বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর দালাল ও কর্মচারীদের হামলা


বরিশাল অফিস : বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে এক অভূতপূর্ব হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগষ্ট) দুপুরে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে মেডিকেলের দালাল চক্র ও কিছু কর্মচারী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
১৭ দিনের আন্দোলন ও প্রেক্ষাপট:
স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে প্রায় ১৭ দিন ধরে বরিশালে টানা আন্দোলন করে আসছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অন্যতম দাবির মধ্যে রয়েছে—চিকিৎসা খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য নির্মূল, এবং চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন।
এই ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে বরিশাল ব্লকেড কর্মসূচি পালন করা হয়। কিন্তু বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আন্দোলনকে “অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। এর প্রেক্ষিতে মহিউদ্দিন রনির নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা বৃহস্পতিবার থেকে গণঅণশন কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দেন।
হামলার ঘটনা:
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণঅণশন কর্মসূচি পালন করতে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই মেডিকেলের দালাল চক্র ও কিছু অসাধু কর্মচারী আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিসোটা, লোহার রড ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীরা চারদিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং প্রশাসন শুরুতে হামলা ঠেকাতে তৎপরতা দেখায়নি। তবে পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের অবস্থা:
হামলায় আহত অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থীকে বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের প্রতিক্রিয়া
আন্দোলনের অন্যতম নেতা মহিউদ্দিন রনি বলেন,
“এটি আমাদের আন্দোলন দমন করার নীলনকশার অংশ। আমরা হামলার নিন্দা জানাই এবং দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।”
প্রশাসনের অবস্থান:
ঘটনার বিষয়ে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত:
হামলার পর বরিশাল শহরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, হামলার প্রতিবাদে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন।
সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news
* অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায় ।