ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বায়ন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের যুগে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে? বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব কি কেবল বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছে, নাকি ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে দেশের নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ? এমন প্রশ্নকে সামনে রেখেই "সুস্থ সংস্কৃতি, বিনোদন চর্চা ও জাতীয় ভাবধারাভিত্তিক গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশ" শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ এবং বিএফইউজের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির। সংস্কৃতি শুধু বিনোদন নয়, জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়- সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। ভাষা, সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, লোকজ ঐতিহ্য, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ, আচার-অনুষ্ঠান এবং জীবনযাপন পদ্ধতির সমন্বয়ে একটি জাতির সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব বিস্তার মানুষের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি যেমন বৃদ্ধি করেছে, তেমনি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও মূল্যবোধের সংকটও সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের মতো ঐতিহ্যবাহী সমাজে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা, বিনোদনের ইতিবাচক পরিবেশ এবং জাতীয় ভাবধারাভিত্তিক গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন: পরিবর্তন নাকি পরিচয়ের সংকট? ১. সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রভাব বিশ্লেষণ, জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশ, তরুণ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি: সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলতে এমন এক প্রক্রিয়াকে বোঝায় যার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতির উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং ধীরে ধীরে স্থানীয় সংস্কৃতিকে দুর্বল করে দেয়। বর্তমানে স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বৈশ্বিক বিনোদন শিল্পের মাধ্যমে এই প্রভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিদেশি সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে ইতিবাচক কিছু দিক থাকলেও অন্ধ অনুকরণ অনেক ক্ষেত্রে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়কে দুর্বল করছে। বাংলা ভাষার ব্যবহার কমে যাওয়া, লোকজ সংস্কৃতির প্রতি অনাগ্রহ, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং ভোগবাদী মানসিকতার বিস্তার এর অন্যতম প্রভাব। জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য আমাদের লোকসংগীত, বাউলগান, ভাটিয়ালি, জারি-সারি, পালাগান, লোকনাটা, পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসবসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করতে হবে। তরুণদের জন্য ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহিত্যচর্চা, নাট্যচর্চা, সংগীত শিক্ষা, বিতর্ক, বইপাঠ এবং সৃজনশীল কর্মকান্ডের সুযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কারণ সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি ব্যক্তিত্ব গঠন ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেরও অন্যতম হাতিয়ার। তরুণ প্রজন্মের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ? ২. সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও জাতীয় পরিচয়: ক. বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক প্রবাহ: বিশ্বায়নের ফলে পৃথিবী আজ একটি বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনধারা সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এটি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করলেও স্থানীয় সংস্কৃতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। খ. স্থানীয় সংস্কৃতির চ্যালেঞ্জ: বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি, গ্রামীণ ঐতিহ্য এবং নিজস্ব জীবনবোধ ক্রমশ নগরায়ণ ও বৈশ্বিক সংস্কৃতির চাপে সংকুচিত হচ্ছে। অনেক তরুণ নিজের সংস্কৃতির চেয়ে বিদেশি সংস্কৃতিকে বেশি আকর্ষণীয় মনে করছে। ফলে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও গ. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব: ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মানুষের চিন্তা, রুচি ও আচরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। ইতিবাচক তথ্য ও শিক্ষামূলক কনটেন্টের পাশাপাশি অশালীনতা, সহিংসতা, অসত্য তথ্য ও অসুস্থ বিনোদনের বিস্তারও ঘটছে। তাই ডিজিটাল সাক্ষরতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা ভাষা ও মূল্যবোধের প্রশ্ন ঘ. ভাষা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ: বাংলা ভাষা আমাদের জাতীয় পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত এই ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। একইসঙ্গে পারিবারিক বন্ধন, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা, সামাজিক সহমর্মিতা, সততা ও মানবিকতা-এসব মূল্যবোধও জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলো সংরক্ষণ না করতে পারলে জাতীয় পরিচয়ও দুর্বল হয়ে পড়বে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব ৩. সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চার পরিবেশ: পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা: একটি শিশুর সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রথম প্রতিষ্ঠান পরিবার। পরিবারে বই পড়ার অভ্যাস, গান, কবিতা, গল্প এবং নৈতিক শিক্ষার চর্চা থাকলে শিশু সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, নাটক, সংগীত ও সাহিত্যচর্চার সুযোগ বাড়াতে হবে। গণমাধ্যম ও বিনোদন শিল্প: গণমাধ্যম সমাজের রুচি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই টেলিভিশন, রেডিও, চলচ্চিত্র, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সংবাদমাধ্যমকে শিক্ষামূলক, নৈতিক ও দেশীয় সংস্কৃতিনির্ভর কনটেন্ট প্রচারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক বিকাশ: শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড অপরিহার্য। তাদের জন্য মানসম্মত শিশুতোষ অনুষ্ঠান, নাটক, কার্টুন, সাহিত্য এবং সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। ইতিবাচক কনটেন্ট নির্মাণ: ডিজিটাল যুগে ইতিবাচক ও মূল্যবোধভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। তরুণদের কাছে দেশপ্রেম, মানবিকতা, বিজ্ঞানমনস্কতা, পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তুলে ধরতে হবে। জাতীয় ভাবধারা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ৪. জাতীয় ভাবধারা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা: বাংলাদেশের জাতীয় ভাবধারার মূল ভিত্তি মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা, মানবমর্যাদা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম ভিত্তি অসাম্প্রদায়িকতা। ধর্ম, বর্ণ ও মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমতের প্রতি সম্মান এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা। সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতি: সংস্কৃতি মানুষকে একত্রিত করে। উৎসব, নাটক, সংগীত, সাহিত্য ও শিল্পচর্চা সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে এবং বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দেয়। রাষ্ট্রের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা: সাংস্কৃতিক বিকাশে রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত পুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, শিল্পী-সাহিত্যিকদের সহায়তা, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। উপসংহার: সুস্থ সংস্কৃতি, ইতিবাচক বিনোদন এবং জাতীয় ভাবধারাভিত্তিক গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশ একটি উন্নত, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের পূর্বশর্ত। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করে আমাদের নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধারণ করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি সৃজনশীল, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাদক-সংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং সাইবার স্পেসে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধকে পৃথক আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে শনিবার দুটি পৃথক সংশোধনী বিল উত্থাপনের মধ্য দিয়ে অপরাধ দমন ও বিচারব্যবস্থায় নতুন নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো কেবল আইনের ভাষাগত পরিবর্তন নয়; বরং বিচার কাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতা বৃদ্ধির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। মাদক মামলার জট কমাতে ফিরছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল উত্থাপন করেন। বিলটি পরীক্ষা করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাধারণ আদালতে বিপুলসংখ্যক মামলার চাপ থাকায় মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও সরকার মনে করছে। এ কারণে বিদ্যমান সাধারণ আদালতের বিচারিক এখতিয়ার বহাল রেখেই মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান পুনরায় যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধেও নজর সংশোধনীতে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় নতুন বিধান সংযোজনের কথাও বলা হয়েছে। বিশেষ করে সাইবার স্পেস ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা, লেনদেন ও যোগাযোগের মতো অপরাধ দমনে নতুন আইনি কাঠামো যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যকারিতা বাড়াতে— আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের আইনগত প্রাধিকার; বিশেষায়িত ডগ স্কোয়াড গঠন; —সংক্রান্ত বিধানও সংযোজনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সাইবার আইন থেকে বাদ যাচ্ছে জুয়ার বিধান একই দিনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল সংসদে উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, বর্তমান সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে সাইবার স্পেসে জুয়া খেলা-সংক্রান্ত অপরাধ ও শাস্তির বিধান অপসারণ করা হবে। এর পরিবর্তে 'জুয়া প্রতিরোধ আইন' নামে পৃথক একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধ একটি স্বতন্ত্র আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়। বিলটিও পরীক্ষা করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ: কেন একসঙ্গে দুটি আইনে পরিবর্তন? দুটি বিল একসঙ্গে সংসদে আনার মধ্য দিয়ে সরকার অপরাধ দমন নীতিতে একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। মূল পরিবর্তনগুলো হলো— মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা; প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধকে আইনের আওতায় আরও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি; সাইবার আইনকে মূলত ডিজিটাল অপরাধকেন্দ্রিক রেখে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধকে পৃথক আইনে স্থানান্তর করা। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করলেই বিচার দ্রুত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিচারক, প্রসিকিউশন, তদন্ত কর্মকর্তা এবং ফরেনসিক সক্ষমতা সমানভাবে বাড়ানো না গেলে মামলার জট পুরোপুরি কমানো কঠিন হতে পারে। একইভাবে, জুয়া-সংক্রান্ত বিধান আলাদা আইনে স্থানান্তরের ফলে আইন প্রয়োগ আরও কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে নতুন আইনের বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে দেওয়া আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগ বাতিল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, সিদ্ধান্তটি কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি; বরং আইন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। ২০২২ সালের নিয়োগে আপত্তি ছিল না বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ এবং ৮৫তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে তিন বছরের জন্য প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় তিনি মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি, চিকিৎসা সুবিধা এবং সীমিত প্রশাসনিক সুবিধা পেতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, এই নিয়োগ বিধি অনুযায়ী হওয়ায় তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি ছিল না। ছয় মাস আগেই বদলে যায় নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস আগে, ২০ জুন ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় প্রফেসর ইমেরিটাস অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়। সংশোধিত অধ্যাদেশে প্রথমবারের মতো আজীবন নিয়োগ, অবসরের সময়কার পূর্ণ অধ্যাপকের বেতন-ভাতার সমপরিমাণ মাসিক পারিশ্রমিক, আজীবন চিকিৎসা সুবিধা, অফিস, স্টাফ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধার বিধান যুক্ত করা হয়। বিএমইউর দাবি, ওই সভাটি ছিল মূলত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন। সেখানে মূল এজেন্ডার বাইরে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে "নজিরবিহীন" এবং "বেআইনি"। বিশ্ববিদ্যালয় আরও বলছে, এ পর্যন্ত এই নিয়োগের আওতায় অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আনুমানিক সাড়ে ১৪ লাখ টাকার বেশি আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগের ক্ষেত্রে অধ্যাদেশের ধারা ৫ অনুযায়ী বিভাগীয় চেয়ারম্যানের প্রস্তাব, ডিনের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন, উপাচার্যের গঠিত মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ এবং সেই সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রে এসব ধাপ অনুসরণ করা হয়নি বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি। বিএমইউ বলছে, কেবলমাত্র একজন সদস্যের প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাকে আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এমনকি যোগ্যতার বিবরণে "সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক" পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, গত প্রায় দুই বছরে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত হননি, শিক্ষাদান করেননি এবং কোনো গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার তথ্যও প্রশাসনকে জানাননি। তবে এই সময়ে তিনি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আর্থিক অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন বিএমইউ বলছে, ২০২৪ সালের সংশোধনের মাধ্যমে প্রফেসর ইমেরিটাস পদটি কার্যত একটি সম্মানসূচক পদ থেকে পূর্ণ বেতনসদৃশ আর্থিক সুবিধাসংবলিত পদে পরিণত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি অনুযায়ী, এ ধরনের আর্থিক পরিবর্তনের আগে অর্থ কমিটির সুপারিশ নেওয়া উচিত ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে অর্থ কমিটিতে বিষয়টি উপস্থাপন, আর্থিক বিশ্লেষণ কিংবা কোনো সুপারিশের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কী নজির? সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগের নজির থাকলেও, আজীবনের জন্য পূর্ণ অধ্যাপকের সর্বোচ্চ বেতনের সমপরিমাণ পারিশ্রমিক এবং বিস্তৃত প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার কোনো নজির বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে পায়নি। বর্তমান প্রশাসনের মতে, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদি পুনরাবৃত্ত আর্থিক দায় সৃষ্টি হয়েছে। কেন বাতিল করা হলো নিয়োগ? বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, ১৩ জুন ২০২৬ সালের সিন্ডিকেট সভায় সব নথি ও তথ্য পর্যালোচনার পর ২৪ জুন ২০২৪ সালের আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগকে বিধিবহির্ভূত হিসেবে বিবেচনা করে বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, বিধিবহির্ভূত নিয়োগের ভিত্তিতে প্রদত্ত আর্থিক সুবিধা আইনের বিধান অনুযায়ী পুনরুদ্ধার করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে কারণেই অধ্যাপক আব্দুল্লাহকে ওই সময়ে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, এটি কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে নয়; বরং প্রচলিত আইন ও বিধিমালার অনুসরণ নিশ্চিত করার অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান বিএমইউর দাবি, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ছিল আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করা। বিশ্ববিদ্যালয় মনে করে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও জবাবদিহিতা রক্ষার স্বার্থে আইন ও বিধিমালা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) নূর মোহাম্মদকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (২৭ জুন) রাতে পরিচালিত একটি অভিযানে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, "নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে জামালপুরে একটি মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" ডিবির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মামলার প্রকৃতি বা অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া অভিযানের সময় তার সঙ্গে অন্য কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানানো হয়নি। আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর গ্রেফতার এর আগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপটে নূর মোহাম্মদ, তার স্ত্রী রওশন আরা বেগম এবং ভাতিজা সাইফুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ঢাকার একটি আদালত। আদালতের ওই আদেশে তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তদন্তের পরবর্তী ধাপ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতারের পর নূর মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ আবারও ভেঙেছে নিজস্ব রেকর্ড। ছয় মাস পর খোলা ১৩টি দানসিন্দুক থেকে এবার পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা, যা এ পর্যন্ত মসজিদটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ দান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি মিলেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে টানা প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা ধরে চলে টাকা গণনার কাজ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ১৩টি সিন্দুক থেকে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া দানবাক্সে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া যায়। নজিরবিহীন নিরাপত্তায় খোলা হয় ১৩ সিন্দুক শনিবার সকালেই প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দানসিন্দুকগুলো খোলা হয়। পুরো কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), মসজিদ কমিটির সদস্যসচিব কামরুল হাসানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট। ৫ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে গণনা বিপুল পরিমাণ অর্থ গণনার কাজে অংশ নেন প্রায় ৫ শতাধিক ব্যক্তি। তাদের মধ্যে ছিলেন আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানাসহ দুটি মাদ্রাসার প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংক-এর ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদ কমিটির সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। দানের অর্থ কোথায় যায়? জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের নিয়মিত ব্যয় নির্বাহের পর অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। বর্তমানে মসজিদের তহবিলে ব্যাংকে জমা রয়েছে প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এছাড়া অনলাইন মাধ্যমে পাওয়া দানের আরও প্রায় ২৫ লাখ টাকা রয়েছে। এবার পাওয়া অর্থও ব্যাংকে জমা রাখা হবে। তিনি আরও জানান, দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়। পরে সেগুলো উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থও মসজিদের তহবিলে যুক্ত করা হয়। শুধু মসজিদ নয়, সমাজকল্যাণেও ব্যয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, তহবিলের মুনাফা থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায়, দরিদ্র এবং জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। কেন এত দান আসে? মসজিদ কমিটি বলছে, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষ পাগলা মসজিদে আসেন। অনেকেই বিশ্বাস ও মানতের অংশ হিসেবে নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা কিংবা স্বর্ণালঙ্কার দান করেন। সাধারণত প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস পর সিন্দুক খোলা হলেও এবার প্রায় ছয় মাস পর দানবাক্স খোলা হয়েছে, ফলে দানের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রায় ৩ মাস ২৭ দিন পর দানসিন্দুক খুলে ৩৫ বস্তা টাকা থেকে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সেই সময়ও বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার এবং হীরা উদ্ধার হয়েছিল। এবারের সংগ্রহ সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল। নগদ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ১২ লাখ টাকা বেশি হওয়ায় এটি পাগলা মসজিদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দান হিসেবে নতুন মাইলফলক হয়ে থাকল। তথ্যসংক্ষেপ মসজিদ: পাগলা মসজিদ, কিশোরগঞ্জ খোলা সিন্দুক: ১৩টি মোট প্রাপ্ত অর্থ: ১৫,৯০,৮০,১৪৬ টাকা অতিরিক্ত উদ্ধার: বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার গণনার সময়: প্রায় ১৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট অংশগ্রহণকারী: ৫ শতাধিক ব্যক্তি বর্তমান ব্যাংক তহবিল: প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা অনলাইন দান: প্রায় ২৫ লাখ টাকা
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে নিরাপত্তা সংকটের প্রশ্ন সামনে এসেছে। ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে হাসপাতালের সার্জারি ভবনের চতুর্থ তলায় একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং কয়েকজন চিকিৎসক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের নাম উল্লেখ করা হলেও, এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। কী ঘটেছিল? ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সার্জারি বিভাগের ৪২৯ নম্বর কক্ষে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছিল। এ সময় হিমেলসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল সেখানে প্রবেশ করে চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন চিকিৎসক শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর বুধবার (২৪ জুন) থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের চার দফা দাবি ঘটনার পর এসএসএমসি মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, হামলায় সহকারী রেজিস্ট্রার, ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আক্রান্ত হয়েছেন। সংগঠনটি চারটি দাবি উত্থাপন করেছে— প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিটের বাইরে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন; হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন; হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা; সার্জারি বিভাগে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। আইডিএর আহ্বায়ক ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। তদন্তে জটিলতা কোথায়? চিকিৎসকদের অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ঘটনাস্থলে কার্যকর সিসিটিভি নজরদারি না থাকা। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত নজরদারি ব্যবস্থা না থাকলে এমন ঘটনার প্রকৃত দায় নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। এতে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে সত্য উদঘাটন বিলম্বিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্তমান ঘটনাতেও প্রত্যক্ষ ভিডিও প্রমাণের অভাব তদন্তকে জটিল করে তুলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পুলিশের অবস্থান কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে হাসপাতাল এলাকায় একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তার ভাষ্য, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ জমা দেয়নি। লিখিত অভিযোগ না থাকায় তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। অভিযুক্তের পাল্টা দাবি অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান হিমেল চিকিৎসকদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, হাসপাতালে তারা উল্টো ‘মবের’ শিকার হয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফলে ঘটনাটি এখন দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, যার সত্যতা নির্ভর করছে সম্ভাব্য তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা? বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা কিংবা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা নতুন নয়। তবে চিকিৎসকদের দাবি, কর্মপরিবেশ নিরাপদ না হলে স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মিটফোর্ড হাসপাতালের এই ঘটনা সেই পুরোনো প্রশ্নই আবার সামনে এনেছে—দেশের বৃহৎ সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো কতটা কার্যকর, এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধে কী ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। বর্তমানে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ এবং সম্ভাব্য তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা বলা হয় তৈরি পোশাক শিল্পকে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। কিন্তু গত কয়েক মাসে গাজীপুর, সাভার ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে একের পর এক কারখানা বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত কি গভীর সংকটে পড়েছে? অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, বাস্তবতা একমাত্রিক নয়। একদিকে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। অন্যদিকে একই সময়ে নতুন কারখানা চালু হয়েছে, নতুন বিনিয়োগ এসেছে এবং রপ্তানি আয়ও বেড়েছে। ফলে প্রশ্নটি এখন শুধু সংকটের নয়; বরং শিল্পটির কাঠামোগত রূপান্তরও কি ঘটছে? ঈদের পর নতুন করে আলোচনায় কারখানা বন্ধ কোরবানির ঈদের পর পোশাক শিল্পাঞ্চলে ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানা থেকে প্রায় ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, ঈদের ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে এসে তারা জানতে পারেন তাদের চাকরি নেই। অন্যদিকে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক ও কর্মচারী একসঙ্গে কর্মহীন হয়েছেন। শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাকরি হারানোর পর তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ সংসার চালানো, সন্তানদের শিক্ষাব্যয় এবং বাসাভাড়া পরিশোধ নিয়ে। তিন বছরে বন্ধ প্রায় ৪০০ কারখানা বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে দেশে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, অনেক কারখানা এখনও আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে। কারখানা মালিকদের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠান এখন পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। উৎপাদন কমলেও ব্যাংকঋণের কিস্তি, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল, ভাড়া এবং প্রশাসনিক ব্যয় বহন করতে হচ্ছে নিয়মিত। ফলে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছে। কিন্তু একই সময়ে নতুন কারখানাও আসছে সংকটের এই আলোচনার মাঝেই ভিন্ন এক চিত্র উঠে এসেছে। বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৫ মাসে সংগঠনটির নতুন সদস্য হয়েছে ১২৮টি কারখানা। একই সময়ে বন্ধ হয়েছে ১১৩টি কারখানা। নতুন কারখানাগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার মানুষের। অন্যদিকে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর কারণে চাকরি হারিয়েছেন ৯৬ হাজার ১০৪ শ্রমিক। অর্থাৎ কর্মসংস্থানের হিসাবে এখনও প্রায় ২২ হাজার মানুষের নিট কর্মসংস্থান ঘাটতি রয়ে গেছে। তবে শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান আরেকটি বাস্তবতাও তুলে ধরে—শিল্পটি পুরোপুরি সংকুচিত হচ্ছে না; বরং পুরোনো ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানের জায়গায় নতুন বিনিয়োগ এবং নতুন ধরনের উৎপাদন কাঠামো গড়ে উঠছে। কেন বন্ধ হচ্ছে কারখানা? খাত-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে চারটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে। ১. আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ায় ক্রয়াদেশের প্রবৃদ্ধি আগের মতো নেই। ২. উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ডলারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয় এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ উৎপাদন ব্যয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ৩. শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি নতুন মজুরি কাঠামো এবং নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট শ্রমিকদের জন্য ইতিবাচক হলেও উৎপাদনশীলতা সমান হারে না বাড়ায় দুর্বল কারখানাগুলো অতিরিক্ত চাপ অনুভব করছে। ৪. ঋণ ও তারল্য সংকট অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে রয়েছে। ফলে ব্যাংকঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে তারা উৎপাদন কমাচ্ছে অথবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে। বেক্সিমকো থেকে কেয়া: বড় গ্রুপও চাপের মুখে সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপের ২৪টি, কেয়া গ্রুপের ৪টি এবং টিএনজেড গ্রুপের ৪টি প্রতিষ্ঠান। বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে বেক্সিমকো শিল্পপার্কের ১৪টি কারখানা বন্ধের ঘটনা। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৩ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে সংকট কেবল ছোট কারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোকেও আর্থিক ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ কোথায় যাচ্ছে? অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগের ধারা বলছে, উদ্যোক্তারা এখন প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নতুন সদস্য হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে একেএইচ আউটওয়্যার, এজেড কম্পোজিট, নেক্সটন, এলএসএ অ্যাপারেলস, সিটেক ফ্যাশন, সুপ্রিম আউটফিট এবং স্প্যারো গ্রিনটেক। তবে নতুন ১২৮ কারখানার মধ্যে মাত্র ১৮টিতে শ্রমিক সংখ্যা এক হাজারের বেশি। অর্থাৎ নতুন বিনিয়োগের বড় অংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের। খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে একই পরিমাণ উৎপাদনের জন্য তুলনামূলক কম শ্রমিকের প্রয়োজন হতে পারে। রপ্তানি আয় কিন্তু বাড়ছে কারখানা বন্ধের খবরের বিপরীতে রপ্তানি আয়ের চিত্র তুলনামূলক ইতিবাচক। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ২৫ কোটি ডলার। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ কর্মসংস্থান ও কারখানা সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা পুরোপুরি কমে যায়নি। ৬০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা: বাস্তবায়ন কোথায়? বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা তারল্য সংকট। তিনি মনে করেন, রুগ্ন ও বন্ধপ্রায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা তহবিল এখনও কার্যকর না হওয়ায় অনেক কারখানা প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত শনাক্ত করে সহায়তা দেওয়া না হলে আগামী মাসগুলোতে আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংকট, নাকি শিল্পের পুনর্গঠন? তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে দ্বৈত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে শ্রমিক ছাঁটাই, কারখানা বন্ধ, ঋণ সংকট এবং উৎপাদন ব্যয়ের চাপ রয়েছে। অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও দেখা যাচ্ছে। ফলে বিষয়টি শুধু শিল্প সংকটের নয়; বরং শিল্পের পুনর্গঠন এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি পর্যায়ও হতে পারে। তবে এই রূপান্তরের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন শ্রমিকরাই। কারণ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ থাকলেও চাকরি হারানো হাজার হাজার শ্রমিকের জন্য বর্তমান বাস্তবতা হলো অনিশ্চয়তা, আয়হীনতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—শিল্পের এই রূপান্তর কি কর্মসংস্থান রক্ষা করে এগোবে, নাকি আরও হাজারো শ্রমিককে কর্মহীন করে নতুন ভারসাম্য খুঁজবে? সেটিই নির্ধারণ করবে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাতের আগামী পথচলা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত চার নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঘটনাটি ঘিরে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া, গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিবাদ এবং সাংগঠনিক তদন্তের পর এ সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। বুধবার (২৫ জুন) রাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কী ঘটেছিল ধানমন্ডিতে? মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে জামায়াতের একটি বিক্ষোভ মিছিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ওই উত্তেজনা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, দলের কয়েকজন নেতাকর্মী সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। এতে দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির আহত হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে হয়। ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। চাপের মুখে তদন্ত কমিটি হামলার ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টাররা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জামায়াতের সংবাদ কার্যক্রম বর্জনের হুঁশিয়ারি দেন। এতে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। সমালোচনার মুখে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে এবং ঘটনার তদন্তের ঘোষণা দেয়। এ লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক নুরুন্নবি মানিককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে কী পাওয়া গেছে? দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে বুধবার তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে শফিকুল ইসলাম, খায়রুল আলম রাসেল, আবুল কালাম ও মামুন হোসেনকে হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরও জড়িত ছিলেন কি? জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হামলায় আরও কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃত চারজনই ঘটনার সূচনা এবং আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। এই কারণেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা আরও কয়েকজনকে সতর্ক করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত? বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ নতুন নয়। তবে কোনো রাজনৈতিক দল নিজস্ব তদন্তের মাধ্যমে দায়ী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। বিশ্লেষকদের মতে, গণমাধ্যমের চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত এবং সংবাদকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে জামায়াতের এই সিদ্ধান্ত দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক আইনি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ব্যাংক খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং খেলাপি ঋণের মাধ্যমে বিদেশে সরিয়ে নেওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘নো উইন, নো ফি’ ভিত্তিতে এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হচ্ছে। অর্থাৎ উদ্ধার কার্যক্রম সফল হলে তবেই তারা পারিশ্রমিক পাবে। কেন এই উদ্যোগ? গত এক দশকেরও বেশি সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে বড় করপোরেট গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে তা বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত সংস্থাগুলোর নজরে আসে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের অর্থ পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করা হয়েছে। প্রথম ধাপে যাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অর্থমন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং ব্যবসায়ী এস আলম। এছাড়া বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট মামলাও রয়েছে এই তালিকায়। আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে থাকা সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য শনাক্ত করবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থপাচার মামলায় বিদেশি আদালত, ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সহযোগিতা ছাড়া সম্পদ উদ্ধার প্রায় অসম্ভব। ফলে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের বাস্তব চিত্র সংসদে দেওয়া তথ্যে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখের বেশি। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব ১৭ কোটি ৭৯ লাখ এবং ঋণ হিসাব প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫ জুন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার জরুরি সহায়তা দিয়েছে। বর্তমানে দেশে ৬৩টি ব্যাংক ১১ হাজারের বেশি শাখা এবং প্রায় ৫ হাজার উপশাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন লক্ষ্য সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ জন্য জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। বৈদেশিক ঋণ ও রাজস্বের চিত্র অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কনসেশনাল এবং ৩৮ দশমিক ০৩ শতাংশ নন-কনসেশনাল ঋণ। এদিকে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখ ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি। তবে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৭৫ দশমিক ৩০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক একীভূতকরণ ও আমানত সুরক্ষা ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে রেজোল্যুশন স্কিমের আওতায় আনা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, আমানত সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। অর্থপাচারবিরোধী লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত, আদালতের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে তবেই এই উদ্যোগের প্রকৃত সফলতা নির্ধারিত হবে। সরকার ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রথম ধাপের কার্যক্রমের পর আরও বড় পরিসরে অর্থপাচার ও সম্পদ পুনরুদ্ধার অভিযান সম্প্রসারণ করা হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সংযোগ সেতুর কয়েকটি পিলারের নিচ থেকে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি অনুমোদিত প্রকল্পকাজ, নাকি প্রভাবশালী মহলের মাটি বাণিজ্যের অংশ? প্রশাসন আপাতত কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি ছিল পরিবেশ পুনরুদ্ধারের একটি পরিকল্পিত কার্যক্রম, যার সঙ্গে সেতুর নিরাপত্তার কোনো সম্পর্ক নেই। ভিডিও থেকে শুরু বিতর্ক সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ৮৫, ৮৬ ও ৮৭ নম্বর পিলারের নিচ ও আশপাশে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি অপসারণ করা হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, সেতুর ভিত্তির কাছ থেকে মাটি সরানোর ফলে ভবিষ্যতে অবকাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগ ওঠে, একটি প্রভাবশালী চক্র রাতদিন মাটি কেটে ট্রাকে করে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে সরবরাহ করছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ মাটি কাটার খবর পাওয়ার পর ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনও এলাকা পরিদর্শন করেন। ইউএনও জানান, সংশ্লিষ্টরা অনুমতির দাবি করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেননি। ফলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরও একই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরেজমিন পর্যবেক্ষণে এভাবে মাটি অপসারণের যৌক্তিকতা স্পষ্ট হয়নি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও উপস্থাপন করা যায়নি। এ কারণে বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অন্যদিকে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ব্রিজ অ্যান্ড ভায়াডাক্ট ইনচার্জ প্রকৌশলী আমিনুল করিম দাবি করেছেন, ঘটনাটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তাঁর মতে, আলীগঞ্জ এলাকার সংশ্লিষ্ট অংশটি মূলত একটি জলাধার ছিল। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্মাণসামগ্রী পরিবহন ও যন্ত্রপাতি চলাচলের সুবিধার্থে সেখানে অস্থায়ীভাবে বালু ও মাটি ফেলে প্রবেশপথ তৈরি করা হয়েছিল। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী সেই ভরাটকৃত মাটি অপসারণ করে জলাশয়কে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ চলছিল। ৭৬ থেকে ৯০ নম্বর পিলার পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার এলাকায় এই কাজের পরিকল্পনা ছিল বলে তিনি জানান। প্রকৌশলী আমিনুল করিমের দাবি, পুরো কার্যক্রম সেনাবাহিনী ও চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে এবং এতে পিলারের স্থিতিশীলতা বা সেতুর নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। রেলওয়ের আনুষ্ঠানিক অবস্থান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও একই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাটি কাটার স্থানটি রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত জমির অন্তর্ভুক্ত। ভায়াডাক্ট নির্মাণকালে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সেখানে একটি অস্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করেছিল। প্রকল্প চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ হলে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে স্থানটিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। রেলওয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই চুক্তির অংশ হিসেবেই ভরাট করা মাটি অপসারণের কাজ চলছিল এবং পুরো প্রক্রিয়া প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট বাংলাদেশ আর্মি’র তত্ত্বাবধানে ছিল। তবে জনমনে উদ্বেগ এবং প্রশাসনিক আপত্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত মাটি অপসারণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলাকাটি ভবিষ্যৎ বৃক্ষরোপণের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে যা দেখা গেছে সরেজমিনে স্থানীয়দের বর্ণনা এবং প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, তিনটি পিলারের নিচ ও আশপাশে প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত এক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে খননযন্ত্র ব্যবহার করে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিবাদ সত্ত্বেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কুতুবপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবুবক্কর ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা এই মাটি অপসারণের সঙ্গে জড়িত। তবে আবুবক্কর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কোনো মাটি কাটার সঙ্গে যুক্ত নন এবং তাঁর জানা মতে সংশ্লিষ্ট কাজের অনুমতি ছিল। মূল প্রশ্নগুলো এখনও অমীমাংসিত ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— মাটি অপসারণের জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন ছিল কি না? জেলা প্রশাসনকে আগে থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল কি? অপসারিত মাটি কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং তার হিসাব রয়েছে কি? পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কাজ হলে তা কেন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট ছিল না? পিলারের সংলগ্ন এলাকায় খননের নিরাপত্তা মূল্যায়ন প্রতিবেদন রয়েছে কি? তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্ক অব্যাহত বর্তমানে প্রশাসনের নির্দেশে মাটি কাটার কাজ বন্ধ রয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মতামত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। একদিকে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে এটি পরিবেশ পুনরুদ্ধারের অংশ, অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ মাটি বাণিজ্যের। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মধ্যে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নথিপত্র, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন। সেই তদন্তের ফলই নির্ধারণ করবে—আলীগঞ্জে যা ঘটেছে তা প্রকল্প-পরবর্তী পরিবেশ পুনর্বাসন, নাকি অবকাঠামোর ছায়ায় পরিচালিত আরেকটি মাটি বাণিজ্যের ঘটনা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে সংসদ সদস্য (এমপি) ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি করে পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা পরিষদের অনুকূলে ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এর পেছনে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার প্রশ্নও সামনে এসেছে। কী বলছে সরকার? গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, দেশের সব উপজেলায় সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য একটি করে পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষ কেবল সংসদ সদস্যদের জন্য নয়; বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও দাপ্তরিক কাজে এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা পরিষদের জন্য ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে। কেন উঠেছিল এই দাবি? উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিসর তৈরির বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে চলতি বছরের ৩১ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে। সেদিন এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান নির্বাচনী এলাকায় এমপিদের জন্য বসার জায়গা নিশ্চিত করার দাবি উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে ২১ এপ্রিল স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে জানান, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য বসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই দিনে এনসিপির আরেক সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ট্যাক্সমুক্ত গাড়ির সুবিধার পরিবর্তে উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর অফিস স্থাপনের দাবি জানান। সাম্প্রতিক এই উদ্যোগকে অনেকেই ওই ধারাবাহিক দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনিক সুবিধা নাকি ক্ষমতার নতুন কেন্দ্র? বাংলাদেশের উপজেলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এলাকায় নিয়মিত উপস্থিতি এবং সরকারি কার্যক্রম তদারকির জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিসর থাকা কার্যকর হতে পারে। তবে প্রশ্ন উঠছে, উপজেলা পরিষদের নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে এমপিদের জন্য আলাদা অবকাঠামো তৈরি হলে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্যে কোনো প্রভাব পড়বে কি না। অতীতে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসন এবং সংসদ সদস্যদের ভূমিকা ও কর্তৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্ক দেখা গেছে। ফলে নতুন এই কক্ষগুলো কেবল দাপ্তরিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হবে—সেই প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে। কত টাকা ব্যয় হবে? বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। সে হিসাবে প্রতিটি উপজেলায় ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দিলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। যদিও সরকার এখন পর্যন্ত প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ ব্যয়, নকশা কিংবা বাস্তবায়ন সময়সূচি প্রকাশ করেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে নতুন বার্তা? স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইতোমধ্যে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনিক উপস্থিতি জোরদার করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার লক্ষ্যও এর পেছনে থাকতে পারে। তবে এই উদ্যোগ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কতটা শক্তিশালী করবে, নাকি নতুন ধরনের প্রভাব বলয়ের জন্ম দেবে—সেই মূল্যায়ন নির্ভর করবে এর বাস্তব প্রয়োগের ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাকে জামিনে মুক্ত করার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে শুরু হয়েছে সমান্তরাল আইনি লড়াই। একদিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল প্রত্যর্পণের পক্ষে আদালতে নথিপত্র জমা দিয়েছে, অন্যদিকে বেনজীরের আইনজীবীরা তার মুক্তির আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। দুবাই ও বাংলাদেশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ের আল আওয়ার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ, ইন্টারপোলের নোটিশ এবং প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথি যাচাই-বাছাই করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জামিনের আবেদন, কিন্তু সিদ্ধান্ত নয় সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুবাই কোর্ট অব আপিলে বেনজীর আহমেদের পক্ষে জামিন আবেদন দাখিল করা হয়। একই দিনে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রতিনিধি দলও আদালতে পৃথক আবেদন জমা দেয়, যেখানে তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের পক্ষে যুক্তি ও নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত উভয় পক্ষের আবেদন গ্রহণ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। বরং অভিযোগ, ইন্টারপোল নোটিশ, দুদকের মামলার নথি এবং দুবাইয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য সময় নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, এই প্রক্রিয়ায় অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। কী বলছেন বেনজীরের আইনজীবীরা? বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ইন্টারপোলের মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগ, তার দুবাইয়ে অবস্থানের কারণ এবং জামিনের পক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসহ সব নথি দুবাইয়ের পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। যদিও আদালত আবেদন গ্রহণ করেছে, তবে জামিন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে তা জানিয়ে দেওয়া হবে। বেনজীরের আইনজীবীদের দাবি, আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে জামিনে মুক্ত করার লক্ষ্যে আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দুবাইয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অন্তত পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে দুবাই পৌঁছেছে। দলটিতে রয়েছেন— এনসিবি (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) বা ইন্টারপোল-সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা; পুলিশ সদর দপ্তরের তিন কর্মকর্তা; দুটি পৃথক গোয়েন্দা সংস্থার দুই প্রতিনিধি। মঙ্গলবার তারা আদালতে দুদকের মামলা, ইন্টারপোল নোটিশ এবং বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের নথি জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি দুবাইয়ের বিচারিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি সমন্বয়ও করছেন। দুবাইয়ের আইনে কী হতে পারে? দুবাইয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক দায়িত্বে অতীতে কর্মরত ছিলেন—এমন একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে প্রথমে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর প্রসিকিউশন কয়েকটি বিষয় যাচাই করে— ইন্টারপোলের রেড নোটিশ বৈধ কি না; অভিযোগকারী রাষ্ট্রের নথিপত্র যথাযথ কি না; প্রত্যর্পণের আইনি ভিত্তি রয়েছে কি না। প্রাথমিক যাচাইয়ের পর মামলাটি পাঠানো হয় দুবাই কোর্ট অব আপিলে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০০৬ সালের ৩৯ নম্বর ফেডারেল আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত মামলার প্রাথমিক শুনানির এখতিয়ার এই আদালতের। জামিন পেতে কী শর্ত পূরণ করতে হতে পারে? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারপোল-সংক্রান্ত প্রত্যর্পণ মামলায় সাধারণত অভিযুক্তের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। এছাড়া আদালত চাইতে পারে— একজন নির্ভরযোগ্য আমিরাতি নাগরিককে জামিনদার হিসেবে; উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আর্থিক বন্ড; আদালতে হাজিরা নিশ্চিত করার মুচলেকা। এসব শর্ত পূরণ হলেও আদালত জামিন দেবেন কি না, তা নির্ভর করে মামলার প্রকৃতি ও বিচারকের মূল্যায়নের ওপর। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া কতটা দীর্ঘ? দুবাইয়ের আইন অনুযায়ী, আদালত যদি প্রত্যর্পণের পক্ষে রায়ও দেন, তবুও সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তকে সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে হস্তান্তর করা হয় না। প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো হলো— কোর্ট অব আপিলের রায়; প্রয়োজন হলে কোর্ট অব ক্যাসেশনে আপিল; সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচার মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক অনুমোদন; চূড়ান্ত প্রত্যর্পণ কার্যকর। ফলে আদালতের সিদ্ধান্তের পরও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও সময় লাগতে পারে। আগামী ১০ দিন গুরুত্বপূর্ণ পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজিপি পর্যায়ের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার যেমন বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনি তার পক্ষে জামিনের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। তার ভাষায়, “আগামী ১০ দিনের মধ্যে দুবাই আদালতের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।” তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইজিপি, এনসিবি বা পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অ্যাডমিন) একেএম আওলাদ হোসেনও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। সামনে কোন তিনটি সম্ভাবনা? বর্তমান পরিস্থিতিতে বেনজীর আহমেদের মামলায় তিনটি সম্ভাব্য পথ খোলা রয়েছে— প্রথমত, আদালত জামিন মঞ্জুর করতে পারেন, তবে তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। দ্বিতীয়ত, আদালত প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধ হিসেবে অভিযোগগুলো গ্রহণ করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। তৃতীয়ত, আইনি আপিল ও প্রশাসনিক অনুমোদনের জটিলতায় পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে। ফলে সাবেক এই পুলিশ প্রধানের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে দুবাইয়ের আদালত, ইন্টারপোল নোটিশের আইনি বৈধতা এবং বাংলাদেশ সরকারের উপস্থাপিত নথিপত্রের ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রশ্নে বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—কোনোভাবেই বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বা দেশকে ‘বিকিয়ে’ দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে না। মঙ্গলবার সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। উপদেষ্টা বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে দেশে প্রায়ই নানা ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। অনেকের মধ্যে এমন ধারণা রয়েছে যে, ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা মানেই বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়া। তবে সরকারের অবস্থান সে রকম নয়। “সবার আগে বাংলাদেশ”—এই নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সমমর্যাদা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। সহযোগিতা বাড়ানোর ইঙ্গিত ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী। তিনি জানান, ভবিষ্যতে যথাযথ আমন্ত্রণ পেলে তিনি ভারত সফরে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক মনোভাবের কথা তুলে ধরেন তিনি। পানি বণ্টন ইস্যুতে গুরুত্ব প্রেস ব্রিফিংয়ে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গও উঠে আসে। উপদেষ্টা জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরে গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এছাড়া তিস্তা চুক্তিসহ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা এখনও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এসব বিষয়ে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চায় এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে। দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি বিমানবন্দরে তাকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখার ঘটনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি ঘটনাটিকে ‘হয়রানি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ঘটনার পর তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ভিত্তিতে ভবিষ্যতেও ভারত সফর এবং দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণের নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলসহ আরও ১০ জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যেসব জেলার সঙ্গে এখনো ঢাকার সরাসরি রেল যোগাযোগ নেই, সেসব এলাকাকে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল দেশের ৬৪টি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন ১০ জেলায় রেলসেবা সম্প্রসারণের সম্ভাব্য রুট ও প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন রেললাইন নির্মাণ ও বিদ্যমান নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর সঙ্গে রেল সংযোগবিহীন জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনায় রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে শেখ রবিউল আলম বলেন, কয়েকটি বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এর মধ্যে আখাউড়া-সিলেট এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ধীরাশ্রমে একটি আইসিডি (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যা পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বর্তমানে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ উভয় ধরনের রেললাইন বিদ্যমান থাকায় পরিচালনাগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-সিলেট অংশে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত একটি নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সম্প্রসারণ? রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পারলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সড়কপথের ওপর চাপ কমবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল ও অপেক্ষাকৃত কম সংযুক্ত জেলাগুলোতে রেলসেবা সম্প্রসারণ দীর্ঘদিনের দাবি। নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সঙ্গে এসব অঞ্চলের যোগাযোগ সময় ও ব্যয়ের দিক থেকে আরও সাশ্রয়ী হতে পারে। তবে ঘোষিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, অর্থায়ন এবং সময়সীমা নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে পরিকল্পনাগুলো কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পায়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) সব সদস্যের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৭(৩) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থ, আমানতকারীদের স্বার্থ এবং বৃহত্তর জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংকের বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. জহির হোসেনকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি ব্যাংকটির বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। কেন হঠাৎ পুরো বোর্ড বাতিল? বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করা হলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে—সুশাসন নিশ্চিত করা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি, গ্রাহকদের ব্যাপক অর্থ উত্তোলন, পরিচালন কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন এবং বাজারে আস্থার সংকট—এসব বিষয় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়ার তথ্যও সামনে আসে। নিয়ন্ত্রণ কি সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে? সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে কার্যত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন কাঠামোতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৭(৩) ধারা বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা স্থগিত বা বাতিল করে বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, একজন নির্বাহী পরিচালককে বোর্ডের পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করার অর্থ হলো—ব্যাংকের নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ তদারকির আওতায় পরিচালিত হবে। আমানতকারীদের জন্য কী বার্তা? বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে আমানতকারীদের স্বার্থের বিষয়টি। ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ তখনই নেওয়া হয়, যখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় আস্থা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে—ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সরাসরি নজরদারি করবে। সামনে কী হতে পারে? ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বোর্ড বাতিলের পরবর্তী ধাপে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, মালিকানা কাঠামো পর্যালোচনা এবং সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এছাড়া ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, ঋণ বিতরণ, করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলোও নতুন করে মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটির পেছনের বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংকের পুরো পরিচালনা পর্ষদ একযোগে বাতিলের ঘটনা নিঃসন্দেহে খাতটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ: তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে সম্পদের উৎস, সামনে প্রত্যর্পণ প্রশ্ন ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি শাহাদাত হোসেন রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুদকের মামলায় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ১২ জুন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। তবে কোন নির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি, কিংবা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ উদ্যোগ নিয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ তদন্তের পর গ্রেপ্তার বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক অনুসন্ধান ও মামলা শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদকের তদন্তে অভিযোগ ওঠে, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে, যার বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাদের নামে থাকা জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ ক্রোক (জব্দ) করা হয়। একইসঙ্গে একাধিক ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্রও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কীভাবে এলো? দুদকের আবেদনের পর ঢাকার একটি আদালত ২০২৫ সালের শুরুতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এরপর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাকে শনাক্ত ও আটক করতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ জারি হয়। যদিও রেড নোটিশ নিজেই কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়, এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত, অবস্থান নির্ণয় এবং স্থানীয় আইনের আওতায় আটক করার অনুরোধ হিসেবে কাজ করে। দুবাইয়ে তার গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—বাংলাদেশ কি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে? সামনে কী আইনি প্রক্রিয়া? আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তিকে বিদেশে গ্রেপ্তারের পর সরাসরি দেশে ফেরত আনা যায় না। সাধারণত প্রত্যর্পণ চুক্তি, স্থানীয় আদালতের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। ফলে বেনজীর আহমেদের ক্ষেত্রে দুবাইয়ের আদালত, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন এবং বাংলাদেশের অনুরোধ—সবকিছু মিলিয়ে একটি জটিল আইনি প্রক্রিয়া সামনে আসতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন করে, তাহলে অভিযোগের প্রকৃতি, মামলার অবস্থা এবং দুই দেশের আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচিত হবে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রেপ্তার? বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে বেনজীর আহমেদ ছিলেন অন্যতম আলোচিত কর্মকর্তা। র্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দুবাইয়ে তার গ্রেপ্তার শুধু একটি ব্যক্তিগত মামলার অগ্রগতি নয়; বরং এটি বাংলাদেশের দুর্নীতি তদন্ত, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা এবং সীমান্ত-পেরোনো আর্থিক অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত হলেও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। ফলে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবেই বিবেচিত হবেন। এখন নজর থাকবে দুবাই কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ, বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ আবেদন এবং বহুল আলোচিত এই মামলার ভবিষ্যৎ আইনি গতিপথের দিকে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি সোহেল রানা হাইকোর্টে দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। জেল আপিলে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তি, চরম আর্থিক সংকট এবং পারিবারিক অশান্তির মধ্যে থাকায় তিনি অবচেতন অবস্থায় এই নৃশংস অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। তবে মামলার অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে খালাস চেয়েছেন। জেল আপিলে কী বললেন সোহেল রানা? রোববার (১৪ জুন) হাইকোর্টে উপস্থাপিত জেল আপিলে সোহেল রানা বলেন, তিনি একজন অটোরিকশা গ্যারেজের মিস্ত্রি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকাসক্তির কারণে পরিবারে প্রায়ই কলহ-বিবাদ হতো। তিনি দাবি করেন, অতীতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না এবং রামিসার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সংঘটিত হয়েছে। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, আর্থিক অভাব, পারিবারিক অস্থিরতা এবং মাদকের প্রভাবে তিনি এমন একটি অপরাধ করে ফেলেছেন, যার পরিণতি তিনি তখন উপলব্ধি করতে পারেননি। আদালতের প্রতি আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, তার একটি মাত্র সন্তান রয়েছে, যার পড়াশোনা ও পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার মতো আর কেউ নেই। এজন্য তিনি নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। স্ত্রী স্বপ্নার দাবি: ‘আমি নির্দোষ’ অন্যদিকে একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বপ্না আক্তার জেল আপিলে দাবি করেছেন, তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মামলায় তাকে অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে এবং তিনি খালাস পাওয়ার যোগ্য। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, জেল আপিল শুনানিতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের এমন অবস্থান আদালতের চূড়ান্ত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধুমাত্র ক্ষমা প্রার্থনা বা দায় অস্বীকার করাই রায়ের ভিত্তি পরিবর্তনের নিশ্চয়তা দেয় না। আদালত মূলত সাক্ষ্য-প্রমাণ, তদন্ত প্রতিবেদন, ফরেনসিক তথ্য এবং বিচারিক নথিপত্রের আলোকে সিদ্ধান্ত নেবেন। হাইকোর্টে আপিল গ্রহণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার পৃথকভাবে জেল আপিল দায়ের করেন। রোববার হাইকোর্ট তাদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। এর ফলে এখন মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারিক পর্যালোচনার নতুন ধাপে প্রবেশ করলো। আপিল শুনানির পর আদালত মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা, কমানো অথবা খালাস দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন। তদন্তে উঠে আসা প্রশ্ন এই মামলায় সোহেল রানার সর্বশেষ বক্তব্য নতুন করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে— অপরাধ সংঘটনের সময় তার মানসিক ও শারীরিক অবস্থা কী ছিল? মাদকাসক্তির দাবি তদন্তে কতটা প্রতিফলিত হয়েছে? অপরাধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না? স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ কতটা শক্তিশালী? আইনবিদদের মতে, এসব প্রশ্নের উত্তরই আপিল শুনানির সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার পূর্বাচলে অবস্থিত গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের নিজস্ব ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ (জেএমসি) বিভাগের সামার-২০২৬ (ব্যাচ-২৬০কে) শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে। শনিবার অনুষ্ঠিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি শুধু আনুষ্ঠানিক পরিচিতি বা সাংস্কৃতিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর পরিবর্তিত গণমাধ্যম বাস্তবতায় ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের প্রস্তুত হওয়ার বার্তাও উঠে আসে বক্তাদের বক্তব্যে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের প্রধান ড. হাবীব মোহাম্মদ আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম শহীদুল্লাহ। গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক খবরের কাগজের বার্তা সম্পাদক রোকেয়া রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. অলিউর রহমান। সাংবাদিকতার নতুন বাস্তবতায় এআই প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা আর কেবল তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তৃত ব্যবহারের ফলে তথ্য বিশ্লেষণ, ফ্যাক্ট-চেকিং, অডিও-ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণ এবং স্বয়ংক্রিয় রিপোর্ট তৈরির মতো ক্ষেত্রগুলোতে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশের মধ্যেও নৈতিকতা, তথ্যের সত্যতা এবং জনস্বার্থ রক্ষার প্রশ্নকে সাংবাদিকতার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, পরিবর্তিত কর্মবাজারে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের কেবল একাডেমিক জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না; প্রযুক্তিনির্ভর নতুন টুলস এবং ডিজিটাল দক্ষতার ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশও প্রয়োজন। দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর বক্তারা বলেন, গণমাধ্যম শিল্প দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সাংবাদিকতা শিক্ষাকে এখন আরও বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন, ডেটা জার্নালিজম, ডিজিটাল স্টোরিটেলিং এবং তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা অপরিহার্য হয়ে উঠছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিভাগের প্রভাষক ও প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ বায়েজীদ খান, প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌস মীম এবং নাজমুন্নাহার উর্মি। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। এ সময় অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক জুবায়ের আহমেদ এবং জেএমসি মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি ও মেন্টর ইমু আক্তার মিম। এ ছাড়া জেএমসি ল্যাব কো-অর্ডিনেটর কাজী মাহাদী মুনতাসির বিভাগের কার্যক্রমভিত্তিক একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন। ফাইয়াজ সরকার ও নাজিফা তাবাস্সুম তাজের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানটি কেক কাটা এবং গ্রুপ ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বার্তা? বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই বাস্তবতায় গ্রিন ইউনিভার্সিটির নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি শুধু নতুন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানোর আয়োজন নয়; বরং ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের প্রযুক্তি, নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বয়ে প্রস্তুত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রাজধানীর এক ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, ডিএনসির একটি দল তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেছে এবং পরে তাঁকে মাদক মামলায় জড়িয়েছে। অভিযোগটি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডিএনসির ১০ কর্মকর্তা। পুরোনো অভিযোগ, নতুন বিতর্ক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে অভিযানে অনিয়ম, জব্দ করা মাদকের পরিমাণ কম দেখানো, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থান এবং কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগগুলো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন এই অভিযোগ ডিএনসির কার্যক্রম ও জবাবদিহিতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে। কী অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী? অভিযোগকারী ফরহাদ বিল্লা রুবেল, রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এবং লা পেসেতা ফ্যাশন অ্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক। লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি তৈরি পোশাক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য খাতে ব্যবসা করছেন। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিদেশি ক্রেতা ও অতিথিরা তাঁর অফিস ও বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি অতিথিদের ব্যবহৃত কিছু পানীয়ের খালি বোতল এবং হুকা-সংশ্লিষ্ট সামগ্রী বাসায় সংরক্ষিত ছিল। ফরহাদ বিল্লা রুবেলের অভিযোগ, গত ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় ডিএনসির পরিচয়ে ১০ থেকে ১২ জন কর্মকর্তা তাঁর অফিসে প্রবেশ করেন। অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পরিদর্শক মাহবুব রহমান, সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ, উপপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী, তৃষ্ণা রাণী বিশ্বাস, রুবেল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান এবং লুৎফর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কর্মকর্তারা অফিসের বিভিন্ন নথিপত্র তল্লাশির নামে এলোমেলো করেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানের কারণ জানতে চাইলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মাদক মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। ‘এক কোটি টাকা দাবি, পরে ৫০ লাখে সমঝোতার প্রস্তাব’ অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে তাঁকে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়। পরে সেই দাবি কমিয়ে ৫০ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয় এবং দ্রুত অর্থ পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। ফরহাদ বিল্লা রুবেলের দাবি, তিনি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে আরও চাপ প্রয়োগ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ১১টার দিকে ডিএনসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসে তাঁর কাছে থাকা নগদ ২০ লাখ টাকা নিয়ে যান। ‘ঘোরানো হয় বিভিন্ন স্থানে’ লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অর্থ নেওয়ার পর তাঁকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হয়। বনানীর একটি কফিশপের সামনে নিয়ে গিয়ে আরও অর্থ সংগ্রহের জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরে গুলশান ও হাতিরঝিল এলাকা ঘুরিয়ে তাঁকে গেন্ডারিয়ায় ডিএনসির কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরদিন তাঁর বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ‘মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে’ ফরহাদ বিল্লা রুবেল অভিযোগ করেছেন, মামলার এজাহারে তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, জব্দ তালিকায় থাকা স্বাক্ষর তাঁর নয় এবং অভিযানের সময় বাসা থেকে বিভিন্ন মালামালও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মামলার নথিতে অভিযানের সময়সূচি ও ঘটনাপ্রবাহের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা বাসার সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলছে না। ফুটেজে কর্মকর্তাদের প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় এজাহারের তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত হওয়া জরুরি। তাঁর মতে, অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনসাধারণের আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ডিএনসির প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) মো. বশির আহমেদ বলেন, অভিযোগটি প্রধান কার্যালয়ে জমা পড়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি এখনো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি। তবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামনে যে প্রশ্নগুলো এই অভিযোগের পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভিযানের সময় কী নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল? অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী সিসিটিভি ফুটেজে কী দেখা যাচ্ছে? ঘুষ গ্রহণ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কোনো প্রমাণ রয়েছে কি? মামলার এজাহার ও জব্দ তালিকার তথ্য কতটা নির্ভুল? অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত হবে কি? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে কেবল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে। আর সেই তদন্তই এখন নজরে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের প্রশাসনে আবারও বড় ধরনের রদবদল এনেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা ১১টি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার ১১ কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্বে পদায়ন ও বদলি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত—জ্বালানি, স্থানীয় সরকার, পানি সরবরাহ, পল্লী উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কার্যক্রম—একযোগে পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সরকার নীতি বাস্তবায়নে গতি আনতে চাইছে। জ্বালানি খাতে পরিবর্তন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হাইড্রোকার্বন ইউনিটের মহাপরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মো. সাবেত আলীকে একই বিভাগের যুগ্ম-সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা বর্তমানে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়ায় এই পদায়নকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম-সচিব মো. অলিউর রহমানকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজউক থেকে জনপ্রশাসনে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এস এম তুহিনুর আলমকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলে এ ধরনের পদক্ষেপকে ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদানের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেখা হয়। প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন নিয়োগ প্রেষণ শেষে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদানকারী যুগ্ম-সচিব মো. আবুল হোসেনকে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির (নাডা) এমডিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নাডা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এই পদায়ন প্রশাসনিক মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নতুন অধিদপ্তরে প্রথম ডিজি সবচেয়ে আলোচিত পদায়নগুলোর একটি হলো নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব ডি এম আতিকুর রহমানকে নবগঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’-এর মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ। তার চাকরি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। নতুন এই অধিদপ্তরের কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাঠামো কীভাবে গড়ে তোলা হবে, সে বিষয়ে এখন আগ্রহ তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক অঙ্গনে। আবাসন ও অবকাঠামো খাতে পরিবর্তন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সৈয়দ ফরহাদ হোসেনকে ‘অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. জহিরুল ইসলাম খানকে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ওয়াসায় নতুন নেতৃত্ব রাজশাহী বিভাগের কৃষি বিপণন কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বেগম শাহানা আখতার জাহানকে রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের পরিচালক এরশাদ হোসেন খানকে ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পানি সরবরাহ ও নগর সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এই নিয়োগগুলোকে ভবিষ্যৎ সেবা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কী ইঙ্গিত দিচ্ছে এই রদবদল? প্রশাসনের বিভিন্ন খাতে একযোগে এই পুনর্বিন্যাস সরকারের কৌশলগত অগ্রাধিকারকে সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ করে নবগঠিত অধিদপ্তরে নেতৃত্ব নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব প্রদান এবং প্রশিক্ষণ ও স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনার প্রচেষ্টার অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে একযোগে নেতৃত্ব পরিবর্তন প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার জেরে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে শতাধিক রোগীর চিকিৎসার ভবিষ্যৎ নিয়ে। হাসপাতালটি থেকে রোগীদের দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিবিড় পরিচর্যায় থাকা রোগীদের স্থানান্তর নিজেই একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রাজধানীর ছয়টি সরকারি হাসপাতালে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল থেকে রেফার হওয়া রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন হাসপাতালগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীদের নিম্নোক্ত সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে— ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট অধিদপ্তর বলছে, রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। লাইসেন্স বাতিলের পর শুরু রোগী স্থানান্তর গত বৃহস্পতিবার ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে হাসপাতালটিকে রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়। এর পরপরই হাসপাতাল থেকে রোগী ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাত্র একদিনের ব্যবধানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৭৩ জন কমে বর্তমানে ২৪৩ জনে নেমে এসেছে। তবে সংখ্যার এই পরিবর্তনের আড়ালে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে নিবিড় পরিচর্যায় থাকা রোগীদের নিরাপত্তা। সবচেয়ে ঝুঁকিতে কারা? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে— ৫০ জন নবজাতক এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ১৩ জন রোগী আইসিইউ ও এইচডিইউতে ভর্তি অর্থাৎ প্রায় ৭০ জন রোগী এমন অবস্থায় রয়েছেন, যাদের চিকিৎসা স্থানান্তরের সময় বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দল এবং উন্নত লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে। রোগীর স্বজনরা বলছেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে জটিল চিকিৎসার সুযোগ ছিল। অন্য হাসপাতালে একই ধরনের সেবা পাওয়া গেলেও ব্যয়, শয্যা সংকট এবং দ্রুত ভর্তি নিশ্চিত করা নিয়ে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ: সহায়তা কোথায়? স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগী স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিলেও শুক্রবার হাসপাতালে অধিদপ্তরের কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন রোগীর স্বজন। তাদের আশঙ্কা, সংকটাপন্ন রোগীদের স্থানান্তরের সময় সমন্বয়হীনতা তৈরি হলে তা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন এদিকে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোগীদের জীবনরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য তিন মাস সময় চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছে। তদন্তের কেন্দ্রে যে প্রশ্নগুলো ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে একই সঙ্গে উঠে এসেছে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— মৃত্যুর ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কতদূর এগিয়েছে? সংকটাপন্ন রোগীদের নিরাপদ স্থানান্তরের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? বিকল্প হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা ও চিকিৎসা সক্ষমতা রয়েছে কি? নিম্ন আয়ের রোগীদের জন্য চিকিৎসা ব্যয় কীভাবে সামাল দেওয়া হবে? স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিলেও মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।