Brand logo light

ঢাকা

সন্তানদের এতিম করতে চাই না, দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি
সিন্ডিকেটের হুমকিতে দেশ ছাড়লেন নবীন ফ্যাশনের এমডি নবীন

ঢাকা, ২৫ মার্চ: সিন্ডিকেটের হুমকি ও চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন কম দামে পাঞ্জাবি-পায়জামা বিক্রি করে আলোচনায় আসা ‘নবীন ফ্যাশন’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন (নবীন হাশেমি)। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বিদেশে পাড়ি জমান তিনি। বিষয়টি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিশ্চিত করেন। বিমানবন্দর থেকে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “সিংহের মতো বাঁচতে চাই, কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না। তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো একদিন ফিরব, ইনশাআল্লাহ।” এর আগে একই দিন বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। দোকান বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। নবীন হাশেমির অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন নম্বর থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাকে জানানো হয়—তার কাছে থাকা কিছু ভিডিও মুছে ফেলতে হবে, অন্যথায় তার সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে একটি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রবাস জীবন শেষে করোনার সময় দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল কম দামে ভালো মানের পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। প্রতিষ্ঠানের আয়ের একটি অংশ গরিব ও অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হতো। নবীন হাশেমি জানান, তার প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, হিজড়া সম্প্রদায় এবং মাদকাসক্তি থেকে ফিরে আসা মানুষ কাজ করেন। ফলে সরবরাহকারীরাও কম দামে পণ্য দিতেন এবং তারা মাত্র ৩০০ টাকায় পাঞ্জাবি ও পায়জামা বিক্রি করতে সক্ষম হন। তার অভিযোগ, পাশের দোকান ‘প্রিন্স’-এর মালিক মাইকেলসহ একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তাদের দোকান বন্ধ করে দেয় এবং ক্রেতাদের হয়রানি করে। সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়—এই মার্কেটে ৪ হাজার ৫০০ টাকার কমে পাঞ্জাবি এবং ১ হাজার ৫০০ টাকার কমে পায়জামা বিক্রি করা যাবে না। সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, নানা বাধা ও হুমকির মধ্যেও ব্যবসা পরিচালনা করলেও কখনো কোনো সহায়তা পাননি। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে গেলেই ভয়ভীতি ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হলেন আব্দুর রশীদ মিয়া
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে আব্দুর রশীদ মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, মিল্ক ভিটায় মহাব্যবস্থাপক এনায়েত করিম

এক বছরের চুক্তিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পুনরায় নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুর রশীদ মিয়া। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে তিনি চলতি দায়িত্বে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে অবসরে যান। নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী আব্দুর রশীদ মিয়াকে তার অবসর-উত্তর ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত রাখতে হবে। পাশাপাশি অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলেও জানানো হয়েছে।  পেশাগত জীবন আব্দুর রশীদ মিয়া এলজিইডির মানবসম্পদ উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ ইউনিটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-৩) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী হন এবং বছরের শেষ দিকে অবসরে যান। তিনি ১৯৮৭ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউশন অব টেকনোলজি (বর্তমানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০১৪ সালে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশিতে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে এলজিইবিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। তিনি ২০০৬ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী, ২০১৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ২০২৩ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।  মিল্ক ভিটায় নতুন মহাব্যবস্থাপক অন্যদিকে, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্ক ভিটা)-এর মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. এনায়েত করিম চৌধুরী। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, গ্রেড-৫ বেতন স্কেলে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাকে অন্য কোনো পেশা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ত্যাগ করে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ভয়াল ২৫ মার্চ
ভয়াল ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস: ১৯৭১-এর সেই কালরাত, শহীদদের প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধা

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই বিভীষিকাময় রাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র ও মুক্তিকামী বাঙালির ওপর চালায় ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। ঘুমন্ত মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি করা হয় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। সেই রাতেই রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে তৎকালীন ইপিআরের সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শ্রমিকসহ অসংখ্য নিরপরাধ মানুষ নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন। পুরো জাতি স্তব্ধ ও বাগরুদ্ধ হয়ে পড়ে এই বর্বরতায়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে ২৫ মার্চকে জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে নৃশংস অধ্যায়। এই গণহত্যা পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।” রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, চট্টগ্রামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বিদ্রোহ এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সশস্ত্র প্রতিরোধে উদ্বুদ্ধ করে। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ, যা দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতার বিজয়ে পরিণত হয়। তিনি তরুণ প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইতিহাসের নিষ্ঠুরতার পাশাপাশি বীরত্বগাথাও জানতে হবে। একই সঙ্গে তিনি একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে ২৫ মার্চকে একটি সুপরিকল্পিত গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।” তিনি স্বাধীনতার মূল্যবোধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২৫ মার্চের গণহত্যার ইতিহাস জানা ছাড়া স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।” তিনি একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এদিকে আজ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা দেশে গণহত্যা দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণার আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকায় ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে গণহত্যা বিষয়ক দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। এছাড়া মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনটি উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্বালন, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ভয়াল ২৫ মার্চের সেই কালরাত স্মরণ করে জাতি আজও শোকাহত। একই সঙ্গে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধায় নত হয়ে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে পুরো জাতি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
বিচারকের ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক, শাহবাগ থানায় জিডি

ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার-এর ব্যবহৃত ব্যক্তিগত ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ মার্চ কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি বা চক্র বিচারপতির ব্যক্তিগত ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন অপকর্ম সংঘটনের আশঙ্কা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-তে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, বিচারপতি অসাবধানতাবশত কোনো প্রতারণামূলক লিংকে ক্লিক করা বা অননুমোদিত অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করার কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরও জানান, বিচারপতির মোবাইল ফোনটি প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট এখনো হ্যাকারদের দখলে রয়েছে। জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ বিচারপতির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রথম ত্রুটি দেখা দেয়। তবে তখন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বোঝা যায়নি। এর মধ্যেই হ্যাকাররা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ২২ মার্চ বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হলে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে থাকা দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার অপসারণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
সাইবার সুরক্ষা আইনে গ্রেপ্তার ৬
কিশোরগঞ্জে সাইবার প্রতারণা, অনলাইন জুয়া ও মাদক—৬ যুবক গ্রেপ্তার

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সাইবার সুরক্ষা আইনে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বড়ভিটার বড়ডুমরিয়া পাইকারটারী গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সাজু খান (৩৫), একই গ্রামের মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে আসাদুজ্জামান (৪০), মহির উদ্দিনের ছেলে তানভীর আহমেদ মিজান (৩০), দেলোয়ার হোসেনের ছেলে তানজিদ হোসেন (২৪), সাদুরারপুল গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম (৩০) এবং উত্তর বড়ভিটা ডাংগাপাড়া গ্রামের মৃত মকছুদার রহমানের ছেলে আলাল ইসলাম (৩৫)। বিষয়টি নিশ্চিত করে কিশোরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী রিপন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়ভিটা বাজার এলাকার একটি ঘরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখানে কয়েকজন যুবক ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল। তিনি আরও জানান, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে ভিসা পাইয়ে দেওয়া, নকল পাসপোর্ট তৈরি, চাকরি দেওয়ার নামে ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান, চাকরিতে যোগদান ও বিদেশ গমনের কাগজপত্র তৈরি এবং ব্যাংক লোন পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিল। এসব কাজে তারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করত। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে অনলাইন ক্যাসিনো কার্যক্রমে জড়িত থাকার প্রমাণও পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তারা মাদক সেবন করছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে প্রতারণা, অনলাইন জুয়া খেলা এবং মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেছেন। কিশোরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুছ জানান, তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে মঙ্গলবার বিকেলে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী
কে এই ১১ মামলার আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী

ঢাকা: সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও তিন তারকা জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গভীর রাতের অভিযানে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।পাঁচদিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত। ডিবি সূত্র জানায়, রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে সোমবার গভীর রাতে তাকে আটক করা হয়। পরে পল্টন থানায় দায়ের হওয়া মানবপাচার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত মোট ১১টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফেনী জেলায় তিনটি মামলা বিচারাধীন এবং এসব মামলায় তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া ফেনীতে আরও তিনটি এবং ঢাকা মহানগর পুলিশে পাঁচটি মামলাসহ মোট আটটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্ত করছে।  ওয়ান ইলেভেনের আলোচিত কর্মকর্তা ২০০৭ সালের ‘ওয়ান ইলেভেন’-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে আলোচিত সামরিক কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। সে সময় তিনি নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং পরে পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। তিনি ‘গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র সমন্বয়ক ছিলেন, যার মাধ্যমে যৌথবাহিনীর কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ওই সময় শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার, জিজ্ঞাসাবাদ এবং দুর্নীতির মামলায় জড়ানোর ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে তথাকথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ নিয়ে বিতর্কে তার নাম সামনে আসে, যেখানে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে রাজনীতি থেকে সরানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।  বিতর্ক ও অভিযোগ ওয়ান ইলেভেনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে তারেক রহমানের ওপর গোয়েন্দা হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ এখনো রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। অবসরের পর তিনি জনশক্তি রফতানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কারসাজি এবং প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ২৫ আগস্ট তাকে সহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করে সিআইডি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও রয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।  কর্মজীবন ও রাজনৈতিক অধ্যায় ১৯৭৫ সালে রক্ষীবাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়ে ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হন। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত ওই দায়িত্বে ছিলেন। অবসরের পর ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ২০০৬ সালের শেষ দিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জরুরি অবস্থা জারি এবং ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির ঘটনাপ্রবাহ ‘ওয়ান ইলেভেন’ নামে পরিচিতি পায়। সেই সময় সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে।  বর্তমান অবস্থা বর্তমানে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর  বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ডিএমপির পল্টন থানায় হওয়া মানবপাচার মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী
মানবপাচার মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ৫ দিনের রিমান্ড

রাজধানীর পল্টন থানায় করা মানবপাচার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও এক/এগারোর আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পাঁচদিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিকে হাজির করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। যদিও মামলার তদন্তের স্বার্থে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।   এর আগে সোমবার (২৩ মার্চ) গভীর রাতে ডিবির একটি বিশেষ দল রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানবপাচার, প্রতারণা, চাঁদাবাজি, হত্যাসহ ঢাকায় পাঁচ এবং ফেনীতে ছয়টি মামলা রয়েছে। ফেনীর একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল।   /এগারো সরকারের সময় প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।অবসর পরবর্তীকালে জনশক্তি রপ্তানি খাতে যুক্ত থেকে মানবপাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলাটি করা হয়।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার সঙ্গে জড়িত আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
আশরাফুল ইসলাম
অনুসন্ধানী সাহসী সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম আর নেই,দাফন সম্পন্ন

বেসরকারি চ্যানেল এশিয়ান টেলিভিশনের সাংবাদিক ও ধামরাই উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম (৩৫) আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর অকাল মৃত্যুতে ধামরাইসহ সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের সাংবাদিক সমাজে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। শনিবার (২১ মার্চ) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি ১৬ দিন যাবৎ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের কালামপুর চরপাড়া গ্রামের মরহুম আব্দুল আজিজের ছেলে। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড় ভাই মো: আবু সাঈদ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৫ বছর। তিনি স্ত্রী শাহানাজ পারভীন, পাঁচ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান সায়েম, বড় ভাই আবু সাঈদ, আলতাফ হোসেন, বোন আসমা বেগমসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। একজন সৎ, নির্ভীক ও মানবিক সাংবাদিক হিসেবে তিনি সহকর্মীদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে পরিবার যেমন শোকাহত, তেমনি শোকস্তব্ধ পুরো সাংবাদিক সমাজ। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২২ মার্চ) সকাল ১১টায় ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের কালামপুর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কালামপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রুর‍্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন( আরজেএফ) এর চেয়ারম্যান এসএম জহিরুল ইসলাম,মহাসচিব সেকেন্দার আলম শেখ,প্রচার সম্পাদক মো. নুর আলম সিদ্দিকী মানু, দেশ বরেণ্য তারকা সাংবাদিক মরহুম সাইদুর রহমান রিমন এর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সাংবাদিক কমিউনিটি (বিএসসি)এর পরিবার ও দেশ বাংলা পরিবার, বাংলাদেশ অনলাইন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (বিওজেএ)এর চেয়ারম্যান জাহিদ ইকবাল ও যুগ্ম মহাসচিব নুর আলম সিদ্দিকী মানু, প্রতিদিনের সাভারের সম্পাদক ও দৈনিক ইনকিলাবের সাভার  প্রতিনিধি  রাওফুর রহমান পরাগ, ধামরাই উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামীম খান, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ধামরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রশিদ তুষার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আহাদ বাবু, সাভার উপজেলা সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক সোহেল রানা, সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল নোমান, মুখপাত্র আহমেদ জীবন, সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক, আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি লাইজু আহমেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, আশরাফুল ইসলাম ছিলেন একজন সাহসী, সৎ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক। তিনি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কলম ধরেছেন এবং সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের মানুষের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর এই অকাল মৃত্যু সাংবাদিক সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ইরান থেকে চার্টার্ড ফ্লাইট
ইরান থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে ফিরলেন ১৮৬ বাংলাদেশি

শুক্রবার দিবাগত রাত। সময় তখন ১টা ৩৫ মিনিট। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে ধীরে ধীরে অবতরণ করে একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইট। বিমানের ভেতরে থাকা ১৮৬ জন বাংলাদেশির জন্য এটি ছিল শুধু একটি যাত্রার শেষ নয়—বরং অনিশ্চয়তা, ভয় ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ইরানে চলমান অস্থিরতার মধ্যে আটকে পড়া এই বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এক জটিল ও বহুস্তরীয় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে। এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুধু একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম ছিল না, বরং এটি ছিল মানবিক দায়বদ্ধতা, আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি বাস্তব উদাহরণ। প্রত্যাবাসনের দীর্ঘ পথ: তেহরান থেকে ঢাকা সূত্র অনুযায়ী, ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সরাসরি বিমানে আনা সম্ভব ছিল না। ফলে বিকল্প পথ বেছে নিতে হয়। প্রথম ধাপে, তেহরান থেকে সড়কপথে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় আজারবাইজান সীমান্তে। এই যাত্রা ছিল ক্লান্তিকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ। সীমান্ত পার হওয়ার পর আবার সড়কপথে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বাকু শহরে। বাকুতে পৌঁছানোর পর শুরু হয় অপেক্ষার আরেক অধ্যায়—চার্টার্ড ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুতি। অবশেষে বিশেষ বিমানে করে তাদের ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ধাপেই ছিল সমন্বয়, নিরাপত্তা এবং সময় ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ। বিমানবন্দরে স্বস্তির মুহূর্ত ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। তারা প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের স্বাগত জানান এবং তাদের খোঁজখবর নেন। অনেকের চোখে তখন জল—স্বস্তির, কৃতজ্ঞতার, আবার কিছুটা ভয় কাটার আনন্দের। একজন প্রবাসী বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম হয়তো আর দেশে ফিরতে পারব না। প্রতিদিন আতঙ্কে কাটছিল। এখন মনে হচ্ছে নতুন জীবন পেয়েছি।” কূটনৈতিক তৎপরতা: পর্দার আড়ালের গল্প এই প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছে একাধিক দেশের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে। বিশেষ করে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. আমানুল হকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করেন এবং বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। এছাড়া, ঢাকা থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা বাকুতে অবস্থান করে প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তা করেন। এটি দেখায় যে, আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যৌথ উদ্যোগ: দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এই সফলতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ একটি কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কেন আটকে পড়েছিলেন বাংলাদেশিরা? ইরানে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে বিদেশি শ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। অনেকেই কাজ হারান, আবার কেউ কেউ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ফলে দ্রুত তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। আগের অভিজ্ঞতা: ২০২৪ সালের প্রত্যাবাসন এটি প্রথম নয়। গত বছরের জুন মাসেও ইরান থেকে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। তখন পরিস্থিতি আরও জটিল ছিল। বাংলাদেশিরা ইরান থেকে সীমান্ত পার হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আরও দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা: ভয়, অনিশ্চয়তা ও বেঁচে ফেরার গল্প প্রত্যাবাসিতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা দিন কাটিয়েছেন ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা রাতে ঘুমাতে পারতাম না। বাইরে কী হচ্ছে জানতাম না। পরিবারও চিন্তায় ছিল।” আরেকজন শ্রমিক জানান, “কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।” এই অভিজ্ঞতাগুলো শুধু একটি সংকটের চিত্র নয়, বরং প্রবাসীদের বাস্তব জীবনের সংগ্রামের প্রতিফলন। সরকারের ভূমিকা: কতটা কার্যকর? এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রমকে অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় ছিল এই সাফল্যের মূল কারণ। তবে তারা এটিও বলছেন যে, ভবিষ্যতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা এই ঘটনা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সামনে নিয়ে এসেছে: সংকটের সময় দ্রুত তথ্য সংগ্রহ জরুরি কূটনৈতিক যোগাযোগ শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন প্রবাসীদের জন্য জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা থাকা দরকার বিকল্প রুট পরিকল্পনা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা উচিত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিপুল সংখ্যক নাগরিক বিদেশে কর্মরত। অর্থনৈতিক প্রভাব প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় উৎস। ফলে প্রবাসীদের নিরাপত্তা শুধু মানবিক বিষয় নয়, বরং অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক প্রভাব প্রবাসীদের পরিবারগুলোও এই সংকটে মানসিক চাপের মধ্যে ছিল। অনেক পরিবার দিনরাত উদ্বেগে কাটিয়েছে। তাদের জন্য এই প্রত্যাবাসন শুধু একটি প্রশাসনিক ঘটনা নয়, বরং একটি আবেগঘন মুহূর্ত। ইরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন একটি সফল কূটনৈতিক ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এটি একই সঙ্গে একটি সতর্কবার্তাও—বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে। এই ঘটনাটি দেখিয়েছে, সঠিক পরিকল্পনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থাকলে জটিল পরিস্থিতিও সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু একটি উদ্ধার অভিযান নয়—বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদুল ফিতরের  জামাত
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদুল ফিতরের পাঁচ জামাত, দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ দোয়া

রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি জামাত শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৭টায় প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান। এরপর পর্যায়ক্রমে সকাল ৮টায় দ্বিতীয়, ৯টায় তৃতীয়, ১০টায় চতুর্থ এবং বেলা পৌনে ১১টায় পঞ্চম ও শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি জামাত শেষে মুসল্লিরা দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া করেন। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত থেকে মুক্তি কামনা করা হয় মোনাজাতে। মোনাজাতে উচ্চারিত হয়— “সমাজ হোক মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক, রাষ্ট্র হোক সবার। ঈদ বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি আর কল্যাণ।” রমজান মাসজুড়ে আত্মসংযম ও ত্যাগের যে শিক্ষা মুসলমানরা অর্জন করেছেন, তা ঈদুল ফিতরের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করবে— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মুসল্লিরা। একই সঙ্গে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় লাখো মুসল্লি
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান, ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাত

ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান ভোর না হতেই পরিণত হয় জনসমুদ্রে। দেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন ঈদ জামাতে এবার অংশ নেন ছয় লাখেরও বেশি মুসল্লি, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ সমাগম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের এই জামাতে ইমামতি করেন শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জামাত সম্পন্ন হয়। জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে এবারের জামাত ছিল নজিরবিহীন। তিনি বলেন, “স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসল্লির উপস্থিতি ছিল এবারের জামাতে। প্রশাসনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।” ঈদের আগের দিন থেকেই কিশোরগঞ্জমুখী মানুষের ঢল নামে। দেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ছুটে আসেন শোলাকিয়ায়। অনেকে আত্মীয়স্বজনের বাসায়, কেউ মসজিদে, আবার কেউ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান—শুধু একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের প্রত্যাশায়। সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক, ভবনের ছাদ এবং নরসুন্দা নদীর তীরেও কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে তিন দফায় শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের সারিবদ্ধ হওয়ার সংকেত দেওয়া হয়—১০ মিনিট আগে পাঁচটি, ৫ মিনিট আগে তিনটি এবং ১ মিনিট আগে দুটি গুলি ছোড়া হয়। নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। শোলাকিয়ার এই ঈদ জামাত শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও বিশ্বাসের এক অনন্য প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এছাড়া জামাতে অংশ নেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ঈদুল ফিতর
বাংলাদেশে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর

বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হয়েছে। ফলে আজ শনিবার সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জানানো হয়, দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুক্রবার রমজান মাসের ৩০তম দিন পূর্ণ হয়েছে এবং শনিবার (২১ মার্চ) শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হিসেবে দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানরা শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন, যা তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এদিন দেশজুড়ে ঈদের জামাত, দোয়া, দান-খয়রাত এবং পারিবারিক মিলনমেলার মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। এদিকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শুক্রবারই ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। এছাড়া আফগানিস্তান, মালি ও নাইজারে বৃহস্পতিবার ঈদ উদযাপিত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
লঞ্চ দুর্ঘটনা তদন্তে ৬ সদস্যের কমিটি
লঞ্চ দুর্ঘটনা তদন্তে ৬ সদস্যের কমিটি

রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৮ মার্চ সদরঘাটের ১৪ নম্বর পন্টুনের কাছে ঢাকা-ইলিশা (ভোলা) রুটের ‘আসা-যাওয়া-৫’ এবং ঢাকা-দৌলতদিয়া-যশোরহাট রুটের ‘এমভি জাকের স্মার্ট-৩’ লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবুল ইসলামকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—  ঢাকা অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন, বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এস এম শাহেদ রেজা, নৌপরিবহন অধিদফতরের ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মোহাম্মদ এহতেছানুল হক ফকির, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ কে এম শামসুজ্জোহা এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. মেহেদী হাসান সদস্যসচিব হিসেবে কমিটিকে দায়িত্ব পালন করবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
সেমাই, চিনি ও মসলায় মূল্যবৃদ্ধি
ঈদুল ফিতর : সুগন্ধি চাল, সেমাই, চিনি ও মসলায় মূল্যবৃদ্ধি, স্বস্তি সবজির বাজারে

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নিত্যপণের বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে, বিভিন্ন পণ্যের দামও আকাশছোঁয়া হচ্ছে। সেমাই, চিনি, মসলা ও সুগন্ধি চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে অনেক ক্রেতার। ঈদকে সামনে রেখে কয়েকদিনের ব্যবধানে কোনো কোনো পণ্যের দাম ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি কিনছেন সুগন্ধি চাল, সেমাই, চিনি, দুধ ও বিভিন্ন ধরনের মশলা। বাড়তি চাহিদা থাকা প্রায় প্রতিটি পণ্যের দামই গত কয়েকদিনের ব্যবধানে বড় অংকে পরিবর্তন হয়েছে। বাজারে খোলা ও প্যাকেটজাত সুগন্ধি চাল কিনতে কয়েকদিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কালিজিরা ও চিনিগুঁড়া চালের এক কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে কোম্পানিভেদে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়। অন্যদিকে খোলা চাল পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ১৪০-১৫০ টাকায়। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুগন্ধি চালের প্রতি কেজির দর ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯০ থেকে ১৩০ টাকা। সে হিসেবে দাম বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। এরমধ্যে গত এক মাসে বেড়েছে ৮ শতাংশ। খুচরা বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২০০ গ্রাম সেমাই ৪০-৪৫ টাকা, ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাই ২৮০ টাকা, আলাউদ্দিন সুইটের ৫০০ প্যাকেট সেমাই ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, ৫০০ গ্রাম অলিম্পিয়া সেমাই ২৮০ থেকে ৭০০ টাকা, ২০০ গ্রামের বনফুল ও কুলসন সেমাই প্যাকেট ৪৫ টাকা। এছাড়া খোলা লম্বা সেমাইয়ের কেজি ৯০ টাকা এবং লাচ্ছার কেজি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে কেজিপ্রতি বিদেশি চিনি ১০০-১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার শুরুতেও যা ৯৫-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর দেশি চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে টিসিবির তথ্য অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় পণ্যটির দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত কম রয়েছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের মশলার দামও কয়েকদিনের ব্যবধানে বেড়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে দামি মশলা এলাচ প্রতিকেজি খুচরা পর্যায়ে ৫ হাজার টাকা দাম রাখা হচ্ছে। দারুচিনির দাম কেজিপ্রতি ৫৬০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। অন্যান্য মশলার মধ্যে জয়ত্রি ৪ হাজার টাকা এবং জায়ফল প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লবঙ্গ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, ধনিয়া ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং তেজপাতা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর জিরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কিশমিশ, আলুবোখারা, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও পেস্তা বাদামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এদিকে ঈদকে সামনে রেখে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে খোলা তেলের দাম বেড়ে প্রতি ২১৫ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও সবজির বাজারে স্বস্তি দেখা গেছে। পেঁয়াজ, আলু, লেবু, শসা, বেগুনসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা, আলু ১৮-২০ টাকা এবং টমেটো ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা ৩৫-৫০ টাকা এবং বেগুন ৫০-৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আর কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে লেবুর দাম অবশ্য বাড়তি রয়েছে। প্রতিহালি লেবু ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
দুটি লঞ্চের ধাক্কা
দুটি লঞ্চের ধাক্কা :স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না সোহেলের

রাজধানীর সদরঘাটে দুটি লঞ্চের মধ্যে ধাক্কা লাগার ঘটনায় সোহেল (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার সঙ্গে থাকা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার রেবা (২০) গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সোহেল বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী রেবাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য লঞ্চে উঠছিলেন। আহত রেবাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সদরঘাটে ‘আসা যাওয়া-৫’ নামের একটি লঞ্চে যাত্রী উঠছিল। ঠিক তখন ‘জাকির সম্রাট-৩’ নামের আরেকটি লঞ্চ পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। দুই লঞ্চের মধ্যে পড়ে ট্রলারে থাকা সোহেল নিহত হন, আর তার স্ত্রী গুরুতর আহত হন। কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়সাল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,  “দুটি লঞ্চ সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। আহত অন্তঃসত্ত্বা নারী রেবাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।” নৌ পুলিশের সদরঘাট থানার ওসি সোহাগ রানা বলেন, “ঘটনাস্থলে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম কাজ করছে। তবে আলোর স্বল্পতা ও পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একজন নারীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি এখনও হতবিহ্বল। স্বাভাবিক হলে তার বক্তব্য পাওয়া যাবে।” ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. জহির বলেন, “ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আমরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।” এই দুর্ঘটনার পর সদরঘাট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, লঞ্চ দুটির চালক বা সংশ্লিষ্টদের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
যমুনা সেতু
ঈদযাত্রার চাপ: ৪৮ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে ৮২ হাজার গাড়ি, টোল আদায় ৬.৪৪ কোটি টাকা

ঈদকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ মাধ্যম যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৮২ হাজার ৬০১টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং এ থেকে মোট টোল আদায় হয়েছে ৬ কোটি ৪৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা। সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত এই টোল আদায় করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকাল থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। তবে বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি। বর্তমানে গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন সড়ক সুবিধা চালু থাকায় যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪৬ হাজার ৯৬৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাগামী ছিল ১৯ হাজার ৪৪৫টি, যেখান থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গগামী ২৭ হাজার ৪৯৮টি যানবাহন থেকে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫০ টাকা। একদিনেই মোট টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা। যমুনা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, যানবাহনের চাপ সামাল দিতে ৯ থেকে ১৮টি টোল বুথ চালু রাখা হয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেলের জন্য দুই প্রান্তে আলাদা বুথ স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে চালু হওয়ার পর থেকে যমুনা সেতুতে নিয়মিত টোল আদায় করা হচ্ছে। বর্তমানে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) এই টোল ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন । অধিবেশনের শুরুতে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংসদকে জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র করতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদকে তিনি সকল যুক্তি, তর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে তিনি ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না ও হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আবারও জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের রাজনীতির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছেন, যার অশেষ রহমতে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন যাত্রা শুরু করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রালগ্নে তিনি তাঁদের কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এসব আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব মায়েরা সন্তান হারিয়েছেন, যেসব সন্তান তাঁদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, যেসব পরিবার স্বজন হারিয়েছে এবং যেসব আহত মানুষ স্বাভাবিক জীবন হারিয়েছেন, তাঁদের অবদান তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি আরও বলেন, নির্যাতন, নিপীড়ন, রাজনৈতিক হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে যারা সর্বস্ব হারিয়েছেন, দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কামার-কুমার, জেলে-তাঁতি, গাড়িচালক, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, গৃহিণীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ যারা গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং মিথ্যা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন কিংবা জীবন্ত মানুষ কবরস্থানের মতো বর্বর বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর মতো পরিস্থিতির মধ্যেও যাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে রুখে দেওয়া যায়নি, তাদের সাহসী ভূমিকায় দেশে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই যাত্রালগ্নে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক বীর ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানান। ভাষণে তিনি বলেন, দেশনেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করে জাতীয় সংসদকে হাস্যরসের খোরাকে পরিণত এবং দেশে তাঁবেদারি শাসন-শোষণ কায়েম করা হয়। তিনি বলেন, দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন এবং জীবনে কখনো স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। আজ থেকে দেশে আবারও সেই কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠাতা বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের এই সাফল্যের মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। তাই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে আপসহীন নেতৃত্বের অধিকারী, স্মরণীয় ও অনুকরণীয় রাজনীতিবিদ মরহুমা খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন—‘জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলেই আছি’। অর্থাৎ ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়—এটাই বিএনপির রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য এবং সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি বলেন, তাঁর রাজনীতি দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি। বিএনপির রাজনীতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতি। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই তাঁদের রাজনীতির লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমেই বিএনপি একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা এবং জাতীয় সংসদের সকল দলের নির্বাচিত সদস্যদের সমর্থন প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, দল বা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তাঁবেদারমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার সংসদকে অকার্যকর করে ফেলেছিল। তিনি বলেন, নতুন সংসদের যাত্রা শুরু করার সময় সংসদের সাবেক স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পতিত ও পরাজিত সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জনরোষের ফলে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ কিংবা কেউ পলাতক রয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী ও তাঁবেদারি শাসন-শোষণের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির বিধান অনুসরণ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য তিনি প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও পাঁচবারের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এ ধরনের পরিস্থিতি নজিরবিহীন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং তার সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
মাদারীপুরে ৪০ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট-অগ্নিসংযোগ
মাদারীপুরে আধিপত্যের সংঘর্ষে হত্যা, ৪০ বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ

মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার জেরে অন্তত ৪০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আখতার হাওলাদারের সমর্থক আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এই হত্যাকাণ্ডের জের ধরে রাতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিহত আলমগীর হাওলাদারের পক্ষের সমর্থকরা প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সী পক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পাশাপাশি জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লাবলু হাওলাদার ও হাসান মুন্সীর বাড়িসহ অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, হামলার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বলেন, হামলাকারীরা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন সড়কে ইট ও গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে দেয়। এতে সেখানে পৌঁছাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পেতে হয়েছে। তবে বর্তমানে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। দীর্ঘদিনের বিরোধ স্থানীয়দের দাবি, নতুন মাদারীপুর এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আখতার হাওলাদার পক্ষ এবং হাসান মুন্সী পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এলাকায় দুই পক্ষের উত্তেজনা আবারও বাড়তে শুরু করে। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডের পর সেই বিরোধ নতুন করে সহিংস রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
দুদক
দুদকের নতুন মহাপরিচালক আলী হোসাইন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (লিগ্যাল) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আইন ও বিচার বিভাগের সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ আলী হোসাইন। সোমবার (৯ মার্চ) তাকে মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার চাকরি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
গ্রেফতার হাদি হত্যার আসামি
হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী ভারতে আটক, দেশে ফেরানোর উদ্যোগ

রাজধানীর আলোচিত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এক্স (সাবেক টুইটার)–এ প্রকাশিত এক পোস্টে এ তথ্য জানায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের আটক করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুই আসামিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ভারত সফর করেন। ওই সফরের সময় হাদি হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা নিয়েও পদক্ষেপ বাংলাদেশের আহ্বানের প্রেক্ষিতে ভারতে বসে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ বিষয়ে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান–প্রদান ও সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে। যেভাবে হত্যাকাণ্ড গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালানোর সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি গুলি চালায়। এতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তদন্তের অগ্রগতি হত্যাকাণ্ডের পর করা মামলায় ইতিমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে ভারতে আটক ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় ঢাকায় তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। বেশ কিছু পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকতে দেখা গেছে
হরমুজ প্রণালি সংকটের প্রভাব: ঢাকায় তেলের চাহিদা বেড়েছে, পাম্পে ঝুলছে ‘তেল নেই’

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কা ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারেও দেখা যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকদের মধ্যে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে ট্যাংক ভর্তি করে রাখার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে হঠাৎ করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যার পর রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কিছু ফিলিং স্টেশন আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে অনেক গাড়িচালক তেল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। ঢাকার নীলক্ষেত ও নিউমার্কেট এলাকার সবকটি তেলের পাম্প বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। নীলক্ষেত মোড়ের “বন্ধু ফিলিং স্টেশন”-এর এক কর্মী মিলন জানান, বিকেল থেকেই তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “বিকেল থেকেই অনেক গাড়ি আসছিল। আমাদের কাছে যত তেল ছিল প্রায় সব শেষ হয়ে গেছে। নতুন গাড়ি (সরবরাহ) না আসলে আর তেল দিতে পারবো না।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের উল্টা পাশের একটি ফিলিং স্টেশনের বিক্রেতাও একই ধরনের তথ্য দেন। তিনি বলেন, পাম্পে আপাতত তেল নেই। তার ভাষায়, “রাত ৯টার দিকে তেলবাহী গাড়ি আসার কথা। তখন তেল আসলে আবার বিক্রি শুরু করবো। এখন তেল না থাকায় পাম্প বন্ধ রেখেছি।” এদিকে তেল নিতে এসে পাম্প বন্ধ পেয়ে অনেক চালককে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। মোস্তফা আহমেদ নামে এক গাড়িচালক বলেন, “তেল নিতে আসছিলাম, এসে দেখি পাম্প বন্ধ। পাম্পের লোক বলছে তেল নেই। সরকার বলছে তেল আসছে, আবার পাম্প বলছে নেই। ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কি না সেটাও সন্দেহ হচ্ছে।” আরেকজন মোটরসাইকেলচালক রাসেল মিয়া বলেন, “যুদ্ধের কারণে যদি সংকট হয়, তাহলে এখনই তো তেল শেষ হয়ে যাওয়ার কথা না। বুঝতে পারছি না দাম বাড়ানোর জন্য পাম্প বন্ধ রাখছে কি না।” তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে এখনই বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মার্চ মাসের তথ্য অনুযায়ী জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে— ডিজেল প্রায় ১৪ দিনের পেট্রোল প্রায় ১৫–১৭ দিনের অকটেন প্রায় ২৮ দিনের ফার্নেস অয়েল প্রায় ৯৩ দিনের জেট ফুয়েল প্রায় ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে। সরকারি হিসেবে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৫, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

অর্থনীতি

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ৪৭ ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র

বাংলাদেশে ৪৭টি তেল-গ্যাস ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র শিগগির: এলএনজি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0




অপরাধ

বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা  দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0