ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনায় কোনও সমাধান না আসায় দুই দেশই সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আগের চেয়ে আরও তীব্র ও ব্যাপক বোমাবর্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের কৌশলগত তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের বিষয়টিও বিবেচনায় আছে। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহের পরিকল্পনাও চলছে। তবে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে বড় ধরনের হতাহতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করে সরাসরি সংঘর্ষের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-কে দেওয়া এক বক্তব্যে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধ প্রায় অনিবার্য ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এখন মূল নজর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের দিকে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রও বুঝতে পারছে যে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা থেকে কার্যকর সমাধান আসবে না। তার ভাষায়, “আমরা কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।” এর আগে চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরান যদি দীর্ঘমেয়াদে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। যদিও আগে তিনি পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের শর্ত দিয়েছিলেন।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : আফগানিস্তানে তালেবান সরকার নতুন একটি পারিবারিক আইন জারি করেছে, যা ঘিরে দেশজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। শরিয়াহ আইনের তালেবানি ব্যাখ্যার ভিত্তিতে তৈরি ৩১ অনুচ্ছেদের এই অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ‘দম্পতিদের পৃথকীকরণের নীতিমালা’ শিরোনামের এই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা ইতোমধ্যে মানবাধিকার সংগঠন, নারী অধিকারকর্মী এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ‘নীরবতা মানেই সম্মতি’—সবচেয়ে বিতর্কিত ধারা নতুন আইনের সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত অংশে বলা হয়েছে, কোনও ‘কুমারী মেয়ের’ নীরবতাকে বিয়ের ক্ষেত্রে তার সম্মতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে। তবে একই নিয়ম পুরুষ বা বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। সমালোচকদের মতে, এই ধারা নারীর ব্যক্তিগত মতামত ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষ করে এমন একটি সমাজে, যেখানে নারীরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে চাপে রয়েছেন, সেখানে নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে ধরা জবরদস্তিমূলক বিয়েকে বৈধতা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ ক্ষেত্রে বৈধতা পাচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিশেষ পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাবা কিংবা দাদাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ঠিক হওয়া কোনও নাবালক ছেলে বা নাবালিকা মেয়ের বিয়ে বৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে—যদি পাত্র সামাজিকভাবে ‘উপযুক্ত’ হয় এবং মোহরানার পরিমাণ ধর্মীয় মানদণ্ড পূরণ করে। তবে এখানে একটি শর্তও যুক্ত করা হয়েছে। ‘যৌবনোত্তীর্ণ হওয়ার পর সিদ্ধান্তের অধিকার’ নামের একটি আইনি নীতির আওতায় বলা হয়েছে, বয়ঃসন্ধির আগে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চাইলে বাতিলের আবেদন করতে পারবে। যদিও সেই আবেদন গ্রহণের চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে ধর্মীয় আদালতের হাতে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিধান আংশিক আইনি সুরক্ষা দিলেও বাস্তবে সামাজিক চাপ, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং নারীদের সীমিত স্বাধীনতার কারণে তা কার্যকর হওয়া কঠিন হতে পারে। বিচারকদের বাড়তি ক্ষমতা নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে তালেবান বিচারকদের পারিবারিক ও সামাজিক বিষয়ে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ধর্মান্তর, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি কিংবা পারিবারিক বিরোধের মতো বিষয়ে বিচারকেরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। প্রয়োজনে তারা বিচ্ছেদ, কারাদণ্ড বা অন্য শাস্তিও দিতে পারবেন। আইন বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই ধারা বিচারিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বাড়াবে এবং ব্যক্তিগত জীবনে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করবে। নারীদের ওপর ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণ ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই তালেবান সরকার আফগান নারীদের ওপর একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। বর্তমানে আফগানিস্তানে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ। নারীদের বহু সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে অংশগ্রহণ সীমিত করা হয়েছে। একা ভ্রমণ, জনসমক্ষে উপস্থিতি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নতুন পারিবারিক আইন সেই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যে তালেবানের এই নতুন আইনের সমালোচনা শুরু করেছে। তাদের মতে, এই আইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ, নারী অধিকার এবং শিশু সুরক্ষা নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “নীরব সম্মতি” এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের বৈধতা—এই দুটি ধারা ভবিষ্যতে আফগান সমাজে নারী ও শিশুদের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। তাদের আশঙ্কা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্বাধীনতায় আগেই পিছিয়ে পড়া আফগান নারীরা নতুন এই আইনের ফলে আরও প্রান্তিক হয়ে পড়বেন।
মে ১৭, ২০২৬
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের সামরিক শক্তি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি এবার মিথ্যা প্রমাণিত করেছে খোদ মার্কিন এক গোয়েন্দা সংস্থা। গোপনএই গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং বহু ঘাঁটি পুনরায় সচল করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসের শুরুতে প্রস্তুত করা ওই গোয়েন্দা রিপোর্টে দেখা গেছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই আবার কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া, দেশজুড়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ বর্তমানে আংশিক বা পুরোপুরি কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলা সর্বশেষ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আগে ইরানের যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও মোবাইল লঞ্চার ছিল তার প্রায় ৭০ শতাংশ এখনও অক্ষত রয়েছে। তবে এই মূল্যায়ন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়ালেস বলেন, ‘ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।’ দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী, তিনি আরও বলেন, ‘ইরান বুঝতে পারছে যে তাদের বর্তমান বাস্তবতা টেকসই নয়।’ একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘যদি কেউ মনে করে ইরান তার সামরিক শক্তি পুরোপুরি পুনর্গঠন করেছে, তাহলে সে হয় বিভ্রান্ত, নয়তো আইআরজিসির মুখপাত্র।’ উল্লেখ্য, জেনেভায় কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর জবাবে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায় ইরান। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে হরমুজ প্রণালি, ইউরেনিয়ামসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মে ১৪, ২০২৬
নজরুল ইসলাম : ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) বৃহৎ একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল।সত্য নিরপেক্ষতা ও দ্বায়িত্বশীল সাংবাদবকতার প্রতীক এই শ্লোগানকে ধারন করে ইত্তেহাদ নিউজের (Etihad News) পথচলা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই অনলাইন গনমাধ্যমটি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সংবাদ, অনিসন্ধানী সংবাদ,স্পেশাল সংবাদ পাঠকদের ও ভিজিটরদের মুগ্ধ করেছে।সততা ও সাহসের সাথে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশে সব সময়ই ইত্তেহাদ নিউজ এগিয়ে। জনপ্রিয় এই অনলাইন মাধ্যমটির সংবাদ ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) সম্পাদকীয় পলিসি যথাযথ ভাবে অনুসরন করে আসছে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই। ইত্তেহাদ নিউজের (Etihad News) ব্যবহারের শর্তাবলী,প্রাইভেসি পলিসি রয়েছে।সবচেয়ে অনলাইন গনমাধ্যমটি সম্পাদকীয় পলিসির মাধ্যমে টরিচালনা করে আসছে।কারো কোন অভিযোগ থাকলে গনমাধ্যমটি কমপ্লাইন অপশন রেখেছে। এছাড়ানযে কেউ সম্পাদকের সাথে যোগাডোগ করার জন্য কন্টাক্ট অপশন রেখেছে।যাতে করে যে কেউ দ্রুত কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।এছাড়া রয়েছে তাদের ডোগাযোগের জন্য ইমেল।তাদরর রয়েছে কুকিজ পলিসি।রয়েছে ফ্যাক্ট চেক পলিসি। গনমাধ্যমটি বিষয়ে বিস্তারবত জানতে হলে এ্যাবাউট আজএ ক্লিক করে জানতে পারবেন। ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) স্বাধীনভাবে সত্য সংবাদ প্রকাশে অবিচল।কারে রক্ত চক্ষুকে ভয় করেনা।ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আপনি ইত্তেহাদ নিউজের (Etihad News) সম্পাদকীয় নীতিমালা টড়তে পারেন। তাহলেই বুঝতে পারবেন ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) সকল গনমাধ্যম থেকে আলাদা একটি স্বাধীন গনমাধ্যম।জনস্বার্থ কে অগ্রাধীকার দিয়ে সব সময়ই সংবাদ প্রকাশ করে আসছে ইত্তেহাদ নিউজ। স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা (Editorial Independence & Impartiality) ইত্তেহাদ নিউজ Etihad News) সম্পূর্ণ সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় রেখে সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো রাজনৈতিক দল, সরকার, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির প্রভাবমুক্তভাবে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। সংবাদে সব পক্ষের মতামত তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। ব্যক্তিগত মতামত ও সংবাদ প্রতিবেদনের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা হয়। ন্যায্যতা ও ভারসাম্য (Fairness & Balance) সংবাদ পরিবেশনে ন্যায্যতা ও ভারসাম্য বজায় রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়া নেওয়া হয়। নৈতিক সাংবাদিকতা (Ethical Journalism) আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার নৈতিক নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মর্যাদা ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো হয়। ঘৃণামূলক, সহিংসতা উসকে দেয় বা বৈষম্যমূলক কনটেন্ট প্রকাশ করা হয় না। শিশু ও সংবেদনশীল বিষয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা (Transparency & Accountability) পাঠকদের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়। তথ্যের উৎস যথাসম্ভব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। পাঠকদের মতামত ও অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়। সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়। জনস্বার্থ (Public Interest) জনস্বার্থ আমাদের সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি। দুর্নীতি ও সামাজিক সমস্যার সংবাদে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তথ্য প্রকাশে আইন ও নৈতিকতার ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। ইত্তেহাদ নিউজ একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, যা স্বতন্ত্র সম্পাদকীয় টিম দ্বারা পরিচালিত। অর্থায়ন অনলাইন বিজ্ঞাপন স্পন্সরড কনটেন্ট মিডিয়া পার্টনারশিপ অন্যান্য বৈধ উৎস ইত্তেহাদ নিউজ ( Etihad News) সব সময়ই নির্ভুলতা,নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাষ করে। ইত্তেহাদ নিউজের ( Etihad News) মুলনীতি হল- যাচাই বাচাই প্রক্রিয়া - একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস যাচাই করা হয় সরকারি ও গবেষণামূলক ডেটা ব্যবহার করা হয় উৎসের বিশ্বাসযোগ্যতা পরীক্ষা করা হয় নৈতিকতা নীতি হল- ভুয়া বা ক্ষতিকর তথ্য প্রকাশ করা হয় না মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখা হয় সংবেদনশীল বিষয় সতর্কতার সাথে প্রকাশ করা হয় সংশোধন নীতি হল- ভুল শনাক্তকরণ তথ্য যাচাই সংশোধন প্রকাশ সংশোধন নোট যোগ যেকোন লেখক লেখা পাঠাতে পারেন। লেখা পাঠানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইত্তেহাদ নিউজ। আপনি যদি আপনার সংবাদ, প্রবন্ধ বা ফিচার পাঠাতে চান, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন: ১. সংবাদ পাঠানোর মাধ্যম ইত্তেহাদ নিউজে (Etihad News) সংবাদ বা লেখা পাঠানোর প্রধান মাধ্যম হলো ইমেইল। আপনি আপনার লেখা সরাসরি নিচের ঠিকানায় পাঠাতে পারেন: ইমেইল: [email protected] অথবা [email protected] ২. সংবাদ পাঠানোর নিয়মাবলি আপনার পাঠানো সংবাদটি যাতে প্রকাশের জন্য বিবেচিত হয়, সে জন্য নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি: ফরম্যাট: সংবাদটি সাধারণত MS Word (.doc) ফাইল আকারে অথবা সরাসরি ইমেইল লিখে পাঠাতে পারেন। ছবি: সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিষ্কার ছবি অবশ্যই যুক্ত করবেন। ছবিগুলো নিউজ ফাইলের সাতে অ্যাটাচমেন্ট হিসেবে পাঠানো ভালো। তথ্যসূত্র: সংবাদটি অবশ্যই সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে। কোনো সুনির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে তারিখ, স্থান এবং সঠিক তথ্য উল্লেখ থাকতে হবে। লেখকের পরিচয়: সংবাদের নিচে আপনার পূর্ণ নাম, পেশা, বর্তমান ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর যুক্ত করবেন। প্রয়োজন হলে ইত্তেহাদ নিউজ কর্তৃপক্ষ আপনার সাথে যোগাযোগ করবরন। ৩. সংবাদ নীতিমালা মৌলিকতা: লেখাটি অবশ্যই আপনার নিজের হওয়া উচিত। অন্য কোনো মাধ্যম থেকে কপি করা সংবাদ তারা গ্রহণ করে না। নিরপেক্ষতা: ইত্তেহাদ নিউজ নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা অনুসরণ করে, তাই কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি উস্কানিমূলক বা বিদ্বেষমূলক লেখা পরিহার করতে হবে। সম্পাদনা: পাঠানোর পর সম্পাদকীয় বোর্ড প্রয়োজন মনে করলে সংবাদের গুণগত মান রক্ষার্থে সেটি কিছুটা পরিমার্জন বা সম্পাদনা করতে পারে। ৪. সরাসরি যোগাযোগ আপনি যদি কোনো বড় ঘটনা বা বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পাঠাতে চান, তবে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের Contact Us পাতায় গিয়ে সরাসরি বার্তা পাঠাতে পারেন।অথবা মেইলে যোগাযোগ করবেন। ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) সম্পর্কে আরও কিছু বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. পরিচালনা ও নেতৃত্ব • সম্পাদক ও প্রকাশক: এই পোর্টালটির সম্পাদক এবং প্রকাশক হলেন এম এম রহমান (M M Rahman) । • মামুনুর রশীদ নেমানী,আবাসিক সম্পাদক (বাংলাদেশ)। • সদর দপ্তর: এটি সংযুক্ত আরব আমিরাত আবুধাবি থেকে পরিচালিত হয় । ২. প্রধান লক্ষ্য ও কার্যক্রম • প্রবাসীদের মুখপত্র: এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির সুখ-দুঃখ এবং সমস্যার কথা বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়া । • অংশগ্রহণমূলক সাংবাদিকতা: পোর্টালটি "যারাই লেখক, তারাই পাঠক"—এই নীতিতে বিশ্বাসী, যেখানে পাঠকদের মতামত এবং অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয় [। • অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: এটি দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী এবং সাহসী সংবাদ প্রকাশের জন্য পরিচিতি পেয়েছে । ৩. সংবাদের ব্যাপ্তি ইত্তেহাদ নিউজ কেবল প্রবাস কেন্দ্রিক নয়, বরং বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন খবর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রচার করে । তাদের উল্লেখযোগ্য কিছু বিভাগ হলো: • ইত্তেহাদ স্পেশাল ও এক্সক্লুসিভ: বিশেষ প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণধর্মী খবর । • রাজনীতি ও অর্থনীতি: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং বাণিজ্যিক আপডেট । • লাইভ আপডেট: সরাসরি সংবাদ সরবরাহ এবং তাৎক্ষণিক ব্রেকিং নিউজ । ৪. ডিজিটাল উপস্থিতি • অফিসিয়াল পোর্টাল: www.etihad.news • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম: ফেসবুক এবং ইউটিউবে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বিপুল সংখ্যক পাঠকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে । ৫. যোগাযোগ ও অভিযোগ • সরাসরি যোগাযোগ: সংবাদের প্রতিবাদ বা কোনো তথ্যের জন্য তাদের যোগাযোগ পাতা ব্যবহার করা যায়। (https://etihad.news/contact-etihad-news • অভিযোগ ফর্ম: কোনো সংবাদের মান বা তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে তাদের ওয়েবসাইটে একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ ফর্ম (Complaint Form) রয়েছে, যেখানে প্রমাণসহ অভিযোগ জমা দেওয়া যায় । (https://etihad.news/complaint-form-etihad-news) লেখক : বিশেষ সংবাদদাতা, ইত্তেহাদ নিউজ,বাংলাদেশ।
অনলাইন নিউজের উত্থান ও জনপ্রিয়তার পেছনের কারণগুলো - দ্রুততা, প্রযুক্তি ও পাঠক অংশগ্রহণে নতুন যুগের সংবাদমাধ্যম। বর্তমান সময়ে অনলাইন নিউজ প্ল্যাটফর্মগুলো দ্রুতগতিতে মানুষের প্রধান তথ্যসূত্রে পরিণত হচ্ছে। প্রথাগত সংবাদমাধ্যমের তুলনায় অনলাইন মাধ্যমের দ্রুততা, সহজলভ্যতা এবং বহুমাত্রিক কনটেন্ট উপস্থাপনার কারণে এর জনপ্রিয়তা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নব্বইয়ের দশকে বিশ্বব্যাপী অনলাইন সংবাদপত্রের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে বাংলাদেশসহ প্রায় সব দেশেই সংবাদমাধ্যমগুলোর ডিজিটাল সংস্করণ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদপত্রগুলোও এই পরিবর্তনের বাইরে নয়। প্রায় সব প্রধান সংবাদমাধ্যমই এখন অনলাইন সংস্করণে সক্রিয়, যেখানে পাঠকরা মুহূর্তের মধ্যে সর্বশেষ খবর জানতে পারছেন। তাৎক্ষণিক আপডেট ও সহজলভ্যতা অনলাইন সংবাদপত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দ্রুত তথ্য সরবরাহের সক্ষমতা। ব্রেকিং নিউজ, ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি আপডেট এবং লাইভ রিপোর্টিংয়ের কারণে প্রিন্ট মিডিয়ার তুলনায় অনলাইন মাধ্যম অনেক বেশি গতিশীল। ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে যেকোনো স্থান থেকে, যেকোনো সময় সংবাদ পড়া সম্ভব হচ্ছে। অধিকাংশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিনামূল্যে কনটেন্ট সরবরাহ করে, যা পাঠকদের জন্য এটিকে আরও সহজলভ্য করে তুলেছে। প্রযুক্তি ও এআইয়ের প্রভাব বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক কনটেন্ট ডেলিভারি অনলাইন নিউজকে আরও উন্নত করেছে। ব্যবহারকারীর আগ্রহ ও আচরণ বিশ্লেষণ করে সংবাদ উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা পাঠকের জন্য কনটেন্টকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলছে। আস্থা ও স্বচ্ছতার চ্যালেঞ্জ অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নির্ভুলতা ও বস্তুনিষ্ঠতার চ্যালেঞ্জ। তথ্যের উৎসের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় গুজব বা ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে সংবাদ যাচাই, মনিটরিং এবং স্বচ্ছ সম্পাদকীয় প্রক্রিয়া এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মাল্টিমিডিয়া ও ইন্টারঅ্যাকটিভ কনটেন্ট অনলাইন সংবাদপত্র এখন শুধু লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভিডিও, অডিও, লাইভ স্ট্রিমিং এবং ইনফোগ্রাফিক্সের মাধ্যমে সংবাদ উপস্থাপন পাঠকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া পাঠকরা এখন সরাসরি মন্তব্য, ভোটিং এবং মতামত প্রদানের সুযোগ পাচ্ছেন, যা সংবাদমাধ্যম ও পাঠকের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা ফেসবুক, এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম অনলাইন সংবাদ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব মাধ্যমে সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বৃহৎ পাঠকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে যায়। নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশে অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর নিবন্ধন ও নীতিমালা নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। উদ্দেশ্য হলো সংবাদ পরিবেশনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রযুক্তির অগ্রগতি, দ্রুত তথ্যপ্রবাহ, সহজলভ্যতা এবং পাঠকের সক্রিয় অংশগ্রহণ—এই সব মিলিয়ে অনলাইন নিউজ আজ আধুনিক সংবাদ জগতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই মাধ্যম আরও বিস্তৃত ও প্রভাবশালী হয়ে উঠছে।
ইত্তেহাদ নিউজ: ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad.News) একটি জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম। ডিজিটাল যুগে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পৌঁছে দিতে “ইত্তেহাদ নিউজ” ইতোমধ্যেই পাঠকদের আস্থার জায়গা করে নিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ সংবাদকর্মীদের সমন্বয়ে এই প্ল্যাটফর্মটি তাৎক্ষণিক খবর সংগ্রহ করে প্রচার করছে। ইত্তেহাদ নিউজের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ের খবর তারা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে, কারণ তারা সহজ ভাষায় এবং দ্রুত সময়ে আপডেট পেয়ে থাকে। যাত্রার শুরু: ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে একঝাঁক স্বপ্নবাজ সংবাদকর্মীর হাত ধরে ইত্তেহাদ নিউজের পথচলা শুরু হয়। মূলত প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির সুখ-দুঃখ এবং সমস্যাগুলোকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরাই ছিল এই সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক লক্ষ্য। মূল লক্ষ্য ও আদর্শ: ইত্তেহাদ নিউজ শুরু থেকেই 'সততা ও সাহসিকতা' এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে। প্রবাসীদের খবরের পাশাপাশি ডিজিটাল ও স্মার্ট সাংবাদিকতার ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করতে তারা সদা সচেষ্ট। বিশেষ করে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে তারা পাঠকদের আস্থা অর্জন করেছে। ডিজিটাল বিবর্তন: আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইত্তেহাদ নিউজ তাদের প্ল্যাটফর্মকে সাজিয়েছে। তাদের প্রকাশিত সংবাদগুলো দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাঠকদের কাছে পৌঁছে যায়, যা তাদের একটি শক্তিশালী অনলাইন উপস্থিতিতে পরিণত করেছে। জনপ্রিয়তার কারণ: সংবাদ: বিদেশের মাটিতে থাকা বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে এবং তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে তাদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: ইত্তেহাদ নিউজ দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশে সোচ্চার । নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন: দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সঠিক সংবাদটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তারা প্রশংসিত। প্রান্তিক মানুষের কথা: সমাজের কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ জনগণের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টি করাকে তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মনে করে। সহজবোধ্য উপস্থাপনা: আধুনিক ও স্মার্ট ডিজাইনের মাধ্যমে সংবাদগুলো সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করা হয়েছে। সাংবাদিকতার নীতিমালা: সততা,নিরপেক্ষতা এবং নির্ভরযোগ্যতাকে তাদের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে । কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই বা Fact-check করার ওপর গুরুত্বারোপ করে । অনুসন্ধানী সংবাদ ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad.news) তাদের সাহসী এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য পরিচিত। বিশেষ করে সরকারি প্রকল্পের অনিয়ম এবং প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদন বেশ সাড়া ফেলেছে। ইত্তেহাদ নিউজের অনুসন্ধানী সংবাদের বৈশিষ্ট্য: তথ্যভিত্তিক প্রমাণ: তারা কেবল অভিযোগ নয়, বরং নথিপত্র ও তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশন করে। জনস্বার্থ: সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা কোথায় অপচয় হচ্ছে বা প্রবাসীরা কোথায় প্রতারিত হচ্ছে—এগুলোই তাদের মূল ফোকাস। নিরপেক্ষতা: রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে সরাসরি অনিয়মের মূল হোতাদের নাম প্রকাশে তারা পিছপা হয় না। কাজের ক্ষেত্র: বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সমসাময়িক ঘটনাবলি এবং রাজনৈতিক সংবাদ পরিবেশন । প্রবাসী কমিউনিটির সুখ-দুঃখ এবং বিশেষ সংবাদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান । সমাজের প্রান্তিক ও নিপীড়িত মানুষ, যেমন—শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো তুলে ধরা । বর্তমান সময়ে ইত্তেহাদ নিউজ কেবল একটি সংবাদ মাধ্যম নয়, বরং পাঠকদের আস্থার একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ইত্তেহাদ নিউজ তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লাইভ আপডেট সেবা চালু করেছে, যা পাঠকদের কাছে ঘটনাস্থলের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। পাশাপাশি ভুয়া খবর প্রতিরোধে তারা কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করছে। এমন উদ্যোগ গণমাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। ভবিষ্যতে ইত্তেহাদ নিউজ আরও আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
📰 শিরোনাম (Headline) সংবাদ স্ক্রিপ্ট লেখার আন্তর্জাতিক নিয়ম ও কৌশল 🟡 লিড (Intro / Lead) একটি সংবাদ লেখার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং উপস্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সংবাদ স্ক্রিপ্ট লেখার জন্য সাংবাদিকদের নির্দিষ্ট কিছু কৌশল ও কাঠামো অনুসরণ করতে হয়। 🟢 বডি (Main Body) সংবাদ বা রিপোর্টের সঙ্গে অন্যান্য সাধারণ লেখার মূল পার্থক্য হলো তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপনের ধরনে। একজন সাংবাদিক রিপোর্ট তৈরির জন্য বিভিন্ন কৌশল অনুসরণ করেন—যেমন সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সরকারি ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ, পুরোনো তথ্য-উপাত্ত যাচাই এবং ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ। রিপোর্ট লেখার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়। কোন তথ্য আগে আসবে, কোন তথ্যের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা কতটুকু—এসব নির্ধারণ করাই একজন সাংবাদিকের দক্ষতা। একটি ভালো রিপোর্টের পূর্বশর্ত হলো নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা। এর মাধ্যমে একজন সাংবাদিক প্রকৃত সত্য তুলে ধরে জনগণের প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন। 🔵 সংবাদযোগ্যতার মানদণ্ড (News Values) কোন ঘটনা কতটা সংবাদযোগ্য, তা নির্ধারণে সাধারণত ছয়টি বিষয় বিবেচনা করা হয়— টাইমলিনেস (Timeliness): সাম্প্রতিক ঘটনার গুরুত্ব বেশি প্রক্সিমিটি (Proximity): কাছাকাছি ঘটনার মূল্য বেশি প্রমিনেন্স (Prominence): পরিচিত ব্যক্তির সংবাদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিকনেস (Oddity): অস্বাভাবিক ঘটনা বেশি আকর্ষণীয় ইমপ্যাক্ট (Impact): বেশি মানুষ প্রভাবিত হলে গুরুত্ব বাড়ে কনফ্লিক্ট (Conflict): দ্বন্দ্ব থাকলে সংবাদ মূল্য বৃদ্ধি পায় এই বিষয়গুলো সংবাদ নির্বাচন, লিড নির্ধারণ এবং সাক্ষাৎকারের প্রশ্ন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 🔴 লিবেল (Libel) ও সতর্কতা সাংবাদিকতায় “লিবেল” বলতে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে কারও মানহানিকে বোঝায়। এ ধরনের ভুল থেকে বাঁচতে তথ্যের উৎস যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। যদি কোনো তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া যায়, তবে সেটি প্রকাশের আগে উৎসের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা উচিত। অন্যথায় মিথ্যা তথ্য প্রচারের কারণে আইনগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। 🟣 সংবাদ লেখার কাঠামো সংবাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইন্ট্রো বা লিড, যেখানে মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়। সাধারণত 5W1H (What, Who, When, Where, Why, How) ফর্মুলা অনুসরণ করা হয়। উদাহরণ: রায়ের বাজার বস্তি থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন সিয়াম। ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৮০ হাজার ডলারের পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে এ মাসেই নিউ মেক্সিকো যাচ্ছেন তিনি। হার্ড নিউজের ক্ষেত্রে “ইনভার্টেড পিরামিড” কাঠামো ব্যবহার করা হয়। এতে— শুরুতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এরপর গুরুত্বপূর্ণ বিস্তারিত সবশেষে ব্যাকগ্রাউন্ড তথ্য দেওয়া হয় ⚫ তথ্যের উৎস উল্লেখ (Attribution) সংবাদে ব্যবহৃত প্রতিটি তথ্যের উৎস উল্লেখ করা অপরিহার্য। যেমন—সরকারি রিপোর্ট, জরিপ, বা সাক্ষাৎকার। প্রথমবার কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম পুরো লিখতে হয়, পরবর্তীতে সংক্ষিপ্ত নাম ব্যবহার করা যায়। সরাসরি উদ্ধৃতি ব্যবহার করলে সংবাদ আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়। ✅ এই স্টাইলের বৈশিষ্ট্য: ডেটলাইন (নিজস্ব প্রতিবেদক) ব্যবহার সংক্ষিপ্ত ও প্রফেশনাল ভাষা ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ কোটেশনকে পরোক্ষভাবে উপস্থাপন অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা বাদ নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ টোন ⚪ উপসংহার (Conclusion) সঠিক তথ্য, বস্তুনিষ্ঠতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সংবাদ লিখলে একটি রিপোর্ট হয়ে ওঠে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য। তথ্য যাচাই, সঠিক কাঠামো অনুসরণ এবং দায়িত্বশীল উপস্থাপনই একজন দক্ষ সাংবাদিকের পরিচয়। @ইত্তেহাদ নিউজ
আব্দুর রহমান: বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে—শিল্প, পরিবহন, বিদ্যুৎ—সব ক্ষেত্রেই জ্বালানির চাহিদা বেড়েই চলেছে। কিন্তু এই চাহিদার বড় অংশই পূরণ হচ্ছে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের মাধ্যমে। বৈশ্বিক বাজারে দামের অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং পরিবেশগত ঝুঁকি—সব মিলিয়ে এই নির্ভরতা এখন বড় এক কৌশলগত প্রশ্নের মুখে ফেলেছে দেশকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনীতি, পরিবেশ রক্ষা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বিকল্প জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া ছাড়া আর কোনো বাস্তবসম্মত পথ নেই। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি উৎস বিশেষভাবে সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে। সূর্যের আলোয় শক্তির সম্ভাবনা বাংলাদেশে বছরের অধিকাংশ সময়ই সূর্যালোক পাওয়া যায়—এই প্রাকৃতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সৌর শক্তি হতে পারে জ্বালানি রূপান্তরের প্রধান ভরকেন্দ্র। গ্রামাঞ্চলে ঘরের ছাদে ছোট সোলার সিস্টেম, শহরে রুফটপ সোলার, এমনকি বড় আকারের সোলার ফার্ম—সবই এখন আলোচনায়। সেচের জন্য সৌরচালিত পাম্পও কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এ ক্ষেত্রেইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড এর নেতৃত্বে বাস্তবায়িত সোলার হোম সিস্টেম কর্মসূচি বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই সাফল্যকে কীভাবে শিল্প ও নগর পর্যায়ে বড় আকারে সম্প্রসারণ করা যাবে? উপকূলে বাতাসের শক্তি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল—বিশেষ করে কক্সবাজার, কুয়াকাটা এবং চট্টগ্রাম—বায়ু শক্তির জন্য সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এখানে গড় বাতাসের গতি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় উইন্ড টারবাইন বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। তবে এখনো বড় পরিসরে এই খাতের উন্নয়ন সীমিত। গবেষকরা বলছেন, সঠিক ডেটা সংগ্রহ ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে বায়ু শক্তি দেশের জ্বালানি মিশ্রণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। গ্রামে গ্রামে বায়োগ্যাস গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি উৎস হলো বায়োগ্যাস। গবাদিপশুর গোবর, কৃষি বর্জ্য ও জৈব বর্জ্য থেকে উৎপন্ন এই গ্যাস রান্নার কাজে যেমন ব্যবহারযোগ্য, তেমনি ছোট পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও কাজে লাগানো যায়। এটি শুধু জ্বালানির বিকল্প নয়—বরং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষির জন্য জৈব সার উৎপাদনের ক্ষেত্রেও কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃষিভিত্তিক শক্তি: বায়োমাস ধানের তুষ, খড়, আখের বর্জ্য বা কাঠের অবশিষ্টাংশ—যা একসময় অপচয় হতো—সেগুলোই এখন শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশে বায়োমাস শক্তি বাস্তবায়ন তুলনামূলক সহজ। তবে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জলবিদ্যুৎ বাংলাদেশে বড় নদী থাকলেও উচ্চতার তারতম্য কম হওয়ায় বড় আকারের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সীমিত। বর্তমানে Kaptai Dam থেকেই মূল জলবিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি অঞ্চলে ছোট আকারের মিনি ও মাইক্রো হাইড্রো প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ এখনো কাজে লাগানো হয়নি পুরোপুরি। শহরের বর্জ্য থেকেই জ্বালানি প্রতিদিন ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে বিপুল পরিমাণ কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়। এই বর্জ্যকে সমস্যা না দেখে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করার ধারণা থেকেই ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ প্রযুক্তির বিকাশ। ল্যান্ডফিল গ্যাস বা কঠিন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন—এই খাতটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এটি নগর ব্যবস্থাপনার একটি বড় সমাধান হতে পারে। ভবিষ্যতের দিকচিহ্ন: সবুজ হাইড্রোজেন বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য শক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে সবুজ হাইড্রোজেন। নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে পানি থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদন করা যায়, যা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। বাংলাদেশে এখনো এই খাত প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি কৌশলগত বিনিয়োগের একটি ক্ষেত্র হতে পারে। বাস্তবতা বনাম সম্ভাবনা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বিকল্প জ্বালানি হলো সৌর শক্তি, বায়োগ্যাস, বায়োমাস, বায়ু শক্তি এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি। তবে বড় প্রশ্ন হলো—নীতিগত ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ—এই চারটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি ছাড়া কি এই সম্ভাবনাগুলো বাস্তবে রূপ পাবে? বাংলাদেশ যদি এই খাতগুলোকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে পারে, তাহলে শুধু আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোই নয়—বরং একটি টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং নিরাপদ জ্বালানি ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব।
আলম রায়হান: বর্তমান সরকারের প্রধান কর্মসূচির মধ্যে একটি হচ্ছে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন। কাগজপত্রের হিসাবে এ কাজ অতীব সহজ। বেকু দিয়ে কাটলেই হলো! উল্লেখ্য জনশক্তির ওপর নির্ভর করে এ কাজের সূচনা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বলা হয়, এটি নিছক কোনো কাজ নয়, একটি আন্দোলন। বিপ্লবও বলা চলে। দেশকে স্বনির্ভর করাই ছিল তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য। গভীরে আরও অনেক বিষয় ছিল। পানি নিয়ে ভাবতেন প্রেসিডেন্ট জিয়া প্রেসিডেন্ট জিয়া পানি নিয়ে ভাবতেন। যে ভাবনা থেকেই ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্সার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ পানি রক্ষায় নানান উদ্যোগ নিয়েছেন। এ উদ্যোগেরই আলোচিত ও আলোকিত দিক হচ্ছে খাল খনন। কয়েক দশক আগে সূচিত কাজটিই নতুন উদ্যমে হাতে নিয়েছেন জিয়াপুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিন্তু মাঝখানে পদ্মা-মেঘনা দিয়ে অনেক পানি গড়িয়েছে। ফলে জিয়াউর রহমানের পক্ষে যা বাম হাতের খেলা ছিল, তারেক রহমানের পক্ষে তা কতটা সহজ-এ নিয়ে অনেকেই ভাবছেন। সঙ্গে আরও অনেক প্রসঙ্গ নিয়ে নানান আলোচনা আছে। কিন্তু মূল কথাটি সম্ভবত এখনো তেমন আলোচনায় আসেনি। তা হচ্ছে, খাল কাটা হবে কোথায়, কীভাবে। এ প্রসঙ্গে কারও মনে পড়তেই পারে হাসন রাজার গান, ‘কী ঘর বানাইমু আমি শূন্যের মাঝার।’ এ প্রসঙ্গে অতীতের একটি ঘটনার অবতারণা করা যাক। এবং বলে রাখা ভালো, কোনো বিচারেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় নদী কমিশনের চেয়ারম্যানের তুলনা চলে না। তবে অনুমান করা যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নদী কমিশনের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ তো আনুপাতিকভাবে আসতেই পারে। শেখ হাসিনার দিকে ফিরেও তাকাননি উল্লেখ্য শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নদী কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী। তিনি শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও বেশ পরিচিত। এরপরও মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। যামিনী না পোহাতেই জাগাবার মতো ঘটনা ঘটেছে। যদিও অন্য রকম আকুতি আছে বরীন্দ্রনাথের গানে, ‘কেন যামিনী না যেতে জাগালে না, বেলা হলো মরি লাজে।’ নদী কমিশনের উল্লিখিত চেয়ারম্যান নদী-পানি রক্ষায় নিজেকে ক্ষমতাধর মনে করেছিলেন, রথের মতো। যেটাকে সরকারের ঘনিষ্ঠ ‘নদীখোর’ সাঙাতরা খুব বেশি বাড়াবাড়ি বলে বিবেচনা করেছিলেন। মনে রাখা প্রয়োজন, সব সরকারের আমলেই একদল সাঙাত জুটে যায়। এরা খুবই ক্ষমতাধর হয়। সরকারের সঙ্গে এদের সম্পর্কটা অনেকটা পরকীয়ার আদলে। ফলে সাঙাতদের বদনখানি মলিন হলেই সরকারের কেন্দ্রে এক প্রকার ঝাঁকুনি লাগে। যদিও নিদানকালে এসব সাঙাত কোনোই কাজে লাগে না। এটি শেখ হাসিনার পরিণতিতে দিবালোকের মতো স্পষ্ট। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যাঁরা চিরকাল থাকার সংকল্প করেছিলেন, এমনকি একত্রে কবরেও যাওয়ার কথা বলেছিলেন তাঁরা ইউটার্ন করেছেন নিমেষে। শেখ হাসিনার দিকে ফিরেও তাকাননি। কবরে যাওয়া তো অনেক দূরের বিষয়। কবর থেকে উঠতেই চাচ্ছিলেন না মোশতাক কবর প্রসঙ্গে একটি বিষয় উল্লেখ করা যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর বাবা ইন্তেকাল করেন। তাঁকে শেষবিদায়পর্বে যাঁরা কবরে নামিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে খোন্দকার মোশতাকও ছিলেন। কিন্তু তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে কবর থেকে আর উঠতেই চাচ্ছিলেন না। কিন্তু নির্মম ইতিহাস বলে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবার কবরে পাঠানোর ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এই মোশতাক। বলাবাহুল্য এরকম অনেক বাস্তবতা আছে। কিন্তু কেউ তেমন বিবেচনায় নেন না। শিক্ষা নেওয়া তো অনেক দূরের বিষয়। ওয়ান-ইলেভেনের পরিণতি কি কেউ বিবেচনায় নিয়েছেন? অন্তত আওয়ামী লীগ নেয়নি। যদিও হাসপাতাল থেকে অচল অবস্থায় কর্মীদের কাঁধে চড়ে বের হওয়ার সময় ওবায়দুল কাদের ওয়ান-ইলেভেনকে ‘একটি শিক্ষা’ হিসেবে উচ্চারণ করেছিলেন আবেগঘন নাটকীয়তায়। কিন্তু ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি এবং তাঁর সরকার কী করেছে? আসলে এটি হচ্ছে দেশের সরকারগুলোর ইনবিল্ড প্রবণতা। আর আমাদের রাজনীতিকরা যতটা না সরকার গঠন করেন, তার চেয়ে অনেক বেশি দৈন্যে সরকার কাঠামোতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। একপর্যায়ে এই কাঠামোবলয়ে আশ্রিত হয়ে যান এবং সরকার কাঠামোকেই সুরক্ষার বর্ম হিসেবে বিবেচনার বিভ্রমে আক্রান্ত হন। হেলাল হাফিজের কবিতার প্রিয়ার গালে মাছিকে তিল ভেবে ভুল করার মতো। ফলে সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়ার অবস্থায় তারা থাকেন না। শিরোমণি ছিলেন অতিবাচাল এক নারী কাজেই সরকার কাঠামোতে নদী-পানির বিষয়ে নদী কমিশনের চেয়ারম্যান তো নস্যি, মন্ত্রীও একপ্রকার তেজপাতা। কাজেই নদী কমিশনের চেয়ারম্যান যতই শেখ পরিবারঘনিষ্ঠ ও দক্ষ হন না কেন, তাতে কিছু যায় আসে না। ফলে নদী কমিশনের চেয়ারম্যানের সক্রিয় ভূমিকা বড় বেশি বাড়াবাড়ি মনে করা হয়েছিল ক্ষমতাকেন্দ্রের সাঙাতদের কাছে। তাঁর সবচেয়ে ‘বড় অপরাধ’ ছিল, তিনি ঢাকার চারদিকের চারটি নদী পরিষ্কার রাখার জন্য গোঁ ধরেছিলেন। যাকে বরিশালের স্থানীয় বয়ানে বলা হয়, ‘ছাগলের ঠেনি।’ চেয়ারম্যান এমনও বলেছিলেন, ‘নদীর পানি এমন স্বচ্ছ হবে যে ঝিনুক ফিরে আসবে, মাছ ধরার জন্য নদীর তীরে ধ্যানের মতো অপেক্ষায় থাকবে মাছরাঙা।’ কিন্তু এসবের কিছুই হয়নি। উল্টো খোদ প্রধানমন্ত্রীর রোষানলে অপমানিত হয়েই বিদায় নিয়েছেন। তবে এ অপকর্মের জন্য খুব ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের গলদঘর্ম হতে হয়নি। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদী দখল করে ডকইয়ার্ড নির্মাণকরী এক ব্যবসায়ী মূল খেলা খেলে দিয়েছেন। এর প্রেক্ষাপট প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় ছিল পরিবেশবাদীর ছদ্মাবরণে কতিপয় ভুঁইফোঁড় এনজিও। আর এদের শিরোমণি ছিলেন নাটকীয় বচনের অতিবাচাল এক নারী। পরে তিনি ইউনূস সরকারের উপদেষ্টার আসন অলংকৃত করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারে থাকাকালে তাঁর অনেক অপকর্মের ফিরিস্তি এর মধ্যেই বেশ চাউর হয়েছে। এরপরও তিনি বাচালপ্রবণতা ত্যাগ করতে পারেননি। কয়েক দিন আগে সংসদ নির্বাচনের সময় তাঁদের তৎপরতা প্রশ্নে বচন দিয়ে জামায়াতের হাতে একটি বড় ইস্যু তুলে দিয়েছেন, সরকারকে ফেলেছেন বিব্রতকর অবস্থায়। তিনি এমনই এক জিনিস। হাসিনার প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন ‘নদীখাদক’ এই অদম্য নারীর সঙ্গে যদি হাসিনা সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী যুক্ত হন তাহলে আর কিছু লাগে! প্রসঙ্গত এই প্রতিমন্ত্রীও ‘নদীখাদক’ হিসেবে কুখ্যাত। শুরুর দিকেই বলেছি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো কমিশন চেয়ারম্যানের তুলনা না চললেও অনুমান করা যায়। এই আলোকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার অনুকরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল কাটা উদ্যোগ পানির মতো সোজা মনে হচ্ছে না। প্রসঙ্গত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুরুতে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ছিলেন। তিনি ছিলেন একক ক্ষমতাধর। তাঁর হাতে ‘ডান্ডা’ ছিল। আর সেই সময়ে রাজনীতি ততটা কলুষিত হয়নি, যতটা হয়েছে পরবর্তী সময়ে ক্রমাগতভাবে। দ্রুত অধোগতির ধারায় রাজনীতির জার্সি গায়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের অপরাধী ও ধান্ধাবাজরা রাজনীতিতে ঢুকে পড়েছেন। ফলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে রাজনীতিতে ঠগ বাছতে কম্বল উজাড় হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হতে পারে। রাষ্ট্রকাঠামোতে নানান কিসিমের অপরাধীতে গিজগিজ করে রাষ্ট্রকাঠামোর ওপর দিকের বিভিন্ন স্তর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নানান কিসিমের অপরাধীতে গিজগিজ করে। এরা নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কোনো কিছুকে বিবেচনায় নেয় না। এই অপশক্তি বিভিন্ন দলে সংযুক্ত। তাদের বাহারি পরিচয় ‘নেতা’। কথিত এই নেতারা সুযোগ পেলে পাবলিকের খাতা ধরে টানাটানি করে। বস্ত্র হরণের একাধিক খবর তো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। অনেক খবর অপ্রকাশিতই থেকে যায়। কাজেই খাল খনন করতে গিয়ে যখন উচ্ছেদ প্রসঙ্গ আসবে তখনই হবে জটিল খেলা। এ প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী প্রকারান্তরে আগাম ধারণা দিয়ে রেখেছেন। তিনি ৮ মার্চ বলেছেন, ‘খাল এবং নদীর অনেক জায়গায় দীর্ঘ সময় পলি জমে ছিল, অনেক জায়গায় দোকানপাট বাড়িঘর গড়ে উঠেছিল। আমরা সব বাধাবিপত্তি দূর করে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’ প্রশ্ন হচ্ছে, যারা দখল করেছে তারা কি সহায়তা করার জন্য মুখিয়ে আছেন? এদের তো উচ্ছেদ করতে হবে। এটি মোটেই সহজ নয়, বরং খুবই কঠিন কাজ। পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্পর্কে মন্ত্রীর সম্যক ধারণা আছে? প্রশ্ন আছে, খাল কাটার উদ্দেশ্য কী? এ ব্যাপারে আগিলা সময়ের একটি পাঠ্য রচনা প্রসঙ্গে আসা যাক। সেই সময় রচনাবলির মধ্যে একটি ছিল, ‘যদি লাখ টাকা পাই’। শিশুতোষ রচনায় লাখ টাকা পেলে নানা পরিকল্পার কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সব ভাত গুড় দিয়ে খাওয়ার ভাবনা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, খাল কাটার প্রধান উদ্দেশ্যগুলো কী কী? আতা গাছে তোতা পাখির মতো সরকারি বয়ান নিশ্চয়ই প্রস্তুত, ‘বর্ষাকালের পানি ধারণ, শুষ্ক মৌশুমে কৃষিতে সেচের ব্যবহার এবং জলাবদ্ধতা দূর করা।’ খুবই ভালো কথা। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত করার দৃঢ়তা কি সরকারের বখেদমতে হুজুরেআলাদের আছে? এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। এদিকে মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে খাল কাটা কাজ হচ্ছে। কিন্তু যতটুকু জানা গেছে, খাল খননের মাঠের কাজটি করবে প্রধানত তাঁর মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএডিসি। কিন্তু নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্পর্কে মন্ত্রীর কী সম্যক ধারণা আছে? বলা কঠিন! প্রয়োজনে ক মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি হাসিনা সরকারের পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন। আবার উপমন্ত্রী বলে অবজ্ঞা করা ঠিক হবে না। কারণ এনামুল হক শামীম খুবই ক্ষমতাধর ছিলেন। এরপরও তিনি নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছুই করতে পারেননি। আরও অনেক কঠিন বাস্তবতা আছে। এসব অতিক্রম করেই খাল কাটা কর্মসূচি সফল করতে হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। যা পাহাড় লঙ্ঘনের মতোই কঠিন কাজ। যত জটিলতাই হোক না কেন, খাল কাটায় প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য কামনা করি। কারণ দেশ বাঁচানোর প্রাণভোমরা কিন্তু পানি। আর পানির প্রথম ধাপটিই হচ্ছে খালবিল-পুকুর, পরে নদী। খাল খনন কর্মসূচি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সামাজিক সহযোগিতা—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ—উভয়ের জন্যই জরুরি। কিন্তু পরিকল্পনা আর বাস্তবতার ব্যবধান কমানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মাসুদ করিম: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় থেকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি ধারণা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—যুদ্ধ এখন আর শুধু ভূখণ্ড দখল বা সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি অর্থনীতি, জ্বালানি এবং বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক জটিল প্রতিযোগিতা। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত—এই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পরও ইরানে সরকার পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। জ্বালানি: যুদ্ধের আসল কেন্দ্রবিন্দু? বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সংঘাতগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্বালানি ও বাণিজ্য পথ। বিশেষ করে: হরমুজ প্রণালি কৃষ্ণসাগর অঞ্চল বৈশ্বিক তেল সরবরাহ চেইন বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। এলএনজি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ করার পর ইউরোপ রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাধ্য হয়। এর ফলে: যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ওঠে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক ইউরোপ স্পট মার্কেটে বেশি দামে গ্যাস কিনতে শুরু করে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি পায় তবে এই লাভের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেন যুদ্ধে বিপুল অর্থ ব্যয়ও করতে হয়েছে। লাভ বনাম ঝুঁকি: জটিল সমীকরণ যদিও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানিকারকরা লাভবান, তবুও বড় কিছু ঝুঁকি রয়ে গেছে: দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ অর্থনীতিকে দুর্বল করতে পারে জোট রাজনীতিতে চাপ বাড়ে সামরিক ব্যয় বাড়তে থাকে এছাড়া, কাতারের মতো দেশ যদি হরমুজ প্রণালির ঝুঁকির কারণে রপ্তানি কমায়, তাহলে বিশ্ববাজারে এলএনজি দাম আরও বাড়তে পারে—যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্বল্পমেয়াদে সুবিধা আনলেও দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ: নতুন ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাতগুলো আসলে তিনটি বিষয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণের লড়াই: জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) সমুদ্রপথ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার সহজ হয়। বাংলাদেশ: চাপের মুখে অর্থনীতি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন: জ্বালানির দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ে ফলে বৈশ্বিক সংঘাতের সরাসরি অংশীদার না হয়েও বাংলাদেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে। নিরাপত্তা বনাম নির্ভরতা দশকের পর দশক ধরে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু যদি সেই নির্ভরতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তা শুধু সামরিক নয়—একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। শেষ কথা: যুদ্ধের শেষ কোথায়? বর্তমান বাস্তবতায় একটি বিষয় পরিষ্কার— এই যুদ্ধের কোনো সহজ সমাপ্তি নেই। এটি: আঞ্চলিক সংঘাতের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে জ্বালানি বাজারকে পুনর্গঠন করছে নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি করছে অতএব, প্রশ্নটি এখন আর শুধু “কে জিতবে?” নয়— বরং “এই যুদ্ধ থেকে কে কতটা লাভবান হবে, আর তার মূল্য কে দেবে?”
মেঘনা গুহ ঠাকুরতা: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ—বাংলার ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় কালরাত। এই রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে চালায় বর্বরোচিত গণহত্যা। তাদের লক্ষ্য ছিল বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া। কিন্তু সেই রক্তাক্ত রাতই উল্টো বাঙালিকে স্বাধীনতার পথে আরও দৃঢ় করে তোলে। সেই রাতের ভয়াবহতার শিকার হন অসংখ্য নিরীহ মানুষ, শিক্ষক, ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী। তাদেরই একজন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা। সেদিন রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন তিনি। সেদিনের ভয়াবহতার কিছু স্মৃতি তুলে ধরেছেন তার একমাত্র মেয়ে অধ্যাপক মেঘনা গুহ ঠাকুরতা। 🔥 গণহত্যার বিভীষিকা ২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি সেনারা হঠাৎ করেই হামলা চালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও পিলখানায়। জগন্নাথ হল, ইকবাল হল (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল)-সহ বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই নির্মম হত্যাযজ্ঞে শুধু ঢাকাতেই হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বন্ধ করে দেওয়া হয় টেলিফোন, রেডিও ও টেলিগ্রাম ব্যবস্থা। 🏠 ৩৪ নম্বর ভবনের সেই রাত অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা থাকতেন শহীদ মিনার আবাসিক এলাকার ৩৪ নম্বর ভবনে। তার মেয়ে মেঘনা গুহ ঠাকুরতা সেই রাতের স্মৃতি তুলে ধরেন। তার ভাষায়, ২৫ মার্চ রাত প্রায় ১১টার দিকে পাকিস্তানি সেনারা তাদের বাসায় হানা দেয়। এক কর্মকর্তা ও দুই সৈনিক এসে জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতাকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে অন্য ফ্ল্যাটগুলোতে তল্লাশি চালায়। এক পর্যায়ে শিক্ষক মনিরুজ্জামান এবং তার সঙ্গে থাকা তিনজন তরুণকে টেনে-হিঁচড়ে এনে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। 💔 “আপনার হাজবেন্ডকেও হয়তো মেরেছে” মনিরুজ্জামানের স্ত্রী এসে মেঘনার মাকে জানান—“আপনার হাজবেন্ডকেও হয়তো মেরেছে।” আতঙ্কিত পরিবার দ্রুত বাইরে গিয়ে দেখতে পায়, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন। মেঘনা জানান, সেনারা তার বাবার নাম ও ধর্ম জিজ্ঞেস করার পর গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঘরে এনে রাখা হয়, কারণ তখন কারফিউ চলছিল। 🏥 মৃত্যুপুরীতে পরিণত ঢাকা মেডিক্যাল ২৭ মার্চ কারফিউ শিথিল হলে তাকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে অবস্থা সংকটজনক হয়ে ওঠে। মেঘনার ভাষায়, হাসপাতালের করিডর, মেঝে—সব জায়গা লাশ ও আহত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ ছিল। চারদিকে রক্তের গন্ধ, আর্তনাদ আর মৃত্যুর মিছিল। চিকিৎসকরা জানান, তাকে আর বাঁচানো সম্ভব নয়। অবশেষে ৩০ মার্চ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 🕯️ ইতিহাসের এক অমোচনীয় ক্ষত ২৫ মার্চের সেই কালরাত শুধু একটি হত্যাযজ্ঞ নয়—এটি বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক নির্মম অধ্যায়। এই রাতেই শুরু হয় দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, যার মাধ্যমে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা সহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ বাঙালির ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার গাজীপুর ও বারিধারায় পরিচালিত একাধিক অভিযানে সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেড–এর বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের কর ফাঁকির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তদন্ত দল। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অপ্রদর্শিত তামাক ব্যবহার করে সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রি করেছে এবং এর বিপরীতে প্রাপ্য ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধ করেনি। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪৪৬ কোটি টাকা। গোপন তামাক ও উৎপাদনের হিসাব জালিয়াতির অভিযোগ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে স্থানীয় উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ তামাক কেনা হলেও তার বড় অংশ মূসক রিটার্নে দেখানো হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অঘোষিত তামাক ব্যবহার করে প্রায় ১১০ কোটি শলাকা সিগারেট উৎপাদন করা হয়। প্রতি শলাকার ন্যূনতম বাজারমূল্য ৫ টাকা ধরে এর মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫৫৪ কোটি টাকা, যার ওপর প্রযোজ্য কর ফাঁকি হয়েছে প্রায় ৩৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। একাধিক অভিযান ও নথি জব্দ এনবিআরের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (ঢাকা উত্তর) ২০২৫ সালের আগস্টে বারিধারার অফিস এবং গাজীপুরের কারখানায় অভিযান চালায়। অভিযানে জব্দ করা হয়— ব্যাংক স্টেটমেন্ট মূসক রেজিস্টার কম্পিউটার ও পেনড্রাইভ ইমেইল সার্ভারের তথ্য তদন্তকারীরা বলছেন, এসব নথিতে গোপন লেনদেন ও হিসাব গরমিলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। National Board of Revenue (NBR)–এর অধীন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি কর ফাঁকির মামলা করে। দুই মামলায় মোট দাবি ৪৪৬ কোটি টাকা তদন্ত অনুযায়ী— প্রথম মামলা: ৮৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা দ্বিতীয় মামলা: ৩৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা মোট অভিযোগিত কর ফাঁকি: প্রায় ৪৪৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা এনবিআর বলছে, এই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আদায়যোগ্য এবং এটি ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকির একটি গুরুতর উদাহরণ। অভিযোগ অস্বীকার ও আইনি প্রক্রিয়া ভার্গো টোব্যাকো কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তাদের ব্যবসার বড় অংশ রপ্তানিনির্ভর এবং প্রয়োজনীয় নথি এনবিআরের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোম্পানির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং বিষয়টি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাপ্ত নথি ও উৎপাদন বিশ্লেষণে গুরুতর অসংগতি পাওয়া গেছে। মাঠ পর্যায়ের বক্তব্য ও উত্তেজনা গাজীপুর কারখানায় উপস্থিত এক জেনারেল ম্যানেজার জানান, উৎপাদন ও কেনাকাটার হিসাব হেড অফিস থেকে পরিচালিত হয় এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে নেই। অন্যদিকে, কোম্পানির অভ্যন্তরে একজন পরিচয়ধারী ব্যক্তি সাংবাদিকদের প্রশ্নে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখান এবং বিষয়টি এনবিআরের আওতাধীন বলে মন্তব্য করেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গ্রাহকের বিমা দাবির টাকা পরিশোধ করতে না পারলেও ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে লাগামহীন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিডেট। প্রতিষ্ঠানটির কয়েক হাজার কোটি টাকার বিমা দাবি বকেয়া। একদিকে যেমন বিমা দাবি পরিশোধে সর্বনিন্মে অবস্থান, অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের নামে ভোগ-বিলাসে এগিয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে, কোম্পানিটির লাইফফান্ডের অবস্থাও অত্যান্ত নাজুক। শুধু তাই নয়, ফারইস্ট লাইফ পদে পদে লঙ্ঘন করছে আইন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীমাহীন অনিয়ম আর লুটপাটের ফলে ভয়াবহ তারল্য সংকটে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি হাতিয়ে নেয় কয়েক হাজার কোটি টাকা। গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেয় নতুন চেয়ারম্যান, কোনো উন্নতি নেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দায়িত্ব নেন বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম, পরে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নোয়াখালী-০৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কোম্পানির ২৫তম বোর্ড সভায় তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তার দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো উন্নতি হয়নি। ফারইস্ট লাইফ গ্রাহকের বিমা দাবির টাকা দিতে না পারলেও আইন লঙ্ঘন করে ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেছে। আর্থিক দিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল হলেও ভোগ-বিলাসে সবচেয়ে এগিয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবার প্রথমে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আইডিআরএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৫ সালে ২০টি জীবন বিমা কোম্পানি ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছে ১৩২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ফারইস্ট লাইফই ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করেছে ৮০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আইন অনুযায়ী এ খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ৫২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ আর্থিক দুর্দশার মধ্যেও আইন লঙ্ঘন করে কোম্পানিটি অবৈধভাবে ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। ভয়াবহ তারল্য সংকটেও কোম্পানিটির এত টাকা ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে খরচ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সাড়ে ৫ লাখেরও বেশি গ্রাহক পাননি বিমার টাকা ফারইস্টের বিমা দাবির টাকার জন্য গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন অস্থিরতা বিরাজ করছে। পলিসি পরিপক্ক হয়ে বছরের পর বছর সময় কেটে গেলেও তারল্য সংকটে গ্রাহকদের টাকা দিতে পারছে না কোম্পানিটি। ফারইস্ট লাইফের স্থানীয় শাখাগুলোতে টাকা না পেয়ে প্রধান কার্যালয়ে আসছেন অনেকে, তাতেও মিলছে না ফল। দ্বারে দ্বারে ঘুরে টাকা না পেয়ে অনেকে অভিযোগ করছেন বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষে (আইডিআরএ)। বিমা আইন অনুযায়ী পলিসি পরিপক্ক হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধের বিধান থাকলেও তা মানছে না ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে আলাপ হয় এ প্রতিবেদকের। সুমাইয়া নামের একজন গ্রাহক জানান, তার পলিসি পরিপক্ক হয়েছে ২০২১ সালে। অর্থাৎ প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি বিমা দাবির টাকা পাননি। পরবর্তীতে টাকা না পেয়ে অভিযোগ করেন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইডিআরএ, তাতেও মেলেনি সুরাহা। এমন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে আলাপ হয় শীর্ষনিউজের, যাদের অধিকাংশেরই ৫ থেকে ৬ বছর আগেই পলিসি পরিপক্ক হয়েছে। বিমা দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ২০২৫ সাল শেষে কোম্পানিটিতে ৩ হাজার ২২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। অর্থাৎ জীবন বিমা খাতের মোট বকেয়া দাবির ৭০ দশমিক ৩০ শতাংশই এই কোম্পানির। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৬ লাখ ২৪ হাজার ৬৯২ জন গ্রাহক ৩ হাজার ৪৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকার দাবি উত্থাপন করেন। এর বিপরীতে কোম্পানিটি ৫৮ হাজার ২১৫ জন গ্রাহকের ২১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ কোম্পানিটিতে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪৭৭ জন গ্রাহকের ৩ হাজার ২২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। বকেয়া পড়ে থাকা দাবির হার ৯৪ শতাংশ। ফারইস্ট লাইফের আর্থিক প্রতিবেদনের সবচেয়ে আশঙ্কাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে এর ‘লাইফ ফান্ড’ বা বিমা তহবিলে। বর্তমানে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ড বা বিমা তহবিল ৮৪৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ঋণাত্মক। সাধারণত গ্রাহকদের প্রিমিয়ামের টাকা দিয়ে এই তহবিল গঠিত হয়, যা থেকে পরবর্তীতে দাবি মেটানো হয়। তহবিল ঋণাত্মক হওয়ার অর্থ হলো, গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত নগদ অর্থ বা সম্পদ কোম্পানিটির হাতে নেই। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ১৬২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগ রয়েছে ১ হাজার ৮৪৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এসব বিষয়ে জানতে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুর রহিম ভূইয়া শীর্ষনিউজ ডটকমকে বলেন, ব্যবসা কমে যাওয়ার কারণে ম্যাচিউরিটি অনেক বেড়ে গেছে। কোম্পানির খরচ কমানোর জন্য অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূল থিম হলো ব্যবসা, এটা কমে গেলে ব্যয় বেড়ে যায়। কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবসা বাড়ানোর জন্য অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে শীর্ষে আরও যেসব বিমা কোম্পানি আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৫ সালে ২০টি জীবন বিমা কোম্পানি ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছে ১৩২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আইন লঙ্ঘন করে বছরটিতে ব্যবস্থাপনা খাতে সব থেকে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ। প্রতিষ্ঠানটি ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। আইন অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা খাতে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ৫২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অথচ ব্যয় করা হয়েছে ৮০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর পরের স্থানেই রয়েছে শান্তা লাইফ। কোম্পানিটি অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। বিপরীতে ব্যয় করা হয়েছে ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। আইন লঙ্ঘন করে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করার তালিকায় রয়েছে প্রোগ্রেসিভ লাইফও। কোম্পানিটি আইন লঙ্ঘন করে ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। আইন অনুযায়ী, কোম্পানিটির সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কিন্তু ব্যয় হয়েছে ২৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। একইভাবে এনআরবি ইসলামী লাইফের সর্বোচ্চ ব্যয় সীমা ১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা নির্ধারিত হলেও কোম্পানিটি ২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। অর্থাৎ অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রোটেক্টিভ লাইফের সর্বোচ্চ ব্যয় সীমা ৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা নির্ধারিত হলেও কোম্পানিটি ১৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এ হিসাবে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এছাড়া চার্টার্ড লাইফ ৮ কোটি ৪৭ লাখ, জেনিথ ইসলামী লাইফ ৬ কোটি ৬১ লাখ, সান লাইফ ৬ কোটি ২৩ লাখ, স্বদেশ লাইফ ৬ কোটি ৫ লাখ, হোমল্যান্ড লাইফ ৫ কোটি ৯১ লাখ, সোনালী লাইফ ৫ কোটি ৩৪ লাখ, যমুনা লাইফ ৫ কোটি ৩৩ লাখ, পদ্মা ইসলামী লাইফ ৪ কোটি ৬৬ লাখ, গোল্ডেন লাইফ ৩ কোটি ৩৮ লাখ, বায়লা লাইফ ২ কোটি ৫৮ লাখ, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ ২ কোটি ৪১ লাখ, সানফ্লাওয়ার লাইফ ১ কোটি ৩৭ লাখ এবং ডায়মন্ড লাইফ ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা আইন লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। আইন অনুযায়ী, বছরটিতে চার্টার্ড লাইফের ৩০ কোটি ৩৯ লাখ, জেনিথ ইসলামী লাইফের ২৫ কোটি ৫৭ লাখ, সান লাইফের ৩ কোটি ৫৩ লাখ, স্বদেশ লাইফের ১০ কোটি ৭৯ লাখ, হোমল্যান্ড লাইফের ৪ কোটি ১২ লাখ, সোনালী লাইফের ৩৭৮ কোটি ৬৩ লাখ, যমুনা লাইফের ১৭ কোটি ৩৬ লাখ, পদ্মা ইসলামী লাইফের ৮ কোটি ৮৫ লাখ, গোল্ডেন লাইফের ১১ কোটি ৮৫ লাখ, বায়লা লাইফের ৬ লাখ, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের ৮ কোটি ২৪ লাখ, সানফ্লাওয়ার লাইফের ৪ কোটি ৮৭ লাখ এবং ডায়মন্ড লাইফের ১০ কোটি ১ লাখ টাকা সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা নির্ধারিত ছিল। এসব বিষয়ে কথা বলতে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি—রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত এই মেগা প্রকল্পের আবাসন খাত ‘গ্রিন সিটি’ এখন দুর্নীতির অভিযোগে বারবার আলোচনায়। সরকারি নিরীক্ষা, গণমাধ্যমের অনুসন্ধান এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে উঠে এসেছে অস্বাভাবিক ব্যয়, প্রশ্নবিদ্ধ ক্রয়প্রক্রিয়া এবং অতিরিক্ত বিলের বিস্ময়কর তথ্য। আর এসব অভিযোগের কেন্দ্রে ঘুরেফিরে এসেছে সাবেক প্রকল্প পরিচালক মো. শওকত আকবরের নাম। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পের প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকা একজন প্রকল্প পরিচালকের অগোচরে এমন ব্যয়ের অসঙ্গতি দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রায় অসম্ভব। ড্রেসিং টেবিলে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয় মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার ৫০০ টাকা এমন একটি ড্রেসিং টেবিল সরকারি নথিতে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মোট ১ হাজার ৩৪২টি ড্রেসিং টেবিল কেনায় অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে একই ধরনের পণ্যের দামে বিশাল পার্থক্য নিয়ে। কোথাও একটি ড্রেসিং টেবিলের দাম দেখানো হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা, কোথাও ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, আবার কোথাও সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এমন ব্যয়ের অনুমোদন প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরের বাইরে সম্ভব নয়। কারণ ক্রয় অনুমোদন, বিল যাচাই এবং অর্থ ছাড়—সবই শেষ পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালকের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। ‘বালিশ কাণ্ড’ যেভাবে প্রতীকে পরিণত হয় রূপপুর প্রকল্প নিয়ে জনমনে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তোলে তথাকথিত ‘বালিশ কাণ্ড’। সিএজির অনুসন্ধানে দেখা যায়, একটি বালিশ কেনা ও বহনের জন্য সর্বোচ্চ ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং এটি সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির প্রতীকে পরিণত হয়। পরে একে একে সামনে আসে বিছানার চাদর, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগ। সমালোচকদের মতে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি বৃহৎ আর্থিক অনিয়মের ধারাবাহিক অংশ। ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গ্রিন সিটি প্রকল্পে আসবাবপত্র কেনাকাটার পুরো প্রক্রিয়াই ছিল অস্বচ্ছ। অভিযোগ রয়েছে, বাজার যাচাই ছাড়াই নির্দিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ বণ্টন এবং পরে অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সিএজির প্রতিবেদনে সাজিন কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত উত্তোলনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রশ্নের মুখে প্রকল্প পরিচালকের ভূমিকা রূপপুর প্রকল্পে একের পর এক অনিয়মের সময় প্রকল্প পরিচালক ছিলেন মো. শওকত আকবর। প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক ও নিয়মসম্মত কি না তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল তাঁর দপ্তরের। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, তাঁর দায়িত্বকালেই বালিশ, ড্রেসিং টেবিলসহ বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক ব্যয়ের তথ্য সামনে এসেছে। গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশের পরও দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রশ্ন উঠেছে—উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক সুরক্ষা ছাড়া এত বড় আর্থিক অনিয়ম কীভাবে সম্ভব হয়েছিল? যদিও অভিযোগের বিষয়ে মো. শওকত আকবরের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রকাশ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায় এড়ানোর সুযোগ তাঁর নেই। দুদকের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ দুদক সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে একাধিক অনুসন্ধান চলছে। বালিশ-কাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগের ২৯ জন প্রকৌশলীকে তলব করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন—এত নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও অনুসন্ধান সত্ত্বেও মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা কেন দেখা যাচ্ছে না? বিদেশ সফর ও বিলাসী ব্যয়ের অভিযোগ শুধু আসবাবপত্র নয়, বিদেশ সফর ও আবাসন ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ায় কর্মকর্তাদের জন্য বাসা ভাড়া দেখানো হলেও তাঁরা অবস্থান করেছেন বিলাসবহুল হোটেলে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সময়েও প্রকল্পের প্রশাসনিক নেতৃত্বে ছিলেন মো. শওকত আকবর। বৃহত্তর প্রশ্ন: কতটা নিরাপদ মেগা প্রকল্পের অর্থ? সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে, রূপপুর প্রকল্পের ঘটনাগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প ব্যবস্থাপনার গভীর দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। তাঁদের যুক্তি, যদি একটি প্রকল্পে বালিশ, ড্রেসিং টেবিল ও আসবাব কেনাতেই কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়, তাহলে মূল অবকাঠামোগত কাজগুলোতে কী পরিমাণ অর্থ অপচয় বা আত্মসাৎ হয়েছে—সেটি নিয়েও জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হবে। এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও আদালতে করা আবেদনে রূপপুর প্রকল্প থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। এমনকি ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ লোপাটের অভিযোগ তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়েরের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। জবাবদিহির প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রূপপুর প্রকল্পে অনিয়মের ঘটনায় কয়েকজন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এখনো স্পষ্ট নয়। দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর মতে, রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে পরিচালিত একটি প্রকল্পে যদি অনিয়মের অভিযোগের পরও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতের মেগা প্রকল্পগুলোও একই ঝুঁকিতে পড়বে। বর্তমানে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলমান থাকলেও জনমনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে—এত অভিযোগ, এত নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং এত তথ্য প্রকাশের পরও কেন মূল দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিচার দেখা যাচ্ছে না? আর সেই প্রশ্নের কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম—মো. শওকত আকবর।
বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাবর্তন: প্রশ্নের মুখে পুলিশ সংস্কারের অঙ্গীকার ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট দেশের প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে একটি খবর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে—বদলির আদেশ পাওয়ার পর তিনি থানার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), টেলিভিশন, আইপিএস ও সোফা সেট খুলে বাসায় নিয়ে গেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তীব্র সমালোচনার মুখে তাকে ভূঞাপুর থানা থেকে সরিয়ে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই ফরিদুল ইসলাম এখন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বনানী থানার ওসি। ফরিদুল ইসলাম দাবি করেন, সে সময় সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি “অতিরঞ্জিতভাবে” উপস্থাপন করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, তিনি নিজেও প্রশাসনিকভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে শুধু একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি দমন কিংবা ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে সমালোচিত বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ থানা ও প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে পুলিশের ভেতর থেকেই। ‘শাস্তিমূলক বদলি’ থেকে আবার রাজধানীতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যেসব কর্মকর্তাকে ঢাকা বা গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট থেকে সরিয়ে দূরবর্তী স্টেশনে পাঠানো হয়েছিল, তাদের অনেকেই আবার রাজধানীতে ফিরছেন। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উচ্চপর্যায়কে “ম্যানেজ” করেই এসব পদায়ন হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে এখনো প্রভাবশালী একটি বলয় সক্রিয় রয়েছে, যারা আগের সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখছে। এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে পুলিশ ভয়াবহ ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে। গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা হয়েছিল। এখন আবার বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে সেই প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” হত্যা মামলার আসামি, তবু এসপি পদে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) পদে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানের পদায়ন। ৫ মে তাকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের দমন, হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ বহুদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে ছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে শিবগঞ্জ যুবদল নেতা মিজান হত্যাকাণ্ডের মামলাটি বিশেষভাবে আলোচিত। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিজান। নিহতের বাবা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হত্যা মামলা দায়ের করলে মাহবুব আলম খানকে আসামি করা হয়। আরেকটি হত্যা মামলাতেও তার নাম রয়েছে। তবে মাহবুব আলম খান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলে তিনি দায়মুক্ত হবেন। ডিএমপিতে ফিরছেন পুরোনো মুখ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালন করা নুরুল মুত্তাকিনও আবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরেছেন। আওয়ামী আমলে তিনি ডেমরা, ভাটারা, তুরাগ ও লালবাগ থানার ওসি ছিলেন। পরবর্তীতে ডিএমপির সহকারী কমিশনার (এসি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তাকে এপিবিএনে পাঠানো হলেও মার্চ মাসে আবার ডিএমপিতে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুর জোনে এসি (প্যাট্রোল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে গুলশান থানার বর্তমান ওসি দাউদ খানও দীর্ঘদিন ডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ডিএমপির বহু কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে পাঠানো হলেও তিনি রাজধানীতেই থেকে যান। পরে পর্যায়ক্রমে খিলগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট হয়ে গুলশান থানার ওসি হন। ‘বঞ্চিত’ কর্মকর্তাদের ক্ষোভ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে এ নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আওয়ামী আমলে তাদের “ব্ল্যাকলিস্টেড” রাখা হয়েছিল। ছাত্রদল বা বিএনপিপন্থি পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তারা পদোন্নতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন থেকে বঞ্চিত হন। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা বৈষম্য দূর হওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে আগের সরকারের সুবিধাভোগীরাই আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন। এক কর্মকর্তা বলেন, “যারা বিগত সময়ে নির্যাতন-নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারাই এখন পুনর্বাসিত হচ্ছেন। অথচ বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।” সমালোচনার মুখে একাধিক পদায়ন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও কয়েকটি পদায়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মাহাবুব রহমান, যিনি আওয়ামী সরকারের শেষদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার ওসি ছিলেন, তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ওসি করা হয়েছে। আমির হোসেন সেরনিয়াবাতকে মাদারীপুরের শিবচর থানার ওসি করা হলেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে চার দিনের মাথায় প্রত্যাহার করা হয়। ভোলা ছাত্রদল নেতা নুরে আলম হত্যা মামলার আসামি আরমান হোসেনকে কক্সবাজারের রামু থানার ওসি করার আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত সেই পদায়ন কার্যকর হয়নি। চট্টগ্রামে নূর হোসেন মামুন ও আতিকুর রহমানের মতো কর্মকর্তারাও গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া সাভার, আশুলিয়া, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ রেঞ্জের কয়েকটি থানার ওসি পদায়ন নিয়েও পুলিশের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে। ভাবমূর্তি বনাম প্রশাসনিক বাস্তবতা বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল বা গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন জনমনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তাদের মতে, প্রশাসনিক দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত না হলে পুলিশ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, তিনি সম্প্রতি প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার পর মন্তব্য করবেন। তবে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশ বাহিনীর ভেতরে কি সত্যিই পরিবর্তন এসেছে, নাকি পুরোনো প্রভাববলয় নতুন বাস্তবতায় আবারও নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে?
ই-জিপিতে দ্বৈত পরিচয়ে হাজার কোটি টাকার সরকারি কাজের অভিযোগ রংপুর মেটালকে ঘিরে প্রভাব, কর ফাঁকি ও সমন্বিত দরপত্র কারসাজির বিস্তৃত তথ্য সামনে............... ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চালু হওয়া ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পদ্ধতিকে ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানের দুটি ভিন্ন পরিচয়ে শত শত কোটি টাকার সরকারি কাজ নেওয়ার অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত “Rangpur Metal Industries Limited” এবং “Rangpur Metal Industries Ltd.” নামে পরিচালিত দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করা, ভ্যাট-ট্যাক্স গোপন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অস্বচ্ছ সম্পর্কের গুরুতর অভিযোগ। দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র, ই-জিপি রেকর্ড, সরকারি নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় এক দশক ধরে একই মালিকানাধীন এই দুই পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২১৩টি সরকারি কাজ, প্রায় ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার কার্যাদেশ অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটি অন্তত ২১৩টি সরকারি কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে— “Rangpur Metal Industries Limited” নামে প্রায় ২৮৮ কোটি টাকার কাজ “Rangpur Metal Industries Ltd.” নামে প্রায় ৭৭১ কোটি টাকার কাজ সব মিলিয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার কার্যাদেশ নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, দুটি প্রতিষ্ঠান কার্যত একই নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হলেও ভিন্ন পরিচয়ে দরপত্রে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার একটি কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। ‘Limited’ বনাম ‘Ltd.’: সামান্য পার্থক্যে আলাদা পরিচয় সরকারি নথিতে দেখা গেছে, “Limited” এবং “Ltd.” শব্দ ব্যবহারের সামান্য পার্থক্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটি ই-জিপি প্ল্যাটফর্মে পৃথক সত্তা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। তবে তাদের— ব্যবসায়িক কার্যক্রম অফিস ঠিকানা পরিচালনা কাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সক্ষমতা আর্থিক নথি বিশ্লেষণ করলে একই প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাদের অভিযোগ, এই দ্বৈত পরিচয় মূলত সরকারি কাজ ভাগিয়ে নেওয়া এবং আর্থিক হিসাবকে জটিল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। ভ্যাট সনদে অসঙ্গতির অভিযোগ একাধিক নথিতে দেখা গেছে, একটি প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র জমা দেওয়া হলেও সেখানে অন্য প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সনদ ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে টেন্ডার আইডি ১০৬৩৬৯৯ এবং ১০৬০৬৯৯ সংক্রান্ত নথিতে এই অসঙ্গতির অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, “Rangpur Metal Industries Ltd.”-এর ভ্যাট সনদ ব্যবহার করে “Rangpur Metal Industries Limited” নামে দরপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এর মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক হিসাব গোপন করে সরকারের কাছে কম কাজ দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন সরকারি ক্রয়বিধি বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ইউনিক e-GP Registration ID থাকার কথা। একই নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের একাধিক পরিচয় ব্যবহার করা হলে তা Public Procurement Rules (PPR 2008)-এর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে— Rule 127: প্রতারণামূলক অংশগ্রহণ Rule 128(1): বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান —এর আওতায় বিষয়টি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ই-জিপি সিস্টেম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে একটি প্রতিষ্ঠানকে ইউনিকভাবে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু কিছু বড় প্রতিষ্ঠান নামের সামান্য পরিবর্তন, আলাদা BIN বা ভিন্ন কাগজপত্র ব্যবহার করে সিস্টেমকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে।” তার ভাষায়, “এখানে শুধু সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতা নয়, ভেতরের সহযোগিতার বিষয়ও থাকতে পারে।” প্রভাব বিস্তার ও ‘পূর্বনির্ধারিত’ টেন্ডারের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠান দুটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থায় প্রভাব বিস্তার করে এসেছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে তারা কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে রয়েছে— বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকা ওয়াসা শিক্ষা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা বিশেষ করে লিফট সরবরাহ ও স্থাপনের বড় প্রকল্পগুলোতে প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদাররা। একজন ঠিকাদারের ভাষ্য, “অনেক সময় টেন্ডারের শর্তই এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ যোগ্য না হয়। আবার কোথাও একই প্রতিষ্ঠানের দুই নাম অংশ নেয়। বাইরে থেকে প্রতিযোগিতা দেখালেও ভেতরে ভেতরে কাজ আগেই নির্ধারিত থাকে।” ‘Collusive Bidding’-এর আশঙ্কা ই-জিপি বিশ্লেষকদের মতে, একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে দরপত্রে অংশ নেওয়া হলে সেটি “Collusive Bidding” বা সমন্বিত দরপত্র কারসাজির পর্যায়ে পড়তে পারে। এ ধরনের কারসাজিতে— প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয় বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দামে কাজ কেনার ঝুঁকি তৈরি হয় সরকারি অর্থের অপচয় বাড়ে একজন সাবেক প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ বলেন, “ই-জিপি চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবিক হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রতিযোগিতা বাড়ানো। কিন্তু একই প্রতিষ্ঠান যদি ভিন্ন নামে অংশ নেয়, তাহলে পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।” কর ফাঁকির সম্ভাবনা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, “Rangpur Metal Industries Ltd.” এবং “Rangpur Metal Industries Limited” নামে ব্যবহৃত BIN, ভ্যাট নথি এবং আর্থিক হিসাবের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। কিছু নথিতে “RFL Regal” নামও উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের মতে, এটি আর্থিক লেনদেনকে জটিল করার কৌশল হতে পারে। এক কর বিশেষজ্ঞ বলেন, “যদি কোনো প্রতিষ্ঠান আলাদা নামে কাজ করে কিন্তু আর্থিক হিসাব একত্রে না দেখায়, তাহলে ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি হয়। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।” দুদক, BPPA ও RJSC-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তর তথ্য চেয়েছে। কিছু নথি পাঠানো হয়েছে দুদক, BPPA এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথোরিটির (BPPA) একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে RJSC-এর ভূমিকা নিয়েও। কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে, “Limited” এবং “Ltd.” মূলত একই অর্থ বহন করে। ফলে একই ধরনের নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো, সেটিও তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। আইনজীবীদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি প্রশাসনিক অনিয়মের বাইরে গিয়ে জালিয়াতি, তথ্য গোপন এবং প্রতারণার পর্যায়েও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে— কোম্পানির নিবন্ধন বাতিল কালো তালিকাভুক্তি আর্থিক জরিমানা ফৌজদারি মামলা —এসব পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ‘ব্যবস্থাগত দুর্বলতা’র বড় প্রশ্ন অভিযোগকারীদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার মালিকানা যাচাই ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি সংগঠিত প্রক্রিয়া। তাদের ভাষায়, “প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা থাকলেও প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের ঘাটতি কাজে লাগিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান পুরো ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।” দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ যাচাইয়ের অংশ হিসেবে— BIN ও TIN তথ্য RJSC নিবন্ধন ব্যাংক লেনদেন ভ্যাট রিটার্ন e-GP কার্যক্রম গত এক দশকের ওয়ার্ক অর্ডার —বিশ্লেষণের প্রস্তাব উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার অন্যতম বড় অনিয়মের ঘটনায় পরিণত হতে পারে।
বরিশাল অফিস : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত ভোটকক্ষ ও দুর্গম কেন্দ্র দেখানো, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের নামে অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসনের অভ্যন্তরে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশের দাবি, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ প্রকৃত কাজে ব্যয় না করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়ম আড়াল করতে প্রশাসনিক চাপ, বদলি এবং কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব খাটানোর ঘটনাও ঘটেছে। অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত অস্থায়ী ভোটকক্ষ ও দুর্গম ভোটকেন্দ্র দেখিয়ে প্রায় ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ আনা হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, বরিশালের ১০ উপজেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের জন্য মোট ৮৩৩টি ভোটকেন্দ্র ও ৫ হাজার ১৯৭টি ভোটকক্ষ দেখানো হয়। এর মধ্যে ৭৭৭টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ, ১৯৫টি দুর্গম ভোটকেন্দ্র এবং ১ হাজার ৮৯৩টি দুর্গম ভোটকক্ষ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে উপজেলা নির্বাচন অফিসের বিভিন্ন নথিতে এ সংখ্যাগুলোতে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের একটি স্মারকে প্রথমে দুর্গম ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১০০ উল্লেখ করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৫৫ করা হয়। একইভাবে মুলাদীতে ৭২ থেকে ৩৯ এবং হিজলায় ৪৯ থেকে ২৩টি দুর্গম কেন্দ্র দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রকৃত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ দেখিয়ে যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ আনা হয়েছিল, তার বড় অংশ ডিসি কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে থেকে যায়। ‘ভুয়া ভাউচার’ সমন্বয়ের অভিযোগ সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন থেকে বরিশাল জেলা রিটার্নিং অফিসের জন্য মোট ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ অর্থ ভোটকেন্দ্র পরিচালনা, সরঞ্জাম পরিবহন ও প্রশাসনিক ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহারের কথা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত বরাদ্দ বৈধ দেখাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিল-ভাউচার সংগ্রহ করা হয়। কয়েকজন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে অতিরিক্ত ভাউচার পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকিতে নিয়োজিত ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে প্রায় ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আপ্যায়ন, পিএল ব্যয় এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় নিয়োজিত সহকারী কর্মীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত অর্থ তাদের হাতে পৌঁছায়নি। একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে অনেক কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হন। পরে কয়েকজনকে আংশিক অর্থ দেওয়া হলেও বাকি অর্থ ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্যাকডেটে ভাউচারে সই করার জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ ও বদলির অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা ব্যয়-সংক্রান্ত তথ্য জানতেন—এমন কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন শাখায় বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ শাখা, মানবসম্পদ শাখা এবং অন্য জেলায় বদলির ঘটনাও রয়েছে। কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রশাসনিক সুবিধা সীমিত করার অভিযোগও উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় না করে তা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়। এর প্রতিবাদ করায় অনেক কর্মকর্তাকে প্রশাসনিকভাবে চাপে রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, “প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনী ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলার পর অনেকের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।” আরও যেসব খাতে অনিয়মের অভিযোগ সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কন্ট্রোল রুম, ফলাফল সংগ্রহ, পর্যবেক্ষক টিম, আপ্যায়ন ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দকৃত কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া ২৬ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে স্থানীয় উৎস থেকে সংগৃহীত প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ব্যবহারে অনিয়ম এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের অভিযোগও রয়েছে। ডিসি বাংলোর সংস্কারের জন্য ত্রাণ তহবিল থেকে প্রায় আট লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবে কাজ হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, টিআর নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের ব্যয় বৈধ নয়। ডিসির বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফোন, বার্তা ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঝালকাঠি: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া এলাকায় পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উপলক্ষে এক প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে আয়োজিত এই খেলায় অংশ নেয় “লিজেন্ড অফ কাঁঠালিয়া” বনাম “লিজেন্ড অফ আমুয়া” দল। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয় লাভ করে লিজেন্ড অফ কাঁঠালিয়া এবং রানার্সআপ হয় লিজেন্ড অফ আমুয়া। বিজয়ী দলের হয়ে দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেন, যিনি দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করেন। লিজেন্ড অফ কাঁঠালিয়া দলের অধিনায়ক ছিলেন স্থানীয়ভাবে পরিচিত প্রিয় হাছিব ভুট্টো আকন। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কাঁঠালিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আখতার হোসেন নিজাম মিরবহর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমুয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ এলাকার অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমী দর্শক। নববর্ষের আনন্দকে ঘিরে আয়োজিত এই প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলমান আসরে সবার আগে সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করল দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। ডি গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ৩ ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে পরের পর্বে উঠেছে প্রোটিয়ারা। শনিবার ভারতের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৭৫ রান। নিউজিল্যান্ডের লড়াকু সংগ্রহ কিউইদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন Mark Chapman। এছাড়া ৩২ রান যোগ করেন Daryl Mitchell। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি তাদের। মার্করামের ব্যাটে জয়ের বন্দনা ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা কিছুটা সতর্ক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। কিন্তু অধিনায়ক Aiden Markram ক্রিজে সেট হওয়ার পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় প্রোটিয়াদের হাতে। ৪৪ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মার্করাম। তার ব্যাটিং নৈপুণ্যে ১৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের বড় জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচে রানের রেকর্ড এই ম্যাচে দুই দল মিলে মোট ৩৫৩ রান করে, যা চলতি আসরের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মিলিত রান। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে গড়ে ওঠে আরও একটি ব্যক্তিগত রেকর্ড। ডি ককের নতুন মাইলফলক দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান Quinton de Kock টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েন। তিনি ছাড়িয়ে যান ভারতের কিংবদন্তি অধিনায়ক MS Dhoniকে। ডি ককের ডিসমিসালের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩-এ। ডি গ্রুপ থেকে টানা তিন জয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা এখন সুপার এইট পর্বের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেবে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সামনে অপেক্ষা করছে বাঁচা-মরার লড়াই।
ব্যাটার শেরফানে রাদারফোর্ড ও স্পিনার গুদাকেশ মোতির কল্যাণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গতরাতে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। ব্যাট হাতে রাদারফোর্ড ৪২ বলে অনবদ্য ৭৬ এবং স্পিনার মোতি ৩ উইকেট নেন। মুম্বাইয়ে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮ রানে দুই ওপেনারকে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় উইকেটে ২৮ বলে ৪৭ রান যোগ করে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন শিমরোন হেটমায়ার ও রোস্টন চেজ। দলীয় ৭৭ রানের মধ্যে বিদায় নেন তারা। হেটমায়ার ২৩ ও চেজ ৩৪ রান করেন। এরপর রোভম্যান পাওয়েলকে নিয়ে ২৯ বলে ৫১ এবং জেসন হোল্ডারের সাথে ৩২ বলে ৬১ রানের জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৬ রানের সংগ্রহ এনে দেন রাদারফোর্ড। পাওয়েল ১৪ ও হোল্ডার ১৭ বলে ৩৩ রান করেন। ২টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৪২ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন রাদারফোর্ড। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিংয়ের সামনে বড় ইনিংস খেলতে পারেনি ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা। ১৯ ওভারে ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায় তারা। দলের হয়ে স্যাম কারান ৪৩, জ্যাকব বেথেল ৩৩ ও ফিল সল্ট ৩০ রান করেন। মোতি ৩৩ রানে ৩টি ও চেজ ২৯ রানে ২ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন রাদারফোর্ড।
আগামী মাসের নারী এশিয়ান কাপের শিরোপা জিতে “নতুন ইতিহাস” গড়তে চায় জাপান, এমনটাই জানিয়েছেন দলের কোচ নিলস নিয়েলসেন। বৃহস্পতিবার ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন নিয়েলসেন। যেখানে তিনি ইংল্যান্ডভিত্তিক ১৬ জন খেলোয়াড়কে দলে রেখেছেন। জাপান এশিয়ার একমাত্র দেশ যারা নারী বিশ্বকাপ জিতেছে, তবে এ পর্যন্ত খেলা ২০ আসরের এশিয়ান কাপে তারা মাত্র দু’বার শিরোপা জিতেছে। সর্বশেষ শিরোপা আসে ২০১৮ সালে। জাপান নারী দলের প্রথম বিদেশী কোচ গ্রিনল্যান্ডে জন্ম নেওয়া নিয়েলসেন মনে করেন, আগামী ১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে এবারই জাপানের সামনে সেরা সুযোগ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেয়া ৫৪ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, “ঐতিহাসিকভাবে এই টুর্নামেন্ট জাপানের জন্য সহজ ছিল না। আমরা নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। আমাদের এমন একটি দল আছে যারা শিরোপা জিততে সক্ষম। তাই ট্রফি না জেতা পর্যন্ত আমরা সন্তুষ্ট হতে পারছি না।” ২৬ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হিনাতা মিয়াজাওয়া, যিনি ২০২৩ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটির ইউই হাসেগাওয়া ও আওবা ফুজিনোও রয়েছেন। ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য এবং ১৬৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ডিফেন্ডার সাকি কুমাগাই এখনও দলে আছেন। জাপানের ঘরোয়া ডব্লিউই লিগ থেকে মাত্র চারজন খেলোয়াড় দলে সুযোগ পেয়েছেন। নিয়েলসেন জানান, চোট-আঘাতের সমস্যা না থাকায় চূড়ান্ত দল নির্বাচন খুব কঠিন ছিল না। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি দল পেয়েছি যেখানে সব ধরনের বৈচিত্র্য আছে। প্রায় সব পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত। একই ধরনের অনেক খেলোয়াড় আমরা নেইনি। কারণ মাঠে কাউকে বদলি করলে আমরা ভিন্ন কিছু যোগ করতে চাই।” প্রথম রাউন্ডে তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকা জাপান ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে। নিয়েলসেন বলেন, “প্রতিপক্ষ যে কৌশল নিয়ে আসুক না কেন, আমাদের স্কোয়াডে তার জবাব দেওয়ার মতো সমাধান আছে বলেই আমি বিশ্বাস করি।”
উৎসবমুখর পরিবেশে জীবনের প্রথমবারের মত ভোট দিতে পেরে উচ্ছসিত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। আজ বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একটি বুথে ভোট প্রদান করেন তামিম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের তামিম ইকবাল বলেন, ‘জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। খুবই এক্সাইটেড। পরিবেশ খুবই ভাল লাগছে। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি।’ পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফাইড পেজে ভোট দেওয়ার ছবি দিয়ে তামিম লিখেন, ‘ভোট আমার নাগরিক অধিকার। নিজে ভোট দিলাম এবং দেখলাম স্বতস্ফূর্ত উৎসাহে অনেকেই ভোট দিচ্ছেন। সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সবাইকে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’ যে কেন্দ্রে তামিম ভোট দিয়েছেন, সেটি চট্টগ্রাম-৯ আসন। কোতোয়ালি থানার এ আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, ১১ দলীয় জোটের এ কে এম ফজলুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুস শুক্কুর, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ, বাসদের মো. শফি উদ্দিন কবির, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন, নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছার মজুমদার, জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী ও জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফাইড পেজে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। ঢাকা-৯ আসনে দক্ষিণ বনশ্রী মডেল হাই স্কুলে ভোট দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় দলের বর্তমান ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। ভোট দেওয়ার ছবি আপলোড করে ফেসুবকে আশরাফুল লিখেছেন, ‘সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আজ ভোট দিলাম। দায়িত্ববোধ শেখানো শুরু ঘর থেকেই।’ রংপুরে নিজ এলাকায় প্রথমবার ভোট দিয়েছেন ২০২০ সালে আইসিসি যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলি। নিজ এলাকার মানুষদের সাথে ভোট দেওয়ার ছবি আপলোড করেছেন তিনি। ছবির ক্যাপশনে আকবর লিখেছেন, ‘প্রথম ভোট।’ আকবরের মত প্রথমবার ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান। নিজ এলাকা দৌলতপুরে ভোট দিয়েছেন তিনি। ভোট কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি ফেসবুকে দিয়েছেন সোহান। ছবির ক্যাপশনে সোহান লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, প্রথমবার ভোট দিলাম।’ জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে আনন্দিত জাতীয় দলের ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয়। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘দিয়ে আসলাম, জীবনের প্রথম ভোট।’ ফেনিতে ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ভোট দেওয়ার ছবি ফেসবুকে আপলোড করে সাইফুদ্দিন লিখেছেন, ‘অবশেষে ভোট দিলাম। যেখানে আমার শৈশব কেটেছে, মাটির গন্ধে বড় হওয়া সেই চেনা জায়গাতেই। এটা শুধু একটা ভোট নয়, এটা নিজের শিকড়কে ছুঁয়ে দেখার অনুভূতি, নিজের দায়িত্বকে অনুভব করার এক নীরব গর্ব। ছোটবেলার স্মৃতি, আজকের সিদ্ধান্ত- এই দুটো একসাথে মিলেই আজকের দিনটা আমার কাছে আলাদা।’ ভোট দিয়েছেন জাতীয় দলের হার্ডহিটার ব্যাটার সাব্বির রহমানও। ফেসবুকে এই ডান-হাতি ব্যাটার লিখেছেন, ‘আমার ভোটটা কিন্তু দিয়ে দিলাম।’ সবমিলিয়ে এবার সারাদেশে ভোটার রয়েছেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নকশায় না থাকা কিংবা ভিডিও জরিপে শনাক্ত না হওয়া তথাকথিত স্থাপনার বিপরীতে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৫১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও ৩৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৬ কিলোমিটার অংশে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, আপত্তি নিষ্পত্তিতে অনিয়ম এবং ক্ষতিপূরণ বাণিজ্যের কারণে প্রকল্পটি এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ছয় বছরে অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ সহজ করতে ২০০১ সালে চালু হয় চাঁদপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়ক। সড়কটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে এটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। শরীয়তপুর শহরের মনোহর বাজার থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইব্রাহিমপুর পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণে ৮৬০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা জমি অধিগ্রহণে ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে দুই দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এখনো অধিকাংশ এলাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। সওজ সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রায় ৪৭ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ বাকি রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি আটকে আছে মাত্র ১৫ শতাংশে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ৪১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। সওজের শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, “প্রকল্পের ডিপিপিতে জমি অধিগ্রহণ ব্যয় কম ধরা হয়েছিল। ফলে জমি অধিগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই বরাদ্দ শেষ হয়ে যায়।” ‘ভূতুড়ে’ স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপূরণের অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তথাকথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার ভিডিও জরিপের আগে ও পরে স্থানীয় একটি চক্র ফাঁকা জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে। পরে সেসব স্থাপনাকে বৈধ দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভিডিও জরিপে না থাকা কিংবা প্রকল্প নকশার বাইরে থাকা স্থাপনাগুলোর বিপরীতেও বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। এমনকি ছোট গাছকে বড় গাছ হিসেবে দেখিয়ে অস্বাভাবিক অঙ্কের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের অভিযোগও রয়েছে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর অনেক স্থাপনা আবার সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওতে একতলা, বিলে দুইতলা ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরতারবুনিয়া মৌজায় শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির জমিতে ভিডিও জরিপে একতলা ভবন দেখা গেলেও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের সময় সেখানে দ্বিতীয় তলায় আধাপাকা টিনশেড ঘর দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অতিরিক্ত প্রায় ২০ লাখ টাকার বিল তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের। যদিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি শফিকুল ইসলাম। গাছের আকার বাড়িয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ পাপরাইল এলাকার জয়নাল খাঁর জমিতে গাছের সংখ্যা ও আকার বাড়িয়ে দেখিয়ে প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে জয়নাল খাঁ দাবি করেছেন, তাঁর ক্ষেত্রে সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে। আইন যা বলছে ২০১৭ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন অনুযায়ী, অসৎ উদ্দেশ্যে নির্মিত স্থাপনা ক্ষতিপূরণের তালিকাভুক্ত করার সুযোগ নেই। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই আইন উপেক্ষা করেই বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপূরণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার চরকাশাভোগ এলাকায় শাহিদা বেগম নামের এক নারী অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় নিজ জমিতে দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা গেছে। প্রথমে এলএ শাখা স্থাপনাগুলোকে “জনস্বার্থবিরোধী” উল্লেখ করে তালিকা থেকে বাদ দিলেও পরে আপত্তি নিষ্পত্তির মাধ্যমে তাঁকে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সড়ক প্রকল্পের অন্তত ১৯টি এলএ কেসে প্রায় ১২০টি আপত্তি যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের চেকে ‘পারসেন্টেজ’ নেওয়ার অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার আবদুল মালেক ফকির অভিযোগ করেন, ১৬ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলতে তাঁকে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নান্নু সরদার। তাঁর দাবি, “ভ্যাটের কথা বলে” ক্ষতিপূরণের টাকার ৬ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদুল আলম বলেন, তাঁর কাছে এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যেন পারসেন্টেজ না নেন, সে বিষয়ে শুরু থেকেই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেনও বলেছেন, ক্ষতিপূরণ প্রদানে অনিয়মের বিষয়ে তাঁর কাছে এখনো কোনো তথ্য আসেনি। তবে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। প্রশ্নের মুখে জবাবদিহি অবকাঠামো উন্নয়নের নামে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন নতুন নয়। তবে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক প্রকল্পে ওঠা অভিযোগগুলো এখন শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার নয়, বরং সরকারি অর্থ অপচয় ও সংঘবদ্ধ দুর্নীতির আশঙ্কাও সামনে আনছে। যেখানে ছয় বছরেও প্রকল্পের অর্ধেক জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি, সেখানে অতিরিক্ত শত শত কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব নতুন করে নজরদারি ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জোরালো করছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া মৌজায় জমি দখল, আদালতের নির্দেশ অমান্য এবং অবৈধ বরাদ্দ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে রূপনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা সত্ত্বেও নির্মাণ ও বরাদ্দের অভিযোগ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চলমান সিভিল পিটিশন নং-১৫২১/২১ মামলায় সংশ্লিষ্ট জমির ওপর “স্থিতাবস্থা” (Status quo) বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। তবে অভিযোগে বলা হচ্ছে, ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে জমিতে নির্মাণকাজ, দখল কার্যক্রম এবং বরাদ্দ বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের দাবি, মোঃ মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে দুয়ারীপাড়া এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফা স্টেটের প্রায় ৪৮ একর সম্পত্তি এবং জাতীয় গৃহায়নের প্রায় ১৯ একর জমি ঘিরে এই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব জমি বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর নামে-বেনামে বরাদ্দ দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। আদালত অবমাননার অভিযোগ স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, আদালতের স্থিতাবস্থা বহাল থাকা অবস্থায় জমি বরাদ্দ দেওয়া গুরুতর আইনি প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি আদালত অবমাননা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের উদ্বেগ অভিযোগ রয়েছে, ওয়াকফা স্টেটের জমিতে ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে বসবাসকারী নিম্নআয়ের পরিবারগুলো প্রভাবশালীদের চাপের মুখে রয়েছে। তারা বলছেন, জমি ঘিরে চলমান কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রভাবশালী ব্যবহার ও দখলচেষ্টার অভিযোগ স্থানীয়দের দাবি, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং কথিত সাংবাদিকদের ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অভিযোগকারী মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, “আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চলছে, যা এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।” তিনি দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সম্পদের অনুসন্ধানের দাবি স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার সম্পদের উৎস তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, অবৈধ বরাদ্দ, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখা জরুরি। প্রশ্নের মুখে প্রশাসনিক তদারকি এ ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে—আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এসব কার্যক্রম চলতে পারছে? স্থানীয়দের অভিযোগ, এর পেছনে প্রভাবশালী একটি চক্র কাজ করছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায়। সংস্থাটির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের আধিপত্য এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ডিপিএইচই’র কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফের নাম। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আদালতে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি, তবু একের পর এক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ এবং তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান তাঁকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ডিপিএইচই দেশের বিভিন্ন এলাকায় নলকূপ স্থাপন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রকল্পে কাজের মান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। সিলেট বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মোহাম্মদ হানিফের কর্মকাণ্ড স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়। অভিযোগ ওঠে, প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হতো। এতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রকৃত প্রতিযোগিতা ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। যদিও সে সময় এসব অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি, তবে একাধিক প্রকল্পের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। নলকূপ ও পানি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পেকুয়া, ইন্দুরকানী এবং লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবায়িত নলকূপ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত গভীরতায় নলকূপ খনন না করেই পূর্ণ বিল উত্তোলন করা হয়েছে। কোথাও নিম্নমানের পাইপ ও যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে। কিছু এলাকায় পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে সরকারি নথিতে এসব প্রকল্পকে “শতভাগ সফল” হিসেবে দেখিয়ে বিল ছাড় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগীদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলাকায় সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছ থেকে গোপনে টাকা নেওয়া হয়েছে। যেখানে সরকারিভাবে বিনামূল্যে নলকূপ স্থাপনের কথা, সেখানে একটি প্রভাবশালী চক্র সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। টেন্ডার সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ মোহাম্মদ হানিফের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সিকদারের বিরুদ্ধে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন বাণিজ্য এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে দরপত্র প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হতো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এসব অভিযোগের কিছু বিষয়ে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করছে। ডিপিএইচই’র একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রকল্পভিত্তিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। তাদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো এবং বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ হানিফ সরাসরি জড়িত ছিলেন কি না, তা তদন্তের বিষয়; তবে তাঁর দায়িত্বাধীন সময়ে এসব কার্যক্রম চলমান থাকা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাগজে অগ্রগতি, মাঠে ভিন্ন বাস্তবতা অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রকল্পের প্রাক্কলন ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়িয়ে দেখানো হতো যাতে অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়। মাঠপর্যায়ের কাজের বাস্তব অগ্রগতি ও সরকারি নথির তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকার অভিযোগও উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পন্ন দেখিয়ে বিল ছাড় করা হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। সরেজমিনে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় স্থাপিত নলকূপ কয়েক মাসের মধ্যেই অকেজো হয়ে পড়ে। কোথাও আবার পানি ওঠেনি। কিন্তু সরকারি রেকর্ডে সেসব প্রকল্পকে সফলভাবে বাস্তবায়িত হিসেবে দেখানো হয়েছে। “বিশেষ বলয়” তৈরির অভিযোগ মোহাম্মদ হানিফের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি অধিদপ্তরের ভেতরে ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প অনুমোদন, বিল পাস এবং মাঠপর্যায়ের তদারকির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারাই নিয়োজিত ছিলেন। ফলে একই গোষ্ঠীর প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, যারা অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন, তাঁদের প্রশাসনিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হতো। একই ঠিকাদারের বারবার কাজ পাওয়ায় প্রশ্ন একাধিক প্রকল্পে একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পুনরাবৃত্ত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রে অংশ নেওয়া অন্যান্য ঠিকাদারদের বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করা হতো। ফলে প্রকৃত প্রতিযোগিতা না থাকায় সরকারের ব্যয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিযোগিতাহীন দরপত্র ব্যবস্থা দুর্নীতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। মাঠ পরিদর্শন ছাড়াই বিল তোলার অভিযোগ প্রকল্প পরিদর্শনের নামে অতিরিক্ত ভাতা ও ভ্রমণ বিল তোলার অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক প্রকল্পে কাজ শুরু হওয়ার আগেই কাগজে অগ্রগতি দেখানো হয়েছে। অথচ বাস্তবে প্রকল্প এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম সরকারি অর্থের বড় ধরনের অপচয়ের ইঙ্গিত দেয়। জবাবদিহির প্রশ্ন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিপিএইচই’র মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী, যারা বিশুদ্ধ পানির জন্য সরকারি প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। তাঁদের মতে, এসব অভিযোগ শুধু কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে নয়; বরং পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোর কাছে এখন দাবি উঠেছে, প্রকল্পভিত্তিক আর্থিক লেনদেন, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব কাজ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। সচেতন মহলের মতে, শুধু নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের নয়, প্রকল্প অনুমোদন ও তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি জনগণের আস্থা আরও কমে যাবে। তাঁরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন অডিট, নিয়মিত মনিটরিং এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় জনগণের জন্য বরাদ্দ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণেই থেকে যাবে এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের এক নৈশপ্রহরী—যার চাকরিজীবন শুরু হয়েছিল দৈনিক ২০০ টাকার ঝাড়ুদার হিসেবে—বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত একজন প্রভাবশালী কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে, যদিও তার সরকারি পদ নিম্নপদস্থ কর্মচারীর। অনুসন্ধানে জানা যায়, সৈয়দ আলী ওরফে সবুজ প্রথমে মতিঝিলের দিলকুশায় জীবন বীমা টাওয়ারে অবস্থিত ট্রাইব্যুনালে মাস্টার রোলে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে স্থায়ীভাবে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে নৈশপ্রহরীর পদে নিযুক্ত হন। তবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় তার পরিচিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন—সেখানে তিনি নিজেকে উচ্চপদস্থ কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অল্প আয়ের চাকরি থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় তার একাধিক বাড়ি রয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে দুটি দোতলা ভবন, ৫ তলা একটি ভবন, ৬ কাঠার জমিতে একতলা পাকা দালান ও ২০ কক্ষের টিনশেড ঘর। এছাড়া একই এলাকায় আরও একটি বহুতল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। শুধু নারায়ণগঞ্জেই নয়, ঢাকার রায়েরবাগে একটি মূল্যবান ফ্ল্যাট এবং রূপগঞ্জের গাউসিয়া এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫ কাঠার একটি বাণিজ্যিক প্লটের মালিকানার তথ্যও পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এসব সম্পদের মোট মূল্য অন্তত ১০ কোটি টাকা। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে সৈয়দ আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতার অভিযোগ পাওয়া যায়। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তার স্ত্রী বাড়িতে প্রবেশে বাধা দেন এবং সম্পত্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জানান, এসব সম্পদ ঋণের মাধ্যমে অর্জিত। তবে কোনো ঋণের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। পরে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান। অন্যদিকে, সৈয়দ আলী দাবি করেন, এসব সম্পদের মালিক তিনি নন; তার ভাই ও শ্যালক বিদেশে থাকেন এবং সম্পদ তাদের। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। বরং ফোনালাপে তিনি বারবার ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার ইঙ্গিতপূর্ণ অনুরোধ জানান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সৈয়দ আলীর আর্থিক প্রভাব ও আচরণ নিয়ে এলাকায় ভীতি কাজ করে। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর পক্ষে কীভাবে এত বিপুল সম্পদ অর্জন সম্ভব? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এখন এক গভীর বিতর্কের মুখে। নেতৃত্ব পরিবর্তন, ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন এবং “মব চাপের মাধ্যমে দখল”—এমন একাধিক গুরুতর অভিযোগ ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে ও বাইরে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। একদিকে অভিযোগের আঙুল উঠছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের দিকে, অন্যদিকে পাল্টা দাবি বলছে—সবই নিয়মতান্ত্রিক পরিবর্তনের অংশ। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র: ইতিহাসের গৌরব থেকে বর্তমান বিতর্ক মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯৭১ সালে যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা সহায়তা দিতে ত্রিপুরায় গড়ে ওঠা “বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল” থেকেই জন্ম নেয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। স্বাধীনতার পর এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ অলাভজনক স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। সাভারের মির্জানগরে এর প্রধান কার্যালয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে উপকেন্দ্র, গণবিশ্ববিদ্যালয়, ফার্মাসিউটিক্যালসসহ নানা প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে এটি স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে তৈরি হয়েছে নেতৃত্ব, মালিকানা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একের পর এক বিতর্ক। নেতৃত্ব সংকট ও নতুন অধ্যায় ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এরপর ২০২৪ সালের আগস্টে সাভারের প্রধান কার্যালয়ে একটি ঘটনা ঘটে, যেখানে প্রায় ৫০–৬০ জনের একটি দল প্রবেশ করে কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগ করায়—এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের একাংশ দাবি করে, ওই ঘটনার সময় লিখিত পদত্যাগপত্রে বাধ্য করা হয় ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ ও ডা. মাহবুব জুবায়েরকে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বা আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। “মব” অভিযোগ ও প্রশাসনিক নীরবতা অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার সময় প্রশাসনের উপস্থিতি থাকলেও কার্যকর কোনো হস্তক্ষেপ হয়নি। ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদের ভাষ্যমতে, তাকে পদত্যাগে বাধ্য করার জন্য সংগঠিত চাপ তৈরি করা হয় এবং ঘটনাস্থলে নির্দেশনা সম্বলিত ফোনকল শোনানো হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ট্রাস্টি বোর্ড গঠন নিয়ে আইনি বিতর্ক ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের দলিল সামনে আসে, যেখানে কয়েকজন নতুন নাম যুক্ত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তালিকায় ছিলেন— আলতাফুন্নেসা আবুল কাশেম চৌধুরী সন্ধ্যা রায় মনজুর কাদির আহমেদ শিরিন পারভীন হক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আব্দুল কাদের আজাদ আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাস্ট আইন ১৮৮২ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠাতা ছাড়া ট্রাস্ট কাঠামো পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, যদি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা হয়। বহিষ্কৃত কর্মী ও পুনর্বহাল বিতর্ক অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতির কারণে পূর্বে বরখাস্ত কিছু কর্মী পরবর্তীতে নতুন কাঠামোয় ফিরে আসেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ পান। এটি নিয়েও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিভক্ত মত রয়েছে। একপক্ষ এটিকে “পুনর্গঠন”, অন্যপক্ষ “নিয়ন্ত্রণ দখলের কৌশল” হিসেবে দেখছে। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে ঘিরে অভিযোগ কিছু অভিযোগে পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নতুন ট্রাস্টি কাঠামো গঠনে তার ভূমিকা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দাবি ও পাল্টা অবস্থান কিছু ট্রাস্টি ও কর্মকর্তা বলছেন, সব পরিবর্তন ছিল অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ। অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষ বলছে, এটি ছিল “সংগঠিত চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দখলের প্রক্রিয়া”। আইনি ও কাঠামোগত প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাস্ট কাঠামো পরিবর্তন, পরিচালনা বোর্ড গঠন এবং সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই আইনি স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে দলিল, প্রক্রিয়া ও অনুমোদন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখনো মীমাংসিত নয়। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র—যা একসময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাস্থ্য আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল—এখন নেতৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধতা নিয়ে এক জটিল বিতর্কের মধ্যে রয়েছে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং নীরবতার এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন তীব্র অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, সাংগঠনিক অচলাবস্থা এবং কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা পরিষদ—যা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। নেতৃত্ব ছাড়ার পরেই সংকট তীব্র সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশীদ ও দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার পরই পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সংগঠনের একাধিক সূত্র বলছে, গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের পদত্যাগ ও দলত্যাগের কারণে কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় গত ১৮ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিত ঘোষণা করা হয় এবং গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ। এতে রাখা হয় আবু সাঈদ লিওন, হামযা মাহবুব, তারিকুল ইসলাম (রেজা), মুঈনুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেনকে। বলা হয়, ৩০ দিনের মধ্যে তারা সাংগঠনিক পুনর্গঠন সম্পন্ন করবেন। তবে এই সিদ্ধান্ত সংগঠনের ভেতরেই সর্বসম্মত সমর্থন পায়নি। ‘অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত’—বিরোধীদের অভিযোগ সংগঠনের একটি অংশ এই পদক্ষেপকে ‘একতরফা’ ও ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করার এখতিয়ার কারও নেই। সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে নিজেকে দাবি করা সিনথিয়া জাহীন আয়েশা অভিযোগ করেন, “রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকেই কয়েকজন নেতা সংগঠন ছেড়ে গেছেন। একই সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সামনে আসার পরই তারা সরে দাঁড়ান।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন আর্থিক বিষয়ে জবাব চাই, তখন আমাদের বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি কেন্দ্রীয় ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে অনুমোদনহীনভাবে কমিটি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।” উপদেষ্টা পরিষদের বিরোধিতা করায় আয়েশাকে সংগঠনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ সংগঠনের ভেতরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে। আয়েশা দাবি করেন, “কোটির ওপর একটি বড় অঙ্কের টাকা লুটপাট হয়েছে।” তিনি জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকাশ করা হবে। অন্যদিকে, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুঈনুল ইসলাম এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তার ভাষায়, “কমিটিতে কোনো আর্থিক লেনদেনই হয়নি। অন্তত আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।” ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন সাবেক নেতারা সংগঠন ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দেওয়া সাবেক দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন পুরো ঘটনাকে স্বাভাবিক সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “নতুন কমিটি বা কাঠামো গঠনের সময় এমন অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ দেখা যায়। উপদেষ্টা পরিষদ তাদের মনমতো হয়নি বলেই এসব অভিযোগ আসছে।” তার দাবি, নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে বৃহত্তর সমন্বয়ক কাঠামোকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অরাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্নে বিতর্ক শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিজেদের একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংগঠনের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল বলে একাধিক নেতা দাবি করেছেন। বিশেষ করে এনসিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসার পর সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে হতাশা, তবে ঐক্যের আশ্বাস সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশও এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, আন্দোলনের আদর্শকে পাশ কাটিয়ে ‘পকেট কমিটি’ তৈরির চেষ্টা চলছে, যা কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। তবে তারা আন্দোলনের মূল চেতনাকে ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং শিগগিরই নতুন রূপরেখা ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। ভবিষ্যৎ কোন দিকে? নেতৃত্ব শূন্যতা, সাংগঠনিক বৈধতা নিয়ে বিতর্ক এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ—সব মিলিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। উপদেষ্টা পরিষদ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কী ধরনের পুনর্গঠন করতে পারে, এবং আর্থিক অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হয়—তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ।
বরিশাল শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্স—যা সাধারণ মানুষের কাছে গুঠিয়া মসজিদ নামেই বেশি পরিচিত। এটি বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও আকর্ষণীয় মসজিদ কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, এটি এখন ধর্মীয় ও পর্যটন—দুই দিক থেকেই এক অনন্য গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশ থেকেও পর্যটকরা ছুটে আসছেন এই নয়নাভিরাম স্থাপনাটি দেখতে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি শবে বরাত, শবে মেরাজসহ বড় বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিশেষ করে ঈদের সময় এখানে আয়োজিত হয় বিশাল জামাত, যেখানে হাজারো মুসল্লির সমাগম ঘটে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত এই বিশাল প্রকল্পের উদ্যোক্তা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৬ সালে এর কাজ সম্পন্ন হয়। প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার শ্রমিকের শ্রমে গড়ে ওঠে এই স্থাপত্যকর্ম। প্রায় ১৪ একর জমির ওপর নির্মিত এই কমপ্লেক্সে রয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিকল্পনা ও নান্দনিক সাজসজ্জা। মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করলেই ডান পাশে চোখে পড়ে একটি বড় পুকুর, যা এমনভাবে খনন করা হয়েছে যাতে পানিতে পুরো মসজিদের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট দেখা যায়—যা দর্শনার্থীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। পুকুরটির চারপাশ সাজানো হয়েছে নানা রঙের ফুল ও ফলজ গাছ দিয়ে। এছাড়া রয়েছে মোজাইক করা শান বাঁধানো ঘাট, যা পুরো পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পুকুরের বিপরীতে মসজিদের প্রবেশমুখে স্থাপন করা হয়েছে দুটি ফোয়ারা, যা স্থাপনাটির সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সব মিলিয়ে গুঠিয়ার এই মসজিদ কমপ্লেক্সটি শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক জনপদ রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন বাঘা শাহী জামে মসজিদ আজও ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও নান্দনিক স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এই প্রাচীন মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন। ইতিহাস অনুযায়ী, ১৫২৩-১৫২৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার হুসেন শাহী বংশের শাসক সুলতান নসরত শাহ মসজিদটি নির্মাণ করেন। তারও আগে হজরত শাহ দৌলাহ (রহ.) এ অঞ্চলে এসে ইসলাম প্রচার করেন এবং বাঘা এলাকাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরে এ অঞ্চলকে ঘিরেই গড়ে ওঠে একটি সমৃদ্ধ জনপদ। স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে মসজিদটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও দৃষ্টিনন্দন। এতে আছে ১০টি গম্বুজ, চার কোণায় চারটি মিনার এবং অভ্যন্তরে একাধিক মজবুত স্তম্ভ, যা পুরো কাঠামোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে রেখেছে। মসজিদের দেওয়ালজুড়ে টেরাকোটার সূক্ষ্ম কারুকাজ মধ্যযুগীয় শিল্পরীতির এক অসাধারণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে ফুল-লতা ও জ্যামিতিক নকশার অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়। মসজিদটির চারপাশের পরিবেশও অত্যন্ত মনোরম। বিস্তীর্ণ পুকুর, সবুজ বৃক্ষরাজি এবং শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ, ছুটির দিন ও শীত মৌসুমে এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পায়। স্থানীয়দের কাছে এ মসজিদ শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয় বরং এটি তাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। প্রতিদিন এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয় এবং ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা স্থাপনাটিকে একটি জীবন্ত ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে ধরে রেখেছে। সচেতন মহল মনে করেন, এত প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটিকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আরও কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগ। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বাঘা শাহী জামে মসজিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, ‘এই মসজিদ আমাদের গর্ব। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এখানে আসে। এটি শুধু একটি মসজিদ নয়, আমাদের ইতিহাসের অংশ।’দর্শনার্থী সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘প্রথমবার এসে মসজিদের টেরাকোটার কাজ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। এত পুরোনো স্থাপনা হয়েও এখনো এত সুন্দরভাবে দাঁড়িয়ে আছে, এটি সত্যিই বিস্ময়কর।’
সেদিন মক্কা সিটি ট্যুর ছিল। আমরা মসজিদে নামিরা থেকে আরাফাতের ময়দানে গেলাম। আরাফাতের ময়দান ঘুরে মুজদালিফা হয়ে মিনা যাওয়ার পথে পুরাতন স্থাপনা লক্ষ্য করি। স্থাপনাগুলো ড্রেনের মতো, পাহাড়ের পাশ দিয়ে চলে গেছে দৃষ্টিসীমার বাইরে। মনে প্রশ্ন জাগে, এগুলো কী? গুগলে সার্চ দিয়ে হতবাক হয়ে গেলাম। এই হলো নহরে জুবাইদা! নহরের সমার্থক সরু, স্রোতস্বিনী, জলধারা, খাল, নালা। আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের স্ত্রী জুবাইদা বিনতে জাফর মক্কায় হজযাত্রীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল খনন করেছিলেন। যা হজের সময় পানির অভাব দূর করে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। খালটি তায়েফের কাছের ঝরনা থেকে পানি এনে মক্কা পর্যন্ত পৌঁছে দিতো। জুবাইদা নিজে এই বৃহৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা করে ব্যয়ভারও বহন করেন। নহরে জুবাইদা ইসলামি প্রকৌশল ও মানব সেবার বিস্ময়কর নিদর্শন হিসেবে বিদ্যমান। জুবাইদা অত্যন্ত বিদুষী, ধর্মপরায়ণ ও পরোপকারী একজন নারী ছিলেন। জুবাইদা জাফর ইবনুল মানসুরের মেয়ে। জাফর ইবনুল মানসুর খলিফা হারুনুর রশিদের চাচা। জুবাইদার আসল নাম ছিল আমাতুল আজিজ। তার দাদা আল-মানসুর তাকে আদর করে ‘জুবাইদা’ (ছোট মাখনের টুকরা) ডাকতেন। কালক্রমে তিনি ‘জুবাইদা’ নামেই পরিচিতি লাভ করেন। আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের স্ত্রী জুবাইদা বিনতে জাফর মক্কায় হজযাত্রীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল খনন করেছিলেন। যা হজের সময় পানির অভাব দূর করে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। খালটি তায়েফের কাছের ঝরনা থেকে পানি এনে মক্কা পর্যন্ত পৌঁছে দিতো। জুবাইদা নিজে এই বৃহৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা করে ব্যয়ভারও বহন করেন। নহরে জুবাইদা ইসলামি প্রকৌশল ও মানব সেবার বিস্ময়কর নিদর্শন হিসেবে বিদ্যমান। জুবাইদা অত্যন্ত বিদুষী, ধর্মপরায়ণ ও পরোপকারী একজন নারী ছিলেন। জুবাইদা জাফর ইবনুল মানসুরের মেয়ে। জাফর ইবনুল মানসুর খলিফা হারুনুর রশিদের চাচা। জুবাইদার আসল নাম ছিল আমাতুল আজিজ। তার দাদা আল-মানসুর তাকে আদর করে ‘জুবাইদা’ (ছোট মাখনের টুকরা) ডাকতেন। কালক্রমে তিনি ‘জুবাইদা’ নামেই পরিচিতি লাভ করেন।নহরে জুবাইদা কঠিন ভূখণ্ডে সুড়ঙ্গ ও জলপ্রণালি তৈরি করে, বিশাল প্রকৌশল কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছিল। এর নির্মাণে বেশ বাধা অতিক্রম করতে হয়েছিল। কঠিন শিলা কেটে খাল তৈরি করা এর অন্যতম। এটি একটি জটিল প্রকৌশল, যেখানে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ, খালের অংশ এবং জলাধার নির্মাণ করা হয়েছিল, যা পানিকে বাষ্পীভবন থেকে রক্ষা করতো। সে সময় মক্কায় জমজম ছাড়া পানির উৎস ছিল না। হজে প্রচুর মানুষের ভিড়ে পানির তীব্র সংকট দেখা দিতো। উচ্চ মূল্যে পানি ক্রয় করতে হতো। খলিফা হারুনুর রশিদের আমলে পানির অভাব বেশ তীব্র ছিল। তখন এক বালতি পানি বিক্রি হয় ২০ দিরহামে। ১৯৩ হিজরিতে খলিফার মৃত্যুর পর রানি জুবাইদা হজ পালন করতে মক্কা যান। পানির সমস্যা দেখে তিনি একটি খাল কাটার সিদ্ধান্ত নেন। নহরে জুবাইদা খননে আনুমানিক ১৭ লাখ দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) খরচ হয়। জুবাইদার খাল খননের ফলে হাজিদের জন্য বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত হয়। এই ব্যবস্থা মক্কা ও আশেপাশের এলাকার কৃষকদেরও উপকৃত করেছিল। তারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে খালের পানি ব্যবহার করতো। তিনি মক্কা ও মদিনার পথে মুসলিম হজযাত্রীদের জন্য কূপ, জলাধার এবং কৃত্রিম পুল তৈরি করেন। ‘দারব জুবাইদা’ (জুবাইদার পথ) নামে পরিচিত পথটির উন্নয়নেও ভূমিকা রাখেন। খালটি শুধু পানিই সরবরাহ করতো না বরং বাগদাদ থেকে মক্কা পর্যন্ত বিস্তৃত ‘দারব জুবাইদা’কে (হজ্জ্বযাত্রার পথ) সুগম করে তোলে। হজযাত্রীদের সুবিধার জন্য পথে বিশ্রামস্থল, কূপ, পুকুর ও বাতিঘর স্থাপন করা হয়। নহরে জুবাইদা কেবল মক্কার হাজিদের পানির সংকট দূর করেনি বরং শত শত বছর ধরে মুসলিম উম্মাহর সেবা ও নারীর দূরদর্শিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আজকের যুগেও অনেক ক্ষেত্রেই মুসলিম নারীরা অবহেলিত। সেই সময় রানী জুবাইদা কি চিন্তা করেছিলেন! এর ফলপ্রসূ বাস্তবায়নও বাকি রাখেননি। নারী জাগরণের ইতিহাসে তাকে উদাহরণ হিসেবে বলাই যায়। তিনি অনেক নারীর অনুপ্রেরণা। মুসলিম সভ্যতার ইতিহাসে রানী জুবাইদার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। নহরে জুবাইদা শুধু একটি জলধারা ছিল না, এটি রানী জুবাইদার প্রজ্ঞা, উদারতা এবং মুসলিমদের প্রতি ভালোবাসার বহিপ্রকাশ ছিল। বর্তমানে এটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত। একটি কালজয়ী স্থাপনা, যা ছিল প্রকৌশল ও মানবতার অপূর্ব মেলবন্ধন। নহরে জুবাইদার ভগ্নাবশেষ এখনো আরাফাতের ময়দান, মুজদালিফা ও মিনার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নহরটি এখন আর পুরোপুরি সক্রিয় জলধারা না হলেও আমার মতো অনেক পর্যটক ও হাজি নহরে জুবাইদা দেখতে মিনা ও আরাফাতের ময়দানে ছুটে যান। নহর দেখার পরে তারা অভিভূত হয়ে যান এবং মহীয়সী নারী জুবাইদার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে থাকেন।
উত্তরবঙ্গের ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মধ্যে ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ অন্যতম। স্থাপনাটি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামে অবস্থিত। ছোট আকৃতির এ মসজিদে এখনো নামাজ আদায় করা হয়। দেশি-বিদেশি মানুষ এখনো মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন। শালবন ঘেরা মনোরম পরিবেশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদের শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১০১০ বঙ্গাব্দ বা ১৬০৪ সালে নির্মিত হয় এটি। ১২ ফুট দৈর্ঘ ও প্রস্থের মসজিদের উচ্চতা মিনারসহ প্রায় ৩০ ফুট। একসময় নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। বর্তমানে নিয়মিত না হলেও মাঝে মধ্যে দেখতে আসা পর্যটকেরা নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া দুই ঈদের নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।স্থানীয়রা জানান, মসজিদটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয় বরং গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগই পারে এই শতাব্দী প্রাচীন স্থাপনাটিকে রক্ষা করতে। যদিও বা অপরিকল্পিত সংস্কারের কারণে মসজিদটি রক্ষা পেলেও অনেকটা নিদর্শন হারিয়ে ফেলেছে।মসজিদটি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ইউসুফ আলী জানান, তার পূর্বপুরুষরাই মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে আমলে জনবসতি এবং জনসংখ্যা কম থাকায় ছোট পরিসরে নির্মিত হয় মসজিদটি। মাত্র ৮ থেকে ১০ জন মুসল্লি দুই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন। এখন চারপাশে গড়ে উঠেছে জনবসতি। সেই গভীর জঙ্গলের অস্তিত্ব নেই।তিনি জানান, মসজিদটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এখনো টিকে আছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার ফলে এটি প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। ২০১১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে সংস্কার করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করলে বাইরের নকশা এবং কারুকাজ ঠিক রাখা সম্ভব হতো। এতে মসজিদটি জৌলুস হারাতো না। পুরোনো নকশার আদলে নতুন করে ৪টি মিনার ও ১টি গম্বুজ নির্মাণ করলেও বর্তমানে ২টি মিনার ও ১টি গম্বুজ টিকে আছে। স্থানীয় শিক্ষাবিদ মাহাতাব উদ্দীন বলেন, ‘কালের বিবর্তনে মসজিদের ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। আমরা শুনেছি, অতীতে এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। এখন পর্যটকেরা এসে আত্মতৃপ্তির জন্য নামাজ আদায় করেন। তবে দুই ঈদের জামাতের জন্য ব্যবহৃত হয়। অতীতের সেই জঙ্গলঘেরা নির্জন পরিবেশ আর নেই। ঈদগাহ মসজিদটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে।’২০১১ সালে সংস্কার কাজের মিস্ত্রি নুর আলম বলেন, ‘মসজিদটি ব্যবহারের উপযুক্ত ছিল না। মসজিদটির ওপরে বটগাছসহ জঙ্গলে ভরে গিয়েছিল। চুন, সুরকির পলেস্তারা খসে ইটগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। চেষ্টা করেছি পূর্বের নকশা অনুযায়ী সংস্কার করার। যদি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করা যেত, তাহলে উন্নতমানের প্রযুক্তি ও মেডিসিন ব্যবহার করে আগের অবস্থায় আনা যেতো।’
জামালপুর : বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মুসলমানদের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর মধ্যে মসজিদ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এসব মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশৈলীর একেকটি অনন্য নিদর্শন। তেমনই এক দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ জামে মসজিদ। জেলা শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মসজিদটি তার সুউচ্চ মিনার, মনোরম নকশা এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশের কারণে ইতোমধ্যেই একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মুসল্লি ও দর্শনার্থী এখানে ভিড় জমাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৪০ সালে ধর্মপ্রাণ মুসলিম আব্দুল গফুর মণ্ডল সুরকি ও পাথর দিয়ে তিন গম্বুজবিশিষ্ট একটি ছোট মসজিদ নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে তার নাতি, শিল্পপতি হাসান মাহমুদ রাজা পারিবারিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও ইসলামের প্রতি ভালোবাসা থেকে মসজিদটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেন। তখন মসজিদটিকে তিন গম্বুজ থেকে সাত গম্বুজে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে মসজিদটি ১১ তলা বিশিষ্ট এক চমৎকার স্থাপনা—এর মধ্যে সাত তলা মূল মসজিদ ভবন এবং চার তলা সুউচ্চ মিনার রয়েছে। মোগল ও পারসিক স্থাপত্যরীতির সমন্বয়ে নির্মিত এই মসজিদের ভেতর ও বাহিরে সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং রঙিন টাইলসের ব্যবহার একে করেছে দৃষ্টিনন্দন। মসজিদের মূল ভবনে একসঙ্গে প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৪০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। রমজান মাসে এখানে নিয়মিত ইফতারের আয়োজন করা হয় এবং ঈদের নামাজও যথাযথ মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদের চারপাশে সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। সামনে রয়েছে একটি বড় দিঘি, যা মুসল্লিদের অজু ও গোসলের জন্য ব্যবহৃত হয়। ছুটির দিনগুলোতে এখানে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। মসজিদটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি এতিমখানা, নুরানি মাদরাসা, হাফেজিয়া মাদরাসা, একটি কামিল মাদরাসা এবং একটি দাতব্য চিকিৎসালয়। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আবাসিক ব্যবস্থা। জানা যায়, আব্দুল গফুর মণ্ডল ছিলেন এই অঞ্চলের একজন বিশিষ্ট ধর্মপ্রাণ ও জনহিতৈষী ব্যক্তি। তার নাতি হাসান মাহমুদ রাজাও একইভাবে দানশীলতার পরিচয় দিয়ে সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে মসজিদ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণ ও পরিচালনা করে আসছেন। সব মিলিয়ে, মালঞ্চ জামে মসজিদ শুধুমাত্র একটি ইবাদতের স্থান নয়—এটি স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্মীয় শিক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ঐতিহাসিক নিদর্শন ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে পরিচিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট চুয়াডাঙ্গার বড় মসজিদ। স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর কাছে এটি গর্বের একটি নাম। প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো মসজিদটি স্থাপিত হয় ১২০৮ হিজরি, আনুমানিক ১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে। দীর্ঘ সময় ধরে এটি শুধু ইবাদতের স্থানই নয় বরং সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। মসজিদের মুসল্লিদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মসজিদটি এলাকায় ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশেও মসজিদটি তার ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে দাঁড়িয়ে আছে। ১৭৮৬ সালে কুসুম বিবি নামের এক মহীয়সী নারী ৭৩ শতক জমির ওপর নিজ অর্থায়নে মসজিদটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা শহরের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম মসজিদ। এ মসজিদ থেকেই চুয়াডাঙ্গায় প্রথম আজানের সুর ধ্বনিত হয়েছিল। বর্তমানে মসজিদটিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও কিছু কিছু অংশে সংস্কারের প্রয়োজন আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মসজিদের নাম অনুসারেই মহল্লাটির নামকরণ হয়েছে মসজিদপাড়া। চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্র একাডেমি মোড় সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বড় মসজিদটি। শুরুর দিকে মসজিদের ভেতরে দুটি কাতার ও বারান্দায় একটি কাতারে নামাজ আদায় করা যেত। সেই সময় প্রায় ৭০ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারতেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটি সম্প্রসারণ করা হয়। ১৪৩৫ হিজরি ও ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে মূল অবকাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে মসজিদটির সংস্কার কাজ করা হয়। সংস্কারের মাধ্যমে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নামাজের জায়গা সম্প্রসারণ এবং নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়। ফলে বর্তমানে এটি আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি বৃহৎ জামে মসজিদ হিসেবে মুসল্লিদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বড় মসজিদ বা মিনার মসজিদ নামেও মসজিদটি পরিচিত। এর সুউচ্চ মিনার অনেক দূর থেকেই দেখা যায়। তবে বর্তমানে মসজিদের মিনারের তৃতীয় তলার বেলকনির অংশ ভেঙে গেছে। মসজিদের মিনারটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।মসজিদের পাশেই আছে একটি কবরস্থান। এই বড় মসজিদে রেলপাড়া, মসজিদপাড়া, একাডেমি মোড়, জোয়ার্দ্দার পাড়া, বাগানপাড়া, মাঝেরপাড়া, মল্লিকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে আসেন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি জুমার নামাজে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে। এ ছাড়া ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মিলাদ মাহফিল ও কোরআন তিলাওয়াতের আসরেও মসজিদ প্রাঙ্গণ মুখরিত থাকে।মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইবরুল হাসান জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা বড় মসজিদের ইতিহাসে কুসুম বিবির নাম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। এ মসজিদের জমির মূল মালিক ছিলেন পরোপকারী ও ধর্মপ্রাণ নারী কুসুম বিবি। তিনি ৭৩ শতক জমি আল্লাহর ঘর নির্মাণের জন্য দান করেন।’ প্রচলিত আছে, কুসুম বিবি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত রাখতেন। লোককথা অনুযায়ী, নিজের বাড়ি নির্মাণের সময় তিনি মাটির নিচে পাঁচ থেকে ছয় কলসি মোহর খুঁজে পান। বিপুল সম্পদ পেয়ে তিনি ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসে না গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরামর্শ করেন এ মোহর কী কাজে ব্যয় করা যায়। তখন এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ তাঁকে পরামর্শ দেন, এই অর্থ দিয়ে একটি মসজিদ নির্মাণ করলে তা হবে সদকায়ে জারিয়া, যার সওয়াব চিরকাল প্রবাহিত হবে। সেই পরামর্শ হৃদয়ে ধারণ করে কুসুম বিবি নিজের অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। শোনা যায়, সে সময় নির্মাণকাজে ডিমের কুসুম ও সুরকির মিশ্রণ ব্যবহার করে মসজিদের ভিত্তি ও দেওয়াল তৈরি করা হয়। যা সেই যুগের নির্মাণশৈলীর একটি অনন্য উদাহরণ। তাঁর আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও ধর্মীয় অনুরাগের ফলস্বরূপ নির্মিত হয় চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী বড় মসজিদ। প্রথমদিকে এ মসজিদে একসঙ্গে তিন কাতারে দাঁড়িয়ে প্রায় ৭০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। সময়ের পরিবর্তন ও মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটির পরিসর বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। পরে ২০০০ সালে মসজিদটি পুনরায় সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়। আধুনিকায়নের মাধ্যমে বর্তমানে এ মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ৭০০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ জামির হাসান জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি নির্মিত হয়। দীর্ঘ দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এটি এলাকাবাসীর ইবাদত বন্দেগি ও ধর্মীয় চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কুসুম বিবি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় মসজিদের জন্য জমি দান করেছিলেন। বর্তমানে মসজিদের নামে মোট ৭৩ শতক জমি আছে। বর্তমান সভাপতির পূর্বপুরুষরা ছিলেন এ মসজিদের প্রধান দাতা ও পৃষ্ঠপোষক। তাঁদের অবদান ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় মসজিদটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত টিকে আছে এবং ক্রমান্বয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে মুসল্লি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মসজিদটি সংস্কার করা হয়। সে সময় মসজিদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নামাজের স্থান সম্প্রসারণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে এখনো কিছু কাজ বাকি আছে, যেমন- মিনারের উন্নয়ন, অজুখানার আধুনিকায়ন ও সীমানা প্রাচীরের সংস্কার। ধীরে ধীরে মুসল্লি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে। ভবিষ্যতে মসজিদটিকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আছে।’মসজিদ কমিটির সাবেক সেক্রেটারি মোহাম্মদ রিপন মণ্ডল বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা বড় মসজিদ কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি একটি দীর্ঘ সামাজিক ও ঐতিহাসিক যাত্রার সাক্ষী। সময়ের পরিক্রমায় নানা পরিবর্তন, সংস্কার ও সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে এ মসজিদ। প্রাচীন স্থাপত্যধারা ও আধুনিক নির্মাণশৈলীর সমন্বয়ে এটি এলাকাবাসীর গর্বের প্রতীক। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ছিল অপেক্ষাকৃত ছোট পরিসরের ইবাদতখানা। যেখানে স্থানীয় মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন। ক্রমে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের বিস্তারের ফলে পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ, দান ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এর সম্প্রসারণ সম্পন্ন হয়।’ মসজিদের মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ শাহাবুদ্দীন বলেন, ‘আমি ২০১২ সাল থেকে এ মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এটি আমাদের এলাকার ইবাদত ও ধর্মীয় চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মসজিদটি প্রতিষ্ঠার পেছনে কুসুম বিবির অবদান অত্যন্ত মহৎ। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তিনি যে জমি দান করেছিলেন, তারই ফলস্বরূপ আজ আমরা এখানে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করতে পারছি।’মসজিদপাড়ার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব খলিলুর রহমান বলেন, ‘ছোটবেলায় এ মসজিদ প্রাঙ্গণেই অনেক খেলাধুলা করেছি। আমার ছেলেবেলার স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এ মসজিদ। আগে মসজিদটির নকশা ছিল টালির মতো সরল, কিন্তু এখন এটি আধুনিকতার ছোঁয়ায় সমৃদ্ধ হয়েছে। মসজিদটি মোগল আমলের মসজিদের আদলে নির্মিত। এর চুন-সুরকির গাঁথুনি সেই সময়ের নান্দনিক স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে। যেখানে সংস্কারের মাধ্যমে আগের সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। এভাবেই মসজিদটি যুগের পর যুগ টিকে থাকবে এবং নতুন প্রজন্ম এর ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।’
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং প্রকল্পের সাবেক পরিচালক (পিডি) আবদুল গফুর। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, অতিমূল্যে ফার্নিচার ক্রয়, দ্বৈত টিএ/ডিএ বিল উত্তোলন, কমিশন বাণিজ্য, অবৈধ অগ্রিম উত্তোলন এবং সরকারি অর্থে ব্যক্তিগত বাসার আসবাব কেনাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যেভাবে শুরু হয় প্রকল্প “রাবিপ্রবি স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)” প্রকল্পের আওতায় একটি একাডেমিক ভবন, একটি প্রশাসনিক ভবন এবং ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক দুটি তিনতলা আবাসিক হল নির্মাণকাজ চলছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান আবদুল গফুর। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতে থাকে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা। ফার্নিচার ক্রয়ে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয় প্রকল্পের ব্যয় সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফার্নিচার কেনার ক্ষেত্রে বাজারদরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মূল্য দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ খাতে অন্তত ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে একটি টেবিলের প্রকৃত মূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা হলেও বিল ভাউচারে সেটির দাম দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একই ধরনের আসবাবপত্র স্থানীয় বাজারে যে দামে পাওয়া যায়, প্রকল্পে তার দ্বিগুণ-তিনগুণ মূল্য দেখানো হয়েছে।” টিএ/ডিএ বিলেও অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টিএ/ডিএ বিল গ্রহণের পরও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সফরের নামে দ্বিতীয়বার অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। নথিপত্রে দেখা যায়, এভাবে প্রায় ৭ লাখ ১১ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, একই সফরের জন্য একাধিক খাত দেখিয়ে বিল সমন্বয় করা হয়েছে। টেন্ডারে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ চারটি ভবনের নির্মাণ টেন্ডার অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে এক শতাংশ হারে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এভাবে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। কয়েকজন ঠিকাদার এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক নির্মাণের নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৩৭ লাখ টাকা উত্তোলন এবং পরিকল্পিত বনায়নের নামে ছবি উপস্থাপন করে আরও ৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা উত্তোলনের তথ্যও মিলেছে। সরকারি অর্থে ব্যক্তিগত বাসার আসবাব? আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করে নিজের বাসার জন্য আসবাবপত্র কেনা। অভিযোগে বলা হয়েছে, জয়নাল নামে এক ঠিকাদারের মাধ্যমে তার বাসার জন্য আলমিরা, ফাইল কেবিনেট, চেয়ার-টেবিল এবং খাটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কেনা হয়। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো রসিদ বা সরবরাহ নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অগ্রিম উত্তোলনে অনিয়ম প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে বড় অঙ্কের অগ্রিম টাকা উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে, যদিও প্রকল্প নীতিমালায় এ ধরনের অগ্রিম গ্রহণের বিধান নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী— মার্শাল চাকমার নামে উত্তোলন করা হয় ১৪ লাখ ৭ হাজার ৩২৮ টাকা নিশান চাকমার নামে ১২ লাখ ৯ হাজার টাকা সেকশন অফিসার আবদুল হকের নামে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫০ টাকা মঞ্জুরুল ইসলামের নামে ১৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৮ টাকা এছাড়া আবদুল গফুর নিজের নামেও ১৯ লাখ ৬৮ হাজার ৫২২ টাকা উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি নথিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি বলেও জানা গেছে। নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন ২০১৭ সালে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন আবদুল গফুর। তার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সাবেক কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, বয়সসীমা অতিক্রম এবং নন-টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা সত্ত্বেও তিনি ওই পদে নিয়োগ পান। এছাড়া তার শিক্ষাজীবনে দুটি তৃতীয় বিভাগ ছিল এবং এর আগে কোনো সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতাও ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, তৎকালীন রেজিস্ট্রার অঞ্জন কুমার চাকমার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ? অভিযোগ রয়েছে, এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) রিপোর্ট এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পাহাড় কাটার অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় আসামিও হন আবদুল গফুর। সাময়িক বরখাস্ত ও পাল্টা অভিযোগ চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় আবদুল গফুরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত আদেশে তার বিরুদ্ধে আইসিটি-সংক্রান্ত অপরাধ, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়। বরখাস্তের পরদিনই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) চিঠি দিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগে দলীয় প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। ওই চিঠিতে তিনি নিজেকে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বরখাস্ত আদেশ স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করলেও আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। উপাচার্যের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আতিয়ার রহমান বলেন, “রাবিপ্রবি স্থাপন প্রকল্পে পদে পদে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আবদুল গফুরকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সতর্ক না হয়ে বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করেন।” তিনি আরও বলেন, “বহিষ্কারের পরও আবদুল গফুর ব্যাংক থেকে প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেছিলেন। এ কারণে নতুন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবদুল গফুরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন, টেন্ডার অনুমোদন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্পষ্ট হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিচালিত ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর যৌন হয়রানি ও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জামিল উদ্দীন। অভিযুক্ত শিক্ষক বরুণ কুমার সাহা প্রতিষ্ঠানটির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অশোভন ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে আসছেন। পাশাপাশি ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে কথা বলার ভিডিও ধারণ করে তা অভিভাবক ও প্রশাসনের কাছে পাঠানোর হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রোববার দুপুরে কয়েকজন শিক্ষার্থী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, শিক্ষক বরুণ কুমার সাহা প্রায়ই ক্লাসে ব্যক্তিগত ও অস্বস্তিকর প্রসঙ্গ টেনে আনতেন। তার ভাষ্য, “তিনি আগের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতেন। একবার প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের প্রসঙ্গ টেনে আমাকে উদ্দেশ্য করে এমন কথা বলেন, যা একজন শিক্ষকের মুখে মানায় না।” হিজাব পরিহিত এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক তাকে পশ্চিমা পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তার দাবি, শিক্ষক তাকে বলেন— “তুমি ২০ বছর পরে জিন্স আর টপস পরে আসলে আমি তোমাকে চিনতেই পারব না।” ওই শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার পর তিনি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তবে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে দীর্ঘদিন স্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাননি বলেও দাবি করেন। আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, শিক্ষক বরুণ কুমার সাহা ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে দেখলেই সম্পর্ক নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করতেন। তিনি বলেন, “কাউকে বাইরে কথা বলতে দেখলে ভিডিও করতেন। পরে সেই ভিডিও প্রিন্সিপাল বা গার্ডিয়ানকে পাঠানোর ভয় দেখাতেন।” অন্য এক শিক্ষার্থী জানান, অফ পিরিয়ডে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার সময় তার একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তাকে আলাদা ডেকে ভিডিওটি অভিভাবকের কাছে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শিক্ষক বরুণ কুমার সাহার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তদন্ত কমিটির কথা কী বলছে প্রশাসন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জামিল উদ্দীন বলেন, আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ পাওয়ার পরই একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটির কয়েকজন সদস্য প্রশিক্ষণে থাকায় তদন্ত কার্যক্রম বিলম্বিত হয়। তিনি জানান, গত ৭ মে শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করার দাবি জানালে নতুন করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। তার ভাষ্য, “শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ হয়েছে। কমিটি একটি খসড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেটি আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।” তিনি আরও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে এখনও স্বাক্ষর বাকি রয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অতিরিক্ত সুপারিশ যুক্ত হতে পারে। ডাকসুর উদ্বেগ ও ক্ষোভ ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসুর সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ, মানসিক হয়রানি, অননুমোদিত ভিডিও ধারণ এবং আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং অভিযোগের দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। ডাকসু বলেছে, এ ঘটনায় গড়িমসি না করে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ ফিরে পাবে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে সেশন ফি ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতসহ ১০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিল বের করে কলেজ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমাবেশ করেন। কেন ক্ষোভ? শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতি বছর বিভিন্ন খাতে “অযৌক্তিক” সেশন ফি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার বিপরীতে তারা পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না। সম্প্রতি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি খাতে মোট ২ হাজার ৬২০ টাকা সেশন ফি নির্ধারণ করে নোটিশ জারি করা হয়। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তাদের দাবি, এই ১৯টি খাতের মধ্যে অন্তত ১০টির কোনো কার্যক্রম নেই। অথচ এসব খাতেই প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। কোন খাতে আপত্তি? শিক্ষার্থীরা যেসব খাতকে অকার্যকর বা সীমিত সেবার বলে উল্লেখ করছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— খেলাধুলা (বহিরাঙ্গন) অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া ও কমনরুম ম্যাগাজিন গ্রন্থাগার পরিবহন তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) অত্যাবশ্যকীয় খরচ চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনা ফি বিবিধ শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বহু বছর ধরে নিয়মিত খেলাধুলা বা ম্যাগাজিন প্রকাশ নেই গ্রন্থাগার সেবা সীমিত পরিবহন সুবিধা পান মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী চিকিৎসা সেবা কার্যত অপ্রতুল একজন শিক্ষার্থী বলেন, “সেশন চার্জ নেওয়া হলেও প্রতিটি খাতে আমাদের পর্যাপ্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।” আরেকজন ছাত্রী প্রশ্ন তোলেন, “আগেই সব ফি দেওয়ার পর আবার কেন অতিরিক্ত সেশন চার্জ দিতে হবে?” প্রশাসনের অবস্থান কলেজের অধ্যক্ষ ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি স্বল্পমেয়াদি এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি। এসব বিষয়ে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেশন ফি নেওয়া হয়। তবে যেসব খাতে কার্যক্রম নেই, সেগুলোতে ২০২৫ সালের পর থেকে ফি না নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পরিবহন সুবিধা সীমিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে অধ্যক্ষ বলেন, “সব শিক্ষার্থী এই সুবিধা পান না, তবে অন্যান্য খাতে ব্যয় রয়েছে।” অত্যাবশ্যকীয় খাতে আদায় করা অর্থ দিয়ে কর্মচারীদের সম্মানী ও প্রতিষ্ঠান রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মেটানো হয় বলেও জানান তিনি। আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে একই দাবিতে ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ওবায়দুল ইসলামকে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে একদল শিক্ষার্থী তার কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলিয়ে এ অবরোধ সৃষ্টি করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তিনি মুক্ত হন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, দুপুরে নিজ কার্যালয়ে অবস্থানকালে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী তার কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। শিক্ষার্থী এইচ এম সামিউল নাসে অভিযোগ করেন, প্রকল্প পরিচালক মাসে দু-একবার এসে কাজ পরিদর্শন করে চলে যান এবং অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেন। তার দাবি, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। এসব বিষয় প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি পাল্টা দাবি করেন, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চলমান প্রকল্পের বিল থেকে ১ শতাংশ অর্থ দাবি করেন। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়। একই দাবিতে গত ৭ এপ্রিলও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, ছাত্রদলের নেতারা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক দুর্নীতি করছেন। কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করার অনুরোধ উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় তিনি দাপ্তরিক কাজে বরিশালে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি জানার পর তিনি প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। উপাচার্য আরও জানান, ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যার প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেশ কিছু কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ৯১ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও অংশ নেয়নি—যা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থার একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে অবস্থিত হাজীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০১ সালে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয়। তবে তিন দশকের এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষার্থী উপস্থিতি এবং পাঠদানের পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৬ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। আগের বছর ২০২৫ সালে মাত্র একজন পরীক্ষার্থী ছিল। ২০২৪ সালে ৫ জনের মধ্যে ৪ জন এবং ২০২৩ সালে ১১ জনের মধ্যে ৮ জন পাস করলেও ২০২২ সালে ১১ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ওই বছরের শতভাগ অকৃতকার্যতার পর থেকেই শিক্ষার্থী সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, খাতা-কলমে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও বাস্তবে উপস্থিত ছিল মাত্র ৬ জন। এর মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৪ জন, ৭ম শ্রেণিতে ১ জন এবং ৮ম শ্রেণিতে ১ জন। উপস্থিতির খাতায় মার্চ ও এপ্রিল মাসে নিয়মিত উপস্থিতির কোনো সুস্পষ্ট রেকর্ডও পাওয়া যায়নি। একই দিনে বিদ্যালয়ের ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৬ জন, যা পাঠদানের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি দেখানোর জন্য আশপাশের প্রাইভেট স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে কাগজে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি থাকলেও বাস্তবে শ্রেণিকক্ষ প্রায় ফাঁকাই থাকে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শিক্ষার মানের অবনতি এবং বিকল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ বাড়ার কারণে এ বিদ্যালয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ চন্দ্র রায় বলেন, “২০২২ সালে শতভাগ ফেল করার পর থেকেই মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী কমতে শুরু করে। আমরা পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করছি।” তিনি শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির জন্য প্রতিকূল আবহাওয়াকেও দায়ী করেন। এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান সরকার বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “কোনো বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও অংশ না নেওয়া উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার একটি ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে আঘাত করার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কী ঘটেছিল? প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল কলেজে প্রবেশ করে এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ৪ থেকে ৫ জন শিক্ষক শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হন। এই ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী, যুবদলের সাবেক এক নেতা এবং আরও কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে, তারা সংঘবদ্ধভাবে এই হামলায় নেতৃত্ব দেন। ভিডিওতে যা দেখা গেছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর একটি অংশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করলে বিষয়টি একপাক্ষিকভাবে ব্যাখ্যা করার ঝুঁকি রয়েছে। তাদের দাবি, বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশ এবং শিক্ষকদের ওপর চড়াও হওয়ার প্রেক্ষিতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় আত্মসম্মান রক্ষার্থে ওই শিক্ষিকা প্রতিক্রিয়া দেখান। প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষক সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, কোনো পরিস্থিতিতেই একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান বা শারীরিকভাবে আঘাত করা গ্রহণযোগ্য নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রশাসনিক বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত ছিল। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল অভিযুক্তদের একজনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জুতা দিয়ে পেটানো বিএনপি নেতা বহিষ্কার দাওকান্দি সরকারি কলেজে ঢুকে ভাঙচুর ও শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে পেটানোর ঘটনায় দুর্গাপুর উপজেলাধীন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে রাজশাহী জেলাধীন দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে আকবর আলী বলেন, এ বিষয়ে আমি জানি না। সেদিন এলাকার মুরব্বিরা দাওয়াত পত্র নিয়ে গেছিল। এ সময় ম্যাডাম বলেন- আপনারা কি জন্য এখানে। আপনারা টাকা নিতে আসছেন নাকি? এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি ঘটনা ঘটে। ঘটনার এক ভিডিওতে দেখা গেছে, এক নারী শিক্ষককে জুতা দিয়ে পেটাচ্ছেন এক বিএনপি নেতা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারী শিক্ষককে পেটানো ওই নেতা হলেন দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ও সহিংসতার ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা না গেলে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে। একই সঙ্গে আংশিক তথ্য বা ভিডিওর ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোরও আহ্বান জানানো হচ্ছে। এক নজরে দাওকান্দি সরকারি কলেজ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজ (স্থাপিত: ১৯৭২) একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান । বারনই নদীর তীরে অবস্থিত এ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (পাস/সম্মান) ও মাস্টার্স ১ম পর্বের কোর্স চালু রয়েছে । বর্তমানে এখানে ২/৩ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এবং এটি স্থানীয় শিক্ষার একটি প্রধান কেন্দ্র। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী: মারামারি ও ভাঙচুর: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কলেজের স্নাতক পরীক্ষা চলাকালীন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগ ওঠে । শিক্ষক লাঞ্ছনা: এই ঘটনায় কলেজের একজন নারী প্রদর্শক (ডেমোনেস্ট্রেটর) আলেয়া খাতুন হীরা লাঞ্ছিত হন এবং পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় । তদন্ত কমিটি: এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে । কলেজ সম্পর্কে তথ্য: অবস্থান: দাওকান্দি বাজার সংলগ্ন, জয়নগর ইউনিয়ন, দুর্গাপুর উপজেলা, রাজশাহী । শিক্ষাক্রম: কলা, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ।
শীর্ষনিউজ: আওয়ামী আমলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেনাকাটায় কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। সে সময়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাইন্স হাউজের বিরুদ্ধে হাসপাতালের ১০৫ কোটি টাকার কেনাকাটায় ব্যাপক দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। তারপরও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৭৬ কোটি টাকার আরেকটি কাজ এই প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার ছক সাজিয়েছিল একই দুর্নীতিবাজ চক্র। তবে কারসাজি করে সাইন্স হাউজকে কাজ দেওয়া হচ্ছেÑ এমন তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর সেই দরপত্র বাতিল করা হয়। একই লটে ৭০৩ ধরনের পণ্য বিএনপি আমলে এবার বাতিল হওয়া সেই দরপত্রের একই কারসাজিতে আবারও নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ক্রয় তালিকায় একই লটে অস্ত্রোপচার যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে টেলিভিশন, ঘড়িসহ ৭০৩ ধরনের পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার (পিপিআর) পরিপন্থি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এই বিষয়ে প্রথমবার দরপত্র আহবান করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণির পণ্য একত্রে রাখার কারণে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। একাধিক প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগে নিম্নমানের স্পেসিফিকেশন, নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও মডেল উল্লেখ, মাত্র দুই বছরের ওয়ারেন্টি এবং উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের বদলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণযোগ্য করার মতো শর্তের কথা বলা হয়। এই পটভূমিতে তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর দরপত্রটি বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ নতুন আহ্বান করা দরপত্রে আগের একই ধরনের শর্ত বহাল রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত মাসের ৬ এপ্রিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল। এতে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। দরপত্রে নেই গুণগত মান, গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি সম্পর্কিত সুস্পষ্ট শর্ত দরপত্রের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একই লটে তালিকায় সিসিইউ বেড, কার্ডিয়াক মনিটর, হিমোডায়ালাইসিস মেশিন, অ্যানেসথেশিয়া যন্ত্র, এক্স-রে ইউনিটের পাশাপাশি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, জেনারেটর, এমনকি টেলিভিশন ও ঘড়িও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এত বৈচিত্র্যময় পণ্য এক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে কোনো একক প্রতিষ্ঠান সব সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারে না। এতে প্রকৃত প্রতিযোগিতা কমে গিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া দরপত্রে অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে গুণগত মান, গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি সম্পর্কিত সুস্পষ্ট শর্ত নেই। ভারী ও সংবেদনশীল চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে যেখানে সাধারণত পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি চাওয়া হয়, সেখানে নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র দুই বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি সম্পর্কিত সুস্পষ্ট শর্ত না থাকলে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, সরবরাহ ও স্থাপনের পরপরই ওয়ারেন্টি কার্যকর হওয়ায় দক্ষ জনবল না থাকলে অনেক যন্ত্র ব্যবহার না করেই ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে, যা সরকারি অর্থের অপচয়। অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, দরপত্রে কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড, মডেল, উৎপত্তিস্থল ও কোড উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অন্যান্য যোগ্য সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত হয়। দেশের অন্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে যেখানে পরীক্ষিত উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে, সেখানে কম পরিচিত ব্র্যান্ডের প্রতি ঝোঁক কেন, তা স্পষ্ট নয়। ‘পিপিআর’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ হাসপাতালের কারিগরি কমিটির দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির অদক্ষতা বা সীমাবদ্ধতার কারণে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কেনার পথ সুগম হয়েছে। ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেইন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের সহকারী প্রকৌশলী মাইনুর শুভ বলেন, এক লটে ৭০৩ ধরনের পণ্য কেনা পিপিআরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাতিল হওয়ার পর নতুন করে বিধি মেনে দরপত্র আহ্বান করা উচিত। এর আগে ব্লাড ব্যাংক ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি কেনায় প্রায় ৯৬ কোটি টাকার ৯টি দরপত্র আহবান করা হয়। সব কাজ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হলে পরে অভিযোগ ওঠে, নিম্নমানের পণ্যে বিদেশি ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের দরপত্র প্রক্রিয়া উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়। এতে ভবিষ্যতে নিরীক্ষা আপত্তি ও দুর্নীতির মামলার ঝুঁকি রয়েছে। তাদের পরামর্শ, প্রয়োজনভিত্তিক আলাদা লটে বিভাজন করে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করা না হলে সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন হবে। প্রকল্প পরিচালক এস এম কবির হোসেন বলেন, দরপত্র আহবান করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে। বাতিল হওয়া দরপত্রের শর্তেই কেন নতুন দরপত্র আহ্বান করা হলো- জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। হাসপাতালটিকে জিম্মি করে রেখেছে আওয়ামী দুর্নীতিবাজ চক্র পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পে আওয়ামী সরকারের আমলে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলের শেষ দিকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে এ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমে। ৯টি প্যাকেজে প্রায় ১০৫ কোটি টাকার কেনাকাটা হয়। নানা রকমের অনিয়ম ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ৯টি প্যাকেজেরই কার্যাদেশ দেওয়া হয় বহুল আলোচিত, চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী ঠিকাদার বাংলাদেশ সায়েন্স হাউজকে। কিন্তু দুই বছর আগে বিল পরিশোধ করলেও সেইসব মালামাল এখনো পুরোপুরি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে, তাতে ইউরোপ-আমেরিকার স্টিকার ও সিল ব্যবহার করেছে। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই একই ঠিকাদারকে আবারও ৭৬ কোটি টাকার কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছিল। টেন্ডারের শুরুতেই ভয়াবহ রকমের অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়। পিপিআর-এর গুরুত্বপূর্ণ ধারা এক্ষেত্রে চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়। টেন্ডারের এসব গুরুতর অনিয়মকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ দেওয়া হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত নির্দেশও দেওয়া হয় মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু তারপরও দুর্নীতিবাজচক্রের তৎপরতা থামেনি। এর কারণ হলো, তদন্তের পরে টেন্ডার বাতিল হলেও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনোই ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। প্রত্যেকেই বহাল-তবিয়তে রয়ে গেছেন।
বরিশাল অফিস : বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. মুস্তফা লুৎফুল আজিজের বিরুদ্ধে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের সঙ্গে সরাসরি আর্থিক সংশ্লিষ্টতা এবং সরকারি হাসপাতালের রোগীদের সেখানে পাঠিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ‘হামিদ মেমোরিয়াল’ নামে একটি ক্লিনিকে ডা. মুস্তফার প্রায় ৩০ শতাংশ অংশীদারত্ব রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তিনি রোগীদের সেখানে না রেখে ওই বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে উৎসাহিত করেন—বিশেষ করে অপারেশন-সংক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে। রোগী রেফার নিয়ে অভিযোগ হাসপাতালের ভেতরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সরকারি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার সচল থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বোঝানো হয় সেখানে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে যান। স্থানীয়দের ভাষ্য, “সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থাকলেও নানা অজুহাতে রোগীদের বাইরে পাঠানো হচ্ছে।” দীর্ঘদিনের সংশ্লিষ্টতার দাবি তদন্তে জানা গেছে, ২০০৮ সালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন ডা. মুস্তফা এবং দীর্ঘ সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন। ওই সময়েই হাসপাতালের পাশেই প্রতিষ্ঠিত হয় হামিদ মেমোরিয়াল ক্লিনিক, যেখানে শুরু থেকেই তিনি শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, স্থানীয়দের দাবি—ক্লিনিকটির মূল মালিকানা একসময় অর্পন হাওলাদার ও তার পরিবারের হাতে থাকলেও পরবর্তীতে শেয়ার বিক্রির সুযোগে ডা. মুস্তফা এবং আরেক চিকিৎসক ডা. হাফিজুর রহমান শাকিল বড় অংশ কিনে নেন। পূর্ববর্তী প্রশাসনের সঙ্গে তুলনা হাসপাতালের একাধিক কর্মীর মতে, ২০২০ সালের দিকে তৎকালীন ইউএইচও ডা. এসএম কবির হোসেন অধিকাংশ অপারেশন সরকারি হাসপাতালেই সম্পন্ন করতেন। তার সময়ে প্রায় ২,২০০টি অপারেশন সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ডা. মুস্তফা দায়িত্বে থাকাকালে হাসপাতালের অপারেশন কার্যক্রম কমে যায় এবং রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এ নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল এবং এক পর্যায়ে তাকে বদলির সুপারিশ করা হয়। পুনরায় যোগদানের পর অভিযোগ ২০২৩ সালে পদোন্নতির পর ডা. কবির হোসেন অন্যত্র বদলি হন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পুনরায় বানারীপাড়ায় ইউএইচও হিসেবে যোগ দেন ডা. মুস্তফা। এরপর থেকেই আবারও একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসে—তিনি তার সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকে অপারেশন কার্যক্রম জোরদার করেছেন। ব্যক্তিগত পর্যায়ের কিছু সূত্রের দাবি, ক্লিনিকটির ব্যবসায়িক তদারকি এবং লভ্যাংশ সংগ্রহেও তিনি সরাসরি জড়িত। স্বীকারোক্তি ও অস্বীকার স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের কাছে ডা. মুস্তফা ক্লিনিকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হলেও, গণমাধ্যমে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, “আমার কোনো ক্লিনিকের মালিকানা নেই, এমনকি আমার কোনো স্বজনও সেখানে জড়িত নন।” তবে একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে তাকে ক্লিনিকের সঙ্গে শেয়ারভিত্তিক সম্পৃক্ততার কথা বলতে শোনা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে সরকারি চাকরির পাশাপাশি ক্লিনিক ব্যবসা করা সম্ভব। আইন ও নীতিমালার প্রশ্ন বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ব্যবসায় জড়িত থাকতে পারেন না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া এ বিষয়ে বরিশাল জেলার সিভিল সার্জন ডা. এসএম মঞ্জুর এ এলাহী বলেন, “সরকারি হাসপাতালে কর্মরত কোনো চিকিৎসক বেসরকারি ক্লিনিকের ব্যবসায় জড়িত থাকতে পারেন না। এমন অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সাধারণ মানুষের ভোগান্তি স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। সরকারি হাসপাতালে সেবা না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হচ্ছে, এবং তদারকি ব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি রয়ে গেছে। এই অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশালের ব্যস্ত সদর রোডে প্রতিদিন বিকেলের পর থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে একটি চেম্বারের সামনে। অপেক্ষায় থাকা মানুষদের চোখে এক ধরনের অদৃশ্য আশ্বাস—দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা। এই আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. ডি. বি পাল। দীর্ঘ পেশাজীবনে তিনি শুধু একজন চিকিৎসক নন, বরং বরিশাল অঞ্চলে চক্ষু চিকিৎসার এক নির্ভরযোগ্য নাম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন তার পেশাগত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। সহকর্মীরা বলছেন, প্রশাসনিক দক্ষতা ও ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত—দুই ক্ষেত্রেই তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার পরিধি চিকিৎসা শিক্ষায় এমবিবিএস, ডিও এবং এমএস (চক্ষু) ডিগ্রির পাশাপাশি উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতা তাকে আধুনিক চক্ষুবিজ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সাহায্য করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছানি (ক্যাটারাক্ট), গ্লুকোমা, চোখের সংক্রমণ এবং জটিল দৃষ্টিশক্তি সমস্যার ক্ষেত্রে তার নির্ণয় ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে নিখুঁত। ফ্যাকো সার্জারির মতো আধুনিক পদ্ধতিতে তার দক্ষতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রোগীদের অনেকেই জানিয়েছেন, জটিল বলে ফিরিয়ে দেওয়া কেসেও তিনি চিকিৎসার সম্ভাবনা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। রোগীদের অভিজ্ঞতা: আস্থার পেছনের গল্প চেম্বারের বাইরে অপেক্ষমাণ এক রোগীর ভাষায়, “ডা. ডি. বি পালের কাছে গেলে তিনি সময় নিয়ে কথা শোনেন। শুধু প্রেসক্রিপশন দেন না, বুঝিয়েও দেন।” এই ‘সময় দেওয়ার’ বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে রোগীদের অভিজ্ঞতায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে যেখানে সময়ের চাপ একটি বড় বাস্তবতা, সেখানে তার এই পদ্ধতি তাকে আলাদা করেছে বলে মনে করেন অনেকে। একটি আলো ফিরে পাওয়ার গল্প আলোচিত একটি ঘটনার কথা — সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহর দু চোখে ছানি পড়ে।কোন ডাক্তার সাহস করেনি ছানি অপারেশনের । ডা.ডি.বি পাল অত্যান্ত সাহসিকতার সাথে দুটো চোখের ছানি অপারেশন করেন। ফলে যেই মাসুম বিল্লাহ দীর্ঘদিন পৃথিবীর আলো বহু বছর দেখেনি সেই মাসুম বিল্লাহ ফিরে পায় চোখের আলো। দেখতে পেয়েছিল পৃথিবী। পৃথিবীর আলো দেখতে দেখতে তিনি ইন্তেকাল করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অপারেশনটি ছিল জটিল এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সফল অস্ত্রোপচারের পর মাসুম বিল্লাহ আবারও দেখতে সক্ষম হন। তার ঘনিষ্ঠদের মতে, “বহু বছর পর তিনি আবার পৃথিবী দেখেছিলেন। জীবনের শেষ সময়টুকু তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছিলেন—যা তার পরিবারের কাছে এক বড় স্বস্তি হয়ে থাকে। এ ভাবে অনেকেই মাসুম বিল্লাহর মত চোখের আলোতে পৃথিবী দেখার জন্য আজও নিরলস ভাবে মানুষের চোখের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ডা. ডি.বি পাল। চিকিৎসার পরিধি ও বর্তমান কার্যক্রম বর্তমানে বরিশালের দুটি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত রোগী দেখছেন তিনি—সদর রোডের ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং পলিটেকনিক রোডের বিশেষায়িত এশিয়ান আই কেয়ারে । প্রতিদিন সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তার চেম্বারে রোগী দেখার নির্ধারিত সময়, শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিন তিনি সেবা দিয়ে থাকেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে তার ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও পদ্ধতি সম্পর্কে সহকর্মীরা বলছেন, তিনি নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণে আগ্রহী এবং নিজেকে নিয়মিত আপডেট রাখেন। মানবিকতা বনাম পেশাদারিত্ব চিকিৎসা দক্ষতার পাশাপাশি তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও আলোচনায় আসে। রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের ধরন—সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা, ধৈর্য নিয়ে শোনা—এসব বিষয় তাকে অনেকের কাছে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ করে তুলেছে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই ধরনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক আস্থা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি বৃহত্তর বাস্তবতাও তুলে ধরে—যেখানে মানসম্মত চিকিৎসা সেবার অভাব অনেক সময় নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসকের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট বাংলাদেশে চক্ষু চিকিৎসার ক্ষেত্রে এখনও গ্রাম ও শহরের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। বরিশালের মতো অঞ্চলে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রেক্ষাপটে ডা. ডি. বি পালের কাজকে অনেকেই একটি বৃহত্তর স্বাস্থ্য বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখছেন—যেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও দক্ষতা অনেক সময় প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতাকে আংশিকভাবে পূরণ করে। বরিশালের এই চক্ষু বিশেষজ্ঞের চেম্বারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর জন্য তিনি কেবল একজন ডাক্তার নন—বরং দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনার একটি প্রতীক। আর সেই প্রতীকের পেছনে রয়েছে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, এবং এক ধরনের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা—যা প্রতিদিন সন্ধ্যায় আবারও নতুন করে পরীক্ষা দিতে বসে। ডা. ডি. বি পালের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি রোগীদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কথা বলেন, তাদের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সহজভাবে চিকিৎসা ব্যাখ্যা করেন। এই গুণাবলিই তাকে শুধু একজন দক্ষ চিকিৎসক নয়, বরং একজন সহানুভূতিশীল মানুষ হিসেবেও আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। চক্ষু চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডা. ডি. বি পালের অবদান বরিশালের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার অভিজ্ঞতা, জ্ঞান এবং নিষ্ঠা মানুষের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
বরিশাল অফিস : দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে তীব্র চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে। অনুমোদিত পদের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ চিকিৎসকের মোট ৫৭১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে ২৪০টি পদ বর্তমানে শূন্য, অর্থাৎ প্রায় ৪২ শতাংশ পদে কোনো চিকিৎসক নেই। বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩৩১ জন চিকিৎসক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট সবচেয়ে প্রকট। অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক—এই তিন শ্রেণিতে মোট ২৪৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১০২ জন। ফলে প্রায় ৫৮.৯ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। অধ্যাপক: ৫১টির মধ্যে ১৩ জন কর্মরত, ৩৮টি পদ শূন্য সহযোগী অধ্যাপক: ৭৪টির মধ্যে ৩৮ জন কর্মরত, ৩৬টি পদ শূন্য সহকারী অধ্যাপক: ১২৩টির মধ্যে ৫১ জন কর্মরত, ৭২টি পদ শূন্য সাধারণ চিকিৎসক পদেও সংকট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বাইরে সাধারণ চিকিৎসকের ৩২৩টি পদের মধ্যে ৯৪টি পদ শূন্য, যা প্রায় ২৯.১ শতাংশ। বিভিন্ন পদে শূন্যপদের চিত্র আরও উদ্বেগজনক: সহকারী রেজিস্ট্রার: ৯৬টির মধ্যে ৩০টি শূন্য সহকারী সার্জন: ২২টির মধ্যে ১৪টি শূন্য ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার: ১০টির মধ্যে ৬টি শূন্য ডেন্টাল সার্জন: ১৩টির মধ্যে ৯টি শূন্য এছাড়াও রেজিস্ট্রার, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, রেডিওলজিস্টসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল ঘাটতি রয়েছে। রোগীর চাপ দ্বিগুণ কাগজে-কলমে ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন আন্তঃবিভাগে প্রায় ২ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। পাশাপাশি বহির্বিভাগে আরও প্রায় ২ হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। এত বিপুল রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক কখনোই অনুমোদন পায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। রোগী ও চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা রোগী তরিকুল ইসলাম ইয়াদ বলেন, “বহির্বিভাগে চিকিৎসক দেখাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। চিকিৎসক সংকটের কারণে ভর্তি রোগীরাও পূর্ণ সেবা পাচ্ছেন না।” হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানান, চিকিৎসক কম থাকায় রোগীদের যথেষ্ট সময় দেওয়া সম্ভব হয় না, যা চিকিৎসার মানকে প্রভাবিত করছে। দ্রুত সমাধানের দাবি বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা এই হাসপাতাল। দ্রুত চিকিৎসক সংকট দূর না হলে রোগীরা কখনোই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে না।” কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর বলেন, সংকটের মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। শূন্য পদে নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল নগরীর একসময়ের আস্থার প্রতীক হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতাল এখন যেন ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা.মানবেন্দ্র সরকার—যিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. মানবেন্দ্র সরকার। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করার পরও তিনি এখনো দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করা হলেও ডা. মানবেন্দ্র সরকারের বর্তমান বয়স ৭৪ বছর বলে জানা যায়। বয়সসীমা পেরিয়েও দায়িত্বে বহাল হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বরের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬২ বছর এবং কর্মচারীদের জন্য তা ৬৫ বছর নির্ধারণ করা হয়। অথচ বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. মানবেন্দ্র সরকারের বয়স ৭৪ বছর—যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে অন্তত ৯ বছর বেশি। নিয়ম অনুযায়ী বহু আগেই তার দায়িত্ব ছাড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশের মাধ্যমে তিনি তার চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছেন। এমনকি ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর তিনি নিজেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় একই পদে বহাল হন। রাজনৈতিক ভারসাম্যের কৌশল ডা. মানবেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো—তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সময়োপযোগী সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেন। আওয়ামী লীগ আমলে স্বাচিপ নেতা হিসেবে পরিচিত থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।উল্লেখ্য যে ‘এই হাসপাতালে তার চাকরি হয়েছিলো আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সুপারিশে। ২০২৩ সালে ২০ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব থেকে নিজেই অব্যহতি নিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পর খোকন সেরনিবায়াত ও এমপি শাহজাহান ওমরের সুপারিশ নিয়ে আবার স্ব-পদে বহাল হন। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারেরও সুপারিশ আনেন তার চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য। অভিযোগ রয়েছে মানবেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার কারনে হিন্দু সম্প্রদায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছেন। ডা: মানবেন্দ্র সরকারের খামখেয়ালীপনার সর্বশেষ শিকার হয়েছেন হাসপাতালের অফিস সহায়ক আনিসুর রহমান। এর আগেও তার কথা মতো না চলায় বেশ কয়েকজনকে তিনি বিনা নোটিশে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। ৫ আগষ্টের পর ভোলপাল্টে তিনি এখন বিএনপি নেতা। হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াতের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থানকে “অপরিহার্য” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। এর ফলে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে। অভিযোগ: দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের কিছু সদস্য ও কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অথচ কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের সময় নিয়মিতভাবে “টাকা নেই” বলে জানানো হয়। এই বৈপরীত্য কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়েছে। অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বিভিন্ন ক্রয়-বিক্রয়, নিয়োগ এবং সেবামূলক খাতে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ লুটপাট হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনো স্বচ্ছ তদন্ত এখনো দৃশ্যমান নয়। ভয় ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি হাসপাতালের ভেতরে ভয়ের একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মচারী। তারা জানান, তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশ অমান্য করলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা থাকে। সম্প্রতি আনিসুর রহমান নামের এক অফিস সহায়ককে কোনো লিখিত অভিযোগ ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, ব্যক্তিগত অসন্তোষ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় কয়েকজন কর্মচারীকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ রয়েছে। বৈষম্যের অভিযোগ কিছু কর্মচারীর দাবি, নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রশাসনিক সুবিধা বেশি পাচ্ছেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত হয়নি, তবুও এটি প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও তীব্র করেছে। ক্ষোভে ফুঁসছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্রমাগত অনিয়ম, বেতন সংকট এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার কারণে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তত্ত্বাবধায়ক অপসারণের দাবি জানিয়েছেন এবং একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশ্ন রয়ে যায় একজন ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম ভেঙে, রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেন—এই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতালের মতো একটি জনস্বাস্থ্যকেন্দ্র যদি অনিয়ম ও প্রভাবের বলয়ে আটকে পড়ে, তবে এর প্রভাব পড়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবার ওপর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে। কর্তৃপক্ষের নীরবতা এ বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সম্প্রতি প্রশংসিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত স্কিন, হেয়ার, এলার্জি, চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ রেজওয়ান কায়সার। তার অনন্য সেবা, মানবিক আচরণ এবং চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতির প্রয়োগ তাকে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগীদের প্রতি সহানুভূতি এবং নতুন উদ্ভাবনী ধারণার সংমিশ্রণে অসংখ্য রোগী তার কাছ থেকে সান্ত্বনা পেয়েছেন। স্কিন, হেয়ার, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ রেজওয়ান কায়সারের অনন্য চিকিৎসা পদ্ধতি, মানবিক আচরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তাকে রোগীদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চিকিৎসাক্ষেত্রে দক্ষতার পাশাপাশি রোগীদের প্রতি তার সহানুভূতিশীল মনোভাব এবং বন্ধুসুলভ আচরণ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। অনেক রোগীর মতে, চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক স্বস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সমান গুরুত্ব দেন। ডাঃ কায়সার বলেন, "আমার মূল লক্ষ্য হলো, আমি শুধু রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে নয়, রোগীদের মানসিক শান্তি ও আস্থাও অর্জন করতে চাই।" তিনি জানান, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে চর্ম, হেয়ার এবং এলার্জি চিকিৎসায় উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি তার রোগীদের দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করেন। রোগীদের প্রতি স্নেহ ও সহানুভূতি ডাঃ রেজওয়ান কায়সারের চিকিৎসা শাস্ত্রে দক্ষতার পাশাপাশি, রোগীদের প্রতি তার আন্তরিকতা তাকে মানুষের মন জয় করতে সহায়তা করেছে। তার সহজ-সরল ভাষায় রোগীদের জন্য পরিষ্কার ব্যাখ্যা এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অনেকে। এই চিকিৎসকই একমাত্র যিনি রোগীর সাথে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক স্থাপন করে তাকে তার চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করেন। নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি ডাঃ কায়সারের নেতৃত্বে অনেক চর্ম ও এলার্জি রোগের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তার নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সমাজসেবায় অবদান চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পাশাপাশি, ডাঃ কায়সার বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজেও জড়িত। তার উদ্যোগে অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয় এবং তিনি নিয়মিত চর্মরোগ ও এলার্জি সম্পর্কে সচেতনতামূলক পরামর্শ দিচ্ছেন। ভবিষ্যত পরিকল্পনা ডাঃ মোঃ রেজওয়ান কায়সার আশা করছেন যে, তার কাজের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে আরও উন্নতি আসবে এবং তিনি আরো অনেক নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করবেন। তার লক্ষ্য হলো, সব শ্রেণির মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে তার সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারিত করা। ডাঃ কায়সারের মেধা, পরিশ্রম এবং নৈতিকতা তাকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তিনি দেশের এক অত্যন্ত প্রশংসিত চিকিৎসক হিসেবে তার সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে আরো অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি বরিশালের বগুড়া রোডস্থ স্কিনফিনিটি (স্কিন, হেয়ার, এলার্জী, লেজার, এসথেটিক সেন্টার) এ এবং বাংলাবাজারের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখেন। স্কিনফিনিটির মোবাইল নম্বর: ০১৩০৬৭৮৭০৪, ০১৩০৭০৭৭৫৯০ চিকিৎসা সেবা: চর্মরোগ ও চর্ম লেজার সার্জারি। চুল পড়া ও চুলের যত্ন (হেয়ার)। এলার্জি রোগ। যৌন ও সেক্স রোগ। এস্থেটিক মেডিসিন (সৌন্দর্যবর্ধন)। চর্ম ও এলার্জি রোগে উচ্চতর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি স্কিনফিনিটিতে আধুনিক ও বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করছেন। ডাঃ মো: রেজওয়ান কায়সারের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : ডাঃ মো: রেজওয়ান কায়সার (এমবিবিএস, ডিডি-থাইল্যান্ড, আমেরিকান একাডেমি অফ এস্থেটিক মেডিসিন) বরিশালের আলেকান্দায় স্কিনফিনিটি সেন্টারে স্কিন, চুল, এলার্জি, সেক্স এবং লেজার সার্জারির জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন । তিনি ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন কনসালটেন্ট এবং চর্ম ও যৌন রোগের পাশাপাশি এস্থেটিক মেডিসিনে পারদর্শী। চেম্বারের তথ্য যোগাযোগ ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট: সেন্টারের নাম: স্কিনফিনিটি (স্কিন, হেয়ার, এলার্জি, লেজার, এসথেটিক সেন্টার) ঠিকানা: বগুড়া রোড, বরিশাল-৮২০০ ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২০১৫ সালে বজরঙ্গী ভাইজানের পর আর একসাথে দেখা যায়নি বলিউডের জনপ্রিয় জুটি সালমান-কারিনা কে। ১১ বছর পর ফের আলোচনায় এলেন তারা দু’জন। বলিউডে নতুন করে চর্চায় সালমান খান–এর আসন্ন সুপারহিরো প্রজেক্ট। পরিচালক জুটি রাজ ও ডিকে–র সঙ্গে এই ছবিকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল আগেই, এবার সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিল নায়িকা নির্বাচন নিয়ে নতুন আপডেট। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ছবির নারী প্রধান চরিত্রে এখন সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন করিনা কাপুর খান। যদি সব কিছু ঠিক থাকে, তবে বহুদিন পর আবারও পর্দায় একসঙ্গে দেখা যেতে পারে সালমান ও করিনাকে। এর আগে এই চরিত্রে দক্ষিণী তারকা সামান্থা রুথ প্রভুর নামও শোনা গিয়েছিল। তবে নতুন আপডেটে জানা যাচ্ছে, নির্মাতারা এখন করিনাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে এগিয়ে রেখেছেন এবং তার সঙ্গে আলোচনা চলছে। ছবিটি নিয়ে ইতিমধ্যেই বলিউডে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। কারণ, এটি হবে সালমান খানের ক্যারিয়ারের একটি ভিন্নধর্মী উদ্যোগ—একজন সুপারহিরো চরিত্রে তাকে দেখা যেতে পারে, যা তার জন্য নতুন ঘরানার অভিজ্ঞতা। এদিকে জানা গেছে, ছবির গল্প, শুটিং শিডিউল ও অন্যান্য বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রি-প্রোডাকশনের কাজ এগিয়ে চলছে এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখন সময়ের অপেক্ষা। সব মিলিয়ে, সালমান-করিনা জুটি আবারও ফিরবে কি না—এটাই এখন বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি।
বাংলাদেশের আলোচিত মডেল ও চিত্রনায়িকা হুমাইরা সুবাহ জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সম্প্রতি তিনি নীরবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিজেই। এতদিন বিয়ের বিষয়টি গোপন থাকলেও সম্প্রতি এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। সুবাহ জানান, বেশ কিছুদিন আগেই তাদের বিবাহ নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা এবং নির্বাচনি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার কারণে বিষয়টি আগে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। সুবাহর স্বামী পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তবে তার পারিবারিক শিকড় ঢাকায়। বিয়ে নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সুবাহ বলেন, শিগগিরই আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে ধুমধাম করে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ইতোমধ্যে স্বামীর সঙ্গে তোলা কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি। ওই পোস্ট ঘিরে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় ভরে উঠেছে মন্তব্যের ঘর। নতুন এই পথচলায় সুবাহ ও তার জীবনসঙ্গীর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন বিনোদন অঙ্গনের সহকর্মীসহ ভক্তরা।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের পরিচিত মুখদের অংশগ্রহণ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে তারকা প্রার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি নির্বাচনী পরিবেশকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলে। তবে ভোট গণনার সর্বশেষ পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, জনপ্রিয়তা সবক্ষেত্রে নির্বাচনী সাফল্যে রূপ নিচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক আসনে তারকা প্রার্থীরা কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছেন। উত্তর ২৪ পরগনার বরাহনগর আসনে তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির সজল ঘোষের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন। ব্যারাকপুরে তৃণমূল প্রার্থী ও চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তীও বিজেপির কৌস্তভ বাগচীর কাছে পিছিয়ে পড়েছেন, যদিও ২০২১ সালে তিনি এই আসনটি জিতেছিলেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণ আসনে অভিনেত্রীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এগিয়ে থেকে তৃণমূলের লাভলি মৈত্রকে পিছনে ফেলেছেন। কলকাতার মানিকতলা আসনে তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পাণ্ডেও বিজেপির তাপস রায়ের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে নদিয়ার করিমপুর আসনে তৃণমূলের সোহম চক্রবর্তী পঞ্চম রাউন্ড শেষে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন, যেখানে বাম প্রার্থী দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। রাজারহাট-গোপালপুরে লোকশিল্পী অদিতি মুন্সী বিজেপির তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে পিছিয়ে আছেন। হাওড়ার শিবপুরে বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষ বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও শ্যামপুরে অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল প্রার্থীর কাছে পিছিয়ে পড়েছেন। টালিগঞ্জ আসনেও বিজেপির পাপিয়া অধিকারী তৃণমূলের অরূপ বিশ্বাসের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন। তামিলনাড়ুতে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিয়েছে। সেখানে অভিনেতা থালাপথি বিজয়ের নতুন দল তামিলগা ভেট্ট্রি কাঝাগম ভালো ফলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দুই আসনেই এগিয়ে আছেন এবং তার দলও একাধিক আসনে লিড নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এদিকে আসামে তেজপুর আসনে অভিনেতা পৃথ্বীরাজ রাভা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তারকা পরিচিতি সবসময় ভোটে সাফল্য নিশ্চিত করে না—পশ্চিমবঙ্গের ফলাফল তারই প্রতিফলন। তবে তামিলনাড়ুতে তারকা প্রভাব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চূড়ান্ত ফলাফলই নির্ধারণ করবে এই প্রবণতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে।
ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের চমকের ইঙ্গিত দিচ্ছে সর্বশেষ ফলাফল। দক্ষিণের জনপ্রিয় তারকা থালাপতি বিজয়-এর নেতৃত্বাধীন দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) এখন পর্যন্ত এককভাবে এগিয়ে রয়েছে, যা রাজ্যের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র তথ্য অনুযায়ী, ২৩৪টি আসনের মধ্যে টিভিকে এখন পর্যন্ত ৮৭টি আসনে এগিয়ে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এআইএডিএমকে জোট, যারা এগিয়ে ৭৫টি আসনে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দ্রাভিদা মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) জোটের ফলাফল হতাশাজনক। গত নির্বাচনে ১৩৭টি আসনে জয়ী হলেও এবার তারা এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে মাত্র ৫৪টি আসনে। উল্লেখ্য, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশের ঘোষণা দেন বিজয়। সে সময় তিনি এটিকে ব্যক্তিগত আগ্রহ নয়, বরং জনগণের সেবায় নিবেদিত একটি ‘মিশন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই তার দলের এই অগ্রগতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ, নারী ও মৎস্যজীবীদের লক্ষ্য করে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো টিভিকের জনপ্রিয়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে বিজয়ের তারকাখ্যাতিও ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে এই অপ্রত্যাশিত উত্থানকে অনেকেই ‘নতুন যুগের সূচনা’ হিসেবে দেখছেন। এখন প্রশ্ন—বিজয়ের ‘হুইসেল’ বিপ্লব কি শেষ পর্যন্ত রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে?
বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের জীবনের এক কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি মানসিক ট্রমা ও মদপানের সঙ্গে লড়াইয়ের কথা খোলামেলা তুলে ধরেন। তিনি জানান, কোভিড-১৯ মহামারির সময় আরোপিত লকডাউনে ব্যক্তিগত জীবনের এক ট্রমাটিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। সেই সময় মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে ধীরে ধীরে মদপানের দিকে ঝুঁকে পড়েন। জাহ্নবী বলেন, সাধারণত তিনি খুব বেশি মদপান করেন না। তবে লকডাউনের একটি পর্যায়ে প্রায় প্রতিদিনই তিনি অ্যালকোহল গ্রহণ করতেন। যদিও তিনি নিজেকে সরাসরি ‘আসক্ত’ বলতে চাননি, তবুও স্বীকার করেন—এক ধরনের মানসিক নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল। “আমার মনে হতো, আমার মাতাল হওয়া দরকার,”—বলছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতেই তিনি মদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি খুঁজছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অভ্যাসের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অস্বস্তি, শারীরিক পরিবর্তন এবং নিজের শরীরের গন্ধে বিরক্তি—এসব বিষয় তাকে ভাবতে বাধ্য করে। তিনি উল্লেখ করেন, শরীরের গন্ধ তাকে এমন একজনের কথা মনে করিয়ে দিত, যিনি মদপানের আসক্তিতে ভুগতেন। সেটিই তার কাছে সতর্ক সংকেত হয়ে দাঁড়ায়। এই উপলব্ধির পরই নিজের জীবনধারা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন জাহ্নবী। তিনি টানা প্রায় দেড় বছর মদপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকেন। বর্তমানে তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির কাজেও যুক্ত রয়েছেন। একটি সংস্থার মাধ্যমে তিনি মানুষকে আসক্তি থেকে দূরে থাকার এবং নিজের শরীর ও মনের প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তার এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকেই বলছেন, গ্ল্যামারের আড়ালে থাকা বাস্তবতা তুলে ধরায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হঠাৎ নামা বৃষ্টিতে শুটিং সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও থেমে থাকেনি ইউনিটের ব্যস্ততা। এই বিরতিকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে সহকর্মীদের নিয়ে রসিকতায় মেতে ওঠেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে তিনি দেখান, শুটিং স্থগিত থাকলেও ইউনিটের সদস্যরা নানা কাজে ব্যস্ত। কেউ মোবাইল ফোনে ডুবে আছেন, কেউ তৈরি করছেন রিল, আবার কেউ লাইভ সম্প্রচারে যুক্ত হয়েছেন। হাস্যরসের ভঙ্গিতে মৌসুমী বলেন, “দেখুন, শুটিংয়ে কে কী করছে—আজ সবার মুখোশ ফাঁস করব।” তিনি জানান, শুটিংটি পরিচালক সকাল আহমেদের তত্ত্বাবধানে চলছিল। বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ থাকায় তাকেও অপেক্ষা করতে দেখা যায়। লাইভ চলাকালে সামাজিক মাধ্যম থেকে আয়ের বিষয়েও কথা বলেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, নিজের অজান্তেই তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হয়েছে। পরে চিত্রগ্রাহক শামসুল ইসলাম লেলিন তাকে বিষয়টি জানান। মৌসুমীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার অ্যাকাউন্টে ১৭৫ ডলার জমা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি মজা করে বলেন, এই টাকা তুলতে পারলে সবাইকে নিয়ে হাঁস-খিচুড়ির আয়োজন করবেন। গাজীপুরের পুবাইলে ‘লাভ স্টেশন’ নাটকের দৃশ্যধারণ চলছিল। এতে অংশ নিয়েছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন শিল্পী। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শুটিং সেটেও রিল ও স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। বিনোদন অঙ্গনের তারকারাও এই ধারায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। মৌসুমী হামিদের এই লাইভ সেই প্রবণতারই একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
ইফতারে রুহ আফজার শরবত যেমন শরীর ঠান্ডা রাখে, তেমনি দূর করে দেয় রোজা ও গরমের ক্লান্তিও। ঘরেই কেমিক্যালবিহীন সিরাপ বানিয়ে নিতে পারেন শরবত তৈরির জন্য। জেনে নিন কীভাবে বানাবেন।তাজা গোলাপ ফুলের পাপড়ি আলাদা করে ধুয়ে নিন। ১ কাপ পানি ও গোলাপের পাপড়ি চুলায় বসান। ১ ফোঁটা লাল ফুড কালার দেবেন। মাঝারি আঁচে রেখে দিন প্যান। ফুটে উঠলে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নামিয়ে ছেঁকে নিন।এক বাটি ফলের টুকরা ব্লেন্ড করে ছেঁকে রস আলাদা করুন। আপেল, আঙুর, তরমুজ, আনারস, কলা বা যেকোনো ধরনের ফল ব্যবহার করতে পারেন এখানে। চুলায় প্যান বসিয়ে ফলের রস দিয়ে দিন। গোলাপ থেকে বের হওয়া পানি ও স্বাদ মতো চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে নিন। নামানোর আগে ২ চা চামচ গোলাপজল দিয়ে নেবেন। ঠান্ডা হলে মুখবন্ধ বয়ামে রেখে দিন নরমাল ফ্রিজে। এক মাস পর্যন্ত রেখে খেতে পারবেন এই রুহ আফজা।
রূহ আফজা: রমজানের জনপ্রিয় পানীয়ের এক শতাব্দীর ইতিহাস রমজান মাস এলেই মুসলিম সমাজে বদলে যায় প্রতিদিনের জীবনযাত্রা। সেহরি ও ইফতারকে ঘিরে শুরু হয় নানা প্রস্তুতি, বাজারে বাড়ে বিশেষ খাবার ও পানীয়ের চাহিদা। পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা-মুড়ি কিংবা খেজুরের পাশাপাশি ইফতার টেবিলে আরেকটি পরিচিত নাম হলো লাল রঙের শরবত—রূহ আফজা। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে রমজানের সময় এই পানীয়ের জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি যে অনেক পরিবারের মাসিক বাজারের তালিকায় এটি প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকা এই পানীয় শুধু একটি শরবত নয়; এটি উপমহাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লির একটি ছোট ইউনানি ক্লিনিক থেকে শুরু হওয়া এই পানীয় আজ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লির গলি থেকে শুরু ১৯০৬ সালের গরমের এক দিনে ব্রিটিশ শাসিত ভারতের রাজধানী দিল্লির পুরনো এলাকা লাল কুয়ান বাজারে একটি ক্লিনিকের সামনে অস্বাভাবিক ভিড় জমে। স্থানীয় মানুষজন বাতাসে ভেসে আসা গোলাপের সুবাসে আকৃষ্ট হয়ে জানতে পারেন, একজন ইউনানি চিকিৎসক একটি বিশেষ পানীয় তৈরি করেছেন। লাল রঙের সেই পানীয়ের স্বাদ নিতে ভিড় বাড়তেই থাকে। দিনের শেষে তৈরি প্রথম ব্যাচ শেষ হয়ে যায়। এই ঘটনাকেই অনেকে রূহ আফজার জন্মমুহূর্ত বলে মনে করেন। এই পানীয়ের উদ্ভাবক ছিলেন ইউনানি চিকিৎসক হাকিম হাফিজ আবদুল মজিদ। পুরনো দিল্লিতে তার ক্লিনিকের নাম ছিল হামদর্দ দাওয়াখানা। ‘হামদর্দ’ শব্দটির অর্থ—দুঃখ কষ্টের সময়ের সঙ্গী। ১৯০৭ সালের দিকে এই ক্লিনিক থেকেই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয় এই অ্যালকোহলমুক্ত ভেষজ পানীয়ের। কেন তৈরি হয়েছিল রূহ আফজা শুরুর দিকে এটি তৈরি করা হয়েছিল মূলত চিকিৎসা উদ্দেশ্যে। দিল্লির প্রচণ্ড গরমে অনেক মানুষ ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যায় ভুগতেন। রোগীদের সতেজতা ফিরিয়ে দিতে গোলাপ, ভেষজ উপাদান ও ফলের নির্যাস দিয়ে এই পানীয় তৈরি করেন হাকিম মজিদ। গোলাপের সুবাস এবং সতেজ স্বাদের কারণে দ্রুতই এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর তিনি এই পানীয়ের নাম দেন রূহ আফজা। উর্দু ভাষায় “রূহ” অর্থ আত্মা বা প্রাণ এবং “আফজা” অর্থ সতেজ করে এমন কিছু। অর্থাৎ নামের অর্থ দাঁড়ায়—“যা আত্মাকে সতেজ করে।” নামের পেছনের গল্প ইতিহাস বিষয়ক ম্যাগাজিন হেরিটেজ টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, এই নামের অনুপ্রেরণা আসে একটি উর্দু কাব্যগ্রন্থ থেকে। উর্দু কবি পণ্ডিত দয়া শঙ্কর নাসিমের বিখ্যাত কাব্য “মসনবি গুলজার-ই-নাসিম”-এ রূহ আফজা নামে এক রাজকন্যার চরিত্র ছিল। সেখান থেকেই এই নাম গ্রহণ করেন হাকিম মজিদ। হাতে তৈরি বোতল থেকে শিল্প উৎপাদন প্রথমদিকে রূহ আফজা হাতে তৈরি করা হতো। ১৯২০ সালের মধ্যে কাঁচের বোতলে হাতে করে শরবত ভরা হতো এবং লেবেলও লাগানো হতো হাতে। দিল্লির শিল্পী মির্জা নূর আহমদ তৈরি করেছিলেন ঐতিহ্যবাহী লেবেল ডিজাইন, যা এখনো প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। চাহিদা বাড়তে থাকলে দিল্লির বাইরে গাজিয়াবাদে একটি কারখানায় এর বড় আকারে উৎপাদন শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যু ও নতুন অধ্যায় ১৯২২ সালে হাকিম হাফিজ আবদুল মজিদের মৃত্যু হয়। তখন তার বড় ছেলে আবদুল হামিদ মাত্র ১৪ বছর বয়সে পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বে হামদর্দ ধীরে ধীরে বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় এবং রূহ আফজার উৎপাদন ও বাজার বিস্তৃত হতে থাকে। ভারত ভাগ ও তিন দেশের ব্র্যান্ড ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হওয়ার পর হামদর্দও বিভক্ত হয়ে যায়। বড় ছেলে আবদুল হামিদ ভারতে থেকে যান ছোট ছেলে হাকিম মোহাম্মদ সৈয়দ পাকিস্তানে চলে যান এর ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় দুইটি প্রতিষ্ঠান: হামদর্দ ইন্ডিয়া হামদর্দ পাকিস্তান দুই দেশেই রূহ আফজার উৎপাদন অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশে রূহ আফজার যাত্রা ১৯৫০-এর দশকে হামদর্দ পাকিস্তান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) তাদের কার্যক্রম শুরু করে। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বিক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠানটি হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশ নামে কার্যক্রম চালিয়ে যায়। পরে ইউসূফ হারুন ভুঁইয়া নামের এক উদ্যোক্তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে রূহ আফজার উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণ শুরু হয়। রমজানের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রূহ আফজা শুধু পানীয় নয়, রমজানের সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। অনেক পরিবারে ইফতার মানেই রূহ আফজার শরবত। বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসময় একটি জনপ্রিয় মন্তব্য ছিল— “ছোটবেলায় মনে করতাম রূহ আফজা শরবত খেলে সওয়াব হয়।” এটি অনেকটাই মজার মন্তব্য হলেও এটি দেখায় যে পানীয়টির সঙ্গে মানুষের আবেগ কতটা গভীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাকিস্তানি লেখক আজির হাসান রিজভী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, রমজানে এশীয় মুসলমানদের কাছে রূহ আফজার গুরুত্ব ঠিক যেমনটা কার্টুন চরিত্র পোপাই-এর কাছে পালং শাকের। অন্যদিকে মারিয়া সারতাজ নামের এক ব্যবহারকারী বলেন, রমজান ও রূহ আফজা একে অপরের পরিপূরক। দুধ না পানি—চলমান বিতর্ক রূহ আফজা কীভাবে খাওয়া উচিত তা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। অনেকে বলেন এটি দুধের সঙ্গে খেলে স্বাদ সবচেয়ে ভালো। অন্যরা বলেন ঠান্ডা পানির সঙ্গে মিশিয়েই আসল স্বাদ পাওয়া যায়। কেউ কেউ আবার ফল, বেসিল সিড বা আইসক্রিম মিশিয়ে নিজস্ব রেসিপি তৈরি করেন। স্বাস্থ্য নিয়ে সমালোচনা তবে সবাই যে এই পানীয়ের ভক্ত তা নয়। সমালোচকদের মতে এতে চিনির মাত্রা বেশি। এছাড়া রঙ ও প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অনেকে মনে করেন, ঘরে তৈরি শরবত বা ফলের জুস বেশি স্বাস্থ্যকর। যুদ্ধ ও সংকটের সাক্ষী একটি পানীয় যে এত ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে পারে, সেটি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। ভারত ভাগ, পাকিস্তান সৃষ্টি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা—সবকিছুর মধ্য দিয়েই টিকে আছে এই ব্র্যান্ড। সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় আফগান শরণার্থীদের ত্রাণ হিসেবে রূহ আফজা পাঠানো হয়েছিল। পরে দেখা যায়, অনেক শরণার্থী এটি পানি বা দুধ ছাড়াই সরাসরি পান করতেন। ২০১৯ সালের সংকট ২০১৯ সালে ভারতে হঠাৎ করেই বাজারে রূহ আফজা সংকট দেখা দেয়। কোম্পানি জানায়, কিছু ভেষজ উপাদান সহজলভ্য না হওয়ায় উৎপাদন কমে গিয়েছিল। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অনেক ভারতীয় ব্যবহারকারী হতাশা প্রকাশ করেন। পাকিস্তানি ব্যবহারকারীরা মজা করে ভারতকে রূহ আফজা পাঠানোর প্রস্তাবও দেন। আদালত পর্যন্ত গড়ানো বিতর্ক ২০২২ সালে দিল্লি হাই কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজনকে পাকিস্তানে তৈরি রূহ আফজা ভারতের বাজারে বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভারতীয় প্রস্তুতকারকেরা অভিযোগ করেছিলেন, পাকিস্তানি সংস্করণ অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশে জরিমানা বিতর্ক বাংলাদেশেও একবার আইনি জটিলতায় পড়েছিল এই ব্র্যান্ড। ২০১৮ সালে ঢাকার একটি বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত অননুমোদিত উপাদান ব্যবহারের অভিযোগে হামদর্দকে চার লাখ টাকা জরিমানা করে। পরে আপিলের মাধ্যমে সেই রায় বাতিল হয়ে যায়। শতাব্দীর পানীয় আজ রূহ আফজা শুধু উপমহাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার এশীয় দোকানেও এটি পাওয়া যায়। অনেক প্রবাসী মুসলিমের জন্য এটি রমজানের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি পানীয়। স্বাদ, স্বাস্থ্য বা বিতর্ক—সবকিছুর বাইরে রূহ আফজা এখন এক শতাব্দীর ইতিহাসের অংশ। একটি লাল শরবত, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রমজানের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
অ্যাসিডিটি (গ্যাস্ট্রিক/অম্লতা) সাধারণত পেটে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হলে বা খাবার ঠিকমতো হজম না হলে হয়। নিচে সহজ ও কার্যকর উপায়গুলো দিলাম: 🥛 ঘরোয়া উপায় ১) ঠান্ডা দুধ এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ অ্যাসিডকে নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে ও বুকজ্বালা কমায়। ➡️ চিনি না মিশিয়ে খাওয়াই ভালো। ২) কলা পাকা কলা প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিডের মতো কাজ করে। ➡️ খালি পেটে বা হালকা নাস্তা হিসেবে খেতে পারেন। ৩) জিরা পানি এক চা চামচ জিরা ভেজে পানিতে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করুন। ➡️ হজমে সাহায্য করে, গ্যাস কমায়। ৪) আদা আদা চা বা কাঁচা আদা অল্প পরিমাণে চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। 🍽️ যেসব খাবার এড়াবেন অতিরিক্ত ঝাল ও ভাজাপোড়া টক খাবার (লেবু, আচার বেশি পরিমাণে) কোমল পানীয় অতিরিক্ত চা/কফি খুব দেরি করে রাতের খাবার ✅ জীবনযাত্রায় পরিবর্তন অল্প অল্প করে বারবার খাবার খান খাওয়ার পর সাথে সাথে শোবেন না (কমপক্ষে ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন টাইট পোশাক এড়িয়ে চলুন 💊 কখন ডাক্তার দেখাবেন? প্রায়ই বুকজ্বালা/বমি ভাব হয় খাবার গিলতে কষ্ট হয় রক্তবমি বা কালো পায়খানা ওজন অকারণে কমে যায় এগুলো থাকলে গ্যাস্ট্রো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ইফতারে ঠান্ডা কোনো পানীয় না থাকলে যেন জমেই না। অনেকেই বাইরে থেকে কেনা ইনস্ট্যান্ট শরবত বানিয়ে পান করেন। এতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ও স্বাদ মিললেও নিয়মিত খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তার বদলে ঘরে থাকা উপকরণ দিয়েই সহজে পুষ্টিকর স্মুদি তৈরি করা যায়। এতে যেমন তৃপ্তি মিলবে, তেমনি শরীরও থাকবে সুস্থ। চলুন জেনে নেওয়া যাক ইফতারের জন্য খেজুরের স্মুদি বানানোর সহজ রেসিপি- যা যা লাগবে খেজুর ১০-১২টি দুধ ২ কাপ পাকা কলা ২টি দই ২ টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়া ২ চা চামচ মধু ২ চা চামচ বরফ প্রয়োজনমতো প্রস্তুত প্রণালি প্রথমে খেজুর ভালো করে ধুয়ে গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে নরম করে নিন। এরপর পানি ঝরিয়ে খেজুরের সঙ্গে টুকরো করা কলা মেশান। সব উপকরণ ব্লেন্ডারে দিয়ে মসৃণ হওয়া পর্যন্ত ব্লেন্ড করুন, যাতে কোনো দানা না থাকে। তৈরি হয়ে গেলে গ্লাসে ঢেলে ওপর থেকে বরফ দিন। ইফতারের ঠিক আগে বানিয়ে পরিবেশন করলে স্বাদ বেশি ভালো থাকবে। দীর্ঘক্ষণ রেখে দিলে স্বাদের পরিবর্তন হতে পারে।
রমজানে ইফতার শুধু রোজা ভাঙার সময় নয়, বরং সারাদিনের দীর্ঘ উপবাসের পর শরীরকে পুনরায় শক্তি ও পুষ্টি জোগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। সঠিকভাবে ইফতার মেনু নির্বাচন করলে ক্লান্তি কমে, হজম সহজ হয় এবং সারাদিনের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই ইফতারে প্রয়োজন সচেতন খাদ্যাভ্যাস। 🥤 তরল খাবার দিয়ে ইফতার শুরু ইফতার শুরু করা উচিত হালকা তরল খাবার দিয়ে। প্রথমে পানি মুখে নিয়ে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড বিরতিতে ধীরে ধীরে পান করা ভালো। খুব তাড়াহুড়া করে বা গড়গড় করে পানি পান করা ঠিক নয়। তরল হিসেবে যা রাখা যেতে পারে— লাচ্ছি তাজা ফলের রস ডাবের পানি তোকমার শরবত আখের গুড়ের শরবত লেবু পানি শরবত তৈরিতে তাল মিছরি, গুড়, মধু বা ব্রাউন সুগার ব্যবহার করলে তা তুলনামূলক স্বাস্থ্যসম্মত হয়। 🌴 খেজুর: সুন্নতি ও পুষ্টিকর খাদ্য ইফতারে ২-৩টি খেজুর খাওয়া সারাদিনের ক্লান্তি দ্রুত দূর করতে সাহায্য করে। খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও অল্প পরিমাণ প্রোটিন—যা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। পুষ্টিগুণ বাড়াতে খেজুরের সঙ্গে চিনাবাদাম ও সামান্য মাখন মিশিয়ে পরিবেশন করা যেতে পারে। 🍎 মৌসুমি ফল: প্রাকৃতিক ভিটামিনের উৎস যেকোনো মৌসুমি ফল ইফতার মেনুতে রাখা জরুরি। ফল শরীরে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। মিক্সড ফ্রুটস, ফলের সালাদ বা ফল দিয়ে তৈরি হালকা ডেজার্ট খাওয়া যেতে পারে। 🥗 সবজি: হালকা ও সহজপাচ্য বিকল্প সবজি দিয়ে স্বাস্থ্যকর রেসিপি তৈরি করলে তা শরীরের জন্য উপকারী হয়। যেমন— সবজি স্যুপ (বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য উপযোগী) সবজি স্যান্ডউইচ সবজি নুডলস সবজি রোল সবজি পাকোরা (কম তেলে) খেয়াল রাখতে হবে, রান্নায় যেন অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না হয়। 🧆 ছোলা: প্রোটিনের সহজ উৎস ছোলা প্রোটিনের ভালো উৎস। তবে অতিরিক্ত তেল ও মসলায় ভুনা ছোলা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। স্বাস্থ্যকরভাবে ছোলা খাওয়ার উপায়— সারারাত ভিজিয়ে রেখে সিদ্ধ করা সিদ্ধ ছোলার সঙ্গে পেঁয়াজ, মরিচ, শশা ও টমেটো মিশিয়ে সালাদ তৈরি সামান্য তেলে হালকা ভাজা কাঁচা ভেজানো ছোলাও খাদ্য আঁশ ও প্রোটিনের ভালো উৎস। 🍮 মিষ্টান্ন: পরিমিত থাকাই উত্তম ইফতারে স্বাস্থ্যকর মিষ্টান্ন পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। জিলাপি বা বুন্দিয়া তেলে ভেজে সিরায় ডুবানো হয়, যা বেশি খেলে ক্ষতিকর। বিকল্প হিসেবে রাখা যেতে পারে— ফালুদা কাস্টার্ড পুডিং ফিরনি দুধজাত খাবার শরীরে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সরবরাহ করে। 🍽️ অন্যান্য উপকারী খাবার ইফতারের জন্য চিড়া-দই খুবই ভালো একটি খাবার। এতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এ ছাড়া রাখা যেতে পারে— দই বড়া নুডলস স্যান্ডউইচ রুটি-কাবাব মম শশা রমজানে ইফতার শুধু খাবার গ্রহণের সময় নয়, বরং সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টিজাত খাবার পরিহার করে পরিমিত ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করলে শারীরিকভাবে ভালো থাকা সম্ভব। সচেতন খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সুস্থ ও কর্মক্ষম রমজানের মূল চাবিকাঠি।
ডেস্ক রিপোর্ট: শুরু হয়েছে সংযমের মাস পবিত্র রমজান। আত্মিক পরিশুদ্ধির পাশাপাশি এই মাস হতে পারে শরীরকে সুস্থ ও ফিট রাখারও সেরা সময়। তবে ইফতারের টেবিলে বাহারি ভাজাপোড়া, মিষ্টিজাতীয় খাবার ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত পদ অনেক সময় ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সারাদিন উপোস থাকার পর হঠাৎ অতিরিক্ত খাবার খেলে ওজন বেড়ে যাওয়া, অস্বস্তি ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু সঠিক খাবার নির্বাচন, পরিমিত আহার ও নিয়মিত হালকা ব্যায়াম—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে রোজার মাসেও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রমজানে কোন খাবারগুলো আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে— শাকসবজি: কম ক্যালরি, বেশি পুষ্টি শাকসবজি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্যতম প্রধান সহায়ক। এতে ক্যালরি কম, কিন্তু আঁশ বেশি। আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। যেভাবে খাবেন: ইফতারে শসা, টমেটো, গাজর, লেটুস দিয়ে সালাদ সেহরিতে কম তেলে রান্না করা সবজি ডাল বা স্যুপে মিশ্র সবজি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়ক ফলমূল: প্রাকৃতিক মিষ্টির স্বাস্থ্যকর বিকল্প ইফতারে মিষ্টিজাতীয় খাবারের বদলে ফল হতে পারে আদর্শ পছন্দ। ফলে থাকে প্রাকৃতিক চিনি, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ইফতারে রাখতে পারেন: তরমুজ আপেল পেয়ারা কমলা পেঁপে খেজুর খেজুরে প্রাকৃতিক গ্লুকোজ দ্রুত শক্তি জোগায়। তবে অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো। প্রোটিন: দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তির উৎস রোজার সময় শক্তি ধরে রাখতে প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পেশি গঠনে সহায়ক এবং দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। খাদ্যতালিকায় রাখুন: গ্রিল বা সেদ্ধ মুরগি মাছ ডিম ডাল ছোলা ভাজা খাবারের বদলে গ্রিল বা সেদ্ধ প্রোটিন গ্রহণ করলে অপ্রয়োজনীয় চর্বি জমা কমে। পূর্ণ শস্য: স্থিতিশীল শক্তির জোগান সাদা ভাত বা পরিশোধিত ময়দার রুটি দ্রুত হজম হয়ে যায়। এর বদলে পূর্ণ শস্য গ্রহণ করলে শক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়। উপকারী শস্য: ব্রাউন রাইস আটার রুটি ওটস লাল চাল এসব খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। বাদাম ও বীজ: অল্পতেই তৃপ্তি এক মুঠো বাদাম শক্তি জোগায় এবং অতিরিক্ত স্ন্যাকিং কমায়। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। খেতে পারেন: কাঠবাদাম আখরোট কাজুবাদাম চিয়া বীজ তিসি বীজ পর্যাপ্ত পানি: মেটাবলিজম সচল রাখুন রোজায় ডিহাইড্রেশন হলে শরীর অনেক সময় ক্ষুধা ও পানিশূন্যতার সংকেত গুলিয়ে ফেলে। পরামর্শ: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ৮–১০ গ্লাস পানি একবারে বেশি না খেয়ে বিরতি দিয়ে পান অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত এড়িয়ে চলুন পানি বিপাকক্রিয়া সচল রাখে এবং হজমে সহায়তা করে। যেসব অভ্যাস মানলে ওজন বাড়বে না ✔️ ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন ✔️ ধীরে ধীরে খাবার খান ✔️ সেহরি কখনো বাদ দেবেন না ✔️ ইফতারের পর ২০–৩০ মিনিট হালকা হাঁটা ✔️ পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন রমজান শুধু আত্মশুদ্ধির মাস নয়, এটি হতে পারে সুস্থ জীবনযাপনের নতুন সূচনা। খাবারের পরিমাণ নয়, গুণগত মানের দিকে নজর দিন। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত আহার ও নিয়মিত হালকা ব্যায়াম—এই তিন অভ্যাস মেনে চললে মাস শেষে নিজেকে আরও হালকা, ফিট ও প্রাণবন্ত অনুভব করবেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের তৃণমূল সাংবাদিকদের সংগঠন সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম ফারুক মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মুহাম্মদ আবু আবিদ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রতিনিধিরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জেলা কমিটি থেকে দুই থেকে তিনজন প্রতিনিধি ভোটগ্রহণে অংশ নেন। নবনির্বাচিত সভাপতি গোলাম ফারুক মজনু দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক বিপ্লবী জনতা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে সাংবাদিকতায় যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে মুহাম্মদ আবু আবিদ বর্তমানে মোহনা টিভির চিফ এডিটর (প্ল্যানিং, অনলাইন ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলছেন, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকার কারণে নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক নির্যাতন, হয়রানি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি হলে অতীতেও তারা সরব ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. নেছার উদ্দিন, মো. ফজলে নেওয়াজ ও মো. আনোয়ারুজ্জামান আজাদ। যুগ্ম সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট হাসান আলম সুমন ও মো. হাবিবুর রহমান। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. কামরুল ইসলাম, মো. মিরাজ হোসেন, মো. জামাল শিকদার ও মো. শহিদুল ইসলাম। এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে শুভঙ্কর সেন শুভ, দপ্তর সম্পাদক পদে মীম আক্তার, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে আব্দুল মান্নান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মো. জাকির হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে নিপা আক্তার, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে আর কে রিপন এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল নোমান নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এনায়েত হোসেন খান রিমন, শরিফুল ইসলাম, মোকাম্মেল হোসেন চৌধুরী, রঞ্জন লোদ রাজু, সুমা রানী কর্মকার ও মো. ফারুক হোসেন বাপ্পি। নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সভাপতি গোলাম ফারুক মজনু ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু আবিদ সংগঠনের সদস্য, প্রতিনিধি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, তৃণমূল সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা, পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় এসএসপি ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি। মঙ্গলবার (৫ মে) প্রকাশিত সংগঠনটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাসজুড়ে অন্তত ৭৫ জন সাংবাদিক বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। মোট ৪০টি ঘটনায় সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪২ জন আহত, ১৭ জন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং ১০ জন হুমকির মুখে পড়েন। এছাড়া তিনজন সাংবাদিককে আটক করা হয় এবং চারটি মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি বলছে, একই সময়ে দেশে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৪৪টি ঘটনায় ২২ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব সহিংসতা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়। রাজনৈতিক সহিংসতাও এপ্রিলে অব্যাহত ছিল। ৯৮টি ঘটনায় ছয়জন নিহত এবং ৫৩৩ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদাবাজি এসব ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, সাতটি জনসভা ও সমাবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ৪৯ জন আহত এবং দুজন আটক হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টকে কেন্দ্র করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রও প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক হিসেবে উঠে এসেছে। এপ্রিল মাসে ২৯৪ জন নারী ও কিশোরী সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৮টি ধর্ষণ এবং ৭৯টি যৌন হয়রানির ঘটনা রয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় মারা গেছেন ৬৪ জন নারী। শ্রম খাতেও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র পাওয়া গেছে। কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা ও অনিরাপদ পরিবেশে ১৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২৪-এর ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের হলে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর পর থেকেই শুরু হয় সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও নির্যাতন। এ সময়ে চারজন সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মগোপনে রয়েছেন অনেকেই। দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) জানিয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২৬৬ জনকে অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত হত্যা বা সহিংসতার মামলায় আসামি করা হয়েছে। গত বছরের ৪ আগস্ট এ তথ্য প্রকাশ করে সংস্থাটি। এদিকে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে দেশে ৩৮৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া চার সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা হয়েছে। আসক বলছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের কমবেশি নির্যাতন বা হয়রানি করেছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বিমানবন্দর থেকে একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক-উপস্থাপক ফারজানা রুপাকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ফজলুল করিম নামের একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ছাড়া রাজধানীর আদাবরে পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলাতেও তাদের দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তারা কারাগারে আছেন, এখনো জামিন পাননি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত এলাকা থেকে আটক হন একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হওয়া কয়েকটি হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এবং জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ গ্রেপ্তার হন। তিনি বর্তমানে কারাগারে। গত বছরের এপ্রিলে ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয়। দলটির চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় গত বছরের আগস্টে মাইটিভির চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এসব সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়ে মাসের পর মাস কারাগারে বিনা বিচারে কারাবন্দি রয়েছেন। বারবার জামিনের জন্য আবেদন করলেও সেই আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। সাংবাদিকদেরই অনেকে বলছেন, সাংবাদিকেরা বিতর্কের ঊর্ধ্বে নন। তাদের লেখালেখি বা বক্তব্যে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত মনে করলে তার আইনি প্রতিকার রয়েছে। এমনকি কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও আছে। কিন্তু ঢালাওভাবে হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে নাম ধরে ধরে আসামি করা ন্যায়বিচারের ধারণাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ বিষয়ে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যদি আইনের শাসনের কথা বলি, তাহলে বিনা বিচারে কাউকে আটকে রাখা এবং দিনের পর দিন জামিন না দেওয়া সমীচীন নয়। বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। আমরা নোয়াবের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি বলেছি। শিগগিরই বিষয়টির সুরাহা হবে বলে আশা রাখছি।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের প্রধান ফটকের সামনে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাংবাদিক শাহনাজ শারমীন। সেখান থেকেই তিনি লাইভ সম্প্রচার করেন। অন্য টেলিভিশনেও সেই সম্প্রচারের দৃশ্য দেখা গেছে, যার তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। কিন্তু একই দিন বিকেলে মিরপুরের ভাষানটেক এলাকায় এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় অন্য অনেকের সঙ্গে তাঁকেও আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে একাত্তর টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহনাজ শারমীন এসব তথ্য উল্লেখ করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর প্রশ্ন, একই ব্যক্তি একসঙ্গে দুই জায়গায় থাকেন কীভাবে? এখন বিষয়টি দেখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। শাহনাজ শারমীনের ঘটনাটিই একমাত্র ঘটনা নয়। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হত্যা ও সহিংসতার অভিযোগে করা বিভিন্ন মামলায় সাংবাদিকদের ঢালাওভাবে আসামি করা হয়েছিল। বিভিন্ন পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ও সম্পাদকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ সাংবাদিক এখনো মামলার বোঝা বহন করছেন এবং কারাবন্দীদের অনেকেই জামিন পাচ্ছেন না। নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৪ মার্চ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর জামিন পেয়েছেন। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছিল। প্রথমে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও পরে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ জামাল হোসাইন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগেরও সদস্য। গত বছরের আগস্টে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিতে গিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম (পান্না)। মাস তিনেক পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২৮ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এসব ঘটনায় অন্যদের মধ্যেও কিছুটা আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি নেই, মামলাগুলোর দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের ক্ষেত্রে আদালত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেবেন। এর আগে গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের জামিন পাওয়ারও প্রত্যাশা করছেন তারা। কারাবন্দি সাংবাদিকদের জামিন বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলো সংবেদনশীল। প্রতিটি মামলা যাচাই-বাছাই করে দেখছে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে দায় পাওয়া না গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করছেন। কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির একটি চিত্র তুলে ধরে। বিষয়টি সংবেদনশীল এবং এতে নানা পক্ষের দাবি–পাল্টা দাবি আছে। সংক্ষেপে এবং বিশ্লেষণ করে বললে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে: ১. সংখ্যাগত চিত্র * Transparency International Bangladesh (টিআইবি) অনুযায়ী: * ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার * ২৬৬ জন হত্যা/সহিংসতার মামলায় আসামি * Ain o Salish Kendra (আসক): * এক বছরে ৩৮৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন/হয়রানির শিকার * Manabadhikar Sangskriti Foundation: * ২৬৮ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা * অন্তত ১৪ জন গ্রেপ্তার অর্থাৎ, বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়—সংখ্যা ভিন্ন হলেও “বড় আকারে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও চাপ” একটি বাস্তব প্রবণতা হিসেবে উঠে এসেছে। ২. মামলার ধরন নিয়ে বিতর্ক * অধিকাংশ মামলাই **হত্যা বা সহিংসতা সংক্রান্ত**, যা খুব গুরুতর অভিযোগ * অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ: * একই ঘটনায় বহুজনকে আসামি করা হয়েছে * কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঘটনাস্থলে ছিলেন না—এমন দাবিও এসেছে * আইনজীবীদের মতে, এসব মামলার “প্যাটার্ন প্রায় একই” এতে প্রশ্ন উঠছে—আইন কি নির্দিষ্ট অপরাধ বিচারের জন্য ব্যবহার হচ্ছে, নাকি কখনো কখনো **রাজনৈতিক বা প্রতিশোধমূলক চাপের হাতিয়ার** হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে? ৩. দীর্ঘদিন জামিন না পাওয়া * অনেক সাংবাদিক: * মাসের পর মাস, এমনকি দেড়–দুই বছর কারাগারে * এখনো চার্জশিট হয়নি * অভিযোগ: * জামিন শুনানিতে বারবার সময় নেওয়া * হাইকোর্টে জামিন পেলেও স্থগিত হয়ে যাচ্ছে এটি **ন্যায়বিচারের গতি ও প্রক্রিয়া** নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। ৪. রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট * গণ-অভ্যুত্থানের পর কিছু গোষ্ঠী সাংবাদিকদের “পূর্ববর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে * বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধেও সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগ এসেছে * ফলে বিষয়টি শুধু রাষ্ট্র বনাম সাংবাদিক নয়, বরং **বহুমাত্রিক চাপের পরিবেশ** তৈরি হয়েছে ৫. আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া * Committee to Protect Journalists (CPJ) * Reporters Without Borders * Article 19 এসব সংগঠন বলছে: * অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই * সাংবাদিকতার কারণে টার্গেট করা হতে পারে * মুক্তি ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে ৬. মূল দ্বন্দ্ব: আইন বনাম স্বাধীনতা এই পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে: **একদিকে:** * কেউ অপরাধ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি **অন্যদিকে:** * ঢালাও মামলা, দীর্ঘ আটক, প্রমাণহীন অভিযোগ → এগুলো হলে তা **মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের ওপর চাপ** হিসেবে দেখা হয় ৭. সারসংক্ষেপ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলো হলো: * মামলার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা * দীর্ঘ প্রি-ট্রায়াল আটক * সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে “গণহারে” অভিযোগ * বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: আইন কি সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, নাকি কখনো তা নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হয়ে উঠছে?** আইন যেন নিপীড়নের হাতিয়ার না হয়' গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বেশ উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল অভিযোগ সাংবাদিকদের অনেকের। সংবাদমাধ্যমের অফিসে হামলা, শত শত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং তিন দফায় সাংবাদিকদের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে এমন মামলা ও গ্রেফতারের সমালোচনা করছেন মানবাধিকারকর্মী এবং আইনজীবীরা। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, আর্টিকেল ১৯, রিপোর্টারস উইদাউট বর্ডারস এর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোও এ ঘটনার সমালোচনা করে আসছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) এর আগে এক বিবৃতিতে, সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং হত্যা মামলার আসামি করা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বা সিপিজে সম্প্রতি চারজন সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করেছে- তারা হলেন, মোজাম্মেল হক বাবু, শ্যামল দত্ত, ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ। সিপিজের চিঠিতে বলা হয়েছে, নথিপত্র, স্বজনদের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা বলছে, তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। কোনো অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়নি। ”আটক রাখার ধরন দেখে মনে হয় মূলত সাংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই তাদের এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে”- লিখেছে সিপিজে। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের সময়েও এরকম ঢালাও মামলা করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছিল। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে অবশ্যই আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মানবাধিকারকর্মী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, "আইন যেন নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করা হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেবে, কিন্তু যাতে কাজের ক্ষেত্র সংকুচিত না করা হয় এবং মতপ্রকাশে বাধা দেওয়া না হয়। আইনের অবশ্যই নিরপেক্ষ, সুষ্ঠ এবং সৎ প্রয়োগ হতে হবে।" বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের এই উপদেষ্টা বলছেন, "মানবাধিকারকর্মী হিসেবে স্বাধীন মত প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয় এরকম কাজের বিরোধিতা করি।" এদিকে, নোয়াবের সভাপতি ও সাংবাদিক নেতা মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, নির্বাচিত এই বিএনপি সরকার সাংবাদিকদের এই প্রসঙ্গে ইতিবাচক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিক নেতাদের জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের মামলাগুলো এই সরকারের আমলে দায়ের হয়নি কিংবা কেউ গ্রেফতারও হয়নি। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সুরাহা করার আশ্বাস দিয়েছেন উল্লেখ করে মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক বলেন, "আমরা আশা করি যেহেতু পুরোনো মামলা, এই মামলাগুলো সরকার রিভিউ করে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে"।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সাম্প্রতিক এক নির্দেশনায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। অপতথ্য ছড়ানো নিয়ে চলমান জাতীয় আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ, নাকি সংবাদমাধ্যমকে শৃঙ্খলায় আনার প্রয়াস? বাংলাদেশে অনলাইন সংবাদমাধ্যম নিবন্ধনের বিষয়টি কয়েক বছর ধরেই বিতর্কিত। তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহ্বান করা হলে হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানই অনুমোদন পায়। সমালোচকদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে এবং অনেক পেশাদার প্ল্যাটফর্ম নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি মোকাবিলায় নিবন্ধন ব্যবস্থা জরুরি। তবে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন—অপতথ্য কি কেবল নিউজ পোর্টালেই সীমাবদ্ধ, নাকি সামাজিক মাধ্যমেও সমানভাবে বিস্তার লাভ করছে? সামাজিক মাধ্যমের ক্ষেত্রে যেখানে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা নেই, সেখানে শুধু নিউজ পোর্টালকে লক্ষ্যবস্তু করা কতটা কার্যকর—সে প্রশ্নও সামনে আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে সহজলভ্য প্রযুক্তির কারণে যে কেউ অনলাইন পোর্টাল চালু করতে পারছে, যা পেশাদার সাংবাদিকতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ফলে খাতটিকে একটি নীতিমালার আওতায় আনা প্রয়োজন—তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য। এদিকে, অনেক অনিবন্ধিত পোর্টালে কর্মরত সাংবাদিকদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আকস্মিকভাবে এসব প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হলে বহু সংবাদকর্মী কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নীতিমালা তৈরির জন্য প্রয়োজন ব্যাপক পর্যালোচনা, স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে নিবন্ধিত গণমাধ্যমের জন্য সুযোগ-সুবিধা এবং দায়বদ্ধতার বিষয়গুলোও স্পষ্ট করা জরুরি। সামগ্রিকভাবে, সিলেটে জারি হওয়া এই নির্দেশনা দেশের অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের আরও গভীর ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সাংবাদিকরা কি পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাচ্ছেন, নাকি তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন? লেবাননের দৈনিক আল-আখবার-এর প্রতিবেদক খলিল বুধবার এক হামলায় নিহত হন। তিনি তখন ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী জেইনাব ফারাজের সঙ্গে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। লেবাননের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে “যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে চলতি বছরে লেবাননে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় অন্তত ২৯৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন—যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে লক্ষ্যবস্তু করা নিয়ে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, একাধিক ঘটনায় সন্দেহ দেখা যাচ্ছে—সাংবাদিকদের কি তাদের পেশাগত পরিচয়ের কারণেই টার্গেট করা হচ্ছে? কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক সারা কুদাহ বলেন, “এই ঘটনার অনেক প্রশ্ন এখনো উত্তরহীন রয়ে গেছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, হামলার পর কেন উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। তার মতে, চিকিৎসা সহায়তা বাধাগ্রস্ত হলে তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। ইসরায়েলের অবস্থান ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের “বৈধ সামরিক লক্ষ্য” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সিপিজে ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব দাবির পক্ষে অনেক সময় পর্যাপ্ত বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয় না। বিতর্কিত উদাহরণ ২০২৫ সালের আগস্টে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের কাছে এক হামলায় আল জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরিফ নিহত হন। পরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তিনি হামাসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সিপিজে বলছে, তারা যে তথাকথিত প্রমাণ পেয়েছে তা ছিল একটি স্প্রেডশিটে নামের পাশে একটি লোগো—যা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত নয়। একইভাবে, সাংবাদিক আলি শোয়েইবের ক্ষেত্রেও একটি ছবি প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়, যা পরে বিকৃত বলে জানা যায়। আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন জাতিসংঘ বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে কোনো বেসামরিক ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করতে হলে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানান, শুধুমাত্র “সম্পৃক্ততা”র অভিযোগ যথেষ্ট নয়—এটি স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হতে হবে। প্রবেশাধিকার ও আটক গাজায় আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের প্রবেশ দীর্ঘদিন ধরে সীমাবদ্ধ। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সংগঠনগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে গেলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এদিকে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের আটক নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২০০-র বেশি সাংবাদিক আটক হন, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন তখনও হেফাজতে ছিলেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আটক থাকা কিছু সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগ বিভিন্ন ঘটনায় তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হলেও সেগুলোর ফলাফল খুব কম ক্ষেত্রেই প্রকাশিত হয়—এমন অভিযোগ তুলেছে সিপিজে। জাতিসংঘ বলছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কার্যকর প্রয়োগ নির্ভর করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর। তথ্যপ্রবাহে প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিক নিহত হওয়া, প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধতা এবং আটক—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে স্বাধীন তথ্যপ্রবাহকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। সংঘাতের বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য যেখানে নিরপেক্ষ তথ্য জরুরি, সেখানে প্রতিটি সাংবাদিকের মৃত্যু একটি সম্ভাব্য তথ্যসূত্র হারিয়ে যাওয়ার সমান।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা বিবিসি বড় আকারে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, শিগগিরই প্রায় ২০০০ জন কর্মী চাকরি হারাতে পারেন, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছাঁটাই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে বিবিসির মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ২১ হাজার ৫০০। পরিকল্পিত এই ছাঁটাইয়ের ফলে প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী প্রভাবিত হবেন। বুধবার এক বৈঠকে কর্মীদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। সংস্থাটির এই সিদ্ধান্ত বৃহৎ কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ। আগামী মাসে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ম্যাট ব্রিটিন। তার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খরচ কমানোর লক্ষ্যে বিবিসি ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি সাশ্রয় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর আওতায় কর্মী সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি কিছু অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। সাবেক মহাপরিচালক টিম ডেভি আগেই জানিয়েছিলেন, আগামী তিন বছরে সংস্থার মোট ব্যয়ের প্রায় ১০ শতাংশ কমাতে হবে। উল্লেখ্য, টিম ডেভি গত ২ এপ্রিল পদত্যাগ করেন। এর আগে তিনি নভেম্বর মাসেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার সময়কালজুড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প, গাজা পরিস্থিতি এবং ট্রান্স অধিকার ইস্যু নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এদিকে, বিবিসি বর্তমানে সরকারের সঙ্গে তাদের রয়্যাল চার্টার নবায়ন নিয়ে আলোচনা করছে, যার মেয়াদ আগামী বছরের শেষে শেষ হবে। একইসঙ্গে লাইসেন্স ফি মডেল নিয়েও আলোচনা চলছে। গত ১ এপ্রিল লাইসেন্স ফি ১৭৪.৫০ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১৮০ পাউন্ড করা হয়েছে। গত বছর প্রায় ২ কোটি ৩৮ লাখ পরিবারের কাছ থেকে বিবিসি ৩.৮ বিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছে। এছাড়া বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আরও প্রায় ২ বিলিয়ন পাউন্ড এসেছে। তবে লাইসেন্স ফি প্রদানকারী পরিবারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে—এক বছরে প্রায় ৩ লাখ পরিবার কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দর্শকদের মধ্যে নেটফ্লিক্স ও ডিজনির মতো ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের প্রতি ঝোঁক বাড়ায় বিবিসি চাপে পড়ছে। গত বছর নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম সতর্ক করে বলেছিল, পাবলিক সার্ভিস টেলিভিশন ‘বিপন্ন প্রজাতি’ হয়ে যেতে পারে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিবিসি তাদের আইপ্লেয়ার সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউটিউবের সঙ্গে কনটেন্ট চুক্তিও করেছে সংস্থাটি। বিবিসি জানিয়েছে, গত তিন বছরে তারা ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করতে সক্ষম হয়েছে, যার বড় অংশ কনটেন্ট তৈরিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
ত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : সৌদি আরবে পবিত্র জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ দেখা গেছে। রবিবার (১৭ মে) দেশটির আকাশে এই চাঁদ দেখা যায়। সেই অনুযায়ী, আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) থেকে হিজরি ১৪৪৭ সনের জিলহজ মাস শুরু হবে। ইসলামি চন্দ্র ক্যালেন্ডারের সর্বশেষ মাস জিলহজের ১০ম দিনে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। সেই হিসাবে আগামী ২৭ মে সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। এর আগের দিন অর্থাৎ ২৬ মে পবিত্র আরাফাহ দিবস পালিত হবে।এর আগে, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, তিউনিসিয়াও ২৭ মে ঈদুল আজহা উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে।
রমজানের শেষ দশ রাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ। এ সময়টিকে ইবাদত, দোয়া ও নেক আমলে ভরিয়ে তুলতে পরিবারকেও সম্পৃক্ত করা জরুরি। কীভাবে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এই সময়কে আরও অর্থবহ করা যায়, সে বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরা হলো। রমজানের শেষ দশ রাত সম্পর্কে প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ইবনে কাইয়্যিম বলেন, সব মাসের মধ্যে রমজান সর্বোত্তম এবং রমজানের রাতগুলোর মধ্যে শেষ দশ রাত সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ। এই সময়ে বেশি বেশি নেক আমল করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। পাশাপাশি পরিবারকে নিয়ে এই সময় কাটালে সন্তানদের মধ্যেও ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে ওঠে এবং পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। নিচে পরিবারের জন্য শেষ দশ রাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় তুলে ধরা হলো— নিয়ত ঠিক করা ইসলামে প্রতিটি কাজের আগে নিয়ত ঠিক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রমজানের শেষ দশ রাত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত করা উচিত। নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও দোয়া করতে হবে এবং সন্তানদেরও দোয়া করতে উৎসাহিত করতে হবে। পরিবারের সঙ্গে তাহাজ্জুদ তারাবি ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। চেষ্টা করা উচিত পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসব নামাজ আদায় করার। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আধ্যাত্মিক বন্ধন তৈরি হয়। যদি সন্তানরা ছোট হয় তবে সপ্তাহান্তে তাদের মসজিদে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এতে তারা মসজিদের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হবে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে শিখবে। একসঙ্গে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত রমজানজুড়ে প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত করা উচিত। তবে শেষ দশ রাতে তা আরও বাড়ানো ভালো। পরিবারে একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে সবাই মিলে কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। পরিবারের সদস্যরা পালা করে সুরা পড়তে পারেন। চাইলে এটিকে আনন্দময় করতে ছোট একটি প্রতিযোগিতাও রাখা যেতে পারে, যাতে দেখা যায় কে বেশি তিলাওয়াত করতে পারে। এতে শিশুদের কোরআনের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। দোয়ার তালিকা তৈরি করা রমজান রহমত ও বরকতের মাস। এ সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও বিভিন্ন কল্যাণ কামনার জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। শেষ দশ দিনে সন্তানদের সঙ্গে বসে একটি দোয়ার তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। এতে তারা বুঝতে শিখবে যে আল্লাহ সব দোয়া শোনেন। সন্তানদের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শেখানো একটি বিখ্যাত দোয়াও শেখানো যেতে পারে—হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন। বেশি বেশি সদকা করা সদকা শুধু অর্থ দানেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবার মিলে রান্না করে আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের ইফতারে দাওয়াত দেওয়া যেতে পারে। সন্তানদের তাদের অপ্রয়োজনীয় খেলনা বা ছোট হয়ে যাওয়া কাপড় গরিবদের দান করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। পরিবারের সবাই মিলে পার্কে গিয়ে পাখিদের খাবার দেওয়া বা আশপাশের বৃদ্ধ প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়াও সদকার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত। যদি সামর্থ্য থাকে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দান করা যেতে পারে। সন্তানদেরও তাদের হাতখরচের কিছু অংশ দান করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। এতে তাদের মধ্যে সহমর্মিতা ও উদারতার মানসিকতা গড়ে উঠবে। পরিবারকে সময় দেওয়া রমজানের শেষ দশ রাতকে পরিবারকেন্দ্রিক সময় হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। সন্তানদের বোঝানো দরকার কেন এই রাতগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভব হলে বাবা-মা বা আত্মীয়দের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার ও ইবাদতে সময় কাটানো যেতে পারে। এতে পরিবারে ভালোবাসা বাড়ে এবং সন্তানরা অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও সাহায্যের মানসিকতা শিখে। রমজান খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই শেষ দশ রাতকে অবহেলায় কাটিয়ে না দিয়ে যতটা সম্ভব ইবাদত ও ভালো কাজে ব্যয় করা উচিত।
পটুয়াখালীতে ১১০ দিনেই পুরো পবিত্র কুরআন মুখস্থ করে সবার দৃষ্টি কেড়েছে ১২ বছর বয়সী শিশু দ্বীন ইসলাম। সে সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের মধ্য ধরান্দী এলাকার জামিয়া রহিমীয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী। অল্প সময়ে কুরআন হিফজের এই বিরল কৃতিত্বে আনন্দিত তার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসী। দ্বীন ইসলাম অত্যন্ত মেধাবী, মনোযোগী ও পরিশ্রমী একজন ছাত্র। মাত্র ১১০ দিনের মধ্যেই সে পুরো কুরআন হিফজ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্য শিশুরা যখন খেলাধুলা করত, তখন সে কুরআন শরীফ নিয়ে পড়াশোনায় মন দিত। অনেক সময় সে একদিনে ১০ পৃষ্ঠা এমনকি এক পারা পর্যন্ত সবক দিয়েছে। দ্বীন ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের মধ্য ধরান্দী এলাকার একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান। তার বাবার নাম ইয়াকুব শিকদার। স্থানীয়রা জানান, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সন্তানকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প ছিল ইয়াকুব শিকদারের। সেই স্বপ্নেরই উজ্জ্বল প্রতিফলন দেখা গেছে দ্বীন ইসলামের এই অর্জনে। অল্প বয়সেই তার এই সাফল্য এখন এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
জেরুজালেম: ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে শুক্রবারের জুমা নামাজ বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানি হামলার আশঙ্কা দেখিয়ে এই নিরাপত্তামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দেশটি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ‘আল মুনাসিক’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বিবৃতিতে বেসামরিক প্রশাসনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিশাম ইব্রাহিম জানান, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জেরুজালেমের ওল্ড সিটির সব পবিত্র স্থান শুক্রবার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে আল-আকসা মসজিদ, ওয়েস্টার্ন ওয়াল (আল-বোরাক দেয়াল), টেম্পল মাউন্ট এবং চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার অন্তর্ভুক্ত। কোনো ধর্মাবলম্বী বা দর্শনার্থীকে এসব স্থানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ইসরায়েলি শাসক সংস্থার প্রধান সাফ জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদার ছাড়া সকলের জন্য প্রযোজ্য। গত শনিবার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ওল্ড সিটিতে প্রবেশ সীমিত করেছে। আল-আকসার সিনিয়র ইমাম শায়খ ইকরিমা সাবরি এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, "দখলদার কর্তৃপক্ষ যেকোনো অজুহাতে আল-আকসা বন্ধ করার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।" যদিও ইসরায়েল বর্তমান যুদ্ধকে এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে, রমজান মাসের শুরু থেকেই তারা আল-আকসায় নামাজ আদায়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছিল। এই সংঘাতের ফলে ইতিমধ্যেই দুই দেশে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ১০ জন নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত ১,২৩0 জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ হল মসজিদ আল-হারাম। জীবনে একবার হলেও এ মসজিদ পরিদর্শন করা কোটি মুসলিমের লালিত স্বপ্ন। মহান আল্লাহর এ ঘর নিয়ে মুসলিমদের মনে রয়েছে নানান কৌতুহল। অন্যতম হল, এ ঘরে কতটি গেট রয়েছে ? মসজিদুল হারামের মোট গেট সংখ্যা হল ২৬২। অসংখ্য দরজাসমূহ থেকে মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজা। ফেরেশতাদের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মসজিদ হারাম নির্মাণ করিয়েছেন। এরপর আদম, ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.) ঘরটি পুনঃনির্মাণ করেছেন। দীর্ঘ সময় মসজিদটির কোনো দরজা ছিল না। মক্কা বিজয়ের পর এ মসজিদে প্রথম দরজা তৈরি করা হয়। এ দরজার নাম হল ‘বাব বনি শায়বাহ’। এরপর ধীরে ধীরে নির্মিত হয়েছে বাকি দরজাগুলো, যা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। হারাম শরীফে প্রবেশের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজা বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য হাজি উমরাহ হজ করতে হারাম শরীফে যান। মসজিদুল হারামে তাদের চলাচল সহজ করার জন্য নিচে মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজা সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা হল। ১. বাব মালিক/কিং আব্দুল আজিজ গেট- (গেট নং ০১) বাব মালিক, যা কিং আব্দুল আজিজ গেট নামেও পরিচিত। মসজিদুল হারামের আধুনিক এবং প্রধান চারটি দরজার মধ্যে এটি একটি। সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ আব্দুল আজিজের নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়। হারাম কমপ্লেক্সের ইয়েমেণি কর্ণার এবং আজিয়াদ স্ট্রিটের ঠিক বিপরীতে দরজাটি অবস্থিত। বাব মালিক গেট থেকে সরাসরি কাবা দেখা যায়। দরজাটি দিয়ে প্রতিবন্ধী ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা সরাসরি মাতাফে (কাবা তওয়াফ করার স্থান) প্রবেশ করতে পারেন। সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ আব্দুল্লাহ হারাম শরীফ সম্প্রসারণের সময় এ দরজা সংস্কার করেছিলেন। ২. বাব আজিয়াদ/আজিয়াদ গেট-(গেট নং ০৫) মসজিদ আল- হারামের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আজিয়াদের দুটি উপত্যকার নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। এটি হারাম কমপ্লেক্সের ছোট দরজা হলেও মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার একটি। এ দরজা দিয়ে বৈদ্যুতিক সিঁড়ির সাহায্যে হারামের উপরের তলায় উঠা যায়। গেট ৭ ও ৮ আজিয়াদ গেটের পাশেই অবস্থিত। তাই আজিয়াদ গেট ব্যবহার করে মসজিদ হারামের উপরে উঠলেও সহজেই গেট ৭ ও ৮ দিয়ে নিচে চলে আসা যায়। ৩. বাব বিলাল/বিলাল গেট-(গেট নং ০৬) মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার একটি হল বাব বিলাল বা বিলাল গেট। এটি হারাম শরীফের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এটি সাহাবী ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মুয়াযযিন বিলাল ইবন রাবাহ (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। হাবশা তথা বর্তমান আবিসিনিয়ার বাসিন্দা হওয়ায় বিলাল হাবশী নামেও পরিচিত এ সাহাবি। ৪. বাব হুনাইন/হুনাইন গেট-(গেট নং ০৯) বাব হুনাইন বা হুনাইন গেট মসজিদুল হারামের দক্ষিণে বাব বিলার ও ইসমাইলের মধ্যে অবস্থিত। তায়েফের নিকটবর্তী হুনাইন শহরের নামানুসারে গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। বাব আজইয়াদের চলন্ত সিঁড়িগুলো গেটটির সামনে অবস্থিত হওয়ায়, বর্তমানে গেটটির কিছু অংশ দেখা যায়। গেটটি পুরোপুরি দেখা না গেলেও মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি এটি। ৫. বাব ইসমাইল/ইসমাইল গেট-(গেট নং ১০) মসজিদ হারামের দক্ষিণ দিকে বাব হুনাইন ও হামযাহ এর মধ্যে বাব ইসমাইল বা ইসমাইল গেট অবস্থিত। ইবরাহিম (আ.) এর পুত্র নবি ইসমাইল (আ.)-র সম্মানে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। আপেক্ষিকভাবে এ দরজাটি বায়তুল্লাহর অন্য দরজার চেয়ে ছোট হলেও মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার অন্যতম এটি। এ গেট দেখলে ইবরাহিম, ইসমাইল ও হাজেরা (আ.) মক্কায় আল্লাহর জন্য যে ত্যাগ করেছেন তা স্মরণ হয়ে যায়। ৬. বাব সাফা/আল সাফা গেট-(গেট নং ১১) বাব সাফা যা আল সাফা গেট নামেও পরিচিত। মসজিদুল হারামের ৫টি প্রধান ফটকের মধ্যে এটি একটি। ফটকটি হারাম শরীফের উত্তর দিকে অবস্থিত। এ গেট দিয়ে সায়ী করার স্থানে প্রবেশ করা যায় এবং উপরে যেতে চাইলে গেটটিতে থাকা সিঁড়ি ব্যবহার করে হারামের উপরে যাওয়া যায়। বয়স্ক ও অসুস্থ হাজিগণ সায়ী করার জন্য গাড়ির সহযোগিতা নিতে পারেন এখান থেকে। ৭. বাব হামযাহ-(গেট নং ১২) মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের ঠিক মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত বাব হামযাহ। বাইতুল্লায় প্রবেশের অন্যতম পয়েন্ট হল এ দরজা। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা হামযাহ (রা.) এর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। গেটটি দেখলে উহুদ যুদ্ধে হামযাহ (রা.) এর ত্যাগ ও শাহাদাতের কথা স্মরণ হয়ে যায়। ৮. বাব কুবাইস-(গেট নং ১৩) মসজিদ আল-হারাম কমপ্লেক্সের ১৩ নং গেটটি বাব কুবাইস নামে পরিচিত। কুবাইস পাহাড়ের নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। সাফা ও কুবাইস পাহাড়ে প্রবেশ করতে চাইলে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। বলা হয় যে, কুবাইস পাহাড় আল্লাহ তায়ালার সৃষ্ট প্রথম পাহাড়। ৯. বাব নাবি/আল নাবি গেট-(গেট নং ১৪) এ দরজাটি মসজিদের পূর্ব দিকে সাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী বাব কুবাইস ও আলীর মাঝে অবস্থিত। নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। এ দরজা ব্যবহার করে হারাম কমপ্লেক্সের উপরে ওঠা যায়। ১০. বাব নাবী ব্রিজ/আল নাবী ব্রিজ গেট-(গেট নং ১৫) মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি হল বাব নাবী ব্রিজ/আল নাবী ব্রিজ গেট। এ ব্রিজটি উপরের তলাগুলোর সাথে সংযুক্ত। এটি দিয়ে মসজিদের উপরে উঠে মসজিদ পরিদর্শন করা বা ইবাদত করা যায়। ব্রিজটি দিয়ে সহজেই সাফা পাহাড়ে পৌঁছানো এবং সাফা এরিয়ায় চলাচল করা যায়। রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। ১১. বাব দারুল আরকাম-(গেট নং ১৬) এ গেটটি মাসআ’র (সায়ী করার স্থান) পূর্বদিকে এবং বাব আলির (রা.) ডানদিকে অবস্থিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবা আরকাম বিন আবি আরকাম (রা.) এর বাসস্থান ছিল এটা। এজন্য তার নামানুসারেই এ গেটের নামকরণ করা হয়।এই গেট দিয়ে সরাসরি সায়ী করার স্থানে পৌঁছা যায়। এছাড়াও হারাম কমপ্লেক্সের উপরে যেতে চাইলে এই দরজা দিয়ে যাওয়া যায়। ১২. বাব আলী/ আলী গেট-(গেট নং-১৭) মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি হল বাব আলী বা আলী গেট। যে দশজন সাহাবা দুনিয়ায় জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন তাদের একজন হলেন আলী (রা.)। তাঁর নামেই এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি বাব নবি ও আব্বাসের মাঝে এবং সায়ী করার স্থানের পূর্বদিকে অবস্থতি। সায়ী করার সময় যে স্থানে ‘রমল’ করতে হয়, দরজাটি এ স্থানের সঙ্গে সংযুক্ত। ১৩. বাব আব্বাস-(গেট-২০) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা ও সাহাবা আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিবের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি হারাম কমপ্লেক্সের পূর্বদিকে বাব আলী ও বনি শায়বার মাঝে অবস্থিত। এ দরজা দিয়ে হাজি সাহেবগণ সায়ী করার স্থানে প্রবেশ করে থাকেন। ১৪. বাব বনি হাশেম-(গেট নং ২১) বাব বনি হাশেম মসজিদ হারাম কমপ্লেক্সের নতুন ও অত্যাধুনিক গেটগুলোর একটি। এটি পবিত্র কা’বার নিকটেই অবস্থিত। এ দরজা দিয়ে সায়ী করার স্থানে খুব সহজেই প্রবেশ করা যায়। মক্কার সম্ভ্রান্ত গোত্র বনু হাশেমের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ১৫. বাব বনি শাইবা/শাইবা গেট-(গেট নং-২২) বাব বনি শাইবা, যেটি বনু শায়বাহ নামেও উচ্চারণ করা হয়। এর অর্থ হল শায়বার পুত্রদের দরজা। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে এবং মারওয়া পাহাড়ের কাছে গেটটি অবস্থিত। মক্কার চাবি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ইসলাম আবির্ভাবের পূর্ব থেকেই বনু শায়বাহ গোত্রের কাছে ছিল এবং এখনও তাদের কাছেই আছে। গোত্রটিকে সম্মানিত করতেই তাদের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ১৬. বাব আল মারওয়া/মারওয়া গেট-(গেট নং ২৩) মক্কার প্রসিদ্ধ মারওয়া পাহাড়ের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। মসজিদ আল-হারাম কমপ্লেক্সের বড় দরজাগুলোর একটি হল বাব আল মারওয়া বা মারওয়া গেট। এ গেটে বৈদ্যুতিক সিঁড়ি রয়েছে, যা দিয়ে সহজেই হারাম শরীফের উপরে ওঠা যায়। যেসব হাজিগণ দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় সায়ী করেন, খুব সহজেই তারা এ গেট ব্যবহার করে নিচে চলে আসতে পারেন। মসজিদুল হারামে প্রবেশের প্রধান দরজাগুলোর মধ্যে বাব আল মারওয়া দরজা অন্যতম। ১৭. বাব আল-মুদা’আ/আল মু’দা’আ গেট-(গেট নং ২৫) উসমানীয় যুগে মসজিদ আল-হারামের উত্তরদিকে বাব সালামের পাশে গড়ে উঠেছিল মুদা’আ বাজার। এ বাজারের নামেই বাব আল-মুদা’আ/আল মুদা’আ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। নিচতলায় সায়ী সম্পন্ন করে দরজাটি দিয়ে বাহিরে বেরিয়ে আসা যায়। ১৮. বাব কুরাইশ-(গেট নং ২৬-২৭) সায়ী করার স্থানের উত্তরপ্রান্তে বাব কুরাইশ বা কুরাইশ গেট অবস্থিত। এ গেট দিয়ে মারওয়া পাহাড়ে প্রবেশ করা যায়। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বংশের নাম উম্মতে মোহাম্মাদির মাঝে উজ্জ্বল রাখতেই কুরাইশ গোত্রের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ১৯. বাব আরাফা/আরাফা গেট-(গেট নং-৩৫) বাব আরাফা বা আরাফা গেট মারওয়া পাহাড়ে অবস্থিত। মক্কার বিখ্যাত আরাফা ময়দান বরাবর মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে দরজাটি। এজন্য এ ময়দানের নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। হজের আবশ্যকীয় কাজগুলোর একটি হল আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। ২০. বাব মুযদালিফা/মুযদালিফা গেট-(গেট নং ৩৬) বাব মুযদালিফা বা মুযদালিফা গেটও মারওয়া পাহাড়ে অবস্থিত। হজের সময় হাজিগণ মুযদালিফা নামক স্থানে অবস্থান করেন। দরজাটি এ স্থান বরাবর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এজন্য মুযদালিফার নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। ২১. বাব ফাতাহ-(গেট নং ৪৫) আরবি ফাতাহ শব্দের অর্থ হল বিজয়। কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের দিন এ দিক দিয়ে কা’বায় প্রবেশ করেছিলেন। এজন্য এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে ফাতাহ বা বিজয়। হারাম কমপ্লেক্সের দক্ষিণ দিকে দরজাটি অবস্থিত। ২২. বাব ওমর ফারুক-(গেট নং ৪৯) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গুরুত্বপূর্ণ সাহাবি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর ফারুক (রা.) এর নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। যে দশজন সাহাব দুনিয়ায় থাকতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন ওমর (রা.) তাঁদের অন্যতম। ২৩. বাব আল কুদস-(গেট নং ৫৫) মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি হল বাব আল কুদস। দরজাটি ইসলামের প্রথম ক্বিবলা ‘মসজিদুল আকসা’ অভিমুখী। এজন্য ‘আল কুদস’ নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ইসলামের প্রথম কিবলার গুরুত্ব ও তাৎপর্য মুসলিম উম্মাহর মনে করিয়ে দেয় দরজাটি। ২৪. বাব মদিনা-(গেট নং ৫৬) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় গিয়েছিলেন। মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের এ দরজাটি মদিনামুখী করে তৈরি করা হয়েছে। এজন্য দরজাটির নাম রাখা হয়েছে বাব মদিনা। ২৫. বাব উমরা-(গেট নং-৬৩) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনের শেষ উমরা করার জন্য এদিক দিয়ে কা’বায় প্রবেশ করেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উমরার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য বাব উমরা নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। এ দরজা দিয়ে সরাসরি মাতাফে (কা’বা তওয়াফ করার স্থান) প্রবেশ করা যায়। ২৬. বাব আম্মার বিন ইয়াসির-(গেট নং ৬৭) আম্মার বিন ইয়াসির (রা.) প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। তিনি এবং তাঁর বাবা-মা ইসলাম গ্রহণ করার জন্য মক্কার মুশরিকদের কাছে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। মর্যাদাবান এ সাহাবার নামে হারাম কমপ্লেক্সের এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ২৭. বাব মুয়ায বিন জাবাল-(গেট নং ৬৮) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর যে সাহাবারা প্রচুর জ্ঞান রাখতেন, তাঁদের একজন হলেন মুয়ায বিন জাবাল (রা.)। মসজিদ আল-হারামের ৬৮ নং দরজাটি তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে। ২৮. বাব আমর বিন আল আস-(গেট নং ৬৯) মসজিদে হারামের ৬৯ নং দরজাটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আরেকজন সাহাবা আমর বিন আল আস (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। আমর বিন আল আস (রা.) হলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বুদ্ধিমান সাহাবাদের একজন। বদর ও উহুদসহ অনেক যুদ্ধে তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং ইসলামের পক্ষে নিজের বীরত্ব প্রকাশ করেছেন। ২৯. বাব আয়িশা বিনত্ আবি বকর-(গেট নং ৭০) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর শেষ ও কনিষ্ঠ স্ত্রী আয়িশা বিনত্ আবি বকর (রা.) এর নামে হারাম কমপ্লেক্সের এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি দেখলে ও এটি দিয়ে প্রবেশ করলে আম্মাজান আয়েশা (রা.) এর ইসলামের জন্য ত্যাগ ও কুরবানির কথা স্মরণ হয়। ৩০. বাব আসমা বিনত আবি বকর-(গেট নং ৭১) আবু বকর (রা.) এর মেয়ে আসমা বিনত আবি বকর (রা.) এর নামে মসজিদ হারামের ৭১ নং গেটের নামকরণ করা হয়েছে। আসমা (রা.) এর বাবা আবু বকর, স্বামী যুবায়ের বিন আওয়াম, সন্তান আব্দুল্লা ইবন যুবায়েরসহ পরিবারে সবাই ছিলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবা। ৩১. বাব আল ইয়ারমুক-(গেট নং ৭৩) আবু বকর (রা.) এর শাসনামলে মুসলিম ও রোমানদের মাঝে রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইন্তেকালের পর সবচেয়ে বড় যে যুদ্ধ হয়েছে, এ যুদ্ধের নাম হল ইয়ারমুকের যুদ্ধ। খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)-র বীরত্বে এ যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় হয়েছিল। মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের ৭৩ নং গেটটি ইয়ারমুক যুদ্ধের নামে নামকরণ করা হয়েছে। ৩২. বাব আবু বকর-(গেট নং ৭৪) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সাহাবা হলেন আবু বকর (রা.)। এক বর্ণনায় মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমার উপর আমার সাহাবাদের যত অনুগ্রহ রয়েছে তার কিছুটা হলেও আমি প্রতিদান দিতে পেরেছি। কিন্তু আবু বকরের অনুগ্রহ এমন যে তা পরিশোধ করতে আমি অক্ষম। আল্লাহেএর প্রতিদান দিবেন। আবু বকর (রা.) দুনিয়াতে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ জন সাহাবার একজন। তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা। তাঁর নামেই মসজিদ আল-হারামের ৭৪ নং গেটের নামকরণ করা হয়েছে। ৩৩. বাব আল-ফাহাদ-(গেট নং ৭৯) সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ ফাহাদের নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি হারাম কমপ্লেক্সের পূর্বদিকে অবস্থিত। মসজিদের পূর্বপ্রান্ত দিয়ে ইবাদতের জন্য প্রবেশ করতে চাইলে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। হারাম কমপ্লেক্সের থ্রি পোর্টাল দরজাগুলোর এটি একটি। সৌদি শাসকদের আমলে দ্বিতীয় সম্প্রসারণের সময় দরজাটিকে থ্রি পোর্টালে রূপ দেওয়া হয়। ৩৪. বাব জাবির বিন আব্দুল্লাহ-(গেট নং ৮৪) মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার একটি হল এটি। দরজাটি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবি জাবির বিন আব্দুল্লাহর নামে নামকরণ করা হয়েছে। মাত্র ৭ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ৯৪ বছর বয়সে মদিনায় মারা যান জাবির বিন আব্দুল্লাহ এবং মদিনায় মৃত্যুবরণকারী সর্বশেষ সাহাবি ছিলেন তিনি। ৩৫. বাব সাঈদ বিন যায়েদ-(গেট নং ৮৫) হারাম কমপ্লেক্সের ৮৫ নং গেটটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আরেকজন সাহাবা সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) ছিলেন উমর বিন খাত্তাব (রা.) এর চাচাতো ভাই এবং ভগ্নিপতি। উমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে এ সাহাবির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ৩৬. বাব যায়েদ বিন সাবিত-(গেট নং ৮৬) যায়েদ বিন সাবিত (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গুরুত্বপূর্ণ একজন সাহাবি। আবু বকর (রা.) এর খিলাফতের সময় যায়েদ (রা.) কুরআন সংকলনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সম্মানিত এ সাহাবার নামেই মসজিদ হারামের এ গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৩৭. বাব উম্মে হানি-(গেট নং ৮৭) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা আবু তালিবের মেয়ে হলেন উম্মে হানি (রা.)। তিনি আলী ও জাফর বিন আবি তালিব (রা.) বড় বোন। মিরাজ গমণের রাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মে হানি (রা.) এর বাড়িতে কিছুক্ষণ ঘুমিয়েছিলেন। এ সাহাবির নামেই মসজিদুল হারামের ৮৭ নং গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৩৮. বাব মাইমুনা-(গেট নং ৮৮) মক্কার মসজিদুল হারামের ৮৮ নং গেটটি মাইমুনা (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর একজন স্ত্রী এবং উম্মুল মু’মিনীন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর স্ত্রীদের মধ্যে মাইমুনা (রা.) ছিলেন সবচেয়ে বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান। ৩৯. বাব হিজলাহ-(গেট নং ৮৯) মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্রান্তে বেশ কয়েকটি গেট রয়েছে। এ দরজাগুলোর বাম দিকে বাব হিজলাহ এবং ডান দিকে বাব হাফসা আংশিকভাবে দৃশ্যমান। মক্কায় হিজলাহ নামের একটি পাহাড় রয়েছে। ধারণা করা হয়, এ পাহাড়ের নামেই দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪০. বাব হাফসা-(গেট নং ৯০) হারাম কমপ্লেক্সের ৯০ নং গেটটি রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আরেকজন স্ত্রী হাফসা (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। হাফসা (রা.) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবি ও ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর বিন খাত্তাব (রা.) এর মেয়ে। ৪১. বাব নাদওয়া-(গেট নং ৯২) দারুন নাদওয়া হল ঐতিহাসিক একটি ঘরের নাম যেখানে কুরাইশের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বিভিন্ন সময় মিটিং করতেন। মক্কা ও কুরাইশদের ইতিহাস মুসলিমদের স্মরণ করিয়ে দিতে এ ঘরের নামে হারাম কমপ্লেক্সের ৯২ নং গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪২. বাব খাদিজা-(গেট নং ৯৩) খাদিজা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রথম স্ত্রী। নবুওতের আগে এবং পরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন উম্মুল মু’মিনীন খাদিজা (রা.)। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওতের বিষয়টি সর্বপ্রথম সত্য বলে গ্রহণ করেছিলেন খাদিজা (রা.)। তাঁর নামেই মক্কার মসজিদুল হারামের ৯৩ নং গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪৩. বাব ইবরাহিম-(গেট নং ৯৪) নবি ইবরাহিম খলিলুল্লাহ (আ.) এর নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। কাবা ঘর মহান আল্লাহর নির্দেশে সর্বপ্রথম ফেরেশতারা নির্মাণ করেছিলেন। নুহ (আ.) এর সময়কালীন মহা প্লাবনে কাবা ঘর বালুর নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। এরপর মহান আল্লাহর নির্দেশে ইবরাহিম ও ইসমাঈল (আ.) ঘরটি ৪ হাজার বছর আগে পুনঃনির্মাণ করেছিলেন। ৪৪. কিং আব্দুল্লাহ গেট-(গেট নং ১০০) মসজিদ আল হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি কিং আব্দুল্লাহ গেট। হারাম কমপ্লেক্সের সবচেয়ে বড় দরজাগুলোরও একটি এটি। দরজাটি মসজিদের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এ গেটে দুটি চমৎকার মিনার রয়েছে। গেটটির সাথে রয়েছে একটি করিডোর , যে করিডোর দিয়ে সরাসরি মাতাফ বা তাওয়াফের স্থানে যাওয়া যায়। ৪৫. বাব সালাম গেট মসজিদ হারাম কমপ্লেক্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গেট হল বাব সালাম। সালাম অর্থ শান্তি অর্থাৎ এ দরজার নাম হল শান্তির দরজা। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে দরজাটি অবস্থিত। কা’বার কাছেই অবস্থান করতেন শাইবা বিন উসমান। অনেকে তাঁর গোত্রের দিকে ইঙ্গিত করে এ দরজাকে বাব বনি শাইবা বলে থাকেন। যদিও বনি শাইবা নামে হারাম কমপ্লেক্সে স্বতন্ত্র দরজাই রয়েছে।
শ্চিমবঙ্গের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বারাসাত শহরে এক বিরল সম্প্রীতির নজির গড়ে উঠেছে। হিন্দু পরিবারের বসতভিটায় অবস্থিত ‘আমানতি মসজিদ’ শুধু নামেই নয়, বাস্তবেও হয়ে উঠেছে আন্তঃধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য প্রতীক। আর এই সম্প্রীতির কেন্দ্রে রয়েছেন পার্থসারথি বোস—যিনি টানা ১৬ বছর ধরে পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে আসছেন। হিন্দু পরিবারের তত্ত্বাবধানে মসজিদ মসজিদটি পার্থসারথি বোসদের বাড়ির ভেতরেই অবস্থিত। স্থানীয়দের মতে, এ অঞ্চলে প্রায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে আর কোনো মসজিদ নেই। ফলে আশপাশের দোকান, বাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মুসলমানরা এখানে এসে নামাজ আদায় করেন। রমজান মাসে প্রতিদিন দেড় শতাধিক মুসল্লি ইফতার করেন এই মসজিদে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য—মসজিদের দেখভাল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সার্বিক দায়িত্ব পালন করে আসছে একটি হিন্দু পরিবার। ইতিহাসের সূত্রপাত ১৯৬০ সালে ১৯৬০ সালে সম্পত্তি বিনিময় প্রথার মাধ্যমে খুলনার আলকা গ্রাম থেকে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন পার্থসারথির দাদু নিরোধকৃষ্ণ বোস। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে বসতভিটায় উঠে তিনি দেখতে পান একটি জরাজীর্ণ মসজিদ। ধর্মীয় সম্মান বজায় রেখে সেটি আগলে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে তার ছোট ছেলে দীপক বোস দায়িত্ব নেন মসজিদের। তখনই এর নামকরণ করা হয় ‘আমানতি মসজিদ’। বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন পার্থসারথি বোস। দুর্ঘটনা থেকে আত্মশুদ্ধির পথ পার্থসারথি জানান, ২০০৯ সালের আগে মসজিদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা তেমন ছিল না। রমজান মাসে একদিন বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় বাইক থেকে পড়ে গিয়ে ডান কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, হাড় জোড়া লাগা কঠিন। অনুশোচনায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরদিন সকালে মসজিদে এসে ক্ষমা চান। নিজের ভুল স্বীকার করে মানত করেন—জীবিত থাকা পর্যন্ত রমজান মাসে রোজা রাখবেন। মসজিদের মাটি কাঁধে লাগিয়ে প্রার্থনা করেন সুস্থতার জন্য। তার দাবি, এরপর ধীরে ধীরে তার হাড় জোড়া লাগে। সেই থেকে টানা ১৬ বছর পুরো রমজান মাস রোজা রেখে আসছেন তিনি। এর আগেও রোজা রাখতেন, তবে পুরো মাস নয়। “মসজিদ আমাকে ভালো মানুষ বানিয়েছে” পার্থসারথি বলেন, “এই মসজিদ আমাকে এমন শিক্ষা দিয়েছে যে, খারাপ থাকার উপায় নেই। রোজা রাখলে মন পরিষ্কার থাকে। বাজে চিন্তা আসে না। মনে এক ধরনের ভয় কাজ করে—আবার যেন কোনো ভুল না করি।” তার পরিবারে অন্য কেউ রোজা না রাখলেও সবাই সহযোগিতা করেন। স্ত্রী সেহরির আয়োজন করেন, আর ইফতারে থাকে খেজুর, ফল ও হালকা খাবার। দান গ্রহণ নয় মসজিদের জন্য সরকারি বা স্থানীয় দান নেওয়া হয় কি না—এ প্রশ্নে পার্থসারথি স্পষ্ট জবাব দেন, “না, কোনো দান নেই। হারাম না হালাল বুঝি না। তাই দানবাক্সও রাখা হয়নি।” সম্প্রীতির বার্তা স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বারাসাতের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পুরোপুরি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। এখানে মুসলিম ভোটার নেই বললেই চলে। তবুও ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই। এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “এই মসজিদ আমাদের কাছে মন্দিরের মতোই পবিত্র।” অন্য এক বৃদ্ধা জানান, ভোরের আজান তার ঘুম ভাঙায় এবং মানসিক শক্তি জোগায়। ৯০ দশক থেকে দায়িত্বে থাকা মসজিদের ইমাম আক্তার বলেন, “বিশ্বে এমন নজির বিরল। মুসলমানরা এখানে নামাজ পড়ে চলে যান, কিন্তু দেখভাল করেন এক হিন্দু পরিবার। ইসলামে এমন কোনো নিষেধ নেই যে, অন্য ধর্মের মানুষ মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত থাকতে পারবেন না।” ধর্ম নয়, মানবিকতা পার্থসারথি বোস বলেন, “মসজিদের দেখভাল করি, কিন্তু ইসলামের নিয়মে হস্তক্ষেপ করি না।” তার মতে, এটি ধর্মীয় নয়—মানবিক দায়িত্ব। রমজানের আত্মসংযম, আত্মত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির বার্তা যেন নতুনভাবে ব্যাখ্যা করছে বারাসাতের ‘আমানতি মসজিদ’। যেখানে ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষ হয়ে ওঠাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।
২০০০ টাকা ঘরভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য নেই, বাড়িওয়ালাকে দিয়ে স্ত্রী ও নাবালক মেয়েকে ধর্ষণ করাল এক ব্য়ক্তি
গ্যাসের সিলিন্ডারের নামে OTP চাইছে ফোনে ? সব টাকা হাতিয়ে নেবে আপনার ! কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন
আইপিএলের মাঝপথেই দেশে ফিরে গেলেন কেকেআরের তারকা অলরাউন্ডার! খেলবেন না আর?
'মাটি খুঁড়ে অপরাধীদের বের করবেন', RG Kar কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে আশ্বস্ত অভয়ার বাবা, আর কী জানালেন?
তোলাবাজির অভিযোগে তৃণমূল কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী গ্রেফতার
'দুই পুলিশ কর্তা টাকা দিতে চেয়েছিলেন' ! নজরে মমতাও, খুলছে 'অভয়ার' ফাইল, কী কী ব্যবস্থা নিলেন মুখ্যমন্ত্রী ?
RG Kar কাণ্ডে সাসপেন্ড IPS ইন্দিরা, কী কী গুরুতর অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর?
আজই শুরু চিংড়িঘাটায় আটকে থাকা মেট্রো প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ, দু'দফায় যান নিয়ন্ত্রণ