শুক্রবার দিবাগত রাত। সময় তখন ১টা ৩৫ মিনিট। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে ধীরে ধীরে অবতরণ করে একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইট। বিমানের ভেতরে থাকা ১৮৬ জন বাংলাদেশির জন্য এটি ছিল শুধু একটি যাত্রার শেষ নয়—বরং অনিশ্চয়তা, ভয় ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ইরানে চলমান অস্থিরতার মধ্যে আটকে পড়া এই বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এক জটিল ও বহুস্তরীয় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে। এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুধু একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম ছিল না, বরং এটি ছিল মানবিক দায়বদ্ধতা, আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি বাস্তব উদাহরণ। প্রত্যাবাসনের দীর্ঘ পথ: তেহরান থেকে ঢাকা সূত্র অনুযায়ী, ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সরাসরি বিমানে আনা সম্ভব ছিল না। ফলে বিকল্প পথ বেছে নিতে হয়। প্রথম ধাপে, তেহরান থেকে সড়কপথে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় আজারবাইজান সীমান্তে। এই যাত্রা ছিল ক্লান্তিকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ। সীমান্ত পার হওয়ার পর আবার সড়কপথে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বাকু শহরে। বাকুতে পৌঁছানোর পর শুরু হয় অপেক্ষার আরেক অধ্যায়—চার্টার্ড ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুতি। অবশেষে বিশেষ বিমানে করে তাদের ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ধাপেই ছিল সমন্বয়, নিরাপত্তা এবং সময় ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ। বিমানবন্দরে স্বস্তির মুহূর্ত ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। তারা প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের স্বাগত জানান এবং তাদের খোঁজখবর নেন। অনেকের চোখে তখন জল—স্বস্তির, কৃতজ্ঞতার, আবার কিছুটা ভয় কাটার আনন্দের। একজন প্রবাসী বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম হয়তো আর দেশে ফিরতে পারব না। প্রতিদিন আতঙ্কে কাটছিল। এখন মনে হচ্ছে নতুন জীবন পেয়েছি।” কূটনৈতিক তৎপরতা: পর্দার আড়ালের গল্প এই প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছে একাধিক দেশের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে। বিশেষ করে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. আমানুল হকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করেন এবং বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। এছাড়া, ঢাকা থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা বাকুতে অবস্থান করে প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তা করেন। এটি দেখায় যে, আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যৌথ উদ্যোগ: দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এই সফলতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ একটি কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কেন আটকে পড়েছিলেন বাংলাদেশিরা? ইরানে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে বিদেশি শ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। অনেকেই কাজ হারান, আবার কেউ কেউ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ফলে দ্রুত তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। আগের অভিজ্ঞতা: ২০২৪ সালের প্রত্যাবাসন এটি প্রথম নয়। গত বছরের জুন মাসেও ইরান থেকে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। তখন পরিস্থিতি আরও জটিল ছিল। বাংলাদেশিরা ইরান থেকে সীমান্ত পার হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আরও দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা: ভয়, অনিশ্চয়তা ও বেঁচে ফেরার গল্প প্রত্যাবাসিতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা দিন কাটিয়েছেন ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা রাতে ঘুমাতে পারতাম না। বাইরে কী হচ্ছে জানতাম না। পরিবারও চিন্তায় ছিল।” আরেকজন শ্রমিক জানান, “কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।” এই অভিজ্ঞতাগুলো শুধু একটি সংকটের চিত্র নয়, বরং প্রবাসীদের বাস্তব জীবনের সংগ্রামের প্রতিফলন। সরকারের ভূমিকা: কতটা কার্যকর? এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রমকে অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় ছিল এই সাফল্যের মূল কারণ। তবে তারা এটিও বলছেন যে, ভবিষ্যতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা এই ঘটনা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সামনে নিয়ে এসেছে: সংকটের সময় দ্রুত তথ্য সংগ্রহ জরুরি কূটনৈতিক যোগাযোগ শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন প্রবাসীদের জন্য জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা থাকা দরকার বিকল্প রুট পরিকল্পনা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা উচিত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিপুল সংখ্যক নাগরিক বিদেশে কর্মরত। অর্থনৈতিক প্রভাব প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় উৎস। ফলে প্রবাসীদের নিরাপত্তা শুধু মানবিক বিষয় নয়, বরং অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক প্রভাব প্রবাসীদের পরিবারগুলোও এই সংকটে মানসিক চাপের মধ্যে ছিল। অনেক পরিবার দিনরাত উদ্বেগে কাটিয়েছে। তাদের জন্য এই প্রত্যাবাসন শুধু একটি প্রশাসনিক ঘটনা নয়, বরং একটি আবেগঘন মুহূর্ত। ইরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন একটি সফল কূটনৈতিক ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এটি একই সঙ্গে একটি সতর্কবার্তাও—বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে। এই ঘটনাটি দেখিয়েছে, সঠিক পরিকল্পনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থাকলে জটিল পরিস্থিতিও সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু একটি উদ্ধার অভিযান নয়—বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি জামাত শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৭টায় প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান। এরপর পর্যায়ক্রমে সকাল ৮টায় দ্বিতীয়, ৯টায় তৃতীয়, ১০টায় চতুর্থ এবং বেলা পৌনে ১১টায় পঞ্চম ও শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি জামাত শেষে মুসল্লিরা দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া করেন। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত থেকে মুক্তি কামনা করা হয় মোনাজাতে। মোনাজাতে উচ্চারিত হয়— “সমাজ হোক মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক, রাষ্ট্র হোক সবার। ঈদ বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি আর কল্যাণ।” রমজান মাসজুড়ে আত্মসংযম ও ত্যাগের যে শিক্ষা মুসলমানরা অর্জন করেছেন, তা ঈদুল ফিতরের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করবে— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মুসল্লিরা। একই সঙ্গে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান ভোর না হতেই পরিণত হয় জনসমুদ্রে। দেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন ঈদ জামাতে এবার অংশ নেন ছয় লাখেরও বেশি মুসল্লি, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ সমাগম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের এই জামাতে ইমামতি করেন শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জামাত সম্পন্ন হয়। জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে এবারের জামাত ছিল নজিরবিহীন। তিনি বলেন, “স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসল্লির উপস্থিতি ছিল এবারের জামাতে। প্রশাসনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।” ঈদের আগের দিন থেকেই কিশোরগঞ্জমুখী মানুষের ঢল নামে। দেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ছুটে আসেন শোলাকিয়ায়। অনেকে আত্মীয়স্বজনের বাসায়, কেউ মসজিদে, আবার কেউ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান—শুধু একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের প্রত্যাশায়। সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক, ভবনের ছাদ এবং নরসুন্দা নদীর তীরেও কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে তিন দফায় শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের সারিবদ্ধ হওয়ার সংকেত দেওয়া হয়—১০ মিনিট আগে পাঁচটি, ৫ মিনিট আগে তিনটি এবং ১ মিনিট আগে দুটি গুলি ছোড়া হয়। নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। শোলাকিয়ার এই ঈদ জামাত শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও বিশ্বাসের এক অনন্য প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এছাড়া জামাতে অংশ নেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বরিশাল: বৃষ্টিস্নাত ভোরে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বরিশালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টায় নগরীর কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জামাতে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। সব ভেদাভেদ ভুলে মুসল্লিরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে মানবসেবায় আত্মনিয়োগের তৌফিক কামনা করা হয় আল্লাহর কাছে। নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে বৃষ্টিপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মুসল্লিদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অনেক স্থানে ঈদগাহে জামাত আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা বাতিল করে মসজিদে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। এদিকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গৌরনদী সরকারি কলেজ মসজিদে ঈদের জামাতে অংশ নিয়ে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বরিশাল নগরসহ জেলা ও বিভাগজুড়ে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হয়েছে। ফলে আজ শনিবার সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জানানো হয়, দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুক্রবার রমজান মাসের ৩০তম দিন পূর্ণ হয়েছে এবং শনিবার (২১ মার্চ) শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হিসেবে দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানরা শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন, যা তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এদিন দেশজুড়ে ঈদের জামাত, দোয়া, দান-খয়রাত এবং পারিবারিক মিলনমেলার মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। এদিকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শুক্রবারই ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। এছাড়া আফগানিস্তান, মালি ও নাইজারে বৃহস্পতিবার ঈদ উদযাপিত হয়েছে।
রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৮ মার্চ সদরঘাটের ১৪ নম্বর পন্টুনের কাছে ঢাকা-ইলিশা (ভোলা) রুটের ‘আসা-যাওয়া-৫’ এবং ঢাকা-দৌলতদিয়া-যশোরহাট রুটের ‘এমভি জাকের স্মার্ট-৩’ লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবুল ইসলামকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— ঢাকা অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন, বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এস এম শাহেদ রেজা, নৌপরিবহন অধিদফতরের ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মোহাম্মদ এহতেছানুল হক ফকির, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ কে এম শামসুজ্জোহা এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. মেহেদী হাসান সদস্যসচিব হিসেবে কমিটিকে দায়িত্ব পালন করবেন।
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নিত্যপণের বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে, বিভিন্ন পণ্যের দামও আকাশছোঁয়া হচ্ছে। সেমাই, চিনি, মসলা ও সুগন্ধি চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে অনেক ক্রেতার। ঈদকে সামনে রেখে কয়েকদিনের ব্যবধানে কোনো কোনো পণ্যের দাম ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি কিনছেন সুগন্ধি চাল, সেমাই, চিনি, দুধ ও বিভিন্ন ধরনের মশলা। বাড়তি চাহিদা থাকা প্রায় প্রতিটি পণ্যের দামই গত কয়েকদিনের ব্যবধানে বড় অংকে পরিবর্তন হয়েছে। বাজারে খোলা ও প্যাকেটজাত সুগন্ধি চাল কিনতে কয়েকদিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কালিজিরা ও চিনিগুঁড়া চালের এক কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে কোম্পানিভেদে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়। অন্যদিকে খোলা চাল পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ১৪০-১৫০ টাকায়। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুগন্ধি চালের প্রতি কেজির দর ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯০ থেকে ১৩০ টাকা। সে হিসেবে দাম বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। এরমধ্যে গত এক মাসে বেড়েছে ৮ শতাংশ। খুচরা বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২০০ গ্রাম সেমাই ৪০-৪৫ টাকা, ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাই ২৮০ টাকা, আলাউদ্দিন সুইটের ৫০০ প্যাকেট সেমাই ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, ৫০০ গ্রাম অলিম্পিয়া সেমাই ২৮০ থেকে ৭০০ টাকা, ২০০ গ্রামের বনফুল ও কুলসন সেমাই প্যাকেট ৪৫ টাকা। এছাড়া খোলা লম্বা সেমাইয়ের কেজি ৯০ টাকা এবং লাচ্ছার কেজি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে কেজিপ্রতি বিদেশি চিনি ১০০-১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার শুরুতেও যা ৯৫-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর দেশি চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে টিসিবির তথ্য অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় পণ্যটির দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত কম রয়েছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের মশলার দামও কয়েকদিনের ব্যবধানে বেড়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে দামি মশলা এলাচ প্রতিকেজি খুচরা পর্যায়ে ৫ হাজার টাকা দাম রাখা হচ্ছে। দারুচিনির দাম কেজিপ্রতি ৫৬০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। অন্যান্য মশলার মধ্যে জয়ত্রি ৪ হাজার টাকা এবং জায়ফল প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লবঙ্গ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, ধনিয়া ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং তেজপাতা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর জিরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কিশমিশ, আলুবোখারা, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও পেস্তা বাদামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এদিকে ঈদকে সামনে রেখে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে খোলা তেলের দাম বেড়ে প্রতি ২১৫ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও সবজির বাজারে স্বস্তি দেখা গেছে। পেঁয়াজ, আলু, লেবু, শসা, বেগুনসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা, আলু ১৮-২০ টাকা এবং টমেটো ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা ৩৫-৫০ টাকা এবং বেগুন ৫০-৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আর কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে লেবুর দাম অবশ্য বাড়তি রয়েছে। প্রতিহালি লেবু ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
ভোলার লালমোহনে যাত্রীবাহি লঞ্চের সাথে ধাক্কায় মৎস্য রক্ষা অভিযানের স্পিডবোট উল্টে এক পুলিশ কনস্টেবল নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘনায় আহত হয় স্পিডবোটে থাকা অপর ৫ জন। তাদের লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার প্রায় ৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর উদ্ধার হয়নি নিখোঁজ পুলিশ সদস্য। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৮টার দিকে লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাটে এই ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবলের নাম মো. ফখরুল। জানা গেছে, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাটঘামী এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাটে পৌঁছে। একই সময় মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা মনিটরিং করার জন্য উপজেলা মৎস্য অফিসের ৩ সদস্য ও ৩জন কনস্টেবল স্পিডবোটে অভিযানে যায়। ওই টিমে লালমোহন মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী আব্বাছ উদ্দিন, ক্ষেত্র সহকারী মনোয়ার হোসেন ও সাইফুল ইসলাম সোহাগ এবং পুলিশের ৩জন কনস্টেবল ছিলেন। লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ানোর সময় লঞ্চের পেছনের প্রফেলারের সাথে ধাক্কায় স্পিডবোটটি উল্টে যায়। ঘটনার পর ৫জন সাঁতরে তীরে উঠলেও তাদের সাথে থাকা পুলিশ কনস্টেবল মোঃ ফখরুল এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ফখরুল মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরিশালে। লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, অভিযানে যাওয়া স্পিডবোটটি নদীর মধ্যেই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এসময় স্রোতের টানে বোটটি ঘাটে ধাকা লঞ্চের সাথে গিয়ে ধাক্কা লাগে এবং লঞ্চের নিচে বোটটি ঢুকে যাওয়ার সময় সবাই একদিক চলে গেলে বোটটি উল্টে যায়। ঘটনার পর কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিম নদীতে নেমে তল্লাশি চালাচ্ছে। বরিশাল থেকে আরও ডুবরি দল আসছে বলেও ওসি জানান।
রাজধানীর সদরঘাটে দুটি লঞ্চের মধ্যে ধাক্কা লাগার ঘটনায় সোহেল (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার সঙ্গে থাকা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার রেবা (২০) গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সোহেল বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী রেবাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য লঞ্চে উঠছিলেন। আহত রেবাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সদরঘাটে ‘আসা যাওয়া-৫’ নামের একটি লঞ্চে যাত্রী উঠছিল। ঠিক তখন ‘জাকির সম্রাট-৩’ নামের আরেকটি লঞ্চ পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। দুই লঞ্চের মধ্যে পড়ে ট্রলারে থাকা সোহেল নিহত হন, আর তার স্ত্রী গুরুতর আহত হন। কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়সাল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “দুটি লঞ্চ সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। আহত অন্তঃসত্ত্বা নারী রেবাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।” নৌ পুলিশের সদরঘাট থানার ওসি সোহাগ রানা বলেন, “ঘটনাস্থলে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম কাজ করছে। তবে আলোর স্বল্পতা ও পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একজন নারীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি এখনও হতবিহ্বল। স্বাভাবিক হলে তার বক্তব্য পাওয়া যাবে।” ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. জহির বলেন, “ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আমরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।” এই দুর্ঘটনার পর সদরঘাট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, লঞ্চ দুটির চালক বা সংশ্লিষ্টদের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈদকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ মাধ্যম যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৮২ হাজার ৬০১টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং এ থেকে মোট টোল আদায় হয়েছে ৬ কোটি ৪৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা। সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত এই টোল আদায় করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকাল থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। তবে বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি। বর্তমানে গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন সড়ক সুবিধা চালু থাকায় যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪৬ হাজার ৯৬৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাগামী ছিল ১৯ হাজার ৪৪৫টি, যেখান থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গগামী ২৭ হাজার ৪৯৮টি যানবাহন থেকে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫০ টাকা। একদিনেই মোট টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা। যমুনা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, যানবাহনের চাপ সামাল দিতে ৯ থেকে ১৮টি টোল বুথ চালু রাখা হয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেলের জন্য দুই প্রান্তে আলাদা বুথ স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে চালু হওয়ার পর থেকে যমুনা সেতুতে নিয়মিত টোল আদায় করা হচ্ছে। বর্তমানে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) এই টোল ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করছে।
পিরোজপুর : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় জন্ম নিবন্ধন সনদকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ২ নং ধানিসাফা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, জন্ম সনদ বিক্রি, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং বিভিন্ন বরাদ্দ থেকে কমিশন নেওয়ার মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন ০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে বিনামূল্যে এবং ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত মাত্র ২৫ টাকা ফি নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। ধানিসাফা ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধনের জন্য সব বয়সের নাগরিকদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জন্ম নিবন্ধনে বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে নেওয়া হচ্ছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রতি বছর ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের অনুকূলে ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এ অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। কখনো প্রিন্টার কেনা, আবার কখনো ওয়াইফাই সংযোগ চালুর কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো উন্নয়ন কাজ দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জরিপভিত্তিক এসেসমেন্ট না করে গ্রাম পুলিশদের মাধ্যমে ট্যাক্স আদায় করে সেই অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও ট্যাক্স সংক্রান্ত কোনো তথ্য রেজিস্টার খাতায় সংরক্ষণ করা হয় না বলেও জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকেও ৫ শতাংশ হারে অর্থ আদায় করা হয়। অডিটরদের ঘুষ দিয়ে বিষয়গুলো ‘ম্যানেজ’ করার কথাও বলে থাকেন তিনি। এ বিষয়ে পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুন নেছা সুমি বলেন, “জন্ম নিবন্ধনসহ সকল সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। কেউ অনিয়ম করলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও ইউপি সচিব আব্দুল জলিলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
বরিশাল: বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এর মেডিসিন ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (রাত ১১টা) পঞ্চম তলার একটি স্টোররুমে আগুন লাগে। এ ঘটনায় আতঙ্কে রোগী সরানোর সময় এবং অক্সিজেন সাপোর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃতরা হলেন—পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর এলাকার কাজী আতাউর রহমান (৮০) এবং বরিশাল নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল হোসেন হাওলাদার (৬৫)। ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার সময় মেডিসিন বিভাগে মোট ৬৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের দ্রুত অন্য ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়। মৃত্যুর অভিযোগ নিহত আতাউর রহমানের ছেলে কাজী আনসার আলী অভিযোগ করেন, আগুনের আতঙ্কে বাবাকে নিচে নামানোর সময় অক্সিজেনের অভাবে তার মৃত্যু হয়। তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে থাকা একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকেও অক্সিজেন পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, আবুল হোসেনের ছেলে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে তিনি তার বাবাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, “দুই রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। তারা গুরুতর অবস্থায় অক্সিজেন সাপোর্টে ছিলেন। আগুন লাগার পর স্বজনরা তড়িঘড়ি করে অক্সিজেন ছাড়াই নিচে নামালে এই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।” আগুনের কারণ ফায়ার সার্ভিসের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক আবুল বাশার জানান, স্টোররুমে রাখা পুরোনো ফোমের বেড থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। বিড়ি বা সিগারেটের আগুন থেকেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের তথ্য অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়োহুড়িতে তিন আনসার সদস্য—রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল এবং একজন ওয়ার্ড মাস্টার আহত হয়েছেন। তদন্ত কমিটি ঘটনা তদন্তে প্রথমে একটি কমিটি গঠন করা হলেও তা বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটির প্রধান করা হয়েছে সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজলে রহমান খানকে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ফায়ার সার্ভিস প্রতিনিধি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধি গণপূর্ত বিভাগের প্রতিনিধি হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের রেসিডেন্সিয়াল সার্জন তদন্ত কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক আবুল বাশার জানান, স্টোররুমে থাকা পুরোনো ফোমের বেড থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেন। বিড়ি বা সিগারেটের আগুন থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন নেভাতে গিয়ে ও আতঙ্কিত পরিস্থিতিতে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে তিন আনসার সদস্য রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল এবং একজন ওয়ার্ড মাস্টার আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নাজমুল আহসান।
রাজশাহী : জুলাই আন্দোলনের ‘যোদ্ধা’ পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখল, টেন্ডার অনিয়ম, মামলাবাণিজ্য এবং নারী সাংবাদিকদের যৌন হয়রানিসহ নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নিজেকে “জুলাইযোদ্ধা” হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেন তিনি। তবে অভিযোগ রয়েছে, এর আগ থেকেই সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন। অর্পিত সম্পত্তি দখলের অভিযোগ আয়কর নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রাজশাহীর তানোর উপজেলার দুটি মৌজায় প্রায় ৮.৩০ একর (২৪ বিঘার বেশি) জমি কেনেন গোলাম রাব্বানী, যার মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ২.৭৪ কোটি টাকা। যদিও স্থানীয়দের দাবি, জমির প্রকৃত মূল্য প্রায় দ্বিগুণ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই জমি ‘খ’ তফসিলভুক্ত—অর্থাৎ অর্পিত (শত্রু) সম্পত্তি। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি লিজ নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে কৌশলে জমিটি দেবাশীষ রায়ের নামে দেখানো হয়, পরে তার কাছ থেকে কেনার মাধ্যমে নিজের নামে দলিল করেন রাব্বানী। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো বৈধ কাগজ না দেখিয়েই তাদের উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। জমি দখলের চেষ্টা একই কৌশলে আরও প্রায় ৩০ বিঘা অর্পিত সম্পত্তি নামজারির চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে একটি আবেদন করা হলেও তদন্তে সত্যতা না পাওয়ায় তা বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বদলির ঘটনাও সামনে এসেছে, যা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে। ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ থেকে বাণিজ্যিক ভাড়া রাজশাহীতে ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ভবন ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ করার কথা থাকলেও পরে তা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। মাত্র একজন বৈধ দরদাতা থাকা সত্ত্বেও তাকে ভাড়া দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে—এই প্রক্রিয়ায় রাব্বানীর প্রভাব ছিল। যৌন হয়রানির অভিযোগ গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে অন্তত দুই নারী সাংবাদিক যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন। একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, অফিসে ডেকে নিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন এবং থানায় মামলা করেন। আরেকজন নারী সাংবাদিকও একই ধরনের অভিযোগ দিয়েছেন। বর্তমানে একটি মামলায় রাব্বানী জামিনে রয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মামলাবাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, একটি মামলার এজাহার থেকে নাম প্রত্যাহারের কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছেন রাব্বানী। এছাড়া সিটি করপোরেশন থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে, যদিও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। দুদকে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, মামলাবাণিজ্য এবং যৌন হয়রানির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। গোলাম রাব্বানী সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “এসব মনগড়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ’ পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ ইউনুসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে জারি করা এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশে বলা হয়,'তার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।' এছাড়াও আদেশে উল্লেখ করা হয়, ' বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের উসকানিমূলক বা আপত্তিকর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানের আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে।' বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে মুহাম্মদ ইউনুসের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সম্প্রতি একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়। কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার রাজিদুল হক বলেন, ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ ইউনুসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তার লিখিত জবাব পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
এবারের ঈদযাত্রার বিষয়ে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো পরিবহণে ১শ টাকা নয় ১ টাকাও ভাড়া বেশি নেওয়া হয়নি। বরং আমি নিজে গিয়ে দেখেছি তারা আরও কোনো কোনো জায়গায় ২৫-৩০ টাকা কম নিচ্ছে। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি এবং সার্বক্ষণিক আমরা মনিটরিং করছি। যারা এ অভিযোগ করেছেন- আপনারা বলেন কোন পরিবহণে কার কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিচ্ছে এখনই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় পটুয়াখালীর দুমকিতে নলুয়া-বাহেরচর সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা ও পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মধ্যবর্তী পাণ্ডব-পায়রা নদীর উপর নলুয়া বাহেরচর সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় দুমকিতে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় তিনি বলেন, নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে এ সেতু এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, সেতুটি নির্মিত হলে এ অঞ্চলের ২৫ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। এ সময় উপস্থিত থেকে ভিস্তিপ্রস্তর স্থাপনে আরও অংশ নেন সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি ও নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটনসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নলুয়া-বাহেরচর সেতু নির্মাণ প্রকল্প ২০২১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার একনেকে অনুমোদন দেয়। এর প্রায় ৫ বছর পর সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। আধুনিক ডিজাইন ও হেলথ মনিটরিং সিস্টেম সম্পন্ন ব্রিজটি তৈরি করতে ব্যয় হবে ১ হাজার ২৩ কোটি টাকা। ওপেক ফান্ড ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মিত হতে যাওয়া সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন। দীর্ঘ দিনের প্রতীক্ষিত এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হওয়ায় ওই এলাকার জনসাধারণের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
নোয়াখালী : নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউএনও মো. আলাউদ্দিনকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়। প্রায় ২৯ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ওই ভিডিওটি দ্রুতই ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগের বিষয়ে মো. আলাউদ্দিন দাবি করেছেন, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের কর্মস্থল সুনামগঞ্জের তাহেরপুর এলাকা থেকে পরিকল্পিতভাবে এটি ছড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার খবর পাওয়ার পর সোমবার সকালেই তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করে জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ইউএনও কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি অবগত আছেন। তবে ভিডিওতে থাকা নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ একে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে দেখছেন, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বরিশাল নগরীতে মরহুম শেখ কবিরুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৫ মার্চ) নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদমারী মাদ্রাসা সড়কের একটি মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মরহুমের সন্তান শেখ শামীম এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। তিনি বরিশাল বিভাগীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি, মোহনা টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ও সিনিয়র রিপোর্টার এবং দৈনিক সকালের বার্তার প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দোয়া মাহফিলে নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, গণমাধ্যমকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মরহুম শেখ কবিরুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক—তিন ধাপের পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন সাংবাদিক মোঃ বেলাল হোসেন সিকদার। দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আইন পেশায় প্রবেশ করে তিনি একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন। শিক্ষাজীবনে বেলাল হোসেন সিকদার চরমোনাই আহসানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল (এমএ) সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ (অনার্স) ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর বরিশাল ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সকল ধাপের পরীক্ষায় প্রথমবারেই উত্তীর্ণ হন। পেশাগত জীবনে তিনি প্রায় এক যুগ ধরে সাংবাদিকতায় সক্রিয় রয়েছেন। এ সময়ে বরিশালের বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন সিকদার বলেন, “সাংবাদিক হিসেবে আমি সবসময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি—সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা আমার লক্ষ্য ছিল। এখন আইন পেশায় যুক্ত হয়ে সত্য, ন্যায়বিচার, দেশ ও মানবতার পক্ষে কাজ করতে চাই।” তিনি বর্তমানে বরিশাল জজ কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের আইনি সেবা প্রদানে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক। তার পিতা প্রায় ১০ বছর আগে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজিউন)। বর্তমানে তার পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী, মাতা, দুই ভাই ও এক বোন। নতুন এই পথচলায় সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন সিকদার।
বাংলাদেশে আরও পাঁচটি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা আগামীকাল থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। শনিবার প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বরিশাল, রাজশাহী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও রংপুর সিটি করপোরেশনে পাঁচজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া পাঁচজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতা। যাঁরা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী— বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মাহফুজুর রহমান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মো. ইউসুফ মোল্লা ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে রুকুনোজ্জামান রোকন রংপুর সিটি করপোরেশনে মাহফুজ উন নবী চৌধুরী তাদের সবাই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃস্থানীয় দায়িত্বে রয়েছেন। বিলকিস আক্তার জাহান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ)। মাহফুজুর রহমান রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। মো. ইউসুফ মোল্লা কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া রুকুনোজ্জামান রোকন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এবং মাহফুজ উন নবী চৌধুরী রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব। মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন প্রশাসকেরা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪–এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (৩) অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। এখন পর্যন্ত ১১ সিটিতে প্রশাসক এই পাঁচজনকে নিয়োগের মাধ্যমে দেশে মোট ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলো। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আদালতের আদেশে বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রশাসকেরা দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাচন শেষে নির্বাচিত মেয়রের কাছে তারা দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। এর আগে ছয় সিটিতে প্রশাসক এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দেশের আরও ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। সেগুলো হলো— ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন – মো. আব্দুস সালাম ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন – মো. শফিকুল ইসলাম খান খুলনা সিটি করপোরেশন – নজরুল ইসলাম মঞ্জু সিলেট সিটি করপোরেশন – আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন – মো. সাখাওয়াত হোসেন খান গাজীপুর সিটি করপোরেশন – মো. শওকত হোসেন সরকার সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন আয়োজনের আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় নদীর তীরে গলাকাটা অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠী গ্রামের মামুন মোল্লার ইটভাটার দক্ষিণ পাশে সন্ধ্যা নদী সংলগ্ন এলাকায় মরদেহটি পাওয়া যায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের দিকে পূর্ব সারেংকাঠী গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মামুন মোল্লার ইটভাটার দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে নদীর ধারে একটি গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন ইটভাটার শ্রমিকেরা। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশের নেছারাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিচয় শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করা হয়। পুলিশ জানায়, মরদেহটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় স্থানীয় কেউই মৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত কোনো স্থান থেকে ওই ব্যক্তিকে ধরে এনে নির্জন স্থানে হত্যা করে মরদেহটি সেখানে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সার্কেল এসপি সাবিহা মেহেবুবা। পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে ৩৩টি ইটভাটা পরিচালিত হলেও এর মধ্যে অন্তত ১৭টি কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই চলছে। এসব ভাটায় আইন অমান্য করে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি কৃষিজমি, পর্যটন এলাকা এবং স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন সদর, দুলারহাট, শশীভূষণ এবং দক্ষিণ আইচা এলাকায় গড়ে ওঠা ৩৩টি ইটভাটার মধ্যে ১৬টির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বাকি ১৭টি ইটভাটা অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসন প্রতিবছর অভিযান চালালেও কিছুদিন পর প্রভাব খাটিয়ে ভাটাগুলো আবারও চালু হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। আইন লঙ্ঘন করে কাঠ পোড়ানো ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরিবেশ দূষণ ও বন উজাড় রোধে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক ভাটায় তা মানা হচ্ছে না। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রায় সব ভাটাই জনবসতি এলাকার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রাত্রী, নাভা, আকন, সোনালী, তেঁতুলিয়া, আব্দুল্লাহ ও মিজান ব্রিকসসহ অবৈধ ১৭টি ভাটায় অবৈধ ড্রাম চিমনি ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। পর্যটন এলাকাও দূষণের ঝুঁকিতে উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নে মেঘনা নদীর তীরবর্তী জনপ্রিয় ভ্রমণকেন্দ্র বেতুয়া প্রশান্ত পার্কের প্রবেশমুখেই অন্তত ছয়টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। নদী, সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং শান্ত পরিবেশের কারণে পার্কটি স্থানীয় ও দূরদূরান্তের পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে ইটভাটার ধোঁয়া, ধুলাবালু এবং ভারী যানবাহনের চলাচলের কারণে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা হাসনাইন বলেন, “একটি পর্যটন এলাকার প্রবেশপথই পুরো এলাকার প্রথম পরিচয়। সেখানে যদি দূষণ ও বিশৃঙ্খলা থাকে, তাহলে পুরো এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” তিনি বলেন, ইটভাটায় মাটি আনা ও ইট পরিবহনের ট্রাক চলাচলে প্রচুর ধুলাবালু উড়ে, যা পর্যটন এলাকার পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদন কমছে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ইটভাটার ধোঁয়া ও ছাই বাতাসে ছড়িয়ে কৃষিজমিতে জমে ফসলের ক্ষতি করছে। অনেক ক্ষেতেই ধান, শাকসবজি ও ফলগাছ ঠিকমতো বৃদ্ধি পাচ্ছে না। দক্ষিণ আইচা এলাকার কৃষক বাবুল বলেন, “আমি প্রায় দেড় একর জমিতে রবিশস্য করেছি। পাশেই ইটভাটা থাকায় গাছ ঠিকমতো বাড়ে না। ফলে ফসলও ভালো হয় না। আমরা এসব ইটভাটা বন্ধের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।” স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয় বাসিন্দারা দুলারহাট এলাকার বাসিন্দা হারুন জানান, তার বাড়ির পাশে ঢাকা ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা রয়েছে। তিনি বলেন, “এই ভাটায় কাঠ পোড়ানো হয়। ধোঁয়া ও ধুলাবালুর কারণে আমাদের পরিবারের শিশু ও বয়স্করা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। সামনে গরমের দিনে এই সমস্যা আরও বাড়বে।” চরফ্যাশন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শোভন বসাক বলেন, জনবসতি এলাকায় ইটভাটার ধোঁয়া ও ধুলাবালুর কারণে শিশু ও বয়স্করা বেশি শ্বাসকষ্ট ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে। ভাটামালিকদের দাবি অবৈধ ইটভাটার মালিকরা দাবি করছেন, তারা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন এবং শিগগিরই বৈধতার অনুমোদন পাবেন। তেঁতুলিয়া ব্রিকসের মালিক মো. মোশারেফ বলেন, “সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আবেদন করেছি। এখনো অনুমোদন পাইনি।” অনুমোদন ছাড়া কীভাবে ইটভাটা চালাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতি বছরই তার ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়। প্রশাসনের অবস্থান ভোলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তোতা মিয়া বলেন, অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন জানান, পরিবেশ আইন লঙ্ঘনকারী ইটভাটাগুলোর ওপর নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।