যাল হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আলিয়া ভাটকে দেখা গেছে। ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে আলিয়া সদগুরুর কাছে জানতে চান, কীভাবে ভালো অভিভাবক হওয়া সম্ভব। তিনি তার মেয়েকে নিয়ে সবসময়ই দুশ্চিন্তায় ভোগেন বলে প্রকাশ করেন। সদগুরু আলিয়াকে জানান, “যে অভিভাবকরা সবসময় সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তারা কখনই ভালো মা-বাবা হতে পারেন না। দুশ্চিন্তা করলে কখনই সন্তান বড় করা যাবে না। বরং নিজের ছন্দে বাচ্চাকে বড় হতে দেওয়া উচিত। মা-বাবার উচিত, সন্তানের স্তম্ভ হয়ে থাকা।” এদিকে আলিয়া ভাট বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিব রাওয়াইল পরিচালিত সিনেমা আলফা-এর শুটিংয়ে, যেখানে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন ববি দেওল, শর্বরী সহ আরও অনেকে। আইএমডিবির তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি মুক্তি পাবে চলতি বছরের ১০ জুলাই। তাছাড়া, সঞ্জয় লীলা বনসালীর সিনেমা লাভ এন্ড ওয়্যার-এও দেখা যাবে আলিয়াকে। এই ছবিতে আলিয়ার সঙ্গে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর, ভিকি কৌশল, বোমান ইরানি সহ আরও অনেকে।
ইফতারে রুহ আফজার শরবত যেমন শরীর ঠান্ডা রাখে, তেমনি দূর করে দেয় রোজা ও গরমের ক্লান্তিও। ঘরেই কেমিক্যালবিহীন সিরাপ বানিয়ে নিতে পারেন শরবত তৈরির জন্য। জেনে নিন কীভাবে বানাবেন।তাজা গোলাপ ফুলের পাপড়ি আলাদা করে ধুয়ে নিন। ১ কাপ পানি ও গোলাপের পাপড়ি চুলায় বসান। ১ ফোঁটা লাল ফুড কালার দেবেন। মাঝারি আঁচে রেখে দিন প্যান। ফুটে উঠলে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নামিয়ে ছেঁকে নিন।এক বাটি ফলের টুকরা ব্লেন্ড করে ছেঁকে রস আলাদা করুন। আপেল, আঙুর, তরমুজ, আনারস, কলা বা যেকোনো ধরনের ফল ব্যবহার করতে পারেন এখানে। চুলায় প্যান বসিয়ে ফলের রস দিয়ে দিন। গোলাপ থেকে বের হওয়া পানি ও স্বাদ মতো চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে নিন। নামানোর আগে ২ চা চামচ গোলাপজল দিয়ে নেবেন। ঠান্ডা হলে মুখবন্ধ বয়ামে রেখে দিন নরমাল ফ্রিজে। এক মাস পর্যন্ত রেখে খেতে পারবেন এই রুহ আফজা।
রূহ আফজা: রমজানের জনপ্রিয় পানীয়ের এক শতাব্দীর ইতিহাস রমজান মাস এলেই মুসলিম সমাজে বদলে যায় প্রতিদিনের জীবনযাত্রা। সেহরি ও ইফতারকে ঘিরে শুরু হয় নানা প্রস্তুতি, বাজারে বাড়ে বিশেষ খাবার ও পানীয়ের চাহিদা। পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা-মুড়ি কিংবা খেজুরের পাশাপাশি ইফতার টেবিলে আরেকটি পরিচিত নাম হলো লাল রঙের শরবত—রূহ আফজা। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে রমজানের সময় এই পানীয়ের জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি যে অনেক পরিবারের মাসিক বাজারের তালিকায় এটি প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকা এই পানীয় শুধু একটি শরবত নয়; এটি উপমহাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লির একটি ছোট ইউনানি ক্লিনিক থেকে শুরু হওয়া এই পানীয় আজ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লির গলি থেকে শুরু ১৯০৬ সালের গরমের এক দিনে ব্রিটিশ শাসিত ভারতের রাজধানী দিল্লির পুরনো এলাকা লাল কুয়ান বাজারে একটি ক্লিনিকের সামনে অস্বাভাবিক ভিড় জমে। স্থানীয় মানুষজন বাতাসে ভেসে আসা গোলাপের সুবাসে আকৃষ্ট হয়ে জানতে পারেন, একজন ইউনানি চিকিৎসক একটি বিশেষ পানীয় তৈরি করেছেন। লাল রঙের সেই পানীয়ের স্বাদ নিতে ভিড় বাড়তেই থাকে। দিনের শেষে তৈরি প্রথম ব্যাচ শেষ হয়ে যায়। এই ঘটনাকেই অনেকে রূহ আফজার জন্মমুহূর্ত বলে মনে করেন। এই পানীয়ের উদ্ভাবক ছিলেন ইউনানি চিকিৎসক হাকিম হাফিজ আবদুল মজিদ। পুরনো দিল্লিতে তার ক্লিনিকের নাম ছিল হামদর্দ দাওয়াখানা। ‘হামদর্দ’ শব্দটির অর্থ—দুঃখ কষ্টের সময়ের সঙ্গী। ১৯০৭ সালের দিকে এই ক্লিনিক থেকেই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয় এই অ্যালকোহলমুক্ত ভেষজ পানীয়ের। কেন তৈরি হয়েছিল রূহ আফজা শুরুর দিকে এটি তৈরি করা হয়েছিল মূলত চিকিৎসা উদ্দেশ্যে। দিল্লির প্রচণ্ড গরমে অনেক মানুষ ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যায় ভুগতেন। রোগীদের সতেজতা ফিরিয়ে দিতে গোলাপ, ভেষজ উপাদান ও ফলের নির্যাস দিয়ে এই পানীয় তৈরি করেন হাকিম মজিদ। গোলাপের সুবাস এবং সতেজ স্বাদের কারণে দ্রুতই এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর তিনি এই পানীয়ের নাম দেন রূহ আফজা। উর্দু ভাষায় “রূহ” অর্থ আত্মা বা প্রাণ এবং “আফজা” অর্থ সতেজ করে এমন কিছু। অর্থাৎ নামের অর্থ দাঁড়ায়—“যা আত্মাকে সতেজ করে।” নামের পেছনের গল্প ইতিহাস বিষয়ক ম্যাগাজিন হেরিটেজ টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, এই নামের অনুপ্রেরণা আসে একটি উর্দু কাব্যগ্রন্থ থেকে। উর্দু কবি পণ্ডিত দয়া শঙ্কর নাসিমের বিখ্যাত কাব্য “মসনবি গুলজার-ই-নাসিম”-এ রূহ আফজা নামে এক রাজকন্যার চরিত্র ছিল। সেখান থেকেই এই নাম গ্রহণ করেন হাকিম মজিদ। হাতে তৈরি বোতল থেকে শিল্প উৎপাদন প্রথমদিকে রূহ আফজা হাতে তৈরি করা হতো। ১৯২০ সালের মধ্যে কাঁচের বোতলে হাতে করে শরবত ভরা হতো এবং লেবেলও লাগানো হতো হাতে। দিল্লির শিল্পী মির্জা নূর আহমদ তৈরি করেছিলেন ঐতিহ্যবাহী লেবেল ডিজাইন, যা এখনো প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। চাহিদা বাড়তে থাকলে দিল্লির বাইরে গাজিয়াবাদে একটি কারখানায় এর বড় আকারে উৎপাদন শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যু ও নতুন অধ্যায় ১৯২২ সালে হাকিম হাফিজ আবদুল মজিদের মৃত্যু হয়। তখন তার বড় ছেলে আবদুল হামিদ মাত্র ১৪ বছর বয়সে পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বে হামদর্দ ধীরে ধীরে বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় এবং রূহ আফজার উৎপাদন ও বাজার বিস্তৃত হতে থাকে। ভারত ভাগ ও তিন দেশের ব্র্যান্ড ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হওয়ার পর হামদর্দও বিভক্ত হয়ে যায়। বড় ছেলে আবদুল হামিদ ভারতে থেকে যান ছোট ছেলে হাকিম মোহাম্মদ সৈয়দ পাকিস্তানে চলে যান এর ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় দুইটি প্রতিষ্ঠান: হামদর্দ ইন্ডিয়া হামদর্দ পাকিস্তান দুই দেশেই রূহ আফজার উৎপাদন অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশে রূহ আফজার যাত্রা ১৯৫০-এর দশকে হামদর্দ পাকিস্তান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) তাদের কার্যক্রম শুরু করে। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বিক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠানটি হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশ নামে কার্যক্রম চালিয়ে যায়। পরে ইউসূফ হারুন ভুঁইয়া নামের এক উদ্যোক্তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে রূহ আফজার উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণ শুরু হয়। রমজানের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রূহ আফজা শুধু পানীয় নয়, রমজানের সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। অনেক পরিবারে ইফতার মানেই রূহ আফজার শরবত। বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসময় একটি জনপ্রিয় মন্তব্য ছিল— “ছোটবেলায় মনে করতাম রূহ আফজা শরবত খেলে সওয়াব হয়।” এটি অনেকটাই মজার মন্তব্য হলেও এটি দেখায় যে পানীয়টির সঙ্গে মানুষের আবেগ কতটা গভীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাকিস্তানি লেখক আজির হাসান রিজভী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, রমজানে এশীয় মুসলমানদের কাছে রূহ আফজার গুরুত্ব ঠিক যেমনটা কার্টুন চরিত্র পোপাই-এর কাছে পালং শাকের। অন্যদিকে মারিয়া সারতাজ নামের এক ব্যবহারকারী বলেন, রমজান ও রূহ আফজা একে অপরের পরিপূরক। দুধ না পানি—চলমান বিতর্ক রূহ আফজা কীভাবে খাওয়া উচিত তা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। অনেকে বলেন এটি দুধের সঙ্গে খেলে স্বাদ সবচেয়ে ভালো। অন্যরা বলেন ঠান্ডা পানির সঙ্গে মিশিয়েই আসল স্বাদ পাওয়া যায়। কেউ কেউ আবার ফল, বেসিল সিড বা আইসক্রিম মিশিয়ে নিজস্ব রেসিপি তৈরি করেন। স্বাস্থ্য নিয়ে সমালোচনা তবে সবাই যে এই পানীয়ের ভক্ত তা নয়। সমালোচকদের মতে এতে চিনির মাত্রা বেশি। এছাড়া রঙ ও প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অনেকে মনে করেন, ঘরে তৈরি শরবত বা ফলের জুস বেশি স্বাস্থ্যকর। যুদ্ধ ও সংকটের সাক্ষী একটি পানীয় যে এত ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে পারে, সেটি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। ভারত ভাগ, পাকিস্তান সৃষ্টি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা—সবকিছুর মধ্য দিয়েই টিকে আছে এই ব্র্যান্ড। সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় আফগান শরণার্থীদের ত্রাণ হিসেবে রূহ আফজা পাঠানো হয়েছিল। পরে দেখা যায়, অনেক শরণার্থী এটি পানি বা দুধ ছাড়াই সরাসরি পান করতেন। ২০১৯ সালের সংকট ২০১৯ সালে ভারতে হঠাৎ করেই বাজারে রূহ আফজা সংকট দেখা দেয়। কোম্পানি জানায়, কিছু ভেষজ উপাদান সহজলভ্য না হওয়ায় উৎপাদন কমে গিয়েছিল। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অনেক ভারতীয় ব্যবহারকারী হতাশা প্রকাশ করেন। পাকিস্তানি ব্যবহারকারীরা মজা করে ভারতকে রূহ আফজা পাঠানোর প্রস্তাবও দেন। আদালত পর্যন্ত গড়ানো বিতর্ক ২০২২ সালে দিল্লি হাই কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজনকে পাকিস্তানে তৈরি রূহ আফজা ভারতের বাজারে বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভারতীয় প্রস্তুতকারকেরা অভিযোগ করেছিলেন, পাকিস্তানি সংস্করণ অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশে জরিমানা বিতর্ক বাংলাদেশেও একবার আইনি জটিলতায় পড়েছিল এই ব্র্যান্ড। ২০১৮ সালে ঢাকার একটি বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত অননুমোদিত উপাদান ব্যবহারের অভিযোগে হামদর্দকে চার লাখ টাকা জরিমানা করে। পরে আপিলের মাধ্যমে সেই রায় বাতিল হয়ে যায়। শতাব্দীর পানীয় আজ রূহ আফজা শুধু উপমহাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার এশীয় দোকানেও এটি পাওয়া যায়। অনেক প্রবাসী মুসলিমের জন্য এটি রমজানের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি পানীয়। স্বাদ, স্বাস্থ্য বা বিতর্ক—সবকিছুর বাইরে রূহ আফজা এখন এক শতাব্দীর ইতিহাসের অংশ। একটি লাল শরবত, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রমজানের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
অ্যাসিডিটি (গ্যাস্ট্রিক/অম্লতা) সাধারণত পেটে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হলে বা খাবার ঠিকমতো হজম না হলে হয়। নিচে সহজ ও কার্যকর উপায়গুলো দিলাম: 🥛 ঘরোয়া উপায় ১) ঠান্ডা দুধ এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ অ্যাসিডকে নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে ও বুকজ্বালা কমায়। ➡️ চিনি না মিশিয়ে খাওয়াই ভালো। ২) কলা পাকা কলা প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিডের মতো কাজ করে। ➡️ খালি পেটে বা হালকা নাস্তা হিসেবে খেতে পারেন। ৩) জিরা পানি এক চা চামচ জিরা ভেজে পানিতে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করুন। ➡️ হজমে সাহায্য করে, গ্যাস কমায়। ৪) আদা আদা চা বা কাঁচা আদা অল্প পরিমাণে চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। 🍽️ যেসব খাবার এড়াবেন অতিরিক্ত ঝাল ও ভাজাপোড়া টক খাবার (লেবু, আচার বেশি পরিমাণে) কোমল পানীয় অতিরিক্ত চা/কফি খুব দেরি করে রাতের খাবার ✅ জীবনযাত্রায় পরিবর্তন অল্প অল্প করে বারবার খাবার খান খাওয়ার পর সাথে সাথে শোবেন না (কমপক্ষে ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন টাইট পোশাক এড়িয়ে চলুন 💊 কখন ডাক্তার দেখাবেন? প্রায়ই বুকজ্বালা/বমি ভাব হয় খাবার গিলতে কষ্ট হয় রক্তবমি বা কালো পায়খানা ওজন অকারণে কমে যায় এগুলো থাকলে গ্যাস্ট্রো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ইফতারে ঠান্ডা কোনো পানীয় না থাকলে যেন জমেই না। অনেকেই বাইরে থেকে কেনা ইনস্ট্যান্ট শরবত বানিয়ে পান করেন। এতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ও স্বাদ মিললেও নিয়মিত খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তার বদলে ঘরে থাকা উপকরণ দিয়েই সহজে পুষ্টিকর স্মুদি তৈরি করা যায়। এতে যেমন তৃপ্তি মিলবে, তেমনি শরীরও থাকবে সুস্থ। চলুন জেনে নেওয়া যাক ইফতারের জন্য খেজুরের স্মুদি বানানোর সহজ রেসিপি- যা যা লাগবে খেজুর ১০-১২টি দুধ ২ কাপ পাকা কলা ২টি দই ২ টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়া ২ চা চামচ মধু ২ চা চামচ বরফ প্রয়োজনমতো প্রস্তুত প্রণালি প্রথমে খেজুর ভালো করে ধুয়ে গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে নরম করে নিন। এরপর পানি ঝরিয়ে খেজুরের সঙ্গে টুকরো করা কলা মেশান। সব উপকরণ ব্লেন্ডারে দিয়ে মসৃণ হওয়া পর্যন্ত ব্লেন্ড করুন, যাতে কোনো দানা না থাকে। তৈরি হয়ে গেলে গ্লাসে ঢেলে ওপর থেকে বরফ দিন। ইফতারের ঠিক আগে বানিয়ে পরিবেশন করলে স্বাদ বেশি ভালো থাকবে। দীর্ঘক্ষণ রেখে দিলে স্বাদের পরিবর্তন হতে পারে।
রমজানে ইফতার শুধু রোজা ভাঙার সময় নয়, বরং সারাদিনের দীর্ঘ উপবাসের পর শরীরকে পুনরায় শক্তি ও পুষ্টি জোগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। সঠিকভাবে ইফতার মেনু নির্বাচন করলে ক্লান্তি কমে, হজম সহজ হয় এবং সারাদিনের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই ইফতারে প্রয়োজন সচেতন খাদ্যাভ্যাস। 🥤 তরল খাবার দিয়ে ইফতার শুরু ইফতার শুরু করা উচিত হালকা তরল খাবার দিয়ে। প্রথমে পানি মুখে নিয়ে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড বিরতিতে ধীরে ধীরে পান করা ভালো। খুব তাড়াহুড়া করে বা গড়গড় করে পানি পান করা ঠিক নয়। তরল হিসেবে যা রাখা যেতে পারে— লাচ্ছি তাজা ফলের রস ডাবের পানি তোকমার শরবত আখের গুড়ের শরবত লেবু পানি শরবত তৈরিতে তাল মিছরি, গুড়, মধু বা ব্রাউন সুগার ব্যবহার করলে তা তুলনামূলক স্বাস্থ্যসম্মত হয়। 🌴 খেজুর: সুন্নতি ও পুষ্টিকর খাদ্য ইফতারে ২-৩টি খেজুর খাওয়া সারাদিনের ক্লান্তি দ্রুত দূর করতে সাহায্য করে। খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও অল্প পরিমাণ প্রোটিন—যা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। পুষ্টিগুণ বাড়াতে খেজুরের সঙ্গে চিনাবাদাম ও সামান্য মাখন মিশিয়ে পরিবেশন করা যেতে পারে। 🍎 মৌসুমি ফল: প্রাকৃতিক ভিটামিনের উৎস যেকোনো মৌসুমি ফল ইফতার মেনুতে রাখা জরুরি। ফল শরীরে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। মিক্সড ফ্রুটস, ফলের সালাদ বা ফল দিয়ে তৈরি হালকা ডেজার্ট খাওয়া যেতে পারে। 🥗 সবজি: হালকা ও সহজপাচ্য বিকল্প সবজি দিয়ে স্বাস্থ্যকর রেসিপি তৈরি করলে তা শরীরের জন্য উপকারী হয়। যেমন— সবজি স্যুপ (বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য উপযোগী) সবজি স্যান্ডউইচ সবজি নুডলস সবজি রোল সবজি পাকোরা (কম তেলে) খেয়াল রাখতে হবে, রান্নায় যেন অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না হয়। 🧆 ছোলা: প্রোটিনের সহজ উৎস ছোলা প্রোটিনের ভালো উৎস। তবে অতিরিক্ত তেল ও মসলায় ভুনা ছোলা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। স্বাস্থ্যকরভাবে ছোলা খাওয়ার উপায়— সারারাত ভিজিয়ে রেখে সিদ্ধ করা সিদ্ধ ছোলার সঙ্গে পেঁয়াজ, মরিচ, শশা ও টমেটো মিশিয়ে সালাদ তৈরি সামান্য তেলে হালকা ভাজা কাঁচা ভেজানো ছোলাও খাদ্য আঁশ ও প্রোটিনের ভালো উৎস। 🍮 মিষ্টান্ন: পরিমিত থাকাই উত্তম ইফতারে স্বাস্থ্যকর মিষ্টান্ন পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। জিলাপি বা বুন্দিয়া তেলে ভেজে সিরায় ডুবানো হয়, যা বেশি খেলে ক্ষতিকর। বিকল্প হিসেবে রাখা যেতে পারে— ফালুদা কাস্টার্ড পুডিং ফিরনি দুধজাত খাবার শরীরে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সরবরাহ করে। 🍽️ অন্যান্য উপকারী খাবার ইফতারের জন্য চিড়া-দই খুবই ভালো একটি খাবার। এতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এ ছাড়া রাখা যেতে পারে— দই বড়া নুডলস স্যান্ডউইচ রুটি-কাবাব মম শশা রমজানে ইফতার শুধু খাবার গ্রহণের সময় নয়, বরং সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টিজাত খাবার পরিহার করে পরিমিত ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করলে শারীরিকভাবে ভালো থাকা সম্ভব। সচেতন খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সুস্থ ও কর্মক্ষম রমজানের মূল চাবিকাঠি।
ডেস্ক রিপোর্ট: শুরু হয়েছে সংযমের মাস পবিত্র রমজান। আত্মিক পরিশুদ্ধির পাশাপাশি এই মাস হতে পারে শরীরকে সুস্থ ও ফিট রাখারও সেরা সময়। তবে ইফতারের টেবিলে বাহারি ভাজাপোড়া, মিষ্টিজাতীয় খাবার ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত পদ অনেক সময় ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সারাদিন উপোস থাকার পর হঠাৎ অতিরিক্ত খাবার খেলে ওজন বেড়ে যাওয়া, অস্বস্তি ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু সঠিক খাবার নির্বাচন, পরিমিত আহার ও নিয়মিত হালকা ব্যায়াম—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে রোজার মাসেও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রমজানে কোন খাবারগুলো আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে— শাকসবজি: কম ক্যালরি, বেশি পুষ্টি শাকসবজি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্যতম প্রধান সহায়ক। এতে ক্যালরি কম, কিন্তু আঁশ বেশি। আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। যেভাবে খাবেন: ইফতারে শসা, টমেটো, গাজর, লেটুস দিয়ে সালাদ সেহরিতে কম তেলে রান্না করা সবজি ডাল বা স্যুপে মিশ্র সবজি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়ক ফলমূল: প্রাকৃতিক মিষ্টির স্বাস্থ্যকর বিকল্প ইফতারে মিষ্টিজাতীয় খাবারের বদলে ফল হতে পারে আদর্শ পছন্দ। ফলে থাকে প্রাকৃতিক চিনি, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ইফতারে রাখতে পারেন: তরমুজ আপেল পেয়ারা কমলা পেঁপে খেজুর খেজুরে প্রাকৃতিক গ্লুকোজ দ্রুত শক্তি জোগায়। তবে অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো। প্রোটিন: দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তির উৎস রোজার সময় শক্তি ধরে রাখতে প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পেশি গঠনে সহায়ক এবং দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। খাদ্যতালিকায় রাখুন: গ্রিল বা সেদ্ধ মুরগি মাছ ডিম ডাল ছোলা ভাজা খাবারের বদলে গ্রিল বা সেদ্ধ প্রোটিন গ্রহণ করলে অপ্রয়োজনীয় চর্বি জমা কমে। পূর্ণ শস্য: স্থিতিশীল শক্তির জোগান সাদা ভাত বা পরিশোধিত ময়দার রুটি দ্রুত হজম হয়ে যায়। এর বদলে পূর্ণ শস্য গ্রহণ করলে শক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়। উপকারী শস্য: ব্রাউন রাইস আটার রুটি ওটস লাল চাল এসব খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। বাদাম ও বীজ: অল্পতেই তৃপ্তি এক মুঠো বাদাম শক্তি জোগায় এবং অতিরিক্ত স্ন্যাকিং কমায়। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। খেতে পারেন: কাঠবাদাম আখরোট কাজুবাদাম চিয়া বীজ তিসি বীজ পর্যাপ্ত পানি: মেটাবলিজম সচল রাখুন রোজায় ডিহাইড্রেশন হলে শরীর অনেক সময় ক্ষুধা ও পানিশূন্যতার সংকেত গুলিয়ে ফেলে। পরামর্শ: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ৮–১০ গ্লাস পানি একবারে বেশি না খেয়ে বিরতি দিয়ে পান অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত এড়িয়ে চলুন পানি বিপাকক্রিয়া সচল রাখে এবং হজমে সহায়তা করে। যেসব অভ্যাস মানলে ওজন বাড়বে না ✔️ ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন ✔️ ধীরে ধীরে খাবার খান ✔️ সেহরি কখনো বাদ দেবেন না ✔️ ইফতারের পর ২০–৩০ মিনিট হালকা হাঁটা ✔️ পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন রমজান শুধু আত্মশুদ্ধির মাস নয়, এটি হতে পারে সুস্থ জীবনযাপনের নতুন সূচনা। খাবারের পরিমাণ নয়, গুণগত মানের দিকে নজর দিন। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত আহার ও নিয়মিত হালকা ব্যায়াম—এই তিন অভ্যাস মেনে চললে মাস শেষে নিজেকে আরও হালকা, ফিট ও প্রাণবন্ত অনুভব করবেন।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে বাগদাদে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান-সমর্থিত একটি ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির মধ্যে এ ঘটনা ঘটল। কিটলসন দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল ও ইরাক-সিরিয়ার গোত্রভিত্তিক বাস্তবতা নিয়ে গভীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তাকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্ত করার জন্য তারা কাজ করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গ্লোবাল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডিলান জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহর সঙ্গে জড়িত একজনকে এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইরাকি কর্তৃপক্ষ আটক করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ইরাকেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বারবার এসব গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়েছে, আর মিলিশিয়ারা ইরাকে মার্কিন দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করেছে। ইরাক জানিয়েছে, সন্দেহভাজনরা পালানোর সময় একটি গাড়ি উল্টে গেলে সেটি আটক করা হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নিরাপত্তা বাহিনী একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।’ মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘জড়িত অন্যান্যদের খুঁজে বের করা এবং অপহৃত সাংবাদিককে মুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এক ইরাকি নিরাপত্তা সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, অপহরণের ঘটনা বাগদাদেই ঘটেছে। তবে ইরাকি কর্তৃপক্ষ অপহরণকারী বা ভুক্তভোগীর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এক বিবৃতিতে কিটলসনের অপহরণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তার নিরাপদ ও দ্রুত মুক্তি দাবি করেছে। তারা বলেছে, ‘আমরা তার গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিকতার পাশে আছি এবং তাকে দ্রুত ফিরে এসে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই।’ ইরাকের পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বেসামরিক পোশাক পরা চারজন ব্যক্তি তাকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, বাগদাদের রাস্তায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।তারা আরও জানান, অপহরণকারীদের গাড়ি রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের দিকে যাওয়ায় সেখানেই তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। একসময় অপহরণ ও অপহরণের চেষ্টার জন্য কুখ্যাত ছিল বাগদাদ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এসব ঘটনা কমে আসে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতন এবং মিলিশিয়াদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্তির ফলে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর শক্তিও কিছুটা কমেছে। তবে ইরান যুদ্ধ নতুন করে এসব মিলিশিয়া ও ইরাকি রাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৩ সালে বাগদাদে ইসরায়েলি-রুশ গবেষক এলিজাবেথ সুরকভ অপহৃত হন। তাকে দুই বছর আটকে রাখা হয় এবং গত বছর মুক্তি দেওয়া হয়। আটক অবস্থায় তিনি গুরুতর নির্যাতনের শিকার হন, যার ফলে স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরাকে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলার পর ইরাকে ঝুঁকি বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর ইরানের প্রভাব রয়েছে। ডিলান জনসন বলেন, সাংবাদিককে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগেই সতর্ক করার মাধ্যমে পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের দায়িত্ব পালন করেছে এবং তিনি আবারও মার্কিন নাগরিকদের ইরাক ত্যাগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র দপ্তর সাংবাদিকসহ সব মার্কিন নাগরিককে সব ভ্রমণ সতর্কতা মেনে চলার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দিচ্ছে।’
হুমায়ুন ইসলাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার তাজু, যার আসল নাম তাইজুল ইসলাম, সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন। এক সাধারণ মানুষ হলেও তার সরল ভিডিওগুলো আজ একটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সরল প্রশ্ন, বড় প্রতিধ্বনি তাজুর ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির বিষয়বস্তু ছিল একটি দোকানে জিলাপির দাম সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন করা—“জিলাপি কত করে বিক্রি করছেন? সাদাডা কত, লালডা কত?”। যদিও প্রশ্নটি দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ অংশ, সামাজিক মিডিয়ায় এটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। অনেকেই তাকে হাস্যরসের খোরাক হিসেবে গ্রহণ করে, আবার অনেকে তার সরলতাকে প্রশংসা করেছেন। তাজু নিজে বলেন, “আমি সাংবাদিক নই। সাংবাদিকরা আমাদের চরাঞ্চলে আসেন না, তাই আমি নিজেই ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে। আমাকে ট্রল করলেও আমার কষ্ট নেই, আমি শুধু চাই আমাদের এলাকার উন্নয়ন হোক।” নাগরিক সাংবাদিকতার উদাহরণ সরাসরি সাংবাদিকতা না হলেও তাজুর উদ্যোগ নাগরিক সাংবাদিকতা বা সিটিজেন জার্নালিজমের উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন প্রথাগত মিডিয়া পুরো দেশব্যাপী পৌঁছাতে পারে না, তখন সাধারণ মানুষ তাদের নিজস্ব অঞ্চলের ঘটনা তুলে ধরতে পারে। ডা. মেহেদী হাসান, গণমাধ্যম গবেষক, মন্তব্য করেন, “তাজুর মতো মানুষ সমাজের প্রতিটি প্রান্তে ঘটে যাওয়া সমস্যাগুলো তুলে আনতে পারে। এটি মিডিয়ার ফাঁক পূরণ করার একটি নতুন পদ্ধতি।” প্রতিক্রিয়ার বিভাজন তাজুর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দুইভাবে দেখা গেছে: প্রশংসা: সরল ভাষায় জনগণের কষ্ট তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। বিনোদনমূলক ব্যঙ্গ: ভিডিওকে মজা করা, সরল প্রশ্নগুলোকে হাস্যরস হিসেবে দেখানো। তবে ইনভেস্টিগেটিভ দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আমরা কি শুধু তার সরলতাকে উপহাসের খোরাক বানাচ্ছি, নাকি প্রকৃত সমস্যার দিকে নজর দিচ্ছি? প্রান্তিক জনগণের কণ্ঠ তাজুর সরলতা প্রকৃতপক্ষে প্রতিফলিত করে প্রান্তিক মানুষের দৈনন্দিন দুঃখ। ব্রিজ, সেতু, রাস্তা, যোগাযোগের সমস্যা—এসব তার ভিডিওর আড়ালে লুকিয়ে থাকে। তার কণ্ঠ শুধু নিজের সমস্যা নয়, পুরো অঞ্চলের জনগণের এক ধরনের ক্ষোভ এবং দাবি প্রকাশ করে। সামাজিক বিশ্লেষক রুবিনা আক্তার বলেন, “যারা সামাজিক মিডিয়ায় তার ভিডিওকে মজা করছে, তারা হয়তো সেই অঞ্চলের বাস্তবতা বুঝতে পারছে না। তাজুর সরলতা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে—সামাজিক উন্নয়ন কি সবসময় মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, নাকি প্রান্তিক জনগণ নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসতে পারবে?” তাজু ভাইরাল হয়েছেন হাসির খোরাক হিসেবে, কিন্তু তার ভিডিও আমাদের ভাবার সুযোগ দেয়—কীভাবে সাধারণ মানুষ সমাজের দুঃখ এবং সমস্যা তুলে ধরতে পারে। তার সরলতা এবং সাহস আমাদের শিখিয়ে দেয় যে নাগরিক সাংবাদিকতা শুধু প্রথাগত সাংবাদিকদের কাজ নয়; এটি যেকোনও মানুষের দায়িত্ব হতে পারে। তাজুর মতো কণ্ঠস্বর শোনার সুযোগ না দিলে সমাজ কি প্রকৃত সমস্যাগুলোর দিকে নজর দিতে পারত? সম্ভবত না। তাই তাজু শুধুমাত্র হাসির খোরাক নয়—সে প্রান্তিক জনগণের কণ্ঠ, যা আমাদের শোনার প্রয়োজন।
ঢাকা: দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাতিল হওয়া ১৬৮ জন সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পুনর্বহাল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। আপিলের সুযোগ দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত গঠিত আপিল বোর্ড কোনো বৈঠকই করেনি, ফলে এসব সাংবাদিকের পেশাগত কার্যক্রম ঝুলে আছে অনিশ্চয়তায়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য অধিদফতর ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর ২০ জন, ৩ নভেম্বর ৩০ জন এবং ৭ নভেম্বর ১১৮ জনসহ মোট ১৬৮ জন সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সে সময়ের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা নিজামুল কবীরের সই করা পৃথক তিনটি আদেশে ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন নীতিমালা ২০২২’-এর একাধিক ধারা উল্লেখ করা হয়। কার্ড বাতিল হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে সম্পাদক, উপসম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক, টেলিভিশনের বার্তাপ্রধানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাজীবীরা রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলেও অধিকাংশের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলে জানা গেছে। এমনকি যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেসব মামলারও এখনো চার্জশিট দাখিল হয়নি। এদিকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার বাতিল হওয়া এসব কার্ড পুনর্বহালের সুযোগ দিয়ে আপিলের ব্যবস্থা করে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন আপিল কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং সদস্য সচিব তথ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. ইয়াকুব আলী। এছাড়া কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক নেতারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিক আপিল করলেও এখনো পর্যন্ত কমিটির কোনো বৈঠক হয়নি। ফলে আপিল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে আছে। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও আপিল কমিটির সদস্য শহীদুল ইসলাম জানান, আপিল বোর্ড থেকে অনুমোদন পাওয়া আবেদনগুলো সরাসরি তথ্য অধিদফতরে পাঠানো হলে নতুন কার্ড ইস্যু করা হবে। তবে এখনো কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। অন্যদিকে কমিটির সদস্য সচিব মো. ইয়াকুব আলীও স্বীকার করেছেন যে আপিল কমিটির বৈঠক এখনো হয়নি। তিনি বলেন, বৈঠকে যাচাই শেষে অনুমোদিত আবেদনগুলোর ভিত্তিতে দ্রুত কার্ড ইস্যু করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন নীতিমালা ২০২৫’-এ নতুন করে কিছু শিথিলতা আনা হয়েছে, যেখানে ফৌজদারি মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট না হওয়া পর্যন্ত কার্ড বাতিল না করার বিধান রাখা হয়েছে। এতে অনেক সাংবাদিক পুনরায় কার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন। তবে আগের বাতিলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ না থাকায় প্রশ্নও উঠেছে। নীতিমালার ধারা উল্লেখ করা হলেও কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ— তা পরিষ্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার আরও সুশৃঙ্খল করতে অ্যাক্রেডিটেশন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নীতিমালা-ভিত্তিক করা হবে। একই সঙ্গে অপব্যবহার রোধে প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরি করা হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো সাংবাদিক অন্যায়ভাবে বাদ পড়লে নীতিমালা অনুযায়ী তাদের কার্ড পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের মতামত নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ অবস্থায় ১৬৮ জন সাংবাদিকের পেশাগত ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আপিল বোর্ডের প্রথম বৈঠক ও সিদ্ধান্তের ওপর।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ পদত্যাগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে তিনি পদত্যাগ করেছেন। বাসসের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, এমডি ও প্রধান সম্পাদকের জায়গায় এখন আর মাহবুব মোর্শেদের নাম নেই। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদকে দুই বছর মেয়াদে বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিল সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। এখন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন তিনি। সম্প্রতি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতির’ অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি গঠিত এ কমিটিকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ওই দিন সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘বাসসে যা ঘটেছে, তা দুঃখজনক। বাসস একটা সরকারি সংবাদ সংস্থা। এখানে নিয়োগ বহাল বা বাতিলের একটা বিধিবদ্ধ নিয়ম আছে। সরকার সেই নিয়মের মধ্যেই সবকিছু বিবেচনা করবে। যে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আলোচনা সাপেক্ষে বিধিবিধান অনুযায়ী তার সমাধান বের করা হবে।’ এর আগে রাজধানীর পল্টনে বাসসের কার্যালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংবাদ সংস্থার এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সাংবাদিক-কর্মচারীদের একটি অংশ কার্যালয়ে তাঁকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। বিক্ষোভের মুখে মাহবুব মোর্শেদ অফিস ছেড়ে চলে যান। পরে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন মাহবুব মোর্শেদ। সেখানে তিনি ‘মব তৈরি করে’ তাঁকে ‘অপসারণের’ জন্য চাপ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
আসুন আমরা এই ভদ্রোচিত মিথ্যাটি বাদ দিই যে ব্রিটিশ সাংবাদিকতা মুসলিমদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করে। তারা তা করে না। আর বর্তমানের তথ্য-উপাত্ত, যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত, তা সন্দেহাতীতভাবেই এটি প্রমাণ করে। 'সেন্টার ফর মিডিয়া মনিটরিং' ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে মুসলিমদের উপস্থাপনার ওপর এযাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের ফলাফল প্রকাশ করেছে। গবেষণায় ৩০টি প্রধান সংবাদমাধ্যমের ৪০ হাজর ৯১৩টি নিবন্ধ পরীক্ষা করা হয়েছে—পুরো এক বছরের সংবাদ কাভারেজকে ব্যবচ্ছেদ ও কোডিং করা হয়েছে এবং পক্ষপাতের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে পরিমাপ করা হয়েছে। এর উপসংহারটি অত্যন্ত ভয়াবহ: ২০২৫ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে মুসলিমদের নিয়ে করা মোট কাভারেজের প্রায় অর্ধেকই ছিল পক্ষপাতদুষ্ট। 'অর্ধেক'—এই সংখ্যা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনাকে নির্দেশ করে না, বরং এটি একটি পদ্ধতিগত বা কাঠামোগত সমস্যাকে তুলে ধরে। বিশ্লেষণ করা নিবন্ধগুলোর ৭০ শতাংশই মুসলিম বা ইসলামকে নেতিবাচক বিষয় বা আচরণের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আর এখানে পদ্ধতিগত একটি বিষয় রয়েছে, যা এই পরিসংখ্যানকে অস্বীকার করা আরও কঠিন করে তোলে: গবেষণাটি কেবল সেই নিবন্ধগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না যেখানে মুসলিমরা মূল বিষয় ছিল। তথ্যভাণ্ডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য কোনো নিবন্ধে মুসলিমদের সম্পর্কে একটিমাত্র সাধারণ উল্লেখই যথেষ্ট ছিল। সেই বিচারে, গবেষণার পদ্ধতি ছিল বেশ উদার, এমনকি শিথিলও বলা চলে। তা সত্ত্বেও প্রায় অর্ধেক নিবন্ধই পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই ৫০ শতাংশের পরিসংখ্যান সম্ভবত পক্ষপাতের সর্বনিম্ন সীমা, সর্বোচ্চ নয়। এবার ঐতিহাসিক রেকর্ডের দিকে তাকানো যাক। পাঁচ বছর আগে, এই কেন্দ্রটি ২০১৮-১৯ সালের ১২ মাসের ব্যবধানে প্রকাশিত ৪৮ হাজারেরও বেশি নিবন্ধের ওপর একই প্যারামিটার ব্যবহার করে একটি মূল্যায়ন প্রকাশ করেছিল। তখন নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের হার ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ; যা এখন ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি কোনো সামান্য বিচ্যুতি নয়, বরং কাঠামোগত অবনতি। মুসলিমদের নিয়ে সংবাদ পরিবেশন কেবল শত্রুতাপূর্ণই হয়ে ওঠেনি, বরং এটি এখন একটি বার বার একই অপরাধ করার রোগে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এখন মুসলিমদের নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি অবজ্ঞাভরে নিবন্ধ প্রকাশ করছে। ভাষ্যকার পিটার ওবোর্ন যখন বলেছিলেন যে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে—অনেক বেশি খারাপ—তখন তিনি মোটেও বাড়িয়ে বলেননি। উপাত্তগুলোই তা নিশ্চিত করছে। বিকৃত শব্দচয়ন ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো এখন আর মুসলিমদের নিয়ে প্রতিবেদন করছে না; বরং তারা তাদের বিরুদ্ধে রীতিমতো প্রচারণা চালাচ্ছে। একটি সম্প্রদায় নিয়ে সংবাদ প্রচার করা আর তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; একটি ধর্মকে পর্যবেক্ষণ করা আর সেটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের মধ্যেও তফাত আছে। এই সংকটের মূলে থাকা সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের পথ বেছে নিয়েছে: দ্য স্পেকটেটর, জিবি নিউজ, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, দ্য জিউস ক্রনিকল, দ্য ডেইলি এক্সপ্রেস, দ্য ডেইলি মেইল ও দ্য টাইমস। এগুলো কোনো প্রান্তিক কণ্ঠস্বর নয়। এগুলো সেই প্রতিষ্ঠান যারা জনমতের গতিপথ নির্ধারণ করে। আর এই প্রতিবেদনের প্রমাণ অনুযায়ী, তারা পদ্ধতিগতভাবে ব্রিটিশ মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ। তাদের ভাষা লক্ষ্য করুন। প্রতিবেদনে বিকৃত পরিভাষা ব্যবহারের যে বিশ্লেষণ দেওয়া হয়েছে, তা পড়লে মনে হবে এটি এমন এক শব্দকোষ যা তৈরি করেছে তারা যারা মুসলিমদের অস্তিত্ব মুছে দিতে চায়: ‘মুসলিম পুরুষদের গ্যাং’, ‘ঘাতক আদর্শ’, ‘ঘৃণা মিছিল’, ‘মৃত্যুর কাল্ট’, ‘ইসলামপন্থী ইহুদি-বিদ্বেষী’, ‘আধুনিকতাকে উৎখাত করা’, ‘তাণ্ডব চালানো’। এগুলো কোনো বর্ণনামূলক শব্দ নয়, এগুলো অস্ত্র। জিবি নিউজ নতুন যাত্রা শুরু করলেও পক্ষপাতের সব সূচকে তারা নিকৃষ্টতমদের কাতারে রয়েছে। ২০২৫ সালের একটি শিরোনাম তাদের সম্পাদকীয় সংস্কৃতিকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে: ‘আমাকে অভদ্র হতে দিন: মুসলিমরা ইহুদিদের প্রতি বর্ণবাদী’। এখানে লেখকের অবজ্ঞাকে ‘সাহস’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গোঁড়ামিকে যখন বীরত্ব হিসেবে বাজারজাত করা হয়, তখন সেটি আর সাংবাদিকতা থাকে না, উস্কানিতে পরিণত হয়। দ্য স্পেকটেটর-এ চরম পক্ষপাতের হার সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে; তাদের প্রতি চারটির মধ্যে একটি নিবন্ধকে ‘ভীষণ পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি এমন কোনো প্রকাশনা নয় যা মাঝেমধ্যে কুসংস্কারে হোঁচট খায়; বরং এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে মুসলিম-বিদ্বেষ ধারাবাহিকভাবে ফুটে ওঠে। দ্য স্পেকটেটর একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিল যেখানে তারা আপাত বিস্ময় প্রকাশ করেছে যে কেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মানুষকে ‘ঈদ মোবারক’ জানাবেন! একজন ব্রিটিশ নেতা এ দেশের অন্যতম পালিত একটি ধর্মীয় উৎসবের স্বীকৃতি দেওয়াকে যখন ব্যাখ্যা করার মতো বিষয় হিসেবে দেখা হয়, তখন এটিই আপনাকে বুঝিয়ে দেয় যে জনজীবনে মুসলিমদের উপস্থিতিকে কতটা প্রতিকূলতার চোখে দেখা হচ্ছে। আর এই প্রচারণা নতুন বছরেও থেমে নেই। ২০২৬ সালেও এটি অব্যাহত রয়েছে, যেখানে মুসলিমদের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। মুসলিম ভোটাররা তাদের অধিকার প্রয়োগ করাকে ‘সাম্প্রদায়িক ভোট’, ‘পারিবারিক ভোট ব্যাংক’ বা সন্দেহজনক ও সমন্বিত কিছু হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামভীতিমূলক শব্দকোষের সর্বশেষ সংযোজন। যখন একজন মুসলিম ভোট দেন, সেটি হয় ‘ব্লক ভোটিং’। যখন একটি মুসলিম সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়, সেটি হয় ‘গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’। এগুলো তাদের ব্যবহৃত ভাষা যারা প্রিন্ট মিডিয়ায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়—এবং তাদের ভাষা যারা লোকদেখানো ভণ্ডামি ছেড়ে স্রেফ আমাদের অস্তিত্বই মুছে দিতে চায়। বিপজ্জনক ও বিষাক্ত একটি তথ্য কেবল ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম নয়, বরং সবাইকে অভিযুক্ত করে। সেটি হলো ‘প্রাসঙ্গিক তথ্যের অনুপস্থিতি’ —অর্থাৎ পাঠককে একটি ঘটনা সঠিকভাবে বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়া। ৪৪ শতাংশ পক্ষপাতদুষ্ট নিবন্ধে এই চিত্র পাওয়া গেছে। পুরো ডেটাসেটে এটিই মিডিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এর জন্য সবসময় বিদ্বেষের প্রয়োজন হয় না। অত্যন্ত নগণ্য সংখ্যক মানুষের সম্পৃক্ততা আছে এমন চরমপন্থার কোনো খবর দেওয়ার সময় প্রেক্ষাপট উল্লেখ না করা; কোনো রাজনীতিবিদের উস্কানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে কোনো পাল্টা যুক্তি না দিয়েই তা উদ্ধৃত করা—এর জন্য ঘৃণার প্রয়োজন নেই, কেবল অবহেলাই যথেষ্ট। কিন্তু হাজার হাজার নিবন্ধ এবং ডজন ডজন সংবাদমাধ্যমে এই অবহেলার পুনরাবৃত্তি যখন ঘটে, তখন এর প্রভাবের দিক থেকে এটি আর বিদ্বেষের চেয়ে আলাদা থাকে না। বিবিসি সব সূচকেই পক্ষপাতের সর্বনিম্ন হার রেকর্ড করেছে। এই হতাশাজনক পরিস্থিতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি প্রমাণ করে যে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে মুসলিম ও ইসলাম নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা সম্ভব। জনসেবা বা পাবলিক সার্ভিসের দায়িত্বগুলো কেবল নিয়ন্ত্রণমূলক আমলাতন্ত্র নয়। এগুলো শিল্পের নিকৃষ্টতম প্রবৃত্তিগুলোকে ঠেকানোর একটি কার্যকর উপায়—যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের রক্ষা করার দাবিকে আগের চেয়ে আরও জরুরি করে তুলেছে। ব্রিটিশ সাংবাদিকতার অন্যতম অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব কেভিন ম্যাগুইয়ার কেন্দ্রের এই ফলাফলগুলোকে ‘লজ্জাজনক, বিপজ্জনক এবং বিষাক্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সঠিক। আর তার মতো একজন সাংবাদিক যখন জনসমক্ষে এটি বলতে বাধ্য হন, সেটিই প্রমাণ করে পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে। প্রশ্ন এখন আর এটা নয় যে এমনটা ঘটছে কিনা। উপাত্তগুলো তা পরিষ্কার করে দিয়েছে। প্রশ্ন হলো এখন কী হবে? সম্পাদকরা কি এই প্রতিবেদন পড়বেন এবং কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও তাদের নিউজরুমের সংস্কৃতিতে প্রকৃত কোনো পরিবর্তন আনবেন? নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো—যারা এতদিন এড়িয়ে যাওয়ার অবিশ্বাস্য মানসিকতা দেখিয়েছে—তারা কি শেষ পর্যন্ত প্রমাণের ভিত্তিতে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করবে? রাজনীতিবিদরা—যাদের অনেকে নির্বাচনি ফায়দার জন্য এই বিদ্বেষকে পুঁজি করেছেন ও ছড়িয়ে দিয়েছেন—তারা কি সততার সঙ্গে তাদের নিজেদের দায় স্বীকার করবেন? নাকি আমরা এই প্রতিবেদনটিকেও আগেরগুলোর মতো ফাইলবন্দি করে রাখব এবং উপযুক্ত জায়গায় কেবল উদ্বেগ প্রকাশ করে পরের গবেষণার জন্য অপেক্ষা করব, যা আমাদের ইতোমধ্যেই জানা সত্যগুলোকেই আবার নিশ্চিত করবে? ব্রিটিশ মুসলিমরা বিশেষ কোনো সুবিধা চাচ্ছে না। তারা কেবল তথ্যের নির্ভুলতা এবং ন্যায্যতার সেই মৌলিক মানদণ্ডটুকুই চাইছে যা সব সম্প্রদায়ের প্রাপ্য। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে কার্যকর গণমাধ্যমের জন্য এটিই সর্বনিম্ন চাহিদা। কিন্তু সেই সর্বনিম্ন চাহিদাটুকুও পূরণ হচ্ছে না। যারা এটি পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে তারা ভালো করেই জানে তারা কারা। আর এখন, বাকি সবাইও তা জেনে গেছে।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সিনিয়র সাংবাদিককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক কালাম তালুকদারকে রাতে গোপালগঞ্জের ২৫০-শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত কালাম তালুকদার কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। তিনি রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীফলবাড়ি গ্রামের প্রয়াত জবেদ আলী তালুকদারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিক কালাম তালুকদার জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার খবর সংগ্রহ করতে তিনি হলরুমে যান। সভা চলাকালে কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ, সদস্য সচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফা এবং ধারাবাশাইল সরকারি আদর্শ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হামিম বিশ্বাসসহ ১০-১২ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং টেনে-হিঁচড়ে নিচতলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা সাংবাদিক কালামকে উপজেলায় না যাওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোরা আর সাংবাদিকতা করতে পারবি না। তোদের যেন আর কোথাও না দেখি।’ পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বারবার ফোন করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গোপালগঞ্জের জেলা-উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ-জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
রমজানের শেষ দশ রাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ। এ সময়টিকে ইবাদত, দোয়া ও নেক আমলে ভরিয়ে তুলতে পরিবারকেও সম্পৃক্ত করা জরুরি। কীভাবে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এই সময়কে আরও অর্থবহ করা যায়, সে বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরা হলো। রমজানের শেষ দশ রাত সম্পর্কে প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ইবনে কাইয়্যিম বলেন, সব মাসের মধ্যে রমজান সর্বোত্তম এবং রমজানের রাতগুলোর মধ্যে শেষ দশ রাত সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ। এই সময়ে বেশি বেশি নেক আমল করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। পাশাপাশি পরিবারকে নিয়ে এই সময় কাটালে সন্তানদের মধ্যেও ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে ওঠে এবং পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। নিচে পরিবারের জন্য শেষ দশ রাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় তুলে ধরা হলো— নিয়ত ঠিক করা ইসলামে প্রতিটি কাজের আগে নিয়ত ঠিক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রমজানের শেষ দশ রাত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত করা উচিত। নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও দোয়া করতে হবে এবং সন্তানদেরও দোয়া করতে উৎসাহিত করতে হবে। পরিবারের সঙ্গে তাহাজ্জুদ তারাবি ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। চেষ্টা করা উচিত পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসব নামাজ আদায় করার। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আধ্যাত্মিক বন্ধন তৈরি হয়। যদি সন্তানরা ছোট হয় তবে সপ্তাহান্তে তাদের মসজিদে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এতে তারা মসজিদের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হবে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে শিখবে। একসঙ্গে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত রমজানজুড়ে প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত করা উচিত। তবে শেষ দশ রাতে তা আরও বাড়ানো ভালো। পরিবারে একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে সবাই মিলে কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। পরিবারের সদস্যরা পালা করে সুরা পড়তে পারেন। চাইলে এটিকে আনন্দময় করতে ছোট একটি প্রতিযোগিতাও রাখা যেতে পারে, যাতে দেখা যায় কে বেশি তিলাওয়াত করতে পারে। এতে শিশুদের কোরআনের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। দোয়ার তালিকা তৈরি করা রমজান রহমত ও বরকতের মাস। এ সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও বিভিন্ন কল্যাণ কামনার জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। শেষ দশ দিনে সন্তানদের সঙ্গে বসে একটি দোয়ার তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। এতে তারা বুঝতে শিখবে যে আল্লাহ সব দোয়া শোনেন। সন্তানদের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শেখানো একটি বিখ্যাত দোয়াও শেখানো যেতে পারে—হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন। বেশি বেশি সদকা করা সদকা শুধু অর্থ দানেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবার মিলে রান্না করে আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের ইফতারে দাওয়াত দেওয়া যেতে পারে। সন্তানদের তাদের অপ্রয়োজনীয় খেলনা বা ছোট হয়ে যাওয়া কাপড় গরিবদের দান করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। পরিবারের সবাই মিলে পার্কে গিয়ে পাখিদের খাবার দেওয়া বা আশপাশের বৃদ্ধ প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়াও সদকার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত। যদি সামর্থ্য থাকে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দান করা যেতে পারে। সন্তানদেরও তাদের হাতখরচের কিছু অংশ দান করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। এতে তাদের মধ্যে সহমর্মিতা ও উদারতার মানসিকতা গড়ে উঠবে। পরিবারকে সময় দেওয়া রমজানের শেষ দশ রাতকে পরিবারকেন্দ্রিক সময় হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। সন্তানদের বোঝানো দরকার কেন এই রাতগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভব হলে বাবা-মা বা আত্মীয়দের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার ও ইবাদতে সময় কাটানো যেতে পারে। এতে পরিবারে ভালোবাসা বাড়ে এবং সন্তানরা অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও সাহায্যের মানসিকতা শিখে। রমজান খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই শেষ দশ রাতকে অবহেলায় কাটিয়ে না দিয়ে যতটা সম্ভব ইবাদত ও ভালো কাজে ব্যয় করা উচিত।
পটুয়াখালীতে ১১০ দিনেই পুরো পবিত্র কুরআন মুখস্থ করে সবার দৃষ্টি কেড়েছে ১২ বছর বয়সী শিশু দ্বীন ইসলাম। সে সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের মধ্য ধরান্দী এলাকার জামিয়া রহিমীয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী। অল্প সময়ে কুরআন হিফজের এই বিরল কৃতিত্বে আনন্দিত তার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসী। দ্বীন ইসলাম অত্যন্ত মেধাবী, মনোযোগী ও পরিশ্রমী একজন ছাত্র। মাত্র ১১০ দিনের মধ্যেই সে পুরো কুরআন হিফজ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্য শিশুরা যখন খেলাধুলা করত, তখন সে কুরআন শরীফ নিয়ে পড়াশোনায় মন দিত। অনেক সময় সে একদিনে ১০ পৃষ্ঠা এমনকি এক পারা পর্যন্ত সবক দিয়েছে। দ্বীন ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের মধ্য ধরান্দী এলাকার একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান। তার বাবার নাম ইয়াকুব শিকদার। স্থানীয়রা জানান, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সন্তানকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প ছিল ইয়াকুব শিকদারের। সেই স্বপ্নেরই উজ্জ্বল প্রতিফলন দেখা গেছে দ্বীন ইসলামের এই অর্জনে। অল্প বয়সেই তার এই সাফল্য এখন এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
জেরুজালেম: ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে শুক্রবারের জুমা নামাজ বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানি হামলার আশঙ্কা দেখিয়ে এই নিরাপত্তামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দেশটি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ‘আল মুনাসিক’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বিবৃতিতে বেসামরিক প্রশাসনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিশাম ইব্রাহিম জানান, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জেরুজালেমের ওল্ড সিটির সব পবিত্র স্থান শুক্রবার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে আল-আকসা মসজিদ, ওয়েস্টার্ন ওয়াল (আল-বোরাক দেয়াল), টেম্পল মাউন্ট এবং চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার অন্তর্ভুক্ত। কোনো ধর্মাবলম্বী বা দর্শনার্থীকে এসব স্থানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ইসরায়েলি শাসক সংস্থার প্রধান সাফ জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদার ছাড়া সকলের জন্য প্রযোজ্য। গত শনিবার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ওল্ড সিটিতে প্রবেশ সীমিত করেছে। আল-আকসার সিনিয়র ইমাম শায়খ ইকরিমা সাবরি এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, "দখলদার কর্তৃপক্ষ যেকোনো অজুহাতে আল-আকসা বন্ধ করার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।" যদিও ইসরায়েল বর্তমান যুদ্ধকে এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে, রমজান মাসের শুরু থেকেই তারা আল-আকসায় নামাজ আদায়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছিল। এই সংঘাতের ফলে ইতিমধ্যেই দুই দেশে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ১০ জন নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত ১,২৩0 জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ হল মসজিদ আল-হারাম। জীবনে একবার হলেও এ মসজিদ পরিদর্শন করা কোটি মুসলিমের লালিত স্বপ্ন। মহান আল্লাহর এ ঘর নিয়ে মুসলিমদের মনে রয়েছে নানান কৌতুহল। অন্যতম হল, এ ঘরে কতটি গেট রয়েছে ? মসজিদুল হারামের মোট গেট সংখ্যা হল ২৬২। অসংখ্য দরজাসমূহ থেকে মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজা। ফেরেশতাদের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মসজিদ হারাম নির্মাণ করিয়েছেন। এরপর আদম, ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.) ঘরটি পুনঃনির্মাণ করেছেন। দীর্ঘ সময় মসজিদটির কোনো দরজা ছিল না। মক্কা বিজয়ের পর এ মসজিদে প্রথম দরজা তৈরি করা হয়। এ দরজার নাম হল ‘বাব বনি শায়বাহ’। এরপর ধীরে ধীরে নির্মিত হয়েছে বাকি দরজাগুলো, যা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। হারাম শরীফে প্রবেশের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজা বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য হাজি উমরাহ হজ করতে হারাম শরীফে যান। মসজিদুল হারামে তাদের চলাচল সহজ করার জন্য নিচে মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজা সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা হল। ১. বাব মালিক/কিং আব্দুল আজিজ গেট- (গেট নং ০১) বাব মালিক, যা কিং আব্দুল আজিজ গেট নামেও পরিচিত। মসজিদুল হারামের আধুনিক এবং প্রধান চারটি দরজার মধ্যে এটি একটি। সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ আব্দুল আজিজের নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়। হারাম কমপ্লেক্সের ইয়েমেণি কর্ণার এবং আজিয়াদ স্ট্রিটের ঠিক বিপরীতে দরজাটি অবস্থিত। বাব মালিক গেট থেকে সরাসরি কাবা দেখা যায়। দরজাটি দিয়ে প্রতিবন্ধী ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা সরাসরি মাতাফে (কাবা তওয়াফ করার স্থান) প্রবেশ করতে পারেন। সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ আব্দুল্লাহ হারাম শরীফ সম্প্রসারণের সময় এ দরজা সংস্কার করেছিলেন। ২. বাব আজিয়াদ/আজিয়াদ গেট-(গেট নং ০৫) মসজিদ আল- হারামের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আজিয়াদের দুটি উপত্যকার নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। এটি হারাম কমপ্লেক্সের ছোট দরজা হলেও মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার একটি। এ দরজা দিয়ে বৈদ্যুতিক সিঁড়ির সাহায্যে হারামের উপরের তলায় উঠা যায়। গেট ৭ ও ৮ আজিয়াদ গেটের পাশেই অবস্থিত। তাই আজিয়াদ গেট ব্যবহার করে মসজিদ হারামের উপরে উঠলেও সহজেই গেট ৭ ও ৮ দিয়ে নিচে চলে আসা যায়। ৩. বাব বিলাল/বিলাল গেট-(গেট নং ০৬) মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার একটি হল বাব বিলাল বা বিলাল গেট। এটি হারাম শরীফের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এটি সাহাবী ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মুয়াযযিন বিলাল ইবন রাবাহ (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। হাবশা তথা বর্তমান আবিসিনিয়ার বাসিন্দা হওয়ায় বিলাল হাবশী নামেও পরিচিত এ সাহাবি। ৪. বাব হুনাইন/হুনাইন গেট-(গেট নং ০৯) বাব হুনাইন বা হুনাইন গেট মসজিদুল হারামের দক্ষিণে বাব বিলার ও ইসমাইলের মধ্যে অবস্থিত। তায়েফের নিকটবর্তী হুনাইন শহরের নামানুসারে গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। বাব আজইয়াদের চলন্ত সিঁড়িগুলো গেটটির সামনে অবস্থিত হওয়ায়, বর্তমানে গেটটির কিছু অংশ দেখা যায়। গেটটি পুরোপুরি দেখা না গেলেও মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি এটি। ৫. বাব ইসমাইল/ইসমাইল গেট-(গেট নং ১০) মসজিদ হারামের দক্ষিণ দিকে বাব হুনাইন ও হামযাহ এর মধ্যে বাব ইসমাইল বা ইসমাইল গেট অবস্থিত। ইবরাহিম (আ.) এর পুত্র নবি ইসমাইল (আ.)-র সম্মানে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। আপেক্ষিকভাবে এ দরজাটি বায়তুল্লাহর অন্য দরজার চেয়ে ছোট হলেও মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার অন্যতম এটি। এ গেট দেখলে ইবরাহিম, ইসমাইল ও হাজেরা (আ.) মক্কায় আল্লাহর জন্য যে ত্যাগ করেছেন তা স্মরণ হয়ে যায়। ৬. বাব সাফা/আল সাফা গেট-(গেট নং ১১) বাব সাফা যা আল সাফা গেট নামেও পরিচিত। মসজিদুল হারামের ৫টি প্রধান ফটকের মধ্যে এটি একটি। ফটকটি হারাম শরীফের উত্তর দিকে অবস্থিত। এ গেট দিয়ে সায়ী করার স্থানে প্রবেশ করা যায় এবং উপরে যেতে চাইলে গেটটিতে থাকা সিঁড়ি ব্যবহার করে হারামের উপরে যাওয়া যায়। বয়স্ক ও অসুস্থ হাজিগণ সায়ী করার জন্য গাড়ির সহযোগিতা নিতে পারেন এখান থেকে। ৭. বাব হামযাহ-(গেট নং ১২) মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের ঠিক মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত বাব হামযাহ। বাইতুল্লায় প্রবেশের অন্যতম পয়েন্ট হল এ দরজা। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা হামযাহ (রা.) এর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। গেটটি দেখলে উহুদ যুদ্ধে হামযাহ (রা.) এর ত্যাগ ও শাহাদাতের কথা স্মরণ হয়ে যায়। ৮. বাব কুবাইস-(গেট নং ১৩) মসজিদ আল-হারাম কমপ্লেক্সের ১৩ নং গেটটি বাব কুবাইস নামে পরিচিত। কুবাইস পাহাড়ের নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। সাফা ও কুবাইস পাহাড়ে প্রবেশ করতে চাইলে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। বলা হয় যে, কুবাইস পাহাড় আল্লাহ তায়ালার সৃষ্ট প্রথম পাহাড়। ৯. বাব নাবি/আল নাবি গেট-(গেট নং ১৪) এ দরজাটি মসজিদের পূর্ব দিকে সাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী বাব কুবাইস ও আলীর মাঝে অবস্থিত। নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। এ দরজা ব্যবহার করে হারাম কমপ্লেক্সের উপরে ওঠা যায়। ১০. বাব নাবী ব্রিজ/আল নাবী ব্রিজ গেট-(গেট নং ১৫) মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি হল বাব নাবী ব্রিজ/আল নাবী ব্রিজ গেট। এ ব্রিজটি উপরের তলাগুলোর সাথে সংযুক্ত। এটি দিয়ে মসজিদের উপরে উঠে মসজিদ পরিদর্শন করা বা ইবাদত করা যায়। ব্রিজটি দিয়ে সহজেই সাফা পাহাড়ে পৌঁছানো এবং সাফা এরিয়ায় চলাচল করা যায়। রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। ১১. বাব দারুল আরকাম-(গেট নং ১৬) এ গেটটি মাসআ’র (সায়ী করার স্থান) পূর্বদিকে এবং বাব আলির (রা.) ডানদিকে অবস্থিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবা আরকাম বিন আবি আরকাম (রা.) এর বাসস্থান ছিল এটা। এজন্য তার নামানুসারেই এ গেটের নামকরণ করা হয়।এই গেট দিয়ে সরাসরি সায়ী করার স্থানে পৌঁছা যায়। এছাড়াও হারাম কমপ্লেক্সের উপরে যেতে চাইলে এই দরজা দিয়ে যাওয়া যায়। ১২. বাব আলী/ আলী গেট-(গেট নং-১৭) মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি হল বাব আলী বা আলী গেট। যে দশজন সাহাবা দুনিয়ায় জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন তাদের একজন হলেন আলী (রা.)। তাঁর নামেই এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি বাব নবি ও আব্বাসের মাঝে এবং সায়ী করার স্থানের পূর্বদিকে অবস্থতি। সায়ী করার সময় যে স্থানে ‘রমল’ করতে হয়, দরজাটি এ স্থানের সঙ্গে সংযুক্ত। ১৩. বাব আব্বাস-(গেট-২০) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা ও সাহাবা আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিবের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি হারাম কমপ্লেক্সের পূর্বদিকে বাব আলী ও বনি শায়বার মাঝে অবস্থিত। এ দরজা দিয়ে হাজি সাহেবগণ সায়ী করার স্থানে প্রবেশ করে থাকেন। ১৪. বাব বনি হাশেম-(গেট নং ২১) বাব বনি হাশেম মসজিদ হারাম কমপ্লেক্সের নতুন ও অত্যাধুনিক গেটগুলোর একটি। এটি পবিত্র কা’বার নিকটেই অবস্থিত। এ দরজা দিয়ে সায়ী করার স্থানে খুব সহজেই প্রবেশ করা যায়। মক্কার সম্ভ্রান্ত গোত্র বনু হাশেমের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ১৫. বাব বনি শাইবা/শাইবা গেট-(গেট নং-২২) বাব বনি শাইবা, যেটি বনু শায়বাহ নামেও উচ্চারণ করা হয়। এর অর্থ হল শায়বার পুত্রদের দরজা। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে এবং মারওয়া পাহাড়ের কাছে গেটটি অবস্থিত। মক্কার চাবি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ইসলাম আবির্ভাবের পূর্ব থেকেই বনু শায়বাহ গোত্রের কাছে ছিল এবং এখনও তাদের কাছেই আছে। গোত্রটিকে সম্মানিত করতেই তাদের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ১৬. বাব আল মারওয়া/মারওয়া গেট-(গেট নং ২৩) মক্কার প্রসিদ্ধ মারওয়া পাহাড়ের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। মসজিদ আল-হারাম কমপ্লেক্সের বড় দরজাগুলোর একটি হল বাব আল মারওয়া বা মারওয়া গেট। এ গেটে বৈদ্যুতিক সিঁড়ি রয়েছে, যা দিয়ে সহজেই হারাম শরীফের উপরে ওঠা যায়। যেসব হাজিগণ দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় সায়ী করেন, খুব সহজেই তারা এ গেট ব্যবহার করে নিচে চলে আসতে পারেন। মসজিদুল হারামে প্রবেশের প্রধান দরজাগুলোর মধ্যে বাব আল মারওয়া দরজা অন্যতম। ১৭. বাব আল-মুদা’আ/আল মু’দা’আ গেট-(গেট নং ২৫) উসমানীয় যুগে মসজিদ আল-হারামের উত্তরদিকে বাব সালামের পাশে গড়ে উঠেছিল মুদা’আ বাজার। এ বাজারের নামেই বাব আল-মুদা’আ/আল মুদা’আ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। নিচতলায় সায়ী সম্পন্ন করে দরজাটি দিয়ে বাহিরে বেরিয়ে আসা যায়। ১৮. বাব কুরাইশ-(গেট নং ২৬-২৭) সায়ী করার স্থানের উত্তরপ্রান্তে বাব কুরাইশ বা কুরাইশ গেট অবস্থিত। এ গেট দিয়ে মারওয়া পাহাড়ে প্রবেশ করা যায়। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বংশের নাম উম্মতে মোহাম্মাদির মাঝে উজ্জ্বল রাখতেই কুরাইশ গোত্রের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ১৯. বাব আরাফা/আরাফা গেট-(গেট নং-৩৫) বাব আরাফা বা আরাফা গেট মারওয়া পাহাড়ে অবস্থিত। মক্কার বিখ্যাত আরাফা ময়দান বরাবর মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে দরজাটি। এজন্য এ ময়দানের নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। হজের আবশ্যকীয় কাজগুলোর একটি হল আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। ২০. বাব মুযদালিফা/মুযদালিফা গেট-(গেট নং ৩৬) বাব মুযদালিফা বা মুযদালিফা গেটও মারওয়া পাহাড়ে অবস্থিত। হজের সময় হাজিগণ মুযদালিফা নামক স্থানে অবস্থান করেন। দরজাটি এ স্থান বরাবর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এজন্য মুযদালিফার নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। ২১. বাব ফাতাহ-(গেট নং ৪৫) আরবি ফাতাহ শব্দের অর্থ হল বিজয়। কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের দিন এ দিক দিয়ে কা’বায় প্রবেশ করেছিলেন। এজন্য এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে ফাতাহ বা বিজয়। হারাম কমপ্লেক্সের দক্ষিণ দিকে দরজাটি অবস্থিত। ২২. বাব ওমর ফারুক-(গেট নং ৪৯) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গুরুত্বপূর্ণ সাহাবি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর ফারুক (রা.) এর নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। যে দশজন সাহাব দুনিয়ায় থাকতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন ওমর (রা.) তাঁদের অন্যতম। ২৩. বাব আল কুদস-(গেট নং ৫৫) মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি হল বাব আল কুদস। দরজাটি ইসলামের প্রথম ক্বিবলা ‘মসজিদুল আকসা’ অভিমুখী। এজন্য ‘আল কুদস’ নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ইসলামের প্রথম কিবলার গুরুত্ব ও তাৎপর্য মুসলিম উম্মাহর মনে করিয়ে দেয় দরজাটি। ২৪. বাব মদিনা-(গেট নং ৫৬) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় গিয়েছিলেন। মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের এ দরজাটি মদিনামুখী করে তৈরি করা হয়েছে। এজন্য দরজাটির নাম রাখা হয়েছে বাব মদিনা। ২৫. বাব উমরা-(গেট নং-৬৩) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনের শেষ উমরা করার জন্য এদিক দিয়ে কা’বায় প্রবেশ করেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উমরার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য বাব উমরা নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। এ দরজা দিয়ে সরাসরি মাতাফে (কা’বা তওয়াফ করার স্থান) প্রবেশ করা যায়। ২৬. বাব আম্মার বিন ইয়াসির-(গেট নং ৬৭) আম্মার বিন ইয়াসির (রা.) প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। তিনি এবং তাঁর বাবা-মা ইসলাম গ্রহণ করার জন্য মক্কার মুশরিকদের কাছে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। মর্যাদাবান এ সাহাবার নামে হারাম কমপ্লেক্সের এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ২৭. বাব মুয়ায বিন জাবাল-(গেট নং ৬৮) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর যে সাহাবারা প্রচুর জ্ঞান রাখতেন, তাঁদের একজন হলেন মুয়ায বিন জাবাল (রা.)। মসজিদ আল-হারামের ৬৮ নং দরজাটি তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে। ২৮. বাব আমর বিন আল আস-(গেট নং ৬৯) মসজিদে হারামের ৬৯ নং দরজাটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আরেকজন সাহাবা আমর বিন আল আস (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। আমর বিন আল আস (রা.) হলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বুদ্ধিমান সাহাবাদের একজন। বদর ও উহুদসহ অনেক যুদ্ধে তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং ইসলামের পক্ষে নিজের বীরত্ব প্রকাশ করেছেন। ২৯. বাব আয়িশা বিনত্ আবি বকর-(গেট নং ৭০) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর শেষ ও কনিষ্ঠ স্ত্রী আয়িশা বিনত্ আবি বকর (রা.) এর নামে হারাম কমপ্লেক্সের এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি দেখলে ও এটি দিয়ে প্রবেশ করলে আম্মাজান আয়েশা (রা.) এর ইসলামের জন্য ত্যাগ ও কুরবানির কথা স্মরণ হয়। ৩০. বাব আসমা বিনত আবি বকর-(গেট নং ৭১) আবু বকর (রা.) এর মেয়ে আসমা বিনত আবি বকর (রা.) এর নামে মসজিদ হারামের ৭১ নং গেটের নামকরণ করা হয়েছে। আসমা (রা.) এর বাবা আবু বকর, স্বামী যুবায়ের বিন আওয়াম, সন্তান আব্দুল্লা ইবন যুবায়েরসহ পরিবারে সবাই ছিলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবা। ৩১. বাব আল ইয়ারমুক-(গেট নং ৭৩) আবু বকর (রা.) এর শাসনামলে মুসলিম ও রোমানদের মাঝে রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইন্তেকালের পর সবচেয়ে বড় যে যুদ্ধ হয়েছে, এ যুদ্ধের নাম হল ইয়ারমুকের যুদ্ধ। খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)-র বীরত্বে এ যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় হয়েছিল। মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের ৭৩ নং গেটটি ইয়ারমুক যুদ্ধের নামে নামকরণ করা হয়েছে। ৩২. বাব আবু বকর-(গেট নং ৭৪) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সাহাবা হলেন আবু বকর (রা.)। এক বর্ণনায় মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমার উপর আমার সাহাবাদের যত অনুগ্রহ রয়েছে তার কিছুটা হলেও আমি প্রতিদান দিতে পেরেছি। কিন্তু আবু বকরের অনুগ্রহ এমন যে তা পরিশোধ করতে আমি অক্ষম। আল্লাহেএর প্রতিদান দিবেন। আবু বকর (রা.) দুনিয়াতে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ জন সাহাবার একজন। তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা। তাঁর নামেই মসজিদ আল-হারামের ৭৪ নং গেটের নামকরণ করা হয়েছে। ৩৩. বাব আল-ফাহাদ-(গেট নং ৭৯) সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ ফাহাদের নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি হারাম কমপ্লেক্সের পূর্বদিকে অবস্থিত। মসজিদের পূর্বপ্রান্ত দিয়ে ইবাদতের জন্য প্রবেশ করতে চাইলে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। হারাম কমপ্লেক্সের থ্রি পোর্টাল দরজাগুলোর এটি একটি। সৌদি শাসকদের আমলে দ্বিতীয় সম্প্রসারণের সময় দরজাটিকে থ্রি পোর্টালে রূপ দেওয়া হয়। ৩৪. বাব জাবির বিন আব্দুল্লাহ-(গেট নং ৮৪) মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার একটি হল এটি। দরজাটি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবি জাবির বিন আব্দুল্লাহর নামে নামকরণ করা হয়েছে। মাত্র ৭ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ৯৪ বছর বয়সে মদিনায় মারা যান জাবির বিন আব্দুল্লাহ এবং মদিনায় মৃত্যুবরণকারী সর্বশেষ সাহাবি ছিলেন তিনি। ৩৫. বাব সাঈদ বিন যায়েদ-(গেট নং ৮৫) হারাম কমপ্লেক্সের ৮৫ নং গেটটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আরেকজন সাহাবা সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) ছিলেন উমর বিন খাত্তাব (রা.) এর চাচাতো ভাই এবং ভগ্নিপতি। উমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে এ সাহাবির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ৩৬. বাব যায়েদ বিন সাবিত-(গেট নং ৮৬) যায়েদ বিন সাবিত (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গুরুত্বপূর্ণ একজন সাহাবি। আবু বকর (রা.) এর খিলাফতের সময় যায়েদ (রা.) কুরআন সংকলনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সম্মানিত এ সাহাবার নামেই মসজিদ হারামের এ গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৩৭. বাব উম্মে হানি-(গেট নং ৮৭) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা আবু তালিবের মেয়ে হলেন উম্মে হানি (রা.)। তিনি আলী ও জাফর বিন আবি তালিব (রা.) বড় বোন। মিরাজ গমণের রাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মে হানি (রা.) এর বাড়িতে কিছুক্ষণ ঘুমিয়েছিলেন। এ সাহাবির নামেই মসজিদুল হারামের ৮৭ নং গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৩৮. বাব মাইমুনা-(গেট নং ৮৮) মক্কার মসজিদুল হারামের ৮৮ নং গেটটি মাইমুনা (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর একজন স্ত্রী এবং উম্মুল মু’মিনীন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর স্ত্রীদের মধ্যে মাইমুনা (রা.) ছিলেন সবচেয়ে বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান। ৩৯. বাব হিজলাহ-(গেট নং ৮৯) মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্রান্তে বেশ কয়েকটি গেট রয়েছে। এ দরজাগুলোর বাম দিকে বাব হিজলাহ এবং ডান দিকে বাব হাফসা আংশিকভাবে দৃশ্যমান। মক্কায় হিজলাহ নামের একটি পাহাড় রয়েছে। ধারণা করা হয়, এ পাহাড়ের নামেই দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪০. বাব হাফসা-(গেট নং ৯০) হারাম কমপ্লেক্সের ৯০ নং গেটটি রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আরেকজন স্ত্রী হাফসা (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। হাফসা (রা.) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবি ও ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর বিন খাত্তাব (রা.) এর মেয়ে। ৪১. বাব নাদওয়া-(গেট নং ৯২) দারুন নাদওয়া হল ঐতিহাসিক একটি ঘরের নাম যেখানে কুরাইশের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বিভিন্ন সময় মিটিং করতেন। মক্কা ও কুরাইশদের ইতিহাস মুসলিমদের স্মরণ করিয়ে দিতে এ ঘরের নামে হারাম কমপ্লেক্সের ৯২ নং গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪২. বাব খাদিজা-(গেট নং ৯৩) খাদিজা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রথম স্ত্রী। নবুওতের আগে এবং পরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন উম্মুল মু’মিনীন খাদিজা (রা.)। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওতের বিষয়টি সর্বপ্রথম সত্য বলে গ্রহণ করেছিলেন খাদিজা (রা.)। তাঁর নামেই মক্কার মসজিদুল হারামের ৯৩ নং গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪৩. বাব ইবরাহিম-(গেট নং ৯৪) নবি ইবরাহিম খলিলুল্লাহ (আ.) এর নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। কাবা ঘর মহান আল্লাহর নির্দেশে সর্বপ্রথম ফেরেশতারা নির্মাণ করেছিলেন। নুহ (আ.) এর সময়কালীন মহা প্লাবনে কাবা ঘর বালুর নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। এরপর মহান আল্লাহর নির্দেশে ইবরাহিম ও ইসমাঈল (আ.) ঘরটি ৪ হাজার বছর আগে পুনঃনির্মাণ করেছিলেন। ৪৪. কিং আব্দুল্লাহ গেট-(গেট নং ১০০) মসজিদ আল হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি কিং আব্দুল্লাহ গেট। হারাম কমপ্লেক্সের সবচেয়ে বড় দরজাগুলোরও একটি এটি। দরজাটি মসজিদের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এ গেটে দুটি চমৎকার মিনার রয়েছে। গেটটির সাথে রয়েছে একটি করিডোর , যে করিডোর দিয়ে সরাসরি মাতাফ বা তাওয়াফের স্থানে যাওয়া যায়। ৪৫. বাব সালাম গেট মসজিদ হারাম কমপ্লেক্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গেট হল বাব সালাম। সালাম অর্থ শান্তি অর্থাৎ এ দরজার নাম হল শান্তির দরজা। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে দরজাটি অবস্থিত। কা’বার কাছেই অবস্থান করতেন শাইবা বিন উসমান। অনেকে তাঁর গোত্রের দিকে ইঙ্গিত করে এ দরজাকে বাব বনি শাইবা বলে থাকেন। যদিও বনি শাইবা নামে হারাম কমপ্লেক্সে স্বতন্ত্র দরজাই রয়েছে।
শ্চিমবঙ্গের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বারাসাত শহরে এক বিরল সম্প্রীতির নজির গড়ে উঠেছে। হিন্দু পরিবারের বসতভিটায় অবস্থিত ‘আমানতি মসজিদ’ শুধু নামেই নয়, বাস্তবেও হয়ে উঠেছে আন্তঃধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য প্রতীক। আর এই সম্প্রীতির কেন্দ্রে রয়েছেন পার্থসারথি বোস—যিনি টানা ১৬ বছর ধরে পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে আসছেন। হিন্দু পরিবারের তত্ত্বাবধানে মসজিদ মসজিদটি পার্থসারথি বোসদের বাড়ির ভেতরেই অবস্থিত। স্থানীয়দের মতে, এ অঞ্চলে প্রায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে আর কোনো মসজিদ নেই। ফলে আশপাশের দোকান, বাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মুসলমানরা এখানে এসে নামাজ আদায় করেন। রমজান মাসে প্রতিদিন দেড় শতাধিক মুসল্লি ইফতার করেন এই মসজিদে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য—মসজিদের দেখভাল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সার্বিক দায়িত্ব পালন করে আসছে একটি হিন্দু পরিবার। ইতিহাসের সূত্রপাত ১৯৬০ সালে ১৯৬০ সালে সম্পত্তি বিনিময় প্রথার মাধ্যমে খুলনার আলকা গ্রাম থেকে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন পার্থসারথির দাদু নিরোধকৃষ্ণ বোস। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে বসতভিটায় উঠে তিনি দেখতে পান একটি জরাজীর্ণ মসজিদ। ধর্মীয় সম্মান বজায় রেখে সেটি আগলে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে তার ছোট ছেলে দীপক বোস দায়িত্ব নেন মসজিদের। তখনই এর নামকরণ করা হয় ‘আমানতি মসজিদ’। বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন পার্থসারথি বোস। দুর্ঘটনা থেকে আত্মশুদ্ধির পথ পার্থসারথি জানান, ২০০৯ সালের আগে মসজিদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা তেমন ছিল না। রমজান মাসে একদিন বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় বাইক থেকে পড়ে গিয়ে ডান কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, হাড় জোড়া লাগা কঠিন। অনুশোচনায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরদিন সকালে মসজিদে এসে ক্ষমা চান। নিজের ভুল স্বীকার করে মানত করেন—জীবিত থাকা পর্যন্ত রমজান মাসে রোজা রাখবেন। মসজিদের মাটি কাঁধে লাগিয়ে প্রার্থনা করেন সুস্থতার জন্য। তার দাবি, এরপর ধীরে ধীরে তার হাড় জোড়া লাগে। সেই থেকে টানা ১৬ বছর পুরো রমজান মাস রোজা রেখে আসছেন তিনি। এর আগেও রোজা রাখতেন, তবে পুরো মাস নয়। “মসজিদ আমাকে ভালো মানুষ বানিয়েছে” পার্থসারথি বলেন, “এই মসজিদ আমাকে এমন শিক্ষা দিয়েছে যে, খারাপ থাকার উপায় নেই। রোজা রাখলে মন পরিষ্কার থাকে। বাজে চিন্তা আসে না। মনে এক ধরনের ভয় কাজ করে—আবার যেন কোনো ভুল না করি।” তার পরিবারে অন্য কেউ রোজা না রাখলেও সবাই সহযোগিতা করেন। স্ত্রী সেহরির আয়োজন করেন, আর ইফতারে থাকে খেজুর, ফল ও হালকা খাবার। দান গ্রহণ নয় মসজিদের জন্য সরকারি বা স্থানীয় দান নেওয়া হয় কি না—এ প্রশ্নে পার্থসারথি স্পষ্ট জবাব দেন, “না, কোনো দান নেই। হারাম না হালাল বুঝি না। তাই দানবাক্সও রাখা হয়নি।” সম্প্রীতির বার্তা স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বারাসাতের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পুরোপুরি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। এখানে মুসলিম ভোটার নেই বললেই চলে। তবুও ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই। এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “এই মসজিদ আমাদের কাছে মন্দিরের মতোই পবিত্র।” অন্য এক বৃদ্ধা জানান, ভোরের আজান তার ঘুম ভাঙায় এবং মানসিক শক্তি জোগায়। ৯০ দশক থেকে দায়িত্বে থাকা মসজিদের ইমাম আক্তার বলেন, “বিশ্বে এমন নজির বিরল। মুসলমানরা এখানে নামাজ পড়ে চলে যান, কিন্তু দেখভাল করেন এক হিন্দু পরিবার। ইসলামে এমন কোনো নিষেধ নেই যে, অন্য ধর্মের মানুষ মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত থাকতে পারবেন না।” ধর্ম নয়, মানবিকতা পার্থসারথি বোস বলেন, “মসজিদের দেখভাল করি, কিন্তু ইসলামের নিয়মে হস্তক্ষেপ করি না।” তার মতে, এটি ধর্মীয় নয়—মানবিক দায়িত্ব। রমজানের আত্মসংযম, আত্মত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির বার্তা যেন নতুনভাবে ব্যাখ্যা করছে বারাসাতের ‘আমানতি মসজিদ’। যেখানে ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষ হয়ে ওঠাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।
ঢাকা: ১৪৪৭ হিজরি সনের রমজান মাস উপলক্ষে সাদাকাতুল ফিতরার হার নির্ধারণ করেছে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতরা নির্ধারণ কমিটি। এ বছর জনপ্রতি ফিতরার সর্বনিম্ন হার ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ হার ২ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাদাকাতুল ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক। এতে দেশের বিশিষ্ট মুফতি ও আলেমরা অংশগ্রহণ করেন। সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ফিতরার হার ঘোষণা করেন কমিটির সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ। তিনি জানান, ফিতরার হার নির্ধারণের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় কার্যালয়সমূহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উন্নতমানের গম, আটা, যব, খেজুর, কিসমিস ও পনিরের খুচরা ও পাইকারি বাজার দর যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এবারের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। 📌 কোন পণ্যে কত ফিতরা? গম বা আটা: অর্ধ ‘সা’ বা ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম। প্রতি কেজি ৬৫ টাকা হিসাবে মোট ১১০ টাকা। যব: এক ‘সা’ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম। প্রতি কেজি ১৮০ টাকা হিসাবে মোট ৫৯৫ টাকা। খেজুর: এক ‘সা’ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম। প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা হিসাবে মোট ২,৪৭৫ টাকা। কিসমিস: এক ‘সা’ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম। প্রতি কেজি ৮০০ টাকা হিসাবে মোট ২,৬৪০ টাকা। পনির: এক ‘সা’ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম। প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা হিসাবে মোট ২,৮০৫ টাকা। কমিটি জানায়, কেউ চাইলে উল্লেখিত খাদ্যদ্রব্য দিয়ে অথবা তার বাজারমূল্য অনুযায়ী নগদ অর্থে ফিতরা আদায় করতে পারবেন। তবে সামর্থ্য অনুযায়ী উচ্চ হার প্রদান করাই উত্তম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মুহাদ্দিস ড. ওয়ালিয়ুর রহমান খান, মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু সালেহ পাটোয়ারী, কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কাশেম মো. ফজলুল হক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী এবং রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মহিউদ্দিন। রমজান মাসে রোজাদারদের পক্ষ থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিতে সাদাকাতুল ফিতরা প্রদান করা ওয়াজিব। প্রতি বছর বাজারদরের ভিত্তিতে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতরা নির্ধারণ কমিটি ফিতরার হার ঘোষণা করে থাকে।
গৃহকর্মে ব্যস্ত মা যশোদা, আদুরে আবদার নিয়ে হাজির শিশু কৃষ্ণ, ১৬৭ কোটিতে বিক্রি হল রাজা রবি বর্মার আঁকা ছবি, কিনলেন এই শিল্পপতি…
খাবার খেতেই পেটে ব্যথা ! গুজরাতের স্কুলে অসুস্থ শতাধিক পড়ুয়া, পাওভাজি-পোলাওতে 'বিষক্রিয়া' ?
আজ আরও কমে পাবেন সোনা ! রাজ্যে কত হল রেট ?
প্রায় ৫০,০০০ টাকা কমে পাচ্ছেন সোনা ! না বুঝে কিনলে মারাত্মক ভুল করছেন ? এই ৬ বিষয় আগে জেনে নিন
বিপদে বন্ধু সেই ভারত, জ্বালানি সঙ্কটে 'শত্রু বাংলাদেশ, মলদ্বীপ' এখন দিল্লির দ্বারস্থ
আরও বাড়ল রান্নার গ্য়াসের দাম, মাসের শুরুতেই জোর ধাক্কা !
সকাল ৬টায় ইমেল ! ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করল এই কোম্পানি, ভারতে বড় ধাক্কা
মহিলাদের ২৫০০-৩০০০, মাসোহারা প্রবীণদেরও, ফ্রি LPG, কেরলে ভোটের আগে কল্পতরু বিজেপি, পশ্চিমবঙ্গের জন্যও কি বড় ঘোষণা?