ইত্তেহাদ স্পেশাল

নুরের উপর একের পর এক হামলা : নেই কোন মামলা ,পুলিশ নেয়না কোন ব্যবস্থা

vc nur 20191222142845
print news

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ককোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন দিয়ে আলোচনায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নুরুল হক নুর। ওই আন্দোলনের পর পরিচিতি পাওয়া নুর ছাত্রলীগের প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে ডাকসুর ভিপি পদে নির্বাচিত হন। ডাকসু ভিপি হওয়ার পর থেকে তার ওপর হামলা যেন থামছেই না। হামলা হয়েছে ভিপি হওয়ার আগেও। নিজ ক্যাম্পাসসহ একাধিক জায়গায় বারংবার হামলার শিকার হওয়া এই নেতাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে দেশজুড়ে।

নুরের ওপর হামলাগুলো সংঘটনের পর অভিযোগ উঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। তবে বরাবরই সেসব অভিযোগ খারিজ করে দেয় ছাত্র সংগঠনটি। তবে সবশেষ দুটি হামলায় অভিযোগ গেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের একটি সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ডাকসুতে নিজকক্ষে এই সংগঠনটির ব্যানারে নুরসহ তার সঙ্গিদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে নুরসহ ছয়জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ।

army 20250829221501

হামলার বিষয়ে নুরের প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতৃত্বে প্রশাসনের প্রশ্রয়ে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর, ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হোসেন, মশিউর রহমানসহ অন্তত ৪০ জনের উপর হামলা হয়েছে। কারও পা ভেঙে গেছে, নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে, বমি করছে, বুকের হাড় ভেঙে গেছে। অনেকে আইসিইউতে রয়েছে। অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি।’

হামলার সময় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ব্যানারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তৎপর দেখা গেলেও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কিংবা ছাত্রলীগ কেউই দলগতভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তার দাবি করেছেন, ভিপি নূর বহিরাগতদের নিয়ে ডাকসু ভবনে অবস্থান নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা’ তাদের প্রতিহত করেছে। হামলায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন।

আর ঘটনার পর ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নুর নিজের দুর্নীতি ঢাকতে বহিরাগতদের নিয়ে ডাকসুকে ব্যবহার করে অরাজকতা করছেন। সে সকাল থেকে বহিরাগতদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকসুতে আশ্রয় দিয়ে রেখেছিল।’

 অধ্যাপক একেএম গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নুরসহ আহতদের ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সিতে পাঠিয়েছি। সেখানে সহকারী প্রক্টররা আছেন। আগে চিকিৎসা হোক, পরে সবার বক্তব্য শুনে তারপর ব্যবস্থা নেব।

nur 20250830011641 1

এদিকে ভিপি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিকালে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, ইশা ছাত্র আন্দোলন। প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ছাত্র ফেডারেশন।

হাসপাতালে নুরকে দেখতে যান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সদ্য প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়া জাহাঙ্গীর কবির নানক ও বাহাউদ্দিন নাছিম। এছাড়া ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলও নুরকে দেখতে যান।

ঢাবির মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকলেও কোটা আন্দোলন থেকে ছাত্রলীগের বিরাগভাজন হয়ে ওঠেন নূর। প্রশ্ন ওঠেছে কেন নূরের ওপর বারবার এই হামলা? ভিপি নূরের দাবি, ‘কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি দেশের ছাত্রসমাজের মধ্যে যে আস্থা তৈরি করেছেন, তা নিয়েই ছাত্রলীগ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। আর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চকে তিনি ‘দালালি’ সংগঠন দাবি করছেন। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আসলে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নয়।

এদিকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেল সমাজসেবা সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হওয়া আখতার হোসেন হামলা প্রসঙ্গে বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের পরাজয়ের ক্ষোভ থেকেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করছে। পরিকল্পিতভাবে এই হামলা করে আমাদের অনেককে আহত করা হয়েছে।’

যদিও এসব হামলার সঙ্গে নিজেদের নেতাকর্মী জড়িত এমনটা মানতে চায় না ছাত্রলীগ। সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের দাবি, মানুষের সহমর্মিতা আদায় করতে নূরর আহত হওয়ার বিষয়টিও তারা মানতে রাজি নয়। তারা বলছেন, ছাত্রলীগের কেউ হামলায় জড়িত না। সবশেষ হামলার জন্য নূরের ওপরই দায় চাপিয়েছেন ডাকসুর জিএস ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ প্যানেলের সাহিত্য সম্পাদক প্রার্থী মো. আকরাম হোসাইন বলেন, এ পর্যন্ত ভিপি নূরুল হক নূর নয়বার হামলার শিকার হয়েছেন। নির্বাচনের আগে দুইবার হামলার শিকার হয়েছেন। ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর সাতবার হামলার শিকার হয়েছেন।’

২৮ বছর পর ডাকসুর নির্বাচিত একজন ভিপির ওপর এমন হামলা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নূরের নিরাপত্তায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করে ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এখানে প্রশাসন আছে বলে মনে হয় না। কারণ আহতরা বললো প্রক্টরের সহযোগিতা চাইলে তিনি উল্টো ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার জন্য পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এটা দুঃখজনক। এমন প্রশাসন আমাদের সময় ছিলো না।

Noor

যেখান থেকে হামলা শুরু

সরকারি চাকুরীতে কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন হামলার শিকার হন কোটা আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূরসহ বেশ কয়েকজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর ওই হামলা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গতবছরের ৩০ জুন এই হামলা হয়।

এরপর হামলার শিকার হন ডাকসু নির্বাচনের দিন অর্থাৎ গত ১১ মার্চ। নির্বাচনে ভোট কারচুপির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ঢাবির রোকেয়া হলে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন নূর। হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে। সেখানে বসেই ভিপি পদে জয়ের সংবাদ পান তিনি।

এখানেই শেষ নয়, ভিপি হয়ে ক্যাম্পাসে এসেই হামলার মুখে পড়েন নূর। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরদিন ১২ মার্চ ঢাবিতে ঢোকার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা করে। এছাড়াও গত ২ এপ্রিল এক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে এসএম হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন ভিপি নূর।

এরপরের হামলা ও বাধার মুখে পড়েন ইফতার মাহফিল করাকে কেন্দ্র করে। গত ২৫ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ইফতারে গিয়ে ছাত্রলীগের বাধার মুখে পড়েন নূর। বাধায় ইফতার না করেই ফিরে যেতে হয় তাকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাধা পেলেও পরদিন ২৬ মে ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে গিয়ে নূর হামলা মুখে পড়েন বগুড়ায়। বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে নূরের পক্ষ থেকে।

এরপর নিজ এলাকা পটুয়াখালীর গলাচিপায় হামলার শিকার হন ভিপি নূর। গত ১৪ আগস্ট ঈদুল আজহা উদযাপন করতে গিয়ে তিনি হামলায় আহত হন।

 পাঁচদিনের ব্যবধানে ঢাবি কাম্পাসে দুইবার হামলার শিকার হন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও তার অনুসারীরা। গত ১৭ ডিসম্বের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই হামলায় নূরের দুই আঙুল ভেঙে যায়। আর গতকালকের হামলার শিকার হন ডাকসুতে নিজের কক্ষে।

noorhamla

হামলার প্রেক্ষাপট
শুরুটা সেই কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে। তখন থেকেই হামলা, মামলা, নির্যাতন যেন পিছু ছাড়ছে না ডাকসু’র সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের। ২০১৮ সালে ডাকসু’র নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হতে থাকে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক হামলার শিকার হন নুরুল হক নুর। প্রতিটি হামলার ক্ষেত্রেই অভিযোগ আসে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। তবে ছাত্রলীগ বার বারই তা অস্বীকার করে। গত ৫ বছরে অন্তত ২৫ বার হামলার শিকার হয়েছেন নুর। এতে বেশ কয়েকবার গুরুতর আহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। তবে হামলা হলেও কখনো মামলা হয়নি।
মামলা করতে থানায় গেলেও মামলা আমলে নেয়া হয়নি। উল্টো নুরের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মারধরের পর অনেকবার থানায় অভিযোগ নিলেও তা এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেনি পুলিশ। কাউকে কখনো গ্রেপ্তারও করা হয়নি। অনেকে বলছেন, নুরের ওপর এই হামলা যেন দায়মুক্তির। দেশের একজন নাগরিক এভাবে বার বার হামলার শিকার হচ্ছেন কিন্তু কোনো বিচার হচ্ছে না।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ২০১৮ সালের ৩০শে জুন নুরের ওপর প্রথম হামলা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর ওই হামলা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তখন নুরসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হোন। এরপর হামলার শিকার হন ডাকসু নির্বাচনের দিন ২০১৮ সালের ১১ই মার্চ। নির্বাচনে ভোট কারচুপির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ঢাবি’র রোকেয়া হলে ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হোন নুর। হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে। সেখানে বসেই ভিপি পদে জয়ের সংবাদ পান তিনি।

ওখানেই শেষ নয়, ভিপি হয়ে ক্যাম্পাসে এসেই হামলার মুখে পড়েন নুর। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরদিন ১২ই মার্চ ঢাবিতে ঢোকার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা করে। চড়- ধাপ্পর মেরে আহত করা হয়। এ ছাড়াও ২০১৮ সালের ২রা এপ্রিল এক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে এসএম হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন ভিপি নুর। সেখানেও তাকে কিলঘুষি মারা হয়।

এরপরের হামলা ও বাধার মুখে পড়েন ইফতার মাহফিল করাকে কেন্দ্র করে। ২০১৯ সালের ২৫শে মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ইফতারে গিয়ে জেলা ছাত্রলীগের বাধার মুখে পড়েন নুর। তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে ঠেলা দিয়ে মঞ্চ থেকে ফেলে দেন। বাধায় ইফতার না করেই ফিরে যেতে হয় তাকে।

২০১৯ সালের ১২ই মার্চ নুরুল হক নুর ও তার সহকর্মীদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। তখন নুর গুরুতর আহত হয়ে ৪ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তবে ওই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। শাহবাগ থানায় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলেও তা নেয়া হয়নি। উল্টো নুরের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়। ২০২১ সালের ১৭ই নভেম্বরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ছাত্রলীগের দু’দফায় হামলার শিকার হোন নুরুল হক নুর। তবে পুলিশ হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। ওই ঘটনায় কোনো মামলাও নেয়া হয়নি।

২০১৯ সালের ১৭ই ডিসেম্বর নুরুল হক নুরের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এতে নুরের বাম হাতের আঙ্গুল ভেঙে দেয়া হয়। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন নুর। তখন নুরুল হক নুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ছিলেন। ওই ঘটনায় ২৪শে ডিসেম্বর পুলিশ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করে। হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত তূর্য ও দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এক সপ্তাহ পরেই তারা জামিনে বেরিয়ে যান।

২০১৯ সালের ২৬শে মে বগুড়ায় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন নুরুল হক নুর। হামলায় আহত নুরকে তখন এম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। তবে ওই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

চলতি বছরের ১৮ই জুলাই গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় দখল নিয়ে পুলিশের সঙ্গে হট্টগোল হয় দলটির নেতাকর্মীদের। এ সময় পুলিশের ধস্তাধস্তিতে নুরসহ দু’জন আহত হোন। পরে হাসপাতালে ভর্তি হোন নুর। গত ২রা আগস্ট বড় হামলার ঘটনা ঘটে।

বুধবার বিকালে বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর হামলা-মামলা-হয়রানি বন্ধ, গুলিস্তানে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী হাফেজ রেজাউল করিম হত্যা এবং বুয়েট শিক্ষার্থীদের আটকের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি’র সামনে সমাবেশ ডাকে। সেই সমাবেশে যোগ দিতে শাহবাগ থেকে মিছিল নিয়ে টিএসসি’র কাছাকাছি এলে হামলার শিকার হন নুর। হামলায় নুরসহ ছাত্র অধিকার ও গণঅধিকার পরিষদের ৩০ থেকে ৩৫ জন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ছাত্রলীগ লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় নুরের মিছিলে। এসময় নুরকেও বেধড়ক পেটানো হয়। এই পরিস্থিতিতে নুর ও তার সহযোগীরা দোয়েল চত্বর দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যান। পরে নুরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রতি নুরুল হক নুর কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলন সফল হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ‘গেস্ট-রুম’-‘গণ-রুম’ এবং ছাত্রলীগ নেতাদের সালাম দিয়ে চলার যে সংস্কৃতি ছিল সেটি অনেকটা কমে এসেছে। সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা যখন রাজনীতির মাঠে গরহাজির তখন নুরুল হক নুর ক্রমাগত হামলার শিকার হয়েও জায়গা ছেড়ে দেননি। উল্টো তিনি ছাত্রলীগের সমালোচনায় মুখর। এ বিষয়টি তার জন্য একটি ভিন্নমাত্রা এনে দিয়েছে।

এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য বলেন, নুরের ওপর যতবার হামলা হয়েছে। সব সময়ই সরকার বা তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা করেছে। তারা নুরকে প্রতিপক্ষ মনে করে। এ পর্যন্ত নুুরের ওপর প্রায় ২৫ বার হামলা করা হয়েছে। প্রতিবারই তারা হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছে। তবে তারা ব্যর্থ হয়েছে। সফল হতে পারেনি। হামলা হলে আমরা মামলা করতে গেলে মামলা নেয়া হয় না। বরং মার খাই আমরা। উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা দেয়া হয়। এই সরকারের পুলিশ ও আদালতের প্রতি আমাদের আস্থা নেই। তাই এখন হামলা হলেও আর মামলা করতে যাই না। কারণ গেলেও লাভ নেই। তারা মামলা নিবে না সেটা আমাদের জানা আছে। তাই এখন থেকে হামলা হলে রাজনৈতিকভাবে জবাব দিতে হবে। থানায় গিয়ে সময় নষ্ট করে লাভ নাই।

 

image 218102 1756488241

সবশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলা

রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে।শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (ওসিসি) থেকে নুরকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউর ৯ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন আছেন।

 

সর্বশেষ  গুরুত্বপূর্ণ  সব  সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের  ফেসবুক পেইজে  লাইক  দিয়ে  অ্যাকটিভ  থাকুন।  ভিজিট করুন : http://www.etihad.news

অনলাইন  নিউজ পোর্টাল  ইত্তেহাদ নিউজে  লিখতে  পারেন  আপনিও। লেখার বিষয়  ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন  [email protected] ঠিকানায় ।

সংবাদটি শেয়ার করুন....
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক :

ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক :

About Author

etihad news is one of the famous Bangla news portals published from Abudhabi-UAE. It has begun with a commitment to fearless, investigative, informative, and independent journalism. This online portal has started to provide real-time news updates with maximum use of Smart Technology.