Brand logo light

খুলনা

সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু।
সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু: নতুন মৌসুমে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে উপকূলে

প্রজনন মৌসুমে টানা দুই মাস বন্ধ থাকার পর, অবশেষে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে উপকূলের জেলে পরিবারগুলোতে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। রোববার (০১ মার্চ) সকাল থেকে সুন্দরবনের উদ্দেশে জেলেরা যাত্রা শুরু করেছেন। এই মৌসুমে কাঁকড়া আহরণের জন্য বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে তাঁরা সক্রিয় হয়েছেন। হরিনগর জেলেপাড়ায় চুনকুড়ি নদীর তীরে, জেলেরা কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম প্রস্তুত করছেন। কেউ দোন-দড়ি গুছাচ্ছেন, কেউ নৌকার ত্রুটি সারছেন, এবং সকলেই দীর্ঘ বিরতির পর আবার বনে ফেরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলে অরুণ মন্ডল জানান, কাঁকড়া ধরেই তাঁর পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। নিষেধাজ্ঞার দুই মাস আয় বন্ধ থাকায় তিনি মহাজনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, তবে নতুন মৌসুমে সেই ঋণ শোধের আশা করছেন তিনি। অপরদিকে, জেলে নিত্যরঞ্জন মন্ডল জানান, সরকারি ভাতার ব্যবস্থা না থাকায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। তবে, এখন তারা আবার জীবিকা নির্বাহের পথ পেয়েছেন, যা তাদের জন্য সুখবর। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতায় ২ হাজার ৯০০টি নৌকা কাঁকড়া আহরণের জন্য প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬০০টি নৌকা নিবন্ধিত। রোববার সকাল ১১টা পর্যন্ত ৭০৫ জন জেলে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছেন। তবে, বন বিভাগের তথ্যমতে, সাতক্ষীরা রেঞ্জের কিছু এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষিত করা হয়েছে, যেখানে কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ। ছোট কেয়াখালী, বড় কেয়াখালী, খোলশিবুনিয়া, সাপখালী খালসহ অন্যান্য সংরক্ষিত খালে কাঁকড়া ধরা পুরো বছরই নিষিদ্ধ। এদিকে, সহকারী বন সংরক্ষক মো. মসিউর রহমান জানান, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে কাঁকড়ার প্রজনন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আহরণ বন্ধ ছিল। তবে, ১ মার্চ থেকে অভয়ারণ্য ছাড়া অন্যান্য নদী ও খালে কাঁকড়া আহরণ শুরু হয়েছে। এছাড়া, ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলারে কাঁকড়া পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। ১৯৯৮ সালে কাঁকড়া রপ্তানি নীতিমালা প্রণয়নের পর থেকে প্রতিবছর দুই মাস কাঁকড়া আহরণের পাস-পারমিট স্থগিত করা হয়। এবারও সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা শেষে নতুন মৌসুম শুরু হয়েছে। এভাবে, সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ পুনরায় শুরু হওয়ায় উপকূলীয় জনপদে কর্মচাঞ্চল্য ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। এভাবে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ পুনরায় শুরু হওয়া, উপকূলীয় মানুষের জন্য নতুন জীবিকা শুরু হওয়ার সূচনা করেছে ।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ২, ২০২৬ 0
শেখ সোহেল
খুলনায় মোটরসাইকেলে এসে ব্যবসায়ী শেখ সোহেলকে গুলি করে হত্যা

খুলনা: খুলনা মহানগরীতে দিনদুপুরে মোটরসাইকেলে এসে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম শেখ সোহেল (৪১)। তিনি মাছের ঘের ও ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে খানজাহান আলী থানা এলাকার আফিলগেট পেট্রল পাম্প-সংলগ্ন একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শেখ সোহেল থানাধীন আটরা শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাচ্চু শেখের ছেলে। ঘটনাস্থলে যা ঘটে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা আড়াইটার দিকে আফিলগেট এলাকার বিসমিল্লাহ মোটর গ্যারেজে মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য আসেন শেখ সোহেল। বিকাল ৩টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবক তাকে লক্ষ্য করে পরপর চার থেকে পাঁচটি গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়। পুলিশের বক্তব্য খানজাহান আলী থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম জানান, দুই যুবক মোটরসাইকেলে এসে শেখ সোহেলকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় আতঙ্ক ঘটনার পর আফিলগেট এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষ
ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত-১১

ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফ চালের কার্ড ভাগাভাগি কেন্দ্র করে মাগুরা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে বিএনপির দু’গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে বাটিকাডাঙ্গা এলাকায় এ সংঘর্ষে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি শেখ তরিকুল ইসলামসহ অন্তত ১১ জন গুরুতর আহত হন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পৌর শাখার পক্ষ থেকে ৮নং ওয়ার্ডের জন্য ৩শ জনের ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ করা হয়। বুধবার বেলা ১১টার দিকে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল হোসাইন ওই কার্ড বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে ওয়ার্ড কার্যালয়ে যান। এ সময় আবুল হোসেন আবু নামে এক কর্মী বরাদ্দকৃত কার্ডের একটি অংশ দাবি করেন। কিন্তু ওয়ার্ড সভাপতি শেখ তরিকুল ইসলাম তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৮টার দিকে বিষয়টি কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ বাটিকাডাঙ্গা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে আবুল হোসেন আবু সমর্থিতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শেখ তরিকুল ইসলামকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এছাড়া আসলাম, বাকের, দেলোয়ার, ইয়াছিন, রহিলসহ আরও অন্তত ১০ জন কমবেশি আহত হন। আহতদের মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঘটনার খবর পেয়ে সেনা সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ, র্যাব ও সেনা সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ শিবলী সাদিক জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান লিটন।
মাগুরার শ্রীপুরে অসুস্থ শিশুকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর অভিযোগ

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সাত বছর বয়সী এক অসুস্থ শিশুকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুরে অবস্থিত শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ঘটে। অসুস্থ শিশু আফিয়া খাতুন মাগুরা সদর উপজেলার শেখ পাড়া গ্রামের ইলিয়াস আলীর মেয়ে। কীটনাশক পান করে অসুস্থ পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে আফিয়া তার মামার বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের চরচৌগাছি গ্রামে বেড়াতে যায়। সেখানে মামার ঘরের এক কোণায় কৃষিজমিতে ব্যবহারের কীটনাশক রাখা ছিল। খেলার ছলে আফিয়া সেটি পান করে ফেলে। অল্প সময়ের মধ্যেই সে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা দ্রুত তাকে দারিয়াপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল-এ স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর অভিযোগ পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক আকিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন। প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষার পর চালক তাদের অসুস্থ শিশুসহ নেমে যেতে বলেন। স্বজনদের দাবি, চালক জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) জরুরি প্রশাসনিক কাজে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করবেন এবং রোগীকে অন্য যানবাহনে করে যেতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তারা ইজিবাইকে করে শিশুটিকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। কর্মকর্তার বক্তব্য এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান লিটন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাগুরা সদর হাসপাতাল খুব বেশি দূরে নয়। সে কারণে বিকল্পভাবে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমার সরকারি গাড়ির দুই বছর ধরে জ্বালানি বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে। কিছু জরুরি প্রশাসনিক কাজে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে হয়।” প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সালেক মূহিদ বলেন, অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। ভবিষ্যতে অ্যাম্বুলেন্স যেন সাধারণ রোগীদের সেবায় সর্বদা ব্যবহৃত হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির বলেন, “অসুস্থ শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে কোনোভাবেই নামানো উচিত হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।  

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
আমির হামজা
৭৯ জন মিলে ২১১ জনকে “তীরের মতো সোজা” করার হুঁশিয়ারি মুফতি আমির হামজার

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া শহরতলীর ত্রিমোহনী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে খুতবার আগে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি বিরোধী দলের ৭৯ জন সংসদ সদস্য এবং সরকারি দলের ২১১ জন সংসদ সদস্য কাকে কিভাবে পরিচালনা করা হবে — সেই সংক্রান্ত বক্তব্য তুলে ধরেন। খুতবার আগের আলোচনায় মুফতি আমির হামজা বলেন, “চরমোনাইয়ের একজনসহ আমরা ৭৮ জন, আর শেরপুরের একজন বাকি আছে — এই ৭৯ জন, আর বাকি আছে ২১১ জন সংসদ সদস্য। আমি মসজিদের মধ্যে বসে বলছি, ১০০% চেষ্টা চালাব এই ৭৯ জন মিলে তাদের তীরের মতো সোজা করে রাখতে। যদি এদিক-ওদিক করে, আমরা চেপে ধরব। সেটা সংসদের ভেতরে হোক, আর বাইরে হোক।” তিনি আরও বলেন, তাঁর কাছে দল-বেদল, ধর্ম-অধর্ম কিছুই বিবেচ্য নয়। “মানুষ হলে সে আমার কাছে সমান। আমার নিজের দল বা অন্য দলের লোক — আমি দেখি, তারা যা করেছে সেটা কি সঠিক বা বৈধ। যদি চাঁদাবাজি আমার দলের লোক করে, অসুবিধা নেই; আর যদি সেটা অন্য দলের লোক করে, তাহলে ধরা লাগবে — এটা তো ন্যায্য বিচারের নিয়ম না।” মুফতি আমির হামজা বলেন, “আমি এমপি হওয়ার জন্য ১ লাখ ৮৩ হাজার ভোট পেয়েছি। এটা শুধু তাদের নয় — আমার সাড়ে ৪ লাখ ভোট, এদের সবার এমপি। আমি সবাইকে নিজের আপন ভাই ও আপন বোন হিসেবে মনে করি। ইনশাআল্লাহ আগামী ৫ বছর আমি দায়িত্বটি সঠিকভাবে পালন করতে চাই।” এর আগে  তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ২৫০ শয্যার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে তিনি হাসপাতাল চত্বরে নিজ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দায়িত্বগ্রহণ করান।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
নজরুল ইসলাম মঞ্জু
খুলনা-২ আসনে বিএনপির দুর্গে ভাঙন, জামায়াতের ঐতিহাসিক জয়

দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে প্রথমবারের মতো বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা জয় পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবার নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হারিয়েছে। মাঠের রাজনীতিতে তিন দশকের বেশি সময় সক্রিয় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু-কে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে জয় পান জামায়াতের খুলনা মহানগর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই ছিল এ পরাজয়ের প্রধান কারণ। অতীতের শক্ত ঘাঁটি, ভাঙল দীর্ঘ ঐতিহ্য ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে খুলনা-২ আসন ছিল বিএনপির দখলে। এমনকি ২০০৮ সালের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও জয় ধরে রেখেছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আওয়ামী লীগ সরকারের কঠিন সময়েও তিনি এলাকায় ছিলেন সক্রিয় ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় বিএনপি শিবিরে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি তৈরি হয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রার্থী ঘোষণার পরও প্রথমদিকে মাঠে সক্রিয়তা না থাকা নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে। টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রার্থী ঘোষণার পরও মঞ্জু ভাইকে প্রথম পর্যায়ে মাঠে দেখা যায়নি। নির্দিষ্ট কার্যক্রম ছাড়া ডোর টু ডোর প্রচার ছিল না। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী শুরু থেকেই মাঠে সক্রিয় ছিল।” পরিকল্পিত প্রচারে এগিয়ে জামায়াত জামায়াত প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল ছিলেন কৌশলী ও সংগঠিত। দলটির নেতাকর্মীরা পাড়া-মহল্লাভিত্তিক ছোট ইউনিটে ভাগ হয়ে ঘরে ঘরে প্রচারণা চালান। বিশেষ করে নারী ভোটারদের কেন্দ্রে আনার বিষয়ে ছিল আলাদা উদ্যোগ। বিএনপির প্রচারণা যেখানে মূল সড়ক ও বাজারকেন্দ্রিক ছিল, জামায়াত সেখানে অলিগলি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সংগঠিত উপস্থিতি নিশ্চিত করাই ছিল তাদের প্রধান কৌশল। দলটির কর্মী জিকু আলম জানান, “বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আমাদের মাথায় ছিল। ভোটারদের আস্থা থাকলেও তাদের বিশৃঙ্খলার সুযোগ আমরা কাজে লাগিয়েছি।” দলীয় কোন্দল: পরাজয়ের বড় কারণ ২০২১ সালে খুলনা মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়। মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড কমিটি থেকে তার অনুসারীদের বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। নির্বাচনের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐক্যের ছবি দেখা গেলেও বাস্তবে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। বর্তমান কমিটির অনেক প্রভাবশালী নেতা মাঠে সক্রিয় হননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সেকেন্দার আলী খান সাচ্চু বলেন, “কোন্দলের প্রভাব পড়েছে। আমরা দুই অংশ এক হলেও সবাই সেভাবে কাজ করেনি।” খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “এ আসনে তুলনামূলক ভোট কম পড়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে।” ভবিষ্যৎ সমীকরণে নতুন বার্তা খুলনা-২ আসনে জামায়াতের এই জয় দলটির জন্য কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর পরিকল্পিতভাবে প্রার্থী দিয়ে তারা একটি ঐতিহ্যবাহী আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, “এখনো বুঝে উঠতে পারছি না কেন হারলাম। বিষয়টি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ চলছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খুলনা-২ আসনের ফলাফল শুধু একটি আসনের পালাবদল নয়—এটি ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। দলীয় ঐক্য, মাঠভিত্তিক সংগঠন এবং ভোটার ব্যবস্থাপনা—এই তিনটি উপাদানই আগামী দিনের রাজনীতিতে নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল
খুলনা-২ : বিএনপির মঞ্জুকে হারিয়ে জিতলেন জামায়াতের জাহাঙ্গীর

খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে হারিয়ে জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বিজয়ী হয়েছেন।   বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়। বিকাল থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। রাত পৌনে ১টার দিকে এ আসনের মোট ১৫৮টি কেন্দ্রের সবকটির ভোট গণনা শেষ হয়। জামায়াতের প্রার্থী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমানুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছে ৭ হাজার ২৯৮ ভোট। খুলনার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আসম জামশেদ খোন্দকার ভোটের এ ফল নিশ্চিত করেছেন। ২০০৮ সালে খুলনার ৬টি আসন থেকে একমাত্র বিএনপির প্রার্থী হিসেবে খুলনা-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ২০০১ সালে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ আসন থেকে জয় পান। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এখানে বিএনপি থেকে জয় পান সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী। ১৯৯৬ সালের পর এ আসনে কখনো প্রার্থী দেয়নি জামায়াত।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
মিয়া গোলাম পরওয়ার-আলি আসগার (লবি)
জামায়াত সেক্রেটারিকে হারিয়ে বিএনপির আলি আসগার লবি বিজয়ী

খুলনা-৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। এ আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার (লবি)।   পোস্টাল ভোটসহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১৪৬,৮৮৮ ভোট। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার (লবি) ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পোস্টাল ভোটসহ পেয়েছেন ১৪৮৮৮৭ ভোট। ১৯৯৯ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপির আলী আসগর লবী।আসনটিতে মোট কেন্দ্র রয়েছে ১৫০টি। ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯৮। ফুলতলা, ডুমুরিয়া উপজেলা এবং গিলাতলা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত খুলনা–৫ আসন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
মো. আসাদুজ্জামান
ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসাদুজ্জামান প্রাথমিকভাবে বিজয়ী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মতিউর রহমান। রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া বেসরকারি ফলে মো. আসাদুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৭৭ ভোট। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩ জন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
কৃষ্ণ নন্দী
হারলেন জামায়াতের একমাত্র হিন্দু প্রার্থী

খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী আমীর এজাজ খান। তিনি নিকটতম প্রার্থী জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দীর চেয়ে ৫০ হাজার ৪৩৪ ভোট বেশি পেয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আমীর এজাজ খান পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৬৫৮ হাজার ভোট। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই ফলাফল পাওয়া যায়। এর আগে এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এদিন দেশজুড়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ভোটাররা উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে তাদের রায় প্রদান করেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই রেকর্ডসংখ্যক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল এই নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৯ জন; যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৪ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮০ জন। এবারের নির্বাচনে মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরার চারটি আসনেই জামায়াত প্রার্থীদের জয়
সাতক্ষীরার চারটি আসনেই জামায়াত প্রার্থীদের জয়

য়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। জেলার সব কেন্দ্রের ফলাফলে তারা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুযারি) রাতে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া)   সংসদীয় আসন নম্বর ১০৫-এর ১৬৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে দাড়িপাল্লা প্রতীকের ইজ্জত উল্যাহ পেয়েছেন ২ লাখ ৭ হাজার ৫৯৪ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৮ ভোট।     সাতক্ষীরা-২ (দেবহাটা-সাতক্ষীরা সদর)   সংসদীয় আসন নম্বর ১০৬-এর ১৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলে দাড়িপাল্লা প্রতীকের মুহাদ্দিস আবদুল খালেদ পেয়েছেন ২ লাখ ৬০ হাজার ৪২৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের আব্দুর রউফ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯১ ভোট। সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) মোট ১৬৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে এ আসনে দাড়িপাল্লা প্রতীকের রবিউল বাশার পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল প্রতীকের ডা. শহিদুল আলম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৮৩৪ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের কাজী আলাউদ্দীন পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৭৩৪ ভোট। সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) সংসদীয় আসন নম্বর ১০৮, সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে মোট ৯৬টি কেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে। এ আসনে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৪৬২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের ড. মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪২৪ ভোট। উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ্ আফরোজা আক্তার বলেন, আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটযুদ্ধ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। এদিন সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার পর ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোটাররা আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তাদের মতামত দিয়েছেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫নং সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র
ঝিনাইদহ-৪ আসনে ভোটের আগেই স্বাক্ষর করা ২৩ রেজাল্ট শিট উদ্ধার

ঝিনাইদহ-৪ আসনে কালীগঞ্জ উপজেলার সলিমুন্নেসা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর করা ২৩টি শিট উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫নং সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা এগুলো জব্দ করেন। এ ঘটনায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জেসমিন আরাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আজ রাতে কালীগঞ্জের সলিমুন্নেসা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের এক পোলিং এজেন্ট আসেন। এ সময় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জেসমিন আরা তার কাছ থেকে ফাঁকা রেজাল্ট শিটে সই করিয়ে নেন। পরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোলিং এজেন্ট এসে সাতটি রেজাল্ট শিটে সই করেন। বাইরে এসে ধানের শীষ প্রতীকের ওই পোলিং এজেন্ট ফাঁকা রেজাল্ট শিটে সই করার কথা জানান। তখন বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা ঘটনাস্থলে আসেন। এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা বলেন, সাধারণত নিয়ম রয়েছে ভোট গণনার শেষে এজেন্টরা রেজাল্ট শিটে সই করবেন। কিন্তু প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আগে থেকেই সেটি করিয়েছেন, যেটা ঠিক হয়নি। ওই প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
অবৈধ ট্যাপেন্ডাডলসহ ভারতীয় আটক
অবৈধ ট্যাপেন্ডাডলসহ ভারতীয় আটক

যশোরের শার্শার বেনাপোলে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ট্যাপেন্ডাডলসহ (ব্যাথা প্রশমনকারী ওষুধ) এক ভারতীয় নাগরিক আটক হয়েছেন। চোরাচালানের অভিযোগে ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি) এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে ধরেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটকের খবর নিশ্চিত করে বিজিবি সূত্র জানায়, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বেনাপোল আইসিপির আমদানি-রপ্তানি গেটে একটি ট্রাকে তল্লাশি চলে। তল্লাশিকালে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) সদস্যরা ট্রাকের ভেতর থেকে অবৈধ ভারতীয় ১ হাজার ৬০০টি ট্যাপেন্ডাডল উদ্ধার করেন। এ সময় আনার গাজী নামে ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়। তিনি ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁওয়ের মনিগ্রাম সুখপুকুর গ্রামের হাজরা গাজীর ছেলে। এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়ন ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ ছিদ্দিকী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল আইসিপির আমদানি-রপ্তানি গেটে একটি ট্রাকে তল্লাশি চলে। তল্লাশির সময় ট্রাকের ভেতর থেকে অবৈধ ভারতীয় ১ হাজার ৬০০টি ট্যাপেন্ডাডল উদ্ধার করা হয় এবং একজন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়। বিজিবি আরো জানায়, উদ্ধার করা অবৈধ ভারতীয় ওষুধের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান আছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
রাকিব হোসেন
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত

খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে রাকিব হোসেন (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে মহানগরীর লবণচরা থানাধীন কোপা মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাকিব হোসেন লবণচরা থানার আশি‌বিঘা এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রাকিব কোপা মসজিদের সামনে একটি সেলুনে বসে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ দুই যুবক সেলুনে প্রবেশ করে তাকে টেনে বাইরে নিয়ে যায়। পরে রাস্তায় নিয়ে রাকিবের মাথায় পরপর দুইটি গুলি করে তারা। গুলিবিদ্ধ হয়ে রাকিব মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা হেঁটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রাকিবকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুইটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহত রাকিব একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ মোট তিনটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত কয়েকজনের নাম ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। খুব দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, ইরান বলছে বেঁচে আছেন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েলসহ একাধিক গণমাধ্যমও সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে, এই দাবি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই ইরান সরকার কঠোর ভাষায় তার নেতার জীবিত থাকার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আলম জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও বলা হয়, তিনি দেশের সেনাবাহিনী এবং সরকারের নেতা হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।   খামেনি বেঁচে আছেন, দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন:ইরানের গণমাধ্যমের দাবি এদিকে, এনবিসিতে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ স্থানে আছেন।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও তাদের নেতার বেঁচে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তবে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি, ইরান সরকার তাদের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এ ঘটনার পর বিশ্বের নজর তেহরানে, এবং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

Top week

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, ইরান বলছে বেঁচে আছেন

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১, ২০২৬ 0