ইত্তেহাদ নিউজ,ঝালকাঠি : ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নে ২৪ সালের পাচঁ আগষ্টের পরে বিএনপির একটি গ্রুপের অব্যাহত দখল-চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য সাধারন মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।অস্থির হয়ে উঠছে জনসাধারন।৫০০ টাকা থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে চাঁদা।বাদ যায়নি চাঁদার তালিকা থেকে তোষকের দোকান থেকে ইউনিয়ন পরিষদ । বালু ভরাট থেকে ড্রেজার পর্যন্ত।বিএনপির চাঁদাবাজদের দাবীকৃত চাঁদা না পাওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদে তালা দিয়ে পরিষদ বন্ধ করার ঘটনাও ঘটেছে।চাদাবাজি-হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সাধারন মানুষ অতিষ্ঠ।মামলা ও অভিযোগ দেয়া হলেও প্রশাসন রয়েছে নিরব। এসব চাঁদাবাজি -হামলার নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নান্টু মল্লিক ও তার গ্রুপের বিরুদ্ধে।
দপদপিয়ায় আলীগ অফিস দখল করে বিএনপি অফিস:
৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তনের পরেই দপদপিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ অফিস দখল করে বানানো হয় বিএনপির অফিস।লুটপাট করা হয় অফিসের মালামাল। ইউনিয়নে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আতংক ছড়িয়ে দেয়া হয়।এখন দখলকৃত এই অফিসটিতে আগুন লাগানোর পায়তারা চলছে। আগুন দিয়ে নিরীহ সাধারন মানুষ এবং যারা চাঁদা দিতে অস্বিকার করেছেন ও প্রতিবাদ করেছেন তাদের আসামী করার ছক আকাঁ হচ্ছে।
বিএনপির একটি গ্রুপের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এখন দপদপিয়া নরকে পরিনত হয়েছে।
ব্যাপক চাদাঁবাজি,অতিষ্ঠ সাধারন মানুষ :
২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরে দপদপিয়া জুড়ে বিএনপির ব্যাপক চাঁদাবাজিতে ব্যবসায়ী থেকে সাধারন মানুষ অস্থির হয়ে উঠেছে।ইউনিয়নজুড়ে আতংক বিরাজ করছে।তোষকের দোকানে পাচঁশত টাকা চাদাঁ না পেয়ে তালা দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়।এভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সর্বত্র চাঁদা নেয়া শুরু করে। এমনকি চাঁদা আদায় করার জন্য সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের গাড়ি আটকে রাখা হয়।
নলছিটি হাউজিং এস্টেটের ইট থেকে চাঁদাবাজি :
দপদপিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’ র বিরুদ্ধে চাদাঁ না দেওয়ায় ইটবাহি ট্রাক আটকে দিয়ে সরকারি প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।বিগত ১৮ মার্চ বেলা ১১ টায় নলছিটি উপজেলার দপদপিয়ার চৌমাথা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এর আওতায় চলা “নলছিটি হাউজিং এস্টেট ” এর চলা প্রকল্প বন্ধ রয়েছে। সেই সড়কের পাশে ‘নূর ব্রিকস ‘ এর পাঁচ টি ইটবাহি আটকে রাখা ট্রাক প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রকল্প স্থানে ইট নামানো হয়।প্রতিটি ট্রাক থেকে একহাজার টাকা চাদাঁ চেয়েছিল বিএনপির চাদাঁবাজরা এমন অভিযোগ ছিল ট্রাক চালকদের।ইটবাহি ট্রাক ড্রাইভার মো. সাকিব জানান , আমরা “নূর ব্রিকস ” থেকে ইট নিয়ে দপদপিয়া ব্রিজ এর নিচে চলমান সরকারি প্রকল্প “নলছিটি হাউজিং এস্টেট ” এ যাচ্ছিলাম। দপদপিয়া ব্রিজ এর নিচে চৌমাথা কিছু স্থানীয় বিএনপি’র লোকজন আমাদের গাড়ির পথ আটকে দেয় এবং মাল না নামিয়ে ওই স্থান থেকে বারবার অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে ফিরে যেতে বলে ছিলো। আমরা গাড়ি সড়কের পাশে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম অনেক ক্ষন। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা ইট নামিয়ে আসতে পেরেছি।
ইউপি সদস্য থেকে ভিজিএফ কার্ড ,টাকা ছিনতাই:
২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে দপদপিয়ার বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি,লুটপাট, ছিনতাই,অবৈধ ভাবে বালু ভরাট,দোকান থেকে চাঁদা আদায় যেন তাদের পেশা হয়ে গেছে।গত ৪ জুন রাতে দপদপিয়ার এক নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল হাসান থেকে ভিজিএফের কার্ড, নগদ ৫২ হাজার পাঁচ শত টাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ছিনিয়ে নেয় দপদপিয়া গ্রামের নুর জামাত খানের পুত্র প্রান্ত খান,মুনসুর মাঝীর পুত্র জিয়া মাঝি,গুফুর খানের পুত্র রিমন খান।এসময় তাদের সাথে অজ্ঞাতনামা আরো ৪ -৫ জন সন্ত্রাসী ও ছিনতাই কারী উপস্থিত ছিলো। এ ব্যাপারে কামরুল হাসানের স্ত্রী জাফরিন ইকবাল নলছিটি থানায় ১৪৩,৩৪১,৩২৩,৩২৪,৩৭৯ ও ৪০৬ ধারার অভিযোগে মামলা দায়ের করলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
এদিকে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে স্পোর্টস এর নামে ৫০ হাজার টাকা,কলেজে নিয়োগের নামে টাকা,ড্রেজার থেকে চাদাঁ নেয়াসহ অসংখ্য অভিযোগ দপদপিয়া বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে। দপদপিয়া চাদাঁবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিনত হলেও বিএনপি বা প্রশাসন এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
দপদপিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে দশ লাখ টাকা চাদাঁ দাবী, বিএনপি সভাপতি নান্টু মল্লিকের বিরুদ্ধে:
দপদপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বাবুল মৃধার নিকট বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।চাদাঁ না দেয়ায় ইউনিয়ন পরিষদে তালা ঝুলিয়ে দেন নান্টু মল্লিক ও তার গ্রুপের লোকজন। ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল মৃধা পরিষদে যেতে না পারায় স্থানীয় বাসিন্দারা ন্যূনতম নাগরিক সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল আহসান নান্টু মল্লিক দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তা না পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দরজায় তালা লাগিয়ে পরিষদের কার্যক্রম অচল করে দেন। গত ২২ জুন স্থানীয় চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বাবুল মৃধার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করে পরিষদ ভবনে তালা ঝুলানো হয় । বাবুল মৃধা অভিযোগ করেন, প্রকাশ্যে হত্যার হুমকির পাশাপাশি চাঁদা না দিলে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ারও হুমকি এসেছে তার ওপর। তিনি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করার পরে প্রশাসনের চাপে একটি কক্ষের তালা খুলে দেয়া হয়।তবে বিএনপির চাঁদাবাজরা সকাল সন্ধ্যা ইউনিয়ন পরিষদে বসে থাকেন।হামলার ভয়ে এখন পর্যন্ত পরিষদে যাননি বাবুল মুধা।চেয়ারম্যান আরও বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে নাজমুল আহসান নান্টুর ভাই ও ঘনিষ্ঠরা সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং স্থানীয়দের প্রতিবাদে তাদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বিএনপি নেতাদের এমন উগ্র কায়দায় পরিষদ বন্ধ করে রাখা কখনোই কাম্য নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সালেহা বেগম জানান, বাবুল মৃধা মানুষের জন্য কাজ করতেন, এখন তার বিরুদ্ধে এমন সহিংস আচরণ কেন হচ্ছে, তা বুঝতে পারছেন না। পরিষদ তালাবদ্ধ থাকায় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন থেকে শুরু করে সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো কাজই করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। ওয়ার্ড মেম্বার হারুন খন্দকার ও সংরক্ষিত মেম্বার আয়শা আক্তার রিনাও পরিষদ তালাবদ্ধ থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার দায় বিএনপি নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। অপরদিকে অভিযুক্ত নান্টু মল্লিক সব অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, চাঁদার কোনো প্রশ্নই আসে না এবং চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আন্দোলন এলাকাবাসীর ক্ষোভ থেকেই সৃষ্টি হয়েছে।
সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news
* অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায় ।
ইত্তেহাদ নিউজ, এয়ার পোর্ট রোড, আবুধাবী ,সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইমেইল: [email protected], web:www.etihad.news
এম এম রহমান, প্রধান সম্পাদক, ইত্তেহাদ নিউজ, এয়ার পোর্ট রোড, আবুধাবী, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত