ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার এক ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ বর্তমানে পলাতক বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে ব্যাংকের আউটলেট শাখার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা। তারা দ্রুত অর্থ ফেরত, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। কীভাবে সামনে এলো অভিযোগ ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করলেও সংশ্লিষ্ট ক্যাশিয়ার অনেক ক্ষেত্রে সেই টাকা ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমে জমা হিসেবে দেখাতেন না। গ্রাহকরা জানান, টাকা জমা দেওয়ার পর মোবাইলে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস না এলে তারা বিষয়টি জানতে চাইতেন। তখন অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার "সার্ভারের সমস্যা"র কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করতেন। পরে হিসাব মিলিয়ে দেখা যায়, একাধিক জমা ব্যাংকের রেকর্ডেই নেই। এভাবে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। শুধু গ্রাহক নয়, এজেন্টের অ্যাকাউন্ট থেকেও অর্থ উধাও অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু গ্রাহকদের আমানতই নয়, ব্যাংকের এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলীর মাদার অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর্থিক অনিয়মের পরিধি আরও বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। "আমি সর্বস্বান্ত" ভুক্তভোগী লামিয়া বলেন, "আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম। আমার সব টাকা নিয়ে পালিয়েছে।" তার মতো আরও অনেক গ্রাহক দাবি করেছেন, তাদের জীবনভর সঞ্চিত অর্থ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কী বলছে ব্যাংকের এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলী বলেন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তার ভাষায়, "ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।" তবে কতজন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, মোট অর্থের পরিমাণ কত এবং অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তদন্তের অপেক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভিযোগের প্রকৃত আর্থিক পরিমাণ কত? কতজন গ্রাহকের অর্থ জমা হয়নি? অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থার ফাঁক কোথায় ছিল? দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইন সিস্টেমে জমা না দেখানো হলেও তা কেন শনাক্ত হয়নি? অভিযুক্ত একাই এই অনিয়ম করেছেন, নাকি এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে। বর্তমানে ভুক্তভোগীরা দ্রুত অর্থ ফেরত এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার একটি শিব মন্দিরের জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুরুতর হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি দখলে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) এক ইউপি কমান্ডারসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। সোমবার (২৯ জুন) উপজেলার ষোলসত বাবুরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—ষোলসত গ্রামের সোনারাম চক্রবর্তীর ছেলে ও স্থানীয় আনসার ভিডিপির ইউপি কমান্ডার তপন চক্রবর্তী, তার মা বকুল রানী চক্রবর্তী এবং প্রতিবেশী মিলন কুমার শিল। অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সহসভাপতি মো. আজিজুল শেখ, তার স্ত্রী মুঞ্জিলা বেগম এবং পুত্রবধূ আরজু বেগমের নাম উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের বিরোধ, নতুন করে উত্তেজনা স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবুরহাট এলাকার ‘নিলখোলা শিব মন্দির’-এর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই জমি দখলের চেষ্টা বহুদিন ধরেই চলছিল। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, আজিজুল শেখ স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি ছিলেন এবং জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সোমবার সকালে অভিযুক্তরা মন্দিরের জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে তপন চক্রবর্তী বাধা দেন। এরপরই তার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার মা ও প্রতিবেশীকেও মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরিবারের অভিযোগ আহত তপন চক্রবর্তীর বাবা সোনারাম চক্রবর্তী বলেন, মন্দিরের জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা ঠেকাতে গেলে তার ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়। তার ভাষ্য, হামলায় তার স্ত্রীও আহত হয়েছেন এবং তার ছেলে বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকের বক্তব্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আকাশ কুণ্ড জানান, তপন চক্রবর্তীর মাথায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত রয়েছে। সেখানে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্য দুই আহত ব্যক্তি নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশের অবস্থান নাজিরপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ সম্পর্কে পুলিশ আগে থেকেই অবগত ছিল এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। তার দাবি, অভিযুক্ত আজিজুল শেখের বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকায় বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রধান অভিযুক্তসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে এসেছে ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— শিব মন্দিরের জমির প্রকৃত মালিকানা ও রেকর্ড কী বলছে? জমি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ থাকলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কেন হয়নি? হামলার আগে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পূর্বের অভিযোগগুলোর অগ্রগতি কী ছিল। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল। এসব প্রশ্নের উত্তর মিললে ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে প্রতারণা এবং পরে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মাগুরা সদর উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রিফাতুল ইসলাম রায়হানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মাগুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে রিফাতুল ইসলাম রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অভিযোগ কী? মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারী ও রিফাতুল ইসলাম রায়হানের পরিচয় হয়। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান রায়হান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি অন্যদিকে, রিফাতুল ইসলাম রায়হানের পরিবারের দাবি, মামলাটি পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তদন্তের বর্তমান অবস্থা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট আলামত এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তদন্ত শেষ হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বিচারাধীন বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বায়ন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের যুগে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে? বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব কি কেবল বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছে, নাকি ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে দেশের নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ? এমন প্রশ্নকে সামনে রেখেই "সুস্থ সংস্কৃতি, বিনোদন চর্চা ও জাতীয় ভাবধারাভিত্তিক গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশ" শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ এবং বিএফইউজের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির। সংস্কৃতি শুধু বিনোদন নয়, জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়- সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। ভাষা, সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, লোকজ ঐতিহ্য, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ, আচার-অনুষ্ঠান এবং জীবনযাপন পদ্ধতির সমন্বয়ে একটি জাতির সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব বিস্তার মানুষের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি যেমন বৃদ্ধি করেছে, তেমনি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও মূল্যবোধের সংকটও সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের মতো ঐতিহ্যবাহী সমাজে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা, বিনোদনের ইতিবাচক পরিবেশ এবং জাতীয় ভাবধারাভিত্তিক গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন: পরিবর্তন নাকি পরিচয়ের সংকট? ১. সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রভাব বিশ্লেষণ, জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশ, তরুণ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি: সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলতে এমন এক প্রক্রিয়াকে বোঝায় যার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতির উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং ধীরে ধীরে স্থানীয় সংস্কৃতিকে দুর্বল করে দেয়। বর্তমানে স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বৈশ্বিক বিনোদন শিল্পের মাধ্যমে এই প্রভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিদেশি সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে ইতিবাচক কিছু দিক থাকলেও অন্ধ অনুকরণ অনেক ক্ষেত্রে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়কে দুর্বল করছে। বাংলা ভাষার ব্যবহার কমে যাওয়া, লোকজ সংস্কৃতির প্রতি অনাগ্রহ, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং ভোগবাদী মানসিকতার বিস্তার এর অন্যতম প্রভাব। জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য আমাদের লোকসংগীত, বাউলগান, ভাটিয়ালি, জারি-সারি, পালাগান, লোকনাটা, পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসবসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করতে হবে। তরুণদের জন্য ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহিত্যচর্চা, নাট্যচর্চা, সংগীত শিক্ষা, বিতর্ক, বইপাঠ এবং সৃজনশীল কর্মকান্ডের সুযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কারণ সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি ব্যক্তিত্ব গঠন ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেরও অন্যতম হাতিয়ার। তরুণ প্রজন্মের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ? ২. সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও জাতীয় পরিচয়: ক. বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক প্রবাহ: বিশ্বায়নের ফলে পৃথিবী আজ একটি বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনধারা সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এটি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করলেও স্থানীয় সংস্কৃতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। খ. স্থানীয় সংস্কৃতির চ্যালেঞ্জ: বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি, গ্রামীণ ঐতিহ্য এবং নিজস্ব জীবনবোধ ক্রমশ নগরায়ণ ও বৈশ্বিক সংস্কৃতির চাপে সংকুচিত হচ্ছে। অনেক তরুণ নিজের সংস্কৃতির চেয়ে বিদেশি সংস্কৃতিকে বেশি আকর্ষণীয় মনে করছে। ফলে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও গ. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব: ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মানুষের চিন্তা, রুচি ও আচরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। ইতিবাচক তথ্য ও শিক্ষামূলক কনটেন্টের পাশাপাশি অশালীনতা, সহিংসতা, অসত্য তথ্য ও অসুস্থ বিনোদনের বিস্তারও ঘটছে। তাই ডিজিটাল সাক্ষরতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা ভাষা ও মূল্যবোধের প্রশ্ন ঘ. ভাষা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ: বাংলা ভাষা আমাদের জাতীয় পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত এই ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। একইসঙ্গে পারিবারিক বন্ধন, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা, সামাজিক সহমর্মিতা, সততা ও মানবিকতা-এসব মূল্যবোধও জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলো সংরক্ষণ না করতে পারলে জাতীয় পরিচয়ও দুর্বল হয়ে পড়বে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব ৩. সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চার পরিবেশ: পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা: একটি শিশুর সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রথম প্রতিষ্ঠান পরিবার। পরিবারে বই পড়ার অভ্যাস, গান, কবিতা, গল্প এবং নৈতিক শিক্ষার চর্চা থাকলে শিশু সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, নাটক, সংগীত ও সাহিত্যচর্চার সুযোগ বাড়াতে হবে। গণমাধ্যম ও বিনোদন শিল্প: গণমাধ্যম সমাজের রুচি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই টেলিভিশন, রেডিও, চলচ্চিত্র, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সংবাদমাধ্যমকে শিক্ষামূলক, নৈতিক ও দেশীয় সংস্কৃতিনির্ভর কনটেন্ট প্রচারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক বিকাশ: শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড অপরিহার্য। তাদের জন্য মানসম্মত শিশুতোষ অনুষ্ঠান, নাটক, কার্টুন, সাহিত্য এবং সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। ইতিবাচক কনটেন্ট নির্মাণ: ডিজিটাল যুগে ইতিবাচক ও মূল্যবোধভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। তরুণদের কাছে দেশপ্রেম, মানবিকতা, বিজ্ঞানমনস্কতা, পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তুলে ধরতে হবে। জাতীয় ভাবধারা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ৪. জাতীয় ভাবধারা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা: বাংলাদেশের জাতীয় ভাবধারার মূল ভিত্তি মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা, মানবমর্যাদা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম ভিত্তি অসাম্প্রদায়িকতা। ধর্ম, বর্ণ ও মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমতের প্রতি সম্মান এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা। সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতি: সংস্কৃতি মানুষকে একত্রিত করে। উৎসব, নাটক, সংগীত, সাহিত্য ও শিল্পচর্চা সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে এবং বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দেয়। রাষ্ট্রের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা: সাংস্কৃতিক বিকাশে রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত পুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, শিল্পী-সাহিত্যিকদের সহায়তা, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। উপসংহার: সুস্থ সংস্কৃতি, ইতিবাচক বিনোদন এবং জাতীয় ভাবধারাভিত্তিক গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশ একটি উন্নত, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের পূর্বশর্ত। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করে আমাদের নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধারণ করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি সৃজনশীল, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
বরিশাল অফিস : শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বরিশালে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬। রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় নগরীর পলাশপুর এলাকার আলহাজ্ব দলিল উদ্দিন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম এবং বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মঞ্জুর-এ-এলাহী। সভাপতিত্ব করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী। ২২০ কেন্দ্র, লক্ষ্য সব শিশুর কাছে পৌঁছানো বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নগরবাসীর সুবিধার্থে এবার মোট ২২০টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এসব কেন্দ্রে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। শুধু ক্যাম্পেইন ও নজরদারি সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে ক্যাম্পেইন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের সন্তানদের নিকটস্থ কেন্দ্রে এনে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানানো হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশেষ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে কোনো শিশুই এই কর্মসূচির বাইরে না থাকে। বিশেষ করে নগরীর বস্তি এলাকা, ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের আওতায় আনতে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাম্পেইন শেষে বাস্তবভিত্তিক তথ্য-পর্যালোচনা এবং বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করাই হবে কর্মসূচির কার্যকারিতা মূল্যায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার সাত বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে সংঘটিত হামলায় গুরুতর আহত হন রিফাত শরীফ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তও জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পায়। মামলার বিচারিক রায় ঘোষিত হলেও ঘটনাটি ঘিরে বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। বিশেষ করে রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির ভূমিকা, তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং মামলার আলামত নিয়ে এখনও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও ভিন্নমত রয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নির বর্তমান অবস্থা ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের মামলায় আদালত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন। কারা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে মিন্নি কারাগারের নিয়ম মেনে শান্ত ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ সময় তিনি একাকী থাকেন এবং ধর্মীয় অনুশীলনে সময় কাটান। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে এলে কেবল তখনই তাদের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলেন। কারা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হলেও পরবর্তীতে বিচারিক কার্যক্রম এবং স্বজনদের সাক্ষাতের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। যেভাবে এগিয়েছিল তদন্ত মামলার নথি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পরদিন রিফাতের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথম এজাহারে ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ দাবি করে, হত্যার পরিকল্পনায় মিন্নির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে মোট ২৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচার পৃথকভাবে সম্পন্ন হয়। একই বছরের ২৭ অক্টোবর শিশু আদালত অপ্রাপ্তবয়স্ক কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষণা করেন। পরিবারের পাল্টা দাবি মামলার শুরু থেকেই মিন্নির পরিবার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তার মেয়ে স্বামীকে রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। তার অভিযোগ, তদন্তে প্রকৃত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন ঘটেনি এবং প্রভাবশালী একটি মহলের স্বার্থ রক্ষার জন্য মিন্নিকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। পরিবারের আরও দাবি, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত এবং সিসিটিভি ফুটেজ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। তাদের মতে, তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি ছিল, যা বিচার প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বা আদালতের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সাত বছর পরও কেন আলোচনায়? রিফাত শরীফ হত্যা মামলা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত অপরাধ মামলাগুলোর একটি। প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ভিডিও, পরবর্তী তদন্ত, আসামিদের গ্রেপ্তার, বিচার এবং রায়—সব মিলিয়ে মামলাটি দীর্ঘ সময় জনমনে আলোচনায় ছিল। যদিও আদালতের রায় ঘোষিত হয়েছে, তবুও তদন্তের নিরপেক্ষতা, আলামত সংরক্ষণ এবং মিন্নির সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্নমত এখনও পুরোপুরি থামেনি। ফলে সাত বছর পরও বরগুনার এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি বিচারিক মামলা নয়; বরং বাংলাদেশের আলোচিত অপরাধ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে জনপরিসরের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনাগুলোর একটি হিসেবেই রয়ে গেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাদক-সংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং সাইবার স্পেসে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধকে পৃথক আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে শনিবার দুটি পৃথক সংশোধনী বিল উত্থাপনের মধ্য দিয়ে অপরাধ দমন ও বিচারব্যবস্থায় নতুন নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো কেবল আইনের ভাষাগত পরিবর্তন নয়; বরং বিচার কাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতা বৃদ্ধির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। মাদক মামলার জট কমাতে ফিরছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল উত্থাপন করেন। বিলটি পরীক্ষা করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাধারণ আদালতে বিপুলসংখ্যক মামলার চাপ থাকায় মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও সরকার মনে করছে। এ কারণে বিদ্যমান সাধারণ আদালতের বিচারিক এখতিয়ার বহাল রেখেই মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান পুনরায় যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধেও নজর সংশোধনীতে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় নতুন বিধান সংযোজনের কথাও বলা হয়েছে। বিশেষ করে সাইবার স্পেস ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা, লেনদেন ও যোগাযোগের মতো অপরাধ দমনে নতুন আইনি কাঠামো যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যকারিতা বাড়াতে— আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের আইনগত প্রাধিকার; বিশেষায়িত ডগ স্কোয়াড গঠন; —সংক্রান্ত বিধানও সংযোজনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সাইবার আইন থেকে বাদ যাচ্ছে জুয়ার বিধান একই দিনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল সংসদে উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, বর্তমান সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে সাইবার স্পেসে জুয়া খেলা-সংক্রান্ত অপরাধ ও শাস্তির বিধান অপসারণ করা হবে। এর পরিবর্তে 'জুয়া প্রতিরোধ আইন' নামে পৃথক একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধ একটি স্বতন্ত্র আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়। বিলটিও পরীক্ষা করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ: কেন একসঙ্গে দুটি আইনে পরিবর্তন? দুটি বিল একসঙ্গে সংসদে আনার মধ্য দিয়ে সরকার অপরাধ দমন নীতিতে একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। মূল পরিবর্তনগুলো হলো— মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা; প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধকে আইনের আওতায় আরও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি; সাইবার আইনকে মূলত ডিজিটাল অপরাধকেন্দ্রিক রেখে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধকে পৃথক আইনে স্থানান্তর করা। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করলেই বিচার দ্রুত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিচারক, প্রসিকিউশন, তদন্ত কর্মকর্তা এবং ফরেনসিক সক্ষমতা সমানভাবে বাড়ানো না গেলে মামলার জট পুরোপুরি কমানো কঠিন হতে পারে। একইভাবে, জুয়া-সংক্রান্ত বিধান আলাদা আইনে স্থানান্তরের ফলে আইন প্রয়োগ আরও কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে নতুন আইনের বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাতে ফেনী-বিলোনিয়া আঞ্চলিক সড়কের ফুলগাজী উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেনী শহর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ফুলগাজীর দিকে যাচ্ছিল। পথে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে চালকসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাঁদের ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ কাউছার (৩২) ও ওয়াহিদা আক্তার (২০)-কে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজনকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে পথেই মারা যান ওয়াহিদা আক্তারের মা জাকিয়া আক্তার (৪০)। নিহতরা কারা? নিহত মোহাম্মদ কাউছার ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। নিহত ওয়াহিদা আক্তার ছাগলনাইয়া উপজেলার পশ্চিম পাঠাননগরের কাজীবাড়ি এলাকার ইতালি প্রবাসী কাজী হায়াতের স্ত্রী। অপর নিহত জাকিয়া আক্তার ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা এবং সোহেল মজুমদারের স্ত্রী। 'অসুস্থ আত্মীয়কে দেখে ফেরার পথেই মৃত্যু' জাকিয়া আক্তারের ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান জানান, সকালে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে অসুস্থ এক আত্মীয়কে দেখতে পাশের দৌলতপুর গ্রামে গিয়েছিলেন জাকিয়া আক্তার। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ঘটনাস্থলেই কার্যত পরিবারের সবকিছু বদলে যায়। তিনি বলেন, "একসঙ্গে মা ও মেয়ের মৃত্যু আমাদের পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।" হাসপাতালের বক্তব্য ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম কিবরিয়া বলেন, দুর্ঘটনার পর পাঁচজন আহতকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। বাকি তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথেই আরও একজনের মৃত্যু হয়। পুলিশের অবস্থান ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশা ও পিকআপ জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো সামনে আসছে এই দুর্ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— পিকআপ ও অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ কী? কোনো যানবাহন অতিরিক্ত গতিতে চলছিল কি না। সংশ্লিষ্ট সড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না। চালকদের লাইসেন্স, ফিটনেস ও যানবাহনের কারিগরি অবস্থা তদন্তে উঠে আসে কি না। তদন্ত শেষে এসব প্রশ্নের উত্তর মিললে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে দেওয়া আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগ বাতিল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, সিদ্ধান্তটি কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি; বরং আইন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। ২০২২ সালের নিয়োগে আপত্তি ছিল না বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ এবং ৮৫তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে তিন বছরের জন্য প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় তিনি মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি, চিকিৎসা সুবিধা এবং সীমিত প্রশাসনিক সুবিধা পেতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, এই নিয়োগ বিধি অনুযায়ী হওয়ায় তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি ছিল না। ছয় মাস আগেই বদলে যায় নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস আগে, ২০ জুন ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় প্রফেসর ইমেরিটাস অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়। সংশোধিত অধ্যাদেশে প্রথমবারের মতো আজীবন নিয়োগ, অবসরের সময়কার পূর্ণ অধ্যাপকের বেতন-ভাতার সমপরিমাণ মাসিক পারিশ্রমিক, আজীবন চিকিৎসা সুবিধা, অফিস, স্টাফ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধার বিধান যুক্ত করা হয়। বিএমইউর দাবি, ওই সভাটি ছিল মূলত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন। সেখানে মূল এজেন্ডার বাইরে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে "নজিরবিহীন" এবং "বেআইনি"। বিশ্ববিদ্যালয় আরও বলছে, এ পর্যন্ত এই নিয়োগের আওতায় অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আনুমানিক সাড়ে ১৪ লাখ টাকার বেশি আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগের ক্ষেত্রে অধ্যাদেশের ধারা ৫ অনুযায়ী বিভাগীয় চেয়ারম্যানের প্রস্তাব, ডিনের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন, উপাচার্যের গঠিত মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ এবং সেই সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রে এসব ধাপ অনুসরণ করা হয়নি বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি। বিএমইউ বলছে, কেবলমাত্র একজন সদস্যের প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাকে আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এমনকি যোগ্যতার বিবরণে "সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক" পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, গত প্রায় দুই বছরে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত হননি, শিক্ষাদান করেননি এবং কোনো গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার তথ্যও প্রশাসনকে জানাননি। তবে এই সময়ে তিনি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আর্থিক অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন বিএমইউ বলছে, ২০২৪ সালের সংশোধনের মাধ্যমে প্রফেসর ইমেরিটাস পদটি কার্যত একটি সম্মানসূচক পদ থেকে পূর্ণ বেতনসদৃশ আর্থিক সুবিধাসংবলিত পদে পরিণত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি অনুযায়ী, এ ধরনের আর্থিক পরিবর্তনের আগে অর্থ কমিটির সুপারিশ নেওয়া উচিত ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে অর্থ কমিটিতে বিষয়টি উপস্থাপন, আর্থিক বিশ্লেষণ কিংবা কোনো সুপারিশের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কী নজির? সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগের নজির থাকলেও, আজীবনের জন্য পূর্ণ অধ্যাপকের সর্বোচ্চ বেতনের সমপরিমাণ পারিশ্রমিক এবং বিস্তৃত প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার কোনো নজির বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে পায়নি। বর্তমান প্রশাসনের মতে, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদি পুনরাবৃত্ত আর্থিক দায় সৃষ্টি হয়েছে। কেন বাতিল করা হলো নিয়োগ? বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, ১৩ জুন ২০২৬ সালের সিন্ডিকেট সভায় সব নথি ও তথ্য পর্যালোচনার পর ২৪ জুন ২০২৪ সালের আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগকে বিধিবহির্ভূত হিসেবে বিবেচনা করে বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, বিধিবহির্ভূত নিয়োগের ভিত্তিতে প্রদত্ত আর্থিক সুবিধা আইনের বিধান অনুযায়ী পুনরুদ্ধার করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে কারণেই অধ্যাপক আব্দুল্লাহকে ওই সময়ে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, এটি কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে নয়; বরং প্রচলিত আইন ও বিধিমালার অনুসরণ নিশ্চিত করার অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান বিএমইউর দাবি, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ছিল আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করা। বিশ্ববিদ্যালয় মনে করে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও জবাবদিহিতা রক্ষার স্বার্থে আইন ও বিধিমালা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) নূর মোহাম্মদকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (২৭ জুন) রাতে পরিচালিত একটি অভিযানে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, "নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে জামালপুরে একটি মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" ডিবির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মামলার প্রকৃতি বা অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া অভিযানের সময় তার সঙ্গে অন্য কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানানো হয়নি। আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর গ্রেফতার এর আগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপটে নূর মোহাম্মদ, তার স্ত্রী রওশন আরা বেগম এবং ভাতিজা সাইফুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ঢাকার একটি আদালত। আদালতের ওই আদেশে তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তদন্তের পরবর্তী ধাপ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতারের পর নূর মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ আবারও ভেঙেছে নিজস্ব রেকর্ড। ছয় মাস পর খোলা ১৩টি দানসিন্দুক থেকে এবার পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা, যা এ পর্যন্ত মসজিদটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ দান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি মিলেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে টানা প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা ধরে চলে টাকা গণনার কাজ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ১৩টি সিন্দুক থেকে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া দানবাক্সে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া যায়। নজিরবিহীন নিরাপত্তায় খোলা হয় ১৩ সিন্দুক শনিবার সকালেই প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দানসিন্দুকগুলো খোলা হয়। পুরো কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), মসজিদ কমিটির সদস্যসচিব কামরুল হাসানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট। ৫ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে গণনা বিপুল পরিমাণ অর্থ গণনার কাজে অংশ নেন প্রায় ৫ শতাধিক ব্যক্তি। তাদের মধ্যে ছিলেন আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানাসহ দুটি মাদ্রাসার প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংক-এর ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদ কমিটির সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। দানের অর্থ কোথায় যায়? জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের নিয়মিত ব্যয় নির্বাহের পর অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। বর্তমানে মসজিদের তহবিলে ব্যাংকে জমা রয়েছে প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এছাড়া অনলাইন মাধ্যমে পাওয়া দানের আরও প্রায় ২৫ লাখ টাকা রয়েছে। এবার পাওয়া অর্থও ব্যাংকে জমা রাখা হবে। তিনি আরও জানান, দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়। পরে সেগুলো উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থও মসজিদের তহবিলে যুক্ত করা হয়। শুধু মসজিদ নয়, সমাজকল্যাণেও ব্যয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, তহবিলের মুনাফা থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায়, দরিদ্র এবং জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। কেন এত দান আসে? মসজিদ কমিটি বলছে, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষ পাগলা মসজিদে আসেন। অনেকেই বিশ্বাস ও মানতের অংশ হিসেবে নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা কিংবা স্বর্ণালঙ্কার দান করেন। সাধারণত প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস পর সিন্দুক খোলা হলেও এবার প্রায় ছয় মাস পর দানবাক্স খোলা হয়েছে, ফলে দানের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রায় ৩ মাস ২৭ দিন পর দানসিন্দুক খুলে ৩৫ বস্তা টাকা থেকে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সেই সময়ও বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার এবং হীরা উদ্ধার হয়েছিল। এবারের সংগ্রহ সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল। নগদ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ১২ লাখ টাকা বেশি হওয়ায় এটি পাগলা মসজিদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দান হিসেবে নতুন মাইলফলক হয়ে থাকল। তথ্যসংক্ষেপ মসজিদ: পাগলা মসজিদ, কিশোরগঞ্জ খোলা সিন্দুক: ১৩টি মোট প্রাপ্ত অর্থ: ১৫,৯০,৮০,১৪৬ টাকা অতিরিক্ত উদ্ধার: বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার গণনার সময়: প্রায় ১৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট অংশগ্রহণকারী: ৫ শতাধিক ব্যক্তি বর্তমান ব্যাংক তহবিল: প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা অনলাইন দান: প্রায় ২৫ লাখ টাকা
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ৯১ নম্বর ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ছয় মাস আগে। কিন্তু নির্মাণে একাধিক ত্রুটির অভিযোগে এখনো ভবনটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে নতুন ভবন তালাবদ্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে পাঠ নিচ্ছে পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনের মাত্র তিনটি কক্ষে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৬০ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। অথচ পাঁচটি শ্রেণির পাঠদান চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্র তিনটি কক্ষ। এর মধ্যে একটি কক্ষ অফিস হিসেবে নির্ধারিত থাকলেও কক্ষ সংকটের কারণে সেখানে নিয়মিত ক্লাস নিতে হচ্ছে। বাকি দুই কক্ষে একসঙ্গে দুটি করে শ্রেণির পাঠদান চলছে। শিক্ষকদের ভাষ্য, একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদান শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে। একজন শিক্ষক ক্লাস নেওয়ার সময় অন্য শিক্ষককে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগও বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের আওতায় ৭১ লাখ ৬৫ হাজার ৮০ টাকা ব্যয়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স টোয়াইস কনস্ট্রাকশন। পরে কাজটি হাতবদল হয়ে মেসার্স নির্ণয় এন্টারপ্রাইজ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্মাণ শেষ হলেও ভবনটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি বলে দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলরুবা আক্তারী বলেন, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের কাঠ ব্যবহারের কারণে কয়েকটি দরজা বেঁকে গেছে এবং দরজা খোলা-বন্ধেও সমস্যা হচ্ছে। এসব ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ভবন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি ছিল। তাদের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই ভবনে অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ফলে নতুন ভবন নির্মিত হলেও শিক্ষার্থীরা এখনো গাদাগাদি করে পুরোনো ভবনে পাঠ নিতে বাধ্য হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বাপ্পি কুণ্ডু। তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবন বুঝে না নেওয়ায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন জানান, নির্মাণকাজে ত্রুটি থাকার কারণেই প্রধান শিক্ষক ভবন গ্রহণ করছেন না বলে তিনি জেনেছেন। রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, ভবন হস্তান্তরের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্ন রয়ে গেছে একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ভবন শেষ হওয়ার ছয় মাস পরও কেন ব্যবহার করা যাচ্ছে না? নির্মাণে যদি ত্রুটি থেকেই থাকে, তবে কাজ চলাকালীন তদারকি কতটা কার্যকর ছিল? আর যদি কাজ চুক্তি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে হস্তান্তর প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে থাকার দায় কার? এদিকে প্রশাসনিক জটিলতার ভার বইতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের, যাদের জন্য নির্মিত নতুন ভবন এখনো কেবল তালাবদ্ধ একটি অবকাঠামো।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ‘কিশোর গ্যাং’ নিয়ে আলোচনা চললেও এবার বরিশালে সামনে এসেছে ভিন্ন এক অভিযোগ। এক কলেজছাত্রী দাবি করেছেন, পূর্ববিরোধের জেরে একদল কিশোরী গ্যাং তার ওপর হামলা চালিয়েছে, পরে তার বাসায় গিয়ে তাকে ও তার মাকে মারধর করেছে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাবেয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ জুন দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল সিটি কলেজ মাঠে প্রথম দফায় রাবেয়ার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। কলেজের অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়। রাবেয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, একই দিন পরে ফকিরবাড়ি রোডে তার ভাড়া বাসায় গিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে ও তার মাকে মারধর করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা একটি মোবাইল ফোন ও নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়ে যায়। কি ঘটেছিল সেই দিন : থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের একজন একই কলেজের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আগে থেকেই ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। রাবেয়ার অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন। তিনি জানিয়েছেন, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রযোজ্য আইনের আওতায় পৃথক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লিখিত অভিযোগে জানা গেছে,ঝালকাঠির বহুল আলোচিত জেসলি জান্নাত,অন্তি ও কলির নেতৃত্বে একদল কিশোরী গ্যাং ২২ জুন দুপুর দেড় টায় প্রথম দফায় বরিশাল সিটি কলেজ মাঠে সিটি কলেজের ছাত্রী রাবেয়ার ওপর পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে।কলেজের শিক্ষার্থীদের বাঁধায় পালিয়ে যায় এই কিশোরী গ্যাংয় গ্রুপটি। পরে দ্বিতীয় দফায় কলেজ ছাত্রী রাবেয়ার ফকিরবাড়ি রোডস্থ ভাড়া বাসায় হামলা করে। এ সময় রাবেয়া ও তার মাকে মারধর করে।লুটপাট করে মালামাল। কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অন্তির সাথে রাবেয়া একই কলেজের শিক্ষার্থী।টুকটাক ঝামেলা চলে আসছিলো দু জনের মাঝে।সেই ঝামেলার সুত্রধরে বাসায় রাবেয়া ও তার মাকে মারধর করে মোবাইল ফোন ও নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়ে যায়।এ ছাড়া রাবেয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে তারা। আরও গুরুতর অভিযোগ লিখিত অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল এবং তথাকথিত "হানিট্র্যাপ" কৌশলের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত।এ ছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অতীতে ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত একটি ঘটনায় এক যুবক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। কিশোরী গ্যাং তারা তাদের গ্যাংয়ে মেয়েদের হায়ার করার জন্য হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্লাকমেইলিং করে গ্রুপ বড় করছে। এই গ্রুপ সরকারি চাকুরীজীবি, বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে হানিট্রাপের টোপ ফেলে ব্লাকমেইলিং করে অর্থ হাতিয়ে নেয়।এছাড়া আবাসিক হোটেল ডেটের জন্য দেশ ও বিদেশের পর্যটন এলাকার বিলাসবহুল হোটেল আমোদফুর্তির অভিযোগ রয়েছে।সম্প্রতি এক যুবককে ব্লাকমেইলিংয়ের কারনে সেই যুবক থানায় সাধারন ডায়েরী করার পরে মুচলেকা দিয়ে রেহাই পেয়ে যায় হানিট্রাপ গ্রুপের সেই বহুল আলোচিত কিশোরী গ্যাং প্রধান। ভুক্তভোগীর বক্তব্য এ ব্যাপারে হামলার শিকার শিক্ষার্থী রাবেয়া জানান,আমাকে ও আমার মায়ের ওপর হামলা করেছে। পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে তারা তাদের মোবাইলে ভিডিও করে তারা তাদের ফেসবুক আইডিতে এবং তাদের লোকজনদের মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। রাবেয়া আরো জানান,আমাদের ওপর হামলা, মারধর, মোবাইল ও টাকা নেয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দিবো। তিনি বিতর্কিত কিশোরী গ্যাং গ্রুপের হাত থেকে বাচাঁর জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পুলিশের অবস্থান বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যশোরের শার্শার বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে পণ্য পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কাস্টমসের নির্ধারিত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের অভিযোগে দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিন সিপাইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, একই ঘটনায় বিজিবির অভিযানে প্রায় ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ এবং একজন রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভিতে ধরা পড়া মধ্যরাতের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুন গভীর রাতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার গুদাম থেকে একটি গাড়িতে একাধিক বস্তা ও প্যাকেজ মালামাল তোলা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া লোডিং কার্যক্রম প্রায় ২৩ মিনিট ধরে চলে। এরপর রাত ১১টা ৫৮ মিনিট থেকে ১২টা ৪ মিনিট পর্যন্ত একই গাড়িতে পুনরায় মালামাল তোলা হয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাত ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ১টা ১০ মিনিটের মধ্যে ওই গাড়ি থেকেই ২২ থেকে ২৫টি প্যাকেজ নামানো হয়। ওই সময় ঘটনাস্থলে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম চৌধুরী এবং সিপাই মোহাম্মদ সাগরের উপস্থিতি সিসিটিভিতে ধরা পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গুদাম থেকে বের করা কিছু পণ্য বিধিবহির্ভূতভাবে পরিবহনের চেষ্টা করা হয়েছিল। ত্রাণের চালানের সঙ্গে মিলছে না জব্দ পণ্যের হিসাব কাস্টমস সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে পাঠানোর জন্য যে চালানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ছিল— ৩,০২২টি শাড়ি ৫৮টি থ্রি-পিস ২০৮টি চাদর ২৬৩টি কম্বল ৮টি ওড়না এ সংক্রান্ত চিঠিতে সহকারী কমিশনার অব কাস্টমসের পক্ষে স্বাক্ষর করেন রাহাত হোসেন। পরিবহনের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী। কিন্তু বিজিবির জব্দ করা কাভার্ডভ্যানে পাওয়া যায়— ৬,০০৮টি ভারতীয় শাড়ি ৬৩টি থ্রি-পিস ৩৮৬টি কম্বল ২০৮টি চাদর ৮টি ওড়না ৩৩,২২২টি বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী এই হিসাব অনুমোদিত চালানের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিত দেয়। এনএসআইয়ের তথ্য, বিজিবির অভিযান জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি ওই রাতে বেনাপোল বাজারের দুর্গাপুর মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৫৬২১ নম্বরের একটি কাভার্ডভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে গাড়িটি বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে কাগজপত্র যাচাই করা হয়। যাচাই শেষে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত পণ্য উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক সিজার মূল্য ২ কোটি ৬৭ লাখ ৬৫ হাজার ৩১০ টাকা। এ সময় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, কাভার্ডভ্যানের চালক মহসিন আলী এবং হেলপার জাহিদ হাসানকে আটক করা হয়। বরখাস্ত পাঁচজন, তদন্তের মুখে কাস্টমস ঘটনার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে— সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম চৌধুরী সিপাই জামশেদ সিপাই সাগর সিপাই হামিদুর রহমান বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। প্রশ্নের মুখে গুদাম ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি এই ঘটনায় শুধু কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভূমিকা নয়, বরং কাস্টমসের নিলাম গুদামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পণ্য যাচাই প্রক্রিয়া এবং ত্রাণ ভাণ্ডারের নামে সরকারি মালামাল পরিবহনের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অনুমোদিত চালানের তুলনায় অতিরিক্ত কয়েক হাজার শাড়ি ও বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস কীভাবে একই পরিবহনে যুক্ত হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। সরকারি ত্রাণ সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি চালানে এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি সীমান্ত বাণিজ্য ও কাস্টমস প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবনির্মিত ১০ তলা আবাসিক ভবন ‘বিজয় ৭১’ হল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা যাওয়ার পাশাপাশি মেরামতের পরও পলেস্তারা খসে পড়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আবাসিক হলের নির্মাণমান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে কারণ ভবনটির নির্মাণকাজ করছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বহুল আলোচিত ‘বালিশকাণ্ড’-সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স অ্যান্ড কোম্পানি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ফাটলের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নতুন ভবন, পুরোনো আশঙ্কা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল ও মন্নুজান হলের কিছু শিক্ষার্থীকে প্রায় তিন মাস আগে অস্থায়ীভাবে বিজয় ৭১ হলে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু নতুন আবাসিক ভবনে ওঠার পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পান শিক্ষার্থীরা। হল সংসদের সহ-বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক শাহরিয়ার হাসান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো হল থেকে নিরাপত্তার জন্য নতুন ভবনে আনা হলেও এখানেও ফাটল দেখা যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি নির্মাণকাজে অনিয়ম বা দুর্নীতির ইঙ্গিত হতে পারে। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শের-ই-বাংলা হল সংসদের নির্বাহী সম্পাদক শাহিব বিল্লাহ। তিনি বলেন, নিরাপদ আবাসনের প্রত্যাশায় শিক্ষার্থীরা নতুন হলে উঠলেও ভবনের দৃশ্যমান ত্রুটিগুলো নতুন করে শঙ্কা তৈরি করছে। বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের রাবি শাখার সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফার অভিযোগ, মেরামতের পরও ভবনের কিছু অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। এই প্রথম নয় বিজয় ৭১ হলকে ঘিরে এটি প্রথম নিরাপত্তা বিতর্ক নয়। ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি ভবনটির মিলনায়তনের ছাদ ঢালাইয়ের সময় একটি অংশ ধসে পড়ে। ওই ঘটনায় অন্তত নয় শ্রমিক আহত হন। পরে নির্মাণকাজে গাফিলতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ সামনে আসে। নির্মাণকাজ চলাকালে আরও দুটি বড় দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একটি ট্রাকের চাপায় হিমেল নামে এক শিক্ষার্থীরও প্রাণহানি ঘটে। এসব ঘটনার পরও প্রকল্পটির নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। আলোচিত ঠিকাদার, বিলম্বিত প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বিজয় ৭১ হল এবং ২০ তলা বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ করছে মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ের আবাসিক হলটির নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে গিয়েও পুরোপুরি শেষ হয়নি। গত বছরের ডিসেম্বরেই ভবনটি হস্তান্তরের কথা থাকলেও এখনও অফিস কক্ষসহ বেশ কিছু কাজ চলমান। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন চারটি বহুতল ভবনের কাজ তিন দফা সময় বাড়ানোর পরও সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক দফা বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। অডিটে উঠে এসেছে জরিমানা না আদায়ের অভিযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে। নির্মাণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অসম্পাদিত কাজের মূল্যমানের ওপর দশমিক ০.০৫ থেকে ০.১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা দিতে হওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষা অডিট অধিদফতরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৩ কোটি টাকার সম্ভাব্য জরিমানা আদায় না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। অডিট প্রতিবেদনের এই তথ্য প্রকল্প তদারকি ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ৩৬৩ কোটি থেকে ৫১০ কোটির প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন পায় ২০১৭ সালে। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৬৩ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে সংশোধিত প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা করা হয়। প্রকল্পের আওতায় বিজয় ৭১ হল, অপরাজিতা হল, ২০ তলা একাডেমিক ভবন, শিক্ষক কোয়ার্টার, ড্রেনেজ অবকাঠামো এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২২ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একাধিক দফায় সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ কী বলছে? বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মিনহাজুল আলম বলছেন, দৃশ্যমান ফাটলগুলো তাপমাত্রাজনিত কারণেও হতে পারে। তাঁর মতে, বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হবে এবং প্রয়োজন হলে মেরামত করা হবে। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের পরিচালক এস এম ওবায়দুল ইসলামও দাবি করেছেন, আপাতত ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকির তথ্য তাদের কাছে নেই। তিনি বলেন, বিম ও দেয়ালের সংযোগস্থল অথবা প্লাস্টারের বিভিন্ন অংশে এ ধরনের ফাটল দেখা যেতে পারে। প্রকৌশলীদের একটি দল ইতোমধ্যে ভবনটি পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূল প্রশ্ন: ফাটল কি কেবল প্লাস্টারে, নাকি কাঠামোতেও? প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ার ঘটনা সবসময় কাঠামোগত দুর্বলতার প্রমাণ নয়। অনেক ক্ষেত্রে প্লাস্টার, তাপমাত্রা পরিবর্তন বা নির্মাণসামগ্রীর সংকোচন-প্রসারণের কারণেও এমনটি হতে পারে। তবে উদ্বেগের জায়গা হলো—একই প্রকল্পে পূর্বে ছাদ ধস, নির্মাণ দুর্ঘটনা, দীর্ঘসূত্রতা, অডিটে অনিয়মের অভিযোগ এবং এখন দৃশ্যমান ফাটল—সব মিলিয়ে ভবনটির গুণগত মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ফাটলের প্রকৃত কারণ, নির্মাণমানের অবস্থা এবং ভবনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সম্পর্কে কী উঠে আসে, সেটিই এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের প্রধান অপেক্ষার বিষয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিহত বাবু রাঢ়ী (২৫) নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে ঘটনাটির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল নাকি এটি সম্পূর্ণ জমি-সংক্রান্ত বিরোধের ফল—তা নিয়ে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে। পরিবারের দাবি, পশ্চিম সাদেকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিজেদের জমিতে দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলছিল বাবু রাঢ়ীর। সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত প্রায় ৮টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নিলে বাবু রাঢ়ীর ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, বজলু বয়াতী, জাহাঙ্গীর মাল, শহীদ পোদ্দার, নয়ন পোদ্দারসহ ৮ থেকে ৯ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর চড়াও হয়। নিহতের পরিবারের ভাষ্য, হামলায় বাবুর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার হাত-পা ভেঙে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বুধবার ভোরে তিনি মারা যান। বাবুর বাবা দুলাল রাঢ়ী অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের আরেক সদস্য খোরশেদ রাঢ়ীর দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। প্রায় এক মাস আগেও একই বিরোধের জেরে বাবুকে মারধরের ঘটনা ঘটেছিল। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক হামলা ছিল পূর্বের বিরোধের ধারাবাহিকতা। ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসার পর। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, বাবু রাঢ়ী নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। যদিও সংগঠনের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে তিনি ছিলেন না। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নীরব ব্যাপারী দাবি করেছেন, বাবু সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্য পক্ষ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন দীপেন বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়; বরং জমি ও স্থাপনা নির্মাণসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই সংঘটিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় কি কেবল একটি পারিপার্শ্বিক তথ্য, নাকি তা সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে কোনো ভূমিকা রেখেছে? এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য থেকে এর স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, পূর্বের হামলার অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনা—সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা ও বিচারিক অনুসন্ধানের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতিই নির্ধারণ করবে, এটি কেবল জমি-সংক্রান্ত বিরোধের মর্মান্তিক পরিণতি ছিল, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো প্রভাবক কাজ করেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে নিরাপত্তা সংকটের প্রশ্ন সামনে এসেছে। ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে হাসপাতালের সার্জারি ভবনের চতুর্থ তলায় একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং কয়েকজন চিকিৎসক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের নাম উল্লেখ করা হলেও, এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। কী ঘটেছিল? ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সার্জারি বিভাগের ৪২৯ নম্বর কক্ষে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছিল। এ সময় হিমেলসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল সেখানে প্রবেশ করে চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন চিকিৎসক শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর বুধবার (২৪ জুন) থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের চার দফা দাবি ঘটনার পর এসএসএমসি মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, হামলায় সহকারী রেজিস্ট্রার, ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আক্রান্ত হয়েছেন। সংগঠনটি চারটি দাবি উত্থাপন করেছে— প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিটের বাইরে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন; হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন; হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা; সার্জারি বিভাগে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। আইডিএর আহ্বায়ক ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। তদন্তে জটিলতা কোথায়? চিকিৎসকদের অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ঘটনাস্থলে কার্যকর সিসিটিভি নজরদারি না থাকা। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত নজরদারি ব্যবস্থা না থাকলে এমন ঘটনার প্রকৃত দায় নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। এতে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে সত্য উদঘাটন বিলম্বিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্তমান ঘটনাতেও প্রত্যক্ষ ভিডিও প্রমাণের অভাব তদন্তকে জটিল করে তুলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পুলিশের অবস্থান কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে হাসপাতাল এলাকায় একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তার ভাষ্য, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ জমা দেয়নি। লিখিত অভিযোগ না থাকায় তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। অভিযুক্তের পাল্টা দাবি অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান হিমেল চিকিৎসকদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, হাসপাতালে তারা উল্টো ‘মবের’ শিকার হয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফলে ঘটনাটি এখন দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, যার সত্যতা নির্ভর করছে সম্ভাব্য তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা? বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা কিংবা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা নতুন নয়। তবে চিকিৎসকদের দাবি, কর্মপরিবেশ নিরাপদ না হলে স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মিটফোর্ড হাসপাতালের এই ঘটনা সেই পুরোনো প্রশ্নই আবার সামনে এনেছে—দেশের বৃহৎ সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো কতটা কার্যকর, এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধে কী ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। বর্তমানে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ এবং সম্ভাব্য তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা বলা হয় তৈরি পোশাক শিল্পকে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। কিন্তু গত কয়েক মাসে গাজীপুর, সাভার ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে একের পর এক কারখানা বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত কি গভীর সংকটে পড়েছে? অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, বাস্তবতা একমাত্রিক নয়। একদিকে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। অন্যদিকে একই সময়ে নতুন কারখানা চালু হয়েছে, নতুন বিনিয়োগ এসেছে এবং রপ্তানি আয়ও বেড়েছে। ফলে প্রশ্নটি এখন শুধু সংকটের নয়; বরং শিল্পটির কাঠামোগত রূপান্তরও কি ঘটছে? ঈদের পর নতুন করে আলোচনায় কারখানা বন্ধ কোরবানির ঈদের পর পোশাক শিল্পাঞ্চলে ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানা থেকে প্রায় ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, ঈদের ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে এসে তারা জানতে পারেন তাদের চাকরি নেই। অন্যদিকে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক ও কর্মচারী একসঙ্গে কর্মহীন হয়েছেন। শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাকরি হারানোর পর তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ সংসার চালানো, সন্তানদের শিক্ষাব্যয় এবং বাসাভাড়া পরিশোধ নিয়ে। তিন বছরে বন্ধ প্রায় ৪০০ কারখানা বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে দেশে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, অনেক কারখানা এখনও আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে। কারখানা মালিকদের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠান এখন পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। উৎপাদন কমলেও ব্যাংকঋণের কিস্তি, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল, ভাড়া এবং প্রশাসনিক ব্যয় বহন করতে হচ্ছে নিয়মিত। ফলে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছে। কিন্তু একই সময়ে নতুন কারখানাও আসছে সংকটের এই আলোচনার মাঝেই ভিন্ন এক চিত্র উঠে এসেছে। বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৫ মাসে সংগঠনটির নতুন সদস্য হয়েছে ১২৮টি কারখানা। একই সময়ে বন্ধ হয়েছে ১১৩টি কারখানা। নতুন কারখানাগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার মানুষের। অন্যদিকে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর কারণে চাকরি হারিয়েছেন ৯৬ হাজার ১০৪ শ্রমিক। অর্থাৎ কর্মসংস্থানের হিসাবে এখনও প্রায় ২২ হাজার মানুষের নিট কর্মসংস্থান ঘাটতি রয়ে গেছে। তবে শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান আরেকটি বাস্তবতাও তুলে ধরে—শিল্পটি পুরোপুরি সংকুচিত হচ্ছে না; বরং পুরোনো ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানের জায়গায় নতুন বিনিয়োগ এবং নতুন ধরনের উৎপাদন কাঠামো গড়ে উঠছে। কেন বন্ধ হচ্ছে কারখানা? খাত-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে চারটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে। ১. আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ায় ক্রয়াদেশের প্রবৃদ্ধি আগের মতো নেই। ২. উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ডলারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয় এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ উৎপাদন ব্যয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ৩. শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি নতুন মজুরি কাঠামো এবং নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট শ্রমিকদের জন্য ইতিবাচক হলেও উৎপাদনশীলতা সমান হারে না বাড়ায় দুর্বল কারখানাগুলো অতিরিক্ত চাপ অনুভব করছে। ৪. ঋণ ও তারল্য সংকট অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে রয়েছে। ফলে ব্যাংকঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে তারা উৎপাদন কমাচ্ছে অথবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে। বেক্সিমকো থেকে কেয়া: বড় গ্রুপও চাপের মুখে সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপের ২৪টি, কেয়া গ্রুপের ৪টি এবং টিএনজেড গ্রুপের ৪টি প্রতিষ্ঠান। বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে বেক্সিমকো শিল্পপার্কের ১৪টি কারখানা বন্ধের ঘটনা। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৩ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে সংকট কেবল ছোট কারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোকেও আর্থিক ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ কোথায় যাচ্ছে? অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগের ধারা বলছে, উদ্যোক্তারা এখন প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নতুন সদস্য হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে একেএইচ আউটওয়্যার, এজেড কম্পোজিট, নেক্সটন, এলএসএ অ্যাপারেলস, সিটেক ফ্যাশন, সুপ্রিম আউটফিট এবং স্প্যারো গ্রিনটেক। তবে নতুন ১২৮ কারখানার মধ্যে মাত্র ১৮টিতে শ্রমিক সংখ্যা এক হাজারের বেশি। অর্থাৎ নতুন বিনিয়োগের বড় অংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের। খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে একই পরিমাণ উৎপাদনের জন্য তুলনামূলক কম শ্রমিকের প্রয়োজন হতে পারে। রপ্তানি আয় কিন্তু বাড়ছে কারখানা বন্ধের খবরের বিপরীতে রপ্তানি আয়ের চিত্র তুলনামূলক ইতিবাচক। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ২৫ কোটি ডলার। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ কর্মসংস্থান ও কারখানা সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা পুরোপুরি কমে যায়নি। ৬০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা: বাস্তবায়ন কোথায়? বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা তারল্য সংকট। তিনি মনে করেন, রুগ্ন ও বন্ধপ্রায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা তহবিল এখনও কার্যকর না হওয়ায় অনেক কারখানা প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত শনাক্ত করে সহায়তা দেওয়া না হলে আগামী মাসগুলোতে আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংকট, নাকি শিল্পের পুনর্গঠন? তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে দ্বৈত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে শ্রমিক ছাঁটাই, কারখানা বন্ধ, ঋণ সংকট এবং উৎপাদন ব্যয়ের চাপ রয়েছে। অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও দেখা যাচ্ছে। ফলে বিষয়টি শুধু শিল্প সংকটের নয়; বরং শিল্পের পুনর্গঠন এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি পর্যায়ও হতে পারে। তবে এই রূপান্তরের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন শ্রমিকরাই। কারণ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ থাকলেও চাকরি হারানো হাজার হাজার শ্রমিকের জন্য বর্তমান বাস্তবতা হলো অনিশ্চয়তা, আয়হীনতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—শিল্পের এই রূপান্তর কি কর্মসংস্থান রক্ষা করে এগোবে, নাকি আরও হাজারো শ্রমিককে কর্মহীন করে নতুন ভারসাম্য খুঁজবে? সেটিই নির্ধারণ করবে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাতের আগামী পথচলা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত চার নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঘটনাটি ঘিরে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া, গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিবাদ এবং সাংগঠনিক তদন্তের পর এ সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। বুধবার (২৫ জুন) রাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কী ঘটেছিল ধানমন্ডিতে? মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে জামায়াতের একটি বিক্ষোভ মিছিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ওই উত্তেজনা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, দলের কয়েকজন নেতাকর্মী সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। এতে দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির আহত হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে হয়। ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। চাপের মুখে তদন্ত কমিটি হামলার ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টাররা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জামায়াতের সংবাদ কার্যক্রম বর্জনের হুঁশিয়ারি দেন। এতে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। সমালোচনার মুখে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে এবং ঘটনার তদন্তের ঘোষণা দেয়। এ লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক নুরুন্নবি মানিককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে কী পাওয়া গেছে? দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে বুধবার তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে শফিকুল ইসলাম, খায়রুল আলম রাসেল, আবুল কালাম ও মামুন হোসেনকে হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরও জড়িত ছিলেন কি? জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হামলায় আরও কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃত চারজনই ঘটনার সূচনা এবং আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। এই কারণেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা আরও কয়েকজনকে সতর্ক করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত? বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ নতুন নয়। তবে কোনো রাজনৈতিক দল নিজস্ব তদন্তের মাধ্যমে দায়ী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। বিশ্লেষকদের মতে, গণমাধ্যমের চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত এবং সংবাদকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে জামায়াতের এই সিদ্ধান্ত দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক আইনি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ব্যাংক খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং খেলাপি ঋণের মাধ্যমে বিদেশে সরিয়ে নেওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘নো উইন, নো ফি’ ভিত্তিতে এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হচ্ছে। অর্থাৎ উদ্ধার কার্যক্রম সফল হলে তবেই তারা পারিশ্রমিক পাবে। কেন এই উদ্যোগ? গত এক দশকেরও বেশি সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে বড় করপোরেট গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে তা বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত সংস্থাগুলোর নজরে আসে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের অর্থ পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করা হয়েছে। প্রথম ধাপে যাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অর্থমন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং ব্যবসায়ী এস আলম। এছাড়া বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট মামলাও রয়েছে এই তালিকায়। আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে থাকা সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য শনাক্ত করবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থপাচার মামলায় বিদেশি আদালত, ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সহযোগিতা ছাড়া সম্পদ উদ্ধার প্রায় অসম্ভব। ফলে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের বাস্তব চিত্র সংসদে দেওয়া তথ্যে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখের বেশি। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব ১৭ কোটি ৭৯ লাখ এবং ঋণ হিসাব প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫ জুন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার জরুরি সহায়তা দিয়েছে। বর্তমানে দেশে ৬৩টি ব্যাংক ১১ হাজারের বেশি শাখা এবং প্রায় ৫ হাজার উপশাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন লক্ষ্য সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ জন্য জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। বৈদেশিক ঋণ ও রাজস্বের চিত্র অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কনসেশনাল এবং ৩৮ দশমিক ০৩ শতাংশ নন-কনসেশনাল ঋণ। এদিকে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখ ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি। তবে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৭৫ দশমিক ৩০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক একীভূতকরণ ও আমানত সুরক্ষা ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে রেজোল্যুশন স্কিমের আওতায় আনা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, আমানত সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। অর্থপাচারবিরোধী লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত, আদালতের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে তবেই এই উদ্যোগের প্রকৃত সফলতা নির্ধারিত হবে। সরকার ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রথম ধাপের কার্যক্রমের পর আরও বড় পরিসরে অর্থপাচার ও সম্পদ পুনরুদ্ধার অভিযান সম্প্রসারণ করা হবে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের বাটাজোর ইউনিয়নের বাটাজোর থেকে চন্দ্রহার পর্যন্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, খালের দখলমুক্তকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও খালের অপর পাড়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৭০টি অবৈধ বাজার স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খাল পুনঃখননের শেষ পর্যায়ে এসে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, খালের দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও উত্তর পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে থাকা বাজারের অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা অক্ষত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্যানিটেশন সংকটের আশঙ্কা চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। বিদ্যালয়টির একমাত্র কার্যকর স্যানিটেশন সুবিধা হিসেবে ব্যবহৃত ওয়াশব্লকটি অপসারণ করা হলে শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, বিকল্প স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো অপসারণ কতটা যৌক্তিক? বিশেষ করে যখন একই খালের অপর পাড়ে বহু অবৈধ স্থাপনা বহাল রয়েছে। একাধিক অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে তারা বাধা দিতে চান না। তবে উচ্ছেদ কার্যক্রমে সমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে অবৈধ দোকানপাট অপসারণ করা যেতে পারে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা ধ্বংস করে নয়। দ্বৈত নীতির অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান বৈষম্যমূলক বলে মনে হচ্ছে। একদিকে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো অপসারণের তাগিদ, অন্যদিকে খালের জায়গা দখল করে থাকা বাজারের স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া—এ দুই অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে বলে তারা মনে করেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, যদি খাল পুনরুদ্ধারই মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে খালের উভয় পাড়ে সমানভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা উচিত। শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক অপসারণের উদ্যোগ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। পুনর্বিবেচনার দাবি স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের কাছে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা চান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় ওয়াশব্লকটি আপাতত বহাল রাখা হোক অথবা বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। একই সঙ্গে খালের উত্তর পাড়ে অবস্থিত অবৈধ বাজার স্থাপনাগুলোর বিষয়েও সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর মতে, জনস্বার্থ, শিক্ষা ও স্যানিটেশন সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় এনে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।