Brand logo light
অনুসন্ধানী সংবাদ

বরিশাল হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পেনশন অনিয়মের অভিযোগ: মৃত কর্মচারীর পদোন্নতি ও ২৮ লাখ টাকার ফাইল ঘিরে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২২, ২০২৬ 0

সরকারি অনুমোদন ছাড়াই একাধিক পদোন্নতির অভিযোগ; সার্ভিস বুকের পাতা বাতিলের পরও পেনশন নিষ্পত্তি, দেড় কোটি টাকা বকেয়া বেতন আত্মসাতের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি-

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একজন মৃত সরকারি কর্মচারীর চাকরির নথিতে একাধিক পদোন্নতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সার্ভিস বুক যাচাইয়ের সময় নথির কয়েকটি পাতা বাতিলও করা হয়েছিল । এরপরও সেই কর্মচারীর পেনশন-সংক্রান্ত ফাইল কীভাবে নিষ্পত্তি হলো, ২৮ লাখ টাকার বেশি পেনশনের অর্থের হিসাব কী এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া পদোন্নতির অভিযোগের নিষ্পত্তি কোন প্রক্রিয়ায় হয়েছে—এসব প্রশ্নকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ) কার্যালয় ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বরিশাল সওজের ফেরী বিভাগের প্রয়াত কর্মচারী মোদাচ্ছের হোসেনের চাকরির নথিতে  অনিয়ম এবং পেনশন-সংক্রান্ত জটিলতা নিষ্পত্তিতে একটি চক্র আর্থিক সুবিধা নিয়েছে। পেনশনের মোট অর্থ থেকে অবৈধভাবে ২২ লাখ টাকা কর্তন দেখিয়ে সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া মোদাচ্ছের হোসেনের জীবদ্দশায় ২০ থেকে ২৫ জন সহকর্মীর বকেয়া বেতনের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় দেড় কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগও সামনে এসেছে। ওই অর্থ উত্তোলনে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার সহযোগিতা ছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

 

চৌকিদার থেকে উচ্চমান সহকারী: পদোন্নতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

প্রাপ্ত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুরের চৌহুতপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত তাছেন উদ্দিন ফরাজীর ছেলে মোদাচ্ছের হোসেন ১৯৮৭ সালে বরিশাল সওজের ১ নম্বর সি অ্যান্ড বি পোলের গ্যারেজে চৌকিদার হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন।

পরবর্তী সময়ে ১৯৮৮ সালের ১ মে তিনি পিয়ন পদে উন্নীত হন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর ১৯৯০ সালের ১ অক্টোবর কার্য সহকারী এবং ২০০১ সালের ১১ অক্টোবর অফিস সহকারী হিসেবে পদোন্নতি বা পদায়ন নেন। পরে তিনি উচ্চমান সহকারী পদেও দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব পদোন্নতি বা পদায়নের কয়েকটির পক্ষে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন কিংবা অফিস আদেশ (জিও) পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর চাকরির ধারাবাহিকতা, পদোন্নতির বৈধতা এবং সর্বশেষ পদের ভিত্তিতে পেনশন নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

২০২১ সালে অফিস সহকারী পদে বহাল থাকার সময় মোদাচ্ছের হোসেন হাইকোর্টের একটি আদেশের কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য। তবে ওই আদেশের প্রকৃত বিষয়বস্তু, কোন পদ বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য ছিল এবং পরবর্তী পদায়নগুলোকে সেটি বৈধতা দিয়েছিল কি না—তা নিশ্চিত হতে আদালতের আদেশ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

সার্ভিস বুকের পাতা বাতিল, এরপর কী হলো?

অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশাল সওজের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী আজম শেখ সার্ভিস বুক যাচাই করতে গিয়ে চাকরির নথিতে একাধিক অসংগতি শনাক্ত করেন। এরপর সার্ভিস বুকের প্রায় ছয় থেকে সাতটি পাতা বাতিল ঘোষণা করে কেটে দেন ।

 স্বাভাবিকভাবেই কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসে। পাতাগুলো কেন বাতিল করা হয়েছিল? বাতিলের কারণ কী ছিল? আর সংশোধিত নথির ভিত্তিতে পেনশন নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী কী যাচাই করেছে?

অভিযোগে বলা হয়েছে, অবসরে যাওয়ার আগেই মোদাচ্ছের হোসেন মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর পেনশন-সংক্রান্ত ফাইল হিসাব নিরীক্ষা কার্যালয়ে আটকে যায়। পরবর্তী সময়ে ফাইলটি কীভাবে নিষ্পত্তি হলো, সেই প্রক্রিয়ায় কোন কর্মকর্তা অনুমোদন দিয়েছেন এবং কী নথির ভিত্তিতে অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে—এসব বিষয় এখন অনুসন্ধানের কেন্দ্রে।

 

ডিসিএ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ

মোদাচ্ছের হোসেনের পেনশন-সংক্রান্ত ফাইল নিষ্পত্তিতে বরিশাল বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের নিরীক্ষা ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আরিফুল হক, অডিট অফিসার অমিতাভ বাড়ৈ এবং সওজের উচ্চমান সহকারী কামাল হোসেন  ভূমিকা রাখেন।অভিযোগকারীদের দাবি, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তাঁরা ফাইলটির নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখেন। 

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মোদাচ্ছের হোসেনের পেনশনের পরিমাণ ছিল ২৮ লাখ টাকার বেশি। সেখান থেকে অবৈধভাবে ২২ লাখ টাকা কর্তন দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও উচ্চমান সহকারীর মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়েছে।

পেনশনের অর্থ থেকে কোনো কর্তন করা হয়ে থাকলে তা কোন বিধি, আদেশ বা দায় সমন্বয়ের ভিত্তিতে করা হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। বৈধ কর্তন ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণে নথিভিত্তিক তদন্তই হবে মূল বিষয়।

দেড় কোটি টাকা বকেয়া বেতন উত্তোলন: কারা পেলেন সেই অর্থ?

পেনশন-সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি মোদাচ্ছের হোসেনের জীবদ্দশায় সহকর্মীদের বকেয়া বেতনের অর্থ উত্তোলন নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০ থেকে ২৫ জন সহকর্মীর বকেয়া বেতন বাবদ বরাদ্দ করা প্রায় দেড় কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। এ কাজে ডিসিএ কার্যালয়ের নিরীক্ষা ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আরিফুল হকের সহযোগিতা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থ উত্তোলনের পর প্রকৃত পাওনাদাররা তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পাননি।

আরও দাবি করা হয়েছে, ওই অর্থ দিয়ে মোদাচ্ছের হোসেন বিভিন্ন নামে একটি বাড়ি ও চারটি প্লট কিনেছিলেন। 

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—বকেয়া বেতনের অর্থ কোন কর্মচারীদের নামে বরাদ্দ হয়েছিল, কারা বিল প্রস্তুত ও অনুমোদন করেছিলেন, অর্থ কোন হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত কারা সেই অর্থ পেয়েছেন?

সরকারি অর্থ ছাড়ের ভাউচার, বিলের কপি, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বেতন-সংক্রান্ত নথি এবং সম্পত্তির নিবন্ধন দলিল যাচাই করা গেলে অভিযোগটির সত্যতা ও অর্থের গতিপথ নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সহকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এখনও বকেয়া বেতনের অর্থ পাওয়ার আশায় বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন। তাঁদের দাবির সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত পাওনাদারদের তালিকা নির্ধারণ করা জরুরি।

কামাল হোসেনের বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন

পেনশন-সংক্রান্ত ফাইলের বিষয়ে সওজের উচ্চমান সহকারী কামাল হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মোদাচ্ছেরের চাকরি ও পদায়ন সম্পূর্ণ অবৈধ ছিল। কিন্তু এ দেশে যারা ঘুষ নেয়, তাদের কাছে সব অবৈধই বৈধ হয়ে যায়।”

তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে আরও কয়েকটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন: তিনি কোন নথির ভিত্তিতে পদায়নকে অবৈধ বলেছেন? পদোন্নতির অসংগতি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে কিছু জানিয়েছিলেন কি না? পেনশন ফাইল নিষ্পত্তিতে তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব কতটুকু ছিল?

তথ্য দিতে অপারগতার কথা জানালেন ডিসিএ কর্মকর্তা

অভিযোগের বিষয়ে ডিসিএ কার্যালয়ের নিরীক্ষা ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আরিফুল হকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের অফিস ব্যাংকের মতো। এখান থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয় না। যদি তথ্য প্রয়োজন হয়, আপনি মোদাচ্ছেরের অফিসে লিখিতভাবে চাইতে পারেন।”

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলে লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  ডিসিএ কার্যালয়ের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য: সার্ভিস বুক তাঁর কাছে নেই

বরিশাল সওজের ফেরী বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এহতেসামুল হোসেনের কাছে মোদাচ্ছের হোসেনের সার্ভিস বুক, পদোন্নতির সরকারি আদেশ এবং পেনশন-সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়।তিনি বলেন, “মোদাচ্ছের তো পরপারে চলে গিয়েছে, তাকে খুঁজলেও আর পাওয়া যাবে না।”সার্ভিস বুক ও পদোন্নতির জিও সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, সার্ভিস বুক তাঁর কার্যালয়ে থাকে না এবং এসব বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।

 

তদন্তে যেসব নথি যাচাই করা জরুরি

অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে শুধু মৌখিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে কয়েকটি বিষয় নথিভিত্তিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন:

১. চাকরি ও পদোন্নতির নথি: ১৯৮৭ সাল থেকে মোদাচ্ছের হোসেনের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট জিও।

২. সার্ভিস বুক: বাতিল করা ছয় থেকে সাতটি পাতার মূল কপি, বাতিলের কারণ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আদেশ এবং সংশোধিত নথি।

৩. পেনশন ফাইল: পেনশন মঞ্জুরি আদেশ, মোট প্রাপ্য অর্থের হিসাব, কর্তনের খাত, অনুমোদনকারী কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর এবং অর্থ ছাড়ের রেকর্ড।

৪. বকেয়া বেতনের অর্থ: ২০ থেকে ২৫ জন কর্মচারীর নামে বরাদ্দ, বিল প্রস্তুত ও অনুমোদনের নথি, অর্থ উত্তোলনের বিবরণ এবং প্রকৃত প্রাপকদের হিসাব।

৫. সম্পত্তির মালিকানা: অভিযোগে উল্লেখ করা বাড়ি ও চারটি প্লটের নিবন্ধন দলিল, ক্রয়ের সময় এবং অর্থের উৎস।

৬. দাপ্তরিক যোগাযোগ: অনিয়ম শনাক্ত হওয়ার পর কোনো তদন্ত, আপত্তি, অডিট পর্যবেক্ষণ বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না।

এসব নথি পর্যালোচনা করলে পেনশন নিষ্পত্তি বিধিসম্মত ছিল কি না, সরকারি অর্থের কোনো অপব্যবহার হয়েছে কি না এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল, তা নির্ধারণে সহায়তা মিলতে পারে।

জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কে?

সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধা নির্ধারণের ক্ষেত্রে চাকরির নথি, পদোন্নতির বৈধতা এবং হিসাবের যথার্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কর্মচারীর পদোন্নতি নিয়ে আপত্তি থাকলে সেটি বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা এবং প্রাপ্য অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

বরিশালের এই ঘটনায় অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, নিরীক্ষা এবং পেনশন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত দিতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগের কোনো অংশ ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তা স্পষ্ট করাও জরুরি।

সচেতন মহল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় নথি যাচাই এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে পেনশন-সংক্রান্ত অর্থের হিসাব, বকেয়া বেতনের অর্থের গতিপথ এবং পদোন্নতির বৈধতা নির্ধারণ করা হোক।

শেষ পর্যন্ত মূল প্রশ্নটি হলো—মৃত কর্মচারীর চাকরির নথিতে অনিয়মের অভিযোগ থাকার পরও পেনশন ফাইল কীভাবে নিষ্পত্তি হলো, ২২ লাখ টাকা কর্তনের ভিত্তি কী ছিল এবং সহকর্মীদের বকেয়া বেতনের প্রায় দেড় কোটি টাকা কোথায় গেল? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে অভিযোগের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে নয়, বরং মূল নথি, আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে।

Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুসন্ধানী সংবাদ

View more
বরিশাল হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পেনশন অনিয়মের অভিযোগ: মৃত কর্মচারীর পদোন্নতি ও ২৮ লাখ টাকার ফাইল ঘিরে প্রশ্ন

সরকারি অনুমোদন ছাড়াই একাধিক পদোন্নতির অভিযোগ; সার্ভিস বুকের পাতা বাতিলের পরও পেনশন নিষ্পত্তি, দেড় কোটি টাকা বকেয়া বেতন আত্মসাতের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি-  ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একজন মৃত সরকারি কর্মচারীর চাকরির নথিতে একাধিক পদোন্নতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সার্ভিস বুক যাচাইয়ের সময় নথির কয়েকটি পাতা বাতিলও করা হয়েছিল । এরপরও সেই কর্মচারীর পেনশন-সংক্রান্ত ফাইল কীভাবে নিষ্পত্তি হলো, ২৮ লাখ টাকার বেশি পেনশনের অর্থের হিসাব কী এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া পদোন্নতির অভিযোগের নিষ্পত্তি কোন প্রক্রিয়ায় হয়েছে—এসব প্রশ্নকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ) কার্যালয় ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বরিশাল সওজের ফেরী বিভাগের প্রয়াত কর্মচারী মোদাচ্ছের হোসেনের চাকরির নথিতে  অনিয়ম এবং পেনশন-সংক্রান্ত জটিলতা নিষ্পত্তিতে একটি চক্র আর্থিক সুবিধা নিয়েছে। পেনশনের মোট অর্থ থেকে অবৈধভাবে ২২ লাখ টাকা কর্তন দেখিয়ে সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মোদাচ্ছের হোসেনের জীবদ্দশায় ২০ থেকে ২৫ জন সহকর্মীর বকেয়া বেতনের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় দেড় কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগও সামনে এসেছে। ওই অর্থ উত্তোলনে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার সহযোগিতা ছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি।   চৌকিদার থেকে উচ্চমান সহকারী: পদোন্নতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন প্রাপ্ত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুরের চৌহুতপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত তাছেন উদ্দিন ফরাজীর ছেলে মোদাচ্ছের হোসেন ১৯৮৭ সালে বরিশাল সওজের ১ নম্বর সি অ্যান্ড বি পোলের গ্যারেজে চৌকিদার হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৮ সালের ১ মে তিনি পিয়ন পদে উন্নীত হন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর ১৯৯০ সালের ১ অক্টোবর কার্য সহকারী এবং ২০০১ সালের ১১ অক্টোবর অফিস সহকারী হিসেবে পদোন্নতি বা পদায়ন নেন। পরে তিনি উচ্চমান সহকারী পদেও দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব পদোন্নতি বা পদায়নের কয়েকটির পক্ষে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন কিংবা অফিস আদেশ (জিও) পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর চাকরির ধারাবাহিকতা, পদোন্নতির বৈধতা এবং সর্বশেষ পদের ভিত্তিতে পেনশন নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। ২০২১ সালে অফিস সহকারী পদে বহাল থাকার সময় মোদাচ্ছের হোসেন হাইকোর্টের একটি আদেশের কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য। তবে ওই আদেশের প্রকৃত বিষয়বস্তু, কোন পদ বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য ছিল এবং পরবর্তী পদায়নগুলোকে সেটি বৈধতা দিয়েছিল কি না—তা নিশ্চিত হতে আদালতের আদেশ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সার্ভিস বুকের পাতা বাতিল, এরপর কী হলো? অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশাল সওজের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী আজম শেখ সার্ভিস বুক যাচাই করতে গিয়ে চাকরির নথিতে একাধিক অসংগতি শনাক্ত করেন। এরপর সার্ভিস বুকের প্রায় ছয় থেকে সাতটি পাতা বাতিল ঘোষণা করে কেটে দেন ।  স্বাভাবিকভাবেই কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসে। পাতাগুলো কেন বাতিল করা হয়েছিল? বাতিলের কারণ কী ছিল? আর সংশোধিত নথির ভিত্তিতে পেনশন নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী কী যাচাই করেছে? অভিযোগে বলা হয়েছে, অবসরে যাওয়ার আগেই মোদাচ্ছের হোসেন মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর পেনশন-সংক্রান্ত ফাইল হিসাব নিরীক্ষা কার্যালয়ে আটকে যায়। পরবর্তী সময়ে ফাইলটি কীভাবে নিষ্পত্তি হলো, সেই প্রক্রিয়ায় কোন কর্মকর্তা অনুমোদন দিয়েছেন এবং কী নথির ভিত্তিতে অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে—এসব বিষয় এখন অনুসন্ধানের কেন্দ্রে।   ডিসিএ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ মোদাচ্ছের হোসেনের পেনশন-সংক্রান্ত ফাইল নিষ্পত্তিতে বরিশাল বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের নিরীক্ষা ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আরিফুল হক, অডিট অফিসার অমিতাভ বাড়ৈ এবং সওজের উচ্চমান সহকারী কামাল হোসেন  ভূমিকা রাখেন।অভিযোগকারীদের দাবি, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তাঁরা ফাইলটির নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখেন।  আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মোদাচ্ছের হোসেনের পেনশনের পরিমাণ ছিল ২৮ লাখ টাকার বেশি। সেখান থেকে অবৈধভাবে ২২ লাখ টাকা কর্তন দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও উচ্চমান সহকারীর মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়েছে। পেনশনের অর্থ থেকে কোনো কর্তন করা হয়ে থাকলে তা কোন বিধি, আদেশ বা দায় সমন্বয়ের ভিত্তিতে করা হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। বৈধ কর্তন ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণে নথিভিত্তিক তদন্তই হবে মূল বিষয়। দেড় কোটি টাকা বকেয়া বেতন উত্তোলন: কারা পেলেন সেই অর্থ? পেনশন-সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি মোদাচ্ছের হোসেনের জীবদ্দশায় সহকর্মীদের বকেয়া বেতনের অর্থ উত্তোলন নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০ থেকে ২৫ জন সহকর্মীর বকেয়া বেতন বাবদ বরাদ্দ করা প্রায় দেড় কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। এ কাজে ডিসিএ কার্যালয়ের নিরীক্ষা ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আরিফুল হকের সহযোগিতা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থ উত্তোলনের পর প্রকৃত পাওনাদাররা তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পাননি। আরও দাবি করা হয়েছে, ওই অর্থ দিয়ে মোদাচ্ছের হোসেন বিভিন্ন নামে একটি বাড়ি ও চারটি প্লট কিনেছিলেন।  এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—বকেয়া বেতনের অর্থ কোন কর্মচারীদের নামে বরাদ্দ হয়েছিল, কারা বিল প্রস্তুত ও অনুমোদন করেছিলেন, অর্থ কোন হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত কারা সেই অর্থ পেয়েছেন? সরকারি অর্থ ছাড়ের ভাউচার, বিলের কপি, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বেতন-সংক্রান্ত নথি এবং সম্পত্তির নিবন্ধন দলিল যাচাই করা গেলে অভিযোগটির সত্যতা ও অর্থের গতিপথ নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সহকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এখনও বকেয়া বেতনের অর্থ পাওয়ার আশায় বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন। তাঁদের দাবির সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত পাওনাদারদের তালিকা নির্ধারণ করা জরুরি। কামাল হোসেনের বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন পেনশন-সংক্রান্ত ফাইলের বিষয়ে সওজের উচ্চমান সহকারী কামাল হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মোদাচ্ছেরের চাকরি ও পদায়ন সম্পূর্ণ অবৈধ ছিল। কিন্তু এ দেশে যারা ঘুষ নেয়, তাদের কাছে সব অবৈধই বৈধ হয়ে যায়।” তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে আরও কয়েকটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন: তিনি কোন নথির ভিত্তিতে পদায়নকে অবৈধ বলেছেন? পদোন্নতির অসংগতি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে কিছু জানিয়েছিলেন কি না? পেনশন ফাইল নিষ্পত্তিতে তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব কতটুকু ছিল? তথ্য দিতে অপারগতার কথা জানালেন ডিসিএ কর্মকর্তা অভিযোগের বিষয়ে ডিসিএ কার্যালয়ের নিরীক্ষা ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আরিফুল হকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের অফিস ব্যাংকের মতো। এখান থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয় না। যদি তথ্য প্রয়োজন হয়, আপনি মোদাচ্ছেরের অফিসে লিখিতভাবে চাইতে পারেন।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলে লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  ডিসিএ কার্যালয়ের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য: সার্ভিস বুক তাঁর কাছে নেই বরিশাল সওজের ফেরী বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এহতেসামুল হোসেনের কাছে মোদাচ্ছের হোসেনের সার্ভিস বুক, পদোন্নতির সরকারি আদেশ এবং পেনশন-সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়।তিনি বলেন, “মোদাচ্ছের তো পরপারে চলে গিয়েছে, তাকে খুঁজলেও আর পাওয়া যাবে না।”সার্ভিস বুক ও পদোন্নতির জিও সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, সার্ভিস বুক তাঁর কার্যালয়ে থাকে না এবং এসব বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।   তদন্তে যেসব নথি যাচাই করা জরুরি অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে শুধু মৌখিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে কয়েকটি বিষয় নথিভিত্তিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন: ১. চাকরি ও পদোন্নতির নথি: ১৯৮৭ সাল থেকে মোদাচ্ছের হোসেনের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট জিও। ২. সার্ভিস বুক: বাতিল করা ছয় থেকে সাতটি পাতার মূল কপি, বাতিলের কারণ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আদেশ এবং সংশোধিত নথি। ৩. পেনশন ফাইল: পেনশন মঞ্জুরি আদেশ, মোট প্রাপ্য অর্থের হিসাব, কর্তনের খাত, অনুমোদনকারী কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর এবং অর্থ ছাড়ের রেকর্ড। ৪. বকেয়া বেতনের অর্থ: ২০ থেকে ২৫ জন কর্মচারীর নামে বরাদ্দ, বিল প্রস্তুত ও অনুমোদনের নথি, অর্থ উত্তোলনের বিবরণ এবং প্রকৃত প্রাপকদের হিসাব। ৫. সম্পত্তির মালিকানা: অভিযোগে উল্লেখ করা বাড়ি ও চারটি প্লটের নিবন্ধন দলিল, ক্রয়ের সময় এবং অর্থের উৎস। ৬. দাপ্তরিক যোগাযোগ: অনিয়ম শনাক্ত হওয়ার পর কোনো তদন্ত, আপত্তি, অডিট পর্যবেক্ষণ বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না। এসব নথি পর্যালোচনা করলে পেনশন নিষ্পত্তি বিধিসম্মত ছিল কি না, সরকারি অর্থের কোনো অপব্যবহার হয়েছে কি না এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল, তা নির্ধারণে সহায়তা মিলতে পারে। জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কে? সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধা নির্ধারণের ক্ষেত্রে চাকরির নথি, পদোন্নতির বৈধতা এবং হিসাবের যথার্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কর্মচারীর পদোন্নতি নিয়ে আপত্তি থাকলে সেটি বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা এবং প্রাপ্য অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। বরিশালের এই ঘটনায় অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, নিরীক্ষা এবং পেনশন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত দিতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগের কোনো অংশ ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তা স্পষ্ট করাও জরুরি। সচেতন মহল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় নথি যাচাই এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে পেনশন-সংক্রান্ত অর্থের হিসাব, বকেয়া বেতনের অর্থের গতিপথ এবং পদোন্নতির বৈধতা নির্ধারণ করা হোক। শেষ পর্যন্ত মূল প্রশ্নটি হলো—মৃত কর্মচারীর চাকরির নথিতে অনিয়মের অভিযোগ থাকার পরও পেনশন ফাইল কীভাবে নিষ্পত্তি হলো, ২২ লাখ টাকা কর্তনের ভিত্তি কী ছিল এবং সহকর্মীদের বকেয়া বেতনের প্রায় দেড় কোটি টাকা কোথায় গেল? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে অভিযোগের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে নয়, বরং মূল নথি, আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২২, ২০২৬ 0

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট : বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকা নিয়ে ক্ষোভ

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর barisal

দোয়ারিকা-শিকারপুর সেতুর টোল :বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

ঢাকা জেলা প্রশাসকের এলএ শাখা-২: সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনের ঘুষ বাণিজ্যে জিম্মি জনগণ

সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনকে ঘিরে ঘুষ, ফাইল আটকে রাখা, পুনঃপদায়ন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ; দুদকের মামলার দাবির সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা-২-এ জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড় করিয়ে দেওয়ার নামে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন শাখাটির সার্ভেয়ার আফজাল হোসেন। একাধিক ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ক্ষতিপূরণের ফাইল প্রক্রিয়াকরণ ও অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরও জমির মালিকদের বারবার ঘোরানো এবং কমিশন না দিলে ফাইলের অগ্রগতি ধীর করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে আফজাল হোসেনের সম্পদ, অন্যত্র বদলির পর অল্প সময়ের মধ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফিরে আসা এবং ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত বড় একটি প্রকল্পে কয়েক শ কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা থাকার দাবিও সামনে এসেছে।   ক্ষতিপূরণের ফাইলে ৫–১৫ শতাংশ কমিশনের অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণের কারণে জমি হারানো মালিকদের জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণ কেবল আর্থিক পাওনা নয়; অনেক ক্ষেত্রে এটি তাঁদের জীবিকা, ব্যবসা কিংবা বিকল্প জমি কেনার প্রধান অবলম্বন। সেই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় কমিশন দাবির অভিযোগ তাই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ক্ষতিপূরণের ফাইলের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে নানা অজুহাতে বিলম্ব করা হয়। ফাইলের বিভিন্ন ধাপের কথা বলে তাঁদের একাধিকবার অফিসে যেতে হয়। একপর্যায়ে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে দাবি তাঁদের। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অর্থের ৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়। তাঁদের আরও অভিযোগ, এই দাবি মেনে না নিলে ফাইলের অগ্রগতি ধীর হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় থাকা জমির মালিকেরা মধ্যস্থতাকারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করতে বাধ্য হন।   ফাইল নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এলএ শাখা-২-এর ক্ষতিপূরণের ফাইল প্রক্রিয়াকরণকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই চক্রের মাধ্যমে ফাইলের অগ্রগতি ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নির্ধারিত নিয়মে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও কোনো কোনো জমির মালিককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কখনো নথির ঘাটতি, কখনো প্রক্রিয়াগত জটিলতা কিংবা অন্য দাপ্তরিক কারণ দেখিয়ে তাঁদের বারবার যোগাযোগ করতে বলা হয় বলে অভিযোগ। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠা ফাইলগুলোর আবেদন গ্রহণের তারিখ, নথি যাচাইয়ের ধাপ, অনুমোদন, অর্থ ছাড়ের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পর্যালোচনা করলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হতে পারে। বদলির পর চার মাসের মধ্যে ফের ঢাকা অফিসে? আফজাল হোসেনকে ঘিরে আরেকটি অভিযোগ তাঁর বদলি ও পুনঃপদায়ন নিয়ে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর একপর্যায়ে তাঁকে ঢাকা এলএ শাখা থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু বদলির প্রায় চার মাসের মধ্যেই তিনি আবার ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পুনঃপদায়ন ঘিরে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।  একজন সরকারি কর্মচারীর বদলি ও পদায়ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ। তাই এ ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করতে বদলির আদেশ, যোগদানপত্র, পুনঃপদায়নের আদেশ, সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।  অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে এলএ শাখা-২-এ দায়িত্ব পালনকালে আফজাল হোসেন তাঁর পুরোনো যোগাযোগ ও প্রভাব কাজে লাগাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্র ক্ষতিপূরণের ফাইল ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।  ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ ও কমিশন নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর কথিত সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। তাঁদের দাবি, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে বা বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে। পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় তাঁর নামে কিংবা কথিত ছদ্মনামে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল অর্থ জমা থাকার দাবিও করেছেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগগুলো যাচাইয়ের জন্য তাঁর দাখিল করা সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, বৈধ আয়ের উৎস, জমি ও ফ্ল্যাটের নিবন্ধন দলিল, সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকানা এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সরকারি চাকরিতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী কোনো ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা যাচাইয়ের ভিত্তি হওয়া উচিত প্রামাণ্য নথি ও বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য। । কয়েক শ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলার দাবি আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত একটি বড় প্রকল্পে কয়েক শ কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, মামলার পর আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মামলার অস্তিত্ব ও বিবরণ যাচাই করতে দুদকের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, মামলার এজাহার, আদালতের নথি এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব পালনের কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নির্ধারণেও প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান জরুরি। ক্ষতিপূরণপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি, জবাবদিহির প্রশ্ন ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিয়মভিত্তিক ও সময়োপযোগী হওয়া প্রয়োজন। কারণ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের পর ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের অনেকেই তাঁদের সম্পদের বিনিময়ে প্রাপ্য অর্থের ওপর নির্ভর করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সত্য হলে, ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কমিশন দাবি শুধু ব্যক্তিগত অনিয়মের বিষয় হবে না; এটি সরকারি সেবা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি নাগরিকদের আস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত হবে। আফজাল হোসেনের কথিত সম্পদের উৎস নিয়ে ওঠা প্রশ্নের ক্ষেত্রে সম্পদ বিবরণী ও আয়কর নথি যাচাইয়ের পাশাপাশি জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সম্পদের প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত করা প্রয়োজন। দুদকের মামলা থাকার দাবি সত্য হলে সেই মামলার নথি ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। বক্তব্য পাওয়া যায়নি আফজাল হোসেনের সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ, কমিশন, সম্পদ ও অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, এলএ শাখা-২-এ ক্ষতিপূরণের ফাইল ছাড়ের নামে কমিশন দাবির অভিযোগ, আফজাল হোসেনের  সম্পদের উৎস এবং তাঁর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা থাকার দাবির সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৮, ২০২৬ 0
উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল বাশার

ধানমন্ডি ৩২ থেকে ভোলা গণপূর্ত: আবুল বাশারের সম্পদ, রাজনৈতিক পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বিআরটিসিতে আশরাফুল আলমের প্রভাববলয়: ডিপোতে শতকোটি টাকার আয়-ব্যয়, যন্ত্রাংশ কেনাকাটা ও বদলি বাণিজ্য নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ফিরোজ হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের এআরও গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ
কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের এআরও গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, বন্ড সুবিধার ব্যবহার এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। কমিশনারের স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) চৌধুরী গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে সহযোগিতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক কমিশনার আবু ওবায়দা ও অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের দায়িত্বকালে কথিত এই বলয়ের প্রভাব বিস্তার ঘটে। এমনকি মাসে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্যের অপব্যবহার, কথিত অনিয়মের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেওয়া এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদ্‌ঘাটন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বন্ড সুবিধার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন বন্ড সুবিধা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি শুল্কব্যবস্থা। নির্ধারিত শর্তে আমদানি করা কাঁচামাল ও উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এ সুবিধার অপব্যবহার হলে শুল্ক-কর ফাঁকি এবং সরকারি রাজস্ব ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর কার্যক্রম ঘিরে ওঠা অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই বন্ড ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, চৌধুরী গোলাম হাসনাইনকে কেন্দ্র করে দপ্তরের ভেতরে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে উঠেছিল। ওই বলয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম এবং আর্থিক সুবিধা আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক কমিশনার আবু ওবায়দা ও অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের দায়িত্বকালে এই বলয়ের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। তবে কোন সিদ্ধান্তে কার ভূমিকা ছিল, কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে কিংবা কোন দাপ্তরিক নথির মাধ্যমে অনিয়ম ঘটেছে—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের আরেকটি অংশে বলা হয়েছে, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ধারণা, অবৈধ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ লেনদেন হয়ে থাকতে পারে।   মাসে কয়েক কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ, প্রমাণ কোথায়? সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাসে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। বিশেষ করে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বন্ড সুবিধা অনুমোদন বা নবায়ন, আমদানি করা পণ্যের ব্যবহার, নির্ধারিত শর্ত প্রতিপালন এবং শুল্ক-করসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অস্বাভাবিকতা ছিল কি না, তা যাচাই করলে অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।   কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত বলয়ে কয়েকজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সিপাহির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। সদ্য বিদায়ী অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ওই বলয়কে পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগও উঠেছে। এ ছাড়া কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মজনু মিয়াসহ আরও কয়েকজনের নাম অভিযোগের সূত্রে এসেছে। সূত্রগুলোর আরও দাবি, চৌধুরী গোলাম হাসনাইন এর আগে যেসব কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছিল।  সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা ও হুমকির অভিযোগ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর কার্যক্রম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধা ও হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে।একাধিক সংবাদকর্মীর দাবি, সংবাদ সংগ্রহের জন্য কার্যালয়ে গেলে তাঁদের প্রবেশপথের গেটে আটকে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাঁরা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।কয়েকজন সংবাদকর্মীর ভাষ্য, তাঁদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য একটি লাঠিয়াল বাহিনী’র মাধ্যমে হুমকি ও লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে।এ বিষয়ে নতুন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন চৌধুরী গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে অল্প সময়ের চাকরিজীবনে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। তবে তাঁর সম্পদের পরিমাণ, বৈধ আয়, সম্পদ বিবরণী কিংবা দুদকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরুর বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।দুদক কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরু করেছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।   নতুন কমিশনারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রত্যাশা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-কে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা জানতে প্রয়োজন নথিভিত্তিক অনুসন্ধান। সংশ্লিষ্ট সময়ের বন্ড সুবিধা অনুমোদন ও নবায়নের নথি, আমদানি-রপ্তানির তথ্য, শুল্ক নির্ধারণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এবং দাপ্তরিক যোগাযোগ পর্যালোচনা করলে অনিয়মের কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে। অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেলে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুসারে বিভাগীয় তদন্ত বা অন্য আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। সব মিলিয়ে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, ঘুষ লেনদেন, কথিত সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগগুলো এখনো পূর্ণাঙ্গ নথি ও স্বাধীন তদন্তের অপেক্ষায়।   

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
ঘুষ বাণিজ্যে ২০ কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ, কর কর্মকর্তা সাইফুলকে ঘিরে তোলপাড়

কর বিভাগের উচ্চমান সহকারী সাইফুলের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও ১৩ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল যখন ঠিকাদার: ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ

সংস্কারের নামে গণপূর্তে ২২ কোটি টাকার ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ, কাজ না করেই বিল উত্তোলন

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0