হোটেল জাকারিয়ায় হামলা যুবদল নেতা মনির বহিষ্কার


ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : রাজধানীর বনানী এলাকার হাটেল জাকারিয়া ইন্টারন্যাশনালে দল বেঁধে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতে বনানী থানা যুবদলের আহ্বায়ক মনির হোসেনের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার বনানী থানায় একটি মামলা করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।
তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত অভিযুক্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি থানা পুলিশ। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যপক সমালোচনা শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল রাতে মনির হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠন থেকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে যুবদল।
জাকারিয়া হোটেলে হামলার ঘটনাটি নিশ্চিত করেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাসেল সরোয়ার। তিনি গতকাল রাতে এই প্রতিবেদন লেখার সময় বলেন, হামলার ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। এরপর আমরা ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছি। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে আমাদের একটি দল এখনও অভিযানে আছে।
জানা গেছে, হোটেল জাকারিয়ার করা মামলায় ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন, মনির (৪২), লিটন (৩০), হাসান (৩৫), সামু (৩২) ও জহির (৩০)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ওই যুবদল নেতা মনির হোসেনকে গ্রেফতার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা না নেওয়ার সমালোচনা শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মনির হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠন থেকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে যুবদল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত নেতাদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতা–কর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, শাড়ি পরা এক নারী হোটেলটির সিড়ি দিয়ে দৌড়ে নিচে নামছেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে এক ব্যক্তি ওই নারীর পথ রোধ করে শরীরে আঘাত করছেন। তার হামলায় ওই নারী মেঝেতে পড়ে যান। ওই সময় তার পেছনে আরেক নারীও নামার চেষ্টা করছিলেন। তাকে পেছন থেকে ধাওয়া করছিলেন কয়েকজন। একজন তাকে ধরে নিচে ফেলে দেন। এরপর হামলাকারীরা সবাই মিলে মেঝেতে পড়ে যাওয়া দুই নারীকে আক্রমণ করেন, তখন তারা চিৎকার করছিলেন। হামলায় ৮ থেকে ১০ জনকে দেখা যায়। এসময় তাদের কেউ কেউ ভিডিওটির সীমানার বাইরে চলে যান। আবার নতুন করে কয়েকজনকে সেখানে ঢুকতে দেখা যায়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ৩০ জুন রাত ৮ টা ৫মিনিটের দিকে অভিযুক্ত মনির হোটেলটির রেস্টুরেন্ট এন্ড বারে এসে একটি ভিআইপি রুম নিতে চায়। কিন্তু ওই কক্ষে অতিথি থাকায় মনিরকে ভিআইপি রুম দেওয়া সম্ভব হয়নি। তখন তিনি বারে খাবার ও ড্রিংকস অর্ডার করে। খাবার শেষে স্থানীয় নেতা পরিচয় দিয়ে বিল ডিসকাউন্ট চায়। তাকে ডিসকাউন্ট করে দিয়ে বিল গ্রহণ করা হয়। এরপর সে ভিআইপি রুম না দেওয়ার ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে দেখে নিবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাত ৮ টা ৪০ মিনিটের দিকে বারের ভিতরে প্রবেশ করে মনিরের নির্দেশে লিটন বার থেকে ১টি গ্লাস হাতে নিয়ে ফ্লোরে ছুরে ভেঙ্গে বলে, মনির ভাই তোদের হোটেলে আসছিল, তোরা মনির ভাইকে ভিআইপি কেবিন না দিয়ে অসম্মান করেছিস, আমরা মনির ভাইয়ের লোক, তোরা মনির ভাইকে চিনে রাখবি। এরপর তারা টিভি, টেবিল, চেয়ার, ক্রোকারিজ, সিসি টিভি মনিটর, সিসি টিভি ক্যামেরা, ল্যাপটপ ও গ্লাস ভাংচুর করে দশ লাখ টাকার ক্ষতি করে।
এরপর অন্যরা হোটেলের অফিস রুম ও ক্যাশ কাউন্টার থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকাসহ আনুমানিক ৫ পাঁচ লাখ টাকার মদ ও বিয়ার কৌশলে চুরি করে নিয়ে যায়। তখন বারের স্টাফরা বাধা দিতে গেলে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে হুমকি দেয়, বিষয়টি পুলিশকে হোটেলে ব্যবসা বন্ধ করে দিবে এবং মেরে ফেলবে।
সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news
* অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায় ।