Brand logo light

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

মার্কিন প্রস্তাবে ট্রাম্পের বিপক্ষে ৪ রিপাবলিকান, সিনেটে পাস
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে চাপে ফেলল মার্কিন সিনেট, নতুন নিষেধাজ্ঞা ও তেহরানের হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র

মধ্যপ্রাচ্যে টানা প্রায় তিন মাসের সংঘাতের মধ্যে এবার যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই বড় চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অভিযানের ৮০ দিনের মাথায় মার্কিন সিনেট এমন একটি যুদ্ধ-ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যা কার্যকর হলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত হয়ে যেতে পারে। মঙ্গলবারের ভোটে চার রিপাবলিকান সিনেটর নিজ দলের প্রেসিডেন্টকে অগ্রাহ্য করে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে অবস্থান নেন। ৫০-৪৭ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাবকে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিরল প্রকাশ্য রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিপাবলিকানদের ভাঙন কেন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল, সুসান কলিন্স, লিসা মুরকোস্কি এবং বিল ক্যাসিডি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। আরও তিন রিপাবলিকান অনুপস্থিত ছিলেন। মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকানদের এই অবস্থান কেবল প্রতীকী নয়; বরং এটি প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার সাংবিধানিক সীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। ডেমোক্র্যাটরা যুক্তি দিচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী কোনো প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি সময় সামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখতে পারেন না। তাদের দাবি, সেই সময়সীমা ১ মে শেষ হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের অবস্থান ভিন্ন। প্রশাসনের দাবি, ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির কারণে ওই সময়সীমার হিসাব স্থগিত ছিল, ফলে ট্রাম্পের হাতে এখনো অতিরিক্ত সময় রয়েছে। যুদ্ধের মানবিক ও অর্থনৈতিক মূল্য ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চলে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রের হিসাব। একই সঙ্গে জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও শিল্প খাতে শত শত কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ থামাতে পারবে কি সিনেট? যদিও সিনেটের ভোট তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পকে সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য করছে না, তবুও এটি প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট কার্যকর করতে হলে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। ফলে বাস্তবে প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হওয়া এখনও কঠিন। তবে এই ভোট যুদ্ধবিরোধী আইনপ্রণেতাদের জন্য একটি বড় প্রতীকী জয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। নতুন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্ক লক্ষ্যবস্তু রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১২ ব্যক্তি, ২৯টি প্রতিষ্ঠান এবং ১৯টি জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব নেটওয়ার্ক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেহরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশে সহায়তা করছিল। নিষেধাজ্ঞার অন্যতম লক্ষ্য ‘আমিন এক্সচেঞ্জ’, যা ‘ইব্রাহিমি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস পার্টনারশিপ কোম্পানি’ নামেও পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে ভুয়া কোম্পানির নেটওয়ার্ক গড়ে ইরানি ব্যাংকের হয়ে লেনদেন পরিচালনা করেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট অভিযোগ করেন, ইরানের তথাকথিত “ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা” সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অর্থ স্থানান্তরে ব্যবহৃত হচ্ছে। জাহাজ থেকে তেল—নিষেধাজ্ঞার বিস্তৃতি নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে কয়েকটি তেল ও কেমিক্যালবাহী জাহাজকেও। এর মধ্যে রয়েছে— বার্বাডোজের পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাংকার গ্রেট সেইল পালাউয়ের পতাকাবাহী ট্যাংকার ওশান ওয়েভ পানামার পতাকাবাহী কেমিক্যাল ও অয়েল ট্যাংকার সুইফট ফ্যালকন যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এসব জাহাজ ইরানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে জড়িত ছিল। নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্পদ জব্দ করা হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিক ও কোম্পানিগুলোর জন্য তাদের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ থাকবে। ‘আরও বড় সারপ্রাইজ’—ইরানের নতুন হুঁশিয়ারি উত্তেজনার মধ্যেই কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ইরান প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। আরাগচির ভাষায়, “আগের যুদ্ধ থেকে আমরা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তা ভবিষ্যৎ সংঘাতে আরও বড় সারপ্রাইজ দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা ‘কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ড্রোনসহ অন্তত ৪২টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। যদিও এই দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি। কূটনীতির শেষ সুযোগ? ইরানের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি থেমে যায়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, উত্তেজনা সত্ত্বেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং দুই পক্ষ “গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি” অর্জন করেছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধ বন্ধে “দুই থেকে তিন দিন” সময় বেঁধে দিয়েছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সামরিক সংঘাত, জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সাংবিধানিক রাজনীতি—সবকিছু একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখন কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের নয়; বরং এটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের ক্ষমতার লড়াইয়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক ভূরাজনীতিরও বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২০, ২০২৬ 0
পশ্চিমবঙ্গে গরু কোরবানিতে বিধিনিষেধ, হিন্দু ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত!
ভারতের বিজেপি সরকারের নতুন আইনে পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির গরু সংকট: নতুন বিধিনিষেধে বিপাকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ঈদুল আজহার আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গরু কেনাবেচা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিজেপি সরকারের নতুন পশু জবাই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে মুসলিম ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে হিন্দু খামারি ও গরু ব্যবসায়ীদের ওপর। একই সময়ে ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধের ঘোষণাও রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ঈদুল আজহা সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পশুর হাটে সাধারণত যে বেচাকেনার চাপ দেখা যায়, এবার তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নতুন আইনি বিধিনিষেধ এবং প্রশাসনিক নজরদারির কারণে মুসলিম ক্রেতারা গরু কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে কোটি টাকার বাজারে নেমে এসেছে স্থবিরতা। গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা ‘পশু জবাই সংক্রান্ত নির্দেশিকা’ অনুযায়ী, সরকারি অনুমতি ও সরকারি পশু চিকিৎসকের ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর কিংবা স্ত্রী-পুরুষ মহিষ জবাই করা যাবে না। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো পশুকে জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করতে হলে তার বয়স অন্তত ১৪ বছর হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা শ্রমের কাজে অক্ষম হতে হবে। গুরুতর আঘাত, স্থায়ী বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগে আক্রান্ত পশুর ক্ষেত্রেও বিশেষ অনুমতির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া শুধুমাত্র অনুমোদিত কসাইখানা বা প্রশাসন নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে বা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় পশু জবাই করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ঈদের বাজারে অনিশ্চয়তা মুর্শিদাবাদ, মালদহ, নদীয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের গরু ব্যবসা হয়। স্থানীয় হিন্দু খামারিদের বড় একটি অংশ এই মৌসুমি বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এবার ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন নিয়মে ১৪ বছরের কম বয়সী গবাদিপশু নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় ক্রেতারা হাটে আসলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়ছেন। পুলিশের হয়রানি বা আইনি জটিলতার আশঙ্কাও অনেকের মধ্যে কাজ করছে। ফলে অনেকে গরুর বদলে ছাগল বা ভেড়ার দিকে ঝুঁকছেন। এতে বড় আকারের গরু খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একাধিক খামারি জানিয়েছেন, বছরজুড়ে গরু লালন-পালনের পর ঈদের বাজার থেকেই তারা মূল বিনিয়োগ ফেরত পান। কিন্তু এবার বিক্রি না হলে ঋণের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। সরকারের অবস্থান কী? সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং খুব দ্রুত একটি “সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা” ঘোষণা করা হতে পারে। মন্ত্রী বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টা নিজে দেখছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুব তাড়াতাড়ি কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হবে।” যদিও সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শিথিলতার ঘোষণা দেয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে—ঈদ, আদালতের গাইডলাইন এবং জনমতের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মধ্যপন্থী সমাধানের চেষ্টা করা হতে পারে। ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নতুন বিধিনিষেধকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, কোরবানির মতো ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলে তা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র খামারি ও পশু ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক ক্ষতিও গভীর হবে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, এই পদক্ষেপ মূলত অবৈধ পশু জবাই ও প্রকাশ্যে কসাই কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনতেই নেওয়া হয়েছে। দলটি দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু সংরক্ষণ ও “আইনসম্মত জবাই ব্যবস্থার” পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধের ঘোষণা পশু জবাই নির্দেশিকার বিতর্কের মধ্যেই রাজ্য সরকার ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন ভাতা ও সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধের ঘোষণাও দিয়েছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আগামী ১ জুন থেকে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য চালু থাকা ভাতা প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে একইসঙ্গে সরকার “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার” প্রকল্পকে পুনর্গঠন করে “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার” নামে চালুর ঘোষণা দিয়েছে। আগের সুবিধাভোগীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হবেন বলেও জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বার্তা নাকি প্রশাসনিক সংস্কার? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই বিজেপির এই ধারাবাহিক সিদ্ধান্তগুলো মূলত তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধ, পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদারের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন সরকার তাদের ভোটারদের কাছে একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে। তবে এর বাস্তব অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের ওপর—বিশেষ করে ঈদুল আজহার বাজার পরিস্থিতি এবং সরকারের সম্ভাব্য নতুন ঘোষণার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
ইরান
ইরানকে ঘিরে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা: ট্রাম্পের হুমকি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভেদের অভিযোগ তেহরানের

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ঘনীভূত হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বে বিভেদ সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ভাষার হুমকি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানি প্রেসিডেন্টের দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া। পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও “জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী” ইরানে হামলার মাধ্যমে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিল, যাতে দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তার অভিযোগ, পশ্চিমা শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস ও বিভাজন তৈরির কৌশল অনুসরণ করছে, যাতে আঞ্চলিক ঐক্য দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়। ‘পুনরায় হামলা হলে ভয়াবহ জবাব’ এদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফজল শেকারচি মার্কিন প্রশাসনকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার প্রতিক্রিয়া হবে “নজিরবিহীন”। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি আবারও ইরানে হামলার পথ বেছে নেয়, তবে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ “আকস্মিক ও তীব্র আঘাতের” মুখে পড়বে। শেকারচির ভাষায়, ইরান একটি দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা ও সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে। শান্তি আলোচনা অচলাবস্থায় ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে তেহরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত কোনও বড় ছাড় দিতে রাজি হয়নি। বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানকে মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখার অনুমতি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদের সামান্য অংশও ছাড় করতে রাজি হয়নি। একই সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য কোনও ধরনের ক্ষতিপূরণ নিয়েও ওয়াশিংটনের আগ্রহ নেই বলে দাবি তেহরানের। ইরানের দৃষ্টিতে এসব শর্ত “শান্তির প্রস্তাব” নয়; বরং কৌশলগত চাপ সৃষ্টির অংশ। মেহর নিউজ এজেন্সিও একই ধরনের অভিযোগ তুলে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে, যা তারা সামরিকভাবে অর্জন করতে পারেনি। ইরানের পাল্টা প্রস্তাব কী ছিল তেহরানের প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। বিশেষ করে, ইসরায়েলের লেবানন অভিযান বন্ধ, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানায় ইরান। এ ছাড়া বিদেশে অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্ত করার আহ্বানও ছিল ওই প্রস্তাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ যুদ্ধের শুরু থেকেই কার্যত সীমিত অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্পের নতুন হুমকি এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে উদ্দেশ করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “সময় ফুরিয়ে আসছে। তাদের খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্যথায় আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।” একই পোস্টে বড় অক্ষরে তিনি লেখেন, “সময় অত্যন্ত মূল্যবান।” এর আগে ট্রাম্প নিজের একটি ছবি পোস্ট করে সেটির ক্যাপশনে লিখেছিলেন, “এটি ছিল ঝড়ের আগের শান্ত অবস্থা।” ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ফোনালাপের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইরান। যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চীনের উদ্বেগ নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার কয়েক দিন আগেই চীন সফর শেষ করেন ট্রাম্প। সফরকালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও শি সরাসরি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি, তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের ভাষ্য, এটি এমন একটি যুদ্ধ “যা কখনও শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং যার অব্যাহত থাকারও কোনও যৌক্তিকতা নেই।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
ইরান সংকটে অচলাবস্থা
নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনায় কোনও সমাধান না আসায় দুই দেশই সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আগের চেয়ে আরও তীব্র ও ব্যাপক বোমাবর্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের কৌশলগত তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের বিষয়টিও বিবেচনায় আছে। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহের পরিকল্পনাও চলছে। তবে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে বড় ধরনের হতাহতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করে সরাসরি সংঘর্ষের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-কে দেওয়া এক বক্তব্যে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধ প্রায় অনিবার্য ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এখন মূল নজর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের দিকে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রও বুঝতে পারছে যে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা থেকে কার্যকর সমাধান আসবে না। তার ভাষায়, “আমরা কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।” এর আগে চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরান যদি দীর্ঘমেয়াদে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। যদিও আগে তিনি পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের শর্ত দিয়েছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন কাঁটাতার তৎপরতা: মালদহে দ্রুত বেড়া নির্মাণ, ‘পুশ-ইন’ আশঙ্কায় উদ্বেগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অংশে বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে দ্রুত তৎপরতা শুরু করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সীমান্তের উন্মুক্ত অংশে কাজ শেষ করতে প্রশাসন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালদহ জেলার হাবিবপুর ও কালিয়াচক-৩ ব্লকের সীমান্ত এলাকায় দ্রুত বেড়া নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন হঠাৎ এই তৎপরতা? ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, মালদহ জেলার প্রায় ১৭০ কিলোমিটার সীমান্তের বড় অংশ এখনও অরক্ষিত রয়েছে। উন্মুক্ত সীমান্ত ব্যবহার করে অনুপ্রবেশ, জাল নোটের বিস্তার এবং চোরাচালান বাড়ছে— এমন যুক্তি দেখিয়ে সীমান্তে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে। মালদহের জেলা প্রশাসক রাজনবীর সিং কাপুর জানিয়েছেন, বিএসএফ, সিপিডব্লিউডি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তের প্রায় ৩৩ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণের জন্য ২৬০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ভারতের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো মনে করছে, সীমান্তের যেসব অংশ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে, সেগুলো নিরাপত্তা ঝুঁকির বড় উৎস হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মালদহ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও অবৈধ পারাপারের জন্য আলোচিত। শুধু নিরাপত্তা নয়, রাজনৈতিক হিসাবও? তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশ বিষয়টিকে কেবল নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে দেখছেন না। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশের মতে, পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাও এই উদ্যোগের পেছনে প্রভাব ফেলতে পারে। তার ভাষ্য, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বিপুলসংখ্যক মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এসব মানুষের একটি অংশকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে “পুশ-ইন” করার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে অবকাঠামো জোরদারের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যু ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল ও নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশের উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষক হুমায়ুন কবির বলেছেন, সীমান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশ এখন আর “নতজানু অবস্থানে” নেই। কাঁটাতারের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশকে চাপে রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সীমান্তে কোনো ধরনের “পুশ-ইন” যেন না ঘটে, সে বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সীমান্তে নতুন বেড়া নির্মাণের বিষয়েও ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা? বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে ভারতের এই নতুন তৎপরতা শুধু দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা ইস্যু নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতি এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, অভিবাসন রাজনীতি এবং কৌশলগত বার্তা— এই তিনটি বিষয় এখন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। ফলে মালদহ সীমান্তে কাঁটাতারের এই নতুন প্রকল্প ভবিষ্যতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৬, ২০২৬ 0
ইসরাইল
গাজা যুদ্ধের পর বিশ্বে সবচেয়ে নেতিবাচক ভাবমূর্তির দেশ ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রও নেমেছে ‘হুমকি রাষ্ট্র’ তালিকায়

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের মানুষের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা দেশ ইসরাইল। এর পরেই রয়েছে উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরান। বিপরীতে সবচেয়ে ইতিবাচক ভাবমূর্তির দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, সুইডেন ও ইতালির নাম। গণতন্ত্র ও বৈশ্বিক জনমত নিয়ে পরিচালিত নতুন আন্তর্জাতিক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ‘গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশনস ২০২৬’ শীর্ষক এই সমীক্ষা পরিচালনা করেছে বৈশ্বিক জরিপ সংস্থা Nira Data। জরিপে বিশ্বের ১২৯টি দেশ ও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নিয়ে ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতা মতামত দিয়েছেন। একইসঙ্গে সংস্থাটির ‘গ্লোবাল ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স ২০২৬’ জরিপে ৯৮টি দেশের ৯৪ হাজার ১৪৬ জন নাগরিক নিজ নিজ দেশে গণতন্ত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। গাজা যুদ্ধের প্রভাব জরিপ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গাজায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান, ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা, খাদ্য ও মানবিক সহায়তায় অবরোধ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরাইলের ভাবমূর্তি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক আদালতগুলোও ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধ আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা অভিযানের পর বিশ্ব জনমতের পরিবর্তন দ্রুত দৃশ্যমান হয়। এতে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, গাজার অধিকাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় পড়েছে। জাতিসংঘের একাধিক বিশেষজ্ঞ ও গণহত্যা গবেষক পরিস্থিতিকে “গণহত্যাসদৃশ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিতেও বড় পতন সমীক্ষায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার নাটকীয় অবনতি। জরিপ অনুযায়ী, বৈশ্বিক জনমতের বিচারে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা পাঁচ দেশের একটি। এমনকি আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার সূচকে দেশটি রাশিয়া ও চীনেরও নিচে অবস্থান করছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেট ইতিবাচক ধারণার স্কোর ছিল +২২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে -১৬ শতাংশে। মাত্র দুই বছরে ৩৮ পয়েন্ট পতনকে গবেষকেরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর পররাষ্ট্রনীতি, ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনা, আগ্রাসী শুল্কনীতি, গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিতর্কিত অবস্থান, ইউক্রেনকে সহায়তা কমানো এবং ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরাইল জোটের ভূমিকা বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া বহু উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রকে এখন “বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি” হিসেবে দেখছেন। এ তালিকায় রাশিয়া ও ইসরাইলের পরই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান উঠে এসেছে। ‘দ্বৈত মানদণ্ডের’ অভিযোগ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে ইসরাইলের প্রতি ওয়াশিংটনের অব্যাহত সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘে ইসরাইলকে জবাবদিহি থেকে রক্ষা করা, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অস্ত্র সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং মানবাধিকার প্রশ্নে নির্বাচিত অবস্থান নেওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে মার্কিন নীতিকে “দ্বৈত মানদণ্ড” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে অনেকের চোখে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর শুধু একটি বৈশ্বিক শক্তি নয়; বরং আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতা ও সংঘাত রাজনীতিরও প্রতীক হয়ে উঠছে। গণতন্ত্র মূল্যায়নের নতুন ধারা ‘গ্লোবাল ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স ২০২৬’ নিজেদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ষিক গণতন্ত্র জরিপ হিসেবে দাবি করেছে। বিশেষজ্ঞভিত্তিক রেটিংয়ের পরিবর্তে এই জরিপে সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গণতন্ত্রের মান মূল্যায়ন করা হয়। জরিপে যেসব সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— নির্বাচনী ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রাজনৈতিক বহুত্ববাদ নাগরিক শিক্ষা ক্ষমতার ভারসাম্য আইনের শাসন সরকারের স্বচ্ছতা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনীতি, যুদ্ধ এবং মানবাধিকার সংকট এখন শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়; বরং দেশগুলোর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: আরও দুই বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস। নিখোঁজ দুই বাংলাদেশির একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও আরেকজন এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার (১৩ মে) দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, গত ১১ মে রাতে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে জেলার মাইফাদুন এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় সাতক্ষীরার শ্রী শুভ কুমার দাস এবং নরসিংদীর করিম মিয়ার মৃত্যুর তথ্য বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যায়। দূতাবাস বলছে, লেবানিজ আর্মি ও লেবানিজ রেডক্রসের সহায়তায় বুধবার ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি অঙ্গবিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর সেটি শ্রী শুভ কুমার দাসের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন একই এলাকায় বসবাসকারী আরেক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী রাজিব। মরদেহটি বর্তমানে নাবাতিয়ের নাযদ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে একই ভবনে অবস্থানকারী বাংলাদেশি কর্মী করিম মিয়ার মরদেহ এখনও উদ্ধার করা যায়নি। স্থানীয় সূত্রের বরাতে দূতাবাস জানিয়েছে, তার মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে। তবে চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি চালানো সম্ভব হয়নি। দূতাবাস জানিয়েছে, সম্ভাব্য দ্বিতীয় মরদেহ উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন, লেবানিজ আর্মি এবং রেডক্রসের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সংঘাতের মধ্যে ঝুঁকিতে প্রবাসীরা গত কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিয়মিত বিমান হামলা ও ড্রোন আক্রমণের কারণে সেখানে অবস্থানরত বিদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের একটি অংশ জীবিকার তাগিদে সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো নতুন করে তাদের নিরাপত্তা ও জরুরি সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এর আগে গত সোমবারও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই বাংলাদেশি কর্মী নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সর্বশেষ দূতাবাসের নিশ্চিত তথ্যে নিহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। দূতাবাসের তৎপরতা বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, মরদেহ সংরক্ষণ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ চলছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চলমান সংঘাতের কারণে দক্ষিণ লেবাননে উদ্ধার তৎপরতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই হতাহতদের শনাক্ত ও উদ্ধারে সময় লাগছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
এনসিপি-জামায়াত
বাংলাদেশের স্থানীয় ভোটে আগাম দখলযুদ্ধ, মাঠে জামায়াত-এনসিপি; কৌশলগত চাপে বিএনপি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আগাম শক্তি প্রদর্শনের লড়াই। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—সব স্তরেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, গণসংযোগ এবং নেপথ্য সমঝোতা এখন দৃশ্যমান। তবে এই প্রস্তুতির কেন্দ্রে রয়েছে ১১-দলীয় জোটের দুই গুরুত্বপূর্ণ শরিক—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিপরীতে, এখনো দৃশ্যমান তৎপরতায় তুলনামূলক পিছিয়ে রয়েছে বিএনপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু প্রশাসনিক প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নয়; এটি মূলত তৃণমূল রাজনৈতিক শক্তি, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং ভোটব্যাংক যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর মঞ্চ। ফলে জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় ভোটকে ঘিরে দলগুলোর কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আগেভাগে মাঠে জামায়াত-এনসিপি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনি সমীকরণ মেলাতে ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়েছে জামায়াত ও এনসিপি। প্রকাশ্যে মতভিন্নতা থাকলেও, দুই দলের মধ্যে সমঝোতা ও প্রতিযোগিতা—দুই কৌশলই একসঙ্গে এগোচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট। জামায়াতের পক্ষে ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও প্রকাশ্যে প্রচারণা শুরু করেছেন। একই ধরনের সমীকরণ তৈরি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরেও। জামায়াতের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, সিটি করপোরেশন পর্যায়ে জোটগত সমঝোতার সম্ভাবনা প্রবল হলেও উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে শরিক দলগুলোকে অনেকাংশে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাই বেশি। তবে এনসিপির অবস্থান কিছুটা আলাদা। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় কিছু এলাকায় জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হলেও রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিটিতে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য একক প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নিয়েছে তারা। ‘সমঝোতা’ না ‘শক্তি পরীক্ষা’? এনসিপি ইতোমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে ১০০ সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৫০ জন এবং পৌর মেয়র পদে রয়েছেন আরও ৫০ জন। দলটির পরিকল্পনায় আরও অন্তত ৪০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা রয়েছে বলে জানা গেছে। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীরা এখন থেকেই মাঠে কাজ শুরু করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই তৎপরতা মূলত নিজেদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভোটের সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রচেষ্টা। বিএনপি ও জামায়াতের মতো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান মাপতে চাইছে দলটি। অন্যদিকে জামায়াতও তরুণ ভোটার, নারী ভোটার এবং সাংগঠনিক নেটওয়ার্ককে সামনে রেখে আলাদা প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির নারী বিভাগও ইতোমধ্যে নির্বাচনি কার্যক্রমে সক্রিয় হয়েছে বলে জানা গেছে। অনলাইন দ্বন্দ্ব, নেপথ্যে সমন্বয় দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য বিতর্ক ও অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা বাড়লেও সংশ্লিষ্টরা এটিকে নির্বাচনি কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় রাখলে ভোটারদের কাছে পরিচিতি তৈরি হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন যেই পাক না কেন, দলীয় উপস্থিতি ও প্রচারণা—দুটিই লাভবান হয়। জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জুলাই চেতনায় বিশ্বাসী শক্তিগুলোকে নিয়েই আমরা এগোতে চাই। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও সমঝোতার ভিত্তিতে এগোনোর চিন্তা রয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সবাই নিজেদের অবস্থানও যাচাই করতে চায়।” বিএনপি কেন পিছিয়ে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি এখনো দৃশ্যমান নয়। দলটি জাতীয় রাজনীতির বড় ইস্যুতে সক্রিয় থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের প্রচারণায় জামায়াত ও এনসিপির তুলনায় অনেকটাই নীরব। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করতে চাইছে জামায়াত ও এনসিপি। বিশেষ করে নতুন ভোটার ও তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে দুই দলই। কৌশলের কেন্দ্রে ‘জোট রাজনীতি’ ১১-দলীয় জোটের ভেতরে আপাত মতভিন্নতা থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মূলত ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’। জাতীয় নির্বাচনে যে সমন্বয়কেন্দ্রিক কৌশল নেওয়া হয়েছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমঝোতা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। তবে দলগুলো কৌশলগত প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, “জাতীয় নির্বাচনের আগেই অধিকাংশ জায়গায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হলে কোথায় কতটুকু ছাড় দেওয়া হবে, সেটি তখন বিবেচনায় আসবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৩, ২০২৬ 0
গাজার ধ্বংসস্তূপে এখনো চাপা ৮ হাজার মরদেহ
গাজার ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে হাজারো মরদেহ, উদ্ধার থমকে সরঞ্জাম সংকটে

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : গাজা উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপের নগরী। স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের দাবি, ইসরাইলি হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের নিচে এখনো অন্তত ৮ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে। কিন্তু উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় সেসব মরদেহ বের করা সম্ভব হচ্ছে না। আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল বলেন, তাদের হাতে থাকা উদ্ধার সরঞ্জাম “পুরোনো ও অকার্যকর”। ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ সরানোর মতো সক্ষমতা বর্তমানে তাদের নেই। তার ভাষায়, “ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। প্রতিদিন নতুন নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।” ধ্বংসস্তূপে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বাড়ছে ইঁদুরের উপদ্রব গাজার মানবিক সংকট এখন শুধু খাদ্য ও চিকিৎসা ঘাটতিতে সীমাবদ্ধ নেই। সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ধ্বংসস্তূপ পড়ে থাকায় সেখানে ইঁদুর ও ক্ষতিকর প্রাণীর বিস্তার ঘটছে, যা নতুন জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে। মাহমুদ বাসসালের অভিযোগ, ভারী উদ্ধারযন্ত্র গাজায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ইঁদুরনাশক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে ৬ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপ জমে আছে। এর মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। ৮১ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত দীর্ঘ সামরিক অভিযান, বিমান হামলা ও বিস্ফোরণে গাজার অবকাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী— ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে আরও প্রায় ৭৫ হাজার ভবন আংশিক বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত গাজার মোট অবকাঠামোর প্রায় ৮১ শতাংশ ক্ষতির মুখে পড়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পুরো গাজা পরিষ্কার ও পুনর্গঠনে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। নিহত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নিহতদের একটি বড় অংশ নারী ও শিশু। পশ্চিম তীরে সহিংসতা: ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পথে ইইউ এদিকে দখলকৃত পশ্চিম তীরে সহিংস ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, হাঙ্গেরির নতুন সরকার এ বিষয়ে আর বাধা দেবে না বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই উদ্যোগ আটকে রেখেছিলেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ারের দায়িত্ব গ্রহণের পর অবস্থানে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। কাজা কালাস বলেন, “সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।” ইউরোপে বাড়ছে কঠোর অবস্থানের চাপ ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভাল্টোনেন পশ্চিম তীরে সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেনডসেন আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এসব ঘটনায় কার্যত দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১৫৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ৭৫০ জন এবং আটক হয়েছেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন, মুখোমুখি ওয়াশিংটন-তেহরান

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং(আইআরআইবি)। সোমবার নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরআইবি দাবি করে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবটি ছিল মূলত “ট্রাম্পের লোভের কাছে ইরানের নতি স্বীকার” করানোর প্রচেষ্টা। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের পক্ষ থেকে পাঠানো পাল্টা জবাবে “ইরানি জাতির মৌলিক অধিকার” রক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইআরআইবি আরও জানায়, ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণহরমুজ প্রণালী–এর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তেহরান দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি অর্থ ও সম্পদ মুক্ত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও উভয় পক্ষের অবস্থান এখনো স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী রয়ে গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি
মুজতবা খামেনিকে ঘিরে রহস্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় বদলাচ্ছে বৈশ্বিক কূটনীতি

মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, গুরুতর আহত অবস্থায় জনসমক্ষে না এলেও ইরানের কৌশলগত সিদ্ধান্তে এখনো প্রভাব রাখছেন মুজতবা খামেনি। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে উদ্বেগ বাড়ছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের মধ্যে।                                                                                                                                               ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের প্রভাবশালী নেতা মুজতবা খামেনিকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকলেও তিনি এখনো ইরানের যুদ্ধ ও কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শনিবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামো আগের তুলনায় আরও জটিল ও অস্বচ্ছ হয়ে উঠেছে। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মুজতবা খামেনির প্রভাব এখনো গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান অবশ্য এসব দাবি পুরোপুরি নাকচ করেছে। তেহরানের কর্মকর্তারা বলছেন, তিনি সুস্থ আছেন এবং তার আঘাত দ্রুত সেরে উঠছে। জনসমক্ষে অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন যুদ্ধ শুরুর দিকে ভয়াবহ হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। ওই হামলায় মুজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হন বলে দাবি মার্কিন গোয়েন্দাদের। এরপর থেকেই তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তার অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কারণ তিনি কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবহার করছেন না। বরং সীমিত পরিসরে দূত বা সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব তথ্যের বড় অংশ অস্বীকার করেছে। সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি মুজতবা খামেনির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন। যুদ্ধের পর এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রথম প্রকাশ্য বৈঠক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন আলোচনা এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে দ্রুত জবাব আসতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আজ রাতেই জবাব আসতে পারে। আমরা একটি চিঠির অপেক্ষায় আছি।” তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে কী রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এর আগে ইরানের দুটি ট্যাংকার জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করায় ওই ট্যাংারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে ঘিরে বড় সামরিক সংঘাত শুরু হয়। প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা ওই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ে। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। যদিও যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেটির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন। ইউরোপে বাড়ছে উদ্বেগ বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার চাপ পড়েছে ইউরোপের অর্থনীতিতে। একই সময়ে জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা কমানোর ঘোষণা এবং ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি হ্রাসের ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, ইউরোপীয় মিত্ররা নিজেদের নিরাপত্তা ব্যয়ের যথেষ্ট অংশ বহন করছে না। মিত্রদের মধ্যে আস্থার সংকট হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরান ইস্যুতে ইউরোপের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সহায়তা দেয়নি। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সক্রিয় হচ্ছে। যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, আঞ্চলিক সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপ পুরোপুরি আত্মনির্ভর হতে এখনো সময় লাগবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি তাদের নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় নতুন হিসাব মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া অনেকের কাছে যথেষ্ট কঠোর মনে হয়নি। কিছু মিত্র দেশ আশঙ্কা করছে, ইরানের সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতা হলে যা তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, তাহলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশীয় মিত্ররাও পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি ও জোটভিত্তিক কূটনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন তাদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তাইওয়ান ইস্যুতে ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাত তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। সুযোগ নিচ্ছে চীন ও রাশিয়া আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে চীন ও রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে পশ্চিমা বিশ্বের মনোযোগ বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে বেইজিং ও মস্কো নিজেদের প্রভাব আরও শক্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে চীন নিজেকে আরও নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১০, ২০২৬ 0
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ দুই বাংলাদেশি নিহত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে আহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতদের একজন মোরছালিন (১৮)। তিনি গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতেনবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় একটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। অপর নিহত নবীর হোসেনের (৪০) বাড়ি মধুপুর গ্রামে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, নিহত দুজনের মরদেহ ভারতের আগরতলার জিবি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে মোরছালিন ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হন। পরে আহত নবীর হোসেনকে ভারতীয় সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুর বলেন, “সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার পর দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।” ধজনগর গ্রামের রিপন পাঠান জানান, গুলির ঘটনায় অন্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার বিষয়ে চন্ডিদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. মুইনুদ্দিন বলেন, “একজন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।” কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানিয়েছেন, বিএসএফের গুলিতে হতাহতের খবর পুলিশ পেয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৯, ২০২৬ 0
হরমুজ সংকটের ধাক্কা সৌদি বাজেটে
হরমুজ প্রণালি সংকট: সৌদি আরবে রেকর্ড বাজেট ঘাটতি, নতুন নিয়ন্ত্রণে ইরান

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে সৌদি আরবের অর্থনীতিতে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটি ১২৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন রিয়াল বা প্রায় ৩৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে। ২০১৮ সালের পর এটিই সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বাজেট ঘাটতি। একই সঙ্গে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই ঘাটতি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা এবং জ্বালানি পরিবহন ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার আগেভাগেই বড় অঙ্কের ব্যয় শুরু করে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, খাদ্য আমদানি এবং বিকল্প বাণিজ্যপথ শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। লোহিত সাগর ঘিরে নতুন বিনিয়োগ সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় লোহিত সাগর উপকূলীয় বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে নতুন প্রকল্পেও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে সৌদি আরব অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে এর তাৎক্ষণিক চাপ পড়ছে রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর। ট্যাংকার জব্দ করল ইরান এদিকে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরান। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, বার্বাডোজের পতাকাবাহী ‘ওশান কোই’ নামের ট্যাংকারটি ইরানের তেল বহন করছিল এবং দেশটির তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত ছিল। ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, জাহাজটিকে ইরানের দক্ষিণ উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ‘ওশান কোই’ গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসে। তবে কী কারণে জাহাজটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। নতুন নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে তেহরান। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিচালিত হতো। সম্প্রতি ইরানের নবগঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ (পিজিএসএ) নতুন একটি ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক সব জাহাজকে ৪০টির বেশি প্রশ্নের উত্তরসহ একটি আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। এতে জাহাজের পরিচয়, মালিকানা, ক্রুদের জাতীয়তা এবং বহন করা পণ্যের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করতে হবে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ‘কৌশলগত হাতিয়ার’ হিসেবে হরমুজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির টেলিগ্রাম বার্তায় বলা হয়েছে, ‘শক্তিশালী ইরানের কৌশল’ বাস্তবায়নে নতুন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে বিদেশি শক্তির কোনো স্থান থাকবে না। তিনি হরমুজ প্রণালিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘লিভারেজ’ বা কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন। জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ডলার দাবি সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রণালি ব্যবহারকারী প্রতিটি জাহাজের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত পারাপার ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরান। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো মার্কিন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই অর্থ পরিশোধ করলে তা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমানে ভারত, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৮, ২০২৬ 0
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির সম্ভাবনা: চলছে দর–কষাকষি

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত মিলছে। এখন চূড়ান্ত সমঝোতার দর–কষাকষিতে রয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ইরানের ইউরেনিয়াম। সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান তার সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করবে। তার বিনিময়ে ইরানের জব্দ করা দুই হাজার কোটি ডলার ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এমন চুক্তিই হচ্ছে বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও আলোচনার বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র জানিয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দর-কষাকষিতে পৌঁছেছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরত দেওয়া। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার ফেরত দিতে পারে—যদিও বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার অগ্রগতি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতে এপ্রিলের শুরু থেকে একটি অনানুষ্ঠানিক বিরতি চলছে। এরপর থেকে বিভিন্ন টানাপোড়েন সত্ত্বেও চলতি সপ্তাহে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চূড়ান্ত আলোচনার জন্য খুব শিগগিরই দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে পারে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই বৈঠক পাকিস্তানের ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। ইউরেনিয়াম নিয়ে মূল বিরোধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। বিশেষ করে প্রায় ২০০০ কেজি ইউরেনিয়াম, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি রয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় ওয়াশিংটন। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান তার সব পারমাণবিক উপাদান যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিক। তবে ইরান এতে সম্মত নয়। বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে এখন আলোচনা চলছে—উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়ামের একটি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ইরানের ভেতরেই কম সমৃদ্ধ করা। অর্থ ফেরত ও শর্ত নিয়ে টানাপোড়েন আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা ইরানের অর্থ ফেরত দেওয়া। শুরুতে খাদ্য ও ওষুধ কেনার জন্য ৬০০ কোটি ডলার ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইরান দাবি করে ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের একটি মধ্যবর্তী অঙ্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, “কোনো অর্থ লেনদেন হবে না”—যা আলোচনার অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। সমঝোতার খসড়া ও সময়সীমা খসড়া সমঝোতা স্মারকে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ২০ বছরের স্থগিতাদেশ চাইলে ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দেয়। এখন এই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য চুক্তি হলে ৩০ দিনের একটি পর্যবেক্ষণকাল শুরু হবে। এই সময়ে পারমাণবিক কার্যক্রম, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অর্থ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। হুমকি, সতর্কবার্তা ও কূটনৈতিক চাপ চুক্তি না হলে আবার সামরিক অভিযান শুরুর হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “সমঝোতা না হলে বোমাবর্ষণ আরও তীব্র হবে।” অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানি এমপি ইব্রাহিম রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ করে যা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার মাধ্যমেও তা পাবে না। এছাড়া পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও গণমাধ্যমের চাপ ব্যবহার করে ইরানের ভেতরে বিভক্তি তৈরির চেষ্টা করছে। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিক্রিয়া সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০, ডাও ও নাসডাক সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজারে অস্থিরতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৭, ২০২৬ 0
ইত্তেহাদ নিউজ
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন : বিজেপির ঐতিহাসিক জয়, ইস্তফা দেবেন না বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ-এর রাজনীতিতে বড় ধরনের পালাবদলের ইঙ্গিত দিয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস-কে সরিয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি। এই ফলাফলকে রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।  নেতৃত্বে পরিবর্তনের ইঙ্গিত এই নির্বাচনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করা এই নেতা এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংকট এবং সাংগঠনিক পরিবর্তন দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উত্থান এবং দলীয় ভারসাম্যের পরিবর্তন শুভেন্দুর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ায়, যা শেষ পর্যন্ত দলত্যাগে রূপ নেয়। ভোটার তালিকা ও ফলাফলের প্রভাব নির্বাচনের আরেকটি আলোচিত বিষয় ছিল ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়া বা সংশোধনের আওতায় আসার ঘটনা বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। যেসব আসনে বিপুলসংখ্যক ভোটার বাদ পড়েছে, সেখানে বিজেপির সাফল্য বেশি। যেমন—২৫ হাজারের বেশি ভোটার বাদ পড়া ১৪৭টি আসনের মধ্যে ৯৫টিতে জয় পেয়েছে দলটি।  সংখ্যালঘু ভোট বিভাজন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা—যেমন মুর্শিদাবাদ—এ ভোট বিভাজনও ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একাধিক দলের মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি দুর্বল হয়ে পড়ে।  মমতার অবস্থান: “আমরা হারিনি” ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। তার অভিযোগ, নির্বাচন “জোর করে প্রভাবিত” করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা তো হারিনি। ভোট লুট হয়েছে। তাহলে ইস্তফা দেব কেন?” সংবিধান ও রীতি ভারতের সংবিধানে এমন পরিস্থিতির স্পষ্ট উল্লেখ নেই যে, নির্বাচনে পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলে কী হবে। তবে এটি একটি প্রতিষ্ঠিত রীতি বা সাংবিধানিক শিষ্টাচার যে, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। উদাহরণ হিসেবে ২০১১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফল ঘোষণার পরই রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দেন। মেয়াদ শেষ হলেই কী হবে? বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে। ইস্তফা না দিলেও ওই দিন পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার মেয়াদ শেষ হবে এবং তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হবেন।  নতুন সরকার গঠন বিজেপির পক্ষ থেকে সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি-র বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তী-র দিন শপথগ্রহণ হতে পারে। এদিকে অমিত শাহ কলকাতায় এসে পরিষদীয় দলের বৈঠকে নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে পারেন। নির্বাচিত নেতা রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। অন্তর্বর্তী পরিস্থিতি যদি শপথগ্রহণ বিলম্বিত হয়, তাহলে স্বল্প সময়ের জন্য প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে রাজ্যপাল ভূমিকা রাখতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকেও ‘তত্ত্বাবধায়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়। তবে এত স্বল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসনের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
হরমুজে ইরানের ৬ গানবোট ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি মার্কিন বাহিনীর, প্রত্যাখ্যান ইরানের
ইরান যুদ্ধেও অক্ষত পারমাণবিক সক্ষমতা, ইউরেনিয়ামের হদিস নেই—চাপে যুক্তরাষ্ট্র

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক হামলার পরও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি বলে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ এখনো অজানা স্থানে রয়েছে। এই মজুদ ব্যবহার করে তেহরান স্বল্প সময়ের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বছরের জুনে পরিচালিত ‘অপারেশন মিড হ্যামার’-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসন ধারণা করেছিল, যৌথ হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তত এক বছর পিছিয়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিক দুই মাসের সংঘাত সেই সময়সীমায় বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দারা। সামরিক হামলা ও সীমিত প্রভাব নতুন দফার এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মূলত ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ প্রায় ৫০ জন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তির নিহত হওয়ার দাবি করা হয়। পাশাপাশি কয়েকজন পারমাণবিক বিজ্ঞানীও নিহত হন। ইসরাইল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানে। তবুও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘রেজিম পরিবর্তন’-এর লক্ষ্যও পূরণ হয়নি। যুদ্ধবিরতি, কিন্তু উত্তেজনা অব্যাহত ৭ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উত্তেজনা এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই পথ দিয়ে হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণভাবে অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষও বেড়েছে। কংগ্রেসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে কঠোর জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম স্মিথ বলেছেন, “ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম কার্যত অপরিবর্তিত রয়েছে।” পেন্টাগনের হিসাবে, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫০০ কোটি ডলার। পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইরান চাইলে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে পারে। জুনে নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহান স্থাপনায় হামলার পর এই সময়সীমা কিছুটা বাড়িয়ে ৯ মাস থেকে এক বছর ধরা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এখনো প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, এর একটি বড় অংশ ইসফাহানের ভূগর্ভস্থ টানেলে সংরক্ষিত রয়েছে। পুরোপুরি সমৃদ্ধ করা গেলে এই মজুদ দিয়ে প্রায় ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি সম্ভব। কৌশলগত সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো সরাসরি পারমাণবিক কর্মসূচির বদলে ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বেশি লক্ষ্য করেছে। ফলে পারমাণবিক কর্মসূচিতে সরাসরি প্রভাব সীমিত হয়েছে। সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক এরিক ব্রুয়ার বলেন, ইরানের মূল শক্তি এখনো তাদের পারমাণবিক উপাদান। এগুলো এমন স্থানে রাখা হয়েছে, যেখানে প্রচলিত বোমা দিয়ে ধ্বংস করা কঠিন। অন্যদিকে, পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের হত্যার ফলে প্রযুক্তিগত দক্ষতায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে মত দিয়েছেন সাবেক আন্তর্জাতিক পরিদর্শক ডেভিড অলব্রাইট। সমুদ্রপথে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি দাবি হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনাও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ছয়টি ইরানি দ্রুতগামী গানবোট ধ্বংস করেছে, যা জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে করা হয়েছে। তবে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে দুটি ছোট মালবাহী জাহাজে আঘাত করেছে, যাতে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা থেকে ইউরেনিয়াম সরাসরি উদ্ধার করতে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প বিবেচনা করছে। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা হলেও গোপন কার্যক্রম চালু থাকতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জলদস্যু’ বলল ইরান, নতুন ১৪ দফা প্রস্তাব

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের প্রভাবশালী সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহসেন রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জলদস্যু’ হিসেবে অভিহিত করে হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন বাহিনীর ‘কবরস্থানে’ পরিণত করার হুমকি দিয়েছেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই “বিশ্বের একমাত্র জলদস্যু, যাদের বিমানবাহী রণতরী রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এমন যে তারা শত্রু যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত মাসে একটি মার্কিন F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনা, যার ধ্বংসাবশেষ ইসফাহানে পড়েছিল বলে দাবি করা হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, তাদের বাহিনীকে একই ধরনের পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কূটনৈতিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের “সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে এসেছে”। তারা দাবি করেছে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ শেষ করতে তেহরান একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান বদলাচ্ছে চীন, রাশিয়া ও ইউরোপ। ১৪ দফা প্রস্তাব: কী রয়েছে? Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যার লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অবসান। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নৌ-অবরোধের অবসান মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার আঞ্চলিক সংঘাত, বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এছাড়া নির্ধারিত সময়ের পর ইরান পুনরায় ৩.৬ শতাংশ হারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে ‘শূন্য-মজুদ নীতি’ অনুসরণের শর্তে। ইরান তার পারমাণবিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জব্দকৃত অর্থ পর্যায়ক্রমে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। আলোচনার অগ্রগতি ও মধ্যস্থতা যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবুও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তা ভঙ্গুর। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। অতীতে ওমান এই আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে। জ্বালানি বাজারে প্রভাব সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। American Automobile Association (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত মঙ্গলবার প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৪.১৮ ডলার, যা একদিনে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথের অস্থিরতা সরাসরি জ্বালানি ব্যয় বাড়াচ্ছে। তেলের দাম নিয়ে মার্কিন প্রত্যাশা মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বর্তমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বাড়লেও পরিস্থিতি শান্ত হলে বছরের শেষের দিকে তা কমে আসতে পারে। তার ভাষায়, “সংঘাতের পরবর্তী পর্যায়ে তেলের দাম অনেক কম হতে যাচ্ছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
ইরান মার্কিন যুদ্ধ
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া, ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব ঘিরে নতুন উত্তেজনা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের তেল কেনার অভিযোগে কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। চীন এ পদক্ষেপকে অন্য দেশের ওপর মার্কিন আইন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে একটি পাল্টা নির্দেশনা জারি করেছে। তবে সেটি কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সেগুলো হলো—হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (ডালিয়ান) রিফাইনারি, শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ, হেবেই সিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপ, শওগুয়াং লুচিং পেট্রোকেমিক্যাল এবং শানডং শেংক্সিং কেমিক্যাল। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরান থেকে তেল আমদানির সঙ্গে যুক্ত। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে এবং বড় শক্তিগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।  মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাজানি জানান, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সতর্ক করে বলেন, চলমান অচলাবস্থা খাদ্য নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোতে। তাজানি আরও বলেন, সামরিক উদ্দেশ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অগ্রগতি ইতালির জন্য একটি “রেড লাইন”, যা অঞ্চলে বিপজ্জনক অস্ত্র প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে। তিনি ইরানকে হিজবুল্লাহর ওপর প্রভাব ব্যবহার করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং লেবাননে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।  ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পাঠানো নতুন শান্তি প্রস্তাব তিনি পর্যালোচনা করবেন, তবে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রস্তাব তিনি শিগগিরই পর্যালোচনা করবেন, তবে অতীত কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে তা গ্রহণযোগ্য হবে বলে তিনি মনে করেন না। এর আগে ইরান ১৪ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পেশ করেছে, যার লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা ওয়াশিংটনের। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেখানে দুই মাসের সময় চেয়ে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখানে ইরান ৩০ দিনের মধ্যে সমাধান চেয়েছে।  প্রস্তাবের মূল শর্তসমূহ ইরানের ১৪ দফা পরিকল্পনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন— ভবিষ্যতে কোনো সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বিদেশে জব্দ করা ইরানের সম্পদ ফেরত দেওয়া লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা ব্যর্থ হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধে ড্রোন-বিমান
ইরানের নতুন প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ক্ষতি ও ইসরায়েল-আমিরাত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার লক্ষ্যে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রস্তাবটির খসড়া পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যারা এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এর আগে তেহরান একটি অ-পারমাণবিক চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে পারমাণবিক ইস্যুকে পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল। তবে সে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সামরিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সামরিক ক্ষতি হয়েছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২.৩ থেকে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে। ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে— এফ-১৫ই/এফ-১৫ইএক্স যুদ্ধবিমান: অন্তত ৪টি এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার সিস্টেম: ১–২টি কেসি-১৩৫/কেসি-৪৬এ ট্যাংকার: ১টি ই-৩ বা ই-৭ নজরদারি বিমান: ১টি সিএইচ-৪৭ হেলিকপ্টার: ১টি এমসি-১৩০জে বিমান: ২টি এমএইচ-৬ ও এএইচ-৬ হেলিকপ্টার: ৪টি এমকিউ-৪সি ড্রোন: ১টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন: ১১–২৪টি এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা কুয়েত, ইরাক, সৌদি আরব, ইরান এবং হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে উদ্ধার অভিযানের সময় ক্ষতির নির্দিষ্ট স্থান উল্লেখ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষতি কেবল অর্থনৈতিক নয়—যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক সক্ষমতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।  ইসরায়েল-আমিরাত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অন্যদিকে, ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ‘আয়রন বিম’ নামে পরিচিত একটি লেজার-ভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংস্করণ আমিরাতে মোতায়েন করেছে। এই প্রযুক্তি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম। এছাড়া ‘স্পেকট্রো’ নামের একটি উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা সরবরাহ করা হয়েছে, যা প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রু ড্রোন শনাক্ত করতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, আমিরাতে একটি ‘আয়রন ডোম’ ব্যাটারিও মোতায়েন করা হয়েছে, যার পরিচালনায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি রয়েছে।  সম্পর্কের নতুন ধাপ ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস স্বাক্ষরের পর ইসরায়েল ও আমিরাতের সম্পর্ক মূলত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই সম্পর্ককে আরও গভীর সামরিক সহযোগিতায় রূপ দিয়েছে। ইসরায়েল এখন শুধু প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিই নয়, রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্যও সরবরাহ করছে। এর ফলে সম্ভাব্য ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা পাচ্ছে আমিরাত। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ করা বেশ কিছু ব্যবস্থা এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। তবে দ্রুত পরিবর্তনশীল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এগুলো সরাসরি মাঠে ব্যবহার করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজে রসদ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ সংকট: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহরে রসদ সরবরাহ বৃদ্ধি, ইরানের পাল্টা হুমকি

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে অঞ্চলটিতে মোতায়েন মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোতে নতুন করে জ্বালানি, খাদ্য ও গোলাবারুদসহ প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলমান অভিযান নির্বিঘ্ন রাখতে নৌবহরে নিয়মিত রসদ সরবরাহ জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক (ডিডিজি-১১৯)-এ বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম তোলা হচ্ছে। জাহাজটি বর্তমানে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (সিভিএন-৭২)ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে সহায়তা দিচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে পেন্টাগন-এর প্রধান পিট হেগসেথ সিনেটে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা বলছে, প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের এই পদক্ষেপ অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। হরমুজ প্রণালি ও জ্বালানি সংকট যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ‘দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক’ জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালী-এর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রধান এই নৌপথটি এখনও বন্ধ রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, ইরানের তেল রপ্তানিতে মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে তারা এই জলপথ অবরুদ্ধ রেখেছে। নতুন সামরিক পরিকল্পনা ও কূটনৈতিক চাপ হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনায় আনতে নতুন সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিফিং করতে পারেন। এদিকে তেহরানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার খবর জানিয়েছে মেহর নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, ড্রোন ও নজরদারি বিমান প্রতিহত করতে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। ‘নৌ অবরোধ ব্যর্থ’—ইরানের দাবি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তথাকথিত নৌ অবরোধ ২০ দিনের মধ্যেই ব্যর্থ হয়েছে। আইআরজিসি গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, এই উদ্যোগ ছিল চীন, রাশিয়া ও ইউরোপকে প্রভাবিত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ। তবে শেষ পর্যন্ত এটি কার্যকর হয়নি এবং ইরান এখন ‘অস্থিতিশীলতাবিরোধী জোটের’ কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। সংঘাতের পটভূমি ইরানের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি-সহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন বলে উল্লেখ করা হয়। একই দিনে মিনাবে একটি স্কুলে হামলায় ১৬৮ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এর জবাবে ৪০ দিনের মধ্যে প্রায় ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০–৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যা ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কার্যকর হয়। পরে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠকে বসে দুই দেশের প্রতিনিধি দল। ইরানের সরকারি তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩,৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ ও ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া আহত হয়েছেন শতাধিক চিকিৎসাকর্মী, নিহত হয়েছেন অন্তত ২৬ জন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১, ২০২৬ 0
হরমুজ সচল রাখতে নতুন জোটের ডাক যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের দাবি: দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা আছে,চুক্তি না করা পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ অবরোধ থাকবে-ট্রাম্প

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরান দাবি করেছে, তাদের কাছে এমন পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত রয়েছে যা দিয়ে বহু বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। দেশটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা আলাউদ্দিন বোরুজের্দি এই তথ্য জানিয়েছেন। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তেহরান এখনো তাদের সামরিক সক্ষমতার পুরোটা প্রকাশ করেনি। তার ভাষায়, “আমরা এখনও আমাদের নতুন কার্ডগুলো দেখাইনি।” ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিশনের উপ-প্রধান বোরুজের্দি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত “নৌ অবরোধ”কে অকার্যকর বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১২০টি জাহাজ ওই প্রণালির আশেপাশে চলাচলের অপেক্ষায় রয়েছে এবং অনেক ইরানি জাহাজ মার্কিন বাধা ছাড়াই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বও তুলে ধরেন। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী এই জলপথে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। বোরুজের্দি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকারের প্রশ্নে তেহরান কোনো ছাড় দেবে না এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় এ বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা হামাদ আকবরজাদেহ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরান নতুন ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, এই সক্ষমতা বিশেষ করে বড় নৌযানের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হতে পারে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও বিভিন্ন আঞ্চলিক স্বার্থে পাল্টা আঘাত হানে। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও তা এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনাও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পারমাণবিক চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই অবরোধ সামরিক হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর এবং এর ফলে ইরান “চাপের মধ্যে” রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরান তেল রপ্তানি করতে না পারলে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও, যেখানে বলা হয়েছে—তেল রপ্তানি বন্ধ থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের মজুদ পূর্ণ হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান সংশ্লিষ্ট সামরিক কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এই ব্যয়ের বড় অংশই অস্ত্র খাতে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন। তবে দীর্ঘ সামরিক অভিযানের পরও সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও তা অত্যন্ত নাজুক, এবং যেকোনো সময় পুনরায় উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0