Brand logo light

অন্যান্য...

এআইয়ের যুগে ডিজিটাল নিরাপত্তা সুরক্ষায় করণীয়
এআইয়ের যুগে ডিজিটাল নিরাপত্তা সুরক্ষায় করণীয়

  এআইয়ের যুগে ডিজিটাল নিরাপত্তা সুরক্ষায় করণীয়   বর্তমান যুগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI)। আমরা যখন আমাদের জীবনকে সহজ করতে এআইয়ের ওপর নির্ভর করছি, ঠিক তখন সাইবার অপরাধীরাও একে বানাচ্ছে তাদের শক্তিশালী অস্ত্র। আগে সাইবার হামলা মানেই ছিল বানান ভুলে ভরা ইমেইল বা অদ্ভুত লিংকে ক্লিক করার প্রলোভন। কিন্তু এখন এআইয়ের যুগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আর কেবল পাসওয়ার্ড বদলে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন একটি মনস্তাত্ত্বিক ও প্রযুক্তিগত যুদ্ধক্ষেত্র।   এআই যখন বিপদের নাম     এআই এখন এমন সব ফিশিং ইমেইল তৈরি করতে পারে যা দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি কোনো প্রতারকের কাজ। একে বলা হচ্ছে হাইপার-পার্সোনালাইজড স্ক্যাম। শুধু তাই নয়, ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনার পরিচিত কারও কণ্ঠস্বর বা ভিডিও হুবহু নকল করে আপনার কাছে টাকা চাওয়া হতে পারে। আপনার দীর্ঘদিনের চেনা মানুষের কণ্ঠস্বরই হতে পারে আপনার জন্য সবচেয়ে বড় ফাঁদ। এর পাশাপাশি, এআই ব্যবহার করে হ্যাকাররা এখন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে লাখ লাখ পাসওয়ার্ড ভাঙার চেষ্টা (Brute Force Attack) করতে পারছে।   আধুনিক সুরক্ষা   আমরা এতদিন মনে করতাম একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা অ্যান্টি-ভাইরাসই যথেষ্ট। কিন্তু এআইয়ের যুগে এই ধারণাটি একটি বিপজ্জনক ভুল। এখন প্রয়োজন জিরো ট্রাস্ট আর্কিটেকচার। অর্থাৎ কাউকেই অন্ধভাবে বিশ্বাস না করা। এমনকি আপনার অফিসের বস বা পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে আসা ডিজিটাল অনুরোধও যাচাই করা প্রয়োজন।   করণীয়   মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (MFA) : শুধু পাসওয়ার্ডে ভরসা না করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা অ্যাপ-ভিত্তিক টু-ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করুন। মানসিক সচেতনতা বা হিউম্যান ফায়ারওয়াল প্রযুক্তির চেয়েও বড় সুরক্ষা হলো আপনার সাধারণ জ্ঞান। কোনো জরুরি অনুরোধে বিচলিত না হয়ে আগে অফলাইনে বা ভিন্ন মাধ্যমে তার সত্যতা যাচাই করুন।   এআই-চালিত নিরাপত্তা সরঞ্জাম : কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতো, এআইয়ের হামলা ঠেকাতে এআই-ভিত্তিক সিকিউরিটি সফটওয়্যার ব্যবহার করুন; যা অস্বাভাবিক প্যাটার্ন শনাক্ত করতে পারে।   ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট কমানো : ইন্টারনেটে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য যত কম থাকবে, এআই আপনাকে টার্গেট করা তত কঠিন হবে।   প্রযুক্তি যত উন্নত হবে, আক্রমণ তত সূক্ষ্ম হবে। আমরা যদি মনে করি আধুনিক সব টুলস আমাদের বাঁচিয়ে দেবে, তবে আমরা ভুল করছি। এআইয়ের এই যুগে মানুষের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো তার সন্দেহ করার ক্ষমতা এবং যাচাই করার প্রবণতা। মনে রাখবেন, ডিজিটাল নিরাপত্তার যুদ্ধে প্রযুক্তির চেয়েও আপনার সচেতনতা বেশি কার্যকর।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির বাসা
হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির বাসা

নিপুণ বাসা তৈরির দক্ষ করিগর বাবুই পাখি ও এর বাসা এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। পরিবেশ বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, নতুন বণায়নে বাসযোগ্য পরিবেশ ও খাদ্যের অভাব, নির্বিচারে তালগাছ কর্তন, অসাধু শিকারীর ফাঁদসহ বহুবিধ কারণে কালের আবর্তে প্রকৃতির স্থপতি, বয়ন শিল্পী এবং সামাজিক বন্ধনের প্রতিচ্ছবি বাবুই পাখি ও এর দৃষ্টিনন্দন বাসা ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে।   আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগেও গ্রামগঞ্জে ব্যাপকভাবে বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়ত। কিচিরমিচির শব্দ আর এদের শৈল্পিক বাসা মানুষকে পুলকিত করত। অপূর্ব শিল্প শৈলীতে প্রকৃতির অপার বিস্ময় এদের সেই ঝুলন্ত বাসা বাড়ির তালগাছসহ নদীর পাড়ে, পুকুর পাড়ে, বিলের ধারে এখন আর সচরাচর চোখে পড়ে না। আগের মতো বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয় না গ্রাম বাংলার জনপদ। নিরীহ, শান্ত প্রকৃতির এই বাবুই পাখি উচু এবং নিরিবিলি পরিবেশে বাসা তৈরি করে। গ্রামগঞ্জের তাল, সুপারি, নাড়িকেল, খেজুর গাছে বাসা তৈরি করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে এরা। এসব গাছের সংকটে মাঝে মাঝে হিজল গাছেও বাসা বাধতে দেখা যায় তাদের।   এই পাখি বাসা তৈরির কাজে ব্যবহার করে খড়ের ফালি, ধানের পাতা, তালের কচি পাতা, ঝাউ ও কাঁশবনের লতা। চমৎকার আকৃতির এই বাসা বিশেষ করে তাল গাছের ডালে এমনভাবে সাটানো থাকে যাতে কোনো ঝড়-তুফানে সহসাই ছিড়ে না পড়ে। এদের বাসা শুধু শৈল্পিক নিদর্শনই নয়, মানুষের মনে চিন্তার খোরাক জোগায় এবং স্বাবলম্বী হতে উৎসাহিত করে। এটি দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমই মজবুত ও টেকসই । ঠোট দিয়ে বাবুই পাখি আস্তর ছড়ায়। পেট দিয়ে ঘঁষে তা আবার মসৃণ করে। বাসা বানাতে শুরুতেই দুটি নিম্নমুখী গর্ত করে থাকে। পরে তা একদিকে বন্ধ করে ডিম পাড়ার জায়গা করে। অন্যদিকে লম্বা করে প্রবেশ ও প্রস্থান পথ তৈরি করে। ব্যালেন্স করার জন্য বাসার ভিতরে কাদার প্রলেপ দেয়। এমন বাসাও তৈরি করে যেখানে বসে দোলনার মতো দোল খায়। আধুনিক যুগে যা বড়ই যুক্তি সংগত। বাসার ভিতরে ঠিক মাঝখানে একটি আড়া তৈরি করে বাবুই পাখি। যে আড়াতে পাশাপাশি বসে এরা প্রেম আলাপসহ নানা রকম গল্প করে। এ আড়াতেই এরা নিদ্রা যায়। কি অপূর্ব বিজ্ঞান সম্মত চেতনাবোধ। ছোট হলেও বুদ্ধিতে সব পাখিকে হার মানায়।   এক গাছ থেকে আরেক গাছ, এক বাসা থেকে আরেক বাসায় এরা সঙ্গী খুঁজতো। পছন্দ হলে সঙ্গী বানানোর জন্য কত কিছুই না করে। পুরুষ বাবুই নিজের প্রতি আকর্ষণ করার জন্য ডোবার গোসল সেরে ফুর্তিতে নেচে নেচে উড়ে বেড়ায় এক ডাল থেকে অন্য ডালে। এরপর উচুঁ গাছের ডালে বাসা তৈরির কাজ শুরু করে। অর্ধেক কাজ হলে কাঙ্খিত স্ত্রী বাবুইকে ডেকে সেই বাসা দেখায়। বাসা পছন্দ হলেই কেবল পুরো কাজ শেষ করে। তা না হলে অর্ধেক কাজ করেই নতুন করে আরেকটি বাসা তৈরির কাজ শুরু করে। অর্ধেক বাসা বাঁধতে সময় লাগে ৪-৫ দিন। কাঙ্খিত স্ত্রী বাবুই পাখির পছন্দ হলে বাকিটা শেষ করতে সময় লাগে আরো ৪ দিন। পুরুষ বাবুই এক মৌসুমে ৬ টি পর্যন্ত বাসা বুনতে পারে। তাছাড়া এরা ঘর করতে পারে ৬ টির সঙ্গে। স্ত্রী বাবুইদের এতে কোনো বাঁধা নেই। প্রজনন প্রক্রিয়ায় স্ত্রী বাবুই ডিমে তা দেয়ার দুসপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা ফোটে। আর বাচ্চা বাসা ছেড়ে প্রথম উড়ে যায় জন্মের তিন সপ্তাহের মধ্যে।   কৃষকের ধান ঘরে ওঠার মৌসুম হলো বাবুই পাখির প্রজনন মৌসুম। দুধ ধান সংগ্রহ করে এনে স্ত্রী বাবুই বাচ্চাদের খাওয়ায়। তবে এখন সঙ্গত কারণেই বাবুই পাখি তালগাছ ছেড়ে ভিন্ন গাছে নীড় বেঁধেছে। এই দক্ষ স্থপতি বাবুই পাখির নীড় ভেঙে দিচ্ছে এক শ্রেণীর অসাধু মানুষ। এক সময় গাজীপুরের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামে গ্রামে দেখা যেতো অগণিত বাবুই পাখির বাসা। এই এলাকার গাঁও গ্রাম ঘুরেও এখন আর দৃষ্টি নন্দন বাবুই পাখির ঝুলন্ত বাসা আগের মতো দেখা যায় না। উপজেলার আধবই গ্রামের পাখি প্রেমিক নওশীন বাবু ঐশী বলেন, সারাবিশ্বে বাবুই পাখির প্রজাতির সংখ্যা ১১৭টি। তবে বাংলাদেশে তিন প্রজাতির বাবুই পাখির বাস। তিনি আরও বলেন, বাবুই পাখির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো রাতের বেলায় ঘর আলোকিত করার জন্য এরা জোনাকি পোকা ধরে নিয়ে বাসায় রাখে এবং সকাল হলে আবার তাদের ছেড়ে দেয়। ধান, চাল, গম ও পোকা-মাকড় প্রভৃতি তাদের প্রধান খাবার। উপজেলা কৃষক ইব্রাহিম বলেন, নিপুণ কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা টিকিয়ে রাখতে হলে বৃক্ষ নিধনকারীদের হাত থেকে উক্ত গাছ রক্ষা করতে হবে। প্রকৃতিক সোন্দর্য বৃদ্ধিতে বাবুই পাখির বাসা তৈরির পরিবেশ সহজ করে দিতে হবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
ফুলের বাগান
মরুর বুকে ফুলের বাগান

লাতিন আমেরিকার দেশ চিলির আতাকামা মরুভূমিতে এক বিরল দৃশ্য দেখা দিয়েছে। বছরের বেশির ভাগ সময় যেখানে ধুলা উড়তে থাকে, সেই নির্জন মরুপ্রান্তরে এখন ছড়িয়ে আছে রঙিন ফুলের গালিচা। এ যেন মরুর বুকে ক্ষণিকের এক রূপকথা। চিলির লানোস দে চায়ে জাতীয় উদ্যান এলাকায় এ বছর অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পর বুনো ফুল গাছে ভরে গেছে আতাকামা মরুভূমি। বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক এই মরুভূমিতে বছরে গড়ে মাত্র দুই মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। তবে এ বছরের শীতে পাহাড়ি অঞ্চল এবং পাদদেশে নজিরবিহীনভাবে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। সেই বৃষ্টির পানিতেই মাটির নিচে ঘুমিয়ে থাকা দুই শতাধিক প্রজাতির বীজ জেগে ওঠে ফুলে ফুলে ভরে গেছে। গোলাপি, বেগুনি, হলুদ আর নীল—নানা রঙের এই উৎসবে মরুভূমি যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে। চিলির জাতীয় প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের উদ্ভিদবিদ ভিক্টর আরদিলেস বলেন, ‘বছরের পর বছর এই বীজগুলো মাটির নিচে ঘুমিয়ে থাকে। যথেষ্ট আর্দ্রতা পেলে তারা জেগে ওঠে, অঙ্কুরিত হয়, আর ফুটে ওঠে ফুল।’ তবে সব বীজ যে জেগে ওঠে, তা নয়। পর্যাপ্ত পানি, তাপমাত্রা, আলো আর আর্দ্রতা—এই চারটি উপাদান একসঙ্গে না মিললে ফুল ফোটে না। এই সৌন্দর্যের আয়ুও খুব বেশি নয়। নভেম্বর নাগাদ বেশির ভাগ ফুল ঝরে যাবে। কেবল শক্ত প্রাণের কিছু বুনো ফুল জানুয়ারি পর্যন্ত টিকে থাকবে। এই ক্ষণস্থায়ী ফুলেল মরু দেখার জন্য ছুটে আসছেন হাজারো মানুষ। রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে ৮০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অনেকেই আসছেন এই রঙিন গালিচা দেখতে। পর্যটক মারিৎসা বারেরা বললেন, ‘ভাবনার চেয়েও বেশি মোহময় এই দৃশ্য।’ এই বিরল প্রকৃতি রক্ষায় চিলি সরকার ২০২৩ সালে ৫৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে। নাম দেওয়া হয়েছে ডেজার্ট ব্লুম ন্যাশনাল পার্ক। গবেষকেরা বলছেন, পৃথিবীর আর কোথাও মরুভূমি এভাবে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে না। তাই আতাকামার এই ক্ষণিকের রূপ, যত দিন আছে, উপভোগ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।      

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
সাইবার ঝুঁকিতে তারবিহীন অডিও ডিভাইস
সাইবার ঝুঁকিতে তারবিহীন অডিও ডিভাইস

তারবিহীন প্রযুক্তির ব্যবহার আজ আর বিলাসিতা নয় বরং দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। অফিসে কাজের সময়, যাত্রাপথে গান শোনা বা বাসায় স্মার্ট স্পিকারের সহায়তাÑ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা ব্লটুথ হেডফোন, ওয়্যারলেস ইয়ারবাড বা ওয়াই-ফাই ভিত্তিক অডিও সিস্টেম ব্যবহার করছি। তবে আরামের পাশাপাশি নীরবে বাড়ছে সাইবার ঝুঁকিও। কারণ এই ডিভাইসগুলো এখন শুধু অডিও শোনার মাধ্যম নয়; এগুলো ব্যবহারকারীর কণ্ঠ, অভ্যাস, অবস্থানসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ডেটাও ধারণ করছেÑ যা অসতর্ক হলে সহজেই হ্যাকারদের টার্গেটে পরিণত হতে পারে। ব্লটুথে আড়িপাতার সুযোগসবচেয়ে প্রচলিত তারবিহীন প্রযুক্তি ব্লুটুথ। কিন্তু অনেক ডিভাইসই এখনও দুর্বল বা পুরনো এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এর ফলে সাইবার অপরাধীরা খুব সহজেই আপনার ব্লুটুথ সিগন্যাল ক্যাপচার করতে পারে। এনক্রিপশন ভেঙে কথোপকথন শুনতে পারে। অথবা অডিও ট্রান্সমিশন জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবর্তন করতে পারে। আরও বড় ঝুঁকি তৈরি হয় পেয়ারিংয়ের সময়। যখন আপনি নতুন হেডফোন বা স্পিকার কানেক্ট করেন, তখন ডিভাইস ‘ডিস্কভারেবল মোডে থাকে। এই সুযোগে হ্যাকার ভুয়া ডিভাইস হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে পারে। আপনার পেয়ারিং সিগন্যাল ইন্টারসেপ্ট করতে পারে। এমনকি নকল কানেকশনের মাধ্যমে আপনার অডিও ট্র্যাফিক শুনে ফেলতে পারে। পাবলিক জায়গায় ব্লটুথ স্ক্যানিং ক্যাফে, রেলস্টেশন বা বিমানবন্দরে ব্লুটুথ অন অবস্থায় রাখলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। কারণ হ্যাকাররা বিশেষ স্ক্যানিং টুল দিয়ে আশপাশের সব ব্লুটুথ সিগন্যাল খুঁজে দুর্বল ডিভাইস শনাক্ত করে। এরপর অডিও স্ট্রিমে গোপনে প্রবেশের চেষ্টা করে। স্মার্ট অডিও ডিভাইস : অদৃশ্য ডেটা সংগ্রহকারী নতুন প্রজন্মের ওয়্যারলেস ইয়ারবাড বা স্মার্ট স্পিকার এখন সেন্সর, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ও অ্যাপ কানেকশনসহ নানা সুবিধা দেয়। কিন্তু একই সঙ্গে তারা ব্যবহারকারীর ভয়েস কমান্ড, লোকেশন ডেটা, শোনার অভ্যাস এমনকি বায়োমেট্রিক তথ্যও সংগ্রহ করে। এগুলো যদি কোম্পানি সঠিকভাবে সুরক্ষিত না রাখে, কিংবা ডেটা ফাঁস হয়Ñ তাহলে বড় মাত্রার গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সম্ভাবনা থাকে। ওয়াই-ফাই স্পিকারের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক হ্যাকিং বড় মাপের স্মার্ট স্পিকার বা হোম অডিও সিস্টেম মূলত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে কাজ করে। রাউটারের দুর্বল পাসওয়ার্ড, পুরনো ফার্মওয়্যার বা অনিরাপদ নেটওয়ার্কের কারণে হ্যাকাররা ঘরের নেটওয়ার্কে প্রবেশ, অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ, এমনকি র‌্যানসমওয়্যার ছড়িয়ে পুরো সিস্টেম লক করে দিতে পারে। এভাবে একটি সাধারণ অডিও ডিভাইস পুরো স্মার্ট হোমকে বিপদে ফেলতে পারে। ভয়েস ক্লোনিং হুমকি AI দিয়ে ভয়েস কপি এখন সহজ। হ্যাকার ইয়ারবাড বা স্মার্ট স্পিকার থেকে কণ্ঠস্বর সংগ্রহ করে ব্যাংক কল যাচাই, পরিচিতির ছদ্মবেশÑ এসবও করতে পারে। ঝুঁকি কমানোর উপায় ফার্মওয়্যার সব সময় আপডেট রাখুন। ব্লটুথ ডিসকভারেবল মোড বন্ধ রাখুন। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ পারমিশন বন্ধ করুন। পাবলিক জায়গায় নতুন ডিভাইস পেয়ারিং এড়ান। সন্দেহজনক কানেকশন দেখলে রিসেট করুন। তারবিহীন অডিও ডিভাইস আমাদের জীবনকে সহজ ও কার্যকর করেছে। তবে নিরাপত্তার দিকে সামান্য অসাবধানতা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবহারকারীর সচেতনতাও সমান জরুরি।  

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
Popular post
ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

ডলারের দাম বাড়ছে: কী প্রভাব পড়ছে আমদানি-রপ্তানিতে?

ডলারের দাম বাড়ার ফলে বাংলাদেশে আমদানি ও রপ্তানি খাতে দেখা দিচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে আমদানিকারকরা পড়ছেন চাপের মুখে, অন্যদিকে রপ্তানিকারীরা কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন। আমদানি খাতে ডলারের দর বাড়ায় বিদেশ থেকে পণ্য আনতে খরচ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জ্বালানি, ভোজ্যতেল, কাঁচামাল, ওষুধের উপাদান এবং প্রযুক্তিপণ্য—এসব আমদানিতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ব্যাংকগুলো ডলার সংকটে ভুগছে, ফলে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে এবং অনেক সময় ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাজারে — পণ্যের দাম বাড়ছে, মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, রপ্তানির ক্ষেত্রে ডলার মূল্য বৃদ্ধির ফলে রপ্তানিকারকরা প্রতি ডলারে বেশি টাকা পাচ্ছেন। এতে তাদের আয় কিছুটা বাড়ছে, যা রপ্তানি খাতকে কিছুটা চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে ডলারের দরবৃদ্ধি একটি প্রণোদনার মতো কাজ করছে। তবে এর একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে — আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অনেক সময় অর্ডারের মূল্য সমন্বয় করে দেয়, ফলে অতিরিক্ত লাভ সবসময় নিশ্চিত হয় না। রেমিট্যান্স প্রেরকদের জন্যও ডলারের দাম বাড়া স্বস্তির খবর। প্রবাসীরা এখন প্রতি ডলারে বেশি টাকা পাচ্ছেন, ফলে ব্যাংক চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে, যদিও আমদানি ব্যয় এখনও বেশি থাকায় চাপে রয়েছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে রপ্তানি ও রেমিট্যান্সকে উৎসাহ দিচ্ছে, অন্যদিকে আমদানির চাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে নানা নীতিগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিয়ন্ত্রিত বিনিময় হার ব্যবস্থা বা managed floating system এর মাধ্যমে ডলারের বাজারে ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে। ডলারের দাম বৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। আমদানিকারকদের উচিত দীর্ঘমেয়াদি মূল্য চুক্তি ও বিকল্প উৎস নির্ধারণ করা। রপ্তানিকারকদের বাজার বৈচিত্র্য ও উৎপাদন দক্ষতায় নজর দেওয়া দরকার। একইসাথে সরকারের উচিত ডলার সংকট মোকাবিলায় কাঠামোগত সংস্কার ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আমদানিনির্ভর শিল্প ও সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ আরও বাড়বে। তাই এখনই প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা, সুচিন্তিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং রপ্তানি ও রেমিট্যান্সকে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে টেকসই করা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিপদের আশঙ্কা: বিশেষজ্ঞরা সতর্ক

বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence বা AI) প্রযুক্তির ব্যবহার বিস্ময়কর হারে বাড়ছে। তবে এর বিপুল সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা বিভ্রান্তি, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ। এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে এবং নীতিমালার আওতায় আনতে বিশেষজ্ঞরা এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত "এআই অ্যান্ড সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট" শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা বলেন, অতি দ্রুত এই প্রযুক্তির প্রসার ঘটলেও এর যথাযথ ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা এখনও প্রয়োজনীয় মাত্রায় পৌঁছায়নি।   ভুয়া তথ্য ছড়ানোর আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই দিয়ে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও (ডিপফেইক), অটোমেটেড ভুয়া সংবাদ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্ট ইতিমধ্যেই সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক বলেন, "অনেকেই এখন বিশ্বাস করছে না কোন ছবি বা ভিডিও আসল। এর ফলে সত্য-মিথ্যার সীমা মুছে যাচ্ছে। রাজনীতি, আইন ও সামাজিক সম্প্রীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।"   চাকরির বাজারে শঙ্কা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে অনেক শ্রমনির্ভর ও মধ্যম স্তরের পেশা অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হতে পারে। বিশেষ করে কল সেন্টার, কনটেন্ট লেখক, গ্রাফিক ডিজাইনার এবং হিসাবরক্ষণ পেশায় ঝুঁকি বাড়ছে।   নীতিমালার ঘাটতি বাংলাদেশে এখনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন বা জাতীয় নীতিমালা নেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থাকলেও তা এআই-নির্ভর প্রযুক্তির গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তারা বলছেন, এখনই উচিত শিক্ষা, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক মহলে এআই ব্যবহারের রূপরেখা তৈরি করা। নৈতিক ও নিরাপদ এআই উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপদেরও একসঙ্গে কাজ করা জরুরি।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে চরম ঝুঁকিতে খাদ্য নিরাপত্তা

ঢাকা, ২৫ জুন ২০২৫ – জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে দিন দিন বেড়ে চলেছে খাদ্য নিরাপত্তা সংকট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বিস্তার, অনিয়মিত বৃষ্টি ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষিজ উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এক সমীক্ষায় জানিয়েছে, ২০২৪ সালে উপকূলীয় ১২টি জেলার মধ্যে অন্তত ৭টিতে ধানের উৎপাদন কমেছে ২০ শতাংশের বেশি। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, ভোলা ও খুলনার কিছু অঞ্চলে একাধিক মৌসুমে চাষ সম্ভব হচ্ছে না। জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. ফারজানা রহমান বলেন, “উপকূলীয় মাটিতে লবণাক্ততার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ গুণ বেড়ে গেছে। এতে ধান, পাট, সবজি এমনকি মাছের চাষেও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ফলস্বরূপ এলাকার মানুষ বিকল্প জীবিকার সন্ধানে স্থানান্তর হচ্ছে।” স্থানীয় চাষিরা বলছেন, আগে যেখানে বছরে তিনবার ফসল হতো, এখন একবারও সঠিকভাবে ফসল ঘরে তোলা যাচ্ছে না। অনেকেই জমি ফেলে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা উপকূলীয় মানুষের জীবনে নতুন করে আঘাত হানে। ২০২৫ সালের মে মাসেই ঘূর্ণিঝড় ‘নির্মল’-এর আঘাতে বরগুনা ও পটুয়াখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে বহু কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে পড়ে এবং মিষ্টি পানির পুকুরে লবণাক্ত পানি ঢুকে যায়। পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার ২০২৫–৩০ সময়কালের জন্য একটি ‘জলবায়ু সহনশীল কৃষি কর্মপরিকল্পনা’ তৈরি করেছে, যার আওতায় উপকূলীয় কৃষকদের লবণসহিষ্ণু ফসল চাষে উৎসাহিত করা হবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড উপকূলবর্তী এলাকায় নতুন করে বাঁধ নির্মাণ ও পুরাতন বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করেছে, যাতে জোয়ারের পানি কৃষিজমিতে প্রবেশ না করতে পারে। তবে গবেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগগুলো কার্যকর করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরণের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, যদি জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় কৃষিজ উৎপাদন আরও ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের শঙ্কা নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তব ও প্রতিদিনকার চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

Top week

শিক্ষা

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

জানিফ হাসান জুন ২৬, ২০২৫ 0