নলছিটির ইউপি চেয়ারম্যান একাধিক মামলা থেকে অব্যাহতি


নলছিটি প্রতিনিধি :
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৩নং কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম আখতারুজ্জামান বাচ্চু ধর্ষণসহ আরও ১১ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তাই এ মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছেন ঢাকার নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩।
আদালতের বিচারক ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ মোছাম্মত রোকসানা বেগম হ্যাপী গত ২ সেপ্টেম্বর এ রায় দেন। আদালতের সইমোহরের কপি মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) হাতে পান ইউপি চেয়ারম্যান বাচ্চু।
আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. নোমান আবেদীন ও বেঞ্চসহকারী মো. রাশিদুল ইসলাম জানান, গত ১১ ফেব্রুয়ারি নলছিটি উপজেলার এক তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে রাজধানীর খিলগাঁও থানায় একটি মামলা করেন। আদালত ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা ও ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। দুটি পরীক্ষার ফলাফলেই ধর্ষণের কোনো আলামত মেলেনি। এমনকি ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর ডিএনএ-ও মেলেনি। এ অবস্থায় আদালত এই মামলা থেকে এইচ এম আখতারুজ্জামান বাচ্চু ও অপর এক আসামিকে অব্যাহতি দেন।
২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মানুষের ভোটে চেয়ারম্যান হিসেবে নিবার্চিত হন এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চু। স্থানীয় সংসদ সদস্য জননেতা আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু এমপি মহোদয়ের স্নেহধন্য হয়ে কুলকাঠি ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন হয়। তবে বিগত দুই বছর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে অযাচিত হয়রানি করার কারনে কিছুটা উন্নয়ন কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়েছিল। একটি সংঘবদ্ধচক্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট খাবারের সাথে বিষাক্ত পয়েজন প্রয়োগ করে চেয়ারম্যানকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কুচক্রীমহলের ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ১৪ দিন ঢাকা নিউরো সাইন্স হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টের পরবর্তীতে প্রায় ৬ মাস হুইল চেয়ার এবং ঘরের মধ্যে অসুস্থতার মধ্যে ছিলেন। অথচ একটি মহল জনৈক তরুণীকে ব্যবহার করে একটি মিথ্যা ধর্ষন মামলা ঢাকার খিলগাঁও থানায় দায়ের করেন। মহান আল্লাহর রহমতে শুকরিয়া আদায় করতে হয় যে, ধর্ষন মামলাটি আদাল কর্তৃক মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। শুধু ধর্ষন মামলা দিয়ে ক্ষ্যান্ত হয়নি ওই দুষ্টচক্র। তারপরও ঝালকাঠি জেলা দায়েরা জজ আদালতে বিশেষ আইনে দূনীর্তির অভিযোগে কাওছার হোসেন মিন্টু মৃধা একটি মিথ্যা মামলা করা করেন। যাহা তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হয়। একই ব্যক্তি বরিশাল সাইবার আদালতে আরও একটি মিথ্যা মামলা দেন। যাহাও তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হয়। ধর্ষন মামলার ভিকটিম দ্বারা কুলকাঠি ইউনিয়নের ছাত্র লীগ ও যুব লীগের নেতা-কর্মীদের দ্বারা পৃথক পৃথক আরও দুইটি মামলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মিথ্যা মামলা দেয়। উহাও মিথ্যা প্রমানিত হয়। কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের স্ত্রী লাভলী আক্তারের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র ও এনটিআরসি সনদ জাল দাবি করে একটি মিথ্যা মামলা দেন। যাহা তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। এরপর কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ভূয়া ওয়ারিশ সনদপত্র প্রদানের অভিযোগে আরও একটি মিথ্যা মামলা দেন। যাহা তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হয়।
এরপর এাণের অর্থ আত্মসাৎ, এডিপি, এলজিএসপি টাকা কাজ না করে অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে ১১৫ টি মিথ্যা দরখাস্ত করা হয়। যাহা তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। মামলা ও অভিযোগকারীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ঝালকাঠি সদর থানা, নলছিটি থানা সহ বিভিন্ন থানায় ১০টি সাধারণ ডাইরী করা হয়। যাহা তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে।
৩নং কুলকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চু বলেন,
একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আর কতো ষড়যন্ত্র হবে। আসুন ষড়যন্ত্রকারীদের সামাজিক ভাবে বয়কট করি। তবে যারা চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। তারা কুলকাঠি ইউনিয়নের উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করতে চায়? তাই এদের চরিত্র উম্মোচন করা উচিত। তাদের অপকর্ম চাপা দিতেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল।
এখন একটিচক্র সক্রিয় আছেন, যারা ভুয়া/ফেইক ফেইসবুক আইডি ব্যবহার করে এডিট করা কুরুচিপূর্ণ (ওইচক্রের তৈরী করা) ছবি পোষ্ট করে থাকেন। তবে ওই সকল ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তারা অচিরই আইনের আওতায় আসবে। তবে যারা এই কাজ গুলো করেছেন, তারা মাদক ব্যবসায়ী।
মহান আল্লাহ ষড়যন্ত্রকারীদের হেদায়েত করুন। আমিন।
এ ছাড়া দুদক ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ আরও ১১ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এই ইউপি চেয়ারম্যান।
নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৩নং কুলকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান এইচএম আখতারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে একটি চক্র সবসময় কাজ করছে। তাদের ইন্ধনে একটি মেয়ে আমার নামে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে। সে আমার ছবি সুপার এডিটিং করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। আদালত সত্য ঘটনা উদঘাটন করে মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দেন। মামলার বাদীর বিরুদ্ধে আমি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছি, ওই মামলায় সে পলাতক রয়েছে।’ তাছাড়া মিথ্যা মামলার সময় তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন একথাও তিনি জানান ।