Brand logo light

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতির পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থায়ও তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক তৎপরতা। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে নগদ টাকার প্রবাহ দ্রুত বাড়ছে। নির্বাচনি প্রচার, কর্মী ব্যবস্থাপনা ও মাঠপর্যায়ের নানা ব্যয় মেটাতে প্রার্থীদের বড় একটি অংশ ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের পথে হাঁটছেন— যার স্পষ্ট প্রতিফলন মিলছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই মাসে— ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। নভেম্বরে যেখানে এই অঙ্ক ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা, জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ দুই মাসেই নগদ টাকার পরিমাণ বেড়েছে ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক সময়ে নগদ টাকা উত্তোলনের প্রবণতা বেড়েছে। প্রার্থীরা প্রচার ব্যয় মেটাতে নগদ অর্থ ব্যবহার করছেন বলেই এই চিত্র দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, বড় ও সন্দেহজনক লেনদেন নজরদারির আওতায় রয়েছে এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সার্বক্ষণিকভাবে এসব লেনদেন পর্যবেক্ষণ করছে। হঠাৎ উল্টো স্রোত এই নগদ প্রবাহের ঊর্ধ্বগতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর আগের কয়েক মাসে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থ ধারাবাহিকভাবে কমছিল। গত বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে এই অঙ্ক প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা কমে যায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, নির্বাচনি ব্যয়ের কারণেই হঠাৎ এই উল্টো স্রোত তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে নগদ টাকার চাহিদা বাড়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সন্দেহজনক লেনদেন হলে তা রিপোর্ট করার ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। কালোটাকার আশঙ্কা ও নজরদারি নগদ টাকার এই দ্রুত বিস্তার কালোটাকার ব্যবহার বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি করেছে। সে কারণেই বিএফআইইউ নির্বাচন সামনে রেখে নজরদারি জোরদার করেছে। গত ১১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনও হিসাবে একদিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) আকারে জমা দিতে হচ্ছে। রেমিট্যান্সে জোয়ার নির্বাচনের আগে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক— রেমিট্যান্সে দেখা যাচ্ছে ইতিবাচক প্রবণতা। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। শুধু জানুয়ারিতেই এসেছে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৫ শতাংশের বেশি। ডলার কিনে টাকার তারল্য রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় বাড়ায় ডলারের সরবরাহ ভালো থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯ কোটি ডলার কেনা হয়েছে, যার বিপরীতে বাজারে ছাড়া হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এতে টাকার বাজারে তারল্য বাড়লেও মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের। ডিজিটাল লেনদেনে কড়াকড়ি নির্বাচনের আগে অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘিরে নগদ অর্থের এই অদৃশ্য দাপট গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। কঠোর নজরদারি ও ভোটারদের সচেতনতাই পারে এই দুষ্টচক্র ভাঙতে।

নগদ টাকা

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

খেলাধুলা

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
রাজনীতি
সহিংসতা
ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0

আন্তর্জাতিক

View more
খেলাধুলা
নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা
ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
অর্থনীতি
ডলারের দাম বাড়ছে: কী প্রভাব পড়ছে আমদানি-রপ্তানিতে?

ডলারের দাম বাড়ার ফলে বাংলাদেশে আমদানি ও রপ্তানি খাতে দেখা দিচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে আমদানিকারকরা পড়ছেন চাপের মুখে, অন্যদিকে রপ্তানিকারীরা কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন। আমদানি খাতে ডলারের দর বাড়ায় বিদেশ থেকে পণ্য আনতে খরচ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জ্বালানি, ভোজ্যতেল, কাঁচামাল, ওষুধের উপাদান এবং প্রযুক্তিপণ্য—এসব আমদানিতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ব্যাংকগুলো ডলার সংকটে ভুগছে, ফলে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে এবং অনেক সময় ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাজারে — পণ্যের দাম বাড়ছে, মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, রপ্তানির ক্ষেত্রে ডলার মূল্য বৃদ্ধির ফলে রপ্তানিকারকরা প্রতি ডলারে বেশি টাকা পাচ্ছেন। এতে তাদের আয় কিছুটা বাড়ছে, যা রপ্তানি খাতকে কিছুটা চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে ডলারের দরবৃদ্ধি একটি প্রণোদনার মতো কাজ করছে। তবে এর একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে — আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অনেক সময় অর্ডারের মূল্য সমন্বয় করে দেয়, ফলে অতিরিক্ত লাভ সবসময় নিশ্চিত হয় না। রেমিট্যান্স প্রেরকদের জন্যও ডলারের দাম বাড়া স্বস্তির খবর। প্রবাসীরা এখন প্রতি ডলারে বেশি টাকা পাচ্ছেন, ফলে ব্যাংক চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে, যদিও আমদানি ব্যয় এখনও বেশি থাকায় চাপে রয়েছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে রপ্তানি ও রেমিট্যান্সকে উৎসাহ দিচ্ছে, অন্যদিকে আমদানির চাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে নানা নীতিগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিয়ন্ত্রিত বিনিময় হার ব্যবস্থা বা managed floating system এর মাধ্যমে ডলারের বাজারে ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে। ডলারের দাম বৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। আমদানিকারকদের উচিত দীর্ঘমেয়াদি মূল্য চুক্তি ও বিকল্প উৎস নির্ধারণ করা। রপ্তানিকারকদের বাজার বৈচিত্র্য ও উৎপাদন দক্ষতায় নজর দেওয়া দরকার। একইসাথে সরকারের উচিত ডলার সংকট মোকাবিলায় কাঠামোগত সংস্কার ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আমদানিনির্ভর শিল্প ও সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ আরও বাড়বে। তাই এখনই প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা, সুচিন্তিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং রপ্তানি ও রেমিট্যান্সকে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে টেকসই করা।

জুন ২৮, ২০২৫

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা: বাজারে কেমন প্রভাব পড়বে?
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা: বাজারে কেমন প্রভাব পড়বে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতিতে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস, এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট প্রেক্ষাপটে এই নীতিমালা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। মুদ্রানীতিতে রেপো রেট আগের মতো ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সুদের হারও মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এতে ঋণের খরচ আগের মতোই থাকবে, যার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর কিছুটা চাপ অব্যাহত থাকবে। এই নীতিমালায় মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা শিথিল করে ৭ থেকে ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে। যদিও আগের মুদ্রানীতিতে তা ৬ দশমিক ৫ শতাংশের আশপাশে রাখা হয়েছিল। সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌথভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও বৈশ্বিক বাজারে খাদ্য, জ্বালানি ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধি তা কঠিন করে তুলছে। ফলে নতুন লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাস্তবভিত্তিক বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। নতুন নীতিমালায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং সরকারি খাতে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগে কিছুটা মন্থরতা থাকতে পারে, যদিও সরকারের বড় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে ব্যাংক খাতের সম্পৃক্ততা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশি মুদ্রার বাজারে চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যবস্থাপনা নির্ভর ভাসমান বিনিময় হার’ (managed floating exchange rate) নীতিতে অটল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করবে এবং রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে উৎসাহ দেবে। রপ্তানিকারকদের জন্য প্রণোদনা অব্যাহত রাখা, এবং রেমিট্যান্স উৎসাহে প্রবাসীদের ব্যাংক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এনবিএফআই তথা নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখা সম্প্রসারণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কোনো নতুন শাখা খোলার ক্ষেত্রে এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এতে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই মুদ্রানীতি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হলেও স্বল্পমেয়াদে কিছু চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। উচ্চ সুদের পরিবেশে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ কমে যেতে পারে, যা উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা রক্ষায় স্বচ্ছতা, স্থিতিশীল নীতিমালা ও নিয়মিত তথ্যপ্রবাহ অত্যন্ত জরুরি। এই মুহূর্তে বাজারে প্রতিটি সিদ্ধান্তকেই গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। মুদ্রানীতির বাস্তব প্রয়োগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় তদারকি ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক গতি-প্রবাহ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জুন ২৮, ২০২৫

প্রযুক্তি

অপরাধ

View more
নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষ
দুপক্ষের সংঘর্ষ নরসিংদীতে , গুলিতে স্কুল শিক্ষার্থী নিহত
ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় গোষ্ঠীগত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।  বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর জেরে উভয়পক্ষের নারীসহ অন্তত আটজন আহত হন এবং বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এলাকার এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন এরশাদ মিয়া। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চাইনা গুলি ছোড়েন। এতে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সায়দাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।   নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, সকালে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। তখন হঠাৎ গুলি এসে লাগে। আমরা কোনো দলের সঙ্গে জড়িত নই। যারা আমার বুক খালি করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিম নামে এক কিশোরকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায় তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং গুলিটি শরীর ভেদ করে বের হয়ে গেছে। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। রায়পুরা থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামান
লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত
ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0

লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে তার চলতি দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. সাইফুজ্জামান লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পের মূলধন অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে কাজ (W-1) প্যাকেজের সিভিল কাজ অনুমোদিত DPP, RDPP বা HOPE ছাড়াই বিধি-বহির্ভূতভাবে বাস্তবায়ন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি প্যাকেজকে ৮টি প্যাকেজে বিভাজন করে ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করেন এবং এতে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এছাড়া, ৮টি প্যাকেজের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে পরিশোধিত বিলের বিপরীতে বাস্তবে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ব্যতীত অন্য ৮টি প্রতিষ্ঠানের নামে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে কাজ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির শামিল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী মো. সাইফুজ্জামানকে ৩ ফেব্রুয়ারি সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী ভাতা প্রাপ্য হবেন।

টিকটককে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ, এক কিশোর নিহত
জানিফ হাসান জুন ২৮, ২০২৫ 0

গত কয়েক দিনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মটিতে ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও ট্রেন্ডের মধ্যে একদিকে বিনোদনের ছোঁয়া থাকলেও, অন্যদিকে কিছু কিশোর সদস্য একটি গ্যাং আকারে সংগঠিত হয়ে ঐ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অসদুপায়ে প্রবেশ করে। এদিকে, আজ সকালের এক সংঘর্ষের ফলশ্রুতি হিসেবে খবর আসে যে, এই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হন। ঘটনার সূত্রে জানা যাচ্ছে, দুটি প্রতিপক্ষের মধ্যে মূলত টিকটকের মাধ্যমে প্রচারিত চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতার জগতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে শত্রুতা ও দ্বন্দ্ব শুরু হয়। প্রতিপক্ষ দলগুলো নিজেদের মধ্যে অনলাইনে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতায় জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখাতে থাকে। প্রতিবেশি এলাকায় একরাশে ছড়িয়ে পড়া এই দ্বন্দ্ব প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারায় অবশেষে মাটি ও গ্যাসে প্রাণের ধারা ছোঁয়াতে দেখা যায়। প্রথম রিপোর্টে জানানো হয় যে, সংঘর্ষটি শহরের এক জনপ্রিয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে ঘটেছিল, যেখানে একাধিক কিশোর একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, কিন্তু সংঘর্ষের মধ্যে একটা কিশোর গুরুতর আঘাতগ্রস্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকের তথ্য অনুসারে, আহত কিশোরটি রক্তক্ষয়নের কারণে প্রাণ হারানোর মুখে পড়েছিল। পুলিশ একটি বিশেষ তদন্ত শুরু করে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন মোবাইল ফোন, টিকটকের ভিডিও ফুটেজ ও কথোপকথনের রেকর্ড সংগ্রহ করেছে।   সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও আইনপ্রয়োগ সংস্থার হস্তক্ষেপ ঘটনার পরক্ষবর্তী সময়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিক্রিয়া চটকদার। পিতামাতা, শিক্ষাবিদ এবং সামাজিক কর্মীরা সক্রিয়ভাবে সামাজিক মাধ্যম ও প্রচলিত গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। একাধারে অভিযোগ উঠছে, টিকটকের মাধ্যমে প্রচারিত অনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা ক্ষতির কারণ হিসেবে কাজ করছে। পুলিশ বিভাগের তরফ থেকে বলেছে, “এই ধরনের অনলাইন প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অনেক সময় অ-আবশ্যক উত্তেজনা ও হিংসাত্মক প্রবৃত্তি জাগ্রত হয়। আমাদের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি নিয়ে কঠোর তদন্ত চলমান। যারা এ ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” উচ্চ ব্যবস্থাপনা থেকে নির্দেশ এসেছে, টিকটকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপর নজরদারি বাড়ানো হবে এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে, যুব সমাজে অনলাইনে সৃষ্ট এই ধরনের প্রতিযোগিতা ও সংঘর্ষের প্রভাব দূর করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পিতামাতা ও কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে। সামাজিক গবেষণা ও নারী সমাজবিদরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি ইন্টারনেট সমস্যা নয়, বরং এটি সমাজের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও যুব সমাজের চেতনা সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই দাবী করছেন, সরকারকে এবং টিকটকের নীতিনির্ধারকদের উচিত, এ ধরনের অনৈতিক ও উত্তেজক বিষয়বস্তুতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা যাতে ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এর পাশাপাশি, স্কুল, কলেজ ও কোচিং সেন্টারগুলিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে অনলাইন চ্যালেঞ্জের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে, তাদেরকে বৈধ ও সঠিক বিনোদনের মাধ্যম খুঁজে পেতে উৎসাহিত করা হবে। অপরাধ তদন্ত বিভাগের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, “আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে চোখে পড়া সব প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে যাচ্ছি। সংঘর্ষের আসল কারণ, ঘনিষ্ঠ অনলাইন প্রতিযোগিতা থেকে উদ্ভূত উত্তেজনা ও বাস্তব জীবনে আক্রমণের মর্মস্পর্শী প্রভাব স্পষ্ট। যারা এই কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।” শহরের আইন প্রয়োগ সংস্থা ও প্রবাসী সংগঠনগুলিও একাত্মভাবে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে অনলাইন প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জ থেকে উদ্ভূত হত্যাকাণ্ড বা আক্রমণ রোধ করা যায়। তরুণ সমাজে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সবাই মিলে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা ও সমাজসেবী।

অনলাইনে প্রশ্ন ফাঁসের চক্র সক্রিয়, ডিজিটাল অপরাধ দমন শাখায় অভিযান
জানিফ হাসান জুন ২৮, ২০২৫ 0

দেশজুড়ে অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে পুলিশের সাইবার ইউনিট। বিশেষ করে চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে এই চক্র নতুন কৌশলে প্রতারণা চালাচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এই চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের ডিজিটাল অপরাধ দমন শাখা (Cyber Crime Investigation Division)। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা মোবাইল অ্যাপ, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম (যেমন: টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ) এবং ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। সাইবার ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার তানভীর হাসান বলেন, “এই চক্র প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছিল। তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রতারণা আইনে মামলা হয়েছে।”   ‘গ্যারান্টি’ দিয়ে বিক্রি হতো ভুয়া প্রশ্নপত্র প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি মূলত দুটি ধাপে কাজ করত—প্রথমে তারা ফেসবুকে ‘ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন’ বা ‘সরকারি চাকরি প্রশ্ন ফাঁস’ নামে কিছু গ্রুপ চালু করত। সেসব গ্রুপে বিজ্ঞাপন দিয়ে দাবি করত, পরীক্ষার আগেই তারা “আসল প্রশ্নপত্র” দিতে পারবে। দ্বিতীয় ধাপে, আগ্রহী প্রার্থীদের সঙ্গে গোপন চ্যাটে কথা বলে বিকাশ/নগদে টাকা সংগ্রহ করত। অনেক সময় তারা আগের বছরের প্রশ্ন বা সাজানো প্রশ্ন ‘নমুনা’ হিসেবে পাঠিয়ে বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করত। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু ফেক অ্যাকাউন্টের তথ্য, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মাহবুবা হোসেন বলেন, “ভয়াবহ বিষয় হলো—তরুণ প্রজন্ম এখন অনলাইন প্রতারণাকে সহজলভ্য করে দেখছে। প্রশ্ন ফাঁসের গুজবের পেছনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপও বড় কারণ।”   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হুঁশিয়ারি ও পরামর্শ পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে ধরা পড়া ব্যক্তিরা অন্তত তিনটি বড় পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শতাধিক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করেছে। শুধু গত দুই মাসেই তারা প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে দাবি পুলিশের। ডিজিটাল অপরাধ দমন শাখা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে কোনো ধরনের লেনদেনে জড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এমন প্রতারণার শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সাইবার হেল্পলাইনে (৯৯৯ বা সাইবার পোর্টাল) জানাতে বলা হয়েছে। তাদের মতে, এই ধরনের চক্রকে প্রতিরোধ করতে হলে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। অনেক সময় পরীক্ষার্থীরা মানসিক চাপে পড়ে শর্টকাট খুঁজতে গিয়ে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যায়। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ইতোমধ্যে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, “প্রশ্নপত্র ফাঁস বলে কোনো ব্যবস্থা বা সংযোগ বাস্তবে নেই। কেউ এ ধরনের গুজবে কান দেবেন না। বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করুন।”   পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চক্রটি আরও বড় পরিসরে বিস্তার লাভ করছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় আরও কিছু সদস্যের খোঁজ চলছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
বন্ধুতা, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা: কীভাবে সামলাবেন ব্যস্ত জীবনে

প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা।   ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন।   শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।”   কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে।   বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।

জানিফ হাসান জুন ২৮, ২০২৫ 0
শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব?
শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব?

শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব? শহর মানেই ব্যস্ততা, কংক্রিটের জঙ্গল, দূষিত বাতাস, এবং অনিয়ন্ত্রিত শব্দ। এই যান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করা মানুষ প্রতিদিন একটু সবুজ, একটু প্রশান্তি খোঁজে। তাই ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ বা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ধারণা শহরের মানুষদের মাঝেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শহুরে বাস্তবতায় আমরা কি সত্যিই গ্রিন লাইফস্টাইল মেনে চলতে পারি? গ্রিন লাইফস্টাইল মানে শুধু গাছ লাগানো নয়। এটি একটি সামগ্রিক জীবনধারা, যেখানে প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সহাবস্থানের চেষ্টা থাকে। যেমন—প্লাস্টিক ব্যবহার না করা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস ব্যবহার করা, গাছ লাগানো, অর্গানিক খাবার খাওয়া, কম দূষণ হয় এমন বাহনে চলাচল করা, বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয় করা, এমনকি নিজস্ব ছাদে সবজি চাষ করাও এর অংশ হতে পারে। কিন্তু শহরে এই সবকিছু কি সহজে করা যায়? উত্তরটা একদম সরল নয়। শহরের বাসিন্দাদের জন্য অনেক সময় জায়গার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফ্ল্যাটে থাকলে ছাদে বাগান করা যায় না, রান্নার সময় প্লাস্টিক প্যাকেট এড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে কারণ বাজারে সহজলভ্য জিনিসপত্রের বেশিরভাগই প্লাস্টিক মোড়ানো। তাছাড়া, ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আশার কথা হলো, ইচ্ছা থাকলে উপায় বের করা যায়। শহুরে জীবনে কিছু ছোট ছোট অভ্যাস বদলেই শুরু করা যায় সবুজ যাত্রা। যেমন ধরুন, কেউ যদি বাজারের ব্যাগ হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করেন, বা পানির বোতল বারবার রিফিল করেন, তবুও তিনি পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। অফিসে যাওয়ার সময় যদি বাস বা সাইকেল ব্যবহার করা যায়, তাহলেও কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমে। অনেক শহরেই এখন কমিউনিটি গার্ডেন, ছাদ কৃষি, সোলার প্যানেল স্থাপন, কিংবা জিরো ওয়েস্ট মুভমেন্ট জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মানুষ নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছে। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরেও অনেকে নিজেদের ব্যালকনিতে টব বসিয়ে ছোট পরিসরে সবজি ফলাচ্ছেন, কেউ আবার সোলার লাইট ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন। তবে এই চর্চা টেকসই করতে হলে প্রয়োজন নীতিনির্ধারকদের সহায়তা। শহরের পরিকল্পনায় আরও বেশি সবুজ এলাকা, হাঁটার রাস্তা, বাইসাইকেল লেন, এবং রিসাইক্লিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি জরুরি। সরকার যদি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ভর্তুকি দেয় বা সচেতনতা বাড়ায়, তাহলে মানুষ আরও সহজে গ্রিন লাইফস্টাইল গ্রহণ করতে পারবে। শহুরে জীবন যতই ব্যস্ত হোক না কেন, যদি সচেতনতা থাকে এবং ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ একেবারেই অসম্ভব নয়। বরং, এটি হতে পারে একটি শান্ত, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই জীবনের সূচনা। আমাদের সবারই উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব, পরিবেশবান্ধব পন্থায় জীবনযাপন করার চেষ্টা করা। কারণ প্রকৃতি বাঁচলেই আমরা বাঁচব—এই সত্যটা আজ আরও বাস্তব হয়ে উঠেছে।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
নতুন প্রজন্মের খাদ্যাভ্যাস: ফাস্টফুড বনাম পুষ্টিকর খাবার

সময় বদলেছে, বদলে গেছে আমাদের খাবারের অভ্যাসও। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে এখন খাবার মানেই যেন ফাস্টফুড—বার্গার, পিজ্জা, ফ্রাইড চিকেন, নুডলস বা কার্বনেটেড সফট ড্রিংকস। হেঁসেলে মায়ের রান্না করা ভাত-ডাল-সবজি কিংবা ফলমূলের প্রতি আগ্রহ অনেক কমে গেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের মূল কারণ প্রযুক্তি ও জীবনের গতি। স্মার্টফোনে স্ক্রল করতে করতে খাবারের অর্ডার দেওয়াটা এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস কিংবা বন্ধুদের আড্ডা—সবখানেই ফাস্টফুড এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।   ফাস্টফুডের কড়চা ফাস্টফুড খেতে যতটা আকর্ষণীয়, এর স্বাস্থ্যঝুঁকি ততটাই ভয়ের বিষয়। অতিরিক্ত তেল, চিনি ও প্রিজারভেটিভ থাকায় এসব খাবার নিয়মিত খেলে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।   নিউট্রিশনিস্ট ডা. সাদিয়া রহমান বলেন, “নতুন প্রজন্মকে শুধু ফাস্টফুড থেকে বিরত রাখতে বললে হবে না, তাদেরকে স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। খাবার যে শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, বরং সুস্থ থাকার জন্য—এই বার্তাটা পৌঁছাতে হবে।”   পুষ্টিকর খাবার কি হার মানছে?   দেশি ফলমূল, ডাল, শাকসবজি, ডিম, দুধ—এসবই আমাদের খাবারের ঐতিহ্য। কিন্তু অনেক তরুণ এখন এসবকে 'বোরিং' মনে করেন। অথচ ঠিকমতো রান্না বা পরিবেশন করলে পুষ্টিকর খাবারও হতে পারে সুস্বাদু ও আকর্ষণীয়।   শিশুদের খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে অভিভাবকদের ভূমিকাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার সংস্কৃতি তৈরি না হলে শিশুরাও সহজেই ফাস্টফুডের প্রতি ঝুঁকে পড়ে।   সমাধান কী হতে পারে?   ১. স্কুলে পুষ্টি শিক্ষা চালু করা। ২. মিডিয়ায় সচেতনতামূলক প্রচার। ৩. হোমমেড ফাস্টফুডের বিকল্প শেখানো। ৪. পরিবারে নিয়মিত ফল ও সবজি রাখা। ৫. সাপ্তাহিক ফাস্টফুড 'ডে' নির্ধারণ করে মাত্রা বজায় রাখা।   খাদ্য শুধু স্বাদের জন্য নয়, বরং শরীর ও মনের বিকাশের জন্য। নতুন প্রজন্ম যদি এখনই নিজেদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে সচেতন না হয়, তাহলে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ হবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

তাসনিম ফারাহ জুন ২৬, ২০২৫ 0
স্মার্টফোন আসক্তি বনাম মানসিক স্বাস্থ্য
স্মার্টফোন আসক্তি বনাম মানসিক স্বাস্থ্য: কিশোর-কিশোরীদের জন্য করণীয়

বর্তমান যুগে স্মার্টফোন কেবল যোগাযোগের একটি মাধ্যম নয়—এটি বিনোদন, শিক্ষা, সামাজিক যোগাযোগ, এমনকি আত্মপ্রকাশের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু যখন এই প্রযুক্তির ব্যবহার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা হয়ে ওঠে আসক্তি, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক জীবনে।   📉 কীভাবে স্মার্টফোন আসক্তি ক্ষতি করছে কিশোরদের?   ১. ঘুমের ব্যাঘাত: রাতে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ঘুমের সময় হ্রাস করে এবং মানসিক অবসাদ তৈরি করে। ২. মনোযোগ কমে যাওয়া: পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ৩. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: ভার্চুয়াল জগতে ডুবে গিয়ে বাস্তব সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যায়। 4. নিজেকে নিয়ে নেতিবাচক অনুভূতি: সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের 'পারফেক্ট' জীবন দেখে হীনমন্যতা জন্ম নেয়। ৫. উদ্বেগ ও অবসাদ: প্রতি মিনিটে নোটিফিকেশন চেক করা, প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ে।   ✅ কিশোর-কিশোরীদের জন্য করণীয়   ১. ডিজিটাল ডিটক্স পরিকল্পনা করুন প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ফোন ছাড়া থাকার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া বা হাঁটতে যাওয়া হতে পারে বিকল্প। ২. স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ করুন স্মার্টফোনের সেটিংসে গিয়ে দৈনিক স্ক্রিন টাইম সীমাবদ্ধ করে দেওয়া যায়। ৩. সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সচেতনতা সব কিছু শেয়ার না করা, অনলাইন নেতিবাচকতা থেকে দূরে থাকা, এবং আত্মমর্যাদা বজায় রাখা জরুরি। ৪. শখ ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দিন ড্রইং, গান, লেখালেখি, খেলাধুলা বা কোনো নতুন দক্ষতা অর্জন স্মার্টফোনের বিকল্প হতে পারে। ৫. মাইন্ডফুলনেস ও মেডিটেশন অনুশীলন করুন মনের প্রশান্তি ও স্ট্রেস কমাতে ধ্যান বা মাইন্ডফুলনেস কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ৬. অভিভাবকদের সহযোগিতা জরুরি অভিভাবকদের উচিত কিশোরদের ফোন ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা, কিন্তু নজরদারির চেয়ে বন্ধুর মতো আচরণ করা আরও কার্যকর।   🧠 মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন কেন গুরুত্বপূর্ণ? কিশোর বয়সে মানসিক স্বাস্থ্য সবচেয়ে নাজুক থাকে। এই সময়টাই হলো আত্মপরিচয়ের গঠনকাল। স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দিতে পারে, তৈরি করতে পারে বিচ্ছিন্নতা ও আত্মহীনতা। তাই প্রযুক্তিকে বন্ধুর মতো ব্যবহার করলেও, সেটির দাস না হওয়াই শ্রেয়।   ✨ উপসংহার স্মার্টফোন আমাদের জীবন সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার কিশোর-কিশোরীদের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাই প্রয়োজন সচেতনতা, ভারসাম্য এবং বিকল্প অভ্যাস। কিশোরদের উচিত নিজেকে ভালোবাসা শেখা, বাস্তব জগতে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করা, আর স্মার্টফোনকে যেন "সহায়ক", কিন্তু "শাসক" না বানানো।

Admin জুন ২৫, ২০২৫ 0

Follow us

Top week

আন্তর্জাতিক

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

Admin জুন ২৫, ২০২৫ 0
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় রূপান্তর: ‘স্বাস্থ্য–খাত সংস্কার’ ও শরীরে ‘পাখি–ফ্লু’ আঘাত

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবাখাতে যুগান্তকারী সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন উপদ্রুত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ‘পাখি–ফ্লু’র প্রথম প্রাদুর্ভাব। একদিকে প্রতিরোধমূলক আইন নিয়ে চলেছে বড় আলোচনা, অন্যদিকে জীবাণুমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এখন জোরদার চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের বড় ধাপ স্বাস্থ্য ক্ষেত্র সংস্কার কমিশন একটি ঐতিহাসিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেছে, যেখানে প্রস্তাব রাখা হয়েছে: প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ‘সবার জন্য বিনামূল্যে’ নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক অধিকার ঘোষণার দাবি । স্বতন্ত্র ও স্থায়ী ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠনের পরামর্শ, যা জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির পরামর্শদাতা ও মান–নিয়ন্ত্রক সংস্থা হবে । তবে, বাজেট বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের স্পষ্ট পথিকা এখনও তৈরি হয়নি—স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় যৌথ কমিটি জরুরি । এ ছাড়াও, কমিশন ১৫% জাতীয় বাজেট স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ, আর রোগ–নিয়ন্ত্রণ ও ঔষধ ও মানবশক্তি বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে । পাখি–ফ্লু: দেশে ৭ বছর পর প্রথম আঘাত জেসোর জেলার একটি পোল্ট্রি খামারে ‘হাইলি প্যাথোজেনিক অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা’ (HPAI) শনাক্ত হয়েছে — ৩,৯৭৮টি মুরগির মধ্যে ১,৯০০টি মারা যায়, বাকি বাদী করা হয়েছে । এটি পড়ে আদালতকারি ভ্যাকসিনেশন, খামার পর্যবেক্ষণ ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়েছে। পরিবেশগত এবং আর্থ–সামাজিক হুমকি দূষণজনিত রোগ: ঢাকা শহরের বায়ুমণ্ডল সাম্প্রতিক হারে “হাজার্ডাস” পর্যায়ে পৌঁছয়, যা সাধারণ মানুষ ও হাঁপানির রোগীদের জন্য বিপজ্জনক—অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আইন–সচেতনার জন্য আবেদন জানিয়েছেন । চিকিৎসা ব্যবস্থার ঝুঁকি: উঁচু রক্তচাপ ও NCD–এর কারণে মৃত্যুর হার বেড়ে ৭১%, কিন্তু তিনি শুধু ৪.২% বাজেট বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ । কী বলা হলো এক নজরে? বিষয় অবস্থা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে ঘোষণা, আইনকে সাংবিধানিক অধিকার বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন গঠন প্রস্তাব বাজেট বরাদ্দ ১৫% দাবি প্রতিষ্ঠিত রোডম্যাপ এখনও অপেক্ষায় পাখি–ফ্লু প্রথম প্রাদুর্ভাব, ১,৯০০ মুরগি মারা গিয়েছে পরিবেশমূলক স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ দূষণ ভয়াবহ, NCD–সংক্রান্ত মৃত্যুহার ও উদ্বেগ বিশ্লেষণ স্বাস্থ্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য সবার নাগাল নিশ্চিত না হলে বড় পরিকল্পনার সফলতা অনিশ্চিত। ‘স্বাস্থ্য–কমিশন’ গঠন ও বাজেটে বড় পরিবর্তন আনা গেলে জাতীয় স্বাস্থ্য মানে দীর্ঘমেয়াদি লাভ হবে। তবে অপরদিকে, নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব ও দূষণের মতো অপ্রত্যাশিত হুমকি মোকাবিলার জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একাধিক স্তরে প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ না দিলে জনগণের নিরাপদ–সেবা পাওয়া ঝুঁকির সম্মুখীন। বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তনের মুখে, তবে বাস্তবায়ন ও সময়ানুবর্তী পন্থা নিশ্চিত না হলে সব প্রচেষ্টা বৃথা। সরকারের উচিত দ্রুত রোডম্যাপ প্রকাশ করে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0
ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়ছে, সতর্ক থাকার পরামর্শ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

দেশজুড়ে আবারও বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি জুন মাসের প্রথম তিন সপ্তাহেই ৪ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আশঙ্কা করছে, বর্ষা মৌসুমে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে আগেভাগেই সতর্ক থাকতে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের তথ্যমতে, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রতিদিন গড়ে ২০০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। বেশিরভাগ রোগীর বয়স ১৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে।   বাড়ছে জটিলতা চিকিৎসকরা বলছেন, এবার ডেঙ্গুর উপসর্গে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রচলিত জ্বর, ব্যথা ছাড়াও অনেক রোগী পাতলা পায়খানা, বমি ও তীব্র দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবির রহমান জানান, "অনেকে দেরিতে হাসপাতালে আসছেন, ফলে শরীরে প্লেটলেট বিপজ্জনকভাবে কমে যাচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে জটিলতা বাড়ছে।"   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা সোমবার এক জরুরি ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, "শহরাঞ্চলে জমে থাকা পানি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে এডিস মশার প্রজনন বাড়ছে। সবাইকে বাসা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।"   কী করণীয়? বিশেষজ্ঞরা বলেন, পানি জমে থাকে এমন জায়গা—ফুলদানি, পরিত্যক্ত টায়ার, ড্রেন বা প্লাস্টিক পাত্র—সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করা জরুরি। শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি, তাই তাদের বিশেষভাবে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   স্থানীয় সরকারের তৎপরতা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ মশা নিধনে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে। তবে অনেক এলাকাবাসী এখনও অভিযোগ করছেন, তাদের এলাকায় কার্যকর ফগিং বা মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।

জানিফ হাসান জুন ১০, ২০২৫ 0
মেটালযুক্ত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে স্বাস্থ্যঝুঁকি, হুঁশিয়ারি বিশেষজ্ঞদের

দেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে মেটাল বা ভারী ধাতব উপাদান ব্যবহারের কারণে ত্বক ও কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সর্তকতা জারি করেছেন এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাজারে পাওয়া বেশ কিছু নামিদামি ফেয়ারনেস ক্রিমে পারদ (Mercury), সিসা (Lead), আরসেনিক (Arsenic) এবং ক্যাডমিয়াম (Cadmium)-এর মতো ক্ষতিকর উপাদান অনুমোদিত সীমার বহু গুণ বেশি পরিমাণে রয়েছে।   চিকিৎসকদের উদ্বেগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফারহানা পারভীন বলেন, “এসব ক্রিমের ব্যবহারে ত্বক ফর্সা হওয়া তো দূরের কথা, বরং তা ত্বকের স্থায়ী ক্ষত, চুলকানি, ফুসকুড়ি ও পিগমেন্টেশনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এগুলো কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব ফেলে।” তিনি আরও জানান, অনেক নারী দীর্ঘদিন এসব ক্রিম ব্যবহারের পর ত্বকের স্বাভাবিক রঙ হারিয়ে ফেলছেন, আবার কেউ কেউ গুরুতর সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন।   বাজারে অনিয়ন্ত্রিত পণ্য বাজারে অনেক পণ্য বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত করা হলেও তাদের যথাযথ নিবন্ধন নেই। কিছু ক্রিমের গায়ে উপাদানের উল্লেখ থাকলেও তা ভুয়া বা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়।   ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টসকর্মী সালমা খাতুন বলেন, “টিভি বিজ্ঞাপনে দেখে একটা ক্রিম কিনেছিলাম। কয়েকদিন ব্যবহারের পর মুখে জ্বালা-পোড়া শুরু হয়। পরে ডাক্তার দেখিয়ে জানতে পারি তাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ছিল।”   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বক ফর্সাকারী পণ্যে আকৃষ্ট না হয়ে প্রাকৃতিক পরিচর্যায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ত্বক ভিন্ন ভিন্ন কারণে কালচে হতে পারে—তাই সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া যেকোনো ক্রিম ব্যবহার বিপজ্জনক।   সরকারি অবস্থান ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অচিরেই বাজার থেকে ক্ষতিকর ক্রিমগুলো জব্দ করা হবে। পাশাপাশি, ভোক্তাদের সচেতন করার জন্য গণমাধ্যমে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

জানিফ হাসান জুন ৯, ২০২৫ 0
বাড়ছে শিশুদের মধ্যে হাঁপানির প্রকোপ, চিকিৎসকরা বলছেন দূষণ দায়ী

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শিশুদের মধ্যে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই অবস্থার পেছনে বায়ুদূষণই মূল কারণ। জাতীয় শিশু হাসপাতালের শ্বাসযন্ত্র বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫০ জন শিশু শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ শিশুই হাঁপানির লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।   দূষণই মূল দায়ী: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেহরাজুল ইসলাম বলেন, “শিশুরা বায়ু দূষণের সবচেয়ে বেশি শিকার। ধুলাবালি, গাড়ির কালো ধোঁয়া ও শিল্পবর্জ্যের কারণে বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র কণাগুলো তাদের ফুসফুসে গিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি করছে।” তিনি আরও জানান, শুধু শহর নয়, এখন গ্রামীণ এলাকাতেও হাঁপানির হার বেড়েছে, কারণ ধানের খড় পোড়ানো, ইটভাটা ও স্থানীয় সড়কের ধুলোবালি শিশুরা সহজে সহ্য করতে পারে না।   অভিভাবকদের উদ্বেগ: রাজধানীর মুগদা এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “আমার ৬ বছরের ছেলের প্রতিদিন সন্ধ্যার পর কাশি ও নিঃশ্বাসের কষ্ট শুরু হয়। ডাক্তার বলেছেন, এটা হাঁপানি। মাস্ক পরানো ও ঘরের বাইরে কম যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।”   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগ: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুদের হাঁপানির প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। শহরাঞ্চলে স্কুলগামী শিশুদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: চিকিৎসকরা শিশুদের ধুলাবালি ও ধোঁয়ার সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাসায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহার এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।   উপসংহার: শিশুদের শ্বাসযন্ত্রের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। নইলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানিফ হাসান জুন ২৫, ২০২৫ 0
নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক: কীভাবে বাঁচবেন আপনি ও আপনার পরিবার?
নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক: কীভাবে বাঁচবেন আপনি ও আপনার পরিবার?

বিশ্ব এখন আবার এক অজানা ভাইরাসের আতঙ্কে। কোভিড-১৯ এর দুঃসহ অভিজ্ঞতা এখনও সবার মনে তাজা। সেই রকমই আরেকটি ভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে। যদিও এর নাম, প্রকৃতি ও বিস্তার এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি, তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন এটি সংক্রমণযোগ্য এবং মানুষের জীবনধারায় নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে। এই নতুন ভাইরাস মূলত সর্দি, জ্বর, গলা ব্যথা ও ক্লান্তি দিয়ে শুরু হয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, বমি, কিংবা দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে না পারলেও এ নিয়ে চলছে গবেষণা। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—আবার কি লকডাউন আসছে? আবার কি স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে? মাস্ক, স্যানিটাইজার, দূরত্ব—সব আবার শুরু? এমন আতঙ্কের সময় সবচেয়ে প্রয়োজন সচেতনতা ও প্রস্তুতি। আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের উচিত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তোলা। প্রথমেই আসি ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, বিশেষ করে বাইরে থেকে এসে, খাবার খাওয়ার আগে ও পরে। অ্যালকোহল-ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারও উপকারী। চোখ, মুখ ও নাক বারবার স্পর্শ না করাই ভালো, কারণ এখান থেকেই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে। মাস্ক পরার অভ্যাস আবার গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে জনসমাগমপূর্ণ জায়গায় গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। এতে শুধু নিজেকে নয়, অন্যদেরও রক্ষা করা যায়। মনে রাখা দরকার, ভাইরাস বাহক ব্যক্তি নিজে অসুস্থ না হলেও অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম—এই সবগুলোই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ঘরে যদি ছোট বাচ্চা বা বৃদ্ধ কেউ থাকে, তাদের আরও বেশি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, কারণ এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না নেওয়াই ভালো। অনেক সময় গুজব বা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্য মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুসরণ করাই সর্বোত্তম। এছাড়া অফিস বা স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষেরও উচিত প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে কঠোরতা আরোপ করা। যদি ভাইরাসটির প্রকোপ বাড়ে, তবে সরকার কর্তৃক নির্দেশিত নির্দেশিকা মানা জরুরি হবে। সবাই মিলে যদি সচেতনভাবে এগিয়ে আসে, তবে ভয় নয়, বরং দায়িত্ব নিয়েই এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। সবশেষে বলা যায়—নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক সত্য, কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও ভয়াবহ হতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মানা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন—এই তিনটি পথই আমাদের রক্ষা করতে পারে। আপনার সচেতনতা মানেই আপনার পরিবারের নিরাপত্তা। আমরা যদি সবাই সচেতন থাকি, তবে একসঙ্গে এই সংকটও অতিক্রম করা সম্ভব।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
করোনা পরবর্তী জটিলতায় বাড়ছে মানসিক রোগীর সংখ্যা

করোনা মহামারির পর থেকে দেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মহামারির সময়কার বিচ্ছিন্নতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং প্রিয়জন হারানোর মতো মানসিক ধাক্কা এখনো অনেক মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, মহামারি-পরবর্তী সময়ে অন্তত ৪২ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো মানসিক চাপে ভুগছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত উদ্বেগ, বিষণ্নতা, নিদ্রাহীনতা এবং আচরণগত সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন।   বিশেষজ্ঞ মতামত: মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাহমিনা সুলতানা বলেন, "করোনা শুধু শারীরিক রোগ নয়, এটা মানুষের মানসিক ভারসাম্যও ভেঙে দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি থাকা, চাকরি হারানো, আত্মীয়স্বজনের মৃত্যু—এসব ঘটনার প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকে।" তিনি আরও জানান, বর্তমানে হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত রোগী আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা ও মাদকাসক্তি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।   স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা: সরকারি হাসপাতালে মানসিক রোগের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ না থাকায় রোগীদের সঠিক চিকিৎসা পেতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।   প্রতিরোধ ও করণীয়: বিশেষজ্ঞরা মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পারিবারিক সহানুভূতি, সামাজিক যোগাযোগ, নিয়মিত শরীরচর্চা ও প্রাত্যহিক জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় সম্প্রসারণ ও হেল্পলাইন চালুর জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়ন শুরু হবে।

জানিফ হাসান জুন ১৭, ২০২৫ 0
Irregular rainfall disrupts farming
বৃষ্টির অনিয়মিত আচরণে চাষাবাদে ব্যাঘাত, কৃষকদের আয় কমছে দিনদিন

বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রকৃতি ও নির্ধারিত ঋতুচক্র। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি যেমন চাষাবাদের জন্য আশীর্বাদ, তেমনি এর অনিয়মিততা কৃষকের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে বৃষ্টির আচরণে যে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে, তাতে কৃষিজ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। আগে যেখানে একটি নির্দিষ্ট সময়ে চাষাবাদ করা যেত নির্দ্বিধায়, এখন সেখানে কৃষকদের পড়তে হচ্ছে দোটানার মধ্যে। কখন বৃষ্টি হবে, কতটা হবে, কবে হবে—এই অনিশ্চয়তা কৃষকের পরিকল্পনা ভেস্তে দিচ্ছে বারবার।   জুন-জুলাই মাসেই বর্ষাকাল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন অনেক বছরেই দেখা যায়, বৃষ্টি শুরু হচ্ছে দেরিতে অথবা হচ্ছে অতিরিক্ত অল্প সময়ে। এতে করে রোপা আমনের মতো ফসল সময়মতো রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার কখনো বৃষ্টি হচ্ছে হঠাৎ করে অতিরিক্ত, যা বীজতলা ধ্বংস করে দিচ্ছে বা সদ্য রোপণ করা চারা নষ্ট করে দিচ্ছে। আবার কখনো দীর্ঘদিন খরা বিরাজ করায় জমিতে ফাটল ধরছে, শুকিয়ে যাচ্ছে ফসল। এর ফলে ফসল উৎপাদনের পরিমাণ যেমন কমছে, তেমনি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।   অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে চাষাবাদের চক্রে পরিবর্তন আসছে। অনেক কৃষকই নির্ধারিত সময়ে জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। কোনো কোনো অঞ্চলে আবার বৃষ্টি এসে প্রস্তুত জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে, যা চাষাবাদের উপযোগিতা নষ্ট করছে। আবার অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, ধান কাটা-মাড়াইয়ের সময়েই হঠাৎ বৃষ্টি নেমে ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে। এতে করে কৃষকদের শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হচ্ছে না, সাথে বাড়ছে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা।   এক সময়ের নির্ভরযোগ্য কৃষি মৌসুমগুলো এখন অনেকটাই অনির্ভরযোগ্য হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাও অনেক সময় যথাযথ তথ্য দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, ফলে কৃষকরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এমন অবস্থায় অনেক কৃষকই বাধ্য হয়ে কৃষিকাজ ছেড়ে দিচ্ছেন অথবা অন্য পেশায় ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষিখাতের জন্য বড় হুমকি। এতে করে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।   বৃষ্টির অনিয়মিত আচরণ শুধু ধান বা গম নয়, শাকসবজি, তিল, আখ কিংবা মসুরের মতো ফসলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চাষের পর সঠিক সময়ে পানি না পাওয়ায় ফসল স্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে না। আবার বেশি পানি পেয়ে অনেক ক্ষেতেই গাছ পচে যাচ্ছে বা ফলন হচ্ছে অপূর্ণাঙ্গ। এতে কৃষকদের আয় দিনদিন কমছে, আর ঋণগ্রস্ততার হার বাড়ছে।   এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জলবায়ু সহনশীল কৃষি পরিকল্পনা এবং কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। টেকসই চাষাবাদ পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন। কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বীমা, এবং আবহাওয়া তথ্য সেবা সহজলভ্য করতে হবে। একইসাথে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু প্রকৃতির উপর নির্ভর না করে বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদের দিকে এগিয়ে যেতে না পারলে এই অনিয়মিত বৃষ্টির চক্র আগামীতে আরও বড় সমস্যা তৈরি করবে। তাই এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0
সবুজ প্রযুক্তিতে বিপ্লব: স্মার্ট কৃষি যন্ত্রে বদলে যাচ্ছে গ্রামের চাষাবাদ

বাংলাদেশের কৃষি খাত আজ পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এক সময় যে চাষাবাদ ছিল কেবল কৃষকের অভিজ্ঞতা ও প্রাকৃতিক নির্ভরশীলতার উপর, সেখানে এখন যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্মার্ট কৃষি যন্ত্রের প্রসারে দেশের গ্রামীণ চাষাবাদে এক বিপ্লব ঘটছে। পরিবর্তন আসছে কৃষকের চাষের ধরণ, উৎপাদনের পরিমাণ এবং খরচের পরিমিত ব্যবস্থাপনায়।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। উন্নত মানের পাওয়ার টিলার, স্মার্ট স্প্রেয়ার, স্বয়ংক্রিয় পানি সেচ যন্ত্র, ড্রোনের মাধ্যমে সার ও কীটনাশক ছিটানো, স্যাটেলাইট নির্ভর আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাসহ নানা ধরনের স্মার্ট কৃষি যন্ত্র এখন অনেক গ্রামের মাঠে মাঠে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে কৃষকের শ্রম ও সময় দুই-ই বাঁচছে, উৎপাদনও হচ্ছে আরও পরিকল্পিতভাবে।   স্মার্ট যন্ত্র ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি উপকার পাচ্ছেন তরুণ কৃষকরা, যারা প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী এবং স্মার্টফোন বা অ্যাপ ব্যবহার করে চাষাবাদে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। মাটি পরীক্ষার জন্য পোর্টেবল যন্ত্র, মোবাইল অ্যাপ থেকে আবহাওয়ার আপডেট, এমনকি কৃষি পরামর্শও মিলছে এখন হাতের মুঠোয়। ফলে ফসল উৎপাদনের আগে থেকেই তারা জানেন কোন ফসল কবে লাগাতে হবে, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন, আর কখন ফসল ঘরে তুললে সর্বোচ্চ লাভ মিলবে।   সবুজ প্রযুক্তির আরও একটি বড় দিক হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। প্রচলিত পদ্ধতিতে অধিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটির ক্ষতি হতো, কিন্তু এখন অনেকেই জৈব সার ও বায়োকন্ট্রোল পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে যেমন উৎপাদিত ফসল নিরাপদ হচ্ছে, অন্যদিকে মাটির উর্বরতাও বজায় থাকছে দীর্ঘমেয়াদে। এ ছাড়া সৌরশক্তি চালিত সেচ পাম্প এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিও অনেক অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা খরার সময়েও কৃষকদের সহায়তা করছে।   তবে এই পরিবর্তনের পথ এখনো সহজ নয়। অনেক কৃষক এখনো প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হলেও তাদের দক্ষতা বা আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে এগিয়ে যেতে পারছেন না। স্মার্ট যন্ত্রের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে তা কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রয়োজন সমবায় ভিত্তিক ব্যবহার, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ।   এই বিপ্লব সফল করতে হলে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। স্কুল-কলেজে কৃষি প্রযুক্তি শিক্ষাকে উৎসাহিত করা, কৃষকদের জন্য সহজলভ্য প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দিলে কৃষি আরও লাভজনক ও টেকসই হবে। স্মার্ট কৃষি শুধু কৃষকের জীবনে পরিবর্তন আনবে না, এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সবুজ প্রযুক্তির এই বিপ্লবই হতে পারে আগামী দিনের নিরাপদ ও আধুনিক কৃষির ভিত্তি।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0
সবজি রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করলো বাংলাদেশের কৃষি খাত

বাংলাদেশের কৃষি খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে সবজি রপ্তানির মাধ্যমে। চলতি বছর সবজি রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ, যা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি লাউ, কাঁচামরিচ, শিম, বেগুন, এবং মুলার চাহিদা বেড়েছে ব্যাপক হারে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (EPB) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে সবজি রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশেষ করে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, এবং যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কারণে দেশীয় সবজির চাহিদা বেশি দেখা গেছে।   কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জাহিদুল হাসান বলেন, “সরকার রপ্তানি-উপযোগী কৃষিপণ্য উৎপাদনে কৃষকদের সহায়তা করছে। নিরাপদ এবং রাসায়নিক মুক্ত উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হিমাগার ও রপ্তানি মান অনুযায়ী প্যাকেজিং সুবিধাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।” ঢাকার সন্নিকটে সাভারের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানালেন, “আমি আগে শুধু স্থানীয় হাটে বিক্রি করতাম। এখন এলাকার একটি সংগঠনের মাধ্যমে আমাদের সবজি দুবাই পাঠানো হয়। দামও ভালো পাই, সময়মতো টাকা পেয়ে যাই।”   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশে বছরব্যাপী সবজি উৎপাদনের ক্ষমতা থাকায় এই খাতে রপ্তানির অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তারা এটাও বলছেন যে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, সঠিক হিমায়ন ব্যবস্থা, ও সময়মতো পরিবহন নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা রপ্তানির জন্য নির্দিষ্ট অঞ্চল ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যেমন—নরসিংদী, যশোর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চলে সবজি উৎপাদনের পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য মানের ফসল উৎপাদনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।   বিমানবন্দরে দ্রুত সবজি পার্সেল হ্যান্ডলিংয়ের সুবিধা, কৃষিপণ্য পরীক্ষার জন্য আলাদা ল্যাব, এবং নতুন কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করলে এই রপ্তানি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববাজারে সবজি রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদাও যাতে পূরণ হয়, সে বিষয়েও নজর রাখছে সরকার। কৃষকদের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক বাজার’ এবং ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাপও চালু করা হয়েছে।   বাংলাদেশের কৃষি খাত এখন শুধু দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না, বরং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। যদি অবকাঠামো ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা যায়, তাহলে বাংলাদেশ অচিরেই বিশ্বের অন্যতম প্রধান সবজি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারে।

Admin জুন ২৮, ২০২৫ 0
আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের কৃষি খাত

বাংলাদেশের কৃষি খাতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। এক সময়ের সম্পূর্ণভাবে আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীল কৃষিকাজ এখন আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আরও দক্ষ ও লাভজনক হয়ে উঠছে। সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং কৃষি প্রযুক্তি কোম্পানির উদ্যোগে বর্তমানে কৃষকের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে স্মার্ট কৃষি যন্ত্রপাতি, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি, এবং মোবাইল অ্যাপ-ভিত্তিক কৃষি পরামর্শ।   চুয়াডাঙ্গা, যশোর, রাজশাহী, ও বগুড়া অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে ‘স্মার্ট কৃষি প্ল্যাটফর্ম’ নামক একটি প্রকল্প। এর মাধ্যমে কৃষকরা মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার তথ্য, কীটনাশকের পরিমাণ, জমিতে পানির প্রয়োজনীয়তা, এবং বাজারে ফসলের বর্তমান দাম জানতে পারছেন। এতে করে তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন, এবং লাভজনকভাবে ফসল বিক্রি করতে পারছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট ধান উৎপাদন প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪% বেশি। বিশেষ করে হাইব্রিড জাতের ধান, গম, ভুট্টা এবং শাকসবজি চাষে এই উৎপাদন বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। জেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা এখন কৃষকদের শুধু সার আর বীজ দিচ্ছি না, আমরা তাদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং ডিজিটাল টুলস ব্যবহারে সহায়তা করছি। কৃষির ভবিষ্যৎ এখন প্রযুক্তিনির্ভর, এবং আমাদের কৃষকরাও তা গ্রহণ করছেন।”   অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষি খাতে কিছু চ্যালেঞ্জও দেখা দিচ্ছে। খরার সময় বৃদ্ধি, বন্যার প্রকোপ, এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলো জল-সংরক্ষণ প্রযুক্তি, বিকল্প ফসল, এবং সাশ্রয়ী সেচ পদ্ধতির উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। নওগাঁর এক কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, “আগে আমরা অনুমান করে কাজ করতাম। এখন মোবাইলে আবহাওয়ার খবর পাই, কখন বৃষ্টি হবে, কখন সেচ দেওয়া দরকার—সব জানা যায়। এইভাবে খরচও কমে, ফলনও বাড়ে।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের কৃষি যদি প্রযুক্তির সঙ্গে আরও দ্রুত যুক্ত হতে পারে, তবে ভবিষ্যতে দেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে না, বরং কৃষিপণ্য রপ্তানিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিতে পারবে। বাংলাদেশের কৃষি খাতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। এক সময়ের সম্পূর্ণভাবে আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীল কৃষিকাজ এখন আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আরও দক্ষ ও লাভজনক হয়ে উঠছে। সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং কৃষি প্রযুক্তি কোম্পানির উদ্যোগে বর্তমানে কৃষকের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে স্মার্ট কৃষি যন্ত্রপাতি, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি, এবং মোবাইল অ্যাপ-ভিত্তিক কৃষি পরামর্শ।   চুয়াডাঙ্গা, যশোর, রাজশাহী, ও বগুড়া অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে ‘স্মার্ট কৃষি প্ল্যাটফর্ম’ নামক একটি প্রকল্প। এর মাধ্যমে কৃষকরা মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার তথ্য, কীটনাশকের পরিমাণ, জমিতে পানির প্রয়োজনীয়তা, এবং বাজারে ফসলের বর্তমান দাম জানতে পারছেন। এতে করে তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন, এবং লাভজনকভাবে ফসল বিক্রি করতে পারছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট ধান উৎপাদন প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪% বেশি। বিশেষ করে হাইব্রিড জাতের ধান, গম, ভুট্টা এবং শাকসবজি চাষে এই উৎপাদন বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। জেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা এখন কৃষকদের শুধু সার আর বীজ দিচ্ছি না, আমরা তাদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং ডিজিটাল টুলস ব্যবহারে সহায়তা করছি। কৃষির ভবিষ্যৎ এখন প্রযুক্তিনির্ভর, এবং আমাদের কৃষকরাও তা গ্রহণ করছেন।” অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষি খাতে কিছু চ্যালেঞ্জও দেখা দিচ্ছে। খরার সময় বৃদ্ধি, বন্যার প্রকোপ, এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলো জল-সংরক্ষণ প্রযুক্তি, বিকল্প ফসল, এবং সাশ্রয়ী সেচ পদ্ধতির উপর গুরুত্ব দিচ্ছে।   নওগাঁর এক কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, “আগে আমরা অনুমান করে কাজ করতাম। এখন মোবাইলে আবহাওয়ার খবর পাই, কখন বৃষ্টি হবে, কখন সেচ দেওয়া দরকার—সব জানা যায়। এইভাবে খরচও কমে, ফলনও বাড়ে।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের কৃষি যদি প্রযুক্তির সঙ্গে আরও দ্রুত যুক্ত হতে পারে, তবে ভবিষ্যতে দেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে না, বরং কৃষিপণ্য রপ্তানিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিতে পারবে।

Admin জুন ২৮, ২০২৫ 0
শহরে গরমের তীব্রতা: গাছ কম, সমস্যা বেশি
শহরে গরমের তীব্রতা: গাছ কম, সমস্যা বেশি

শহরে গরমের তীব্রতা: গাছ কম, সমস্যা বেশি বর্তমান সময়ের শহরগুলোতে গরমের তীব্রতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর উঠে যাওয়ায় মানুষের দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে আমাদের মতো দ্রুত নগরায়িত দেশে, যেখানে গাছের সংখ্যা কমে আসছে, সেখানে গরমের সমস্যাও তীব্র হচ্ছে। শহরের গরম বৃদ্ধির পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। প্রধানত, বাড়ি ও রাস্তার জন্য বন ও খোলা জায়গাগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। কংক্রিট ও অ্যাসফাল্টের বেশি ব্যবহার সূর্যের তাপ শোষণ করে, যা রাতে ধীরে ধীরে মুক্তি পায়। ফলে শহরগুলো “হিট আইল্যান্ড” হিসেবে পরিচিত। গাছ না থাকার কারণে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ছায়া ও বাষ্পীভবন কমে যায়। এ গরমে মানুষ যেমন শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, তেমনি পরিবেশগত প্রভাবও বড়। গরমের তীব্রতায় বাড়ছে বায়ু দূষণ ও গ্যাস নির্গমন, যা শ্বাসকষ্ট, এলার্জি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। শহরের গ্রীন স্পেস কমে আসার ফলে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। গাছ ও গাছপালা তাপমাত্রা কমানোর পাশাপাশি বায়ু পরিশোধন ও মাটি রক্ষা করতেও সাহায্য করে। তাই শহরের পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে গাছ লাগানো অত্যন্ত জরুরি। বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যে গাছ লাগানো, পার্ক ও গ্রীন জোন বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছোটখাটো উদ্যোগ যেমন বাড়ির ছাদে বাগান, কমিউনিটি গার্ডেন, সাইকেল লেন স্থাপনও গরম কমাতে সাহায্য করছে। তবে বড় রকমের পরিকল্পনা ও সরকারি সহযোগিতা ছাড়া ব্যাপক পরিবর্তন আসা কঠিন। শহরের বাসিন্দাদেরও প্রয়োজন সচেতন হওয়া। গাছ রক্ষা, প্লাস্টিক কম ব্যবহার, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, এবং গরমের সময় বাড়ির জানালা ও দরজা খোলা রেখে তাজা বাতাস প্রবাহিত করার মতো সাধারণ কাজগুলো গরমের প্রভাব কমাতে সহায়ক। সার্বিকভাবে, শহরে গাছের কমতি ও বেড়ে যাওয়া গরমের তীব্রতা আমাদের জীবনের জন্য বড় সংকেত। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া গেলে স্বাস্থ্যগত, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এখনই প্রয়োজন সবাই মিলে পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই নগরায়নের পথ খুঁজে বের করা।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পে (এলডিডিপি) বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ‘কেসি এগ্রো’ নামে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য রয়েছে। সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে বলা হয়েছে, কেসি এগ্রোর নামে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা সরকারি ভর্তুকি বরাদ্দ করা হয়, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে কোন কার্যক্রম চালায়নি। অভিযোগ রয়েছে, ড. হারুন অর রশিদ ওই অর্থকে উৎকোচ হিসেবে গ্রহণ করে আত্মসাত করেছেন। প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দেশের ৬১ জেলায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪ হাজার ২৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও, কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ইতোমধ্যেই উঠে এসেছে। রংপুর সদর উপজেলায় ডেইরি ফার্মের নামে একটি মিষ্টির দোকানও অনুদান পেয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এছাড়া ফিড মিলসহ কিছু প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই ৫ কোটি টাকার অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্মকর্তারা এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। খাত সংশ্লিষ্টরা শাস্তিহীনতার সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই দুর্নীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ড. মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “এই অভিযোগ হাস্যকর এবং বানোয়াট। কেসি এগ্রো যা কাজ করেছে, তারই বিল প্রদান করা হয়েছে।” প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, “যদি অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, আমরা প্রকল্প নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।” বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনাগুলি খাতটিকে সংকটে ফেলছে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বাড়াচ্ছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
কুমিল্লার হোমনায় মাজার ভাঙচুর করে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ছবি: ফাইল
বাংলাদেশে ৯৭টি মাজারে হামলা, ১৭ মাসে তিনজন নিহত, ৪৬৮ আহত

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী ১৭ মাসে অন্তত ৯৭টি মাজার ও সম্পর্কিত স্থাপনায় হামলা ঘটেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রাথমিকভাবে ১৩৪টি হামলার খবর পাওয়া গেলেও, অনুসন্ধানে ৩৭টির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হামলার দুই-তৃতীয়াংশ ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে কুমিল্লায় ১৭, নরসিংদীতে ১০ এবং ঢাকায় ৯টি। হামলার ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং ৪৬৮ জন আহত হয়েছেন। হামলার কারণ ও প্রেক্ষাপট: মাকামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯৭টি হামলার মধ্যে: ৫৯টি (৬১%) ধর্মীয় মতবিরোধে ২১টি (২১%) স্থানীয় মতবিরোধে ১৬টি (১৭%) রাজনৈতিক কারণে ১টি মাজার কমিটির অন্তর্দ্বন্দ্ব বা পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে সংঘটিত হয়েছে। হামলার প্রায় সবক্ষেত্রেই নেতৃত্ব ছিল কথিত তৌহিদি জনতা। রাজনৈতিক অংশগ্রহণও দেখা গেছে, যেখানে অন্তত ২৬টি ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা ও সমর্থকদের যুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রভাব: ঢাকা বিভাগের ৩৬ হামলায় দুইজন নিহত এবং ১৮০ জন আহত, ময়মনসিংহে ৮ হামলায় একজন নিহত ও ১৫৩ জন আহত, চট্টগ্রামে ২৮ হামলায় ৩১ জন আহত। সিলেটে ৯, বরিশালে ২ এবং খুলনায় ৫ হামলায় মোট ১০৪ জন আহত। হামলার ফলে ৯৭টি মাজারের মধ্যে ৪৪টি পরিত্যক্ত এবং বার্ষিক ওরস বন্ধ রয়েছে। ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত ২৩টি হামলায় হামলাকারীরা ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান ব্যবহার করেছে। হামলার সময় অন্তত ৭টি মসজিদে, কিছু ক্ষেত্রে বুলডোজার ও এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে মাজার ধ্বংস করা হয়েছে। মাকামের সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, “সব হামলার তথ্য প্রাপ্তির চেষ্টা করা হয়েছে। প্রমাণ না থাকা ৩৭টির মধ্যে ৬টি গুজব হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ছিল মাত্র ১১ শতাংশ ঘটনায়।” হামলার প্রেক্ষাপটে মাজারগুলোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেমন ওরস, মেলা, মিলাদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়েছে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
এনবিআর
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দুই ভাগে বিভাজন স্থগিত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা—এই দুই ভাগে বিভাজনের বহুল আলোচিত উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই কার্যত থমকে গেছে। আইনি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা, প্রশাসন ক্যাডারের বিরোধিতা, কর্মকর্তাদের আন্দোলন এবং শাস্তি—সব মিলিয়ে এই কাঠামোগত সংস্কার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালের ১২ মে সরকার ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে বিভাজনের উদ্যোগ নেয়। সরকারের যুক্তি ছিল—রাজস্বনীতি প্রণয়ন এবং রাজস্ব আদায় আলাদা হলে কর প্রশাসনে দক্ষতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। অধ্যাদেশ জারির পরই এনবিআরের কর, ভ্যাট ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ ছিল—কোনও আলোচনার আগে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে এবং নীতিনির্ধারণী পদে অ-রাজস্ব ক্যাডারের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। এতে অফিস বন্ধ ও কর্মবিরতি শুরু হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে রাজস্ব আদায়ে। চলতি অর্থবছরে কর-জিডিপি অনুপাত ৬.৬ শতাংশে নেমে আসে, যেখানে আগের অর্থবছরে তা ছিল ৭.৪ শতাংশ। সরকার আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। চার জন সিনিয়র কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়, এক কমিশনার সরাসরি অবসরে এবং প্রায় ৩৫ জন কর্মকর্তা সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বরখাস্ত হন। এরপরও বিরোধিতা থামেনি। ২৮ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ আইনি নোটিশ পাঠিয়ে অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। নোটিশে বলা হয়, সচিব পদে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কার্যত বাদ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের পদোন্নতি, চাকরির শর্ত ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের ওপর প্রভাব ফেলছে। পরবর্তী সময়ে অধ্যাদেশ সংশোধন করা হলেও বিভাজন কার্যকর হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধান ও রুলস অব বিজনেস সংশোধন না হলে বিভাজন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করেন, প্রশাসন ক্যাডারের সহযোগিতা ছাড়া এমন বড় প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা কঠিন। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই বিভাজন সম্পন্ন হবে, তবে বাস্তবে নির্বাচিত সরকারের সময়ে বিষয়টি কার্যকর হওয়াই বাস্তবসম্মত বলে মনে করা হচ্ছে। এনবিআরের দুই ভাগে বিভাজনের উদ্যোগ আপাতত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
জামায়াত প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিন
হঠাৎ নামের আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যবহার, জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

  বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে নির্বাচনি প্রচারণায় নামের আগে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ পদবি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট কাজী এরফানুর রহমানের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি বগুড়া-১ এর চেয়ারম্যান (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মোছা. শামীমা খাতুন জামায়াত প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন। নোটিশে তাকে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২টার মধ্যে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মো. শাহাবুদ্দিনের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের কোনো প্রামাণ্য দলিল নেই। এরপরও তিনি নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যানার, পোস্টার ও লিফলেটে নিজেকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সারিয়াকান্দি উপজেলা ইউনিটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি বিকেলে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগটি জমা দেন উপজেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মহসিনুর রহমান ও সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান আলী। অভিযোগে মিথ্যা বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়। এদিকে বগুড়া-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের এজেন্ট কাজী এরফানুর রহমানও একই অভিযোগে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত আবেদন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, “আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। আমার কাছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সব ধরনের প্রমাণ রয়েছে। উপজেলার অনেক সিনিয়র মুক্তিযোদ্ধা আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন। এটি আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার ষড়যন্ত্র। গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার আমার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা দিয়েছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও আমাকে সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।” তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
কঙ্গনা রনৌত, স্বরা ভাস্কর ও চিন্ময়ী শ্রিপাদা। ছবি: কোলাজ
এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়, ক্ষুব্ধ কঙ্গনা–চিন্ময়ী–স্বরা মুখর

মার্কিন অর্থলগ্নিকারী ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নতুন নথি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক। এই প্রেক্ষাপটে নড়েচড়ে বসেছে বলিউডও। কারণ, সদ্য প্রকাশিত নথিতে বলিউড নির্মাতা ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন লেখক ও আধ্যাত্মিক চিন্তাবিদ দীপক চোপড়ার নাম উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন–সংক্রান্ত নতুন কিছু নথি প্রকাশ করে। এর আগেও প্রকাশিত নথিগুলোর মতো এবারও তালিকায় রয়েছেন বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রভাবশালী ও পরিচিত ব্যক্তিত্ব। উল্লেখযোগ্যভাবে ইলন মাস্ক, বিল গেটস, ভারতীয় নির্মাতা মীরা নায়ারসহ আরও অনেকের নাম এই নথিতে দেখা গেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে আইনগতভাবে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—এই নথিতে নাম থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ বা অভিযোগ নয়।নথিতে একজন ‘বলিউড গাই’ হিসেবে ‘অনুরাগ’ নামের একজনের উল্লেখ নিয়েও সামাজিকমাধ্যমে চলছে জল্পনা। কঙ্গনা রনৌতের প্রতিক্রিয়া এই বিষয়ে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত লেখেন, “অপরাধ সব জায়গাতেই হয়। কিন্তু এখানে অপরাধকে আলাদা করে দেখানো হচ্ছে। ছোটবেলা থেকে যাদের শিল্পী হিসেবে দেখে এসেছি, তারা কীভাবে এমন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন—ভাবতেই কষ্ট হয়।” চিন্ময়ী শ্রিপাদার মন্তব্য কণ্ঠশিল্পী চিন্ময়ী শ্রিপাদা লেখেন, “এপস্টেইন ফাইলসে দীপক চোপড়ার নাম। ভাবছি, সামনে আরও কত প্রভাবশালী ভারতীয়ের নাম প্রকাশ পাবে।” পরবর্তী আরেকটি পোস্টে তিনি যৌন নির্যাতনের ভুক্তভোগীদের দীর্ঘদিন অবিশ্বাস করার সংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, “একজন মৃত মানুষের নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত হাজার জীবিত নারীর কথা মানুষ বিশ্বাস করে না—এতেই বোঝা যায়, কার কণ্ঠস্বরের মূল্য দেওয়া হয় আর কারটা দেওয়া হয় না।” স্বরা ভাস্করের উদ্বেগ অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পর তার মানসিক অবস্থা ‘বিস্ফোরিত’ হয়ে যাচ্ছে। তিনি ক্ষমতা, অর্থ এবং জবাবদিহিহীনতার ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অন্যান্য প্রতিক্রিয়া এছাড়া ‘বিগ বস ১৯’-এর প্রতিযোগী মালতি চাহার এপস্টেইন ফাইলসকে ‘অমানবিক ও ভীষণ বিরক্তিকর’ বলে মন্তব্য করেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নথি প্রকাশ বিশ্বব্যাপী ক্ষমতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দিচ্ছেন—নথিতে নাম থাকা আর অপরাধ প্রমাণ হওয়া এক বিষয় নয়। বিষয়টি আইন ও তদন্তের মাধ্যমেই চূড়ান্ত হওয়া উচিত।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
নগদ টাকা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নগদ টাকার স্রোত,ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে ৪১ হাজার কোটি টাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতির পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থায়ও তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক তৎপরতা। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে নগদ টাকার প্রবাহ দ্রুত বাড়ছে। নির্বাচনি প্রচার, কর্মী ব্যবস্থাপনা ও মাঠপর্যায়ের নানা ব্যয় মেটাতে প্রার্থীদের বড় একটি অংশ ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের পথে হাঁটছেন— যার স্পষ্ট প্রতিফলন মিলছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই মাসে— ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। নভেম্বরে যেখানে এই অঙ্ক ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা, জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ দুই মাসেই নগদ টাকার পরিমাণ বেড়েছে ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক সময়ে নগদ টাকা উত্তোলনের প্রবণতা বেড়েছে। প্রার্থীরা প্রচার ব্যয় মেটাতে নগদ অর্থ ব্যবহার করছেন বলেই এই চিত্র দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, বড় ও সন্দেহজনক লেনদেন নজরদারির আওতায় রয়েছে এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সার্বক্ষণিকভাবে এসব লেনদেন পর্যবেক্ষণ করছে। হঠাৎ উল্টো স্রোত এই নগদ প্রবাহের ঊর্ধ্বগতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর আগের কয়েক মাসে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থ ধারাবাহিকভাবে কমছিল। গত বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে এই অঙ্ক প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা কমে যায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, নির্বাচনি ব্যয়ের কারণেই হঠাৎ এই উল্টো স্রোত তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে নগদ টাকার চাহিদা বাড়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সন্দেহজনক লেনদেন হলে তা রিপোর্ট করার ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। কালোটাকার আশঙ্কা ও নজরদারি নগদ টাকার এই দ্রুত বিস্তার কালোটাকার ব্যবহার বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি করেছে। সে কারণেই বিএফআইইউ নির্বাচন সামনে রেখে নজরদারি জোরদার করেছে। গত ১১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনও হিসাবে একদিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) আকারে জমা দিতে হচ্ছে। রেমিট্যান্সে জোয়ার নির্বাচনের আগে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক— রেমিট্যান্সে দেখা যাচ্ছে ইতিবাচক প্রবণতা। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। শুধু জানুয়ারিতেই এসেছে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৫ শতাংশের বেশি। ডলার কিনে টাকার তারল্য রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় বাড়ায় ডলারের সরবরাহ ভালো থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯ কোটি ডলার কেনা হয়েছে, যার বিপরীতে বাজারে ছাড়া হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এতে টাকার বাজারে তারল্য বাড়লেও মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের। ডিজিটাল লেনদেনে কড়াকড়ি নির্বাচনের আগে অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘিরে নগদ অর্থের এই অদৃশ্য দাপট গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। কঠোর নজরদারি ও ভোটারদের সচেতনতাই পারে এই দুষ্টচক্র ভাঙতে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
খাল খনন ও কৃষক উন্নয়নের অঙ্গীকারে তারেক রহমান: বাবার পথেই হাঁটার প্রত্যয়
খাল খনন ও কৃষক উন্নয়নের অঙ্গীকারে তারেক রহমান: বাবার পথেই হাঁটার প্রত্যয়

১২ জানুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হলে বিএনপি সরকার গঠন করে দক্ষিণাঞ্চলে খাল খননসহ কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করবেন—এমন ঘোষণায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বরিশালের এক জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে অনেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা সুলতান হাওলাদার বলেন, “কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা শোনার পরই মনে হয়েছে—তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সন্তান। আর যখন খাল খননের ঘোষণা দিলেন, তখন আর কোনো সন্দেহই রইল না।” তিনি আরও বলেন, ছোটবেলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সারা দেশে খাল খননের যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা দীর্ঘদিন ধরে কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সুফল বয়ে এনেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে খালগুলো ভরাট হওয়ায় সেচব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে, দখল ও পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে কৃষিকাজে সংকট তৈরি হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকা ফাতেহা খানম বলেন, “উন্নয়ন দরকার, কিন্তু নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী-খাল দখল মেনে নেওয়া যায় না। ধান-নদী-খালের বরিশাল তার ঐতিহ্য হারাক, সেটাও চাই না।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমান বাবার শুরু করা জনবান্ধব কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল নগরের বেলস পার্ক মাঠে বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের নিয়ে জনসভা করেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেন, “১৩ তারিখ থেকে দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে। দক্ষিণাঞ্চলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেই কাজ আবার শুরু করব।” তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, “কে কে আমার সঙ্গে খাল খনন করতে যাবেন?” জনসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষ হাত তুলে সমর্থন জানান। তারেক রহমান আরও বলেন, “এই বাংলাদেশ জনগণের বাংলাদেশ। দেশ চলবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে। আগামী ১২ তারিখ মানুষ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে, যারা জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করবে।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলেই বরিশাল বিভাগ ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা অনেক কাজ করেছি, তবে এখনও অনেক কাজ বাকি। বিএনপির রাজনীতির মূল কথা একটাই—জনগণই সব ক্ষমতার উৎস।”

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
কৃত্রিম বুদ্ধিমতা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ছবি
নৌকাবিহীন নির্বাচনে কোন দিকে যাবে আওয়ামী লীগের ভোট

এরশাদের পতনের পর দেশে গণতান্ত্রিক ধারায় অনুষ্ঠিত প্রায় সব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ব্যতিক্রম ছিল ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন। তবে সাময়িক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না দলটি। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে দলীয় প্রতীক নৌকাও বাতিল করা হয়েছে। এমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে— নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকলে তাদের বিপুল ভোটব্যাংক কোন দিকে যাবে এবং এর প্রভাবই বা কতটা পড়বে ফলাফলে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপট ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জুলাই আন্দোলনের পক্ষের দলগুলোর চাপের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এরপর ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে দলটির কার্যক্রম স্থগিত এবং একই দিনে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করে। ফলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সাংবিধানিক পথ বন্ধ হয়ে যায়। ‘ভোট নেই, ব্যালট নেই’— শেখ হাসিনার নির্দেশ ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠকে নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে নিরুৎসাহিত করেছেন। পাশাপাশি ‘ব্যালট নেই, ভোট নেই’— এই বার্তা সাধারণ ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেন তিনি। তার মতে, নৌকা প্রতীক ছাড়া ভোটে অংশ নেওয়া মানেই অন্যায়কে বৈধতা দেওয়া। ভোটের সমীকরণ ও রাজনৈতিক কৌশল নৌকা প্রতীক না থাকলেও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের টানতে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন দল নানা কৌশল নিচ্ছে। কেউ নিরাপত্তার আশ্বাস দিচ্ছে, কেউ সহানুভূতির ভাষায় কথা বলছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের পাশে দাঁড়ানো তাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের নেতারাও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্যের পেছনে মূলত ভোটের অঙ্কই কাজ করছে। জরিপে কী উঠে এসেছে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে— আগে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন, তাদের ৪৮.২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দিতে চান নতুন ভোটারদের মধ্যে ৩৭.৪ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ২৭ শতাংশ বিএনপি, ১৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন ১৮.৬ শতাংশ এখনও সিদ্ধান্তহীন এই জরিপে দেশের ৬৪ জেলার ১৮০টি সংসদীয় আসনের ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার অংশ নেন। বিশ্লেষকদের মত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ মনে করেন, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি অংশ ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। যারা যাবেন, তাদের ভোট বিভক্ত হতে পারে— কেউ বিএনপি, কেউ জামায়াত কিংবা অন্য প্রার্থীর দিকে ঝুঁকতে পারেন। সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দনের মতে, আওয়ামী লীগের একটি স্থায়ী ভোটব্যাংক রয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে নিয়ামক ভূমিকা রাখতে পারে। নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কি? রাজনীতিবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগ না থাকলেও নির্বাচন স্বাভাবিক হবে। আবার কেউ মনে করছেন, দলটির অনুপস্থিতি ভোটের চরিত্র বদলে দিতে পারে। বাসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ভীতি না থাকলে আওয়ামী লীগের অনেক সমর্থক ভোট দিতে যাবেন। অন্যদিকে জামায়াত নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ না থাকলেও ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। সব মিলিয়ে, নৌকাবিহীন এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করেছে। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যাবে— সেটিই এখন নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান-দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাপ্তাহিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শীর্ষ দাবিদার হিসেবে উল্লেখ করেছে। ২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সাময়িকীটির সর্বশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়, “খ্যাতনামা এক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, ৬০ বছর বয়সী মি. রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।” বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১৮ মাস আগে সংঘটিত এক ‘বিপ্লব’-এর পর এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ওই সময় ‘জেনারেশন জেড’ আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৫ বছরের শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে, যাকে সাময়িকীটি ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দ্য ইকোনমিস্টের মতে, এই নির্বাচন গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক মেরামতের সুযোগ তৈরি করবে। তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এই পূর্বাভাস এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিন, ব্লুমবার্গসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একই ধরনের বিশ্লেষণের ধারাবাহিকতায়। সাময়িকীটি ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার দৃশ্য বর্ণনা করে জানায়, বুলেটপ্রুফ বাসে করে ফেরার সময় উচ্ছ্বসিত সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে আসেন। ফলে বাসটি কয়েক মাইল ধীর গতিতে চলতে বাধ্য হয়, যেন অপেক্ষমাণ সমর্থকেরা তাকে কাছ থেকে দেখতে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো ‘যথাযথ’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। দেশের প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ কখনো প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। নিরাপত্তা বিষয়ক থিঙ্কট্যাংক বিআইপিএসএস-এর গবেষক শাফকাত মুনিরকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “আমার জীবনের দুই দশক ধরে আমার ভোটের কোনো মূল্য ছিল না।” তিনি জানান, বর্তমানে রাজধানীর রাস্তাঘাটজুড়ে আবারও নির্বাচনী ব্যানার দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচন তত্ত্বাবধান করাই হবে শেষ বড় দায়িত্ব। তবে অধিকাংশ মানুষের মতে, এই সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনীতিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এমন কিছু সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে সহায়ক হবে। এর মধ্যে রয়েছে—নতুন একটি উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ রাখা। জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে দ্য ইকোনমিস্ট লিখেছে, দলটি সংযত শাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের অগ্রগতি শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। দলটি নির্বাচনে একজনও নারী প্রার্থী দেয়নি এবং সংসদ পরিচালনার মতো অভিজ্ঞতা তাদের আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে সাময়িকীটি। এই প্রেক্ষাপটে দ্য ইকোনমিস্ট মন্তব্য করেছে, “এই পরিস্থিতি তারেক রহমানের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে,” কারণ জনমত জরিপে তার নেতৃত্বাধীন বিএনপি এগিয়ে রয়েছে। সাময়িকীটি স্মরণ করিয়ে দেয়, বিএনপি দীর্ঘদিন তারেক রহমানের মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। এর আগে দলটির নেতৃত্বে ছিলেন তার বাবা, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি ১৯৮১ সালে নিহত হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। দ্য ইকোনমিস্ট লিখেছে, নির্বাচিত হলে তারেক রহমান বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি পানিসংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা বলেছেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তারেক রহমান মনে করেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন। তার ভাষায়, “আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বেশ বাস্তববাদী এবং একজন ব্যবসায়ী।” সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে বিক্ষোভকারীদের হত্যার জন্য দায়ীদের বিচার হতে হবে, তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হবে না। দ্য ইকোনমিস্টের ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন—লন্ডন থেকে ফিরে আসা তারেক রহমানকে আগের চেয়ে ভিন্ন ও আরও সংযত মনে হচ্ছে, যদিও অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই এখনো ‘অফ দ্য রেকর্ড’ কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ সচিবালয়
সচিবালয় সমবায় সমিতিতে কোটি টাকার লুটপাট: তদন্তে প্রমাণ মিললেও ধরাছোঁয়ার বাইরে দুর্নীতিবাজরা

সচিবালয়ের সাধারণ কর্মচারীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গঠিত বাংলাদেশ সচিবালয় বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড আজ নিজেই দুর্নীতির এক ভয়াবহ উদাহরণে পরিণত হয়েছে। কর্মচারীদের সঞ্চয় বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ, রেশনিং সুবিধা ও ক্যান্টিন ব্যবস্থাপনার মতো সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এই সমিতি বিগত বছরগুলোতে পরিণত হয় একটি লুটপাটের কেন্দ্রে। সমবায় অধিদপ্তরের তদন্তে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ মিললেও আজ পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে দুর্নীতিবাজ নেতারা রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তদন্তে প্রমাণ, তবুও নীরব প্রশাসন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সমবায় অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করলে কেনাকাটায় অনিয়ম, ওএমএস বাণিজ্য, নতুন সদস্য ও শেয়ারহোল্ডার বাবদ অর্থ আত্মসাৎ এবং তহবিল থেকে নগদ অর্থ লোপাটের ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৩ জুন সমিতির পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দিয়ে একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়। তবে এই এডহক কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সাবেক নেতারা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। আদালত নতুন কমিটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনো বাধা নেই। তারপরও সমবায় অধিদপ্তর কিংবা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় রহস্যজনকভাবে নীরব। ম্যানেজারের অভিযোগ: বেতন নেই, চিকিৎসা বন্ধ সর্বশেষ গত ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ সচিবালয় বহুমুখী সমবায় সমিতির ম্যানেজার মো. রুহুল আমিন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি জানান, বিলুপ্তকৃত ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্পাদক মো. মজিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা নতুন শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে ১,১০০ টাকা করে আদায় করে প্রায় ২৭ লাখ টাকা সমিতির হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের জুন মাসে কর্মচারীদের বেতন ও ঈদুল আযহার ভাতা দিতে সমিতির তহবিলে টাকা না থাকায় তিনি নিজে ৩ লাখ টাকা ঋণ করে বেতন পরিশোধ করেন, যা আজও ফেরত পাননি। টানা ৯ মাসের বেতন ও ভাতা না পেয়ে কিডনি, লিভার ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এই কর্মকর্তা বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নগদ টাকা, চাল-আটা ও ওএমএস লুট অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম সমিতির ক্যাশ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে ফেরত দেননি। জনতা ব্যাংক থেকে উত্তোলিত ১ লাখ টাকা ক্যাশে জমা না দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। তেজগাঁও সিএসডি গোডাউন থেকে উত্তোলিত ৪ মেট্রিক টন আটা ও ৪ মেট্রিক টন চাল যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় তা নষ্ট হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর বাইরেও ওএমএস’র মালামাল গোপনে বাইরে বিক্রি করে নিয়মিত অর্থ হাতিয়ে নেয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে সাবেক নেতাদের বিরুদ্ধে। ১০ হাজার কর্মচারীর টাকা আত্মসাৎ? বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে সমিতির প্রভাবশালী নেতারা অন্তত ১০ হাজার কর্মচারীর কাছ থেকে শেয়ারহোল্ডার করার নামে টাকা আদায় করেন। কিন্তু শেয়ার প্রদান করা হয় মাত্র ২ হাজার ৯০০ জনকে। বাকিদের টাকা আত্মসাৎ করা হয়। রাজনৈতিক প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণে সাধারণ কর্মচারীরা মুখ খুলতে সাহস পাননি। কারা ছিলেন নেতৃত্বে দুর্নীতির সময় সমিতির সভাপতি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম, সম্পাদক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মজিবুর রহমান, সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম এবং কোষাধ্যক্ষ ওসমান গনি। পরিচালনা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরাও অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে কমবেশি জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। প্রশ্ন থেকেই যায় তদন্তে প্রমাণ থাকার পরও কেন কোনো শাস্তি হয়নি? কারা এই দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করছে? কর্মচারীদের কল্যাণের নামে গড়ে ওঠা সমবায় সমিতি কি তবে প্রভাবশালীদের ব্যক্তিগত লুটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছেন সচিবালয়ের হাজার হাজার সাধারণ কর্মচারী ও শেয়ারহোল্ডার।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
নির্বাচন কমিশন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারে আচরণ বিধিমালা মানার নির্দেশ ইসির

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি নির্দেশনামূলক চিঠি দেশের সব রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৬ অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে চাইলে প্রার্থী, তার নির্বাচনি এজেন্ট বা দলের পক্ষ থেকে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ সব শনাক্তকরণ তথ্য প্রচারণা শুরুর আগেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে হবে। এছাড়া বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ২২-এর উপবিধি (২) অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন, বুস্টিং ও স্পন্সরশিপসহ সব ধরনের ব্যয় নির্বাচনি ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। এসব ব্যয়ের হিসাব সামগ্রিক নির্বাচনি ব্যয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিল করতে হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে যে ব্যয় হবে তা অবশ্যই নির্বাচনি ব্যয় হিসেবে বিবেচিত হবে এবং রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায় উল্লিখিত সব নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে রিটার্নিং অফিসারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে কোন রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কোন কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে, সে সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখায় প্রেরণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম
জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক: বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার গ্রেপ্তার

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের এক সহকারী প্রোগ্রামারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম। তবে তার সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় দলটির পক্ষ থেকে হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। বিষয়টি সাইবার অপরাধসংক্রান্ত হওয়ায় তদন্তের দায়িত্ব ডিবিকে দেওয়া হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। ডিবিপ্রধান আরও জানান, এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে এবং মামলাটি নিবিড় তদন্তের জন্য ডিবির কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় আটক ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কম্পিউটারের হার্ডডিস্কসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এসব আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। আটক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ছরওয়ারে আলমের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়। এ সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে অহেতুক বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে একটি আপত্তিকর মন্তব্যের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে সেই পোস্টটি অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সাইবার হামলার মাধ্যমে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে এবং এটি জামায়াত আমিরের বক্তব্য নয়।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন
আমাকে ঘোড়া মার্কায় ভোট দেবেন:স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন

কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনের ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেছেন, দীর্ঘ ৩৭ বছরের কর্মীকে ও ১৭ বছর মাঠে ময়দানে কাজ করা ব্যক্তিকে যদি বিএনপির লোক মনে হয় তাহলে আমাকে ঘোড়া মার্কায় একটি ভোট দেবেন। মঙ্গলবার রাতে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নে নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এমন মন্তব্য করেন হাসান মামুন।পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির আসন সমঝোতায় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। নুর প্রসঙ্গে হাসান মামুন বলেন, বিগত দিনে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে যারা সমালোচনা করেছিল তাদের মধ্যে ভিপি নুর অন্যতম। তিনি বিএনপিকে ফ্যাসিস্ট বলে আখ্যায়িত করেছিল। হাসান মামুন বলেন, ৫ আগস্টের পর গণঅধিকার পরিষদের হাতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী (নির্বাচনি এলাকায়) আহত হয়েছেন। বিএনপির সমালোচনা ও বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্যাতন করে নুর এখন বিএনপির দরদী সেজেছেন।তিনি বলেন, নুর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের জন্য রাজপথ অবরোধ করেছিলেন। এখন আবার আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিতে চান।নির্বাচনি পথসভায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
শিক্ষা মন্ত্রণালয়
কোচিং সেন্টার ও নোট-গাইড বন্ধে কঠোর বিধান রেখে শিক্ষা আইনের খসড়া প্রস্তুত

দেশে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘শিক্ষা আইন, ২০২৬’ এর খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার।  প্রস্তাবিত এই আইনে বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার এবং নোট-গাইড বইয়ের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জনগণের মতামতের জন্য এ সংক্রান্ত খসড়া আইন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন, ২০২৬ (খসড়া) এর উপর নির্ধারিত [email protected] ইমেইলে মতামত পাঠাতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত আইনকে ১১টি অধ্যায় এবং ৫৫টি ধারায় বিন্যস্ত করা হয়েছে। জনগণের মতামতের পর তা চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত আইন বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) বাসসকে জানিয়েছেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে শিক্ষাকে নাগরিকের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  তিনি বলেন, ‘আইন কখনোই খুব বিস্তারিত হয় না। এটি মূলত দিকনির্দেশনা দেয়। ভবিষ্যতে বিধিমালা ও নীতির মাধ্যমে একে আরও কার্যকর করা হবে।’  শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এই আইনটি দীর্ঘ আলোচনার ফল। মাঠপর্যায়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসক, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন জেলার অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে খসড়া তৈরি করা হয়েছে।  এটি শিক্ষা আইন, ২০২৬ নামে অভিহিত হবে বলে খসড়ায় বলা হয়েছে। খসড়া আইনের ১৫ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হওয়ার তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সকল প্রকার বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার, গাইড বই এবং নোট বইয়ের কার্যক্রম দেশে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের মূল পাঠ্যবইমুখী করতে ধারাবাহিকভাবে এসব কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করা হবে। আইনে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক এবং ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাকে শিশুর মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের জন্য নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। খসড়া আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হওয়ার তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সকল প্রকার বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার, গাইড বই এবং নোট বইয়ের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। সরকার বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে এবং শিক্ষার্থীদের মূল পাঠ্যবইমুখী করতে ধারাবাহিকভাবে নিরুৎসাহিত করবে। তবে সরকার অনুমোদিত ‘সহায়ক পুস্তক’ এর ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। প্রস্তাবিত খসড়া আইনে প্রথমবারের মতো কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সমান গুরুত্ব দিয়ে ডিপ্লোমা পর্যায় পর্যন্ত উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি ও মানসিক নিপীড়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে খসড়া আইনে। ৩৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীকে শারীরিক আঘাত বা মানসিক নির্যাতন করলে তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া র‌্যাগিং ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খসড়া আইনে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে ‘অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল’ এর ভূমিকা জোরদার এবং স্নাতক পর্যায়ে অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর কথা বলা হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউজিসি কর্তৃক নির্ধারিত অভিন্ন ন্যূনতম যোগ্যতা অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে ‘জাতীয় গবেষণা পরিষদ’ এবং ‘কেন্দ্রীয় গবেষণাগার’ স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিধান বিষয়ে খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি ইউনিক আইডি বা স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর থাকবে, বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে, সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় বা ইজারা দিতে পারবে না, ই-লার্নিং ও দূরশিক্ষণ জনপ্রিয় করতে দেশব্যাপী একটি সাধারণ অনলাইন লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে। খসড়া আইনে বলা হয়েছে, এই আইন আপাতত বলবৎ অন্য যেকোনো আইনের ওপর প্রাধান্য পাবে। যদি অন্য কোনো আইনের সঙ্গে এই আইনের বিরোধ দেখা দেয়, তবে এই আইনটিই কার্যকর হবে বলে প্রস্তাবিত আইনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট: এক শিক্ষকেই সামলাচ্ছেন একাধিক শ্রেণি

দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক সংকট একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই সংকট আরও প্রকট। অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় একজন শিক্ষককেই একাধিক শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে করে পাঠদানের মান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহও কমে যাচ্ছে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদ্যালয়েই শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি বিদ্যালয়ে তিন থেকে চারজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যায়, কোনো কোনো স্কুলে মাত্র একজন বা দুজন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিদ্যালয় চালানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন শিক্ষককে একসঙ্গে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান করতে হয়, যা কোনোভাবেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না।   এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা চরম মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। একজন শিক্ষক যখন একই সময় একাধিক শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের পড়ান, তখন স্বাভাবিকভাবেই কোনো শ্রেণির উপর পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনে ব্যর্থ হয়। এইভাবে ধাপে ধাপে শিখনের ঘাটতি তৈরি হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ভবিষ্যত শিক্ষাজীবনেও।   শুধু পাঠদানের ক্ষেত্রেই নয়, একজন শিক্ষককে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ, মিডডে মিল, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হিসাব রাখা, নানা রিপোর্ট প্রস্তুত করাসহ আরও অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষক যতই আন্তরিক হোন না কেন, সীমিত জনবল ও অপ্রতুল সময়ের কারণে শিক্ষার মান উন্নয়ন অসম্ভব হয়ে পড়ে।   অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরাও এই সংকটের কারণে দুর্বল ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে। একজন শিক্ষক একসঙ্গে দুই-তিনটি শ্রেণির ক্লাস নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একঘেয়েমি সৃষ্টি হয় এবং তারা ধীরে ধীরে স্কুলে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এর ফলে ঝরে পড়ার হারও বাড়ছে।   সরকার শিক্ষক নিয়োগে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সংকট কাটছে না। অনেক সময় নিয়োগপ্রাপ্তরাও দুর্গম এলাকায় যোগদান করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন, ফলে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতেই সংকট সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।   এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত ও কার্যকর শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা দরকার। বিশেষ করে দুর্গম ও গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুলগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, স্থায়ী পদ সৃষ্টি, নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রণোদনা প্রদান এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর বিকল্প শিক্ষা পদ্ধতিও বিবেচনায় আনা যেতে পারে, যাতে শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় পাঠ গ্রহণ করতে পারে।   প্রাথমিক স্তরেই যদি শিক্ষার্থীরা মানসম্পন্ন শিক্ষা না পায়, তবে তা পুরো শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই এখনই সময় কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার, যেন একজন শিক্ষককে আর একা একাধিক শ্রেণির ভার বইতে না হয় এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে এগিয়ে যেতে পারে।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0
কারিগরি শিক্ষার প্রসারে প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

দেশে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্প নির্ভর অর্থনীতিতে টিকে থাকতে হলে শুধু সাধারণ শিক্ষায় নয়, বাস্তবভিত্তিক ও হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সেই বিবেচনা থেকেই সরকার এবার কারিগরি শিক্ষার প্রসারে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি অঞ্চলের যুবসমাজকে দক্ষ করে তোলা এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।   বর্তমানে দেশে কারিগরি শিক্ষার পরিসর সীমিত। অধিকাংশ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র জেলা বা বিভাগীয় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ। ফলে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার তরুণরা এই ধরনের শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তবে নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপিত হবে, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে করে একদিকে যেমন স্থানীয়ভাবে দক্ষ জনবল গড়ে উঠবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানেও নতুন দ্বার খুলবে।   প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে মূলত বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক্স, গাড়ি মেরামত, ফ্রিজ ও এসি রিপেয়ারিং, কম্পিউটার ও আইটি, ফ্যাশন ডিজাইন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, সৌরবিদ্যুৎ এবং রোবোটিক্সের মতো চাহিদাসম্পন্ন কোর্স চালু করা হবে। এসব কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিখে চাকরি বা আত্মকর্মসংস্থানের উপযোগী হয়ে উঠবে। প্রশিক্ষণের শেষে তাদের সার্টিফিকেটও প্রদান করা হবে, যা চাকরির ক্ষেত্রেও মূল্যায়িত হবে। তাছাড়া অনেকে নিজের উদ্যোগেও ব্যবসা শুরু করতে পারবে, যার ফলে বেকারত্ব হ্রাস পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।   এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সরবরাহ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জ্ঞান অর্জনে সক্ষম হয়। প্রশিক্ষকেরাও হবেন অভিজ্ঞ ও দক্ষ, যারা যুগোপযোগী পদ্ধতিতে পাঠদান করবেন। কিছু প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে বিশেষায়িত করাও হবে, যেমন কোনো এলাকায় কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ বেশি, আবার অন্য এলাকায় আইটি নির্ভর প্রশিক্ষণ বেশি দেওয়া হবে। এইভাবে স্থানীয় চাহিদা ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের ধরন নির্ধারণ করা হবে।   এই উদ্যোগ শুধু কর্মসংস্থানের দিক থেকেই নয়, সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নারী ও প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে, যাতে কারিগরি শিক্ষা সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ শেষে ঋণ সুবিধা, উদ্যোক্তা পরামর্শ ও চাকরির সংযোগও দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, যা প্রকল্পকে বাস্তবিক ও দীর্ঘমেয়াদি সফলতায় রূপান্তর করবে।   সার্বিকভাবে বললে, প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের এই উদ্যোগ গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজ আরও দক্ষ, আত্মনির্ভর ও ভবিষ্যতমুখী হয়ে উঠবে, যা স্মার্ট বাংলাদেশের পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0
অনলাইন ক্লাসের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে, বাড়ছে শিখন ঘাটতি

করোনা মহামারির সময় থেকেই দেশে অনলাইন ক্লাসের প্রচলন শুরু হয়। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা পদ্ধতির এই প্রয়োগ অনেকটাই জরুরি অবস্থা মোকাবিলার অংশ ছিল। শুরুতে শিক্ষার্থীরা নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে বিষয়টি গ্রহণ করলেও ধীরে ধীরে এর প্রতি আগ্রহ কমতে শুরু করে। এখন দেখা যাচ্ছে, অনলাইন ক্লাসের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন ঘাটতির হার বাড়ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন ক্লাস কার্যকর হতে হলে নির্দিষ্ট অবকাঠামো, উপযুক্ত পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখার কৌশল প্রয়োগ করতে হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র হচ্ছে, দেশের অনেক শিক্ষার্থী এখনো নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা পায় না। আবার অনেকের বাড়িতে নেই প্রয়োজনীয় ডিভাইস, কিংবা থাকলেও তা পরিবারের একাধিক সদস্যের মাঝে ভাগ করে ব্যবহার করতে হয়। ফলে নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বলতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতার অভাব শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে মনোযোগ হারানোর অন্যতম কারণ।   শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যাই নয়, অনলাইন ক্লাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থী প্রশ্ন করার সুযোগ পায় না। অনেক সময় তারা বুঝেও না বোঝার ভান করে ক্লাস শেষ করে দেয়। এতে করে বিষয়বস্তুর প্রতি আগ্রহ কমে যায় এবং শিখনে ঘাটতি দেখা দেয়। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস অনেক সময় একঘেয়েমি ও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে বেশি সময় মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, ফলে শেখার গতি ব্যাহত হয়।   শিক্ষকদের একাংশ মনে করেন, অনলাইন ক্লাসে পাঠদানের পদ্ধতি এখনও যথাযথভাবে মানসম্মত হয়নি। অধিকাংশ শিক্ষকই শুধু পাঠ্যবই পড়ে শোনান, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আকর্ষণ সৃষ্টি করে না। অপরদিকে, অনেক শিক্ষক নিজেরাও প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বচ্ছন্দ নন, ফলে ক্লাস পরিচালনায় তারা দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্লাসে সম্পৃক্ততা কমে যায় এবং তারা পড়াশোনা থেকে ধীরে ধীরে বিমুখ হয়ে পড়ে।   অভিভাবকরাও বলছেন, শিশুদের ঘরে বসে অনলাইনে পড়াশোনায় আগ্রহ ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। অনেক সময় তারা মোবাইল বা ল্যাপটপে ক্লাসের নাম করে অন্য কিছুর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে, যা পড়াশোনার ক্ষতি করে। এছাড়া দীর্ঘসময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখে সমস্যা, মানসিক অস্থিরতা ও একাকীত্বও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন হাইব্রিড লার্নিং পদ্ধতি—যেখানে অফলাইন ও অনলাইন উভয় মাধ্যমকে ভারসাম্যের সঙ্গে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া অনলাইন ক্লাসের কনটেন্টকে আরও ইন্টারেক্টিভ ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তোলা, শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নত করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও আগ্রহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।   দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। নয়তো এই ধারাবাহিক শিখন ঘাটতি আগামী দিনে একটি প্রজন্মের শিক্ষা ও দক্ষতার মানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0
ইউনিফর্ম ও উপবৃত্তি না পেয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে অনুপস্থিতির হার বাড়ছে

সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইউনিফর্ম ও উপবৃত্তি প্রদান দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক স্কুলেই শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে অনুপস্থিতির হার দিন দিন বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফর্ম ও উপবৃত্তি না পাওয়া এক ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।   মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, অনেক স্কুলেই বছরের শুরু থেকেই ইউনিফর্ম সরবরাহ হয়নি। আবার উপবৃত্তির টাকা এখনো পৌঁছায়নি শিক্ষার্থীদের হাতে। এতে করে দরিদ্র পরিবারগুলো শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। অনেক অভিভাবকই বলছেন, পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কারণে সন্তানদের ইউনিফর্ম কেনা বা অন্যান্য শিক্ষা সামগ্রী সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সেই সাথে উপবৃত্তির অর্থ সময়মতো না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া কমে গেছে। এতে করে ঝরে পড়ার আশঙ্কা আরও বাড়ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রশংসনীয় হলেও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি ও ইউনিফর্ম একটি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। কিন্তু এই সুবিধা নিয়মিতভাবে না পৌঁছালে তাদের স্কুলে উপস্থিতি ব্যাহত হয়। অনেক সময় দেখা যায়, একই পোশাক বারবার পরার ফলে তা নষ্ট হয়ে যায় এবং নতুনটি কেনার সামর্থ্য না থাকায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। অন্যদিকে, উপবৃত্তির টাকায় তারা যাতায়াত খরচ, খাতা-কলম কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করে থাকে। এই অর্থ না পেলে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।   শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনেকে জানিয়েছেন, বাজেট বরাদ্দে বিলম্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ইউনিফর্ম ও উপবৃত্তি সরবরাহে দেরি হচ্ছে। তবে তারা আশ্বস্ত করেছেন, চলতি বছরের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে এবং শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য সুবিধা যথাসময়ে পৌঁছে যাবে।   তবে অভিভাবক ও শিক্ষকদের দাবি, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। শিশুদের নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত রাখার জন্য তাদের মৌলিক চাহিদাগুলোর দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যারা সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির, তাদের জন্য শিক্ষা যেন বিলাসিতা না হয়ে যায়। সরকারের উচিত বরাদ্দ, বণ্টন ও বাস্তবায়নে আরও জোর দেওয়া, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতভাবে পায়।   এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার আরও কমে যেতে পারে এবং জাতীয় শিক্ষানীতির লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হতে পারে। তাই এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাজীবন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0
সরকারি স্কুলে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল হাজিরা চালু, নজরদারিতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি

দেশের সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবার থেকে নজরদারির আওতায় আসছে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পদ্ধতিতে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় এক হাজার স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে এই ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।   ✅ কীভাবে কাজ করবে ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি? ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি রেকর্ড হবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, আইডি কার্ড স্ক্যান অথবা ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে। প্রতিদিন সকালের শুরুতে হাজিরা রেকর্ড হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং তা অভিভাবকের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হবে। শিক্ষকরা মোবাইল অ্যাপ অথবা অনলাইন ড্যাশবোর্ড থেকে তাৎক্ষণিকভাবে হাজিরার তথ্য দেখতে পারবেন। এর ফলে শিক্ষকের সময় বাঁচবে এবং অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের সহজে শনাক্ত করা যাবে।   🎯 উদ্দেশ্য কী এই পদক্ষেপের? এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো— ✅ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা ✅ বিদ্যালয়ে সময়মতো উপস্থিতির সংস্কৃতি গড়ে তোলা ✅ অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন ✅ শৃঙ্খলা, মনোযোগ ও পাঠদানে স্বচ্ছতা আনা শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, "ডিজিটাল হাজিরা শুধু উপস্থিতির হিসাব রাখার জন্য নয়, এটি শিক্ষার মান উন্নয়ন, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের আরও সম্পৃক্ত করার একটি আধুনিক মাধ্যম।"   📊 পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে ইতিবাচক ফল প্রাথমিক পর্যায়ে চালু করা স্কুলগুলো থেকে ইতিমধ্যেই আসছে আশাব্যঞ্জক ফলাফল। হাজিরার হার বেড়েছে ৮৫% থেকে ৯৬% পর্যন্ত। ময়মনসিংহের একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, "আগে অনেক শিক্ষার্থী বেলা ১১টায় এসে ক্লাসে ঢুকত, কিন্তু এখন সবাই ঠিক ৮টায় হাজির। অভিভাবকেরাও সময়মতো স্কুলে পাঠাতে সচেষ্ট হচ্ছেন।"   📱 অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিভাবক পর্যবেক্ষণ এই ডিজিটাল সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে একটি মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইট, যেখানে প্রতিদিনের হাজিরা, ফলাফল, পরীক্ষার সময়সূচি ও শিক্ষকের মন্তব্য অভিভাবকরা দেখতে পারবেন। একজন অভিভাবক বলেন, "আগে আমরা জানতাম না সন্তান স্কুলে যাচ্ছে কিনা। এখন প্রতিদিন সকালে এসএমএস পেয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারি।"   🏫 চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যদিও এই পদ্ধতি অত্যাধুনিক, তবে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, ইন্টারনেট সংযোগ ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ—এই তিনটি ক্ষেত্র এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার ইতোমধ্যে ৫০০০ বিদ্যালয়ে সফটওয়্যার ও প্রশিক্ষণ বিতরণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।   📌 উপসংহার সরকারি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি শুধু উপস্থিতির হিসাব রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই শিক্ষাবিদরা মনে করছেন।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0

Rss feed news

Gold Price : শেয়ার বাজারের দুরন্ত গতির দিনে পড়ল সোনার দাম ? আজ কিনলে কততে পাবেন ?
Gold Price : শেয়ার বাজারের দুরন্ত গতির দিনে পড়ল সোনার দাম ? আজ কিনলে কততে পাবেন ?

শেয়ার বাজারের দুরন্ত গতির দিনে পড়ল সোনার দাম ? আজ কিনলে কততে পাবেন ?

ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
Stock Market Today : রেকর্ড গতি বাজারে ! ৭০০ পয়েন্টের ওপরে খুলল নিফটি, আজ মার্কেটে এই ২১ টি স্টক দেখুন
Stock Market Today : রেকর্ড গতি বাজারে ! ৭০০ পয়েন্টের ওপরে খুলল নিফটি, আজ মার্কেটে এই ২১ টি স্টক দেখুন

রেকর্ড গতি বাজারে ! ৭০০ পয়েন্টের ওপরে খুলল নিফটি, আজ মার্কেটে এই ২১ টি স্টক দেখুন

ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
Best Stocks To Buy :  ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব, আজ দুরন্ত ছুট দেবে বাজার ! এই ৮টি স্টকে নজর রাখুন
Best Stocks To Buy :  ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব, আজ দুরন্ত ছুট দেবে বাজার ! এই ৮টি স্টকে নজর রাখুন

 ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব, আজ দুরন্ত ছুট দেবে বাজার ! এই ৮টি স্টকে নজর রাখুন

ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
Defence Stocks : বাজেটের প্রভাব, এবার রকেট গতিতে ছুটবে এই ডিফেন্স স্টকগুলি ! বড় পূর্বাভাস গোল্ডম্যান স্যাকস-এর
Defence Stocks : বাজেটের প্রভাব, এবার রকেট গতিতে ছুটবে এই ডিফেন্স স্টকগুলি ! বড় পূর্বাভাস গোল্ডম্যান স্যাকস-এর

বাজেটের প্রভাব, এবার রকেট গতিতে ছুটবে এই ডিফেন্স স্টকগুলি ! বড় পূর্বাভাস গোল্ডম্যান স্যাকস-এর

ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
Bank Holidays : ফেব্রুয়ারিতে ৯ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাঙ্ক, এই ৪ পরিষেবা পাবেন না, দেখে নিন সম্পূর্ণ ছুটির তালিকা
Bank Holidays : ফেব্রুয়ারিতে ৯ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাঙ্ক, এই ৪ পরিষেবা পাবেন না, দেখে নিন সম্পূর্ণ ছুটির তালিকা

ফেব্রুয়ারিতে ৯ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাঙ্ক, এই ৪ পরিষেবা পাবেন না, দেখে নিন সম্পূর্ণ ছুটির তালিকা

ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
West Bengal News Live : তুফানগঞ্জে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষাকেন্দ্রে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ !
West Bengal News Live : তুফানগঞ্জে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষাকেন্দ্রে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ !

তুফানগঞ্জে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষাকেন্দ্রে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ !

ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬
IND vs PAK: বিশ্বকাপে খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবেন না বাবররা, জানাল পাকিস্তান সরকার
IND vs PAK: বিশ্বকাপে খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবেন না বাবররা, জানাল পাকিস্তান সরকার

বিশ্বকাপে খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবেন না বাবররা, জানাল পাকিস্তান সরকার

ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬
IND vs PAK LIVE: আয়ুষ, খিলানের স্পিনফাঁদে নাস্তানাবুদ পাকিস্তান, অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছল ভারত
IND vs PAK LIVE: আয়ুষ, খিলানের স্পিনফাঁদে নাস্তানাবুদ পাকিস্তান, অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছল ভারত

আয়ুষ, খিলানের স্পিনফাঁদে নাস্তানাবুদ পাকিস্তান, অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছল ভারত

ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬