Brand logo light

রাজনীতি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।  রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর আগে শাহাদত বার্ষিকী সফলভাবে পালনের লক্ষ্যে দলীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এতে দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবগণ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিন দেশব্যাপী বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হবে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। ৩০ মে শনিবার ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সকল স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিন সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাজার জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে এক দোয়া মহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানায় এবং দেশের অন্যান্য ইউনিটে অসচ্ছল ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে কাপড় এবং চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। অনুরূপভাবে, দেশের সকল জেলা, মহানগরীসহ প্রতিটি ইউনিটেও ৩০ মে ভোর ৬টায় দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা, দোয়া মহফিল ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হবে। পরদিন ৩১ মে রোববার বেলা ২টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে দেশের ক্রান্তিকালে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, ‘দেশের ক্রান্তিকালে রাজনীতি ও রাষ্ট্রক্ষমতার পাদপীঠে আলো ছড়িয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। এর আগে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছিল, চরম নৈরাজ্য তৈরি হয়েছিল, দেশ দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে নিপতিত হয়েছিল, সমাজে চলছিল ভয়ংকর রক্তপাত, সহিংসতা ও খুনাখুনি।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা-উত্তর সেই ক্রান্তিকাল অতিক্রমের এক পর্যায়ে জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে শান্তিময় পরিবেশ তৈরির প্রত্যয় নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমানকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তিনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেন। তাঁর আমলের শান্তি ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার দৃষ্টান্ত বিরল। দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে তাঁর যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো আজও মানুষের মনে অম্লান।’ বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। সেই মৃত গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করেন জিয়াউর রহমান। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন, যার ফলে অনেক দল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করার এবং স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পায়।’ এ সময় রিজভী দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মসূচি পালনের সময় জনগণের ভোগান্তি এড়াতে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, জনগণের কষ্ট হয় এমন কোনো কর্মসূচি পরিচালনা করা যাবে না। রাস্তার মোড়ে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে কোনো আলোচনা সভা করা যাবে না, কর্মসূচি কেবল উন্মুক্ত মাঠ বা মিলনায়তনে সম্পন্ন করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
আমির হামজা
মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিরাজগঞ্জে দায়ের করা এক মানহানি মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজা–র বিরুদ্ধে পত্রিকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১৭ মে) সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার এ আদেশ দেন। মামলার বাদী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল জানান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু–কে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্য জনসভায় বক্তব্য দেন আমির হামজা। এ ঘটনায় ক্ষোভের সৃষ্টি হলে দলের নির্দেশনায় গত ২ এপ্রিল তিনি মানহানির মামলা দায়ের করেন। বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার পর আদালত আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে রোববারও আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচারক তার বিরুদ্ধে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। আইনজীবীরা বলছেন, কোনো আসামি ধারাবাহিকভাবে আদালতে অনুপস্থিত থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির নির্দিষ্ট ধারার আওতায় আদালত এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
হানি ট্র্যাপে ফেলে ব্ল্যাকমেইল
পটুয়াখালীতে হানি ট্র্যাপ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, বিএনপি নেতা ও যুবলীগ কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৩

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীতে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির এক নেতা, যুবলীগের এক কর্মীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত শহরের বনানী, সবুজবাগ, কলেজ রোড এলাকা এবং বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বন্দরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন (৫৫), গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের মো. কবির হোসেন (৪০) এবং পটুয়াখালী পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকার মোহাম্মদ রাসেল তালুকদার (৩৪)। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাসেল তালুকদার যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে ‘হানি ট্র্যাপ’ পদ্ধতিতে ফাঁদ তৈরি করে অন্তত এক ঔষধ ব্যবসায়ী ও এক চাকরিজীবীর কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শহিদুল নামে এক ব্যক্তিকে কৌশলে ডেকে এনে নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বনানী এলাকায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে পুলিশের অভিযানে বাকি দুজনও গ্রেপ্তার হন। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “অভিযান চালিয়ে হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।” তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের তথ্য মিলেছে। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
হারুনুর রশীদ
চেক জালিয়াতি মামলায় জামায়াত নেতা হারুনুর রশীদ গ্রেফতার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামালপুরে ৭৬ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি মামলায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি হারুনুর রশীদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে শহরের সরদারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এরশাদ আলী নামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭৬ লাখ টাকা ধার নেন হারুনুর রশীদ। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এরশাদ আলী জামালপুর আদালতে চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানি শেষে আদালত হারুনুর রশীদকে ৭৬ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও গ্রেফতারের আদেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে জামালপুর পৌর এলাকার সরদারপাড়া থেকে হারুনুর রশীদকে গ্রেফতার করে মেলান্দহ থানায় নেওয়া হয়। ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন, আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে। সোমবার তাকে জামালপুর আদালতে সোপর্দ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা তারেক রহমানের
বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা ভেবে আগেই শেষ হলো বিএনপির কর্মসূচি, নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা তারেক রহমানের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একই মিলনায়তনে নির্ধারিত ছিল রাজনৈতিক কর্মসূচি ও একটি বিয়ের আয়োজন। অনুষ্ঠানসূচির সংঘাতের বিষয়টি জানার পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্ধারিত সময়ের আগেই দলীয় কর্মসূচি শেষ করার নির্দেশ দেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় ওই মিলনায়তনে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। যাতে নবদম্পতি ও অতিথিদের কোনো ধরনের অসুবিধার মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়। পরে তারেক রহমান নবদম্পতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বর-কনেকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অতিথিদের অনেকেই এ আচরণকে ইতিবাচক ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আয়োজন ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে। এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই এটিকে সৌজন্য ও সামাজিক সংবেদনশীলতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১০, ২০২৬ 0
বিএনপি
বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, নতুন নেতৃত্বে স্থবিরতা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর বড় অংশই দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কথা থাকলেও বাস্তবে সেই প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই স্থবির হয়ে আছে। দলটির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের মার্চে। এরপর আর পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিল না হলেও নির্বাহী কমিটিতে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ক্ষেত্রে এই স্থবিরতা আরও প্রকট। স্থায়ী কমিটিতেও শূন্যতা বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বেশ কয়েকটি পদ বর্তমানে শূন্য। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই কমিটিতে সদস্য থাকার কথা ১৯ জন। বর্তমানে কমিটিতে রয়েছেন তারেক রহমান (চেয়ারম্যান), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (মহাসচিব)সহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা। অন্যদিকে, খালেদা জিয়া, মওদুদ আহমদ ও তরিকুল ইসলাম-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মৃত্যুতে একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অঙ্গসংগঠনগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা বিএনপির অন্তত ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টির কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কোথাও তিন বছর, কোথাও পাঁচ বছর, আবার কোথাও এক যুগ ধরে একই নেতৃত্ব বহাল রয়েছে। যেমন: যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা হলেও দেড় বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি মহিলা দল প্রায় ১০ বছর ধরে একই কমিটিতে চলছে মুক্তিযোদ্ধা দল এক যুগের বেশি সময় ধরে নতুন নেতৃত্ব পায়নি শ্রমিক দলের সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৪ সালে ছাত্রদলের সাম্প্রতিক কমিটির মেয়াদও ইতোমধ্যে শেষ বিশ্লেষকদের মতে, এতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংসদ ও সরকারে ব্যস্ততা দলটির অনেক শীর্ষ নেতা এখন সংসদ ও সরকারের দায়িত্বে যুক্ত থাকায় সাংগঠনিক কাজে সময় দিতে পারছেন না। যেমন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ কয়েকটি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে সংসদ সদস্য বা মন্ত্রিসভার অংশ। এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার পরিচালনার ব্যস্ততার কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা ধীর হয়েছে। তবে ঈদুল আজহার পর সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ভেতরে বাড়ছে হতাশা দীর্ঘদিন কাউন্সিল না হওয়ায় পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনে পরাজয় সংগঠনটির নেতৃত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংগঠনটির ভেতর থেকেই নতুন ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গঠনের দাবি উঠেছে। সামনে কী? দলটির নেতারা বলছেন, আপাতত সরকার পরিচালনাই প্রধান অগ্রাধিকার। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি ধরে রাখতে নিয়মিত কাউন্সিল ও নেতৃত্বের নবায়ন অপরিহার্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৭, ২০২৬ 0
মনিরা শারমিন
মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিল: ইসির সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ নয়—হাইকোর্টের রুল

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। এর আগে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষ হয়। এ বিষয়ে আদেশের জন্য বুধবার দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান, সঙ্গে ছিলেন মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাসেদুল ইসলাম জনি। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন শুনানির কার্যতালিকা (কজলিস্ট) থেকে বাদ দেন হাইকোর্ট। মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে করা রিট শুনতে হাইকোর্ট অপারগতা প্রকাশ করেছেন বলে জানান রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। ৪ মে হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং আবেদনকারী মনিরা শারমিনের বাড়ি একই সংসদীয় আসনে (নির্বাচনি এলাকা) হওয়ায় নৈতিক কারণে বিচারপতি এই মামলাটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। আবেদনটি আউট অব লিস্ট করা হয়। এরপর আবেদনটি শুনানির জন্য বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে নেওয়া হয়। সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মনিরা শারমিন ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন। ২৩ এপ্রিল রিটার্নিং কর্মকর্তা এনসিপি নেত্রীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য নন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মনিরা শারমিন ২৬ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে শুনানির পর ইসি আবেদন খারিজ করে। এরপর তিনি রিট করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগের ‘পুনর্বাসন’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও ‘ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা’ নিয়ে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘিরে সংগঠনের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ, ক্ষোভ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদে কথিতভাবে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের সক্রিয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২৭ সদস্যের এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষণার পরপরই বিতর্কিত অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ সামনে আসে এবং তা দ্রুতই সংগঠনের ভেতরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। দলীয় সূত্রের দাবি, নতুন কমিটিতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন এমন ব্যক্তি স্থান পেয়েছেন, যাদের অতীতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার প্রমাণ রয়েছে। এ বিষয়ে ছবি, ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও সামনে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় নেতা বলেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করে এমন সংখ্যক বিতর্কিত ব্যক্তিকে কমিটিতে রাখা “অবাক করার মতো সিদ্ধান্ত”। তাদের মতে, এটি সংগঠনের অভ্যন্তরে আস্থার সংকট তৈরি করেছে এবং অনেকেই বিষয়টিকে “ছাত্রলীগের পুনর্বাসন” হিসেবে দেখছেন। অভিযোগকারীদের তালিকায় থাকা কয়েকজন নেতার মধ্যে রয়েছেন—৪ নম্বর সহ-সভাপতি মিঞা বাবুল, ৩ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন, ২২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জিহাদুল ইসলাম, ১১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরমান হোসেন, ১২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান, ২০ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ নুর কাফি, ৫ নম্বর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ তাকভীর সিয়াম, ৯ নম্বর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিতম দাস, ১০ নম্বর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বর্ণ বরন সরকার এবং গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রবিন আহমেদ তানভীর। এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত দাবি করেন, বিতর্কিত সংশ্লিষ্টতার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নতুন কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে শাখা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতামত নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তারেক হাসান বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যাদের ভূমিকা ছিল, তাদের মধ্যে কেউ অন্য রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলেও “বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিদের” কমিটিতে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে পরামর্শ করেই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। এদিকে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন, সিনিয়র-জুনিয়র ভারসাম্যের ঘাটতি এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ববি ছাত্রদলের এই নতুন কমিটি সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভাজন ও সাংগঠনিক অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
এনসিপি
স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এনসিপির

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী রাজনীতির অংশ হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের কথা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, তারা ১১ দলীয় জোটে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের শক্তি বাড়াতে কাজ করছে। মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, এনসিপি আগামী ১০ মে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে। এর আগে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণে সেই সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন সময়সীমা অনুযায়ী ১০ মে’র মধ্যে প্রাথমিকভাবে সমর্থিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের আশা করছে দলটি। সারজিস আলম আরও জানান, চলতি মাসের মধ্যেই সাতটি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোটের অংশ হয়েও স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দলীয় সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাই ও সম্প্রসারণের একটি কৌশল। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশাসক নিয়োগ দিচ্ছে। তার ভাষায়, ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন চলতি বছরের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়া উচিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
তোফায়েল আহমেদ
তোফায়েল আহমেদসহ দু’জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদসহ দুই জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ গত ১৯ এপ্রিল পলাতক থাকার কারণে এ পরোয়ানা জারি করেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন তোফায়েল আহমেদের পক্ষে তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতে জানান, তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, তোফায়েল আহমেদ কাউকে চিনতে পারছেন না এবং তার স্মৃতিশক্তি সম্পূর্ণরূপে লোপ পেয়েছে। ফলে তিনি আদালতে হাজির হয়ে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে অক্ষম। ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপন ও স্থানান্তরের জন্য সহযোগীদের ব্যবহার করেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে ওই অর্থ স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তবে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত ছিল। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম জানান, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর মামলার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। দুই আসামি পলাতক থাকায় ১৯ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আজকের শুনানিতে দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, পলাতক অবস্থায় আসামির আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় এবং তাকে আদালতে হাজির হয়ে আবেদন করতে হবে। অন্যদিকে আদালত তোফায়েল আহমেদের পক্ষে দাখিল করা আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং আগামী বৃহস্পতিবার (৭ মে) অভিযোগ গঠনের নতুন তারিখ ধার্য করেন। তিন আসামির মধ্যে মোশারফ হোসেন বর্তমানে জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় সমস্যা ও অনিয়মের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকদের সহায়তা চাইলেন প্রতিমন্ত্রী

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন নিয়ে অনিয়ম ও বিতর্কের বিষয়টি সামনে এনেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। মঙ্গলবার সম্মেলনের তৃতীয় দিনের কার্যক্রমে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। একইসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত ‘বীর নিবাস’ প্রকল্পেও দলীয়করণের অভিযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। “অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্তভাবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করতে প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি,” বলেন তিনি। এর আগে একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সশস্ত্র বাহিনী যে সহায়তা দিয়ে আসছে, তাতে জেলা প্রশাসকেরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, সরকার সামরিক বাহিনীকে জনমুখী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতেও দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী সিভিল প্রশাসন ও সামরিক বাহিনী একসঙ্গে কাজ করবে। জেলা প্রশাসক সম্মেলনকে সরকারের নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হয়, যেখানে মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
নুসরাত তাবাসসুম
সংরক্ষিত নারী আসনে নুসরাত তাবাসসুম এমপি, গেজেট প্রকাশ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের একটি আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমকে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৪ মে) রাতে গেজেটটি প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছেন ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক। তবে একই আসনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে জামায়াত জোটের আরেক প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনের দায়ের করা রিট আবেদন এখনো বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের শুনানিতে ভিন্ন কোনো নির্দেশনা এলে ইসি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে কমিশন। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি। আগে আদালতের নির্দেশে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে তাকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, আইন অনুযায়ী বৈধতা পাওয়ার পর একদিন অপেক্ষার বিধান থাকলেও কমিশন দুই দিন অপেক্ষা করেছে। “যদি আদালত ভিন্ন কোনো নির্দেশনা দেন, আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব,” যোগ করেন তিনি। প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা মনিরা শারমিনের ক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংক থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে—এমন আলোচনা শুরু হয় মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ২১ এপ্রিল। সেদিন নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টার ১৯ মিনিট পর জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলে, সময়োত্তীর্ণ হওয়ায় তা প্রথমে গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরবর্তীতে ২৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাইয়ে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়। এর পর নুসরাত তাবাসসুম হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে আদালত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশনার পর ২ মে রিটার্নিং কর্মকর্তা পুনরায় যাচাই করে নুসরাতের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। ৩ মে তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। ভোটের সম্ভাবনা আছে কি? ইসি কর্মকর্তাদের মতে, মনিরা শারমিনের রিটের শুনানি শেষে আদালত যদি তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেয়, তাহলে ওই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে জামায়াত জোটের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা ভোট দিয়ে একজনকে নির্বাচিত করবেন। আসন বণ্টন ও বর্তমান অবস্থা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টনে নির্বাচন কমিশন বিএনপি জোটকে ৩৬টি, জামায়াত জোটকে ১৩টি এবং স্বতন্ত্র জোটকে একটি আসন দেয়। নুসরাত-মনিরার আসনটি ছাড়া বাকি ৪৯টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন এবং ইতোমধ্যে শপথও নিয়েছেন। আদালত থেকে ভিন্ন কোনো নির্দেশনা না এলে, আপাতত নুসরাত তাবাসসুমকেই সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০তম সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
যুবদলের পদে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার আসামি
ফেনীতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর হামলা মামলার আসামি যুবদল নেতা: কমিটি বিলুপ্ত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : খালেদা জিয়া-র গাড়িবহরে হামলার মামলার এক আসামিকে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করার ঘটনায় ফেনীতে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এর জেরে ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত, সংশ্লিষ্ট নেতাদের শোকজ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার (৩ মে) কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কী ঘটেছিল দলীয় সূত্রে জানা যায়, ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু এবং সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী-এর স্বাক্ষরে ১২টি ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই তালিকায় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক করা হয় গাজী এনামুল হক সুজন-কে। পরে জানা যায়, তিনি ২০১৭ সালে মহিপালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এ তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর জেলাজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরদিনই ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি ছয় সদস্য পদত্যাগ করেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় যুবদল জানায়— ফেনী পৌর যুবদলের বিদ্যমান কমিটি স্থগিত ঘোষিত ১২টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত সুজনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার সংশ্লিষ্ট সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না এবং নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। মামলার পটভূমি এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ২৮ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে সুজনের নাম রয়েছে ২৫ নম্বরে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন এ মামলা দায়ের করেন। বিরোধী মত ওই কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন দাবি করেন, সুজন আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের নেতৃত্বে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলেই তারা পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত সুজন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি পারিবারিক বিরোধের জের। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। স্থানীয় প্রতিক্রিয়া পৌর যুবদলের সভাপতি বাবলু বলেন, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিষয়টি জেলা বিএনপি ও যুবদল অবগত রয়েছে। জেলা যুবদলের দপ্তর-দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মো. আল ইমরান জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব পদক্ষেপ ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ২৯ ইউনিটে নতুন ও পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে ২৯টি ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এসব কমিটি অনুমোদন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল, রবীন্দ্র, কিশোরগঞ্জ ও পুণ্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আংশিক কমিটি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত কমিটি এবং ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুর মেডিকেল কলেজে আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম—এই চার ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, জামালপুর মহানগর এবং নেত্রকোনা, নরসিংদী, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি ও মানিকগঞ্জ জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও মহানগরে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কলেজ পর্যায়ে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং জয়পুরহাট সরকারি কলেজ, হাজী মিছির আলী ডিগ্রি কলেজ ও নারায়ণগঞ্জ কলেজে আংশিক কমিটি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানীর ঢাকা কলেজে নতুন করে বর্ধিত কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। সংগঠনের গতিশীলতা বাড়াতেই এই ব্যাপক রদবদল ও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩, ২০২৬ 0
সাইফুল আলম নীরব
রাজনৈতিক নীরবতার অন্তরালে সাইফুল আলম নীরব

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার রাজনীতিতে একসময় আলোচিত ও সক্রিয় একটি নাম—সাইফুল আলম নীরব। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। সংগঠনিক দক্ষতা, রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয়তা এবং তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ—এই তিন উপাদান তাকে দ্রুতই রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনীতিতে পরিচিত মুখে পরিণত করে। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং পরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করে। মাঠকেন্দ্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি দলীয় কর্মীদের কাছেও একটি নির্ভরতার জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যদিও তিনি জয়ী হতে পারেননি, তবুও জাতীয় পর্যায়ে তার উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে এর পরবর্তী সময়টি তার জন্য ছিল কঠিন। একাধিক মামলা, কারাবাস, দলীয় দ্বন্দ্ব এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা মিলিয়ে তার রাজনৈতিক গতিশীলতা কমতে থাকে। তার বিরুদ্ধে নাশকতা, পুলিশের কাজে বাধা, হামলা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মোট ৪৫৭টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর তেজগাঁও ও ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা পৃথক নাশকতার মামলায় তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি দুই বছর ছয় মাসের দণ্ড পান। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সেতু ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। প্রায় ১৫ মাস কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান, তবে আইনি জটিলতা পুরোপুরি কাটেনি। এসব কারণে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ছন্দপতন দেখা যায়। এই প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কিংবা দলীয় সমর্থনের বাইরে গিয়ে তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় প্রতীক ও সাংগঠনিক সমর্থন ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তটি তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় থাকার চেষ্টা করলেও আগের মতো কর্মীসমর্থন বা সাংগঠনিক শক্তি দৃশ্যমান ছিল না। ফলাফলও তার পক্ষে যায়নি। নির্বাচনে পরাজয়ের পাশাপাশি ভোটের ব্যবধান ও মাঠের বাস্তবতা দেখায়, দলীয় কাঠামোর বাইরে তার রাজনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করা স্বল্পমেয়াদে ব্যক্তিগত অবস্থান ধরে রাখার একটি কৌশল হতে পারে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে দলীয় আস্থা ক্ষুণ্ন করে। যদিও রাজনীতিতে স্থায়ী বিচ্ছিন্নতা খুব কমই দেখা যায়, তবুও এই ধরনের পদক্ষেপ নেতার ভবিষ্যৎ অবস্থানকে অনিশ্চিত করে তোলে। অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করেন—এটি ছিল তার রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা। দলীয় কর্মীদের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রাজপথে সক্রিয় থাকা তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি কর্মীদের পাশে ছিলেন, যা তাকে তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। বর্তমানে তার অবস্থান কিছুটা অস্পষ্ট। বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাকে সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছে না, এবং প্রকাশ্য বক্তব্যও সীমিত। তবে স্থানীয় পর্যায়ে তার একটি নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ নীরবতা অনেক সময় রাজনীতিতে পুনর্গঠনের ইঙ্গিতও হতে পারে। ফলে তার বর্তমান অবস্থানকে সম্পূর্ণ অবসান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাইফুল আলম নীরবের রাজনৈতিক পথচলা তাই একদিকে উত্থান-পতনের গল্প, অন্যদিকে বাংলাদেশের সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ভবিষ্যতে তিনি আবার সক্রিয় হয়ে উঠবেন, নাকি নীরবতাই স্থায়ী হবে—সে প্রশ্নের উত্তর এখনো সময়ের অপেক্ষায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩, ২০২৬ 0
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম
নির্বাচন ছিল ‘চুক্তিভিত্তিক ও ভাগাভাগির’—ফয়জুল করীমের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, দেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন নয়; বরং তা ছিল “চুক্তিনির্ভর ও ভাগাভাগির নির্বাচন”। শুক্রবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিরোধী দলের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। তার ভাষায়, সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধী দল নিজেদের বিরোধী দল নয় বলে দাবি করছে, যা রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য “অস্বাভাবিক”। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে আগে থেকেই আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। মুফতি ফয়জুল করীম আরও দাবি করেন, “ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে” ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে নির্বাচনে পরাজিত করা হয়েছে। সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা সরকারের অর্থনৈতিক নীতিরও সমালোচনা করেন। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে ‘ফ্যামিলি কার্ড’সহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছে। বিএনপির সমালোচনা করে বক্তারা অভিযোগ করেন, দলটি নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে “জুলাই সনদ” নিয়ে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির আশ্রয় নিয়েছে। সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম বলেন, বিরোধী দলের একজন নেতা কুরআনের শাসনের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বিষয়ে সংসদে বিল উত্থাপন করা হবে। যদি তা গৃহীত না হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের সংসদ ত্যাগ বা ওয়াকআউট করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট বিতর্ক নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সংসদে কে রাজাকার আর কে “শিশু মুক্তিযোদ্ধা”—তা নিয়ে সময় নষ্ট হচ্ছে, যা তার কাছে “হাস্যকর” মনে হয়েছে। তিনি বলেন, যারা একদিকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরোধিতা করেন, অন্যদিকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার প্রশ্নে ভিন্ন অবস্থান নেন—তাদের এই দ্বিমুখী অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, কার পরিবারে কে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তা স্পষ্টভাবে জাতির সামনে তুলে ধরা উচিত। নিজ দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফয়জুল করীম বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতার জন্য নয়, বরং ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনীতি করে। তার দাবি, প্রয়োজনে দল ক্ষমতা ত্যাগ করতে পারে, কিন্তু ইসলামের নীতি থেকে সরে আসবে না। দেশে ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য। শ্রমজীবী মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, অধিকার আদায়ের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজন রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২, ২০২৬ 0
নুসরাত তাবাসসুম
হাইকোর্টের নির্দেশে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন গ্রহণ, সংরক্ষিত নারী আসনে একটি পদ এখনো শূন্য

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : হাইকোর্টের নির্দেশের পর সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রিটার্নিং অফিসার ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মনোনয়নপত্রের বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২ মে। এর আগে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগে গত ২২ এপ্রিল নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতা বাতিল করে ইসি। পরে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। শুনানি শেষে ২৭ এপ্রিল হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন। এদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে শূন্য আসনের বিপরীতে প্রার্থীর সংখ্যা সমান হওয়ায় বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোটের একজন প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেছে ইসি। বেসরকারিভাবে নির্বাচিত এসব সদস্যের নাম গেজেট আকারে প্রকাশের পর তা সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে। পরে তারা শপথ গ্রহণ করে সংসদের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। অন্যদিকে, নির্বাচনে জামায়াত জোট মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র সরকারি চাকরি ছাড়ার নির্ধারিত সময়সীমা পূরণ না করায় বাতিল করা হয়। সব মিলিয়ে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টির মধ্যে এখনো একটি আসন শূন্য রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ইমামের ভাতা
রংপুরে ইমাম ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ: জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় একটি মসজিদের ইমামের সরকারি ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, মসজিদের ইমাম না হয়েও তিনি নিজের নাম ভাতা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে অর্থ গ্রহণ করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে কুতুবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পলিখিয়ার জামে মসজিদে। এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক গত ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের বিবরণ অভিযোগে বলা হয়, মসজিদ কমিটির নিয়োগপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সরকার ঘোষিত ভাতা প্রকল্পে ইমাম, মোয়াজ্জেম ও খাদেমদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় খাদেম ও মোয়াজ্জেমের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও ইমামের নাম বাদ পড়ে যায়। পরে জানা যায়, ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নয়ন মিয়া ওই তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ভাতার অর্থ গ্রহণ করছেন।  কমিটির বক্তব্য মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “সরকার থেকে তালিকা চাওয়া হলে আমরা যথাযথভাবে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে দেখি আমাদের ইমামের নাম বাদ পড়েছে এবং অন্য একজনের নাম যুক্ত হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য বিস্ময়কর।” তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় মসজিদের মুসল্লিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আমরা একটি সুষ্ঠু তদন্ত চাই, যাতে প্রকৃত ইমাম তার অধিকার ফিরে পান।”  ইমামের দাবি মসজিদের বর্তমান ইমাম মিজানুর রহমান বলেন, “আমি শুরু থেকেই এখানে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। হঠাৎ করে অন্য একজনের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আমি ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমি ন্যায্য সমাধান চাই।” অভিযুক্তের বক্তব্য অভিযোগ অস্বীকার করে নয়ন মিয়া বলেন, “মসজিদে পেশ ইমাম ছিল না। স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার নাম দেওয়া হয়েছে। যিনি অভিযোগ করেছেন, তিনি সভাপতি নন। এখানে যিনি আছেন, তিনি খতিব, তাকে পেশ ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।”  প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, “অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করা হবে। জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ
এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ,বাউফলের শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবন ভ্রমণ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় শিক্ষা ক্ষেত্রে এক ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তাঁর ব্যবস্থাপনায় উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী সরাসরি জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে আয়োজিত এই শিক্ষামূলক সফরে শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঘুরে দেখানো হয়। এ সময় এমপি নিজে তাদের সঙ্গে থেকে ভবনের স্থাপত্যশৈলী, অধিবেশন কক্ষ এবং সংসদের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। সফরজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল উৎসাহ, কৌতূহল ও আনন্দঘন পরিবেশ। অনেকের কাছেই এটি হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। পরিদর্শন শেষে ড. মাসুদ বলেন, দিনটি তাঁর জন্য অত্যন্ত আনন্দের। তিনি বাউফলবাসীর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এই আসন কোনো ব্যক্তির নয়—পুরো এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে। শিক্ষার্থীদের সংসদ ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়া সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই অংশ। তিনি আরও বলেন, “আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাদের মধ্য থেকেই গড়ে উঠবে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব।” শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি তিনটি মূল বার্তা তুলে ধরেন—মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা, দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে আত্মউন্নয়ন, এবং দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করা। তাঁর মতে, দেশে নেতৃত্বের অভাব নেই, তবে নৈতিকতার ঘাটতি রয়েছে; তাই নৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা জরুরি। এছাড়া তিনি মাদকমুক্ত, জ্ঞানভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সংসদ পরিদর্শন তাদের সেই লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রেরণা যোগাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংসদ ভ্রমণ শেষে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়ায় ছিল উচ্ছ্বাস। কেউ এটিকে জীবনের বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছে, আবার কেউ বলেছে—এটি তাদের জন্য স্বপ্নপূরণের মতো। অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরাও উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এ ধরনের শিক্ষামূলক ভ্রমণ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলবে, যা ভবিষ্যতে একটি সচেতন ও উন্নত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
আহত ঠিকাদার মো. শহীদুল ইসলাম খান।
বরগুনার আমতলীতে চাঁদা না দেওয়ায় ঠিকাদারকে ছাত্রদল নেতার মারধর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনার আমতলী উপজেলায় চাঁদা দাবির জেরে এক ঠিকাদারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ঠিকাদার বর্তমানে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযোগ অনুযায়ী, আহত ব্যক্তি মো. শহীদুল ইসলাম খান, যিনি একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। তাঁর দাবি, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গত জানুয়ারি মাস থেকেই এই চাঁদার দাবি করা হচ্ছিল। তবে শহীদুল ইসলাম তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, শুক্রবার রাত প্রায় ৯টার দিকে আমতলী একে স্কুল চৌরাস্তায় চা পান করার সময় ইমরান খানের নেতৃত্বে একদল যুবক তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলাকারীদের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরাও ছিল এবং তারা শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর পরিবারকেও হত্যার হুমকি দিয়েছে। তবে অভিযুক্ত ইমরান খান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ওই ঠিকাদার আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং বিএনপি সম্পর্কে কটূক্তি করায় স্থানীয় কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখায়। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান। এদিকে বরগুনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সানাউল্লাহ সানি বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমতলী থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
ছাত্রদল
পদ-পদবির আশায় বিয়ে করছেন না বরিশালের ছাত্রদল নেতারা

বরিশাল অফিস :    বরিশালে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের অন্তত এক ডজন নেতার ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—বিয়ে—এখন আটকে আছে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে। স্বাভাবিক বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো অবিবাহিত, কারণ সামনে নতুন কমিটি গঠনের সম্ভাবনা। দলীয় সূত্র বলছে, খুব শিগগিরই জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে সক্রিয় রয়েছেন অন্তত ১৪ জন নেতা। তাদের অনেকেই মনে করছেন, বিবাহিত পরিচয় পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হতে পারে। ফলে অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিয়ে পিছিয়ে দিচ্ছেন। ২০১১ সালে গঠিত আহ্বায়ক কমিটির পর ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট কেন্দ্রীয় ছাত্রদল পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে। এরপর দীর্ঘ আট বছর একই নেতৃত্ব দায়িত্ব পালন করছে। এখন নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগকে ঘিরে শুরু হয়েছে তৎপরতা ও লবিং। মহানগর কমিটিতে নেতৃত্বের প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সহসভাপতি তরিকুল ইসলাম তরিক ও মুশফিকুর রহমান অভি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক তাসনিম, হাতেম আলী কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক আহাদ হোসেন আবীর এবং বিএম কলেজ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস তালুকদার। অন্যদিকে জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সহসভাপতি তারেক আল ইমরান, নাইমুল হাসান সোহেল ও আসিফ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক তৌফিক আল ইমরান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সবুজ আকন, সদর উপজেলা সভাপতি আব্দুল কাদের এবং সাধারণ সম্পাদক আল আমিন মৃধা। তথ্য অনুযায়ী, এসব নেতার বেশিরভাগই ২০০২ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে এসএসসি পাস করেছেন। তাদের বর্তমান বয়স ৩৩ থেকে ৩৮ বছরের মধ্যে, যা দেশের প্রচলিত বিবাহযোগ্য বয়সের তুলনায় বেশি। প্রায় সবাই স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তবে বিয়ে না করার পেছনে রাজনৈতিক হিসাবের বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করছেন না নেতারা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, মামলা ও দমন-পীড়নের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব হয়নি। সভাপতি পদপ্রত্যাশী তরিকুল ইসলাম তরিক বলেন, ধারাবাহিকভাবে কমিটি গঠন না হওয়ায় সাংগঠনিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় আমাদের আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। সে কারণে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক জীবন—দুটিই বাধাগ্রস্ত হয়েছে।” জেলা পর্যায়ের নেতা সোহেল রাঢ়ি বলেন, “রাজনীতির জন্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো ব্যয় করেছি। মামলা, পালিয়ে থাকা—এসব বাস্তবতায় স্বাভাবিক জীবন গড়া সম্ভব হয়নি। এখন দল যদি মূল্যায়ন করে, সেটাই হবে আমাদের প্রাপ্তি।” বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের এই ত্যাগ দল বিবেচনায় নেবে বলে তিনি আশা করেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নুও একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অতীত ভূমিকা মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত নেবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ছাত্র রাজনীতিতে বয়স, ব্যক্তিগত জীবন ও নেতৃত্বের যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন নয়। তবে বিয়ে মতো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও যদি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হয়ে ওঠে, তা সংগঠন সংস্কৃতির একটি তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0