ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) অর্থ ও হিসাব শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পদোন্নতিতে অনিয়ম, অর্থ ও হিসাবের সমন্বয়হীনতা ও ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব শাখার কর্মকর্তা, ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ নিজাম উদ্দিন। যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদেরও একজন নির্বাহী সদস্য।
তথ্য অনুযায়ী, সৈয়দ নিজাম উদ্দিনের পবিপ্রবিতে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগের জন্য সার্কুলারে শর্ত ছিল শিক্ষা জীবনে অন্তত একটিতে অবশ্যই প্রথম শ্রেণি থাকতে হবে। কিন্তু তার সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় সৈয়দ নিজামের শিক্ষা জীবনের কোথাও কোনো প্রথম শ্রেণির ফলাফল নেই। এ সত্ত্বেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাদের মোটা অঙ্কের অর্থ ঘুষের বিনিময়ে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তথ্য অনুসারে তাকে ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বাছাই বোর্ডের সুপারিশক্রমে এবং একই বছরের ৪ জুন রিজেন্ট বোর্ডের ৩৭তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে (বর্তমান বিজয়-২৪ হল) সেকশন অফিসার (গ্রেড-৯) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
কিন্তু বিস্ময়করভাবে কেবল ৪ বছরের পরই সরকারি পর্যায়োন্নয়ন নীতিমালার কোনো তোয়াক্কা না করে সৈয়দ নিজামকে ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বরের বাছাই বোর্ড ও ১৯ ডিসেম্বরের রিজেন্ট বোর্ডের ৪৬তম সভার সিদ্ধান্ত দেখিয়ে একই হলের (বঙ্গবন্ধু হল) ডেপুটি রেজিস্ট্রার (গ্রেড-৫) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় তৎকালীন প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে ‘ম্যানেজ’ করে লোক দেখানো ১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করে এই অনৈতিক পর্যায়োন্নয়ন নিয়েছিলেন নিজাম।
তা ছাড়া হিসাব শাখার বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে সৈয়দ নিজাম উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কর্মকাণ্ডে অনিয়ম করে ব্যক্তিগতভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন এমন অভিযোগও রয়েছে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে। তাদের দাবি, তিনি পটুয়াখালী জেলা শহরের বনানী এলাকায় জমি ক্রয়সহ জৈনকাঠি গ্রামসহ আরও কয়েকটি স্থানে জমি কিনেছেন, যার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হিসাব শাখার কোনো বিষয়ের দরকারে নিজামের কাছে গেলে তিনি অর্থ দাবি করেন বলে একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ রয়েছে।
নথি অনুসারে সৈয়দ নিজাম ছিলেন বঙ্গবন্ধু কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের ৩ নম্বর নির্বাহী সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাধিক অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আফজাল হোসেনের কথিত নিকটাত্মীয়ের পরিচয়ে অনৈতিক প্রভাব, ঘুষ ও ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির মাধ্যমে বহু বছর ধরে হিসাব শাখায় প্রভাবশালীর অবস্থান ধরে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উচ্চতর প্রশাসনের সঙ্গে সখ্য বজায় রেখে তার অনিয়ম ও দুর্নীতি নির্দ্বিধায় চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার লোন কমিটির সদস্য হিসেবে নিজের অবস্থান ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ঋণ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বেতন প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকায় যাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো, তাদের সুবিধা দেওয়া এবং যাদের তিনি অপছন্দ করেন তাদের বেতন কমিয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগও করেছেন কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা।
জানা যায়, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর তাকে পূর্ববর্তী হলে (বিজয়-২৪ হল) স্থানান্তরের কথা উঠলে তিনি গোপনে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে ‘ম্যানেজ’ করে আবারও পূর্বের অফিস হিসাব শাখায় বহাল থাকেন।
অভিযোগের বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ নিজাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে আমার সব ফাইল আছে, আমার বিষয়ে তাদের প্রশ্ন করেন তারাই ভালো বলতে পারবে। আমার পদোন্নতিতে কোনো অনিয়ম কিংবা আমি কোনো দুর্নীতি করলে সেটার যদি প্রমাণ পায় প্রশাসন, আমার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেবে আমি তা মেনে নেব।’
এ সময় শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তার ফার্স্ট ক্লাস রেজাল্ট আছে কি না, থাকলেও কোন কোন পর্যায়েÑ এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সুস্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। বরং তিনি এ বিষয়েও রেজিস্ট্রার দপ্তর ভালো বলতে পারবে বলে জানান।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস বলেন, ‘সৈয়দ নিজামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসমূহের ব্যাপারে আমরা দুদক সদর দপ্তরকে অবহিত করব। অভিযোগের সুনির্দিষ্টতা থাকলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করব।’
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অ.দা.) অধ্যাপক ড. ইকতিয়ার উদ্দিন বলেন, ‘সৈয়দ নিজামের পদোন্নতিতে যদি কোনো অসামঞ্জস্যতা থাকে তবে সে বিষয়ে আমরা খোঁজ নেব। তদন্ত অনুসারে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় আমরা ব্যবস্থা নেব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এসব অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে আলোচনা করব। পদোন্নতির আইনের লঙ্ঘন কিংবা দুর্নীতির প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news
* অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায় ।
ইত্তেহাদ নিউজ, এয়ার পোর্ট রোড, আবুধাবী ,সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইমেইল: [email protected], web:www.etihad.news
এম এম রহমান, প্রধান সম্পাদক, ইত্তেহাদ নিউজ, এয়ার পোর্ট রোড, আবুধাবী, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত