ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দীর্ঘদিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে। তার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি কোথায় অবস্থান করছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, চিকিৎসক সমাজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ভারতের ত্রিপুরার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে তার পাঠদান করার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। বাংলাদেশ সংবাদের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) কলেজটির এক স্টাফ নার্স বাংলাদেশ সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। তবে তিনি ঠিক কবে থেকে কলেজটিতে যুক্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ভিডিওতে মিলল অবস্থানের প্রমাণ সম্প্রতি শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, আধুনিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তার পেছনের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন স্লাইড প্রদর্শিত হচ্ছিল। ভিডিওর বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিষয়ে একটি একাডেমিক ক্লাস পরিচালনা করছিলেন। ভিডিওটি প্রকাশের পরই তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার কার্যত অবসান ঘটে। দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনের পর রাজনীতিতে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত দেশের একজন সুপরিচিত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সরকার পতনের পর আত্মগোপন গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি দেশ ছেড়েছেন কি না, কোথায় অবস্থান করছেন কিংবা চিকিৎসা বা শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কি না—এসব প্রশ্নের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য এতদিন পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক ভিডিও এবং কলেজ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মীর বক্তব্যের পর অন্তত এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি বর্তমানে ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থান করছেন এবং একটি মেডিকেল কলেজে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে তিনি কোন ধরনের ভিসায় ভারতে অবস্থান করছেন, কলেজটির সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক নিয়োগের ধরন কী এবং বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বর্তমান আইনি অবস্থা—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ সংবাদ এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত কিংবা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতার পরিধি আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ অনুষ্ঠিত এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয় চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)-এর সঙ্গে। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিগুলোতে স্বাক্ষর করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। কী রয়েছে চারটি সমঝোতা স্মারকে? সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন সমঝোতাগুলোর আওতায়— বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সংবাদ ও তথ্য বিনিময় জোরদার হবে। গণমাধ্যম খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে। গ্লোবাল সাউথ-ভুক্ত দেশগুলোর গণমাধ্যম নিয়ে যৌথ গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সম্প্রচার প্রযুক্তি, ডিজিটাল মিডিয়া, প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়বে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ দুই দেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। কেন এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ? বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবকাঠামো, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ খাতেও বিস্তৃত হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় গণমাধ্যম সহযোগিতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই চারটি সমঝোতা স্মারককে। বিশ্লেষকদের মতে, সংবাদ বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হলেও বাস্তবে এসব চুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপর। সফরের প্রেক্ষাপট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নিতে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গত ২৩ জুন ঢাকা থেকে চীনের উদ্দেশে রওনা হন। সফরের অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে একাধিক খাতে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে গণমাধ্যম খাতের এই চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলো। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব চুক্তির মাধ্যমে তথ্য বিনিময়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন করা যাবে চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের অগ্রগতির ভিত্তিতে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রীষ্মের তীব্রতা আরও বাড়তে যাচ্ছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দেশের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করতে পারে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে জনজীবনে অস্বস্তি বাড়তে পারে। একই সময়ে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় ও পার্বত্য এলাকাগুলোতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত এবং বজ্রঝড়ের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এনসিএমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাস ধরে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। যদিও তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উঠতে পারে, তবে তা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের পশ্চিমাঞ্চলগুলোতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গরমের মধ্যেই বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যেও চলতি সপ্তাহে কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। স্থানীয়ভাবে ‘রাওয়ায়েহ’ নামে পরিচিত গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার প্রভাবে পরিচলন মেঘ তৈরি হয়ে বজ্রঝড় ও বৃষ্টির সৃষ্টি হয়। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ তাপমাত্রা, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এসব মেঘের উৎপত্তি ঘটে। এবারের সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত মূলত পূর্বাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকাকেই বেশি প্রভাবিত করতে পারে। বড় শহরগুলোতে পরিস্থিতি কেমন? রাজধানী আবুধাবি, বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাই এবং শারজাহসহ বড় শহরগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং কিছু এলাকায় হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি দেখা যেতে পারে। আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শেষ দিকে মেঘলা আবহাওয়া ও বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা সামান্য কমে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আমিরাতজুড়ে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের পর প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। উত্তর প্রদেশে বহুল আলোচিত ‘বুলডোজার মডেল’-এর সঙ্গে তুলনা টেনে এবার পশ্চিমবঙ্গেও অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে সরকারি জমি দখলের অভিযোগে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক দলীয় কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। বুধবার (২৪ জুন) ব্যারাকপুর পৌরসভার ২০, ১৪, ২ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কয়েকটি দলীয় কার্যালয়ে বুলডোজার চালানো হয়। প্রশাসনের দাবি, এসব স্থাপনা সরকারি জমি জবরদখল করে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। উচ্ছেদ অভিযানে কঠোর নিরাপত্তা উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ঘটনাস্থলে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল দমকল বাহিনীকেও। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে অভিযানের সময় স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ অন্যদিকে উচ্ছেদ অভিযানের বৈধতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। ব্যারাকপুর পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও তৃণমূল নেতা রমেশ সাউ দাবি করেন, যে স্থাপনা ভাঙা হয়েছে সেটি সরকারি বা গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) জমির ওপর নির্মিত ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জমিটি আগে সুধীর সাহা নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিল। সেখানে একটি সাইকেল মেরামতের দোকান পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে জমির মালিকের ছেলে সেটি বিক্রি করতে চাইলে তিনি জমিটি কিনে নেন। রমেশ সাউ অভিযোগ করেন, উচ্ছেদের বিষয়ে তাকে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বুলডোজার দিয়ে পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলবদলের প্রভাব এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, জমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও প্রশাসন তা ভেঙে দিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন। জমির মালিকানা নিয়ে নতুন প্রশ্ন ঘটনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে জমিটির প্রকৃত মালিকানা। প্রশাসন যেখানে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তুলছে, সেখানে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ব্যক্তিমালিকানার দাবি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, জমির রেকর্ড, দখল ও মালিকানা সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা? সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নির্মাণ ভাঙার ঘটনা বেড়েছে। ব্যারাকপুরের এই অভিযান শুধু একটি স্থানীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নাকি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তার অংশ—তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট—অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের দাবি, এসব পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-এর তিনটি ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি জব্দ হওয়ার ঘটনায় দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে। অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একটি বেসরকারি ব্যাংকে রক্ষিত তৃণমূলের তিনটি হিসাবের ওপর ‘ডেবিট ফ্রিজ’ আরোপ করা হয়েছে। ফলে এসব হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন বা অন্যত্র স্থানান্তর করা যাবে না। তবে নতুন অর্থ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকছে না। এই হিসাবগুলোতে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৭১ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে অর্থের উৎস ঘটনার সূত্রপাত হয় দলের বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত ১০ জন বিধায়কের অভিযোগের পর। তারা বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দাখিল করে হিসাবগুলোর আর্থিক লেনদেন এবং অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি জানান। অভিযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—হিসাবগুলোতে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ বৈধ উৎস থেকে এসেছে, নাকি অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে। অভিযোগকারীরা সম্ভাব্য ঘুষ বা ‘কাটমানি’ আদায়, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারি থেকে প্রাপ্ত অর্থ এসব হিসাবে জমা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পরিস্থিতিগত সূত্র থেকে এমন ধারণা পাওয়া গেছে যে প্রভাব খাটানো, অসাধু আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহজনক অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে অর্জিত কিছু অর্থ এসব হিসাবে স্থানান্তর করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি এবং তদন্তও এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচনী পরাজয়ের পর ক্ষমতার লড়াই সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলটির সাংগঠনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন তীব্র হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ আরেকটি গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক হিসাব জব্দের ঘটনাটি কেবল আর্থিক তদন্তের বিষয় নয়; বরং দলীয় ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। অরূপ বিশ্বাসের চিঠি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বর্তমান বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কয়েকদিন আগেই অরূপ বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়ে দলীয় হিসাবগুলো সুরক্ষিত রাখার এবং সব ধরনের লেনদেন স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। চিঠিতে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের বিভিন্ন হিসাবে প্রায় ৫০০ কোটিরও বেশি টাকা রয়েছে। নেতৃত্বসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অর্থ পরিচালনা না করার আহ্বানও জানান তিনি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, হিসাবগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দলের ভেতরে যে বিরোধ চলছে, তা কি এখন আইনগত ও ফৌজদারি তদন্তের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে? কোষাধ্যক্ষ নিয়ে বিরোধ তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতা কুণাল ঘোষ অরূপ বিশ্বাসের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তার দাবি, অরূপ বিশ্বাস বর্তমানে দলের কোষাধ্যক্ষ নন এবং দলীয় আর্থিক বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ারও তার নেই। কুণাল ঘোষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুন অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সুবাশিস চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনিই দলীয় আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই বক্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব ও আর্থিক কর্তৃত্ব নিয়ে বিদ্যমান বিভাজনের বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। রাজনৈতিক ও আইনি প্রভাব কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, তদন্তে যদি অর্থের উৎস নিয়ে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা শুধু তৃণমূলের জন্য নয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্যও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, অভিযোগগুলো যদি দলীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অংশ হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা তৃণমূলের সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা ও জনসমর্থনের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এখন নজর থাকবে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কারণ, ৪৪০ কোটি রুপির এই হিসাবগুলোকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, তার উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও আর্থিক অবস্থান।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ লেবাননে চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ভল্ফগ্যাং পুস্তাইয়ের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল সীমান্ত সংঘাত হিসেবে দেখলে ভুল হবে; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ। আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশ্লেষণধর্মী সাক্ষাৎকারে পুস্তাই বলেছেন, তেহরানের প্রধান লক্ষ্য এখন দক্ষিণ লেবাননের সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে চাপ সৃষ্টি করা। তার মতে, ইরান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থানের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। কোথায় দেখছেন সুযোগ? পুস্তাইয়ের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরানের কৌশল শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সম্পর্ককে ঘিরে নয়। বরং এটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যকার সম্ভাব্য মতপার্থক্যকেও কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে। তার মতে, তেহরান বিশ্বাস করে যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে দুই মিত্র দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকারের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হতে পারে। আর সেই ব্যবধানই ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে। লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান থামানো কি সম্ভব? বিশ্লেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান অবশ্যই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ দেখতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি বলেন, তেহরান, বৈরুত, হিজবুল্লাহ, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র—সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই জানে যে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ নয়। কারণ ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থে হামলার জবাবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নীতি দীর্ঘদিনের। ফলে সংঘাতের মাত্রা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থাকলেও ময়দানের বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল বলে মনে করছেন তিনি। ট্রাম্পের কূটনীতি বনাম ইসরায়েলের নিরাপত্তা হিসাব পুস্তাই মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েল এমন অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করবে যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়, তাহলে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে দ্বিধা করবে না। অর্থাৎ কূটনৈতিক সমন্বয় বজায় রাখার চেষ্টা থাকলেও নিরাপত্তা প্রশ্নে তেল আবিবের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশলগত সমীকরণ বিশ্লেষকের মূল্যায়নে, বর্তমান সংকটকে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে। কারণ সরাসরি সামরিক সংঘাতে না গিয়ে প্রতিপক্ষ জোটের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দূরত্ব সৃষ্টি করা তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর কৌশল হতে পারে। তার মতে, তেহরানের বর্তমান মনোযোগ মূলত ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সম্পর্কের ভেতরে সম্ভাব্য ফাটল তৈরি করার দিকে। আর দক্ষিণ লেবাননের চলমান পরিস্থিতি সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কেবল সীমান্ত সংঘাত বা সামরিক অভিযানের প্রশ্ন নয়; এটি বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তার, জোট রাজনীতি এবং কৌশলগত ভারসাম্যের লড়াইও। ভল্ফগ্যাং পুস্তাইয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান এখন সরাসরি সংঘর্ষের চেয়ে প্রতিপক্ষের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে কাজে লাগানোর পথেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শিক্ষা, চাকরি ও জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের মুখে আফগানিস্তানের বহু নারী এখন ব্যবসাকেই টিকে থাকার প্রধান উপায় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তালেবান সরকারের আরোপিত নানা সীমাবদ্ধতায় নারীদের জন্য পেশাগত সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হলেও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকায় নতুন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—যেখানে উদ্যোক্তা হওয়াই অনেক নারীর শেষ ভরসা। উপলব্ধ তথ্য বলছে, গত কয়েক বছরে আফগানিস্তানে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ১০ হাজারের বেশি নারী ব্যবসায়িক লাইসেন্সধারী রয়েছেন। পাঁচ বছর আগের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় দশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার নারী লাইসেন্স ছাড়াই বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন। বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্ষুদ্র ও কুটিরভিত্তিক ব্যবসাই বর্তমানে আফগান নারীদের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। স্বপ্ন বদলে বেঁচে থাকার লড়াই যেসব নারী একসময় আইনজীবী, প্রকৌশলী বা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তাদের অনেকেই এখন কার্পেট বুনন, সাবান উৎপাদন, প্রসাধনী তৈরি কিংবা কারিগরি প্রশিক্ষণনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর মেয়েদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন ক্ষেত্র সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে অনেক নারী বাধ্য হয়ে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে শুরু করেন। উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাজার-ই-শরিফের ১৯ বছর বয়সী নাসিরা আজিজি সেই পরিবর্তনেরই একটি প্রতীকী উদাহরণ। শিক্ষাজীবন থেমে যাওয়ার পর তিনি কার্পেট উৎপাদন ব্যবসায় যুক্ত হন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪৫০ জন কর্মী কাজ করছেন, যাদের অধিকাংশই নারী। নাসিরার গল্প শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়; এটি এমন এক প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি, যাদের শিক্ষা বন্ধ হলেও জীবনের সংগ্রাম থেমে থাকেনি। প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন থেকে সাবান কারখানা ২১ বছর বয়সী রোকিয়া রেজায়ির স্বপ্ন ছিল খনি প্রকৌশলী হওয়ার। কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি ‘ম্যাগনোলিয়া’ নামে একটি সাবান উৎপাদন উদ্যোগ গড়ে তোলেন। বর্তমানে এই ব্যবসার আয়েই তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। রোকিয়ার মতো অনেক নারীর জন্য উদ্যোক্তা হওয়া কোনো পছন্দের সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং সীমিত সুযোগের মধ্যে বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় কৌশল। ব্যবসা আছে, স্বাধীনতা নেই নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বাড়লেও তাদের পথ মোটেও সহজ নয়। হেরাতের মৌচাষি ঘোঞ্চা কারিমি, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘বি কুইন’ নামে পরিচিত, প্রায় ৫০টি মৌচাক পরিচালনা করেন। তবে তার মতে, চলাচলে বিধিনিষেধ, পুরুষ ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে বাধা এবং প্রশাসনিক জটিলতা ব্যবসার সম্প্রসারণকে কঠিন করে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রেই নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন, বাজার ব্যবস্থাপনা বা সরকারি কাজকর্ম সম্পন্ন করতে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণকে সীমিত করে এবং তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ কমিয়ে দেয়। কর্মসংস্থানের সংকটের কঠিন চিত্র জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত আফগান নারীদের মাত্র ৭ শতাংশ কোনো না কোনো কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই পরিসংখ্যান দেশটির নারী শ্রমবাজারের সংকটকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ার কারণে ব্যবসা এখন কেবল আয়ের উৎস নয়; এটি নারীদের জন্য সামাজিক সংযোগ, আত্মমর্যাদা এবং ব্যক্তিগত পরিচয় ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সরকারি দাবি বনাম বাস্তবতার প্রশ্ন আফগান প্রশাসন দাবি করছে, নারীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ চালু রয়েছে। তবে নারী অধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব উদ্যোগের পরিধি সীমিত এবং বাস্তব প্রভাব প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। তাদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থাকলেও বাজারে প্রবেশ, আর্থিক সহায়তা, স্বাধীন চলাচল এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নারীরা এখনও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। শেষ আশ্রয় হিসেবে উদ্যোক্তা হওয়া হেরাত প্রদেশের নারী উদ্যোক্তা প্রতিনিধি বেহনাজ সালজুঘির ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে আফগান নারীদের জন্য ব্যবসাই ‘একমাত্র আশার জায়গা’। এই মন্তব্যের মধ্যে ফুটে ওঠে আফগান নারীদের বর্তমান বাস্তবতা—যেখানে শিক্ষা ও চাকরির বহু দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু জীবন থেমে নেই। প্রতিকূল সামাজিক পরিবেশ, প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও হাজারো নারী নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তাদের কাছে ব্যবসা শুধু জীবিকা নয়; এটি আত্মনির্ভরতা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা ধরে রাখার এক নীরব সংগ্রাম।
ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রা করতে গিয়ে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) আটলান্টিক মহাসাগর ও পশ্চিম ভূমধ্যসাগর হয়ে আফ্রিকা থেকে ইউরোপে অভিবাসনপ্রবাহ পর্যবেক্ষণকারী মানবাধিকার সংস্থা Caminando Fronteras এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মোট ১ হাজার ৩১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪২ জন নারী এবং ১২৯ জন শিশু রয়েছে। একই সময়ে অন্তত ২৭টি নৌকা আরোহীসহ নিখোঁজ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিবাসন সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্প্রতি স্পেন সফরকালে কথা বলেছেন Pope Leo XIV। তিনি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দুর্দশাকে এমন একটি মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ইউরোপমুখী অভিবাসন ঠেকাতে Mauritania-সহ পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সীমান্ত ও উপকূলীয় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ফলে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়াতে আরও দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে এবং দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে অন্তত ৩ হাজার ৯০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ হন। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে স্পেনের অন্তর্ভুক্ত Canary Islands-এ পৌঁছানোর পথকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অভিবাসন রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ ও পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের মধ্যকার সর্বনিম্ন দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। এ ছাড়া অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী Morocco থেকে স্পেনে প্রবেশের জন্য ভূমধ্যসাগরের একটি অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ অংশ ব্যবহার করেন, যার প্রস্থ প্রায় ২০ কিলোমিটার। কেউ কেউ সাঁতরে বা ছোট নৌকায় এই পথ অতিক্রমের চেষ্টা করেন, যা প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সীমিত থাকায় হাজারো মানুষ এখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপমুখী যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর টাইরের বাসিন্দাদের জরুরিভাবে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মঙ্গলবার (৯ জুন) জারি করা এই নির্দেশনার আওতায় শহরের খ্রিস্টান অধ্যুষিত অঞ্চল এবং আশপাশের শরণার্থী শিবিরগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইডিএফের আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় বলেন, টাইর শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত সরে গিয়ে জাহরানি নদীর উত্তরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর সদস্য ও তাদের ব্যবহৃত স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থান করা বেসামরিক মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সন্দেহ করা যেকোনো স্থাপনা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ টাইর? ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী টাইর শুধু দক্ষিণ লেবাননের একটি প্রধান শহরই নয়, এটি দেশটির অন্যতম ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। শহরটিতে মুসলিম, খ্রিস্টান এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বসবাস রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, টাইরের মতো জনবহুল এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সাধারণত বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে যখন নির্দেশনাটি শহরের বিস্তৃত আবাসিক অঞ্চল ও শরণার্থী শিবির পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তখন সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে। গোলাবর্ষণের খবর, নীরব আইডিএফ লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে টাইর জেলার মানসুরি ও মাজদাল জুন এলাকার উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি আইডিএফ। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক তৎপরতা ও নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নতুন করে সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও দ্রুত বাস্তুচ্যুত হওয়া সবসময় সহজ নয়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং শরণার্থী পরিবারগুলোর জন্য স্থানান্তর একটি বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। টাইরের বাসিন্দাদের অনেকেই ইতোমধ্যে শহর ছেড়ে নিরাপদ অঞ্চলের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে কত সংখ্যক মানুষ এই নির্দেশনার আওতায় পড়েছেন, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আঞ্চলিক উত্তেজনা কোন দিকে যাচ্ছে? ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা গত কয়েক মাসে নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা, ড্রোন অভিযান এবং গোলাবর্ষণের ঘটনা ক্রমেই বেড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি এই উত্তেজনা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তাহলে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নতুন মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। টাইর শহরের জন্য জারি করা সর্বশেষ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বিধায়কদের কথিত জাল স্বাক্ষর সংক্রান্ত একটি অভিযোগ। সেই অভিযোগের তদন্তে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে সাবেক তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর কলকাতার বাসভবন ও সংশ্লিষ্ট দলীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডির কর্মকর্তারা কালিঘাট থানার পুলিশ ও বিপুল সংখ্যক নারী পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে পৌঁছান। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, একই সময় তিনটি পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে তল্লাশি চালানো হয়। কী অভিযোগ? তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর সিআইডি তথ্য চেয়ে নোটিশ জারি করে। সিআইডির এক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জবাবে উল্লেখ করেছেন যে স্বাক্ষরগুলো দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা এখন সেই দাবির সত্যতা যাচাই করছেন। তল্লাশি কোথায় কোথায়? তদন্তকারীরা তিনটি আলাদা স্থানে অভিযান চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করায় অভিযানের সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। কারা অভিযোগ করেছেন? দুই বিধায়ক— ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা— বিধানসভার স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তাদের দাবি, বিরোধী দলনেতা স্বীকৃতির জন্য পাঠানো প্রস্তাবটি ছিল “মনগড়া ও জালিয়াতিপূর্ণ”। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, প্রস্তাবে মোট ৭০টি স্বাক্ষরের মধ্যে অন্তত ১৪টি ব্লক লেটারে লেখা ছিল, যা তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। এরপর এ ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয় এবং তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে। তদন্তের মূল প্রশ্ন প্রস্তাবে থাকা স্বাক্ষরগুলো কি প্রকৃতপক্ষে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের? স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা জালিয়াতি হয়েছে কি না? দলীয় কার্যালয় থেকে নথি প্রস্তুত বা প্রেরণের ক্ষেত্রে কারা জড়িত ছিলেন? বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া প্রস্তাবের উৎস ও অনুমোদনের শৃঙ্খল কী ছিল? রাজনৈতিক প্রভাব তল্লাশি অভিযানের খবর প্রকাশ্যে আসার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিরোধীরা ঘটনাটিকে “গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন” হিসেবে তুলে ধরছে, আর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হচ্ছে। তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সিআইডি আনুষ্ঠানিকভাবে কী তথ্য উদ্ধার করেছে বা কারও বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থান, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন এবং অনুমতিবিহীন কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযান চালাচ্ছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই দেশজুড়ে পরিচালিত অভিযানে আটক হয়েছেন ৩০ হাজার ৮০১ জন বিদেশি নাগরিক, যা দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামার বরাত দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ করেছে মালায় মেইল। তথ্য অনুযায়ী, আটক হওয়া বিদেশিদের মধ্যে ২ হাজার ৩২৪ জনের বিরুদ্ধে ভিসার শর্ত ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তারা যে উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন, বাস্তবে তার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। ভিসা এক, কাজ আরেক—কেন উদ্বিগ্ন কর্তৃপক্ষ? ইমিগ্রেশন বিভাগের তদন্তে দেখা গেছে, অনেক বিদেশি নাগরিক পর্যটক, শিক্ষার্থী কিংবা অন্যান্য সীমিত অনুমতির ভিসায় দেশটিতে প্রবেশ করলেও পরে অনুমোদনহীন ব্যবসা, শ্রমবাজার বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা শুধু অভিবাসন নীতিকেই চ্যালেঞ্জ করছে না, বরং বৈধ শ্রমবাজার, কর ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলছে। জাকারিয়া শাবান বলেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জনশৃঙ্খলা এবং ন্যায্য অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানো এখন বিভাগের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষ অভিযান ইউনিট গঠন অভিযান আরও কার্যকর করতে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ নতুন কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বিশেষ ‘এনফোর্সমেন্ট ইন্সপেক্টরেট’ গঠন; ঝুঁকিপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক চিরুনি অভিযান; ভিসা ও কর্মসংস্থান আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি; অবৈধ কর্মী নিয়োগকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। কর্তৃপক্ষের দাবি, শুধু বিদেশি নাগরিক নয়, তাদের অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও সমান গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যৌথ অভিযানে নতুন কৌশল ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অভিবাসন ও ভিসা অপব্যবহার প্রতিরোধকে বিভাগের বার্ষিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের (KPI) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে করে অভিযান পরিচালনা, আইন প্রয়োগ এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই অভিযান বিদেশি শ্রমিকনির্ভর খাতগুলোতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রবাসী ভিসার শর্ত অনুযায়ী কাজ করছেন না কিংবা অনুমতিবিহীন কর্মসংস্থানে যুক্ত রয়েছেন, তাদের জন্য এটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। মালয়েশিয়া সরকার ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে বিদেশি কর্মী ও নিয়োগকর্তা—উভয় পক্ষের ওপর নজরদারি আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সুযোগ পেলে তিনি ভবিষ্যতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। এমন এক সময়ে তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করলেন, যখন মোজতবা খামেনিকে ঘিরে ইরান ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের ‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, এখন পর্যন্ত মোজতবা খামেনির সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। তবে চলমান কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের জনগণের একটি বড় অংশ মোজতবা খামেনিকে সম্মানের চোখে দেখে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য সঠিক হলে নতুন ইরানি নেতা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়ে থাকতে পারেন। মোজতবা খামেনিকে ঘিরে এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, তাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণার পর থেকে জনসমক্ষে তার উপস্থিতি অত্যন্ত সীমিত। বিভিন্ন লিখিত বার্তা প্রচারিত হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সাম্প্রতিক ছবি, ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশিত হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে শুরু হওয়া হামলার ঘটনা। সে সময় দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন বলে দাবি করা হয়। তবে সেই হামলা থেকে বেঁচে যান তার ছেলে মোজতবা খামেনি। পরবর্তীতে ৮ মার্চ তেহরান কর্তৃপক্ষ তাকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকেই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন তিনি। তবে তার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং জনসমক্ষে অনুপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকা সাধারণত অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে মোজতবা খামেনিকে ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও জোরদার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সাক্ষাতের আগ্রহ কেবল একটি কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়েও নতুন প্রশ্ন সামনে আনছে। তবে সম্ভাব্য কোনো বৈঠক কবে, কোথায় বা কোন প্রেক্ষাপটে হতে পারে—সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাননি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব, তার প্রকৃত অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন আগামী মাসগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরাকের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বিমান ও স্থল—দুই ধরনের সমন্বিত হামলা নিয়ে পরিচালিত এই অভিযানকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোববার (৩১ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির স্থল বাহিনী অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু, হামলার স্থান কিংবা কোন কোন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে—সেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ পর্যন্ত অভিযান থেকে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সে সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে অভিযানের প্রকৃত ব্যাপ্তি এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়। সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের পার্বত্য সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ইরান-বিরোধী সশস্ত্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী সীমান্তবর্তী এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে ইরানের ভেতরে নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা দেশটির জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তঘেঁষা এলাকায় সংঘর্ষ, অনুপ্রবেশ এবং সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধির অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযান? আইআরজিসির সর্বশেষ এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিচালিত সশস্ত্র কার্যক্রম তার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অভিযান শুধু সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা দুর্বল করার প্রচেষ্টা নয়; একই সঙ্গে এটি একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। এর মাধ্যমে তেহরান দেখাতে চাইছে যে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যেকোনো নিরাপত্তা ঝুঁকির বিরুদ্ধে তারা প্রয়োজন হলে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। আঞ্চলিক প্রভাবের প্রশ্ন অভিযানটি ইরান-ইরাক সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। যদিও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য এখনও সীমিত, তবু এটি স্পষ্ট যে সীমান্তবর্তী কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ও সশস্ত্র তৎপরতা নিয়ে তেহরানের উদ্বেগ আগের মতোই বহাল রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিযানের পরবর্তী ধাপ, সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবং ইরাকের অবস্থান—এসব বিষয় আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ শহর নাবাতিয়েহ ঘিরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে ইসরাইলি বাহিনী। একাধিক সামরিক ও সংবাদ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শহরটির চারপাশে সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে কার্যত অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল, যা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সামরিক সূত্রগুলো বলছে, ২০০৬ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো ইসরাইলি সেনারা লিতানি নদী অতিক্রম করেছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীটিকে একটি অঘোষিত ‘বাফার জোন’ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা সেই বাস্তবতায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে নাবাতিয়েহ শহরের উপকণ্ঠে ইসরাইলি বাহিনীর অবস্থানের খবর পাওয়া যাচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শহরটি দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহ-প্রভাবিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল নাবাতিয়েহকে ঘিরে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং হিজবুল্লাহর প্রতিরক্ষা বলয় ভেঙে আরও ভেতরে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে দক্ষিণ ও পশ্চিম লেবাননের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নাবাতিয়েহকে ঘিরে ফেলা সম্ভব হলে দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে। হামলায় আহত সেনা, নিহত প্যারামেডিক লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নাবাতিয়েহর কাছে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় তাদের দুই সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সময়ে জেবশিত গ্রামে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় একজন প্যারামেডিক নিহত এবং আরও চারজন আহত হন বলে জানিয়েছে লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা। হামলায় একটি হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ওপর হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বেউফোর্ট দুর্গ এলাকায় তীব্র গোলাবর্ষণ সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বেউফোর্ট দুর্গ-সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০০ সাল পর্যন্ত এই দুর্গ ও আশপাশের এলাকা ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফলে অঞ্চলটি সামরিক ও প্রতীকী—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। পাল্টা হামলার দাবি হিজবুল্লাহর হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরাইলের কিরিয়াত শমোনা শহরে রকেট হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর দাবি করেছে সংগঠনটি। তবে এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। নতুন বাস্তুচ্যুতি সংকট ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের অন্তত ১০টি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মানবিক সংকট ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। ‘বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন’ পরিস্থিতি লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সংঘাতের বিস্তার শুধু লেবানন নয়, পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অগ্রযাত্রা এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে দ্রুত একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ দিতে পারে। অঘোষিত যুদ্ধবিরতির আলোচনা থাকলেও মাঠের বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত কার্যত নতুন মাত্রায় প্রবেশ করেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের রাজধানী দিল্লির মেহরৌলি এলাকায় একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধসে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩০ মে) ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধারকারীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দমকল বিভাগ, দিল্লি পুলিশ এবং জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো ভবনটি হঠাৎ করেই ধসে পড়ে। ভবনের একটি অংশ পাশের আরেকটি স্থাপনার ওপর গিয়ে পড়ায় সেখানে অবস্থানরত কয়েকজনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য আটকে পড়াদের সন্ধান করছেন। এ ঘটনায় নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পেছনে কী ছিল? দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল এবং নির্মাণ কিংবা রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়ম থাকতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অনেক সময় ব্যবহার উপযোগী হিসেবেই থেকে যায়। ফলে এমন দুর্ঘটনা প্রাণহানির বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও ভবন ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি, তবে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। স্থানীয়দের ভূমিকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভবন ধসের পর উদ্ধারকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে কয়েকজনকে বের করে আনতেও তারা সহায়তা করেন। এ ধরনের ঘটনায় দুর্ঘটনার পরের প্রথম কয়েক ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা। কারণ এই সময়ের মধ্যেই আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন। এ কারণে ভারী যন্ত্রপাতি ও বিশেষায়িত উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো এলাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হয়েছে এবং উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : উত্তর গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার গভীর রাতে গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে এই হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্র বলছে, হামলার সময় আশপাশের একটি পার্কে কয়েকজন শিশু খেলছিল। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরাইল প্রায় প্রতিদিন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবারগুলো সন্তানদের নিয়ে ঘর কিংবা অস্থায়ী তাঁবু ছেড়ে বাইরে বের হতেও আতঙ্ক বোধ করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, উত্তর গাজাজুড়ে এখনো অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। হামাস নেতার জানাজার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামলা এই বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই গাজায় হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান মোহাম্মদ ওদেহের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার ইসরাইলি হামলায় তিনি নিহত হন। জানাজায় শত শত ফিলিস্তিনি অংশ নেন। ইসরাইল জানিয়েছে, হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করেই তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গাজা সিটিতে চালানো হামলায় মোহাম্মদ ওদেহের স্ত্রী ও ছেলেও নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার সময় ওদেহ হামাসের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ছিলেন। গত সপ্তাহে ইসরাইলি হামলায় নিহত ইজ আল-দিন আল-হাদ্দাদের পর তাকে হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ‘যুদ্ধ থামেনি, শুধু নাম বদলেছে’ ওদেহের স্বজন আবু আল-আব্দ ওদেহ সংবাদ সংস্থা Reuters-কে বলেন, গাজার বাস্তবতা এখনো ভয়াবহ। তার ভাষায়, “যুদ্ধ থেমে গেছে— এমন কথা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য যুদ্ধের কোনো বিরতি নেই। জীবনযাত্রার অবস্থারও কোনো উন্নতি হয়নি।” স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরাইল ৩ হাজারের বেশি বার লঙ্ঘন করেছে। ত্রাণ প্রবেশ নিয়েও বাড়ছে অভিযোগ গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় যে পরিমাণ ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা ছিল, বাস্তবে তার অল্প অংশ প্রবেশ করতে পেরেছে। বুধবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, গত ২২৭ দিনে যুদ্ধবিরতির ৩,০০৫টি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে গাজায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও বাস্তবে প্রবেশ করেছে মাত্র ৪৯ হাজার ৯৭৩টি। অর্থাৎ চুক্তি বাস্তবায়নের হার ৩৬ শতাংশেরও কম। নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের শঙ্কা ইসরাইল ও হামাস— উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। ইসরাইল বলছে, হামাস অস্ত্র সমর্পণে রাজি না হওয়ায় সমঝোতা এগোচ্ছে না। অন্যদিকে হামাসের দাবি, ইসরাইল নিয়মিত হামলা চালানো এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করায় আলোচনা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে বহাল থাকলেও গাজার বাস্তবতা এখনো যুদ্ধক্ষেত্রের মতোই রয়ে গেছে। নিহতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয় সংকটও ক্রমেই গভীর হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম ঈদ: বদলে গেল রেড রোডের ঐতিহ্য, কোরবানিতে কড়াকড়ি ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবারের ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে এক ভিন্ন বাস্তবতায়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক রীতিনীতিতে পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে ঈদের প্রধান জামাত থেকে শুরু করে কোরবানির ব্যবস্থাপনায়ও। নতুন বিজেপি সরকারের অধীনে মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশের মধ্যে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও চাপা অসন্তোষের চিত্র সামনে এসেছে। সম্প্রতি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীপশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যে প্রশাসনিক নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সরকার জনসমাগম ও ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। রেড রোডে ঈদের জামাত বন্ধ দশকের পর দশক ধরে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি ছিল একটি প্রতীকী আয়োজন, যেখানে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। তবে এবার সেই চিত্র বদলে গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসন রেড রোডে ধর্মীয় সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে ঈদের প্রধান জামাত সরিয়ে নেয় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। সরকারের যুক্তি ছিল—জনসড়কে ধর্মীয় জমায়েত সীমিত করা। ঈদের দিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন, নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও প্রশাসন দাবি করেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোরবানিতে কড়াকড়ি, গরুর হাটে ভাটা এবারের ঈদে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে কোরবানির ব্যবস্থাপনায়। পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই সংক্রান্ত পুরোনো আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। প্রশাসনের পূর্বানুমোদন ছাড়া প্রকাশ্যে পশু জবাই নিষিদ্ধ করা হয় এবং নির্দিষ্ট স্থান বা ব্যক্তিগত পরিসরে কোরবানি সম্পন্ন করার নির্দেশনা জারি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার গরুর হাটে বেচাকেনা কমে যায় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। অনেক বিক্রেতার অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারি ও অনিশ্চয়তার কারণে ক্রেতারা আগের মতো আগ্রহ দেখাননি। তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয় বিবেচনায় এনে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বার্তা নাকি ব্যক্তিগত বিশ্বাস? ঈদ উপলক্ষে রাজনৈতিক সৌজন্যের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন ছিল স্পষ্ট। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে রাজ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ঈদের শুভেচ্ছা ও প্রকাশ্য অংশগ্রহণ দেখা গেলেও এবার সেই চিত্র অনেকটাই অনুপস্থিত ছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। ঈদের দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মায়াপুরের ইসকন মন্দির পরিদর্শন এবং ‘গো-সেবা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সমর্থকদের দাবি, এটি ছিল তার ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলন। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশ এটিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। সামাজিক মাধ্যমে হতাশা ও আবেগ ঈদের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মুসলিম নাগরিকের ফেসবুক পোস্ট ও অনলাইন প্রতিক্রিয়ায় হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতি উঠে এসেছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, বহু পরিবার অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপে কোরবানি দিতে পারেনি। আবার অনেকে লিখেছেন, এবারের ঈদ ছিল “নিঃশব্দ ও সংযত”। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি পোস্টে “সংখ্যাগুরুর রাজনীতি”, “সাংস্কৃতিক সংকোচন” এবং “ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন” নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব মন্তব্যের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, এবারের ঈদুল আজহা ছিল তার প্রথম বড় পরীক্ষাগুলোর একটি। পরিবর্তনের সূচনা নাকি সাময়িক পরিস্থিতি? নতুন সরকারের সমর্থকরা বলছেন, আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিপরীতে বিরোধী মহল ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি অংশের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ সামাজিক সহাবস্থান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে কতটা গভীর প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে এবারের ঈদুল আজহা রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক, রাজনৈতিক বার্তা এবং প্রশাসনিক নীতির নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে—এ নিয়ে খুব কমই দ্বিমত রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পবিত্র ঈদুল আজহা—ত্যাগ, আনন্দ ও পারিবারিক মিলনের উৎসব। কিন্তু এই উৎসবই এবার এক বাংলাদেশি বাবার জীবনে হয়ে উঠেছে গভীর বেদনা আর অসহায়ত্বের প্রতীক। চিকিৎসাজনিত কারণে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন তিনি। দেশের মানুষ যখন কোরবানির আনন্দে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় বিদেশের মাটিতে ঈদ কাটছে তার নিঃসঙ্গতা, মানসিক চাপ এবং সীমাহীন কষ্টের মধ্যে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি তুলে ধরেছেন প্রবাসজীবনের নির্মম এক বাস্তবতা। সেখানে তিনি লিখেছেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে না পারার কষ্টের চেয়েও বেশি বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে ছোট সন্তানের জন্য ঈদের দিনে সামান্য ভালো খাবারের ব্যবস্থাও করতে না পারা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের আগের বিকেল থেকে শুরু করে ঈদের নামাজের পর পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন বাজারে ঘুরেছেন শুধুমাত্র কিছু মাংসের আশায়। কিন্তু প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েও এক থেকে দুই কেজি গরুর মাংস তো দূরের কথা, এক কেজি খাসির মাংসও সংগ্রহ করতে পারেননি। তিনি লিখেছেন, সন্তানের মুখে ঈদের দিনে একটু ভালো খাবার তুলে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও আর সম্ভব হয়নি। মাংসের খোঁজে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে মুরগি কেনার কথাও ভুলে যান তিনি। ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এক-দুই দিন না খেলে হয়তো কিছু হবে না। কিন্তু জীবনের প্রথমবার ঈদও চলে গেল হেলায়, কোরবানিও চলে গেল হেলায়।” তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বহু মানুষ সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মন্তব্যে লিখেছেন, বিদেশে চিকিৎসা কিংবা জীবিকার প্রয়োজনে অবস্থানরত মানুষেরা প্রায়ই এমন নিঃসঙ্গ ও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন, যা উৎসবের সময় আরও প্রকট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে না পারার অসহায়ত্ব একজন বাবার জন্য কতটা কষ্টের হতে পারে—সেই অনুভূতিই যেন এই ঘটনার মাধ্যমে সামনে এসেছে। প্রবাসজীবনের অর্থনৈতিক চাপ, চিকিৎসা ব্যয়, ভাষাগত সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা—সবকিছু মিলিয়ে দেশের বাইরে থাকা অনেক মানুষের জন্য উৎসব মানেই কখনো কখনো নিঃশব্দ এক মানসিক সংগ্রাম। আর সেই সংগ্রামের প্রতিচ্ছবিই উঠে এসেছে এই বাংলাদেশি পরিবারের ঈদ অভিজ্ঞতায়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে যাওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লোটিলার কর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মুক্তি পাওয়া কয়েকজন কর্মী দাবি করেছেন, আটক অবস্থায় তারা মারধর, অপমানজনক আচরণ, এমনকি যৌন সহিংসতারও শিকার হয়েছেন। শুক্রবার প্রকাশিত বিভিন্ন সাক্ষ্য ও সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে আটক হওয়া কর্মীদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন ভুক্তভোগী ধর্ষণের অভিযোগও তুলেছেন। মানবিক সহায়তা বহনকারী এই বহরে অংশ নেওয়া কর্মীদের সংগঠন ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে প্রায় ৪৩০ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের একটি অংশকে জাহাজে তৈরি অস্থায়ী বন্দিশিবিরে রাখা হয়, যেখানে কনটেইনার ও কাঁটাতারের বেড়ার মধ্যে অমানবিক পরিবেশে দিন কাটাতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ‘কনটেইনার বন্দিশিবিরে’ নির্যাতনের অভিযোগ মুক্তি পাওয়া কয়েকজন কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের ওপর অপমানজনক দেহ তল্লাশি, শারীরিক নির্যাতন এবং যৌন হয়রানি চালানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত, জোরপূর্বক তল্লাশি এবং একাধিক ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। ইতালীয় কর্মী ইলারিয়া মানকোসু দাবি করেছেন, অনেকের হাত ও পাঁজর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। টেজার গান ব্যবহারের কারণে কয়েকজনের কান ও চোখে গুরুতর আঘাতের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। আরেক ইতালীয় কর্মীর অভিযোগ, আটক ব্যক্তিদের টানা দুই দিন পানি পান করতে দেওয়া হয়নি এবং গুরুতর আহতদেরও চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ঘটনাটি ঘিরে ইউরোপের কয়েকটি দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইতালির রোমে প্রসিকিউটররা অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। জার্মানি ঘটনাগুলোকে “অত্যন্ত গুরুতর” হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে আহত কয়েকজন ফরাসি নাগরিক বর্তমানে তুরস্কে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আলোচনা শুরু করেছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটিতে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীকে আটক কর্মীদের নিয়ে উপহাস করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও ভিডিওটির প্রেক্ষাপট নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার ইসরায়েলের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, আটক কর্মীদের ওপর নির্যাতন বা যৌন সহিংসতার অভিযোগ “ভিত্তিহীন” এবং “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সংঘটিত ঘটনাগুলোর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা দাবির মধ্যেই ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ঘটনার নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেছে। তাদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজাকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই অভিযোগ নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে পারে এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পদত্যাগপত্রে গ্যাবার্ড জানান, তার স্বামী বিরল ধরনের হাড়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিবারের পাশে থাকা এখন তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলেই তিনি প্রশাসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গ্যাবার্ড বলেন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়া তার জন্য ছিল ‘সম্মানের বিষয়’। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনকালে ট্রাম্প প্রশাসনের আস্থা ও সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে গ্যাবার্ডের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসন ছাড়বেন গ্যাবার্ড। ট্রাম্প তার কাজের প্রশংসা করে বলেন, দায়িত্ব পালনে তিনি দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন এবং প্রশাসন তাকে ‘মিস করবে’। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স বিভাগের প্রিন্সিপাল ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যারন লুকাস অন্তর্বর্তীকালীন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ডেমোক্র্যাট থেকে ট্রাম্প শিবিরে তুলসি গ্যাবার্ডের রাজনৈতিক যাত্রা বরাবরই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সামরিক পটভূমির অধিকারী গ্যাবার্ড ইরাক যুদ্ধে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বিদেশে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ওয়াশিংটনের অবস্থানের বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রকাশ্যে মত দেন। পরবর্তীতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ত্যাগ করে ট্রাম্পকে সমর্থন জানান গ্যাবার্ড। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে সামরিক সম্পৃক্ততা কমানোর প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে তার রাজনৈতিক অবস্থানের মিলই এ ঘনিষ্ঠতার অন্যতম কারণ। এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন -এর প্রশাসনের সমালোচনা করে দাবি করেছিলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সংঘাত ও পারমাণবিক উত্তেজনার ঝুঁকি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। তবে ভেনিজুয়েলা ও ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে গ্যাবার্ডের কিছু নীতিগত মতপার্থক্য ছিল। পরে তিনি ইরান প্রসঙ্গে প্রশাসনের অবস্থানকে সমর্থন করেন। তার ভাষ্য ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি মূল্যায়নের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্টের কাছেই থাকা উচিত। রাজনৈতিক বার্তা না ব্যক্তিগত সংকট? গ্যাবার্ডের পদত্যাগকে আপাতদৃষ্টিতে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হলেও ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে এটি নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো, বৈদেশিক নীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যের প্রশ্নে এ পদত্যাগ ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কোরবানি নিয়ে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নির্ধারিত স্থান ছাড়া খোলা জায়গা, রাস্তা, গলি কিংবা জনসম্মুখে পশু কোরবানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিল্লি সরকারের মন্ত্রী কপিল মিশ্র। তিনি জানান, দিল্লিতে গরু, বাছুর, উটসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত পশু কোরবানি করা বেআইনি। কোরবানি শুধুমাত্র অনুমোদিত ও নির্ধারিত স্লটার হাউসে সম্পন্ন করতে হবে। এ নিয়ম অমান্য করলে ফৌজদারি মামলাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। প্রশাসনের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোরবানির পর রাস্তাঘাট, নর্দমা কিংবা উন্মুক্ত স্থানে রক্ত ও বর্জ্য ফেলা যাবে না। নির্ধারিত স্থানেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। এছাড়া অলিগলি, রাস্তার পাশে কিংবা খোলা স্থানে অবৈধভাবে পশুর হাট বসানো এবং পশু কেনাবেচাও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দিল্লি প্রশাসন জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা কার্যকর করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। কোনো ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা সরাসরি পুলিশ বা দিল্লি সরকারের উন্নয়ন বিভাগে জানাতে নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।