ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাদুঘরের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। উদ্বোধনের দিন জাদুঘরটি শুধুমাত্র বিশেষ অতিথি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তবে আগামী বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হবে। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সেখানে সংরক্ষিত আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক দলিলপত্র, বিভিন্ন নিদর্শন এবং স্মারক পরিদর্শন করেন। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা, স্মৃতি, আলোকচিত্র, নথি ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্মারক ও গবেষণাভিত্তিক তথ্যভান্ডার হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দিনগুলোর একটি। দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ, রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি—সবকিছু মিলিয়ে দিনটি শুরু হয়েছিল চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই অনিশ্চয়তা রূপ নেয় নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনে। এর আগের কয়েক দিনজুড়ে দেশজুড়ে সহিংসতা, প্রাণহানি ও সংঘাতের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আন্দোলনের ভবিষ্যৎ, সরকারের অবস্থান এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উদ্বেগ। তবে ৫ আগস্ট সকালে রাজধানীর চিত্র দ্রুত বদলাতে শুরু করে। ভোর থেকেই কঠোর নিরাপত্তা সকালের প্রথম প্রহর থেকেই ঢাকা কার্যত নিরাপত্তা বলয়ে পরিণত হয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়ক ও প্রবেশপথে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নেন। মহাখালী, গুলশান, বনানী, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় কাঁটাতারের ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়। মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছিল। যাত্রাবাড়ী, গাবতলী ও আব্দুল্লাহপুরসহ রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে বাড়তি তল্লাশি চালানো হয়। কারফিউ পাসধারীদেরও বিভিন্ন চেকপয়েন্টে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। সকাল ১০টা পর্যন্ত ঢাকার অধিকাংশ সড়ক প্রায় জনশূন্য ছিল। একদিন এগিয়ে আসে ‘মার্চ টু ঢাকা’ ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পূর্বঘোষিত ৬ আগস্টের পরিবর্তে ৫ আগস্টই ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি পালন করা হবে। ঘোষণায় বেলা ১১টায় শাহবাগে শ্রমিক সমাবেশ, বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারী সমাবেশ এবং দেশব্যাপী গণ-অবস্থান কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ কিংবা নেতৃত্ব গ্রেপ্তার হলেও সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সকাল বাড়ার সঙ্গে বদলাতে থাকে রাজধানীর চিত্র সকাল ১০টার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট দলে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের সঙ্গে শিক্ষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন। বেলা ১১টার দিকে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে গেলেও আন্দোলনের গতি থামেনি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের গন্তব্য হয়ে ওঠে শাহবাগ। শাহবাগে উত্তেজনা, বাড়তে থাকে জনসমাগম সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগসংলগ্ন এলাকায় শতাধিক মানুষ জড়ো হন। তাঁদের হাতে ছিল হ্যান্ডমাইক, মুখে এক দফা দাবির স্লোগান। সেই সময় শাহবাগ মোড়ে সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। সাঁজোয়া যান, সেনাসদস্য এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখে। হাসপাতালে প্রবেশকারী রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও স্বজনদেরও তল্লাশির আওতায় আনা হয়। সাড়ে ১১টার পর শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় গুলির শব্দ এবং বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। ফুল হাতে ব্যারিকেডের সামনে দুপুর ১২টার দিকে মৎস্য ভবনের দিক থেকে প্রায় ৫০০ মানুষের একটি মিছিল শাহবাগের দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলের সামনের সারিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী অংশগ্রহণকারী ছিলেন। কিশোর থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ওভারব্রিজসংলগ্ন এলাকায় সেনাবাহিনী মিছিল থামানোর চেষ্টা করলে সামনের সারির কয়েকজন আন্দোলনকারী সেনাসদস্যদের হাতে ফুল তুলে দেন। এরপর ধীরে ধীরে ব্যারিকেড অতিক্রম করে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ এলাকায় প্রবেশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো এলাকা এক দফা দাবির স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। কয়েক ঘণ্টায় বদলে যায় রাজনৈতিক দৃশ্যপট দুপুরের পর গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের জেলা থেকে আরও মানুষ শাহবাগে যোগ দিতে থাকেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শাহবাগ, বাংলামোটর, কাকরাইল, টিএসসি এবং মৎস্য ভবন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। একপর্যায়ে সেনাপ্রধানের জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার খবর আসে। এর কিছুক্ষণ পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন—এমন খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে উচ্ছ্বাসের দৃশ্য দেখা যায়। কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেছেন, কেউ সিজদায় লুটিয়ে পড়েছেন, আবার কেউ একে অপরকে আলিঙ্গন করেছেন। পরে ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক হলে সংবাদটি দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ বিজয়ের মিছিল নিয়ে গণভবনের দিকে রওনা হন। ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন কড়া কারফিউ, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীতে যে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছিল, তা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে আলোচিত হয়ে আছে। দিনটি শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক নয়; বরং রাষ্ট্র, জনআন্দোলন এবং ক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে নতুন বাস্তবতার সূচনাবিন্দু হিসেবেও ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।
এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া : রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান ও পল্টন এলাকাজুড়ে আবারও একটি পুরোনো চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ: 'চাঁদা না দিলে হুমকি' মতিঝিলের কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অফিসকে কেন্দ্র করে আবারও চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চলছে। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যিনি নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, "আমরা ভেবেছিলাম রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করতে পারব। কিন্তু এখন আবারও আগের মতো চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।" আরেক ব্যবসায়ীর ভাষ্য, অতীতেও একই ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, এখন আবার একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কী অভিযোগ উঠেছে? অনুসন্ধানে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগ অনুযায়ী— মতিঝিল বিমান অফিস গলি এলাকায় নতুন করে অবস্থান নিয়েছেন আবুল হাসান। মতিঝিল, গুলিস্তান ও পুরানা পল্টন এলাকায় পুরোনো সহযোগীদের নিয়ে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ। ফুটপাত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরেও অর্থ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। অতীতের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, গত প্রায় দেড় দশক ধরে মতিঝিল এলাকায় আবুল হাসানের প্রভাব ছিল। তাদের অভিযোগ, সে সময় ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ব্যবহার করে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মামলা হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কী ঘটেছে? স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি কিছুদিন এলাকা ছেড়ে ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি একটি নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এবং স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার সহায়তায় আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আইন বিশেষজ্ঞ যা বলছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে কেউ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তবে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তার মতে, চাঁদাবাজির মতো অভিযোগে ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্তের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল হাসান ওরফে হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, মতিঝিল, গুলিস্তান ও পল্টন এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ব্যবসায়ীরা নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।
গাজীপুর: দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি এবং সরকারি কাজে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ—সবকিছুর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবি করে গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে আকস্মিক পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেন। তবে প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি চূড়ান্ত শাস্তি নয়; পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্টরা সরকারি বিধি অনুযায়ী অব্যাহতি পাবেন। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—কাশিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী খান, অফিস সহকারী শফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল এবং আব্দুল হালিম খান। অভিযোগের কেন্দ্রে কী? জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে অবহেলা, সেবায় অনিয়ম, দালালনির্ভর কার্যক্রম এবং সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ জমা হচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই জেলা প্রশাসক বিভিন্ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন শুরু করেন। কাশিমপুর ভূমি অফিসে গিয়ে তিনি দেখতে পান— সরকারি দাফতরিক কাজ বাইরের লোকজনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ; সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি না হওয়া; বিপুলসংখ্যক আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা; দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য না পাওয়া; নামজারি সফটওয়্যারের কার্যক্রম প্রদর্শনে ব্যর্থতা। প্রশাসনের দাবি, এসব বিষয় সরকারি সেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। জেলা প্রশাসক যা বললেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, কাশিমপুর ভূমি অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছেন—এমন প্রমাণ তারা দিতে পারেননি। তার ভাষায়, অভিযোগের ভিত্তিতে নথিপত্র ও বিভিন্ন মামলা পরীক্ষা করে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন। এমনকি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও নামজারির কাজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজে না করে বাইরের লোকজন দিয়ে করানো হচ্ছিল। ভূমি সংক্রান্ত সরকারি কার্যক্রমে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুপস্থিত কর্মকর্তা, ঝুলে থাকা আবেদন পরিদর্শনের সময় দুই কর্মকর্তা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানান জেলা প্রশাসক। তার দাবি, উপস্থিত কর্মকর্তারাও চলমান কাজের সঠিক হিসাব দিতে পারেননি। বিপুলসংখ্যক আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে আছে এবং প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। এসব কারণেই তাৎক্ষণিকভাবে চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তে কী হবে? জেলা প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, এখন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তারা বিধি অনুযায়ী দায়িত্বে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন। অন্য ভূমি অফিসে কী পাওয়া গেল? কাশিমপুর পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক সফিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসও পরিদর্শন করেন। সেখানে বড় ধরনের অনিয়ম না পেলেও কিছু প্রশাসনিক ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এসব নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিয়মিত তদারকি করা হবে। ভূমি সেবায় প্রশাসনের বার্তা জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে ভূমি সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন করলে তা সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সংশ্লিষ্ট তহসিল অফিসে পৌঁছে যায়। তহসিলদার আবেদন যাচাই-বাছাই করে যোগ্য হলে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করবেন, আর অনুপযুক্ত হলে কারণ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যানের প্রস্তাব দেবেন। তিনি বলেন, ভূমি সংক্রান্ত সরকারি সেবা কোনোভাবেই দালাল বা বহিরাগতদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ নেই। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন— অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সোহেল রানা গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিবুর রহমান
ঢাকা: মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের বাজারে যেন উল্টো স্রোত। জুনের মাঝামাঝিতে যে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, সেটিই আগস্টের শুরুতে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় পৌঁছেছে। কোথাও কোথাও দাম ছুঁয়েছে ৪০০ টাকা। সরকারের আমদানির সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর দাম কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিললেও সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, বর্তমান মূল্য এখনও তাদের নাগালের বাইরে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুর-১ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েকদিন আগের তুলনায় দাম কিছুটা নেমেছে। তবে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় বাজারে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি আসেনি। এক মাসে দ্বিগুণেরও বেশি দাম বাজারের তথ্য বলছে, জুন মাসের মাঝামাঝিতে কাঁচা মরিচের দাম ছিল প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। এরপর কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। বাজারভেদে তা ২০০, ৩০০, সাড়ে ৩৫০ এবং কোথাও ৪০০ টাকাও ছাড়িয়ে যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের এমন মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের খাদ্য ব্যয়ে নতুন চাপ তৈরি করেছে। সরকারের হস্তক্ষেপ: আমদানির অনুমতি দামের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সরকার কাঁচা মরিচ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনের পর কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, বাজার স্থিতিশীল রাখতে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং আমদানির ওপর বিদ্যমান করও কমানো হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, "কাঁচা মরিচের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। আগামীকাল থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে।" তার ভাষ্য, আমদানি করা মরিচ বাজারে পৌঁছালে সরবরাহ বাড়বে এবং আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসতে পারে। ক্রেতাদের প্রশ্ন: এত বড় মূল্যবৃদ্ধির কারণ কী? সরকারি উদ্যোগের পরও বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ কমেনি। শামীম হোসেন বলেন, "বন্যায় কিছুটা দাম বাড়তে পারে, সেটা আমরা বুঝি। কিন্তু দ্বিগুণ-তিনগুণ বেড়ে যাওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।" ফাতেমা বেগম জানান, "আজ ৩৫০ টাকা কেজি দরে মরিচ কিনেছি। মাত্র এক পোয়া কিনতেই ৯০ টাকা লেগেছে। কয়েক মাস আগেও এই টাকায় প্রায় এক কেজি মরিচ পাওয়া যেত।" অন্য ক্রেতা ইউসুফ আলী বলেন, নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে সংসার চালাতে এখন আগের তুলনায় কম পরিমাণ মরিচ কিনতে হচ্ছে। বিক্রেতাদের ব্যাখ্যা: সরবরাহ কমেছে, অপচয়ও বড় কারণ বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া। সবজি বিক্রেতা মো. শাহ আলম বলেন, বৃষ্টি ও বন্যায় কাঁচা মরিচের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আড়তে সরবরাহ কমে যায়। ফলে পাইকারি দাম বেড়ে যায়। তবে সরকারের আমদানির ঘোষণার পর বাজারে ইতোমধ্যে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তার ভাষ্য, "দুই দিন আগে পাঁচ কেজির এক পাল্লা মরিচ ১,৫০০ টাকায় কিনেছি। আজ কিনেছি ১,৪০০ টাকায়। তাই খুচরা দামও কিছুটা কমেছে।" মরিচ বিক্রেতা মো. জুলহাস জানান, "গতকাল ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি। আজ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছি।" তিনি আরও বলেন, ভারতীয় মরিচ বাজারে এখনও পৌঁছায়নি। তবে আমদানির খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় উৎপাদক ও পাইকাররা দ্রুত বাজারে মরিচ ছাড়তে শুরু করতে পারেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতি পাঁচ কেজি মরিচে প্রায় ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। পরিবহন ব্যয় ও অপচয়ের কারণে কম দামে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্লেষণ: শুধু বৃষ্টি, নাকি সরবরাহ ব্যবস্থারও সংকট? বৃষ্টি ও বন্যা কৃষিপণ্যের উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে—এটি স্বাভাবিক। তবে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সরকারের আমদানির সিদ্ধান্ত বাজারে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বলে বিক্রেতারা মনে করছেন। তবে প্রকৃত অর্থে দাম কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে আমদানিকৃত মরিচ কত দ্রুত বাজারে পৌঁছায় এবং সরবরাহ কতটা স্বাভাবিক হয় তার ওপর। বর্তমানে রাজধানীর বাজারগুলোতে কাঁচা মরিচ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আশা, আমদানিকৃত মরিচ বাজারে এলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দাম আরও কমতে পারে। তবে সেই প্রত্যাশা বাস্তবে কতটা পূরণ হবে, সেটিই এখন ভোক্তাদের প্রধান প্রশ্ন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে সরকার আবারও প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারিভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে একই সঙ্গে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত বহাল রাখায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—শিশুদের মানসিক চাপ কমানোর যে যুক্তিতে প্রথম শ্রেণিতে লটারি ফিরছে, সেই যুক্তি কি অন্যান্য শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়? শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সোমবার (৩ আগস্ট) জানিয়েছেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। আগের মতোই লটারির মাধ্যমে ভর্তি সম্পন্ন হবে। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমেই বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে। প্রথম শ্রেণিতে স্বস্তি, অন্যদের উদ্বেগ এই সিদ্ধান্তে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতে যাওয়া শিশু ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ কাটেনি। বিশেষ করে সরকারি ও স্বনামধন্য বিদ্যালয়ে সীমিত আসনের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর কারণে ভর্তি পরীক্ষা এখনও তীব্র প্রতিযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেন ফিরল লটারি? সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, কোচিংনির্ভরতা কমানো এবং শিশুদের অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা থেকে দূরে রাখতে ২০১১ সালে প্রথম শ্রেণিতে লটারিভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা চালু করা হয়। কিন্তু চলতি বছরের ১৬ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই ঘোষণার পরপরই অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবার সন্তানদের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিং সেন্টার ও গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে পাঁচ-ছয় বছরের শিশুদের ওপরও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিক চাপ তৈরি হয়। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল, পরীক্ষা হবে সীমিত পরিসরে এবং খুবই সহজভাবে। কী বদলাল সরকারের অবস্থান? সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সরকার আবারও আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে। এখন প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হবে সম্পূর্ণ লটারির মাধ্যমে। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে পরীক্ষা বহাল রাখার কারণ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কোনো নীতিগত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যদি ভর্তি কোচিং, মানসিক চাপ ও প্রতিযোগিতা কমানোই মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে সেই নীতি কেন কেবল প্রথম শ্রেণিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হলো? শিক্ষানীতিবিদদের মতে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও বয়সের দিক থেকে কোমলমতি। ফলে তাদের ক্ষেত্রেও ভর্তি পরীক্ষার প্রভাব ও মানসিক চাপকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অভিভাবকদের দাবি কী? সরকারের নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। সংগঠনটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু বলেন, প্রথম শ্রেণিতে নয়, প্রাথমিক স্তরের সব শ্রেণিতেই লটারিভিত্তিক ভর্তি চালু করা উচিত। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে— ভর্তি কোচিং ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে; অভিভাবকদের আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে; শিশুদের অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে; ভর্তি প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে। সামনে কী চ্যালেঞ্জ? বর্তমান সিদ্ধান্তে সরকার একদিকে ছোট শিশুদের পরীক্ষার চাপ থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে উচ্চতর শ্রেণিতে মেধাভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা বজায় রেখেছে। তবে নীতিনির্ধারকদের সামনে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে— দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার মানদণ্ড কী হবে? প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কী ধরনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে? কোচিংনির্ভরতা কমাতে কী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে? ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম ঠেকাতে কী ধরনের নজরদারি থাকবে? এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর ছাড়া ভর্তি নীতির কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশ্লেষকরা।
ঢাকা: সম্পত্তি দান করার পরও দাতা তার জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার আইনি অধিকার বজায় রাখতে পারবেন— এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইনের সংশোধনী খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া এবং ওষুধসংক্রান্ত দুটি নীতিগত সিদ্ধান্তও অনুমোদন পেয়েছে। সম্পত্তি দানের পর কী বদলাবে? বর্তমানে প্রচলিত ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সম্পত্তি দান করলে মালিকানার পাশাপাশি ভোগদখলের অধিকারও গ্রহীতার কাছে চলে যায়। ফলে দাতা চাইলে পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি ব্যবহার বা ভোগ করার কোনো আইনি নিশ্চয়তা থাকে না, যদি না পৃথকভাবে অন্য কোনো চুক্তি করা হয়। নতুন সংশোধনী সেই বাস্তবতায় পরিবর্তন আনছে। সংশোধনী কার্যকর হলে সম্পত্তির মালিকানা গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হলেও দাতা তার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। অর্থাৎ, মালিকানা ও ভোগাধিকারের মধ্যে আইনি পার্থক্য স্পষ্টভাবে নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে। কেন আনা হচ্ছে এই পরিবর্তন? বাংলাদেশে পারিবারিক পর্যায়ে সম্পত্তি দানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিরোধ, প্রতারণা এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ বাবা-মা সন্তানদের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর নিজ বাসস্থান বা জমি ব্যবহারের অধিকার হারানোর বহু ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আইন সংশোধনের ফলে এমন পরিস্থিতিতে দাতার স্বার্থ কিছুটা হলেও সুরক্ষিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সংশোধনী বাস্তবায়নের পর এর প্রয়োগ কীভাবে হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। গুম প্রতিরোধে নতুন আইন মন্ত্রিসভা একই বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন করেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আইন গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো তৈরি করবে। সাম্প্রতিক সময়ে গুম-সংক্রান্ত জবাবদিহি ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেই প্রেক্ষাপটে আইনটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ওষুধ নীতিতেও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভা ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে। তবে বৈঠক শেষে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির পরিবর্তে কী ধরনের নতুন কাঠামো বা নীতিমালা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো জানানো হয়নি। যা নজরে রাখার বিষয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট আইনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ ও কার্যকারিতা শুরু হলে সম্পত্তি দান, গুম প্রতিরোধ এবং ওষুধ নীতির ক্ষেত্রে নতুন আইনি বাস্তবতা তৈরি হবে। বিশেষ করে সম্পত্তি দান-সংক্রান্ত সংশোধনী পারিবারিক সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব ফেলবে, তা পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে থাকবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গুমের ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে কিংবা নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ বছর পরও তার জীবিত বা মৃত অবস্থার কোনো সন্ধান না মিললে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন আইনের খসড়ায় গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে এই খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গুমের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি খসড়া আইনে বলা হয়েছে, গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। তবে গুমের ঘটনায়— ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে, অথবা পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে, অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। তদন্ত ও বিচার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আইনে তদন্ত ও বিচার উভয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী— তদন্ত শেষ করতে হবে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে। বিচারকার্যও শেষ করতে হবে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে। আদালতের মাধ্যমে অনুসন্ধান নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের লক্ষ্যে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া আইনে আরও যুক্ত হয়েছে— অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনার সুযোগ, ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের বিধান, সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর পরিচয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা। ভুক্তভোগী পরিবারের অধিকার আইনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারকে আইনি অধিকার দেওয়া। খসড়া অনুযায়ী ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার— তদন্তের অগ্রগতি জানার অধিকার পাবেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানার সুযোগ পাবেন, গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার অধিকার পাবেন। একই সঙ্গে সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেওয়া হবে আইনে বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রথমে দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করা হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। এছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর পর সম্পত্তি বণ্টনের বিধান খসড়া আইনে আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ বছর পরও তার সন্ধান না মিললে গুম সনদ প্রদান করা হবে। সেই সনদের ভিত্তিতে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের আইনি সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি গুমসংক্রান্ত একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আইন বাংলাদেশে গুমের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও বিচারিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন আইনের মাধ্যমে গুমকে পৃথক ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, কঠোর শাস্তির বিধান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত ও বিচার, ভুক্তভোগী পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ—সব মিলিয়ে এটি দেশের মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশবরেণ্য অনুসন্ধানী সাংবাদিক মরহুম সাঈদুর রহমান রিমনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আশুলিয়ার রাঙ্গামাটিতে দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, আলেম, সমাজসেবী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নিয়ে তাঁর সাংবাদিকতা, পেশাগত সততা এবং সমাজের প্রতি অবদানের কথা স্মরণ করেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টায় আশুলিয়ার রাঙ্গামাটিস্থ ক্যাফে জলতরঙ্গে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন ক্যাফে জলতরঙ্গের প্রোপ্রাইটর, বাংলা ৫২ নিউজের স্টাফ রিপোর্টার এবং রুরাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক নেতা মোহাম্মদ নুর আলম সিদ্দিকী মানু। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সমাজসেবী ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী নাফিজা আক্তার নাসিমা। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন হাফেজ তানভীর। পরে শামিরটেকি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ শাহীন মাহমুদ মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মনসুরবাগ মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ আবু তালহা, রাঙ্গামাটি স্ট্যান্ড জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ আসলাম হোসেন, আবুল বাসারসহ এলাকার ধর্মীয় ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, সাঈদুর রহমান রিমন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিষ্ঠা, সাহস এবং পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সহকর্মীদের কাছে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তাঁর কর্মজীবনের স্মৃতি ও সাংবাদিকতায় অবদান নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলেও তারা উল্লেখ করেন। স্মৃতিচারণ পর্বে বক্তব্য দেন দ্য ডেইলি অবজারভার পত্রিকা ও চ্যানেল এস-এর আশুলিয়া প্রতিনিধি এবং আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন ইসলামিক টিভি ও দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর আশুলিয়া প্রতিনিধি এবং আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ তুহিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক তারেকুজ্জামান তারেক, বশীর আহমেদ, শামীম আহমেদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা মরহুম সাঈদুর রহমান রিমনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে শিল্প, বাণিজ্যিক ও আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও, বর্তমানে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। শনিবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পেট্রোবাংলা জানায়, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের পর জনমনে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এ মুহূর্তে সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিভ্রান্তি দূর করতে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পেট্রোবাংলা বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও আলোচনা শিল্পখাত, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এসব খবরে বিভ্রান্ত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্যাসের মূল্য সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত হলে তা যথাযথ সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। কেন তৈরি হয়েছিল উদ্বেগ? এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের মূল্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। তবে সর্বশেষ ব্যাখ্যায় পেট্রোবাংলা স্পষ্ট করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ সরকারের বিবেচনায় নেই। কী বার্তা দিল পেট্রোবাংলা পেট্রোবাংলার এই ব্যাখ্যা মূলত জনমনে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্যাসের মূল্য নিয়ে যেকোনো তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুজব বা অনানুষ্ঠানিক সূত্রের পরিবর্তে সরকারি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ঢাকা: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের যোগদানের তারিখ আগামী ২৯ অক্টোবর নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। শনিবার (১ আগস্ট) শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা, যোগদানের সময়সূচি এবং পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষকের যোগদানের বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তিনি জানান, তদন্ত ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতার কারণে যোগদান বিলম্বিত হয়েছে। তবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী ২৯ অক্টোবর তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, নতুন সহকারী শিক্ষকরা যোগদানের পর তাদের নির্ধারিত কর্মস্থলে পদায়ন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা শ্রেণিকক্ষে দায়িত্ব পালনের আগে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। প্রাথমিক শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট নিরসনে এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে নতুন শিক্ষকরা যোগ দিলে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের দুটি প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ওঠা বিতর্কের পর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। সোমবার রাতে প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে কমিটি জানায়, পরীক্ষার ৬ ও ৭ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্ন সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পর্যালোচনায় প্রশ্নে ত্রুটি বা অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে প্রয়োজনে ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষার সৃজনশীল অংশের দুটি প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড অবগত এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নসমূহ পর্যালোচনার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি স্পষ্ট করেছে, প্রচলিত পরীক্ষা মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী কোনো প্রশ্নে ত্রুটি বা অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষণ করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যালোচনার ফলাফলে যদি সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে ত্রুটি পাওয়া যায়, তবে মূল্যায়ন নীতিমালা অনুসরণ করে ওই প্রশ্নগুলোর জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। গণবিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিটি বলেছে, পর্যালোচনার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। এই ঘোষণা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া অনিশ্চয়তা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও যাচাই প্রক্রিয়ার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনারও জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে ‘জ্বীনের বাদশা’ পরিচয়ে চিকিৎসার নামে নারীদের প্রতারণা ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বিপুল (২৩) নামে এক ভুয়া কবিরাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তি গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা হলেও গাজীপুরের কাশিমপুর চক্রবর্তী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে কথিত কবিরাজি চিকিৎসার আড়ালে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। কাশিমপুর থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গভীর রাতে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগকারী একাধিক নারীর বক্তব্য গ্রহণ করে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যায়। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় আদালতে পাঠানো হয়। চিকিৎসার নামে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ অভিযোগকারী এক নারী পুলিশকে জানান, বিপুল বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতেন। পরে ‘চিকিৎসা’ দেওয়ার কথা বলে তাকে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই নারী অভিযোগ করেন, সেখানে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে তাবিজ পরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। বাধা দিলে অভিযুক্ত নিজেকে ‘জ্বীনের বাদশা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ক্ষতি করার ভয় দেখান বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য তাকে শপথ করানো হয়। পরে কয়েক দিন তাকে একটি ফ্ল্যাটে আটকে রাখা হয় এবং তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র অন্য একটি কক্ষে সরিয়ে নেওয়া হয়। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ ও ভয় দেখানোর অভিযোগ আরেক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, পারিবারিক সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। বিপুল তাকে বোঝান যে, তার ওপর ‘খারাপ প্রভাব’ রয়েছে এবং বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন। ওই নারী জানান, চিকিৎসার নামে তাকে নির্যাতন করা হয় এবং ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য শপথ করানো হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন এবং ভয় দেখিয়ে নীরব রাখার চেষ্টা করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার নাক, গলা ও কানের গহনা খুলে নেওয়া হয়। মোবাইল ফোনে মিলেছে একাধিক ভিডিও: পুলিশ কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা খালিদ হোসেন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং অভিযোগকারী নারীদের বক্তব্য নেয়। তিনি জানান, অভিযুক্তের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে একাধিক নারীর সঙ্গে একই ধরনের ঘটনার ভিডিও পাওয়া গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশের দাবি, চিকিৎসার কথা বলে নারীদের ডেকে এনে যৌন নির্যাতন এবং পরে ভিডিও ধারণ করে ভয় দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বিপুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং অভিযোগের পরিধি কতটা বিস্তৃত—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, কথিত তান্ত্রিক, কবিরাজ বা অলৌকিক চিকিৎসার নামে প্রতারণার ঘটনায় মানুষকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তারা এ ঘোষণা দেন। তাদের পদত্যাগের ঘোষণার পর সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, ট্রাস্ট গঠন এবং শহীদ ওসমান হাদির ওয়ারিশ দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন দায়িত্ব ছাড়লেন তারা? জাবের ও জুমা তাদের ফেসবুক পোস্টে দায়িত্ব ছাড়ার পেছনের কারণ সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছেন। উভয়ের বক্তব্যেই শহীদ ওসমান হাদির ওয়ারিশ-সংক্রান্ত দাবি, ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ এবং সংগঠনকে “জনতার আমানত” হিসেবে দেখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে তাদের পোস্টের বাইরে এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। জাবেরের বক্তব্য: ওয়ারিশ দাবির প্রেক্ষিতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত আব্দুল্লাহ আল জাবের তার পোস্টে বলেন, শহীদ ওসমান হাদি শাহাদাতের আগে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে তা সম্পন্ন করতে পারেননি। তিনি লিখেছেন যে, গত ছয় মাস ধরে শাহাদাত-পরবর্তী ওয়ারিশ-সংক্রান্ত ইস্যু সমাধানের চেষ্টা চলেছে। একই সময়ে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিকল্পনাও চলমান ছিল, তবে পরিস্থিতি “আরও জটিল” হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জাবেরের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসমান হাদির সম্মান রক্ষার স্বার্থে, তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং সংশ্লিষ্ট দলিল-দস্তাবেজ বিবেচনায় ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিদারদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদির শাহাদাতের পর ঢাকা-৮, সেন্টারসহ কিছু অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকায় সংশ্লিষ্ট হিসাব ব্যতীত তার দায়িত্বকালীন সময়ের অন্যান্য হিসাব দ্রুত প্রকাশ করা হবে। জুমার বক্তব্য: সাংস্কৃতিক ফোকাস ও ব্যক্তিগত চাপের কথা ফাতিমা তাসনিম জুমা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, জুলাই-পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি “বাংলাদেশপন্থি কালচারের স্বার্থে” ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি জানান, সংগঠনটি যখন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম থেকে কিছুটা রাজনৈতিক হয়ে উঠতে শুরু করে, তখন তিনি শহীদ ওসমান হাদির কাছে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। জুমা আরও লেখেন, ওসমান হাদির শাহাদাতের পর ওয়ারিশ-সংক্রান্ত নানা জটিলতা সামনে আসে। তিনি দাবি করেন, এই সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে ট্রাস্ট গঠনের চেষ্টা করা হলেও তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তার পোস্টে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ারিশ ইস্যু নিয়ে “অপপ্রচার” ও “মানহানিকর মন্তব্য” ছড়িয়ে পড়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অবস্থানের কারণে তিনি এই চাপ বহন করার অবস্থায় নেই। ট্রাস্ট প্রশ্ন ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব উভয়ের বক্তব্যে ট্রাস্ট গঠনের বিষয়টি কেন্দ্রীয় গুরুত্ব পেয়েছে। তারা দাবি করেছেন, ওসমান হাদি ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে তা শেষ করে যেতে পারেননি। এখন সংগঠনটি ওসমান হাদির ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। তবে এই হস্তান্তর কী প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে, ট্রাস্ট কাঠামো কীভাবে গঠিত হবে এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব কারা নেবেন—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। হিসাব প্রকাশের প্রতিশ্রুতি জাবের ও জুমা উভয়েই তাদের দায়িত্বকালীন সময়ের হিসাব প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকা অংশ বাদে অন্যান্য হিসাব দ্রুততম সময়ে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। এই ঘোষণা সংগঠনটির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা নিরসনের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংগঠনগত সংকট নাকি উত্তরাধিকার প্রশ্ন? ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের নেতৃত্ব থেকে প্রতিষ্ঠাকালীন দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সরে দাঁড়ানো সংগঠনটির ভেতরে উত্তরাধিকার, ট্রাস্ট কাঠামো এবং সাংগঠনিক মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তাকে সামনে এনেছে। তাদের প্রকাশিত বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, এই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শহীদ ওসমান হাদির ওয়ারিশ দাবিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ এবং ট্রাস্ট গঠন না হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা। তবে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং হস্তান্তর-পরবর্তী কাঠামো কী হবে—সেসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত ঘোষণা এখনো অপেক্ষমাণ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র জুলাই পদযাত্রার সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনার একদিনের মাথায় দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ। পুলিশ বলছে, মঙ্গলবার সকালে সাভার মডেল থানা পুলিশ অভিযানে দুইজনকে গ্রেফতার করে। বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় হামলার পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর মোহাম্মদ জানান, গ্রেফতার দুইজনকে এনসিপির দায়ের করা মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তিদের একজন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং একই ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। অপরজন যুবলীগের একজন কর্মী। তাদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। কী ঘটেছিল? জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সোমবার রাতে সাভারের তারাপুর মাঠে জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। সমাবেশ চলাকালে দুর্বৃত্তরা ককটেল নিক্ষেপ করলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর গভীর রাতে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এনসিপির ঢাকা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি। মামলা দায়েরের সময় তার সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের আজাহারুল ইসলাম তামিম ও জুলাইযোদ্ধা ইউনুস আলী। তদন্তে কী গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ? ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হামলার উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয় যাচাই করবেন বলে জানা গেছে। যা এখনো স্পষ্ট নয় এ পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া ককটেল নিক্ষেপে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির নয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও দায়িত্ব গ্রহণ করেননি মু. রেজা হাসান। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন আলোচনা, যদিও এসব দাবির সরকারি কোনো নিশ্চিতকরণ নেই। প্রশ্ন উঠছে—একজন জেলা প্রশাসককে নিয়োগের পরও কেন তিনি কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন না? এটি কি কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ? প্রশাসনের অবস্থান: ‘আমরা কিছু জানি না’ সোমবার বিকেলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বলেন, "এটি (ডিসির যোগদান করা কিংবা না করা) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। এ বিষয়ে কিছু জানা নেই আমার।" তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, জেলা প্রশাসনের বর্তমান দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছেও নতুন ডিসির যোগদানে বিলম্বের কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি কী? সরকারদলীয় সিলেটের একটি স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র দাবি করেছে, মু. রেজা হাসানকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় একজন মন্ত্রীর পছন্দ হয়নি। ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় সিলেটের জন্য নতুন করে আরেকটি নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে সরকার বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বদলির ধারাবাহিকতা গত ২১ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। তবে ওই প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি এবং একই সঙ্গে নতুন জেলা প্রশাসকের নামও ঘোষণা করা হয়নি। পরবর্তীতে ২৮ জুন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত মু. রেজা হাসানকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর তিনি কুমিল্লার দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও এখনও সিলেটে যোগ দেননি। ফলে বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাজারের দানব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের সঙ্গে কি কোনো সম্পর্ক? প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের একাধিক সূত্রের দাবি, সারওয়ার আলমের বদলির আগে সিলেটে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা। গত ১২ জুন দুই মাজার পরিদর্শনের সময় সারওয়ার আলম দান ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন— পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করা হয়; নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়; দীর্ঘদিন ব্যবহৃত ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়। এই পদক্ষেপের পর জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একটি অংশ প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানায়। অন্যদিকে অনেকেই মাজারের প্রচলিত ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ হিসেবে বিষয়টি দেখেন এবং সমালোচনা করেন। বদলি কি ছিল ‘রুটিন’? মাজারের দানব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কয়েক দিনের মধ্যেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। এই সময় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেই মন্তব্য করেন, দানবাক্সের ব্যবস্থাপনায় হাত দেওয়ার কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের একাধিক মন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন, জেলা প্রশাসকের বদলি ছিল ‘রুটিন ওয়ার্ক’ এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো বিশেষ কারণ যুক্ত নয়। সরকারি এই ব্যাখ্যার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নানা ব্যাখ্যা ও গুঞ্জন চলমান থাকলেও সেগুলোর কোনোটি এখন পর্যন্ত সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়নি। এখনও উত্তরহীন কয়েকটি প্রশ্ন বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা— নিয়োগের নয় দিন পরও কেন সিলেটে যোগ দেননি মু. রেজা হাসান? তিনি কি ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক কোনো কারণে যোগদান স্থগিত রেখেছেন? রাজনৈতিক আপত্তির যে আলোচনা চলছে, তার বাস্তব ভিত্তি কতটা? জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কি নতুন কোনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে? সিলেটে কি আবারও নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে? যা নিশ্চিত এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে জানা তথ্য হলো— সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মু. রেজা হাসানকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। তিনি কুমিল্লার দায়িত্ব ছেড়েছেন। কিন্তু এখনও সিলেটে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ফলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত নতুন জেলা প্রশাসকের যোগদানে বিলম্বের প্রকৃত কারণ নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনা ও জল্পনার অবসান হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জামালপুর: জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলার আরেক আসামি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মো. ইদ্রিছ আলীকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— বকশীগঞ্জ উপজেলার নীলক্ষীয়া পশ্চিম পাড়ার জাফর মেম্বারের ছেলে মো. রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু (৩০), জানকি মহরবান গ্রামের শাহাজাদা ঠিকাদারের ছেলে মো. বিজু মিয়া (৩৬), জানকিপুর মহরবান গ্রামের মুকুল মিয়ার ছেলে মো. বাদশা মিয়া (৩৫), একই এলাকার জাফর মিয়ার ছেলে মো. আলী (৩৬), দিকপাড়ার বাসনকান্দা গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মো. আসমত আলী (৩০), জানকিপুর চকপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে মনিরুজ্জামান ওরফে জুয়েল মিয়া (৩৫) এবং জানকিপুর মহরবান গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৪০)। কী ঘটেছিল মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ঝগড়ারচর বাজার থেকে নীলক্ষীয়া বাজারে যাচ্ছিলেন। তিনি স্বামীর সঙ্গে বকশীগঞ্জ উপজেলার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার স্বামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। পথে উপজেলার মাঞ্জালিয়া সেতু এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি অটোরিকশার গতিরোধ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ওই নারীকে জোর করে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে অন্য একটি ভ্যানগাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত বাড়ির রান্নাঘরে নিয়ে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, মামলার আরেক আসামি মো. ইদ্রিছ আলীকে খালাস দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এর সরকারি কৌঁসুলি ফজলুল হক বলেন, "মামলায় ভুক্তভোগী গৃহবধূসহ সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। দীর্ঘ শুনানিতে অভিযোগটি প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং একজনকে খালাস দেন।" মামলায় আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন মো. মোকাম্মেল হক।
মাদারীপুর: মাদারীপুর সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর একাধিক মামলার আসামি পারভেজ ব্যাপারী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে গেছেন। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। ঘটনার পর তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু নাঈম জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পারভেজ ব্যাপারীকে আটক করা হয়। এ সময় তার ফেলে দেওয়া ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর অভিযানের ধারাবাহিকতায় পারভেজকে নিয়ে একটি স্থানে যাওয়ার সময় তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে পারভেজ পালিয়ে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, পারভেজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যে পুলিশ তাকে একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং ওই পরিস্থিতির মধ্যেই পারভেজ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু নাঈম বলেন, "পারভেজ একজন মাদক ব্যবসায়ী। তাকে আটকের পরই তার সহযোগীরা একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই পরিস্থিতিতে সে পালিয়ে যায়। ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি।" পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক পারভেজকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বোমা বিস্ফোরণে জড়িত সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনায় কতজন হামলায় অংশ নিয়েছিল, কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে এবং পুলিশের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে কীভাবে আসামি পালাতে সক্ষম হন—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে আসমা আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিহত আসমা আক্তার পূর্ব বালিগাও জামে মসজিদের ইমাম মুহসিন উদ্দিনের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে তাদের একমাত্র শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ইমাম মুহসিন উদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সোমবার (৬ জুলাই) রাত প্রায় ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব বালিগাও এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশ। কীভাবে সামনে আসে ঘটনাটি? স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ইমাম মুহসিন উদ্দিন বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী ঘরের ভেতরে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে পারেন। বাড়ির মালিক বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতরে আসমা আক্তারকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে আসমা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্তকারী সংস্থা। স্থানীয়দের তথ্য কী বলছে? স্থানীয় বাসিন্দা কুরবান আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, মুহসিন উদ্দিনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে নয়। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে পূর্ব বালিগাও জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পূর্ব বালিগাও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম খানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার সময় বাড়ির মালিক ঢাকায় অবস্থান করছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পুলিশের বক্তব্য টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহম্মেদ বলেন, ভাড়া বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তার ভাষ্য, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ওসি আরও জানান, ঘটনার পর নিহতের স্বামী তাদের শিশু কন্যাকে নিয়ে চলে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তার বক্তব্যও এখনো নেওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে— আসমা আক্তারের মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে? ইমাম মুহসিন উদ্দিন কেন বাড়ির মালিককে ফোন করে স্ত্রীর মৃত্যুর কথা জানান? ফোন করার পর তিনি কোথায় গেছেন এবং কেন শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন? ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে কী তথ্য উঠে আসে? ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ তদন্তে কী নতুন তথ্য যোগ করে? এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে। এখন পর্যন্ত যা নিশ্চিত আসমা আক্তারের মরদেহ টঙ্গিবাড়ীর একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী মুহসিন উদ্দিন শিশু কন্যাসহ নিখোঁজ রয়েছেন। এখনো তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলমান এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে ককটেল বা বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—বিস্ফোরণের ঠিক আগে কেন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল? ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানিয়েছেন, ঘটনাটির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের কারণ, পরিকল্পনা এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে ঘটে। তখন এনসিপির সমাবেশ চলছিল। কী ঘটেছিল? দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সেই সময় সমাবেশস্থলে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে তারা কেউ আহত হননি। বিস্ফোরণে চারজন আহত হন। আহতরা হলেন— মো. শাহীন খন্দকার (৩০) মো. জসিম (২৬) মো. শাহাদাত হোসেন (৪০) অপর একজন, যার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের বক্তব্য এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হাসান জানান, আহত চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনের পায়ে গুরুতর আঘাত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বাকি তিনজনকে জরুরি বিভাগ থেকে অস্ত্রোপচারের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আহতরা বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছেন। এক্স-রে এবং অন্যান্য পরীক্ষার পর আঘাতের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটনার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, বিস্ফোরণের ঠিক আগে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার বিষয়টিকে তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, "কোনো কিছুই আমরা সন্দেহের বাইরে রাখছি না। কেন ঠিক ওই মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে গেল, এরপরই বিস্ফোরণ ঘটল—বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে ওই সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ যাচাই করা যায়। তবে পুলিশ এখনো বলেনি যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং বিস্ফোরণের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের বক্তব্য পুলিশ সুপার জানান, পদযাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকেই পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। পাকিজা মোড় থেকে সমাবেশস্থল পর্যন্ত নেতাদের নিরাপত্তা দিয়ে আনা হয়। ঘটনার পরও মঞ্চে থাকা শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তার সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তারা সাভার থানায় যান। তদন্তে কী কী খতিয়ে দেখা হচ্ছে? পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে— বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বস্তুটির ধরন। হামলাকারীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য। ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য। হামলাটি পরিকল্পিত ছিল কি না। এ ঘটনায় ঢাকা জেলার দুই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মামলা বিস্ফোরণের ঘটনায় এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব সালামত উল্লাহ রনি, জুলাই যোদ্ধা মো. ইউনুস আলী এবং আজহারুল ইসলাম তামিম অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ বলছে, তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনসিপির প্রতিক্রিয়া এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, বিস্ফোরণে দলের চার কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর দলীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল করেন। পরে আহতদের দেখতে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পুলিশও এখন পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এখন পর্যন্ত যা নিশ্চিত এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা গেছে— সমাবেশ চলাকালে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। চারজন আহত হয়েছেন। শীর্ষ নেতারা অক্ষত রয়েছেন। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছিল। পুলিশ বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য, হামলাকারীদের পরিচয় কিংবা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সঙ্গে ঘটনার সম্পর্ক সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এখন নজর তদন্তের ফলাফলের দিকে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার এসবির ডিআইজি মো: ইকবাল হোসেনকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, বরিশালের পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মো: আশিক সাঈদকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহকে বরিশালের পুলিশ কমিশনার, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো: মোস্তাফিজুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হককে শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি ও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানকে ঢাকার এপিবিএন’র ডিআইজি করা হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ রদবদলের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। এদিকে, তিনজন পুলিশ কর্মকর্তার পদে রদবদল করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়- সিআইডির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লাকে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো: নজরুল ইসলামকে সিআইডির পুলিশ সুপার করা হয়েছে।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।