বরিশালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা : শেবাচিম হাসপাতালের বিতর্কিতদের দিয়ে তদন্ত কমিটি,তোলপাড় সৃষ্টি


মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল:
২০২৪ সালের ৩ আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ ও মিছিলের ধ্বনিতে সারাদেশ টলমাটাল।রাজপথ উত্তাল। সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করে।শহীদ মিনার ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সমবেত হোন। ঢাকার বাইরে কয়েকটি জেলায় সংঘর্ষ হয়েছে।
৩ আগস্ট এক দফা দাবি ও অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী নেতারা ।তখন বরিশালে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ -পরিচালক ডাঃ এসএম মনিরুজ্জামান অতি উৎসাহের সাথে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন জামায়াত -শিবির ও বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকান্ড,রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস এবং সু পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পক্ষে কথিত শান্তি সমাবেশ করেন ৩ আগষ্ট।তিনি ঐ কথিত শান্তি সমাবেশে হাসপাতালের নার্স ডাক্তার কর্মকর্তা, কর্সচারী ও বহিরাগতদের নিয়ে যোগদান করেন।
ফ্যাসিস্টদের শান্তি সমাবেশের নায়ক বিতর্কিত উপ-পরিচালক এস এম মনিরুজ্জামান কে সভাপতি এবং ছাত্রদের কথিত হামলার অভিযোগ এনে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংগঠক মহিউদ্দিন রনিসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের কারী ও ছাত্র জনতার ওপর হামলাকারী ওয়ার্ড মাষ্টার জুয়েল চন্দ্র শীলকে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের খবরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর দালাল ও কর্মচারীদের হামলা
২৮ জুলাই থেকে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবাখাতের সংস্কারের লক্ষে তিন দফা দাবীতে মহিউদ্দিন রনির নেতৃত্বে বিভিন্ন কর্মসুচী চলে আসছে। ১৪ আগষ্ট শিক্ষার্থী ও জনতার ওপর হামলা করে শেরেবাংলা মেডিকেলের স্টাফসহ দালাল সিন্ডিকেটের সদস্যরা।একই দিনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাব্বী ও তার মায়ের ওপর হামলা করে মেডিকেলের স্টাফরা।
নামধারী ও অজ্ঞাত ৪২ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ওয়ার্ড মাষ্টার জুয়েল চন্দ্র শীল থানায় অভিযোগ দায়েরের পর দেশজুড়ে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় ।শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সেই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পক্ষে কথিত শান্তি সমাবেশের উদ্যোক্তা হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এস এম মনিরুজ্জামান কে সভাপতি করে এবং ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী বিতর্কিত ওয়ার্ড মাষ্টার জুয়েল চন্দ্র শীলকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির বিষয়ের খবরে তোলপাড় সৃষ্টি হয় নগর জুড়ে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন,ডাঃ মোঃ ইখতিয়ার হোসেন,শাহনাজ পারভিন, আব্দুল জলিল। গঠিত কমিটিকে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়।
ফ্যাসিবাদের পক্ষের লোকজন ও ছাত্রদের ওপর হামলাকারীদের দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করায় প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার্থীদের মাঝেই।এছাড়া তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন উল্থাপন করেছেস শিক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে সংগঠক মহিউদ্দিন রনি বলেন,হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে হামলাকারীদের রক্ষার জন্যই তদন্ত নামক নাটক করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়ের দাপ্তরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। তদন্ত কমিটির সভাপতি হলেন উপ-পরিচালক। কমিটিতে একজন চিকিৎসকও রয়েছেন।
উল্লেখ্য,১৯৬৮ সালের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি দেশের অন্যসব হাসপাতাল থেকে পিছিয়ে। এখানে জনবল, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম—সব কিছুই অপ্রতুল।
সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news
* অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায় ।