Brand logo light

বাংলাদেশ

দুই পোষা কুকুরকে পিটিয়ে হত্যা, পটুয়াখালীতে দুই ব্যক্তির ২০ হাজার টাকা জরিমানা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় দুটি পোষা কুকুরকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের বিচারক মো. আবু বকর এ রায় দেন। কী ঘটেছিল আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই বেলা ১১টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরা খেজুরতলা স্ট্যান্ড এলাকায় দুটি পোষা কুকুরকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নজরে আসে। পরে এ ঘটনায় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিউর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। যে আইনে মামলা মামলাটি করা হয় প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯-এর ৭(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪২৮ ধারায়। মামলায় দক্ষিণ বাদুরা গ্রামের মঞ্জু হাওলাদার (৫০) ও জহির হাওলাদারকে (৪৫) আসামি করা হয়। আদালতের রায়ে দুই আসামির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালতের রায়ে কী বলা হয়েছে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইমরান বলেন, প্রাণিকল্যাণ আইনে এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যে শাস্তির বিধান রয়েছে, আদালত সেটিই দিয়েছেন। তার মতে, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার ঘটনায় আদালতের এই রায় সমাজে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধেও রায়টি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। কেন ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ পটুয়াখালীর এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। পরে সরকারি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উদ্যোগে মামলা এবং আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায় যায়। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে করা মামলায় আদালতের এ ধরনের রায় প্রাণিকল্যাণ আইন বাস্তবায়নের বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে এ ঘটনায় আদালতের রায় ও মামলার নথিতে থাকা তথ্যই প্রতিবেদনের মূল ভিত্তি। দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বিবেচ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৮, ২০২৬ 0
ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল প্যাড জাল করে বদলির চেষ্টা? এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের স্বাক্ষর ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অফিসিয়াল লেটারহেড জাল করে নিজের বদলি ঠেকানো এবং ঢাকায় কাঙ্ক্ষিত পদায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে বরগুনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা মামলাটি করেছেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ উপবিভাগ-১-এর পরিচালক মো. মনির হোসেন। মামলায় শাওন মজুমদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ কী? মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ডেপুটি স্পিকারের জাল স্বাক্ষর এবং সংসদ সচিবালয়ের অফিসিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে একটি ভুয়া আধা-সরকারি (ডিও) চিঠি প্রস্তুত করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ভুয়া চিঠির মাধ্যমে তাঁর বদলির আদেশ পরিবর্তনের সুপারিশ দেখিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। নথিপত্রে দেখা যায়, শাওন মজুমদারকে বরগুনা সদর থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু জাল করা ডিও লেটারে সেই বদলির আদেশ বাতিল করে তাঁকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়নের অনুরোধ জানানো হয়। কীভাবে ধরা পড়ে? সংসদ সচিবালয়ে চিঠিটি যাচাইয়ের সময় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, এমন কোনো চিঠি সংসদ সচিবালয় থেকে কখনোই ইস্যু করা হয়নি। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুয়া চিঠিতে ব্যবহৃত ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, ভাষার ধরন, নথির বিন্যাস এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংসদ সচিবালয়ের সংরক্ষিত মূল নথির সঙ্গে মিলেনি। মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি পদায়ন প্রক্রিয়াকে প্রতারণামূলকভাবে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই জাল নথিটি তৈরি ও ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তে যে আশঙ্কা মামলার বাদী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ঘটনার পেছনে একটি সুসংগঠিত জালিয়াত চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। এ কারণে তদন্তে শুধু অভিযুক্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নয়, বরং পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এজাহারে তদন্তকারী সংস্থার কাছে যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে— অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ই-মেইলের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা; ভুয়া নথির প্রিন্ট বা মুদ্রণের উৎস শনাক্ত করা; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের তথ্য ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ; জালিয়াতির সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত কি না, তা অনুসন্ধান। যেসব ধারায় মামলা মামলাটি দণ্ডবিধির জালিয়াতি, জাল নথি আসল হিসেবে ব্যবহার, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট ধারায় রুজু করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে ভুয়া ডিও চিঠির অনুলিপি, সংসদ সচিবালয়ের প্রকৃত অফিসিয়াল লেটারহেডের নমুনা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তের সামনে যেসব প্রশ্ন এই ঘটনাকে ঘিরে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— ভুয়া ডিও লেটারটি কোথায় এবং কার সহায়তায় প্রস্তুত করা হয়েছিল? সংসদ সচিবালয়ের অফিসিয়াল লেটারহেডের নমুনা কীভাবে সংগ্রহ করা হয়? এটি কি একক কোনো উদ্যোগ, নাকি বৃহত্তর জালিয়াত চক্রের অংশ? সরকারি বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার আরও কোনো চেষ্টা হয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে। তবে মামলার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং অভিযুক্তের বক্তব্যও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তদন্তের ফলাফলের ওপরই পরবর্তী আইনি অবস্থান নির্ভর করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৮, ২০২৬ 0
বরিশালে সরকারি পুকুর ভরাট করে প্লট বিক্রি
বরিশালে সরকারি খাসজমির ১০ কোটি টাকার পুকুর ভরাটের অভিযোগ, প্লট করে বিক্রির প্রস্তুতি

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল নগরীতে সরকারি খাসজমির ওপর থাকা প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি পুকুর বালু ফেলে ভরাট করে প্লট আকারে বিক্রির প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ আয়তনের জলাশয়টির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে ভরাট করা হয়েছে। তবে যাঁরা ভরাটের কাজ করছেন, তাঁদের দাবি—ওয়ারিশ সূত্রে জমিটির মালিকানা পাওয়া গেছে এবং বৈধ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তিতেই উন্নয়নকাজ চলছে। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভূমি প্রশাসনের দাবি, এটি সরকারি খাসজমি। হাসপাতালের পাশের জলাশয় নগরীর মুন্সীবাড়ি এলাকায় বীণাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে উত্তরমুখী সড়কের পাশে অবস্থিত পুকুরটি বরিশাল বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এবং উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালের ঠিক পাশেই অবস্থিত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, পুকুরসহ আশপাশের জমি সরকারের মালিকানাধীন। পুকুরটি দখল ও ভরাট বন্ধে কাউনিয়া থানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কারা করছেন ভরাট? স্থানীয় সূত্রের দাবি, শহরের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম লিয়ন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বাবুল তালুকদার, স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীর ও রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতারও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। তবে মহানগর বিএনপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাকিবুল ইসলাম লিয়ন বলেন, "ওয়ারিশ সূত্রে ওই জমির মালিক হেলাল আকন ও তাঁর বোন। আমরা চারজন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে জায়গাটি ভরাট করছি। পরে প্লট আকারে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।" তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরকারি মালিকানার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন। পুকুর ভরাটের ঠিকাদার মো. জুয়েল জানান, সাত লাখ টাকার চুক্তিতে তিনি বালু ফেলে ভরাটের কাজ করছেন।   স্থানীয়দের ভাষ্য: "এটি সবসময় হাসপাতালের পুকুর হিসেবেই পরিচিত" এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের দাবি, বহু দশক ধরেই জলাশয়টি বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পুকুর হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, "৫০ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা জানি, এটি বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পুকুর। কয়েক দিন আগে শুনলাম কেউ নাকি এটি কিনে ফেলেছে।"   হাসপাতালের নথিতে কী আছে? হাসপাতালের অফিস সহকারীর দায়িত্বে থাকা ফার্মাসিস্ট আনোয়ারা বেগম বলেন, হাসপাতালের মোট সাত একর ৪১ শতাংশ জমির পর্চা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী— দাগ নম্বর ১০৬৯ ভিটা, ১০৭০ ও ১০৭১ পুকুর হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। এসব জমির মালিক হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কালেক্টরের নাম উল্লেখ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, "কাউনিয়া থানা ও এসিল্যান্ড অফিসে বহুবার গিয়েছি। কিন্তু জমি রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।"   "রাতের আঁধারে চলছে ভরাট" হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মাসুমা আক্তার বলেন, হাসপাতালের পুরোনো কর্মচারীরা সবাই জানেন এটি সরকারি সম্পত্তি। তাঁর দাবি, ১৯ জুলাই কাউনিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও এসিল্যান্ডকেও জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেড়া দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে দখলকারীরাই সেখানে বেড়া দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলেও ভরাট বন্ধ হয়নি।   বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা স্থানীয়দের হিসাবে, হাসপাতালসংলগ্ন ৬৯ শতাংশ আয়তনের এই পুকুরটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ভবনের পেছনে অবস্থান করায় মূল সড়ক থেকে জলাশয়টির বড় অংশ দেখা যায় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবস্থানকেই কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধাপে ধাপে ভরাট চলছে।   বিএনপির প্রতিক্রিয়া মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, "এ ঘটনায় বিএনপির কোনো নেতা জড়িত নন। কাগজপত্রে জালিয়াতি হয়েছে কিনা, সেটি ভূমি অফিস তদন্ত করবে।"   ভূমি প্রশাসন কী বলছে? সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম বলেন, পুকুরটি খাস খতিয়ানের জমি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর আগে জরিপে বিএস রেকর্ডে এটি ব্যক্তি মালিকানার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি বলেন, "আমার ধারণা, এখানে বড় ধরনের অনিয়ম বা লেনদেন হয়েছে। একটি চক্র পুকুরটি দখল করেছে। কীভাবে খাসজমি ব্যক্তি মালিকানায় গেল, সেটি চ্যালেঞ্জ করে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে।"   সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, "প্রশাসনের উদাসীনতা রয়েছে। মামলা করে জমি উদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তবে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আমার যা করণীয়, তা করব।" জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।   এখন যে প্রশ্নগুলো সামনে ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে— সরকারি খাসজমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হলো কীভাবে? ওয়ারিশ ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তি কতটা বৈধ? প্রশাসনের কাছে অভিযোগ যাওয়ার পরও ভরাট কেন বন্ধ হয়নি? ভূমি রেকর্ডে কোনো জালিয়াতি বা অনিয়ম ঘটেছে কি না? সরকারি সম্পত্তি দখলের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ভূমি প্রশাসনের তদন্ত এবং সম্ভাব্য ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের মামলার মাধ্যমে। এদিকে স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পুকুর ভরাট বন্ধ করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৮, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধন: খুলছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাদুঘরের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। উদ্বোধনের দিন জাদুঘরটি শুধুমাত্র বিশেষ অতিথি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তবে আগামী বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হবে। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সেখানে সংরক্ষিত আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক দলিলপত্র, বিভিন্ন নিদর্শন এবং স্মারক পরিদর্শন করেন। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা, স্মৃতি, আলোকচিত্র, নথি ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্মারক ও গবেষণাভিত্তিক তথ্যভান্ডার হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৫, ২০২৬ 0
৫ আগস্ট ২০২৪: কারফিউ, ‘মার্চ টু ঢাকা’ এবং একদিনে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দিনগুলোর একটি। দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ, রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি—সবকিছু মিলিয়ে দিনটি শুরু হয়েছিল চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই অনিশ্চয়তা রূপ নেয় নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনে। এর আগের কয়েক দিনজুড়ে দেশজুড়ে সহিংসতা, প্রাণহানি ও সংঘাতের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আন্দোলনের ভবিষ্যৎ, সরকারের অবস্থান এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উদ্বেগ। তবে ৫ আগস্ট সকালে রাজধানীর চিত্র দ্রুত বদলাতে শুরু করে। ভোর থেকেই কঠোর নিরাপত্তা সকালের প্রথম প্রহর থেকেই ঢাকা কার্যত নিরাপত্তা বলয়ে পরিণত হয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়ক ও প্রবেশপথে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নেন। মহাখালী, গুলশান, বনানী, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় কাঁটাতারের ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়। মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছিল। যাত্রাবাড়ী, গাবতলী ও আব্দুল্লাহপুরসহ রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে বাড়তি তল্লাশি চালানো হয়। কারফিউ পাসধারীদেরও বিভিন্ন চেকপয়েন্টে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। সকাল ১০টা পর্যন্ত ঢাকার অধিকাংশ সড়ক প্রায় জনশূন্য ছিল। একদিন এগিয়ে আসে ‘মার্চ টু ঢাকা’ ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পূর্বঘোষিত ৬ আগস্টের পরিবর্তে ৫ আগস্টই ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি পালন করা হবে। ঘোষণায় বেলা ১১টায় শাহবাগে শ্রমিক সমাবেশ, বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারী সমাবেশ এবং দেশব্যাপী গণ-অবস্থান কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ কিংবা নেতৃত্ব গ্রেপ্তার হলেও সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সকাল বাড়ার সঙ্গে বদলাতে থাকে রাজধানীর চিত্র সকাল ১০টার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট দলে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের সঙ্গে শিক্ষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন। বেলা ১১টার দিকে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে গেলেও আন্দোলনের গতি থামেনি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের গন্তব্য হয়ে ওঠে শাহবাগ। শাহবাগে উত্তেজনা, বাড়তে থাকে জনসমাগম সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগসংলগ্ন এলাকায় শতাধিক মানুষ জড়ো হন। তাঁদের হাতে ছিল হ্যান্ডমাইক, মুখে এক দফা দাবির স্লোগান। সেই সময় শাহবাগ মোড়ে সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। সাঁজোয়া যান, সেনাসদস্য এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখে। হাসপাতালে প্রবেশকারী রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও স্বজনদেরও তল্লাশির আওতায় আনা হয়। সাড়ে ১১টার পর শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় গুলির শব্দ এবং বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। ফুল হাতে ব্যারিকেডের সামনে দুপুর ১২টার দিকে মৎস্য ভবনের দিক থেকে প্রায় ৫০০ মানুষের একটি মিছিল শাহবাগের দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলের সামনের সারিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী অংশগ্রহণকারী ছিলেন। কিশোর থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ওভারব্রিজসংলগ্ন এলাকায় সেনাবাহিনী মিছিল থামানোর চেষ্টা করলে সামনের সারির কয়েকজন আন্দোলনকারী সেনাসদস্যদের হাতে ফুল তুলে দেন। এরপর ধীরে ধীরে ব্যারিকেড অতিক্রম করে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ এলাকায় প্রবেশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো এলাকা এক দফা দাবির স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। কয়েক ঘণ্টায় বদলে যায় রাজনৈতিক দৃশ্যপট দুপুরের পর গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের জেলা থেকে আরও মানুষ শাহবাগে যোগ দিতে থাকেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শাহবাগ, বাংলামোটর, কাকরাইল, টিএসসি এবং মৎস্য ভবন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। একপর্যায়ে সেনাপ্রধানের জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার খবর আসে। এর কিছুক্ষণ পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন—এমন খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে উচ্ছ্বাসের দৃশ্য দেখা যায়। কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেছেন, কেউ সিজদায় লুটিয়ে পড়েছেন, আবার কেউ একে অপরকে আলিঙ্গন করেছেন। পরে ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক হলে সংবাদটি দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ বিজয়ের মিছিল নিয়ে গণভবনের দিকে রওনা হন। ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন কড়া কারফিউ, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীতে যে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছিল, তা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে আলোচিত হয়ে আছে। দিনটি শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক নয়; বরং রাষ্ট্র, জনআন্দোলন এবং ক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে নতুন বাস্তবতার সূচনাবিন্দু হিসেবেও ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৫, ২০২৬ 0
লাকুটিয়া খাল খননের ২.৫৭ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি কেন? তথ্য চাওয়ার পর বরাদ্দ ফেরত, উঠছে নানা প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল সদর উপজেলার মৃতপ্রায় লাকুটিয়া খালসহ দুটি খাল পুনঃখননের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া প্রায় ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪ টাকা শেষ পর্যন্ত ব্যয় না করে সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের সময়, প্রশাসনের ভূমিকা এবং তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও সচেতন মহলের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা ও কৃষি সংকটে ভোগা এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় উন্নয়নের একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। তথ্য চাওয়ার পর কী ঘটেছিল? সাংবাদিক মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দীক ভূঁইয়া জানান, তিনি ৭ জুন ২০২৬ তথ্য অধিকার আইনের আওতায় প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। তার দাবি, আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে। পরে কোনো তথ্য সরবরাহ না করেই গত সপ্তাহে প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়। তিনি বলেন, "আমি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাত দিন পর তথ্য চেয়েছিলাম। যদি আগে থেকেই টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকত, তাহলে সেটি আগে নেওয়া যেত। কিন্তু তথ্য চাওয়ার পরই কেন অর্থ ফেরত দেওয়া হলো—এটি অনুসন্ধানের বিষয়।" তার আরও প্রশ্ন, অর্থ ফেরতের পরপরই কেন বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছুটিতে গেলেন—এ বিষয়েও জনমনে নানা আলোচনা রয়েছে। কোন প্রকল্পে কত টাকা ফেরত? দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি (EGPP) প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার দুটি খাল পুনঃখননের জন্য মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে— মরখখোলার পোল থেকে ঝড়ঝড়িয়াতলা বাজার হয়ে মাঝিবাড়ির ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার খাল খননের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। চরবাড়িয়া ইউনিয়নের আরেকটি প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৭৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে লাকুটিয়া খাল ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও পানির সংকট দেখা দেয়। তাদের মতে, সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের সুযোগ নষ্ট হয়েছে। তারা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, জেলার অন্য উপজেলাগুলোতে খাল খননের কাজ বাস্তবায়িত হলেও সদর উপজেলায় কেন তা সম্ভব হয়নি। "টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি"—পিআইও বরিশাল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, "গত সপ্তাহে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি।" এ কথা বলেই তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে প্রতিবেদকের দাবি। ইউএনওর বক্তব্য মেলেনি প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা বর্তমানে ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিক্রিয়া এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, "এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।" জেলা প্রশাসক কী বললেন? বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন খন্দকার জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, "কেন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা গেল না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। লাকুটিয়া ও জেল খাল নিয়ে আমার পরিকল্পনা রয়েছে, যা শিগগিরই জানানো হবে।" যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি এই ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও কেন কাজ শুরু হয়নি? তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরই কেন বরাদ্দ ফেরতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক বা কারিগরি কোনো জটিলতা ছিল কি? অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত কখন এবং কার অনুমোদনে নেওয়া হয়? দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কোনো প্রশাসনিক তদন্ত হবে কি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে স্থানীয়দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলও এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৪, ২০২৬ 0
মতিঝিলে ফের চাঁদাবাজির অভিযোগ: নতুন পরিচয়ে সক্রিয় পুরোনো সিন্ডিকেট? অনুসন্ধানে যা জানা গেল

এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া :  রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান ও পল্টন এলাকাজুড়ে আবারও একটি পুরোনো চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।    ব্যবসায়ীদের অভিযোগ: 'চাঁদা না দিলে হুমকি' মতিঝিলের কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অফিসকে কেন্দ্র করে আবারও চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চলছে। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যিনি নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, "আমরা ভেবেছিলাম রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করতে পারব। কিন্তু এখন আবারও আগের মতো চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।" আরেক ব্যবসায়ীর ভাষ্য, অতীতেও একই ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, এখন আবার একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কী অভিযোগ উঠেছে? অনুসন্ধানে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগ অনুযায়ী— মতিঝিল বিমান অফিস গলি এলাকায় নতুন করে অবস্থান নিয়েছেন আবুল হাসান। মতিঝিল, গুলিস্তান ও পুরানা পল্টন এলাকায় পুরোনো সহযোগীদের নিয়ে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ। ফুটপাত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরেও অর্থ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।   অতীতের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, গত প্রায় দেড় দশক ধরে মতিঝিল এলাকায় আবুল হাসানের প্রভাব ছিল। তাদের অভিযোগ, সে সময় ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ব্যবহার করে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মামলা হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কী ঘটেছে? স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি কিছুদিন এলাকা ছেড়ে ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি একটি নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এবং স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার সহায়তায় আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।   আইন বিশেষজ্ঞ যা বলছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে কেউ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তবে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তার মতে, চাঁদাবাজির মতো অভিযোগে ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্তের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল হাসান ওরফে হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।   স্থানীয়দের দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, মতিঝিল, গুলিস্তান ও পল্টন এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ব্যবসায়ীরা নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৪, ২০২৬ 0
কাশিমপুর ভূমি অফিসে দালালচক্র ও অনিয়মের অভিযোগ: চার কর্মকর্তা-কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত, তদন্তে নতুন তথ্যের অপেক্ষা

গাজীপুর: দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি এবং সরকারি কাজে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ—সবকিছুর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবি করে গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে আকস্মিক পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেন। তবে প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি চূড়ান্ত শাস্তি নয়; পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্টরা সরকারি বিধি অনুযায়ী অব্যাহতি পাবেন। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—কাশিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী খান, অফিস সহকারী শফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল এবং আব্দুল হালিম খান। অভিযোগের কেন্দ্রে কী? জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে অবহেলা, সেবায় অনিয়ম, দালালনির্ভর কার্যক্রম এবং সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ জমা হচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই জেলা প্রশাসক বিভিন্ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন শুরু করেন। কাশিমপুর ভূমি অফিসে গিয়ে তিনি দেখতে পান— সরকারি দাফতরিক কাজ বাইরের লোকজনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ; সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি না হওয়া; বিপুলসংখ্যক আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা; দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য না পাওয়া; নামজারি সফটওয়্যারের কার্যক্রম প্রদর্শনে ব্যর্থতা। প্রশাসনের দাবি, এসব বিষয় সরকারি সেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। জেলা প্রশাসক যা বললেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, কাশিমপুর ভূমি অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছেন—এমন প্রমাণ তারা দিতে পারেননি। তার ভাষায়, অভিযোগের ভিত্তিতে নথিপত্র ও বিভিন্ন মামলা পরীক্ষা করে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন। এমনকি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও নামজারির কাজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজে না করে বাইরের লোকজন দিয়ে করানো হচ্ছিল। ভূমি সংক্রান্ত সরকারি কার্যক্রমে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুপস্থিত কর্মকর্তা, ঝুলে থাকা আবেদন পরিদর্শনের সময় দুই কর্মকর্তা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানান জেলা প্রশাসক। তার দাবি, উপস্থিত কর্মকর্তারাও চলমান কাজের সঠিক হিসাব দিতে পারেননি। বিপুলসংখ্যক আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে আছে এবং প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। এসব কারণেই তাৎক্ষণিকভাবে চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তে কী হবে? জেলা প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, এখন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তারা বিধি অনুযায়ী দায়িত্বে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন। অন্য ভূমি অফিসে কী পাওয়া গেল? কাশিমপুর পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক সফিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসও পরিদর্শন করেন। সেখানে বড় ধরনের অনিয়ম না পেলেও কিছু প্রশাসনিক ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এসব নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিয়মিত তদারকি করা হবে। ভূমি সেবায় প্রশাসনের বার্তা জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে ভূমি সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন করলে তা সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সংশ্লিষ্ট তহসিল অফিসে পৌঁছে যায়। তহসিলদার আবেদন যাচাই-বাছাই করে যোগ্য হলে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করবেন, আর অনুপযুক্ত হলে কারণ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যানের প্রস্তাব দেবেন। তিনি বলেন, ভূমি সংক্রান্ত সরকারি সেবা কোনোভাবেই দালাল বা বহিরাগতদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ নেই। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন— অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সোহেল রানা গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিবুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৩, ২০২৬ 0
বিস্ফোরণের খবর পেয়ে র‍্যাব, পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
বরিশালের বাকেরগঞ্জে বালুর বস্তায় রহস্যময় বিস্ফোরণ: দগ্ধ মা-মেয়েসহ ৩, তদন্তে বোমা নাকি পরিত্যক্ত বিস্ফোরক?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি বাড়ির পাশে নির্মাণকাজের জন্য রাখা বালুভর্তি বস্তায় হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হওয়ার পর স্থানীয়দের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—বালুর বস্তার ভেতরে বিস্ফোরকটি এলো কীভাবে? সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে ঘটে এ ঘটনা। এতে দগ্ধ হন শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম (৫০), মেয়ে ইতি আক্তার (২০) এবং নাতি ফাহিম হাওলাদার (১৪)। প্রথমে তাদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনও নিশ্চিত নন, এটি ককটেল, হাতবোমা নাকি অন্য কোনো বিস্ফোরক ছিল। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ঢাকার বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল? স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টার দিকে হনুফা বেগম নাতি ফাহিমকে স্থানীয় বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন মেয়ে ইতি আক্তারও। ঠিক সেই সময় ঘরের পাশে রাখা বালুভর্তি একটি বস্তা থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে তিনজনের শরীরে। প্রাণ বাঁচাতে তারা বাড়ির পাশের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং আশপাশের লোকজনের বক্তব্য সংগ্রহ শুরু করে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: বালুর বস্তায় বিস্ফোরক এলো কোথা থেকে? ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, বিস্ফোরকটি কীভাবে নির্মাণকাজের জন্য রাখা বালুর বস্তার ভেতরে গেল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিস্ফোরকটি আগে থেকেই বালুর সঙ্গে ছিল অথবা কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে লুকিয়ে রেখেছিল। তদন্তকারীরা কয়েকটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন— নির্মাণকাজে আনা বালুর সঙ্গে পরিত্যক্ত বিস্ফোরক চলে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে কেউ বালুর মধ্যে বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখেছিল। ব্যক্তিগত শত্রুতা বা নাশকতার উদ্দেশ্যে কেউ বস্তার মধ্যে বিস্ফোরক রেখে যেতে পারে। এটি দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত ককটেল বা হাতবোমা হতে পারে, যা নড়াচড়ার সময় বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে এসবই এখন পর্যন্ত প্রাথমিক অনুমান। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত বলে বিবেচনা করছে না পুলিশ। পরিবারের দাবি শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে জামাল হোসেন বলেন, পরিবারের কেউ জানেন না বালুর বস্তার ভেতরে কীভাবে বিস্ফোরক গেল। তার ভাষায়, সকালে বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। পরিবারের সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আহতদের শরীরের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে হাত, পা ও মুখ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে। দুই নারীকে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তদন্তে যেসব সংস্থা ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে যায়— জেলা পুলিশ গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) র‍্যাব পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আশপাশে থাকা অন্যান্য বালুর বস্তাও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন বলেছেন, বিস্ফোরকটির ধরন এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। থানার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পরিত্যক্ত ককটেল বা হাতবোমা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এটি কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল। বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থল পরীক্ষা করার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির পেছনে নাশকতা, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি বিস্ফোরকটি আসলে কী ধরনের ছিল? এটি বালুর সঙ্গে এসেছিল, নাকি পরে সেখানে রাখা হয়েছিল? বিস্ফোরকটি কতদিন ধরে সেখানে ছিল? এটি দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত নাশকতা? অন্য বালুর বস্তাগুলোতেও কোনো বিস্ফোরক রয়েছে কি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের পরীক্ষা, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং পুলিশের তদন্ত শেষে।   একটি সাধারণ নির্মাণসামগ্রীর বস্তা থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্তকারী সংস্থাগুলো। ফলে বিস্ফোরকটির উৎস, উদ্দেশ্য এবং দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৩, ২০২৬ 0
কাঁচা মরিচের দাম ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা: আমদানির ঘোষণায় কমার ইঙ্গিত, তবু স্বস্তিতে নেই ক্রেতারা

ঢাকা: মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের বাজারে যেন উল্টো স্রোত। জুনের মাঝামাঝিতে যে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, সেটিই আগস্টের শুরুতে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় পৌঁছেছে। কোথাও কোথাও দাম ছুঁয়েছে ৪০০ টাকা। সরকারের আমদানির সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর দাম কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিললেও সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, বর্তমান মূল্য এখনও তাদের নাগালের বাইরে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুর-১ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েকদিন আগের তুলনায় দাম কিছুটা নেমেছে। তবে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় বাজারে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি আসেনি। এক মাসে দ্বিগুণেরও বেশি দাম বাজারের তথ্য বলছে, জুন মাসের মাঝামাঝিতে কাঁচা মরিচের দাম ছিল প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। এরপর কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। বাজারভেদে তা ২০০, ৩০০, সাড়ে ৩৫০ এবং কোথাও ৪০০ টাকাও ছাড়িয়ে যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের এমন মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের খাদ্য ব্যয়ে নতুন চাপ তৈরি করেছে। সরকারের হস্তক্ষেপ: আমদানির অনুমতি দামের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সরকার কাঁচা মরিচ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনের পর কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, বাজার স্থিতিশীল রাখতে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং আমদানির ওপর বিদ্যমান করও কমানো হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, "কাঁচা মরিচের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। আগামীকাল থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে।" তার ভাষ্য, আমদানি করা মরিচ বাজারে পৌঁছালে সরবরাহ বাড়বে এবং আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসতে পারে। ক্রেতাদের প্রশ্ন: এত বড় মূল্যবৃদ্ধির কারণ কী? সরকারি উদ্যোগের পরও বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ কমেনি। শামীম হোসেন বলেন, "বন্যায় কিছুটা দাম বাড়তে পারে, সেটা আমরা বুঝি। কিন্তু দ্বিগুণ-তিনগুণ বেড়ে যাওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।" ফাতেমা বেগম জানান, "আজ ৩৫০ টাকা কেজি দরে মরিচ কিনেছি। মাত্র এক পোয়া কিনতেই ৯০ টাকা লেগেছে। কয়েক মাস আগেও এই টাকায় প্রায় এক কেজি মরিচ পাওয়া যেত।" অন্য ক্রেতা ইউসুফ আলী বলেন, নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে সংসার চালাতে এখন আগের তুলনায় কম পরিমাণ মরিচ কিনতে হচ্ছে। বিক্রেতাদের ব্যাখ্যা: সরবরাহ কমেছে, অপচয়ও বড় কারণ বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া। সবজি বিক্রেতা মো. শাহ আলম বলেন, বৃষ্টি ও বন্যায় কাঁচা মরিচের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আড়তে সরবরাহ কমে যায়। ফলে পাইকারি দাম বেড়ে যায়। তবে সরকারের আমদানির ঘোষণার পর বাজারে ইতোমধ্যে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তার ভাষ্য, "দুই দিন আগে পাঁচ কেজির এক পাল্লা মরিচ ১,৫০০ টাকায় কিনেছি। আজ কিনেছি ১,৪০০ টাকায়। তাই খুচরা দামও কিছুটা কমেছে।" মরিচ বিক্রেতা মো. জুলহাস জানান, "গতকাল ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি। আজ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছি।" তিনি আরও বলেন, ভারতীয় মরিচ বাজারে এখনও পৌঁছায়নি। তবে আমদানির খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় উৎপাদক ও পাইকাররা দ্রুত বাজারে মরিচ ছাড়তে শুরু করতে পারেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতি পাঁচ কেজি মরিচে প্রায় ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। পরিবহন ব্যয় ও অপচয়ের কারণে কম দামে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্লেষণ: শুধু বৃষ্টি, নাকি সরবরাহ ব্যবস্থারও সংকট? বৃষ্টি ও বন্যা কৃষিপণ্যের উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে—এটি স্বাভাবিক। তবে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সরকারের আমদানির সিদ্ধান্ত বাজারে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বলে বিক্রেতারা মনে করছেন। তবে প্রকৃত অর্থে দাম কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে আমদানিকৃত মরিচ কত দ্রুত বাজারে পৌঁছায় এবং সরবরাহ কতটা স্বাভাবিক হয় তার ওপর। বর্তমানে রাজধানীর বাজারগুলোতে কাঁচা মরিচ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আশা, আমদানিকৃত মরিচ বাজারে এলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দাম আরও কমতে পারে। তবে সেই প্রত্যাশা বাস্তবে কতটা পূরণ হবে, সেটিই এখন ভোক্তাদের প্রধান প্রশ্ন।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৩, ২০২৬ 0
প্রথম শ্রেণিতে ফিরল লটারি, বাকি শ্রেণিতে পরীক্ষা বহাল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে সরকার আবারও প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারিভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে একই সঙ্গে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত বহাল রাখায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—শিশুদের মানসিক চাপ কমানোর যে যুক্তিতে প্রথম শ্রেণিতে লটারি ফিরছে, সেই যুক্তি কি অন্যান্য শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়? শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সোমবার (৩ আগস্ট) জানিয়েছেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। আগের মতোই লটারির মাধ্যমে ভর্তি সম্পন্ন হবে। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমেই বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে। প্রথম শ্রেণিতে স্বস্তি, অন্যদের উদ্বেগ এই সিদ্ধান্তে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতে যাওয়া শিশু ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ কাটেনি। বিশেষ করে সরকারি ও স্বনামধন্য বিদ্যালয়ে সীমিত আসনের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর কারণে ভর্তি পরীক্ষা এখনও তীব্র প্রতিযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেন ফিরল লটারি? সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, কোচিংনির্ভরতা কমানো এবং শিশুদের অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা থেকে দূরে রাখতে ২০১১ সালে প্রথম শ্রেণিতে লটারিভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা চালু করা হয়। কিন্তু চলতি বছরের ১৬ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই ঘোষণার পরপরই অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবার সন্তানদের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিং সেন্টার ও গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে পাঁচ-ছয় বছরের শিশুদের ওপরও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিক চাপ তৈরি হয়। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল, পরীক্ষা হবে সীমিত পরিসরে এবং খুবই সহজভাবে। কী বদলাল সরকারের অবস্থান? সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সরকার আবারও আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে। এখন প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হবে সম্পূর্ণ লটারির মাধ্যমে। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে পরীক্ষা বহাল রাখার কারণ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কোনো নীতিগত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যদি ভর্তি কোচিং, মানসিক চাপ ও প্রতিযোগিতা কমানোই মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে সেই নীতি কেন কেবল প্রথম শ্রেণিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হলো? শিক্ষানীতিবিদদের মতে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও বয়সের দিক থেকে কোমলমতি। ফলে তাদের ক্ষেত্রেও ভর্তি পরীক্ষার প্রভাব ও মানসিক চাপকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অভিভাবকদের দাবি কী? সরকারের নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। সংগঠনটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু বলেন, প্রথম শ্রেণিতে নয়, প্রাথমিক স্তরের সব শ্রেণিতেই লটারিভিত্তিক ভর্তি চালু করা উচিত। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে— ভর্তি কোচিং ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে; অভিভাবকদের আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে; শিশুদের অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে; ভর্তি প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে।  সামনে কী চ্যালেঞ্জ? বর্তমান সিদ্ধান্তে সরকার একদিকে ছোট শিশুদের পরীক্ষার চাপ থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে উচ্চতর শ্রেণিতে মেধাভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা বজায় রেখেছে। তবে নীতিনির্ধারকদের সামনে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে— দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার মানদণ্ড কী হবে? প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কী ধরনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে? কোচিংনির্ভরতা কমাতে কী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে? ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম ঠেকাতে কী ধরনের নজরদারি থাকবে? এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর ছাড়া ভর্তি নীতির কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৩, ২০২৬ 0
সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগাধিকার থাকবে দাতার, আইনের সংশোধনীতে চূড়ান্ত অনুমোদন

ঢাকা: সম্পত্তি দান করার পরও দাতা তার জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার আইনি অধিকার বজায় রাখতে পারবেন— এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইনের সংশোধনী খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া এবং ওষুধসংক্রান্ত দুটি নীতিগত সিদ্ধান্তও অনুমোদন পেয়েছে। সম্পত্তি দানের পর কী বদলাবে? বর্তমানে প্রচলিত ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সম্পত্তি দান করলে মালিকানার পাশাপাশি ভোগদখলের অধিকারও গ্রহীতার কাছে চলে যায়। ফলে দাতা চাইলে পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি ব্যবহার বা ভোগ করার কোনো আইনি নিশ্চয়তা থাকে না, যদি না পৃথকভাবে অন্য কোনো চুক্তি করা হয়। নতুন সংশোধনী সেই বাস্তবতায় পরিবর্তন আনছে। সংশোধনী কার্যকর হলে সম্পত্তির মালিকানা গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হলেও দাতা তার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। অর্থাৎ, মালিকানা ও ভোগাধিকারের মধ্যে আইনি পার্থক্য স্পষ্টভাবে নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে। কেন আনা হচ্ছে এই পরিবর্তন? বাংলাদেশে পারিবারিক পর্যায়ে সম্পত্তি দানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিরোধ, প্রতারণা এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ বাবা-মা সন্তানদের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর নিজ বাসস্থান বা জমি ব্যবহারের অধিকার হারানোর বহু ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আইন সংশোধনের ফলে এমন পরিস্থিতিতে দাতার স্বার্থ কিছুটা হলেও সুরক্ষিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সংশোধনী বাস্তবায়নের পর এর প্রয়োগ কীভাবে হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। গুম প্রতিরোধে নতুন আইন মন্ত্রিসভা একই বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন করেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আইন গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো তৈরি করবে। সাম্প্রতিক সময়ে গুম-সংক্রান্ত জবাবদিহি ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেই প্রেক্ষাপটে আইনটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ওষুধ নীতিতেও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভা ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে। তবে বৈঠক শেষে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির পরিবর্তে কী ধরনের নতুন কাঠামো বা নীতিমালা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো জানানো হয়নি। যা নজরে রাখার বিষয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট আইনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ ও কার্যকারিতা শুরু হলে সম্পত্তি দান, গুম প্রতিরোধ এবং ওষুধ নীতির ক্ষেত্রে নতুন আইনি বাস্তবতা তৈরি হবে। বিশেষ করে সম্পত্তি দান-সংক্রান্ত সংশোধনী পারিবারিক সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব ফেলবে, তা পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৩, ২০২৬ 0
গুমের ফলে মৃত্যু বা ৫ বছরেও সন্ধান না মিললে মৃত্যুদণ্ড: ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন'র খসড়ায় মন্ত্রিসভার অনুমোদন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  গুমের ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে কিংবা নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ বছর পরও তার জীবিত বা মৃত অবস্থার কোনো সন্ধান না মিললে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন আইনের খসড়ায় গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে এই খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গুমের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি খসড়া আইনে বলা হয়েছে, গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। তবে গুমের ঘটনায়— ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে, অথবা পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে, অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। তদন্ত ও বিচার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আইনে তদন্ত ও বিচার উভয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী— তদন্ত শেষ করতে হবে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে। বিচারকার্যও শেষ করতে হবে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে। আদালতের মাধ্যমে অনুসন্ধান নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের লক্ষ্যে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া আইনে আরও যুক্ত হয়েছে— অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনার সুযোগ, ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের বিধান, সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর পরিচয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা। ভুক্তভোগী পরিবারের অধিকার আইনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারকে আইনি অধিকার দেওয়া। খসড়া অনুযায়ী ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার— তদন্তের অগ্রগতি জানার অধিকার পাবেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানার সুযোগ পাবেন, গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার অধিকার পাবেন। একই সঙ্গে সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেওয়া হবে আইনে বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রথমে দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করা হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। এছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর পর সম্পত্তি বণ্টনের বিধান খসড়া আইনে আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ বছর পরও তার সন্ধান না মিললে গুম সনদ প্রদান করা হবে। সেই সনদের ভিত্তিতে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের আইনি সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি গুমসংক্রান্ত একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আইন বাংলাদেশে গুমের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও বিচারিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন আইনের মাধ্যমে গুমকে পৃথক ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, কঠোর শাস্তির বিধান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত ও বিচার, ভুক্তভোগী পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ—সব মিলিয়ে এটি দেশের মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৩, ২০২৬ 0
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম

বরিশাল অফিস :   পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নতুন উপ-উপাচার্য (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম। গত ২৭ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে 'পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১'-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলামকে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চার বছরের জন্য নিয়োগ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, তার নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে হবে, সেই সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।   শিক্ষা ও গবেষণায় দীর্ঘ পথচলা বগুড়ার সন্তান অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ থেকে ২০০২ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক (সম্মান) এবং ২০০৩ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৭ সালে তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে অধ্যাপক হন। বর্তমানে তিনি ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলনবিল অঞ্চলের মাটির শ্রেণিবিভাগ নিয়ে গবেষণা সম্পন্ন করে পিএইচডি (ডক্টরেট) ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গবেষণা সাময়িকীতে তার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি চলনবিলের মাটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি গবেষণাগ্রন্থও রচনা করেছেন। সংগঠন ও পেশাজীবী কার্যক্রম অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পেশাজীবী সংগঠনে তিনি ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইউট্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পবিপ্রবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জিয়া পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক ভূমিকা, আন্দোলনে সম্পৃক্ততা, নির্যাতনের অভিযোগ এবং চাকরিচ্যুত হওয়ার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য হিসেবে বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে এই প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য অতিরিক্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। দায়িত্ব নিয়ে যা বললেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ। এটি আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের এবং একই সঙ্গে বড় দায়িত্বের বিষয়। আমার ওপর অর্পিত এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনের মানোন্নয়নে সকলের সহযোগিতা নিয়ে নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করতে চাই।"  

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২, ২০২৬ 0
ভোলায় মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে ২০ বছর সরকারি বেতন উত্তোলনের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসায় মৃত এক শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় দুই দশক ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর স্থানীয় এক জামায়াত নেতার দিকে, যিনি বর্তমানে একটি সরকারি অনুদানভুক্ত কলেজে কর্মরত। অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিন তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। অভিযোগ অনুযায়ী, একই নামের সুযোগ নিয়ে তিনি মৃত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের সরকারি ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘ ২০ বছর সরকারি অর্থ উত্তোলন করেছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার সুপার ইতোমধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগে যা বলা হয়েছে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মো. মহিউদ্দিন। তার নামে নির্ধারিত সরকারি ইনডেক্স নম্বর এবং ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান করা হতো। পরবর্তীতে ওই শিক্ষক মারা গেলে পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর একই নামের আরেক ব্যক্তি মো. মহিউদ্দিনকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় দেশে শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু থাকলেও প্রয়োজনীয় নিয়ম অনুসরণ না করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নতুন করে ইনডেক্স গ্রহণের পরিবর্তে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেই সরকারি বেতন উত্তোলন শুরু হয়। ২০ বছর ধরে সরকারি অর্থ উত্তোলনের দাবি মাদ্রাসা সুপারের অভিযোগ, ২০০৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই অনিয়ম ২০২৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। তার দাবি, ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতেও মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব নম্বর বহাল রয়েছে। এর মাধ্যমে এখনও সরকারি অর্থ উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি কেবল প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং সরকারি অর্থ আত্মসাতের একটি দীর্ঘমেয়াদি জালিয়াতির ঘটনাও হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মাদ্রাসা সুপারের বক্তব্য মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান বলেন, "আমি এখানে যোগদানের পর বিষয়টি আমার নজরে আসে। এরপর মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানাই।" তিনি আরও বলেন, "আমার ধারণা, গত ২০ বছরে সরকারের লাখ লাখ টাকা অনৈতিকভাবে উত্তোলন করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং সরকার প্রয়োজনীয় অর্থও উদ্ধার করতে পারবে।" অভিযুক্ত যা বলছেন অভিযোগ অস্বীকার করে মো. মহিউদ্দিন বলেন, "হিসাব নম্বর এক হলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বেতন তোলা হয়নি।" তবে কোন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তিনি বেতন উত্তোলন করেছেন—এ প্রশ্নের জবাব না দিয়েই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। প্রশাসনের অবস্থান তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, "অভিযোগটি তদন্ত করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তকারীদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে— মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর কীভাবে সক্রিয় অবস্থায় ছিল? একই ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করে কত বছর সরকারি অর্থ ছাড় হয়েছে? এমপিও ডাটাবেজে তথ্য পরিবর্তন বা যাচাইয়ের দায়িত্বে কারা ছিলেন? শিক্ষক নিবন্ধন চালুর পরও কীভাবে নতুন ইনডেক্স ছাড়া এমপিও অনুমোদন দেওয়া হয়? সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও প্রশাসনের কোনো পর্যায়ে অবহেলা বা যোগসাজশ ছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২, ২০২৬ 0
অনুসন্ধানী সাংবাদিক সাঈদুর রহমান রিমনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  দেশবরেণ্য অনুসন্ধানী সাংবাদিক মরহুম সাঈদুর রহমান রিমনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আশুলিয়ার রাঙ্গামাটিতে দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, আলেম, সমাজসেবী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নিয়ে তাঁর সাংবাদিকতা, পেশাগত সততা এবং সমাজের প্রতি অবদানের কথা স্মরণ করেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টায় আশুলিয়ার রাঙ্গামাটিস্থ ক্যাফে জলতরঙ্গে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন ক্যাফে জলতরঙ্গের প্রোপ্রাইটর, বাংলা ৫২ নিউজের স্টাফ রিপোর্টার এবং রুরাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক নেতা মোহাম্মদ নুর আলম সিদ্দিকী মানু। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সমাজসেবী ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী নাফিজা আক্তার নাসিমা। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন হাফেজ তানভীর। পরে শামিরটেকি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ শাহীন মাহমুদ মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মনসুরবাগ মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ আবু তালহা, রাঙ্গামাটি স্ট্যান্ড জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ আসলাম হোসেন, আবুল বাসারসহ এলাকার ধর্মীয় ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, সাঈদুর রহমান রিমন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিষ্ঠা, সাহস এবং পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সহকর্মীদের কাছে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তাঁর কর্মজীবনের স্মৃতি ও সাংবাদিকতায় অবদান নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলেও তারা উল্লেখ করেন। স্মৃতিচারণ পর্বে বক্তব্য দেন দ্য ডেইলি অবজারভার পত্রিকা ও চ্যানেল এস-এর আশুলিয়া প্রতিনিধি এবং আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন ইসলামিক টিভি ও দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর আশুলিয়া প্রতিনিধি এবং আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ তুহিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক তারেকুজ্জামান তারেক, বশীর আহমেদ, শামীম আহমেদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা মরহুম সাঈদুর রহমান রিমনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২, ২০২৬ 0
গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই: মূল্যবৃদ্ধির গুঞ্জনে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিল পেট্রোবাংলা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :   বাংলাদেশে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে শিল্প, বাণিজ্যিক ও আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও, বর্তমানে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। শনিবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পেট্রোবাংলা জানায়, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের পর জনমনে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এ মুহূর্তে সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিভ্রান্তি দূর করতে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পেট্রোবাংলা বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও আলোচনা শিল্পখাত, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এসব খবরে বিভ্রান্ত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্যাসের মূল্য সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত হলে তা যথাযথ সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। কেন তৈরি হয়েছিল উদ্বেগ? এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের মূল্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। তবে সর্বশেষ ব্যাখ্যায় পেট্রোবাংলা স্পষ্ট করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ সরকারের বিবেচনায় নেই। কী বার্তা দিল পেট্রোবাংলা পেট্রোবাংলার এই ব্যাখ্যা মূলত জনমনে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্যাসের মূল্য নিয়ে যেকোনো তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুজব বা অনানুষ্ঠানিক সূত্রের পরিবর্তে সরকারি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।  

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২, ২০২৬ 0
পুলিশের এএসআই নিয়োগে জালিয়াতি: ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাসহ চারজন গ্রেফতার, মিলল জাল প্রবেশপত্র ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সক্রিয়তার অভিযোগে রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ১৭ লাখ টাকার চুক্তি, জাল প্রবেশপত্র তৈরি, প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহার এবং আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) রংপুর জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। কারা গ্রেফতার হয়েছেন গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. বাদশা মাসউদ আলম কথিত প্রতারক চক্রের সদস্য নুরুল ইসলাম পরীক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম আশরাফুলের হয়ে প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা তাজমিলুর রহমান যেভাবে ধরা পড়ে জালিয়াতির চেষ্টা পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেলে রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে এএসআই নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল নজরদারিতে ছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রের মূল ফটকে ফেস ডিটেকশন পয়েন্টে আশরাফুল ইসলামের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করে যাচাই করা হয়। পরে কেন্দ্রের একাডেমিক ভবনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বীকার করেন, তার কাছে থাকা প্রবেশপত্রটি জাল। এই স্বীকারোক্তির পরই তার হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা তাজমিলুর রহমানকে আটক করা হয়। ১৭ লাখ টাকার চুক্তির অভিযোগ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল ইসলাম পুলিশকে জানান, তার বাবার সঙ্গে রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. বাদশা মাসউদ আলম এবং নুরুল ইসলামের মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির অংশ হিসেবে দিনাজপুর শাখা থেকে ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে আড়াই লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা জমা দেওয়ার পর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আশরাফুলের কাছে একটি জাল প্রবেশপত্র পাঠানো হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাধ্যতামূলক শারীরিক পরীক্ষায় তিনি কখনও অংশ নেননি। এরপরও জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার করে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ডিজিটাল আলামতে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা থেকে মো. বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ জানায়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন এবং জাল প্রবেশপত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে— জাল প্রবেশপত্র অর্থ লেনদেনের স্ক্রিনশট একাধিক মোবাইল ফোন অন্যান্য ডিজিটাল আলামত কীভাবে কাজ করত চক্রটি পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা মাসউদ আলম স্বীকার করেন যে নুরুল ইসলামসহ আরও দুই থেকে তিনজন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তদন্তকারীদের মতে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুলিশের ক্যাডেট এএসআই পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা— জাল প্রবেশপত্র তৈরি করত, প্রক্সি পরীক্ষার্থীর ব্যবস্থা করত, বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করত, এমনকি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন দিয়ে প্রভাব খাটানোরও চেষ্টা করত। ঢাকায় অভিযান বাদশা মাসউদ আলমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহানগর কোতোয়ালি থানার সহযোগিতায় ঢাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্য নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে চারজনকেই কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়। পুলিশের বক্তব্য রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, "পুলিশের যেকোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম, জালিয়াতি বা দালাল চক্রের কোনো স্থান নেই। চাকরি দেওয়ার নামে যারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।" অন্যদিকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের জানান, গ্রেফতার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে এসেছে ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে— জাল প্রবেশপত্র তৈরির প্রযুক্তিগত উৎস কোথায়? নিয়োগ পরীক্ষার আগেই কীভাবে প্রার্থীর কাছে ভুয়া প্রবেশপত্র পৌঁছায়? ১৭ লাখ টাকার চুক্তিতে আর কারা জড়িত? সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা চক্র কতদিন ধরে সক্রিয়? উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও ডিজিটাল তথ্য থেকে আরও কতজনের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসতে পারে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২, ২০২৬ 0
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪ হাজার ৩৮৪ সহকারী শিক্ষকের যোগদান ২৯ অক্টোবর, জানাল মন্ত্রণালয়

ঢাকা: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের যোগদানের তারিখ আগামী ২৯ অক্টোবর নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। শনিবার (১ আগস্ট) শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা, যোগদানের সময়সূচি এবং পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষকের যোগদানের বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তিনি জানান, তদন্ত ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতার কারণে যোগদান বিলম্বিত হয়েছে। তবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী ২৯ অক্টোবর তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, নতুন সহকারী শিক্ষকরা যোগদানের পর তাদের নির্ধারিত কর্মস্থলে পদায়ন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা শ্রেণিকক্ষে দায়িত্ব পালনের আগে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। প্রাথমিক শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট নিরসনে এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে নতুন শিক্ষকরা যোগ দিলে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২, ২০২৬ 0
এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি প্রমাণিত হলে পূর্ণ নম্বর: আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের ব্যাখ্যা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের দুটি প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ওঠা বিতর্কের পর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। সোমবার রাতে প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে কমিটি জানায়, পরীক্ষার ৬ ও ৭ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্ন সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পর্যালোচনায় প্রশ্নে ত্রুটি বা অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে প্রয়োজনে ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষার সৃজনশীল অংশের দুটি প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড অবগত এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নসমূহ পর্যালোচনার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি স্পষ্ট করেছে, প্রচলিত পরীক্ষা মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী কোনো প্রশ্নে ত্রুটি বা অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষণ করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যালোচনার ফলাফলে যদি সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে ত্রুটি পাওয়া যায়, তবে মূল্যায়ন নীতিমালা অনুসরণ করে ওই প্রশ্নগুলোর জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। গণবিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিটি বলেছে, পর্যালোচনার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। এই ঘোষণা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া অনিশ্চয়তা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও যাচাই প্রক্রিয়ার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনারও জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৪, ২০২৬ 0
ঐক্য ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে বরিশালে তারেক রহমান

বরিশাল অফিস :    বরিশালের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় সাগরদী খালের পাড়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি জাতীয় ঐক্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জলাশয় রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্মসূচির উদ্বোধনের আগে তিনি বলেন, “কদিন আগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। এবার আসুন সবাই মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি।” জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্ম-বর্ণ ও দলমত নির্বিশেষে মানুষ একসঙ্গে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছিল। একইভাবে সাম্প্রতিক সময়েও সকল শ্রেণি-পেশা ও মতের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   “আমরা সকলে মিলে যদি কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভালো কাজ করি, তাহলে সকলে মিলে উপকৃত হবো।” বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করেন। পরে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত দায়িত্বের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষা কেবল সরকারের বা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; এটি সকল নাগরিকের যৌথ দায়িত্ব। তিনি সবাইকে নিজ নিজ বাসা-বাড়ি, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।   “আমরা প্রত্যেকে চেষ্টা করব আমাদের আশেপাশের এলাকা যাতে নষ্ট না হয়, পরিবেশটা যাতে সুন্দর থাকে, ভালো থাকে।” তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ পরিষ্কার ও সুস্থ রাখতে ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং সামাজিক অংশগ্রহণ জরুরি। সাগরদী খাল রক্ষায় স্থানীয়দের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব সাগরদী খালের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালটির রক্ষণাবেক্ষণ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; খালের আশপাশের বাসিন্দাদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তিনি খালের পানিতে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, টিস্যু পেপারসহ বিভিন্ন বর্জ্য ফেলার প্রবণতার সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের আচরণ খালের পরিবেশ ও পানির গুণগত মান নষ্ট করে।   “খালের মধ্যে আমরা এগুলো ফেলবো না—এই সচেতনতা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।” সিটি করপোরেশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, খালের পাশে ময়লা ফেলার বিন থাকলেও জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি খালের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত পাইপ ও সুয়ারেজ সংযোগগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ড্রেনেজ ও সুয়ারেজ ব্যবস্থার বিষয়ে পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাসা-বাড়ির ব্যবহৃত পানি বা সুয়ারেজ লাইন সরাসরি খালের সঙ্গে যুক্ত থাকলে পানি দূষিত হয় এবং পরিবেশের ক্ষতি হয়। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার অনুরোধ জানান তিনি।   “আমাদের নিজেদের পরিবেশ আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, যেমন নিজের ঘর পরিষ্কার না রাখলে তা নোংরা হয়ে যায়, তেমনি পাড়া-মহল্লা ও দেশকে পরিষ্কার না রাখলে তার ভোগান্তিও জনগণকেই পোহাতে হবে। কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। তারা খালের দুই পাড়ে গাছ রোপণ করেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও জোহরের নামাজ আদায় করেন।   

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৪, ২০২৬ 0
Popular post
সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0