বরিশালের হালিমা খাতুন স্কুলে রহস্যজনক কারনে শিক্ষক বরখাস্ত


মামুনুর রশীদ নোমানী: বরিশাল : বরিশালের হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বহুমুখী কারনে ও ছাত্রীদের কথিত যৌন হয়রানীর অভিযোগে ব্যবসা শাখার শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ মে) বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় তাকে বরখাস্ত করা হয়। তবে শিক্ষক মাইদুল বলেছেন ঘটনাটি সম্পুর্ন সাজানো ও অভ্যান্তরীন বহুমুখী কারনে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে শুনেছি। আমি তিনদিনের ছুটিতে রয়েছি বলে জানান তিনি।
গত (৫ মে) ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আইসিটি ক্লাস ছিল। মাইদুল ইসলাম ক্লাসে গিয়ে ছাত্রীদের গায়ে পিঠে হাত দেয় বলে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের কাছে অভিযোগ করেন। ঘটনার পরদিন ৬ মে ষষ্ঠ শ্রেণির ১৩ শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। এরপর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন হলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।
এদিকে স্কুল থেকে গঠন করা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি শিক্ষক মাইদুল ইসলামের এমন আচারণের সত্যতা পান। তিনি যে ছাত্রীদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হাত দেন এ কথার প্রমাণ পেয়েছে বলে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
শিক্ষক মাইদুল ইসলাম পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, স্কুলটিতে কোন শিক্ষক কোচিংয়ের টাকার ভাগ না দেয়া,কোচিং বানিজ্যসহ অন্যান্য অনিয়মের প্রতিবাদ করা হলেই সেসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগ আনা হয়।তিনি বলেন, স্কুলটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।সেই ক্যামেরার ফুটেজ না দেখে মনগড়া পকেট তদন্ত কমিটি গঠন করে আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট দিয়েছে যা সম্পুর্ন মনগড়া ও বানোয়াট এবং মিথ্যা।আমি বৃহস্পতিবার ক্লাশ নিয়েছি।এর পরে তিন দিনের ছুটি নিয়ে বাবার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রয়েছি।আমাকে বরখাস্ত করার কথা লোক মুখে শুনেছি। আমাকে স্কুল কর্তৃপক্ষ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়নি যা বেআইনী ও বিধি বিধান লঙ্গনের শামিল। জনাব মাইদুল বলেন আমি স্কুলের কতিপয় লোকদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের শিকার।সত্য কখনো চাপা থাকেনা। একদিন সত্যটা বেড়িয়ে আসবে।তিনি প্রশাসন ও সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন,ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হোক, তাহলে সত্যটা বেড়িয়ে আসবে।একটি চক্র শিশুদের ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে দরখাস্ত দিতে উৎসাহিত করেছে।তিনি বলেন, স্কুলের অভ্যান্তরীন দ্বন্ধ ও কোন্দলের বলি হয়েছি আমি।তিনি বলেন, অতীতেও শিক্ষকদের নাজেহাল এবং মান সম্মান নষ্ট করার জন্য যৌন হয়রানীর অভিযোগ এনে শিক্ষকদের বরখাস্ত করা হয়েছিল যা অসত্য বলে প্রমানিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম ফখরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগে গেল (৯ মে) স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভা ডেকে তাকে পুরোপুরি বরখাস্ত করা হয়েছে।ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল সাংবাদিকদের জানান, তারা এতেই ক্ষ্যান্ত থাকবেন না, দায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
স্কুলটিতে অবৈধভাবে ও জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ, কোচিং বানিজ্যের টাকার ভাগ ভাটোয়ারা, কোন্দল ও অনিয়মের কারনে স্কুলটির সুনাম আজ তলানীতে বলে জানিয়েছেন স্কুলটির সচেতন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
* সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news
* অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়