ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোতয়ালী পানি উন্নয়ন শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী খাদিজা আক্তারের বিরুদ্ধে পদমর্যাদার অপব্যবহার, অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় তিনি স্বামীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে খাদিজা আক্তার বলেছেন, তাঁকে নিয়ে ‘ভুল তথ্য’ সরবরাহ করা হচ্ছে।
অভিযোগের পক্ষে যেসব তথ্যের কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা, স্বামীর ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ এবং এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার দাবি।
অভিযোগ অনুযায়ী, খাদিজা আক্তার ২০১৭ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে এবং বেনামে ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এ ছাড়া, তাঁর স্বামী সজল হাওলাদারের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিজের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা আড়াল করতে তিনি স্বামীর ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খাদিজা আক্তার বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে বেনামে ঠিকাদারি করার যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, তা সঠিক নয়।তিনি বলেন, “বেনামে ঠিকাদারি করার তথ্য সম্পূর্ণ ভুল। আমার স্বামী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) ঠিকাদারি করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডে নয়। সেখানে ব্যবসা করায় কোনো আইনি বাধা আছে বলে আমার জানা নেই।”
তবে সরকারি চাকরিতে থাকা কোনো কর্মকর্তার স্বার্থের সংঘাত, ঠিকাদারি কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা কিংবা পরিবারের ব্যবসার সঙ্গে তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না—তা নির্ধারণে প্রযোজ্য সরকারি বিধি এবং সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
খাদিজা আক্তার ২০২০ সাল থেকে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত থাকার তথ্যের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে সময়ের হিসাবের পার্থক্য রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁকে নিয়ে ভুল তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।
তাঁর ভাষ্য, “আমি একই কর্মস্থলে ছয় বছর নয়, চার বছরের কিছু বেশি সময় ধরে আছি। আর আমাকে আমার কর্তৃপক্ষ বা অফিস থেকে কোনো দিন কোনো শোকজ করা হয়নি।”
অর্থাৎ, তাঁর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার যে দাবি উঠেছে, তা তিনি সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
সরকারি চাকরিতে তাঁর মূল বেতন স্কেল ২২ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করে অভিযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এই আয়ের সঙ্গে তাঁর বিলাসী জীবনযাপন এবং ঢাকা-বরিশাল রুটে বিমানে যাতায়াতের বিষয়টি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জবাবে খাদিজা আক্তার বলেন, তাঁর বিয়ের সময় ২০১০ সাল এবং সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় ২০১৭ সাল। তাঁর দাবি, চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই তাঁর স্বামী প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং স্বামীর ইচ্ছাতেই তিনি বিমানে ভ্রমণ করেছেন।
তিনি বলেন, “২০১০ সালে আমার বিয়ে হয়েছে এবং চাকরিতে ঢুকেছি ২০১৭ সালে। আমার স্বামী ২০১০ সাল থেকেই প্রতিষ্ঠিত। চাকরির আগেও স্বামীর ইচ্ছায় দুই-তিনবার বিমানে উঠেছি, আর চাকরির পর বরিশাল-ঢাকা রুটে হয়তো দুইবার উঠেছি। এটি নিয়মিত কোনো বিষয় নয়।”
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানে ভ্রমণের ব্যয় তাঁর সরকারি বেতনের বাইরে পারিবারিক আয়ের মাধ্যমে বহন করা হয়ে থাকতে পারে।
খাদিজা আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তাঁর বা তাঁর পরিবারের নামে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, সরকারি কার্যাদেশ, দরপত্রে অংশগ্রহণের নথি, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসনিক রেকর্ড পর্যালোচনা করলে অভিযোগের প্রকৃতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
একইভাবে, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না, দেওয়া হয়ে থাকলে তার বিষয়বস্তু কী ছিল এবং এ বিষয়ে দপ্তরের কোনো তদন্ত হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, ঠিকাদারি নথি এবং আর্থিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে তা জনস্বার্থে প্রকাশ করা প্রয়োজন; একইভাবে অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ না মিললে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো জরুরি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোতয়ালী পানি উন্নয়ন শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী খাদিজা আক্তারের বিরুদ্ধে পদমর্যাদার অপব্যবহার, অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় তিনি স্বামীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে খাদিজা আক্তার বলেছেন, তাঁকে নিয়ে ‘ভুল তথ্য’ সরবরাহ করা হচ্ছে। অভিযোগের পক্ষে যেসব তথ্যের কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা, স্বামীর ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ এবং এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার দাবি। বেনামে ঠিকাদারি ও স্বামীর প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, খাদিজা আক্তার ২০১৭ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে এবং বেনামে ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এ ছাড়া, তাঁর স্বামী সজল হাওলাদারের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিজের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা আড়াল করতে তিনি স্বামীর ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। ‘বেনামে ঠিকাদারির তথ্য সম্পূর্ণ ভুল’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খাদিজা আক্তার বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে বেনামে ঠিকাদারি করার যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, তা সঠিক নয়।তিনি বলেন, “বেনামে ঠিকাদারি করার তথ্য সম্পূর্ণ ভুল। আমার স্বামী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) ঠিকাদারি করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডে নয়। সেখানে ব্যবসা করায় কোনো আইনি বাধা আছে বলে আমার জানা নেই।” তবে সরকারি চাকরিতে থাকা কোনো কর্মকর্তার স্বার্থের সংঘাত, ঠিকাদারি কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা কিংবা পরিবারের ব্যবসার সঙ্গে তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না—তা নির্ধারণে প্রযোজ্য সরকারি বিধি এবং সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কর্মস্থলে অবস্থান ও শোকজের দাবি নিয়ে বক্তব্য খাদিজা আক্তার ২০২০ সাল থেকে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত থাকার তথ্যের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে সময়ের হিসাবের পার্থক্য রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁকে নিয়ে ভুল তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, “আমি একই কর্মস্থলে ছয় বছর নয়, চার বছরের কিছু বেশি সময় ধরে আছি। আর আমাকে আমার কর্তৃপক্ষ বা অফিস থেকে কোনো দিন কোনো শোকজ করা হয়নি।” অর্থাৎ, তাঁর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার যে দাবি উঠেছে, তা তিনি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। বিমান ভ্রমণ ও জীবনযাপন নিয়ে ব্যাখ্যা সরকারি চাকরিতে তাঁর মূল বেতন স্কেল ২২ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করে অভিযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এই আয়ের সঙ্গে তাঁর বিলাসী জীবনযাপন এবং ঢাকা-বরিশাল রুটে বিমানে যাতায়াতের বিষয়টি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। জবাবে খাদিজা আক্তার বলেন, তাঁর বিয়ের সময় ২০১০ সাল এবং সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় ২০১৭ সাল। তাঁর দাবি, চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই তাঁর স্বামী প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং স্বামীর ইচ্ছাতেই তিনি বিমানে ভ্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, “২০১০ সালে আমার বিয়ে হয়েছে এবং চাকরিতে ঢুকেছি ২০১৭ সালে। আমার স্বামী ২০১০ সাল থেকেই প্রতিষ্ঠিত। চাকরির আগেও স্বামীর ইচ্ছায় দুই-তিনবার বিমানে উঠেছি, আর চাকরির পর বরিশাল-ঢাকা রুটে হয়তো দুইবার উঠেছি। এটি নিয়মিত কোনো বিষয় নয়।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানে ভ্রমণের ব্যয় তাঁর সরকারি বেতনের বাইরে পারিবারিক আয়ের মাধ্যমে বহন করা হয়ে থাকতে পারে। অভিযোগ যাচাইয়ে যেসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ খাদিজা আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তাঁর বা তাঁর পরিবারের নামে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, সরকারি কার্যাদেশ, দরপত্রে অংশগ্রহণের নথি, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসনিক রেকর্ড পর্যালোচনা করলে অভিযোগের প্রকৃতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। একইভাবে, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না, দেওয়া হয়ে থাকলে তার বিষয়বস্তু কী ছিল এবং এ বিষয়ে দপ্তরের কোনো তদন্ত হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্ত ও নথি যাচাইয়ের প্রয়োজন বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, ঠিকাদারি নথি এবং আর্থিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে তা জনস্বার্থে প্রকাশ করা প্রয়োজন; একইভাবে অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ না মিললে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো জরুরি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় কর্মরত এক নারী সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) অশালীন ভাষায় গালাগাল ও চরিত্রহননের অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খানের স্ত্রী আঞ্জুমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এএসআই শাহনাজ আক্তার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তবে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায় নির্ধারণের আগেই তাঁকে অন্য থানায় বদলি করা হয়েছে। একই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানেন বলে দাবি করা উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল মামুনকেও অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। জিডি করার পর অভিযোগকারী ও ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়া এক পুলিশ সদস্যের একসঙ্গে বদলির ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ও স্বচ্ছতা নিয়ে। অভিযোগের বিষয়ে ওসি মাসুদ খান সব দাবি অস্বীকার করেছেন। বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাটিকে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, জিডির তথ্য এবং বদলির প্রেক্ষাপট মিলিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: থানার ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল? অভিযোগের পর কেন ভুক্তভোগী ও এক সম্ভাব্য সাক্ষীকে অন্যত্র বদলি করা হলো? আর অভিযোগটির নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কীভাবে নিশ্চিত করা হবে? থানার ভেতরে কী ঘটেছিল? জিডির বিবরণ ও প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা পৌনে আটটার দিকে আগৈলঝাড়া থানায় যান ওসি মাসুদ খানের স্ত্রী আঞ্জুমান। সে সময় এএসআই শাহনাজ আক্তার থানার ডিউটি অফিসারের চেয়ারে বসে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, থানায় প্রবেশের পর আঞ্জুমান শাহনাজকে উদ্দেশ করে অশালীন ও অপমানজনক ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে শাহনাজের চাকরিতে যোগদান এবং রাতে ওসির কক্ষে যাওয়া নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। সহকর্মীদের সামনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে শাহনাজ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য। তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য, থানার সিসিটিভি ফুটেজ এবং জিডির প্রত্যয়িত অনুলিপি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের প্রতিটি বিবরণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও শাহনাজকে নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ তোলার ঘটনা ঘটেছিল। গত মার্চে নিজের ভাইয়ের বিয়ের জন্য জরুরি ছুটি নেওয়াকে কেন্দ্র করে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে শাহনাজের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ করেছিলেন আঞ্জুমান—এমনটাই দাবি করা হয়েছে। সে সময় বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও ৯ অক্টোবরের ঘটনার পর নিজের সুরক্ষার জন্য জিডি করেন শাহনাজ। জিডির পরই বদলি ঘটনার সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ অভিযোগ দায়েরের পর নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ।শাহনাজ আক্তার ৯ অক্টোবরই থানায় জিডি করেন বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। এরপর তাঁকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে সরিয়ে বানারীপাড়া থানায় পদায়ন করা হয়। অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে অবগত থাকার কথা জানানো এবং ওসির স্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে বক্তব্য দেওয়া এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনকেও দ্রুত অন্যত্র বদলি করা হয়। তাঁর ক্ষেত্রে জরুরি ছাড়পত্র দেওয়ার কথাও জানা গেছে। বদলি দুটি একই অভিযোগের পরপরই হওয়ায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বদলির আদেশ, তারিখ, সরকারি কারণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই বদলিগুলো শাস্তিমূলক ছিল, নাকি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রয়োজনের অংশ—তা নিশ্চিতভাবে বলার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হলো, অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? অভিযোগকারী ও সম্ভাব্য সাক্ষীকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার ফলে তদন্তে তাঁদের বক্তব্য সংগ্রহ বা প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাইয়ে কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে কী বলছেন শাহনাজ? জিডি করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এএসআই শাহনাজ আক্তার। তবে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি। শাহনাজ বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ একটি ব্যাপার হওয়ায় বিস্তারিত মন্তব্য করা আমার জন্য সমীচীন নয়। তবে জিডি দাখিলের বিষয়ে যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা শতভাগ সত্য। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যেভাবে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি সেটাই মেনে নেব।” তাঁর বক্তব্যে জিডি করার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে আর কিছু বলতে চাননি। এসআই মামুনের বক্তব্য: ‘ঘটনার পেছনে পূর্ণ সত্যতা রয়েছে’ ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনও বিস্তারিত বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তবে যা শুনেছেন, সেই ঘটনার পেছনে পূর্ণ সত্যতা রয়েছে।” নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মামুন বলেন, ওসির বিভিন্ন স্বেচ্ছাচারী আচরণের কারণে তিনিও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে সুষ্ঠু বিচার চান বলেও জানান তিনি। তবে মামুনের বক্তব্যের সমর্থনে কোনো স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রামাণ্য নথি পাওয়া যায়নি। তাঁর অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান প্রয়োজন। ওসি মাসুদ খানের বক্তব্য: ‘সবই ভিত্তিহীন’ অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ওসি মাসুদ খান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে প্রশাসনিকভাবে বেকায়দায় ফেলতে একটি চক্র অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘ ১০ মাস ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এই থানায় দায়িত্ব পালন করছি। আমাকে প্রশাসনিকভাবে বেকায়দায় ফেলতে একটি চক্র অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব গুজবের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।” জিডি ও অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের বদলির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, “এগুলো আমাদের প্রশাসনিক অভ্যন্তরীণ বিষয়। থানার গোপনীয় তথ্য ও অভ্যন্তরীণ ঘটনা বাইরে প্রকাশ হওয়া সরকারি গোপনীয়তা আইনের লঙ্ঘন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে তথ্য ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।” তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি অস্বীকৃতি জানালেও জিডি দায়েরের পর বদলির সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট প্রশাসনিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি বলে পাওয়া বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়। পুলিশ সুপারের বক্তব্য: ‘ভুল বোঝাবুঝি’ ঘটনার বিষয়ে বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি মূলত নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে কী ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কোনো বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, জিডির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের বদলির কারণ কী—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে দেখার আগে অভিযোগের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। কারণ অভিযোগটি শুধু ব্যক্তিগত বিরোধের নয়; থানার ভেতরে একজন কর্তব্যরত নারী পুলিশ সদস্যের মর্যাদা ও পেশাগত নিরাপত্তার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত। প্রশাসনিক বদলি কি তদন্তের বিকল্প? সরকারি প্রতিষ্ঠানে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। কাজের প্রয়োজন, জনবল ব্যবস্থাপনা কিংবা শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু কোনো অভিযোগ দায়েরের পরপরই অভিযোগকারী ও সম্ভাব্য সাক্ষীর বদলি হলে সিদ্ধান্তটির কারণ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে, অভিযোগকারী যদি মনে করেন তাঁর অভিযোগের কারণেই তাঁকে কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাহলে তা ভবিষ্যতে অন্য সদস্যদের অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। যদিও বর্তমান ঘটনায় বদলির উদ্দেশ্য সম্পর্কে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যাচাইকৃত নথি পাওয়া যায়নি, তবু সময়ের নৈকট্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় প্রশাসনিক ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: জিডির বিষয়ে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হয়েছে কি না এবং অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে কী তথ্য পাওয়া গেছে; অভিযোগকারী ও এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনের বদলির লিখিত কারণ কী; থানার ভেতরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা যাচাইয়ে সিসিটিভি ফুটেজ, ডিউটি রোস্টার, উপস্থিত সদস্যদের বক্তব্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি পরীক্ষা করা হয়েছে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে। কর্মক্ষেত্রে সম্মান ও নিরাপত্তার প্রশ্ন পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ও ঊর্ধ্বতন-অধস্তন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা কোনো সদস্যের মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নকে আড়াল করতে পারে না। কর্মক্ষেত্রে মৌখিক অপমান, চরিত্রহনন কিংবা হয়রানির অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণিত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি যথাযথ অনুসন্ধান ছাড়াই অভিযোগকে ব্যক্তিগত বিরোধ বলে উড়িয়ে দেওয়াও সমীচীন নয়। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নেওয়া, প্রমাণ সংরক্ষণ, সিদ্ধান্তের লিখিত ভিত্তি যাচাই এবং অভিযোগকারীকে প্রতিশোধমূলক আচরণের আশঙ্কা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে জিডি দায়েরের পর অভিযোগকারী ও সম্ভাব্য সাক্ষীর বদলি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাব কেবল মৌখিক ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ না রেখে প্রশাসনিক নথির ভিত্তিতে দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। এখন যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন আগৈলঝাড়া থানার ঘটনাটি ঘিরে বিতর্কের নিষ্পত্তি নির্ভর করছে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের ওপর। জিডির ভিত্তিতে কোনো অনুসন্ধান শুরু হয়েছে কি না, অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, বদলির সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন এবং কী কারণে নিয়েছেন—এসব তথ্য প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন। এ ছাড়া অভিযোগকারী ও এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা, ওসি মাসুদ খান ও তাঁর স্ত্রীর বক্তব্য যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য সদস্যদের সাক্ষ্য নেওয়া জরুরি। এখন পর্যন্ত পাওয়া বক্তব্য থেকে জিডি দায়ের ও বদলির ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা কিংবা বদলির উদ্দেশ্য নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না। তাই এ পর্যায়ে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্তই হতে পারে বিতর্ক নিষ্পত্তির সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ। মূল প্রশ্নটি থেকে যাচ্ছে: একজন নারী পুলিশ সদস্য থানার ভেতরে অপমানের শিকার হওয়ার অভিযোগ জানালে সেই অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কীভাবে নিশ্চিত হবে? আর অভিযোগকারী ও সম্ভাব্য সাক্ষীর বদলির প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করবে?
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ২০ বছর পরও বাস্তবায়ন হয়নি প্রকল্প; জমির মালিকানা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, মামলা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের ডেফুলিয়া এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৫০ একর জমি। ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু প্রায় দুই দশক পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে সেই জমির একটি বড় অংশ ব্যক্তি মালিকানায় চলে যাওয়া এবং প্লট আকারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি খাসজমি কীভাবে ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ডভুক্ত হলো, কারা এর সুবিধা নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী ছিল—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। জমির মালিকানা দাবি করা ব্যক্তিদের একাংশ বলছেন, তাঁরা বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে জমি কিনেছেন। অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে সরকারি জমির কাগজপত্র তৈরি করে তা বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে জমি বেহাতের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জমি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং রেকর্ডভুক্ত জমির বিষয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা চলমান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ডেফুলিয়া মৌজার ওই জমি খাস। সেখানে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। তবে যিনি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছিলেন, সাবেক কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম দাবি করেছেন, রাস্তার পাশের ২৫ শতাংশ জমি তাঁর। সেখানে স্টল নির্মাণের জন্য তিনি সীমানাপ্রাচীর দিচ্ছিলেন। জমিটি খাসজমি নয় বলেও দাবি করেন তিনি। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছেন, পরিকল্পনা বা অনুমোদনের বাইরে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জমিটি খাস বলে জানিয়েছেন। এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনাও তৈরি হয়েছিল। এ কারণে কাজ বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জমির কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবিত ২০টি খেলার মাঠের মধ্যে ডেফুলিয়াতেও একটি মাঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি বিসিসির প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরীন ডেফুলিয়ায় গিয়ে খালেদা জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত ওই স্থান পরিদর্শন করেন। সেখানে একটি খেলার মাঠ ও আধুনিক হাসপাতাল করার প্রস্তাব দেন তিনি। এ বিষয়ে বিলকিস জাহান শিরীন বলেন, ডেফুলিয়ায় স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি এখন ব্যক্তিমালিকানায়? স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে বরিশালের ডেফুলিয়া এলাকায় জিয়াউর রহমানের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ উদ্দেশ্যে ৫০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম আর এগোয়নি। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যে ওই জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। বর্তমানে জমির বিভিন্ন অংশে একাধিক ব্যক্তি মালিকানা দাবি করছেন। তাঁদের কেউ কেউ জমি কেনাবেচা করছেন এবং প্লট আকারে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ করা জমি ব্যক্তিমালিকানায় নেওয়ার প্রক্রিয়ায় তৎকালীন সময়ে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁদের বক্তব্যে প্রয়াত নাসির উদ্দিনের নাম এসেছে। তিনি আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সাবেক এক সংসদ সদস্যের আত্মীয় ছিলেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন। বিএনপি নেতার অভিযোগ, সরকারি জমির কাগজপত্র তৈরি করে বিক্রি সদর উপজেলা বিএনপি, বরিশালের আহ্বায়ক নুরুল আমিন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “পিস্তল মহিউদ্দিন নামে আওয়ামী লীগের এক লোক ও তার শালা নাসির—তিনি এই সরকারি জমিকে অবৈধভাবে কাগজপত্র তৈরি করে বর্তমানে প্লট আকারে বিক্রি করছেন। এটার আমরা নিন্দা জানাই।” নুরুল আমিনের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি জমির মালিকানা পরিবর্তনের পেছনে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা দলিল, রেকর্ড ও জমি হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা যাচাই করা জরুরি।সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ডভুক্ত হয়ে থাকলে, সেই প্রক্রিয়ায় কোন দপ্তরের অনুমোদন বা নথি ব্যবহৃত হয়েছে, তা-ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জমির দাবিদারদের বক্তব্য: কাগজপত্র দেখেই কিনেছি অন্যদিকে, জমির মালিকানা দাবি করা ব্যক্তিরা অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে কাগজপত্র থাকার কথা জানিয়েছেন। সাবেক কাউন্সিলর ও জমির মালিকানা দাবিদার নুরুল ইসলাম বলেন, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাঁর দাবি, ওই ৫০ একর জমির মালিকানা বর্তমানে শতাধিক ব্যক্তির নামে রয়েছে। তিনি বলেন, “এই ৫০ একরের মালিক আছে ১০০ জনের উপরে। কিন্তু তার ভেতরে আমরা ১৫ থেকে ২০ জন মিলে কিনেছি ২০ একরের মতো। আমরা সমস্ত মালিকানা কাগজপত্র দেখে ক্রয় করছি, আমাদের ভেতরে কোনো খাস জমি নেই।” নুরুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা জমি কেনার আগে মালিকানাসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করেছেন। ফলে তাঁদের কেনা জমির কোনো অংশ সরকারি খাসজমি কি না, তা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করছেন। তবে কাগজপত্র দেখে জমি কেনার দাবি এবং জমির প্রকৃত আইনগত মালিকানা এক বিষয় নয়। কোনো জমি সরকারি খাসজমি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকলে, পরবর্তী সময়ে তা কীভাবে ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ডভুক্ত হয়েছে, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি করতে মূল বরাদ্দপত্র, খতিয়ান, নামজারি, দলিল এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে ভূমি প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন বলে দাবি করেছেন বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম রাজন। তিনি বলেন, “ভূমিদস্যুরা এই খাস জমি দখল করে নিজ আয়ত্তে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তেমন কোনো জোরালো পদক্ষেপ দেখি নাই। এর সঙ্গে যে সকল চক্র আছে, যে সকল ভূমিদস্যু আছে, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক।”নজরুল ইসলাম রাজনের বক্তব্যে সরকারি জমি রক্ষায় প্রশাসনিক তৎপরতার ঘাটতির অভিযোগও উঠে এসেছে। তবে ভূমি অফিসের কোনো কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত ছিলেন কি না, তা এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নির্ধারণে জমির মূল রেকর্ড, রেকর্ড সংশোধনের আবেদন, নামজারি ও দলিল নিবন্ধনের নথি এবং প্রশাসনিক অনুমোদন পরীক্ষা করা জরুরি। সরকারি খাসজমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ডভুক্ত হওয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু বর্তমান মালিকানার নথি নয়, জমির মূল মালিকানা থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিটি হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসনের বক্তব্য: ট্রাইব্যুনালে মামলা, উদ্ধারের উদ্যোগ জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ এবং সরকারি জমি উদ্ধারের বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। জমি উদ্ধারের উদ্যোগও চলছে। তিনি বলেন, “যাই হোক, উদ্ধারে আমরা প্রচেষ্টা নিচ্ছি। পাশাপাশি যাদের নামে রেকর্ড হয়েছে, সেই রেকর্ডভুক্ত জায়গাতে আমরা এরই মধ্যে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছি। মামলার কার্যক্রম চলমান আছে। আমরা আশা করি অচিরেই আমরা এই জায়গাটি উদ্ধার করব।”জেলা প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, জমির রেকর্ডভুক্ত মালিকদের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ডেফুলিয়া এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দকৃত ৫০ একর জমির বর্তমান মালিকানা দাবি করা ব্যক্তিরা তাঁদের মালিকানার পক্ষে কাগজপত্র ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এসব নথি যাচাই করে জমির মূল বরাদ্দ, সরকারি খাসজমির অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে রেকর্ড পরিবর্তনের বৈধতা নির্ধারণ করা এখন প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন ডেফুলিয়ার এই জমি নিয়ে বিরোধ কেবল মালিকানা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ, ভূমি রেকর্ডের স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্নও জড়িত। বিষয়টি নিষ্পত্তিতে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ: ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৫০ একর জমির সুনির্দিষ্ট সীমানা ও মূল রেকর্ড কী ছিল? জমির কোন অংশ সরকারি খাসজমি হিসেবে নথিভুক্ত ছিল এবং বর্তমানে কতটুকু জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে? সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ডভুক্ত হয়ে থাকলে, কোন নথি ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা হয়েছে? জমির দলিল, নামজারি ও খতিয়ান তৈরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস এবং নিবন্ধন দপ্তরের কোনো কর্মকর্তার অনিয়ম ছিল কি না? জমির বর্তমান দাবিদারদের কাছে থাকা দলিল ও রেকর্ড মূল বরাদ্দের নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ভূমি রেকর্ড, দলিল ও আদালতের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় জবাবদিহি জরুরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বরাদ্দ দেওয়া জমি যদি অবৈধভাবে দখল বা হস্তান্তর হয়ে থাকে, তাহলে তা শুধু ভূমি ব্যবস্থাপনার অনিয়ম নয়; সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং জনস্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। ডেফুলিয়ার ৫০ একর জমির বিরোধে তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—মূল বরাদ্দের নথি থেকে শুরু করে বর্তমান রেকর্ড পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের স্বচ্ছ তদন্ত। এতে সরকারি জমির প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণের পাশাপাশি অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ীদের শনাক্ত করাও সম্ভব হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া জমির বর্তমান অবস্থা, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক দায় নির্ধারণের বিষয়টি এখন জেলা প্রশাসনের চলমান আইনি কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষন পরিষদ’র সভাপতি এ্যডভোকেট নজরুল ইসলাম রাজন শহিদ জিয়াউর রহমান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়’র নির্দিষ্টস্থানে অবিলম্বে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন।