কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন কর্মী হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রবাসে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে পররাষ্ট্র দপ্তর। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘নিরাপদে সম্ভব হলে কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকেরা বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো উপায়ে দ্রুত দেশ (কুয়েত) ত্যাগ করুন। যারা দেশ (কুয়েত) ত্যাগ করতে পারছেন না, তাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’ সূত্র: বিবিসি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই নতুন মাত্রা পাচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর সামরিক জোটের বিরুদ্ধে তুলনামূলক স্বল্প ব্যয়ে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আধুনিক যুদ্ধের এক নতুন কৌশল, যেখানে কম খরচের প্রযুক্তি দিয়ে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ আত্মঘাতী ড্রোন এখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের মিত্রদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শত শত ড্রোনে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন শত শত শাহেদ ড্রোন বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। অত্যন্ত নিচু দিয়ে ধীরগতিতে উড়ার কারণে এগুলোকে শনাক্ত ও ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও ঝাঁকে ঝাঁকে আসা সব ড্রোন প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন কংগ্রেস সদস্যদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জানান, ইরানের কাছে এখন হাজার হাজার আত্মঘাতী ড্রোন মজুত রয়েছে। সস্তা ড্রোন বনাম ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ব্যয়ের পার্থক্য। একটি শাহেদ ড্রোন তৈরির খরচ প্রায় ৩৫ হাজার ডলার অন্যদিকে একটি প্যাট্রিয়ট বা থাড ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের খরচ কয়েক মিলিয়ন ডলার ফলে একটি সস্তা ড্রোন ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয় করতে হচ্ছে বহু গুণ বেশি অর্থ। এতে যুদ্ধের সামগ্রিক ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ব্যয় গড়ে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি। যুদ্ধের প্রথম দুই দিনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় চার বিলিয়ন ডলার। ইরানের নতুন যুদ্ধকৌশল সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন মূলত ড্রোনের ঝাঁক ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্লান্ত করে দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে ফেলা। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন ড্রোন ধ্বংসের পাশাপাশি সেগুলোর উৎক্ষেপণস্থল বা লঞ্চিংপ্যাড ধ্বংস করার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ড্রোন যুদ্ধের নতুন যুগ প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক স্টিভ ফেল্ডস্টাইনের মতে, এই সংঘাত বিশ্বকে ড্রোন যুদ্ধের নতুন যুগে প্রবেশ করাচ্ছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধে মানববিহীন বিমান বা ড্রোনের ব্যবহার আরও বাড়বে এবং এটি প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কাছে প্রায় ৮০ হাজার ড্রোনের মজুত রয়েছে এবং প্রতিদিন ৪০০-৫০০ ড্রোন ব্যবহার করা সম্ভব। এ হিসাবে শুধু ড্রোন দিয়েই দেশটি কয়েক মাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কবে শেষ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এমন এক যুদ্ধ যেখানে দ্রুত বিজয় পাওয়া কঠিন। অনেকে মনে করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে তারা একটি মার্কিন ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের নৌবাহিনী পারস্য উপসাগরের উত্তরের একটি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। যদিও এ হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা ট্যাঙ্কারটির অবস্থা কী— সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা। এ খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তাদের অনলাইন প্রতিবেদনে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের কোনো সামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজ যদি হরমুজ প্রণালির আশপাশে দেখা যায়, তাহলে সেগুলোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা আগেও স্পষ্ট করে বলেছি— আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন প্রস্তাবের আলোকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার রাখে।” তারা দাবি করে, ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজন হলে ওই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ব্যবহার সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই সংকীর্ণ জলপথ। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল এবং বিপুল পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক সংঘাত বা অবরোধ সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া আইআরজিসির এই দাবির পর এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে ওয়াশিংটন বারবার বলেছে, আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচল অবাধ রাখার জন্য তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে টহল দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সেখানে বিভিন্ন সময় বহুজাতিক নৌজোটও গঠন করা হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার দীর্ঘ ইতিহাস ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বহুদিনের। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বারবার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে পারস্য উপসাগর এলাকায় একাধিকবার ট্যাঙ্কার জব্দ, ড্রোন ভূপাতিত করা এবং নৌবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি অবস্থার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার লড়াই। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেক দেশ আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকজন কূটনীতিক ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথকে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হলে তার প্রভাব গোটা বিশ্বের ওপর পড়বে। সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং অনেক দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি নজরে বিশ্ব বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ বিশ্ব রাজনীতির নতুন সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তারা তাদের সবচেয়ে উন্নত বা অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলো ব্যবহার করেনি বলে দাবি করেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA)-র বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রতিরোধ করার এবং এই চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে শত্রুপক্ষ যা পরিকল্পনা করেছে, তার চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা প্রথম কয়েক দিনেই আমাদের সব অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম মোতায়েন করার ইচ্ছা রাখি না।’ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে এই বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হয়। চলমান এই সংঘাতের চতুর্থ দিনে এসে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ইরান এখনো তাদের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ গোপন রেখেছে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের মোকাবিলার জন্য তা সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত আমেরিকান সেনার সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত রোববার (১ মার্চ) এই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তিন সৈন্য নিহতের খবর জানিয়েছিল। তবে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। পরবর্তী তিনজনের মধ্যে একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে মারা যান। বাকি দুইজনের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক বিবৃতিতে জানান, কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো একটি মার্কিন বাঙ্কারে সরাসরি আঘাত হানে। ওই সময় মার্কিন বাহিনীর পাল্টা হামলা পরিচালনা করার প্রস্তুতির মধ্যেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। তিনি আরও জানান, ইরানি এই হামলায় কুয়েতের বায়ানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং হতাহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।মার্কিন প্রশাসন এই ঘটনার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান দাবি করেছে, কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থা নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে। তেহরানভিত্তিক একাধিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়, ইরানের সামরিক বাহিনীর এলিট ইউনিট Iইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে স্থাপিত যুক্তরাষ্ট্রের এএন/এফপিএস-১৩২ (AN/FPS-132) দীর্ঘ-পাল্লার রাডার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত নজরদারি সক্ষম এই শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থা ২০১৩ সালে প্রায় ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছিল। এটি মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত ছিল। আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলাটি ছিল “অত্যন্ত নির্ভুল ও কৌশলগতভাবে পরিকল্পিত” এবং এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানি সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, কাতারের কিছু কর্মকর্তা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ওয়াশিংটন নীরব থাকায় দাবিটির সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এ দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর এর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনা সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক এই দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক ও কূটনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ভবন সংলগ্ন একটি পার্কিং লটে ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এ ঘটনায় পার্কিং এলাকায় আগুন ধরে যায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একটি ড্রোন দূতাবাসের চ্যান্সারি ভবনের পাশে অবস্থিত পার্কিং লটে আঘাত হানে। এর ফলে সেখানে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। সব কর্মী নিরাপদ মার্কো রুবিও আরও জানান, দূতাবাসের সব কর্মী নিরাপদে রয়েছেন। তিনি বলেন, সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে আগে থেকেই বিভিন্ন কূটনৈতিক স্থাপনা থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে তিনি দাবি করেন, মার্কিন দূতাবাসগুলো একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সরাসরি হামলার মুখে পড়েছে। যদিও এ হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। জনবহুল এলাকায় দূতাবাস মার্কিন দূতাবাসটি দুবাইয়ের জনবহুল এলাকায় অবস্থিত। এর নিকটেই রয়েছে ব্রিটিশ ও সৌদি দূতাবাস। কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদারের আহ্বান উঠেছে। পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেট জানার জন্য আমাদের সঙ্গেই থাকুন।
ইরানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি-মার্কিন যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সোমবার (২ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। এর আগে রোববার (১ মার্চ) ২৪ ঘণ্টায় ইরানে ৫৭ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছিল রেড ক্রিসেন্ট। অন্যদিকে, ইরানের মিনাবে মেয়েদের একটি স্কুলে শনিবারের হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। শনিবার সকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে বড় ধরনের হামলা চালায়। এ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শনিবার খামেনির কমপাউন্ডে চালানো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, ‘আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসনের যৌথ হামলায় শনিবার সকালে ইসলামী বিপ্লবের নেতা মহান আয়াতুল্লাহ ইমাম সাইয়্যিদ আলী খামেনি শাহাদাত বরণ করেছেন।’ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানায়, ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন। এদিকে, ইসরায়েলি-মার্কিন যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।তারা খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অন্যদিকে, খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে লেবাননের হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। এরপর ইসরায়েলও লেবাননে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। হামলা অব্যাহত রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চার সপ্তাহ যুদ্ধ চলতে পারে বলে জানিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যুদ্ধ অবস্থায় নেই ইরান। আমাদের সামরিক হামলা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে (মার্কিন ঘাঁটি) লক্ষ্য করে করা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর উচিত ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চাপ দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক প্রতারণা করেছে অভিযোগ এনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যখন আলোচনা চলছিল তার মধ্যেও তারা ইসরায়েলের সঙ্গে মিলিতভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে। অথচ সামরিক সংঘাত এড়ানোর জন্য এ আলোচনা করা হচ্ছিল। এসময় আব্বাস আরাগচি হুঁশিয়ার করে বলেন, উপসাগরীয় যে দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সে ঘাঁটিই ইরানের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালাচ্ছি না, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছি। হোটেলে আশ্রয় নেওয়া মার্কিন সৈন্যদের আমাদের লক্ষ্যবস্তু থেকে বাঁচাবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একই সময়ে ইরানও অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নির্বিচারে আবাসিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। হাসপাতাল, স্কুল, রেড ক্রিসেন্ট স্থাপনা কিংবা সাংস্কৃতিক নিদর্শন—কোনোটিই রেহাই পাচ্ছে না। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং “আন্তর্জাতিক উদ্বেগের সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের” শামিল। চলমান অন্যায়ের প্রতি উদাসীনতা মানবজাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রেড ক্রিসেন্ট ও আইসিআরসি’র অবস্থান ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-র প্রধান পির হোসেইন কোলিভান্দ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি)-এর প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে শিশু ও শিক্ষা-চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলার স্পষ্ট নিন্দা এবং জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী নজরদারি ও সহায়তা কার্যক্রম সক্রিয় করার দাবি জানান। যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলিয়ারিচ বলেন, “যুদ্ধের নিয়ম মানা বাধ্যবাধকতা—পছন্দের বিষয় নয়। হাসপাতাল, বাসাবাড়ি ও স্কুলের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চলবে না।” তেহরানে হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত রাজধানী তেহরান-এ রোববার বড় ধরনের হামলায় কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উত্তর তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল-এর প্রবেশপথে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়। হাসপাতালের ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) বিভাগ ধ্বংস হয়েছে এবং সংরক্ষিত কোষ ও ভ্রূণ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া খাতাম আল-আনবিয়া হাসপাতালের নিকটবর্তী স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট। মোতাহারি ও ভালিয়াসর হাসপাতালেও আংশিক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে। প্রদেশজুড়ে হামলা ও হতাহতের দাবি পশ্চিমাঞ্চলের আহভাজে অবস্থিত আবুজার শিশু হাসপাতালসহ পূর্ব আজারবাইজান, সিস্তান-বালুচিস্তান ও হামেদান প্রদেশের একাধিক জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত দেশজুড়ে হামলায় অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। স্কুল ও ক্রীড়াকেন্দ্রে হামলা তেহরানের পূর্বাঞ্চলীয় নারমাক এলাকার একটি উচ্চবিদ্যালয় বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে অন্তত দুই শিশু নিহতের খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের ফার্স প্রদেশের লামের্দে একটি ক্রীড়াকেন্দ্রে হামলায় একাধিক হতাহতের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে। দুই দিন তল্লাশি শেষে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ১৬৫ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছে—যাদের অধিকাংশই শিশু। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া শিক্ষক ও শিক্ষা-কর্মীদের বৈশ্বিক জোট এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “শিশু, শিক্ষক ও স্কুল কখনোই সামরিক লক্ষ্য হতে পারে না।” যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, স্কুলে বেসামরিক হতাহতের খবর তারা তদন্ত করছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাদের কোনো হামলার তথ্য নেই। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং বেসামরিক নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইরানে চলমান সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। আঙ্কারায় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এরদোয়ান বলেন, “আমরা শান্তির পক্ষে। আমরা চাই রক্তপাত বন্ধ হোক, অশ্রুধারা থেমে যাক এবং আমাদের অঞ্চল বহু বছর ধরে যে স্থায়ী শান্তির জন্য আকুল, তা অবশেষে প্রতিষ্ঠিত হোক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলেও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের কড়া সমালোচক এরদোয়ান বলেন, শনিবারের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলা, যা এই যুদ্ধের সূচনা করে এবং তেহরানের পাল্টা হামলার জন্ম দেয়—তা ছিল ‘অবৈধ’। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া এবং আমাদের অঞ্চলে শান্তি ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা সব পর্যায়ে আমাদের কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করব। ইরানে সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক মানুষ ও নিষ্পাপ শিশুদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে এরদোয়ান বলেন, এ দৃশ্য তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করছে। ন্যাটো জোটভুক্ত মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ তুরস্কের ইরানের সঙ্গে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ প্রায় অর্ধশত শীর্ষ নেতা নিহত হন। ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরানও পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা তেলআবিবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। আক্রান্ত স্থাপনার মধ্যে হাসপাতাল, স্কুলসহ অনেক বেসামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে মেয়েদের একটি স্কুলে হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। অন্যদিকে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ইসরায়েলে ১০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১২১ জন। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাতে আরব আমিরাতে ৩ জন, কুয়েতে ১ জন, বাহরাইনে ১ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশিও আছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পর তার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। এদিকে ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশেরও বেশি।হেজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে লেবানন সরকার। ব্রেকিং নিউজ জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে............................... যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ: ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় যুক্তরাজ্য যোগ দেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বেইত শেমেশ এলাকা পরিদর্শন করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি নিয়ে সমালোচনার মুখে সোমবার নতুন করে বিবৃতি দিয়েছে সরকার। এতে বলা হয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হামলা চালিয়ে হত্যার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো নেগোশিয়েশন বা সমঝোতা করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি। যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে অবস্থানরত তাদের দেশের নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ড। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার বৈরুতে চালানো হামলায় হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান নিহত হয়েছেন। ইরানের পাল্টা হামলার পর কাতারের জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ইউরোপে গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ৩১ জন নিহত হয়েছে। আরো ১৪৯জন আহত হয়েছেন। লেবানন সরকার দেশটিতে হেজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সিদ্ধান্তের ফলে হেজবুল্লাহ ও সরকারের সমান্তরাল ক্ষমতার বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লো। জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের কোনো পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন কোন কিছুর লক্ষণ তারা টের পান নি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ জানিয়েছে, তারা ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের ইসরায়েলবিষয়ক উপমন্ত্রী সাইয়েদ ইয়াহিয়া হামিদিকে হত্যা করেছে। ইরানে গত শনিবার ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের প্রতিরোধে সোমবার সকালে অন্তত তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ভোর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, কাতার, দুবাইয়ে ব্যাপক বিষ্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই লেবাননে হেজবুল্লাহবিরোধী অভিযান ইসরায়েলের ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই লেবাননে হেজবুল্লাহ’র বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ইতোমধ্যে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এসব হামলায় আরো ১৪৯ জন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানান লেবাননের কর্মকর্তারা। এদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈরুতে তাদের চালানো হামলায় হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান হুসেইন মাকলেদ নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ সোমবার বলেছেন, হেজবু্ল্লাহ সেক্রেটারি জেনারেল নাঈম কাশেম এখন স্পষ্টভাবে তাদের হত্যার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমি এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।” এমন অবস্থায় সোমবার হেজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে লেবানন সরকার। তবে গোষ্ঠীটি তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়ের হামলার জবাবে সোমবার তৃতীয় দিনের মতো পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে ‘সতর্কতামূলক নির্দেশনা পাঠিয়েছে। উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের কাছে অবস্থিত এরবিল বিমানবন্দরের আকাশ থেকে তিনটি সশস্ত্র ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বিমানবন্দরটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে। মূলত ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন স্থাপনা রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালাচ্ছে ইরান। এর মধ্যে সোমবার কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সকালে সেদেশে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানের ক্রুরা "অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গেছেন" এবং তাদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় যোগ দেবে না যুক্তরাজ্য: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় যুক্তরাজ্য যোগ দেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যেসব জায়গায় সংরক্ষিত রয়েছে বা উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে, শুধুমাত্র সেগুলোকে উৎসমূলেই থামানোর জন্যই যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইরান যেন অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই তিনি এই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অনুরোধে সম্মতি দিয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “যুক্তরাজ্য ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের’ সাথে হামলায় অংশ নেবে না। তিনি আরও জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ সক্ষমতা রোধ করতেই যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে ফ্রান্স- জার্মানিও প্রস্তত রয়েছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন নেতানিয়াহু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বেইত শেমেশ এলাকা পরিদর্শন করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পরিদর্শনে গিয়ে এসময় তিনি সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কথাও বলেছেন। তিনি যে এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছেন, ওই এলাকায় আগের দিন রোববার ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে কমপক্ষে নয়জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন। ওই এলাকাটি ছিল একটি আবাসিক এলাকা এবং আশপাশের কাঠামোগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। তবে তিনি ঠিক কী বলেছেন তার বিস্তারিত এখনো জানা যায় নি। নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত লেবানন ছাড়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে অবস্থানরত তাদের দেশের নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের এক্স পোস্টে লিখেছে, “আমরা মার্কিন নাগরিকদের লেবাননে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানাচ্ছি। কেউ যদি বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে ফ্লাইট চালু থাকা অবস্থায় এখনই লেবানন ত্যাগ করুন।” তারা আরও বলেছে, “লেবাননের নিরাপত্তা দ্রুতই অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। দেশজুড়ে, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল, বেকা উপত্যকা এবং বৈরুতের কিছু অংশে বিমান হামলা শুরু হয়েছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে বিবিসির সংবাদদাতার জানিয়েছেন, ইরান-সমর্থিত সংগঠন হেজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দাহিয়েহ এলাকায় একটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের চারজন সেনা নিহত ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ড। এর আগে তিনজন নিহত খবর জানিয়েছিল দেশটি। গুরুত্বর আহত একজন সেনা সদস্যের সোমবার মৃত্যু হয়েছে বলে সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়। এদিকে, চারজন সেনার মৃত্যুতে শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, “এই সেনারা ছিল আমাদের জাতির সেরা সন্তান”। ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন খামেনির স্ত্রীও: ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরদিন তার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে শনিবারে ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি ও জামাই নিহত হওয়ার খবর দেয় ইরানের সংবাদ মাধ্যমগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন "ইতিহাসের অন্যতম খারাপ মানুষ খামেনি মারা গেছেন”। এদিকে, রাশিয়া ও চীন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল। বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় হেজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান নিহত: আইডিএফ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার বৈরুতে চালানো হামলায় হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান নিহত হয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলায় হেজবুল্লাহর গোয়েন্দা সদরদপ্তরের প্রধান হুসেইন মাকলেদকে হত্যা করা হয়েছে। কাতারের জ্বালানি উৎপাদন বন্ধের পর ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর, পাল্টা জবাব দিতে দিচ্ছে ইরান। গত কয়েকদিনে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরবে। এমন অবস্থার মধ্যে কাতারের জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ইউরোপে গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। হেজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করল লেবানন সরকার লেবানন সরকার দেশটিতে হেজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সিদ্ধান্তের ফলে হেজবুল্লাহ ও সরকারের সমান্তরাল ক্ষমতার বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লো। তবে হেজবুল্লাহ রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম চালাতে পারবে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যে হেজবুল্লাহ সোমবার ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলার পরই লেবানন সরকার হেজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার এই সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননের অবস্থান যেখানে যে কোনো ধরনের সংঘাত বিরোধী, সেখানে কোনো পরামর্শ ছাড়াই রকেট হামলা চালিয়েছে হেজবুল্লাহ। যা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। দেশটির রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়েই বলেছেন, হেজবুল্লাহর এই তৎপরতা লেবাননের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ সাম্প্রতিক সংঘাত সত্ত্বেও হেজবুল্লাহ এখনো সশস্ত্র অবস্থায় রয়েছে। এদিকে, ইসরায়েলী বাহিনী লেবাননে হেজবুল্লাহর অবকাঠামোগুলোয় হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ নেই: জাতিসংঘ পারমাণবিক তদারকি সংস্থা জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থার প্রধান রাফিয়াল গ্রোসি বলেছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের কোনো পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন কোন কিছুর ইঙ্গিত তারা পান নি। তিনি জানান, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেহরান গবেষণা রিঅ্যাক্টর বা অন্যান্য পারমাণবিক জ্বালানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন কোন লক্ষণ নেই। সংস্থাটির গভর্নর বোর্ডে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অ্যাটমিক অ্যানার্জি এজেন্সি বা আইএইএ ইরানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিল, তবে তাদের কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। আইএইএ-তে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি বিবিসিকে জানিয়েছেন, রোববার নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে.......................
ইরানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সোমবার (২ মার্চ) এ তথ্য প্রকাশ করে ইরানের ত্রাণ ও উদ্ধার সংস্থা রেড ক্রিসেন্ট। এর আগে রোববার (১ মার্চ) সংস্থাটি জানায়, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৫৭ জন নিহত হয়েছেন। খামেনির মৃত্যুর দাবি শনিবার সকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর তেহরানের বাসভবন লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, খামেনির কমপাউন্ডে চালানো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, ‘আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসনের যৌথ হামলায় ইসলামী বিপ্লবের নেতা মহান আয়াতুল্লাহ ইমাম সাইয়্যিদ আলী খামেনি শাহাদাত বরণ করেছেন।’ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানায়, ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন। মিনাবে স্কুলে ভয়াবহ হামলা এদিকে, দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে মেয়েদের একটি স্কুলে শনিবারের হামলায় নিহতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ইসরায়েলি-মার্কিন যৌথ হামলার জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রেখেছে। তারা খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অন্যদিকে, লেবাননভিত্তিক সংগঠন হিজবুল্লাহ খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই সংঘাত আরও চার সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উদ্বেগ বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, চলমান এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বৃহৎ আকারের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঠেকাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের তাগিদ দিচ্ছেন কূটনীতিকরা। তবে ময়দানে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকায় সংকট নিরসনের পথ এখনও অনিশ্চিত।
দখলদার ইসরায়েলের দখলকৃত ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে আঘাত হেনেছে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরান নতুন করে যেসব মিসাইল ছুড়েছে সেগুলোর একটি জেরুজালেমে সরাসরি আঘাত হেনেছে। আলজাজিরার সাংবাদিক ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছেন, পূর্ব জেরুজালেমে হামলার আগে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছিল। এর কিছুক্ষণ পরই একটি মিসাইল এসে সেখানে আঘাত হানে। ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের আরব যুদ্ধের পর জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল। ফিলিস্তিনিরা পবিত্র এ ভূমির মালিক হলেও বর্তমানে জেরুজালেমের প্রশাসনিক সব ক্ষমতা ইসরায়েলিদের হাতে।এই শহরেই রয়েছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ। যা ইসলামের প্রথম কিবলা ছিল। সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনার পর জেরুজালেম হলো বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র স্থান।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার পর দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আলী রেজা আরাফী। জানা গেছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আইনবিদকে সদস্য করে একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানও অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদে দায়িত্ব পালন করবেন। আর এই নেতৃত্ব পরিষদের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন আলী রেজা আরাফী। রোববার এক্সপিডিয়েন্সি ডিসসার্নমেন্ট কাউন্সিলের মুখপাত্র মোহসেন দেহনাভি দেশটির এই নতুন নেতার নাম ঘোষণা করেন। উন্মোক্তবিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, ১৯৫৯ সালে জন্ম নেওয়া আলী রেজা আরাফী একজন ইরানি ধর্মগুরু। তিনি দেশটির অভিভাবক পরিষদ, বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য। আল-মুস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এছাড়াও তিনি দেশটির বিভিন্ন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার নতুন এক বিপর্যয় ঘটেছে। সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরান ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা যাচ্ছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু। খামেনির মৃত্যু ইরানের জন্য এক গুরুতর আঘাত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অপরদিকে, ইরানের প্রতিশোধমূলক আঘাতে অন্তত তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া, পাঁচজন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। রোববার (১ মার্চ) পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা ‘যুদ্ধে নিহত’ হয়েছে এবং পাঁচজন ‘গুরুতর আহত’ হয়েছে। তবে এই হামলায় আরও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনা মার্কিন সেনাদের মধ্যে প্রথম কোনও হতাহতের খবর, যা ইরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যার পর ঘটে। এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে, যার ফলস্বরূপ দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু হয়। ইরানের তরফ থেকে এ ঘটনার পর মার্কিন সেনাদের উপর প্রতিশোধমূলক আঘাত দেওয়া হয়, যার ফলে তিন সেনা নিহত এবং পাঁচ সেনা গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে আবারও তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী ও ইরান সরকারের মধ্যে এ ধরনের উত্তেজনা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বরাজনীতিতে এই পরিস্থিতি কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে, এই পরিস্থিতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই হামলার মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হলো দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড। তবে, এই হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদও নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত হন। এই হামলা ঘটে তার নিজ বাসভবনে, যেখানে তিনি একান্তে ছিলেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডটি ইরানের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের ওপর পরিচালিত চলমান হামলার একটি অংশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। মাহমুদ আহমেদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কট্টরপন্থী বক্তব্যের জন্য পরিচিত ছিলেন এবং পশ্চিমাদের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। বিশেষত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যে ব্যাপক নজরদারি ছিল, এবং তার নেতৃত্বে ইরান এই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। ২০০৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, যা ইরানজুড়ে গণবিক্ষোভের জন্ম দেয়। এই ঘটনাগুলো তার প্রেসিডেন্সি আমলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই হামলাগুলোকে ইরানে একটি বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, এবং এর ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশটির সরকারের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, তা এখন দেখার বিষয়। এই হামলার মাধ্যমে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের ওপর আক্রমণ চালানো অব্যাহত রাখা হলে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর, দুবাই এবং দোহায় শনিবার রাতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুবাইয়ের আকাশে একাধিক প্রজেক্টাইলের শিখা দেখা যায় এবং এই শিখাগুলো প্রতিহত করতে ইন্টারসেপ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এর ফলে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং স্থানীয় বাহিনী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে কাজ করছে। এদিকে, কাতারের রাজধানী দোহায়ও একই দিনে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এর আগেও দুপুরে এক দফায় হামলার ঘটনা ঘটে, যখন কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র মূলত ওই অঞ্চলের বৃহত্তম আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। তবে, হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি ঘটেনি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা: এই ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে, যুক্তরাষ্ট্র কাতার ও বাহরাইনে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের দুটি দূতাবাস একাধিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তাদের সব কর্মীর জন্য একটি আশ্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে এবং একই সঙ্গে সেসব দেশের মার্কিন নাগরিকদেরও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর, মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের ওপর হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান দাবি করেছে, তারা প্রতিক্রিয়াস্বরূপ এই হামলাগুলি চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া: এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং বিদেশ মন্ত্রণালয় ইরানের হামলার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা স্থাপনাকে লক্ষ্য করে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আরও বেশি মারাত্মক আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে, এবং দেশগুলোকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। শঙ্কা ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন যুদ্ধের পূর্বাভাস দেয়ার মতো। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের সহযোগীদের মধ্যে সংঘর্ষের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক অবস্থা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
ইরানের রাজধানী তেহরানে আবারও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, সন্ধ্যায় পশ্চিম তেহরানে নতুন একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রতিবেদন অনুসারে, একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন যে, পশ্চিম তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তাদের সাংবাদিকরা তেহরানে নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তবে বিস্ফোরণের উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বুশেহরে মিসাইল হামলা এদিকে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বুশেহরের দুটি এলাকায় মিসাইল হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বুশেহর শহরে হামলা হয়েছে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও অবস্থিত। হামলার কারণে এলাকার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরানের পাল্টা হামলা তেহরান এবং বুশেহরে বিস্ফোরণের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল থেকে ইরানে সাম্প্রতিক যৌথ হামলার জবাব হিসেবে হতে পারে। এটি ইরানের জন্য একটি বড় পরমাণু উত্তেজনার মুহূর্ত হতে পারে, যেখানে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা শুরু করেছে। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে। শেষ কথা এখন পর্যন্ত তেহরান এবং বুশেহরের বিস্ফোরণ বা হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, বিষয়টি ইরান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও কড়া অবস্থান গ্রহণ করতে বাধ্য করবে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক উস্কানি’ হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। কানেকটিকাটের মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড জে মারকি ট্রাম্প প্রশাসনের এই সামরিক পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই হামলা চালানো হয়েছে, যা পুরোপুরি ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’। এটি সব আমেরিকান নাগরিকের জন্য বিপদের কারণ। ট্রাম্পের অবৈধ পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করছে, যা মার্কিন সেনা এবং সাধারণ মানুষের জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি বলেন, ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে ইরানের পারমাণবিক হুমকির কথা বাড়িয়ে বলছেন, অথচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বীকার করেছেন যে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে না। এই হামলার আগে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ ছিল এবং এখনও রয়েছে। ট্রাম্প যদি এখনই এই যুদ্ধ বন্ধ না করেন, কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হবে। ইরানের সঙ্গে আর কোনো যুদ্ধ হবে না। পরমাণু কেন্দ্রে হামলা করা যাবে না: রাশিয়া রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’ জানিয়েছে, তারা ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের সন্তানদের সরিয়ে নিয়েছে। এটি রাশিয়ার সাহায্যে নির্মিত ইরানের একমাত্র কার্যকরী পারমাণবিক কেন্দ্র। সংস্থাটির সিইও আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে আক্রমণ করা যাবে না। এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে এই হামলাকে ‘অপ্ররোচিত’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ : নেতাদের প্রতিক্রিয়া পেদ্রো সানচেজ ও ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই ‘একতরফা’ সামরিক পদক্ষেপ প্রত্যাখান করেছেন। অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ একে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ অভিহিত করে অবিলম্বে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। ওমান: মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান এই সংঘাতের ভয়াবহতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। জাতিসংঘ: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক উভয় পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বোমা ও মিসাইল কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না; এটি কেবল মৃত্যু আর ধ্বংসই ডেকে আনে। অনড় অবস্থানে ইরান এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের আক্রমণ ‘অব্যাহত’ থাকবে। সার্বিকভাবে, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরবর্তী এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তাদের হামলায় অন্তত ২০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এ দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। খবর : রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা তাস নিউজের। সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে তাদের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০০ জন মার্কিন সৈন্য হতাহত হয়েছে। এর পাশাপাশি তারা সেন্টকমের একটি রণতরী বা জাহাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবিও তুলেছেন। তেহরান এ সাফল্যকে তাদের ‘অপারেশন ট্রুথফুল প্রমিজ ৪’-এর বড় বিজয় হিসেবে প্রচার করছে। তবে আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন সেন্টকমের একজন মুখপাত্র ইরানি এ দাবিগুলোকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘আইআরজিসি’র পক্ষ থেকে ২০০ মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আহত করার যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এমনকি আমাদের কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবিও সত্য নয়।’ সেন্টকম জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ইরানি হামলা প্রতিহত করেছে এবং মার্কিন বাহিনীর কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর এখন পর্যন্ত নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।