ঢাকা বাংলাদেশ

এডিসি হারুন সাময়িক বরখাস্ত : পরিবারের রাজনীতি নিয়ে ধোঁয়াশা!

harun 20230911212616
print news

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পেটানো ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হারুন অর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বরখাস্ত করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান। আদেশে বলা হয়— যেহেতু এডিসি হারুন অর রশিদকে জনস্বার্থে সরকারি কর্ম থেকে বিরত রাখা আবশ্যক ও সমীচীন। সেহেতু, হারুন অর রশিদকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন) এর ৩৯ (১) ধারার বিধান মোতাবেক অদ্য ১১-৯-২০২৩ তারিখ থেকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। আদেশে আরও বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি পুলিশ অধিদপ্তরে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

পরিবারের রাজনীতি নিয়ে ধোঁয়াশা :
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পেটানোর ঘটনায় বরখাস্ত হয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) হারুন অর রশিদ। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

তার দাবি, এডিসি হারুন ছাত্রদলকর্মী ছিলেন এবং তার পরিবারের সদস্যরা বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে গিয়ে হারুনের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার রীউলা ইউনিয়নের থানাঘাটা গ্রামের স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে মিশ্র তথ্য। কেউ বলছেন ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত আবার কেউ বলছেন বিএনপি-জামাতের রাজনীতি করেছেন হারুন।

হারুনের বাবা জামালউদ্দীন গাজীর বাড়ি ছিল একই ইউনিয়নের বালিয়াখালী গ্রামে। তবে বর্তমানে তারা থানাঘাটা গ্রামে বসবাস করেন। জামালউদ্দীন গাজী মাড়িয়ালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসর জীবন-যাপন করছেন। হারুনের মা শেফালী বেগম একজন গৃহিণী।

আরও পড়ুন:

পিস্তলের বাট দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় ছাত্রলীগ নেতা নাঈমের দাঁত

বাবার কর্মস্থল মাড়িয়ালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন হারুন। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির (টিপু-বাদশা কমিটি) বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপসম্পাদক ছিলেন হারুন। তার ছোট ভাইয়ের নাম শরীফুল ইসলাম। তিনি সাইফুর রহমান সোহাগের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়াবিষয়ক উপ-সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। তবে তার পরিবারের আর কেউ সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার গ্রামের এক বাসিন্দা জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর প্রথম বর্ষে হারুন জিয়া হল ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাকের ছত্র-ছায়ায় থেকে গণহলে অবস্থান করতেন। তবে তিনি সরাসরি ছাত্রদল করতেন কি না এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি তিনি।

আরও পড়ুন:

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দুই নেতাকে পেটালেন এডিসি হারুন

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই গ্রামের আরও একজন জানান, হারুনের দাদা নরিম গাজীর দুই স্ত্রী ছিল। দুই স্ত্রীর ঘরে হারুনের বাবা-চাচারা পাঁচ ভাই। হারুনের বাবা মা সরাসরি রাজনীতি না করলেও তার চাচাতো ভাইদের অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

 

আরও পড়ুন:

পিটিয়ে ধরা খেলেন এডিসি হারুন, নেপথ্যে পরকীয়া

ইউনিয়নের সাবেক যুবলীগ নেতা মো. সোহেল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, হারুন ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত হন। তার ছোট ভাইও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তিনি কখনো ছাত্রদল করত এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। এছাড়া তার বাবা একজন স্কুল শিক্ষক। এলাকায় তিনি সবার কাছে সম্মানিত ব্যক্তি।

ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রভাষক দীপঙ্কর বাছাড় জাগো নিউজকে বলেন, হারুনের নানা হাজরাখালী গ্রামের বাবর আলী সানা মুসলিম লীগ ও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের পরিবারের অন্যরা বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন....
ইত্তেহাদ ডেস্ক :

ইত্তেহাদ ডেস্ক :

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *