ইত্তেহাদ অনলাইন নিউজ ডেস্ক : ভারতের গুজরাট রাজ্যের কুচ জেলায় আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই তিনটি বড় মসজিদ, কয়েকটি মাজারসহ মোট ৩০টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির অন্যতম বৃহৎ মুসলিম সংগঠন জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান গ্যাজেট জানায়, উচ্ছেদ অভিযানে ৩০টি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক ভবন এবং দুটি আবাসিক ভবন রয়েছে।এদিকে তুর্কি গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড প্রকাশিত একটি ভিডিওতেও মসজিদ ভাঙার দৃশ্য দেখা গেছে।ঘটনার পর জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল কুচ জেলা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাসেমী।তিনি অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই মসজিদগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সন্তোষজনক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক জুনা কান্দলা মসজিদ। মসজিদের খাদেম জানান, হঠাৎ করেই অভিযান চালিয়ে মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের আটক করার হুমকিও দেয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬৫ সাল থেকেই জুনা কান্দলা মসজিদটি ওয়াকফ হিসেবে নিবন্ধিত ছিল। এর নান্দনিক স্থাপত্যের কারণে এটি এলাকার পরিচিত ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর একটি ছিল। মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সামার বলেন, উচ্ছেদের সময় তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে এবং মসজিদের কাছে যেতে চেয়েছিলেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সেখানে যেতে দেয়নি। পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ করেন তিনি।
বৈরুত: লেবাননে ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে বর্তমানে অন্তত ১৪ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার বৈরুতে আয়োজিত একটি সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন লেবাননে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী ইমরান রিজা। তিনি বলেন, মানবিক সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও শুধু ত্রাণ বিতরণ করে লেবাননের চলমান সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির সংকট এখন কেবল মানবিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ইমরান রিজা আরও বলেন, বাস্তুচ্যুতি, জীবিকা সংকট এবং কর্মসংস্থানের ওপর যুদ্ধের প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে শ্রমবাজারে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ২৭৮ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তা এমন সময়ে এলো, যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয় এবং জীবিকা সংকটও ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : পাকিস্তানের অন্যতম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজের সম্প্রচার লাইসেন্স ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছে দেশটির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অভিযোগ, মহররম উপলক্ষে সম্প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে এমন কিছু ধর্মীয় দৃশ্য দেখানো হয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জনশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রোববার (২৮ জুন) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, ২৬ জুন সম্প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত কিছু দৃশ্য পাকিস্তানের ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতায় অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাদের দাবি, সম্প্রচারের আগে সম্পাদকীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও সতর্কতা অনুসরণ করা হয়নি। ক্ষমা চাইল জিও নিউজ ঘটনার পর জিও নিউজ এক বিবৃতিতে জানায়, বিতর্কিত বিষয়বস্তু অনিচ্ছাকৃতভাবে সম্প্রচারিত হয়েছে এবং এটি চ্যানেলটির সম্পাদকীয় নীতি বা অবস্থানের প্রতিফলন নয়। চ্যানেলটি আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট ভিডিও ইতোমধ্যে তাদের সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার জন্য তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। জিও নিউজের দাবি, সম্প্রচারিত ফুটেজে মূলত ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি অঞ্চলের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক দিক তুলে ধরা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতাদর্শের প্রচার বা সমর্থন নয়; বরং স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি উপস্থাপন করা। অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ পাকিস্তানের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, সম্পাদকীয় ত্রুটির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জিও নিউজকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি সংস্থাটির কাউন্সিল অব কমপ্লেইন্টসের কাছেও পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। কেন এত সংবেদনশীল এই বিষয়? পাকিস্তানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং ইসলামের অন্যান্য সম্মানিত ব্যক্তিত্বকে ঘিরে যেকোনো দৃশ্য, প্রতিকৃতি বা উপস্থাপনাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে দেখা হয়। অতীতে এ ধরনের ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশটিতে বিক্ষোভ, সহিংসতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার নজির রয়েছে। এ কারণেই মহররমসহ ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে সম্প্রচারমাধ্যমের ওপর বাড়তি নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে পুরোনো বিতর্ক এই ঘটনা আবারও পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার মতে, দেশটিতে বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার স্থগিত, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং সাংবাদিকদের ওপর নানা ধরনের চাপের অভিযোগ উঠে এসেছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (RSF)-এর ২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম, যা দেশটির গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান। কিন্তু ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। রাজধানী কারাকাস থেকে উপকূলীয় লা গুয়াইরা—হাসপাতাল, মর্গ এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে এখন একটাই দৃশ্য—স্বজনের খোঁজে উদ্বিগ্ন মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা। জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাবে, এখনও ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হয়েছেন। সরকারি হিসাবে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অন্তত ১৭২ জন জীবিত আটকে থাকতে পারেন। তবে বিপুলসংখ্যক নিখোঁজ মানুষের কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অলৌকিক উদ্ধার: ৩২ ঘণ্টা পর জীবিত নবজাতক বিধ্বস্ত লা গুয়াইরা শহরে উদ্ধারকাজের মধ্যেই এক বিরল মানবিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর মাত্র ১৮ দিনের এক নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এএফপির বরাত দিয়ে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে ফ্লাডলাইটের আলোয় উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কংক্রিটের স্তূপ সরিয়ে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনছেন। উপস্থিত উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে তখন আনন্দের আবহ তৈরি হয়। শিশুটিকে কাপড়ে মুড়ে একজন উদ্ধারকর্মীর হাত থেকে আরেকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তার শরীর আলতো করে পরিষ্কার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আন্দ্রেয়িনা কুইন্তেরোর প্রকাশিত ভিডিও এবং চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শরীরে উল্লেখযোগ্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযানের প্রায় এক ঘণ্টা পর একই ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মাকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকদের ধারণা, ভূমিকম্পের সময় মা নিজের শরীর দিয়ে সন্তানকে আড়াল করে রেখেছিলেন। সেই আত্মত্যাগই শিশুটির জীবন রক্ষা করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কার্লোস, হাল ছাড়েনি পরিবার ভূমিকম্পের দুই দিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবনের ইঙ্গিত মিলছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী কার্লোস এদোয়ার্দো ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়েছেন। শনিবার তার পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তার গোঙানির শব্দ শুনেছেন। কার্লোসের এক চাচাত ভাই বলেন, "প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে আমরা তার গোঙানির শব্দ শুনেছি। এরপর আর কোনো সাড়া পাইনি।" পরিবারের খবর পেয়ে একটি স্প্যানিশ উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালায়। তবে তারা জীবনের নিশ্চিত কোনো আলামত শনাক্ত করতে পারেনি। তবুও পরিবার হাল ছাড়েনি। ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে তারা নিজেরাই হাত দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রিয়জনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারী যন্ত্রপাতির সংকট, ক্ষোভ বাড়ছে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যে উদ্ধার তৎপরতার ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ক্রেন, এক্সকাভেটর ও অন্যান্য ভারী সরঞ্জামের অভাবে বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। হুগো শ্যাভেজ হাউজিং কমপ্লেক্সের বাসিন্দা জেনিফার পালাসিও জানান, তার পরিবারের পাঁচ সদস্য, যার মধ্যে ছয় বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে, এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা। তার ভাষায়, "জীবিত মানুষদের বাঁচাতে এখনই ভারী যন্ত্রপাতি দরকার।" অন্যদিকে কারাবালেদার ৭৩ বছর বয়সী আইনজীবী রিকার্ডো ত্রিয়াস অভিযোগ করেন, তার ধর্মপুত্র আরমান্দো লোপেজের মরদেহ উদ্ধার হলেও তা দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল। তিনি দ্রুত ফরেনসিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। আফটারশকে নতুন আতঙ্ক, লুটপাটের ঘটনাও শুক্রবার বিকেলে ৪.৯ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হলে রাজধানী কারাকাস ও মারাকাই শহরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যেই লা গুয়াইরার কাতিয়া লা মার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ছে মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে উদ্ধার অভিযানে জাহাজ, হেলিকপ্টার ও বিমান পাঠানো হয়েছে। এল সালভাদরের ৫০ সদস্যের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ড্রোন, তাপীয় স্ক্যানার এবং প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান চালাচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, কয়েকটি ভবনের ভেতর থেকে এখনও মানুষের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে একটি বহুতলের নবম তলায় আটকে থাকা ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী ও তার পোষা প্রাণীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অর্থনৈতিক ক্ষতি ও রাজনৈতিক চাপ জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাবে, এই ভূমিকম্পে প্রায় ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারের সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার সমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এই দুর্যোগ দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের জন্য বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) সতর্ক করে বলেছে, শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হতে পারে। এমনটি হলে এটি লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে গত শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার আশঙ্কা, এই দুর্যোগে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৭০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কোথাও শিশুর কান্না, কোথাও ক্ষীণ গোঙানি, কোথাও আবার নিস্তব্ধতা। প্রতিটি ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমছে, কিন্তু স্বজনদের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না। উদ্ধারকারীদের কাছে এখন প্রতিটি ইট সরানো মানেই হয় নতুন একটি মৃত্যু, নয়তো আরেকটি অলৌকিক জীবনের সন্ধান।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৩৫ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১,৫০০ জনেরও বেশি। রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় লা গুয়াইরাসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। পরপর দুই ভূমিকম্প, ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২, যার মাত্র কয়েক সেকেন্ড বা প্রায় এক মিনিটের মধ্যেই ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুটি ভূমিকম্পই ছিল অগভীর। প্রথমটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ২০.৩ কিলোমিটার নিচে এবং দ্বিতীয়টির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। অগভীর হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হয় এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। USGS-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। শতাধিক ভবন ধসে পড়েছে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে শতাধিক ভবন ধসে পড়েছে। ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, এ পর্যন্ত ২৫০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, যার বেশিরভাগই লা গুয়াইরা অঞ্চলে। বিবিসি নিশ্চিত করেছে, লা গুয়াইরায় একটি ১০ তলা হোটেল সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে স্বজনদের খোঁজে বহু মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। রাজধানী কারাকাসেও বহু আবাসিক ভবন, সরকারি স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আতঙ্কিত মানুষকে ভবন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। "মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী কাঁপছে" কারাকাসের এক বাসিন্দা বলেন, "মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী দীর্ঘ সময় ধরে কেঁপে উঠছে।" অন্যদিকে লিয়েন্ডার নামে আরেক বাসিন্দা জানান, বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পুরো রাত খোলা আকাশের নিচে কাটিয়েছেন। মেডিকেল শিক্ষার্থী হুয়ান ওর্তিজ বিবিসিকে বলেন, তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, আরেকজন এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় তার পরিচিত অন্তত ২০ জন এখনও নিখোঁজ। তিনি বলেন, "আমি হতবাক এবং অসহায় বোধ করছি। সাহায্য করতে না পারার হতাশা কাজ করছে।" আফটারশকে বাড়ছে উদ্বেগ ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১৩৮টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও পরবর্তী এক পর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ অন্তত ৩০টি উল্লেখযোগ্য আফটারশকের কথা জানান। ক্রমাগত আফটারশকের কারণে দুর্বল ভবনগুলো আরও ধসে পড়ার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। জরুরি অবস্থা, আন্তর্জাতিক সহায়তা অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ২০ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি তহবিল গঠনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ সরাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধাও চালু করা হচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, স্পেন, কাতার এবং জাতিসংঘের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, পরিবহন বিমান এবং ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিমানবন্দর বন্ধ দেলসি রদ্রিগেজ জানান, রাজধানী কারাকাসের কাছে মাইকুয়েতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গুরুতর ক্ষতির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতর থেকে ধারণ করা ভিডিওতে ছাদ থেকে ধুলো ও ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখা গেছে। আরও প্রাণহানির আশঙ্কা USGS সতর্ক করেছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। সংস্থাটির প্রাথমিক ঝুঁকি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে— ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪২ শতাংশ। এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৩৩ শতাংশ। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, এগুলো কোনো নির্দিষ্ট পূর্বাভাস নয়; অতীতের অনুরূপ ভূমিকম্প, জনঘনত্ব, কম্পনের মাত্রা ও গভীরতা বিবেচনায় জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার জন্য তৈরি করা ঝুঁকি মূল্যায়ন। জাতীয় সংকট জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ বলেছেন, ভেনেজুয়েলা বর্তমানে একটি বড় জাতীয় সংকটের মুখোমুখি। তার ভাষায়, "এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।" উদ্ধারকারীরা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে আগামী কয়েক দিনে মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইসলামী বিশ্বের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ঐক্য জোরদারের লক্ষ্যে শক্তিশালী মুসলিম দেশগুলোর একটি কার্যকর জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এমন এক সময় এই আহ্বান এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সংকট, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি। তার মতে, ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই মুসলিম দেশগুলোকে অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে। পাকিস্তানকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখছে তেহরান বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সরকার, জনগণ এবং সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তেহরান-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও গভীর করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে এই সফর। পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক চাপের মুখেও ইরানের সরকার, জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। তার দাবি, এই ঐক্যই প্রতিপক্ষের কৌশলগত লক্ষ্য ব্যর্থ করেছে। ‘প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা নয়’ ইসলামাবাদে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা করা হবে না। তার ভাষ্য, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। “যদি ইরান প্রতিরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি না করত, তাহলে দেশটি গাজা উপত্যকার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারত,” বলেন তিনি। পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার দাবি জানিয়ে আসছে। তিনি পশ্চিমা বিশ্বের মানবাধিকার অবস্থানেরও সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, তাদের ঘোষিত নীতি ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈপরীত্য রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ করিডোর: কেন গুরুত্বপূর্ণ? অন্যদিকে, বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ওমান। ওমানের ম্যারিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার জানিয়েছে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর সহযোগিতায় একটি অস্থায়ী ট্রানজিট করিডোর বা নিরাপদ নৌপথ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ এবং টোলমুক্ত ও নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে ঘোষণায় ইরানের ভূমিকা বা অবস্থান সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতা? বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের আহ্বান, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আপসহীন অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা উদ্যোগ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এই অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে ইরানের বার্তা স্পষ্ট—তেহরান একদিকে মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য চাইছে, অন্যদিকে নিজের সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসতে রাজি নয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গত ৪৫ দিনের মধ্যে ২৩টির বেশি মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ ও দরগাহ ভাঙা বা আংশিক উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিরর। প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনার উল্লেখযোগ্য অংশ সংঘটিত হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে। প্রতিবেদনটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—এসব অভিযান কি কেবল অবৈধ স্থাপনা অপসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ, নাকি এর প্রভাব পড়ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের ওপরও? কী বলছে প্রশাসন? বিভিন্ন রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, অনুমোদনহীন স্থাপনা অপসারণ এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং আইন অনুযায়ী অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ কী? অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশের অভিযোগ, যেসব স্থাপনা উচ্ছেদ বা আংশিক ভাঙা হয়েছে, তার অনেকগুলোই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তাদের দাবি, বহু বছর ধরে বিদ্যমান এসব স্থাপনার বিরুদ্ধে হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ধর্মীয় স্থাপনার ঐতিহাসিক ও সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনায় না নিয়েই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল্প সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন রাজ্যে ধারাবাহিক উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় মানবাধিকার সংগঠন ও সংখ্যালঘু অধিকার পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনাগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের সমান প্রয়োগ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বিতর্কের কেন্দ্রে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বলছেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্থাপনার বিষয়ে অধিক সংবেদনশীলতা দেখানো প্রয়োজন ছিল। তাদের মতে, প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের আগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ও বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা উচিত ছিল। তবে প্রশাসনের অবস্থান ভিন্ন। কর্মকর্তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, এসব অভিযান কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়নি এবং আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বাস্তবায়িত হয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা? ভারতের মতো বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক রাষ্ট্রে ধর্মীয় স্থাপনা সংক্রান্ত যে কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রায়ই সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও তার ব্যতিক্রম নয়। একদিকে আইন প্রয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রশ্ন, অন্যদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তার উদ্বেগ—এই দুই অবস্থানের সংঘাতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু স্থানীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় নীতির ভারসাম্য নিয়ে বৃহত্তর জনপরিসরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের ট্রানজিট টোল আরোপ করা হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। তবে একইসঙ্গে দেশটি স্পষ্ট করেছে, প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট কিছু সেবার বিনিময়ে ‘সার্ভিস ফি’ পরিশোধ করতে হতে পারে। ইরানের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্রপথ ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, টোল ও সার্ভিস ফির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও বাস্তবে এর আইনগত বৈধতা কতটুকু—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ। ট্রাম্পের ঘোষণার পর নতুন আলোচনা বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ঘোষণার পর। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে এবং এটি স্থায়ীভাবে ‘টোলমুক্ত’ থাকবে। তবে ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের মাত্র একদিন পরই ইরান জানিয়ে দেয়, প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে কিছু ধরনের চার্জ বা ফি নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বাস্তবে হরমুজ প্রণালি কি সত্যিই ‘টোলমুক্ত’ থাকছে, নাকি নতুন নামে আর্থিক দায় বহাল রাখা হচ্ছে? কী বলছে ইরান? ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, “আমরা কোনো ট্রানজিট টোল আরোপের পরিকল্পনা করছি না; তবে যেসব সেবা প্রদান করা হবে, তার বিনিময়ে ফি নেওয়া হবে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সেবাগুলোর মধ্যে থাকতে পারে— পরিবেশ সুরক্ষা কার্যক্রম; নৌচলাচল নিরাপত্তা সহায়তা; সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা; জরুরি প্রতিক্রিয়া ও নজরদারি সেবা। তবে এসব সেবার আওতা, ফি নির্ধারণের পদ্ধতি কিংবা কোন ধরনের জাহাজকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান। কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি? হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলগত সামুদ্রিক করিডরগুলোর একটি। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো থেকে রপ্তানি হওয়া বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এই পথ দিয়ে বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ অতিক্রম করে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটিতে যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধ, অতিরিক্ত চার্জ বা নিরাপত্তা সংকট সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। টোল ও সার্ভিস ফির পার্থক্য কোথায়? আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনে সাধারণভাবে ‘ট্রানজিট প্যাসেজ’ ব্যবস্থার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর সরাসরি টোল আরোপ বিতর্কিত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে কোনো রাষ্ট্র যদি নৌ-নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা বা বিশেষ সেবা প্রদান করে, তাহলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ বা প্রশাসনিক ফি আদায়ের সুযোগ থাকতে পারে। এখানেই মূল বিতর্ক। সমালোচকদের প্রশ্ন হলো—যদি ফি বাধ্যতামূলক হয় এবং জাহাজ চলাচলের শর্ত হিসেবে আরোপ করা হয়, তাহলে সেটি কার্যত টোলের বিকল্প রূপে পরিণত হবে কি না। অন্যদিকে ইরানের অবস্থান হলো, এটি প্রণালি ব্যবহারের জন্য নয়; বরং প্রদত্ত সেবার বিনিময়ে নেওয়া অর্থ। সামনে কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ‘টোল’ শব্দটি এড়িয়ে ‘সার্ভিস ফি’ ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান একদিকে আন্তর্জাতিক আইনের সীমারেখা মেনে চলার বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে প্রণালির ব্যবস্থাপনায় নিজেদের ভূমিকা ও প্রভাবও বজায় রাখতে চায়। তবে এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ, চার্জের ধরন এবং আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে নতুন এই ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক সম্প্রদায় কতটা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা শুধু আঞ্চলিক ভূরাজনীতির নয়; বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সম্পাদিত শান্তিচুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনাকে ঘিরে যখন আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তির বার্তা ছড়িয়েছে, তখনই রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে চাপে পড়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা শুধু একটি যুদ্ধের অবসান নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির বড় ভুল? মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিভিন্ন বিশ্লেষণে ইরান যুদ্ধকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বড় কৌশলগত ভুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের দাবি, যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রতিপক্ষদের ওপর ভবিষ্যৎ প্রভাব বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে। যুদ্ধের সময় শত শত মানুষের প্রাণহানি, অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে গুরুতর বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ চাপে পড়ে। এ অবস্থায় উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা জোটও প্রশ্নের মুখে পড়ে। কিছু আরব দেশের নীতিনির্ধারকেরা নীরবে নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ খোঁজার চিন্তা করছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কী আছে শান্তিচুক্তিতে? চুক্তির খসড়ায় দুই পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে বলে জানা গেছে, যেখানে ১৪টি দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও পুরো নথি প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এতে রয়েছে— হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল ভবিষ্যৎ পারমাণবিক আলোচনা অব্যাহত রাখা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই সমঝোতাকে “চমৎকার শান্তি চুক্তি” এবং “উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সমাধান” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এক্সে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দ্রুত স্বাভাবিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেই নিশ্চয়তাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তবে দেশটির জন্য বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। চুক্তির নেপথ্যে পাকিস্তানের ভূমিকা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, দুই দেশের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। তিনি জানান, এতে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আলোচনায় সহযোগিতার জন্য তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি "সম্পূর্ণ" হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। একই সময়ে ইরানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কেন চাপে নেতানিয়াহু? বিবিসির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক লুসি উইলিয়ামসনের মতে, এই চুক্তি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের তিনটি মৌলিক ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে ওয়াশিংটনের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী একজন আঞ্চলিক কৌশলবিদ হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছেন। একই সঙ্গে ইরানকে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে তুলে ধরে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করেছেন। কিন্তু নতুন চুক্তির ফলে সেই বয়ান বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, যদি ইরান আগের চেয়ে আরও প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরে আসে, তাহলে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা কৌশল কতটা সফল ছিল? ইসরাইলে ক্ষোভ ও বিভক্তি চুক্তির ঘোষণার পর ইসরাইলজুড়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির প্রকাশ্যে বলেন, "ট্রাম্পের চুক্তি মানতে আমরা বাধ্য নই।" অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচও চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটি ইসরাইল ও পশ্চিমা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। লিকুদ পার্টির নেতারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইসরাইল নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা নেতানিয়াহুকে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করছেন। মধ্য-বামপন্থী নেতা ইয়ার গোলান বলেছেন, এই চুক্তি ইরানবিষয়ক নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের নীতির ব্যর্থতার প্রতিফলন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও অভিযোগ করেছেন যে বর্তমান সরকার দেশকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ক্ষয়িষ্ণু সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইরান কি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠল? ইসরাইলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষমতার কাঠামো আরও কঠোরপন্থী নেতৃত্বের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বজায় রেখে তেহরান নতুন কৌশলগত সুবিধাও অর্জন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরাইলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএনএসএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইসরাইলকে তেহরানবিষয়ক কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনে দিয়েছে। তার মতে, ভবিষ্যতে আরও বাস্তববাদী ও সংযত নীতি গ্রহণ ছাড়া বিকল্প খুব বেশি নেই। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতা যুদ্ধ শেষ হলেও সংকট শেষ হয়নি। গাজা, লেবানন, সিরিয়া এবং ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রশ্ন এখনো বহাল রয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন হলো—নেতানিয়াহু কি নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন, নাকি এই চুক্তিই তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের মোড় ঘুরিয়ে দেবে? আগামী নির্বাচন সেই প্রশ্নেরই উত্তর দেবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দীর্ঘ কয়েক দশকের বৈরিতা, পারমাণবিক উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতার খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার দাবি সামনে এলেও এখনো পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরানের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ যৌথ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ইউরোপের চার দেশের অবস্থান যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বাস্তব ও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলে তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। দেশগুলো বলেছে, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখবে। এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সম্ভাব্য চুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় সেটিকে সীমাবদ্ধ রাখা। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালির প্রশ্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে যে, সম্ভাব্য চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক বার্তা পাঠিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, কিন্তু আনুষ্ঠানিক নথি কোথায়? যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যিনি নিজেকে আলোচনার মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর একজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, হোয়াইট হাউস কিংবা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে চুক্তির প্রকৃত কাঠামো, বাস্তবায়ন পদ্ধতি কিংবা আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। জেনেভায় স্বাক্ষরের সম্ভাবনা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর উভয় পক্ষের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্ধারিত তারিখে স্বাক্ষর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে কূটনৈতিকভাবে ‘চলমান আলোচনা’ হিসেবেই দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক। বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া জাতিসংঘ মহাসচিব এই সমঝোতাকে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টিকেও আঞ্চলিক শান্তির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগে যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বা সম্ভাব্য নাশকতা পুরো প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের বার্তা অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেছেন, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা প্রয়োজন। তারা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দূর করতে হবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেছেন যে, সম্ভাব্য চুক্তি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করবে এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিরোধ সমাধানে সহায়ক হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রচার বনাম বাস্তবতা ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং কয়েকটি দেশীয় সংবাদমাধ্যম চুক্তিটিকে ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। তাদের দাবি, দীর্ঘ কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনে কোনো স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র, আনুষ্ঠানিক যৌথ বিবৃতি বা আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইকৃত নথি প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া ইরান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা এখনো সরাসরি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। কী বলছেন বিশ্লেষকরা? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দাবি ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা। তাদের মতে, সম্ভাব্য চুক্তি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর, চুক্তির শর্ত প্রকাশ এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা অধিক যুক্তিযুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য এই সমঝোতা নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ঘটনা। তবে এখনো পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের বড় অংশই রাজনৈতিক বক্তব্য, কূটনৈতিক ইঙ্গিত এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবির ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রকৃতপক্ষে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে কি না, নাকি আলোচনা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে—সেই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া যাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, চুক্তির লিখিত নথি এবং আন্তর্জাতিক যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ নিরাপত্তা বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রায় তিন বছর পরও স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নতুন করে জনঅসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শনিবার তেল আবিবের হাবিমা চত্বরে আয়োজিত এক বিক্ষোভে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সরকারবিরোধী কর্মীরা জবাবদিহি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, হামাসের হামলা ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্ত হয়নি। তাদের মতে, এই বিলম্ব শুধু সত্য উদঘাটনকে বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং রাজনৈতিক দায় এড়ানোর সুযোগও তৈরি করছে। ‘প্রশ্নের সংখ্যা বাড়ছে, উত্তর মিলছে না’ বিক্ষোভে বক্তব্য দেন আয়ালা মেটজগার, যার ৮০ বছর বয়সী শ্বশুর ইয়োরামকে ৭ অক্টোবর হামলার দিন অপহরণ করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে হামাসের বন্দিদশায় তার মৃত্যু হয়। আয়ালা বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের প্রশ্ন আরও বাড়ছে, কিন্তু উত্তর মিলছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের আইনি কাঠামোয় রাষ্ট্রীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনই সবচেয়ে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত ব্যবস্থা। এ ধরনের কমিশন প্রধান বিচারপতির মনোনীত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার কথা। ‘রাজনীতিবিদরা নিজেদেরই তদন্ত করবেন’ বিক্ষোভকারীদের প্রধান আপত্তি নেতানিয়াহু সরকারের প্রস্তাবিত বিকল্প তদন্ত কাঠামো নিয়ে। আয়ালার অভিযোগ, সরকারের প্রস্তাবিত কমিটিতে সদস্য নির্বাচন করবেন রাজনীতিবিদরাই। সেখানে ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হলেও বাস্তবে এটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকবে না। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দল অংশগ্রহণ না করলে ক্ষমতাসীন পক্ষের প্রতিনিধিরাই কার্যত তদন্ত পরিচালনা করবেন। ফলে যাদের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে, তারাই নিজেদের কর্মকাণ্ডের বিচারক হয়ে উঠবেন। ব্যক্তিগত শোক থেকে রাজনৈতিক ক্ষোভ বিক্ষোভে আবেগঘন বক্তব্য দেন এরান লিটম্যান, যার ২৬ বছর বয়সী মেয়ে ওরিয়া হামাসের হামলার সময় নোভা সংগীত উৎসবে নিহত হন। তিনি বলেন, কট্টরপন্থা ও ধর্মীয় উগ্রতার সংঘাতের বলি হয়েছেন তার মেয়ে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের নীতিরও কঠোর সমালোচনা করেন। লিটম্যানের বক্তব্যে ব্যক্তিগত শোক, রাজনৈতিক হতাশা এবং চলমান যুদ্ধের প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তার ক্ষোভ সরকারের প্রতি, সাধারণ ধর্মপ্রাণ নাগরিক বা উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি নয়। নিরাপত্তা ব্যর্থতা নাকি রাজনৈতিক দায়? বিশ্লেষকদের মতে, ৭ অক্টোবর হামলা ইসরাইলের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামোর বড় ধরনের দুর্বলতা সামনে নিয়ে আসে। হামলায় শত শত মানুষ নিহত ও অপহৃত হওয়ার পর থেকেই স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠিত হলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত, গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহার এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতির ঘাটতি প্রকাশ্যে আসতে পারে। এ কারণেই তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভে উত্তেজনা, পুলিশের হস্তক্ষেপ সমাবেশ চলাকালে এক পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সরকার সমর্থক হাদার মাচতার বিক্ষোভস্থলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে এক সরকারবিরোধী ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং উভয় পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়। পরে তাদের বক্তব্য শুনে ছেড়ে দেওয়া হয়। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিক্ষোভ? ৭ অক্টোবর হামলার তদন্ত নিয়ে বিতর্ক এখন শুধু নিরাপত্তা ব্যর্থতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ইসরাইলের রাজনৈতিক জবাবদিহি, বিচারিক স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায় নির্ধারণ ছাড়া জাতীয় ক্ষত নিরাময় সম্ভব নয়। অন্যদিকে সরকারপক্ষ রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি তদন্ত কাঠামোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন নিয়ে বিরোধ এখন ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতগুলোতে বিস্ফোরক অস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘বিস্ফোরক অস্ত্র পর্যবেক্ষণ’-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালে বিস্ফোরক অস্ত্রের হামলায় নিহত বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে ৫৬ শতাংশের মৃত্যুর জন্য ইসরাইল দায়ী। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে এমন বিস্ফোরক হামলার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৫২ শতাংশ বেড়েছে। এসব ঘটনার প্রায় ৯০ শতাংশই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নথিভুক্ত হয়েছে। বেসামরিক জনগণই সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরক অস্ত্র ব্যবহারের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা। বেসামরিক হতাহতের হার গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থার গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপক সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বিস্ফোরক অস্ত্রের ব্যবহার একটি বিপজ্জনক প্রবণতায় পরিণত হচ্ছে। তার ভাষায়, বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ধারাবাহিক ক্ষয়ক্ষতি চলতে থাকলে এটি বৈশ্বিক সংঘাতের একটি ‘স্বাভাবিক বাস্তবতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিক আইন কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। যুদ্ধের অভিঘাত পৌঁছেছে ইউরোপের অর্থনীতিতেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। যুক্তরাজ্যের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে দেশটির অর্থনীতি ০.১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এর আগে মার্চ মাসে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ০.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যা নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস বলেন, সংঘাত শুরুর আগে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ছিল এবং মূল্যস্ফীতি কমছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব যুক্তরাজ্যের ওপরও পড়বে বলে তিনি স্বীকার করেন। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ভোক্তা উভয়ই চাপে পড়েছেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার অস্থিরতা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে। স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এদিকে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলমান সংঘাতের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের অন্তত ৫০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সদরদফতর, বিমানঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন অবকাঠামো। বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একাধিক সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামলায় ইরানের যুদ্ধবিমান, নৌযান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধবিরতি, কিন্তু উত্তেজনা বহাল সাম্প্রতিক সময়ে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইসরাইল ও ইরানও একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। যদিও এক মাসের বেশি সময় ধরে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও আঞ্চলিক উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ইরানকে পরাজিত করেছে। তবে বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ বলছে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরান কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির টানেল প্রবেশপথ পুনর্নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্যাটেলাইট তথ্যের সীমিত প্রাপ্যতা। বিশ্লেষকদের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর অঞ্চলটির স্যাটেলাইট চিত্রের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্চ মাসে পেন্টাগন স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেটকে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এলাকার নতুন ছবি প্রকাশ সীমিত করার অনুরোধ জানায়। প্ল্যানেটের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল যাতে স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে কোনো প্রতিপক্ষ শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র বা ন্যাটো অংশীদারদের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে না পারে। সামনে কী অপেক্ষা করছে? সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট এখনো শেষ হয়নি। বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি, ইরানের সামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা—সব মিলিয়ে এই সংঘাতের প্রভাব আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। কুয়েতের আকাশসীমায় ড্রোন অনুপ্রবেশ, ওমান উপসাগরে জাহাজে হামলা, জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কুয়েতের আকাশে ২৪ ড্রোন কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশটির আকাশসীমায় অন্তত ২৪টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সৌদ আব্দুল আজিজ আল-ওতাইবি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী এসব ড্রোন সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। তার দাবি, হামলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে সীমিত পরিসরে কিছু ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষায় কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। ওমান উপসাগরে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ একই সময়ে ওমান উপসাগরে একাধিক জাহাজকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘জলবীর’ নামের একটি জাহাজ মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে ইরানের তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল। সেই প্রেক্ষাপটে জাহাজটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। সেন্টকমের তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহে ওমান উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের মুখে পড়া এটি তৃতীয় জাহাজ। এর আগে ‘মারিভেক্স’ ও ‘সেত্তেবেলো’ নামের দুটি জাহাজও একই ধরনের অভিযানের শিকার হয়। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিনাস বন্দরের কাছে হামলার শিকার হওয়া জাহাজটিতে ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, নাবিকরা সবাই নিরাপদ আছেন এবং তাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইরানের পাল্টা অভিযোগ ওমান উপসাগরেই একটি ইরানি কার্গো বার্জে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ইরানের সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শাহিদিয়ান বলেন, প্রায় ১৫০ টন ধারণক্ষমতার একটি স্থানীয় মালিকানাধীন বার্জ খাসাব বন্দর থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন করছিল। হামলার সময় সেটি বন্দরের প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর আশপাশে থাকা জাহাজগুলো দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজন নাবিককে নিরাপদে ওমানে নিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা সংকটের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বুধবার রাতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধের ঘোষণা দেয়। পরে পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি (পিজিএসএ) জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের কারণে সৃষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব জাহাজ আগে চলাচলের অনুমতি পেয়েছিল, তাদেরও নতুন নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। বিশ্বের সামুদ্রিক তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির যেকোনো অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জর্ডানের দাবি: ২০ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত অন্যদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে জানা যায়, রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পূর্বে জারকা প্রদেশের আজরাক এলাকার দিকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভূপাতিত করা হয়। জর্ডান বলছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকলেও কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা টানা দ্বিতীয় রাতের মতো জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে কেন হরমুজ? বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—উত্তেজনা কি সীমিত সামরিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই থাকবে, নাকি তা পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেবে? কূটনৈতিক মহল বলছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে কোন দিকে মোড় নেবে।
ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ধারণা ছিল, সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে দুর্বল করে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিজেদের অনুকূলে আনা সম্ভব হবে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাস্তবতা তাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে দ্রুত পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। বরং পরিস্থিতি এখন এমন এক দীর্ঘমেয়াদি ও ক্ষয়িষ্ণু সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে, যা যেকোনো সময় বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ইরানের সক্ষমতা নিয়ে নতুন হিসাব সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, প্রণালির কাছে একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। এই ঘটনাকে অনেক পর্যবেক্ষক ওয়াশিংটনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘমেয়াদি চাপের মধ্যেও ইরান এখনও আঞ্চলিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। ইরানের দৃষ্টিতে, এই সংঘাতে টিকে থাকাই এক ধরনের বিজয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত নৌপথের ওপর প্রভাব বজায় রাখা তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ট্রাম্পের সামনে কঠিন সমীকরণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একদিকে তাকে শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত না করে কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে হচ্ছে। মার্কিন রাজনৈতিক মহলে যুদ্ধ নিয়ে সমর্থন আগের তুলনায় কমেছে বলেও বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ফলে ট্রাম্প এমন একটি সমাধান খুঁজছেন, যা অভ্যন্তরীণভাবে ‘বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার পথও তৈরি করবে। তবে ইতিহাসের বহু সংঘাতের মতো এখানেও একটি বাস্তবতা সামনে এসেছে—যুদ্ধ শুরু করা যতটা সহজ, স্পষ্ট বিজয়ের মাধ্যমে তা শেষ করা ততটাই কঠিন। নেতানিয়াহুর কৌশল নিয়ে প্রশ্ন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে ইসরাইলের প্রধান কৌশলগত প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সামরিক শক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বারবার বলেছেন। তবে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সেই কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইসরাইলি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে দেওয়ার যে লক্ষ্য ছিল, তা এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কোথায় ভুল হয়েছিল? ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ ধারণা করেছিলেন যে, দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক সংকট এবং আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে ইরান অভ্যন্তরীণভাবে ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। বরং কয়েক দশক ধরে বহিরাগত চাপ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো এবং আদর্শিক ভিত্তির কারণে দেশটি এখনও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সহনশীলতা ও অভিযোজন ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল। কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণ এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের কেশম দ্বীপে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজগান প্রদেশ এবং পারস্য উপসাগর উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে উভয় পক্ষই হামলা বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করে জানিয়েছে, নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব আরও কঠোর হবে। আঞ্চলিক কূটনীতির তৎপরতা মার্কিন হামলার পর সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে তেহরান। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সামনে কী? বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বড় কূটনৈতিক সমঝোতা ছাড়া সংকট দ্রুত নিরসনের সম্ভাবনা সীমিত। হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য নতুন নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়তে পারে। ফলে যুদ্ধ ও কূটনীতির মধ্যকার টানাপোড়েন এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্র, ইরান বা ইসরাইলের নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে লেবানন, ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ। একদিকে দক্ষিণ লেবাননে প্রাণঘাতী ইসরাইলি হামলা, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি আবারও সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননে প্রাণহানি লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের জেফতা শহরে ভোররাতে চালানো ইসরাইলি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন সিরীয় শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা চলছে। হামলার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা সীমান্তজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইইউর নজিরবিহীন পদক্ষেপ এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে শান্তি আলোচনা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির জটিল চক্রে আটকে আছে এবং হরমুজে ইরানি ড্রোন কার্যক্রম সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইইউ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সম্পদ জব্দ এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌ শাখার মুখপাত্র মোহাম্মদ আকবরজাদেহ এবং ইরানের তেল রপ্তানি খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি হামিদ হোসেইনির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ইইউর নতুন ‘নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা’ নীতির প্রথম বাস্তব প্রয়োগ, যা ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত বহন করছে। যুদ্ধ নয়, আলোচনার পথও খোলা রাখতে চায় তেহরান সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, “কূটনীতি এবং প্রতিরক্ষা জাতীয় শক্তির দুটি ডানা। আমরা যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা আলোচনার টেবিল—কোনোটিই ত্যাগ করিনি।” তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো ধরনের চাপ বা হুমকির মুখে তেহরান পিছু হটবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে ইরান সংঘাতের নতুন পর্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দায়ী করছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের নীতি থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব সমন্বয় ও সহযোগিতা ছাড়া ইসরাইল এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বলে আসছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ খুঁজছে। বৈরুতে আরও বড় হামলার প্রস্তাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের সাম্প্রতিক বক্তব্য। নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি নাকি প্রস্তাব দিয়েছেন, ইরান থেকে ছোড়া প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় ২০ থেকে ৩০টি ভবনে হামলা চালানো উচিত। দাহিয়েহকে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্মোট্রিচের মতে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর পরিবর্তে লেবাননে হিজবুল্লাহর সক্ষমতা দুর্বল করা কৌশলগতভাবে বেশি কার্যকর হবে। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এমন নীতি বাস্তবায়িত হলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়বে এবং পুরো অঞ্চল আরও গভীর সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে। বড় প্রশ্ন: যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপ নতুন পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে। লেবাননে হামলা, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইসরাইলের অভ্যন্তরে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের আহ্বান—সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উত্তেজনা কেবল দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যকর না হলে মধ্যপ্রাচ্য আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব জ্বালানি বাজার থেকে শুরু করে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরান নিজেকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার একেবারে দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং দেশটি একটি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর হুমকি দিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সাবেক বিশ্লেষক ল্যারি জনসন। জাজিং ফ্রিডম পডকাস্টে বিচারক অ্যান্ড্রু নেপোলিটানোর সঙ্গে আলোচনায় ল্যারি জনসন দাবি করেন, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ‘রেড অ্যালার্ট’ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। এই দাবির মাধ্যমে ২৯ মে ইসহাক দার ও মার্কো রুবিওর বৈঠক নতুন করে আলোচনায় আসে। যদিও বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কথা বলা হয়েছিল, তবে আলোচনার প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অবশ্য পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবিটি সরাসরি ও স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে কোনও গোপন প্রতিবেদন শেয়ার করার খবরকে ‘অনুমাননির্ভর ও মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইসলামাবাদ। তবে ল্যারি জনসনের দাবি অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই পরমাণু অগ্রগতির বিষয়টি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে অবহিত করেছেন। একই ধরনের দাবি করেছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবারও। তিনি দাবি করেন, ইরান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের মাধ্যমে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে ওমান উপসাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছে ইরান, অন্যদিকে নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েল। পরস্পর-সংযুক্ত এই দুই ঘটনাকে বিশ্লেষকরা বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের অংশ হিসেবে দেখছেন। ইরানের অভিযোগ, ওমান উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন কর্মকাণ্ডের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের দাবি কী? বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৩ জুন) ইরানের নৌবাহিনী দাবি করে যে তারা ওমান উপসাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরানি নৌবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন, মার্কিন আগ্রাসী আচরণ এবং ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছিল। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর জাহাজটিকে শনাক্ত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ইরান আরও দাবি করেছে, তারা ওই জাহাজকে একটি “শত্রুতামূলক তৎপরতার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র” হিসেবে বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ইরানের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের উপস্থাপিত তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ নিরাপদ রয়েছে এবং নির্ধারিত কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, অঞ্চলে তাদের নৌ-উপস্থিতি আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক চলাচল নিশ্চিত করার অংশ। কেন গুরুত্বপূর্ণ ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি? বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল ও গ্যাস এই নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য সামরিক উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক অবস্থানগত সংঘাতের ঝুঁকি নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। একই সময়ে যুদ্ধবিরতিতে লেবানন ও ইসরায়েল অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি সংঘাতপূর্ণ ফ্রন্টে আপাতত উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, লেবানন ও ইসরায়েল নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখার বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছেছে। এ চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লিতানি নদী অঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব গ্রহণ করবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী। সংঘাতের পেছনের প্রেক্ষাপট গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। পরবর্তী সময়ে মার্চ মাসে দক্ষিণ লেবাননে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এর জবাবে হিজবুল্লাহও পাল্টা হামলা চালায়। সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়ে সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে এক হাজারেরও বেশি লেবাননি নিহত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বহু মানুষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অবকাঠামো। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য কী বার্তা? মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি একটি দ্বৈত বাস্তবতা তুলে ধরছে। একদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমুদ্রপথে উত্তেজনা বাড়ছে, অন্যদিকে লেবানন-ইসরায়েল ফ্রন্টে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত এলাকায় সহিংসতা কমতে পারে। তবে একই সময়ে ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৃহত্তর অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা পুরোপুরি কাটবে না। মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং লেবাননকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আগামী সপ্তাহগুলোতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে একাধিক গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে অন্তত ১৭ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। বুধবার (৩ জুন) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায়। আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪ মে কোয়েটায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলার পর মাস্তুঙ্গ, নুশকি, জেহরি, খুজদার ও কেচসহ বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে চিরুনি অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে একাধিক স্থানে নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনীর দাবি, নিহতরা ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে একটি ভারত-সমর্থিত সংগঠনের সদস্য। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ বা স্বাধীন সূত্রে কোনো নিশ্চিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযানের সময় বিভিন্ন আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক এবং আইইডি তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। আইএসপিআর জানায়, নিহত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বেলুচিস্তানে নাশকতা ও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে তাদের অভিযোগ। ট্রেন হামলার পর অভিযান জোরদার ২৪ মে কোয়েটার চামান ফটকের কাছে রেললাইনের পাশে বিস্ফোরণে ফ্রন্টিয়ার কর্পসের তিন সদস্যসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হন এবং নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানায় সেনাবাহিনী। সীমান্ত অঞ্চলে সহিংসতা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অভিযোগ করে আসছে, স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো বিদেশি সহায়তায় হামলা চালাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির অনুসন্ধানী ইউনিট ‘বিবিসি ভেরিফাই’-এর এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অন্তত ২০টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে লেবানন ও ইসরাইলকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ শান্তি আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। স্যাটেলাইট ছবি, ভিডিও ফুটেজ এবং উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে বিবিসি ভেরিফাইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, বাহরাইন ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। কোথায় কী ধরনের ক্ষতি? বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল রুওয়াইস ও আল সাদাদ বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন নজরদারি বিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার বিমানের অবস্থানস্থলেও ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প আরিফজান এলাকায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ শনাক্ত করা হয়েছে। কয়েকটি স্থানে জ্বালানি সংরক্ষণ বাঙ্কার, হ্যাঙ্গার এবং আবাসিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের দাবি। তবে এসব দাবির বিপরীতে হোয়াইট হাউস দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীর কার্যক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি। কূটনৈতিক যোগাযোগে বিরতি সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও নতুন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান এবং লেবাননের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ শান্তি আলোচনা স্থগিত করেছে তেহরান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যে যোগাযোগ চলছিল, তা আপাতত বন্ধ রাখা হবে। ইরানের অভিযোগ, গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তেহরানের অবস্থান হলো—লেবাননে হামলা বন্ধ হওয়া যেকোনো আঞ্চলিক সমঝোতার মৌলিক শর্ত। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় খসড়া চুক্তি ও বার্তা বিনিময় কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ইরানের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ডেলিভারির ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের বেশি পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯২ ডলারের ওপরে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে নতুন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। কুয়েতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি উত্তেজনার মধ্যেই কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস অঞ্চলে মার্কিন হামলার জবাবে স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলায় চার মার্কিন সেনা এবং তিনজন বেসামরিক ঠিকাদার আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে প্রতিহত করেছে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী সিরিক দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাবেও পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছিল তেহরান। লেবাননকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, সংঘাত বন্ধ না হলে কূটনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইসরাইলবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনে হিজবুল্লাহকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে তেহরান। অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের উপকণ্ঠে নতুন করে বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে ইসরাইলি বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বোফোর্ট দুর্গ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে। নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সামরিক অভিযান আরও সম্প্রসারণ করা হবে। আঞ্চলিক সংঘাত কি আরও বিস্তৃত হচ্ছে? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আর কেবল গাজা বা লেবাননে সীমাবদ্ধ নেই। সামরিক হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আঘাত, কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত হওয়া এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি আরও বিস্তৃত সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে ঘিরে ইরানের অবস্থান এবং ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের সরাসরি মুখোমুখি অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরাসরি সামরিকভাবে জড়িত ছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। পত্রিকাটির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকেই আবুধাবি কেবল কূটনৈতিক বা গোয়েন্দা সহায়তা দেয়নি; বরং ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক বিমান হামলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। শুক্রবার (৩০ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাশাপাশি ইউএই কার্যত এই সামরিক অভিযানের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে। এমনকি গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও আমিরাতের সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কোন কোন স্থাপনায় হামলার দাবি? প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলাগুলো সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছিল। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও জ্বালানি অবকাঠামোকে। এর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালির কিশমি ও আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগার এবং আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। বিশেষ করে আসালুয়েহ কমপ্লেক্সে কথিত যৌথ হামলাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনার পর ওয়াশিংটন ইসরাইলকে ইরানের জ্বালানি খাতে হামলা সীমিত রাখার আহ্বান জানাতে বাধ্য হয়। প্রকাশ্য অবস্থান ও গোপন বাস্তবতা? সংঘাত শুরুর আগে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আবুধাবি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সরাসরি অভিযানে অংশ নেয়। এই অভিযোগ সত্য হলে তা উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামো এবং আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। ইরানের পাল্টা হামলা ও আঞ্চলিক ঝুঁকি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউএইর ভূমিকার প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সংবাদমাধ্যমটির দাবি অনুযায়ী, পুরো সংঘাতের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ২ হাজার ৮০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হয়। যদিও এসব সংখ্যার বিষয়ে স্বাধীন আন্তর্জাতিক সূত্রের যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সৌদি-আমিরাত সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন? প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএইর এই ভূমিকা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার নীতিগত বিভাজনও সামনে নিয়ে এসেছে। গত এপ্রিলের শুরুতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোপনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে দাবি করা হয়েছে। রিয়াদের আশঙ্কা ছিল, আমিরাতের সামরিক পদক্ষেপের কারণে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্ব ওয়াশিংটনকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে এবং আবুধাবির ওপর চাপ প্রয়োগ করতে অনুরোধ জানায়। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইউএইর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ। অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংঘাতের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়া, পর্যটন খাতে রাজস্ব হ্রাস এবং আবাসন বাজারে স্থবিরতার কারণে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক খাতগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাধ্যতামূলক ছুটি এবং জনবল ছাঁটাইয়ের পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া এপ্রিলের শেষ নাগাদ দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারিয়ে যায় এবং প্রায় ১৮ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিবেদন? মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং উপসাগরীয় জোটরাজনীতি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য কৌশল নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এই দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং স্বাধীন যাচাই এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোর হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান, অন্যদিকে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি এবং ওমানের জলসীমায় সন্দেহভাজন নৌ-মাইন শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা শুধু সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত নয়; বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। হরমুজে কঠোর নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ কর্তৃত্বের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজ, তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্যান্য নৌযানকে নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি যাত্রার আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর অনুমতি নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের দাবি, নির্ধারিত বিধিনিষেধ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রণালিতে অবস্থানরত বিদেশি সামরিক বাহিনীকেও সতর্ক করা হয়েছে। তেহরান বলছে, সামুদ্রিক চলাচল বা প্রণালির ব্যবস্থাপনায় বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। কাতারের আপত্তি: স্থায়ী টোলের বিরোধিতা এদিকে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাংরি-লা ডায়ালগে কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল রহমান আল-থানি হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ী ট্রানজিট ফি বা টোল আরোপের সম্ভাবনার বিরোধিতা করেন। তার মতে, এমন কোনো ব্যবস্থা কার্যকর হলে এর অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক ভোক্তাদের ওপরই পড়বে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, মাইন অপসারণ বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য সীমিত সময়ের অস্থায়ী চার্জ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এই অবস্থান এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে বলে আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। ওমানের জলসীমায় সন্দেহভাজন নৌ-মাইন উত্তেজনার মধ্যেই ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার (এমএসসি) জানিয়েছে, দেশটির জলসীমায় একটি ভাসমান বস্তু শনাক্ত করা হয়েছে, যা নৌ-মাইন হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, হরমুজ প্রণালির ইনশোর ট্রাফিক জোনের পশ্চিম অংশে এই বস্তুটি দেখা গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজ, নাবিক এবং জেলেদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখা গেলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর কয়েকদিন আগেই মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল যে তারা দক্ষিণ ইরানের কাছাকাছি এলাকায় মাইন স্থাপনকারী কিছু নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন মার্কিন সেনা ও বেসামরিক ঠিকাদার আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলায় মার্কিন বাহিনীর দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং অন্যটি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। মার্কিন পক্ষের দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ফাতেহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করলেও এর ধ্বংসাবশেষ ঘাঁটির ভেতরে পড়ে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়। অন্যদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই ওই মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে একই ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়েছিল এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ছিল তারই প্রতিক্রিয়া। আইআরজিসি আরও সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরান বা ইরাকে সামরিকভাবে জড়ানো উচিত ছিল না। তিনি ইরাক যুদ্ধকে ‘অত্যন্ত বোকামিপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সেখানে থাকা উচিত ছিল না। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, কয়েক মাস আগে মার্কিন বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলা না চালানো হলে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছে যেত। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের সামরিক কাঠামোর একটি অংশকে সরাসরি ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তু বানায়নি। তার ভাষায়, সামরিক বাহিনীর কিছু অংশকে তারা তুলনামূলকভাবে ‘মধ্যপন্থী’ হিসেবে বিবেচনা করেছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি? বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালি। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করে। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা, টোল আরোপ, মাইন বিস্ফোরণের আশঙ্কা কিংবা জাহাজ চলাচলে বাধা—সবকিছুই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থান, মার্কিন-ইরান উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর ভিন্নমুখী অবস্থান মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়; বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।