Brand logo light

বরিশাল

কলাপাড়ায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, বিক্ষোভে গ্রাহকরা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার এক ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ বর্তমানে পলাতক বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে ব্যাংকের আউটলেট শাখার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা। তারা দ্রুত অর্থ ফেরত, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। কীভাবে সামনে এলো অভিযোগ ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করলেও সংশ্লিষ্ট ক্যাশিয়ার অনেক ক্ষেত্রে সেই টাকা ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমে জমা হিসেবে দেখাতেন না। গ্রাহকরা জানান, টাকা জমা দেওয়ার পর মোবাইলে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস না এলে তারা বিষয়টি জানতে চাইতেন। তখন অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার "সার্ভারের সমস্যা"র কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করতেন। পরে হিসাব মিলিয়ে দেখা যায়, একাধিক জমা ব্যাংকের রেকর্ডেই নেই। এভাবে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। শুধু গ্রাহক নয়, এজেন্টের অ্যাকাউন্ট থেকেও অর্থ উধাও অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু গ্রাহকদের আমানতই নয়, ব্যাংকের এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলীর মাদার অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর্থিক অনিয়মের পরিধি আরও বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। "আমি সর্বস্বান্ত" ভুক্তভোগী লামিয়া বলেন, "আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম। আমার সব টাকা নিয়ে পালিয়েছে।" তার মতো আরও অনেক গ্রাহক দাবি করেছেন, তাদের জীবনভর সঞ্চিত অর্থ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কী বলছে ব্যাংকের এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলী বলেন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তার ভাষায়, "ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।" তবে কতজন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, মোট অর্থের পরিমাণ কত এবং অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তদন্তের অপেক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভিযোগের প্রকৃত আর্থিক পরিমাণ কত? কতজন গ্রাহকের অর্থ জমা হয়নি? অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থার ফাঁক কোথায় ছিল? দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইন সিস্টেমে জমা না দেখানো হলেও তা কেন শনাক্ত হয়নি? অভিযুক্ত একাই এই অনিয়ম করেছেন, নাকি এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে। বর্তমানে ভুক্তভোগীরা দ্রুত অর্থ ফেরত এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৩০, ২০২৬ 0
পিরোজপুরের নাজিরপুরে শিব মন্দিরের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় আনসার কমান্ডারকে কুপিয়ে জখম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার একটি শিব মন্দিরের জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুরুতর হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি দখলে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) এক ইউপি কমান্ডারসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। সোমবার (২৯ জুন) উপজেলার ষোলসত বাবুরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—ষোলসত গ্রামের সোনারাম চক্রবর্তীর ছেলে ও স্থানীয় আনসার ভিডিপির ইউপি কমান্ডার তপন চক্রবর্তী, তার মা বকুল রানী চক্রবর্তী এবং প্রতিবেশী মিলন কুমার শিল। অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সহসভাপতি মো. আজিজুল শেখ, তার স্ত্রী মুঞ্জিলা বেগম এবং পুত্রবধূ আরজু বেগমের নাম উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের বিরোধ, নতুন করে উত্তেজনা স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবুরহাট এলাকার ‘নিলখোলা শিব মন্দির’-এর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই জমি দখলের চেষ্টা বহুদিন ধরেই চলছিল। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, আজিজুল শেখ স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি ছিলেন এবং জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সোমবার সকালে অভিযুক্তরা মন্দিরের জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে তপন চক্রবর্তী বাধা দেন। এরপরই তার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার মা ও প্রতিবেশীকেও মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরিবারের অভিযোগ আহত তপন চক্রবর্তীর বাবা সোনারাম চক্রবর্তী বলেন, মন্দিরের জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা ঠেকাতে গেলে তার ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়। তার ভাষ্য, হামলায় তার স্ত্রীও আহত হয়েছেন এবং তার ছেলে বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকের বক্তব্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আকাশ কুণ্ড জানান, তপন চক্রবর্তীর মাথায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত রয়েছে। সেখানে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্য দুই আহত ব্যক্তি নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশের অবস্থান নাজিরপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ সম্পর্কে পুলিশ আগে থেকেই অবগত ছিল এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। তার দাবি, অভিযুক্ত আজিজুল শেখের বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকায় বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রধান অভিযুক্তসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে এসেছে ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— শিব মন্দিরের জমির প্রকৃত মালিকানা ও রেকর্ড কী বলছে? জমি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ থাকলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কেন হয়নি? হামলার আগে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পূর্বের অভিযোগগুলোর অগ্রগতি কী ছিল। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল। এসব প্রশ্নের উত্তর মিললে ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৩০, ২০২৬ 0
বরিশালে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন : ২২০ কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিতরণ

বরিশাল অফিস :    শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বরিশালে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬।  রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় নগরীর পলাশপুর এলাকার আলহাজ্ব দলিল উদ্দিন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম এবং বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মঞ্জুর-এ-এলাহী। সভাপতিত্ব করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী। ২২০ কেন্দ্র, লক্ষ্য সব শিশুর কাছে পৌঁছানো বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নগরবাসীর সুবিধার্থে এবার মোট ২২০টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এসব কেন্দ্রে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। শুধু ক্যাম্পেইন ও নজরদারি  সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে ক্যাম্পেইন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের সন্তানদের নিকটস্থ কেন্দ্রে এনে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানানো হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশেষ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে কোনো শিশুই এই কর্মসূচির বাইরে না থাকে। বিশেষ করে নগরীর বস্তি এলাকা, ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের আওতায় আনতে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাম্পেইন শেষে বাস্তবভিত্তিক তথ্য-পর্যালোচনা এবং বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করাই হবে কর্মসূচির কার্যকারিতা মূল্যায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0
রিফাত হত্যা মামলার সাত বছর: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নির কারাজীবন

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার সাত বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে সংঘটিত হামলায় গুরুতর আহত হন রিফাত শরীফ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তও জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পায়। মামলার বিচারিক রায় ঘোষিত হলেও ঘটনাটি ঘিরে বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। বিশেষ করে রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির ভূমিকা, তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং মামলার আলামত নিয়ে এখনও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও ভিন্নমত রয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নির বর্তমান অবস্থা ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের মামলায় আদালত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন। কারা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে মিন্নি কারাগারের নিয়ম মেনে শান্ত ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ সময় তিনি একাকী থাকেন এবং ধর্মীয় অনুশীলনে সময় কাটান। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে এলে কেবল তখনই তাদের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলেন। কারা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হলেও পরবর্তীতে বিচারিক কার্যক্রম এবং স্বজনদের সাক্ষাতের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। যেভাবে এগিয়েছিল তদন্ত মামলার নথি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পরদিন রিফাতের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথম এজাহারে ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ দাবি করে, হত্যার পরিকল্পনায় মিন্নির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে মোট ২৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচার পৃথকভাবে সম্পন্ন হয়। একই বছরের ২৭ অক্টোবর শিশু আদালত অপ্রাপ্তবয়স্ক কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষণা করেন। পরিবারের পাল্টা দাবি মামলার শুরু থেকেই মিন্নির পরিবার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তার মেয়ে স্বামীকে রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। তার অভিযোগ, তদন্তে প্রকৃত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন ঘটেনি এবং প্রভাবশালী একটি মহলের স্বার্থ রক্ষার জন্য মিন্নিকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। পরিবারের আরও দাবি, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত এবং সিসিটিভি ফুটেজ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। তাদের মতে, তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি ছিল, যা বিচার প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বা আদালতের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সাত বছর পরও কেন আলোচনায়? রিফাত শরীফ হত্যা মামলা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত অপরাধ মামলাগুলোর একটি। প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ভিডিও, পরবর্তী তদন্ত, আসামিদের গ্রেপ্তার, বিচার এবং রায়—সব মিলিয়ে মামলাটি দীর্ঘ সময় জনমনে আলোচনায় ছিল। যদিও আদালতের রায় ঘোষিত হয়েছে, তবুও তদন্তের নিরপেক্ষতা, আলামত সংরক্ষণ এবং মিন্নির সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্নমত এখনও পুরোপুরি থামেনি। ফলে সাত বছর পরও বরগুনার এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি বিচারিক মামলা নয়; বরং বাংলাদেশের আলোচিত অপরাধ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে জনপরিসরের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনাগুলোর একটি হিসেবেই রয়ে গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0
নির্মাণ শেষের ৬ মাস পরও হস্তান্তর হয়নি ভবন, কক্ষ সংকটে দুর্ভোগে রাজাপুরের ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ৯১ নম্বর ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ছয় মাস আগে। কিন্তু নির্মাণে একাধিক ত্রুটির অভিযোগে এখনো ভবনটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে নতুন ভবন তালাবদ্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে পাঠ নিচ্ছে পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনের মাত্র তিনটি কক্ষে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৬০ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। অথচ পাঁচটি শ্রেণির পাঠদান চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্র তিনটি কক্ষ। এর মধ্যে একটি কক্ষ অফিস হিসেবে নির্ধারিত থাকলেও কক্ষ সংকটের কারণে সেখানে নিয়মিত ক্লাস নিতে হচ্ছে। বাকি দুই কক্ষে একসঙ্গে দুটি করে শ্রেণির পাঠদান চলছে। শিক্ষকদের ভাষ্য, একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদান শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে। একজন শিক্ষক ক্লাস নেওয়ার সময় অন্য শিক্ষককে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগও বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের আওতায় ৭১ লাখ ৬৫ হাজার ৮০ টাকা ব্যয়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স টোয়াইস কনস্ট্রাকশন। পরে কাজটি হাতবদল হয়ে মেসার্স নির্ণয় এন্টারপ্রাইজ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্মাণ শেষ হলেও ভবনটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি বলে দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলরুবা আক্তারী বলেন, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের কাঠ ব্যবহারের কারণে কয়েকটি দরজা বেঁকে গেছে এবং দরজা খোলা-বন্ধেও সমস্যা হচ্ছে। এসব ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ভবন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি ছিল। তাদের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই ভবনে অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ফলে নতুন ভবন নির্মিত হলেও শিক্ষার্থীরা এখনো গাদাগাদি করে পুরোনো ভবনে পাঠ নিতে বাধ্য হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বাপ্পি কুণ্ডু। তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবন বুঝে না নেওয়ায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন জানান, নির্মাণকাজে ত্রুটি থাকার কারণেই প্রধান শিক্ষক ভবন গ্রহণ করছেন না বলে তিনি জেনেছেন। রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, ভবন হস্তান্তরের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্ন রয়ে গেছে একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ভবন শেষ হওয়ার ছয় মাস পরও কেন ব্যবহার করা যাচ্ছে না? নির্মাণে যদি ত্রুটি থেকেই থাকে, তবে কাজ চলাকালীন তদারকি কতটা কার্যকর ছিল? আর যদি কাজ চুক্তি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে হস্তান্তর প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে থাকার দায় কার? এদিকে প্রশাসনিক জটিলতার ভার বইতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের, যাদের জন্য নির্মিত নতুন ভবন এখনো কেবল তালাবদ্ধ একটি অবকাঠামো।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৬, ২০২৬ 0
বরিশালে কলেজছাত্রীর ওপর কিশোরী গ্যাংয়ের হামলা, টাকা ও মোবাইল লুটের অভিযোগ : কিশোরী গ্যাং নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ‘কিশোর গ্যাং’ নিয়ে আলোচনা চললেও এবার বরিশালে সামনে এসেছে ভিন্ন এক অভিযোগ। এক কলেজছাত্রী দাবি করেছেন, পূর্ববিরোধের জেরে একদল কিশোরী গ্যাং  তার ওপর হামলা চালিয়েছে, পরে তার বাসায় গিয়ে তাকে ও তার মাকে মারধর করেছে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাবেয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ জুন দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল সিটি কলেজ মাঠে প্রথম দফায় রাবেয়ার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। কলেজের অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়। রাবেয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, একই দিন পরে ফকিরবাড়ি রোডে তার ভাড়া বাসায় গিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে ও তার মাকে মারধর করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা একটি মোবাইল ফোন ও নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়ে যায়।     কি ঘটেছিল সেই দিন : থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের একজন একই কলেজের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আগে থেকেই ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। রাবেয়ার অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন। তিনি জানিয়েছেন, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রযোজ্য আইনের আওতায় পৃথক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লিখিত অভিযোগে জানা গেছে,ঝালকাঠির বহুল আলোচিত জেসলি জান্নাত,অন্তি ও কলির নেতৃত্বে একদল কিশোরী গ্যাং ২২ জুন দুপুর দেড় টায় প্রথম দফায় বরিশাল সিটি কলেজ মাঠে সিটি কলেজের ছাত্রী রাবেয়ার ওপর পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে।কলেজের শিক্ষার্থীদের বাঁধায় পালিয়ে যায় এই কিশোরী গ্যাংয় গ্রুপটি। পরে দ্বিতীয় দফায় কলেজ ছাত্রী রাবেয়ার ফকিরবাড়ি রোডস্থ ভাড়া বাসায় হামলা করে। এ সময় রাবেয়া ও তার মাকে মারধর করে।লুটপাট করে মালামাল। কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অন্তির সাথে রাবেয়া একই কলেজের শিক্ষার্থী।টুকটাক ঝামেলা চলে আসছিলো দু জনের মাঝে।সেই ঝামেলার সুত্রধরে বাসায় রাবেয়া ও তার মাকে মারধর করে মোবাইল ফোন ও নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়ে যায়।এ ছাড়া রাবেয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে তারা। আরও গুরুতর অভিযোগ লিখিত অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল এবং তথাকথিত "হানিট্র্যাপ" কৌশলের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত।এ ছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অতীতে ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত একটি ঘটনায় এক যুবক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।   কিশোরী গ্যাং তারা তাদের গ্যাংয়ে মেয়েদের হায়ার করার জন্য হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্লাকমেইলিং করে গ্রুপ বড় করছে। এই গ্রুপ সরকারি চাকুরীজীবি, বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে হানিট্রাপের টোপ ফেলে ব্লাকমেইলিং করে অর্থ হাতিয়ে নেয়।এছাড়া আবাসিক হোটেল ডেটের জন্য দেশ ও বিদেশের পর্যটন এলাকার বিলাসবহুল হোটেল আমোদফুর্তির অভিযোগ রয়েছে।সম্প্রতি এক যুবককে ব্লাকমেইলিংয়ের কারনে সেই যুবক থানায় সাধারন ডায়েরী করার পরে মুচলেকা দিয়ে রেহাই পেয়ে যায় হানিট্রাপ গ্রুপের সেই বহুল আলোচিত কিশোরী গ্যাং প্রধান। ভুক্তভোগীর বক্তব্য এ ব্যাপারে হামলার শিকার শিক্ষার্থী রাবেয়া জানান,আমাকে ও আমার মায়ের ওপর হামলা করেছে। পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে তারা তাদের মোবাইলে ভিডিও করে তারা তাদের ফেসবুক আইডিতে এবং তাদের লোকজনদের মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। রাবেয়া আরো জানান,আমাদের ওপর হামলা, মারধর, মোবাইল ও টাকা নেয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দিবো। তিনি বিতর্কিত কিশোরী গ্যাং গ্রুপের হাত থেকে বাচাঁর জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।   পুলিশের অবস্থান বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৬, ২০২৬ 0
বাবু রাঢ়ী
দোকানঘর নির্মাণের বিরোধ থেকে মৃত্যু: মেহেন্দীগঞ্জে যুবক হত্যার অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিহত বাবু রাঢ়ী (২৫) নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে ঘটনাটির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল নাকি এটি সম্পূর্ণ জমি-সংক্রান্ত বিরোধের ফল—তা নিয়ে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে। পরিবারের দাবি, পশ্চিম সাদেকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিজেদের জমিতে দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলছিল বাবু রাঢ়ীর। সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত প্রায় ৮টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নিলে বাবু রাঢ়ীর ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, বজলু বয়াতী, জাহাঙ্গীর মাল, শহীদ পোদ্দার, নয়ন পোদ্দারসহ ৮ থেকে ৯ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর চড়াও হয়। নিহতের পরিবারের ভাষ্য, হামলায় বাবুর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার হাত-পা ভেঙে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বুধবার ভোরে তিনি মারা যান। বাবুর বাবা দুলাল রাঢ়ী অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের আরেক সদস্য খোরশেদ রাঢ়ীর দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। প্রায় এক মাস আগেও একই বিরোধের জেরে বাবুকে মারধরের ঘটনা ঘটেছিল। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক হামলা ছিল পূর্বের বিরোধের ধারাবাহিকতা। ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসার পর। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, বাবু রাঢ়ী নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। যদিও সংগঠনের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে তিনি ছিলেন না। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নীরব ব্যাপারী দাবি করেছেন, বাবু সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্য পক্ষ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন দীপেন বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়; বরং জমি ও স্থাপনা নির্মাণসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই সংঘটিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় কি কেবল একটি পারিপার্শ্বিক তথ্য, নাকি তা সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে কোনো ভূমিকা রেখেছে? এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য থেকে এর স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, পূর্বের হামলার অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনা—সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা ও বিচারিক অনুসন্ধানের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতিই নির্ধারণ করবে, এটি কেবল জমি-সংক্রান্ত বিরোধের মর্মান্তিক পরিণতি ছিল, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো প্রভাবক কাজ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
খাল পুনঃখননে স্কুলের ওয়াশব্লক ভাঙার নির্দেশ, অক্ষত বাজারের ৭০ অবৈধ স্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

 বরিশাল অফিস :  বরিশালের বাটাজোর ইউনিয়নের বাটাজোর থেকে চন্দ্রহার পর্যন্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, খালের দখলমুক্তকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও খালের অপর পাড়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৭০টি অবৈধ বাজার স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খাল পুনঃখননের শেষ পর্যায়ে এসে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, খালের দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও উত্তর পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে থাকা বাজারের অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা অক্ষত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্যানিটেশন সংকটের আশঙ্কা চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। বিদ্যালয়টির একমাত্র কার্যকর স্যানিটেশন সুবিধা হিসেবে ব্যবহৃত ওয়াশব্লকটি অপসারণ করা হলে শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, বিকল্প স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো অপসারণ কতটা যৌক্তিক? বিশেষ করে যখন একই খালের অপর পাড়ে বহু অবৈধ স্থাপনা বহাল রয়েছে। একাধিক অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে তারা বাধা দিতে চান না। তবে উচ্ছেদ কার্যক্রমে সমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে অবৈধ দোকানপাট অপসারণ করা যেতে পারে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা ধ্বংস করে নয়। দ্বৈত নীতির অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান বৈষম্যমূলক বলে মনে হচ্ছে। একদিকে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো অপসারণের তাগিদ, অন্যদিকে খালের জায়গা দখল করে থাকা বাজারের স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া—এ দুই অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে বলে তারা মনে করেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, যদি খাল পুনরুদ্ধারই মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে খালের উভয় পাড়ে সমানভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা উচিত। শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক অপসারণের উদ্যোগ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। পুনর্বিবেচনার দাবি স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের কাছে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা চান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় ওয়াশব্লকটি আপাতত বহাল রাখা হোক অথবা বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। একই সঙ্গে খালের উত্তর পাড়ে অবস্থিত অবৈধ বাজার স্থাপনাগুলোর বিষয়েও সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর মতে, জনস্বার্থ, শিক্ষা ও স্যানিটেশন সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় এনে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৩, ২০২৬ 0
সেতু নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কা, দ্রুত সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন
ভোলার লালমোহনে ডাকবাংলো সেতুতে বাড়ছে ঝুঁকি, দ্রুত সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার লালমোহন উপজেলায় ডাকবাংলো সেতুর অতিরিক্ত উচ্চতা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটির বর্তমান নকশা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ পথচারী, শিক্ষার্থী এবং যানবাহন চালকদের জন্য স্থায়ী ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেতুটি দ্রুত সংস্কার এবং নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে রোববার (২১ জুন) সকালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ‘আমরা ওয়েস্টার্নপাড়া এলাকাবাসী’-এর ব্যানারে ডাকবাংলো সেতুর ওপর আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটি অত্যন্ত উঁচু ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ইতোমধ্যে একাধিক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন লালমোহন ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোশাররফ হোসাইন, লালমোহন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল হক, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মো. আমজাদ হোসেন আলম, ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল বাশার সেলিম এবং ভোলা নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যাপক মো. কামাল হোসেন শাহিন। বক্তারা বলেন, সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা স্থানীয় জনজীবনে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির কারণ হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন হওয়ায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই পথ ব্যবহার করে চলাচল করে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তারা আরও বলেন, সেতুর আশপাশে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক চিহ্ন, নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং আধুনিক অবকাঠামোগত সুবিধার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দ্রুত প্রকৌশলগত মূল্যায়ন করে সেতুটি সংস্কার না করা হলে ভবিষ্যতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. কবির মিয়া, পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা নিয়াজ মাহমুদ কাজী সাইফুল্লাহ, মাদ্রাসার অধ্যাপক মাওলানা মো. ফিরোজ মাহমুদ, সাংবাদিক শাহীন কুতুবসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, সেতুর নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসনে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক এবং জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু করা হোক।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0
নিহত ইব্রাহিম হোসেন কালু
বরগুনায় ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে আহতের অভিযোগ, গণপিটুনিতে নিহত কালু: মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনার সদর উপজেলার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলার জেরে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এনেছে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক বাণিজ্য এবং কথিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের প্রভাব। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল চারটার দিকে ইউনিয়নের ডেমা গ্রামে সংঘটিত এ ঘটনায় নিহত হন ইব্রাহিম হোসেন কালু (৩০)। গুরুতর আহত হয়েছেন তার সহযোগী তৌহিদ ইসলাম শুভ (২২)। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল কালু ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘কালু বাহিনী’কে ঘিরে একাধিক অভিযোগ থাকলেও তাদের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ঘটনার দিন বিকেলে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, স্থানীয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে ক্ষুব্ধ জনতা কালু ও তার সহযোগীদের ধরে গণপিটুনি দেয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের বরগুনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহিম হোসেন কালুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তৌহিদ ইসলাম শুভকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, আহত ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, ইব্রাহিম হোসেন কালুর বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তার কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। প্রায় চার মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। পুলিশের দাবি, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর কালু পুনরায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এসব কার্যক্রমে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই সর্বশেষ সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে ঘটনাটি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। একজন বহুমামলার আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে কীভাবে আবার এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হলেন? স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন অভিযোগ থাকলেও কেন কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি? এবং শেষ পর্যন্ত কেন আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনির মতো পরিস্থিতি তৈরি হলো? এ বিষয়ে পুলিশ বলছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৩, ২০২৬ 0
কেএমসি হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলা: রোগীর চিকিৎসায় অবহেলা পায়নি ড্যাব, গ্রেপ্তার দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে হামলা এবং এক নবীন চিকিৎসককে গুরুতর আহত করার ঘটনার পর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল জেলা শাখার একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে সংগঠনটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ডা. কবিরুজ্জামান বলেছেন, সংশ্লিষ্ট রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে তারা কোনো ধরনের অবহেলার প্রমাণ পাননি। তার দাবি, হাসপাতালের সক্ষমতার মধ্যে রোগীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ড্যাব সূত্রে জানা যায়, হামলার শিকার চিকিৎসকের সহকর্মীরা ঘটনার পরদিন হাসপাতালে গিয়ে রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন। তাদের মূল্যায়নে, অচেতন রোগী হাসপাতালে আনার পর যেসব জরুরি চিকিৎসা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তার সবগুলোই অনুসরণ করা হয়েছে। ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, অচেতন রোগীর ক্ষেত্রে নাকের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস বা খাদ্য সরবরাহের নল, প্রস্রাবের পথের ক্যাথেটার এবং স্যালাইন সংযুক্ত করা প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ। সংশ্লিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রেও এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। এছাড়া রোগীর স্বজনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়েও কোনো ঘাটতি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে ড্যাব সভাপতি বলেন, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা শুধু একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নয়, পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আঘাত। দ্রুত বিচার চায় চিকিৎসকরা ঘটনার পর রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ করে ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, এখন তদন্ত ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর। তার ভাষ্য, “এ ধরনের ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার এবং চার্জশিট দাখিলে এক সপ্তাহের বেশি সময় নেওয়া কাম্য নয়। আমরা দেখতে চাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো শৈথিল্য দেখায় কি না।” চিকিৎসাসেবা বন্ধের সতর্কবার্তা ড্যাব নেতারা বলেছেন, তাদের আইন প্রয়োগের ক্ষমতা না থাকলেও চিকিৎসাসেবা দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। ডা. কবিরুজ্জামান প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হামলার বিচার নিশ্চিত না হলে চিকিৎসক সমাজ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য চিকিৎসাসেবা সীমিত বা বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা তারা চান না; তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা? স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বারবার উদ্বেগ দেখা গেছে। রোগীর মৃত্যু বা চিকিৎসা জটিলতাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা চিকিৎসক সংগঠনগুলোকে নিরাপত্তা ইস্যুতে সোচ্চার করেছে। কেএমসি হাসপাতালের ঘটনাও সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে রোগীর স্বজনদের ক্ষোভ, অন্যদিকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা—এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেটিই এখন স্বাস্থ্যখাত ও প্রশাসনের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১২, ২০২৬ 0
বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলা: পরিদর্শনে ড্যাব, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি

 বরিশাল অফিস :   বরিশালের বেসরকারি কেএমসি হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনাকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ হিসেবে দেখছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। সংগঠনটির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে ড্যাবের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) শাখা ও বরিশাল জেলা শাখার নেতারা কেএমসি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা হামলায় আহত দায়িত্বরত  চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান। কী ঘটেছিল? ড্যাব নেতাদের দাবি, হাসপাতালের এক মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে কতিপয় দুর্বৃত্ত হাসপাতালের ভেতরে হামলা চালায় এবং কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের ওপর প্রাণনাশের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ড্যাবের দাবি ? পরিদর্শন শেষে ড্যাব নেতারা বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রোগী ও স্বজনদের সেবাদানে নিয়োজিত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ড্যাব বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান, শেবাচিম শাখার সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ডা. ইমতিয়াজউদ্দিন সাজিদ, দপ্তর সম্পাদক ডা. ইস্তিয়াক আহমেদ রিফাত, ডা. আবদুল মালেক, ডা. সাইদুল ইসলাম আবীর, ডা. মাজহারুল রেজওয়ান রেজাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি ড্যাব নেতারা মনে করেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে হাসপাতালভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণ প্রয়োজন। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ড্যাবের বিবৃতিতে গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা এদিকে  এক বিবৃতিতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম), ড্যাব ও বরিশাল জেলা, ড্যাব গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানা। ড্যাব নেতৃবৃন্দ কেএমসি হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শুভেন্দু হালদার (শিবু)-এর ওপর রোগীর স্বজন কর্তৃক সংঘটিত ন্যাক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেন। চিকিৎসকের নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর এ ধরনের বর্বর আক্রমণ সমগ্র চিকিৎসক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হামলাকারীদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি হাসপাতালসমূহে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় চিকিৎসক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে, যার দায়ভার সম্পূর্ণরূপে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে। চিকিৎসকদের ওপর হামলার সংস্কৃতি বন্ধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১২, ২০২৬ 0
অলিম্পিক সিমেন্ট বন্ধের নেপথ্যে : ঋণ সংকট, বিদেশে সম্পদ,অর্থপাচার ও ভ্যাট জালিয়াতি!

বরিশাল অফিস :  বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্পের পরিচিত প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধের ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা, ব্যাংক ঋণ, শ্রমিক পাওনা এবং বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর, ভ্যাট ফাঁকি, ব্যাংক ঋণের অপব্যবহার এবং বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি এবং অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই তদন্তাধীন। অলিম্পিক সিমেন্ট বন্ধের পেছনে কী? অলিম্পিক সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কাঁচামাল সংকট, ঋণের চাপ, এলসি জটিলতা এবং ধারাবাহিক ব্যবসায়িক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে  বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সংকটের পেছনে শুধু ব্যবসায়িক লোকসান নয়, বরং দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়ম ব্যাংক ঋণ, শ্রমিক পাওনা এবং বিদেশে অর্থপাচারের কারনে। তাদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হতে থাকে। একই সময়ে বাজার থেকে অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ, অতিরিক্ত কমিশনের প্রতিশ্রুতি এবং স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল সংগ্রহের মাধ্যমে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হয়।   অর্থপাচারের অভিযোগ : একাধিক সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান এবং পরিচালক রিফাত রহমানের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর ও সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন ব্যবসা, আবাসিক সম্পত্তি এবং বিনিয়োগে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।   এলসি লেনদেন ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ: কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র অভিযোগ করেছে, বিদেশে প্রতিষ্ঠিত একই নামের কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি ও এলসি লেনদেনে অতিমূল্যায়নের (Over-Invoicing) মাধ্যমে অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে । তদন্ত সংস্থাগুলো এসব অভিযোগ যাচাই করছে বলে জানা গেছে।    ভ্যাট ফাঁকি ও শুল্ক জালিয়াতির অভিযোগ:   জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা গ্রহণ এবং বিপুল অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির সঙ্গে জড়িত । এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য কোম্পানিকে তলব করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ: সম্প্রতি এক প্রবাসী  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তনের পর বিদেশে সম্পদ অর্জন, নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং অর্থ স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কার্যক্রমে কোম্পানির অর্থ এবং ব্যাংক ঋণের অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে ।   কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: কোম্পানির কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধেও অর্থ স্থানান্তরে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।  আনিকা রহমান ও তার স্বামী রিফাতের বিরুদ্ধে দুবাই, শারজাহ এবং নিউইয়র্কে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,সিওও শাহেদ উদ্দিন,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ আরো অনেকে। সহায়তা করার জন্য এসব কর্মকর্তারা হয়েছেন ক্রোড়পতি।গড়েছেন নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সহায় সম্পদ।   আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্ট ও অলিম্পিক ফাইবার প্রতিষ্ঠান স্থায়ী ভাবে বন্ধ ঘোষনা অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বিক্রির গুঞ্জন এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ    ব্যাংক ঋণ ও আর্থিক চাপ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংকের বিপুল ঋণ বকেয়া থাকার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঋণের চাপ, নতুন এলসি খুলতে অক্ষমতা এবং কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতার কারণে উৎপাদন বন্ধ ছিল।    শ্রমিকদের উদ্বেগ শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলছেন, উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্তের ফলে শত শত শ্রমিক চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। তাদের দাবি, মালিকানা পরিবর্তন হলে নতুন মালিককে শ্রমিকদের চাকরি বহাল রাখতে হবে এবং বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের নিশ্চয়তা দিতে হবে। শ্রমিক নেতাদের মতে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েকশ শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন, যাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।   তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে যেসব প্রশ্ন অলিম্পিক সিমেন্টের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি শুধু একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; এটি দেশের ব্যাংকিং খাত, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং কর্পোরেট সুশাসন নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। তদন্ত সংস্থাগুলোর সামনে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে— • উৎপাদন বন্ধের কারণ কি শুধুই ব্যবসায়িক লোকসান? • ব্যাংক ঋণের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে? • এলসি লেনদেনে কোনো অনিয়ম বা অতিমূল্যায়ন হয়েছিল কি? • ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তি কতটা শক্তিশালী? • শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা কীভাবে পরিশোধ করা হবে? • অর্থপাচারের অভিযোগের পক্ষে তদন্তকারীরা কী ধরনের তথ্য পেয়েছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে দুদক, আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং অন্যান্য তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ওপর। দেশের শিল্পখাতের অন্যতম আলোচিত এই ঘটনাটি ইতোমধ্যেই কর্পোরেট জবাবদিহিতা, ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক তদারকি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।   আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংস অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১২, ২০২৬ 0
লঞ্চঘাট প্রকল্প উদ্বোধনের ৪ মাসের মাথায় সড়ক ও জেটিতে ধস
উদ্বোধনের চার মাসেই ধস: হিজলার মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটে অনিয়মের অভিযোগ, ঝুঁকিতে যাত্রী চলাচল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : উদ্বোধনের মাত্র চার মাসের মাথায় বরিশালের হিজলা উপজেলার মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটের সড়কে বড় ধরনের ধস এবং জেটির একটি অংশ দেবে যাওয়ার ঘটনায় নির্মাণকাজের মান, তদারকি এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ পাইলিং ছাড়াই তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই নতুন করে সংস্কার করা ঘাটটি অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দাবি করছে, নদীর তলদেশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এই ধসের ঘটনা ঘটেছে। দ্বিতীয় দফার সংস্কারেও একই পরিণতি বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে একবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মৌলভীরহাট লঞ্চঘাট ও সংযোগ সড়ক সংস্কারের জন্য দ্বিতীয় দফায় ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির ঠিকাদারি কাজ করেন নজরুল ইসলাম রাজু ঢালী। সংস্কার শেষে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাটটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের তিন মাসের মধ্যেই গত এপ্রিল মাসে জেটির একটি অংশ দেবে যেতে শুরু করে। এরপর কয়েকদিন আগে সংযোগ সড়কের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো ঘাটই নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী চলাচল সরেজমিনে দেখা গেছে, লঞ্চঘাটের সংযোগ সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। পন্টুনে ওঠার জেটির একপাশও দেবে গেছে। তবুও প্রতিদিন শত শত যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই জেটি ব্যবহার করে লঞ্চে উঠছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে ছোট নৌকার সাহায্য নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই ঘাটটি এলাকার মানুষের নদীপথে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাধ্য হয়েই যাত্রীদের এটি ব্যবহার করতে হচ্ছে। ‘প্রথমবারের ভুলের পুনরাবৃত্তি’ মৌলভীরহাট এলাকার ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ পান তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রয়াত বেলায়েত হোসেন ঢালীর ছেলে রাজু ঢালী। তার ভাষায়, প্রথম দফার কাজেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নানা অনিয়ম হয়েছিল। কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ঘাটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকারের প্রায় কোটি টাকার বিনিয়োগ কার্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রথমবার ধসের পর জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ হওয়ায় আগের সমস্যাগুলো থেকেই গেছে। ফলে উদ্বোধনের মাত্র চার মাসের মধ্যেই আবারও সড়ক ও জেটি ভেঙে পড়েছে। দায় কার—নির্মাণ ত্রুটি নাকি নদীর চরিত্র? ঘটনার বিষয়ে ঠিকাদার নজরুল ইসলাম রাজু ঢালী সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় সরকারি শিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে।” অন্যদিকে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন ধসের কারণ হিসেবে নদীর তলদেশের মাটি সরে যাওয়াকে দায়ী করেছেন। তার দাবি, “নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটের জেটি ও সড়ক ধসে পড়েছে। শিগগিরই ঘাটটি পরিদর্শন করে নতুনভাবে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই ঠিকাদার কেন? স্থানীয়দের একটি বড় প্রশ্ন—প্রথম দফার কাজ নিয়ে অভিযোগ থাকার পরও দ্বিতীয়বার একই ঠিকাদার কীভাবে কাজ পেলেন? এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী অনলাইন দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়। সেখানে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, “এক টাকার কাজের ক্ষেত্রেও অনলাইনে দরপত্র আহ্বান করা হয়। যেকেউ যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পেতে পারেন। ঠিকাদার নজরুল ইসলাম রাজু ঢালীর সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই।” তদন্তে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটের ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— প্রকল্পে অনুমোদিত নকশা ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি? নদীতীরবর্তী অবকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় পাইলিং ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল কি? নির্মাণকাজের সময় তদারকি কতটা কার্যকর ছিল? প্রথমবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও একই ঠিকাদারকে পুনরায় কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া কী ছিল? ধসের পেছনে প্রকৃত কারণ নির্মাণ ত্রুটি, নাকি নদীর ভূপ্রকৃতিগত পরিবর্তন? সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক অবকাঠামো উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন স্থানীয়রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১২, ২০২৬ 0
এ্যাংকর সিমেন্ট ও অলিম্পিক ফাইবার
এ্যাংকর সিমেন্ট ও অলিম্পিক ফাইবার প্রতিষ্ঠান স্থায়ী ভাবে বন্ধ ঘোষনা,পরিশোধ করা হয়নি শ্রমিকদের দেনা পাওনা

বরিশাল অফিস :  ক্রমাগত ব্যবসায়িক লোকসান, কাঁচামাল ও এলসি সংকটের কারণে বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমানের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, উৎপাদন বন্ধের কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সব শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব শ্রমিক তাদের প্রাপ্য পাওনা যথাযথ সময় পেয়ে যাবেন। আরো উল্লেখ করা হয়,১১ জুন থেকে বন্ধ ঘোষনা করা হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা এবং ২৮ এর বিধান অনুসরনপুর্বক অলিম্পিক সিমেন্ট ও অলিম্পিক ফাইবার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল স্তরের শ্রমিক এবং কর্মকর্তা -কর্মচারীদের চাকরি থেকে ছাটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আইন মোতাবেক সকল শ্রমিক,কর্মকর্তা -কর্মচারীদের বিধি মোতাবেক প্রাপ্য পাওনাদি ও ক্ষতিপুরন সম্পুর্ন পরিশোধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।     আরও পড়ুন:   অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বিক্রির গুঞ্জন এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ        কি আছে শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা এবং ২৮ এর বিধানে :  বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৮ ও ২৮(ক)-তে শ্রমিকদের অবসর গ্রহণ এবং প্রাকৃতিক বা নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয়ের কারণে চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের আইনি বিধান রয়েছে。 শ্রম আইন কী বলছে? কোম্পানি কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৮-এর উল্লেখ করলেও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারা ২৮ মূলত শ্রমিকের অবসর গ্রহণের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকদের পাওনা, ক্ষতিপূরণ এবং মালিকের দায়বদ্ধতা শ্রম আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ফলে ছাঁটাই কার্যক্রম আইনসঙ্গত হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে শ্রমিকদের পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে কি না এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না তার ওপর। পাওনাদি পরিশোধ: প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব চাকরির বিধি বা শ্রম আইনের অন্যান্য ধারা অনুযায়ী অবসর গ্রহণকারী শ্রমিকের সব পাওনাদি (যেমন: প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ইত্যাদি) পরিশোধ করতে হবে। ধারা ২৮(ক): নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয়ের কারণে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক ২০১৩ সালের সংশোধনীতে যুক্ত হওয়া এই ধারার বিধানাবলি হলো: জরুরি পরিস্থিতি: আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়, মহামারি বা মানুষের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোনো জরুরি কারণে যদি কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করতে হয় বা উৎপাদন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তবে মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে তা সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারণ করবে। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে শ্রমিকের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং মালিকের দায়িত্ব শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। শ্রম আইনের পূর্ণাঙ্গ গেজেট ও ধারাগুলো দেখতে বাংলাদেশ লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ-এর ওয়েবসাইটটি দেখতে পারেন। যে কারনে বন্ধ হল এ্যাংকর সিমেন্ট ও এ্যাংকর সিমেন্ট এর ব্যাগ ফ্যাক্টরী: অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত যোগসাজসে দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে টাকা পাচারের কারনে লোকসানের মুখে পড়ে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। কোম্পানীর মালিক কর্তৃপক্ষ বিদেশে টাকা পাচারের তথ্য  পিএস নিলুফা,পিএস জুয়েল,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট অফিসার মোস্তফা, সিওও শাহিদ উদ্তিন জেনে যাওয়ায় তারা কোম্পানী থেকে একেকজন শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। ফলে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে এ্যাংকর সিমেন্ট। ২০২৩ সাল থেকে ঋনের কিস্তি দিতে না পেরে এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ মার্কেট থেকে ডিলার,রিটেইলার ও ক্রেতাদের অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার লোভ দেখিয়ে অর্থ নিয়ে লোকাল মার্কেট থেকে ক্লিংকার,স্লাগ,জিপসাম,লাইমস্টোন ও ফ্লাই এ্যাশ সংগ্রহ করে সিমেন্ট উৎপাদন করে বাজারে সরবরাহ করতো।ফলে লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট কোম্পানী। ফলে একদিকে ব্যাংকের ঋন শোধ না করায় খেলাপীর লাইনে দাড়ায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। তেমনি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধে ব্যর্থ হয়।কোন ব্যাংক এলপি না খোলায় বিপাকে পরে তারা।কারন কোন ব্যাংকের ঋনের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেনি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড।ইসলামী ব্যাংক পিএলসিসহ অন্যান্য ব্যাংকে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের হাজার কোটি টাকা ঋন রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের ঋন পরিশোধ না করে মনোযোগী হয় বিদেশে কোম্পানী খোলা ও অর্থ পাচারে। অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড দুবাইতে স্বর্নের দোকান,ভিটা বাড়ি ক্রয়,ফুড় ডেলিভারির কোম্পানীসহ একাধিক কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে। এসব প্রতিষ্ঠান দুবাইতে  অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ লাভের মুখ দেখেনি।তবে তাদের জমি ও মার্কেট রয়েছে।   যেভাবে টাকা পাচার করে দুবাইতে : অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত দুবাইতে  একই নামে কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশে অবস্থিত অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে পিআই দিত দুবাই থেকে।এদিকে বাংলাদেশে অবস্থিত অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এলসি ওপেন করতো।অতিরিক্ত টাকা এলসির মাধ্যমে পাচার করতো।এছাড়া হুন্ডির মাধ্যমেও তারা শত শত কোটি টাকা পাচার করেছে।অন্য সিমেন্ট কোম্পানীর মালামাল ও অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর মালামাল এ্যাসেসমেন্ট করলেই বেড়িয়ে আসবে প্রতিটি এলসিতে কত ডলার পাচার করেছে।এসব বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে একটি বিশস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে।   ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ,তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা:   ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় কাগজপত্রসহ অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে কাস্টমস,ও ভ্যাট বিভাগ। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নিয়ে এ্যাংকর সিমেন্টের  শুল্ক ফাঁকি, ভ্যাট জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে নজরধারী ও তদন্ত শুরু করেছে।  বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন, বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলাসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে।সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে।   বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা:   অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর অর্থ বিদেশে পাচার এবং বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা,দুদকের অনুসন্ধান,ভ্যাট ফাঁকি ও সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ার ফলে ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নেয়ায়,ব্যাংক ঋন বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বকেয়া, ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়ার চাপ বাড়তে থাকায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ,ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একটি বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে তাদের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে।তারা এই তিন দেশের কোন এক দেশে যাবেন বলে সুত্র জানায়।   পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ :   সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক প্রবাসী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরহুম মজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাত। এরপর থেকেই কোম্পানির অর্থ বিদেশে পাচার এবং অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু  করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, জুলিয়া রহমান হুন্ডির মাধ্যমে ও আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ এসেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের তহবিল ও ব্যাংক ঋণ থেকে। একইসঙ্গে জুলিয়া রহমান অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তার বিদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—৫১ চার্চ স্ট্রিট, সেন্ট জন’স, অ্যান্টিগুয়া। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ: অন্যদিকে আনিকা রহমান ও তার স্বামী রিফাতের বিরুদ্ধে দুবাই, শারজাহ এবং নিউইয়র্কে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,সিওও শাহেদ উদ্দিন,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ আরো অনেকে। সহায়তা করার জন্য এসব কর্মকর্তারা হয়েছেন ক্রোড়পতি।গড়েছেন নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সহায় সম্পদ।   ব্যাংক ঋণ  সংকটে ও উৎপাদন বন্ধ:   জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঋণের অর্থ উৎপাদনে ব্যবহার না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে কোম্পানিটি মারাত্মক ঋণ সংকটে পড়েছে। বর্তমানে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। কাঁচামালের সংকট, এলসি খুলতে অক্ষমতা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে।   বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি:   সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান এবং পরিচালক রিফাত এর বিদেশ গমনের পথ বন্ধ করে  তাদের আটক করে এবং অভিযোগগুলো সঠিকভাবে দুদক ও ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর তদন্ত করলে বড় ধরনের অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা ।   শ্রমিকদের সাথে প্রতারনা :   বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের বরিশালের সমন্বয়ক ড. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘মূলত প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের কর্মচারীদের আন্দোলনের এই নেতা আরো বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। তাই আমাদের দাবি, মালিকানা পরিবর্তন হলে পরবর্তী মালিককে ওই সব শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের পাওনা কতদিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে সে বিষয়েও নিশ্চয়তাও দিতে হবে। এদিকে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্টে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানান,কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়ে শ্রমিকদের সাথে প্রতারনা করছে।শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন না করলে কর্তৃপক্ষ দেনা পাওনা পরিশোধ করবেনা। উল্লেখ্য,এ্যাংকর সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,করপোরেট,  ঢাকা অফিস ও মার্কেটিং বিভাগে প্রায় ৬০০ কর্মকর্তা,কর্মচারী ও শ্রমিক কর্মরত রয়েছে।করোনার সময়ে অসংখ্য শ্রমিক ছাটাই করে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ধাপে ধাপে আরো শত শত শ্রমিক ছাটাই করে দেনা পাওনা পরিশোধ না করেই।   সামনে যেসব প্রশ্ন: অলিম্পিক সিমেন্ট  বন্ধ শুধু একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বন্ধ নয়; এটি দেশের শিল্পখাত, ব্যাংকিং খাত এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। মূল প্রশ্নগুলো হলো— অলিম্পিক সিমেন্ট বন্ধের প্রকৃত কারণ কি শুধুই ব্যবসায়িক লোকসান? ব্যাংক ঋণের অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে? এলসি লেনদেনে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি? ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত অভিযোগ? শ্রমিকদের পাওনা ও ক্ষতিপূরণ আদৌ সময়মতো পরিশোধ করা হবে কি? অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সংস্থাগুলো কী তথ্য পেয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে।   তদন্তের দাবি:    অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত দাবি করেছেন।  অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিল্প ও ব্যাংক খাতকে রক্ষা করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের শিল্পখাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এ্যাংকর সিমেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট নয়; বরং এটি করপোরেট সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্নও সামনে আনছে। এক কথায় এই অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের গল্প শুধুমাত্র একটি ব্যবসার পতনের নয়, বরং নৈতিকতার, প্রজ্ঞার, এবং দেশপ্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা।   এ্যাংকর সিমেন্টে ভয়াবহ কেলেঙ্কারি! বিদেশে সম্পদের পাহাড়, তদন্তে দুদক বরিশালের সিমেন্ট সাম্রাজ্যে ধস: ব্যাংক ঋণ থেকে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি! ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি? এ্যাংকর সিমেন্ট নিয়ে তোলপাড় বেতন নেই, উৎপাদন বন্ধ, বিদেশে সম্পদ—সংকটে এ্যাংকর সিমেন্ট হুন্ডিতে অর্থপাচারের অভিযোগ, বিদেশে পালানোর শঙ্কা কোম্পানি কর্তাদের সিমেন্ট কোম্পানি নাকি অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দুবাই-লন্ডন-নিউইয়র্কে সম্পদ, দেশে বন্ধ কারখানা! প্রশ্নের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট ডিলারদের কোটি টাকা আটকে, তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা ও দুদক     আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংস অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১২, ২০২৬ 0
মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনার আড়ালে কারা ছিল হামলাকারী?
বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর: চিকিৎসক আহত, মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনার আড়ালে কারা ছিল হামলাকারী?

বরিশাল অফিস :   বরিশাল নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্ট্রোকে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর পর সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা দ্রুত রূপ নেয় সহিংসতায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে একদল বহিরাগত হামলাকারী চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং হাসপাতালের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর করে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১০ জুন) দুপুরে নগরীর বাজার রোড এলাকার কেএমসি হাসপাতালে। হামলায় একজন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।   যে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত মৃত ব্যক্তি মনির খান (৩৮)। তিনি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার উত্তর বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল হকের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের দ্বিতীয় স্ট্রোকের পর তাকে প্রথমে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কেএমসি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ৯ জুন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মনির খানের স্বজনরা বলছেন, রোগীর শারীরিক অবস্থা শুরু থেকেই সংকটাপন্ন ছিল। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ও বাকবিতণ্ডা তৈরি হলেও হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা তাদের পরিবারের সদস্য নন। রোগীর চাচাতো ভাই ফয়সাল রিয়াজ মিরন বলেন, “মনির খানের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু হাসপাতালের ওপর হামলা বা ভাঙচুরে পরিবারের কেউ অংশ নেয়নি।” হাসপাতালের অভিযোগ: ‘পরিকল্পিত হামলা’ কেএমসি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাওসার হোসেনের দাবি, রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী হাসপাতালে প্রবেশ করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের কেউ মুখে মাস্ক পরা ছিল, আবার কেউ প্রকাশ্যেই হাসপাতালে প্রবেশ করে। তারা চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায় এবং বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা আবাসিক চিকিৎসক ডা. শুভেন্দ্র হালদার শিপুর কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করে এবং কক্ষের আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম নষ্ট করে। কাওসার হোসেন বলেন, “সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। এতে একজন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”   হামলাকারী কারা? ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—হামলাকারীরা কারা? রোগীর পরিবারের সদস্যরা হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বলছে, হামলাকারীরা রোগীর স্বজন নয়। এই দুই পক্ষের বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠছে—হাসপাতালে প্রবেশ করে হামলা চালানো ব্যক্তিরা কারা ছিলেন এবং তারা কীভাবে এত দ্রুত সংগঠিত হলো? ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ এবং হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।   পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা কোতোয়ালি মডেল থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফর রহমান বলেন, “রোগীর মৃত্যু নিয়ে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দুই পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করে।” তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ফলে মামলা বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।     যা বললেন কর্তব্যরত ডাক্তার শুভেন্দু এ ব্যাপারে কেএমসি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা.শুভেন্দু হালদার বলেন,মনির খান একজন স্ট্রোকের রোগী ছিলেন,আমরা যত্ন সহকারে সর্বোচ্চটা দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়েছি।এখানে চিকিৎসায় কোন অবহেলা হয়নি।যারা বলছে তারা অপপ্রচার করছে।এছাড়া তিনি বলেন,হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন অবহেলা বা অসহযোগীতা করেনি।যারা হামলা করেছে তারা রোগীর স্বজন নয়।   রয়ে গেছে নিরাপত্তা প্রশ্ন পুলিশের উপস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনরা পরস্পরের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করলে তাৎক্ষণিক বিরোধের অবসান হয়। তবে এই ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সহিংসতা প্রতিরোধের প্রশ্ন। স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিরোধ বা অভিযোগ থাকলে তার নিষ্পত্তির জন্য আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের ভেতরে হামলা, চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণ এবং চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত করা স্বাস্থ্যসেবার জন্য গুরুতর হুমকি।   আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি কেএমসি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাওসার হোসেন জানিয়েছেন, হাসপাতালের সম্পদের ক্ষতি এবং চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, “হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” ঘটনার প্রকৃত দায়ী কারা, হামলার পেছনে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠী ছিল কি না এবং হাসপাতালের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজে কী তথ্য পাওয়া যায়—এসব প্রশ্নের  ওপরই নির্ভর করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বিক্রির গুঞ্জন: চাকরি হারানোর শঙ্কায় শ্রমিকদের আন্দোলন

বরিশাল অফিস :    অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার্স লিমিটেড কারখানা বিক্রির সম্ভাবনা ঘিরে শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। চাকরির নিরাপত্তা এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কারখানার প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শ্রমিকরা। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, গণমাধ্যমে কারখানা বিক্রির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তারা বিষয়টি নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মৌখিকভাবে বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে কারখানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বর্তমান শ্রমিকদের চাকরি বহাল থাকবে কি না কিংবা দুই মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইমসহ অন্যান্য পাওনা কীভাবে পরিশোধ করা হবে—সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন শত শত শ্রমিক ও কর্মচারী। শ্রমিকদের মূল দাবি কী? সমাবেশে বক্তারা বলেন, কারখানা বিক্রি হলে শ্রমিকদের চাকরি অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন মালিকের কাছে প্রতিষ্ঠান হস্তান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে বকেয়া বেতন, ওভারটাইম এবং অন্যান্য আর্থিক পাওনা দ্রুত পরিশোধের নিশ্চয়তা দিতে হবে।   আরও পড়ুন:   এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ      তাদের দাবি, মালিকপক্ষের নীরবতা শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শ্রমিকদের জীবিকা ও পরিবার নির্ভর করছে এই চাকরির ওপর। ফলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হলে তা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে। সমাবেশে কারা ছিলেন? অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার্স লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (রেজি নং বরিশাল-৫৪) সভাপতি সেলিম সর্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, বাসদ নেতা শহিদুল শেখ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের জেলা দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদারসহ বিভিন্ন শ্রমিক নেতা। এছাড়া ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পাভেল হাওলাদার, সহ-সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক লিটন, হান্নান হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান শাহীন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল হাওলাদার বক্তব্য রাখেন। সামনে আরও কর্মসূচির ঘোষণা শ্রমিক নেতারা জানান, দাবি আদায়ে প্রয়োজন হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৯ জুন বরিশালের অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সমাবেশ থেকে বরিশালের শ্রমিক, পেশাজীবী ও সাধারণ জনগণকে ওই কর্মসূচিতে সংহতি জানানোর আহ্বান জানানো হয়। প্রশ্নের মুখে শ্রমিক অধিকার শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় গেলে শ্রমিকদের চাকরি, বকেয়া মজুরি এবং আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শ্রমিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, যদি মালিকপক্ষ এ বিষয়ে স্বচ্ছ অবস্থান না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বিক্রির সম্ভাবনা ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ কী হবে, আর তাদের পাওনা ও চাকরির নিশ্চয়তা কে দেবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলো
বরগুনায় মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ৭ দিন পর হত্যা মামলা, তদন্তে নতুন মোড়

ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর দুটি পৃথক কক্ষ থেকে মা ও তার দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাত দিন পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বরগুনা সদর থানায় মামলাটি করেছেন। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার পাশাপাশি দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী (৩৪), তার বড় মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১২) এবং ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল, দুই মেয়েকে হত্যার পর ইতি রানী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়। তবে ঘটনার শুরু থেকেই নিহতদের স্বজনরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। ঘটনার পরদিন, ৪ জুন বিকেলে বরগুনা পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময়ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। তার দাবি, এর আগে থানায় মামলা করতে গেলে অন্য একজনকে বাদী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি আদালতের দ্বারস্থ হলেও মামলা গ্রহণে জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছিল। এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, “নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
সাজ্জাদ পারভেজ
সমাজসেবা অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হলেন সাজ্জাদ পারভেজ

বরিশালঅফিস :    সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বরিশালের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে সাজ্জাদ পারভেজকে। বুধবার (৯ জুন) সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল জেলা সমাজসেবা অফিসের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা সাজ্জাদ পারভেজ তার দক্ষতা, সততা ও মানবিকতার জন্য সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছে সুপরিচিত। সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে তার অবদান বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমাজসেবা কার্যালয়ে সহযোগিতার জন্য আসা মানুষের প্রতি তিনি সবসময় আন্তরিক ছিলেন। সরকারি সহায়তা প্রদানে কোনো জটিলতা দেখা দিলে অনেক ক্ষেত্রেই তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায় তিনি এখন সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বরিশালের অধ্যক্ষ হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। তার এ পদায়নের খবরে সমাজসেবা অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কর্মজীবনে দায়িত্বশীলতা, নেতৃত্বগুণ এবং মানবিক আচরণের মাধ্যমে ইতোমধ্যে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন সাজ্জাদ পারভেজ। নতুন দায়িত্বে তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষ নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে ভূমিকা রাখবে। তাদের আশা, তার নেতৃত্বে সমাজসেবা খাতের মানবসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রম নতুন গতি পাবে এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মানোন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এদিকে, তার এই পদায়নে বরিশাল জেলা সমাজসেবা পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং কর্মজীবনের ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
পটুয়াখালী পৌর ভূমি অফিসের তহশিলদার শাহজাহানের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
পটুয়াখালীতে তহশিলদার শাহজাহান শিকদারের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি

ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী পৌর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. শাহজাহান শিকদারের দৃশ্যমান সম্পদ, জমি ক্রয় এবং কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলে অংশীদারিত্বের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি চাকরির বেতন-ভাতার আয়ের তুলনায় তার সম্পদের পরিমাণ ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহজাহান শিকদার। অভিজাত বাড়ি নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, পটুয়াখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ ৬ষ্ঠ লেনে প্রায় সাত শতাংশ জমির ওপর ‘জাহান মঞ্জিল’ নামে তিনতলা একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন শাহজাহান শিকদার। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক নকশা, উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী এবং ব্যয়বহুল অবকাঠামো ব্যবহার করে নির্মিত বাড়িটির পেছনে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সরকারি আয়ে এমন ব্যয়বহুল আবাসন নির্মাণ কতটা সম্ভব। জমি ও বিনিয়োগ নিয়ে অভিযোগ স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, দৃশ্যমান বাড়ির বাইরে শাহজাহান শিকদার ও তার স্বজনদের নামে বিভিন্ন স্থানে জমি ক্রয় করা হয়েছে। এছাড়া পর্যটন নগরী কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলে তার আর্থিক অংশীদারিত্ব রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে প্রাপ্ত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একই এলাকায় দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার প্রশ্ন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহজাহান শিকদার নিজেও পটুয়াখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে নিজ এলাকার মধ্যেই দায়িত্ব পালন করায় স্বার্থের সংঘাত এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অবস্থানের কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় তৈরি করেছেন। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, প্রভাবশালী মহলের সমর্থন পাওয়ার কারণেই তিনি বছরের পর বছর একই এলাকায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যদিও এই দাবিগুলোর স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। সম্পদের উৎস যাচাইয়ের দাবি স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, শাহজাহান শিকদারের চাকরি জীবনের আয়, ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি এবং দৃশ্যমান সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, সম্পদ বিবরণী, কর নথি এবং ব্যাংক লেনদেন পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। যা বলছেন শাহজাহান শিকদার অভিযোগের বিষয়ে মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, “আমার সঙ্গে পটুয়াখালীর সব সাংবাদিকের ভালো সম্পর্ক আছে। আমার যোগ্যতা আছে বলেই আমাকে পৌরসভার মধ্যে রাখা হয়েছে। আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করিনি। আমার নামে কোনো বদনাম নেই।” প্রশাসনের বক্তব্য পটুয়াখালী সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তাফসীরুল হক মুন বলেন, “আমি এখানে এসেছি মাত্র নয় মাস হলো। তার সম্পর্কে আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
তনহাদ আহমেদ নীরব
বরিশালে ইয়াবা-গাঁজাসহ আটক পুলিশ কনস্টেবল: মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চাঞ্চল্য

বরিশাল অফিস :    বরিশাল নগরীর কেডিসি কলোনি এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক পুলিশ কনস্টেবলকে আটকের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরে মাদক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যে বাহিনী মাদক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করে, সেই বাহিনীরই একজন সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক রাখার অভিযোগ উঠায় ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তনহাদ আহমেদ নীরব (২৫) নামে ওই কনস্টেবলকে আটক করা হয়। তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) লাইন্সের রেশন স্টোরে কর্মরত ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানার অধীন স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের একটি দল কেডিসি কলোনি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে তনহাদ আহমেদ নীরবকে তল্লাশি করা হলে তার কাছ থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন গুরুত্বপূর্ণ? বাংলাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অন্যতম প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। ফলে বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে তা শুধু একটি ব্যক্তিগত অপরাধের অভিযোগে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পুরো ব্যবস্থার জবাবদিহিতা, অভ্যন্তরীণ নজরদারি এবং শৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনা বিচ্ছিন্ন হলেও তা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কেডিসি কলোনি ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্তের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, আটক কনস্টেবল তনহাদ আহমেদ নীরবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের পরিমাণ, তার উৎস এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না—সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক উদ্ধারের ঘটনাটি শুধু একটি আটক অভিযানে সীমাবদ্ধ না রেখে এর পেছনে সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক বা যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা হবে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস কোথায়? আটক কনস্টেবল ব্যক্তিগতভাবে মাদক বহন করছিলেন, নাকি কোনো বৃহত্তর চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন? দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড চলছিল কি না? বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না? এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা সদস্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে।   বরিশালে ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক পুলিশ কনস্টেবল আটকের ঘটনা শুধু একটি নিয়মিত মাদক উদ্ধারের ঘটনা নয়; বরং এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে ঘটনাটি ব্যক্তিগত অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো চিত্র রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৫, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0