ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দীর্ঘদিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে। তার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি কোথায় অবস্থান করছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, চিকিৎসক সমাজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ভারতের ত্রিপুরার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে তার পাঠদান করার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। বাংলাদেশ সংবাদের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) কলেজটির এক স্টাফ নার্স বাংলাদেশ সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। তবে তিনি ঠিক কবে থেকে কলেজটিতে যুক্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ভিডিওতে মিলল অবস্থানের প্রমাণ সম্প্রতি শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, আধুনিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তার পেছনের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন স্লাইড প্রদর্শিত হচ্ছিল। ভিডিওর বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিষয়ে একটি একাডেমিক ক্লাস পরিচালনা করছিলেন। ভিডিওটি প্রকাশের পরই তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার কার্যত অবসান ঘটে। দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনের পর রাজনীতিতে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত দেশের একজন সুপরিচিত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সরকার পতনের পর আত্মগোপন গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি দেশ ছেড়েছেন কি না, কোথায় অবস্থান করছেন কিংবা চিকিৎসা বা শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কি না—এসব প্রশ্নের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য এতদিন পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক ভিডিও এবং কলেজ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মীর বক্তব্যের পর অন্তত এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি বর্তমানে ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থান করছেন এবং একটি মেডিকেল কলেজে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে তিনি কোন ধরনের ভিসায় ভারতে অবস্থান করছেন, কলেজটির সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক নিয়োগের ধরন কী এবং বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বর্তমান আইনি অবস্থা—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ সংবাদ এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত কিংবা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতার পরিধি আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ অনুষ্ঠিত এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয় চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)-এর সঙ্গে। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিগুলোতে স্বাক্ষর করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। কী রয়েছে চারটি সমঝোতা স্মারকে? সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন সমঝোতাগুলোর আওতায়— বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সংবাদ ও তথ্য বিনিময় জোরদার হবে। গণমাধ্যম খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে। গ্লোবাল সাউথ-ভুক্ত দেশগুলোর গণমাধ্যম নিয়ে যৌথ গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সম্প্রচার প্রযুক্তি, ডিজিটাল মিডিয়া, প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়বে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ দুই দেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। কেন এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ? বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবকাঠামো, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ খাতেও বিস্তৃত হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় গণমাধ্যম সহযোগিতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই চারটি সমঝোতা স্মারককে। বিশ্লেষকদের মতে, সংবাদ বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হলেও বাস্তবে এসব চুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপর। সফরের প্রেক্ষাপট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নিতে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গত ২৩ জুন ঢাকা থেকে চীনের উদ্দেশে রওনা হন। সফরের অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে একাধিক খাতে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে গণমাধ্যম খাতের এই চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলো। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব চুক্তির মাধ্যমে তথ্য বিনিময়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন করা যাবে চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের অগ্রগতির ভিত্তিতে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের পর প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। উত্তর প্রদেশে বহুল আলোচিত ‘বুলডোজার মডেল’-এর সঙ্গে তুলনা টেনে এবার পশ্চিমবঙ্গেও অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে সরকারি জমি দখলের অভিযোগে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক দলীয় কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। বুধবার (২৪ জুন) ব্যারাকপুর পৌরসভার ২০, ১৪, ২ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কয়েকটি দলীয় কার্যালয়ে বুলডোজার চালানো হয়। প্রশাসনের দাবি, এসব স্থাপনা সরকারি জমি জবরদখল করে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। উচ্ছেদ অভিযানে কঠোর নিরাপত্তা উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ঘটনাস্থলে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল দমকল বাহিনীকেও। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে অভিযানের সময় স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ অন্যদিকে উচ্ছেদ অভিযানের বৈধতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। ব্যারাকপুর পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও তৃণমূল নেতা রমেশ সাউ দাবি করেন, যে স্থাপনা ভাঙা হয়েছে সেটি সরকারি বা গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) জমির ওপর নির্মিত ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জমিটি আগে সুধীর সাহা নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিল। সেখানে একটি সাইকেল মেরামতের দোকান পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে জমির মালিকের ছেলে সেটি বিক্রি করতে চাইলে তিনি জমিটি কিনে নেন। রমেশ সাউ অভিযোগ করেন, উচ্ছেদের বিষয়ে তাকে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বুলডোজার দিয়ে পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলবদলের প্রভাব এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, জমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও প্রশাসন তা ভেঙে দিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন। জমির মালিকানা নিয়ে নতুন প্রশ্ন ঘটনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে জমিটির প্রকৃত মালিকানা। প্রশাসন যেখানে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তুলছে, সেখানে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ব্যক্তিমালিকানার দাবি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, জমির রেকর্ড, দখল ও মালিকানা সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা? সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নির্মাণ ভাঙার ঘটনা বেড়েছে। ব্যারাকপুরের এই অভিযান শুধু একটি স্থানীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নাকি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তার অংশ—তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট—অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের দাবি, এসব পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-এর তিনটি ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি জব্দ হওয়ার ঘটনায় দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে। অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একটি বেসরকারি ব্যাংকে রক্ষিত তৃণমূলের তিনটি হিসাবের ওপর ‘ডেবিট ফ্রিজ’ আরোপ করা হয়েছে। ফলে এসব হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন বা অন্যত্র স্থানান্তর করা যাবে না। তবে নতুন অর্থ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকছে না। এই হিসাবগুলোতে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৭১ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে অর্থের উৎস ঘটনার সূত্রপাত হয় দলের বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত ১০ জন বিধায়কের অভিযোগের পর। তারা বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দাখিল করে হিসাবগুলোর আর্থিক লেনদেন এবং অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি জানান। অভিযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—হিসাবগুলোতে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ বৈধ উৎস থেকে এসেছে, নাকি অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে। অভিযোগকারীরা সম্ভাব্য ঘুষ বা ‘কাটমানি’ আদায়, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারি থেকে প্রাপ্ত অর্থ এসব হিসাবে জমা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পরিস্থিতিগত সূত্র থেকে এমন ধারণা পাওয়া গেছে যে প্রভাব খাটানো, অসাধু আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহজনক অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে অর্জিত কিছু অর্থ এসব হিসাবে স্থানান্তর করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি এবং তদন্তও এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচনী পরাজয়ের পর ক্ষমতার লড়াই সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলটির সাংগঠনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন তীব্র হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ আরেকটি গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক হিসাব জব্দের ঘটনাটি কেবল আর্থিক তদন্তের বিষয় নয়; বরং দলীয় ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। অরূপ বিশ্বাসের চিঠি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বর্তমান বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কয়েকদিন আগেই অরূপ বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়ে দলীয় হিসাবগুলো সুরক্ষিত রাখার এবং সব ধরনের লেনদেন স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। চিঠিতে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের বিভিন্ন হিসাবে প্রায় ৫০০ কোটিরও বেশি টাকা রয়েছে। নেতৃত্বসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অর্থ পরিচালনা না করার আহ্বানও জানান তিনি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, হিসাবগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দলের ভেতরে যে বিরোধ চলছে, তা কি এখন আইনগত ও ফৌজদারি তদন্তের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে? কোষাধ্যক্ষ নিয়ে বিরোধ তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতা কুণাল ঘোষ অরূপ বিশ্বাসের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তার দাবি, অরূপ বিশ্বাস বর্তমানে দলের কোষাধ্যক্ষ নন এবং দলীয় আর্থিক বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ারও তার নেই। কুণাল ঘোষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুন অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সুবাশিস চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনিই দলীয় আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই বক্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব ও আর্থিক কর্তৃত্ব নিয়ে বিদ্যমান বিভাজনের বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। রাজনৈতিক ও আইনি প্রভাব কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, তদন্তে যদি অর্থের উৎস নিয়ে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা শুধু তৃণমূলের জন্য নয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্যও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, অভিযোগগুলো যদি দলীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অংশ হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা তৃণমূলের সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা ও জনসমর্থনের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এখন নজর থাকবে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কারণ, ৪৪০ কোটি রুপির এই হিসাবগুলোকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, তার উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও আর্থিক অবস্থান।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শিক্ষা, চাকরি ও জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের মুখে আফগানিস্তানের বহু নারী এখন ব্যবসাকেই টিকে থাকার প্রধান উপায় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তালেবান সরকারের আরোপিত নানা সীমাবদ্ধতায় নারীদের জন্য পেশাগত সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হলেও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকায় নতুন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—যেখানে উদ্যোক্তা হওয়াই অনেক নারীর শেষ ভরসা। উপলব্ধ তথ্য বলছে, গত কয়েক বছরে আফগানিস্তানে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ১০ হাজারের বেশি নারী ব্যবসায়িক লাইসেন্সধারী রয়েছেন। পাঁচ বছর আগের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় দশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার নারী লাইসেন্স ছাড়াই বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন। বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্ষুদ্র ও কুটিরভিত্তিক ব্যবসাই বর্তমানে আফগান নারীদের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। স্বপ্ন বদলে বেঁচে থাকার লড়াই যেসব নারী একসময় আইনজীবী, প্রকৌশলী বা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তাদের অনেকেই এখন কার্পেট বুনন, সাবান উৎপাদন, প্রসাধনী তৈরি কিংবা কারিগরি প্রশিক্ষণনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর মেয়েদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন ক্ষেত্র সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে অনেক নারী বাধ্য হয়ে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে শুরু করেন। উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাজার-ই-শরিফের ১৯ বছর বয়সী নাসিরা আজিজি সেই পরিবর্তনেরই একটি প্রতীকী উদাহরণ। শিক্ষাজীবন থেমে যাওয়ার পর তিনি কার্পেট উৎপাদন ব্যবসায় যুক্ত হন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪৫০ জন কর্মী কাজ করছেন, যাদের অধিকাংশই নারী। নাসিরার গল্প শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়; এটি এমন এক প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি, যাদের শিক্ষা বন্ধ হলেও জীবনের সংগ্রাম থেমে থাকেনি। প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন থেকে সাবান কারখানা ২১ বছর বয়সী রোকিয়া রেজায়ির স্বপ্ন ছিল খনি প্রকৌশলী হওয়ার। কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি ‘ম্যাগনোলিয়া’ নামে একটি সাবান উৎপাদন উদ্যোগ গড়ে তোলেন। বর্তমানে এই ব্যবসার আয়েই তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। রোকিয়ার মতো অনেক নারীর জন্য উদ্যোক্তা হওয়া কোনো পছন্দের সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং সীমিত সুযোগের মধ্যে বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় কৌশল। ব্যবসা আছে, স্বাধীনতা নেই নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বাড়লেও তাদের পথ মোটেও সহজ নয়। হেরাতের মৌচাষি ঘোঞ্চা কারিমি, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘বি কুইন’ নামে পরিচিত, প্রায় ৫০টি মৌচাক পরিচালনা করেন। তবে তার মতে, চলাচলে বিধিনিষেধ, পুরুষ ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে বাধা এবং প্রশাসনিক জটিলতা ব্যবসার সম্প্রসারণকে কঠিন করে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রেই নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন, বাজার ব্যবস্থাপনা বা সরকারি কাজকর্ম সম্পন্ন করতে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণকে সীমিত করে এবং তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ কমিয়ে দেয়। কর্মসংস্থানের সংকটের কঠিন চিত্র জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত আফগান নারীদের মাত্র ৭ শতাংশ কোনো না কোনো কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই পরিসংখ্যান দেশটির নারী শ্রমবাজারের সংকটকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ার কারণে ব্যবসা এখন কেবল আয়ের উৎস নয়; এটি নারীদের জন্য সামাজিক সংযোগ, আত্মমর্যাদা এবং ব্যক্তিগত পরিচয় ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সরকারি দাবি বনাম বাস্তবতার প্রশ্ন আফগান প্রশাসন দাবি করছে, নারীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ চালু রয়েছে। তবে নারী অধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব উদ্যোগের পরিধি সীমিত এবং বাস্তব প্রভাব প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। তাদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থাকলেও বাজারে প্রবেশ, আর্থিক সহায়তা, স্বাধীন চলাচল এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নারীরা এখনও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। শেষ আশ্রয় হিসেবে উদ্যোক্তা হওয়া হেরাত প্রদেশের নারী উদ্যোক্তা প্রতিনিধি বেহনাজ সালজুঘির ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে আফগান নারীদের জন্য ব্যবসাই ‘একমাত্র আশার জায়গা’। এই মন্তব্যের মধ্যে ফুটে ওঠে আফগান নারীদের বর্তমান বাস্তবতা—যেখানে শিক্ষা ও চাকরির বহু দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু জীবন থেমে নেই। প্রতিকূল সামাজিক পরিবেশ, প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও হাজারো নারী নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তাদের কাছে ব্যবসা শুধু জীবিকা নয়; এটি আত্মনির্ভরতা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা ধরে রাখার এক নীরব সংগ্রাম।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বিধায়কদের কথিত জাল স্বাক্ষর সংক্রান্ত একটি অভিযোগ। সেই অভিযোগের তদন্তে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে সাবেক তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর কলকাতার বাসভবন ও সংশ্লিষ্ট দলীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডির কর্মকর্তারা কালিঘাট থানার পুলিশ ও বিপুল সংখ্যক নারী পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে পৌঁছান। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, একই সময় তিনটি পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে তল্লাশি চালানো হয়। কী অভিযোগ? তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর সিআইডি তথ্য চেয়ে নোটিশ জারি করে। সিআইডির এক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জবাবে উল্লেখ করেছেন যে স্বাক্ষরগুলো দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা এখন সেই দাবির সত্যতা যাচাই করছেন। তল্লাশি কোথায় কোথায়? তদন্তকারীরা তিনটি আলাদা স্থানে অভিযান চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করায় অভিযানের সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। কারা অভিযোগ করেছেন? দুই বিধায়ক— ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা— বিধানসভার স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তাদের দাবি, বিরোধী দলনেতা স্বীকৃতির জন্য পাঠানো প্রস্তাবটি ছিল “মনগড়া ও জালিয়াতিপূর্ণ”। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, প্রস্তাবে মোট ৭০টি স্বাক্ষরের মধ্যে অন্তত ১৪টি ব্লক লেটারে লেখা ছিল, যা তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। এরপর এ ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয় এবং তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে। তদন্তের মূল প্রশ্ন প্রস্তাবে থাকা স্বাক্ষরগুলো কি প্রকৃতপক্ষে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের? স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা জালিয়াতি হয়েছে কি না? দলীয় কার্যালয় থেকে নথি প্রস্তুত বা প্রেরণের ক্ষেত্রে কারা জড়িত ছিলেন? বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া প্রস্তাবের উৎস ও অনুমোদনের শৃঙ্খল কী ছিল? রাজনৈতিক প্রভাব তল্লাশি অভিযানের খবর প্রকাশ্যে আসার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিরোধীরা ঘটনাটিকে “গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন” হিসেবে তুলে ধরছে, আর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হচ্ছে। তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সিআইডি আনুষ্ঠানিকভাবে কী তথ্য উদ্ধার করেছে বা কারও বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থান, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন এবং অনুমতিবিহীন কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযান চালাচ্ছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই দেশজুড়ে পরিচালিত অভিযানে আটক হয়েছেন ৩০ হাজার ৮০১ জন বিদেশি নাগরিক, যা দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামার বরাত দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ করেছে মালায় মেইল। তথ্য অনুযায়ী, আটক হওয়া বিদেশিদের মধ্যে ২ হাজার ৩২৪ জনের বিরুদ্ধে ভিসার শর্ত ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তারা যে উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন, বাস্তবে তার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। ভিসা এক, কাজ আরেক—কেন উদ্বিগ্ন কর্তৃপক্ষ? ইমিগ্রেশন বিভাগের তদন্তে দেখা গেছে, অনেক বিদেশি নাগরিক পর্যটক, শিক্ষার্থী কিংবা অন্যান্য সীমিত অনুমতির ভিসায় দেশটিতে প্রবেশ করলেও পরে অনুমোদনহীন ব্যবসা, শ্রমবাজার বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা শুধু অভিবাসন নীতিকেই চ্যালেঞ্জ করছে না, বরং বৈধ শ্রমবাজার, কর ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলছে। জাকারিয়া শাবান বলেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জনশৃঙ্খলা এবং ন্যায্য অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানো এখন বিভাগের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষ অভিযান ইউনিট গঠন অভিযান আরও কার্যকর করতে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ নতুন কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বিশেষ ‘এনফোর্সমেন্ট ইন্সপেক্টরেট’ গঠন; ঝুঁকিপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক চিরুনি অভিযান; ভিসা ও কর্মসংস্থান আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি; অবৈধ কর্মী নিয়োগকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। কর্তৃপক্ষের দাবি, শুধু বিদেশি নাগরিক নয়, তাদের অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও সমান গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যৌথ অভিযানে নতুন কৌশল ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অভিবাসন ও ভিসা অপব্যবহার প্রতিরোধকে বিভাগের বার্ষিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের (KPI) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে করে অভিযান পরিচালনা, আইন প্রয়োগ এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই অভিযান বিদেশি শ্রমিকনির্ভর খাতগুলোতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রবাসী ভিসার শর্ত অনুযায়ী কাজ করছেন না কিংবা অনুমতিবিহীন কর্মসংস্থানে যুক্ত রয়েছেন, তাদের জন্য এটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। মালয়েশিয়া সরকার ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে বিদেশি কর্মী ও নিয়োগকর্তা—উভয় পক্ষের ওপর নজরদারি আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের রাজধানী দিল্লির মেহরৌলি এলাকায় একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধসে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩০ মে) ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধারকারীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দমকল বিভাগ, দিল্লি পুলিশ এবং জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো ভবনটি হঠাৎ করেই ধসে পড়ে। ভবনের একটি অংশ পাশের আরেকটি স্থাপনার ওপর গিয়ে পড়ায় সেখানে অবস্থানরত কয়েকজনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য আটকে পড়াদের সন্ধান করছেন। এ ঘটনায় নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পেছনে কী ছিল? দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল এবং নির্মাণ কিংবা রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়ম থাকতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অনেক সময় ব্যবহার উপযোগী হিসেবেই থেকে যায়। ফলে এমন দুর্ঘটনা প্রাণহানির বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও ভবন ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি, তবে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। স্থানীয়দের ভূমিকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভবন ধসের পর উদ্ধারকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে কয়েকজনকে বের করে আনতেও তারা সহায়তা করেন। এ ধরনের ঘটনায় দুর্ঘটনার পরের প্রথম কয়েক ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা। কারণ এই সময়ের মধ্যেই আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন। এ কারণে ভারী যন্ত্রপাতি ও বিশেষায়িত উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো এলাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হয়েছে এবং উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম ঈদ: বদলে গেল রেড রোডের ঐতিহ্য, কোরবানিতে কড়াকড়ি ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবারের ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে এক ভিন্ন বাস্তবতায়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক রীতিনীতিতে পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে ঈদের প্রধান জামাত থেকে শুরু করে কোরবানির ব্যবস্থাপনায়ও। নতুন বিজেপি সরকারের অধীনে মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশের মধ্যে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও চাপা অসন্তোষের চিত্র সামনে এসেছে। সম্প্রতি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীপশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যে প্রশাসনিক নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সরকার জনসমাগম ও ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। রেড রোডে ঈদের জামাত বন্ধ দশকের পর দশক ধরে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি ছিল একটি প্রতীকী আয়োজন, যেখানে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। তবে এবার সেই চিত্র বদলে গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসন রেড রোডে ধর্মীয় সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে ঈদের প্রধান জামাত সরিয়ে নেয় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। সরকারের যুক্তি ছিল—জনসড়কে ধর্মীয় জমায়েত সীমিত করা। ঈদের দিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন, নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও প্রশাসন দাবি করেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোরবানিতে কড়াকড়ি, গরুর হাটে ভাটা এবারের ঈদে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে কোরবানির ব্যবস্থাপনায়। পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই সংক্রান্ত পুরোনো আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। প্রশাসনের পূর্বানুমোদন ছাড়া প্রকাশ্যে পশু জবাই নিষিদ্ধ করা হয় এবং নির্দিষ্ট স্থান বা ব্যক্তিগত পরিসরে কোরবানি সম্পন্ন করার নির্দেশনা জারি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার গরুর হাটে বেচাকেনা কমে যায় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। অনেক বিক্রেতার অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারি ও অনিশ্চয়তার কারণে ক্রেতারা আগের মতো আগ্রহ দেখাননি। তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয় বিবেচনায় এনে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বার্তা নাকি ব্যক্তিগত বিশ্বাস? ঈদ উপলক্ষে রাজনৈতিক সৌজন্যের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন ছিল স্পষ্ট। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে রাজ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ঈদের শুভেচ্ছা ও প্রকাশ্য অংশগ্রহণ দেখা গেলেও এবার সেই চিত্র অনেকটাই অনুপস্থিত ছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। ঈদের দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মায়াপুরের ইসকন মন্দির পরিদর্শন এবং ‘গো-সেবা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সমর্থকদের দাবি, এটি ছিল তার ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলন। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশ এটিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। সামাজিক মাধ্যমে হতাশা ও আবেগ ঈদের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মুসলিম নাগরিকের ফেসবুক পোস্ট ও অনলাইন প্রতিক্রিয়ায় হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতি উঠে এসেছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, বহু পরিবার অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপে কোরবানি দিতে পারেনি। আবার অনেকে লিখেছেন, এবারের ঈদ ছিল “নিঃশব্দ ও সংযত”। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি পোস্টে “সংখ্যাগুরুর রাজনীতি”, “সাংস্কৃতিক সংকোচন” এবং “ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন” নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব মন্তব্যের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, এবারের ঈদুল আজহা ছিল তার প্রথম বড় পরীক্ষাগুলোর একটি। পরিবর্তনের সূচনা নাকি সাময়িক পরিস্থিতি? নতুন সরকারের সমর্থকরা বলছেন, আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিপরীতে বিরোধী মহল ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি অংশের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ সামাজিক সহাবস্থান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে কতটা গভীর প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে এবারের ঈদুল আজহা রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক, রাজনৈতিক বার্তা এবং প্রশাসনিক নীতির নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে—এ নিয়ে খুব কমই দ্বিমত রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পবিত্র ঈদুল আজহা—ত্যাগ, আনন্দ ও পারিবারিক মিলনের উৎসব। কিন্তু এই উৎসবই এবার এক বাংলাদেশি বাবার জীবনে হয়ে উঠেছে গভীর বেদনা আর অসহায়ত্বের প্রতীক। চিকিৎসাজনিত কারণে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন তিনি। দেশের মানুষ যখন কোরবানির আনন্দে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় বিদেশের মাটিতে ঈদ কাটছে তার নিঃসঙ্গতা, মানসিক চাপ এবং সীমাহীন কষ্টের মধ্যে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি তুলে ধরেছেন প্রবাসজীবনের নির্মম এক বাস্তবতা। সেখানে তিনি লিখেছেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে না পারার কষ্টের চেয়েও বেশি বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে ছোট সন্তানের জন্য ঈদের দিনে সামান্য ভালো খাবারের ব্যবস্থাও করতে না পারা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের আগের বিকেল থেকে শুরু করে ঈদের নামাজের পর পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন বাজারে ঘুরেছেন শুধুমাত্র কিছু মাংসের আশায়। কিন্তু প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েও এক থেকে দুই কেজি গরুর মাংস তো দূরের কথা, এক কেজি খাসির মাংসও সংগ্রহ করতে পারেননি। তিনি লিখেছেন, সন্তানের মুখে ঈদের দিনে একটু ভালো খাবার তুলে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও আর সম্ভব হয়নি। মাংসের খোঁজে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে মুরগি কেনার কথাও ভুলে যান তিনি। ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এক-দুই দিন না খেলে হয়তো কিছু হবে না। কিন্তু জীবনের প্রথমবার ঈদও চলে গেল হেলায়, কোরবানিও চলে গেল হেলায়।” তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বহু মানুষ সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মন্তব্যে লিখেছেন, বিদেশে চিকিৎসা কিংবা জীবিকার প্রয়োজনে অবস্থানরত মানুষেরা প্রায়ই এমন নিঃসঙ্গ ও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন, যা উৎসবের সময় আরও প্রকট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে না পারার অসহায়ত্ব একজন বাবার জন্য কতটা কষ্টের হতে পারে—সেই অনুভূতিই যেন এই ঘটনার মাধ্যমে সামনে এসেছে। প্রবাসজীবনের অর্থনৈতিক চাপ, চিকিৎসা ব্যয়, ভাষাগত সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা—সবকিছু মিলিয়ে দেশের বাইরে থাকা অনেক মানুষের জন্য উৎসব মানেই কখনো কখনো নিঃশব্দ এক মানসিক সংগ্রাম। আর সেই সংগ্রামের প্রতিচ্ছবিই উঠে এসেছে এই বাংলাদেশি পরিবারের ঈদ অভিজ্ঞতায়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কোরবানি নিয়ে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নির্ধারিত স্থান ছাড়া খোলা জায়গা, রাস্তা, গলি কিংবা জনসম্মুখে পশু কোরবানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিল্লি সরকারের মন্ত্রী কপিল মিশ্র। তিনি জানান, দিল্লিতে গরু, বাছুর, উটসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত পশু কোরবানি করা বেআইনি। কোরবানি শুধুমাত্র অনুমোদিত ও নির্ধারিত স্লটার হাউসে সম্পন্ন করতে হবে। এ নিয়ম অমান্য করলে ফৌজদারি মামলাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। প্রশাসনের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোরবানির পর রাস্তাঘাট, নর্দমা কিংবা উন্মুক্ত স্থানে রক্ত ও বর্জ্য ফেলা যাবে না। নির্ধারিত স্থানেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। এছাড়া অলিগলি, রাস্তার পাশে কিংবা খোলা স্থানে অবৈধভাবে পশুর হাট বসানো এবং পশু কেনাবেচাও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দিল্লি প্রশাসন জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা কার্যকর করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। কোনো ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা সরাসরি পুলিশ বা দিল্লি সরকারের উন্নয়ন বিভাগে জানাতে নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : আফগানিস্তানে তালেবান সরকার নতুন একটি পারিবারিক আইন জারি করেছে, যা ঘিরে দেশজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। শরিয়াহ আইনের তালেবানি ব্যাখ্যার ভিত্তিতে তৈরি ৩১ অনুচ্ছেদের এই অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ‘দম্পতিদের পৃথকীকরণের নীতিমালা’ শিরোনামের এই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা ইতোমধ্যে মানবাধিকার সংগঠন, নারী অধিকারকর্মী এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ‘নীরবতা মানেই সম্মতি’—সবচেয়ে বিতর্কিত ধারা নতুন আইনের সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত অংশে বলা হয়েছে, কোনও ‘কুমারী মেয়ের’ নীরবতাকে বিয়ের ক্ষেত্রে তার সম্মতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে। তবে একই নিয়ম পুরুষ বা বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। সমালোচকদের মতে, এই ধারা নারীর ব্যক্তিগত মতামত ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষ করে এমন একটি সমাজে, যেখানে নারীরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে চাপে রয়েছেন, সেখানে নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে ধরা জবরদস্তিমূলক বিয়েকে বৈধতা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ ক্ষেত্রে বৈধতা পাচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিশেষ পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাবা কিংবা দাদাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ঠিক হওয়া কোনও নাবালক ছেলে বা নাবালিকা মেয়ের বিয়ে বৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে—যদি পাত্র সামাজিকভাবে ‘উপযুক্ত’ হয় এবং মোহরানার পরিমাণ ধর্মীয় মানদণ্ড পূরণ করে। তবে এখানে একটি শর্তও যুক্ত করা হয়েছে। ‘যৌবনোত্তীর্ণ হওয়ার পর সিদ্ধান্তের অধিকার’ নামের একটি আইনি নীতির আওতায় বলা হয়েছে, বয়ঃসন্ধির আগে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চাইলে বাতিলের আবেদন করতে পারবে। যদিও সেই আবেদন গ্রহণের চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে ধর্মীয় আদালতের হাতে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিধান আংশিক আইনি সুরক্ষা দিলেও বাস্তবে সামাজিক চাপ, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং নারীদের সীমিত স্বাধীনতার কারণে তা কার্যকর হওয়া কঠিন হতে পারে। বিচারকদের বাড়তি ক্ষমতা নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে তালেবান বিচারকদের পারিবারিক ও সামাজিক বিষয়ে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ধর্মান্তর, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি কিংবা পারিবারিক বিরোধের মতো বিষয়ে বিচারকেরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। প্রয়োজনে তারা বিচ্ছেদ, কারাদণ্ড বা অন্য শাস্তিও দিতে পারবেন। আইন বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই ধারা বিচারিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বাড়াবে এবং ব্যক্তিগত জীবনে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করবে। নারীদের ওপর ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণ ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই তালেবান সরকার আফগান নারীদের ওপর একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। বর্তমানে আফগানিস্তানে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ। নারীদের বহু সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে অংশগ্রহণ সীমিত করা হয়েছে। একা ভ্রমণ, জনসমক্ষে উপস্থিতি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নতুন পারিবারিক আইন সেই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যে তালেবানের এই নতুন আইনের সমালোচনা শুরু করেছে। তাদের মতে, এই আইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ, নারী অধিকার এবং শিশু সুরক্ষা নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “নীরব সম্মতি” এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের বৈধতা—এই দুটি ধারা ভবিষ্যতে আফগান সমাজে নারী ও শিশুদের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। তাদের আশঙ্কা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্বাধীনতায় আগেই পিছিয়ে পড়া আফগান নারীরা নতুন এই আইনের ফলে আরও প্রান্তিক হয়ে পড়বেন।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগামের (টিভিকে) সরকার গঠনের পথে অবশেষে বাধা কাটল। স্থানীয় দল বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেওয়ায় এটা সম্ভব হয়েছে। ভিসিকে ও আইইউএমএলের দুটি করে চারটি আসন টিভিকের ভান্ডারে যোগ হয়েছে। এতে তাদের মোট আসন দাঁড়াল ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য দরকার ছিল ১১৮টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত হওয়ায় টিভিকে সদর দপ্তরে ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা তৈরি হয়। দলনেতা ও সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘উল্লাস শুরু করো।’ ভিসিকের আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্রে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুতে স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক সরকার নিশ্চিত করতে থালাপতি বিজয়কে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। দলটির বিধানসভা দলনেতা ভান্নি আরাসু স্বাক্ষরিত ওই চিঠি রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার থালাপতি বিজয় নিজ দল টিভিকের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে চেন্নাইয়ের লোকভবনে যান। সেখানে তিনি কংগ্রেস, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিআই(এম)-এর সমর্থনপত্র জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী, বিজয় থালাপতি সব সমর্থনপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। এরপর রাজ্যপাল তাঁকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। রাজ্যপালের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, আজ শনিবার থালাপতি রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গত সোমবার তামিলনাডু বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। এতে সবচেয়ে বেশি আসন পায় তামিল চলচ্চিত্রের নায়ক থেকে রাজনীতিতে এসে চমক দেখানো থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে। তারা পায় ১০৮টি আসন। এর মধ্যে বিজয় নিজে লড়েছিলেন দুটি আসনে। ফলে দলের মোট বিধায়কের সংখ্যা ১০৭। কিন্তু ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। শুক্রবার পর্যন্ত টিভিকের সমর্থন কার্যত ১১৬-তে আটকে ছিল। আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত তারা ভিসিকের আনুষ্ঠানিক সমর্থনের অপেক্ষায় ছিল। ভিসিকে ও আইইউএমএলের সমর্থন নিশ্চিত হওয়া দক্ষিণ ভারতের রাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো জোট সরকার গঠনের পথ তৈরি হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বল্প সময়ের জন্য ‘অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে জানা গেছে। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির ঘোষিত ফলাফলে বিজেপি পেয়েছে ২০৭টি আসন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। এনডিটিভি-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন রাজ্যপালকে ফলাফল জানাবে। এরপর সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হবে। তবে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানানো হতে পারে। এদিকে, আগামী ৯ মে নতুন সরকার শপথ নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দিনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এটিকে প্রতীকী গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে নির্বাচনে পরাজয়ের পরও নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত কয়েকদিন প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে সরকারি বাসভবন ছেড়ে দিতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (৫ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করবেন না এবং বর্তমান নির্বাচনী ফলাফলও মেনে নিচ্ছেন না। “আমি কেন রাজভবনে যাব? শপথ নিতে গেলে যেতাম। ওরা দখল করেছে। আমি পদত্যাগ করতে যাব না। আমরা ভোটে হারিনি,”—সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন তিনি। ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন নির্বাচনের ফলাফলকে “অপ্রকৃত” দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, প্রায় ১০০টি আসনে ভোট লুট হয়েছে। তার মতে, গণনাকেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর আচরণ নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তার ভাষায়, “ওরা গুণ্ডার মতো আচরণ করেছে। এমন নির্বাচন আমি কোনোদিন দেখিনি।” বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যেই তিনি একাধিক বিরোধী নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান। এদের মধ্যে রয়েছেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, উদ্ধব ঠাকরে এবং হেমন্ত সোরেন। তবে সম্ভাব্য জোট বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাননি তিনি। রাজনৈতিক অবস্থান তৃণমূল প্রধান দাবি করেন, তার ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতার প্রতি কোনো আগ্রহ নেই, বরং মানুষের জন্য কাজ করাই তার লক্ষ্য। তিনি বলেন, “যদি সঠিকভাবে পরাজয় পেতাম, তাহলে নিশ্চয়ই পদত্যাগ করতাম। কিন্তু আমাকে জোর করে পরাজিত করা হয়েছে। ফলে পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।” সারসংক্ষেপ এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বিতর্ক চললেও তিনি রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং ক্ষমতা ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ১২৬ আসনের বিধানসভায় দলটি এবং তাদের মিত্ররা মিলিয়ে মোট ১০২টি আসন পেয়ে এক নতুন রাজনৈতিক নজির গড়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-এর নেতৃত্বে এই জয় গত এক দশকের মধ্যে রাজ্যে বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানকে নির্দেশ করে। ২০১৬ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ৮৬টি এবং ২০২১ সালে ৭৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিল। তবে এবার দলটি একাই ৮২টি আসন নিশ্চিত করেছে। মিত্র দল বিপিএফ ও এজিপি ১০টি করে আসন পাওয়ায় এনডিএ জোটের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় কেবল দলের নয়, বরং হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে ‘অবৈধ অভিবাসন’ ও ‘মিয়া মুসলিম’ ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং নারীদের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্পের ওপর জোর দেওয়া হয়। শর্মার ‘মামা’ ইমেজ এবং আক্রমণাত্মক অথচ জনমুখী রাজনৈতিক অবস্থান ভোটারদের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, বিরোধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দলটি মাত্র ১৯টি আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে। দলের শীর্ষ নেতা গৌরব গগৈ এবং বিদায়ী বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া-সহ একাধিক প্রভাবশালী প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। বিরোধী জোট মোট ২১টি আসন পেয়েছে। এছাড়া রাইজর দল দুটি আসনে জয়ী হয়েছে। এআইইউডিএফ পেয়েছে মাত্র ২টি আসন—যা তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল। তৃণমূল কংগ্রেস একটি আসনে জয় পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেস যে আসনগুলোতে জয় পেয়েছে সেগুলো ছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রেই সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রভাব বেশি ছিল, যা রাজ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দেয়। নিজের জালুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে ষষ্ঠবারের মতো বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। প্রায় ৮৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে তার এই জয় আরও একবার তার রাজনৈতিক প্রভাবকে সুসংহত করেছে। জয়ের পর তিনি বলেন, এই ফলাফল উন্নয়ন, নারীশক্তির অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক আত্মপরিচয়ের প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন। বরাক থেকে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা পর্যন্ত সমগ্র অঞ্চলে উন্নয়ন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার বার্তাকে এই রায় আরও জোরালো করেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সামনে রেখে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ পৌঁছেছে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে তারা সেখানে পৌঁছায় বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা। ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিতে ইতিমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার আলোচনায় অংশ নেবেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতির আপডেট জানতে চোখ রাখুন আমাদের সঙ্গে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভারতের বিহারের আরারিয়া জেলার ফরবিসগঞ্জে পার্কিং নিয়ে সামান্য এক বিবাদকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল চরম নৃশংসতা। বিবাদের জেরে এক পিকআপ ভ্যান চালককে কুপিয়ে শিরশ্ছেদ করার অভিযোগ উঠল এক হকারের বিরুদ্ধে। এর কিছুক্ষণ পরই উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দিলে তারও মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবারের এই জোড়া খুনের ঘটনায় গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত চালকের নাম আলি হুসেন। তিনি যোগবনীর বাসিন্দা। ফরবিসগঞ্জ শহরে গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে স্থানীয় এক রাস্তার ধারের বিক্রেতা রবি চৌহানের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সামান্য বচসা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। রাগের মাথায় রবি চৌহান একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলিকে আক্রমণ করেন এবং সবার সামনে তাঁর শিরশ্ছেদ করেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, "ঘটনার পর রবি বিচ্ছিন্ন মাথাটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মানুষ আতঙ্কে দিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল, অনেকেই এগিয়ে না এসে ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিল।" এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের আত্মীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা অভিযুক্ত রবি চৌহানকে তাঁর বাড়ির কাছ থেকে খুঁজে বের করেন। উত্তেজিত জনতা রবিকে টেনে-হিঁচড়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে এবং লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতিতেই উন্মত্ত জনতার মারে মৃত্যু হয় অভিযুক্ত রবির। জোড়া খুনের ঘটনায় ফরবিসগঞ্জ জুড়ে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করে এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে। মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য আসা একটি অ্যাম্বুল্যান্স ভাঙচুর করা হয়। এমনকি ফরবিসগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালেও হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা, যার ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাণভয়ে পালিয়ে যান। আতঙ্কে শহরের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরারিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জিতেন্দ্র কুমার বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স।পুলিশ সুপার বলেন, "আমরা দুটি ঘটনারই তদন্ত শুরু করেছি। যারা এই হত্যাকাণ্ড এবং ভাঙচুরের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে।" বর্তমানে ফরবিসগঞ্জের পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও পুলিশি নজরদারিতে তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক বা গোষ্ঠী সংঘর্ষের আশঙ্কা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
দিল্লি, ২৪ মার্চ: ভারতের কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী শারীরিক অসুস্থতা ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থতা অনুভব করার পরপরই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে তার সঙ্গে রয়েছেন ছেলে রাহুল গান্ধী এবং মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। হাসপাতাল থেকে এখনও পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কোনো সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে শ্বাসকষ্টসহ কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সোনিয়া গান্ধী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং অনুরূপ শারীরিক সমস্যার কারণে এর আগেও একাধিকবার স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, তার বর্তমান অবস্থার তত্ত্বাবধান ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালু রয়েছে এবং কোনো গুরুতর জটিলতার আভাস এখনও পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান থেকে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই লক্ষ্যে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ইরান থেকে প্রায় ২৫০ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আঙ্কারায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা গেছে। এর আগেও গত বছর বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইরান থেকে ২৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রত্যাবাসন পরিচালনা ও সমন্বয় করতে ঢাকা থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই জন কর্মকর্তা এবং তুরস্কের আঙ্কারার বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা আজারবাইজানের বাকুতে যাচ্ছেন। বাকুর হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। এ জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।সূত্র আরও জানায়, ফিরিয়ে আনার জন্য আনুষঙ্গিক খরচ (জনপ্রতি ভিসা ফি, ওষুধ, খাবার, স্থলপথে পরিবহন খরচ) হিসাবে প্রায় ২৩ হাজার ডলার দিচ্ছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। আর চার্টার্ড বিমানের খরচ দেবে সরকার। তবে এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিক পরিকল্পনায় আটকে পড়া বাংলাদেশিদের তেহরান থেকে আজারবাইজান সীমান্ত পর্যন্ত সড়ক পথে নিয়ে আসা হবে। এরপর আজারবাইজান সীমান্ত থেকে বাকু পর্যন্ত সড়কপথে নিয়ে যাওয়া হবে। বাকু’র বিমানবন্দর থেকে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের ঢাকায় নিয়ে আসা হবে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, আজারবাইজানের আকাশসীমা আংশিক খোলা আছে। বাকু থেকে কাস্পিয়ান সাগরের ওপর দিয়ে নিয়মিত বিমান চলাচল করছে। এই রুটে বাকু থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে ফ্লাইট এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী ১৯ অথবা ২০ মার্চ ফ্লাইট পাওয়া যেতে পারে। ইরান-ইসরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় স্থবিরতা নিয়ে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকেও প্রায় ১৮ দিনে ৫৫৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সৌদি আরবে ২ জন, বাহরাইনে ১ জন ও দুবাইয়ে ১ জন মারা গেছেন। এছাড়া এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মতো আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ১০-১৫টি দেশে যুদ্ধের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ইসরায়েল ও লেবানন হলেও, এর প্রভাব বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, ইয়েমেন ও সিরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যেখানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটছে। এর আগে ইরান থেকে গত বছর বেশ কিছু বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়। ইরানে যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে। ভারত তাদের নাগরিকদের আরমেনিয়া হয়ে দেশে ফেরাচ্ছে। সেদেশের নাগরিকদের ইরান থেকে আরমেনিয়া পর্যন্ত নিজ দায়িত্বে যেতে বলা হয়েছিল।
বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেন ভারতে গ্রেফতার হওয়ার পর সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রোববার পশ্চিমবঙ্গে ওই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে তাদের ভারতে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-এর অধীনস্থ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের নজর এড়িয়ে কীভাবে ওই দুই ব্যক্তি ভারতে ঢুকল, তার ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই অভিযুক্ত ভারতে প্রবেশ করেছেন মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে, যেখানে বর্তমানে বিজেপি-সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তিনি বলেন, “অমিত শাহ আমাদের সীমান্ত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত Mamata Banerjee-র পুলিশের হাতেই গ্রেফতার হয়েছে দুই অভিযুক্ত।” অরূপ চক্রবর্তীর অভিযোগ, মেঘালয় থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে হলে আসাম ও ত্রিপুরা অতিক্রম করতে হয়, আর এই দুই রাজ্যেই ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। তার ভাষায়, “দুই রাজ্যের পুলিশ এবং অমিত শাহর বিএসএফের চোখে ধুলো দিয়ে দুষ্কৃতীরা দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে।” তবে এই অভিযোগ নাকচ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপির মুখপাত্র দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গই বাংলাদেশের অপরাধীদের জন্য একটি “নিরাপদ আশ্রয়স্থল” হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “শুধু হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্তরা নয়, বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের বা অন্য দেশের অপরাধীরা পালিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিচ্ছে।” দেবজিৎ সরকারের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৪০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের যে প্রক্রিয়া হয়েছে, তা নিয়ে বিএসএফ পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। এই ঘটনায় একদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে ভারতীয় রাজনীতিতেও নতুন করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। টাইমলাইন: হাদি হত্যা মামলা ঘটনার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশে হত্যা – ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি খুন হন তদন্ত শুরু – বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে প্রধান সন্দেহভাজন শনাক্ত – ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ভারতে পালানোর অভিযোগ – তদন্তে উঠে আসে তারা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছে রোববার গ্রেফতার – পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ফ্যাক্টবক্স: কী জানা গেছে হাদি হত্যা মামলা – গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিহত: শরিফ ওসমান হাদি পদবি: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক প্রধান অভিযুক্ত: ফয়সাল করিম মাসুদ সহযোগী অভিযুক্ত: আলমগীর হোসেন গ্রেফতার: পশ্চিমবঙ্গ, ভারত সম্ভাব্য প্রবেশ পথ: মেঘালয় সীমান্ত বিশ্লেষণ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে দায় চাপানোর প্রবণতা আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী বিজেপির মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিরোধ চলছে। হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্তদের গ্রেফতারের ঘটনাটি সেই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।