মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ নদীপথ সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনায় অবৈধ দখল ও দূষণের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী “অপসোনিন”নদীর তীর ও মোহনার বিস্তীর্ণ অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, বর্জ্য ফেলা,জমি দখল,পরিবেশ ধ্বংস এবং জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে,যার ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।মোহনা এখন আর শুধু প্রাকৃতিক জলপথ নয়—এটি পরিণত হয়েছে দখল, দূষণ ও অপসোনিনের আধিপত্যের এক জটিল সংঘাতে। দখলের বিস্তার ও কৌশল: স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে নদীর তীর ঘেঁষে মাটি ভরাট, স্থায়ী বিশাল কংক্রিট দেয়াল নির্মাণ ভরাট করে স্থাপনের মাধ্যমে দখল প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। শুরুতে ছোট পরিসরে কাজ হলেও বর্তমানে তা বড় শিল্পকারখানার সম্প্রসারণে রূপ নিয়েছে।সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনায় বিশাল এই স্থাপনা যেন বাংলাদেশের লাগামহীন নদী দখলের এক ভয়াবহ নিদর্শন। একজন জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আগে এই জায়গায় আমরা জাল ফেলতাম। এখন সেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে, ফলে নদী এখন ভুমিতে পরিনত করেছে অপসোনিন।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে কারখানাটি ছোট্ট একটি জায়গায় গড়ে ওঠে। কিন্তু প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীতে বালু ফেলে ধীরে ধীরে তারা জায়গা বাড়াতে থাকে। রাতের আঁধারেও সেই কাজ চলত।ফলে নদীপথে নাব্যতা সংকট সৃষ্টি করছে, নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ব্যাহত করছে এবং পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। ১. নদীর বুক চিরে ‘শিল্প সাম্রাজ্য’ স্থানীয় সূত্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠির দপদপিয়া ও তিমিরকাঠী সংলগ্ন এলাকায় সুগন্ধা ও বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর ভেতরে ৫০ একরের বেশি এলাকা ভরাট করে শিল্প স্থাপনা সম্প্রসারণের অভিযোগ রয়েছে। নদীতে কংক্রিট ব্লক ফেলে ধীরে ধীরে চর সৃষ্টি করে সেই চর পরে কোম্পানির জমির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সংকুচিত হয়েছে। ২. ‘সিকিস্তি জমি’দখলের অভিযোগ নদীভাঙনে বিলীন হওয়া জমি পরে জেগে উঠলে তা পূর্ব মালিকদের পাওয়ার কথা থাকলেও— অভিযোগ আছে, সেই জমি দখল করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে. শতাধিক পরিবার তাদের জমি ফিরে পায়নি।দখল ঠেকাতে গেলে হামলা-হুমকির অভিযোগও রয়েছে এটি শুধু নদী দখল নয়—ভূমি অধিকার সংকটেও রূপ নিয়েছে। ৩. পরিকল্পিত ভরাট ও তীর দখল পরিবেশকর্মীদের মতে— নদীর ভেতরে বালু ভরাট করা হয়েছে। তীর ঘেঁষে গাইড ওয়াল ও শিল্প অবকাঠামো তৈরি হয়েছে।নদীর অংশ নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে ।ফলে নদীর প্রাকৃতিক সীমানা প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ৪. দূষণের ভয়াবহ চিত্র সুগন্ধা ও কীর্তনখোলা নদী এখন বহুমুখী দূষণের শিকার— প্রধান দূষণের উৎস: অপসোনিন কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, ময়লা,প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ছে, যা পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে।ফলে পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।মাছ ও জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে ও নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে। ৫. সুগন্ধা নদীর সংকট: ভাঙন ও চাপ শুধু কীর্তনখোলা নয়, পাশের সুগন্ধা নদীতেও সংকট বাড়ছে । অপসোনিন দুটি নদীরই অংশ দখল করে নিয়েছে। যার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে নদীগুলোর প্রাকৃতিক প্রবাহ ও পরিবেশ ব্যবস্থায়। প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। তীব্র ভাঙনে গ্রাম, রাস্তা, প্রতিষ্ঠান বিলীন,নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হুমকির মুখে । মোহনা অঞ্চলে কৃত্রিম বাধা ও দখল দপদপিয়া ও তিমিরকাঠি মৌজার অংশ এই ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা । এছাড়া দপদপিয়া -নলছিটি সড়কটি এখন ভাঙনের মুখে। ৬. প্রশাসনিক দুর্বলতা ও প্রভাবশালী চক্র অনুসন্ধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে দখল শুধু ঘটছে না, বরং দীর্ঘদিন ধরে তা টিকে আছে। কারণগুলো: প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর প্রভাব।আইনের দুর্বল প্রয়োগ।উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতার অভাব। যদিও প্রশাসন জানিয়েছে, নদী দখল ও দূষণ রোধে পরিকল্পনা রয়েছে। ৭. দখলদার অপসোনিন, বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কীর্তনখোলা ও সুগন্ধা নদী দখলে অপসোসিনের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে।এ দুটি নদী দখলের প্রতিযোগীতায় অপসোনিন এগিয়ে।নদীতে ব্লক ফেলে নদী দখল করেছে এ অঞ্চলে একমাত্র অপসোনিন। সাবেক এমপি ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা আমির হোসেন আমুর প্রভাবকে তারা কাজে লাগিয়ে নদী দখল করেছে বলে স্থানীয়রা জানান। অর্থাৎ, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়-একটি সংগঠিত দখল প্রক্রিয়া। ৮. সামাজিক: ও অর্থনীতির উপর প্রভাব অর্থনৈতিক: জেলেদের আয় কমে গেছে,নৌ চলাচলে বাধা ও নদীভিত্তিক ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত। সামাজিক: ভূমিহীনতা বৃদ্ধি-স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা।নদীর অংশও দখলের আওতায় চলে গেছে। ৯. বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা পরিবেশবিদদের মতে— নদীকে “জীবন্ত সত্তা” হিসেবে আইনি স্বীকৃতি থাকলেও বাস্তবে তা রক্ষা হচ্ছে না দ্রুত দখলমুক্ত না করলে নদী হারানোর ঝুঁকি রয়েছে । পরিবেশগত ক্ষতি: বিশেষজ্ঞদের মতে, মোহনা অঞ্চল নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পলি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বাধা সৃষ্টি হলে— নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে, মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়, নৌ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়। পরিবেশকর্মীরা জানান, শিল্পবর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার ফলে পানির রং ও গন্ধ পরিবর্তিত হয়েছে। অনেক এলাকায় তেলজাতীয় পদার্থ ভাসতে দেখা গেছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, দখলের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলেও কার্যকর পদক্ষেপ খুব একটা দেখা যায়নি। নদী রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও প্রকট। একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “নদী দখল ঠেকাতে আইনি কাঠামো আছে, কিন্তু প্রয়োগে দুর্বলতা রয়েছে। প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কারণে অনেক সময় অভিযান থেমে যায়।” আমুর প্রভাবে ১৮ একর জমি দখলের : আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার দাপটে জাল জালিয়াতির মাধ্যে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেড কোম্পানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা মিসকেস সাজিয়ে আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার প্রভাবে ১৮ একর ১৫ শতাংশ জমি আত্মসাত করেছেন।এমন অভিযোগ তুলে আমির হোসেন আমু ও অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে ভূক্তভোগিরা। ভূক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বোরহান উদ্দিন মিলন। তিনি বলেন, ফ্যাসিষ্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দোসর সাবেক খাদ্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের অংশীদার। এছাড়া রাকিব খান ও রউফ খান পরস্পর মামাতো-ফুফাতো ভাই। তাঁরা আওয়ামী লীগের আমলে আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া মিস কেস ২৩০/৬৫-৬৬ নম্বর বন্দোবস্তের মাধ্যমে তাদের ৭ পরিবারের প্রায় ১৮ একর ১৫ শতাংশ ভূমি আত্মাসাত করে নেয়। মিলন আরও বলেন, নলছিটি এসিল্যান্ড অফিসের ১২ নম্বর রেজিস্টার বইতে মিস কেস ২৩০/৬৫-৬৬ এর কোন অস্তিত্ব নেই। বরং ওই রেজিস্টারে তিনটি বন্দোবস্ত কেস দায়ের রয়েছে। কিন্তু নলছিটি জেএল নম্বর ১২৭ পশ্চিম চর দপদপিয়ার জমি অপসোনিন কোম্পানির মালিক রাকিব খানের নামে ৪৩১৯/১৯ দলিল এবং ৩৮২৮/২০০০ নম্বর দলিল বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রি হয়, যা ১৯৬৬ সালে আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ। যত দলিল অপসোনিন কোম্পানিকে দেয়া হয়েছে। এর মূল মালিকানা স্বত্ব ২৩০/৬৫-৬৬ মিস বন্দোবস্ত কেসটি দলিলে উল্লেখ্য নাই। এসকল দলিলে জাগুয়া ইউনিয়ন জেএল ১২৭ নম্বর উল্লেখ্য করেছে, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে জাগুয়া ইউনিয়ন জেএল নম্বর ৫৪। সকল দলিল জাল জালিয়াতি মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া এই রাকিব খান ও রউফ খান কীর্তনখোলা নদীর স্রোত গতি পরিবর্তন করে, নদী ভরাট ও দখল করে পরিবেশের ভারসম্যের ব্যাঘাত ঘঠিয়ে শিল্প কারখানা গড়ে তুলেছেন। শত শত অসহায় গরীব মানুষের জমি এবং সরকারের খাস জমি অবৈধভাবে জবর দখল করেছে। এর সব কিছুর নেপথ্যে আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, এ নিয়ে ঝালকাঠি আদালতে মামলা করেছেন ভূক্তভোগীরা। মামলায় ২৩ বছর তারা কোর্টে হাজির না হয়ে, কোর্ট অবমাননা করেছেন। তারা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে আইন কানুন আদালতকে তোয়াক্কা না করায়, তাদের বিরুদ্ধে আদালত জি আর মামলা নং ৩১/২৫ এবং সি আর ১৪৭/২৫ নং মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে। আমির হোসেন আমুর অবৈধ ক্ষমতার দাপটে বহু অসহায় গরীব মানুষের ভূমি জবর দখল করে নিয়েছে। জাল-জালিয়াতির মূল হোতা অপসোনিন ফার্মার অসাধু কর্মকর্তা মো. পারভেজ আহমেদ, রফিক আহম্মেদ, জসিম উদ্দিন, ফিরোজ আহমেদ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- ভূক্তভোগী জালাল আহমেদ খান, জাহাঙ্গীর খান, সিরাজুল ইসলাম গাজী, সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সাইফুল। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, 'হাইকোর্ট নদীগুলোকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করেছেন। এর মানে স্থানীয় প্রশাসনের এখতিয়ার রয়েছে অবিলম্বে দখলদারদের উচ্ছেদ করার।'তিনি বলেন, 'আমি বুঝতে পারছি না কেন তারা এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অপসোনিনের বক্তব্য : অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান “অপসোনিন”-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, তারা কোনো অবৈধ দখলে জড়িত নয়। তাদের দাবি, সব স্থাপনা বৈধ অনুমোদনের ভিত্তিতেই নির্মিত এবং পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি সেই দাবির সঙ্গে মিলছে না। করণীয় ও সুপারিশ: বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা বলেছেন— নদীর সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান, শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা। সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনা শুধু নদীপথ নয়, বরং এ অঞ্চলের অর্থনীতি, জীবিকা ও পরিবেশের প্রাণকেন্দ্র। দখল ও দূষণের এই চক্র অব্যাহত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই নদীগুলোকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনায় যা ঘটছে তা শুধু একটি নদী দখলের ঘটনা নয়— এটি পরিবেশ, অর্থনীতি, ভূমি অধিকার ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার সম্মিলিত সংকট। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে— নদীর নাব্যতা হারাবে,জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে,হাজারো মানুষের জীবিকা বিপন্ন হবে, নদী রক্ষার লড়াই এখন সময়ের দাবি।
চট্টগ্রাম: রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের চট্টগ্রাম কেন্দ্রে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বে অবহেলা এবং সরকারি প্রটোকল ভঙ্গের এক বিব্রতকর চিত্র উঠে এসেছে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন একটি নির্ধারিত টকশোতে অংশ নিতে গিয়ে সেখানে চরম অব্যবস্থাপনার মুখে পড়েন। পরে তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ফোনে অবহিত করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে। প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) ইমাম হোসাইন। বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে প্রতিমন্ত্রী: সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) ইফতারের পর একটি পূর্বনির্ধারিত টকশোতে অংশ নিতে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে যান ভূমি প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তিনি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তা একটি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর। ঘটনার সময় কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার ইমাম হোসাইন কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর আগমনের বিষয়টি জানা সত্ত্বেও তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই নিজ জেলা ফেনীতে অবস্থান করছিলেন। অন্ধকার ভিভিআইপি গেস্ট রুম, নষ্ট এসি: কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর প্রতিমন্ত্রীকে ভিভিআইপি গেস্ট রুমে নেওয়া হলে দেখা যায়— কক্ষটি অন্ধকার, বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, জেনারেটর চালু করা হয়নি,এসি নষ্ট, দরজা খোলার জন্যও কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী উপস্থিত নেই। শেষ পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রীর এপিএস নিজেই দরজা খুলে দেন। একটি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানে একজন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে এমন অব্যবস্থাপনা প্রশাসনিক ব্যর্থতার স্পষ্ট উদাহরণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দিয়ে প্রটোকল: বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান কেন্দ্রটির নির্বাহী প্রযোজক মো. সফির হোসাইন, যিনি ইলন সফির নামেও পরিচিত। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে একটি প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ এবং বিটিভির মহাপরিচালকের প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে তার বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এমন একজন কর্মকর্তাকে দিয়েই একজন প্রতিমন্ত্রীকে প্রটোকল প্রদান করানো হয়েছে—যা উপস্থিত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাঝেও বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু প্রশাসনিক অদক্ষতারই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার চরম অবক্ষয়েরও একটি দৃষ্টান্ত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানে এমন সংবেদনশীল দায়িত্বে বিতর্কিত কর্মকর্তাকে সামনে আনা শুধু প্রটোকল ভঙ্গই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত টকশো হয়নি: সূত্র জানায়, টকশোটি আগে থেকেই নির্ধারিত থাকলেও অন্য অতিথিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়নি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনুষ্ঠান শুরু না হওয়ায় প্রতিমন্ত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং বিষয়টি সরাসরি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীকে ফোনে জানান। পরে তিনি অনুষ্ঠান না করেই কেন্দ্র ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে জেনারেল ম্যানেজারের নির্দেশে একটি বিটিভি টিম প্রতিমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। জিএম ইমাম হোসাইনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ: সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রতিমন্ত্রীর আগমনের বিষয়টি জানা সত্ত্বেও জেনারেল ম্যানেজার ইমাম হোসাইন কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই নিজ জেলা ফেনীতে অবস্থান করছিলেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান। প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী কোনো কেন্দ্রপ্রধান কর্মস্থল ত্যাগ করতে চাইলে পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত ব্যবহারের অভিযোগ: অনুসন্ধানে জানা গেছে, জিএম ইমাম হোসাইন প্রায়ই সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কর্মস্থলের বাইরে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিটিভির প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী জেনারেল ম্যানেজারের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ি মূলত দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বা কর্মস্থলের বাইরে ব্যবহার করতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন: প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মকর্তা যদি দায়িত্ব পালনের সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন এবং তার কারণে সরকারি কার্যক্রম ব্যাহত হয়, তাহলে তা গুরুতর প্রশাসনিক অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। Government Servants (Discipline and Appeal) Rules, 2018 অনুযায়ী— দায়িত্বে অবহেলা, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। শিল্পী সম্মানী ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ: বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া ইমাম হোসাইন এর বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে— অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক নজরদারির অভাব, শিল্পী সম্মানীর অর্থ বণ্টনে অনিয়ম, প্রযোজকদের সঙ্গে আঁতাত করে অর্থ লেনদেন। এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা হলেও কার্যকর তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে “চলতি দায়িত্ব”: সূত্র জানায়, প্রচলিত প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তাকে “চলতি দায়িত্ব” সাধারণত সীমিত সময়ের জন্য দেওয়া হয়। কিন্তু ইমাম হোসাইন প্রায় দেড় বছর ধরে জেনারেল ম্যানেজারের চলতি দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং এ সময় তিনি দায়িত্বভাতাও গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার- বিতর্কে জিএম ইমাম হোসাইন: এদিকে অনুসন্ধানে বিভিন্ন সূত্রে আরও জানা গেছে, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. ইমাম হোসাইনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।বিশ্বস্ত সূত্র ও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি অনুযায়ী, তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আত্মীয় (ফুফাতো বোনের ছেলে) বলে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, এই রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করেই তিনি চাকরিতে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালজুড়ে তিনি ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রশাসনিক বিতর্কের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর একটি জোট, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিটিভির দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে, তাদের কয়েকজন নেতার দাবি—চট্টগ্রাম কেন্দ্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর ইমাম হোসাইনের সময়ে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আরও প্রকট হয়ে ওঠে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, কেন্দ্রটিতে অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা ও শিল্পী সম্মানী বণ্টন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি প্রোগ্রাম ম্যানেজার থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তাকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি কিছু প্রযোজকের সঙ্গে সমন্বয় করে শিল্পী সম্মানীর অর্থ বণ্টনে অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। এদিকে প্রশাসনিক সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তাকে “চলতি দায়িত্ব” সাধারণত সীমিত সময়ের জন্য দেওয়া হয় এবং তা দীর্ঘদিন বহাল থাকার কথা নয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ইমাম হোসাইন প্রায় দেড় বছর ধরে জেনারেল ম্যানেজারের চলতি দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং এ সময় তিনি দায়িত্বভাতাও গ্রহণ করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি প্রশাসনিক ও আইনি দিক থেকে পর্যালোচনার দাবি রাখে। “ম্যানেজ” করার চেষ্টা: ঘটনার পর জেনারেল ম্যানেজার ইমাম হোসাইন বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কোন ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। ঢাকা কেন্দ্রের জিএম পদে নিয়োগ পেতে তৎপর ইমাম হোসাইন: সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ টেলিভিশন ঢাকা কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজারের শূন্য পদে নিয়োগ পাওয়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম (চলতি দায়িত্ব) ইমাম হোসাইন সক্রিয় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে সুপারিশ আদায়ের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তাকে প্রায়ই সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় বলেও সূত্রগুলো দাবি করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে: গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম হিসেবে বিটিভির দায়িত্ব শুধু অনুষ্ঠান প্রচার নয়; বরং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার প্রতিফলন ঘটানো। কিন্তু একজন প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এমন অব্যবস্থাপনা প্রকাশ্যে আসায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মতামত জানতে ফোন করা হলেও সাড়া মেলেনি: এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) ইমাম হোসাইনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে এ বিব্রতকর ঘটনার বিষয়ে বিটিভির ডিজির মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রতিবেদককে জানান যে, "এই ঘটনার বিষয়ে তিনি কোন কিছু জানেন না।"
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতুটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। সেতুটির নির্মাণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়া এবং ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠে এসেছে। এই সেতুর উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সামনে এসেছে এক দীর্ঘ বিতর্কিত নির্মাণ ইতিহাস—যেখানে রয়েছে সময়ক্ষেপণ, ব্যয় বৃদ্ধি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে এটি স্থানীয় জনগণের জন্য আশার প্রতীক হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে এটি হয়ে উঠেছে প্রশ্নবিদ্ধ বাস্তবায়নের একটি উদাহরণ। নির্মাণ ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি প্রাথমিক ও চূড়ান্ত ব্যয়: ২০১৭ সালে যখন প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়, তখন এর প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা । তবে কাজ শেষ হতে হতে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা মূল বাজেটের চেয়ে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা বেশি । সময়ক্ষেপণ: ৩ বছরের মধ্যে (২০১৮-২০২১) কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৯ বছর সময় লেগেছে । সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ও জটিলতা : ভুল নকশা ও উচ্চতা সংক্রান্ত জটিলতা: বিআইডব্লিউটিএ-এর নিয়ম অনুযায়ী সেতুর উচ্চতা পর্যাপ্ত না হওয়ায় মাঝপথে দেড় বছর কাজ বন্ধ থাকে । পরবর্তীতে নকশা পরিবর্তন করে উচ্চতা বাড়াতে গিয়ে প্রকল্পের ব্যয় ও সময় উভয়ই অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় । বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় রাঙ্গামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ-এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও চরম গাফিলতির অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে এসেছে। মূলত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং নকশা পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে কাজ দীর্ঘায়িত করার মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। টাইমলাইন: কাগজে পরিকল্পনা বনাম বাস্তবতা বছর পরিকল্পনা বাস্তব অগ্রগতি ২০১৭ প্রকল্প অনুমোদন প্রাথমিক ব্যয় ৫৭.৬২ কোটি টাকা ২০১৮ কাজ শুরু ধীরগতির সূচনা ২০২১ নির্ধারিত সমাপ্তি কাজ অসম্পূর্ণ ২০২২–২০২৪ সংশোধিত সময়সীমা বারবার স্থগিত ২০২৬ প্রকল্প শেষ ও উদ্বোধন চূড়ান্ত ব্যয় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা অনুসন্ধান: একটি সেতু, বহু প্রশ্ন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতু—যা ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে—শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, বরং এটি এখন একটি বিতর্কিত উন্নয়ন মডেলের উদাহরণ। সরকারি নথি, স্থানীয় সূত্র এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রকল্পটি শুরু থেকেই পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং তদারকির ক্ষেত্রে গুরুতর দুর্বলতায় ভুগেছে। এর ফল—সময় তিনগুণ, ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ, এবং জনভোগান্তি দীর্ঘমেয়াদি। ব্যয় বিশ্লেষণ: কোথায় গেল অতিরিক্ত ৩৪ কোটি? প্রাথমিক ব্যয়: ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা চূড়ান্ত ব্যয়: ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা বৃদ্ধি: প্রায় ৩৪ কোটি টাকা সম্ভাব্য কারণ (সরকারি যুক্তি অনুযায়ী): নকশা পরিবর্তন নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি সময় বৃদ্ধি অনুসন্ধানে উঠে আসা প্রশ্ন: নকশা পরিবর্তন কেন শুরুতেই শনাক্ত হয়নি? বিলম্বজনিত অতিরিক্ত ব্যয় কি নিয়ন্ত্রিত ছিল? প্রকল্প সংশোধনে কারা অনুমোদন দিয়েছে? অর্থনীতিবিদদের মতে, “এই ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত প্রকল্প তদারকির দুর্বলতা বা ইচ্ছাকৃত অপচয়ের ইঙ্গিত দেয়।” নকশাগত ত্রুটি: পরিকল্পনার কেন্দ্রে ব্যর্থতা প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যর্থতা ছিল সেতুর উচ্চতা নির্ধারণে ভুল। কী ঘটেছিল? নদীপথে চলাচলকারী নৌযানের জন্য প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স রাখা হয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানায় প্রায় দেড় বছর কাজ বন্ধ থাকে ফলাফল: পুনরায় নকশা প্রণয়ন অতিরিক্ত নির্মাণ ব্যয় প্রকল্প বিলম্ব প্রশ্ন উঠেছে—ডিজাইন যাচাই প্রক্রিয়ায় কোন সংস্থা দায়িত্বে ছিল এবং তারা কেন ব্যর্থ হলো? ধীরগতির নির্মাণ: কৌশল নাকি ব্যর্থতা? স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী— দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ বা আংশিক চালু ছিল শ্রমিক ও যন্ত্রপাতির উপস্থিতি অনিয়মিত ছিল এটি ইচ্ছাকৃত বিলম্ব কিনা, তা তদন্তের দাবি রাখে। প্রকল্প মেয়াদ বাড়ানো: প্রশাসনিক দুর্বলতা? প্রকল্পটি অন্তত কয়েক দফা সময় বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশ্ন হলো— প্রতিটি সময় বৃদ্ধি কি প্রকৃত অগ্রগতির ভিত্তিতে ছিল? নাকি রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপ ছিল? দায় কার? এই প্রকল্পে অন্তত চারটি স্তরে জবাবদিহিতার প্রশ্ন ওঠে— ১. পরিকল্পনা সংস্থা – নকশা অনুমোদনে ব্যর্থতা ২. বাস্তবায়ন সংস্থা – তদারকির ঘাটতি ৩. ঠিকাদার – কাজের গতি ও মান ৪. প্রশাসন – সময় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপের প্রধান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ: মেয়াদ বাড়ানো: প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালে শুরু হয়ে ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ কাজ ফেলে রাখে । পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাবে কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ব্যয় বৃদ্ধি: কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় এবং নতুন নতুন অজুহাতে বাজেট সংশোধনের মাধ্যমে প্রাথমিক ব্যয় ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা করা হয় । অভিযোগ রয়েছে যে, এই অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বড় অংশই অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ২. ভুল নকশায় কাজ শুরু ভুল উচ্চতা: সেতুটির উচ্চতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর আপত্তির পরও ভুল নকশায় কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয় । এই জটিলতার কারণে মাঝপথে কাজ বন্ধ থাকায় কয়েক লাখ মানুষ বছরের পর বছর ফেরি,ট্রলার ও নৌকায় পারাপার হতে বাধ্য হয়েছে । অর্ধসমাপ্ত কাজ: সেতুর মূল কাঠামো অনেক আগেই দাঁড়িয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর গড়িমসি করেছে ।যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় । ৩. অন্যান্য অভিযোগ কালো তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা: সরকারি বিভিন্ন কাজে এম খান গ্রুপের মালিক মাহফুজ খানের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অতীতেও তাকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে । শ্রমিক ও স্থানীয়দের পাওনা: কাজ চলাকালীন সময়ে স্থানীয় শ্রমিকদের মজুরি ও মালামাল সরবরাহকারীদের টাকা বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে । এম খান গ্রুপের মালিক মাহফুজ খান তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এই প্রকল্পের বাজেট বৃদ্ধি ও সময়ক্ষেপণ করেছেন। বর্তমানে সেতুটি চালু হলেও এই দীর্ঘসূত্রিতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি: স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ-এর মালিক মাহফুজ খান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছেন । অভিযোগ রয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বারবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং নিম্নমানের কাজের বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন । সংযোগ সড়কের অভাব: সেতুর মূল কাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) না থাকায় সাধারণ মানুষকে মই বা সিঁড়ি বেয়ে সেতুতে উঠতে হয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে । বরিশালের রাঙ্গামাটিয়া নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতুর কাজ শেষ হয়েছে প্রায় নয় বছর পর। মঙ্গলবার ( ১৭ মার্চ) দুপুরের দিকে উদ্বোধনের পর সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সেতুর উদ্ধোধন করেন। সেতু নির্মাণে লেগেছে ৯ বছর: সেতু নির্মাণে লেগেছে ৯ বছর।২০১৭ সালে প্রায় ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্প হিসেবে সেতুটি অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। শুরুতেই উচ্চতা নিয়ে আপত্তি তোলে বিআইডব্লিউটিএ। তাদের দাবি ছিল, নদীপথ সচল রাখতে সেতুর উচ্চতা আরও বাড়াতে হবে। প্রথম নকশায় সেতুর মাঝ বরাবর সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় উচ্চতা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৬২ মিটার। পরে তা বাড়িয়ে ১২ দশমিক ২০ মিটার করা হয়। এই পরিবর্তনের কারণে পুরো নকশাই সংশোধন করতে হয়। নতুন নকশায় সেতুর মাঝখানে স্টিল ট্রাস স্প্যান যুক্ত করা হয়। পাঁচবার বাড়ানো হয় সময়সীমা, বেড়ে যায় ব্যয়ও: নকশা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ ও নদী শাসনের কাজ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পটির সময়সীমা পাঁচবার বাড়ানো হয়। ব্যয়ও বেড়ে যায় উল্লেখযোগ্যভাবে। সংশোধিত প্রকল্পে সেতুর ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। দুই লেনের এই সেতুতে পিসি গার্ডারের পাশাপাশি স্টিল ট্রাস ব্যবহার করা হয়েছে, যা দক্ষিণাঞ্চলে এ ধরনের প্রথম সেতু বলে জানিয়েছেন সওজের প্রকৌশলীরা। সেতুটির ঠিকাদার মো. মাহফুজ খান সাংবাদিকদের বলেন, উচ্চতা বৃদ্ধি, নকশা পরিবর্তন এবং নদী শাসনের কাজ বাড়ার কারণেই সময় ও ব্যয় দুইই বেড়েছে। বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, নদীর ধারা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ এবং সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বারবার নকশা সংশোধন করতে হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উদ্বোধনের পরই সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। উন্নয়ন না অপচয়? গোমা সেতু এখন চালু—এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক। তবে এর নির্মাণ ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে— বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কি যথাযথ পরিকল্পনা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রয়োজন স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত। নয়তো গোমা সেতুর মতো প্রকল্প ভবিষ্যতেও পুনরাবৃত্তি হবে— আর উন্নয়ন হবে, কিন্তু তার মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই। মেয়াদ বৃদ্ধি: নিয়ম না ব্যতিক্রম? প্রকল্পটি একাধিকবার সময় বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: প্রতিবার মেয়াদ বৃদ্ধির যৌক্তিকতা কী ছিল? কোনো দায় নির্ধারণ করা হয়েছিল কি? অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সময় বৃদ্ধি ঠিকাদারকে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দেয়। জবাবদিহিতা: অমীমাংসিত প্রশ্ন এই প্রকল্পে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত— নকশা ত্রুটির জন্য দায়ী কে? ব্যয় বৃদ্ধির অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছে? প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর ভূমিকা কী ছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া প্রকল্পটির পূর্ণ মূল্যায়ন সম্ভব নয়। তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষকদের মতে, গোমা সেতু প্রকল্পে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। কেন তদন্ত প্রয়োজন? ব্যয় বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ নির্ধারণ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ যাচাই ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য শিক্ষা সেতুটি নির্মাণ হওয়ার মাধ্যমে বরিশাল জেলা সদরের সাথে বাকেরগঞ্জের পূর্বাঞ্চল কবাই, নলুয়া, দুধল সহ পটুয়াখালীর বাউফল ও দুমকী উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজ দ্বার উন্মোচিত হলো।
স্বাস্থ্যখাতে শত কোটি টাকার দুর্নীতি! বরিশাল বিভাগে হাসপাতাল টেন্ডার সিন্ডিকেট মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে টেন্ডার সিন্ডিকেট, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং অতিরিক্ত দামে বিল উত্তোলনের অভিযোগে আলোচনায় এসেছে পিপলাই পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দেড় দশক ধরে তারা হাসপাতালগুলোতে সরঞ্জাম সরবরাহের নামে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং কোটি কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে পিপলাই পরিবারের বিরুদ্ধে। দুদক ইতোমধ্যে মামলা করেছে। তদন্তে বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে আরও অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উঠে আসছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। ১৫ বছরের টেন্ডার সিন্ডিকেট দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সত্য কৃষ্ণ পিপলাই ও তার ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মালামাল সরবরাহের টেন্ডারে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। অভিযোগ অনুযায়ী তারা:— নিজেদের নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দরপত্রে অংশগ্রহণ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের ভান তৈরি নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কম দামে কিনে বেশি দামে সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ এই পদ্ধতিতে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুদকের মামলা গত বছরের ২৬ নভেম্বর ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে মামলা করে দুদক। মামলার বাদী দুদকের উপসহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল। মামলায় আসামি করা হয়েছে— ডা. শামীম আহমেদ (তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক, ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল) শিপ্রা রানী পিপলাই সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই সত্য কৃষ্ণ পিপলাই দুদকের অভিযোগ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে যোগসাজশ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই পরিবারের তিন প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা, ওষুধ, কেমিক্যাল, আসবাবপত্র ও কিচেন সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ছয়টি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তদন্তে দেখা যায়— চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিলেও তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা একই পরিবারের। সেগুলো হলো— আহসান ব্রাদার্স — মালিক সত্য কৃষ্ণ পিপলাই পিপলাই এন্টারপ্রাইজ — মালিক সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই বাপ্পী ইন্টারন্যাশনাল — মালিক শিপ্রা রানী পিপলাই তিন প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাও একই—বরিশাল সদরের উত্তর কাটপট্টি। দুদকের মতে, কাছাকাছি দর দিয়ে দরপত্র সাজানো হয়েছিল, যা সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। বরগুনা হাসপাতালে ৪ কোটি টাকার টেন্ডার বিতর্ক বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ৪ কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ের দরপত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে— ছয়টি প্যাকেজে ২৪টি ফরম বিক্রি হয় জমা পড়ে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক একই পরিবারের বাবা ও ছেলে অন্য ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, দরপত্রে অপ্রয়োজনীয় ও কঠিন শর্ত যোগ করে অন্যদের অংশগ্রহণ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন ঠিকাদার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন। শেবাচিম হাসপাতালে ১১ কোটি টাকার সরঞ্জাম কেলেঙ্কারি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— ২০২০ সালে টেন্ডার আহ্বানের পর চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। তবে তদন্তে দেখা যায়, ওই চারটির মধ্যেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পিপলাই পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী— অনিয়মের মাধ্যমে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহ বাবদ ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা এমএসআর সামগ্রী সরবরাহের নামে ৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা মোট প্রায় ১১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করা হয়। তদন্তে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে যে দরপত্রে অযোগ্য ঘোষিত অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে যন্ত্রপাতি এনে বেশি দামে হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র হলে সাশ্রয় হতো কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সরঞ্জাম কেনা হলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব ছিল। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান তদন্তে আরও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নতুন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সত্য কৃষ্ণ পিপলাই বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য খাতে মালামাল সরবরাহকারী একটি বিতর্কিত ঠিকাদারী পরিবারের প্রধান। তিনি মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স আহসান ব্রাদার্সের মালিক হিসেবে পরিচিত এবং স্ত্রী ও সন্তানদের নামে একাধিক লাইসেন্স ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত । সত্য কৃষ্ণ পিপলাই সম্পর্কে মূল তথ্য: পেশা ও পরিচয়: তিনি বরিশালের একজন প্রভাবশালী ঠিকাদার, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করেন । দুর্নীতির অভিযোগ: তার বিরুদ্ধে স্ত্রী শিপ্রা রানী পিপলাই ও ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাইয়ের সাথে যোগসাজশে টেন্ডার বাণিজ্য, অবৈধভাবে কার্যাদেশ পাওয়া এবং সরঞ্জাম সরবরাহ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে । আইনি পদক্ষেপ: ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে ও তার পরিবারকে আসামি করে মামলা করেছে । ভূমিকা: মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স আহসান ব্রাদার্সের মাধ্যমে তিনি মূলত বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য খাতে ঠিকাদারী নিয়ন্ত্রণ করেন ।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা এলজিইডি)-এর এক উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাস্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি এবং বিল উত্তোলনে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ—সরকারি অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ । তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগগুলো নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো: ১. ঘুষ ও বিল বাণিজ্য ঘুষের হার: অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি টাকা ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। ঠিকাদারদের কাছ থেকে ওয়ার্ক অর্ডারে ৩-৫%, বিল পাসে ৫-৭% এবং জামানত ফেরত দিতে ৩-১৫% পর্যন্ত কমিশন বা ঘুষ দাবি করেন বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে । বকেয়া বিল: টাকা না দেওয়ায় অনেক ঠিকাদারের বিল আটকে রাখা এবং জামানতের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে [১.১.১]। ২. উন্নয়ন কাজে স্থবিরতা ও ভোগান্তি অর্ধসমাপ্ত প্রকল্প: উপজেলায় এলজিইডির অধীনে বাস্তবায়নাধীন একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প (যেমন- রাস্তা ও সেতু) দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে [১.৩.১]। কাজ শুরু করে মাঝপথে ফেলে রাখা বা ড্রেন ও অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি না করার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনিয়ম: নিম্নমানের কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করার পেছনে তার গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে । ৩. প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিযোগ কর্মস্থলে অনুপস্থিতি: তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না এবং দিনের অধিকাংশ সময় ঝালকাঠি জেলা শহরে কাটান বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায়ই দুপুর ১২টার আগে তাকে অফিসে পাওয়া যায় না । রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা: স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি এখনো বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নেতাদের পরামর্শে কাজ পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি একটি খাল খনন কমিটি গঠনে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ায় এলাকায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে । এই সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দারা তার বিরুদ্ধে মানববন্ধনও করেছেন বলে জানা গেছে । রাজাপুর উপজেলার এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. দুদকের গণশুনানিতে অভিযোগ ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক গণশুনানিতে আব্দুল হাকিম নামে এক ব্যক্তি অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের মূল বিষয় ছিল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে দীর্ঘসূত্রতা ও বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার না হওয়া । ২. ৪ কোটি টাকার ঝুলে থাকা প্রকল্প ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজাপুর মডেল মসজিদ থেকে মঠবাড়ীয়া ইউপি অফিস হয়ে নাপিতের হাট পর্যন্ত ৩১ মিটারের দুটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজের জন্য ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় । গণশুনানিতে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী: বরাদ্দ দেওয়ার দেড় বছর পার হলেও প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়নি । এলাকার আরও একাধিক উন্নয়ন কাজ এভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে । ৩. অনিয়ম ও হয়রানির মাত্রা প্রকাশিত সংবাদ ও স্থানীয় অভিযোগ থেকে প্রাপ্ত আরও কিছু তথ্য: হয়রানি: ঠিকাদারদের অভিযোগ, বিল বা জামানতের টাকার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং কমিশন না দিলে নানা অজুহাতে ফাইলে ত্রুটি ধরা হয় । আচরণগত সমস্যা: অনেক সময় সেবাগ্রহীতা বা ঠিকাদারদের সঙ্গে তিনি খারাপ আচরণ করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে তাকে পাওয়া যায় না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন । উল্লেখ্য যে, সারাদেশে এলজিইডির বিভিন্ন দপ্তরে দুদকের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে রাজাপুর এলজিইডি অফিসের কার্যক্রমও নজরদারিতে রয়েছে । রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী তার অফিস করার চিত্রটি নিম্নরূপ: দেরিতে উপস্থিতি: অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি অধিকাংশ দিন বেলা ১২টার আগে অফিসে উপস্থিত হন না । কর্মস্থলে রাত্রিযাপন না করা: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর্মস্থলে থাকার কথা থাকলেও, তিনি নিয়মিত সেখানে থাকেন না। দিনের বেশিরভাগ সময় তিনি ঝালকাঠি জেলা শহরে কাটান বলে জানা গেছে । জনসাধারণের ভোগান্তি: তিনি নিয়মিত অফিসে না থাকায় এবং সময়মতো তাকে না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ঠিকাদারদের বিভিন্ন জরুরি কাজের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং তারা হয়রানির শিকার হন । অফিস চলাকালীন অনুপস্থিতি: স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে তাকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেন না অথবা অফিস ছুটির আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন ।এই অনিয়মিত উপস্থিতির প্রতিবাদে এবং তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেছেন । রাজাপুর উপজেলার এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকলেও, এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (যেমন বরখাস্ত বা স্থায়ী অপসারণ) নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে তার বিরুদ্ধে কিছু প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে: দুদকের তদন্ত: ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক গণশুনানিতে তার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ উত্থাপন করা হয় । দুদক বর্তমানে এসব অভিযোগ তদন্ত করছে। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে, গণশুনানিতে তাকে ডাকা হয়েছিল। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি: এলজিইডির সদর দপ্তর এবং বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ ও বিল বাণিজ্যের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার মতো প্রাথমিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায় । বদলির সম্ভাবনা: তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ এবং মানববন্ধন হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিকভাবে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ বা বদলি করার একটি গুঞ্জন বা প্রক্রিয়া জেলা পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত অফিস আদেশ প্রকাশিত হয়নি । বর্তমানে তিনি তার দায়িত্ব পালন করছেন, তবে ৪ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের উন্নয়ন প্রকল্পে স্থবিরতা এবং ঘুষের অভিযোগের কারণে তিনি চাপের মুখে রয়েছেন । মানববন্ধনের সংবাদ: গত বছর রাজাপুর উপজেলা সদরে স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ তার অপসারণ এবং দুর্নীতির বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন। এই সংবাদটি বেশ কিছু অনলাইন পোর্টালে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছিল। ভিডিও প্রতিবেদন: স্থানীয় সংবাদকর্মীরা মানববন্ধনের সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা নির্দিষ্ট অভিযোগগুলো (যেমন- ৫% থেকে ১৫% কমিশন বাণিজ্য) নিয়ে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছিলেন । অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে থাকার পেছনে বেশ কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকার কথা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও জনগণের আলোচনায় উঠে এসেছে: ১. বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব: স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্যের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ আছে যে, তিনি এখনো সেই রাজনৈতিক বলয়ের পরামর্শ এবং আশীর্বাদ নিয়ে কাজ করছেন । ২. ঊর্ধ্বতন মহলের যোগসাজশ: ঠিকাদারদের দাবি, তিনি যে ঘুষ ও কমিশনের টাকা আদায় করেন, তার একটি বড় অংশ এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই "কমিশন চেইন" বা সিন্ডিকেটের কারণেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করা হয় বলে মনে করা হয় । ৩. প্রশাসনিক আমলাতন্ত্র: তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে তদন্ত শুরু হলেও আইনি জটিলতা বা আমলাতান্ত্রিক ধীরগতির সুযোগ নিয়ে তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ লোপাট করার মতো প্রশাসনিক শক্তিও তিনি ব্যবহার করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ৪. ঠিকাদার সিন্ডিকেট: উপজেলার কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদারের সাথে তার ব্যবসায়িক গোপন আঁতাত রয়েছে। এই সিন্ডিকেটটি নিজেদের স্বার্থেই তাকে ওই পদে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে। সারসংক্ষেপে, রাজনৈতিক মদত এবং দাপ্তরিক দুর্নীতির সিন্ডিকেটই তার প্রধান শক্তির উৎস বা "জোড়" হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করা হয়। রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপডেট তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. দুদকের গণশুনানি ও প্রাথমিক পদক্ষেপ (অক্টোবর ২০২৫) ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের ১৮৬তম গণশুনানিতে অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয় । অভিযোগের ধরণ: ৪ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ব্রিজের কাজ দেড় বছরেও শুরু না করা, রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫% থেকে ১৫% পর্যন্ত কমিশন দাবির বিষয়গুলো শুনানিতে উঠে আসে । তাৎক্ষণিক নির্দেশনা: শুনানিতে উপস্থিত দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন । ২. এলজিইডিতে দুদকের বিশেষ অভিযান (এপ্রিল ২০২৫) এর আগে ২০২৫ সালে অভিযান চালায় দুদক এই অভিযানের অংশ হিসেবে রাজাপুর এলজিইডি অফিসের বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র এবং ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা হয়। সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণে অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে যা বর্তমানে দুদকের কেন্দ্রীয় ল্যাবে বিশ্লেষণাধীন রয়েছে । ৩. বর্তমান অবস্থা (মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত) বর্তমানে অভিযোগগুলো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী: স্থবিরতা: ২০২৬ সালের মার্চের শুরুতে দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগের ফলে কমিশনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কিছুটা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে বড় ধরনের আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে । তদন্ত কার্যক্রম: তবে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (পিরোজপুর) থেকে নিয়মিত রুটিন তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে । ব্যক্তিগত জবাবদিহি: দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গণশুনানিতে উপস্থাপিত অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে অভিজিৎ মজুমদারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব করা হয়েছে । দুদকের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে আনুষ্ঠানিক মামলার জন্য আরও কিছু সময় লাগতে পারে। রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে অভিজিৎ মজুমদারের যোগদানের সুনির্দিষ্ট তারিখ দাপ্তরিক নথিতে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, বিভিন্ন সংবাদ এবং প্রকল্পের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তিনি প্রায় ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে (২০২২ সাল থেকে বর্তমান ২০২৬ পর্যন্ত) রাজাপুরে কর্মরত আছেন। তার কর্মকাল নিয়ে প্রাপ্ত কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ২০২২ সাল থেকে অবস্থান: ঝালকাঠি জেলা এলজিইডির বিভিন্ন দাপ্তরিক সভায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরু থেকেই তার উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রকল্প: তার সময়েই ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বড় বড় প্রকল্পগুলো (যেমন- ৪ কোটি টাকার আরসিসি ব্রিজ) অনুমোদিত ও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে । বর্তমান সময়: তিনি এখনো (মার্চ ২০২৬) রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন । সাধারণত উপজেলা পর্যায়ে একজন প্রকৌশলীর মেয়াদকাল ৩ বছর হয়ে থাকে, যা তিনি ইতিপূর্বেই পূর্ণ করেছেন। তার এই দীর্ঘ অবস্থানের কারণেই স্থানীয় ঠিকাদার ও জনগণের মধ্যে তার "প্রভাব" নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে যে প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুতর হলো বিআরবি (BRB) প্রকল্পের আওতাধীন উন্নয়ন কাজসমূহ। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো: ১. আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প (সবচেয়ে আলোচিত) প্রকল্পের স্থান: রাজাপুর মডেল মসজিদ থেকে মঠবাড়ীয়া ইউপি অফিস হয়ে নাপিতের হাট পর্যন্ত ৩১ মিটারের দুটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। বরাদ্দের পরিমাণ: ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ টাকা । অভিযোগ: ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই প্রকল্পটি অনুমোদনের দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। দুদকের গণশুনানিতে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ ও বাস্তবায়নে চরম গাফিলতি এবং যোগসাজশ রয়েছে । ২. রাস্তা ও কালভার্ট সংস্কার কাজ অভিযোগ: উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তা এবং ছোট কালভার্ট মেরামতের কাজে নিম্নমানের খোয়া, পাথর এবং বালু ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে তিনি কমিশন নিয়েছেন [১.৫.১]। নির্দিষ্ট এলাকা: উপজেলার মঠবাড়ীয়া এবং বড়ইয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয়রা তুলেছেন । ৩. খাল খনন ও ড্রেনেজ প্রকল্প অভিযোগ: সম্প্রতি রাজাপুরে একটি খাল খনন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার প্রকল্পের কমিটি গঠনে এবং কার্যাদেশে তিনি ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি অর্থের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দিতে সহায়তা করেছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় । ৪. জামানত ও বিল অবমুক্তি প্রক্রিয়াগত দুর্নীতি: কোনো সুনির্দিষ্ট একটি প্রকল্প নয়, বরং উপজেলার প্রায় প্রতিটি শেষ হওয়া প্রকল্পের ঠিকাদারদের জামানত (Security Deposit) ফেরত দেওয়ার সময় তিনি ৩% থেকে ১৫% পর্যন্ত ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে বিল আটকে রাখা বা নথিতে ত্রুটি দেখানোর অভিযোগও সুনির্দিষ্টভাবে সংবাদে এসেছে । বর্তমানে দুদক এই ৪ কোটি টাকার ব্রিজ প্রকল্প এবং অন্যান্য ছোট প্রকল্পের নথিপত্র তলব করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে । রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে আলোচিত প্রকল্পগুলোর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম এবং তদন্তের বর্তমান পর্যায় সম্পর্কে আপডেট তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে ওঠা ৪ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ব্রিজ প্রকল্পসহ (মডেল মসজিদ থেকে নাপিতের হাট পর্যন্ত) অন্যান্য কাজে বেশ কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম আলোচনায় এসেছে: চয়ন অ্যাসোসিয়েটস: এই প্রতিষ্ঠানের মালিক আহলান সুমন তালুকদার-এর বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র জমা দিয়ে দরপত্রে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এটি সরাসরি রাজাপুরের এই নির্দিষ্ট ব্রিজের কাজ কিনা তা নিয়ে তদন্ত চলছে, তবে এলজিইডির বিভিন্ন বড় প্রকল্পে এই প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে । স্থানীয় সিন্ডিকেট: সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজাপুরের অনেক কাজ স্থানীয় একটি ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে, যাদের সাথে প্রকৌশলীর বিশেষ সখ্যতা রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু না করে অর্থ লোপাট বা বিল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে । ২. তদন্তের বর্তমান পর্যায় (মার্চ ২০২৬ আপডেট) প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে তদন্ত বর্তমানে কয়েকটি স্তরে চলমান: দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান: ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত গণশুনানির পর দুদক তার বিরুদ্ধে একটি বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত (Special Inquiry) শুরু করেছে । নথিপত্র যাচাই: দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে রাজাপুর এলজিইডি অফিসের নথিপত্র এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ৪ কোটি টাকার গার্ডার ব্রিজ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং কাজ শুরু না হওয়ার কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা: ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এলজিইডির নতুন প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগের পর, সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ তদন্ত সেলকেও (Vigilance Cell) রাজাপুরের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । বর্তমান অবস্থা: ২০২৬ সালের মার্চ মাসের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন (Under Investigation) পর্যায়ে আছে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ এবং আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড সংগ্রহের কাজ চলছে, যা শেষ হলে চার্জশিট বা মামলা দায়েরের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে । প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের বর্তমান অবস্থা নিম্নরূপ: ১. দুদকের আইনি প্রক্রিয়া অনুসন্ধান শুরু: ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গণশুনানির পর তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান (Inquiry) শুরু হয়েছে । জিজ্ঞাসাবাদ: দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে নথিপত্রসহ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে । বর্তমানে তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের কোনো উৎস আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২. বিভাগীয় তদন্ত ও শোকজ প্রাথমিক প্রতিবেদন: এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষের অভিযোগ ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে । শোকজ (Show Cause): নির্ভরযোগ্য সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শুরু না করা এবং আর্থিক অনিয়মের ব্যাখ্যা চেয়ে তাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। ৩. প্রশাসনিক অবস্থা ওএসডি বা বদলির প্রস্তাব: তার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে মানববন্ধন ও তীব্র গণঅসন্তোষের কারণে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি প্রশাসনিক সুপারিশ জেলা পর্যায় থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে । তবে ২০২৬ সালের মার্চের শুরু পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ওই পদেই বহাল আছেন বলে জানা গেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট একটি সিন্ডিকেট সক্রিয়। তাদের দাবি, কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই কাজ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়। একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন— “টেন্ডার জমা দিলেও অনেক সময় কাজ পাওয়ার সুযোগ থাকে না। আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে কে কাজ পাবে।” ঘুষ ও বিল বাণিজ্যের অভিযোগ স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার টাকা ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। অভিযোগ অনুযায়ী কমিশনের হার: ওয়ার্ক অর্ডারে ৩% থেকে ৫% বিল পাসে ৫% থেকে ৭% জামানত ফেরতের ক্ষেত্রে ৩% থেকে ১৫% ঠিকাদারদের অভিযোগ, এসব কমিশন না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে বিল আটকে রাখা হয় বা নথিতে ত্রুটি দেখানো হয়। একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন, অনেক প্রকল্পের বিল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়েছে। অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি: তিনি অনেক দিন বেলা ১২টার আগে অফিসে আসেন না অনেক সময় অফিস শেষ হওয়ার আগেই চলে যান জরুরি প্রয়োজনে ফোন করলে অনেক সময় রিসিভ করেন না অভিযোগ রয়েছে যে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর্মস্থলে থাকার কথা থাকলেও তিনি বেশিরভাগ সময় ঝালকাঠি জেলা শহরে অবস্থান করেন। ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ ঠিকাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিল বা জামানতের টাকা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কমিশন না দিলে: বিল আটকে রাখা নথিতে ত্রুটি দেখানো অতিরিক্ত যাচাইয়ের নামে বিলম্ব করা এসব কারণে অনেক ঠিকাদার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ অভিজিৎ মজুমদারের অপসারণের দাবিতে রাজাপুর উপজেলা সদরে স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন: উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম বন্ধ করতে হবে প্রকৌশলীকে দ্রুত অপসারণ করতে হবে দুর্নীতির তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে এই কর্মসূচির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। দুদকের তদন্তের বর্তমান অবস্থা ২০২৫ সালে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম তদন্তে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন। এর অংশ হিসেবে: রাজাপুর এলজিইডি অফিসের নথিপত্র সংগ্রহ করা হয় প্রকল্পের ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বর্তমানে অভিযোগগুলো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত এদিকে এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকেও একটি প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে: প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়িমসি কর্মস্থলে অনুপস্থিতি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এর ভিত্তিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বদলির আলোচনা স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ এবং মানববন্ধনের পর প্রশাসনিকভাবে তাকে অন্যত্র বদলি করার প্রস্তাব জেলা পর্যায় থেকে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত তিনি রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। সব প্রকল্প সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তদন্তে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে।” সামনে কী হতে পারে দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর আর্থিক লেনদেন ও প্রকল্পের নথিপত্র বিশ্লেষণ শেষ হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে: মামলা দায়ের বিভাগীয় ব্যবস্থা সম্পদের হিসাব যাচাই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতামত স্থানীয় সরকার খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে উন্নয়নের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন তদন্ত জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতি: বর্তমানে তিনি দুদকের নজরদারিতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াটি আমলাতান্ত্রিক স্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিশেষ করে ৪ কোটি টাকার ব্রিজ প্রকল্পের গড়িমসির বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় বড় শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে ।
বিপিসিতে ‘ক্ষমতার সিন্ডিকেট’ অভিযোগে চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব আহম্মদুল্লাহ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এ দুর্নীতি, নিয়োগ জালিয়াতি এবং টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের বিস্তৃত অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ও উপব্যবস্থাপক মো. আহম্মদুল্লাহ। বিপিসির ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ আহম্মদুল্লাহ অস্বীকার করেছেন এবং সেগুলোকে “ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন সূত্রগুলোর দাবি, ২০১৯ সালে বিপিসিতে যোগদানের পর থেকেই আহম্মদুল্লাহ দ্রুত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার সূত্রে তিনি বিপিসিতে চাকরি পান। স্থানীয় সূত্র বলছে, একসময় তিনি সামছুর রহমানের মেয়ের গৃহশিক্ষক ছিলেন এবং সেই সম্পর্ক থেকেই তার চাকরির পথ তৈরি হয়। তবে তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলার দিবাকরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে চাকরি নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার কথাও বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সমালোচকদের মতে, এই রাজনৈতিক পরিচয়কেই তিনি বিপিসির ভেতরে প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। নিয়ম ভেঙে দীর্ঘদিন একই পদে বিপিসিতে চেয়ারম্যানের একান্ত সহকারীর পদ সাধারণত সহকারী ব্যবস্থাপক বা ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা পালন করেন। কিন্তু আহম্মদুল্লাহ উপব্যবস্থাপক বা ৬ষ্ঠ গ্রেডে থেকেও বছরের পর বছর ওই পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিপিসির প্রবিধানমালা অনুযায়ী এটি নিয়মবহির্ভূত হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি বহাল রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও তার প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। রহস্যজনকভাবে বাতিল বদলি আদেশ ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর তৎকালীন চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ দুর্নীতির অভিযোগে আহম্মদুল্লাহকে চট্টগ্রামের প্রধান কার্যালয়ে বদলির আদেশ দেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেই আদেশ বাতিল হয়ে যায়। এরপর তিনি আবার আগের পদেই দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। বিপিসির অনেক কর্মকর্তা এই ঘটনাকে তার অদৃশ্য ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। অবৈধ সম্পদের অভিযোগ বিপিসির ভেতরের কয়েকটি সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আহম্মদুল্লাহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী— ঢাকার মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ভবন মিরপুর এলাকায় দুটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা কোটি কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর একটি বেসরকারি ব্যাংকের শেয়ার ক্রয় গোপন লকারে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ এছাড়া স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের নামেও বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ‘বরিশাল সিন্ডিকেট’ অভিযোগ বিপিসির ভেতরে তার প্রভাব বজায় রাখতে আহম্মদুল্লাহ “বরিশাল সিন্ডিকেট” নামে পরিচিত একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই তার নিজ অঞ্চলের বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিভাগে তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সহযোগী হিসেবে আরেক কর্মকর্তার নাম এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী হিসেবে উপব্যবস্থাপক মো. আশিক শাহরিয়ারের নামও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন ডিপো ও রিফাইনারি থেকে অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাকে “অঘোষিত ক্যাশিয়ার” হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, যোগ্যতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও মাত্র তিন বছর ১৭ দিনের মধ্যে তার পদোন্নতি হয়েছে। আত্মীয়স্বজনের নিয়োগের অভিযোগ বিপিসির ঢাকা রেস্ট হাউস, লিয়াজো অফিস এবং অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া তার বিরাগভাজন হওয়ায় অনেক দক্ষ কর্মকর্তাকে বদলি করা বা চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বড় প্রকল্পেও প্রভাব বিপিসির কয়েকটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পেও তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে— এসপিএম প্রকল্প ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন প্রকল্প ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্প অভিযোগ অনুযায়ী এসব প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ আরও অভিযোগ রয়েছে, দেশের একটি প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের ব্যাংকে বিপিসির বিপুল অর্থ জমা রাখার ব্যবস্থা করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এর বিনিময়ে তার আত্মীয়দের ওইসব ব্যাংকে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যাংকগুলোতে বিপিসির প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘুষ ও মাসোয়ারার অভিযোগ কিছু সূত্রের দাবি, বেসরকারি রিফাইনারি থেকে মাসিক মাসোয়ারা গ্রহণ, বিটুমিন ও ক্রুড অয়েল আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দিতে শিল্পগোষ্ঠীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অনিয়মের সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে। ব্যাংক লেনদেনের তথ্য সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আপ্যায়ন ও জ্বালানি বিল বাবদ ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫১ টাকা উত্তোলনের তথ্য সামনে এসেছে। এছাড়া একটি চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে সাবেক চেয়ারম্যানকে খুশি করার নামে এসি কেনার জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিপিসির নিয়োগ বাণিজ্যের অন্যতম মূল হোতা হিসেবেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বার্তাবাহক পদে ভুয়া ঠিকানায় নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবু এখনো তিনি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। দুদকের অনুসন্ধান এদিকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিজের সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আহম্মদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার নিজ জেলা ঝালকাঠি। অন্য সব অভিযোগ “বানোয়াট ও ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেন তিনি।
বিএনপি নেত্রী ও ব্রিটিশ নাগরিক জেবা আমিনা আহমেদকে ঘিরে বর্তমানে এক নজিরবিহীন স্ক্যান্ডাল ও আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগটি হলো—বিদেশে থাকাকালীন প্রথম স্বামীকে আইনত তালাক না দিয়েই ২০০৫ সালে বাংলাদেশে এসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিবাহে আবদ্ধ হওয়া। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী যা সম্পূর্ণ ‘হারাম’ এবং ব্যভিচারের শামিল। শুধু ধর্মীয় বিধানই নয়, দেশের প্রচলিত আইন ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি অনুযায়ী এটি ৪৯৪ ধারার অধীনে একটি গুরুতর অপরাধ। যেহেতু প্রথম বিবাহটি ব্রিটেনে আইনিভাবে নিবন্ধিত ছিল, তাই এর বিচ্ছেদও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু জেবা আমিনা সেই আইনি তোয়াক্কা না করেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ না ঘটানোয় মুসলিম শরীয়াহ আইনের চরম লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে এলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন বিএনপি নেত্রী জেবা আমিনা আহমেদ। এই সামাজিক ও ধর্মীয় চাপের মুখে অবশেষে দুই বছর পর ২০০৭ সালে প্রথম স্বামী নিয়াজ বিন করিমের সাথে তার আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি আইনত ও ধর্মীয়ভাবে চরম নীতিহীনতার পরিচয় দিয়ে যুগপৎ দুই স্বামীর ঘর করেছেন। তবে কেবল এই অবৈধ বিবাহই নয়, লন্ডনে অবস্থানকালেও তিনি জড়িয়েছিলেন বহুমুখী অনৈতিক ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে। বিলেতের মাটিতে দেউলিয়া ঘোষিত এই নেত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক প্রতারণা ও ঋণখেলাপির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে বিএনপির এই নেত্রীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন নীতিহীন কর্মকাণ্ড ও চরম স্বার্থসংঘাতের জেরে বিএনপির এই নেত্রীর ঢাকার দ্বিতীয় সংসারটিও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। আবাসন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খানের সাথেও তার দাম্পত্য জীবনে চরম তিক্ততার সৃষ্টি হয়, যার পরিণতি ঘটে ২০১৭ সালের বিচ্ছেদের মাধ্যমে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অর্থলিপ্সা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসভঙ্গের মতো গুরুতর সব অভিযোগে এই সংসারটি ভেঙে যায়। এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর সব নথি ও দালিলিক প্রমাণ বর্তমানে প্রতিবেদকের হাতে এসেছে, যা এই রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত জীবনের নৈতিক স্খলন ও স্বার্থান্বেষী আচরণের এক ভয়াবহ চিত্র উন্মোচন করে। অনুসন্ধানের গভীরতর তথ্যে উন্মোচিত হয়েছে এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার চিত্র। ব্রিটিশ বৈবাহিক আইন অনুযায়ী, নিয়াজ বিন করিম ও জেবা আমিনা আহমেদ ১৯৮৩ সালের ১৫ জুলাই পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন এবং নথিপত্র অনুযায়ী ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের সেই দাম্পত্য জীবন কাগজে-কলমে অটুট ছিল। অথচ চরম অনৈতিকতা ও আইনের তোয়াক্কা না করে, প্রথম স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ ছাড়াই ২০০৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এসে তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ দুই বছর যাবৎ আইনত দুই স্বামীর স্ত্রী হিসেবে অবস্থান করা কেবল ধর্মীয় ও সামাজিক বিধানের চরম অবমাননাই নয়, বরং এটি একটি দণ্ডনীয় জালিয়াতি। উল্লেখ্য, এখানে তার একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। গভীর অনুসন্ধানে ব্রিটিশ সরকারের দাপ্তরিক ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জেবা আমিনা আহমেদ জন্মসূত্রে বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী। লন্ডনে অবস্থানকালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে যৌথভাবে তিনি ‘চিলড্রেন প্যারাডাইস (ইউকে)’ (কোম্পানি নংঃ ০৩৭৭২২৩৮) নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তবে অতি দ্রুতই সেই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নানাবিধ অনৈতিক ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল অংকের ঋণে নিমজ্জিত হয়ে পড়লে এবং ব্যবসায়িক সততা লঙ্ঘিত হওয়ায় ব্রিটিশ সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তার এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চিরতরে বন্ধ করে দেয়। জেবা আমিনার এই নজিরবিহীন আর্থিক জালিয়াতি ও নীতিহীন ব্যবসায়িক অপতৎপরতা এতটাই প্রকট ছিল যে, ২০০৫ সালে বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’ তাকে নিয়ে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিলেতের মাটিতে ঋণের পাহাড় আর প্রথম স্বামীর সঙ্গে চরম তিক্ততার জেরে সব হারিয়ে অনেকটা নিঃস্ব অবস্থায় বাংলাদেশে পাড়ি জমান জেবা আমিনা। দেশে ফিরেই তিনি চতুরতার আশ্রয় নিয়ে দেশের শীর্ষ আবাসন ব্যবসায়ী ও তৎকালীন কনকর্ডের পরিচালক মোকাররম হোসেন খানের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই সম্পর্কের নেপথ্যে থাকা ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র ফুটে ওঠে রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খানের জবানবন্দিতে। তিনি জানান, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ২০০৫ সালে তিনি জেবা আমিনাকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় জেবা তার প্রথম স্বামী থেকে বিচ্ছেদের দাবি করলেও কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি। পরবর্তীকালে বেরিয়ে আসে এক বিস্ফোরক তথ্য—বিয়ের সময় নয়, বরং এর দুই বছর পর ২০০৭ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে মোকাররম হোসেন খান ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নংঃ ৩৪৬/১৭)। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, জেবা আমিনা দ্বিমুখী প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। একদিকে বাংলাদেশে তিনি ২০০৫ সাল থেকে মোকাররম হোসেনের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন, অন্যদিকে ২০০৭ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ দেখিয়ে লন্ডনের আদালতে সম্পদের ভাগ চেয়ে মামলা ঠুকে দেন। আইনের চোখে ধুলো দিয়ে এবং চরম নীতিহীনতার পরিচয় দিয়ে তিনি প্রথম স্বামীর বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিকানাও হাসিল করে নেন, যা তার সীমাহীন ধূর্ততা ও অর্থলিপ্সারই বহিঃপ্রকাশ। প্রথম স্বামীকে আইনত তালাক না দিয়ে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে কঠোর আইনি ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা মেট্রো বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর দায়রা জজের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, ‘বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মৌখিক দাবি বা অস্পষ্টতার সুযোগ নেই। যেহেতু আগের বিবাহটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিবন্ধিত (রেজিস্ট্রি) ছিল, তাই তার বিচ্ছেদও অবশ্যই আইনি রেজিস্ট্রির মাধ্যমেই সম্পন্ন হতে হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, প্রথম স্বামী বর্তমান থাকা অবস্থায় এবং বৈধ বিচ্ছেদ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা কেবল দেশের প্রচলিত আইনের চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী সম্পূর্ণ ‘হারাম’ এবং ব্যভিচারের শামিল। জেবা আমিনা আহমেদের এই কর্মকাণ্ডকে একটি গুরুতর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, আইনের চোখে এমন জালিয়াতি ও চারিত্রিক স্খলনের কোনো ক্ষমা নেই। বিচ্ছেদের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে মোকাররম হোসেন খান এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জেবা আমিনা যখন লন্ডন থেকে ফিরে তাকে বিয়ে করেন, তখন জেবা ছিল আকণ্ঠ দেনায় নিমজ্জিত—যা বিয়ের আগে সুকৌশলে গোপন রাখা হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই জেবার আসল রূপ প্রকাশ পেতে থাকে; মিথ্যা তথ্য ও সুনিপুণ প্রতারণার জালে জড়িয়ে তিনি মোকাররম হোসেনের মালিকানাধীন কোম্পানি থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেন, যা পরবর্তীকালে আর ফেরত দেননি। তার এই চরম অর্থলোভ ও উগ্র আচরণের প্রভাব পড়ে পারিবারিক জীবনেও। মোকাররম হোসেনের সন্তানদের সাথে অমানবিক আচরণ এবং তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার ক্রমাগত চেষ্টার ফলে দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছায়। এই অস্থির সময়ের মধ্যেই জেবা আমিনা বিএনপিতে যোগ দিয়ে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। শুধু তাই নয়, কৌশলে মোকাররম হোসেনের কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার নিজের নামে লিখে নিলেও তার বিপরীতে কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি, যার অকাট্য প্রমাণ কোম্পানির অডিট রিপোর্টে বিদ্যমান। প্রতারণার এখানেই শেষ নয়; বিচ্ছেদের পর তিনি উল্টো কোম্পানি কোর্টে মামলা ঠুকে দিয়ে এবং ‘স্ট্যাটাস কো’ (স্থিতাবস্থা) আদেশের সুযোগ নিয়ে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এলাকার একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট অবৈধভাবে দখল করে আছেন। নিজের দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে তিনি মোকাররম হোসেনের স্বাক্ষর জালিয়াতি (ফটোপেস্ট) করে একটি ভুয়া চুক্তিপত্র আদালতে দাখিল করেন। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে পরবর্তীতে থানায় একটি জিআর মামলা (মামলা নম্বরঃ ৩০(৮)১৭) দায়ের করা হয়, যা এই নেত্রীর সীমাহীন ধূর্ততা ও জালিয়াতির এক জীবন্ত দলিল। মোকাররম হোসেন খান জেবা আমিনার বিরুদ্ধে এক লোমহর্ষক ও দুর্ধর্ষ হামলার অভিযোগ এনে বলেন, ‘আমি এক অত্যন্ত গুরুতর ও বর্বরোচিত ঘটনার দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। ২০২৫ সালের ২৭ শে জুন, ঈদুল আজহার ছুটিতে আমি যখন সপরিবারে দেশের বাইরে ছিলাম, ঠিক সেই সুযোগে জেবা আমিনার প্রত্যক্ষ কমান্ডে হিজরাসহ ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও গুন্ডাবাহিনী আমার ভবনে তাণ্ডব চালায়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বারিধারার বাসভবনে প্রবেশ করে আমার মূল বাসভবন (অ্যাপার্টমেন্ট ২০১) এবং আমার সন্তান মাহিরা হোসেন খান ও মেরাজ হোসেন খানের পরিবারসহ বসবাসের স্থান (অ্যাপার্টমেন্ট ৪০১)-এ জোরপূর্বক হানা দেয়। তারা পুরো ভবন দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়, যার সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। এবং তারা আলমারি ও লকার ভেঙে আমার বেশ কিছু দামি ঘড়ি, ল্যাপটপ, মোবাইল, স্বর্ণালঙ্কার, ক্যাশ টাকা ও আরও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে আমি বিদেশ থেকে ফিরে এসে একটা সংবাদ সম্মেলন করি এবং বিভিন্ন পেপার-পত্রিকা বিষয়টি ফলাও করে ছাপাও হয় এবং বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এরিয়াতে যারা বসবাস করে এবং বারিধারা সোসাইটিও বিষয়টি অবগত এবং ওই সময় আমি দেশে না থাকায় তারা আমাকে নানাভাবে সাহায্যও করেছিল। তিনি আরও জানান, এই সহিংসতা জেবা আমিনার জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও ২০১৮ সালে তিনি একইভাবে অ্যাপার্টমেন্ট দুটি দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে গুলশান থানায় একটি মামলা (নং ১৩(১২)১৮) দায়ের করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই সশস্ত্র অনুপ্রবেশ ও হামলার ঘটনায় মোকাররম হোসেন খান কেবল থানায় সাধারণ ডায়েরিই করেননি, বরং ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি সুনির্দিষ্ট সিআর মামলাও (নং ৩৫১৬/২৫) দায়ের করেছেন, যার পুলিশি প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে। বিদেশের মাটিতে দেউলিয়া এবং দেশে দখলদারিত্বের এমন ভয়ানক মিশেল এই নেত্রীর উগ্র ও অপরাধপ্রবণ মানসিকতাকেই নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। মোকাররম হোসেন খান জানান, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সম্পূর্ণ ভবনে তার নামে কোনো অ্যাপার্টমেন্টের মালিকানা না থাকলেও তিনি গায়ের জোরে একটি ফ্ল্যাট দখল করে আছেন। মূলত, একটি ‘কোম্পানি স্যুট’-এর আইনি মারপ্যাঁচে হাইকোর্ট থেকে প্রাপ্ত স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশের আড়ালে জেবা আমিনা এই দখলদারিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। আইনি এই জটিলতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি প্রকৃত মালিকের অধিকার খর্ব করছেন। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকলেও, মালিকানা ছাড়াই ফ্ল্যাটটি আঁকড়ে রাখার এই প্রবণতা তার দখলদারী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি দাবি করেন। মোকাররম হোসেন খান বলেন, বিএনপি সর্বদা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে। তাই জেবা আমিনা আহমেদের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড, আইনি জালিয়াতি ও অপকর্মের আদ্যোপান্ত তুলে ধরে আমি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র প্রেরণ করেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং ন্যায়ের স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই গুরুতর অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। জেবা আমিনার সীমাহীন লোভ ও অনৈতিকতার শিকার হতে হয়েছে তার নিজ পরিবারকেও। গুলশান ২ নম্বরের ১০৮ নম্বর রোডে অবস্থিত ১৭ নম্বর প্লটটি ছিল তার বাবার রেখে যাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি, যা কনকর্ড আতিয়া নামে পরিচিত। অভিযোগ উঠেছে যে, প্লটটি ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে বহুতল ভবন নির্মাণের পর গত ১৫ বছর ধরে জেবা আমিনা ক্ষমতার দাপটে পুরো ভবনের মালিকানা এককভাবে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। শরীয়াহ এবং উত্তরাধিকার আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি তার আপন তিন বোন—লাবিবা আহমেদ, দিবা আহমেদ ও আরবা আহমেদ এবং তার প্রয়াত ভাইয়ের দুই নাবালক সন্তান হেশাম ও হাসানের প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া তাদের ন্যায্য ফ্ল্যাটগুলো অবৈধভাবে দখল করে রাখা শুধু নয়, বরং সেই ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দিয়ে প্রাপ্ত বিপুল অর্থ তিনি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে একাই ভোগ করে আসছেন। প্রতারণার এই জাল পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ওপরও বিস্তৃত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জেবা আমিনা একটি নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট দুইজন পৃথক ব্যক্তির কাছে সুকৌশলে বিক্রি করেছেন এবং উভয় ক্রেতার কাছ থেকেই বিক্রয়মূল্যের মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছেন। শুধু আর্থিক জালিয়াতিই নয়, মোকাররম হোসেন খান তার বিরুদ্ধে এক চরম অমানবিক ও হৃদয়বিদারক অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যার বাবা আমি। কিন্তু জেবা আমিনা এতটাই নিষ্ঠুর যে, আমার সেই অসুস্থ মেয়েটির সঙ্গে আমাকে এবং ভাইবোনদের দেখাও করতে দেয় না।’ একজন গর্ভধারিণী মায়ের এমন প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ এবং আপনজনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার ঘটনাটি সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের এক চরম দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযুক্ত জেবা আমিনা খান ওরফে জেবা আলগাজীর জীবনকাহিনি যেন এক সুনিপুণ জালিয়াতি ও নৈতিক স্খলনের উপাখ্যান। অর্থের প্রতি তার মোহ তাকে এক নীতিহীন প্রতারকে পরিণত করেছে। সাহায্যের নামে মানুষের বিশ্বাস পুঁজি করে তিনি যে ঋণের পাহাড় গড়েন, যা শোধ করার কোনো সদিচ্ছা তার নেই। বরং অন্যের টাকায় বিলাসি জীবনযাপন করাই তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তার জীবনের পরতে পরতে মিশে আছে প্রতারণার ছাপ। তার এ ধরনের ভয়াবহ জালিয়াতি ও বাড়ি দখলের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হওয়ায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। একজন রাজনৈতিক নেত্রীর এমন দ্বিমুখী জীবন ও নীতিহীনতা এখন জনমুখে আলোচনার প্রধান খোরাক। উল্লিখিত একাধিক অভিযোগের বিষয়ে মহিলা দলের সহ-সভাপতি জেবা আমিনা আহমেদ ওরফে জেবা আমিনা আলগাজী বলেন, ‘প্রথম স্বামীর সঙ্গে মৌখিক তালাকের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ইসলামী শরীআ অনুসারে কোনো নারীর তিন ইদ্দ্যত পার হলে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারেন- ইসলাম তাই বলে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে মৌখিকভাবে তালাক হলেও পরবর্তীতে ২০০৭ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে লন্ডনে আদালতের মাধ্যমে ডিভোর্স হয়। এরপর সম্পদের অংশ পেতে মামলা করি। সেটিও নিষ্পন্ন হয়েছে।’ লন্ডনে কোম্পানি দেউলিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে জেবা আমিনা আহমেদ বলেন, ‘দেউলিয়া নয়; লিকুয়েডেশন করে ব্রিটিশ সরকার’। আর অন্যান্য অভিযোগকে তিনি মিথ্যা দাবি করেন। প্রথম বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক নথিপত্র অনুযায়ী, জেবা আমিনা আহমেদ ১৯৮৩ সালের ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্যে নিয়াজ বিন করিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অভিযোগে বলা হয়, তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল ছিল। অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, এর মধ্যেই ২০০৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশে এসে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় প্রথম বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেবা আমিনা আহমেদ বলেন, প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার মৌখিক তালাক হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “ইসলামী শরীয়াহ অনুসারে মৌখিক তালাকের পর ইদ্দত পার হলে দ্বিতীয় বিয়ে করা যায়। পরে ২০০৭ সালে লন্ডনে আদালতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ডিভোর্স সম্পন্ন হয়।” দ্বিতীয় সংসার ও আইনি বিরোধ জেবা আমিনা আহমেদের দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন আবাসন খাতের ব্যবসায়ী ও রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খান। তার অভিযোগ, বিয়ের সময় জেবা আমিনা প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের দাবি করলেও কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি। মোকাররম হোসেন খান ঢাকার সিএমএম আদালতে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। তার দাবি, পরে জানা যায় যে বিয়ের সময় প্রথম স্বামীর সঙ্গে আইনগত বিচ্ছেদ হয়নি। সম্পত্তি ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ মোকাররম হোসেন খানের অভিযোগ অনুযায়ী, জেবা আমিনা আহমেদ তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়েছেন এবং কিছু শেয়ার নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট দখল নিয়ে তাদের মধ্যে আইনি বিরোধ চলছে বলে তিনি দাবি করেন। মোকাররম হোসেনের অভিযোগ, ওই ফ্ল্যাটের মালিকানা না থাকলেও আদালতের একটি ‘স্থিতাবস্থা’ আদেশের সুযোগ নিয়ে জেবা আমিনা সেখানে অবস্থান করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সংক্রান্ত মামলাগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। সহিংসতা ও দখলচেষ্টার অভিযোগ মোকাররম হোসেন খান আরও অভিযোগ করেছেন, ২০২৫ সালের ২৭ জুন ঈদুল আজহার ছুটির সময় তিনি দেশের বাইরে থাকাকালে তার বারিধারার বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। তার দাবি, ১০-১৫ জনের একটি দল ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তিনি এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং আদালতে একটি মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়েও বিরোধ জেবা আমিনা আহমেদের বিরুদ্ধে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান এলাকার একটি পৈত্রিক সম্পত্তিতে তার বোন ও ভাতিজাদের অংশ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তা এককভাবে ব্যবহার করছেন। তবে এসব অভিযোগকেও তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে জেবা আমিনা আহমেদ তার প্রথম স্বামীর সঙ্গে ‘চিলড্রেন প্যারাডাইস (ইউকে)’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন, যা পরে বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “দেউলিয়া হয়নি, বরং কোম্পানিটি লিকুইডেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বন্ধ হয়েছে।” রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জেবা আমিনা আহমেদকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অন্যদিকে জেবা আমিনা আহমেদ দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অধিকাংশ অভিযোগই ভিত্তিহীন এবং আদালতেই এর সত্যতা প্রমাণ হবে।
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর এক দশম গ্রেডের কর্মকর্তা, মাসিক বেতন প্রায় ৪৯ হাজার টাকা। অথচ সেই সীমিত বেতনের মধ্যেই গড়ে উঠেছে অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়—এমন অভিযোগ উঠেছে এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হকের বিরুদ্ধে। একরামুল বর্তমানে কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কর্মরত। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, তার ও তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামে মোট সম্পদের পরিমাণ ৫০ কোটিরও বেশি। এর মধ্যে স্ত্রীর নামে রয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পদ এবং নিজের নামে অন্তত ২০ কোটি টাকার সম্পদ। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। আয়কর নথিতে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের মধ্যে বড় ধরনের অসংগতি পেয়েছে সংস্থাটি। আয়কর নথিতে গরমিল অনুসন্ধানে জানা গেছে, একরামুল হকের বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও তিনি আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন যশোরে। অন্যদিকে তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের আয়কর ফাইল রয়েছে কুষ্টিয়ায়। কিন্তু আয়কর নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জ্ঞাত আয়ের বাইরে অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে একরামুল হকের দাবি, এসব সম্পত্তির মালিক তার ভাই। তবে কেন সেসব সম্পত্তি তার নামে রাখা হয়েছে—এ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের আয়কর নথিতে পেশা হিসেবে “ব্যবসায়ী” উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি একজন গৃহিণী। বসুন্ধরায় ৩০ কোটি টাকার প্লট একরামুল দম্পতির সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডুমনি মৌজায় ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির একটি প্লট। ওই এলাকায় প্রতি শতাংশ জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা হিসেবে প্লটটির সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়ায় অন্তত ৩০ কোটি টাকা। গত জানুয়ারি মাসে শাম্মী আক্তার এই জমির নামজারির আবেদন করেছেন বলে নথিতে দেখা গেছে। তবে একরামুল ও তার স্ত্রী দাবি করেছেন, বসুন্ধরায় তাদের কোনো সম্পত্তি নেই। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে একরামুল বলেন, “আমরা এমন কোনো সম্পত্তির মালিক নই। বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।” কুষ্টিয়ায় জমি ও বহুতল ভবন নথি অনুযায়ী, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট পাঁচটি জমি কিনেছেন একরামুল। চৌড়াহাস-২২ মৌজায় প্রায় ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ জমি কিনে সেখানে একটি ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। জমি ও ভবন মিলিয়ে এর বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। ঢাকা ঝালুপাড়া-২৭ মৌজায় তার নামে রয়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ জমি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। এছাড়া একই এলাকায় ১ দশমিক ১২৩ শতাংশ জমিসহ একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে একাধিক জমি শাম্মী আক্তারের নামে কুষ্টিয়া সদরে দুটি জমির সন্ধান পাওয়া গেছে। হাটশ হরিপুর-১৮ মৌজায় ১৮ দশমিক ৯৭৫ শতাংশ জমি (মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা) হাজরাহাটি-৫৩ মৌজায় ৪৪ দশমিক ১৬ শতাংশ জমি (মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা) স্থানীয় সূত্র বলছে, এসব জমির বর্তমান বাজারমূল্য আরও বেশি হতে পারে। কৃষিজমি, পান বরজ ও বাগান কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় নিজের নামে আরও পাঁচটি জমি কিনেছেন একরামুল। বারুইপাড়া ইউনিয়নের কেউপুর-৫২ মৌজায় প্রায় ৫৫ শতাংশ জমি কিনে সেখানে পানের বরজ তৈরি করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। একই মৌজায় ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন বাগান, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। তামাক ক্ষেত ও বড় কৃষিজমি পোড়াদহ হাজরাহাটি বাজার এলাকায় একরামুলের একটি দোতলা বাড়ি ও চারটি দোকান রয়েছে। এছাড়া হাজরাহাটি-৫৩ মৌজায় প্রায় চার বিঘা জমি কিনে সেখানে তামাক ক্ষেত করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। একই এলাকায় আরও প্রায় সাত বিঘা জমির মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এছাড়া প্রায় ৯ বিঘা জমি রয়েছে যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। ব্যাংক হিসাবেও লাখ লাখ টাকা স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকেও অর্থ জমা রয়েছে একরামুল দম্পতির। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী— স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক: প্রায় ৩ লাখ টাকা সোনালী ব্যাংক: প্রায় ২০ লাখ টাকা মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক: প্রায় ৪৩ লাখ টাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংক: প্রায় ২১ লাখ টাকা অগ্রণী ব্যাংক: প্রায় ৪ লাখ টাকা দুদকের তদন্ত একরামুল দম্পতির সম্পদের উৎস নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আয়কর নথিতে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের বিশাল ব্যবধানের কারণে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ মেলে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
* কোটি টাকার সমবায় ব্যাংকের জমি দখল! বরিশালে উপ-নিবন্ধক মোস্তফার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ * নেপথ্যে উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার এলাকায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে দীর্ঘ সময় বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরে কর্মরত রয়েছেন প্রভাবশালী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা।শেরে বাংলা আঞ্চলিক সমবায় ইনস্টিটিউটে দ্বায়িত্ব পালনের সময় ব্যাপক লুটপাট করেছেন।এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে । বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে ব্যক্তি মালিকানায় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফার বিরুদ্ধে।বরিশালে সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য। পুরো বিষয়টি অনিয়মের মাধ্যমে হয়েছে বলে দাবি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার। তদন্ত শেষে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে জানান তিনি । ইতোমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপক্ষে তার একাধিক পোস্ট ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি ঐ কর্মকর্তার শাস্তির দাবীতে প্রধান উপদেষ্টা, সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন সমবায় ব্যাংকের সাবেক সদস্যরা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ সময় বরিশালে কর্মরত আছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অধীনস্থদের বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। আরও পড়ুন: বরিশাল সমবায় ব্যাংক নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে যমুনা টেলিভিশন ও এখন টিভি অভিযোগে বলা হয়, বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি নাজেমস বিরিয়ানীর মালিক ফরিদুর রহমান রেজার কাছে প্রায় ৯০ লাখ টাকার বিনিময়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করে হস্তান্তর করা হয়।বর্তমানে সেখানে তিনতলা রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে।এ বিষয়ে সমবায় ব্যাংকের সাবেক পরিচালক হোসেন জোমাদ্দার বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা পাইনি। অভিযোগ প্রসঙ্গে উপনিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তৎকালীন বরিশাল সিটি মেয়র সাদেক আব্দুল্লাহর চাপে ভবন নির্মাণের বাধ্য করেছিলেন। স্বৈরশাসক আওয়ামীলীগ এখন ক্ষমতা নেই তবে কেন সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি ফিরিয়ে আনছেন না? তখন তিনি ফোন কেটে দেন।এদিকে সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি দখল করে রাখা হয়েছে, যা ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার করেছেন বরিশালের সর্বস্তরের মানুষ । দখলে সমবায় কর্মকর্তারা জড়িত: বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে নাজেমস রেষ্টুরেন্ট।জমি সমবায় অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীন বরিশাল সমবায় ব্যাংকের। ৩২ শতাংশ জমির আংশিক দখল করে তিন তলা ভবন নির্মান করে নাজেমস বিরিয়ানী নামক রেস্তোঁরার মালিকের কাছে অর্ধকোটি টাকা জামানতে মাসিক ৪৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে। সমবায় অধিদপ্তরের নাকের ডগায় দখল হলেও তারা চিঠি চালাচালীতে ব্যস্ত।উদ্ধারে নেই কোন তৎপরতা ।একসময়, উদ্যোক্তা ও কৃষক পর্যায়ে ঋণ দেয়া ‘বরিশাল সমবায় ব্যাংক’ ২৩ বছর ধরে বন্ধ। ব্যাংকটির জমি ও ভবন দখলে বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা,সমবায় অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় অফিসের সাবেক উপ-নিবন্ধক (বিচার) মোঃ রবিউল ইসলাম,বরিশাল জেলা সমবায় অফিসের সাবেক জেলা সমবায় অফিসার প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জী,সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজ ও মোঃ আমিনুল ইসলামের যোগসাজসে এ জমিতে ভবন নির্মান করা হয়।সুত্র জানায় দখলে সহযোগীতা করায় সমবায় কর্মকর্তারা পেয়েছেন প্রায় ঘুষ । তদন্ত প্রতিবেদন, দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি সমবায় অধিদপ্তর: সমবায় ব্যাংক বরিশালের অবস্থা সম্পর্কে বরিশাল সদর উপজেলা সমবায় অফিসার লতিফা আকতার একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন।তদন্ত প্রতিবেদনটি শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিকট পাঠানো হয়।তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি সমবায় অধিদপ্তর। ,বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফার অদৃশ্য ইশারায় বেদখল হওয়া সমবায় ব্যাংক বরিশালের বত্রিশ শতাংশ জমি ও ভবন উদ্ধারে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি সমবায় অধিদপ্তর,বরিশাল বিভাগীয় ,জেলা ও উপজেলা সমবায় অফিস।সমবায় ব্যাংকের জমিতে নতুন ভবন নির্মানে সমবায় অধিদপ্তরের কোন অনুমোদন নেই। এ ছাড়া সমবায় ব্যাংকের জমিতে নতুন ভবনে রেস্তোঁরা ভাড়ার বিষয় সমবায় অধিদপ্তর এর কোন অনুমোদন নেই। রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোন কমিটি : বরিশালে ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সমবায় ব্যাংক। এই ব্যাংকটির নিজস্ব জমির পরিমাণ প্রায় ৩৬ শতাংশ। প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের কেউ এখন বেঁচে নেই। ২০০১ সাল থেকে সমবায় ব্যাংকের ঋণ দেয়াও বন্ধ। নেই কোনো কার্যক্রম। এতবড় একটি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক পদে একজন কর্মী ছাড়া আর কেউ নেই। অরক্ষিত এ সম্পদে অনেকেরই লোলুপদৃষ্টি। সমবায় ব্যাংকের হিসাবরক্ষক দেলোয়ার হোসেন বাবুল বলেন, ‘খুব বিপদের মধ্যে আছি। বিভিন্নভাবে আমাকে হেনস্তা করছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বগুড়া রোডে সমবায় ব্যাংকটির অবস্থান। এখানে ১১১ বছরের পুরাতন একটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। কিন্তু এই সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোন কমিটি ও যোগ্য কর্মকর্তা। এই সুযোগে ব্যাংকের জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে একটি পক্ষ। সবকিছু অনিয়মে করা হয়েছে বলে দাবি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার। বরিশাল সদরের উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা লতিফা আক্তার বলেন, ‘সমবায় ব্যাংকের জমিতে যে ভবন করা হয়েছে তা সঠিক নিয়মে করা হয়নি। সব কিছুই অত্র কার্যালয়ের অগোচরে করা হয়েছে। ভবন ও জমি সরকারের,আয় ভারতীয় নাগরিক টুটুলের : বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি সমবায়ের জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভারতীয় নাগরিক নিরব হোসেন টুটুল দখলে নিয়ে ভবন নির্মান করে ভাড়া দিয়েছেন নাজেমস বিরিয়ানী নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে। জমি সমবায় অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীন বরিশাল সমবায় ব্যাংকের হলেও ভবনের ভাড়া থেকে বঞ্চিত সরকার।৩২ শতাংশ জমির আংশিক দখল করে তিন তলা ভবন নির্মান করে নাজেমস বিরিয়ানী নামক রেস্তোঁরার মালিকের কাছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা জামানতে মাসিক ৪০ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের পুরাতন ভবনকে নাজেমস প্রতিষ্ঠান রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন।সমবায় অধিদপ্তরের জেলা ও বিভাগের শীর্ষ কর্তাদের যোগসাজসে দখল হওয়ায় চিঠি আর তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বেদখল হওয়া সমবায় ব্যাংকের জমি ও ভবন উদ্ধারের কাজ। সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news * অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায় ।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সেগুনবাগিচা ই/এম বিভাগ-২ এর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল বাশার-এর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকা অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার সেগুনবাগিচা গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-২ এ উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন সুধা সদন এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর -এর বৈদ্যুতিক দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন। সূত্র মতে, যেখানে বড় প্রকল্প সেখানে উপস্থিত ছিলেন এই প্রকৌশলী। গণপূর্তের হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ নিয়ে তিনি নিজের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অগ্রিম কমিশন না পেলে তিনি কোনো ফাইলে সই করতেন না। পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল বাশার বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. আলী হোসেন হাওলাদারের ছেলে। ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ধানমন্ডি ৩২ -এর বৈদ্যুতিক দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিজ এলাকায় অন্যের জমি দখল এবং অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণ করেছেন। এ ঘটনায় কবাই ইউনিয়নের কুদ্দুস মিয়া বাদী হয়ে গত ১২ মার্চ বরিশাল স্পেশাল জজ আদালতে আবুল বাশারসহ চারজনকে বিবাদী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে জি.আর ২৯৬/২৪ (বাকেরগঞ্জ) মামলার ৩ নম্বর আসামি এবং জি.আর ২৬/২৩ (বাকেরগঞ্জ) মামলার ২ নম্বর আসামি হিসেবে নাম রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার বাবার নামে বাকেরগঞ্জের হালুয়া গ্রামে অবৈধভাবে একটি ইটভাটা চালু করেন, যা বর্তমানে এ. এইচ ব্রিকস নামে পরিচিত। এছাড়াও ঢাকায় তার নামে ৫ তলা ভবন, বিভিন্ন প্লট, নিউ মার্কেটে সোনার দোকানসহ নানা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি স্থানীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ -এর রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন মিছিল-মিটিং ও জনসভায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এলাকায় গিয়ে তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হাফিজ মল্লিক-এর পক্ষে কাজ করেছেন এবং ভোটে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -এর বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক। চাকরি জীবনে যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন সেই সরকারের নির্দেশনা মেনেই আমি দায়িত্ব পালন করেছি।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশালের সিটি করপোরেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা কেলেঙ্কারি ফাসঁ। স্থাপনের চেয়ে অতিরিক্ত সংখ্যা ও প্রকৃত মূল্য থেকে অতিরিক্ত বিল করে অর্থ আত্মসাৎ।অভিযোগের তীর জনসংযোগ কর্মকর্তা ও আইটি কর্মকর্তা (চঃদাঃ) আহসান উদ্দিন রোমেলের দিকে।রোমেলের কারনে অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স কার্য্যক্রম ভেস্তে গেছে।এছাড়া রোমেল চাকুরির আড়ালে ঠিকাদারী কাজও করেন। সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ এই রোমেলকে দুর্নীতির কারনে চাকুরীচ্যুত করেছিল। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে কে এই দুর্নীতিবাজ রোমেল : বরিশালে একটি আইটি প্রতিষ্ঠান এর তৈরি ডিজিটাল ট্রেড লাইসেন্স এর কাজ শেষ হলেও উদ্ভোধনের দিনক্ষন নির্ধারিত হওয়ার ঠিক আগ মুহুর্তে ঐ আইটি প্রতিষ্ঠানের কাজকে এড়িয়ে সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ আমলে আর্থিক ক্ষতিসহ ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় চতুর্থ পরিষদের নবম সাধারণ সভায় চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ডের জন্য চাকুরী হারানো আহসিন উদ্দিন রোমেল । গোপনে তার নিজের প্রতিষ্ঠান পিপলো বিডি দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের আইটিসহ বিভিন্ন বিভাগের সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছে। রোমেলের নিজ প্রতিষ্ঠান পিপলো বিডির করা প্রজেক্টের কাজ ও বিল আটকে দেয় সচিব মাসুমা আক্তার।পরে রোমেল ও সচিব মাসুমা অর্থ ভাগাভাগি করে অর্থ আত্মসাৎ করে। এর সাথে কমিশন সম্পর্ক থাকায় রোমেল জনসংযোগ কর্মকর্তার পাশাপাশি আইটি বিভাগের কর্মকর্তার পদটি বাগিয়ে নেয়।আইটি কর্মকর্তা হিসেবে নামে বে নামে বিল ও ভাউচার করতো এ ছাড়া মেয়রের, ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার, সাইনবোর্ড, ফেসবুকে মেয়রের ব্যক্তিগত প্রচারণা (বুষ্টিং )চালানোর নামে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ রোমেলের নামে। নেটওয়ার্কের জন্য ২ লাখ নিয়ে ৭৬ হাজার টাকার কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছে রোমেল। এছাড়া রোমেলের বিরুদ্ধে সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার সাইনবোর্ড ও ফেস্টুন বাবদ ১৩ লাখ নিলেও ৭ লাখ টাকার ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে এই দুর্নীতিবাজ আহসান উদ্দিন রোমেল। এছাড়া নামে মাত্র বুষ্টিংয়ের কাজ করে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৩৭ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই দুর্নীতিবাজ রোমেল। রোমেলের অপকর্মের তথ্য চেয়ে সম্প্রতি তরিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন। সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে সেই আন্দোলনের অন্যতম দাবী ছিল দুর্নীতিবাজ ও সরকারি টাকা আত্মসাৎকারী আহসান উদ্দিন রোমেলকে চাকুরী থেকে বরখাস্তসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করার।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নতুন প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ব্যাপক বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পদোন্নতির পর তিনি বদলি বাণিজ্যকে অর্থ আয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। সূত্রমতে, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শামীম আখতার অবসরে যাওয়ার পর খালেকুজ্জামান চৌধুরী প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনটি শিবিরে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অনেক কর্মকর্তার দাবি, নতুন প্রধান প্রকৌশলী ইতোমধ্যেই তদবির ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রমকে সুসংহত করেছেন। পিএইচডি জালিয়াতি ও বিতর্কিত অতীত খালেকুজ্জামান চৌধুরীর কর্মজীবন শুরু থেকেই নানা বিতর্কে ঘেরা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শিক্ষাজীবনে বিভিন্ন তদবিরের মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরে নিজের পদোন্নতির পথ তৈরি করেন। এমনকি ২০১৪ সালে তার বিরুদ্ধে পিএইচডি ডিগ্রি জালিয়াতির অভিযোগও ওঠে। এই ঘটনায় প্রশাসনিক শাস্তির বদলে তাকে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি পুনরায় পদোন্নতির জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তদবিরে সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রূপপুর প্রকল্প ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট ২০১৫ সালে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের গ্রিন সিটি নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ঠিকাদারদের সঙ্গে শত কোটি টাকার লেনদেনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন খালেকুজ্জামান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক লেনদেন ও প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। বিদেশে বসবাস ও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন খালেকুজ্জামান চৌধুরীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ছুটি ও পিএইচডি ছুটির সুযোগ ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করেন এবং অনুমোদন ছাড়া সেখানে চাকরিও করেন। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, তার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বও রয়েছে। এ বিষয়টি বিদেশি আর্থিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের প্রশ্নও সামনে এনেছে। প্রশাসনিক সমর্থন ও পদোন্নতির অভিযোগ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের দাবি, সাবেক পূর্তসচিব শহীদ উল্লা খন্দকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে খালেকুজ্জামান চৌধুরী প্রশাসনিক সমর্থন পান। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার এবং পদোন্নতির পথ সুগম করা হয়। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নগর নিরাপত্তা ও বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ড ২০২৪ সালের শুরুতে রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৪৬ জন প্রাণ হারান এবং আরও ১৩ জন দগ্ধ হন। তদন্তে উঠে আসে, ২০১১ সালে রাজউকের অথরাইজড অফিসার হিসেবে খালেকুজ্জামান চৌধুরী ওই ভবনের নকশা অনুমোদন করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ভবনে পর্যাপ্ত জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এই ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন ওঠে—নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ না করেই কীভাবে ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বদলি ঝড়ে অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই খালেকুজ্জামান চৌধুরী একাধিক স্মারকের মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা—নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীদের ব্যাপকভাবে বদলি করেন। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে জারি করা একাধিক স্মারকে প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় বদলি করা হয়। এসব বদলির মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, বরিশাল, রাজশাহী, নওগাঁ, রাজবাড়ি, ভোলা ও পিরোজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্মারক নম্বর-২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৭.১১-১৪২৮ তারিখ ঃ ০৪ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৭ জনকে বদলি তাদের নাম- সৈয়দ ইসকান্দার আলী নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম পিএন্ডডি বিভাগ, ময়মনসিংহ। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-৬, ঢাকা। জুবায়ের বিন হায়দার নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম পিএন্ডডি) এর কার্যালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। গণপূর্ত ই/এম পিএন্ডডি বিভাগ, সিলেট এ পদায়নকৃত। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) পণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ, ঢাকা। নাজমুল আলম রববানী নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১১, ঢাকা। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম পিএন্ডডি) এর কার্যালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। মোঃ শরিফুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১১, ঢাকা। মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত ই/এম জোন, ঢাকা এর সাথে সংযুক্ত। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১০, ঢাকা। জনাব মোহাম্মদ তরিকুল আলম নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-৬, ঢাকা। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) এর কার্যালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। জনাব রুবাইয়াত ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম কারখানা বিভাগ, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১১, তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে রাজন চক্রবর্তী, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিপদপ্তর, ঢাকা।সংযুক্ত জনসংখ্যা প্রকল্প কোষ ইউনিট। তাকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ, নোয়াখালী বদলি আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১৩, তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৩ জনকে বদলি ১. এ.এস.এম. সাখাওয়াত ইসলাম, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৬, ঢাকা। তাকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গাজীপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, গাজীপুর। ২. তানজিনা আফরিন জাহান উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। তাকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) তদন্ত কোষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। ৩. রিয়াদুস সালেহীন সাদী উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) তদন্ত কোষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। তাকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৬, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১৫, তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৫ জনকে বদলি ১. আশরাফ-উল আলম উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, বরিশাল গণপূর্ত উপ-বিভাগ, বরিশাল। তাকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাদারীপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ, মাদারীপুর। ২. এম.কে.এম. নুরুল হাসান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ঠাকুরগাঁও গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১, ঠাকুরগাঁও। তাকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পঞ্চগড় গণপূর্ত উপ-বিভাগ, পঞ্চগড়। ৩. মোঃ দেলওয়ার মাহাফুজ সোহাগ, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ফুলবাড়ী গণপূর্ত উপ-বিভাগ, দিনাজপুর। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দিনাজপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১, দিনাজপুর। ৪. ইজাজ আহমেদ খান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, গাজীপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, গাজীপুর। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৯, ঢাকা। ৫. মোঃ তানজিল ইসলাম ভূইয়া, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) চাঁদপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ, চাঁদপুর। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ইডেন ভবন গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১৪ , তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৩ জনকে বদলি ১. মোঃ ইমরান বিন কালাম উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, গণপূর্ত পেকু উপ-বিভাগ, ঢাকা। ২. কামরুন নাহার, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গণপূর্ত পেকু উপ-বিভাগ, ঢাকা। সংযুক্তঃ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সমন্বয়) এর দপ্তর। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গণপূর্ত পেকু উপ-বিভাগ, ঢাকা। সংযুক্তঃ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সমন্বয়) এর দপ্তর। ৩. মোঃ আলী হোসেন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ গণপূর্ত প্রকিউরমেন্ট ইউনিট, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১৬ , তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৪ জনকে বদলি ১. মোঃ রাজু মল্লিক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মানিকগঞ্জ গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, মানিকগঞ্জ। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মতিঝিল গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, ঢাকা। ২. মোঃ হাদিসুর রহমান উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বরগুনা গণপূর্ত উপ-বিভাগ, বরগুনা। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বরিশাল গণপূর্ত মেডিকেল কলেজ উপ-বিভাগ, বরিশাল। ৩. মোঃ কামাল হোসেন হাং, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বরিশাল গণপূর্ত মেডিকেল কলেজ উপ-বিভাগ, বরিশাল। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ঝালকাঠি গণপূর্ত উপ-বিভাগ, ঝালকাঠি। ৪. মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম খান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মতিঝিল গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, ঢাকা। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মানিকগঞ্জ গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, মানিকগঞ্জ। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১২ , তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৭ জনকে বদলি ১। মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলী নওগাঁ গণপূর্ত বিভাগ, নওগাঁ। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২, রাজশাহী। ২। মোঃ আজমুল হক নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পওবিপ্র) এর স্টাফ অফিসার গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। ৩। মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ জনসংখ্যা প্রকল্প কোষ (পিপিসি) ইউনিট। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ গণপূর্ত উন্নয়ন উইং। ৪। মোঃ হারুন অর রশিদ নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী নওগাঁ গণপূর্ত বিভাগ, নওগাঁ। ৫। এস.এম. তৌহিদুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী রাজবাড়ি গণপূর্ত বিভাগ, রাজবাড়ি। ৬। জনাব মোঃ আবিল আয়াম নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী ভোলা গণপূর্ত বিভাগ, ভোলা। ৭। মোঃ শহীদুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ গণপূর্ত উন্নয়ন উইং। নির্বাহী প্রকৌশলী পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগ, পিরোজপুর। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫৩০ , তারিখ ঃ ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৪ জনকে বদলি ১। মোঃ জাহিদুল ইসলাম খান নির্বাহী প্রকৌশলী (রিজার্ভ), গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ গণপূর্ত বিশেষ ডিজাইন ইউনিট, ঢাকা। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী গণপূর্ত ডিজাইন বিভাগ-৮, ঢাকা। ২। মোঃ কামরুল ইসলাম খান নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সমন্বয়) এর দপ্তর। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) সমন্বয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। ৩। জনাব মোহাম্মদ ফতেহ আজম খান নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) (রিজার্ভ), গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ গণপূর্ত বিশেষ ডিজাইন ইউনিট-২, ঢাকা। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) গণপূর্ত ডিজাইন বিভাগ-৭, ঢাকা। ৪। এ.কে.এম তানভীর আহমেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) (রিজার্ভ), গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সমন্বয়) এর দপ্তর। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) সমন্বয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫৩১ , তারিখ ঃ ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৪ জনকে বদলি ১. এ.বি.এম. আশরাফুজ্জামান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ময়মনসিংহ গণপূর্ত উপ-বিভাগ, ময়মনসিংহ। থেেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিরপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, ঢাকা। ২. জনাব উৎপল পোদ্দার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব), ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৩, ঢাকা। থেেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) চাঁদপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ, চাঁদপুর। ৩. আনোয়ার হোসেন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব), শেরপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ, শেরপুর। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ময়মনসিংহ গণপূর্ত উপ-বিভাগ, ময়মনসিংহ। ৪. শেখ আরেফিন নূর, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ঝিনাইদহ গণপূর্ত উপ-বিভাগ, ঝিনাইদহ। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৩, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫২৯ , তারিখ ঃ ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ১ জনকে বদলি মোঃ মোফাজ্জল হোসেন. (সহকারী প্রকৌশলী) সিভিল ময়মনসিংহ গণপূর্ত সার্কেল, ময়মনসিংহ। থেকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) বরগুনা গণপূর্ত বিভাগ, বরগুনা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫২৮ , তারিখ ঃ ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ১ জনকে বদলি উম্মে নায়ার সুলতানা, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব), রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্ত ঃ গণপূর্ত প্রকিউরমেন্ট ইউনিট। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ডিজাইন) এর স্টাফ অফিসার গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। অভিযোগ রয়েছে, এসব বদলির পেছনে তদবির ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি প্রভাব ফেলেছে। প্রশাসনে বিভাজন ও উদ্বেগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন নেতৃত্বের অধীনে প্রশাসনে বিভাজন আরও তীব্র হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট, তদবির ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রশাসনিক প্রভাব শক্তিশালী করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদ দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নগর পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পদে থাকা ব্যক্তির সিদ্ধান্ত সরাসরি জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার ওপর প্রভাব ফেলে। বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু যোগ্যতা নয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ভোলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন ওরফে রিজু ছাত্রজীবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিস্ববিদ্যালয়ে(কুয়েট) ছাত্র লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তিনি আবু সুফিয়ান মাহাবুব লিমন কমিটির ছাত্রলীগ ক্যাডার ছিলেন। যথারীতি ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের বিশেষ বিসিএস ৩২ তম বিসিএস এ ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়ে ক্যাডার কর্মকর্তা বনে যান। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা হিসেবে প্রথম পোস্টিং পান ঢাকা ডিভিশন ১ এ সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে। শংকর মালোর স্টাফ অফিসার হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করে আওয়ামী চেতনা বিক্রি করে তর তর করে কেবল উপরে উঠেছেন। এরপর একে একে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসাবে মিরপুর গণপূর্ত উপবিভাগ ১ এ পাচ বছর এবং ঢাকা গণপূর্ত উপবিভাগ-৬ এ সাড়ে চার বছর দুহাতে অবৈধ অর্থ কামিয়েছেন। এরপরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে চলতি দ্বায়িত্ব পাবার পরে প্রথম পোষ্টিং পান গাজীপুরে। এই গাজীপুরে যেয়ে তিনি সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের সাথে সখ্যতস গড়ে তোলেন। জাহাঙ্গীরের আস্থা ভাজন লোকদের সাথে মিলে নিজের আপন ভাই সহ টেন্ডার বানিজ্য করে লূটপাটের সর্গরাজ্য বানিয়ে ফেলেন। সেই টাকা দিয়ে গাজীপুরে ভূমি দস্যু সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজসে রিসোর্ট কিনেছেন মর্মে জানা যায়। তিনি জাহাঙ্গীরগং অন্যের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী দখল করে বেনামে চালাচ্ছেন । ২০২৪ এর জুলাই গণুভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরের পৈশাচিক ভূমিকা কারো অজানা নয়। ছাত্র জনতা হত্যায় এই রিজু শুধু অর্থ ও জনবল দিয়ে সাহায্য করেনি বরং নিজে মাথায় লাল ফিতা বেধে মোটর সাইকেলে চড়ে উত্তরা এলাকায় সরাসরি ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালিয়েছেন। তিনি জাহাঙ্গীরের সাথে প্রায়ই নারী বান্ধবী সহ ইন্টার কন্টিনেন্টালে লাঞ্চ করতেন। জুলাই গনুঅভ্যুত্থানের সময় তিনি জাহাঙ্গীর সহ উত্তরা ক্লাবে রাতের বেলা মদের পার্টিতে একাধিক বার গোপন বৈঠক করেছেন । ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পরও সব কিছু সামলে নিয়েছিলেন রিজু। কিন্তু বিধিবাম। ছাত্র জনতার উপর গুলি চালানো এই সাবেক ছাত্রলীগের গুন্ডাকে সরাতে আইইবির বিএনপি পন্থী নেতারা এবং ততকালীন সমন্বয়করা প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করলে ৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে প্রধান প্রকৌশলী ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৩.২৪-১৪১৩ স্মারকে ভোলায় বদলী করতে বাধ্য হন। কথিত আছে বিভিন্ন সময়ে ঢাকায় বিএনপির জন সভা পন্ড করতে জাহাঙ্গীর বাহিনী যে রংকরা বাশ দিয়ে বেধড়ক পিটাতেন তা সাপ্লাই দিতেন আশ্রাফ উদ্দিন রিজু। আশরাফ গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগ থেকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর জুনে বিশ কোটি টাকা লোপাট করেছেন। সাবেক মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীকে চার কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে পোষ্টিং বাগিয়ে নিয়েছিলেন নেয়ার পর টাকার নেশায় দুর্নীতি ও অনিয়মের হোলি খেলায় নেমে ছিলেন। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন অমান্য করে এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে ২০% কমিশন নিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। এখানেই আশরাফ অপকর্ম শেষ নয় তিনি তার আপন ভাই এর প্রতিষ্ঠান কে ছয় কোটি টাকার একটি কাজ পাইয়ে দেন যা পিপিআর ও পিপিএ পরিপন্থী কারন একজন TEC মেম্বার নিকট অত্মীয় টেন্ডার অংশ গ্রহন করার কোন সুযোগ নেই যা গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র ও ইজিপি পোর্টালে যাচাই করলে প্রমান পাওয়া যাবে। এই আশরাফ সাবেক মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীর আস্থাভাজন হওয়ায় জুন মাসে তিন কোটি টাকার RFQ করে কাজ না করে কোটেশন আহবান করার পরদিন বিল পরিশোধ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে ১০% লাভ দিয়ে পুরো টাকা হাতিয়ে নেন। আশরাফ অপকর্ম এখানেই থেমে থাকিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-বিভাগীয় প্রকোশলীর দপ্তরের সাইন ও সিল মোহর ছাড়া ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠান কে তিন কোটি টাকার বিল পরিশোধ করে ৩০% টাকা কমিশন নেন যা গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র যাচাই করলে প্রমান পাওয়া যাবে। আশরাফের বিরুদ্ধে উক্ত অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে তিন সদস্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে মোঃ আশিক আহমেদ শিবলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রকিউরমেন্ট সেল, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা আরেক সদস্য হলেন মোঃ বদরুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সাভার গণপূর্ত সার্কেল, ঢাকা ও সদস্য সচিব করা হয়েছে হাফসার মৌরি, নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রকিউরমেন্ট সেল, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। প্রতিবেদক তদন্ত কমিটির আহবায়ক মোঃ আশিক শিবলী সাদিক কে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন তদন্ত শেষ না হলে তদন্তের সার্থে কিছু বলা যাবে তবে এটুকু বলে যায় আশরাফ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয় বেশ কিছু প্রমান পাওয়া গেছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করবো প্রধন প্রকৌশলীর নিকট এটুকু বলতে পারি। এ বিষয় অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ বলেন নতুন ভাবে যিনি গেছেন তিনিও (শারমিন আখতার) ফ্যাসিস্টের দোসর। কিছু সাংবাদিকদের বলেন তার বাড়ি গোপালগঞ্জ, আপনারা তার বিরুদ্ধে লিখছেন না কেন, তার অনেক বিতর্কিত কর্মকান্ড রয়েছে, সেগুলো লিখছেন না কেন? আশরাফ, গতবছর গ্রেফতার হওয়া টেন্ডার মাফিয়া নূসরাত হোসেনের ঘনিষ্ট। এই নূসরাতের বন্ধু প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার তাই তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা দিবেন তাতে সন্দেহ নেই। গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর আশীর্বাদপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা ১২ বছরের চাকুরি জীবনে কখনও ঢাকার বাহিরে একদিনের জন্যও চাকুরি করেন নি। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই নিয়ে খুব গর্বও করতেন তিনি সহকর্মীদের সাথে। ভোলায় বদলী হবার পর অঢেল টাকা ঢেলে নিজেকে বিএনপি পন্থী , কখনবা এনসিপি পন্থী প্রমান করতে চাচ্ছেন। বাড়ি পঞ্চগড় এই সুত্র ধরে বিএনপির একজন অত্যন্ত প্রভাব শালী নেতার পিএস কে ধরে ঢাকায় ঢোকার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। তাতে কাজ না হলে আবার অন্য ডালে পা দেন। এনসিপির এক নেতাকে নির্বাচনে ডোনেশন দিয়ে তদবীর করান। কিন্তু উপদেষ্টার কার্যালয় ম্যানেজ না হওয়ায় তিনি সে যাত্রায় সফল হননি। এখন রিজু ফন্দি এটেছেন রাঙ্গামাটিতে ১১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে , সেখানে গিয়ে টেণ্ডার বানিজ্য করবেন। খুনি হাসিনার কুকর্মের সহযোগী এই কর্মকর্তার যেখানে জেলে থাকার কথা সেখানে তাকে আরো দুহাতে টাকা কামানোর সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে তার আপা দিল্লী দাসি হাসিনাকে হুন্ডিকরে ভারতে টাকা পাঠানোর জন্য? আমরা অবিলম্বে তার গাজীপুর এ সঙ্গঘটিত দূর্নীতি অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন এর আলোকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা দেখতে চাই। আই ওয়াশ বদলী কোন শাস্তি নয়। চাকুরি বিধিমালা ও প্রজাতন্ত্রের প্রচলিত আইনে তিনি দূর্নীতি ও কৃত ফৌজদারী অপরধের শাস্তি পেয়েছেন কিনা তা আমরা দেখতে চাই। যদি দুষ্টের দমন না হয় তবে সৎ ও ভালো কর্মকর্তা গন হতাশ হয়ে পড়বে, সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে , তখন এই আওয়ামী দালালরাই ‘মব, মব’ বলে মুখে ফেনা তুলবে।
শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ব্যক্তিগত সহকারী আবুল কালাম আজাদ ক্ষমতার আশ্রয়ে গড়ে তোলেন এক ভয়ংকর দুর্নীতির সাম্রাজ্য। ঝালকাঠির সব ঠিকাদারি কাজ হতো আজাদের ইশারায়। আমুর আস্থাভাজন হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। নামে-বেনামে গড়েছেন বিপুল সম্পদ। চলেন রেঞ্জ রোভার ও প্রাডো গাড়িতে। ইউপি নির্বাচনে বাণিজ্য, ভোটবাণিজ্য, সিন্ডিকেট বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমেও হাতিয়েছেন কোটি টাকা। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যে এসব খবর পাওয়া গেছে। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে কালাম, একসময় ছিলেন বেকার। ২০১৪ সালে সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর ব্যক্তিগত সহকারী হওয়ার পর থেকেই তার ভাগ্য বদলাতে থাকে। সাধারণ মানুষ তাকে ‘আমুর ছেলে’ নামে চিনলেও, এ পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে ছিল ভয়ংকর সব অপকর্ম। আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে আইজিপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। জানা গেছে, রাজাপুরের রাজনীতি, ঠিকাদারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ, সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, টেন্ডার বাণিজ্য, প্রতিপক্ষের ওপর হামলাÑ তার ক্ষমতার অপব্যবহারের তালিকা ছিল সীমাহীন। তার ছিল নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের দমনে বাসাবাড়িতে ভাঙচুরের নেপথ্যেও ছিলেন তিনি। স্থানীয় ও দুদকে অভিযোগ সূত্র জানা গেছে, ঢাকার ধানমন্ডির লেকের পাশে ২/এ রোডের ৫০ নম্বর বাড়ির একটি বহুতল ভবনে তার একটি ফ্ল্যাট (৪-বি) রয়েছে। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৫ কোটি টাকা। ধানমন্ডির ১৩/এ, লেক সার্কাসের হাচান টাওয়ারে লিফটের-৫ এ তার ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া ধানমন্ডিতে তার অর্ধডজন ফ্ল্যাট রয়েছে। নিজে চলাফেরা করেন রেঞ্জ রোভার ঢাকা মেট্রো-ভ-১৮০৫০৩ ও একটি প্রাডোতে। মোহাম্মদপুর বছিলায় সওদাগর এক্সপ্রেস নামে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। তার ব্যবসা পরিচালনায় সারা দেশে ৪০০টি গাড়ি রয়েছে। গ্রামের বাড়িতে তিন কোটি টাকায় নির্মাণ করেছেন প্রাসাদ। প্রভাব খাটিয়ে নিজের এলাকায় অনেক জমিজমা ক্রয় এবং দখল করেন নিজের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নামে। এ ছাড়া তার নামে-বেনামে ঢাকায় বাড়ি-গাড়ি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আমির হোসেন আমুর পিএস আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করলে তার অবৈধ সম্পদ বেরিয়ে আসবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকার এক ব্যক্তি জানান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমুর নাম ভাঙিয়ে সওদাগর কুরিয়ার সার্ভিস পরিচালনা করেন আমুর পিএস আজাদ। এ কুরিয়ার সার্ভিসের আড়ালে তিনি চালাতেন মাদকের ব্যবসা। সওদাগরে আমুর নাম থাকায় তার টিকিটিও ধরতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তিনি জানান, কিছু দিন আগে কুড়িগ্রাম শহরের কলেজ মোড় এলাকায় সওদাগর এক্সপ্রেস লিমিটেড কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসের ভেতর থেকে ফেনসিডিল ও ভারতীয় প্রসাধনীসামগ্রী জব্দ করে পুলিশ। কার্টনে সাদা পলিব্যাগে মোড়ানো ১৫০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করে পুলিশ। তবে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। বাড়ির সামনে জীবনদাসকাঠী এন এ এস দাখিল মাদ্রাসার করনিক রফিকুল আলমকে জোরপূর্বক ২০২৫ সালের জুন মাসে রিজাইনপত্র রেখে সেখানে তার আপন ভাবি রুবিনা আক্তারকে চাকরি দেন আবুল কালাম আজাদ। এ ছাড়া তার অত্যাচারে আমরা এলাকাবাসী ১৭ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছি। দুদকের অভিযোগ সূত্র জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদ ফ্যাসিবাদের পুরো সময় ধরে আমুর নাম ভাঙিয়ে লুটপাট, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নিয়োগ-বদলিবাণিজ্য থেকে শুরু করে মনোনয়ন বাণিজ্যসহ অসংখ্য দুর্নীতি ও মাদক কারবার করে হাজার কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে কিংবা টেন্ডার বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটালে যখন তখন যে কাউকে পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনী কিংবা প্রশাসনের ক্ষমতায় জিম্মি করে চাঁদা আদায় করতেন। বর্তমান নিজ এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বেও থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনুদানসহ নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করছেন আজাদ। জানা গেছে, বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসায় নিয়োগবাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন। গালুয়া ইউনিয়নের এক মাদ্রাসার শিক্ষককে সরিয়ে নিজের ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়োগ দেন তিনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত এক এজেন্টকে মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন তিনি। টিপু মিয়া নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শুধু নির্বাচনে বিরোধী পক্ষের এজেন্ট থাকার কারণে তাকেও মারধরের শিকার হতে হয়। এমনকি মুজাম্মেল মাওলানা নামের এক ব্যক্তির ঘর পুড়িয়ে দেন, শুধু তিনি বিএনপি করেন বলে। গালুয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য চান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন আবুল কালাম। টাকার বিনিময়ে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনে জয়লাভ করিয়েছিলেন তিনি। আমার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। এমন কিছু নেই, যা তিনি করেননি। যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ হলে টাকার বিনিময়ে তিনি তার পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতেন।’ আব্দুল আজিজ আকন নামে একজন জানান, এলাকায় সরকারি অনুদানের টাকাও লুটপাট করেছেন কালাম। গরিবদের জন্য বরাদ্দকৃত নলকূপ ও ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। অনেকে এখনো তার কাছে টাকা পাওয়ার দাবি করেন। এ ছাড়া, রাজাপুরের জি কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরিচয় না প্রকাশের শর্তে নলছিটি উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, আমুর সঙ্গে দেখা করতে হলে অনুমতি নিতে হতো আজাদের। উন্নয়নমূলক সব কাজের ভাগ-বাটোয়ারা করতেন তিনি। তার মাধ্যমেই নির্বাচনি এলাকা থেকে শত শত কোটি টাকা কামিয়েছেন আমু। স্থানীয়দের দাবি, শুধু গ্রেপ্তারই নয়, আজাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর সঠিক তদন্ত হতে হবে। প্রশাসনের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই দুর্নীতিবাজের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে না পারে।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশালের সাবেক উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে দশ কোটি টাকা ঘুস নেয়ার অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ডাঃ এনামুল হক নামে একজন ব্যক্তি এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট এই লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,৩৩ ব্যাচের উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকার সরকারি রাজস্ব আদায়ের টার্গেট নয় তিনি নিজের জন্য ডাক্তার ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে ভয়ংকর পদ্ধতি অবলম্ভন করে ঘুস নিতেন।বরিশাল কর অঞ্চলে কর্মরত থাকাকালিন সময়ে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে কর আদায়ের নামে ঘুস নেয়া ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। বরিশালের একজন করদাতা মোঃ জহিরুল ইসলাম উপ কর কমিশনার নেফাউল ইসলামকে নিয়ে একটি কবিতাও লিখেছিলেন। কবিতার শিরোনাম ছিল “কষ্ট করিয়া আমি আয় করি,ধনি হয় নেফাউল” ।কবিতার শিরোনামেই প্রকাশ পেয়েছিল নেফাউলের ভয়ংকর দুর্নীতির চিত্র। ডাঃ এনামুল হকের দেয়া লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে,ঝালকাঠির মেসার্স জাবেদ ফ্লাওয়ার মিলসটির ফাইল ছিল বরিশাল সার্কেল -১(কোম্পানীজ) এ ।২০১৬-২০১৭ করবর্ষ থেকে ছয় বছরের ব্যাংক তল্লাশি দিয়ে ১৬০০ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা পাওয়া যায়।ব্যাংকে কিভাবে এত টাকা জমা হলো এবং নামমাত্র কর দিয়ে কিভাবে রেহাই পেল যা তদন্ত করলে সকল গোমড় ফাঁস হবে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।নামমাত্র করধার্য্য করার কারনে এই মিল মালিক থেকে উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম নিয়েছেন ঘুস হিসেবে দশ কোটি টাকা। এছাড়া অভিযোগে বরিশালের আরিফ মেমোরিয়াল ক্লিনিক এর নজরুল ইসলাম,নাসরিন জাহান ও আরিফ মেমোরিয়াল ক্লিনিক এন্ড হসপিটাল নামের এই তিনটি ফাইলের ব্যাপারেও পরীক্ষা করার আবেদন করা হয়। নেফাউল ইসলাম সরকার বরিশালে থাকাকালিন সময়ে ডাক্তার ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। করদাতাদের কাছে আতংকের এক নাম উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকার। তার কাছে করদাতার ফাইল মানেই মোটা অংকের ঘুষ। তিনি সেসব স্থানে কর্মরত ছিলেন সেসব স্থানের সকল ফাইল পরিক্ষা -নীরিক্ষা ও নেফাউল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত পুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানানো হয়।মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকার ২০১৪ সালে সহকারি কর কমিশার পদে চট্রগ্রাম কর অঞ্চল -৩ এ যোগদান করেন।তিনি বরিশালে কর্মরত ছিলেন সার্কেল -৮,৯ সহ বিভিন্ন সার্কেলে।বরিশালে তিনি কর বিভাগে ঘুসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। বরিশাল থেকে তাকে ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর ঢাকা কর অঞ্চল -১৫ তে বদলী করা হয়।ঢাকায় কর অঞ্চল ১৫ এর অধীনে সার্কেল ৩১৬,৩১০ (কোম্পানীজ) তে কর্মরত থাকাকালীন ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রোষানলের শিকার হয়েছেন।তিনি কর কর্মকর্তাদের এক নেতা ছিলেন।সম্প্রতি তিনি পদত্যাগও করেছেন।তিনি রাজস্ব আদায়ের থেকে নিজের সহায় সম্পদ বাড়াতে ঘুসের জন্য ছিলেন বেপরোয়া।তাকে ঢাকা থেকে খুলনায় বদলী করা হয়েছে।খুলনা কর কমিশনার কার্যালয়ের অধীনে সার্কেল -১ (কোম্পানীজ),সার্কেল -৮ (খুলনা সদর) এ উপ কর কমিশনার পদে কর্মরত রয়েছেন। এনবিআর বিলুপ্ত করে মে মাসে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারির পর শুরু হওয়া আন্দোলনের অন্যতম নায়ক ছিলেন নেফাউল ইসলাম সরকার। অধ্যাদেশ জারির পরে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন নেফাউল ইসলামসহ বিতর্কিত কর্মকর্তারা।অনেককে বাধ্যতামুলক অবসর দেয়া হলেও নেফাউলের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। নেফাউলের বিরুদ্ধে তখন সরকার বিরোধী আন্দোলনে জনমত গঠনেরও অভিযোগ উঠেছিল। এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের নেপথ্যের নায়ক ছিলেন এ নেফাউল ইসলাম সরকার।তিনি কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসুচীর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। নেফাউল ইসলাম সরকারকে নিয়ে বরিশালের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোঃ জহিরুল ইসলাম তার ফেসবুকে একটি লেখা প্রকাশ করেন। লেখাটি হুবহু দেয়া হল- কষ্ট করিয়া আমি আয় করি ধনি হয় নেফাউল। ২০২৩ সালে বরিশালের আয়কর বিভাগের এই লোকের ঘুষ নির্যাতনের শিকার হয়ে ক্ষোভ, রাগ, দুঃখ ও অসহায়ত্ব নিয়ে এই ছড়াটি লিখেছিলাম। সোহেল এর ছড়া এবং কবিতা: আয়কর নোটিস ২০২৩ তখন বরিশালে অগনিত লোক এর ঘুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলো। পরবর্তী নির্যাতনের ভয়ে কেউই মুখ খোলেনি। আমাদের কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ চেয়েছে। ঘুষ দেইনি বলে কল্পিত আয় ধরে যেই আয়কর ধার্য করেছিলো, সেটা পরিশোধ করতে ব্যংক লোন নিতে হয়েছে। আয়কর বিভাগের উপরে, ঘুষখোরের উপরে ঘেন্না ধরে গিয়েছিলো। তৎকালীন চেয়ারম্যন রহমাতুল মোমেনিনও এসব এড়িয়ে গেছে। জানিনা এদের বিচার হবে কিনা। তবে শিক্ষিত এসব কুলাঙ্গার দেশের জন্য সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকর। এদের বিচার না হলে সাধারন মানুষকেও এদের ঘুষের টাকা জোগার করতে, বাধ্য হয়ে অনিয়ম করতে হয়। দৃষ্টান্তমুলক বিচার হোক এদের, বৈষম্যহীন হোক আয়কর আইন, ঘুষখোরহীন ও জনবান্ধব হোক রাজস্ব বিভাগ। মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে তার মোবাইলে কল করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।ফলে তার বক্তব্য গ্রহন করা সম্ভব হয়নি।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল হাউজিং এস্টেটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সম্পদের পাহাড় শীর্ষক শিরোনামের অভিযোগ আমলে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন । দুদক রফিকুল ইসলামের সম্পদ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভৃত সম্পদের অনুসন্ধান করবে। দুদকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৩ অক্টোবর দুদক কমিশনার,দুদক মহাপরিচালক,দুদক বরিশাল বিভাগীয় পরিচালকের উপস্থিতিতে রফিকুল ইসলামের দুর্নীতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভৃত সম্পদের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় পিরোজপুর আয়োজিত ঝালকাঠি জেলা শিল্প কলা একাডেমি মিলনায়তনে দুদকের গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী,বিশেষ অতিথি হিসেবে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন,ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান,ঝালকাঠির পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায় এবং দুদকের বিভাগীয় কার্যালয় বরিশালের পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার । রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ : জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরিশাল উপ-বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম একই কর্মস্থলে ১৫ বছর।ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার প্রভাবে বরিশাল হাউজিং এস্টেট রুপাতলীতে স্বজনদের নামে নিয়েছেন ৩ টি প্লট। বরিশাল,পিরোজপুর ও নলছিটি হাউজিং এস্টেটে প্লট বানিজ্য করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। মোঃ রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ প্রশাসনিক কর্মকর্তার পাশাপাশি বরিশাল উপ-বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলীর দ্বায়িত্বে ছিলেন।দু’হাতে কামিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা ও বরাদ্দ প্রাপ্তীর নীতিমালা লঙনের শত অভিযোগ থাকলেও ঘুসের বিনিময়ে বৈধতা দিচ্ছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিধি বিধান ও নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে রুপাতলী হাউজিং এস্টেটের অভ্যান্তরে গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।রফিকুল ইসলামের সহযোগীতায় খেলার মাঠ দখলসহ অবৈধ স্থাপনা রয়েছে অসংখ্য।মাসিক মাসোয়ারা পান তিনি এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে। বরিশালে ১৫ বছর : জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ খুলনা বিভাগের অধীনে বরিশাল উপ বিভাগে মোঃ রফিকুল ইসলাম ১৫ বছর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন।এছাড়া তিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলীর দ্বায়িত্বও পালন করেছেন বহু বছর।বরিশাল অঞ্চলে কর্মকালীন সময় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দোসর হিসেবে তৎকালীন ক্ষমতাসীন লোকজনকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে হয়ে উঠেছেন ধন কুবের। বিষেশ করে পিরোজপুর হাউজিং ও সর্বশেষ নলছিটি হউজিং প্রকল্প থেকে তিনি কোটি টাকার মালিকানা অর্জন করছেন। তার ভাই, বোন ও বোনের ভামাইয়ের নামে নিয়েছেন একাধিক প্লট যেখানে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি। তিনি তার বড় ভাইয়ের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেন করে থাকেন। রুপাতলী হাউজিংয়ে প্লট সংক্রান্ত যেকোনো কাজের জন্য তাকে ঘুস দিতে হয়। রুপাতলী হাউজিং এস্টেটে গরুর হাট তিনি ঘুসের বিনিময়ে নামজারী, বা স্থাপনার অনুমোদনের জন্য মোটা অংকের ঘুস নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।রফিকুল ইসলাম লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার জন্য নিজের ভাই এবং বোনের জামাই ও বোনের নামেই একাধিক প্লট নিয়ে স্থাপনা করেছেন। তার নামে বেনামে ঢাকায় একাধিক প্লট, ফ্লাট, বাড়ি রয়েছে। পটুয়াখালী সদরে তার বাড়ি এবং বাউফলে শত শত একর জমি রয়েছে। বরিশালের রুপাতলী হাউজিংয়ে খেলার মাঠ দখল,হাউজিং এর মধ্যে দোকান উঠিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে রফিকের সহযোগীতায় রুপাতলী হাউজিং এস্টেটে গরুর হাট স্থাপন করা হয়েছে। রূপাতলী হাউজিং এস্টেটে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক: সরকারের সকল নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলিকে দেখিয়ে আইন বর্হিভূতভাবে বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকায় একের পর এক গড়ে উঠেছে অবৈধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে পরিবেশ, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অপরদিকে মাসিক মাসোহারার বিনিময়ে অবৈধ কর্মকান্ড-কে বৈধতা দিচ্ছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম । সূত্রমতে, সরকার জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ৪৭০টি আবাসিক প্লট নিয়ে বিসিসির ২৪নং ওয়ার্ডে গড়ে তোলা হয় ‘রূপাতলী হাউজিং এস্টেট’। বরাদ্দ প্রাপ্তির নীতিমালা অনুযায়ী কোন গ্রাহক তাদের নির্মিত স্থাপনায় কোন ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা কিংবা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতে পারবেন না। বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের একজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একটি দফতর কাজ করলেও তারা এখন ঠুটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছেন। ‘রূপাতলী হাউজিং এস্টেট’ এ বর্তমানে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে কাঁচা বাজার, বেসরকারী স্কুল ও কলেজ, মাদ্রাসা, কিন্ডার গার্ডেন, এনজিও, হাসপাতাল, আবাসিক হোটেল, ফার্নিচারের শো-রুম, বিউটি পার্লার, ফ্যাশন হাউজ, ইলেকট্রিক শপ, হার্ডওয়ার, স্যানিটারি, খাবার হোটেল, স্টুডিও, কম্পিউটার শো-রুম, ফোন-ফ্যাক্স, মোবাইল শো-রুম, গার্মেন্টস শো-রুম, জুতার শো-রুম, ওয়াল্টন শো-রুম, অটোমোবাইল মেশিনারি শো-রুম, স্টেশনারি, মুদি দোকানসহ কয়েক শ’ অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা। আর এগুলো বরাদ্দ দিয়ে মালিকপক্ষ জামানত হিসেবে আদায় করছে কোটি কোটি টাকা যা সম্পূর্ণ আইন বর্হিভূত। আর এ সকল বাণিজ্যিক স্থাপনায় ব্যবহৃত বিদ্যুত বিল পরিশোধ করছেন আবাসিক হিসেবে। এছাড়া হাউজিংয়ের অভ্যন্তরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র সড়কের দুই পার্শে¦ গড়ে তুলেছেন ছোট ছোট টং ঘর। যা থেকে প্রতিদিন নিদিষ্ট হারে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুত সংযোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিককে আবাসিক বিলে রূপান্তরিত করে দুই একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মাসিক তিন থেকে পাঁচ শ’ টাকা করে উৎকোচ আদায় করার অভিযোগ রয়েছে বিদ্যুত বিতরণ বিভাগের দায়িত্বরত লাইন সাহায্যকারীর বিরুদ্ধে। রূপাতলী হাউজিং এস্টেট এ অবস্থিত একটি মার্কেটের মালিক বলেন, আমি টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করে মার্কেট করেছি। আইন অনুযায়ী আপনি এখানে মার্কেট করতে পারেন কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি দ্বিতীয় পার্টি। আমার জন্য ওই আইন প্রযোজ্য নয়। এ বিষয়ে বিদ্যুত বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকোর নিবার্হী প্রকৌশলী বলেন, রূপাতলী হাউজিং এস্টেটে বাণিজ্যিক সংযোগ দেয়ার কোন সুযোগ নেই। যারা অবৈধভাবে আবাসিক মিটারের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সংযোগ ব্যবহার করছে সুনিদিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রূপাতলী হাউজিং এস্টেট কল্যাণ সমিতির এক সদস্য বলেন, এখানে বসবাসকারী কোন ব্যক্তি কোন ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। তার পরেও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইন ও বিধি বিধান অমান্য করে একের পর এক বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে হাউজিং এলাকায় ৪৫ একর জমিতে ৪৭১টি প্লট বরাদ্দকালে হাউজিংয়ের বাসিন্দাদের জন্য ১২তলা মার্কেট নির্মাণের জন্য একপাশে জমি বরাদ্দ রেখে প্লান করা হয়। মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।দ্রুত তাকে অপসারনের দাবী জানিয়েছেন রুপাতলী হাউজিং এস্টেটের সাধারন প্লট মালিক ও ভুক্তভুগীরা। ২০ লাখ টাকা ঘুস না দেয়ায় টেন্ডার বাতিল : জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের অধীনে বরিশাল উপ বিভাগের জন্য রুপাতলী হাউজিং এস্টেটে চার তলা ফাউন্ডেশন এবং দু’তলা অফিস ভবন নির্মান ও অভ্যান্তরীন স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক কাজের দরপত্র আহবান করা হয় ২০২২ সালের ১৭ আগষ্ট। একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর দরপত্রে সর্ব নিম্ম দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হয় কাজী হোল্ডিং।দ্বিতীয় দরদাতা হোন সাংহাই জিয়ারুই মেটালোজিক্যাল এন্ড হেভী ম্যাশিনারী বিডি লিমিটেড। তৃতীয় দরদাতা হলেন এস এ ট্রেডিং করপোরেশন। সর্ব নিম্ম দরদাতা হিসেবে কোটেশন দর প্রদান করেন দুই কোটি তেত্রিশ লাখ ৯৭ হাজার এক শত ৪৪ টাকা।অফিসিয়াল কস্ট ইস্টিমেট ছিল দুই কোটি ৩৩ লাখ ১২ হাজার দুই শত ছত্রিশ টাকা। পে অর্ডারসহ সকল বিধি বিধান মেনে দরপত্রে অংশ নিয়ে কাজী হোল্ডিং সর্ব নিম্ম দরদাতা হলেও কার্যাদেশ প্রদান করা হয়নি। সুত্র জানায় কাজী হোল্ডিং দরপত্রে সর্ব নিম্ম দরদাতা হিসেবে উত্তীর্ন হলেও আটকে যায় কার্যাদেশ।কারন কাজটি থেকে বিশ লাখ টাকা ঘুস দাবী করেছিলেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরিশাল উপ-বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম। এ ব্যাপারে কাজী হোল্ডিং এর প্রতিনিধি জানান,মোঃ রফিকুল ইসলাম একজন দুর্নীতিবাজ ও ঘুসখোর লোক।রফিকের দাবীকৃত বিশ লাখ টাকা ঘুস না দেয়ায় কার্যাদেশ প্রদান করেন নি তিনি। ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ: এছাড়া মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অন্যের নামে তিনি পুকুরে মাছ চাষ করে আয় করছেন বিধি বহির্ভূত ভাবে। রুপাতলী হাউজিং এস্টেটের জমিতে নার্সারী ও দোকান ভাড়া দিয়ে ভাড়া আদায় এবং বিভিন্ন নামে ড্রেন নির্মান,বাউন্ডারি দেয়াল নির্মান,গ্যারজ নির্মানের কার্যাদেশ দেখিয়ে নিজেই এসব নির্মান কাজে জড়িত ছিলেন।করেছেন সরকারি অর্থ আত্মসাৎ। এ দিকে ২০২৪ -২০২৫ অর্থ বছরে এক টাকার কাজ ও পণ্য ক্রয় না করেও ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। স্বজনদের নামে ৩ টি প্লট: মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তার আপন ভাই আনোয়ারের মাধ্যমে ঘুসের টাকা লেনদেন করেন।সেপ্টেম্বর মাসেই এক দিনে আনোয়ারের ব্যাংক একাউন্টসে ৬০ লাখ টাকা জমা হয়েছে।বছরফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার প্রভাবে বরিশাল হাউজিং এস্টেট রুপাতলীতে স্বজনদের নামে নিয়েছেন ৩ টি প্লট। বরিশাল,পিরোজপুর ও নলছিটি হাউজিং এস্টেটে প্লট বানিজ্য করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। উল্লেখ্য, দুদকের এ গনশুনানীতে২৯টি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে ৯৫টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে দুদকের তফসিলভুক্ত ৭৪টি অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৪টি অভিযোগের বিষয়ে দুদকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়। ৪ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ১ জন কর্মকর্তাকে বদলীর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেয়া হয়। বাকী অভিযোগগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান দেয়া হয়।
বরিশাল অফিস : রীতিমতো গ্রাহকদের কৃষিঋণ বিতরণে পাল্লা দিয়ে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছেন ভোলার কালিনাথ রায়ের বাজার শাখা অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ম্যানেজার। এক ব্যক্তিকে একাধিক বার ঋণ প্রদান, একই এনআইডি কার্ডে দুজন বা তিনজনকে ঋণ বিতরণ, প্রতিবারই ঋণ দেওয়ার নামে ১০% কমিশন গ্রহণ ছাড়াও ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রেও চরম জালিয়াতি স্পষ্ট হয়েছে কালিনাথ রায়ের বাজার শাখার অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি তাদের এই নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ বিতরণের প্রমাণ পেয়েছেন উর্ধতন কর্মকর্তারাও। ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা ব্যাংকের অনুমোদন প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, কালিনাথ রায়ের বাজার শাখার আমানতের পরিমাণ মাত্র ১৫ কোটি টাকা। যা থেকে তাদের সর্বোচ্চ ৮০% ঋণ দেয়ার অনুমোদন রয়েছে। সে অনুযায়ী তাদের ঋণ বিতরণ সক্ষমতা দাড়ায় ১২ কোটি টাকা। অথচ তারা ঋণ বিতরণ করেছে ৫২ কোটি টাকা। যা আমানতের প্রায় ৩৫৭% । এ বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধানের দাবি স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের। কোনোরকম পুরাতন ঋণ আদায় না করেই ইউনিয়ন ভিত্তিক দালালদের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা নতুন ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে এই শাখায়। আর এই ঋণ বিতরণে জড়িত রয়েছেন বেশ কয়েকজন বহিরাগত এজেন্ট বা দালাল। এদের মধ্যে ভেদুরিয়াতে সিদ্দিকুর রহমান, পাতা ভেদুরিয়াতে ইউসুফ, চরকালিতে জাহানারা বেগম নামের দালালের মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার নতুন করে ঋণ বিতরণ চলছে। কৃষক ছাড়াই কৃষি ঋণ বিতরণ অভিযোগ রয়েছে, ঋণগ্রহীতাদের কোনোরকম যাচাই-বাছাই, অনুমোদন, ফাইল প্রক্রিয়া এবং মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন ছাড়াই “ম্যানুয়াল তালিকা” ও ব্যক্তিগত পরিচয়ে ঋণ অনুমোদন করা হচ্ছে। প্রতিটি ঋণ হতে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ বাবদ রাখা হয়। যা থেকে শাখা ব্যবস্থাপক ৩ হাজার টাকা নিয়ে- ১ হাজার টাকা করে জোনাল অফিসে প্রদান করেন। বাকী ২০০০ টাকা করে ফাইল প্রতি দেয়া হয় দালালদের। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি কালীনাথ রায়ের বাজার শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, মাঠপর্যায়ে ঋণ বিতরণে যুক্ত আছেন ছিদ্দিকুর রহমান, মোঃ ইউসুফ, জাহানারা বেগম, মোঃ মিজানুর রহমান, সুমী নন্দী, আব্দুল মালেক কবিরাজ। যাঁরা “ফিল্ড রিপ্রেজেন্টেটিভ” বা “ঋণ সংগ্রাহক” হিসেবে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের কেউই অগ্রণী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব ব্যক্তি ঋণ বিতরণ ও সংগ্রহের নাম করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং ব্যাংকের অফিসিয়াল রেকর্ড ছাড়াই লেনদেন করছেন। এতে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন, আর কিছু মধ্যস্বত্বভোগী লাভবান হচ্ছেন। আবার বাণিজ্যিক ঋণ বিতরণ ব্যবস্থা থাকলেও এই শাখা থেকে সবসময় ‘কৃষক নন’ এমন ব্যক্তিদেরকেই কৃষিঋণ প্রদান করা হচ্ছে। বিগত তিনটি বছর ধরে এভাবেই ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন শাখা ব্যবস্থাপক খায়রুল বাশার পাভেল। বিনিময়ে ১০% কমিশন নিয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তিনি। একইসাথে অগ্রণী ব্যাংক কালিনাথ রায়ের বাজার শাখাটি চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করছেন। ভোলা জোনাল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র দেবনাথকে ম্যানেজ করেই খায়রুল বাশার বিগত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অবাধে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও বরিশাল সার্কেল অফিসে তার নিজস্ব লোকজন রয়েছে- যারা কৃষি ঋণের উৎকোচের টাকা মাসিক হিসাবে ভাগ পান। যার ফলে খায়রুল বাশার ধরাকে সরা জ্ঞান করেন বলে জানিয়েছেন কালিনাথ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী। তারা বলেন, শুধুমাত্র গত আগস্টেই ভেদুরিয়াতে ১০ লক্ষ ও বাপ্তাতে ৯ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ঋণগুলো বিতরণে শুরু থেকে শেষ অবধি দুইজন মাঠকর্মী ম্যানেজারের নির্দেশে দালালদেরকে সহযোগিতা করেন। ফাইল রেডি থেকে টাকা ভাগ বাটোয়ারা পর্যন্ত ভেদুরিয়াতে দালালদের পাশাপাশি মাঠকর্মী মাকসুদুর রহমান ও বাপ্তাতে সাইমুন জড়িত। তারা নিজেরা মাঠে গিয়ে লোন আদায়ের কথা থাকলেও, ম্যানেজারের নির্দেশে দালালদের সাথে নিয়ে মাঠে যান। নির্ধারিত এলাকার বাইরেও ঋণ বিতরণ শুধু তাই নয়, অগ্রণী ব্যাংক ভোলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র দেবনাথ স্বাক্ষরিত বরাদ্ধপত্র সূত্রে জানা জায়, অগ্রণী ব্যাংক কালীনাথ রায়ের বাজার শাখার ঋণ বিতরণ এলাকা হচ্ছে- বাপ্তা, ভেদুরিয়া ও ভেলুমিয়া ইউনিয়ন। কিন্তু নির্ধারিত এলাকায় ঋণ না দিয়ে অনেক ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে ভোলা পৌরসভাসহ অন্যান্য এলাকায়। যার বেশ কিছু তথ্য এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ভোলা পৌরসভার পৌরনবীপুর এলাকার বাসিন্দা রিপনচন্দ্র মজুমদারকে ৪৫ হাজার টাকা কৃষি ঋণ দেয়া হয়েছে, তার অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২০০০২১৭২১৭৩৫। ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ভোলা পৌরসভার তিনখাম্বা শিকদার বাড়ির বাসিন্দা সেলিনা বেগমকে (অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২০০০২৩২৭৫৫৬৮১) ৬৮ হাজার এবং একই বাড়ির আবদুর রহিম শিকদারকে (অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২০০০২২৬৫০৯৫২) ৫৮ হাজার টাকা কৃষি ঋণ প্রদান করা হয়। জানা গেছে, এদের কেউই কৃষক নন। এধরণের অনেকের তথ্য প্রতিবেদকের সংগ্রহে রয়েছে। দুর্নীতি ঢাকতে ফাইল মিসিং অগ্রণী ব্যাংক ভোলা জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে কালীনাথ রায়ের বাজার শাখার বিভিন্ন অনিয়ম বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই তারিখে পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- এই শাখার আওতাধীন বাপ্তা ইউনিয়নের ১৯টি কৃষি ঋণের ফাইল মিসিং হয়েছে। এ বিষয়ে ফাইলগুলোর তথ্য জোনাল অফিসে জানাতে বলা হলেও তা এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি। এদিকে এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা দেখা গেছে, ভেদুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি এবং বাপ্তা ইউনিয়নের আরো প্রায় শতাধিক কৃষি ঋণের ফাইল মিসিং রয়েছে। এই ফাইলগুলোর ঋণ বিতরণ সম্পর্কে তথ্য গোপন করতেই তা দালালদের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক কালীনাথ রায়ের বাজার শাখা ব্যবস্থাপক খায়রুল বাশার পাভেল বলেন, “এ জাতীয় অভিযোগ তিন বছর আগে ছিলো। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তদন্ত করে ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। আমি দায়িত্ব পালন করছি তিন বছর, এরমধ্যে কোনো অনিয়ম হয়নি। একই ব্যক্তির একাধিক লোন বা এজাতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট। তবে গরীব কৃষক লোন পরিশোধ করতে না পারলে তাকে ঐ ঋণই পুনরায় ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান খায়রুল বাশার পাভেল। অগ্রণী ব্যাংক ভোলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এজাতীয় কোন অভিযোগ আমি এখন পর্যন্ত পাইনি। পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া নেয়া হবে। তবে তিনি স্বীকার করেন নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে কৃষি ঋণ বিতরণের কোন সুযোগ নেই। চাহিদার অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ সম্পর্কে সহকারী ব্যবস্থাপক বলেন, পূর্বের ঋণসহ ৫২ কোটি টাকা স্থিতি হয়েছে এই শাখার। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া টার্গেট পূরণ করতে এমনটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এবিষয়ে জানতে অগ্রণী ব্যাংক বরিশাল সার্কেলের জি.এম জাহিদ ইকবাল জানান, তিনি ভোলার কালীনাথ রায়ের বাজার অগ্রণী ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের একটি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল অফিস : জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরিশাল উপ-বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম একই কর্মস্থলে ১৫ বছর।ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার প্রভাবে বরিশাল হাউজিং এস্টেট রুপাতলীতে স্বজনদের নামে নিয়েছেন ৩ টি প্লট। বরিশাল,পিরোজপুর ও নলছিটি হাউজিং এস্টেটে প্লট বানিজ্য করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। মোঃ রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ প্রশাসনিক কর্মকর্তার পাশাপাশি বরিশাল উপ-বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলীর দ্বায়িত্বে ছিলেন।দু’হাতে কামিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা ও বরাদ্দ প্রাপ্তীর নীতিমালা লঙনের শত অভিযোগ থাকলেও ঘুসের বিনিময়ে বৈধতা দিচ্ছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিধি বিধান ও নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে রুপাতলী হাউজিং এস্টেটের অভ্যান্তরে গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।রফিকুল ইসলামের সহযোগীতায় খেলার মাঠ দখলসহ অবৈধ স্থাপনা রয়েছে অসংখ্য।মাসিক মাসোয়ারা পান তিনি এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে। বরিশালে ১৫ বছর : জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ খুলনা বিভাগের অধীনে বরিশাল উপ বিভাগে মোঃ রফিকুল ইসলাম ১৫ বছর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন।এছাড়া তিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলীর দ্বায়িত্বও পালন করেছেন বহু বছর।বরিশাল অঞ্চলে কর্মকালীন সময় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দোসর হিসেবে তৎকালীন ক্ষমতাসীন লোকজনকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে হয়ে উঠেছেন ধন কুবের। বিষেশ করে পিরোজপুর হাউজিং ও সর্বশেষ নলছিটি হউজিং প্রকল্প থেকে তিনি কোটি টাকার মালিকানা অর্জন করছেন। তার ভাই, বোন ও বোনের ভামাইয়ের নামে নিয়েছেন একাধিক প্লট যেখানে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি। তিনি তার বড় ভাইয়ের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেন করে থাকেন। রুপাতলী হাউজিংয়ে প্লট সংক্রান্ত যেকোনো কাজের জন্য তাকে ঘুস দিতে হয়। তিনি ঘুসের বিনিময়ে নামজারী, বা স্থাপনার অনুমোদনের জন্য মোটা অংকের ঘুস নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।রফিকুল ইসলাম লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার জন্য নিজের ভাই এবং বোনের জামাই ও বোনের নামেই একাধিক প্লট নিয়ে স্থাপনা করেছেন। তার নামে বেনামে ঢাকায় একাধিক প্লট, ফ্লাট, বাড়ি রয়েছে। পটুয়াখালী সদরে তার বাড়ি এবং বাউফলে শত শত একর জমি রয়েছে। বরিশালের রুপাতলী হাউজিংয়ে খেলার মাঠ দখল,হাউজিং এর মধ্যে দোকান উঠিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে রফিকের সহযোগীতায় রুপাতলী হাউজিং এস্টেটে গরুর হাট স্থাপন করা হয়েছে। রূপাতলী হাউজিং এস্টেটে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক: সরকারের সকল নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলিকে দেখিয়ে আইন বর্হিভূতভাবে বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকায় একের পর এক গড়ে উঠেছে অবৈধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে পরিবেশ, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অপরদিকে মাসিক মাসোহারার বিনিময়ে অবৈধ কর্মকান্ড-কে বৈধতা দিচ্ছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম । সূত্রমতে, সরকার জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ৪৭০টি আবাসিক প্লট নিয়ে বিসিসির ২৪নং ওয়ার্ডে গড়ে তোলা হয় ‘রূপাতলী হাউজিং এস্টেট’। বরাদ্দ প্রাপ্তির নীতিমালা অনুযায়ী কোন গ্রাহক তাদের নির্মিত স্থাপনায় কোন ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা কিংবা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতে পারবেন না। বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের একজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একটি দফতর কাজ করলেও তারা এখন ঠুটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছেন। ‘রূপাতলী হাউজিং এস্টেট’ এ বর্তমানে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে কাঁচা বাজার, বেসরকারী স্কুল ও কলেজ, মাদ্রাসা, কিন্ডার গার্ডেন, এনজিও, হাসপাতাল, আবাসিক হোটেল, ফার্নিচারের শো-রুম, বিউটি পার্লার, ফ্যাশন হাউজ, ইলেকট্রিক শপ, হার্ডওয়ার, স্যানিটারি, খাবার হোটেল, স্টুডিও, কম্পিউটার শো-রুম, ফোন-ফ্যাক্স, মোবাইল শো-রুম, গার্মেন্টস শো-রুম, জুতার শো-রুম, ওয়াল্টন শো-রুম, অটোমোবাইল মেশিনারি শো-রুম, স্টেশনারি, মুদি দোকানসহ কয়েক শ’ অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা। আর এগুলো বরাদ্দ দিয়ে মালিকপক্ষ জামানত হিসেবে আদায় করছে কোটি কোটি টাকা যা সম্পূর্ণ আইন বর্হিভূত। আর এ সকল বাণিজ্যিক স্থাপনায় ব্যবহৃত বিদ্যুত বিল পরিশোধ করছেন আবাসিক হিসেবে। এছাড়া হাউজিংয়ের অভ্যন্তরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র সড়কের দুই পার্শে¦ গড়ে তুলেছেন ছোট ছোট টং ঘর। যা থেকে প্রতিদিন নিদিষ্ট হারে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুত সংযোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিককে আবাসিক বিলে রূপান্তরিত করে দুই একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মাসিক তিন থেকে পাঁচ শ’ টাকা করে উৎকোচ আদায় করার অভিযোগ রয়েছে বিদ্যুত বিতরণ বিভাগের দায়িত্বরত লাইন সাহায্যকারীর বিরুদ্ধে। রূপাতলী হাউজিং এস্টেট এ অবস্থিত একটি মার্কেটের মালিক বলেন, আমি টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করে মার্কেট করেছি। আইন অনুযায়ী আপনি এখানে মার্কেট করতে পারেন কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি দ্বিতীয় পার্টি। আমার জন্য ওই আইন প্রযোজ্য নয়। এ বিষয়ে বিদ্যুত বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকোর নিবার্হী প্রকৌশলী বলেন, রূপাতলী হাউজিং এস্টেটে বাণিজ্যিক সংযোগ দেয়ার কোন সুযোগ নেই। যারা অবৈধভাবে আবাসিক মিটারের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সংযোগ ব্যবহার করছে সুনিদিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রূপাতলী হাউজিং এস্টেট কল্যাণ সমিতির এক সদস্য বলেন, এখানে বসবাসকারী কোন ব্যক্তি কোন ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। তার পরেও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইন ও বিধি বিধান অমান্য করে একের পর এক বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে হাউজিং এলাকায় ৪৫ একর জমিতে ৪৭১টি প্লট বরাদ্দকালে হাউজিংয়ের বাসিন্দাদের জন্য ১২তলা মার্কেট নির্মাণের জন্য একপাশে জমি বরাদ্দ রেখে প্লান করা হয়। মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।দ্রুত তাকে অপসারনের দাবী জানিয়েছেন রুপাতলী হাউজিং এস্টেটের সাধারন প্লট মালিক ও ভুক্তভুগীরা। এ ব্যাপারে সদ্য যোগদানকৃত উপ-সহকারী প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান,আমি গত রোববার এখানে যোগদান করেছি তাই এসব বিষয়ে আমি অবগত নই। এ ব্যাপারে মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,আমার ভাই, বোন ও বোন জামাইয়ের নামে প্লট আছে এটা সত্য তবে তারা স্বাভলম্ভী হলে এটা কি কোন দোষের।তিনি অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চায়ের আমন্ত্রন জানান।পরে কল ব্যাক করে এ প্রতিবেদকের নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসা করেন।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল খাদ্য বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে বদলী বানিজ্যসহ নানান দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।ময়মনসিংহে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক থেকে পদোন্নতি পেয়ে বরিশালে যোগদানের পরেই ময়মনসিংহের মত দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়ে পরেন। ঘুস নিয়ে ইতিমধ্যে পটুয়াখালী থেকে আলাউদ্দিনকে বাকেরগঞ্জের হলতায় বদলী করেছে।আমতলী থেকে শান্তি রঞ্জনকে বরিশাল সদরে বদলী করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।এছাড়া বিএনপির এক শীর্ষ নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে মুলাদী থেকে মোঃ ইমদাদুল হক কে বরিশালে বদলী করার চেষ্টা করছেন। আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আব্দুল কাদের যোগদানের পরেই খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাদের জেলায় বদলীতে ২০ লাখ ও উপজেলায় বদলীতে ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নির্ধারন করেছেন।ঘুসের মুল্য নির্ধারন করায় বরিশাল অঞ্চলের খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কর্মকর্তাদের বদলী,গুদামে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পদায়ন করে ছলেছেন লাখ লাখ টাকার ঘুসের বিনিময়ে।কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলীতে নেয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। ময়মনসিংহে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দ্বায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের দোসর ডিলারদের পুনর্বাসনের অভিযোগ ওঠে।বিএনপিসহ সাধারন মানুষের প্রতিবাদে ওএমএস ডিলার নিয়োগ লটারীর কার্য্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল।এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপি নেতা টুটুল ওয়াহিদ বলেন, “ফ্যাসিবাদের সময় যারা খাদ্য বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করতেন, তারাই লটারির আয়োজন করেছেন। এতে বিষয়টি স্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগের দোসররাই সুযোগ পাবে। এটা খাদ্য বিভাগের একটি কৌশল। তাই আমরা হট্টগোল করলে লটারি কার্যক্রম স্থগিত হয়।স্থানীয় লোকজন আব্দুল কাদেরকে ফাসিবাদের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন,আব্দুল কাদের ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে থাকাকালিন সময়ে বোরো,আমন ধান ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন।তিনি ঘুস নিয়ে বাচিঁয়ে দিয়েছেন খাদ্য গুদামের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের। যারা গুদাম থেকে চাল লোপাট করে ধরা পরেছে তাদের থেকে ঘুস নিয়ে অভিযোগ থেকে মুক্ত করেছেন।ময়মনসিংহের একজন সাংবাদিক জানান,আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ম্যানেজ করতো বিভিন্ন উপায়ে।তিনি জানান,আব্দুল কাদেরের সহযোগীতায় ময়মনসিংহের খাদ্য গুদাম গুলোতে ভয়ঙ্কর দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছিল। মিলারদের কাছ থেকে টনপ্রতি ৪০০থেকে ৫০০ টাকা ঘুস নিয়ে গুদামে ঢুকানো হতে নিম্নমানের চাল! অল্প সময়ে কোটিপতি বনে গেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই ঘুস ওপেন সিক্রেট বিষয়।একে বলা হতো “অফিসিয়াল খরচ”! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ময়মনসিংহের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘুষের এই রেট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল কাদের নির্ধারণ করে দিতেন। আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বলা হতো“তোমরা শুধু নিয়ম মেনে চলো, দোষ গেলো ওপরে।” তার বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ , ভালো মানের চালও ঘুষ ছাড়া গুদামে ঢুকতে পারেনি ময়মনসিংহের কোন গোডাউনে। “ঘুষ না দিলে আমাদের ভালো চালও মন্দ বলে ফেরত দেয়া হতে মিলারদের। আবার ঘুষ দিলে মন্দ টাকেও ভালো বলে গ্রহণ করতো। মিলাররা প্রতিবাদ করেনি কারন তাদের ব্যবসা ও লাইসেন্স ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়ার হুমকিতে।” আমন ও বোরো মৌসুমে এই ঘুষ বাণিজ্য ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। বিভিন্ন গুদামে নিম্নমানের চাল জমা পড়েছিল, অথচ তদারকি করেন নি আব্দুল কাদের। এদিকে, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা খাদ্যগুদামের ১ কোটি ৭১ লাখ ৯২ হাজার ৩৮২ টাকা মূল্যের ৩২৯ টন চাল ও খালি বস্তা আত্মসাতের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দায় সারেন তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল কাদের। এছাড়া বরিশাল ত্রিশ গোডাউনে কর্মরত সুজিত কুমার রায়কে ২০ লাখ টাকার বিনিয়মে পটুয়াখালি সদরে বদলী করা হলেও তা জেনে কোন ব্যবস্থা নেয়নি আব্দুল কাদের।সুজিত কুমার রায় ছিলেন আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি পঙ্কজ দেবনাথের জেল পার্টনার। এ বিষয়ে বরিশাল আঞ্চলাক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল কাদের এর মোবাইল ২৪ অক্টোবর বিকেল ৪ টা ৩ মিনিটে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : তিনি টাকা আর সম্পদের কুমির। হার মানিয়েছে সম্পদ ও টাকার দিক দিয়ে পিকে হালদারকেও। পিকে হালদার ভারতে পালিয়ে গিয়ে ভারতের কারাগারে বসবাস করলেও বাংলাদেশে এখনও বহাল তবিয়তে তিনি । রাজার মত জিবন যাপন। ঘুরে বেড়াচ্ছেন বীরদর্পে। সেলিব্রিটি বিরাট কোহলি থেকে মালাইকা অরোরার মত পান করেন দামীয় অ্যালকালাইন ওয়াটার। যার দাম ভারতে ৭০০ রুপী। বলছি বরিশাল গনপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে এর কথা। উৎপল কুমার দে সরকারি টাকায় সব সময়ই উৎফুল্ল।ঠিকাদারদেরকে বিল না দিয়ে লক্ষ টাকায় কমোড, অর্ধকোটি টাকায় গেটসহ সরকারি টাকা তসরুপ করছেন দু হাতে। তার খুটির জোড় অনেক বড় রাষ্ট্রের চেয়েও প্রশ্ন কর্মকর্তা,কর্মচারী ও ঠিকাদারদের।আইন-আদালত,দুদক,গনপূর্ত অধিদপ্তর ও গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়কে থোরাই কেয়ার করেন না বলে অভিযোগ গনপূর্ত অফিস সংশ্লিষ্ঠদের। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করায় দুর্নীতি দমন কমিশন চিরুনী অভিযান চালিয়ে অসংখ্য দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে কাউকে সাময়িক বরখাস্ত, কাউকে স্থায়ী বরখাস্ত, এমনকি কারও কারও সাজারও ব্যবস্থা করেছেন। তবে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে। তার বিরুদ্ধে দুদক দুটি মামলা করেছে।মামলায় সত্যতা পেয়ে চার্জশীটও প্রদান করেছে। টাকার জোড়ে তিনি এখনো ফুর ফুরে মেজাজে।শীর্ষ কর্তাদের কাছে তথ্য গোপন করে এখনো চাকুরী করছেন দাপটের সাথে।তিনি ছিলেন জি কে শামিমের ডান হাত। ফাইভ স্টার গ্রুপের প্রধান। গণপূর্ত অধিদপ্তর বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে-এর বিরুদ্ধে দুদকে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দু’টি মামলা হয়েছে । উৎপল কুমার দের নামে দুদক একটি মামলা দায়ের করে ।এ ছাড়া উৎপল কুমার দে ও তার স্ত্রী গোপা দে’র বিরুদ্ধে ২০২০ সালে দুদকের সহকারি পরিচালক মোঃ নেয়ামুল আহসান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় দুদক আদালতে চার্জশীট প্রদান করেন ২০২৩ সালে। একটি মামলায় শুধু উৎপল কুমার দে , অন্য একটি মামলায় তার স্ত্রী গোপা দে ও উৎপল কুমার দে-কে আসামী করা হয়েছে এবং আদালতে চার্জশীটও দাখিল করা হয়েছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে সব তথ্য : দুদকের মামলা নং-২ তারিখ ০৫/০৮/২০২০ ইং এ অভিযোগ করা হয়েছে আসামী (১) গোপা দে, স্বামী- উৎপল কুমার দে, পিতা- নেপাল সেন, মাতা- নিয়তি সেন, বর্তমান ঠিকানা : ৫/এ, ৮১/৩, অতীস দীপঙ্কর সড়ক, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪, স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম + পোঃ চক্রশালা, থানা- পটিয়া, জেলা- চট্টগ্রাম এবং (২) উৎপল কুমার দে, অতিরিক্ত পধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ), গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা, পিতা- দুলাল চন্দ্র দে, মাতা- পারুল রানী দে, বর্তমান ঠিকানা : ফ্ল্যাট নং- ৫/এ, ৮১/৩, অতীস দীপঙ্কর সড়ক, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪, স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম + পোঃ- চক্রশালা, থানা- পটিয়া, জেলা- চট্টগ্রাম । অসৎ উদ্দেশ্যে দুর্নীতির মাধ্যমে ৬,৬২,৬৮,৭৫৪/- (ছয় কোটি বাষট্টি লক্ষ আটষট্টি হাজার সাতশত চুয়ান্ন) টাকার জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করে তা নিজেদের ভোগ দখলে রেখে উক্ত সম্পদ বৈধ করার অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে রূপান্তর/স্থানান্তর/হস্তান্তর করে মানি লন্ডারিং এর মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় এবং মানি-লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারাসহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকার নথি নং-০০.০১.০০০০.৫০২.০১.১০১.১৯ এর অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, ১নং আসামী গোপা দে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ) উৎপল কুমার দে’র স্ত্রী। গোপা দে-এর আয়কর নথিতে তার নামে পটিয়া ইলেকট্রনিক্স নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে উৎপল কুমার দে’র স্ত্রী গোপা দে কর্তৃক উক্ত ব্যবসা করার স্বপক্ষে বিভাগীয় কোন অনুমতি নেয়ার দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানকালে আসামী গোপা দে’র ২০১৮-১৯ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথিতে প্রদর্শিত নীট ১,৬০,৬৯,২০৫/- টাকা আয়ের সমর্থনে বৈধ উৎসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বা দাখিল করতে সমর্থ হয়নি। এছাড়াও অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্য ও অন্যান্য রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, গোপা দে’র নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আরো ৫,০১,৯৯,৫৪৯/- টাকার অস্থাবর সম্পদ গচ্ছিত রয়েছে। কিন্তু উক্ত সম্পদের তথ্য গোপা দে’র আয়কর নথিতে প্রদর্শন না করে গোপন করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে ব্যাংকে গচ্ছিত উক্ত অর্থেরও বৈধ কোন উৎসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সে হিসাবে আসামী গোপা দে’র নামে তার আয়কর নথিতে প্রদর্শিত ১,৬০,৬৯,২০৫/- এবং বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত ৫,০১,৯৯,৫৪৯/- টাকারসহ মোট (১,৬০,৬৯,২০৫/- + ৫,০১,৯৯,৫৪৯/-) = ৬, ৬২,৬৮,৭৫৪/- (ছয় কোটি বাষট্টি লক্ষ আটষট্টি হাজার সাতশত চুয়ান্ন) টাকার সম্পদের (স্থাবর-অস্থাবর) তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। যা তার জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ মর্মে পরিলক্ষিত হয়। সার্বিক অনুসন্ধানে গোপা দে’র নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে মর্মে দেখা যায়। এক্ষেত্রে, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ১নং আসামী গোপা দে ২নং আসামী স্বামী- উৎপল কুমার দে-এর প্রত্যক্ষ যোগসাজসে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় ৬,৬২,৬৮,৭৫৪/- (ছয় কোটি বাষট্টি লক্ষ আটষট্টি হাজার সাতশত চুয়ান্ন) টাকার জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন পূর্বক তাদের ভোগ দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় এবং উক্ত সম্পদ বিভিন্ন সময়ে রূপান্তর/স্থানান্তর/হস্তান্তরের মাধ্যমে মানি-লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারাসহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এছাড়া উৎপল কুমার দে’র নামে দুদকে আরও একটি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা রয়েছে যার মামলা নং-৩ তারিখ ০৫/০৮/২০২০ ইং। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন সরকারি চাকুরী আইন ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন) এর ধারা ৪১ এর উপধারা (২) ও সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৪ শাখা থেকে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন এস.আর.ও নং ১১০ আইন/২০১৮) এর বিধি ২৫ এর উপবিধি (২) এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের (বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) অফিস মেমোরেন্ডাম নং (ইডি) (রেগ-৮)/এস-১২৩/৭৮-১১৫ (৫০০) তারিখ ২১/১১/৭৮ (এস্টাবলিশমেন্ট মেনুয়্যাল ১নং ভলিউমের পৃষ্ঠা নং- ৮৯২ ও ৮৯৩) এবং বি.এস.আর ১ম খন্ডের ৭৩ বিধির ১ ও ২ নং নোট অনুসারে কোন সরকারি কর্মচজারী ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতারের পর বা আদালতে আত্মসমর্পনের পর জামিনে মুক্তি লাভ করিলেও সাময়িক বরখাস্ত হিসেবে গণ্য হইবেন। ফাইভ স্টার গ্রুপের প্রধান যখন তিনি: গনপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে গনপূর্তে বদলি বাণিজ্য, পদোন্নতি বাণিজ্য, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া ও অসাধু কর্মকর্তাদের ঘুপচি টেন্ডার অনুমোদনসহ সব ধরনের কাজ করে আসছিলেন। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে ইজিপি এড়িয়ে ওটিএম’র মাধ্যমে প্রকল্পের টেন্ডার শুরুসহ অসংখ্য অভিযোগের পাহাড় গড়ে ছিলেন তিনি।গড়েছিলেন একটি ফাইভ স্টার গ্রুপ। আর এই ফাইভ স্টার গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন উৎপল কুমার দে। গনপূর্ত অধিদপ্তরের অনেকে দুদক থেকে দায়মুক্তি পেলেও উৎপল কুমার দের বিরুদ্ধে সব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় স্ত্রীসহ হয়েছেন দুটি মামলার আসামী। বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা : গণপূর্ত অধিদপ্তরের নয়জন প্রকৌশলী এবং দুই মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তাসহ ১১ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর। ১১ জনের মধ্যে যার নামটি শীর্ষে রয়েছে তিনি হলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে।বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীমের সঙ্গে প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে যুক্ত থেকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কারনেই বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক। উৎপল কুমার দে এর বিরুদ্ধে দুদকের তদন্তে সত্যতাও মেলে।বিদেশ যাত্রার নিষেধাজ্ঞার চিঠি ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। যত অভিযোগ : ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ক্যাসিনোকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাঘব বোয়ালদের গ্রেফতার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো ও অন্যান্য অবৈধ মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধানে নামে দুদক। এই অনুসন্ধানের সময় নাম আসে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র। ২০২০ সালের ৫ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ সংস্থাটির কর্মকর্তা নেয়ামুল আহসান গাজী বাদী হয়ে উৎপল কুমার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দ্বিতীয় মামলাটির আসামি শুধু উৎপল কুমার দে। এই মামলাটিও দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী বাদী হয়ে করেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, একজন সরকারি কর্মচারী হয়েও উৎপল কুমার বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহিভূত সম্পদ অর্জন করেছেন ১ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৯০৩ টাকা। অনুসন্ধানকালে দেখা গিয়েছে আসামি তার বেতন ভাতা ছাড়া সুনির্দিষ্ট বৈধ আয়ের কোনো উৎস দেখাতে পারেননি। ফলে দুর্নীতির মাধ্যমে এই সম্পদ অর্জন করেছেন বলে বিবেচিত। জি কে শামীমের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে উৎপল কুমার দের বিরুদ্ধে । উৎপল কুমার দেকে ঘুষ দিয়ে বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীম গণপূর্তের বড় কাজগুলো বাগিয়ে নিয়েছেন। অবৈধভাবে বিপুল অর্থের মালিক হওয়া, জিকে শামীমসহ প্রভাবশালীদের শত শত কোটি টাকা ঘুষের মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ,অর্থ পাচারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে উৎপল কুমার দের বিরুদ্ধে । উৎপল কুমার দে ও গোপা দে’র বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে দুর্নীতির মাধ্যমে ছয় কোটি ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৪ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করে তা নিজেদের ভোগ দখলে রাখে। পরে এসব সম্পদ বৈধ করার অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে রূপান্তর/স্থানান্তর/হস্থান্তর করে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় এবং মানি-লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারাসহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ কারণে মামলাটি দায়ের করা হয়। আরও বলা হয়, গোপা দে’র নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে মর্মে দেখা যায়। প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য পারিপাশ্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, গোপা দে ও তার স্বামী উৎপল কুমার দে’র প্রত্যক্ষ যোগসাজসে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় ছয় কোটি ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৪ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগে বলা হয়, একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে দুর্নীতি এবং বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজান ৯০৩ টাকার সম্পদ অর্জন করে তা নিজ ভোগ দখলে রেখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। অনুসন্ধানকালে আসামি উৎপল কুমার দে’র নামে অর্জিত সম্পদের তার বেতন-ভাতা ব্যতীত অন্যকোন সুনির্দিষ্ট বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে তিনি সরকারি কর্মচারী হিসেবে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থ দ্বারা এসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ/সম্পত্তির মালিকানা অর্জন করেছেন মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে কানাডা ও ভারতে টাকা পাচার , কোটি কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ঠিকাদার জিকে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর আসল চেহারা বেরিয়েছে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দের । প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র ছেলে কানাডায় বসবাস করার কারণে সেখানে টাকা পাচার করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। উৎপল দে তার ছেলেকে কয়েক কোটি মূল্যের গাড়ি কিনে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিম্নমানের রড-সিমেন্ট দেওয়ায় নির্মাণের সময়ই ভেঙে পড়ে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রাচীর। ওই সময় নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন এই উৎপল কুমার দে। পরে এ ঘটনার তদন্ত করে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তাতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেও ধামাচাপা পড়ে যায় তদন্ত প্রতিবেদন। তৎকালীন গৃহায়ন ও গনপূর্তী মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের নির্দেশে এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা মেট্রো ও ঢাকা জোনের দ্বায়িত্ব থেকে উৎপল কুমার দে’কে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।উৎপল কুমার দে ১৫তম বিসিএসে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন। তার দায়িত্ব পালনকালে আজিমপুর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঢাকা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকাকালে নানা বিতর্ক ছিল।এর মধ্যে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্মাণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির রিপোর্ট এখনো আলোর মুখ দেখেনি। উৎপল কুমার দে’কে ওএস ডি করার পর তিনি দ্বায়িত্ব বুঝিয়েও দেন নি।পরে উপায়ান্ত না পেয়ে দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। উৎপল কুমার দে কিছু দিন ঘাপটি মেরে তদবীর করে গনপুর্তের বরিশাল জোনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হয়ে আসেন। এ ব্যাপারে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিনকে ই মেইলে এবং গনপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার এর হোয়াটঅ্যাপসে নিম্মোক্ত প্রশ্ন করা হলেও কোন উত্তর প্রদান করেন নি। প্রশ্ন ছিল, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর ৩৯ (২) ধারা অনুযায়ী দুদকের মামলায় জনাব উৎপল দে অতিরিক্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, বরিশাল গণপূর্ত জোন, বরিশাল এর বিরুদ্ধে চার্জশীট হওয়ার পরে কোন ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা? আইন অনুযায়ী অর্থাৎ কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন হইতে তাহাকে সাময়িক বরখাস্ত করিতে পারিবে এবং আদালতে যদি কোন মামলা বিচারাধীন থাকে তাহলে কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। প্রশ্ন জনাব উৎপল দে’র বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা? জনাব উৎপল দে ঠিকাদারদের বকেয়া বিল না দিয়ে কোটি টাকা ব্যয়ে অফিসের সাজ সজ্জা করতে পারে কিনা? দুদকের দুটি মামলার জন্য বেশীর ভাগ সময়ই ঢাকায় থাকেন। তিনি ছুটি নেয় কিনা? এ ব্যাপারে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানান,খোজ নিয়ে জানাতে হবে। এ ব্যাপারে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের যুগ্নসচিব ও আইন কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর জানান, আমি অসুস্থ্য ছুটিতে রয়েছি তাই না জেনে বলা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে বরিশাল গনপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে জানান,আমার ব্যাপারে সব অপপ্রচার হচ্ছে। দুদকের মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,মামলা চলমান। আমার অথরিটিকে জিজ্ঞেস করেন। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে দুদকের চাঞ্চল্যকর এ মামলা দু’টির ব্যাপারে গণপূর্ত অধিদপ্তরে নানা সমালোচনা থাকলেও এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি। উৎপল কুমার দে এর ক্ষেত্রে কোনরূপ সরকারি চাকুরী বিধিমালার তোয়াক্কা না করে বরিশাল গণপূর্ত জোনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে যা দুর্নীতি ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ভুয়া সেমিনারের নামে বিল-ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)–এ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫ সালের “তারুণ্যের উৎসব” উপলক্ষে দেখানো দুটি সেমিনার বাস্তবে অনুষ্ঠিতই হয়নি। অথচ সেই সেমিনারের নামে কয়েক লাখ টাকার বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়েছে। আরও পড়ুন: পিআইবিতে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এই অভিযোগের সূত্র ধরে টানা তিন দিন পিআইবির কার্যালয়ে গিয়ে অনুসন্ধান চালায় কালের কণ্ঠ অনুসন্ধানী টিম। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে একের পর এক অসঙ্গতি, অস্বীকার এবং পরে আংশিক স্বীকারোক্তি। সেমিনারের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন পিআইবির পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার–কে প্রথমে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিতই এমন সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ভুয়া বিল-ভাউচারের বিষয়টি সামনে আনা হলে তিনি ও উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরী দুজনেই সেমিনার অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। বিল-ভাউচারে তাঁদের স্বাক্ষর দেখানো হলে তাঁরা স্বাক্ষর নিজেদের বলে স্বীকার করলেও কাগজপত্রের বৈধতা অস্বীকার করেন। তৌহিদুল আনোয়ার বলেন— “স্বাক্ষর আমারই, কিন্তু এই কাগজে আমি দিয়েছি কি না জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।” অন্যদিকে নাছির উদ্দীন চৌধুরী দাবি করেন— “ওই সময় কোনো সেমিনার হয়নি। এটা একটা রিউমার। প্রযুক্তির যুগে স্বাক্ষর নকল করা অসম্ভব কিছু না।” সন্দেহজনক ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বিল অনুসন্ধানী টিম ১৯ ফেব্রুয়ারির ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকার একটি বিল সামনে আনলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিলে নিজের স্বাক্ষর দেখে পরিচালক তৌহিদুল আনোয়ার প্রথমে বিস্মিত হয়ে বলেন— “স্বাক্ষরটা তো আমারই, কিন্তু বিলটা তো ফেক।” অন্যদিকে দাবি করা হয়, ওই দুই সেমিনারে প্রায় ৪০০ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই সাংবাদিক। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কেউই এমন কোনো সেমিনারের কথা জানেন না। অনুসন্ধানে ভেঙে পড়লেন সমন্বয়কারী এই অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন পিআইবির সিনিয়র প্রশিক্ষক ও অনুষ্ঠান সমন্বয়কারী গোলাম মুর্শেদ। প্রথমে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিলে থাকা স্বাক্ষরকেও তিনি “ডিজিটালি বসানো” বলে দাবি করেন। কিন্তু যখন অনুসন্ধানী টিম সরেজমিনে যাচাইয়ের তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করে, তখন এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন— “বিলগুলো সাজানো। গত বছর ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারির সেমিনার দুটি আসলে হয়নি।” তিনি আরও দাবি করেন, এসব ভুয়া বিল তৈরি করা হয়েছিল পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ–এর নির্দেশে। গোলাম মুর্শেদের ভাষায়— “ডিজি সাহেব বলছিলেন, একটা প্রোগ্রাম দেখায়ে টাকাটা সমন্বয় করে দিতে।” মন্ত্রণালয়ের টাকার সমন্বয়? গোলাম মুর্শেদের দাবি, মন্ত্রণালয় থেকে আসা বিশেষ বরাদ্দের টাকা সমন্বয়ের জন্যই এসব ভুয়া বিল তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন— “মন্ত্রণালয়ের কিছু কাজের টাকা খরচ দেখানোর জন্য আমাদের বলা হয়েছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত টাকার একটি অংশও অন্য খাতে ব্যয় দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ডিজির বক্তব্য: সবই মিথ্যা এ বিষয়ে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন— “এ ধরনের একটি বিল পিআইবির একটি দুষ্টচক্র তৈরি করেছিল, কিন্তু আমি সেটিকে অনুমোদন দিইনি।” তিনি আরও দাবি করেন, পরে বিষয়টি সামনে এলে তিনি সেই বিল বাতিল করে দেন। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—যদি অনুমোদন না দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তাঁরসহ ছয়জন কর্মকর্তার স্বাক্ষরসংবলিত বিল তৈরি হলো কীভাবে এবং ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন হলো কেন। নতুন প্রশ্নের জন্ম এই ঘটনার পর পিআইবির অভ্যন্তরে দুর্নীতি, ভুয়া বিল এবং প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে— ভুয়া সেমিনারের নামে বিল তৈরি হলো কীভাবে ছয়জন কর্মকর্তার স্বাক্ষর এল কোথা থেকে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন হলো কার নির্দেশে মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের অর্থ অন্য খাতে ব্যবহারের অভিযোগ কতটা সত্য এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।