যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান থেকে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই লক্ষ্যে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ইরান থেকে প্রায় ২৫০ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আঙ্কারায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা গেছে। এর আগেও গত বছর বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইরান থেকে ২৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রত্যাবাসন পরিচালনা ও সমন্বয় করতে ঢাকা থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই জন কর্মকর্তা এবং তুরস্কের আঙ্কারার বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা আজারবাইজানের বাকুতে যাচ্ছেন। বাকুর হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। এ জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।সূত্র আরও জানায়, ফিরিয়ে আনার জন্য আনুষঙ্গিক খরচ (জনপ্রতি ভিসা ফি, ওষুধ, খাবার, স্থলপথে পরিবহন খরচ) হিসাবে প্রায় ২৩ হাজার ডলার দিচ্ছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। আর চার্টার্ড বিমানের খরচ দেবে সরকার। তবে এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিক পরিকল্পনায় আটকে পড়া বাংলাদেশিদের তেহরান থেকে আজারবাইজান সীমান্ত পর্যন্ত সড়ক পথে নিয়ে আসা হবে। এরপর আজারবাইজান সীমান্ত থেকে বাকু পর্যন্ত সড়কপথে নিয়ে যাওয়া হবে। বাকু’র বিমানবন্দর থেকে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের ঢাকায় নিয়ে আসা হবে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, আজারবাইজানের আকাশসীমা আংশিক খোলা আছে। বাকু থেকে কাস্পিয়ান সাগরের ওপর দিয়ে নিয়মিত বিমান চলাচল করছে। এই রুটে বাকু থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে ফ্লাইট এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী ১৯ অথবা ২০ মার্চ ফ্লাইট পাওয়া যেতে পারে। ইরান-ইসরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় স্থবিরতা নিয়ে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকেও প্রায় ১৮ দিনে ৫৫৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সৌদি আরবে ২ জন, বাহরাইনে ১ জন ও দুবাইয়ে ১ জন মারা গেছেন। এছাড়া এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মতো আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ১০-১৫টি দেশে যুদ্ধের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ইসরায়েল ও লেবানন হলেও, এর প্রভাব বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, ইয়েমেন ও সিরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যেখানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটছে। এর আগে ইরান থেকে গত বছর বেশ কিছু বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়। ইরানে যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে। ভারত তাদের নাগরিকদের আরমেনিয়া হয়ে দেশে ফেরাচ্ছে। সেদেশের নাগরিকদের ইরান থেকে আরমেনিয়া পর্যন্ত নিজ দায়িত্বে যেতে বলা হয়েছিল।
বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেন ভারতে গ্রেফতার হওয়ার পর সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রোববার পশ্চিমবঙ্গে ওই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে তাদের ভারতে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-এর অধীনস্থ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের নজর এড়িয়ে কীভাবে ওই দুই ব্যক্তি ভারতে ঢুকল, তার ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই অভিযুক্ত ভারতে প্রবেশ করেছেন মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে, যেখানে বর্তমানে বিজেপি-সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তিনি বলেন, “অমিত শাহ আমাদের সীমান্ত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত Mamata Banerjee-র পুলিশের হাতেই গ্রেফতার হয়েছে দুই অভিযুক্ত।” অরূপ চক্রবর্তীর অভিযোগ, মেঘালয় থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে হলে আসাম ও ত্রিপুরা অতিক্রম করতে হয়, আর এই দুই রাজ্যেই ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। তার ভাষায়, “দুই রাজ্যের পুলিশ এবং অমিত শাহর বিএসএফের চোখে ধুলো দিয়ে দুষ্কৃতীরা দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে।” তবে এই অভিযোগ নাকচ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপির মুখপাত্র দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গই বাংলাদেশের অপরাধীদের জন্য একটি “নিরাপদ আশ্রয়স্থল” হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “শুধু হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্তরা নয়, বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের বা অন্য দেশের অপরাধীরা পালিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিচ্ছে।” দেবজিৎ সরকারের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৪০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের যে প্রক্রিয়া হয়েছে, তা নিয়ে বিএসএফ পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। এই ঘটনায় একদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে ভারতীয় রাজনীতিতেও নতুন করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। টাইমলাইন: হাদি হত্যা মামলা ঘটনার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশে হত্যা – ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি খুন হন তদন্ত শুরু – বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে প্রধান সন্দেহভাজন শনাক্ত – ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ভারতে পালানোর অভিযোগ – তদন্তে উঠে আসে তারা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছে রোববার গ্রেফতার – পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ফ্যাক্টবক্স: কী জানা গেছে হাদি হত্যা মামলা – গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিহত: শরিফ ওসমান হাদি পদবি: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক প্রধান অভিযুক্ত: ফয়সাল করিম মাসুদ সহযোগী অভিযুক্ত: আলমগীর হোসেন গ্রেফতার: পশ্চিমবঙ্গ, ভারত সম্ভাব্য প্রবেশ পথ: মেঘালয় সীমান্ত বিশ্লেষণ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে দায় চাপানোর প্রবণতা আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী বিজেপির মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিরোধ চলছে। হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্তদের গ্রেফতারের ঘটনাটি সেই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
পাকিস্তান দাবি করেছে যে, তারা আফগানিস্তানের ৯৪টি চেকপোস্ট ধ্বংস এবং দখল করেছে। পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানায়, আফগানিস্তানে পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে ৭৪টি চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১৮টি চেকপোস্ট পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, পাকিস্তান আফগান সীমান্তে বিনা উসকানির আগ্রাসনের জবাবে অভিযান শুরু করে। এতে ২৭৪ জন তালেবান সদস্য ও তাদের সহযোগী নিহত এবং ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। আইএসপিআরের মহাপরিচালক আহমেদ শরিফ চৌধুরি জানান, ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানের ভেতরে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, আফগান তালেবান সরকারের অবৈধ উসকানির কারণে তাদেরকে আক্রমণ করা হয়েছে। পাকিস্তান জানায়, তালেবান যোদ্ধাদের গুলিবর্ষণের জবাবে পাকিস্তান পূর্ণ শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানে। এ অভিযান চলাকালে ১১৫টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে এবং আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার, লাগমান, পাকতিকা প্রদেশের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এদিকে, পাকিস্তান ঘোষণা করেছে যে আফগানদের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে সীমান্তে যেকোনো ধরনের উসকানি রুখে দিতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেবে।
আফগান বিমানবাহিনী পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে, যা পাকিস্তানের আগের রাতে কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া অঞ্চলে আকাশসীমা লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ছিল। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে যে, হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা, ঘাঁটি এবং সেনা কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। এই হামলা শুরু হয়েছিল বেলা ১১টার দিকে, যখন আফগান বিমানবাহিনী ফাইজাবাদ শহরের কাছে একটি সামরিক শিবির, নওশেরা সেনা ক্যান্টনমেন্ট, জামরুদ সামরিক কলোনি এবং পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে অবস্থিত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বিমান হামলার সফলতা আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি সেনা ঘাঁটি এবং ক্যান্টনমেন্ট। আফগান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তান যখন কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া এলাকায় আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল, তখন এ হামলা করা হয়, যা তাদের সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযানে এই পর্যন্ত ২৭৪ জন তালেবান সদস্য এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হয়েছেন। সেইসাথে ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন, জানানো হয়েছে পাকিস্তান আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। এছাড়া পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তালেবানের ৭৩টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস করার পাশাপাশি ১৮টি পোস্ট দখল করেছে। পাকিস্তান দাবি করেছে যে, আফগান তালেবানের ১১৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান (APC) এবং আর্টিলারি অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে। বিশেষত, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এমন ধরনের আক্রমণ উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার এ ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে বৃহত্তর সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের তিনটি শহরে আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, সব ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তাতার জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে ড্রোন উড়ে আসে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি ও নোসেরা এলাকায়। তবে প্রতিরক্ষা বাহিনীর ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় হয়ে সব ড্রোন ধ্বংস করে দেয়। পাল্টা দাবি আফগানিস্তানের এর আগে আফগান তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করে, তাদের বিমানবাহিনী পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি সামরিক স্থাপনাসহ একাধিক স্থানে সফল হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইসলামাবাদের ফয়জাবাদ, নোসেরার একটি সেনা ক্যাম্প, জামরুদের একটি সেনা ঘাঁটি এবং অ্যাবোটাবাদের একটি সামরিক কমপ্লেক্সে আঘাত হানা হয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের রাজধানী কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে। সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আফগান বাহিনী। এরপর পাকিস্তান পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে, যা শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। যদিও উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ বলে দাবি করছে, তবুও সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সংকটময় করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে বারবার সংঘর্ষ এবং ড্রোন ও বিমান হামলার অভিযোগ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। এদিকে, আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। সীমান্ত পেরিয়ে সহিংসতা বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশ দুটি। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ একাধিক বড় শহরে বিমান হামলা চালানোর পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, পরিস্থিতির অবনতিতে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। তিনি বলেন, “চীন সংঘাতের উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে আরও রক্তপাত এড়ানো উচিত।” মাও নিং আরও জানান, চীন নিজস্ব কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত রয়েছে। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে অবস্থিত চীনা দূতাবাসগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান তিনি। রাশিয়ার অবস্থান রাশিয়ার বার্তা সংস্থা আরআইএয়ের খবরে বলা হয়, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে অবিলম্বে সীমান্তবর্তী হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে। মস্কো বলেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় পক্ষের সংযম অত্যন্ত জরুরি। ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসনে সংলাপ আয়োজনের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে “ভালো প্রতিবেশীর মতো সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধান” করার আহ্বান জানান। এর আগেও সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জাতিসংঘের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। বার্তা সংস্থা বিবিসির খবরে বলা হয়, গুতেরেস উভয় দেশকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অন্যদিকে, ভলকার তুর্ক সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। সংঘাতের পটভূমি বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে তালেবান বাহিনী হামলা চালায়। জবাবে তালেবানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালায়। এ পর্যন্ত উভয়পক্ষের অন্তত ১৮০ জন নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে এই সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকিতে রূপ নিতে পারে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্তে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। কয়েক মাসের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে ‘খোলা যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক -এর তথ্য অনুসারে, সামরিক শক্তিতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের তুলনায় বহু গুণ এগিয়ে। নিচে দুই দেশের সামরিক সক্ষমতার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো। 👥 কর্মীসংখ্যা পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীতে মোট ৬ লাখ ৬০ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে— ৫ লাখ ৬০ হাজার সেনাবাহিনীতে ৭০ হাজার বিমানবাহিনীতে ৩০ হাজার নৌবাহিনীতে পাকিস্তানের বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার নিয়োগ কাঠামো ও উচ্চ ধরে রাখার হারের জন্য পরিচিত। দেশটির প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার চীনের কাছ থেকে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামাবাদ তার পারমাণবিক কর্মসূচি, নৌ ও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে আফগান তালেবান সরকারের সামরিক বাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের সময় তারা বিদেশি বাহিনীর ফেলে যাওয়া বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করলেও, সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন সক্ষমতা দিন দিন কমছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ২ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হলেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাবে আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 🚜 যুদ্ধযান ও কামান পাকিস্তানের কাছে রয়েছে— ৬ হাজারের বেশি সাঁজোয়া যুদ্ধযান ৪ হাজার ৬০০’রও বেশি কামান অন্যদিকে আফগান বাহিনীর হাতে মূলত সোভিয়েত আমলের ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান রয়েছে। তবে এসব সরঞ্জামের কার্যকারিতা ও সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। তাদের গোলন্দাজ সক্ষমতাও সীমিত ও অনির্দিষ্ট। ✈️ বিমানবাহিনী পাকিস্তানের বিমানবাহিনী দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে বিবেচিত। তাদের বহরে রয়েছে— ৪৬৫টি যুদ্ধবিমান ২৬০টির বেশি হেলিকপ্টার এসবের মধ্যে বহুমুখী যুদ্ধবিমান, আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার ও পরিবহন হেলিকপ্টার অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে আফগানিস্তানের কার্যত কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিমান বহর নেই। তাদের কাছে অন্তত ছয়টি বিমান ও ২৩টি হেলিকপ্টার রয়েছে বলে জানা যায়। তবে এর কতগুলো সচল অবস্থায় রয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। ☢️ পারমাণবিক সক্ষমতা পাকিস্তান একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটির কাছে আনুমানিক ১৭০টি ওয়ারহেড রয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার নেই। 📊 সামগ্রিক মূল্যায়ন সামরিক সদস্যসংখ্যা, সাঁজোয়া যান, বিমানবাহিনী এবং পারমাণবিক সক্ষমতা—সব দিক থেকেই পাকিস্তান আফগানিস্তানের তুলনায় বহুগুণ শক্তিশালী। বিশ্লেষকদের মতে, যদি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে প্রচলিত সামরিক শক্তির বিচারে পাকিস্তান সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকবে। তবে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও গেরিলা কৌশল আফগান তালেবানের পক্ষে কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এই সংঘাত বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল-এ পাকিস্তানের কথিত ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযানে তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের (ওসিন্ট) ইউরোপ শাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানায়। শুক্রবার ভোর ৬টা ৩ মিনিটে প্রকাশিত পোস্টে বলা হয়, পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর হামলায় ইসলামিক এমিরেত অব আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা কয়েকজন শীর্ষ তালেবান কমান্ডারসহ নিহত হয়েছেন। তবে এ দাবির বিষয়ে এখনো পর্যন্ত তালেবান সরকার কিংবা পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্বতন্ত্রভাবে এ তথ্য যাচাইও করা সম্ভব হয়নি। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগের পর দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখল করে তালেবান। পরবর্তীতে সরকার গঠন করে সংগঠনটির শীর্ষ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয় তালেবান সরকারের নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনা পাকিস্তানের অভিযোগ, নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিচ্ছে কাবুলের সরকার। তবে তালেবান প্রশাসন বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান একাধিকবার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জঙ্গি আস্তানায় হামলার দাবি করেছে। এর প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ পরিচালিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আঞ্চলিক প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, যদি হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার নিহত হওয়ার দাবি সত্য হয়, তবে তা আফগানিস্তানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তালেবান নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নতুন করে অস্থির হয়ে উঠতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহল সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে পাকিস্তান। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পরিচালিত অভিযানে ২২৮ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ৩১৪ জন আহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কাবুলসহ তিন শহরে হামলা পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, রাজধানী কাবুল ছাড়াও কান্দাহার ও পাকতিয়া এলাকায় একযোগে বিমান ও স্থল হামলা চালানো হয়। এতে তালেবানদের ৭৪টি ঘাঁটি ধ্বংস এবং ১৮টি ঘাঁটি দখলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানি সামরিক সূত্র জানায়, কাবুলে দুটি এবং কান্দাহারে একটি ব্রিগেড সদরদপ্তর ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে। ‘গজব লিল হক’ অপারেশন পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তানে ‘গজব লিল হক’ নামের সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশারফ জাফরি দাবি করেছেন, এ পর্যন্ত ২৭টি আফগান তালেবান শিবির ধ্বংস করা হয়েছে। ৮০টির বেশি কামান ধ্বংস এবং নয়জন তালেবান সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তালেবানের পাল্টা দাবি অন্যদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সীমান্ত অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, রোববারের হামলার জবাব হিসেবেই পাকিস্তান এ আক্রমণ চালিয়েছে। এর আগে তালেবান সরকার দাবি করেছিল, পাকিস্তানের হামলায় তাদের আটজন যোদ্ধা নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানেও হতাহত চলমান সংঘাতে পাকিস্তানেও অন্তত ২৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং উভয়পক্ষই একে অপরের ওপর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করছে। সামগ্রিক হতাহতের চিত্র বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে উভয়পক্ষে অন্তত ১৮০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে, কারণ দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তালেবান কর্তৃপক্ষের বরাতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যা তারা ব্যাখ্যা করেছে পূর্বের পাকিস্তানি বিমান হামলার জবাব হিসেবে। আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কোরের মিডিয়া অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান হামলার পরই “তীব্র সংঘর্ষ” শুরু হয়। 🗣️ তালেবানের বক্তব্য তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন: “পাকিস্তানি সামরিক মহলের পুনঃপুন উসকানি এবং সীমান্ত লঙ্ঘনের জবাবে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন সামরিক অবস্থান ও স্থাপনায় ব্যাপক আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করা হয়েছে।” ডুরান্ড লাইন — প্রায় ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত, যা আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। 💥 সংঘর্ষ ও দাবি আফগান সামরিক একটি সূত্র আল জাজিরা‑কে জানিয়েছে: সংঘর্ষে ১০ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে তালেবান বাহিনী ১৩টি পাকিস্তানি চৌকি দখল করেছে 🇵🇰 পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক্সে জানায়: খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন সেক্টরে তালেবান বাহিনীর গুলির জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দিয়েছে চিত্রাল, খাইবার, মোহমান্ড, কুররাম ও বাজাউর সেক্টরগুলোতে তালেবানকে “শাস্তি” দেওয়া হচ্ছে প্রাথমিক প্রতিবেদনে আফগান পক্ষের ব্যাপক হতাহতের তথ্য এবং একাধিক চৌকি ও সরঞ্জাম ধ্বংসের তথ্য পাওয়া গেছে তবে পাকিস্তানি সরকারের মুখপাত্র খোলাখুলি স্বীকার করেননি যে কোন পোস্ট বা স্থাপনা দখল হয়েছে বা পাকিস্তানি সেনা হতাহত হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্র আরও জানায়, “উসকানিমূলক তালেবান আগ্রাসনের জবাবে পাকিস্তান সীমান্ত জুড়ে আফগান বাহিনীর ওপর তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে”। কিছু পাকিস্তানি সূত্র দাবি করে, পাল্টা গোলাবর্ষণে লক্ষ্যবস্তু তিনটি স্থান থেকে কয়েকজন আফগান সেনা পালিয়ে গিয়েছে। 🧨 পূর্বের সংঘাত এর আগে রবিবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা চালিয়ে অন্তত ৭০ যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছিল, যা আফগানিস্তান নাকচ করে জানায় ওই সময় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। 📉 বর্তমান সম্পর্ক ও পরিস্থিতি গত মাসগুলোতে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গত অক্টোবরে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে উভয়পক্ষে সাতত্তর (৭০+) জনের বেশি নিহত হওয়ার পর থেকে অধিকাংশ স্থলবন্দর বন্ধ রয়েছে। ইসলামাবাদ এ অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তান তার ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এবং তালেবান সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-এর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে আসন্ন নির্বাচন। আগে ধারণা করা হচ্ছিল, ফিলিস্তিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সক্ষম হলে বাংলাদেশ সরে দাঁড়াবে—এমন নীতিগত অবস্থান ছিল সরকারের। তবে হঠাৎ করেই ফিলিস্তিন নিজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ফলে এখন এই পদে লড়াই হবে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস-এর মধ্যে। এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের পালা জাতিসংঘে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপ থেকে পালাক্রমে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। এবারের পালা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের। যদিও সাইপ্রাস ভৌগোলিকভাবে ইউরোপের অংশ, তবে জাতিসংঘের গঠনতান্ত্রিক কাঠামো অনুযায়ী তারা এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সদস্য হিসেবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সাধারণত এ ধরনের নির্বাচন সমঝোতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। তবে ফিলিস্তিনের সরে দাঁড়ানোর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরালো হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বাংলাদেশের প্রার্থী ও প্রস্তুতি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-কে মনোনয়ন দিয়েছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য এই নির্বাচন আগামী জুন মাসে নিউ ইয়র্ক-এ অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে। জয়লাভের জন্য প্রয়োজন হবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন। ৪০ বছর পর আবার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৮০-এর দশকে জাতিসংঘের ৪১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছিল বাংলাদেশ। তখন খ্যাতিমান কূটনীতিক হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেন। প্রায় চার দশক পর আবারও সেই মর্যাদাপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। কূটনৈতিক গুরুত্ব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদার। এই পদে নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ পায়। ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর এখন মূল লড়াই বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে। আন্তর্জাতিক মহলে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে সমর্থন আদায়ের নীরব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। আগামী জুনের নির্বাচন ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।
ভারতের বর্তমান নরেন্দ্র মোদি সরকারের সাথে ইসরাইল-এর সম্পর্ক গত এক দশকে নজিরবিহীনভাবে গভীর হয়েছে। শুরুতে এই সম্পর্ক মূলত প্রতিরক্ষা ও অস্ত্র ক্রয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলেও বর্তমানে তা বিস্তৃত হয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, নজরদারি ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কৌশল পর্যন্ত। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বিভিন্ন নীতিতে এখন স্পষ্টভাবে ‘ইসরাইলি মডেল’-এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। কাশ্মীর নীতিতে ‘সেটলার কলোনিয়ালিজম’-এর ছায়া? ২০১৯ সালে ভারত সরকার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নতুন ভূমি ও বসবাস আইন প্রবর্তনের মাধ্যমে বাইরের নাগরিকদের জন্য সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস ও সম্পত্তি ক্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। নিউইয়র্কে ভারতের তৎকালীন কনসাল জেনারেল সন্দীপ চক্রবর্তী কাশ্মীর প্রশ্নে প্রকাশ্যে ‘ইসরাইলি মডেল’ অনুসরণের কথা বলেছিলেন। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনের আদলে কাশ্মীরে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেকে ‘সেটলার কলোনিয়ালিজম’ তত্ত্বের সাথে তুলনা টানছেন, যেখানে রাষ্ট্র একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর আধিপত্য নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত জনবিন্যাস পরিবর্তনের কৌশল গ্রহণ করে। ‘বুলডোজার বিচার’: আইন নাকি প্রতিশোধমূলক প্রশাসন? ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘বুলডোজার নীতি’ বিশেষভাবে আলোচিত। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ-এ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসনের সময় অভিযোগ উঠেছে যে, অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি আদালতের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া ছাড়াই গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এটি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের প্রয়োগ করা শাস্তিমূলক ঘরবাড়ি ধ্বংস নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। যদিও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া উচ্ছেদে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, বাস্তবে এই নীতির প্রয়োগ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। নজরদারি প্রযুক্তি ও পেগাসাস বিতর্ক ভারতে সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও বিরোধী রাজনীতিবিদদের ওপর নজরদারির অভিযোগে ইসরাইলি স্পাইওয়্যার Pegasus-এর নাম সামনে আসে। এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে ইসরাইলভিত্তিক কোম্পানি NSO Group। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ চালানো হয়েছে। যদিও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, বিষয়টি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করে। আদর্শিক মিল: হিন্দুত্ব ও জায়নবাদ ভারতের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি-এর রাজনৈতিক দর্শন ‘হিন্দুত্ব’ মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে ইসরাইল রাষ্ট্রের আদর্শিক ভিত্তি ‘জায়নবাদ’। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় মতাদর্শেই একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়কে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা রয়েছে। এই আদর্শিক মিল দুই দেশের কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব বর্তমানে ভারত ইসরাইলের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র ক্রেতা। ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, ড্রোন প্রযুক্তি ও সীমান্ত নজরদারি সরঞ্জামে দুই দেশের সহযোগিতা গভীর হয়েছে। গাজা যুদ্ধের সময়ও ভারতের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত এখন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণকে ক্রমশ নিরাপত্তাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করছে। ঐতিহাসিক অবস্থান থেকে সরে আসা? ঐতিহাসিকভাবে ভারত ফিলিস্তিনের আত্মনিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে ইসরাইলের সাথে সম্পর্কের উষ্ণতা সেই অবস্থানকে আড়ালে ঠেলে দিয়েছে বলে সমালোচকরা মনে করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদি সরকারের ‘ইসরাইলমুখী কৌশল’ শুধু বৈদেশিক নীতিতেই নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামোতেও একটি কঠোর, নিরাপত্তাকেন্দ্রিক ও কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থার রূপরেখা তৈরি করছে। ভারত-ইসরাইল সম্পর্ক এখন আর কেবল প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সীমায় আবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর কৌশলগত ও আদর্শিক অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে। কাশ্মীর নীতি, বুলডোজার অভিযান এবং নজরদারি প্রযুক্তির প্রয়োগ—এই তিন ক্ষেত্রে যে সাদৃশ্য দেখা যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতে ভারতের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়ে ৮০ জনের বেশি হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রোববার রাতভর পরিচালিত এই অভিযানে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসলামাবাদের একাধিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত আত্মঘাতী বোমা হামলার জবাবে আফগানিস্তানভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এ অভিযান চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ভোরের দিকে আফগানিস্তানের নানগরহার, পাকতিকা এবং খোস্ত প্রদেশে একাধিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, বিমান হামলায় ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে অভিহিত গোষ্ঠীর ৮০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে স্বাধীনভাবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপি। টিটিপির ৭ ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী টিটিপি-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতটি আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। ধ্বংস হওয়া ঘাঁটিগুলোর মধ্যে রয়েছে— নানগরহারের নিউ সেন্টার নম্বর–১ নানগরহারের নিউ সেন্টার নম্বর–২ খোস্তের মোলভি আব্বাস সেন্টার নানগরহারের ইসলাম সেন্টার নানগরহারের ইব্রাহিম সেন্টার পাকতিকার মোল্লা রাহবার সেন্টার পাকতিকার মুখলিস ইয়ার সেন্টার পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জঙ্গিদের উপস্থিতি ও তৎপরতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ হামলা চালানো হয়েছে। অভিযান-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ও গোয়েন্দা যাচাই শেষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে, আফগানিস্তান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এ ধরনের হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
মালয়েশিয়ার সাবাহ অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় বোর্নিও দ্বীপে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে এই ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সাবাহ রাজ্যের রাজধানী কোটা কিনাবালু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ৬১৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার। তবে উৎপত্তিস্থল অনেক গভীরে হওয়ায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা সুনামির আশঙ্কা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। গভীর সমুদ্রে বা ভূ-অভ্যন্তরের অনেক নিচে কম্পন সৃষ্টি হওয়ায় উপকূলে এর প্রভাব নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
ভারতের রাজধানী দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬‑এ মোদী বিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের পর চারজন যুব কংগ্রেস কর্মীকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। নিরাপত্তা‑বিভাগের বরাতে ২০ ফেব্রুয়ারি পুলিশ এই তথ্য প্রকাশ করে। পুলিশ জানায়, ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস এর কর্মীরা অনলাইনে নিবন্ধন করে কিউআর কোড সংগ্রহ করার পর সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করেন। তারা জ্যাকেট‑সুইটার পরেই টি‑শার্টে মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ও প্রতিবাদী স্লোগান লুকিয়ে আনেন। হলে প্রবেশ করে তারা হল নম্বর ৫‑এর লবিতে জ্যাকেট খুলে মোদী‑সরকার ও ভারত‑যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। এই ঘটনায় পুলিশ নিরাপত্তাকর্মী ও দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সাথে ধস্তাধস্তিতে জড়ানোর অভিযোগে একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে। গৃহীত ব্যবস্থা হিসেবে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন — 👉 কৃষ্ণ হরি (জাতীয় সম্পাদক,) 👉 কুন্দন যাদব (বিহার রাজ্য সম্পাদক) 👉 অজয় কুমার (উত্তর প্রদেশ রাজ্য সভাপতি) 👉 নরসিমা যাদব (তেলেঙ্গানা) — এবং তাদের পাটিয়ালা হাউজ কোর্টে তোলা হবে। পুলিশ বলেছে, বিক্ষোভকারীরা কীভাবে সম্মেলনে প্রবেশ করেছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বড় কোনো ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা‑ও তদন্তাধীন। এছাড়া সম্মেলনস্থলের নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে। 📌 রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ঘটনার পর ভারতীয় জনতা পার্টি তাঁকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছে। দল বলেছে, এই বিক্ষোভ ভারতের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ছিল এবং সাবেক কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর নির্দেশে সংগঠিত করা হয়েছে। বহু শীর্ষ নেতা এই ঘটনা ‘দেশের আন্তর্জাতিক ইমেজে কলঙ্ক’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে যুব কংগ্রেস দাবি করেছে যে তারা AI সম্মেলনের নয়, বরং দেশের স্বার্থবিরোধী আপস, বিশেষ করে ভারত‑যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি, যুব ও কৃষকদের ভবিষ্যতের প্রতি ক্ষতিকর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। তাঁরা বলেন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কণ্ঠরোধ করার অভিযোগে সম্মেলনের ভেতরেই অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ চালিয়েছেন। যুব কংগ্রেস পোস্টে আরো উল্লেখ করে, “দেশের কৃষক ও যুবকদের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হলে আমরা চুপ থাকবো না।” এদিকে সম্মেলনটি ১৬–২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলেছে এবং এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, বিশ্লেষক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রধান ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।
ভারত সরকার আবারও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) বলেছে, ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় নিতে উভয় দেশই আগ্রহী। নয়াদিল্লিতে এক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত— সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বিশেষ করে সংযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। ভারতের সংসদের স্পিকার ওম বিড়লা সম্প্রতি এক আলোচনায় বাংলাদেশ-ভারত পার্লামেন্টারি সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক শক্তিশালী হলে দ্বিপাক্ষিক বন্ধন আরও টেকসই হবে। এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরেও কূটনৈতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে, যদিও দিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাস দমন, নদীর পানিবণ্টন ও আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের প্রেক্ষাপটে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে ভারতের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অব্যাহত থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সফর ও বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নতুন কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি জোরদার করাও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। সব মিলিয়ে, ভারত সরকারের এ পুনর্ব্যক্ত অঙ্গীকারকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে তারা মনে করছেন, ঘোষণার পাশাপাশি বাস্তবায়নই হবে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের আসল পরীক্ষার ক্ষেত্র।
ভারতের স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা স্পাইসজেটকে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বকেয়া এয়ার ন্যাভিগেশন চার্জ পরিশোধ না করায় ঢাকা এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে সংস্থাটির পূর্বাঞ্চলগামী একাধিক ফ্লাইটকে এখন বিকল্প আকাশপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কারণে স্পাইসজেটের কলকাতা থেকে গুয়াহাটি ও ইম্ফলগামী ফ্লাইটগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪ এর তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা–গুয়াহাটি ও কলকাতা–ইম্ফল রুটের সাম্প্রতিক ফ্লাইটগুলো বাংলাদেশ আকাশসীমা এড়িয়ে বিকল্প রুটে পরিচালিত হয়েছে। বাড়তে পারে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব ভারতের স্বল্প দূরত্বের রুটগুলোতে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশের আকাশসীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘস্থায়ী হলে স্পাইসজেটের জ্বালানি খরচ এবং সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। বর্তমানে সংস্থাটি আর্থিক চাপের মধ্যেই রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রান্তিকে স্পাইসজেট ২৬৯ দশমিক ২৭ কোটি রুপি নিট লোকসানের কথা জানিয়েছে। বাড়তি পরিচালন ব্যয় ও এককালীন কিছু খরচের কারণে মুনাফায় ধাক্কা লেগেছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থার প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশি আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্পাইসজেট। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিষয়টি সমাধানে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “পরিচালনাগত ও প্রক্রিয়াগত বিষয়, যার মধ্যে ন্যাভিগেশন–সংক্রান্ত চার্জও রয়েছে, সেগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত আলোচনা চলছে। এগুলো শিল্পখাতের স্বাভাবিক বিষয়। সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা গঠনমূলকভাবে কাজ করছি। আমাদের ফ্লাইট পরিচালনায় কোনও প্রভাব পড়েনি এবং আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধি মেনে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সেবা দিয়ে যাচ্ছি।” শেয়ারবাজারে প্রভাব নতুন এই পরিস্থিতির প্রভাব শেয়ারবাজারেও দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনে স্পাইসজেটের শেয়ার প্রায় ১ শতাংশ কমে ১৬ দশমিক ৮১ রুপিতে নেমে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। তবে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘায়িত হলে স্বল্পমূল্যের এই বিমান সংস্থাটির জন্য তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে খাত–সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের অভিমত।
পাকিস্তানের করাচিতে একটি তিন তলা ভবনে হঠাৎ ভয়াবহ বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রথম তলায় বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণটি ঘটেছে। এ ঘটনায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছে উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপ থেকে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নাজিয়া নামে ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশু রয়েছে। এছাড়া এক মহিলার মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুকেও। আহতদের মধ্যে আরও শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাদের সবাইকে হাসপাতালে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও দুজন আটকা পড়েছেন। উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনের চারপাশে সরু রাস্তাঘাটের কারণে কঠিন হয়ে পড়ছে উদ্ধার অভিযান। বর্তমানে এলাকাটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ এবং অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত থাকায় ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ভারতের বিহার রাজ্যে প্রকাশ্যে মাছ ও মাংস বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নীতীশ কুমারের সরকার। রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয়কুমার সিনহা জানিয়েছেন, রাজ্যের কোথাও আর প্রকাশ্যে মাছ বা মাংস বিক্রি করা যাবে না। নতুন বিধি কার্যকর হলে কেবল লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানিরাই এ ধরনের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। উপমুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এ সংক্রান্ত নির্দেশ সবার জন্য বাধ্যতামূলক। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে বা ভঙ্গের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন,রাজ্যের কোথাও কোনোভাবেই প্রকাশ্যে মাছ বা মাংস বিক্রি করা যাবে না। সরকার ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে নতুন বিধি প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং শিগগিরই তা কার্যকর করা হবে। তবে বিধিটি কবে থেকে কার্যকর হবে এবং নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চে উত্তরপ্রদেশ সরকার ধর্মীয় স্থানের ৫শ মিটার সীমার মধ্যে মাংস বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এবার বিহারেও প্রকাশ্যে মাছ ও মাংস বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেন, বিহার সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। সব জেলাশাসকের কাছে অনুরোধ, তারা যেন এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেন। এর আগে বিহারে নীতীশ কুমারের সরকার মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল। এবার প্রকাশ্যে মাছ ও মাংস বিক্রির ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।
কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সুচিকিৎসার দাবিতে পিটিআইয়ের সমর্থকদের বিক্ষোভ। শুক্রবার করাচি শহরে কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সুচিকিৎসার দাবিতে পিটিআইয়ের সমর্থকদের বিক্ষোভ। শুক্রবার করাচি শহরেছবি: রয়টার্স পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তোশাখানা-২ মামলায় দেওয়া সাজা স্থগিত এবং চিকিৎসা ও মানবিক কারণ দেখিয়ে জামিন চেয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে এ আবেদন করেছেন। ব্যারিস্টার সালমান সাফদার ও সালমান আকরাম রাজার মাধ্যমে দায়ের করা আবেদনে কারাবন্দী পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা আদালতের কাছে সাজা স্থগিত করে জামিন মঞ্জুরের অনুরোধ করেছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে একটি বিশেষ আদালত তোশাখানা-২ মামলায় ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন। মামলাটি রাষ্ট্রের বিলাসবহুল উপহার কম দামে ক্রয় এবং পরে তা বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ইতালির বিশালবহুল ব্র্যান্ড বুলগারির একটি ‘জুয়েলারি সেট’ কেনার সঙ্গে মামলাটি সম্পর্কিত। ২০২১ সালের মে মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খান সরকারি সফরে সৌদি আরবে গেলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইমরানকে বুলগারির ওই জুয়েলারি সেটটি উপহার দিয়েছিলেন। এই মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ইমরান মাত্র ২৯ লাখ রুপির বিনিময়ে ওই জুয়েলারি সেটটি নিয়ে নেন। অথচ এটির বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি রুপি। ২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলোর আনা অনাস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান ইমরান খান। এদিকে আলোচিত আল-কাদির ট্রাস্ট মামলা বা ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড দুর্নীতি মামলায় সাজা স্থগিতের আবেদনের দ্রুত শুনানির আবেদনও পৃথকভাবে করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়, ‘আবেদনকারী (ইমরান) তাঁর ডান চোখের গুরুতর রোগে ভুগছেন।’ এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘মামলার মেরিট এবং চিকিৎসার কারণে সাজা স্থগিতের জন্য আবেদনকারীর অত্যন্ত শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে, যা সম্প্রতি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় সামনে এসেছে।’ আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রক্ত জমাট বাঁধার কারণে ইমরান খানের ডান চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি ওই চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি পাচ্ছেন। আবেদনে আরও বলা হয়, ‘চিকিৎসাজনিত জটিলতা এতটাই গুরুতর যে কারাগারের ভেতরে এর যথাযথ চিকিৎসা সম্ভব নয়।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নিরঙ্কুশ ও ঐতিহাসিক বিজয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এই অভিনন্দন জানান। বার্তায় শেরিং তোবগে উল্লেখ করেন, নির্বাচনে তারেক রহমান ও তাঁর দল বিএনপির এই বিজয় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তিনি বলেন, এই বিপুল জনসমর্থন তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি জনগণের গভীর আস্থারই বহিঃপ্রকাশ। নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় দুই দেশের দীর্ঘদিনের সুগভীর ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী তাঁর সরকার। বিশেষ করে বাণিজ্য, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, বিদ্যুৎ খাত ও পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন শেরিং তোবগে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে এবং উভয় দেশের জনগণ পারস্পরিক উন্নয়নের সুফল ভোগ করবে। আঞ্চলিক কূটনীতিতে ইতিবাচক বার্তা কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত, চীন ও মালয়েশিয়ার পর ভুটানের পক্ষ থেকে এই অভিনন্দন বার্তা নতুন সরকারের জন্য আঞ্চলিক পর্যায়ে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘হিমালয় কন্যা’ হিসেবে পরিচিত ভুটান-এর সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সহযোগিতা ও পর্যটন সম্ভাবনা নতুন সরকারের আমলে আরও গতিশীল হতে পারে। জলবিদ্যুৎ খাতে ভুটানের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা—দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বার্তার শেষে শেরিং তোবগে তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য এবং বাংলাদেশের জনগণের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। তিনি এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ব্যক্তিগতভাবে এবং ভুটানের জনগণের পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক গণতান্ত্রিক উত্তরণ হিসেবে অভিহিত করেন। আন্তর্জাতিক মহলে অভিনন্দন বার্তার এই পরম্পরা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।