Brand logo light
খামেনির জানাজা কেন ইরানি শাসনব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ | জনসমর্থন ও নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা

খামেনির জানাজা কেন ইরানি শাসনব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ | জনসমর্থন ও নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা

জুলাই ৪, ২০২৬

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হওয়ার দীর্ঘ চার মাস পর অবশেষে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। শুক্রবার তেহরানে কড়া নিরাপত্তা ও গভীর শোকের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকট ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির ভেতরে ধর্মীয় নেতৃত্বের ওপর সাধারণ মানুষের সমর্থন কিছুটা দুর্বল হলেও, এই শেষকৃত্যের মাধ্যমে ইরান বিশ্বকে তাদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও শক্তি দেখাতে চাইছে।  গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের ওই হামলায় খামেনির সঙ্গে তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য মেয়ে, জামাতা, শিশু নাতনি ও পুত্রবধূও নিহত হয়েছিলেন। ১৯৮৯ সাল থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা খামেনিকে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার নিজ শহর মাশহাদে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। এর আগে তার মরদেহ কোমে এবং ইরাকের পবিত্র শিয়া ধর্মীয় কেন্দ্র নাজাফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। শুক্রবার তেহরানের গ্র্যান্ড প্রেয়ার হলে খামেনি ও তার পরিবারের কফিনগুলো প্রদর্শনের জন্য রাখার পর দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন। অনুষ্ঠানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট স্পিকার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায়। পাশে জেনারেলদের একটি দল কফিনকে স্যালুট জানিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের মধ্যে রেভল্যুশনারি গার্ডসের নতুন প্রধান আহমদ ওয়াহিদিও ছিলেন, যিনি গুপ্তহত্যার আশঙ্কায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কখনও জনসমক্ষে আসেননি। চলতি বছরের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এবং নতুন করে তৈরি হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝে এই বিশাল শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানটিকে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে ইরানি প্রশাসন। কফিনগুলো রাখা হয়েছিল একটি চমৎকার খিলানযুক্ত পটভূমির নিচে, সাদা রঙের একটি উঁচু বেদির ওপর। এর দুই পাশে জাতীয় পতাকা এবং কালো শোক পতাকা ওড়ানো হচ্ছিল, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তিকে একসঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছে। বাংলাদেশ-চীন আলোচনায় নজর রাখছে ভারতবাংলাদেশ-চীন আলোচনায় নজর রাখছে ভারত কফিনের ওপর রাখা হয়েছিল একটি কালো পাগড়ি, যা মহানবী (সা.)-এর বংশধর ধর্মগুরুদের প্রতীক। এর পাশাপাশি রাখা ছিল একটি ভাঁজ করা চারকোনা চাদর, যা ইরানে বিপ্লবী আদর্শ এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ইরানের তাত্ত্বিক শাসনব্যবস্থায় খামেনি কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, বরং নবম শতাব্দীতে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া শিয়া ইসলামের দ্বাদশ ইমামের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হতেন। ফলে শত্রুর হামলায় তার এই মৃত্যুকে শিয়া সম্প্রদায়ের চিরায়ত ‘শাহাদাত’ ও শোকের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। খামেনির মৃত্যুর পর থেকেই শহরের রাস্তায় রাস্তায় ঝুলতে থাকা কালো পতাকাগুলো মূলত সপ্তম শতাব্দীতে শিয়া ইসলামের তৃতীয় ইমাম ইমাম হোসেনের শাহাদাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এই পুরো রাষ্ট্রীয় ও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি বড় ধরনের প্রশ্ন ও গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তিনি এই অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকলেও, রাজনৈতিক মহলে তার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেহরানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহী বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে চরম উত্তেজনার কারণে এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি নিরাপত্তার স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।  বাবার মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনিই মূলত সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ওই বিমান হামলায় তিনিও আহত হয়েছিলেন বলে খবর মিলেছিল। এরপর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং তার কার্যক্রম কেবল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত রেকর্ড করা বার্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ইসলামী রীতি অনুযায়ী সাধারণত মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফন করার নিয়ম থাকলেও, যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ সময় পর গত মাসের অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তির ওপর ভিত্তি করে এই সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ভারতের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা। এছাড়া কংগ্রেস নেতা সালমান খুরশিদ এবং জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির নেতৃত্বে একটি সর্বদলীয় প্রতিনিধি দলও প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে কারা, আমন্ত্রণ পাননি যারা খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে কারা, আমন্ত্রণ পাননি যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা পাকিস্তানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তেহরানে আবেগঘন পরিবেশে পাকিস্তানের এই নেতাদের স্বাগত জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি এবং স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানের পাশে থাকা রাশিয়া ও চীনের প্রতিনিধিরাও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আঞ্চলিক মিত্রতার প্রতীক হিসেবে হিজবুল্লাহর প্রয়াত নেতা হাসান নাসরুল্লাহর পরিবারের সদস্যরাও শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে এসেছেন। সোমবার তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে একটি বড় শোকমিছিলের পর মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হবে ইরানের শিয়া ধর্মীয় ব্যবস্থার কেন্দ্র কোমে। বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে বৃহস্পতিবার মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজারের কাছে খামেনির দাফন সম্পন্ন হবে। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিদায়ী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবার থেকেই তেহরানে সমবেত হতে শুরু করেছেন বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক উপমন্ত্রী এবং খামেনির শেষকৃত্য কমিটির প্রধান আলি আকবর পুরজামশিদিয়ান জানিয়েছেন, আজ তেহরানে বিদেশি নেতা, কর্মকর্তা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে।  আগামী ৪ থেকে ৮ জুলাই ইরান ও ইরাকের বেশ কয়েকটি পবিত্র শিয়া নগরীতে খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা চলবে। এরপর ৯ জুলাই তার নিজ শহর মাশহাদে চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হবে। তেহরানের রাষ্ট্রীয় শোকসভার মূল কেন্দ্র আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি মোসাল্লা মসজিদে এই আন্তর্জাতিক বিদায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইতোমধ্যে বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদল এবং ৯০ জনেরও বেশি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কারা তেহরানে খামেনির শেষকৃত্যে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার-প্রধানরা অংশ নিচ্ছেন। ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি এবং প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ইরানের পাশাপাশি ইরাকেও শোক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। খামেনির মরদেহ একদিনের জন্য ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। এছাড়া জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলি, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন ও আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ইতোমধ্যে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। পাশিনিয়ান নিজেই একদিন আগে বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি আগামীকাল যাবো এবং আগামীকালই ফিরে আসবো। অবশ্যই ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা রয়েছে।’ তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সংকটে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও তেহরানে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে থাকছেন পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। খামেনির জানাজা কেন ইরানি শাসনব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জখামেনির জানাজা কেন ইরানি শাসনব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ রাশিয়ার পক্ষে এই অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ, যা ক্রেমলিন ও তার সচিবালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। চীন তাদের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান (সংসদের ডেপুটি স্পিকার) হে উই-কে পাঠাচ্ছে। আজারবাইজানের পক্ষ থেকে মিলি মজলিসের (সংসদ) স্পিকার সাহিবা গাফারোভা, উপপ্রধানমন্ত্রী শাহিন মুস্তাফায়েভ এবং নাখচিভান স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্রের প্রধান জাব্বার মুসায়েভের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে। এর পাশাপাশি কাতার, লেবানন, সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা, বেলারুশ ও উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি হামাস, হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের শিয়া গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিরা তেহরানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আমন্ত্রণ পায়নি যারা ফক্স নিউজের বরাতে জানা গেছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানালেও নয়াদিল্লি সেখানে তুলনামূলক ‘নিচু স্তরের প্রতিনিধি দল’ পাঠাচ্ছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের এই প্রতিনিধিদলে থাকছেন পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা এবং বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন।  অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে সমর্থন করা দেশগুলোকে এই শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি বলেন, খামেনির মৃত্যুর কারণ হওয়া হামলার নিন্দা না করায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সম্মান অর্জন করতে পারেননি। একই কারণে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক এই সমাবেশের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। ইরানি পুলিশ বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দফতরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আব্দুল্লাহি শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে কোনও ধরনের হামলা না চালাতে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে সতর্ক করেছেন। অন্যথায় ‘ইরানি জাতির সন্তানদের কাছ থেকে কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে বলে তীব্র হুমকি দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় (১৩১ দিন) পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তার নিজস্ব কম্পাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে তিনি নিহত হন। তার মৃত্যুর পর থেকে জুলাইয়ের শেষকৃত্যের আগ পর্যন্ত আইনি ও ধর্মীয় নির্দেশনাবলি মেনে মরদেহটি হিমাগারে ফরেনসিক মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ইসলামী রীতি অনুযায়ী মরদেহ দ্রুত, আদর্শগতভাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও বেশ কিছু মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার কারণে ইরানি কর্তৃপক্ষ এই আনুষ্ঠানিকতা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়। প্রথমত, খামেনির মৃত্যুর পরপরই তেহরানসহ ইরানের অন্যান্য শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। সক্রিয় বিমান হামলার এই হুমকির মুখে লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটানো এবং বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানানো অসম্ভব ও অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল। গত জুন মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পালন এবং সংঘাত থামানোর প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পরই কেবল বিশাল জনসমাগমের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় কর্তৃপক্ষ। আরাঘচি ও গালিবাফকে হত্যার ছক কষেছিল ইসরায়েলআরাঘচি ও গালিবাফকে হত্যার ছক কষেছিল ইসরায়েল তাছাড়া চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার আশঙ্কার কারণে শীর্ষ নেতাদের জনসমক্ষে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। উদাহরণস্বরূপ, ইসরায়েলের সক্রিয় নজরদারি এবং হত্যার হুমকির কারণে খামেনির ছেলে তথা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার বাবার শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান পুরোপুরি এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত একটি পরিবেশ তৈরি করতে ইরানি কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তারা যেকোনও মূল্যে ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এবং ২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানির শেষকৃত্যের মতো ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হুড়োহুড়ির পুনরাবৃত্তি এড়াতে চেয়েছিল। ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক রাসায়নিক দিয়ে মরদেহ সংরক্ষণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায়, সাবেক এই নেতার মরদেহ সংরক্ষণে কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করেছে। বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে ফরেনসিক মর্গগুলোর ভেতরে হিমঘরে মরদেহটি হিমায়িত করে রাখা হয়েছিল। যদিও এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা, তবে শিয়া ফিকহ বা আইনশাস্ত্রে যুদ্ধাবস্থার মতো পরিস্থিতিতে দাফন বিলম্বিত করা এবং হিমায়িত সংরক্ষণাগারে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে। ফলে সরকারের জন্য এই ধর্মীয় ছাড় বা ফতোয়া পাওয়া সহজ হয়েছিল।  ফেব্রুয়ারির সেই বিমান হামলায় খামেনির সঙ্গে তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যও নিহত হন এবং তাদের মরদেহও খামেনির সঙ্গেই সংরক্ষণ করা হয়েছিল। অবশেষে শুক্রবার (৩ জুলাই) আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং তার আত্মীয়দের কফিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ কমপ্লেক্সে এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠানের জন্য মরদেহটি সেখানে রাখা হয়েছে। এরপর ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরজুড়ে এক সপ্তাহব্যাপী বিশাল গণ-শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী শুক্রবার (৯ জুলাই) খামেনির নিজ শহর মাশহাদের অত্যন্ত সম্মানিত ও পবিত্র ইমাম রেজা মাজারে দাফনের মাধ্যমে এই শেষকৃত্যানুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় ও দাফন অনুষ্ঠান শুরু হতে যাচ্ছে। খামেনির মৃত্যুর কয়েক মাস পর আয়োজিত এই শেষকৃত্যের সময় তার মরদেহ ইরান এবং প্রতিবেশী ইরাকের বিভিন্ন শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। আরাঘচি ও গালিবাফকে হত্যার ছক কষেছিল ইসরায়েলআরাঘচি ও গালিবাফকে হত্যার ছক কষেছিল ইসরায়েল প্রায় চার দশক ধরে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন। তবে যুদ্ধ চলার কারণে এতদিন তার শেষ বিদায় স্থগিত ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই জানাজা ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে খামেনির শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী চলা বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর রক্তক্ষয়ী দমনপীড়নের ঠিক ছয় মাস পর এই আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে এর মাধ্যমে খামেনির পক্ষে কতটা জনসমর্থন রয়েছে, তা যাচাইয়ের চেষ্টা করবে দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্ব। এই লক্ষ্যে সাধারণ জনগণ, সরকারি কর্মচারী এবং আধাসামরিক বাহিনীকে রাস্তায় নামাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তেহরানে খামেনির মরদেহ, শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুতেহরানে খামেনির মরদেহ, শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি চলায় কর্তৃপক্ষ এখন এই অনুষ্ঠান আয়োজন ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের জনসমক্ষে আনার সাহস পাচ্ছে। কারণ যুদ্ধের সময় ইসরায়েল ইরানের একাধিক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে, যার অন্তত একটির ক্ষেত্রে জনসমক্ষে আসার সূত্র ধরে তাদের ট্র্যাক করা হয়েছিল। তবে খামেনির ছেলে এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এই অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বাবার ওপর হওয়া ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয় এবং বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। দিনব্যাপী শেষকৃত্যের কর্মসূচি শনিবার ইরানের রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির মরদেহ প্রদর্শনের মাধ্যমে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে, যা রবিবারও চলবে। সোমবার তেহরানের রাস্তায় শোকমিছিল শেষে মরদেহটি ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে শিয়াদের পবিত্র নগরী কোমে নিয়ে যাওয়া হবে এবং মঙ্গলবার সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। খামেনির কফিন হত্যাস্থলে নেওয়ার কারণ কীখামেনির কফিন হত্যাস্থলে নেওয়ার কারণ কী বুধবার খামেনির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ইরাকের কারবালায়, যেখানে শিয়া মুসলমানদের প্রতিরোধের প্রতীক হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের মাজার রয়েছে। কাকতালীয়ভাবে, এই বুধবারেই খামেনির শাসনের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভের বর্ষপূর্তি, যে আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছিলেন। দাফন হবে মাশহাদের পবিত্র মাজারে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরাক থেকে ফিরিয়ে আনার পর ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজারে খামেনিকে দাফন করা হবে। ইমাম রেজা ছিলেন শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমাম। প্রতি বছর লাখ লাখ পুণ্যার্থী এই মাজার জিয়ারত করেন। ইরানি শিয়াদের মতে, যেকোনো দুঃখী বা পাপী ব্যক্তি এখানে এলে মুক্তি পান। এর আগে ২০২৪ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিসহ অনেক প্রখ্যাত শিয়া ধর্মগুরুকে এই মাজারে দাফন করা হয়েছে। খামেনির শেষ বিদায়ের আগে জনসমক্ষে আইআরজিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধানখামেনির শেষ বিদায়ের আগে জনসমক্ষে আইআরজিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান হুড়োহুড়ি ও প্রাণহানির আশঙ্কা লাখ লাখ মানুষের সমাগম হলে অতীতে ইরানে একাধিকবার বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। ১৯৮৯ সালের ৬ জুন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষকৃত্যে লাখ লাখ ইরানি রাস্তায় নেমে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শোকাকুল জনতা কফিনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে খোমেনির সাদা কাপড়ে মোড়ানো মরদেহটি ভিড়ের মধ্যে পড়ে যায়। ওই বিশৃঙ্খলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার মানুষ আহত হন। একইভাবে ২০২০ সালে রেভল্যুশনারি গার্ডসের জেনারেল কাসেম সোলাইমানির দাফন অনুষ্ঠানে হুড়োহুড়িতে অন্তত ৫৬ জন নিহত এবং ২ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন। খামেনির শেষকৃত্যেও এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। খামেনির কফিনে লাল পতাকা: কী এই প্রতীকী বার্তাখামেনির কফিনে লাল পতাকা: কী এই প্রতীকী বার্তা চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই শেষকৃত্য গত জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মাধ্যমে ইরান যুদ্ধের অবসান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির মতো জটিল বিষয়গুলো সমাধানের জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই চুক্তির অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে কাতারে কারিগরি আলোচনা শুরু হলেও তা গভীর মতভেদ এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে মারাত্মকভাবে জটিল হয়ে পড়েছে।ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহবাহী কফিনকে পূর্বঘোষণা ছাড়াই সেই স্থানে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি নিহত হয়েছিলেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানে খামেনির কফিন জনসমক্ষে আনার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে নিজ বাসভবন প্রাঙ্গণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাটি হয়েছিল জোমহুরি স্ট্রিটে। পরে শোকাহত মানুষের জন্য ওই স্থানে ‘রাভাঘ কেশভারদোস্ত’ নামে একটি অস্থায়ী প্রার্থনা স্থান তৈরি করে ইরান। খামেনির কফিনে লাল পতাকা:  মরদেহ মৃত্যুর স্থানে নিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনও ধর্মীয় নিয়ম না থাকলেও, ইরানের এই পদক্ষেপটি শাহাদাত ও স্মরণের গভীর ধর্মীয় রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইরান মনে করে খামেনি দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন এবং তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে তার হত্যাকারী হিসেবে বিবেচনা করে। দেশটিতে তাকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে শিয়া মুসলিমদের কাছে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন দ্বাদশী শিয়া ইসলামে সর্বোচ্চ ধর্মীয় মর্যাদা ‘মারজা-ই তাকলিদ’। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ৪ জুলাই। ৪ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত তার কফিন তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। এরপর তার নিজ শহর মাশহাদে চূড়ান্ত জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, ইমাম রেজা মাজারে তাকে সমাহিত করা হবে।  ১৯৮৯ সালের ১১ জুন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষ বিদায়ে আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এবার এর চেয়েও বেশি মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৩৬ বছরেরও বেশি সময় দেশটির নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের আশা, খামেনির শেষ বিদায়ে প্রায় ২ কোটি মানুষ অংশ নেবেন। তাহলে এটি হবে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান। খামেনির কফিন হত্যাস্থলে নেওয়ার কারণ কীখামেনির কফিন হত্যাস্থলে নেওয়ার কারণ কী শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা তার নিজ শহর মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজা মাজারে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই হামলায় ইরানের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাও নিহত হন।যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনের ওপর দেশটির মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা মাজারের লাল পতাকা রাখা হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই ওই মাজারেই খামেনিকে দাফন করা হবে। এর আগে ইরানে তার শোক ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির মিডল ইস্ট অ্যান্ড ইসলামিক পলিটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমি আল জাজিরাকে জানান, এই লাল পতাকাটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হুসাইন ইবনে আলীর আত্মত্যাগের প্রতীক। সপ্তম শতকে কারবালার যুদ্ধে তিনি নিহত হন এবং শিয়া ইসলামে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।

কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচে চমক জাগানো কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়ানো নাটকীয় এই লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল, যেখানে পরবর্তী রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মোহাম্মদ সালাহর মিশর। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় আর্জেন্টিনা। ২৯তম মিনিটে রক্ষণভাগ থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের নিখুঁত লং পাস ধরে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গোলরক্ষক ভোজিনহাকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের ২০তম গোলের দেখা পান তিনি। এই গোলের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা আরও সমৃদ্ধ করেন। পাশাপাশি টুর্নামেন্টে তার ধারাবাহিক গোল করার রেকর্ডও আরও দীর্ঘ হয়। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয়ার্ধে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে কেপ ভার্দে। ৫৯তম মিনিটে ডেরয় দুয়ার্তের জোরালো শটে সমতায় ফেরে আফ্রিকার দলটি। এরপর নির্ধারিত সময়জুড়ে একাধিক সুযোগ পেলেও আর কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে আসা বলে কেপ ভার্দের বক্সে সুযোগ পেয়ে গোল করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে হাল ছাড়েনি কেপ ভার্দে। প্রথম অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে সিডনি লোপেস কাব্রালের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে আবারও ২-২ সমতা ফেরে ম্যাচে। টাইব্রেকারের সম্ভাবনা তৈরি হলেও ১১১তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে স্বস্তি এনে দেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। বক্সের ভেতরের জটলার মধ্যে থেকে নেওয়া তার নিখুঁত শট জালে জড়ালে ৩-২ ব্যবধানে আবারও এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় কেপ ভার্দে। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে জয় নিশ্চিত করে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। দারুণ লড়াই উপহার দিয়েও বিদায় নিতে হয়েছে কেপ ভার্দেকে। অন্যদিকে কঠিন পরীক্ষা উতরে এখন শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেবে লিওনেল স্কালোনির দল।

বাংলাদেশ

নির্বাচিত সংবাদ

View more
অনুসন্ধানী সংবাদ
সংবাদ
কালেমাখচিত সাদা-কালো পতাকার মিছিল: কীভাবে শুরু, কারা করছে, কেন বিতর্ক?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কালেমাখচিত সাদা ও কালো পতাকা হাতে মোটরসাইকেল র‍্যালি, মিছিল ও সমাবেশ নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আয়োজকদের দাবি—এটি ইসলামের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ এবং মুসলমানদের পরিচয়ের প্রতীক। তবে ধর্মীয় গবেষক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যবেক্ষণে বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিদেশি দেশের পতাকা টাঙানোর প্রবণতার পাল্টা প্রতিক্রিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্য এবং নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর প্রচারণা—এই তিনটি বিষয় মিলেই কালেমাখচিত পতাকা প্রদর্শনের প্রবণতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মাদারীপুরে মোটরসাইকেল র‍্যালি গত শনিবার মাদারীপুর শহরের মডেল মসজিদ মোড়ে আসরের নামাজ শেষে প্রায় দেড় শতাধিক মুসল্লি জড়ো হন। তাদের অনেকের হাতে ছিল কালেমাখচিত কালো ও সাদা পতাকা। পরে মডেল মসজিদের সামনে থেকে মোটরসাইকেল র‍্যালি বের হয়। প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুই থেকে তিনজন আরোহী ছিলেন। কয়েকজনের হাতে ছিল হ্যান্ডমাইক। স্লোগান দিতে দিতে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি পুনরায় মডেল মসজিদের সামনে ফিরে আসে। প্রায় এক ঘণ্টার র‍্যালির পর মাত্র দেড় মিনিটের সংক্ষিপ্ত সমাপনী বক্তব্য দিয়ে আয়োজকেরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। সমাপনী বক্তব্যে ফখরুদ্দিন রাজী নামে একজন বলেন, তারা যে পতাকা বহন করেছেন সেটিই "মুসলমানদের পতাকা"। র‍্যালিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ফুটবলকে কেন্দ্র করে বিদেশি দেশের পতাকা টাঙানো হচ্ছে। তার ভাষ্য, মুসলমানদের কাছে ইসলামের পরিচয় তুলে ধরতেই তারা এই কর্মসূচির আয়োজন করেছেন। শুধু মাদারীপুর নয় একই ধরনের কালেমাখচিত সাদা ও কালো পতাকা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল, র‍্যালি এবং প্রকাশ্যে পতাকা টাঙানোর ঘটনা ঘটেছে। আয়োজকদের অনেকে এটিকে ইসলামের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করলেও সমালোচকদের প্রশ্ন—কেন ব্যবহৃত পতাকার রঙ, নকশা ও বিন্যাস বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠনের ব্যবহৃত পতাকার সঙ্গে মিল রাখছে? ইসলামে কি নির্দিষ্ট কোনো পতাকা আছে? ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও ইসলামী গবেষক মো. আনিসুজ্জামান সিকদারের মতে, ইসলামে নির্ধারিত কোনো ধর্মীয় পতাকার উল্লেখ নেই। তার ভাষ্য, রাসুল (সা.) যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রঙের পতাকা ব্যবহার করেছিলেন। তবে ইসলামের জন্য স্থায়ী বা নির্দিষ্ট কোনো পতাকার কথা ইসলামী ঐতিহ্যে উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, যদি ইসলামের নামে নির্ধারিত কোনো পতাকা থাকত, তাহলে মুসলিম বিশ্বে সেটিই সর্বজনীনভাবে ব্যবহৃত হতো। যাত্রাবাড়ী থেকে আলোচনার সূত্রপাত বাংলাদেশে কালেমাখচিত পতাকা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয় জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে। ১৬ জুন মধ্যরাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের বিভিন্ন অংশে একদল যুবক কালেমাখচিত পতাকা টাঙান। পরদিন সেগুলো সরিয়ে ফেলা হলে বিষয়টি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে। পতাকা সরানোকে "ইসলামের পতাকার অবমাননা" দাবি করে নতুন করে পতাকা টাঙানো হয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে "পতাকার মর্যাদা রক্ষার" নামে মিছিল শুরু হয়। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় স্থানীয় কিছু তরুণ এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে কালেমাখচিত পতাকা বিক্রি এবং টাঙানোর আহ্বানও ছড়িয়ে পড়ে। ফুটবল বিশ্বকাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনার পেছনে বড় একটি কারণ ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশজুড়ে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা টাঙানোর সংস্কৃতি। এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রামের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহারের একটি বক্তব্য। ১৩ জুন প্রকাশিত ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, বিদেশি দেশের পতাকার পাশাপাশি কালেমার পতাকাও টাঙানো উচিত। ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে কালেমাখচিত পতাকা প্রদর্শনের প্রবণতা দৃশ্যমান হতে শুরু করে। হারুন ইজহারের ব্যাখ্যা বিবিসি বাংলাকে দেওয়া বক্তব্যে হারুন ইজহার বলেন, তিনি এসব মিছিল বা পতাকা টাঙানোর আয়োজক নন। তার দাবি, ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিদেশি পতাকা ব্যবহারের সাংস্কৃতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তিনি কালেমাখচিত পতাকার কথা বলেছিলেন। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এত বড় আকার ধারণ করবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি। তার ভাষায়, কোথাও সন্দেহজনক কিছু থাকলে প্রশাসন তদন্ত করুক এবং প্রয়োজনে তিনি সহযোগিতা করবেন। কেন উদ্বিগ্ন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা? মানবাধিকারকর্মী ও জঙ্গিবাদ বিশ্লেষক নুর খান লিটনের মতে, সাধারণ মুসলমানরা কালেমা লেখা থাকায় পতাকাটিকে ধর্মীয় মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিসরে একই ধরনের নকশা দীর্ঘদিন ধরে উগ্রবাদী সংগঠনের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রতীককে সাধারণীকরণের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বৃহত্তর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর হুমকির অভিযোগ কালেমাখচিত পতাকা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঢাকার একটি মাল্টিমিডিয়া প্রতিষ্ঠান 'ঢাকা স্ট্রিম' হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদের দাবি, প্রতিবেদন প্রকাশের পর একদিনেই শতাধিক ফোনকল আসে। পাশাপাশি ফেসবুকে হাজার হাজার মন্তব্যের মধ্যে অনেকগুলোতে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি জানান, অফিসে হামলা ও আগুন দেওয়ার হুমকিও এসেছে। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশের অবস্থান পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসাইন বলেন, কোনো পতাকা বা প্রতীক যদি নিষিদ্ধ বা উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ বহন করে কিংবা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের বক্তব্য ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন সম্প্রতি বলেছেন, কালেমাখচিত পতাকা কিংবা অন্য ধর্মীয় প্রতীককে ঘিরে বিভ্রান্তি, অবমাননা বা রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয়। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকদের ধর্মীয় প্রতীক সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। অনুসন্ধানে যা উঠে এসেছে ইসলামে সর্বজনস্বীকৃত কোনো নির্ধারিত ধর্মীয় পতাকার উল্লেখ নেই। যাত্রাবাড়ীতে পতাকা টাঙানোর ঘটনার পর বিষয়টি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিদেশি পতাকার পাল্টা প্রতীক হিসেবে কালেমাখচিত পতাকা ব্যবহারের আহ্বান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবহৃত কিছু পতাকার নকশা আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠনের ব্যবহৃত পতাকার সঙ্গে দৃশ্যগত মিল থাকায় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আয়োজকেরা ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে পতাকার ব্যবহার দাবি করলেও প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

জুলাই ৪, ২০২৬

বম্বে হাই কোর্ট
রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দিলেই তাকে এলাকাছাড়া করা যায় না: বম্বে হাই কোর্ট

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, বিক্ষোভ কিংবা স্লোগান দেওয়া—এসব কোনওভাবেই একজন নাগরিককে নিজ এলাকা থেকে বহিষ্কার করার বৈধ কারণ হতে পারে না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে মহারাষ্ট্র পুলিশের জারি করা একটি এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার (Externment Order) বাতিল করেছে বম্বে হাই কোর্ট। রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি মাধব জামদার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "নাগরিকরা ভারত সরকারের দাস নয়। তারা প্রতিবাদ করতে পারে, আন্দোলন করতে পারে। শুধুমাত্র সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার জন্য কাউকে বহিষ্কার করা যায় না।" এই পর্যবেক্ষণ ইতোমধ্যেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পুলিশি ক্ষমতার সীমা এবং সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে নতুন করে জাতীয় বিতর্ক তৈরি করেছে। মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে কে? মামলার আবেদনকারী ছিলেন সোশ্যালিস্ট ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইন্ডিয়া (এসডিপিআই)-এর মহারাষ্ট্রের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আব্দুল ওয়াহিদ চৌধুরী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনস্বার্থ ও রাজনৈতিক ইস্যুতে আন্দোলন করে আসছিলেন। তার আন্দোলনের বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল— সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC) জ্ঞানবাপী মসজিদ বাবরি মসজিদ ওয়াকফ বোর্ডে দুর্নীতি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিভিন্ন বিক্ষোভে তিনি অংশ নেন এবং কর্মসূচিরও আয়োজন করেন। কীভাবে জারি হয় বহিষ্কারের নির্দেশ? ২০২৫ সালে মহারাষ্ট্র পুলিশ মহারাষ্ট্র পুলিশ অ্যাক্ট অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ১২ মাসের জন্য মুম্বই ও সংলগ্ন এলাকা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ জারি করে। পুলিশের দাবি ছিল— তার কার্যকলাপ জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি, মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন কোঙ্কন বিভাগের ডিভিশনাল কমিশনারও। কোন অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা? ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তার বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছিল। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— এসব মামলার অধিকাংশই ছিল প্রতিবাদ কর্মসূচি, মিছিল বা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। প্রধানত ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ১৮৮ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল, যা সরকারি আদেশ অমান্যের অভিযোগে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এসব মামলায় কোথাও— খুন, দাঙ্গা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবহার, সংঘবদ্ধ অপরাধ জাতীয় গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল না। আদালতে কী প্রশ্ন তুললেন বিচারপতি? শুনানির সময় বিচারপতি মাধব জামদার একাধিক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "এসব কী হচ্ছে? সমস্ত নাগরিককে কি ভারত সরকারের দাস বানানো হচ্ছে?" তিনি আরও প্রশ্ন করেন, "মানুষ প্রতিবাদ করতে পারবে না? আন্দোলন করতে পারবে না?" বিচারপতি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন— "বিজেপি সরকার মুর্দাবাদ" কিংবা "অমিত শাহ মুর্দাবাদ" ধরনের স্লোগান কীভাবে বহিষ্কারের আইনি ভিত্তি হতে পারে? তার মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোনও অপরাধ নয়। প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের উদাহরণও টানলেন বিচারপতি সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে হওয়া আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি বলেন— যদি নাগরিকরা কোনও সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। তিনি পুলিশের উদ্দেশে বলেন, "পুলিশ কোনও মন্ত্রীর অধীনে কাজ করে না। তারা জনগণের কাছে জবাবদিহি।" আদালতের পর্যবেক্ষণ: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত রায়ে আদালত জানায়— সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার কারণে একজন নাগরিককে এলাকা থেকে বহিষ্কার করা সংবিধানের ১৯ এবং ২১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন। বিচারপতি বলেন, এই মামলায় এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার ছিল পুলিশের ক্ষমতার স্পষ্ট অপব্যবহার। কেন বাতিল হলো এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার? আদালতের মতে— মহারাষ্ট্র পুলিশ অ্যাক্টের ৫৬ ধারা মূলত ব্যবহার করা হয়— গুরুতর অপরাধী, জননিরাপত্তার জন্য বাস্তব হুমকি, জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা এসব ক্ষেত্রে। শুধু রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা স্লোগান দেওয়া ওই ধারার আওতায় পড়ে না। ফলে— ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (জোন-৬) এবং কোঙ্কন ডিভিশনের ডিভিশনাল কমিশনার—উভয়ের আদেশই বাতিল করে আদালত। এসডিপিআই কী বলেছে? রায়কে "সংবিধান ও গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক বিজয়" বলে বর্ণনা করেছে এসডিপিআই। দলটির দাবি— এই রায় প্রমাণ করেছে যে— শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সাংবিধানিক অধিকার, সরকারের সমালোচনা অপরাধ নয়, রাষ্ট্রের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আদালত এখনও কার্যকর। প্রশান্ত ভূষণের প্রতিক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন— "এ থেকে বোঝা যায় এখনও এমন বিচারপতি আছেন, যারা সরকারকে প্রশ্ন করার এবং নাগরিকের অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস রাখেন।" এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার কী? এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার হলো একটি প্রতিরোধমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে— কোনও ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট জেলা বা শহর ছাড়তে বাধ্য করা যায়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায়। সাধারণত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনার এ ধরনের আদেশ জারি করেন। আইনটির উদ্দেশ্য হলো— সংগঠিত অপরাধ বা জননিরাপত্তার গুরুতর ঝুঁকি প্রতিরোধ করা। তবে আদালত মনে করেছে, এই মামলায় সেই ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। বিচারপতি মাধব জামদার কে? পুণের বাসিন্দা বিচারপতি মাধব জামদার ২০২০ সালে বম্বে হাই কোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। আইনজীবী হওয়ার আগে তিনি একটি ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তার কর্মজীবনে তিনি— দেওয়ানি, ফৌজদারি, সাংবিধানিক আইন, পরিবেশ, জনস্বার্থ মামলা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন। হাই কোর্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবেও নিয়োগ দিয়েছিল। কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নীতি স্পষ্ট করেছে— সরকারের সমালোচনা অপরাধ নয়। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সাংবিধানিক অধিকার। পুলিশ প্রশাসনের ক্ষমতা সীমাহীন নয়। রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে নাগরিককে বহিষ্কার করা যায় না। এক্সটার্নমেন্ট আইনের অপব্যবহার আদালত মেনে নেবে না। এই রায় ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার জবাবদিহির প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জুলাই ৪, ২০২৬

রাজনীতি

ফিচার

View more
উপকূলীয় দুমকী উপজেলায় লবণাক্ততা-সহনশীল ধান চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল
লবণাক্ততার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুমকীর কৃষকরা: জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি কীভাবে বদলে দিচ্ছে উপকূলের বাস্তবতা
নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম দৃশ্যমান প্রভাব হলো মাটির ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা। বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যার কারণে হাজার হাজার একর জমি আংশিক বা পুরোপুরি অনাবাদী থেকে যাচ্ছে। ফলে কৃষকের আয় কমছে, খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাপে পড়ছে। তবে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় বাস্তবায়িত একটি উদ্যোগ দেখাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি, উপযোগী ধানের জাত এবং লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা কীভাবে কৃষকের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তার একটি কার্যকর উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই এলাকা। অনাবাদী জমি থেকে উৎপাদনশীল মাঠ জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭ অনুযায়ী, ‘জলবায়ু স্মার্ট কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন অভিযোজনমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে তুলে ধরা একটি কেসস্টাডি বলছে, দুমকী উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের এক কৃষকের জমি মাঝারি মাত্রার লবণাক্ততার কারণে দীর্ঘদিন ধরে রবি ও বোরো মৌসুমে অনাবাদী পড়ে থাকত। ফলে তিনি বছরে মাত্র একবার রোপা আমন ধান আবাদ করতে পারতেন। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য প্রকল্পের আওতায় তাকে সার এবং লবণাক্ততা সহনশীল ধানের জাত ‘ব্রি ধান-৬৭’-এর বীজ সরবরাহ করা হয়। কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, এই জাতটি ৮ ডিএস/মিটার পর্যন্ত লবণাক্ততা সহ্য করতে সক্ষম, যা উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এক ফসলি জমি থেকে দোফসলি ব্যবস্থায় প্রকল্পের সহায়তায় কৃষক তার পূর্বে পতিত থাকা ৫০ ডেসিমোল জমিতে বোরো মৌসুমে ধান চাষ শুরু করেন। ফলাফল ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ওই জমি থেকে প্রায় ২৯ মণ ধান উৎপাদন করেন, যা হেক্টরপ্রতি প্রায় ৫.৬ মেট্রিক টন ফলনের সমান। উৎপাদিত ধানের মধ্যে ২০ মণ তিনি বাজারে বিক্রি করেন। প্রতি মণ ১ হাজার ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি করে তার আয় হয় ২৭ হাজার ২০০ টাকা। অন্যদিকে বাকি ৯ মণ ধান পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। ফলে শুধু নগদ আয়ই নয়, পারিবারিক খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে একক-ফসল নির্ভরতা কমিয়ে দোফসলি কিংবা বহুফসলি ব্যবস্থায় রূপান্তর জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার অন্যতম কার্যকর উপায়। জলবায়ু অভিযোজনের বাস্তব পরীক্ষা বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততার বিস্তার দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিকে ক্রমাগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। এ অবস্থায় দুমকীর অভিজ্ঞতা শুধু একটি কৃষকের সাফল্যের গল্প নয়; বরং এটি দেখাচ্ছে যে প্রযুক্তিনির্ভর অভিযোজনমূলক কৃষি ব্যবস্থা মাঠপর্যায়ে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও উপযুক্ত জাত, আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকবান্ধব সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়। কেন গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু অর্থায়ন? জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭-এর মুখবন্ধে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জলবায়ু অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, বাংলাদেশ এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রশ্নটি জলবায়ু ঝুঁকির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ কারণে জলবায়ু অর্থায়ন কেবল সহায়তার উৎস নয়; বরং এটি সহনশীলতা, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বাজেট বক্তৃতায় তিনি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই, সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন। দুমকীর বার্তা দুমকীর এই উদাহরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—উপকূলজুড়ে যদি একই ধরনের প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন নিশ্চিত করা যায়, তাহলে কি বাংলাদেশের লবণাক্ততায় আক্রান্ত হাজার হাজার হেক্টর জমি আবারও উৎপাদনের আওতায় ফিরতে পারে? বর্তমান অভিজ্ঞতা অন্তত সেই সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করছে। জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তি, উন্নত বীজ এবং লক্ষ্যভিত্তিক সরকারি সহায়তা যে শুধু কৃষি উৎপাদনই বাড়ায় না, বরং কৃষকের আয়, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিও শক্তিশালী করে—পটুয়াখালীর দুমকী তার একটি বাস্তব প্রমাণ হয়ে উঠেছে।

সুপার গ্রিন লাউয়ে মিজানুরের সাফল্য
দিনাজপুরে ‘সুপার গ্রিন’ লাউয়ের বিপ্লব? তাক লাগালেন যুবক মিজানুর ,খামার ঘিরে বদলে যাচ্ছে কৃষকদের ভাবনা
নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার একটি লাউক্ষেত এখন স্থানীয় কৃষক, কৃষি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আশপাশের গ্রামের মানুষেরও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কারণ, সেখানে প্রচলিত জাত নয়, চাষ করা হয়েছে উচ্চ ফলনশীল ‘সুপার গ্রিন’ জাতের লাউ। আর এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন পাকেরহাট গ্রামের ৩২ বছর বয়সী যুবক মিজানুর রহমান। রোববার ক্ষেতটি পরিদর্শন করেন দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, আধুনিক ও জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত এই লাউ ইতোমধ্যে বাজারে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও নতুন আগ্রহ তৈরি করছে। ২১ শতকের প্রদর্শনী থেকে এক একরের বাণিজ্যিক সাফল্য কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের জৈব সার ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা হচ্ছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মিজানুর রহমান ২১ শতক জমিতে একটি জৈব সবজি উৎপাদন প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করেন। তবে তার উদ্যোগ কেবল প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ ছিল না। চলতি মৌসুমে তিনি মোট এক একর বা ১০০ শতক জমিতে সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ করেছেন। এর মধ্যে ২১ শতক জমিতে কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে জৈব পদ্ধতির প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিনিয়োগ ৪৮ হাজার, আয় ইতোমধ্যে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মিজানুর রহমান জানান, বীজ, মাচা নির্মাণ, জৈব সার, শ্রমিক ও পরিচর্যাসহ তার মোট উৎপাদন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৮ হাজার টাকা। তার দাবি, এখন পর্যন্ত ক্ষেত থেকে লাউ বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। জমিতে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লাউ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুম শেষে মোট আয় ২ থেকে ৩ লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। অর্থাৎ, হিসাব অনুযায়ী উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি আয় করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেন আলাদা এই লাউ? মিজানুরের ভাষ্য অনুযায়ী, সুপার গ্রিন জাতের লাউ আকারে বড়, দেখতে আকর্ষণীয় এবং ওজন বেশি হওয়ায় বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী জৈব সার এবং পরিবেশবান্ধব বালাই দমন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এতে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিরাপদ সবজি উৎপাদনও সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ লাউয়ের তুলনায় এই জাতের লাউ ক্রেতাদের নজর বেশি কাড়ছে। পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা সরাসরি ক্ষেত থেকে লাউ কিনে নিচ্ছেন। ফলে পরিবহন ব্যয় কমছে এবং কৃষকও তুলনামূলক ভালো দাম পাচ্ছেন। কৃষকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ মিজানুর রহমানের সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকার কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষক ফজলে হক বলেন, মিজানুরের ফলন ও বাজারমূল্য দেখে অনেকেই আগামী মৌসুমে সুপার গ্রিন জাতের লাউসহ অন্যান্য সবজি চাষের পরিকল্পনা করছেন। আরেক কৃষক আফতাব হোসেন বলেন, “অল্প খরচে যদি এত লাভ হয়, তাহলে লাউ চাষ অবশ্যই লাভজনক। কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে আমরাও আগামী মৌসুমে এই জাতের লাউ চাষ করব।” কৃষি বিভাগের মূল্যায়ন খানসামা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসিব আহমেদ খাঁন জানান, দিনাজপুর অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় বেশ কয়েকজন যুবক উন্নত জাতের সুপার গ্রিন লাউ চাষে ইতোমধ্যে সফল হয়েছেন। মাঠ কর্মকর্তা সবুজ আহমেদের মতে, পরিকল্পিত চাষাবাদ, জৈব পদ্ধতির ব্যবহার এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে অল্প জমিতেও কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন। অন্যদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, সুপার গ্রিন একটি উচ্চ ফলনশীল লাউয়ের জাত। তুলনামূলক কম রোগ-বালাই হওয়ায় এর উৎপাদন ঝুঁকিও কম। তার ভাষায়, “সঠিক সময়ে চাষ এবং নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে অল্প জমিতেও ভালো লাভ করা সম্ভব।” এটি কি স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত? কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের কৃষিতে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উৎপাদন খরচ কমিয়ে লাভজনকতা বাড়ানো। সেই বাস্তবতায় দিনাজপুরের খানসামায় মিজানুর রহমানের এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জৈব সার ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব বালাই দমন ব্যবস্থা এবং বাজারমুখী উচ্চ ফলনশীল জাতের সমন্বয় যদি ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখা যায়, তাহলে শুধু লাউ নয়, অন্যান্য সবজি উৎপাদনেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বর্তমানে মিজানুর রহমানের ক্ষেতটি তাই কেবল একটি সফল খামার নয়; বরং গ্রামীণ কৃষিতে প্রযুক্তিনির্ভর ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের একটি বাস্তব মডেল হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে।

আনারস..
সুনামগঞ্জের হাসাউড়ার আনারস: পাহাড়ি টিলার মিষ্টি অর্থনীতি, জিআই স্বীকৃতি ও রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা
নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  মেঘ, পাহাড় আর হাওরের জেলা হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জ। কৃষিনির্ভর এ জেলার অর্থনীতিতে বোরো ধানের পাশাপাশি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে মৌসুমি ফল চাষ। সেই পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ সীমান্তঘেঁষা হাসাউড়া এলাকার আনারস, যা স্থানীয় কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। জেলা শহরের সীমান্তবর্তী রঙ্গারচর ইউনিয়নের হাসাউড়া, রসুলপুর, দর্পগ্রাম, পেচাকোনা ও বনগাঁও এলাকায় বিস্তৃত টিলাভূমি এখন আনারস চাষের কেন্দ্রবিন্দু। বছরের পর বছর ধরে এসব এলাকায় বিশেষ এক জাতের আনারস চাষ হয়ে আসছে, যা স্থানীয়ভাবে ‘হাসাউড়ার আনারস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বাজার সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা গেলে এই আনারস দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিতে পারে। পাহাড়ি টিলাজুড়ে আনারসের রাজ্য সীমান্তবর্তী পূণ্যনগর এলাকার ছোট ছোট সবুজ টিলাগুলো বর্ষা মৌসুমে যেন এক বিশাল আনারস বাগানে পরিণত হয়। খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসবাসঘেরা পাহাড়ি জনপদের এসব টিলায় চোখ যতদূর যায়, দেখা মেলে আনারসের সারি। মে মাস থেকে ফল সংগ্রহ শুরু হলেও জুনজুড়ে চলে সবচেয়ে বড় বেচাকেনা। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাকা আনারস সংগ্রহে ব্যস্ত থাকেন কৃষকরা। এ সময় পুরো এলাকা ভরে ওঠে আনারসের মিষ্টি সুবাসে। কেন আলাদা হাসাউড়ার আনারস? স্থানীয় কৃষক ও ক্রেতাদের মতে, হাসাউড়ার আনারসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এর স্বাদ ও সুবাস। এ অঞ্চলে মূলত ‘হানিকুইন’ জাতের আনারস চাষ হয়। এ জাতের আনারসে আঁশ তুলনামূলক কম, রস বেশি এবং স্বাদ অত্যন্ত মিষ্টি। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা সরাসরি বাগানে এসে আনারস সংগ্রহ করেন। আনারস চাষি নিতাই চন্দ্র দাস জানান, বাজারে ‘হাসাউড়ার আনারস’ নাম শুনলেই ক্রেতারা আগ্রহ দেখান। পুরোপুরি পাকার পরই তারা ফল সংগ্রহ করেন, যাতে স্বাদ ও গুণগত মান অক্ষুণ্ণ থাকে। আরেক চাষি ইসলাম উদ্দিন বলেন, এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। যারা একবার এ আনারস খায়, তারা পরবর্তী মৌসুমেও এর খোঁজ করে। রাসায়নিক ছাড়াই উৎপাদন স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আনারস চাষে তারা কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, পরিচর্যা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করেই ফল উৎপাদন করা হয়। ফলে আনারসের স্বাভাবিক স্বাদ ও গুণগত মান বজায় থাকে। তবে কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য উৎপাদন পদ্ধতি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ কৃষি চর্চার বিষয়ে আরও প্রাতিষ্ঠানিক যাচাই প্রয়োজন হবে। লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা, কিন্তু রয়ে গেছে চ্যালেঞ্জ একটি উন্নতমানের আনারস উৎপাদনে কয়েক মাসের পরিচর্যা প্রয়োজন। চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, সেচ এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কৃষকদের দীর্ঘ সময় শ্রম দিতে হয়। স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো— আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব কৃষি প্রণোদনার সীমাবদ্ধতা বাজার ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব রপ্তানি উপযোগী অবকাঠামোর ঘাটতি কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় অনেক সময় দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা। পতিত টিলায় নতুন সম্ভাবনা দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল হক জানিয়েছেন, হাসাউড়ার পাশের মাঠগাঁওসহ আরও কয়েকটি এলাকায় আনারস চাষের উপযোগী টিলাভূমি রয়েছে। একই মত দিয়েছেন রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই। তার মতে, প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া হলে বর্তমানে পতিত থাকা অনেক টিলায় আনারসের আবাদ সম্প্রসারণ করা সম্ভব। স্থানীয় বাসিন্দা মো. বুরহান উদ্দিনও মনে করেন, বর্তমানে যে পরিমাণ আনারস উৎপাদিত হচ্ছে, বাস্তবে তার কয়েকগুণ বেশি উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। ৩০ হেক্টর আবাদ, সামনে রপ্তানির সম্ভাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসাউড়া এলাকায় প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে হানিকুইন জাতের আনারস চাষ হচ্ছে। উৎপাদিত আনারসের মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে মিষ্টি ও রসালো ফলের চাহিদা থাকায় এ আনারস রপ্তানিরও সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ। জেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, সারাদেশে হানিকুইন আনারসের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে এবং স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জিআই স্বীকৃতির পথে হাসাউড়ার আনারস? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, স্বাদ, সুবাস এবং দীর্ঘদিনের চাষাবাদের ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে ‘হাসাউড়ার আনারস’ জিআই (Geographical Indication) স্বীকৃতির জন্য শক্তিশালী দাবিদার হতে পারে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানিয়েছেন, হাসাউড়ার আনারসকে জিআই পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। যদি সেই স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়, তাহলে শুধু কৃষকরাই নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিও নতুন গতি পেতে পারে। বিশ্লেষণ: স্থানীয় ফল থেকে জাতীয় ব্র্যান্ড? হাসাউড়ার আনারসের গল্প কেবল একটি ফলের গল্প নয়। এটি সীমান্তবর্তী একটি অঞ্চলের কৃষি-অর্থনীতির পরিবর্তনের গল্প। প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত একটি স্থানীয় ফল ইতোমধ্যে জাতীয় বাজারে পরিচিতি পেয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো—সরকারি সহায়তা, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, ব্র্যান্ডিং এবং জিআই স্বীকৃতি নিশ্চিত করা গেলে কি ‘হাসাউড়ার আনারস’ বাংলাদেশের পরবর্তী কৃষি-রপ্তানি সাফল্যের উদাহরণ হতে পারবে? বর্তমান বাস্তবতা বলছে, সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু পরিকল্পিত বিনিয়োগ, বাজার সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের পাশে টেকসই সহায়তা। সেই সুযোগ কাজে লাগানো গেলে পাহাড়ি টিলার এই মিষ্টি ফল একদিন আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের পরিচয় বহন করতে পারে।  

ছয় বছরের অনুসন্ধানে কীভাবে বিশ্বের অন্যতম বড় কর্পোরেট জালিয়াতি উন্মোচন করেন ড্যান ম্যাকক্রাম
নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২, ২০২৬ 0

ইত্তেহাদ নিউজ :  একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, যার বাজারমূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার। বাইরে থেকে সফল ও সুপ্রতিষ্ঠিত বলে মনে হলেও ভেতরে লুকিয়ে আছে জালিয়াতির জটিল নেটওয়ার্ক। প্রতিষ্ঠানটির হাতে রয়েছে ব্যয়বহুল আইনজীবী বাহিনী, বেসরকারি গোয়েন্দা, সাইবার হামলার সক্ষমতা এবং প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক যোগাযোগ। এমন পরিস্থিতিতে একজন সাংবাদিক কীভাবে সত্য অনুসন্ধান করবেন? এই প্রশ্নের বাস্তব উত্তর দিয়েছেন লন্ডনভিত্তিক ফাইনান্সিয়াল টাইমসের অনুসন্ধানী সাংবাদিক ড্যান ম্যাকক্রাম। তিনি টানা ছয় বছর ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে জার্মান পেমেন্ট প্রসেসিং প্রতিষ্ঠান অয়্যারকার্ডের বিরুদ্ধে ইতিহাসের অন্যতম বড় কর্পোরেট জালিয়াতি উন্মোচন করেন। ২০২০ সালে অয়্যারকার্ডের পতনের সময় প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। অনুসন্ধানের ফলে কোম্পানিটির একাধিক শীর্ষ নির্বাহী গ্রেপ্তার হন, জার্মানির দুটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান পদত্যাগ করেন এবং ইউরোপীয় কর্পোরেট নজরদারি ব্যবস্থার নানা দুর্বলতা সামনে আসে। জালিয়াতির সূচনা কীভাবে হয়? ড্যান ম্যাকক্রামের মতে, বড় কর্পোরেট জালিয়াতি সাধারণত একদিনে তৈরি হয় না। “প্রতারকেরা শুরুতেই বিশাল জালিয়াতির পরিকল্পনা করে না। সাধারণত তারা কোনো আর্থিক সমস্যা সাময়িকভাবে আড়াল করতে ছোট একটি অনিয়ম করে। পরে সেই অনিয়ম ঢাকতে আরও বড় অনিয়ম করতে হয়, আর এভাবেই জালিয়াতি বিস্তৃত হতে থাকে।” অয়্যারকার্ডের ক্ষেত্রেও তিনি এমন একটি কাঠামো খুঁজে পান, যেখানে শেল কোম্পানি, সন্দেহজনক অংশীদারত্ব, ভুয়া গ্রাহক, কৃত্রিম মুনাফা এবং অতিরঞ্জিত আয়-ব্যয়ের হিসাব ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা গোপন রাখা হয়েছিল। অনুসন্ধানের সূত্র এসেছিল শর্ট সেলারদের কাছ থেকে ২০১৫ সালে একজন অস্ট্রেলীয় শর্ট সেলার প্রথম ম্যাকক্রামকে অয়্যারকার্ড সম্পর্কে সতর্ক করেন। পরে আরও কয়েকজন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির হিসাব জালিয়াতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তবে ম্যাকক্রাম শুরু থেকেই সতর্ক ছিলেন। তার ভাষায়, শর্ট সেলারদের বক্তব্যকে সরাসরি সত্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ তাদেরও আর্থিক স্বার্থ থাকে। তিনি তাদের দেওয়া তথ্যকে কেবল সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং কোম্পানি রেজিস্ট্রি, আর্থিক নথি ও স্বাধীন উৎসের মাধ্যমে সেসব তথ্য যাচাই করেছেন। দুটি ভুল, যা অনুসন্ধানকে এক বছরের বেশি পিছিয়ে দেয় অনুসন্ধানের শুরুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল করেছিলেন ম্যাকক্রাম। শর্ট সেলারদের সরবরাহ করা একটি ফাইলের ভিত্তিতে তিনি একটি ব্লগ পোস্টে অয়্যারকার্ড-সংক্রান্ত কিছু অভিযোগের উল্লেখ করেন। এরপর কোম্পানিটির আইনজীবীরা অভিযোগ তোলেন, ওই তথ্য মানহানিকর হতে পারে এবং এর দায় ফাইনান্সিয়াল টাইমসের ওপর বর্তাবে। ফলে আইনি জটিলতার কারণে তাঁর অনুসন্ধান প্রায় এক বছরের জন্য স্থবির হয়ে পড়ে। পরে তিনি স্বীকার করেন, কোনো সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের আগে প্রতিষ্ঠানের আইনজীবীদের পরামর্শ না নেওয়া ছিল বড় ভুল। একই সঙ্গে অয়্যারকার্ডের জনসংযোগ দল প্রচারণা চালাতে থাকে যে তিনি হয় শর্ট সেলারদের সঙ্গে যোগসাজশ করেছেন, নয়তো তাদের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়েছেন। এই প্রচারণাও অনুসন্ধানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্টোরি থেকে স্টোরি, আর স্টোরি থেকেই আসে সোর্স ম্যাকক্রামের মতে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—একটি ভালো স্টোরি পরবর্তী স্টোরির দরজা খুলে দেয়। শুরুর দিকে তিনি সরাসরি “জালিয়াতি” শব্দ ব্যবহার করেননি। বরং অয়্যারকার্ডের ব্যবসায়িক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিষয়টিকে একটি “ধাঁধা” হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। ক্রমাগত প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে একের পর এক হুইসেলব্লোয়ার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে সিঙ্গাপুরে অয়্যারকার্ডের এক আইনজীবীর মা নিজেই ম্যাকক্রামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি আগের প্রতিবেদনগুলো পড়ে ক্ষুব্ধ হন এবং ছেলেকে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে উৎসাহিত করেন। পরে ওই আইনজীবী গুরুত্বপূর্ণ নথি সরবরাহ করেন, যা অনুসন্ধানের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। হুইসেলব্লোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের সময় ম্যাকক্রাম ও তাঁর দল একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছিল— প্রিপেইড বার্নার ফোন ব্যবহার; ইন্টারনেটবিচ্ছিন্ন (এয়ার-গ্যাপড) ল্যাপটপে নথি সংরক্ষণ; সংবেদনশীল তথ্যের জন্য এনক্রিপশন ব্যবহার; শুধুমাত্র সিগন্যাল অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ; অফিসে বিশেষ নিরাপদ কক্ষে তথ্য বিশ্লেষণ; আধুনিক রঙিন প্রিন্টারের পরিবর্তে পুরোনো সাদা-কালো লেজার প্রিন্টার ব্যবহার। তিনি সতর্ক করেন, অনেক আধুনিক প্রিন্টার মুদ্রিত কাগজে অদৃশ্য মাইক্রোডট রেখে যায়, যা নথি কোথায় ও কখন ছাপানো হয়েছে তা শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। অকাট্য প্রমাণের সন্ধান অনুসন্ধানের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ফাইনান্সিয়াল টাইমসের সাংবাদিক স্টেফানিয়া পালমা ফিলিপাইনে যান। অয়্যারকার্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদারের অফিসে গিয়ে তিনি দেখতে পান, সেখানে একই সঙ্গে একটি ট্যুর বাস কোম্পানির কার্যক্রম চলছে। অথচ নথিপত্র অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি কোটি কোটি ডলারের ডিজিটাল লেনদেন পরিচালনা করছিল। এই ধরনের মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানই শেষ পর্যন্ত অয়্যারকার্ডের দাবিগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং জালিয়াতির প্রমাণ সংগ্রহে সহায়তা করে। সাংবাদিকদের জন্য পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ড্যান ম্যাকক্রামের মতে, কর্পোরেট জালিয়াতি অনুসন্ধানে সাংবাদিকদের কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা উচিত। ১. ছোট জালিয়াতিকেও গুরুত্ব দিন মাত্র কয়েক হাজার ডলারের ভুয়া চালান বা ব্যাকডেটেড চুক্তি গুরুত্বহীন মনে হতে পারে। কিন্তু এগুলো বড় ধরনের প্রতারণার ইঙ্গিত হতে পারে। ২. ওয়েব্যাক মেশিন ব্যবহার করুন অধিগ্রহণের আগে কোনো কোম্পানির ওয়েবসাইটে হঠাৎ বড় পরিবর্তন এসেছে কি না, তা যাচাই করতে ওয়েব্যাক মেশিন অত্যন্ত কার্যকর। ৩. সাক্ষাৎকারের তারিখ সংরক্ষণ করুন বছরের পর বছর অনুসন্ধান চালালে সময়রেখা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৪. কোম্পানি রেজিস্ট্রি ব্যবহার করুন সিঙ্গাপুরের ACRA, যুক্তরাজ্যের Companies House এবং OpenCorporates-এর মতো ডেটাবেস গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাইয়ে সহায়ক। ৫. ব্যবসার মডেল না বুঝলে আরও গভীরে যান কোনো প্রতিষ্ঠান কীভাবে আয় করে—এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন ম্যাকক্রাম। নজরদারি, হুমকি ও প্রতিরোধ অয়্যারকার্ড অনুসন্ধানের সময় ম্যাকক্রাম ও তাঁর সহকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে পড়েন। তাদের ওপর বেসরকারি গোয়েন্দাদের নজরদারি চালানো হয়। অনলাইনে হয়রানি করা হয়। সাংবাদিকদের সঙ্গে সোর্সদের যোগাযোগের প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। এমনকি রাসায়নিক হামলার হুমকি ও ঘুষের প্রস্তাবও পাওয়া যায় বলে তিনি দাবি করেন। এক পর্যায়ে তাঁরা ধারণা করেন, লন্ডনে প্রায় ৩০ জন প্রাইভেট গোয়েন্দা তাঁদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। ফলে সোর্সদের সঙ্গে দেখা করতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হতো। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অনুসন্ধান? ড্যান ম্যাকক্রামের মতে, অয়্যারকার্ড কেলেঙ্কারির সবচেয়ে বড় প্রভাব হলো—এটি বিশ্বব্যাপী কর্পোরেট জালিয়াতির বিষয়ে নতুন করে মনোযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দ্রুত বর্ধনশীল প্রযুক্তি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দাবি এখনো যথেষ্ট যাচাইয়ের মুখোমুখি হয়নি। তাঁর মতে, সাংবাদিকদের কাজ হলো সেই দাবিগুলোকে প্রশ্ন করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য উদঘাটন করা। “অনেক প্রতিষ্ঠান দাবি করে তাদের কাছে বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আছে। প্রশ্ন হলো—সেই সম্পদগুলো আসলে কোথায়?” এই প্রশ্ন থেকেই শুরু হতে পারে পরবর্তী বড় অনুসন্ধান।

মতামত

View more
বায়ু ও সৌর বিদ্যুৎ
বাংলাদেশের জ্বালানি ভবিষ্যৎ: বিকল্প উৎস তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0

আব্দুর রহমান: বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে—শিল্প, পরিবহন, বিদ্যুৎ—সব ক্ষেত্রেই জ্বালানির চাহিদা বেড়েই চলেছে। কিন্তু এই চাহিদার বড় অংশই পূরণ হচ্ছে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের মাধ্যমে। বৈশ্বিক বাজারে দামের অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং পরিবেশগত ঝুঁকি—সব মিলিয়ে এই নির্ভরতা এখন বড় এক কৌশলগত প্রশ্নের মুখে ফেলেছে দেশকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনীতি, পরিবেশ রক্ষা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বিকল্প জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া ছাড়া আর কোনো বাস্তবসম্মত পথ নেই। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি উৎস বিশেষভাবে সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে। সূর্যের আলোয় শক্তির সম্ভাবনা বাংলাদেশে বছরের অধিকাংশ সময়ই সূর্যালোক পাওয়া যায়—এই প্রাকৃতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সৌর শক্তি হতে পারে জ্বালানি রূপান্তরের প্রধান ভরকেন্দ্র। গ্রামাঞ্চলে ঘরের ছাদে ছোট সোলার সিস্টেম, শহরে রুফটপ সোলার, এমনকি বড় আকারের সোলার ফার্ম—সবই এখন আলোচনায়। সেচের জন্য সৌরচালিত পাম্পও কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এ ক্ষেত্রেইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড  এর নেতৃত্বে বাস্তবায়িত সোলার হোম সিস্টেম কর্মসূচি বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই সাফল্যকে কীভাবে শিল্প ও নগর পর্যায়ে বড় আকারে সম্প্রসারণ করা যাবে? উপকূলে বাতাসের শক্তি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল—বিশেষ করে কক্সবাজার, কুয়াকাটা এবং চট্টগ্রাম—বায়ু শক্তির জন্য সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এখানে গড় বাতাসের গতি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় উইন্ড টারবাইন বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। তবে এখনো বড় পরিসরে এই খাতের উন্নয়ন সীমিত। গবেষকরা বলছেন, সঠিক ডেটা সংগ্রহ ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে বায়ু শক্তি দেশের জ্বালানি মিশ্রণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।  গ্রামে গ্রামে বায়োগ্যাস গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি উৎস হলো বায়োগ্যাস। গবাদিপশুর গোবর, কৃষি বর্জ্য ও জৈব বর্জ্য থেকে উৎপন্ন এই গ্যাস রান্নার কাজে যেমন ব্যবহারযোগ্য, তেমনি ছোট পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও কাজে লাগানো যায়। এটি শুধু জ্বালানির বিকল্প নয়—বরং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষির জন্য জৈব সার উৎপাদনের ক্ষেত্রেও কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।  কৃষিভিত্তিক শক্তি: বায়োমাস ধানের তুষ, খড়, আখের বর্জ্য বা কাঠের অবশিষ্টাংশ—যা একসময় অপচয় হতো—সেগুলোই এখন শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশে বায়োমাস শক্তি বাস্তবায়ন তুলনামূলক সহজ। তবে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।  সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জলবিদ্যুৎ বাংলাদেশে বড় নদী থাকলেও উচ্চতার তারতম্য কম হওয়ায় বড় আকারের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সীমিত। বর্তমানে Kaptai Dam থেকেই মূল জলবিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি অঞ্চলে ছোট আকারের মিনি ও মাইক্রো হাইড্রো প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ এখনো কাজে লাগানো হয়নি পুরোপুরি।  শহরের বর্জ্য থেকেই জ্বালানি প্রতিদিন ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে বিপুল পরিমাণ কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়। এই বর্জ্যকে সমস্যা না দেখে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করার ধারণা থেকেই ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ প্রযুক্তির বিকাশ। ল্যান্ডফিল গ্যাস বা কঠিন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন—এই খাতটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এটি নগর ব্যবস্থাপনার একটি বড় সমাধান হতে পারে।  ভবিষ্যতের দিকচিহ্ন: সবুজ হাইড্রোজেন বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য শক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে সবুজ হাইড্রোজেন। নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে পানি থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদন করা যায়, যা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। বাংলাদেশে এখনো এই খাত প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি কৌশলগত বিনিয়োগের একটি ক্ষেত্র হতে পারে। বাস্তবতা বনাম সম্ভাবনা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বিকল্প জ্বালানি হলো সৌর শক্তি, বায়োগ্যাস, বায়োমাস, বায়ু শক্তি এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি। তবে বড় প্রশ্ন হলো—নীতিগত ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ—এই চারটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি ছাড়া কি এই সম্ভাবনাগুলো বাস্তবে রূপ পাবে? বাংলাদেশ যদি এই খাতগুলোকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে পারে, তাহলে শুধু আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোই নয়—বরং একটি টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং নিরাপদ জ্বালানি ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব।  

খাল খনন: জিয়া থেকে তারেক
নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0

আলম রায়হান: বর্তমান সরকারের প্রধান কর্মসূচির মধ্যে একটি হচ্ছে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন। কাগজপত্রের হিসাবে এ কাজ অতীব সহজ। বেকু দিয়ে কাটলেই হলো! উল্লেখ্য জনশক্তির ওপর নির্ভর করে এ কাজের সূচনা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বলা হয়, এটি নিছক কোনো কাজ নয়, একটি আন্দোলন। বিপ্লবও বলা চলে। দেশকে স্বনির্ভর করাই ছিল তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য। গভীরে আরও অনেক বিষয় ছিল।  পানি নিয়ে ভাবতেন প্রেসিডেন্ট জিয়া প্রেসিডেন্ট জিয়া পানি নিয়ে ভাবতেন। যে ভাবনা থেকেই ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্সার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ পানি রক্ষায় নানান উদ্যোগ নিয়েছেন। এ উদ্যোগেরই আলোচিত ও আলোকিত দিক হচ্ছে খাল খনন। কয়েক দশক আগে সূচিত কাজটিই নতুন উদ্যমে হাতে নিয়েছেন জিয়াপুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিন্তু মাঝখানে পদ্মা-মেঘনা দিয়ে অনেক পানি গড়িয়েছে। ফলে জিয়াউর রহমানের পক্ষে যা বাম হাতের খেলা ছিল, তারেক রহমানের পক্ষে তা কতটা সহজ-এ নিয়ে অনেকেই ভাবছেন। সঙ্গে আরও অনেক প্রসঙ্গ নিয়ে নানান আলোচনা আছে। কিন্তু মূল কথাটি সম্ভবত এখনো তেমন আলোচনায় আসেনি। তা হচ্ছে, খাল কাটা হবে কোথায়, কীভাবে। এ প্রসঙ্গে কারও মনে পড়তেই পারে হাসন রাজার গান, ‘কী ঘর বানাইমু আমি শূন্যের মাঝার।’ এ প্রসঙ্গে অতীতের একটি ঘটনার অবতারণা করা যাক। এবং বলে রাখা ভালো, কোনো বিচারেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় নদী কমিশনের চেয়ারম্যানের তুলনা চলে না। তবে অনুমান করা যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নদী কমিশনের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ তো আনুপাতিকভাবে আসতেই পারে।    শেখ হাসিনার দিকে ফিরেও তাকাননি উল্লেখ্য শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নদী কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী। তিনি শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও বেশ পরিচিত। এরপরও মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। যামিনী না পোহাতেই জাগাবার মতো ঘটনা ঘটেছে। যদিও অন্য রকম আকুতি আছে বরীন্দ্রনাথের গানে, ‘কেন যামিনী না যেতে জাগালে না, বেলা হলো মরি লাজে।’ নদী কমিশনের উল্লিখিত চেয়ারম্যান নদী-পানি রক্ষায় নিজেকে ক্ষমতাধর মনে করেছিলেন, রথের মতো। যেটাকে সরকারের ঘনিষ্ঠ ‘নদীখোর’ সাঙাতরা খুব বেশি বাড়াবাড়ি বলে বিবেচনা করেছিলেন।  মনে রাখা প্রয়োজন, সব সরকারের আমলেই একদল সাঙাত জুটে যায়। এরা খুবই ক্ষমতাধর হয়। সরকারের সঙ্গে এদের সম্পর্কটা অনেকটা পরকীয়ার আদলে। ফলে সাঙাতদের বদনখানি মলিন হলেই সরকারের কেন্দ্রে এক প্রকার ঝাঁকুনি লাগে। যদিও নিদানকালে এসব সাঙাত কোনোই কাজে লাগে না। এটি শেখ হাসিনার পরিণতিতে দিবালোকের মতো স্পষ্ট। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যাঁরা চিরকাল থাকার সংকল্প করেছিলেন, এমনকি একত্রে কবরেও যাওয়ার কথা বলেছিলেন তাঁরা ইউটার্ন করেছেন নিমেষে। শেখ হাসিনার দিকে ফিরেও তাকাননি। কবরে যাওয়া তো অনেক দূরের বিষয়।  কবর থেকে উঠতেই চাচ্ছিলেন না মোশতাক কবর প্রসঙ্গে একটি বিষয় উল্লেখ করা যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর বাবা ইন্তেকাল করেন। তাঁকে শেষবিদায়পর্বে যাঁরা কবরে নামিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে খোন্দকার মোশতাকও ছিলেন। কিন্তু তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে কবর থেকে আর উঠতেই চাচ্ছিলেন না। কিন্তু নির্মম ইতিহাস বলে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবার কবরে পাঠানোর ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এই মোশতাক। বলাবাহুল্য এরকম অনেক বাস্তবতা আছে। কিন্তু কেউ তেমন বিবেচনায় নেন না। শিক্ষা নেওয়া তো অনেক দূরের বিষয়। ওয়ান-ইলেভেনের পরিণতি কি কেউ বিবেচনায় নিয়েছেন? অন্তত আওয়ামী লীগ নেয়নি। যদিও হাসপাতাল থেকে অচল অবস্থায় কর্মীদের কাঁধে চড়ে বের হওয়ার সময় ওবায়দুল কাদের ওয়ান-ইলেভেনকে ‘একটি শিক্ষা’ হিসেবে উচ্চারণ করেছিলেন আবেগঘন নাটকীয়তায়। কিন্তু ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি এবং তাঁর সরকার কী করেছে? আসলে এটি হচ্ছে দেশের সরকারগুলোর ইনবিল্ড প্রবণতা। আর আমাদের রাজনীতিকরা যতটা না সরকার গঠন করেন, তার চেয়ে অনেক বেশি দৈন্যে সরকার কাঠামোতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। একপর্যায়ে এই কাঠামোবলয়ে আশ্রিত হয়ে যান এবং সরকার কাঠামোকেই সুরক্ষার বর্ম হিসেবে বিবেচনার বিভ্রমে আক্রান্ত হন। হেলাল হাফিজের কবিতার প্রিয়ার গালে মাছিকে তিল ভেবে ভুল করার মতো। ফলে সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়ার অবস্থায় তারা থাকেন না।  শিরোমণি ছিলেন অতিবাচাল এক নারী কাজেই সরকার কাঠামোতে নদী-পানির বিষয়ে নদী কমিশনের চেয়ারম্যান তো নস্যি, মন্ত্রীও একপ্রকার তেজপাতা। কাজেই নদী কমিশনের চেয়ারম্যান যতই শেখ পরিবারঘনিষ্ঠ ও দক্ষ হন না কেন, তাতে কিছু যায় আসে না। ফলে নদী কমিশনের চেয়ারম্যানের সক্রিয় ভূমিকা বড় বেশি বাড়াবাড়ি মনে করা হয়েছিল ক্ষমতাকেন্দ্রের সাঙাতদের কাছে। তাঁর সবচেয়ে ‘বড় অপরাধ’ ছিল, তিনি ঢাকার চারদিকের চারটি নদী পরিষ্কার রাখার জন্য গোঁ ধরেছিলেন। যাকে বরিশালের স্থানীয় বয়ানে বলা হয়, ‘ছাগলের ঠেনি।’ চেয়ারম্যান এমনও বলেছিলেন, ‘নদীর পানি এমন স্বচ্ছ হবে যে ঝিনুক ফিরে আসবে, মাছ ধরার জন্য নদীর তীরে ধ্যানের মতো অপেক্ষায় থাকবে মাছরাঙা।’ কিন্তু এসবের কিছুই হয়নি। উল্টো খোদ প্রধানমন্ত্রীর রোষানলে অপমানিত হয়েই বিদায় নিয়েছেন।  তবে এ অপকর্মের জন্য খুব ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের গলদঘর্ম হতে হয়নি। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদী দখল করে ডকইয়ার্ড নির্মাণকরী এক ব্যবসায়ী মূল খেলা খেলে দিয়েছেন। এর প্রেক্ষাপট প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় ছিল পরিবেশবাদীর ছদ্মাবরণে কতিপয় ভুঁইফোঁড় এনজিও। আর এদের শিরোমণি ছিলেন নাটকীয় বচনের অতিবাচাল এক নারী। পরে তিনি ইউনূস সরকারের উপদেষ্টার আসন অলংকৃত করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারে থাকাকালে তাঁর অনেক অপকর্মের ফিরিস্তি এর মধ্যেই বেশ চাউর হয়েছে। এরপরও তিনি বাচালপ্রবণতা ত্যাগ করতে পারেননি। কয়েক দিন আগে সংসদ নির্বাচনের সময় তাঁদের তৎপরতা প্রশ্নে বচন দিয়ে জামায়াতের হাতে একটি বড় ইস্যু তুলে দিয়েছেন, সরকারকে ফেলেছেন বিব্রতকর অবস্থায়। তিনি এমনই এক জিনিস।  হাসিনার প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন ‘নদীখাদক’  এই অদম্য নারীর সঙ্গে যদি হাসিনা সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী যুক্ত হন তাহলে আর কিছু লাগে! প্রসঙ্গত এই প্রতিমন্ত্রীও ‘নদীখাদক’ হিসেবে কুখ্যাত। শুরুর দিকেই বলেছি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো কমিশন চেয়ারম্যানের তুলনা না চললেও অনুমান করা যায়। এই আলোকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার অনুকরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল কাটা উদ্যোগ পানির মতো সোজা মনে হচ্ছে না। প্রসঙ্গত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুরুতে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ছিলেন। তিনি ছিলেন একক ক্ষমতাধর। তাঁর হাতে ‘ডান্ডা’ ছিল। আর সেই সময়ে রাজনীতি ততটা কলুষিত হয়নি, যতটা হয়েছে পরবর্তী সময়ে ক্রমাগতভাবে। দ্রুত অধোগতির ধারায় রাজনীতির জার্সি গায়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের অপরাধী ও ধান্ধাবাজরা রাজনীতিতে ঢুকে পড়েছেন। ফলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে রাজনীতিতে ঠগ বাছতে কম্বল উজাড় হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হতে পারে। রাষ্ট্রকাঠামোতে নানান কিসিমের অপরাধীতে গিজগিজ করে রাষ্ট্রকাঠামোর ওপর দিকের বিভিন্ন স্তর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নানান কিসিমের অপরাধীতে গিজগিজ করে। এরা নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কোনো কিছুকে বিবেচনায় নেয় না। এই অপশক্তি বিভিন্ন দলে সংযুক্ত। তাদের বাহারি পরিচয় ‘নেতা’। কথিত এই নেতারা সুযোগ পেলে পাবলিকের খাতা ধরে টানাটানি করে। বস্ত্র হরণের একাধিক খবর তো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। অনেক খবর অপ্রকাশিতই থেকে যায়। কাজেই খাল খনন করতে গিয়ে যখন উচ্ছেদ প্রসঙ্গ আসবে তখনই হবে জটিল খেলা। এ প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী প্রকারান্তরে আগাম ধারণা দিয়ে রেখেছেন। তিনি ৮ মার্চ বলেছেন, ‘খাল এবং নদীর অনেক জায়গায় দীর্ঘ সময় পলি জমে ছিল, অনেক জায়গায় দোকানপাট বাড়িঘর গড়ে উঠেছিল। আমরা সব বাধাবিপত্তি দূর করে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’ প্রশ্ন হচ্ছে, যারা দখল করেছে তারা কি সহায়তা করার জন্য মুখিয়ে আছেন? এদের তো উচ্ছেদ করতে হবে। এটি মোটেই সহজ নয়, বরং খুবই কঠিন কাজ।  পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্পর্কে মন্ত্রীর সম্যক ধারণা আছে?  প্রশ্ন আছে, খাল কাটার উদ্দেশ্য কী? এ ব্যাপারে আগিলা সময়ের একটি পাঠ্য রচনা প্রসঙ্গে আসা যাক। সেই সময় রচনাবলির মধ্যে একটি ছিল, ‘যদি লাখ টাকা পাই’। শিশুতোষ রচনায় লাখ টাকা পেলে নানা পরিকল্পার কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সব ভাত গুড় দিয়ে খাওয়ার ভাবনা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, খাল কাটার প্রধান উদ্দেশ্যগুলো কী কী?  আতা গাছে তোতা পাখির মতো সরকারি বয়ান নিশ্চয়ই প্রস্তুত, ‘বর্ষাকালের পানি ধারণ, শুষ্ক মৌশুমে কৃষিতে সেচের ব্যবহার এবং জলাবদ্ধতা দূর করা।’ খুবই ভালো কথা। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত করার দৃঢ়তা কি সরকারের বখেদমতে হুজুরেআলাদের আছে? এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। এদিকে মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে খাল কাটা কাজ হচ্ছে। কিন্তু যতটুকু জানা গেছে, খাল খননের মাঠের কাজটি করবে প্রধানত তাঁর মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএডিসি। কিন্তু নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্পর্কে মন্ত্রীর কী সম্যক ধারণা আছে? বলা কঠিন!  প্রয়োজনে ক মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি হাসিনা সরকারের পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন। আবার উপমন্ত্রী বলে অবজ্ঞা করা ঠিক হবে না। কারণ এনামুল হক শামীম খুবই ক্ষমতাধর ছিলেন।  এরপরও তিনি নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছুই করতে পারেননি। আরও অনেক কঠিন বাস্তবতা আছে। এসব অতিক্রম করেই খাল কাটা কর্মসূচি সফল করতে হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। যা পাহাড় লঙ্ঘনের মতোই কঠিন কাজ। যত জটিলতাই হোক না কেন, খাল কাটায় প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য কামনা করি। কারণ দেশ বাঁচানোর প্রাণভোমরা কিন্তু পানি। আর পানির প্রথম ধাপটিই হচ্ছে খালবিল-পুকুর, পরে নদী। খাল খনন কর্মসূচি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সামাজিক সহযোগিতা—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ—উভয়ের জন্যই জরুরি। কিন্তু পরিকল্পনা আর বাস্তবতার ব্যবধান কমানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ইসরাইলের শতাধিক শহরে হামলা
মধ্যপ্রাচ্য-ইউক্রেন সংঘাত: জ্বালানি, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতির লড়াইয়ে কে লাভবান—যুক্তরাষ্ট্র নাকি অন্য কেউ?
নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0

মাসুদ করিম: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় থেকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি ধারণা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—যুদ্ধ এখন আর শুধু ভূখণ্ড দখল বা সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি অর্থনীতি, জ্বালানি এবং বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক জটিল প্রতিযোগিতা। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত—এই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পরও ইরানে সরকার পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।  জ্বালানি: যুদ্ধের আসল কেন্দ্রবিন্দু? বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সংঘাতগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্বালানি ও বাণিজ্য পথ। বিশেষ করে: হরমুজ প্রণালি কৃষ্ণসাগর অঞ্চল বৈশ্বিক তেল সরবরাহ চেইন বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।  এলএনজি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ করার পর  ইউরোপ রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাধ্য হয়। এর ফলে: যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ওঠে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক ইউরোপ স্পট মার্কেটে বেশি দামে গ্যাস কিনতে শুরু করে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি পায় তবে এই লাভের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেন যুদ্ধে বিপুল অর্থ ব্যয়ও করতে হয়েছে।  লাভ বনাম ঝুঁকি: জটিল সমীকরণ যদিও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানিকারকরা লাভবান, তবুও বড় কিছু ঝুঁকি রয়ে গেছে: দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ অর্থনীতিকে দুর্বল করতে পারে জোট রাজনীতিতে চাপ বাড়ে সামরিক ব্যয় বাড়তে থাকে এছাড়া, কাতারের মতো দেশ যদি হরমুজ প্রণালির ঝুঁকির কারণে রপ্তানি কমায়, তাহলে বিশ্ববাজারে এলএনজি দাম আরও বাড়তে পারে—যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্বল্পমেয়াদে সুবিধা আনলেও দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।  বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ: নতুন ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাতগুলো আসলে তিনটি বিষয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণের লড়াই: জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) সমুদ্রপথ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার সহজ হয়।  বাংলাদেশ: চাপের মুখে  অর্থনীতি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন: জ্বালানির দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ে ফলে বৈশ্বিক সংঘাতের সরাসরি অংশীদার না হয়েও বাংলাদেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে।  নিরাপত্তা বনাম নির্ভরতা দশকের পর দশক ধরে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু যদি সেই নির্ভরতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তা শুধু সামরিক নয়—একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। শেষ কথা: যুদ্ধের শেষ কোথায়? বর্তমান বাস্তবতায় একটি বিষয় পরিষ্কার— এই যুদ্ধের কোনো সহজ সমাপ্তি নেই। এটি: আঞ্চলিক সংঘাতের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে জ্বালানি বাজারকে পুনর্গঠন করছে নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি করছে অতএব, প্রশ্নটি এখন আর শুধু “কে জিতবে?” নয়— বরং “এই যুদ্ধ থেকে কে কতটা লাভবান হবে, আর তার মূল্য কে দেবে?”

অধ্যাপক মেঘনা গুহ ঠাকুরতা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞে শহীদ অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা
নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0

মেঘনা গুহ ঠাকুরতা:  ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ—বাংলার ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় কালরাত। এই রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে চালায় বর্বরোচিত গণহত্যা। তাদের লক্ষ্য ছিল বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া। কিন্তু সেই রক্তাক্ত রাতই উল্টো বাঙালিকে স্বাধীনতার পথে আরও দৃঢ় করে তোলে। সেই রাতের ভয়াবহতার শিকার হন অসংখ্য নিরীহ মানুষ, শিক্ষক, ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী। তাদেরই একজন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক  জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা। সেদিন রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন তিনি। সেদিনের ভয়াবহতার কিছু স্মৃতি তুলে ধরেছেন তার একমাত্র মেয়ে অধ্যাপক মেঘনা গুহ ঠাকুরতা। 🔥 গণহত্যার বিভীষিকা ২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি সেনারা হঠাৎ করেই হামলা চালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও পিলখানায়। জগন্নাথ হল, ইকবাল হল (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল)-সহ বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই নির্মম হত্যাযজ্ঞে শুধু ঢাকাতেই হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বন্ধ করে দেওয়া হয় টেলিফোন, রেডিও ও টেলিগ্রাম ব্যবস্থা। 🏠 ৩৪ নম্বর ভবনের সেই রাত অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা থাকতেন শহীদ মিনার আবাসিক এলাকার ৩৪ নম্বর ভবনে। তার মেয়ে মেঘনা গুহ ঠাকুরতা সেই রাতের স্মৃতি তুলে ধরেন। তার ভাষায়, ২৫ মার্চ রাত প্রায় ১১টার দিকে পাকিস্তানি সেনারা তাদের বাসায় হানা দেয়। এক কর্মকর্তা ও দুই সৈনিক এসে জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতাকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে অন্য ফ্ল্যাটগুলোতে তল্লাশি চালায়। এক পর্যায়ে শিক্ষক মনিরুজ্জামান এবং তার সঙ্গে থাকা তিনজন তরুণকে টেনে-হিঁচড়ে এনে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। 💔 “আপনার হাজবেন্ডকেও হয়তো মেরেছে” মনিরুজ্জামানের স্ত্রী এসে মেঘনার মাকে জানান—“আপনার হাজবেন্ডকেও হয়তো মেরেছে।” আতঙ্কিত পরিবার দ্রুত বাইরে গিয়ে দেখতে পায়, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন। মেঘনা জানান, সেনারা তার বাবার নাম ও ধর্ম জিজ্ঞেস করার পর গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঘরে এনে রাখা হয়, কারণ তখন কারফিউ চলছিল। 🏥 মৃত্যুপুরীতে পরিণত ঢাকা মেডিক্যাল ২৭ মার্চ কারফিউ শিথিল হলে তাকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে অবস্থা সংকটজনক হয়ে ওঠে। মেঘনার ভাষায়, হাসপাতালের করিডর, মেঝে—সব জায়গা লাশ ও আহত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ ছিল। চারদিকে রক্তের গন্ধ, আর্তনাদ আর মৃত্যুর মিছিল। চিকিৎসকরা জানান, তাকে আর বাঁচানো সম্ভব নয়। অবশেষে ৩০ মার্চ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 🕯️ ইতিহাসের এক অমোচনীয় ক্ষত ২৫ মার্চের সেই কালরাত শুধু একটি হত্যাযজ্ঞ নয়—এটি বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক নির্মম অধ্যায়। এই রাতেই শুরু হয় দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, যার মাধ্যমে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা সহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ বাঙালির ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0




বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উপব্যবস্থাপক মো. আহম্মদুল্লাহ
বিপিসির এক কর্মকর্তাকে ঘিরে শতকোটি টাকার সম্পদ, নিয়োগ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উপব্যবস্থাপক এবং একসময় চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. আহম্মদুল্লাহকে ঘিরে সম্পদ অর্জন, প্রভাব খাটানো, নিয়োগে অনিয়ম এবং আর্থিক সুবিধা গ্রহণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিজের বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ গঠন, পরিবারের সদস্যদের নামে স্থাবর সম্পত্তি নিবন্ধন, সরকারি সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার, বিভিন্ন ফাইল আটকে আর্থিক সুবিধা আদায় এবং ব্যাংক আমানত ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিপিসি কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তাদের কাছে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ বা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তপত্র পৌঁছেনি। সম্পদের বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন অনুসন্ধানে প্রাপ্ত দলিল, ভূমি রেকর্ড এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় ফ্ল্যাট ও প্লটসহ একাধিক স্থাবর সম্পদের সঙ্গে আহম্মদুল্লাহ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম জড়িয়ে আছে। এর মধ্যে কেরানীগঞ্জের বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে স্ত্রী নুসরাত জেবিন সিনথীর নামে সাড়ে তিন কাঠার একটি প্লটে আটতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। দলিল অনুযায়ী জমিটির মূল্য দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। তবে স্থানীয়ভাবে জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য দলিলে উল্লেখিত মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। এই মূল্যায়ন স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে নুসরাত জেবিন সিনথী বলেন, জমিটি তাঁর নামে রয়েছে এবং ভবন নির্মাণে ব্যাংকঋণ নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পত্তি অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, আদাবরের একটি প্লট প্রথমে আহম্মদুল্লাহর শ্বশুরের নামে নিবন্ধিত হলেও পরে সেটি তাঁর স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া বরিশালের ঝালকাঠী জেলার গ্রামের বাড়িতে একটি ডুপ্লেক্স ভবন, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কৃষিজমি এবং বরিশাল শহরেও একটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারি দায়িত্ব ও অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, বিপিসি চেয়ারম্যানের পিএস থাকাকালে বিভিন্ন ক্রয়সংক্রান্ত অনুমোদনের ফাইল তাঁর মাধ্যমে চেয়ারম্যানের দপ্তরে যেত। একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদনের ফাইল আটকে রেখে আর্থিক সুবিধা আদায় করা হতো।   বাংকার, রিফাইনারি ও বিল অনুমোদন একাধিক সূত্র দাবি করেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি সরবরাহকারী বাংকার ডিলার এবং কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারির বিল দ্রুত অনুমোদনের বিনিময়ে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।   নিয়োগে প্রভাবের অভিযোগ বিপিসির কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার দাবি, ২০১৯ সালের পর নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।   বদলি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ২০২১ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ আহম্মদুল্লাহকে চট্টগ্রামে বদলির আদেশ দেন। তবে সেই আদেশ অল্প সময়ের মধ্যেই প্রত্যাহার করা হয় এবং তিনি পুনরায় পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান তাঁকে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে সংযুক্ত করেন। ব্যাংক আমানত নিয়ে অভিযোগ চেয়ারম্যানের সাবেক পিএস কে এম রিয়াজ রহমান গত ১ মার্চ জ্বালানি উপদেষ্টার কাছে দেওয়া এক আবেদনে অভিযোগ করেন, আহম্মদুল্লাহর দায়িত্বকালে বিপিসির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এফডিআর ও এসএনডি হিসাব তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে রাখা হয়েছিল। আবেদনে আরও দাবি করা হয়, এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান আর্থিক ঝুঁকিতে পড়লেও ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।   বিপিসির বক্তব্য বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা বলেন, "আমি এখানে যোগদানের পর থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাইনি। দুদকেরও কোনো চিঠি আসেনি।" তিনি আরও বলেন, কোন ব্যাংকে কত এফডিআর বা এসএনডি রাখা হয়েছে, সে তথ্য জানতে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে হবে। বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে আহম্মদুল্লাহর বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার।
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদকের সিন্ডিকেটের অভিযোগ: তদন্তের মুখে দুই ডেপুটি জেলার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেদ করে কীভাবে একের পর এক ইয়াবার চালান ভেতরে প্রবেশ করছে—এই প্রশ্ন এখন শুধু কারা প্রশাসনের নয়, আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি নারী বন্দি সুবর্ণার কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনার পর কারাগারের অভ্যন্তরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। এর কয়েকদিন আগেই আরেক বন্দির কাছ থেকেও ইয়াবা উদ্ধার হয়েছিল। এসব ঘটনায় কারাগারের দুই ডেপুটি জেলারসহ কয়েকজন কারারক্ষীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেননি এবং প্রশাসন বলছে, বিষয়টি তদন্তাধীন। এক ঘটনার পর আরেক ঘটনা কারা সূত্র বলছে, ১০ জুন নারী বন্দি সুবর্ণার কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৬ জুন কীর্তনখোলা-২ ভবনে বন্দি সুমন খানের কাছ থেকে আরও ১০টি ইয়াবা জব্দ করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনাটিসহ একাধিক মাদক উদ্ধারের ঘটনা অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রশাসন আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। কারাগারের ভেতরে কীভাবে পৌঁছায় মাদক? বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুস্তরবিশিষ্ট। ফলে প্রশ্ন উঠছে—একাধিক তল্লাশি ও নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে কীভাবে ইয়াবার মতো নিষিদ্ধ মাদক বন্দিদের হাতে পৌঁছায়? কারাগার থেকে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ায় শুধু নিচু স্তরের কারারক্ষীরা নন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল কিছু কর্মকর্তাও জড়িত থাকতে পারেন। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, দুই ডেপুটি জেলার সুমাইয়া ও আনন্দ শীল ছাড়াও কয়েকজন কারারক্ষী ও নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সদস্য এই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত।  '২০ হাজার টাকায় আপস'—অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কারাগারের এক দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে, ৬ জুন বন্দি সুমন খানের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত না করে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে আপস করা হয়। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল দুই ডেপুটি জেলার নির্দেশনায় এবং এতে কারাগারের গোয়েন্দা দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কারারক্ষী ভূমিকা রাখেন।   অভিযোগের মুখে কর্মকর্তারা ডেপুটি জেলার আনন্দ শীলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অপরদিকে ডেপুটি জেলার সুমাইয়া ফোনে বলেন, তিনি ব্যস্ত আছেন এবং পরে কথা বলবেন। পরে আর যোগাযোগ করেননি। কারাগারের সর্বপ্রধান রক্ষী গাজী রশিদের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। জেল সুপার যা বললেন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বন্দিদের কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, নারী বন্দি সুবর্ণার বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারারক্ষী মৌ ও শারমিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে মাদক প্রবেশ এবং কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিষয়টি তদন্তাধীন। কারাগারকে মাদকমুক্ত করতে এবং অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।" ডিআইজি প্রিজনের নীরবতা কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) অসীম কান্ত পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ফোন রিসিভ করলেও বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের মাদককাণ্ড সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুরোনো অভিযোগ, নতুন প্রশ্ন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এর আগেও একাধিকবার ইয়াবা ও স্মার্টফোন উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছে। কারা প্রশাসনের ভেতরে দুর্নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে অতীতেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ঘটনাগুলো আবারও প্রশ্ন তুলেছে—কঠোর নিরাপত্তার আওতায় থাকা একটি কারাগারে বারবার মাদক প্রবেশের নেপথ্যে কেবল বিচ্ছিন্ন অনিয়ম, নাকি সংঘবদ্ধ কোনো চক্র কাজ করছে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে চলমান তদন্তের ফলাফলের ওপর। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত বলে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৩০, ২০২৬ 0
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামান
ফরিদপুর গণপূর্তে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ, প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিলম্বের দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা, দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিলম্ব সৃষ্টি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকিতে ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার, সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং কার্যালয়ের কিছু কর্মচারী এমন অভিযোগ করলেও, এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অফিসে গিয়ে যা দেখা গেল সম্প্রতি ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর উপস্থিতি যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে তাঁর দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, কক্ষটি তালাবদ্ধ। দায়িত্বরত এক কর্মচারী জানান, ওই সময় পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসে আসেননি। কার্যালয়ের অন্যান্য কক্ষে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলীর অবস্থান সম্পর্কে তারা নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। কয়েকজন বলেন, তিনি কখন অফিসে আসবেন—সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। যোগাযোগের চেষ্টা, সাড়া মেলেনি অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ঠিকাদারদের অভিযোগ কী? নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার দাবি করেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ফাইল অনুমোদন, কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা, মাপজোক সংক্রান্ত নথি যাচাই এবং বিল অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় এসব কাজ আটকে যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। একজন ঠিকাদার বলেন, "আমরা কাজ শেষ করার পরও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। অফিসে এসে প্রধান কর্মকর্তাকে না পেলে স্বাভাবিকভাবেই কাজের গতি কমে যায়। এতে শুধু ঠিকাদার নয়, সরকারের প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।" আরেকজনের দাবি, জরুরি ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচিও প্রভাবিত হচ্ছে। বিল পরিশোধেও বিলম্বের অভিযোগ কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, কাজ শেষ করার পর বিল অনুমোদন ও পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় তারা আর্থিক চাপে পড়ছেন। তাদের ভাষ্য, নির্মাণসামগ্রী কেনা, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নির্বাহে নিয়মিত অর্থপ্রবাহ প্রয়োজন হয়। বিল আটকে গেলে পুরো আর্থিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয়।   কর্মচারীদের সতর্ক অবস্থান কার্যালয়ের কয়েকজন অধস্তন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। একজন কর্মচারী বলেন, "তিনি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি কখন অফিসে আসবেন বা যাবেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার আমাদের নেই।" আরেকজন বলেন, "এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাই না।"   তদারকি নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় কয়েকজন পর্যবেক্ষক মনে করেন, জেলার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পদটি সরকারি ভবন নির্মাণ, সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মকর্তার অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে অনেক সময় মাঠপর্যায়ের কাজের নিয়মিত তদারকি ব্যাহত হয়। তবে কোনো প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ হয়েছে বা নির্দিষ্ট অনিয়ম ঘটেছে—এমন প্রমাণ অভিযোগকারীরা উপস্থাপন করতে পারেননি। তারা মূলত নিয়মিত তদারকির অভাবের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন। যোগাযোগ নিয়েও অভিযোগ কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অনেক সময় নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোনে পাওয়া যায় না।   বিধিমালা কী বলছে? সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা প্রত্যাশিত। তবে কোনো কর্মকর্তা নির্দিষ্ট দিনে অফিসে অনুপস্থিত থাকলে তার পেছনে সরকারি দায়িত্ব, দাপ্তরিক সফর, অনুমোদিত ছুটি বা অন্য প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে।   চলমান প্রকল্পের অবস্থা ফরিদপুরে বর্তমানে সরকারি ভবন নির্মাণ, সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রকল্প চলমান রয়েছে। তবে এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, কিংবা নির্বাহী প্রকৌশলীর উপস্থিতির সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের দাবি অভিযোগকারীদের মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন। তাদের বক্তব্য, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন, যাতে বিভ্রান্তির অবসান ঘটে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0
বরিশাল এলজিইডিতে বদলি ঠেকাতে তৎপর মাইনুল-ইয়াছিন? প্রভাব বলয় ও তদবিরের অভিযোগে নতুন বিতর্ক

বরিশাল অফিস :    স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরিশালে দুই প্রকৌশলীর বদলির আদেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বদলির নির্দেশ কার্যকর হওয়ার আগেই তা বাতিলের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চালানো হচ্ছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বরিশাল সদর উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ এবং বরিশাল জেলার নির্বাহী প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. ইয়াছিন মিয়া। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন এবং অতীত রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে গড়ে ওঠা একটি প্রশাসনিক বলয় এখনো সক্রিয় রয়েছে। আর সেই বলয়ের স্বার্থ রক্ষার অংশ হিসেবেই বদলির আদেশ ঠেকানোর চেষ্টা চলছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। বদলির আদেশ কী ছিল? এলজিইডির ১১ জুন ২০২৬ তারিখের অফিস আদেশ (স্মারক নং-৪৬.০২.০০০০.০০১.৯৯.২৭১.১৮-৫৮৪০) অনুযায়ী, সৈয়দ মাইনুল মাহমুদকে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়। একই দিনে জারি হওয়া আরেকটি অফিস আদেশে (স্মারক নং-৪৬.০২.০০০০.০০১.৯৯.২১৭.২১-৫৮৪৩) সহকারী প্রকৌশলী মো. ইয়াছিন মিয়াকে ঝালকাঠি জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে পদায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আদেশ জারির পরপরই তা বাতিলের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও তদবির শুরু হয়। কার মাধ্যমে তদবিরের অভিযোগ? একাধিক সূত্রের ভাষ্যমতে, বদলির আদেশ বাতিলের লক্ষ্যে বরিশাল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল ইমরান এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সদস্য রহমত-ই-খুদার মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঝালকাঠি জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে শুরু করে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য চাপ প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন অনুসন্ধানে জানা গেছে, সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বরিশাল সদর উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি একই কর্মস্থলে অবস্থান করে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও ঠিকাদারি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। সরকারি চাকরির নীতিমালায় দীর্ঘ সময় একই স্থানে অবস্থান নিরুৎসাহিত করা হলেও তিনি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠতার কারণে বহাল ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তৎকালীন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তিনি দীর্ঘ সময় একই পদে দায়িত্ব পালন করেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, ওই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ইয়াছিন মিয়াকে ঘিরেও একই অভিযোগ সহকারী প্রকৌশলী মো. ইয়াছিন মিয়ার ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন একই জেলায় কর্মরত থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বরিশালে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ওই সময়ে জেলার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। সূত্রগুলোর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহসহ জেলার একাধিক সংসদ সদস্যের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি ভূমিকা রাখতেন।   ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙার আশঙ্কাই কি বদলি ঠেকানোর কারণ? অভিযোগকারীদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পুনর্বিন্যাস শুরু হলেও বরিশাল এলজিইডিতে গড়ে ওঠা প্রভাব বলয় পুরোপুরি ভাঙেনি। তাদের দাবি, বদলির আদেশ কার্যকর হলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত এই নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বরিশালেই থেকে যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ বরিশাল জেলার নির্বাহী পৌর কৌশল দপ্তরে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়নের জন্যও জোরালো তদবির করছেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থান কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি অনিয়মের প্রমাণ না হলেও এতে প্রভাব বলয়, স্বার্থের সংঘাত এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। এ কারণে নিয়মিত বদলি ও রোটেশন ব্যবস্থাকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বরিশাল এলজিইডির এই ঘটনায়ও মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—বদলির আদেশ কি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি তা বাতিলের জন্য সত্যিই কোনো প্রভাবশালী মহল সক্রিয় রয়েছে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং বদলির আদেশের চূড়ান্ত বাস্তবায়নই এ প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণ করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘নীরব সিন্ডিকেট’? আবুল কাশেমকে ঘিরে দুর্নীতি, পাসপোর্ট জালিয়াতি ও প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিদেশে কর্মরত অবস্থায় সংঘটিত অনিয়মের একাধিক গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে একাধিক দপ্তরকে অবহিত করা হলেও কার্যকর তদন্ত বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রাপ্ত নথি, অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ে দায়িত্ব পালনকালে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, রাজস্ব ফাঁকি, ভুয়া পরিচয়ে পাসপোর্ট ইস্যু এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচয় দিয়ে অতীতের অভিযোগ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগের কেন্দ্রে রিয়াদ দূতাবাস রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসে দায়িত্ব পালনকালে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণে রাজস্ব ফাঁকি এবং অবৈধ অর্থ লেনদেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, দূতাবাসের স্থানীয় কর্মীদের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুলসংখ্যক পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণ করা হতো। বিনিময়ে আদায় করা হতো নগদ অর্থ, যার একটি অংশ কথিত সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হতো। অভিযোগকারী সূত্র দাবি করেছে, ২০১৯ সালের মে, জুন ও জুলাই—এই তিন মাসেই শত শত পাসপোর্টে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ‘ভুয়া আইডি’ ব্যবহার করে পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ অভিযোগের আরও বিস্ফোরক অংশে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ সালে দূতাবাসের ভেতরে অস্তিত্বহীন কর্মচারীর নামে ভুয়া আইডি খুলে তা ব্যবহার করে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ‘সাইফুর’ নামে একটি আইডির মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং সফটওয়্যার লগ বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি সহজেই যাচাই করা সম্ভব। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত চেয়ে একাধিক সরকারি চিঠি, কিন্তু ব্যবস্থা কোথায়? নথিপত্র অনুযায়ী, আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও মতামত চেয়ে ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখা থেকে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়। সুরক্ষা সেবা বিভাগ, প্রশাসন-১ শাখা এবং মিশন শাখা পৃথকভাবে রিয়াদ দূতাবাসকে অভিযোগ যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠানোর অনুরোধ জানায়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একাধিক স্মারক জারি হলেও অভিযোগের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং তদন্ত প্রতিবেদনও যথাসময়ে জমা পড়েনি। এ পরিস্থিতি প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিদেশে পোস্টিং নিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আবুল কাশেমের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সোহাগ হোসেনের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিদেশে পোস্টিং নিশ্চিত করার চেষ্টা, বদলি বাণিজ্য এবং প্রশাসনে তদবিরের সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের নাম জড়িয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন প্রকাশের আগে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আবুল কাশেম ও সোহাগ হোসেনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ নিজ এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আবুল কাশেম ও তার পরিবারের প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং ওই সময়েই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। তাদের অভিযোগ, দেশে-বিদেশে তার নামে ও বেনামে সম্পদ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের পরিমাণ বা মালিকানার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। কী বলছেন দুর্নীতি বিরোধী বিশ্লেষকরা? দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ বা অবৈধ সুবিধা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তার ভাষায়, “দুর্নীতি ছোট বা বড় হয় না। দুর্নীতি মানেই দুর্নীতি। প্রতিটি অভিযোগের গভীর অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন।” অন্যদিকে দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্নের মুখে জবাবদিহি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অভিযোগ, তদন্তের জন্য বারবার সরকারি চিঠি দেওয়া, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো নিষ্পত্তি না হওয়া—এসব বিষয় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0
প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমান
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে বিসিক কেমিক্যাল শিল্প পার্কের টেন্ডার: বিশেষ সুবিধা নাকি প্রশাসনিক ব্যর্থতা?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মুন্সীগঞ্জে বাস্তবায়নাধীন বিসিক কেমিক্যাল শিল্প পার্ক প্রকল্পের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণকাজের টেন্ডারকে ঘিরে ঠিকাদার মহল ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এমন একটি সময়ে টেন্ডার আহ্বান করেছে, যখন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীর্ঘ সরকারি ছুটি থাকায় অধিকাংশ সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী কার্যত প্রস্তুতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টালে বিসিক কেমিক্যাল শিল্প পার্ক, মুন্সীগঞ্জ (প্রকল্প আইডি-২২৪২৭৮৯০০) প্রকল্পের অধীনে দুটি পৃথক টেন্ডার আপলোড করা হয়। এর মধ্যে টেন্ডার আইডি-১২৭৮২৩০ (এপিপি আইডি-২১৮৩৫২, রি-টেন্ডার্ড আইডি-১২০৮১৪৬) এর মাধ্যমে "Construction of Jetty" এবং টেন্ডার আইডি-১২৭৮৩৩৭ (এপিপি আইডি-২১৮৩৫২, রি-টেন্ডার্ড আইডি-১২০৮১২০) এর মাধ্যমে "Construction of Dumping Yard and Incinerator" কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। উভয় টেন্ডারই প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমানের নামে প্রকাশিত হয়। সময়সীমা নিয়ে আপত্তি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের একটি অংশের অভিযোগ, পিপিআর অনুযায়ী ন্যূনতম সময়সীমা অনুসরণ করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় টেন্ডার প্রস্তুত ও জমাদানের জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখা হয়নি। তাদের দাবি, ১৮ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীর্ঘ সরকারি ছুটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ সময়ে সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকার পাশাপাশি অধিকাংশ ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী ও ঠিকাদার পরিবার নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করেন। ফলে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ, কারিগরি প্রস্তাব প্রস্তুত এবং আর্থিক প্রস্তাব চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বাস্তব জটিলতা তৈরি হয়। কয়েকজন আগ্রহী ঠিকাদার অভিযোগ করেন, সময় নির্ধারণের ধরন এমন ছিল যে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থায় অসঙ্গতির অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে যে টেন্ডার নথিতে যোগাযোগের জন্য যে প্রকল্প কার্যালয়ের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে গিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, প্রকল্প পরিচালক মাঝে মধ্যে প্রকল্প এলাকায় এলেও স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন না। তবে এ দাবির বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে টেন্ডার নথিতে যোগাযোগের জন্য উল্লেখিত ৯৫৬৭৮৯৪ নম্বরের টেলিফোনটি কার্যকর নয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে দরপত্রদাতাদের জন্য কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণের অন্যতম শর্ত। পুরনো অভিযোগের ছায়া প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম, প্রশাসনিক অসদাচরণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার। তাদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে ভুয়া বিল-ভাউচার, ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং মাটি ভরাট কাজের আর্থিক অসঙ্গতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, বিসিক কর্তৃপক্ষ কিংবা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বক্তব্য নিতে ব্যর্থতা প্রতিবেদন প্রকাশের আগে প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং খুদে বার্তাও পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন? সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা একাধিক বিশেষজ্ঞের মতে, কেবল আইনগত ন্যূনতম সময়সীমা অনুসরণ করাই যথেষ্ট নয়; প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হয়। তাদের মতে, যদি দীর্ঘ সরকারি ছুটি, অকার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা বা সীমিত অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো প্রকৃতপক্ষে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি পর্যালোচনা করা। এখন প্রশ্ন মুন্সীগঞ্জের বিসিক কেমিক্যাল শিল্প পার্ক দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। ফলে এর প্রতিটি ক্রয় কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ঈদের দীর্ঘ ছুটির মধ্যে টেন্ডার আহ্বান, যোগাযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন এবং নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ—সব মিলিয়ে প্রকল্পটির সাম্প্রতিক দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—এটি কি কেবল প্রশাসনিক দুর্বলতা, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো অনিয়ম রয়েছে? সেই উত্তর খুঁজে বের করার দায়িত্ব এখন শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং তদারকি সংস্থাগুলোর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী রেকডালের, ১৯৯৮ বিশ্বকাপের ইতিহাস ফেরার ইঙ্গিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচকে ঘিরে ব্রাজিল–নরওয়ে লড়াইয়ের আগে আলোচনায় উঠে এসেছে ২৬ বছর আগের এক স্মরণীয় অধ্যায়। নরওয়ের সাবেক ফুটবলার ক্যেতিল রেকডাল, যিনি ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে দলের ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ছিলেন, মনে করছেন—এবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেকডাল বলেন, রোববারের ম্যাচে সবচেয়ে বেশি চাপ থাকবে ব্রাজিলের ওপর। তার মতে, নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়াই নরওয়ের জন্য বড় অর্জন। বিপরীতে, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল ব্রাজিলের জন্য জয় ছাড়া অন্য কোনো ফলই হতাশাজনক হিসেবে বিবেচিত হবে। অতীতের পরিসংখ্যান কী বলছে? দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসও নরওয়ের সমর্থকদের আশাবাদী হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। এ পর্যন্ত চারবারের সাক্ষাতে ব্রাজিল একবারও নরওয়েকে হারাতে পারেনি। সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচটি ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে, যেখানে ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে ক্যেতিল রেকডালের পেনাল্টি গোলে ২–১ ব্যবধানে জয় পায় নরওয়ে এবং নিশ্চিত করে শেষ ষোলোতে ওঠা। রেকডালের বিশ্বাস, সেই ম্যাচের স্মৃতি এখনো ব্রাজিলের বিপক্ষে মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। "নরওয়ের বিপক্ষে আবারও হোঁচট খাওয়ার ভয় ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মনে থেকে যেতে পারে।" বর্তমান নরওয়েকে কেন বেশি শক্তিশালী মনে করছেন? রেকডালের মূল্যায়নে, বর্তমান নরওয়ে দল ১৯৯৮ সালের দলের তুলনায় আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিণত। তার মতে, আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড এবং আন্তোনিও নুসা—এই তিন ফুটবলারের উপস্থিতি দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বড় ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম নিজেদের পরিচয় গড়তে অতীতের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে না; বরং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই তাদের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি। ব্রাজিল এগিয়ে, তবু কেন সতর্ক থাকার পরামর্শ? রেকডালের মতে, কাগজে-কলমে ব্রাজিলই ফেবারিট। তবে নরওয়ের আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তার বিশ্লেষণে— হালান্ডের গোল করার অসাধারণ দক্ষতা, ওডেগার্ডের সৃজনশীল পাসিং, নুসার গতি ও ড্রিবলিং —ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্কোরলাইনেও আত্মবিশ্বাস বর্তমানে নরওয়ের শীর্ষ লিগের ক্লাব আলেসুন্দ এফকে-এর কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রেকডাল নিজের পূর্বাভাসে অটল। তার ভাষায়, "নরওয়ে ২-১ গোলে জিতবে। ফুটবলে ইতিহাস প্রায়ই নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটায়।" যদিও ব্রাজিলকে এখনও ম্যাচের ফেভারিট ধরা হচ্ছে, তবু নরওয়ের সাম্প্রতিক দলীয় শক্তি, অতীতের পরিসংখ্যান এবং রেকডালের আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ৯২ বছর পর শেষ ষোলোতে মিশর
টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ হারিয়ে শেষ ১৬-এ মিশর: সালাহর পানেনকা, এক শতাব্দীর অপেক্ষার অবসান

ডালাস স্টেডিয়াম, মেক্সিকো: ১২০ মিনিটের লড়াইয়েও যখন দুই দলের মধ্যে ব্যবধান তৈরি করা সম্ভব হয়নি, তখন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে পেনাল্টি শুটআউট। সেখানেই স্নায়ুর পরীক্ষায় অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এ জায়গা করে নেয় মিশর। এটি শুধু একটি জয় নয়; মিশরের ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘ প্রতীক্ষারও অবসান। ১৯৩৪ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ এনে দেয় এই ম্যাচ, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। শুরুতেই এগিয়ে যায় মিশর ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় মিশরকে। ১৩তম মিনিটে অধিনায়ক মোহামেদ সালাহর ছোট পাস থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে বক্সে ভেসে আসা ক্রসে ইমাম আশুর দূরের পোস্টে দারুণ এক হেডে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। আত্মঘাতী গোলে ম্যাচে ফেরে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি বদলে যায়। ৫৫তম মিনিটে মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। এরপর দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও ম্যাচে আর গোল হয়নি। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে মিশরের হাইসেম হাসানের জোরালো শট গোললাইন থেকে হাঁটু দিয়ে ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার হ্যারি সুটার। সেই গুরুত্বপূর্ণ ব্লকই ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়েও অমীমাংসিত অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে দুই দলই তুলনামূলক সতর্ক কৌশলে খেলায় মনোযোগ দেয়। আক্রমণের চেয়ে রক্ষণেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। শুটআউটে বদলে যায় সবকিছু পেনাল্টি শুটআটের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সুটার বল উড়িয়ে মারেন গোলবারের ওপর দিয়ে। অন্যদিকে মাহমুদ সাবের ও রামি রাবিয়া নিজেদের শট থেকে গোল করেন। এরপর আসে ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। প্রবল চাপের মধ্যে মোহামেদ সালাহ নেন দুর্দান্ত একটি 'পানেনকা' শট। গোলরক্ষক ম্যাটি রায়ান একদিকে ঝাঁপ দিলেও বল ধীরগতিতে পোস্টের মাঝখান দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার তরুণ হেরিংটনের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে ম্যাচ কার্যত মিশরের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। শেষ শটে ইনজুরির শঙ্কা নিয়েই মাঠে নামা ডিফেন্ডার হোসাম আবদেলমাজিদ গোল করে নিশ্চিত করেন মিশরের জয়। গোলের পর জার্সি খুলে সতীর্থদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন তিনি। ইতিহাসের নতুন অধ্যায় টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় শুধু মিশরকে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে তুলেই দেয়নি, বরং দীর্ঘদিনের নকআউট পর্বের হতাশাও মুছে দিয়েছে। অন্যদিকে এই পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। সালাহর শান্ত মাথার পানেনকা, গোলরক্ষকের সামনে মিশরীয় খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস এবং শুটআউটে স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে ডালাসের রাতটি মিশরের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
শিরোপার স্বপ্ন বাঁচালো আর্জেন্টিনা
কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ ভেঙে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়, শেষ ষোলো নিশ্চিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের মুখে ঠেলে দেওয়ার মতো সাহসী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে কেপ ভার্দে—এমন দৃশ্য সম্ভবত লিওনেল মেসি কিংবা লিওনেল স্ক্যালোনির পরিকল্পনাতেও ছিল না। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি এমন এক লড়াই উপহার দিয়েছে, যা দীর্ঘদিন বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হিসেবে আলোচিত হতে পারে। নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতা। অতিরিক্ত সময়েও দুই দল সমানে সমান। শেষ পর্যন্ত ১১১ মিনিটে একটি আত্মঘাতী গোলই পার্থক্য গড়ে দেয়। তাতে ৩-২ ব্যবধানে কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে শেষ হয় কেপ ভার্দের রূপকথার বিশ্বকাপ অভিযান। রূপকথার শেষ, কিন্তু মাথা নত নয় গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই ড্র করে অপরাজিত অবস্থায় নকআউটে ওঠে কেপ ভার্দে। এরপর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই করে বিদায় নেয় তারা। ফলাফল তাদের বিপক্ষে গেলেও পারফরম্যান্সে ফুটবলবিশ্বের শ্রদ্ধা অর্জন করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। গোছানো রক্ষণ, আত্মবিশ্বাসী বল দখল এবং সীমিত সুযোগ থেকেও কার্যকর আক্রমণ গড়ে তোলার সক্ষমতা পুরো ম্যাচেই আর্জেন্টিনাকে অস্বস্তিতে রেখেছিল। মেসির ইতিহাস, তবুও ম্যাচ ছিল কঠিন ম্যাচের ২৯তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দীর্ঘ পাস অসাধারণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষক ভোজিনহাকে পরাস্ত করেন লিওনেল মেসি। বাঁ পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে নেওয়া নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা আট ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নতুন ইতিহাসও গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। কিন্তু সেই ইতিহাসও ম্যাচকে সহজ করে দিতে পারেনি। কেপ ভার্দের জবাব ৫৯ মিনিটে নিচু শটে সমতা ফেরান ডেরয় দুয়ার্তে। গোলটি শুধু ম্যাচে সমতা ফেরায়নি, বরং আর্জেন্টিনার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। এরপর একাধিকবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করলেও কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে হতাশ হতে হয় আর্জেন্টিনাকে। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবে খেলা ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক মেসির ডান পায়ের শট, ফ্রি-কিক এবং অতিরিক্ত সময়ের আরও একটি নিশ্চিত সুযোগ ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচের অন্যতম সেরা পারফর্মার হয়ে ওঠেন। অতিরিক্ত সময়ে নাটক অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই মেসির কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দুর্দান্ত ভলিতে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু কেপ ভার্দে হাল ছাড়েনি। ১০৩ মিনিটে সিডনি লোপেস কাবরালের অসাধারণ বাঁকানো শট জড়িয়ে যায় জালে। বিশ্বকাপের সেরা গোলগুলোর আলোচনায় জায়গা করে নেওয়ার মতো সেই গোল আবারও সমতায় ফেরায় ম্যাচ। টাইব্রেকারের সম্ভাবনা তখন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছিল। ১১১ মিনিটে ভাগ্য বদল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় ১১১ মিনিটে। লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে কেপ ভার্দের দিনেই বোর্হেস দুর্ভাগ্যজনকভাবে বল নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন। আত্মঘাতী সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তে কেপ ভার্দে আরেকবার সমতায় ফেরার খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রক্ষা করে। পরিসংখ্যানের ভাষায় সম্ভাব্য অঘটন ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনা এবং ৬৭তম স্থানে থাকা কেপ ভার্দের এই লড়াই বিশ্বকাপ নকআউট ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনে পরিণত হতে পারত। কিন্তু বড় দলের সবচেয়ে বড় শক্তি সংকটের মুহূর্তে ফল বের করে আনা। সেটিই করেছে লিওনেল স্ক্যালোনির দল। কেপ ভার্দে বিদায় নিলেও তাদের সংগঠিত ফুটবল, সাহসী মানসিকতা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত গল্প হয়ে থাকবে। অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাঁচিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মিসর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা
এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবারও লিড নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটেই গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। ম্যাচের ২৮তম মিনিটে লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। রক্ষণভাগ থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের নিখুঁত লংবল ধরে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বিশ্বকাপে নিজের ২০তম গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় কেপ ভার্দে। ৫৯তম মিনিটে সমতা ফেরায় আফ্রিকার দলটি। এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও আর কোনো গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। অতিরিক্ত সময় শুরু হওয়ার পরই আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা। প্রথম মিনিটে আক্রমণে উঠে গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। তার এই গোলে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পথে বড় সুবিধা পেয়ে যায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
লিওনেল মেসি
নকআউট নিশ্চিত, এবার বেঞ্চের শক্তি যাচাই—জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনায় বড় রদবদলের ইঙ্গিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  দুই ম্যাচে টানা জয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে Argentina national football team। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে চাপমুক্ত অবস্থানে রয়েছে দলটি। এই বাস্তবতায় কোচ Lionel Scaloni এখন নজর দিচ্ছেন স্কোয়াডের গভীরতা যাচাই এবং নকআউট পর্বের জন্য মূল খেলোয়াড়দের সতেজ রাখার দিকে। টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী শনিবার (২৭ জুন) গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। কানসাসে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ অনুশীলন সেশনেই সেই পরিকল্পনার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। অনুশীলনে আলাদা বার্তা, কারা পাচ্ছেন সুযোগ? মঙ্গলবারের অনুশীলনে আর্জেন্টিনা দলকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে যারা শুরুর একাদশে ছিলেন, তারা মাঠে অনুশীলন না করে জিমনেসিয়ামে হালকা ফিটনেস সেশন সম্পন্ন করেন। অন্যদিকে যারা কম সময় খেলেছেন বা মাঠে নামার সুযোগ পাননি, তারা পূর্ণমাত্রার অনুশীলনে অংশ নেন। এ তালিকায় ছিলেন Julián Álvarez, Nicolás González, Leandro Paredes, Nicolás Tagliafico এবং Nicolás Otamendi। দলের ভেতরের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জর্ডানের বিপক্ষে এই ফুটবলারদের অধিকাংশই শুরুর একাদশে সুযোগ পেতে পারেন। স্কালোনির কৌশল: ফল নয়, প্রস্তুতিই এখন অগ্রাধিকার ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গ্রুপ টেবিলের অবস্থান এখন আর তার দলের জন্য কোনো চাপ তৈরি করছে না। তিনি বলেন, প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে নেওয়াই ছিল দলের প্রধান লক্ষ্য এবং সেটি অর্জিত হয়েছে। ফলে এখন স্কোয়াডের অপেক্ষমাণ ও যোগ্য খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু রোটেশন নয়; বরং নকআউটের আগে আর্জেন্টিনার বিকল্প পরিকল্পনা কতটা কার্যকর, সেটি যাচাইয়েরও সুযোগ। রোমেরোর চোটে উদ্বেগ, বাড়ছে রক্ষণভাগের হিসাব তবে সবকিছু ইতিবাচক নয়। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুতে আঘাত পাওয়া ডিফেন্ডার Cristian Romero-কে নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। তার চোটের মাত্রা নির্ধারণে মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জর্ডানের বিপক্ষে তার মাঠে নামা প্রায় অসম্ভব। নকআউট পর্বের আগে রোমেরোর শারীরিক অবস্থা আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেসিকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অনুশীলনের শেষদিকে অধিনায়ক Lionel Messi এবং Rodrigo De Paul-কে ট্র্যাকস্যুট পরে মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের অনুশীলন পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনি সাধারণত ম্যাচের গুরুত্ব নির্বিশেষে মাঠে থাকতে পছন্দ করেন। তবে সামনে নকআউট পর্বের উচ্চঝুঁকির লড়াই থাকায় তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদি মেসি বিশ্রামে থাকেন, তাহলে তরুণ Nicolás Paz-এর জন্য শুরুর একাদশে জায়গা তৈরি হতে পারে। গোলপোস্টেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা শুধু আক্রমণভাগ নয়, গোলরক্ষকের অবস্থানেও পরিবর্তনের আভাস মিলছে। নিয়মিত প্রথম পছন্দ Emiliano Martínez-এর পরিবর্তে সুযোগ পেতে পারেন Gerónimo Rulli। এতে করে নকআউটের আগে স্কোয়াডের দ্বিতীয় সারির খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিটনেস ও প্রস্তুতি যাচাই করার সুযোগ পাবে কোচিং স্টাফ।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
নেইমার
বিশ্বকাপে পেলে-রিভালদোর রেকর্ড ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে নেইমার, স্কটল্যান্ড ম্যাচেই হতে পারে ইতিহাস

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের শেষ ম্যাচে মাঠে নামতে পারলেই তিনি দেশটির দুই কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে-রিভালদোর একটি ঐতিহাসিক রেকর্ডে ভাগ বসাবেন। দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় পর জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরার অপেক্ষায় থাকা নেইমারকে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে দেখা যেতে পারে। যদিও তাকে শুরুর একাদশে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, তিনি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামতে পারেন। তবে ব্রাজিলের প্রধান কোচ আনচেলত্তির জানিয়েছেন, নেইমার পুরো ম্যাচ খেলার মতোই শারীরিকভাবে প্রস্তুত আছেন। বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সির বিশেষ রেকর্ড ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে ১০ নম্বর জার্সি কেবল একটি সংখ্যা নয়; এটি দেশটির ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতীক। এই জার্সি পরে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৪টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড বর্তমানে যৌথভাবে ধরে রেখেছেন পেলে ও রিভালদো। চারটি বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিয়ে পেলে এবং দুটি বিশ্বকাপে খেলেই রিভালদো এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। অন্যদিকে, নেইমার এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি পরে ১৩টি ম্যাচ খেলেছেন। ফলে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামলেই তিনি ১৪ ম্যাচে পৌঁছে পেলে ও রিভালদোর পাশে নিজের নাম লেখাবেন। আরেকটি ঐতিহাসিক অর্জনের পথে বিশ্বকাপের রেকর্ডের পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সিতেও আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলকের দিকে এগোচ্ছেন নেইমার। ব্রাজিলের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে এখন পর্যন্ত ৯৭টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যা দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ফুটবল সম্রাট পেলে, যার ১০ নম্বর জার্সিতে ম্যাচ সংখ্যা ১০৫। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারলে নেইমারের ৯৮তম ম্যাচ পূর্ণ হবে। সে ক্ষেত্রে চলমান বিশ্বকাপেই ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সিতে ১০০ ম্যাচ খেলার বিরল কীর্তি গড়ার সুযোগ তৈরি হবে তার সামনে। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে বাড়তি নজর চোট ও ফিটনেসজনিত কারণে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর নেইমারের প্রত্যাবর্তন এমনিতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তার ওপর পেলে ও রিভালদোর মতো কিংবদন্তিদের রেকর্ড স্পর্শ করার সম্ভাবনা এই ম্যাচকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি মাঠে নামলে সেটি শুধু ব্রাজিলের জন্য একটি কৌশলগত শক্তি ফেরার ঘটনা হবে না; একই সঙ্গে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ জার্সিকে ঘিরে নতুন একটি অধ্যায়েরও সূচনা হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
ভারতে হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিদের অনলাইন হেনস্থার শিকার মুসলিম বিচারককে নিরাপত্তা দেয়ার নির্দেশ
বিচারকের নিরাপত্তা জোরদার: গণপিটুনি রায়ের পর হুমকির ঘটনায় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতে একটি আলোচিত গণপিটুনি মামলায় ১৪ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাবাসসুম খান অনলাইন হুমকি ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। ঘটনার পর তাঁর বিদ্যমান পুলিশি নিরাপত্তা অব্যাহত রাখতে নির্দেশ দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি চলমান মামলার শুনানিতে আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি আমলে নেয়। বিচারপতি বিবেক আগরওয়াল এবং বিচারপতি অবনীন্দ্র কুমার সিং-এর ডিভিশন বেঞ্চ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করে। রায়, প্রতিক্রিয়া এবং উত্তেজনা গত ১২ জুন দেওয়া এক রায়ে বিচারক তাবাসসুম খান ২০২২ সালের একটি সহিংস গণপিটুনি মামলায় ১৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে গবাদি পশু পরিবহনের সময় ট্রাক চালক শেখ লালা নাজির আহমেদকে হত্যা করা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি বেআইনি জমায়েত গড়ে তুলে হামলা চালায়। রায় ঘোষণার পরপরই নিজেদের ‘গো-রক্ষক’ দাবি করা একাধিক গোষ্ঠী প্রকাশ্যে বিক্ষোভে নামে। আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, বিচারকের কুশপুতুল দাহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইন হুমকি ও ভাইরাল ভিডিও ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে এক ব্যক্তি বিচারকের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তি না দিলে রাজ্যজুড়ে সহিংসতার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়ে। আদালতের কঠোর অবস্থান হাইকোর্ট এই ঘটনাকে “গুরুতর উদ্বেগজনক” আখ্যা দিয়ে জানায়, এ ধরনের আচরণ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে, বিচারিক সিদ্ধান্ত কেবল আইনি প্রক্রিয়া—আপিল বা রিভিশনের মাধ্যমেই চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে। বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, কোনো সামাজিক গোষ্ঠীর অসন্তোষের কারণে বিচারকের বিরুদ্ধে হুমকি বা সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের মতে, এটি বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও নির্ভীক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নির্দেশ অন্তর্বর্তী নির্দেশে হাইকোর্ট জানায়, নর্মদাপুরমের পুলিশ সুপারের (এসপি) অধীনে বিচারক তাবাসসুম খানের বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। এছাড়া, হুমকির পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—তা বিস্তারিতভাবে হলফনামা আকারে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকেও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নীতিমালা সম্পর্কে ব্যক্তিগত হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি শুনানিতে ডেপুটি অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতকে জানান, ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।   এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে ভারতের বিচার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অনলাইন বিদ্বেষের প্রভাব। বিশেষ করে সংবেদনশীল ফৌজদারি মামলার রায়ের পর বিচারকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কতটা জরুরি—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
দোহা আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’, হরমুজ দিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে গেল থাইল্যান্ডের ১০ জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত কূটনৈতিক আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। একই সময়ে, দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা থাইল্যান্ডের ১১টি বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে ১০টি নিরাপদে জলসীমা অতিক্রম করেছে, যা সামুদ্রিক বাণিজ্য স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, দোহায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কাতারি এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আলোচনায় অংশ নেওয়া পক্ষগুলো সংলাপ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দোহায় অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোকে ‘খুব ভালো’ বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও আলোচনার নির্দিষ্ট অগ্রগতি বা সম্ভাব্য সমঝোতা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ২, ২০২৬ 0
কুয়াকাটায় সেঞ্চুরি গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ: ১০ বছরেও প্লট নয়, রেজিস্ট্রেশন ও উন্নয়ন ফি'র নামে কোটি টাকা আদায়

  ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটন সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে আবাসন ও হোটেল প্রকল্পের স্বপ্ন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহের পরও এক দশক পেরিয়ে নির্ধারিত প্লট বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেঞ্চুরি গ্রুপের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, 'সেঞ্চুরি কুয়াকাটা মডেল টাউন', 'সেঞ্চুরি গোল্ড কোস্ট হোটেল অ্যান্ড স্পা' এবং 'সেঞ্চুরি ট্রেজার আইল্যান্ড অ্যান্ড বাটার ফ্লাই পার্ক'—এই তিন প্রকল্পে জমি, হোটেলের মালিকানা ও ভবিষ্যৎ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগ নেওয়া হলেও অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমজিআর নাসির মজুমদার। এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—প্লটের পুরো মূল্য পরিশোধের পরও নির্দিষ্ট জমি বুঝিয়ে না দেওয়া, সরকারি ফি'র তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায়, চুক্তির বাইরে ভিন্ন মৌজার জমি দলিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং দফায় দফায় নতুন অর্থ দাবির মতো একাধিক অভিযোগ। পুরো টাকা পরিশোধের ১০ বছর পরও প্লট নেই ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহকদের কাছে কাঠাপ্রতি ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫০ টাকা দরে পাঁচ কাঠার প্লট বিক্রির ঘোষণা দেয় সেঞ্চুরি গ্রুপ। ২০১১ সালের মে মাসে গ্রাহকদের হাতে চুক্তিপত্র তুলে দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, মাসে ১১ হাজার ২৫ টাকা করে ৭২ কিস্তিতে ২০১৬ সালের জুন মাসে মোট ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৮০০ টাকা পরিশোধ করেন ক্রেতারা। কিন্তু ২০২৬ সালেও অধিকাংশ ক্রেতা তাদের নির্ধারিত প্লট বুঝে পাননি। কিস্তিতে সামান্য দেরি, এরপর জরিমানা ও ঘুষের অভিযোগ একাধিক গ্রাহক জানিয়েছেন, কিস্তি পরিশোধে সামান্য বিলম্ব হলেই বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করা হতো। একজন ভুক্তভোগীর দাবি, জরিমানা কমিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে কোম্পানির এক কর্মকর্তাকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। এরপরও তার কাছ থেকে ৩১ হাজার ১৬৩ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।   উন্নয়ন ও রেজিস্ট্রেশনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ২০১৬ সালে প্লটের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরও ২০২১ সালে গ্রাহকদের কাছ থেকে ডেভেলপমেন্ট চার্জ হিসেবে প্লট মূল্যের ১৫ শতাংশ হারে ১ লাখ ১৯ হাজার ৭০ টাকা নেওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালে জমির রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে প্রতিটি গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া হয় ২ লাখ ৩০ হাজার ৯১২ টাকা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দলিলে উল্লেখিত মূল্যের ভিত্তিতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ফি সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ হওয়ার কথা। সেই হিসাবে সরকারি ফি দাঁড়ায় প্রায় ৩৭ হাজার ৮৭৫ টাকা। অর্থাৎ সরকারি নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় প্রায় দুই লাখ টাকা বেশি আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ। রেজিস্ট্রেশনের পর সামনে আসে নতুন জালিয়াতির অভিযোগ রেজিস্ট্রেশনের পর অনেক গ্রাহক জানতে পারেন, চুক্তিতে উল্লেখ করা প্লট বাস্তবে দেখাতে পারছে না কোম্পানি। ভুক্তভোগী আনিসুর রহমান (ছদ্মনাম) জানান, তাকে গঙ্গামতি মৌজার নির্দিষ্ট একটি প্লট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দলিল পাওয়ার পরও সেই প্লট আজ পর্যন্ত বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, "২০১৬ সালে পুরো টাকা পরিশোধ করেছি। ২০২৪ সালে দলিল পেয়েছি। কিন্তু ২০২৬ সালেও প্লট পাইনি। উল্টো বিভিন্ন অজুহাতে এখনো টাকা দাবি করা হচ্ছে।" তার অভিযোগ, কিস্তিতে বিলম্বের কারণে প্রায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং জরিমানা কমানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তাকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। প্লট নেই, তবু নতুন করে অর্থ দাবি ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এখন জমির নামজারি করার জন্য প্রতিটি প্লটের বিপরীতে ৬০ হাজার টাকা দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। অথচ সরকারি হিসাবে পাঁচ কাঠা জমির নামজারির ব্যয় প্রায় ১ হাজার ১৩০ টাকা। এ ছাড়া সীমানা প্রাচীর নির্মাণের নামে আরও দেড় লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। মাঠে গিয়ে মিলল না বিজ্ঞাপনের প্রকল্প সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে আধুনিক আবাসন প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান অবকাঠামো পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞাপনে দেখানো রাস্তা, পরিকল্পিত প্লট, নাগরিক সুবিধা কিংবা আধুনিক টাউনশিপের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। প্রকল্পের বড় অংশ এখনও কৃষিজমি হিসেবেই রয়েছে। হোটেল প্রকল্পেও প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ফারাক সেঞ্চুরি গোল্ড কোস্ট হোটেল অ্যান্ড স্পা প্রকল্পে শুরুতে ৫০ শতাংশ জমির ওপর ১৬ তলা ভবন নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হলেও বর্তমানে ১৪ তলা পর্যন্ত নির্মাণ হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি— ৫০ শতাংশ নয়, বাস্তবে ভবন নির্মাণ হয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ জমিতে। অবশিষ্ট জমি কার পার্কিং হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০২১ ও পরে ২০২২ সালে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ২০২৬ সালেও প্রকল্প শেষ হয়নি। বিনিয়োগকারীরা এখনো সাব-কবলা বা দলিল পাননি। শেয়ারের দাম বেড়েছে, কিন্তু প্রকল্প এগোয়নি ২০১৬ সালে প্রতি শেয়ারের মূল্য ছিল ১ লাখ ৫১ হাজার টাকা। পরবর্তীতে তা ধাপে ধাপে বেড়ে— ২০১৮ সালে ১.৯৯ লাখ টাকা, ২০২১-২২ সালে ৩.৫০ লাখ টাকা, ২০২৬ সালের শুরুতে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত ওঠে। পরে তা কমিয়ে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। দ্বিতীয় হোটেল প্রকল্পেও একই অভিযোগ সেঞ্চুরি ট্রেজার আইল্যান্ড অ্যান্ড বাটার ফ্লাই পার্ক প্রকল্পে ৮১ শতাংশ জমির ওপর ১৪ তলা হোটেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেয়ার বিক্রি করা হলেও অনুসন্ধানে প্রকল্পের বাস্তব কোনো নির্মাণকাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বর্তমানে প্রতিটি শেয়ার ৭ লাখ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক জমির শেয়ার দুই প্রকল্পে বিক্রির অভিযোগ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গোল্ড কোস্ট হোটেলের বাইরে থাকা ৩৩ শতাংশ কার পার্কিংয়ের জমির শেয়ার একই সঙ্গে দুটি পৃথক প্রকল্পে বিক্রি করা হয়েছে। পরে দুই প্রকল্পের সংযোগ ঘটিয়ে এক শেয়ারে দুই হোটেলের মালিকানার অফার দেওয়া হয়। এ ছাড়া শুরুতে প্রচারপত্রে বছরে পাঁচ রাত ছয় দিন বিনামূল্যে থাকার সুবিধা উল্লেখ থাকলেও পরে সেই সুবিধা বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ যা বলছেন কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মো. সবুজ হোসাইন বলেন, হোটেল বা রিসোর্ট প্রকল্পের নামে নির্দিষ্ট জমি বা চৌহদ্দি ছাড়া ক্ষুদ্র অংশের জমির শেয়ার বিক্রির কোনো আইনগত সুযোগ নেই। তার ভাষায়, "এ ধরনের কার্যক্রম প্রতারণার শামিল।" তিনি আরও বলেন, কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানি সাধারণ জনগণের কাছ থেকে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে না। সেঞ্চুরি গ্রুপের বক্তব্য অভিযোগ অস্বীকার করে সেঞ্চুরি গ্রুপের ডিজিএম তৌফিক চৌধুরী বলেন, "এসব মিথ্যা কথা।" অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমজিআর নাসির মজুমদার প্রথমে ফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় তিনি লেখেন, "আপনি যা বলছেন বা ভাবছেন, আমি বা আমরা সে রকম খারাপ মানুষ না। আমি অসুস্থ। দোয়া করবেন, মৃত্যুর আগে যেন মানুষের পাওনা বুঝিয়ে দিতে পারি।"

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৩০, ২০২৬ 0
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গে পরাজয়ের পর তৃণমূলে ভাঙন: মমতা নেতৃত্বে আস্থাহীনতা, দলত্যাগ ও আই-প্যাক বিতর্কে সংকট ঘনীভূত

পরাজয়ের পর তৃণমূলে অস্থিরতা: নেতৃত্ব, আই-প্যাক ও দলত্যাগের শঙ্কায় গভীর সংকটে মমতার দল ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস এখন গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজেদের প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা দলটি এবার ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই প্রকাশ্য বিভক্তির লক্ষণ দেখাতে শুরু করেছে। দলের ভেতরের অসন্তোষ, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং আই-প্যাক নির্ভর রাজনৈতিক কৌশল—সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরমহলে এখন চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে। ‘মা, মাটি, মানুষ’ থেকে বিচ্যুতির অভিযোগ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের বড় বহিঃপ্রকাশ ঘটে দলের প্রবীণ নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। দলের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট সুব্রত বক্সীর কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি শুধু দল ছাড়ার ঘোষণা দেননি; বরং দল পরিচালনায় পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য মূলত নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা আই-প্যাকের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিরুদ্ধে পরোক্ষ প্রতিবাদ। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের সাফল্যের পেছনে আই-প্যাককে বড় কৃতিত্ব দেওয়া হলেও, এখন দলের ভেতর থেকেই অভিযোগ উঠছে—সংগঠন ও নেতৃত্বের জায়গা দখল করে নিয়েছে একটি করপোরেট রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো। কাকলি ঘোষ দস্তিদার তার চিঠিতে দুর্নীতি-সংক্রান্ত অভিযোগে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও সামনে এনেছেন। তৃণমূলের একাধিক নেতা মনে করছেন, দল তার মূল আদর্শ ‘মা, মাটি, মানুষ’ থেকে অনেকটাই সরে গেছে। প্রকাশ্যে নেতাদের বিরোধ দলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে যখন তৃণমূলের আরেক প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সমালোচনায় নামেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূল ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করেছে। এরই মধ্যে দলের মুখপাত্র ঋজু দত্তকে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে দলের অভ্যন্তরীণ ‘ক্লিন-আপ অপারেশন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো মূল সংকট মোকাবিলার বদলে বরং দলের অস্থিরতাকেই সামনে নিয়ে আসছে। শুভেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ, বাড়ছে দলত্যাগের জল্পনা সংকটের মধ্যে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের তিন কাউন্সিলর—আনিসুর রহমান, বীণা মণ্ডল ও মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, তৃণমূলের একটি অংশ এখন বিকল্প রাজনৈতিক অবস্থান খুঁজছে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক জনপ্রতিনিধি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এর পাশাপাশি দুই তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও তারা এটিকে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে দাবি করেছেন, তবে দিল্লির বেঙ্গল গভর্নমেন্ট গেস্ট হাউজে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠকের খবর নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। আড়ালে চলে গেছেন ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীরা একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক বলয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন নেতা—ইন্দ্রনীল সেন, শশী পাঁজা, ব্রাত্য বসু, মলয় ঘটক ও অরূপ বিশ্বাস—সম্প্রতি জনসমক্ষে অনেকটাই অনুপস্থিত। দলের ভেতরের নেতারা বলছেন, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না, আবার কেউ নীরবে দূরত্ব বজায় রাখছেন। এর মধ্যে গত ১১ মে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী সুজিত বসুকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) গ্রেফতার করায় তৃণমূল আরও চাপে পড়ে। পরাজয় মানতে নারাজ মমতা? নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রায় তিন সপ্তাহ পার হলেও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো ফল মেনে নিতে পারেননি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি এক ফেসবুক লাইভে তিনি দাবি করেন, কারচুপির মাধ্যমে তাদের প্রায় ১৫০টি আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। বিগত চার দশকের মধ্যে এই প্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদ বা বিধানসভার কোনো কক্ষের সদস্য নন। বর্তমানে তিনি মূলত ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে ভোট-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি সহায়তা দিতে কলকাতা হাইকোর্টে গেলে তাকে বিরোধীদের বিক্ষোভ ও স্লোগানের মুখোমুখি হতে হয়, যা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আই-প্যাক, টিকিট বাণিজ্য ও সাংগঠনিক বিচ্ছিন্নতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, দল এখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছে। স্থানীয় পর্যায় থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলেও তাদের দাবি। সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে আই-প্যাককে ঘিরে। পঞ্চায়েত পদ থেকে শুরু করে বিধায়ক মনোনয়ন পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘আই-প্যাকের নামে’ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এখন দলীয় অন্দরেই উচ্চারিত হচ্ছে। তৃণমূলের একাধিক পুরোনো কর্মী মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও সাংগঠনিক সংস্কৃতিকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সামনে কোন পথে তৃণমূল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস এখন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে সাংগঠনিক ভাঙন এবং দুর্নীতির অভিযোগ—সব মিলিয়ে দলটি বড় ধরনের পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এতদিন যেসব অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নির্বাচনী জয়ের আড়ালে চাপা ছিল, পরাজয়ের পর সেগুলো এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলকে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন কি না, নাকি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলের দীর্ঘ আধিপত্যের অবসানের সূচনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৯, ২০২৬ 0
শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক
শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে দুর্নীতির অভিযোগ, ‘ভূতুড়ে’ স্থাপনায় কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নকশায় না থাকা কিংবা ভিডিও জরিপে শনাক্ত না হওয়া তথাকথিত স্থাপনার বিপরীতে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৫১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও ৩৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৬ কিলোমিটার অংশে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, আপত্তি নিষ্পত্তিতে অনিয়ম এবং ক্ষতিপূরণ বাণিজ্যের কারণে প্রকল্পটি এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ছয় বছরে অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ সহজ করতে ২০০১ সালে চালু হয় চাঁদপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়ক। সড়কটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে এটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। শরীয়তপুর শহরের মনোহর বাজার থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইব্রাহিমপুর পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণে ৮৬০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা জমি অধিগ্রহণে ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে দুই দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এখনো অধিকাংশ এলাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। সওজ সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রায় ৪৭ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ বাকি রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি আটকে আছে মাত্র ১৫ শতাংশে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ৪১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। সওজের শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, “প্রকল্পের ডিপিপিতে জমি অধিগ্রহণ ব্যয় কম ধরা হয়েছিল। ফলে জমি অধিগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই বরাদ্দ শেষ হয়ে যায়।” ‘ভূতুড়ে’ স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপূরণের অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তথাকথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার ভিডিও জরিপের আগে ও পরে স্থানীয় একটি চক্র ফাঁকা জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে। পরে সেসব স্থাপনাকে বৈধ দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভিডিও জরিপে না থাকা কিংবা প্রকল্প নকশার বাইরে থাকা স্থাপনাগুলোর বিপরীতেও বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। এমনকি ছোট গাছকে বড় গাছ হিসেবে দেখিয়ে অস্বাভাবিক অঙ্কের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের অভিযোগও রয়েছে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর অনেক স্থাপনা আবার সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওতে একতলা, বিলে দুইতলা ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরতারবুনিয়া মৌজায় শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির জমিতে ভিডিও জরিপে একতলা ভবন দেখা গেলেও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের সময় সেখানে দ্বিতীয় তলায় আধাপাকা টিনশেড ঘর দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অতিরিক্ত প্রায় ২০ লাখ টাকার বিল তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের। যদিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি শফিকুল ইসলাম। গাছের আকার বাড়িয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ পাপরাইল এলাকার জয়নাল খাঁর জমিতে গাছের সংখ্যা ও আকার বাড়িয়ে দেখিয়ে প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে জয়নাল খাঁ দাবি করেছেন, তাঁর ক্ষেত্রে সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে। আইন যা বলছে ২০১৭ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন অনুযায়ী, অসৎ উদ্দেশ্যে নির্মিত স্থাপনা ক্ষতিপূরণের তালিকাভুক্ত করার সুযোগ নেই। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই আইন উপেক্ষা করেই বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপূরণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার চরকাশাভোগ এলাকায় শাহিদা বেগম নামের এক নারী অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় নিজ জমিতে দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা গেছে। প্রথমে এলএ শাখা স্থাপনাগুলোকে “জনস্বার্থবিরোধী” উল্লেখ করে তালিকা থেকে বাদ দিলেও পরে আপত্তি নিষ্পত্তির মাধ্যমে তাঁকে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সড়ক প্রকল্পের অন্তত ১৯টি এলএ কেসে প্রায় ১২০টি আপত্তি যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের চেকে ‘পারসেন্টেজ’ নেওয়ার অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার আবদুল মালেক ফকির অভিযোগ করেন, ১৬ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলতে তাঁকে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নান্নু সরদার। তাঁর দাবি, “ভ্যাটের কথা বলে” ক্ষতিপূরণের টাকার ৬ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদুল আলম বলেন, তাঁর কাছে এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যেন পারসেন্টেজ না নেন, সে বিষয়ে শুরু থেকেই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেনও বলেছেন, ক্ষতিপূরণ প্রদানে অনিয়মের বিষয়ে তাঁর কাছে এখনো কোনো তথ্য আসেনি। তবে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। প্রশ্নের মুখে জবাবদিহি অবকাঠামো উন্নয়নের নামে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন নতুন নয়। তবে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক প্রকল্পে ওঠা অভিযোগগুলো এখন শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার নয়, বরং সরকারি অর্থ অপচয় ও সংঘবদ্ধ দুর্নীতির আশঙ্কাও সামনে আনছে। যেখানে ছয় বছরেও প্রকল্পের অর্ধেক জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি, সেখানে অতিরিক্ত শত শত কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব নতুন করে নজরদারি ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জোরালো করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ
আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া মৌজায় জমি দখল, আদালতের নির্দেশ অমান্য এবং অবৈধ বরাদ্দ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে রূপনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা সত্ত্বেও নির্মাণ ও বরাদ্দের অভিযোগ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চলমান সিভিল পিটিশন নং-১৫২১/২১ মামলায় সংশ্লিষ্ট জমির ওপর “স্থিতাবস্থা” (Status quo) বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। তবে অভিযোগে বলা হচ্ছে, ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে জমিতে নির্মাণকাজ, দখল কার্যক্রম এবং বরাদ্দ বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের দাবি, মোঃ মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে দুয়ারীপাড়া এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফা স্টেটের প্রায় ৪৮ একর সম্পত্তি এবং জাতীয় গৃহায়নের প্রায় ১৯ একর জমি ঘিরে এই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব জমি বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর নামে-বেনামে বরাদ্দ দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। আদালত অবমাননার অভিযোগ স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, আদালতের স্থিতাবস্থা বহাল থাকা অবস্থায় জমি বরাদ্দ দেওয়া গুরুতর আইনি প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি আদালত অবমাননা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের উদ্বেগ অভিযোগ রয়েছে, ওয়াকফা স্টেটের জমিতে ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে বসবাসকারী নিম্নআয়ের পরিবারগুলো প্রভাবশালীদের চাপের মুখে রয়েছে। তারা বলছেন, জমি ঘিরে চলমান কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রভাবশালী ব্যবহার ও দখলচেষ্টার অভিযোগ স্থানীয়দের দাবি, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং কথিত সাংবাদিকদের ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অভিযোগকারী মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, “আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চলছে, যা এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।” তিনি দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সম্পদের অনুসন্ধানের দাবি স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার সম্পদের উৎস তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, অবৈধ বরাদ্দ, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখা জরুরি। প্রশ্নের মুখে প্রশাসনিক তদারকি এ ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে—আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এসব কার্যক্রম চলতে পারছে? স্থানীয়দের অভিযোগ, এর পেছনে প্রভাবশালী একটি চক্র কাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
গুঠিয়া মসজিদ
গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদ: বরিশালের বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক স্থাপত্য কমপ্লেক্স

বরিশাল শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্স—যা সাধারণ মানুষের কাছে গুঠিয়া মসজিদ নামেই বেশি পরিচিত। এটি বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও আকর্ষণীয় মসজিদ কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, এটি এখন ধর্মীয় ও পর্যটন—দুই দিক থেকেই এক অনন্য গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশ থেকেও পর্যটকরা ছুটে আসছেন এই নয়নাভিরাম স্থাপনাটি দেখতে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি শবে বরাত, শবে মেরাজসহ বড় বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিশেষ করে ঈদের সময় এখানে আয়োজিত হয় বিশাল জামাত, যেখানে হাজারো মুসল্লির সমাগম ঘটে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত এই বিশাল প্রকল্পের উদ্যোক্তা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৬ সালে এর কাজ সম্পন্ন হয়। প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার শ্রমিকের শ্রমে গড়ে ওঠে এই স্থাপত্যকর্ম। প্রায় ১৪ একর জমির ওপর নির্মিত এই কমপ্লেক্সে রয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিকল্পনা ও নান্দনিক সাজসজ্জা। মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করলেই ডান পাশে চোখে পড়ে একটি বড় পুকুর, যা এমনভাবে খনন করা হয়েছে যাতে পানিতে পুরো মসজিদের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট দেখা যায়—যা দর্শনার্থীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। পুকুরটির চারপাশ সাজানো হয়েছে নানা রঙের ফুল ও ফলজ গাছ দিয়ে। এছাড়া রয়েছে মোজাইক করা শান বাঁধানো ঘাট, যা পুরো পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পুকুরের বিপরীতে মসজিদের প্রবেশমুখে স্থাপন করা হয়েছে দুটি ফোয়ারা, যা স্থাপনাটির সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সব মিলিয়ে গুঠিয়ার এই মসজিদ কমপ্লেক্সটি শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
বাঘা শাহী জামে মসজিদ
ঐতিহ্যের প্রতীক বাঘা শাহী জামে মসজিদ

উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক জনপদ রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন বাঘা শাহী জামে মসজিদ আজও ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও নান্দনিক স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এই প্রাচীন মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন।   ইতিহাস অনুযায়ী, ১৫২৩-১৫২৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার হুসেন শাহী বংশের শাসক সুলতান নসরত শাহ মসজিদটি নির্মাণ করেন। তারও আগে হজরত শাহ দৌলাহ (রহ.) এ অঞ্চলে এসে ইসলাম প্রচার করেন এবং বাঘা এলাকাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরে এ অঞ্চলকে ঘিরেই গড়ে ওঠে একটি সমৃদ্ধ জনপদ। স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে মসজিদটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও দৃষ্টিনন্দন। এতে আছে ১০টি গম্বুজ, চার কোণায় চারটি মিনার এবং অভ্যন্তরে একাধিক মজবুত স্তম্ভ, যা পুরো কাঠামোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে রেখেছে। মসজিদের দেওয়ালজুড়ে টেরাকোটার সূক্ষ্ম কারুকাজ মধ্যযুগীয় শিল্পরীতির এক অসাধারণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে ফুল-লতা ও জ্যামিতিক নকশার অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়।   মসজিদটির চারপাশের পরিবেশও অত্যন্ত মনোরম। বিস্তীর্ণ পুকুর, সবুজ বৃক্ষরাজি এবং শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ, ছুটির দিন ও শীত মৌসুমে এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পায়। স্থানীয়দের কাছে এ মসজিদ শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয় বরং এটি তাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। প্রতিদিন এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয় এবং ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা স্থাপনাটিকে একটি জীবন্ত ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে ধরে রেখেছে।   সচেতন মহল মনে করেন, এত প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটিকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আরও কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগ। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বাঘা শাহী জামে মসজিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, ‌‘এই মসজিদ আমাদের গর্ব। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এখানে আসে। এটি শুধু একটি মসজিদ নয়, আমাদের ইতিহাসের অংশ।’দর্শনার্থী সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘প্রথমবার এসে মসজিদের টেরাকোটার কাজ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। এত পুরোনো স্থাপনা হয়েও এখনো এত সুন্দরভাবে দাঁড়িয়ে আছে, এটি সত্যিই বিস্ময়কর।’

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
নহরে জুবাইদা
নহরে জুবাইদা: মরুভূমিতে মানবতার জলধারা

সেদিন মক্কা সিটি ট্যুর ছিল। আমরা মসজিদে নামিরা থেকে আরাফাতের ময়দানে গেলাম। আরাফাতের ময়দান ঘুরে মুজদালিফা হয়ে মিনা যাওয়ার পথে পুরাতন স্থাপনা লক্ষ্য করি। স্থাপনাগুলো ড্রেনের মতো, পাহাড়ের পাশ দিয়ে চলে গেছে দৃষ্টিসীমার বাইরে। মনে প্রশ্ন জাগে, এগুলো কী? গুগলে সার্চ দিয়ে হতবাক হয়ে গেলাম। এই হলো নহরে জুবাইদা! নহরের সমার্থক সরু, স্রোতস্বিনী, জলধারা, খাল, নালা। আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের স্ত্রী জুবাইদা বিনতে জাফর মক্কায় হজযাত্রীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল খনন করেছিলেন। যা হজের সময় পানির অভাব দূর করে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। খালটি তায়েফের কাছের ঝরনা থেকে পানি এনে মক্কা পর্যন্ত পৌঁছে দিতো। জুবাইদা নিজে এই বৃহৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা করে ব্যয়ভারও বহন করেন। নহরে জুবাইদা ইসলামি প্রকৌশল ও মানব সেবার বিস্ময়কর নিদর্শন হিসেবে বিদ্যমান। জুবাইদা অত্যন্ত বিদুষী, ধর্মপরায়ণ ও পরোপকারী একজন নারী ছিলেন। জুবাইদা জাফর ইবনুল মানসুরের মেয়ে। জাফর ইবনুল মানসুর খলিফা হারুনুর রশিদের চাচা। জুবাইদার আসল নাম ছিল আমাতুল আজিজ। তার দাদা আল-মানসুর তাকে আদর করে ‘জুবাইদা’ (ছোট মাখনের টুকরা) ডাকতেন। কালক্রমে তিনি ‘জুবাইদা’ নামেই পরিচিতি লাভ করেন। আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের স্ত্রী জুবাইদা বিনতে জাফর মক্কায় হজযাত্রীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল খনন করেছিলেন। যা হজের সময় পানির অভাব দূর করে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। খালটি তায়েফের কাছের ঝরনা থেকে পানি এনে মক্কা পর্যন্ত পৌঁছে দিতো। জুবাইদা নিজে এই বৃহৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা করে ব্যয়ভারও বহন করেন। নহরে জুবাইদা ইসলামি প্রকৌশল ও মানব সেবার বিস্ময়কর নিদর্শন হিসেবে বিদ্যমান। জুবাইদা অত্যন্ত বিদুষী, ধর্মপরায়ণ ও পরোপকারী একজন নারী ছিলেন। জুবাইদা জাফর ইবনুল মানসুরের মেয়ে। জাফর ইবনুল মানসুর খলিফা হারুনুর রশিদের চাচা। জুবাইদার আসল নাম ছিল আমাতুল আজিজ। তার দাদা আল-মানসুর তাকে আদর করে ‘জুবাইদা’ (ছোট মাখনের টুকরা) ডাকতেন। কালক্রমে তিনি ‘জুবাইদা’ নামেই পরিচিতি লাভ করেন।নহরে জুবাইদা কঠিন ভূখণ্ডে সুড়ঙ্গ ও জলপ্রণালি তৈরি করে, বিশাল প্রকৌশল কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছিল। এর নির্মাণে বেশ বাধা অতিক্রম করতে হয়েছিল। কঠিন শিলা কেটে খাল তৈরি করা এর অন্যতম। এটি একটি জটিল প্রকৌশল, যেখানে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ, খালের অংশ এবং জলাধার নির্মাণ করা হয়েছিল, যা পানিকে বাষ্পীভবন থেকে রক্ষা করতো। সে সময় মক্কায় জমজম ছাড়া পানির উৎস ছিল না। হজে প্রচুর মানুষের ভিড়ে পানির তীব্র সংকট দেখা দিতো। উচ্চ মূল্যে পানি ক্র‍য় করতে হতো। খলিফা হারুনুর রশিদের আমলে পানির অভাব বেশ তীব্র ছিল। তখন এক বালতি পানি বিক্রি হয় ২০ দিরহামে। ১৯৩ হিজরিতে খলিফার মৃত্যুর পর রানি জুবাইদা হজ পালন করতে মক্কা যান। পানির সমস্যা দেখে তিনি একটি খাল কাটার সিদ্ধান্ত নেন। নহরে জুবাইদা খননে আনুমানিক ১৭ লাখ দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) খরচ হয়। জুবাইদার খাল খননের ফলে হাজিদের জন্য বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত হয়। এই ব্যবস্থা মক্কা ও আশেপাশের এলাকার কৃষকদেরও উপকৃত করেছিল। তারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে খালের পানি ব্যবহার করতো। তিনি মক্কা ও মদিনার পথে মুসলিম হজযাত্রীদের জন্য কূপ, জলাধার এবং কৃত্রিম পুল তৈরি করেন। ‘দারব জুবাইদা’ (জুবাইদার পথ) নামে পরিচিত পথটির উন্নয়নেও ভূমিকা রাখেন। খালটি শুধু পানিই সরবরাহ করতো না বরং বাগদাদ থেকে মক্কা পর্যন্ত বিস্তৃত ‘দারব জুবাইদা’কে (হজ্জ্বযাত্রার পথ) সুগম করে তোলে। হজযাত্রীদের সুবিধার জন্য পথে বিশ্রামস্থল, কূপ, পুকুর ও বাতিঘর স্থাপন করা হয়। নহরে জুবাইদা কেবল মক্কার হাজিদের পানির সংকট দূর করেনি বরং শত শত বছর ধরে মুসলিম উম্মাহর সেবা ও নারীর দূরদর্শিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আজকের যুগেও অনেক ক্ষেত্রেই মুসলিম নারীরা অবহেলিত। সেই সময় রানী জুবাইদা কি চিন্তা করেছিলেন! এর ফলপ্রসূ বাস্তবায়নও বাকি রাখেননি। নারী জাগরণের ইতিহাসে তাকে উদাহরণ হিসেবে বলাই যায়। তিনি অনেক নারীর অনুপ্রেরণা। মুসলিম সভ্যতার ইতিহাসে রানী জুবাইদার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। নহরে জুবাইদা শুধু একটি জলধারা ছিল না, এটি রানী জুবাইদার প্রজ্ঞা, উদারতা এবং মুসলিমদের প্রতি ভালোবাসার বহিপ্রকাশ ছিল। বর্তমানে এটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত। একটি কালজয়ী স্থাপনা, যা ছিল প্রকৌশল ও মানবতার অপূর্ব মেলবন্ধন।   নহরে জুবাইদার ভগ্নাবশেষ এখনো আরাফাতের ময়দান, মুজদালিফা ও মিনার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নহরটি এখন আর পুরোপুরি সক্রিয় জলধারা না হলেও আমার মতো অনেক পর্যটক ও হাজি নহরে জুবাইদা দেখতে মিনা ও আরাফাতের ময়দানে ছুটে যান। নহর দেখার পরে তারা অভিভূত হয়ে যান এবং মহীয়সী নারী জুবাইদার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে থাকেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ৪২২ বছরের প্রাচীন ভাবকি ঈদগাহ মসজিদ—ইতিহাসের নীরব সাক্ষী

উত্তরবঙ্গের ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মধ্যে ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ অন্যতম। স্থাপনাটি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামে অবস্থিত। ছোট আকৃতির এ মসজিদে এখনো নামাজ আদায় করা হয়। দেশি-বিদেশি মানুষ এখনো মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন। শালবন ঘেরা মনোরম পরিবেশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদের শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১০১০ বঙ্গাব্দ বা ১৬০৪ সালে নির্মিত হয় এটি। ১২ ফুট দৈর্ঘ ও প্রস্থের মসজিদের উচ্চতা মিনারসহ প্রায় ৩০ ফুট। একসময় নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। বর্তমানে নিয়মিত না হলেও মাঝে মধ্যে দেখতে আসা পর্যটকেরা নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া দুই ঈদের নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।স্থানীয়রা জানান, মসজিদটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয় বরং গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগই পারে এই শতাব্দী প্রাচীন স্থাপনাটিকে রক্ষা করতে। যদিও বা অপরিকল্পিত সংস্কারের কারণে মসজিদটি রক্ষা পেলেও অনেকটা নিদর্শন হারিয়ে ফেলেছে।মসজিদটি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ইউসুফ আলী জানান, তার পূর্বপুরুষরাই মসজিদটি নির্মাণ করেন।   সে আমলে জনবসতি এবং জনসংখ্যা কম থাকায় ছোট পরিসরে নির্মিত হয় মসজিদটি। মাত্র ৮ থেকে ১০ জন মুসল্লি দুই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন। এখন চারপাশে গড়ে উঠেছে জনবসতি। সেই গভীর জঙ্গলের অস্তিত্ব নেই।তিনি জানান, মসজিদটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এখনো টিকে আছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার ফলে এটি প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। ২০১১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে সংস্কার করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করলে বাইরের নকশা এবং কারুকাজ ঠিক রাখা সম্ভব হতো। এতে মসজিদটি জৌলুস হারাতো না। পুরোনো নকশার আদলে নতুন করে ৪টি মিনার ও ১টি গম্বুজ নির্মাণ করলেও বর্তমানে ২টি মিনার ও ১টি গম্বুজ টিকে আছে।   স্থানীয় শিক্ষাবিদ মাহাতাব উদ্দীন বলেন, ‘কালের বিবর্তনে মসজিদের ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। আমরা শুনেছি, অতীতে এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। এখন পর্যটকেরা এসে আত্মতৃপ্তির জন্য নামাজ আদায় করেন। তবে দুই ঈদের জামাতের জন্য ব্যবহৃত হয়। অতীতের সেই জঙ্গলঘেরা নির্জন পরিবেশ আর নেই। ঈদগাহ মসজিদটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে।’২০১১ সালে সংস্কার কাজের মিস্ত্রি নুর আলম বলেন, ‘মসজিদটি ব্যবহারের উপযুক্ত ছিল না। মসজিদটির ওপরে বটগাছসহ জঙ্গলে ভরে গিয়েছিল। চুন, সুরকির পলেস্তারা খসে ইটগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। চেষ্টা করেছি পূর্বের নকশা অনুযায়ী সংস্কার করার। যদি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করা যেত, তাহলে উন্নতমানের প্রযুক্তি ও মেডিসিন ব্যবহার করে আগের অবস্থায় আনা যেতো।’

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
নান্দনিকতায় অনন্য মালঞ্চ মসজিদ
মালঞ্চ জামে মসজিদ: ঐতিহ্য ও নান্দনিকতার অনন্য নিদর্শন

জামালপুর : বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মুসলমানদের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর মধ্যে মসজিদ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এসব মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশৈলীর একেকটি অনন্য নিদর্শন। তেমনই এক দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ জামে মসজিদ। জেলা শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মসজিদটি তার সুউচ্চ মিনার, মনোরম নকশা এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশের কারণে ইতোমধ্যেই একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মুসল্লি ও দর্শনার্থী এখানে ভিড় জমাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৪০ সালে ধর্মপ্রাণ মুসলিম আব্দুল গফুর মণ্ডল সুরকি ও পাথর দিয়ে তিন গম্বুজবিশিষ্ট একটি ছোট মসজিদ নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে তার নাতি, শিল্পপতি হাসান মাহমুদ রাজা পারিবারিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও ইসলামের প্রতি ভালোবাসা থেকে মসজিদটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেন। তখন মসজিদটিকে তিন গম্বুজ থেকে সাত গম্বুজে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে মসজিদটি ১১ তলা বিশিষ্ট এক চমৎকার স্থাপনা—এর মধ্যে সাত তলা মূল মসজিদ ভবন এবং চার তলা সুউচ্চ মিনার রয়েছে। মোগল ও পারসিক স্থাপত্যরীতির সমন্বয়ে নির্মিত এই মসজিদের ভেতর ও বাহিরে সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং রঙিন টাইলসের ব্যবহার একে করেছে দৃষ্টিনন্দন। মসজিদের মূল ভবনে একসঙ্গে প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৪০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। রমজান মাসে এখানে নিয়মিত ইফতারের আয়োজন করা হয় এবং ঈদের নামাজও যথাযথ মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদের চারপাশে সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। সামনে রয়েছে একটি বড় দিঘি, যা মুসল্লিদের অজু ও গোসলের জন্য ব্যবহৃত হয়। ছুটির দিনগুলোতে এখানে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। মসজিদটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি এতিমখানা, নুরানি মাদরাসা, হাফেজিয়া মাদরাসা, একটি কামিল মাদরাসা এবং একটি দাতব্য চিকিৎসালয়। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আবাসিক ব্যবস্থা। জানা যায়, আব্দুল গফুর মণ্ডল ছিলেন এই অঞ্চলের একজন বিশিষ্ট ধর্মপ্রাণ ও জনহিতৈষী ব্যক্তি। তার নাতি হাসান মাহমুদ রাজাও একইভাবে দানশীলতার পরিচয় দিয়ে সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে মসজিদ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণ ও পরিচালনা করে আসছেন। সব মিলিয়ে, মালঞ্চ জামে মসজিদ শুধুমাত্র একটি ইবাদতের স্থান নয়—এটি স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্মীয় শিক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
তিন গম্বুজবিশিষ্ট বড় মসজিদ
চুয়াডাঙ্গার ২৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী তিন গম্বুজবিশিষ্ট বড় মসজিদ

ঐতিহাসিক নিদর্শন ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে পরিচিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট চুয়াডাঙ্গার বড় মসজিদ। স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর কাছে এটি গর্বের একটি নাম। প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো মসজিদটি স্থাপিত হয় ১২০৮ হিজরি, আনুমানিক ১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে। দীর্ঘ সময় ধরে এটি শুধু ইবাদতের স্থানই নয় বরং সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। মসজিদের মুসল্লিদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মসজিদটি এলাকায় ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশেও মসজিদটি তার ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে দাঁড়িয়ে আছে। ১৭৮৬ সালে কুসুম বিবি নামের এক মহীয়সী নারী ৭৩ শতক জমির ওপর নিজ অর্থায়নে মসজিদটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা শহরের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম মসজিদ। এ মসজিদ থেকেই চুয়াডাঙ্গায় প্রথম আজানের সুর ধ্বনিত হয়েছিল।           বর্তমানে মসজিদটিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও কিছু কিছু অংশে সংস্কারের প্রয়োজন আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মসজিদের নাম অনুসারেই মহল্লাটির নামকরণ হয়েছে মসজিদপাড়া। চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্র একাডেমি মোড় সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বড় মসজিদটি। শুরুর দিকে মসজিদের ভেতরে দুটি কাতার ও বারান্দায় একটি কাতারে নামাজ আদায় করা যেত। সেই সময় প্রায় ৭০ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারতেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটি সম্প্রসারণ করা হয়। ১৪৩৫ হিজরি ও ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে মূল অবকাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে মসজিদটির সংস্কার কাজ করা হয়। সংস্কারের মাধ্যমে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নামাজের জায়গা সম্প্রসারণ এবং নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়। ফলে বর্তমানে এটি আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি বৃহৎ জামে মসজিদ হিসেবে মুসল্লিদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বড় মসজিদ বা মিনার মসজিদ নামেও মসজিদটি পরিচিত। এর সুউচ্চ মিনার অনেক দূর থেকেই দেখা যায়। তবে বর্তমানে মসজিদের মিনারের তৃতীয় তলার বেলকনির অংশ ভেঙে গেছে। মসজিদের মিনারটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।মসজিদের পাশেই আছে একটি কবরস্থান। এই বড় মসজিদে রেলপাড়া, মসজিদপাড়া, একাডেমি মোড়, জোয়ার্দ্দার পাড়া, বাগানপাড়া, মাঝেরপাড়া, মল্লিকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে আসেন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি জুমার নামাজে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে। এ ছাড়া ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মিলাদ মাহফিল ও কোরআন তিলাওয়াতের আসরেও মসজিদ প্রাঙ্গণ মুখরিত থাকে।মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইবরুল হাসান জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা বড় মসজিদের ইতিহাসে কুসুম বিবির নাম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। এ মসজিদের জমির মূল মালিক ছিলেন পরোপকারী ও ধর্মপ্রাণ নারী কুসুম বিবি। তিনি ৭৩ শতক জমি আল্লাহর ঘর নির্মাণের জন্য দান করেন।’ প্রচলিত আছে, কুসুম বিবি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত রাখতেন। লোককথা অনুযায়ী, নিজের বাড়ি নির্মাণের সময় তিনি মাটির নিচে পাঁচ থেকে ছয় কলসি মোহর খুঁজে পান। বিপুল সম্পদ পেয়ে তিনি ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসে না গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরামর্শ করেন এ মোহর কী কাজে ব্যয় করা যায়। তখন এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ তাঁকে পরামর্শ দেন, এই অর্থ দিয়ে একটি মসজিদ নির্মাণ করলে তা হবে সদকায়ে জারিয়া, যার সওয়াব চিরকাল প্রবাহিত হবে। সেই পরামর্শ হৃদয়ে ধারণ করে কুসুম বিবি নিজের অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। শোনা যায়, সে সময় নির্মাণকাজে ডিমের কুসুম ও সুরকির মিশ্রণ ব্যবহার করে মসজিদের ভিত্তি ও দেওয়াল তৈরি করা হয়। যা সেই যুগের নির্মাণশৈলীর একটি অনন্য উদাহরণ। তাঁর আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও ধর্মীয় অনুরাগের ফলস্বরূপ নির্মিত হয় চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী বড় মসজিদ। প্রথমদিকে এ মসজিদে একসঙ্গে তিন কাতারে দাঁড়িয়ে প্রায় ৭০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। সময়ের পরিবর্তন ও মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটির পরিসর বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। পরে ২০০০ সালে মসজিদটি পুনরায় সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়। আধুনিকায়নের মাধ্যমে বর্তমানে এ মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ৭০০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ জামির হাসান জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি নির্মিত হয়। দীর্ঘ দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এটি এলাকাবাসীর ইবাদত বন্দেগি ও ধর্মীয় চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কুসুম বিবি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় মসজিদের জন্য জমি দান করেছিলেন। বর্তমানে মসজিদের নামে মোট ৭৩ শতক জমি আছে। বর্তমান সভাপতির পূর্বপুরুষরা ছিলেন এ মসজিদের প্রধান দাতা ও পৃষ্ঠপোষক। তাঁদের অবদান ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় মসজিদটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত টিকে আছে এবং ক্রমান্বয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে মুসল্লি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মসজিদটি সংস্কার করা হয়। সে সময় মসজিদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নামাজের স্থান সম্প্রসারণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে এখনো কিছু কাজ বাকি আছে, যেমন- মিনারের উন্নয়ন, অজুখানার আধুনিকায়ন ও সীমানা প্রাচীরের সংস্কার। ধীরে ধীরে মুসল্লি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে। ভবিষ্যতে মসজিদটিকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আছে।’মসজিদ কমিটির সাবেক সেক্রেটারি মোহাম্মদ রিপন মণ্ডল বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা বড় মসজিদ কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি একটি দীর্ঘ সামাজিক ও ঐতিহাসিক যাত্রার সাক্ষী। সময়ের পরিক্রমায় নানা পরিবর্তন, সংস্কার ও সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে এ মসজিদ। প্রাচীন স্থাপত্যধারা ও আধুনিক নির্মাণশৈলীর সমন্বয়ে এটি এলাকাবাসীর গর্বের প্রতীক। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ছিল অপেক্ষাকৃত ছোট পরিসরের ইবাদতখানা। যেখানে স্থানীয় মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন। ক্রমে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের বিস্তারের ফলে পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ, দান ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এর সম্প্রসারণ সম্পন্ন হয়।’ মসজিদের মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ শাহাবুদ্দীন বলেন, ‘আমি ২০১২ সাল থেকে এ মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এটি আমাদের এলাকার ইবাদত ও ধর্মীয় চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মসজিদটি প্রতিষ্ঠার পেছনে কুসুম বিবির অবদান অত্যন্ত মহৎ। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তিনি যে জমি দান করেছিলেন, তারই ফলস্বরূপ আজ আমরা এখানে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করতে পারছি।’মসজিদপাড়ার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব খলিলুর রহমান বলেন, ‘ছোটবেলায় এ মসজিদ প্রাঙ্গণেই অনেক খেলাধুলা করেছি। আমার ছেলেবেলার স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এ মসজিদ। আগে মসজিদটির নকশা ছিল টালির মতো সরল, কিন্তু এখন এটি আধুনিকতার ছোঁয়ায় সমৃদ্ধ হয়েছে। মসজিদটি মোগল আমলের মসজিদের আদলে নির্মিত। এর চুন-সুরকির গাঁথুনি সেই সময়ের নান্দনিক স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে। যেখানে সংস্কারের মাধ্যমে আগের সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। এভাবেই মসজিদটি যুগের পর যুগ টিকে থাকবে এবং নতুন প্রজন্ম এর ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
বরিশাল সরকারি মহিলা পলিটেকনিক : ৬ তলা ভবন নির্মাণে গুণগত মান নিশ্চিতে কড়া নজরদারি ও সময়সীমা নির্ধারণ

বরিশাল অফিস :  বরিশালে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের চলমান বৃহৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ৬ তলা প্রশাসনিক ভবন। আসন্ন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে ভবনটির কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সম্প্রতি ভবনটির চলমান নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।   গুণগত মান বনাম সময়সীমার চাপ পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন—প্রতিটি নির্মাণকাজ অবশ্যই অনুমোদিত নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। ভবনের অসম্পূর্ণ কাজ, ফিনিশিং, বৈদ্যুতিক সংযোগ, স্যানিটারি ব্যবস্থা, রং, দরজা-জানালা স্থাপন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের মতে, সময়মতো কাজ শেষ করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের টেকসই ও মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করা।     কঠোর মনিটরিংয়ের বার্তা পরিদর্শন শেষে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। কাজের মান খারাপ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তিনি বলেন, প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার জন্য একাধিক স্তরে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।   বরিশালে ৭০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল জেলায় বর্তমানে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। গত অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা। এছাড়া ১১টি বড় প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ এবং উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ চলছে। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প ইতোমধ্যে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।   জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক প্রকল্প বরিশালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের জন্য নির্মিত ১০ তলা ভবনের কাজও এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে দুটি ফ্লোরে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রকল্পের আওতায় সাতটি ভবনের মধ্যে তিনটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি চারটির কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে।   শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রত্যাশা স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের মতে, এসব অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বরিশালের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। জরাজীর্ণ ভবনের জায়গায় আধুনিক বহুতল ভবন তৈরি হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   বড় চিত্র: উন্নয়ন নাকি বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ? যদিও প্রকল্পের পরিমাণ ও অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক, তবে মাঠপর্যায়ে গুণগত মান বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। একাধিক স্তরের মনিটরিং ও কঠোর নির্দেশনার মধ্যেও বাস্তবায়ন তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বরিশালের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে চলমান এই বিশাল কর্মযজ্ঞ'র  মান এবং স্বচ্ছতা রয়েছে।। 

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
জন্ম থেকে দুই হাতের আঙুল নেই, তবু ডান পা দিয়ে লিখে এইচএসসি দিচ্ছেন রংপুরের কলি রানী

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গদাই গ্রামের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে দৃশ্যটি আলাদা করে চোখে পড়ে। সাধারণ পরীক্ষার্থীদের ভিড়ের মধ্যে এক শিক্ষার্থী ডান পা দিয়ে খাতায় লিখে পরীক্ষা দিচ্ছেন—নাম কলি রানী। জন্ম থেকেই দুই হাতের আঙুলবিহীন কলি শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বাধা হিসেবে নয়, বরং চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। এইচএসসি পরীক্ষার হলে অন্যদের মতোই স্বাভাবিকভাবে বসে তিনি ডান পা ব্যবহার করে উত্তর লিখছেন, যেন প্রতিটি অক্ষরই তার সংগ্রামের গল্প। কলি রানী কাউনিয়া উপজেলার গদাই গ্রামের মৃত মনোরঞ্জন রায়ের মেয়ে। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারানোর পর পরিবারে আর্থিক ও সামাজিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট এই মেয়েটি কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও থেমে থাকেননি। তার মা রূপালী রানী জানান, জন্মগত প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও কলি কখনো পড়ালেখা ছাড়েনি। বরং শৈশব থেকেই নিজের মতো করে পা দিয়ে লেখা শিখে ধীরে ধীরে একাডেমিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। স্থানীয় শিক্ষকদের মতে, কলির সবচেয়ে বড় শক্তি তার আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত অনুশীলন। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবার মৃত্যু তার জীবনে বড় ধাক্কা হলেও শিক্ষাজীবন থেমে যায়নি। শুধু পড়ালেখাই নয়, সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সক্রিয় কলি রানী। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে তিনি একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে ডান পা ব্যবহার করে মোবাইল ও কম্পিউটার পরিচালনাতেও দক্ষতা অর্জন করেছেন তিনি। কলি রানীর স্বপ্ন বিসিএস ক্যাডার হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া এবং মানুষের সেবা করা। তার ভাষায়, “শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না।” এর আগে পা দিয়ে লিখেই প্রাথমিক সমাপনী ও এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন তিনি। কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব রফিকুল ইসলাম জানান, নিয়ম অনুযায়ী তার জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা থাকলেও কলি নিজ ইচ্ছায় সাধারণ পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে ৩০২ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দেন। তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময়ও দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে সহপাঠীদের প্রতিক্রিয়ায় দেখা যায়, কলির উপস্থিতি শুধু সহানুভূতির নয়, বরং অনুপ্রেরণারও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
গোবিপ্রবি
শিক্ষাছুটির পরও ফেরেননি ১৬ শিক্ষক, অনিয়মের অভিযোগে আরও একজন বরখাস্ত: গোবিপ্রবির সিদ্ধান্তে প্রশ্ন ও বার্তা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং পৃথকভাবে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ১৭ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোববার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশ অনুযায়ী, বিদেশে শিক্ষাছুটিতে থাকা শিক্ষকদের একাধিকবার লিখিতভাবে কর্মস্থলে ফিরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হলেও ১৬ শিক্ষক সেই আহ্বানে সাড়া দেননি। প্রশাসনের ভাষ্য, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে তাদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম ও আশরাফুল হোসেন হাওলাদার, সহকারী অধ্যাপক পান্থ প্রতিম সরকার, প্রভাষক মো. আহসানউল্লাহ, মো. খায়রুল বাশার ও উপমা দাস; পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাকলী খাতুন; কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ময়মুনা বেগম কলি; রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেবব্রত পাল; আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ রহমান; লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান; ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিয়া নাহিয়ান জুলফিকার; সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক অধরা তাহসিন; অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিন; ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. উজ্জল হুসাইন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাবিয়া খাতুন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে নির্দেশ দিয়েছে, শিক্ষাছুটিকালীন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রহণ করা সব আর্থিক সুবিধা ও অর্থ প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ফেরত দিতে হবে। পৃথক তদন্তে আরও একজন শিক্ষক বরখাস্ত একই দিনে প্রকাশিত আরেকটি অফিস আদেশে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন, নৈতিক স্খলন এবং পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তার চাকরিচ্যুতি ২৩ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে গঠিত সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন এবং শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ পর্যালোচনা করে রিজেন্ট বোর্ড অভিযোগগুলোকে "সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত" বলে মত দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিলে তার বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, শিক্ষা ছুটি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের তারিখ, থিসিস ডিফেন্স-সংক্রান্ত সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, এসব নথি জমা দেওয়ার জন্য একাধিকবার লিখিতভাবে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। তদন্তে যে বার্তা একই বৈঠকে ১৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও বিদেশে উচ্চশিক্ষায় পাঠানো শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযোজন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রহণ করা আর্থিক সুবিধা বিধি অনুযায়ী ফেরত দেওয়ার নির্দেশও বহাল রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
প্রাথমিক শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করতে কাজ করছে সরকার, বাজেটে রাখা হয়েছে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রস্তুতি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি—বেতন গ্রেড উন্নীতকরণ। সেই দাবিকে সামনে রেখে এবার জাতীয় সংসদে নতুন করে আশ্বাস দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৩তম গ্রেডে থাকা শিক্ষকদের সরাসরি ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে এবং সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয় মোকাবিলায় প্রস্তাবিত বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দও রাখা হয়েছে। তবে এই ঘোষণা এখনই কোনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত নয়। সংসদে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি এখনও নীতিগত আলোচনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার পর্যায়ে রয়েছে। সংসদে কী বললেন প্রতিমন্ত্রী? রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মওলানা নুরুল আমিন প্রাথমিক শিক্ষকদের বর্তমান ১৩তম গ্রেড থেকে অন্তত ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি উত্থাপন করেন। এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু ১০ম গ্রেড নয়, শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে। বাজেটে কী রয়েছে? প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাবদ ২০ হাজার ৪২৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা হলে অতিরিক্ত প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। সেই সম্ভাব্য ব্যয় বিবেচনায় রেখেই বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, সরকার সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব মূল্যায়ন করে আগাম পরিকল্পনা করছে। তবে বাজেটে অর্থের সংস্থান রাখা হলেও গ্রেড উন্নীতকরণ কার্যকর করতে আলাদা প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘোষণা? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, তাদের দায়িত্ব, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগ কাঠামোর সঙ্গে বর্তমান বেতন গ্রেডের সামঞ্জস্য নেই। বিশেষ করে সরকারি চাকরির অন্যান্য সমপর্যায়ের পদের সঙ্গে বেতন বৈষম্যের বিষয়টি শিক্ষক সংগঠনগুলো নিয়মিতভাবে তুলে ধরছে। ফলে ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার সম্ভাব্য উদ্যোগ শিক্ষকদের জন্য আর্থিক ও পেশাগত—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এখন কী অপেক্ষা? প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের ইঙ্গিত মিললেও এখনও— ৯ম গ্রেড কার্যকরের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা হয়নি। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান বেতন কাঠামো বহাল থাকবে। অর্থাৎ, সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে নীতিগত অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা গেলেও এটি এখনো বাস্তবায়িত সিদ্ধান্ত নয়। শিক্ষা খাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা খাতকে আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। আগামী পাঁচ বছর একই ধারায় সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মূল তথ্য এক নজরে প্রাথমিক শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। বর্তমানে শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষকদের বেতনের জন্য বরাদ্দ ২০,৪২৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ৯ম গ্রেড কার্যকর হলে অতিরিক্ত প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। বিষয়টি এখনও নীতিগত আলোচনা পর্যায়ে; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0
মনিরের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ
ঢাকা কলেজের কর্মচারী মনিরের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

ঢাকা কলেজের কর্মচারী মনিরের বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পদ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা কলেজের একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র, অভিযোগকারী এবং এলাকাবাসীর দাবি—দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করে তিনি নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি এবং মনিরুজ্জামান মনিরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। পরিচয়ের আড়ালে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ঢাকা কলেজে কর্মরত থাকলেও বিভিন্ন সময়ে মনির নিজেকে সাংবাদিক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা কিংবা শিক্ষা অফিসের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করতেন। শিক্ষা বিভাগের ভেতরেও তাকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট ও সম্পদের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কালশী এলাকায় একটি বহুতল ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে মনিরের। এছাড়া মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১,৭৮০ বর্গফুট আয়তনের একটি অভিজাত ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর সরকারি বেতনের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস ও বৈধতা যাচাইয়ে সরকারি তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ব্যাংকে কোটি টাকার আমানতের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকে মনিরের প্রথম স্ত্রী রিমান নামে কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র, এফডিআর এবং ব্যাংক আমানত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং অস্বচ্ছ লেনদেনের মাধ্যমে এসব অর্থের উৎস তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিংবা মনিরের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চুয়াডাঙ্গায় ‘সম্পদের সাম্রাজ্য’ নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গাতেও মনিরের বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শহরের মুসলিমপাড়ায় প্রায় ১৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি বাগানবাড়ি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এছাড়া শহরের লিনার মোড় এলাকায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পত্তির মালিকানা থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, চুয়াডাঙ্গা শহরে দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে একটি চারতলা ভবনও নির্মাণ করেছেন তিনি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—সরকারি চাকরিজীবীর সীমিত আয়ে এত বিপুল সম্পদ অর্জন কীভাবে সম্ভব? ভয়ভীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ মনিরের বিরুদ্ধে শুধু সম্পদ অর্জনের অভিযোগই নয়, রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষা বিভাগের ভেতরে তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত বিরোধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের মতো ঘটনাতেও তার নাম এসেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, এক ভ্যানচালকের স্ত্রীকে জোরপূর্বক নিজের কাছে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে ওই ভ্যানচালককে মারধরের অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। এছাড়াও নারী কেলেঙ্কারি, অনৈতিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে। তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর মনিরুজ্জামান মনিরের সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব, জমি, ফ্ল্যাটের মালিকানা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “একজন সাধারণ কর্মচারীর পক্ষে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া অস্বাভাবিক। তাই তার সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা জরুরি।” তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত মনিরুজ্জামান মনিরের ব্যক্তিগত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
রাবিপ্রবির ১৬৪ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
রাবিপ্রবির ১৬৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ, কেন্দ্রে সাবেক পিডি আবদুল গফুর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং প্রকল্পের সাবেক পরিচালক (পিডি) আবদুল গফুর। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, অতিমূল্যে ফার্নিচার ক্রয়, দ্বৈত টিএ/ডিএ বিল উত্তোলন, কমিশন বাণিজ্য, অবৈধ অগ্রিম উত্তোলন এবং সরকারি অর্থে ব্যক্তিগত বাসার আসবাব কেনাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যেভাবে শুরু হয় প্রকল্প “রাবিপ্রবি স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)” প্রকল্পের আওতায় একটি একাডেমিক ভবন, একটি প্রশাসনিক ভবন এবং ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক দুটি তিনতলা আবাসিক হল নির্মাণকাজ চলছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান আবদুল গফুর। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতে থাকে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা। ফার্নিচার ক্রয়ে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয় প্রকল্পের ব্যয় সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফার্নিচার কেনার ক্ষেত্রে বাজারদরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মূল্য দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ খাতে অন্তত ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে একটি টেবিলের প্রকৃত মূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা হলেও বিল ভাউচারে সেটির দাম দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একই ধরনের আসবাবপত্র স্থানীয় বাজারে যে দামে পাওয়া যায়, প্রকল্পে তার দ্বিগুণ-তিনগুণ মূল্য দেখানো হয়েছে।” টিএ/ডিএ বিলেও অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টিএ/ডিএ বিল গ্রহণের পরও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সফরের নামে দ্বিতীয়বার অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। নথিপত্রে দেখা যায়, এভাবে প্রায় ৭ লাখ ১১ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, একই সফরের জন্য একাধিক খাত দেখিয়ে বিল সমন্বয় করা হয়েছে। টেন্ডারে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ চারটি ভবনের নির্মাণ টেন্ডার অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে এক শতাংশ হারে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এভাবে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। কয়েকজন ঠিকাদার এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক নির্মাণের নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৩৭ লাখ টাকা উত্তোলন এবং পরিকল্পিত বনায়নের নামে ছবি উপস্থাপন করে আরও ৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা উত্তোলনের তথ্যও মিলেছে। সরকারি অর্থে ব্যক্তিগত বাসার আসবাব? আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করে নিজের বাসার জন্য আসবাবপত্র কেনা। অভিযোগে বলা হয়েছে, জয়নাল নামে এক ঠিকাদারের মাধ্যমে তার বাসার জন্য আলমিরা, ফাইল কেবিনেট, চেয়ার-টেবিল এবং খাটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কেনা হয়। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো রসিদ বা সরবরাহ নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অগ্রিম উত্তোলনে অনিয়ম প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে বড় অঙ্কের অগ্রিম টাকা উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে, যদিও প্রকল্প নীতিমালায় এ ধরনের অগ্রিম গ্রহণের বিধান নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী— মার্শাল চাকমার নামে উত্তোলন করা হয় ১৪ লাখ ৭ হাজার ৩২৮ টাকা নিশান চাকমার নামে ১২ লাখ ৯ হাজার টাকা সেকশন অফিসার আবদুল হকের নামে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫০ টাকা মঞ্জুরুল ইসলামের নামে ১৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৮ টাকা এছাড়া আবদুল গফুর নিজের নামেও ১৯ লাখ ৬৮ হাজার ৫২২ টাকা উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি নথিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি বলেও জানা গেছে। নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন ২০১৭ সালে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন আবদুল গফুর। তার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সাবেক কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, বয়সসীমা অতিক্রম এবং নন-টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা সত্ত্বেও তিনি ওই পদে নিয়োগ পান। এছাড়া তার শিক্ষাজীবনে দুটি তৃতীয় বিভাগ ছিল এবং এর আগে কোনো সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতাও ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, তৎকালীন রেজিস্ট্রার অঞ্জন কুমার চাকমার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ? অভিযোগ রয়েছে, এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) রিপোর্ট এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পাহাড় কাটার অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় আসামিও হন আবদুল গফুর। সাময়িক বরখাস্ত ও পাল্টা অভিযোগ চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় আবদুল গফুরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত আদেশে তার বিরুদ্ধে আইসিটি-সংক্রান্ত অপরাধ, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়। বরখাস্তের পরদিনই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) চিঠি দিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগে দলীয় প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। ওই চিঠিতে তিনি নিজেকে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বরখাস্ত আদেশ স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করলেও আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। উপাচার্যের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আতিয়ার রহমান বলেন, “রাবিপ্রবি স্থাপন প্রকল্পে পদে পদে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আবদুল গফুরকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সতর্ক না হয়ে বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করেন।” তিনি আরও বলেন, “বহিষ্কারের পরও আবদুল গফুর ব্যাংক থেকে প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেছিলেন। এ কারণে নতুন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবদুল গফুরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন, টেন্ডার অনুমোদন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্পষ্ট হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
বেনাপোলে এক দশকেও চালু হয়নি ৪ কোটি টাকার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
বেনাপোলে ৪ কোটি টাকার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এক দশকেও চালু হয়নি, চিকিৎসাবঞ্চিত হাজারো মানুষ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের তালশারি এলাকায় প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি এক দশক পার করেও কার্যক্রমে আসেনি। ফলে দেশের অন্যতম ব্যস্ত স্থলবন্দর এলাকার হাজারো শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের প্রধান স্থলবন্দরগুলোর একটি। এখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক পণ্য লোড-আনলোডসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকেন। কিন্তু দুর্ঘটনা বা জরুরি স্বাস্থ্য সংকটে তাদের ভরসা নাভারন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যা ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। গুরুতর রোগী বা প্রসূতি মায়েদের অবস্থা জটিল হলে তাদের প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের যশোর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি হাসপাতালে নেওয়ার পথে এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্র অব্যবহৃত পড়ে থাকায় এটি এখন “রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার প্রতীক” হয়ে উঠেছে। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে একজন উপজেলা সহকারী মেডিকেল অফিসার, একজন পিডব্লিউবি কর্মী এবং একজন ফিল্ড অফিসারসহ মোট আটজন কর্মরত রয়েছেন। তবে তাদের কাজ মূলত মাঠপর্যায়ে মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সীমাবদ্ধ। চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম এখনো চালু হয়নি। ফিল্ড অফিসার আবু বকর জানান, গত দুই বছর ধরে কেন্দ্রটির জন্য কোনো বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। পূর্বের সীমিত বরাদ্দ দিয়েও প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম বা আসবাবপত্র সংগ্রহ সম্ভব হয়নি। ফলে কার্যত কেন্দ্রটি নামমাত্র কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন ও মানিক মিয়াসহ সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, শুধু ১০ শয্যার কেন্দ্র চালু করাই যথেষ্ট নয়। তাদের দাবি, এটি দ্রুত ১০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে উন্নীত করা প্রয়োজন। তাদের আরও অভিযোগ, সাবেক সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন একটি জায়গায় ট্রাক টার্মিনাল থাকায় হাসপাতালের জায়গা সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ওই জমি অধিগ্রহণ করে স্বাস্থ্যসেবার পরিসর বাড়ানো গেলে বেনাপোল ও আশপাশের এলাকার মানুষ উন্নত চিকিৎসা পেতে পারে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক ধরে সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনটি অব্যবহৃত পড়ে থাকায় রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ঘটছে। একই সঙ্গে বন্দর এলাকায় জরুরি চিকিৎসা না থাকায় শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এখন স্থানীয়দের একটাই দাবি—অচল পড়ে থাকা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক এবং বেনাপোলে একটি ১০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলা হোক।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
পটুয়াখালী মেডিকেল হাসপাতাল
পটুয়াখালী মেডিকেল হাসপাতালে ৭৬ কোটি টাকার টেন্ডারে ফের অনিয়মের অভিযোগ

শীর্ষনিউজ: আওয়ামী আমলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেনাকাটায় কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। সে সময়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাইন্স হাউজের বিরুদ্ধে হাসপাতালের ১০৫ কোটি টাকার কেনাকাটায় ব্যাপক দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। তারপরও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৭৬ কোটি টাকার আরেকটি কাজ এই প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার ছক সাজিয়েছিল একই দুর্নীতিবাজ চক্র। তবে কারসাজি করে সাইন্স হাউজকে কাজ দেওয়া হচ্ছেÑ এমন তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর সেই দরপত্র বাতিল করা হয়। একই লটে ৭০৩ ধরনের পণ্য বিএনপি আমলে এবার বাতিল হওয়া সেই দরপত্রের একই কারসাজিতে আবারও নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ক্রয় তালিকায় একই লটে অস্ত্রোপচার যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে টেলিভিশন, ঘড়িসহ ৭০৩ ধরনের পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার (পিপিআর) পরিপন্থি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এই বিষয়ে প্রথমবার দরপত্র আহবান করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণির পণ্য একত্রে রাখার কারণে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। একাধিক প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগে নিম্নমানের স্পেসিফিকেশন, নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও মডেল উল্লেখ, মাত্র দুই বছরের ওয়ারেন্টি এবং উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের বদলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণযোগ্য করার মতো শর্তের কথা বলা হয়। এই পটভূমিতে তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর দরপত্রটি বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ নতুন আহ্বান করা দরপত্রে আগের একই ধরনের শর্ত বহাল রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত মাসের ৬ এপ্রিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল। এতে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। দরপত্রে নেই গুণগত মান, গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি সম্পর্কিত সুস্পষ্ট শর্ত দরপত্রের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একই লটে তালিকায় সিসিইউ বেড, কার্ডিয়াক মনিটর, হিমোডায়ালাইসিস মেশিন, অ্যানেসথেশিয়া যন্ত্র, এক্স-রে ইউনিটের পাশাপাশি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, জেনারেটর, এমনকি টেলিভিশন ও ঘড়িও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এত বৈচিত্র্যময় পণ্য এক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে কোনো একক প্রতিষ্ঠান সব সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারে না। এতে প্রকৃত প্রতিযোগিতা কমে গিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া দরপত্রে অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে গুণগত মান, গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি সম্পর্কিত সুস্পষ্ট শর্ত নেই। ভারী ও সংবেদনশীল চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে যেখানে সাধারণত পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি চাওয়া হয়, সেখানে নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র দুই বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি সম্পর্কিত সুস্পষ্ট শর্ত না থাকলে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, সরবরাহ ও স্থাপনের পরপরই ওয়ারেন্টি কার্যকর হওয়ায় দক্ষ জনবল না থাকলে অনেক যন্ত্র ব্যবহার না করেই ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে, যা সরকারি অর্থের অপচয়। অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, দরপত্রে কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড, মডেল, উৎপত্তিস্থল ও কোড উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অন্যান্য যোগ্য সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত হয়। দেশের অন্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে যেখানে পরীক্ষিত উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে, সেখানে কম পরিচিত ব্র্যান্ডের প্রতি ঝোঁক কেন, তা স্পষ্ট নয়। ‘পিপিআর’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ হাসপাতালের কারিগরি কমিটির দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির অদক্ষতা বা সীমাবদ্ধতার কারণে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কেনার পথ সুগম হয়েছে। ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেইন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের সহকারী প্রকৌশলী মাইনুর শুভ বলেন, এক লটে ৭০৩ ধরনের পণ্য কেনা পিপিআরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাতিল হওয়ার পর নতুন করে বিধি মেনে দরপত্র আহ্বান করা উচিত। এর আগে ব্লাড ব্যাংক ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি কেনায় প্রায় ৯৬ কোটি টাকার ৯টি দরপত্র আহবান করা হয়। সব কাজ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হলে পরে অভিযোগ ওঠে, নিম্নমানের পণ্যে বিদেশি ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের দরপত্র প্রক্রিয়া উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়। এতে ভবিষ্যতে নিরীক্ষা আপত্তি ও দুর্নীতির মামলার ঝুঁকি রয়েছে। তাদের পরামর্শ, প্রয়োজনভিত্তিক আলাদা লটে বিভাজন করে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করা না হলে সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন হবে। প্রকল্প পরিচালক এস এম কবির হোসেন বলেন, দরপত্র আহবান করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে। বাতিল হওয়া দরপত্রের শর্তেই কেন নতুন দরপত্র আহ্বান করা হলো- জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।   হাসপাতালটিকে জিম্মি করে রেখেছে আওয়ামী দুর্নীতিবাজ চক্র পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পে আওয়ামী সরকারের আমলে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলের শেষ দিকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে এ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমে। ৯টি প্যাকেজে প্রায় ১০৫ কোটি টাকার কেনাকাটা হয়। নানা রকমের অনিয়ম ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ৯টি প্যাকেজেরই কার্যাদেশ দেওয়া হয় বহুল আলোচিত, চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী ঠিকাদার বাংলাদেশ সায়েন্স হাউজকে। কিন্তু দুই বছর আগে বিল পরিশোধ করলেও সেইসব মালামাল এখনো পুরোপুরি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে, তাতে ইউরোপ-আমেরিকার স্টিকার ও সিল ব্যবহার করেছে। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই একই ঠিকাদারকে আবারও ৭৬ কোটি টাকার কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছিল। টেন্ডারের শুরুতেই ভয়াবহ রকমের অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়। পিপিআর-এর গুরুত্বপূর্ণ ধারা এক্ষেত্রে চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়। টেন্ডারের এসব গুরুতর অনিয়মকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ দেওয়া হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত নির্দেশও দেওয়া হয় মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু তারপরও দুর্নীতিবাজচক্রের তৎপরতা থামেনি। এর কারণ হলো, তদন্তের পরে টেন্ডার বাতিল হলেও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনোই ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। প্রত্যেকেই বহাল-তবিয়তে রয়ে গেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বানারীপাড়া, বরিশাল
বানারীপাড়ায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্লিনিক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ

বরিশাল অফিস :    বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. মুস্তফা লুৎফুল আজিজের বিরুদ্ধে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের সঙ্গে সরাসরি আর্থিক সংশ্লিষ্টতা এবং সরকারি হাসপাতালের রোগীদের সেখানে পাঠিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ‘হামিদ মেমোরিয়াল’ নামে একটি ক্লিনিকে ডা. মুস্তফার প্রায় ৩০ শতাংশ অংশীদারত্ব রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তিনি রোগীদের সেখানে না রেখে ওই বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে উৎসাহিত করেন—বিশেষ করে অপারেশন-সংক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে। রোগী রেফার নিয়ে অভিযোগ হাসপাতালের ভেতরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সরকারি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার সচল থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বোঝানো হয় সেখানে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে যান। স্থানীয়দের ভাষ্য, “সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থাকলেও নানা অজুহাতে রোগীদের বাইরে পাঠানো হচ্ছে।” দীর্ঘদিনের সংশ্লিষ্টতার দাবি তদন্তে জানা গেছে, ২০০৮ সালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন ডা. মুস্তফা এবং দীর্ঘ সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন। ওই সময়েই হাসপাতালের পাশেই প্রতিষ্ঠিত হয় হামিদ মেমোরিয়াল ক্লিনিক, যেখানে শুরু থেকেই তিনি শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, স্থানীয়দের দাবি—ক্লিনিকটির মূল মালিকানা একসময় অর্পন হাওলাদার ও তার পরিবারের হাতে থাকলেও পরবর্তীতে শেয়ার বিক্রির সুযোগে ডা. মুস্তফা এবং আরেক চিকিৎসক ডা. হাফিজুর রহমান শাকিল বড় অংশ কিনে নেন। পূর্ববর্তী প্রশাসনের সঙ্গে তুলনা হাসপাতালের একাধিক কর্মীর মতে, ২০২০ সালের দিকে তৎকালীন ইউএইচও ডা. এসএম কবির হোসেন অধিকাংশ অপারেশন সরকারি হাসপাতালেই সম্পন্ন করতেন। তার সময়ে প্রায় ২,২০০টি অপারেশন সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ডা. মুস্তফা দায়িত্বে থাকাকালে হাসপাতালের অপারেশন কার্যক্রম কমে যায় এবং রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এ নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল এবং এক পর্যায়ে তাকে বদলির সুপারিশ করা হয়। পুনরায় যোগদানের পর অভিযোগ ২০২৩ সালে পদোন্নতির পর ডা. কবির হোসেন অন্যত্র বদলি হন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পুনরায় বানারীপাড়ায় ইউএইচও হিসেবে যোগ দেন ডা. মুস্তফা। এরপর থেকেই আবারও একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসে—তিনি তার সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকে অপারেশন কার্যক্রম জোরদার করেছেন। ব্যক্তিগত পর্যায়ের কিছু সূত্রের দাবি, ক্লিনিকটির ব্যবসায়িক তদারকি এবং লভ্যাংশ সংগ্রহেও তিনি সরাসরি জড়িত। স্বীকারোক্তি ও অস্বীকার স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের কাছে ডা. মুস্তফা ক্লিনিকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হলেও, গণমাধ্যমে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, “আমার কোনো ক্লিনিকের মালিকানা নেই, এমনকি আমার কোনো স্বজনও সেখানে জড়িত নন।” তবে একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে তাকে ক্লিনিকের সঙ্গে শেয়ারভিত্তিক সম্পৃক্ততার কথা বলতে শোনা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে সরকারি চাকরির পাশাপাশি ক্লিনিক ব্যবসা করা সম্ভব। আইন ও নীতিমালার প্রশ্ন বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ব্যবসায় জড়িত থাকতে পারেন না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া এ বিষয়ে বরিশাল জেলার সিভিল সার্জন ডা. এসএম মঞ্জুর এ এলাহী বলেন, “সরকারি হাসপাতালে কর্মরত কোনো চিকিৎসক বেসরকারি ক্লিনিকের ব্যবসায় জড়িত থাকতে পারেন না। এমন অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সাধারণ মানুষের ভোগান্তি স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। সরকারি হাসপাতালে সেবা না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হচ্ছে, এবং তদারকি ব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি রয়ে গেছে। এই অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
ডা. ডি. বি পাল
বরিশালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. ডি. বি পাল : জটিল অপারেশন থেকে দৃষ্টিশক্তি ফেরানোর গল্প

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল :   বরিশালের ব্যস্ত সদর রোডে প্রতিদিন বিকেলের পর থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে একটি চেম্বারের সামনে। অপেক্ষায় থাকা মানুষদের চোখে এক ধরনের অদৃশ্য আশ্বাস—দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা। এই আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. ডি. বি পাল। দীর্ঘ পেশাজীবনে তিনি শুধু একজন চিকিৎসক নন, বরং বরিশাল অঞ্চলে চক্ষু চিকিৎসার এক নির্ভরযোগ্য নাম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন তার পেশাগত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। সহকর্মীরা বলছেন, প্রশাসনিক দক্ষতা ও ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত—দুই ক্ষেত্রেই তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার পরিধি চিকিৎসা শিক্ষায় এমবিবিএস, ডিও এবং এমএস (চক্ষু) ডিগ্রির পাশাপাশি উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতা তাকে আধুনিক চক্ষুবিজ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সাহায্য করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছানি (ক্যাটারাক্ট), গ্লুকোমা, চোখের সংক্রমণ এবং জটিল দৃষ্টিশক্তি সমস্যার ক্ষেত্রে তার নির্ণয় ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে নিখুঁত। ফ্যাকো সার্জারির মতো আধুনিক পদ্ধতিতে তার দক্ষতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।  রোগীদের অনেকেই জানিয়েছেন, জটিল বলে ফিরিয়ে দেওয়া কেসেও তিনি চিকিৎসার সম্ভাবনা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। রোগীদের অভিজ্ঞতা: আস্থার পেছনের গল্প চেম্বারের বাইরে অপেক্ষমাণ এক রোগীর ভাষায়, “ডা. ডি. বি পালের কাছে গেলে তিনি সময় নিয়ে কথা শোনেন। শুধু প্রেসক্রিপশন দেন না, বুঝিয়েও দেন।” এই ‘সময় দেওয়ার’ বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে রোগীদের অভিজ্ঞতায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে যেখানে সময়ের চাপ একটি বড় বাস্তবতা, সেখানে তার এই পদ্ধতি তাকে আলাদা করেছে বলে মনে করেন অনেকে। একটি আলো ফিরে পাওয়ার গল্প  আলোচিত একটি ঘটনার কথা — সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহর দু চোখে ছানি পড়ে।কোন ডাক্তার সাহস করেনি ছানি অপারেশনের । ডা.ডি.বি পাল অত্যান্ত সাহসিকতার সাথে দুটো চোখের ছানি অপারেশন করেন। ফলে যেই মাসুম বিল্লাহ দীর্ঘদিন পৃথিবীর আলো বহু বছর দেখেনি সেই মাসুম বিল্লাহ ফিরে পায় চোখের আলো। দেখতে পেয়েছিল পৃথিবী। পৃথিবীর আলো দেখতে দেখতে তিনি ইন্তেকাল করেন।  সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অপারেশনটি ছিল জটিল এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সফল অস্ত্রোপচারের পর মাসুম বিল্লাহ আবারও দেখতে সক্ষম হন। তার ঘনিষ্ঠদের মতে, “বহু বছর পর তিনি আবার পৃথিবী দেখেছিলেন। জীবনের শেষ সময়টুকু তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছিলেন—যা তার পরিবারের কাছে এক বড় স্বস্তি হয়ে থাকে। এ ভাবে অনেকেই মাসুম বিল্লাহর মত চোখের আলোতে পৃথিবী দেখার জন্য আজও নিরলস ভাবে মানুষের চোখের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ডা. ডি.বি পাল।  চিকিৎসার পরিধি ও বর্তমান কার্যক্রম বর্তমানে বরিশালের দুটি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত রোগী দেখছেন তিনি—সদর রোডের ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং পলিটেকনিক রোডের বিশেষায়িত এশিয়ান আই কেয়ারে । প্রতিদিন সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তার চেম্বারে রোগী দেখার নির্ধারিত সময়, শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিন তিনি সেবা দিয়ে থাকেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে তার ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও পদ্ধতি সম্পর্কে সহকর্মীরা বলছেন, তিনি নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণে আগ্রহী এবং নিজেকে নিয়মিত আপডেট রাখেন। মানবিকতা বনাম পেশাদারিত্ব চিকিৎসা দক্ষতার পাশাপাশি তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও আলোচনায় আসে। রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের ধরন—সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা, ধৈর্য নিয়ে শোনা—এসব বিষয় তাকে অনেকের কাছে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ করে তুলেছে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই ধরনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক আস্থা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি বৃহত্তর বাস্তবতাও তুলে ধরে—যেখানে মানসম্মত চিকিৎসা সেবার অভাব অনেক সময় নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসকের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট বাংলাদেশে চক্ষু চিকিৎসার ক্ষেত্রে এখনও গ্রাম ও শহরের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। বরিশালের মতো অঞ্চলে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রেক্ষাপটে ডা. ডি. বি পালের কাজকে অনেকেই একটি বৃহত্তর স্বাস্থ্য বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখছেন—যেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও দক্ষতা অনেক সময় প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতাকে আংশিকভাবে পূরণ করে। বরিশালের এই চক্ষু বিশেষজ্ঞের চেম্বারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর জন্য তিনি কেবল একজন ডাক্তার নন—বরং দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনার একটি প্রতীক। আর সেই প্রতীকের পেছনে রয়েছে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, এবং এক ধরনের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা—যা প্রতিদিন সন্ধ্যায় আবারও নতুন করে পরীক্ষা দিতে বসে। ডা. ডি. বি পালের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি রোগীদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কথা বলেন, তাদের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সহজভাবে চিকিৎসা ব্যাখ্যা করেন। এই গুণাবলিই তাকে শুধু একজন দক্ষ চিকিৎসক নয়, বরং একজন সহানুভূতিশীল মানুষ হিসেবেও আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। চক্ষু চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডা. ডি. বি পালের অবদান বরিশালের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার অভিজ্ঞতা, জ্ঞান এবং নিষ্ঠা মানুষের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
শেবাচিম হাসপাতাল
বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট: ৫৭১ পদের মধ্যে ২৪০ শূন্য, সেবায় ভোগান্তি

বরিশাল অফিস :    দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে তীব্র চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে। অনুমোদিত পদের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ চিকিৎসকের মোট ৫৭১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে ২৪০টি পদ বর্তমানে শূন্য, অর্থাৎ প্রায় ৪২ শতাংশ পদে কোনো চিকিৎসক নেই। বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩৩১ জন চিকিৎসক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট সবচেয়ে প্রকট। অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক—এই তিন শ্রেণিতে মোট ২৪৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১০২ জন। ফলে প্রায় ৫৮.৯ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। অধ্যাপক: ৫১টির মধ্যে ১৩ জন কর্মরত, ৩৮টি পদ শূন্য সহযোগী অধ্যাপক: ৭৪টির মধ্যে ৩৮ জন কর্মরত, ৩৬টি পদ শূন্য সহকারী অধ্যাপক: ১২৩টির মধ্যে ৫১ জন কর্মরত, ৭২টি পদ শূন্য   সাধারণ চিকিৎসক পদেও সংকট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বাইরে সাধারণ চিকিৎসকের ৩২৩টি পদের মধ্যে ৯৪টি পদ শূন্য, যা প্রায় ২৯.১ শতাংশ। বিভিন্ন পদে শূন্যপদের চিত্র আরও উদ্বেগজনক: সহকারী রেজিস্ট্রার: ৯৬টির মধ্যে ৩০টি শূন্য সহকারী সার্জন: ২২টির মধ্যে ১৪টি শূন্য ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার: ১০টির মধ্যে ৬টি শূন্য ডেন্টাল সার্জন: ১৩টির মধ্যে ৯টি শূন্য এছাড়াও রেজিস্ট্রার, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, রেডিওলজিস্টসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল ঘাটতি রয়েছে।   রোগীর চাপ দ্বিগুণ কাগজে-কলমে ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন আন্তঃবিভাগে প্রায় ২ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। পাশাপাশি বহির্বিভাগে আরও প্রায় ২ হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। এত বিপুল রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক কখনোই অনুমোদন পায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।   রোগী ও চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা রোগী তরিকুল ইসলাম ইয়াদ বলেন, “বহির্বিভাগে চিকিৎসক দেখাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। চিকিৎসক সংকটের কারণে ভর্তি রোগীরাও পূর্ণ সেবা পাচ্ছেন না।” হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানান, চিকিৎসক কম থাকায় রোগীদের যথেষ্ট সময় দেওয়া সম্ভব হয় না, যা চিকিৎসার মানকে প্রভাবিত করছে।   দ্রুত সমাধানের দাবি বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা এই হাসপাতাল। দ্রুত চিকিৎসক সংকট দূর না হলে রোগীরা কখনোই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে না।”   কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর বলেন, সংকটের মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। শূন্য পদে নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ডা. মানবেন্দ্র সরকার
ক্ষমতার ছায়ায় টিকে থাকা তত্ত্বাবধায়ক: হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতালে অনিয়ম, প্রভাব ও ভয়ের সংস্কৃতি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল নগরীর একসময়ের আস্থার প্রতীক হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতাল এখন যেন ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা.মানবেন্দ্র সরকার—যিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. মানবেন্দ্র সরকার। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করার পরও তিনি এখনো দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করা হলেও ডা. মানবেন্দ্র সরকারের বর্তমান বয়স ৭৪ বছর বলে জানা যায়। বয়সসীমা পেরিয়েও দায়িত্বে বহাল হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বরের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬২ বছর এবং কর্মচারীদের জন্য তা ৬৫ বছর নির্ধারণ করা হয়। অথচ বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. মানবেন্দ্র সরকারের বয়স ৭৪ বছর—যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে অন্তত ৯ বছর বেশি। নিয়ম অনুযায়ী বহু আগেই তার দায়িত্ব ছাড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশের মাধ্যমে তিনি তার চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছেন। এমনকি ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর তিনি নিজেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় একই পদে বহাল হন। রাজনৈতিক ভারসাম্যের কৌশল ডা. মানবেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো—তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সময়োপযোগী সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেন। আওয়ামী লীগ আমলে স্বাচিপ নেতা হিসেবে পরিচিত থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।উল্লেখ্য যে ‘এই হাসপাতালে তার চাকরি হয়েছিলো আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সুপারিশে। ২০২৩ সালে ২০ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব থেকে নিজেই অব্যহতি নিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পর খোকন সেরনিবায়াত ও এমপি শাহজাহান ওমরের সুপারিশ নিয়ে আবার স্ব-পদে বহাল হন। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারেরও সুপারিশ আনেন তার চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য। অভিযোগ রয়েছে মানবেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার কারনে হিন্দু সম্প্রদায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছেন। ডা: মানবেন্দ্র সরকারের খামখেয়ালীপনার সর্বশেষ শিকার হয়েছেন হাসপাতালের অফিস সহায়ক আনিসুর রহমান। এর আগেও তার কথা মতো না চলায় বেশ কয়েকজনকে তিনি বিনা নোটিশে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। ৫ আগষ্টের পর ভোলপাল্টে তিনি এখন বিএনপি নেতা। হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াতের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থানকে “অপরিহার্য” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। এর ফলে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে। অভিযোগ: দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের কিছু সদস্য ও কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অথচ কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের সময় নিয়মিতভাবে “টাকা নেই” বলে জানানো হয়। এই বৈপরীত্য কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়েছে। অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বিভিন্ন ক্রয়-বিক্রয়, নিয়োগ এবং সেবামূলক খাতে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ লুটপাট হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনো স্বচ্ছ তদন্ত এখনো দৃশ্যমান নয়। ভয় ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি হাসপাতালের ভেতরে ভয়ের একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মচারী। তারা জানান, তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশ অমান্য করলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা থাকে। সম্প্রতি আনিসুর রহমান নামের এক অফিস সহায়ককে কোনো লিখিত অভিযোগ ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, ব্যক্তিগত অসন্তোষ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় কয়েকজন কর্মচারীকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ রয়েছে। বৈষম্যের অভিযোগ কিছু কর্মচারীর দাবি, নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রশাসনিক সুবিধা বেশি পাচ্ছেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত হয়নি, তবুও এটি প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও তীব্র করেছে। ক্ষোভে ফুঁসছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্রমাগত অনিয়ম, বেতন সংকট এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার কারণে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তত্ত্বাবধায়ক অপসারণের দাবি জানিয়েছেন এবং একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশ্ন রয়ে যায় একজন ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম ভেঙে, রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেন—এই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতালের মতো একটি জনস্বাস্থ্যকেন্দ্র যদি অনিয়ম ও প্রভাবের বলয়ে আটকে পড়ে, তবে এর প্রভাব পড়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবার ওপর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে। কর্তৃপক্ষের নীরবতা এ বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
টিভি ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহল নিয়ে প্রশ্ন, বিস্ফোরক অভিযোগ আঁচল খুরানার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের টেলিভিশন অঙ্গনে অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগালের অকাল মৃত্যু নতুন করে আলোচনায় এনেছে বিনোদন জগতের কর্মপরিবেশ, মানসিক চাপ এবং শিল্পীদের পেশাগত নিরাপত্তার প্রশ্ন। এই ঘটনার পর অভিনেত্রী আঁচল খুরানা সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির নানা অপ্রকাশিত বাস্তবতা তুলে ধরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ করেছেন। ভিডিওতে আঁচল দাবি করেন, টিআরপি-কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা, বাজেট সংকোচন এবং কাজ ধরে রাখার অনিশ্চয়তা শিল্পীদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ তৈরি করছে। তার মতে, পর্দার আড়ালে চলা এই চাপ অনেক সময় শিল্পীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। টিআরপি ও বাজেটের চাপে শিল্পীরা কতটা নিরাপদ? আঁচল খুরানার ভাষ্য অনুযায়ী, টেলিভিশন শিল্পে চ্যানেলগুলোর প্রধান লক্ষ্য থাকে দর্শকসংখ্যা ও টিআরপি বৃদ্ধি, অন্যদিকে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয় কমানোর চাপে থাকে। এই দুইয়ের মাঝখানে শিল্পীরা প্রায়ই অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে কাজ করতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সামান্য কারণ দেখিয়েও অভিনেতা বা অভিনেত্রীদের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কখনও কাজের দিন কমিয়ে দেওয়া হয়, আবার কখনও তাদের পেশাগত অবস্থান দুর্বল করে দেওয়া হয়। ‘আপত্তিকর প্রস্তাব’ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ভিডিও বার্তায় আঁচল আরও দাবি করেন, কিছু শিল্পী কাজ পাওয়ার বা কাজ ধরে রাখার লড়াইয়ে অসম্মানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তার অভিযোগ, কেউ যদি কোনও ধরনের শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর প্রস্তাবে সম্মতি না দেন অথবা আত্মসম্মান রক্ষার জন্য প্রতিবাদ করেন, তাহলে তাকে কাজ থেকে বাদ দেওয়ার কিংবা কাজের সুযোগ সীমিত করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতে পারে। তবে তিনি তার বক্তব্যে কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা প্রযোজনা সংস্থার নাম উল্লেখ করেননি। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এসব অভিজ্ঞতা তিনি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরেছেন। ‘আত্মহত্যার পেছনের চাপ কি বোঝা হয়?’ ভিডিওতে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে মানসিক স্বাস্থ্য প্রসঙ্গও সামনে আনেন আঁচল খুরানা। তার প্রশ্ন, আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া অভিনেতা, অভিনেত্রী বা সামাজিকমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতারা কী ধরনের মানসিক ও পেশাগত চাপের মধ্যে থাকেন, তা নিয়ে সমাজ বা শিল্পখাত কতটা আন্তরিকভাবে ভাবছে? আঁচলের মতে, পর্দায় সফলতা ও জনপ্রিয়তার আড়ালে অনেক শিল্পী একাকীত্ব, অনিশ্চয়তা এবং পেশাগত নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে লড়াই করেন, যা সাধারণ দর্শকের চোখে খুব কমই ধরা পড়ে। সঞ্চিতার মৃত্যু ঘিরে নতুন বিতর্ক সঞ্চিতা উগালের মৃত্যুর কারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা না গেলেও, এই ঘটনা ঘিরে বিনোদন জগতে কর্মপরিবেশ, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং শিল্পীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা সহজলভ্য করা এখন সময়ের দাবি। সঞ্চিতার মৃত্যুর পর আঁচল খুরানার এই বক্তব্য সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। তবে তার উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা শিল্প সংগঠনগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
প্রভার পিছু ছাড়েনি অনলাইন হয়রানি?সাইবার বুলিং, ভিকটিম ব্লেমিং এবং অভিনেত্রীর দীর্ঘ ১৬ বছরের লড়াই

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে অনলাইন ট্রলিং, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা। এই বাস্তবতার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। প্রায় ১৬ বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল, কটূক্তি ও মানসিক হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিজের দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন সমাজের সেই প্রবণতা নিয়ে, যেখানে অপরাধীর পরিবর্তে ভুক্তভোগীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। ‘কিছু জ্বালাময়ী সত্যি কথা বলব’ ভিডিও বার্তার শুরুতেই প্রভা জানান, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে তিনি সাধারণত প্রকাশ্যে কথা বলেন না। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, অনেক সময় কথা বলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসে না। তবে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে নীরব থাকা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের প্রতি আক্রমণাত্মক বিচার, ট্রলিং ও অপমানের পেছনে প্রায়ই ব্যক্তিগত অনিরাপত্তাবোধ বা ‘ইনসিকিউরিটি’ কাজ করে। প্রভার ভাষ্য অনুযায়ী, মনোবিজ্ঞান ও মানব আচরণবিষয়ক গবেষণায়ও এমন প্রবণতার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। যারা নিজেদের জীবন, যোগ্যতা বা অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট নন, তাদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যকে হেয় করে আত্মতৃপ্তি খোঁজেন। ‘আমাকে বুলিং করা হচ্ছে প্রায় ১৬ বছর’ ভিডিও বার্তায় নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে প্রভা বলেন, প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ধারাবাহিকভাবে অনলাইন বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছেন। তার দাবি, অনেকেই তাকে আক্রমণ করে ব্যক্তিগত আনন্দ পান। তবে এই একই শক্তি যদি প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও সামাজিকভাবে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য ব্যয় করা হতো, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। ভুক্তভোগী নয়, কেন নয় অপরাধী? প্রভার বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ বা ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার সংস্কৃতি নিয়ে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি প্রকাশ এবং কারও ব্যক্তিগত জীবনকে জনসমক্ষে ছড়িয়ে দেওয়া যখন আইনগতভাবে গুরুতর অপরাধ, তখন সমাজের বড় অংশ কেন অপরাধীর পরিবর্তে ভুক্তভোগীর দিকে আঙুল তোলে? তার মতে, অপরাধীর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে ওঠার বদলে ভুক্তভোগীকে বছরের পর বছর ট্রল ও অপমানের মুখে পড়তে হয়। সাইবার বুলিংয়ের সামাজিক প্রভাব ডিজিটাল অধিকার কর্মীদের মতে, সাইবার বুলিং শুধু ব্যক্তিগত মানসিক চাপ সৃষ্টি করে না; এটি দীর্ঘমেয়াদে আত্মবিশ্বাস, পেশাগত জীবন এবং সামাজিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন হয়রানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক সমাজেই ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার প্রবণতা এখনও দৃশ্যমান। ফলে অপরাধীরা প্রায়ই দায়মুক্তির সুযোগ পায়। প্রভার বার্তার তাৎপর্য দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে প্রভার এই বক্তব্য শুধু তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল পরিসরে নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন সহিংসতা, গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং ভিকটিম ব্লেমিং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উত্থাপন করেছে। তার বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনেছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানের লক্ষ্যবস্তু হওয়া ব্যক্তি, নাকি সেই অপরাধী, যিনি প্রথমে অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভেঙেছিলেন—কাকে সমাজের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত?

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
ববি
চিত্রনায়িকা ববি হক: সম্ভাবনা থেকে বিতর্ক—কেন থমকে গেল ঢালিউড ক্যারিয়ার?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢালিউডে একসময় সম্ভাবনাময় নায়িকাদের তালিকায় অন্যতম নাম ছিল চিত্রনায়িকা ববি হক। ‘খোঁজ: দ্য সার্চ’ চলচ্চিত্রে অনন্ত জলিলের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর তিনি দ্রুতই আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে দেশের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের সঙ্গে একাধিক সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন। তবে যে গতিতে তার ক্যারিয়ার এগোচ্ছিল, সেই ধারাবাহিকতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, করোনা মহামারির আগ পর্যন্ত ববির ক্যারিয়ার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী সময়ে একাধিক সিদ্ধান্ত তার পেশাগত অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। সম্ভাবনার শুরু, কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাব ক্যারিয়ারের শুরুতে ববি এমন কিছু সিনেমায় অভিনয় করেন, যা তাকে মূলধারার দর্শকের কাছে পরিচিত করে তোলে। শাকিব খান ও বাপ্পী চৌধুরীর মতো জনপ্রিয় অভিনেতাদের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি আলোচনায় আসেন। সেই সময় অনেকেই তাকে ঢালিউডের সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, সফলতার সেই ধারাকে ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন ছিল শক্তিশালী গল্প, বাছাই করা চরিত্র এবং পরিকল্পিত ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনা—যেখানে ববি কাঙ্ক্ষিত ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। বিতর্ক ও সিদ্ধান্তের প্রভাব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ববি অভিনয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত নানা বিতর্ক এবং আলোচনায় বেশি জায়গা পেয়েছেন। চলচ্চিত্রে নিয়মিত উপস্থিতি থাকলেও তার বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। বিশেষ করে অভিনেতা ও প্রযোজক ডি এ তায়েবের সঙ্গে একাধিক সিনেমায় জুটি বেঁধে কাজ করলেও সেগুলো দর্শক কিংবা বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলতে পারেনি। ফলে তার ক্যারিয়ারে নতুন গতি সৃষ্টির পরিবর্তে স্থবিরতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ‘তছনছ’ বিতর্ক: নতুন প্রশ্নের জন্ম সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তছনছ’ সিনেমাকে ঘিরেও ববি আলোচনায় আসেন। নবাগত অভিনেতা ও প্রযোজক মুন্না খানের বিপরীতে অভিনীত এই সিনেমা মুক্তির আগেই তিনি প্রযোজক-নায়কের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ঘটনায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। তবে কয়েকদিন পরই একটি প্রিমিয়ার শোতে মুন্না খানের পাশে দাঁড়িয়ে সিনেমার প্রশংসা করতে দেখা যায় ববিকে। এই অবস্থান পরিবর্তন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকের মধ্যেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। সমালোচকদের মতে, এমন ঘটনাগুলো একজন শিল্পীর পেশাগত অবস্থান ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ভক্তদের হতাশা একসময় শাকিব খানসহ দেশের শীর্ষ তারকাদের সঙ্গে অভিনয় করে আলোচনায় থাকা একজন নায়িকাকে ‘তছনছ’-এর মতো বিতর্কিত ও সমালোচিত প্রজেক্টে দেখতে অনেক ভক্তই হতাশ হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাদের মতে, ববির অভিনয় দক্ষতা নিয়ে যতটা আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তার চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তার প্রজেক্ট নির্বাচন এবং ব্যক্তিগত বিতর্ক। সামনে কোন পথে ববি? ঢালিউডে এখনও ববির পরিচিতি ও দর্শকভিত্তি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। তবে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের একটি বড় অংশ মনে করেন, ক্যারিয়ারে নতুন মোড় আনতে হলে তাকে আরও সতর্কভাবে সিনেমা নির্বাচন করতে হবে এবং বিতর্কের পরিবর্তে কাজের মাধ্যমে আলোচনায় ফিরতে হবে। একসময় যে সম্ভাবনার আভাস তিনি দিয়েছিলেন, সেটিকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে এখন প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী চিত্রনাট্য এবং পেশাদার সিদ্ধান্ত। অন্যথায় ঢালিউডে তার অবস্থান আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
স্পেনে কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শাকিরা, ফেরত পাচ্ছেন ৭৬৫ কোটি টাকা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াই শেষে বড় স্বস্তি পেয়েছেন বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। স্পেনের উচ্চ আদালত তাকে কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে আদায় করা প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৭৬৫ কোটি টাকা সুদসহ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনের কর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, ২০১১ সালে শাকিরা দেশটিতে ১৮৩ দিনের বেশি সময় অবস্থান করেছিলেন। স্পেনের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এক বছরে ১৮৩ দিন বা তার বেশি সময় সেখানে অবস্থান করলে তাকে দেশটির কর আইনের আওতায় আসতে হয়। তবে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, কর কর্মকর্তারা তাদের দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। আদালতের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই বছর শাকিরা স্পেনে মোট ১৬৩ দিন অবস্থান করেছিলেন, যা কর দেওয়ার নির্ধারিত সীমার চেয়ে ২০ দিন কম। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আনা কর ফাঁকির অভিযোগ এবং আরোপিত জরিমানাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফেরতযোগ্য অর্থের মধ্যে রয়েছে প্রায় ২৪ মিলিয়ন ইউরো আয়কর এবং প্রায় ২৫ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা। রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় শাকিরা বলেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত সত্যকে প্রতিষ্ঠা করেছে। তার অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া তার ব্যক্তিগত জীবন, স্বাস্থ্য এবং পরিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তার দাবি, তিনি কখনো কর ফাঁকি দেননি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও তা প্রমাণ করতে পারেনি। বিশ্বজুড়ে আলোচিত এই মামলার রায়ে শেষ পর্যন্ত স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন জনপ্রিয় এই সংগীত তারকা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
সালমান-কারিনা
১১ বছর পর কি আবার একসঙ্গে সালমান খান ও করিনা কাপুর? সুপারহিরো ছবিকে ঘিরে জল্পনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২০১৫ সালে বজরঙ্গী ভাইজানের পর আর একসাথে দেখা যায়নি বলিউডের জনপ্রিয় জুটি সালমান-কারিনা কে। ১১ বছর পর ফের আলোচনায় এলেন তারা দু’জন। বলিউডে নতুন করে চর্চায় সালমান খান–এর আসন্ন সুপারহিরো প্রজেক্ট। পরিচালক জুটি রাজ ও ডিকে–র সঙ্গে এই ছবিকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল আগেই, এবার সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিল নায়িকা নির্বাচন নিয়ে নতুন আপডেট। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ছবির নারী প্রধান চরিত্রে এখন সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন করিনা কাপুর খান। যদি সব কিছু ঠিক থাকে, তবে বহুদিন পর আবারও পর্দায় একসঙ্গে দেখা যেতে পারে সালমান ও করিনাকে। এর আগে এই চরিত্রে দক্ষিণী তারকা সামান্থা রুথ প্রভুর নামও শোনা গিয়েছিল। তবে নতুন আপডেটে জানা যাচ্ছে, নির্মাতারা এখন করিনাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে এগিয়ে রেখেছেন এবং তার সঙ্গে আলোচনা চলছে। ছবিটি নিয়ে ইতিমধ্যেই বলিউডে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। কারণ, এটি হবে সালমান খানের ক্যারিয়ারের একটি ভিন্নধর্মী উদ্যোগ—একজন সুপারহিরো চরিত্রে তাকে দেখা যেতে পারে, যা তার জন্য নতুন ঘরানার অভিজ্ঞতা। এদিকে জানা গেছে, ছবির গল্প, শুটিং শিডিউল ও অন্যান্য বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রি-প্রোডাকশনের কাজ এগিয়ে চলছে এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখন সময়ের অপেক্ষা। সব মিলিয়ে, সালমান-করিনা জুটি আবারও ফিরবে কি না—এটাই এখন বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
হুমাইরা সুবাহ
চুপিসারে বিয়ে করলেন হুমাইরা সুবাহ

বাংলাদেশের আলোচিত মডেল ও চিত্রনায়িকা হুমাইরা সুবাহ জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সম্প্রতি তিনি নীরবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিজেই। এতদিন বিয়ের বিষয়টি গোপন থাকলেও সম্প্রতি এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। সুবাহ জানান, বেশ কিছুদিন আগেই তাদের বিবাহ নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা এবং নির্বাচনি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার কারণে বিষয়টি আগে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। সুবাহর স্বামী পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তবে তার পারিবারিক শিকড় ঢাকায়। বিয়ে নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সুবাহ বলেন, শিগগিরই আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে ধুমধাম করে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ইতোমধ্যে স্বামীর সঙ্গে তোলা কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি। ওই পোস্ট ঘিরে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় ভরে উঠেছে মন্তব্যের ঘর। নতুন এই পথচলায় সুবাহ ও তার জীবনসঙ্গীর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন বিনোদন অঙ্গনের সহকর্মীসহ ভক্তরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
রুহ আফজা।
রুহ আফজা সিরাপ বানাবেন যেভাবে

ইফতারে রুহ আফজার শরবত যেমন শরীর ঠান্ডা রাখে, তেমনি দূর করে দেয় রোজা ও গরমের ক্লান্তিও। ঘরেই কেমিক্যালবিহীন সিরাপ বানিয়ে নিতে পারেন শরবত তৈরির জন্য। জেনে নিন কীভাবে বানাবেন।তাজা গোলাপ ফুলের পাপড়ি আলাদা করে ধুয়ে নিন। ১ কাপ পানি ও গোলাপের পাপড়ি চুলায় বসান। ১ ফোঁটা লাল ফুড কালার দেবেন। মাঝারি আঁচে রেখে দিন প্যান। ফুটে উঠলে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নামিয়ে ছেঁকে নিন।এক বাটি ফলের টুকরা ব্লেন্ড করে ছেঁকে রস আলাদা করুন। আপেল, আঙুর, তরমুজ, আনারস, কলা বা যেকোনো ধরনের ফল ব্যবহার করতে পারেন এখানে। চুলায় প্যান বসিয়ে ফলের রস দিয়ে দিন। গোলাপ থেকে বের হওয়া পানি ও স্বাদ মতো চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে নিন। নামানোর আগে ২ চা চামচ গোলাপজল দিয়ে নেবেন। ঠান্ডা হলে মুখবন্ধ বয়ামে রেখে দিন নরমাল ফ্রিজে। এক মাস পর্যন্ত রেখে খেতে পারবেন এই রুহ আফজা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
রূহ আফজা
রমজানের প্রতীক রূহ আফজা

রূহ আফজা: রমজানের জনপ্রিয় পানীয়ের এক শতাব্দীর ইতিহাস রমজান মাস এলেই মুসলিম সমাজে বদলে যায় প্রতিদিনের জীবনযাত্রা। সেহরি ও ইফতারকে ঘিরে শুরু হয় নানা প্রস্তুতি, বাজারে বাড়ে বিশেষ খাবার ও পানীয়ের চাহিদা। পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা-মুড়ি কিংবা খেজুরের পাশাপাশি ইফতার টেবিলে আরেকটি পরিচিত নাম হলো লাল রঙের শরবত—রূহ আফজা। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে রমজানের সময় এই পানীয়ের জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি যে অনেক পরিবারের মাসিক বাজারের তালিকায় এটি প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকা এই পানীয় শুধু একটি শরবত নয়; এটি উপমহাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লির একটি ছোট ইউনানি ক্লিনিক থেকে শুরু হওয়া এই পানীয় আজ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লির গলি থেকে শুরু ১৯০৬ সালের গরমের এক দিনে ব্রিটিশ শাসিত ভারতের রাজধানী দিল্লির পুরনো এলাকা লাল কুয়ান বাজারে একটি ক্লিনিকের সামনে অস্বাভাবিক ভিড় জমে। স্থানীয় মানুষজন বাতাসে ভেসে আসা গোলাপের সুবাসে আকৃষ্ট হয়ে জানতে পারেন, একজন ইউনানি চিকিৎসক একটি বিশেষ পানীয় তৈরি করেছেন। লাল রঙের সেই পানীয়ের স্বাদ নিতে ভিড় বাড়তেই থাকে। দিনের শেষে তৈরি প্রথম ব্যাচ শেষ হয়ে যায়। এই ঘটনাকেই অনেকে রূহ আফজার জন্মমুহূর্ত বলে মনে করেন। এই পানীয়ের উদ্ভাবক ছিলেন ইউনানি চিকিৎসক হাকিম হাফিজ আবদুল মজিদ। পুরনো দিল্লিতে তার ক্লিনিকের নাম ছিল হামদর্দ দাওয়াখানা। ‘হামদর্দ’ শব্দটির অর্থ—দুঃখ কষ্টের সময়ের সঙ্গী। ১৯০৭ সালের দিকে এই ক্লিনিক থেকেই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয় এই অ্যালকোহলমুক্ত ভেষজ পানীয়ের। কেন তৈরি হয়েছিল রূহ আফজা শুরুর দিকে এটি তৈরি করা হয়েছিল মূলত চিকিৎসা উদ্দেশ্যে। দিল্লির প্রচণ্ড গরমে অনেক মানুষ ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যায় ভুগতেন। রোগীদের সতেজতা ফিরিয়ে দিতে গোলাপ, ভেষজ উপাদান ও ফলের নির্যাস দিয়ে এই পানীয় তৈরি করেন হাকিম মজিদ। গোলাপের সুবাস এবং সতেজ স্বাদের কারণে দ্রুতই এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর তিনি এই পানীয়ের নাম দেন রূহ আফজা। উর্দু ভাষায় “রূহ” অর্থ আত্মা বা প্রাণ এবং “আফজা” অর্থ সতেজ করে এমন কিছু। অর্থাৎ নামের অর্থ দাঁড়ায়—“যা আত্মাকে সতেজ করে।” নামের পেছনের গল্প ইতিহাস বিষয়ক ম্যাগাজিন হেরিটেজ টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, এই নামের অনুপ্রেরণা আসে একটি উর্দু কাব্যগ্রন্থ থেকে। উর্দু কবি পণ্ডিত দয়া শঙ্কর নাসিমের বিখ্যাত কাব্য “মসনবি গুলজার-ই-নাসিম”-এ রূহ আফজা নামে এক রাজকন্যার চরিত্র ছিল। সেখান থেকেই এই নাম গ্রহণ করেন হাকিম মজিদ। হাতে তৈরি বোতল থেকে শিল্প উৎপাদন প্রথমদিকে রূহ আফজা হাতে তৈরি করা হতো। ১৯২০ সালের মধ্যে কাঁচের বোতলে হাতে করে শরবত ভরা হতো এবং লেবেলও লাগানো হতো হাতে। দিল্লির শিল্পী মির্জা নূর আহমদ তৈরি করেছিলেন ঐতিহ্যবাহী লেবেল ডিজাইন, যা এখনো প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। চাহিদা বাড়তে থাকলে দিল্লির বাইরে গাজিয়াবাদে একটি কারখানায় এর বড় আকারে উৎপাদন শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যু ও নতুন অধ্যায় ১৯২২ সালে হাকিম হাফিজ আবদুল মজিদের মৃত্যু হয়। তখন তার বড় ছেলে আবদুল হামিদ মাত্র ১৪ বছর বয়সে পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বে হামদর্দ ধীরে ধীরে বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় এবং রূহ আফজার উৎপাদন ও বাজার বিস্তৃত হতে থাকে। ভারত ভাগ ও তিন দেশের ব্র্যান্ড ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হওয়ার পর হামদর্দও বিভক্ত হয়ে যায়। বড় ছেলে আবদুল হামিদ ভারতে থেকে যান ছোট ছেলে হাকিম মোহাম্মদ সৈয়দ পাকিস্তানে চলে যান এর ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় দুইটি প্রতিষ্ঠান: হামদর্দ ইন্ডিয়া হামদর্দ পাকিস্তান দুই দেশেই রূহ আফজার উৎপাদন অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশে রূহ আফজার যাত্রা ১৯৫০-এর দশকে হামদর্দ পাকিস্তান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) তাদের কার্যক্রম শুরু করে। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বিক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠানটি হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশ নামে কার্যক্রম চালিয়ে যায়। পরে ইউসূফ হারুন ভুঁইয়া নামের এক উদ্যোক্তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে রূহ আফজার উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণ শুরু হয়। রমজানের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রূহ আফজা শুধু পানীয় নয়, রমজানের সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। অনেক পরিবারে ইফতার মানেই রূহ আফজার শরবত। বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসময় একটি জনপ্রিয় মন্তব্য ছিল— “ছোটবেলায় মনে করতাম রূহ আফজা শরবত খেলে সওয়াব হয়।” এটি অনেকটাই মজার মন্তব্য হলেও এটি দেখায় যে পানীয়টির সঙ্গে মানুষের আবেগ কতটা গভীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাকিস্তানি লেখক আজির হাসান রিজভী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, রমজানে এশীয় মুসলমানদের কাছে রূহ আফজার গুরুত্ব ঠিক যেমনটা কার্টুন চরিত্র পোপাই-এর কাছে পালং শাকের। অন্যদিকে মারিয়া সারতাজ নামের এক ব্যবহারকারী বলেন, রমজান ও রূহ আফজা একে অপরের পরিপূরক। দুধ না পানি—চলমান বিতর্ক রূহ আফজা কীভাবে খাওয়া উচিত তা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। অনেকে বলেন এটি দুধের সঙ্গে খেলে স্বাদ সবচেয়ে ভালো। অন্যরা বলেন ঠান্ডা পানির সঙ্গে মিশিয়েই আসল স্বাদ পাওয়া যায়। কেউ কেউ আবার ফল, বেসিল সিড বা আইসক্রিম মিশিয়ে নিজস্ব রেসিপি তৈরি করেন। স্বাস্থ্য নিয়ে সমালোচনা তবে সবাই যে এই পানীয়ের ভক্ত তা নয়। সমালোচকদের মতে এতে চিনির মাত্রা বেশি। এছাড়া রঙ ও প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অনেকে মনে করেন, ঘরে তৈরি শরবত বা ফলের জুস বেশি স্বাস্থ্যকর। যুদ্ধ ও সংকটের সাক্ষী একটি পানীয় যে এত ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে পারে, সেটি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। ভারত ভাগ, পাকিস্তান সৃষ্টি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা—সবকিছুর মধ্য দিয়েই টিকে আছে এই ব্র্যান্ড। সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় আফগান শরণার্থীদের ত্রাণ হিসেবে রূহ আফজা পাঠানো হয়েছিল। পরে দেখা যায়, অনেক শরণার্থী এটি পানি বা দুধ ছাড়াই সরাসরি পান করতেন। ২০১৯ সালের সংকট ২০১৯ সালে ভারতে হঠাৎ করেই বাজারে রূহ আফজা সংকট দেখা দেয়। কোম্পানি জানায়, কিছু ভেষজ উপাদান সহজলভ্য না হওয়ায় উৎপাদন কমে গিয়েছিল। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অনেক ভারতীয় ব্যবহারকারী হতাশা প্রকাশ করেন। পাকিস্তানি ব্যবহারকারীরা মজা করে ভারতকে রূহ আফজা পাঠানোর প্রস্তাবও দেন। আদালত পর্যন্ত গড়ানো বিতর্ক ২০২২ সালে দিল্লি হাই কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজনকে পাকিস্তানে তৈরি রূহ আফজা ভারতের বাজারে বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভারতীয় প্রস্তুতকারকেরা অভিযোগ করেছিলেন, পাকিস্তানি সংস্করণ অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশে জরিমানা বিতর্ক বাংলাদেশেও একবার আইনি জটিলতায় পড়েছিল এই ব্র্যান্ড। ২০১৮ সালে ঢাকার একটি বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত অননুমোদিত উপাদান ব্যবহারের অভিযোগে হামদর্দকে চার লাখ টাকা জরিমানা করে। পরে আপিলের মাধ্যমে সেই রায় বাতিল হয়ে যায়। শতাব্দীর পানীয় আজ রূহ আফজা শুধু উপমহাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার এশীয় দোকানেও এটি পাওয়া যায়। অনেক প্রবাসী মুসলিমের জন্য এটি রমজানের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি পানীয়। স্বাদ, স্বাস্থ্য বা বিতর্ক—সবকিছুর বাইরে রূহ আফজা এখন এক শতাব্দীর ইতিহাসের অংশ। একটি লাল শরবত, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রমজানের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
দুধ
রোজায় অ্যাসিডিটি সমস্যা দূর করতে ঘরোয়া উপায়

অ্যাসিডিটি (গ্যাস্ট্রিক/অম্লতা) সাধারণত পেটে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হলে বা খাবার ঠিকমতো হজম না হলে হয়। নিচে সহজ ও কার্যকর উপায়গুলো দিলাম: 🥛 ঘরোয়া উপায় ১) ঠান্ডা দুধ     এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ অ্যাসিডকে নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে ও বুকজ্বালা কমায়। ➡️ চিনি না মিশিয়ে খাওয়াই ভালো। ২) কলা       পাকা কলা প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিডের মতো কাজ করে। ➡️ খালি পেটে বা হালকা নাস্তা হিসেবে খেতে পারেন। ৩) জিরা পানি এক চা চামচ জিরা ভেজে পানিতে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করুন। ➡️ হজমে সাহায্য করে, গ্যাস কমায়। ৪) আদা     আদা চা বা কাঁচা আদা অল্প পরিমাণে চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। 🍽️ যেসব খাবার এড়াবেন অতিরিক্ত ঝাল ও ভাজাপোড়া টক খাবার (লেবু, আচার বেশি পরিমাণে) কোমল পানীয় অতিরিক্ত চা/কফি খুব দেরি করে রাতের খাবার ✅ জীবনযাত্রায় পরিবর্তন অল্প অল্প করে বারবার খাবার খান খাওয়ার পর সাথে সাথে শোবেন না (কমপক্ষে ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন টাইট পোশাক এড়িয়ে চলুন 💊 কখন ডাক্তার দেখাবেন? প্রায়ই বুকজ্বালা/বমি ভাব হয় খাবার গিলতে কষ্ট হয় রক্তবমি বা কালো পায়খানা ওজন অকারণে কমে যায় এগুলো থাকলে গ্যাস্ট্রো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
ইফতারে খেজুরের স্মুদি
ইফতারে খেজুরের স্মুদি

ইফতারে ঠান্ডা কোনো পানীয় না থাকলে যেন জমেই না। অনেকেই বাইরে থেকে কেনা ইনস্ট্যান্ট শরবত বানিয়ে পান করেন। এতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ও স্বাদ মিললেও নিয়মিত খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তার বদলে ঘরে থাকা উপকরণ দিয়েই সহজে পুষ্টিকর স্মুদি তৈরি করা যায়। এতে যেমন তৃপ্তি মিলবে, তেমনি শরীরও থাকবে সুস্থ।   চলুন জেনে নেওয়া যাক ইফতারের জন্য খেজুরের স্মুদি বানানোর সহজ রেসিপি-   যা যা লাগবে   খেজুর ১০-১২টি দুধ ২ কাপ পাকা কলা ২টি দই ২ টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়া ২ চা চামচ মধু ২ চা চামচ বরফ প্রয়োজনমতো   প্রস্তুত প্রণালি   প্রথমে খেজুর ভালো করে ধুয়ে গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে নরম করে নিন। এরপর পানি ঝরিয়ে খেজুরের সঙ্গে টুকরো করা কলা মেশান। সব উপকরণ ব্লেন্ডারে দিয়ে মসৃণ হওয়া পর্যন্ত ব্লেন্ড করুন, যাতে কোনো দানা না থাকে। তৈরি হয়ে গেলে গ্লাসে ঢেলে ওপর থেকে বরফ দিন। ইফতারের ঠিক আগে বানিয়ে পরিবেশন করলে স্বাদ বেশি ভালো থাকবে। দীর্ঘক্ষণ রেখে দিলে স্বাদের পরিবর্তন হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
ইফতারে যা খাবেন।
রমজানে স্বাস্থ্যকর ইফতার: সঠিক খাবার তালিকায় থাকুক পুষ্টি, শক্তি ও সুস্থতা

রমজানে ইফতার শুধু রোজা ভাঙার সময় নয়, বরং সারাদিনের দীর্ঘ উপবাসের পর শরীরকে পুনরায় শক্তি ও পুষ্টি জোগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। সঠিকভাবে ইফতার মেনু নির্বাচন করলে ক্লান্তি কমে, হজম সহজ হয় এবং সারাদিনের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই ইফতারে প্রয়োজন সচেতন খাদ্যাভ্যাস। 🥤 তরল খাবার দিয়ে ইফতার শুরু ইফতার শুরু করা উচিত হালকা তরল খাবার দিয়ে। প্রথমে পানি মুখে নিয়ে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড বিরতিতে ধীরে ধীরে পান করা ভালো। খুব তাড়াহুড়া করে বা গড়গড় করে পানি পান করা ঠিক নয়। তরল হিসেবে যা রাখা যেতে পারে— লাচ্ছি তাজা ফলের রস ডাবের পানি তোকমার শরবত আখের গুড়ের শরবত লেবু পানি শরবত তৈরিতে তাল মিছরি, গুড়, মধু বা ব্রাউন সুগার ব্যবহার করলে তা তুলনামূলক স্বাস্থ্যসম্মত হয়। 🌴 খেজুর: সুন্নতি ও পুষ্টিকর খাদ্য ইফতারে ২-৩টি খেজুর খাওয়া সারাদিনের ক্লান্তি দ্রুত দূর করতে সাহায্য করে। খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও অল্প পরিমাণ প্রোটিন—যা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। পুষ্টিগুণ বাড়াতে খেজুরের সঙ্গে চিনাবাদাম ও সামান্য মাখন মিশিয়ে পরিবেশন করা যেতে পারে। 🍎 মৌসুমি ফল: প্রাকৃতিক ভিটামিনের উৎস যেকোনো মৌসুমি ফল ইফতার মেনুতে রাখা জরুরি। ফল শরীরে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। মিক্সড ফ্রুটস, ফলের সালাদ বা ফল দিয়ে তৈরি হালকা ডেজার্ট খাওয়া যেতে পারে। 🥗 সবজি: হালকা ও সহজপাচ্য বিকল্প সবজি দিয়ে স্বাস্থ্যকর রেসিপি তৈরি করলে তা শরীরের জন্য উপকারী হয়। যেমন— সবজি স্যুপ (বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য উপযোগী) সবজি স্যান্ডউইচ সবজি নুডলস সবজি রোল সবজি পাকোরা (কম তেলে) খেয়াল রাখতে হবে, রান্নায় যেন অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না হয়। 🧆 ছোলা: প্রোটিনের সহজ উৎস ছোলা প্রোটিনের ভালো উৎস। তবে অতিরিক্ত তেল ও মসলায় ভুনা ছোলা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। স্বাস্থ্যকরভাবে ছোলা খাওয়ার উপায়— সারারাত ভিজিয়ে রেখে সিদ্ধ করা সিদ্ধ ছোলার সঙ্গে পেঁয়াজ, মরিচ, শশা ও টমেটো মিশিয়ে সালাদ তৈরি সামান্য তেলে হালকা ভাজা কাঁচা ভেজানো ছোলাও খাদ্য আঁশ ও প্রোটিনের ভালো উৎস। 🍮 মিষ্টান্ন: পরিমিত থাকাই উত্তম ইফতারে স্বাস্থ্যকর মিষ্টান্ন পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। জিলাপি বা বুন্দিয়া তেলে ভেজে সিরায় ডুবানো হয়, যা বেশি খেলে ক্ষতিকর। বিকল্প হিসেবে রাখা যেতে পারে— ফালুদা কাস্টার্ড পুডিং ফিরনি দুধজাত খাবার শরীরে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সরবরাহ করে। 🍽️ অন্যান্য উপকারী খাবার ইফতারের জন্য চিড়া-দই খুবই ভালো একটি খাবার। এতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এ ছাড়া রাখা যেতে পারে— দই বড়া নুডলস স্যান্ডউইচ রুটি-কাবাব মম শশা   রমজানে ইফতার শুধু খাবার গ্রহণের সময় নয়, বরং সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টিজাত খাবার পরিহার করে পরিমিত ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করলে শারীরিকভাবে ভালো থাকা সম্ভব। সচেতন খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সুস্থ ও কর্মক্ষম রমজানের মূল চাবিকাঠি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
পুষ্টিকর খাবার
রোজায় বেছে নিন পুষ্টিকর খাবার

ডেস্ক রিপোর্ট: শুরু হয়েছে সংযমের মাস পবিত্র রমজান। আত্মিক পরিশুদ্ধির পাশাপাশি এই মাস হতে পারে শরীরকে সুস্থ ও ফিট রাখারও সেরা সময়। তবে ইফতারের টেবিলে বাহারি ভাজাপোড়া, মিষ্টিজাতীয় খাবার ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত পদ অনেক সময় ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সারাদিন উপোস থাকার পর হঠাৎ অতিরিক্ত খাবার খেলে ওজন বেড়ে যাওয়া, অস্বস্তি ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু সঠিক খাবার নির্বাচন, পরিমিত আহার ও নিয়মিত হালকা ব্যায়াম—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে রোজার মাসেও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রমজানে কোন খাবারগুলো আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে— শাকসবজি: কম ক্যালরি, বেশি পুষ্টি   শাকসবজি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্যতম প্রধান সহায়ক। এতে ক্যালরি কম, কিন্তু আঁশ বেশি। আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। যেভাবে খাবেন: ইফতারে শসা, টমেটো, গাজর, লেটুস দিয়ে সালাদ সেহরিতে কম তেলে রান্না করা সবজি ডাল বা স্যুপে মিশ্র সবজি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়ক ফলমূল: প্রাকৃতিক মিষ্টির স্বাস্থ্যকর বিকল্প   ইফতারে মিষ্টিজাতীয় খাবারের বদলে ফল হতে পারে আদর্শ পছন্দ। ফলে থাকে প্রাকৃতিক চিনি, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ইফতারে রাখতে পারেন: তরমুজ আপেল পেয়ারা কমলা পেঁপে খেজুর খেজুরে প্রাকৃতিক গ্লুকোজ দ্রুত শক্তি জোগায়। তবে অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো। প্রোটিন: দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তির উৎস রোজার সময় শক্তি ধরে রাখতে প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পেশি গঠনে সহায়ক এবং দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। খাদ্যতালিকায় রাখুন: গ্রিল বা সেদ্ধ মুরগি মাছ ডিম ডাল ছোলা ভাজা খাবারের বদলে গ্রিল বা সেদ্ধ প্রোটিন গ্রহণ করলে অপ্রয়োজনীয় চর্বি জমা কমে। পূর্ণ শস্য: স্থিতিশীল শক্তির জোগান     সাদা ভাত বা পরিশোধিত ময়দার রুটি দ্রুত হজম হয়ে যায়। এর বদলে পূর্ণ শস্য গ্রহণ করলে শক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়। উপকারী শস্য: ব্রাউন রাইস আটার রুটি ওটস লাল চাল এসব খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। বাদাম ও বীজ: অল্পতেই তৃপ্তি     এক মুঠো বাদাম শক্তি জোগায় এবং অতিরিক্ত স্ন্যাকিং কমায়। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। খেতে পারেন: কাঠবাদাম আখরোট কাজুবাদাম চিয়া বীজ তিসি বীজ পর্যাপ্ত পানি: মেটাবলিজম সচল রাখুন   রোজায় ডিহাইড্রেশন হলে শরীর অনেক সময় ক্ষুধা ও পানিশূন্যতার সংকেত গুলিয়ে ফেলে। পরামর্শ: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ৮–১০ গ্লাস পানি একবারে বেশি না খেয়ে বিরতি দিয়ে পান অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত এড়িয়ে চলুন পানি বিপাকক্রিয়া সচল রাখে এবং হজমে সহায়তা করে। যেসব অভ্যাস মানলে ওজন বাড়বে না ✔️ ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন ✔️ ধীরে ধীরে খাবার খান ✔️ সেহরি কখনো বাদ দেবেন না ✔️ ইফতারের পর ২০–৩০ মিনিট হালকা হাঁটা ✔️ পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন   রমজান শুধু আত্মশুদ্ধির মাস নয়, এটি হতে পারে সুস্থ জীবনযাপনের নতুন সূচনা। খাবারের পরিমাণ নয়, গুণগত মানের দিকে নজর দিন। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত আহার ও নিয়মিত হালকা ব্যায়াম—এই তিন অভ্যাস মেনে চললে মাস শেষে নিজেকে আরও হালকা, ফিট ও প্রাণবন্ত অনুভব করবেন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
গোলাম ফারুক মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মুহাম্মদ আবু আবিদ
এসএসপির নির্বাচন: সভাপতি মজনু, সম্পাদক আবু আবিদ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের তৃণমূল সাংবাদিকদের সংগঠন সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম ফারুক মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মুহাম্মদ আবু আবিদ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রতিনিধিরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জেলা কমিটি থেকে দুই থেকে তিনজন প্রতিনিধি ভোটগ্রহণে অংশ নেন। নবনির্বাচিত সভাপতি গোলাম ফারুক মজনু দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক বিপ্লবী জনতা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে সাংবাদিকতায় যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে মুহাম্মদ আবু আবিদ বর্তমানে মোহনা টিভির চিফ এডিটর (প্ল্যানিং, অনলাইন ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলছেন, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকার কারণে নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক নির্যাতন, হয়রানি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি হলে অতীতেও তারা সরব ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. নেছার উদ্দিন, মো. ফজলে নেওয়াজ ও মো. আনোয়ারুজ্জামান আজাদ। যুগ্ম সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট হাসান আলম সুমন ও মো. হাবিবুর রহমান। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. কামরুল ইসলাম, মো. মিরাজ হোসেন, মো. জামাল শিকদার ও মো. শহিদুল ইসলাম। এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে শুভঙ্কর সেন শুভ, দপ্তর সম্পাদক পদে মীম আক্তার, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে আব্দুল মান্নান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মো. জাকির হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে নিপা আক্তার, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে আর কে রিপন এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল নোমান নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এনায়েত হোসেন খান রিমন, শরিফুল ইসলাম, মোকাম্মেল হোসেন চৌধুরী, রঞ্জন লোদ রাজু, সুমা রানী কর্মকার ও মো. ফারুক হোসেন বাপ্পি। নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সভাপতি গোলাম ফারুক মজনু ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু আবিদ সংগঠনের সদস্য, প্রতিনিধি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, তৃণমূল সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা, পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় এসএসপি ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
এইচআরএসএস
৭৫ সাংবাদিক হয়রানির শিকার, মব সহিংসতায় ২২ নিহত: মানবাধিকার প্রতিবেদন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি। মঙ্গলবার (৫ মে) প্রকাশিত সংগঠনটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাসজুড়ে অন্তত ৭৫ জন সাংবাদিক বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। মোট ৪০টি ঘটনায় সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪২ জন আহত, ১৭ জন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং ১০ জন হুমকির মুখে পড়েন। এছাড়া তিনজন সাংবাদিককে আটক করা হয় এবং চারটি মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি বলছে, একই সময়ে দেশে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৪৪টি ঘটনায় ২২ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব সহিংসতা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়। রাজনৈতিক সহিংসতাও এপ্রিলে অব্যাহত ছিল। ৯৮টি ঘটনায় ছয়জন নিহত এবং ৫৩৩ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদাবাজি এসব ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, সাতটি জনসভা ও সমাবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ৪৯ জন আহত এবং দুজন আটক হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টকে কেন্দ্র করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রও প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক হিসেবে উঠে এসেছে। এপ্রিল মাসে ২৯৪ জন নারী ও কিশোরী সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৮টি ধর্ষণ এবং ৭৯টি যৌন হয়রানির ঘটনা রয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় মারা গেছেন ৬৪ জন নারী। শ্রম খাতেও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র পাওয়া গেছে। কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা ও অনিরাপদ পরিবেশে ১৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা
গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে সাংবাদিক গ্রেপ্তার ও মামলা: ন্যায়বিচার না দমননীতি?

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২৪-এর ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের হলে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর পর থেকেই শুরু হয় সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও নির্যাতন। এ সময়ে চারজন সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মগোপনে রয়েছেন অনেকেই। দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) জানিয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২৬৬ জনকে অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত হত্যা বা সহিংসতার মামলায় আসামি করা হয়েছে। গত বছরের ৪ আগস্ট এ তথ্য প্রকাশ করে সংস্থাটি। এদিকে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে দেশে ৩৮৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া চার সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা হয়েছে। আসক বলছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের কমবেশি নির্যাতন বা হয়রানি করেছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বিমানবন্দর থেকে একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক-উপস্থাপক ফারজানা রুপাকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ফজলুল করিম নামের একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ছাড়া রাজধানীর আদাবরে পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলাতেও তাদের দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তারা কারাগারে আছেন, এখনো জামিন পাননি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত এলাকা থেকে আটক হন একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হওয়া কয়েকটি হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এবং জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ গ্রেপ্তার হন। তিনি বর্তমানে কারাগারে। গত বছরের এপ্রিলে ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয়। দলটির চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় গত বছরের আগস্টে মাইটিভির চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এসব সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়ে মাসের পর মাস কারাগারে বিনা বিচারে কারাবন্দি রয়েছেন। বারবার জামিনের জন্য আবেদন করলেও সেই আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। সাংবাদিকদেরই অনেকে বলছেন, সাংবাদিকেরা বিতর্কের ঊর্ধ্বে নন। তাদের লেখালেখি বা বক্তব্যে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত মনে করলে তার আইনি প্রতিকার রয়েছে। এমনকি কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও আছে। কিন্তু ঢালাওভাবে হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে নাম ধরে ধরে আসামি করা ন্যায়বিচারের ধারণাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ বিষয়ে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যদি আইনের শাসনের কথা বলি, তাহলে বিনা বিচারে কাউকে আটকে রাখা এবং দিনের পর দিন জামিন না দেওয়া সমীচীন নয়। বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। আমরা নোয়াবের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি বলেছি। শিগগিরই বিষয়টির সুরাহা হবে বলে আশা রাখছি।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের প্রধান ফটকের সামনে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাংবাদিক শাহনাজ শারমীন। সেখান থেকেই তিনি লাইভ সম্প্রচার করেন। অন্য টেলিভিশনেও সেই সম্প্রচারের দৃশ্য দেখা গেছে, যার তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। কিন্তু একই দিন বিকেলে মিরপুরের ভাষানটেক এলাকায় এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় অন্য অনেকের সঙ্গে তাঁকেও আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে একাত্তর টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহনাজ শারমীন এসব তথ্য উল্লেখ করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর প্রশ্ন, একই ব্যক্তি একসঙ্গে দুই জায়গায় থাকেন কীভাবে? এখন বিষয়টি দেখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। শাহনাজ শারমীনের ঘটনাটিই একমাত্র ঘটনা নয়। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হত্যা ও সহিংসতার অভিযোগে করা বিভিন্ন মামলায় সাংবাদিকদের ঢালাওভাবে আসামি করা হয়েছিল। বিভিন্ন পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ও সম্পাদকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ সাংবাদিক এখনো মামলার বোঝা বহন করছেন এবং কারাবন্দীদের অনেকেই জামিন পাচ্ছেন না। নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৪ মার্চ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর জামিন পেয়েছেন। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছিল। প্রথমে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও পরে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ জামাল হোসাইন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগেরও সদস্য। গত বছরের আগস্টে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিতে গিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম (পান্না)। মাস তিনেক পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২৮ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এসব ঘটনায় অন্যদের মধ্যেও কিছুটা আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি নেই, মামলাগুলোর দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের ক্ষেত্রে আদালত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেবেন। এর আগে গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের জামিন পাওয়ারও প্রত্যাশা করছেন তারা। কারাবন্দি সাংবাদিকদের জামিন বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলো সংবেদনশীল। প্রতিটি মামলা যাচাই-বাছাই করে দেখছে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে দায় পাওয়া না গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করছেন। কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির একটি চিত্র তুলে ধরে। বিষয়টি সংবেদনশীল এবং এতে নানা পক্ষের দাবি–পাল্টা দাবি আছে। সংক্ষেপে এবং বিশ্লেষণ করে বললে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে:  ১. সংখ্যাগত চিত্র   * Transparency International Bangladesh (টিআইবি) অনুযায়ী:   * ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার   * ২৬৬ জন হত্যা/সহিংসতার মামলায় আসামি * Ain o Salish Kendra (আসক):   * এক বছরে ৩৮৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন/হয়রানির শিকার * Manabadhikar Sangskriti Foundation:   * ২৬৮ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা   * অন্তত ১৪ জন গ্রেপ্তার অর্থাৎ, বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়—সংখ্যা ভিন্ন হলেও “বড় আকারে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও চাপ” একটি বাস্তব প্রবণতা হিসেবে উঠে এসেছে।   ২. মামলার ধরন নিয়ে বিতর্ক * অধিকাংশ মামলাই **হত্যা বা সহিংসতা সংক্রান্ত**, যা খুব গুরুতর অভিযোগ * অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ:   * একই ঘটনায় বহুজনকে আসামি করা হয়েছে   * কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঘটনাস্থলে ছিলেন না—এমন দাবিও এসেছে * আইনজীবীদের মতে, এসব মামলার “প্যাটার্ন প্রায় একই” এতে প্রশ্ন উঠছে—আইন কি নির্দিষ্ট অপরাধ বিচারের জন্য ব্যবহার হচ্ছে, নাকি কখনো কখনো **রাজনৈতিক বা প্রতিশোধমূলক চাপের হাতিয়ার** হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে?   ৩. দীর্ঘদিন জামিন না পাওয়া * অনেক সাংবাদিক:   * মাসের পর মাস, এমনকি দেড়–দুই বছর কারাগারে   * এখনো চার্জশিট হয়নি * অভিযোগ:   * জামিন শুনানিতে বারবার সময় নেওয়া   * হাইকোর্টে জামিন পেলেও স্থগিত হয়ে যাচ্ছে  এটি **ন্যায়বিচারের গতি ও প্রক্রিয়া** নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।   ৪. রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট   * গণ-অভ্যুত্থানের পর কিছু গোষ্ঠী সাংবাদিকদের “পূর্ববর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে * বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধেও সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগ এসেছে * ফলে বিষয়টি শুধু রাষ্ট্র বনাম সাংবাদিক নয়, বরং **বহুমাত্রিক চাপের পরিবেশ** তৈরি হয়েছে   ৫. আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া * Committee to Protect Journalists (CPJ) * Reporters Without Borders * Article 19 এসব সংগঠন বলছে: * অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই * সাংবাদিকতার কারণে টার্গেট করা হতে পারে * মুক্তি ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে   ৬. মূল দ্বন্দ্ব: আইন বনাম স্বাধীনতা   এই পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে: **একদিকে:** * কেউ অপরাধ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি **অন্যদিকে:** * ঢালাও মামলা, দীর্ঘ আটক, প্রমাণহীন অভিযোগ   → এগুলো হলে তা **মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের ওপর চাপ** হিসেবে দেখা হয়  ৭. সারসংক্ষেপ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলো হলো: * মামলার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা * দীর্ঘ প্রি-ট্রায়াল আটক * সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে “গণহারে” অভিযোগ * বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: আইন কি সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, নাকি কখনো তা নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হয়ে উঠছে?** আইন যেন নিপীড়নের হাতিয়ার না হয়' গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বেশ উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল অভিযোগ সাংবাদিকদের অনেকের। সংবাদমাধ্যমের অফিসে হামলা, শত শত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং তিন দফায় সাংবাদিকদের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে এমন মামলা ও গ্রেফতারের সমালোচনা করছেন মানবাধিকারকর্মী এবং আইনজীবীরা। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, আর্টিকেল ১৯, রিপোর্টারস উইদাউট বর্ডারস এর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোও এ ঘটনার সমালোচনা করে আসছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) এর আগে এক বিবৃতিতে, সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং হত্যা মামলার আসামি করা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বা সিপিজে সম্প্রতি চারজন সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করেছে- তারা হলেন, মোজাম্মেল হক বাবু, শ্যামল দত্ত, ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ। সিপিজের চিঠিতে বলা হয়েছে, নথিপত্র, স্বজনদের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা বলছে, তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। কোনো অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়নি। ”আটক রাখার ধরন দেখে মনে হয় মূলত সাংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই তাদের এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে”- লিখেছে সিপিজে। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের সময়েও এরকম ঢালাও মামলা করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছিল। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে অবশ্যই আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মানবাধিকারকর্মী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, "আইন যেন নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করা হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেবে, কিন্তু যাতে কাজের ক্ষেত্র সংকুচিত না করা হয় এবং মতপ্রকাশে বাধা দেওয়া না হয়। আইনের অবশ্যই নিরপেক্ষ, সুষ্ঠ এবং সৎ প্রয়োগ হতে হবে।" বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের এই উপদেষ্টা বলছেন, "মানবাধিকারকর্মী হিসেবে স্বাধীন মত প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয় এরকম কাজের বিরোধিতা করি।" এদিকে, নোয়াবের সভাপতি ও সাংবাদিক নেতা মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, নির্বাচিত এই বিএনপি সরকার সাংবাদিকদের এই প্রসঙ্গে ইতিবাচক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিক নেতাদের জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের মামলাগুলো এই সরকারের আমলে দায়ের হয়নি কিংবা কেউ গ্রেফতারও হয়নি। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সুরাহা করার আশ্বাস দিয়েছেন উল্লেখ করে মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক বলেন, "আমরা আশা করি যেহেতু পুরোনো মামলা, এই মামলাগুলো সরকার রিভিউ করে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে"।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
সিলেট পুলিশ
সিলেটে আল্টিমেটাম: অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সাম্প্রতিক এক নির্দেশনায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। অপতথ্য ছড়ানো নিয়ে চলমান জাতীয় আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ, নাকি সংবাদমাধ্যমকে শৃঙ্খলায় আনার প্রয়াস? বাংলাদেশে অনলাইন সংবাদমাধ্যম নিবন্ধনের বিষয়টি কয়েক বছর ধরেই বিতর্কিত। তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহ্বান করা হলে হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানই অনুমোদন পায়। সমালোচকদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে এবং অনেক পেশাদার প্ল্যাটফর্ম নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি মোকাবিলায় নিবন্ধন ব্যবস্থা জরুরি। তবে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন—অপতথ্য কি কেবল নিউজ পোর্টালেই সীমাবদ্ধ, নাকি সামাজিক মাধ্যমেও সমানভাবে বিস্তার লাভ করছে? সামাজিক মাধ্যমের ক্ষেত্রে যেখানে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা নেই, সেখানে শুধু নিউজ পোর্টালকে লক্ষ্যবস্তু করা কতটা কার্যকর—সে প্রশ্নও সামনে আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে সহজলভ্য প্রযুক্তির কারণে যে কেউ অনলাইন পোর্টাল চালু করতে পারছে, যা পেশাদার সাংবাদিকতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ফলে খাতটিকে একটি নীতিমালার আওতায় আনা প্রয়োজন—তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য। এদিকে, অনেক অনিবন্ধিত পোর্টালে কর্মরত সাংবাদিকদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আকস্মিকভাবে এসব প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হলে বহু সংবাদকর্মী কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নীতিমালা তৈরির জন্য প্রয়োজন ব্যাপক পর্যালোচনা, স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে নিবন্ধিত গণমাধ্যমের জন্য সুযোগ-সুবিধা এবং দায়বদ্ধতার বিষয়গুলোও স্পষ্ট করা জরুরি। সামগ্রিকভাবে, সিলেটে জারি হওয়া এই নির্দেশনা দেশের অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের আরও গভীর ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
Amal Khalil was a journalist with the Lebanese newspaper Al-Akhbar
ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট সংঘাতে সাংবাদিক নিহতের সংখ্যা বাড়ছে: কণ্ঠরোধ করছে ইসরায়েল ? সাংবাদিকদের মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ

লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সাংবাদিকরা কি পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাচ্ছেন, নাকি তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন? লেবাননের দৈনিক আল-আখবার-এর প্রতিবেদক খলিল বুধবার এক হামলায় নিহত হন। তিনি তখন ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী জেইনাব ফারাজের সঙ্গে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। লেবাননের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে “যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে চলতি বছরে লেবাননে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় অন্তত ২৯৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন—যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে লক্ষ্যবস্তু করা নিয়ে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, একাধিক ঘটনায় সন্দেহ দেখা যাচ্ছে—সাংবাদিকদের কি তাদের পেশাগত পরিচয়ের কারণেই টার্গেট করা হচ্ছে? কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক সারা কুদাহ বলেন, “এই ঘটনার অনেক প্রশ্ন এখনো উত্তরহীন রয়ে গেছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, হামলার পর কেন উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। তার মতে, চিকিৎসা সহায়তা বাধাগ্রস্ত হলে তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। ইসরায়েলের অবস্থান ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের “বৈধ সামরিক লক্ষ্য” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সিপিজে ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব দাবির পক্ষে অনেক সময় পর্যাপ্ত বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয় না। বিতর্কিত উদাহরণ ২০২৫ সালের আগস্টে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের কাছে এক হামলায় আল জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরিফ নিহত হন। পরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তিনি হামাসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সিপিজে বলছে, তারা যে তথাকথিত প্রমাণ পেয়েছে তা ছিল একটি স্প্রেডশিটে নামের পাশে একটি লোগো—যা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত নয়। একইভাবে, সাংবাদিক আলি শোয়েইবের ক্ষেত্রেও একটি ছবি প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়, যা পরে বিকৃত বলে জানা যায়। আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন জাতিসংঘ বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে কোনো বেসামরিক ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করতে হলে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানান, শুধুমাত্র “সম্পৃক্ততা”র অভিযোগ যথেষ্ট নয়—এটি স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হতে হবে। প্রবেশাধিকার ও আটক গাজায় আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের প্রবেশ দীর্ঘদিন ধরে সীমাবদ্ধ। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সংগঠনগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে গেলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এদিকে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের আটক নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২০০-র বেশি সাংবাদিক আটক হন, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন তখনও হেফাজতে ছিলেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আটক থাকা কিছু সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগ বিভিন্ন ঘটনায় তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হলেও সেগুলোর ফলাফল খুব কম ক্ষেত্রেই প্রকাশিত হয়—এমন অভিযোগ তুলেছে সিপিজে। জাতিসংঘ বলছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কার্যকর প্রয়োগ নির্ভর করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর। তথ্যপ্রবাহে প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিক নিহত হওয়া, প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধতা এবং আটক—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে স্বাধীন তথ্যপ্রবাহকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। সংঘাতের বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য যেখানে নিরপেক্ষ তথ্য জরুরি, সেখানে প্রতিটি সাংবাদিকের মৃত্যু একটি সম্ভাব্য তথ্যসূত্র হারিয়ে যাওয়ার সমান।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
বিবিসি
বিবিসিতে বড় আকারে ছাঁটাই: চাকরি হারাতে পারেন প্রায় ২০০০ কর্মী

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা বিবিসি বড় আকারে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, শিগগিরই প্রায় ২০০০ জন কর্মী চাকরি হারাতে পারেন, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছাঁটাই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে বিবিসির মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ২১ হাজার ৫০০। পরিকল্পিত এই ছাঁটাইয়ের ফলে প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী প্রভাবিত হবেন। বুধবার এক বৈঠকে কর্মীদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। সংস্থাটির এই সিদ্ধান্ত বৃহৎ কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ। আগামী মাসে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ম্যাট ব্রিটিন। তার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খরচ কমানোর লক্ষ্যে বিবিসি ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি সাশ্রয় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর আওতায় কর্মী সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি কিছু অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। সাবেক মহাপরিচালক টিম ডেভি আগেই জানিয়েছিলেন, আগামী তিন বছরে সংস্থার মোট ব্যয়ের প্রায় ১০ শতাংশ কমাতে হবে। উল্লেখ্য, টিম ডেভি গত ২ এপ্রিল পদত্যাগ করেন। এর আগে তিনি নভেম্বর মাসেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার সময়কালজুড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প, গাজা পরিস্থিতি এবং ট্রান্স অধিকার ইস্যু নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এদিকে, বিবিসি বর্তমানে সরকারের সঙ্গে তাদের রয়্যাল চার্টার নবায়ন নিয়ে আলোচনা করছে, যার মেয়াদ আগামী বছরের শেষে শেষ হবে। একইসঙ্গে লাইসেন্স ফি মডেল নিয়েও আলোচনা চলছে। গত ১ এপ্রিল লাইসেন্স ফি ১৭৪.৫০ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১৮০ পাউন্ড করা হয়েছে। গত বছর প্রায় ২ কোটি ৩৮ লাখ পরিবারের কাছ থেকে বিবিসি ৩.৮ বিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছে। এছাড়া বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আরও প্রায় ২ বিলিয়ন পাউন্ড এসেছে। তবে লাইসেন্স ফি প্রদানকারী পরিবারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে—এক বছরে প্রায় ৩ লাখ পরিবার কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দর্শকদের মধ্যে নেটফ্লিক্স ও ডিজনির মতো ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের প্রতি ঝোঁক বাড়ায় বিবিসি চাপে পড়ছে। গত বছর নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম সতর্ক করে বলেছিল, পাবলিক সার্ভিস টেলিভিশন ‘বিপন্ন প্রজাতি’ হয়ে যেতে পারে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিবিসি তাদের আইপ্লেয়ার সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউটিউবের সঙ্গে কনটেন্ট চুক্তিও করেছে সংস্থাটি। বিবিসি জানিয়েছে, গত তিন বছরে তারা ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করতে সক্ষম হয়েছে, যার বড় অংশ কনটেন্ট তৈরিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ঈদুল আজহা
সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা ২৭ মে

 ত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : সৌদি আরবে পবিত্র জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ দেখা গেছে। রবিবার (১৭ মে) দেশটির আকাশে এই চাঁদ দেখা যায়। সেই অনুযায়ী, আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) থেকে হিজরি ১৪৪৭ সনের জিলহজ মাস শুরু হবে। ইসলামি চন্দ্র ক্যালেন্ডারের সর্বশেষ মাস জিলহজের ১০ম দিনে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। সেই হিসাবে আগামী ২৭ মে সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। এর আগের দিন অর্থাৎ ২৬ মে পবিত্র আরাফাহ দিবস পালিত হবে।এর আগে, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, তিউনিসিয়াও ২৭ মে ঈদুল আজহা উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
রমজানের শেষ দশকে যেসব আমল
রমজানের শেষ দশকে যেসব আমল করবেন

রমজানের শেষ দশ রাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ। এ সময়টিকে ইবাদত, দোয়া ও নেক আমলে ভরিয়ে তুলতে পরিবারকেও সম্পৃক্ত করা জরুরি। কীভাবে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এই সময়কে আরও অর্থবহ করা যায়, সে বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরা হলো।       রমজানের শেষ দশ রাত সম্পর্কে প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ইবনে কাইয়্যিম বলেন, সব মাসের মধ্যে রমজান সর্বোত্তম এবং রমজানের রাতগুলোর মধ্যে শেষ দশ রাত সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ।   এই সময়ে বেশি বেশি নেক আমল করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। পাশাপাশি পরিবারকে নিয়ে এই সময় কাটালে সন্তানদের মধ্যেও ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে ওঠে এবং পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।       নিচে পরিবারের জন্য শেষ দশ রাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় তুলে ধরা হলো—   নিয়ত ঠিক করা     ইসলামে প্রতিটি কাজের আগে নিয়ত ঠিক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রমজানের শেষ দশ রাত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত করা উচিত। নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও দোয়া করতে হবে এবং সন্তানদেরও দোয়া করতে উৎসাহিত করতে হবে।   পরিবারের সঙ্গে তাহাজ্জুদ   তারাবি ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। চেষ্টা করা উচিত পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসব নামাজ আদায় করার। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আধ্যাত্মিক বন্ধন তৈরি হয়।   যদি সন্তানরা ছোট হয় তবে সপ্তাহান্তে তাদের মসজিদে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এতে তারা মসজিদের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হবে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে শিখবে।     একসঙ্গে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত   রমজানজুড়ে প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত করা উচিত। তবে শেষ দশ রাতে তা আরও বাড়ানো ভালো। পরিবারে একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে সবাই মিলে কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে।   পরিবারের সদস্যরা পালা করে সুরা পড়তে পারেন। চাইলে এটিকে আনন্দময় করতে ছোট একটি প্রতিযোগিতাও রাখা যেতে পারে, যাতে দেখা যায় কে বেশি তিলাওয়াত করতে পারে। এতে শিশুদের কোরআনের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।   দোয়ার তালিকা তৈরি করা   রমজান রহমত ও বরকতের মাস। এ সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও বিভিন্ন কল্যাণ কামনার জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। শেষ দশ দিনে সন্তানদের সঙ্গে বসে একটি দোয়ার তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। এতে তারা বুঝতে শিখবে যে আল্লাহ সব দোয়া শোনেন।   সন্তানদের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শেখানো একটি বিখ্যাত দোয়াও শেখানো যেতে পারে—হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।   বেশি বেশি সদকা করা   সদকা শুধু অর্থ দানেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবার মিলে রান্না করে আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের ইফতারে দাওয়াত দেওয়া যেতে পারে।   সন্তানদের তাদের অপ্রয়োজনীয় খেলনা বা ছোট হয়ে যাওয়া কাপড় গরিবদের দান করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। পরিবারের সবাই মিলে পার্কে গিয়ে পাখিদের খাবার দেওয়া বা আশপাশের বৃদ্ধ প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়াও সদকার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত।   যদি সামর্থ্য থাকে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দান করা যেতে পারে। সন্তানদেরও তাদের হাতখরচের কিছু অংশ দান করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। এতে তাদের মধ্যে সহমর্মিতা ও উদারতার মানসিকতা গড়ে উঠবে।   পরিবারকে সময় দেওয়া   রমজানের শেষ দশ রাতকে পরিবারকেন্দ্রিক সময় হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। সন্তানদের বোঝানো দরকার কেন এই রাতগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ।   সম্ভব হলে বাবা-মা বা আত্মীয়দের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার ও ইবাদতে সময় কাটানো যেতে পারে। এতে পরিবারে ভালোবাসা বাড়ে এবং সন্তানরা অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও সাহায্যের মানসিকতা শিখে।   রমজান খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই শেষ দশ রাতকে অবহেলায় কাটিয়ে না দিয়ে যতটা সম্ভব ইবাদত ও ভালো কাজে ব্যয় করা উচিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
শিশু দ্বীন ইসলাম
পুরো কুরআন ১১০ দিনে মুখস্থ করল শিশু দ্বীন ইসলাম

পটুয়াখালীতে ১১০ দিনেই পুরো পবিত্র কুরআন মুখস্থ করে সবার দৃষ্টি কেড়েছে ১২ বছর বয়সী শিশু দ্বীন ইসলাম। সে সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের মধ্য ধরান্দী এলাকার জামিয়া রহিমীয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী। অল্প সময়ে কুরআন হিফজের এই বিরল কৃতিত্বে আনন্দিত তার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসী। দ্বীন ইসলাম অত্যন্ত মেধাবী, মনোযোগী ও পরিশ্রমী একজন ছাত্র। মাত্র ১১০ দিনের মধ্যেই সে পুরো কুরআন হিফজ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্য শিশুরা যখন খেলাধুলা করত, তখন সে কুরআন শরীফ নিয়ে পড়াশোনায় মন দিত। অনেক সময় সে একদিনে ১০ পৃষ্ঠা এমনকি এক পারা পর্যন্ত সবক দিয়েছে। দ্বীন ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের মধ্য ধরান্দী এলাকার একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান। তার বাবার নাম ইয়াকুব শিকদার। স্থানীয়রা জানান, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সন্তানকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প ছিল ইয়াকুব শিকদারের। সেই স্বপ্নেরই উজ্জ্বল প্রতিফলন দেখা গেছে দ্বীন ইসলামের এই অর্জনে। অল্প বয়সেই তার এই সাফল্য এখন এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
আল-আকসা মসজিদ
আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা

জেরুজালেম: ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে শুক্রবারের জুমা নামাজ বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানি হামলার আশঙ্কা দেখিয়ে এই নিরাপত্তামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দেশটি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ‘আল মুনাসিক’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বিবৃতিতে বেসামরিক প্রশাসনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিশাম ইব্রাহিম জানান, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জেরুজালেমের ওল্ড সিটির সব পবিত্র স্থান শুক্রবার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে আল-আকসা মসজিদ, ওয়েস্টার্ন ওয়াল (আল-বোরাক দেয়াল), টেম্পল মাউন্ট এবং চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার অন্তর্ভুক্ত। কোনো ধর্মাবলম্বী বা দর্শনার্থীকে এসব স্থানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ইসরায়েলি শাসক সংস্থার প্রধান সাফ জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদার ছাড়া সকলের জন্য প্রযোজ্য। গত শনিবার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ওল্ড সিটিতে প্রবেশ সীমিত করেছে। আল-আকসার সিনিয়র ইমাম শায়খ ইকরিমা সাবরি এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, "দখলদার কর্তৃপক্ষ যেকোনো অজুহাতে আল-আকসা বন্ধ করার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।" যদিও ইসরায়েল বর্তমান যুদ্ধকে এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে, রমজান মাসের শুরু থেকেই তারা আল-আকসায় নামাজ আদায়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছিল। এই সংঘাতের ফলে ইতিমধ্যেই দুই দেশে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ১০ জন নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত ১,২৩0 জন প্রাণ হারিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
মসজিদে হারাম
মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজা

বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ হল মসজিদ আল-হারাম। জীবনে একবার হলেও এ মসজিদ পরিদর্শন করা কোটি মুসলিমের লালিত স্বপ্ন। মহান আল্লাহর এ ঘর নিয়ে মুসলিমদের মনে রয়েছে নানান কৌতুহল। অন্যতম হল, এ ঘরে কতটি গেট রয়েছে ? মসজিদুল হারামের মোট গেট সংখ্যা হল ২৬২। অসংখ্য দরজাসমূহ থেকে মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজা। ফেরেশতাদের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মসজিদ হারাম নির্মাণ করিয়েছেন। এরপর আদম, ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.) ঘরটি পুনঃনির্মাণ করেছেন। দীর্ঘ সময় মসজিদটির কোনো দরজা ছিল না। মক্কা বিজয়ের পর এ মসজিদে প্রথম দরজা তৈরি করা হয়। এ দরজার নাম হল ‘বাব বনি শায়বাহ’। এরপর ধীরে ধীরে নির্মিত হয়েছে বাকি দরজাগুলো, যা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। হারাম শরীফে প্রবেশের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজা বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য হাজি উমরাহ হজ করতে হারাম শরীফে যান। মসজিদুল হারামে তাদের চলাচল সহজ করার জন্য নিচে মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজা সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা হল। ১. বাব মালিক/কিং আব্দুল আজিজ গেট- (গেট নং ০১) বাব মালিক, যা কিং আব্দুল আজিজ গেট নামেও পরিচিত। মসজিদুল হারামের আধুনিক এবং প্রধান চারটি দরজার মধ্যে এটি একটি। সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ আব্দুল আজিজের নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়। হারাম কমপ্লেক্সের ইয়েমেণি কর্ণার এবং আজিয়াদ স্ট্রিটের ঠিক বিপরীতে দরজাটি অবস্থিত। বাব মালিক গেট থেকে সরাসরি কাবা দেখা যায়। দরজাটি দিয়ে প্রতিবন্ধী ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা সরাসরি মাতাফে (কাবা তওয়াফ করার স্থান) প্রবেশ করতে পারেন। সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ আব্দুল্লাহ হারাম শরীফ সম্প্রসারণের সময় এ দরজা সংস্কার করেছিলেন। ২. বাব আজিয়াদ/আজিয়াদ গেট-(গেট নং ০৫) মসজিদ আল- হারামের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আজিয়াদের দুটি উপত্যকার নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। এটি হারাম কমপ্লেক্সের ছোট দরজা হলেও মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার একটি। এ দরজা দিয়ে বৈদ্যুতিক সিঁড়ির সাহায্যে হারামের উপরের তলায় উঠা যায়। গেট ৭ ও ৮ আজিয়াদ গেটের পাশেই অবস্থিত। তাই আজিয়াদ গেট ব্যবহার করে মসজিদ হারামের উপরে উঠলেও সহজেই গেট ৭ ও ৮ দিয়ে নিচে চলে আসা যায়। ৩. বাব বিলাল/বিলাল গেট-(গেট নং ০৬) মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার একটি হল বাব বিলাল বা বিলাল গেট। এটি হারাম শরীফের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এটি সাহাবী ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মুয়াযযিন বিলাল ইবন রাবাহ (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। হাবশা তথা বর্তমান আবিসিনিয়ার বাসিন্দা হওয়ায় বিলাল হাবশী নামেও পরিচিত এ সাহাবি। ৪. বাব হুনাইন/হুনাইন গেট-(গেট নং ০৯) বাব হুনাইন বা হুনাইন গেট মসজিদুল হারামের দক্ষিণে বাব বিলার ও ইসমাইলের মধ্যে অবস্থিত। তায়েফের নিকটবর্তী হুনাইন শহরের নামানুসারে গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। বাব আজইয়াদের চলন্ত সিঁড়িগুলো গেটটির সামনে অবস্থিত হওয়ায়, বর্তমানে গেটটির কিছু অংশ দেখা যায়। গেটটি পুরোপুরি দেখা না গেলেও মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি এটি। ৫. বাব ইসমাইল/ইসমাইল গেট-(গেট নং ১০) মসজিদ হারামের দক্ষিণ দিকে বাব হুনাইন ও হামযাহ এর মধ্যে বাব ইসমাইল বা ইসমাইল গেট অবস্থিত। ইবরাহিম (আ.) এর পুত্র নবি ইসমাইল (আ.)-র সম্মানে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। আপেক্ষিকভাবে এ দরজাটি বায়তুল্লাহর অন্য দরজার চেয়ে ছোট হলেও মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার অন্যতম এটি। এ গেট দেখলে ইবরাহিম, ইসমাইল ও হাজেরা (আ.) মক্কায় আল্লাহর জন্য যে ত্যাগ করেছেন তা স্মরণ হয়ে যায়। ৬. বাব সাফা/আল সাফা গেট-(গেট নং ১১) বাব সাফা যা আল সাফা গেট নামেও পরিচিত। মসজিদুল হারামের ৫টি প্রধান ফটকের মধ্যে এটি একটি। ফটকটি হারাম শরীফের উত্তর দিকে অবস্থিত। এ গেট দিয়ে সায়ী করার স্থানে প্রবেশ করা যায় এবং উপরে যেতে চাইলে গেটটিতে থাকা সিঁড়ি ব্যবহার করে হারামের উপরে যাওয়া যায়। বয়স্ক ও অসুস্থ হাজিগণ সায়ী করার জন্য গাড়ির সহযোগিতা নিতে পারেন এখান থেকে। ৭. বাব হামযাহ-(গেট নং ১২) মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের ঠিক মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত বাব হামযাহ। বাইতুল্লায় প্রবেশের অন্যতম পয়েন্ট হল এ দরজা। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা হামযাহ (রা.) এর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। গেটটি দেখলে উহুদ যুদ্ধে হামযাহ (রা.) এর ত্যাগ ও শাহাদাতের কথা স্মরণ হয়ে যায়। ৮. বাব কুবাইস-(গেট নং ১৩) মসজিদ আল-হারাম কমপ্লেক্সের ১৩ নং গেটটি বাব কুবাইস নামে পরিচিত। কুবাইস পাহাড়ের নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। সাফা ও কুবাইস পাহাড়ে প্রবেশ করতে চাইলে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। বলা হয় যে, কুবাইস পাহাড় আল্লাহ তায়ালার সৃষ্ট প্রথম পাহাড়। ৯. বাব নাবি/আল নাবি গেট-(গেট নং ১৪) এ দরজাটি মসজিদের পূর্ব দিকে সাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী বাব কুবাইস ও আলীর মাঝে অবস্থিত। নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। এ দরজা ব্যবহার করে হারাম কমপ্লেক্সের উপরে ওঠা যায়। ১০. বাব নাবী ব্রিজ/আল নাবী ব্রিজ গেট-(গেট নং ১৫) মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি হল বাব নাবী ব্রিজ/আল নাবী ব্রিজ গেট। এ ব্রিজটি উপরের তলাগুলোর সাথে সংযুক্ত। এটি দিয়ে মসজিদের উপরে উঠে মসজিদ পরিদর্শন করা বা ইবাদত করা যায়। ব্রিজটি দিয়ে সহজেই সাফা পাহাড়ে পৌঁছানো এবং সাফা এরিয়ায় চলাচল করা যায়। রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। ১১. বাব দারুল আরকাম-(গেট নং ১৬) এ গেটটি মাসআ’র (সায়ী করার স্থান) পূর্বদিকে এবং বাব আলির (রা.) ডানদিকে অবস্থিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবা আরকাম বিন আবি আরকাম (রা.) এর বাসস্থান ছিল এটা। এজন্য তার নামানুসারেই এ গেটের নামকরণ করা হয়।এই গেট দিয়ে সরাসরি সায়ী করার স্থানে পৌঁছা যায়। এছাড়াও হারাম কমপ্লেক্সের উপরে যেতে চাইলে এই দরজা দিয়ে যাওয়া যায়। ১২. বাব আলী/ আলী গেট-(গেট নং-১৭) মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি হল বাব আলী বা আলী গেট। যে দশজন সাহাবা দুনিয়ায় জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন তাদের একজন হলেন আলী (রা.)। তাঁর নামেই এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি বাব নবি ও আব্বাসের মাঝে এবং সায়ী করার স্থানের পূর্বদিকে অবস্থতি। সায়ী করার সময় যে স্থানে ‘রমল’ করতে হয়, দরজাটি এ স্থানের সঙ্গে সংযুক্ত। ১৩. বাব আব্বাস-(গেট-২০) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা ও সাহাবা আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিবের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি হারাম কমপ্লেক্সের পূর্বদিকে বাব আলী ও বনি শায়বার মাঝে অবস্থিত। এ দরজা দিয়ে হাজি সাহেবগণ সায়ী করার স্থানে প্রবেশ করে থাকেন। ১৪. বাব বনি হাশেম-(গেট নং ২১) বাব বনি হাশেম মসজিদ হারাম কমপ্লেক্সের নতুন ও অত্যাধুনিক গেটগুলোর একটি। এটি পবিত্র কা’বার নিকটেই অবস্থিত। এ দরজা দিয়ে সায়ী করার স্থানে খুব সহজেই প্রবেশ করা যায়। মক্কার সম্ভ্রান্ত গোত্র বনু হাশেমের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ১৫. বাব বনি শাইবা/শাইবা গেট-(গেট নং-২২) বাব বনি শাইবা, যেটি বনু শায়বাহ নামেও উচ্চারণ করা হয়। এর অর্থ হল শায়বার পুত্রদের দরজা। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে এবং মারওয়া পাহাড়ের কাছে গেটটি অবস্থিত। মক্কার চাবি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ইসলাম আবির্ভাবের পূর্ব থেকেই বনু শায়বাহ গোত্রের কাছে ছিল এবং এখনও তাদের কাছেই আছে। গোত্রটিকে সম্মানিত করতেই তাদের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ১৬. বাব আল মারওয়া/মারওয়া গেট-(গেট নং ২৩) মক্কার প্রসিদ্ধ মারওয়া পাহাড়ের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। মসজিদ আল-হারাম কমপ্লেক্সের বড় দরজাগুলোর একটি হল বাব আল মারওয়া বা মারওয়া গেট। এ গেটে বৈদ্যুতিক সিঁড়ি রয়েছে, যা দিয়ে সহজেই হারাম শরীফের উপরে ওঠা যায়। যেসব হাজিগণ দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় সায়ী করেন, খুব সহজেই তারা এ গেট ব্যবহার করে নিচে চলে আসতে পারেন। মসজিদুল হারামে প্রবেশের প্রধান দরজাগুলোর মধ্যে বাব আল মারওয়া দরজা অন্যতম। ১৭. বাব আল-মুদা’আ/আল মু’দা’আ গেট-(গেট নং ২৫) উসমানীয় যুগে মসজিদ আল-হারামের উত্তরদিকে বাব সালামের পাশে গড়ে উঠেছিল মুদা’আ বাজার। এ বাজারের নামেই বাব আল-মুদা’আ/আল মুদা’আ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। নিচতলায় সায়ী সম্পন্ন করে দরজাটি দিয়ে বাহিরে বেরিয়ে আসা যায়। ১৮. বাব কুরাইশ-(গেট নং ২৬-২৭) সায়ী করার স্থানের উত্তরপ্রান্তে বাব কুরাইশ বা কুরাইশ গেট অবস্থিত। এ গেট দিয়ে মারওয়া পাহাড়ে প্রবেশ করা যায়। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বংশের নাম উম্মতে মোহাম্মাদির মাঝে উজ্জ্বল রাখতেই কুরাইশ গোত্রের নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ১৯. বাব আরাফা/আরাফা গেট-(গেট নং-৩৫) বাব আরাফা বা আরাফা গেট মারওয়া পাহাড়ে অবস্থিত। মক্কার বিখ্যাত আরাফা ময়দান বরাবর মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে দরজাটি। এজন্য এ ময়দানের নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। হজের আবশ্যকীয় কাজগুলোর একটি হল আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। ২০. বাব মুযদালিফা/মুযদালিফা গেট-(গেট নং ৩৬) বাব মুযদালিফা বা মুযদালিফা গেটও মারওয়া পাহাড়ে অবস্থিত। হজের সময় হাজিগণ মুযদালিফা নামক স্থানে অবস্থান করেন। দরজাটি এ স্থান বরাবর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এজন্য মুযদালিফার নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। ২১. বাব ফাতাহ-(গেট নং ৪৫) আরবি ফাতাহ শব্দের অর্থ হল বিজয়। কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের দিন এ দিক দিয়ে কা’বায় প্রবেশ করেছিলেন। এজন্য এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে ফাতাহ বা বিজয়। হারাম কমপ্লেক্সের দক্ষিণ দিকে দরজাটি অবস্থিত। ২২. বাব ওমর ফারুক-(গেট নং ৪৯) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গুরুত্বপূর্ণ সাহাবি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর ফারুক (রা.) এর নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। যে দশজন সাহাব দুনিয়ায় থাকতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন ওমর (রা.) তাঁদের অন্যতম। ২৩. বাব আল কুদস-(গেট নং ৫৫) মসজিদে হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি হল বাব আল কুদস। দরজাটি ইসলামের প্রথম ক্বিবলা ‘মসজিদুল আকসা’ অভিমুখী। এজন্য ‘আল কুদস’ নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ইসলামের প্রথম কিবলার গুরুত্ব ও তাৎপর্য মুসলিম উম্মাহর মনে করিয়ে দেয় দরজাটি। ২৪. বাব মদিনা-(গেট নং ৫৬) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় গিয়েছিলেন। মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের এ দরজাটি মদিনামুখী করে তৈরি করা হয়েছে। এজন্য দরজাটির নাম রাখা হয়েছে বাব মদিনা। ২৫. বাব উমরা-(গেট নং-৬৩) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনের শেষ উমরা করার জন্য এদিক দিয়ে কা’বায় প্রবেশ করেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উমরার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য বাব উমরা নামে দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। এ দরজা দিয়ে সরাসরি মাতাফে (কা’বা তওয়াফ করার স্থান) প্রবেশ করা যায়। ২৬. বাব আম্মার বিন ইয়াসির-(গেট নং ৬৭) আম্মার বিন ইয়াসির (রা.) প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। তিনি এবং তাঁর বাবা-মা ইসলাম গ্রহণ করার জন্য মক্কার মুশরিকদের কাছে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। মর্যাদাবান এ সাহাবার নামে হারাম কমপ্লেক্সের এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। ২৭. বাব মুয়ায বিন জাবাল-(গেট নং ৬৮) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর যে সাহাবারা প্রচুর জ্ঞান রাখতেন, তাঁদের একজন হলেন মুয়ায বিন জাবাল (রা.)। মসজিদ আল-হারামের ৬৮ নং দরজাটি তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে। ২৮. বাব আমর বিন আল আস-(গেট নং ৬৯) মসজিদে হারামের ৬৯ নং দরজাটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আরেকজন সাহাবা আমর বিন আল আস (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। আমর বিন আল আস (রা.) হলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বুদ্ধিমান সাহাবাদের একজন। বদর ও উহুদসহ অনেক যুদ্ধে তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং ইসলামের পক্ষে নিজের বীরত্ব প্রকাশ করেছেন। ২৯. বাব আয়িশা বিনত্ আবি বকর-(গেট নং ৭০) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর শেষ ও কনিষ্ঠ স্ত্রী আয়িশা বিনত্ আবি বকর (রা.) এর নামে হারাম কমপ্লেক্সের এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি দেখলে ও এটি দিয়ে প্রবেশ করলে আম্মাজান আয়েশা (রা.) এর ইসলামের জন্য ত্যাগ ও কুরবানির কথা স্মরণ হয়। ৩০. বাব আসমা বিনত আবি বকর-(গেট নং ৭১) আবু বকর (রা.) এর মেয়ে আসমা বিনত আবি বকর (রা.) এর নামে মসজিদ হারামের ৭১ নং গেটের নামকরণ করা হয়েছে। আসমা (রা.) এর বাবা আবু বকর, স্বামী যুবায়ের বিন আওয়াম, সন্তান আব্দুল্লা ইবন যুবায়েরসহ পরিবারে সবাই ছিলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবা। ৩১. বাব আল ইয়ারমুক-(গেট নং ৭৩) আবু বকর (রা.) এর শাসনামলে মুসলিম ও রোমানদের মাঝে রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইন্তেকালের পর সবচেয়ে বড় যে যুদ্ধ হয়েছে, এ যুদ্ধের নাম হল ইয়ারমুকের যুদ্ধ। খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)-র বীরত্বে এ যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় হয়েছিল। মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের ৭৩ নং গেটটি ইয়ারমুক যুদ্ধের নামে নামকরণ করা হয়েছে। ৩২. বাব আবু বকর-(গেট নং ৭৪) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সাহাবা হলেন আবু বকর (রা.)। এক বর্ণনায় মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমার উপর আমার সাহাবাদের যত অনুগ্রহ রয়েছে তার কিছুটা হলেও আমি প্রতিদান দিতে পেরেছি। কিন্তু আবু বকরের অনুগ্রহ এমন যে তা পরিশোধ করতে আমি অক্ষম। আল্লাহেএর প্রতিদান দিবেন। আবু বকর (রা.) দুনিয়াতে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ জন সাহাবার একজন। তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা। তাঁর নামেই মসজিদ আল-হারামের ৭৪ নং গেটের নামকরণ করা হয়েছে। ৩৩. বাব আল-ফাহাদ-(গেট নং ৭৯) সৌদি আরবের সাবেক বাদশাহ ফাহাদের নামে এ গেটের নামকরণ করা হয়েছে। দরজাটি হারাম কমপ্লেক্সের পূর্বদিকে অবস্থিত। মসজিদের পূর্বপ্রান্ত দিয়ে ইবাদতের জন্য প্রবেশ করতে চাইলে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। হারাম কমপ্লেক্সের থ্রি পোর্টাল দরজাগুলোর এটি একটি। সৌদি শাসকদের আমলে দ্বিতীয় সম্প্রসারণের সময় দরজাটিকে থ্রি পোর্টালে রূপ দেওয়া হয়। ৩৪. বাব জাবির বিন আব্দুল্লাহ-(গেট নং ৮৪) মসজিদে হারামের ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ দরজার একটি হল এটি। দরজাটি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবি জাবির বিন আব্দুল্লাহর নামে নামকরণ করা হয়েছে। মাত্র ৭ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ৯৪ বছর বয়সে মদিনায় মারা যান জাবির বিন আব্দুল্লাহ এবং মদিনায় মৃত্যুবরণকারী সর্বশেষ সাহাবি ছিলেন তিনি। ৩৫. বাব সাঈদ বিন যায়েদ-(গেট নং ৮৫) হারাম কমপ্লেক্সের ৮৫ নং গেটটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আরেকজন সাহাবা সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) ছিলেন উমর বিন খাত্তাব (রা.) এর চাচাতো ভাই এবং ভগ্নিপতি। উমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে এ সাহাবির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ৩৬. বাব যায়েদ বিন সাবিত-(গেট নং ৮৬) যায়েদ বিন সাবিত (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গুরুত্বপূর্ণ একজন সাহাবি। আবু বকর (রা.) এর খিলাফতের সময় যায়েদ (রা.) কুরআন সংকলনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সম্মানিত এ সাহাবার নামেই মসজিদ হারামের এ গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৩৭. বাব উম্মে হানি-(গেট নং ৮৭) রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা আবু তালিবের মেয়ে হলেন উম্মে হানি (রা.)। তিনি আলী ও জাফর বিন আবি তালিব (রা.) বড় বোন। মিরাজ গমণের রাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মে হানি (রা.) এর বাড়িতে কিছুক্ষণ ঘুমিয়েছিলেন। এ সাহাবির নামেই মসজিদুল হারামের ৮৭ নং গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৩৮. বাব মাইমুনা-(গেট নং ৮৮) মক্কার মসজিদুল হারামের ৮৮ নং গেটটি মাইমুনা (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর একজন স্ত্রী এবং উম্মুল মু’মিনীন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর স্ত্রীদের মধ্যে মাইমুনা (রা.) ছিলেন সবচেয়ে বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান। ৩৯. বাব হিজলাহ-(গেট নং ৮৯) মসজিদুল হারাম কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্রান্তে বেশ কয়েকটি গেট রয়েছে। এ দরজাগুলোর বাম দিকে বাব হিজলাহ এবং ডান দিকে বাব হাফসা আংশিকভাবে দৃশ্যমান। মক্কায় হিজলাহ নামের একটি পাহাড় রয়েছে। ধারণা করা হয়, এ পাহাড়ের নামেই দরজাটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪০. বাব হাফসা-(গেট নং ৯০) হারাম কমপ্লেক্সের ৯০ নং গেটটি রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আরেকজন স্ত্রী হাফসা (রা.) এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। হাফসা (রা.) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবি ও ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর বিন খাত্তাব (রা.) এর মেয়ে। ৪১. বাব নাদওয়া-(গেট নং ৯২) দারুন নাদওয়া হল ঐতিহাসিক একটি ঘরের নাম যেখানে কুরাইশের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বিভিন্ন সময় মিটিং করতেন। মক্কা ও কুরাইশদের ইতিহাস মুসলিমদের স্মরণ করিয়ে দিতে এ ঘরের নামে হারাম কমপ্লেক্সের ৯২ নং গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪২. বাব খাদিজা-(গেট নং ৯৩) খাদিজা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রথম স্ত্রী। নবুওতের আগে এবং পরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন উম্মুল মু’মিনীন খাদিজা (রা.)। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওতের বিষয়টি সর্বপ্রথম সত্য বলে গ্রহণ করেছিলেন খাদিজা (রা.)। তাঁর নামেই মক্কার মসজিদুল হারামের ৯৩ নং গেটটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪৩. বাব ইবরাহিম-(গেট নং ৯৪) নবি ইবরাহিম খলিলুল্লাহ (আ.) এর নামে এ দরজার নামকরণ করা হয়েছে। কাবা ঘর মহান আল্লাহর নির্দেশে সর্বপ্রথম ফেরেশতারা নির্মাণ করেছিলেন। নুহ (আ.) এর সময়কালীন মহা প্লাবনে কাবা ঘর বালুর নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। এরপর মহান আল্লাহর নির্দেশে ইবরাহিম ও ইসমাঈল (আ.) ঘরটি ৪ হাজার বছর আগে পুনঃনির্মাণ করেছিলেন। ৪৪. কিং আব্দুল্লাহ গেট-(গেট নং ১০০) মসজিদ আল হারামের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি দরজার একটি কিং আব্দুল্লাহ গেট। হারাম কমপ্লেক্সের সবচেয়ে বড় দরজাগুলোরও একটি এটি। দরজাটি মসজিদের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এ গেটে দুটি চমৎকার মিনার রয়েছে। গেটটির সাথে রয়েছে একটি করিডোর , যে করিডোর দিয়ে সরাসরি মাতাফ বা তাওয়াফের স্থানে যাওয়া যায়। ৪৫. বাব সালাম গেট মসজিদ হারাম কমপ্লেক্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গেট হল বাব সালাম। সালাম অর্থ শান্তি অর্থাৎ এ দরজার নাম হল শান্তির দরজা। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে দরজাটি অবস্থিত। কা’বার কাছেই অবস্থান করতেন শাইবা বিন উসমান। অনেকে তাঁর গোত্রের দিকে ইঙ্গিত করে এ দরজাকে বাব বনি শাইবা বলে থাকেন। যদিও বনি শাইবা নামে হারাম কমপ্লেক্সে স্বতন্ত্র দরজাই রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
হিন্দু বাড়িতেই মসজিদ
হিন্দু বাড়িতে মসজিদ : ১৬ বছর ধরে রোজা রাখছেন পার্থসারথি, বারাসাতে সম্প্রীতির অনন্য নজির

শ্চিমবঙ্গের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বারাসাত শহরে এক বিরল সম্প্রীতির নজির গড়ে উঠেছে। হিন্দু পরিবারের বসতভিটায় অবস্থিত ‘আমানতি মসজিদ’ শুধু নামেই নয়, বাস্তবেও হয়ে উঠেছে আন্তঃধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য প্রতীক। আর এই সম্প্রীতির কেন্দ্রে রয়েছেন পার্থসারথি বোস—যিনি টানা ১৬ বছর ধরে পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে আসছেন। হিন্দু পরিবারের তত্ত্বাবধানে মসজিদ মসজিদটি পার্থসারথি বোসদের বাড়ির ভেতরেই অবস্থিত। স্থানীয়দের মতে, এ অঞ্চলে প্রায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে আর কোনো মসজিদ নেই। ফলে আশপাশের দোকান, বাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মুসলমানরা এখানে এসে নামাজ আদায় করেন। রমজান মাসে প্রতিদিন দেড় শতাধিক মুসল্লি ইফতার করেন এই মসজিদে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য—মসজিদের দেখভাল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সার্বিক দায়িত্ব পালন করে আসছে একটি হিন্দু পরিবার। ইতিহাসের সূত্রপাত ১৯৬০ সালে ১৯৬০ সালে সম্পত্তি বিনিময় প্রথার মাধ্যমে খুলনার আলকা গ্রাম থেকে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন পার্থসারথির দাদু নিরোধকৃষ্ণ বোস। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে বসতভিটায় উঠে তিনি দেখতে পান একটি জরাজীর্ণ মসজিদ। ধর্মীয় সম্মান বজায় রেখে সেটি আগলে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে তার ছোট ছেলে দীপক বোস দায়িত্ব নেন মসজিদের। তখনই এর নামকরণ করা হয় ‘আমানতি মসজিদ’। বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন পার্থসারথি বোস। দুর্ঘটনা থেকে আত্মশুদ্ধির পথ পার্থসারথি জানান, ২০০৯ সালের আগে মসজিদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা তেমন ছিল না। রমজান মাসে একদিন বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় বাইক থেকে পড়ে গিয়ে ডান কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, হাড় জোড়া লাগা কঠিন। অনুশোচনায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরদিন সকালে মসজিদে এসে ক্ষমা চান। নিজের ভুল স্বীকার করে মানত করেন—জীবিত থাকা পর্যন্ত রমজান মাসে রোজা রাখবেন। মসজিদের মাটি কাঁধে লাগিয়ে প্রার্থনা করেন সুস্থতার জন্য। তার দাবি, এরপর ধীরে ধীরে তার হাড় জোড়া লাগে। সেই থেকে টানা ১৬ বছর পুরো রমজান মাস রোজা রেখে আসছেন তিনি। এর আগেও রোজা রাখতেন, তবে পুরো মাস নয়। “মসজিদ আমাকে ভালো মানুষ বানিয়েছে” পার্থসারথি বলেন, “এই মসজিদ আমাকে এমন শিক্ষা দিয়েছে যে, খারাপ থাকার উপায় নেই। রোজা রাখলে মন পরিষ্কার থাকে। বাজে চিন্তা আসে না। মনে এক ধরনের ভয় কাজ করে—আবার যেন কোনো ভুল না করি।” তার পরিবারে অন্য কেউ রোজা না রাখলেও সবাই সহযোগিতা করেন। স্ত্রী সেহরির আয়োজন করেন, আর ইফতারে থাকে খেজুর, ফল ও হালকা খাবার। দান গ্রহণ নয় মসজিদের জন্য সরকারি বা স্থানীয় দান নেওয়া হয় কি না—এ প্রশ্নে পার্থসারথি স্পষ্ট জবাব দেন, “না, কোনো দান নেই। হারাম না হালাল বুঝি না। তাই দানবাক্সও রাখা হয়নি।” সম্প্রীতির বার্তা স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বারাসাতের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পুরোপুরি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। এখানে মুসলিম ভোটার নেই বললেই চলে। তবুও ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই। এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “এই মসজিদ আমাদের কাছে মন্দিরের মতোই পবিত্র।” অন্য এক বৃদ্ধা জানান, ভোরের আজান তার ঘুম ভাঙায় এবং মানসিক শক্তি জোগায়। ৯০ দশক থেকে দায়িত্বে থাকা মসজিদের ইমাম আক্তার বলেন, “বিশ্বে এমন নজির বিরল। মুসলমানরা এখানে নামাজ পড়ে চলে যান, কিন্তু দেখভাল করেন এক হিন্দু পরিবার। ইসলামে এমন কোনো নিষেধ নেই যে, অন্য ধর্মের মানুষ মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত থাকতে পারবেন না।” ধর্ম নয়, মানবিকতা পার্থসারথি বোস বলেন, “মসজিদের দেখভাল করি, কিন্তু ইসলামের নিয়মে হস্তক্ষেপ করি না।” তার মতে, এটি ধর্মীয় নয়—মানবিক দায়িত্ব। রমজানের আত্মসংযম, আত্মত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির বার্তা যেন নতুনভাবে ব্যাখ্যা করছে বারাসাতের ‘আমানতি মসজিদ’। যেখানে ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষ হয়ে ওঠাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0

Rss feed news

Gold Monetization Scheme: ঘরে রাখা সোনা দেবে টাকা, কী এই ‘গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম’
Gold Monetization Scheme: ঘরে রাখা সোনা দেবে টাকা, কী এই ‘গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম’

ঘরে রাখা সোনা দেবে টাকা, কী এই ‘গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম’

জুলাই ৪, ২০২৬
Success Story: মাত্র ৩ ফুট উচ্চতা, তবু হার মানেননি! শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামাতে পারেনি স্বপ্ন! আজ জেলার সেরা শিক্ষক সঞ্জীব
Success Story: মাত্র ৩ ফুট উচ্চতা, তবু হার মানেননি! শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামাতে পারেনি স্বপ্ন! আজ জেলার সেরা শিক্ষক সঞ্জীব

মাত্র ৩ ফুট উচ্চতা, তবু হার মানেননি! শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামাতে পারেনি স্বপ্ন! আজ জেলার সেরা শিক্ষক সঞ্জীব

জুলাই ৪, ২০২৬
Ram Temple Theft: রামমন্দিরে চুরির তদন্তে নয়া টুইস্ট, চুরির সোনা গলিয়ে কি বিস্কুট করে ফেলা হয়েছে? আদৌ ফিরে পাওয়া যাবে?
Ram Temple Theft: রামমন্দিরে চুরির তদন্তে নয়া টুইস্ট, চুরির সোনা গলিয়ে কি বিস্কুট করে ফেলা হয়েছে? আদৌ ফিরে পাওয়া যাবে?

রামমন্দিরে চুরির তদন্তে নয়া টুইস্ট, চুরির সোনা গলিয়ে কি বিস্কুট করে ফেলা হয়েছে? আদৌ ফিরে পাওয়া যাবে?

জুলাই ৪, ২০২৬
Vaibhav Sooryavanshi: সচিনের ৩৭ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে গেল, মাত্র ১৫ বছর বয়সে ভারতের জার্সিতে অভিষেক বৈভবের
Vaibhav Sooryavanshi: সচিনের ৩৭ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে গেল, মাত্র ১৫ বছর বয়সে ভারতের জার্সিতে অভিষেক বৈভবের

সচিনের ৩৭ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে গেল, মাত্র ১৫ বছর বয়সে ভারতের জার্সিতে অভিষেক বৈভবের

জুলাই ৪, ২০২৬
India vs England Live: ১৪ রানেই থামল বৈভবের প্রথম আন্তর্জাতিক ইনিংস, পাওয়ার প্লে শেষে ফিরলেন অভিষেকও
India vs England Live: ১৪ রানেই থামল বৈভবের প্রথম আন্তর্জাতিক ইনিংস, পাওয়ার প্লে শেষে ফিরলেন অভিষেকও

১৪ রানেই থামল বৈভবের প্রথম আন্তর্জাতিক ইনিংস, পাওয়ার প্লে শেষে ফিরলেন অভিষেকও

জুলাই ৪, ২০২৬
Mamata Banerjee : এবার ২১ জুলাই সমাবেশের ভবিষ্যৎ কী ? ফেসবুক লাইভে মমতা বললেন...
Mamata Banerjee : এবার ২১ জুলাই সমাবেশের ভবিষ্যৎ কী ? ফেসবুক লাইভে মমতা বললেন...

এবার ২১ জুলাই সমাবেশের ভবিষ্যৎ কী ? ফেসবুক লাইভে মমতা বললেন...

জুলাই ৪, ২০২৬
Mamata Banerjee FB LIVE: মমতার মুখে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রসঙ্গ? ফেসবুক লাইভে এসে বললেন...
Mamata Banerjee FB LIVE: মমতার মুখে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রসঙ্গ? ফেসবুক লাইভে এসে বললেন...

মমতার মুখে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রসঙ্গ? ফেসবুক লাইভে এসে বললেন...

জুলাই ৪, ২০২৬
FIFA World Cup 2026: টরন্টোয় রোনাল্ডো-উন্মাদনা, 'সিআর৭'-কে ১০ সেকেন্ড দেখার জন্য রাস্তার ধারে সমর্থকদের ঢল
FIFA World Cup 2026: টরন্টোয় রোনাল্ডো-উন্মাদনা, 'সিআর৭'-কে ১০ সেকেন্ড দেখার জন্য রাস্তার ধারে সমর্থকদের ঢল

টরন্টোয় রোনাল্ডো-উন্মাদনা, 'সিআর৭'-কে ১০ সেকেন্ড দেখার জন্য রাস্তার ধারে সমর্থকদের ঢল

জুলাই ২, ২০২৬