জাপা কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, উত্তেজনা ,নিষিদ্ধের দাবি হেফাজতের


ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ব্যবহার করা হয় টিয়ারশেল ও জল কামান। এতে সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখার সময়ও ওই এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলছে। গণ অধিকার পরিষদের বিক্ষোভ মিছিলের পর জাপা কার্যালয়ে একদল লোক হামলা চালায় এবং নিচ তলায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে হামলাকারীদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে এবং আগুন নিভিয়ে ফেলে। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
নিষিদ্ধের দাবি হেফাজতের:
জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদসহ কয়েকটি দলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে বলেন, গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।জাতীয় পার্টিকে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের চিহ্নিত এজেন্ট’ বলে মন্তব্য করেছে হেফাজতে ইসলাম। তারা বিচারিক প্রক্রিয়ায় দলটিকে নিষিদ্ধ করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে। শনিবার হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব এক বিবৃতিতে এই দাবি করেছেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘ গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুরের ওপর আওয়ামী দোসর জাপার সন্ত্রাসী, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও ফ্যাসিস্টপন্থী সদস্যের ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠোর পদক্ষেপ নিতে সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে ভারতীয় আধিপত্যবাদের চিহ্নিত এজেন্ট জাতীয় পার্টিকেও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই। জাতীয় পার্টিকে ঘিরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা সফল হতে দেয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।
আরও পড়ুন:
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আহত নুর আইসিইউতে
তারা আরও বলেন, ‘ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তার কিছুই এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সবচেয়ে জরুরি পুলিশবাহিনীর কোনো দৃশ্যমান সংস্কারও হয়নি। এখনো আগের মতো ক্ষমতাসীনদের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে; যা ইউনূস সরকারের জন্য চরম লজ্জার বলে আমরা মনে করি।’
হেফাজতের নেতারা বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রশংসিত। কিন্তু গতকাল পুলিশের সঙ্গে মিলে একজন সুপরিচিত ছাত্রনেতার ওপর হামলার কারণে সেনাবাহিনীর ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে, যা অপ্রত্যাশিত। সেনাবাহিনীর ভেতরে থেকে যারা আধিপত্যবাদের ইন্ধনে প্রতিষ্ঠানটিকে ফ্যাসিস্ট আমলের মতো বিতর্কিত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই সেনাবাহিনী জনগণের গর্ব ও আস্থার জায়গাটি পুনরুদ্ধার করুক। পুলিশের পর্যায়ে নামিয়ে এনে প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও বিতর্কিত হতে দেয়া কোনোভাবেই উচিত হবে না।
তারা আরো বলেন, ছাত্র-জনতা আজ বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ায় সেটির সুযোগ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের দোসররা। গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের অস্তিত্ব বিনাশ করতে চতুর্মুখী চক্রান্ত চলমান। সব চক্রান্ত ব্যর্থ করতে ছাত্র-জনতাকে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজকে যারা ছাত্র-জনতার গণপ্রতিরোধকে ‘মব’ বলে বিতর্কিত করতে চায়, তারাই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনে উঠেপড়ে লেগেছে। তাদের সফল হতে দেয়া হবে না ইনশাআল্লাহ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ভ্যানগার্ড আলেম-সমাজ, মাদরাসাছাত্র ও তৌহিদি জনতা এখনো ফ্যাসিবাদবিরোধী বিপ্লবের চেতনায় জাগ্রত আছেন। তাদের প্রতিহত করা হবে।
সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news
* অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায় ।