Brand logo light

অর্থনীতি

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ৪৭ ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র
বাংলাদেশে ৪৭টি তেল-গ্যাস ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র শিগগির: এলএনজি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা

বাংলাদেশে গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলা এবং ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে স্থলভাগ ও সমুদ্রের মোট ৪৭টি ব্লকে দ্রুত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশোধিত উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি (PSC) কাঠামোর আওতায় ২১টি অনশোর (স্থলভাগ) এবং ২৬টি অফশোর (সমুদ্র) ব্লকে বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানিকে অনুসন্ধানের সুযোগ দেওয়া হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বানের জন্য প্রস্তুত। এখন শুধু সরকারের চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষা। জ্বালানি বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, “স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান নতুন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।” গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ও ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি কমাতে স্থলভাগ ও সাগরের ব্লকগুলোতে দ্রুত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করতে চায় সরকার। মোট ৪৭টি ব্লকে দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগসংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। সাগরে ও স্থলভাগে অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের অগ্রাধিকার ১৮০ দিনের মধ্যে দরপত্রের এ বিষয়ও থাকছে।’ জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সংশোধিত উৎপাদন-বণ্টন কাঠামোর (পিএসসি) আওতায় দেশের স্থলভাগে ২১টি ব্লক এবং অফশোরে (সাগরে) ২৬টি ব্লকে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর (আইওসি) অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহবান করা হবে। এ উদ্দেশ্যে পেট্রোবাংলা তাদের প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছে। সরকারের কাছ থেকে অনুমতি পেলে সাগরে ও স্থলভাগে দ্রুতই আন্তর্জাতিক দরপত্রে যেতে চায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি। পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্থলভাগে ও সাগরে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানে পেট্রোবাংলা প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনায়ও গ্যাস অনুসন্ধানে অফশোর-অনশোরে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এখন সরকারের অনুমতি পেলে দ্রুতই দরপত্র আহ্বানের কার্যক্রম শুরু করা হবে।’ বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ পাঁচ বছরের এক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে সরকারের কাছে। ওই কর্মপরিকল্পনায় ১০০ দিনের মধ্যে উৎপাদন-বণ্টন চুক্তির আওতায় স্থলভাগ ও সমুদ্র অঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মডেল পিএসসি ২০২৬ চূড়ান্তকরণের কথা বলা হয়। যা জ্বালানি বিভাগ এরই মধ্যে চূড়ান্ত করেছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্থলভাগ ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে বিডিং রাউন্ড আহ্বান করার কথা তুলে ধরা হয়। এ কর্মপরিকল্পনায় আরো রয়েছে সাইসমিক ডেটা অ্যাকুইজিশন শেষ করা, ৫০০ লাইন কিলোমিটার টুডি সাইসমিক সার্ভে, ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় থ্রিডি সাইসমিক সার্ভে এবং স্থলভাগে সিলেট অঞ্চলে লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাসটিলা সাউথ ও ফেঞ্চুগঞ্জ ওয়েস্ট স্ট্রাকচার সার্ভে করা। দেশে জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আইন মন্ত্রণালয় অফশোর মডেল প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট-২০২৬-এর খসড়া যাচাই করার পর দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে। অফশোর ও অনশোরে আইন মন্ত্রণালয় বেশকিছু বিষয়ে জানতে চেয়েছে। সেসব বিষয়ে তথ্যও এরই মধ্যে পেট্রোবাংলা থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ১১ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন চলছে। এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এলএনজির দাম জাপান-কোরিয়া মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় সাড়ে ১৬ ডলারের কাছাকাছি চলে গেছে। স্পট মার্কেট থেকে বাংলাদেশ প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি সর্বশেষ ২১ ডলারে কিনেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল-গ্যাস সংগ্রহ ক্রমেই কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। পেট্রোবাংলার দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহের তথ্যে দেখা গেছে, প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য হারে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে দেশীয় কূপগুলো থেকে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ করা যেত প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেটি কমে গতকাল সরবরাহ নেমেছে ১ হাজার ৭০১ মিলিয়ন ঘনফুটে। গত ছয় বছরে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় বাড়তি চাহিদা পূরণে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। দেশে মোট গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট থাকলেও গতকাল এলএনজিসহ জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হয় ২ হাজার ৫৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহে বড় ঘাটতি থাকায় শিল্প-কারখানা, আবাসিক, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সব ক্ষেত্রেই গ্যাসের সংকট চলছে। সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। ওই দরপত্রের চূড়ান্ত সময়সীমা ছিল নয় মাস। সংশ্লিষ্ট সময়ে সাতটি কোম্পানি তেল-গ্যাসের নথি কিনলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কোম্পানি দরপত্রে অংশ নেয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। পেট্রোবাংলা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সে সময় জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে দেশের অফশোরে বিদেশী অনেক কোম্পানির আগ্রহ থাকলেও দরপত্রে অংশ নেয়নি। তবে বহুজাতিক দুটি কোম্পানির সঙ্গে গত বছরের এপ্রিলে বণিক বার্তা যোগাযোগ করলে তারা জানায়, সাগরে দরপত্র আহ্বানে পেট্রোবাংলা যে পিএসসি তৈরি করেছে, সেখানে তেল-গ্যাসের দামে বৈশ্বিক কোম্পানিকে আকর্ষণ করার মতো তেমন কিছু নেই। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাগরে বিপুল পরিমাণ তেল-গ্যাস রয়েছে—এমন সম্ভাবনা পেট্রোবাংলার তথ্য-উপাত্তে পাওয়া যায়নি বলেও দাবি এসব বহুজাতিক কোম্পানির। দেশের সমুদ্রসীমায় আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানে বিদেশী কোম্পানির সাড়া না দেয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ করে পেট্রোবাংলা। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারও নতুন করে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বানের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরে। যদিও সে সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদে আর নতুন করে দরপত্র আহ্বানে জোরালা কোনো তৎপরতা দেখাতে পারেনি। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, নতুন পিএসসি মডেল চুক্তিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে গ্যাসের দাম নির্ধারণ পদ্ধতি, পাইপলাইন ব্যয়ের পুনরুদ্ধার, কাজের বাধ্যবাধকতা এবং শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে অবদানের ক্ষেত্রে বেশকিছু সংস্কার আনা হয়েছে। গ্যাসের দাম আগের উচ্চ সালফার ফুয়েল অয়েল সূচকের বদলে এখন থেকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। গভীর সমুদ্রের গ্যাসের দাম নির্ধারণ হবে ব্রেন্টের তিন মাসের গড় দামের ১১ শতাংশ (৭০ থেকে ১০০ ডলার ব্যারেল সীমা ধরে)। অগভীর সমুদ্রের ক্ষেত্রে হার হবে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। স্থলভাগের সমতল এলাকায় ৮ শতাংশ এবং পাহাড়ি এলাকায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া পাইপলাইন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আলোচনা সাপেক্ষ ট্যারিফ চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে বাধ্যতামূলক অবদানও ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে আসন্ন দরপত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্লকগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বলে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক বদরূল ইমাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের গ্যাস অনুসন্ধানে স্থলভাগ ও সাগরে দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নতুন সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশী কোম্পানি দেশের অভ্যন্তরে বিস্তৃত আকারে অনুসন্ধান চালালে আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হবে। বড় ধরনের কোনো গ্যাসের মজুদ পাওয়া গেলে ব্যয়বহুল এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমে আসবে। সেই সঙ্গে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় দেশের জ্বালানি খাতের অনুসন্ধান কার্যক্রমের তৎপরতাও উঠে আসবে।’

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ইসলামী ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ: পরিচালক অপসারণের প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয়

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক মো. আবদুল জলিলকে অপসারণ। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ব্যক্তিগত পদচ্যুতি নয়, বরং দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে। ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অনিয়ম, প্রভাব এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ফলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মো. আবদুল জলিল একজন গ্রাহককে বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছেন, যা ব্যাংকিং নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক সত্যতা পাওয়ার পর তাঁকে প্রথমে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয় এবং পরবর্তীতে পরিচালক পদ থেকেও অপসারণ করা হয়। এই পদক্ষেপটি প্রমাণ করে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আগের তুলনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকটি একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ সময় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে বের হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নামে-বেনামে ঋণ বিতরণ, যথাযথ যাচাই ছাড়া নিয়োগ এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা ব্যাংকটিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এসব কারণে আমানতকারীদের আস্থা কমে যায় এবং ব্যাংকের আর্থিক অবস্থাও দুর্বল হতে শুরু করে। ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। নতুন পর্ষদের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই মো. আবদুল জলিলকে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা প্রমাণ করে যে নতুন ব্যবস্থায় ব্যক্তির চেয়ে নীতির গুরুত্ব বেশি দেওয়া হচ্ছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতা। একটি ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিচালকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে পুরো প্রতিষ্ঠানই ঝুঁকির মুখে পড়ে। আবদুল জলিলের ক্ষেত্রে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তা এই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ সুবিধা প্রদান বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহ, উভয়ই ব্যাংকিং নীতির গুরুতর লঙ্ঘন। এছাড়া, এই ঘটনাটি ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা নষ্ট হয় এবং প্রকৃত উদ্যোক্তারা বঞ্চিত হন। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ইসলামী ব্যাংকের ঘটনাটি এই সমস্যার একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। পরিচালক অপসারণের মতো সিদ্ধান্তগুলো ব্যাংকিং খাতে একটি শক্ত বার্তা দেয়, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এটি অন্যান্য ব্যাংকের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে, নতুন পরিচালক হিসেবে এস এম আবদুল হামিদের নিয়োগও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। একজন অভিজ্ঞ হিসাববিদ হিসেবে তাঁর কাছ থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তিনি নিজেও জানিয়েছেন যে ব্যাংকটিতে অনেক সমস্যা রয়েছে এবং সেগুলো সমাধানে কাজ করতে হবে। এটি প্রমাণ করে যে নতুন নেতৃত্ব পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন। ভবিষ্যতের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে। প্রথমত, ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নিয়োগে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় কঠোর যাচাই-বাছাই চালু রাখতে হবে। চতুর্থত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি আরও জোরদার করতে হবে। এছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ করা সম্ভব। ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করা গেলে অনিয়ম কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও নৈতিকতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। সবশেষে বলা যায়, মো. আবদুল জলিলের অপসারণ একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার একটি অংশ। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সকল পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ফ্যামিলি কার্ড
আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড এর গুরুত্ব

নারীর ক্ষমতাযনের মাধ্যমে নারীর অধিকার ও নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করন, পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ সহায়তা দেয়া হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করার রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতাকে আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন ২০২৬ প্রণয়ন করেছে। এই কর্মসূচির মূল দর্শন হচ্ছে “ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক”। বর্তমানে দেশে প্রচলিত ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা, একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণ (Double-dipping) এবং উল্লেখযোগ্য শতাংশ প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ পড়ার মতো ত্রুটিগুলো দূর করে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য। এই কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্প হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তর করা। সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (PMT) স্কোরিং ব্যবহার করা হবে। পাইলটিং পর্যায়ে ০-১০০০ স্কোরের মধ্যে ১ম, ২য় ও ৩য় কোয়ান্টাইলের অন্তর্ভুক্ত অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করে দারিদ্র্যের এ ধাপ পুনঃনির্ধারণ করা যাবে। গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার কম এবং পরিবারের মাসিক আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে এই যোগ্যতা নির্ধারিত হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই কার্ডটি সরাসরি পরিবারের ‘মা’ বা ‘নারী প্রধান’ সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে।   টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) ও ফ্যামিলি কার্ড ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সরাসরি দারিদ্র্য হ্রাস (SDG-1) ও খাদ্য নিরাপত্তা (SDG-2) নিশ্চিত করবে, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন (SDG-5) জোরদার করবে, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ সহজ করে সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ (SDG-3) উন্নত করবে, স্থানীয় অর্থনীতিতে কার্যক্রম বৃদ্ধি করে আয় ও কর্মসংস্থান (SDG-8) বৃদ্ধি করবে, এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে বৈষম্য হ্রাস (SDG-10) করবে।    

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ফ্যামিলি কার্ড
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে দারিদ্র্য কমতে পারে ৭.৪ শতাংশ

সরকারের নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি “ফ্যামিলি কার্ড” কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এই কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। গবেষণাটি বলছে, যদি এই ভাতা দেশের সব দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের কাছে পৌঁছানো যায়, তাহলে দেশের সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশ থেকে কমে ১১.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ প্রায় ৭.৪ শতাংশ পয়েন্ট দারিদ্র্য হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে চরম দারিদ্র্যের হারেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে যেখানে চরম দারিদ্র্যের হার ৫.৬ শতাংশ, সেখানে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে তা ২.২ শতাংশে নেমে আসতে পারে, অর্থাৎ প্রায় ৩.৪ শতাংশ পয়েন্ট কমতে পারে। এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‍্যাপিড)। গতকাল ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই কর্মসূচি বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই শ্রেণির মানুষের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ৩৩.৯ শতাংশ থেকে কমে ১৫.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা প্রায় ৮.৪ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ভাতার টাকা উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পাঠানো হবে। এতে উপকারভোগীরা ঘরে বসেই এই সহায়তা পেতে পারবেন। সরকার ইতোমধ্যে এই কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প চালু করেছে। গত মঙ্গলবার এর উদ্বোধন করা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ধাপে চার মাসের জন্য অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে এই ভাতা দেওয়া হবে। র‍্যাপিডের হিসাব অনুযায়ী, এই কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বের হয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে ৫৬ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে পারে এবং প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ অর্থনৈতিক ঝুঁকি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাবে। তবে কর্মসূচির সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করবে সঠিকভাবে উপকারভোগী নির্বাচন করার ওপর। এম এ রাজ্জাক বলেন, যোগ্য পরিবার বাদ পড়ে যাওয়া কিংবা অযোগ্য পরিবার সুবিধা পাওয়া—এই দুই ধরনের ভুল কমাতে হলে স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় সাধারণত রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় হয়। তবে সরকারের অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ সরকার ইতোমধ্যে জিডিপির ৩ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ধীরে ধীরে ২ কোটি পরিবারকে এই মাসিক সহায়তার আওতায় আনা হবে। ২০২৬ সালের ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নির্দেশিকায় এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচি পুরোপুরি চালু হলে প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। অর্থাৎ বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। রাজ্জাক সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও ৭ শতাংশের নিচে, ফলে সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় বাড়ালে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। এই চাপ সামাল দিতে তিনি পরামর্শ দেন, বর্তমানে চালু থাকা কিছু ওভারল্যাপিং বা অপ্রয়োজনীয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ধীরে ধীরে বন্ধ করে সেই অর্থ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তার মতে, শক্ত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং বিদ্যমান সম্পদের দক্ষ ব্যবস্থাপনা থাকলে এই কর্মসূচি বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব বলেন, সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কারণেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহজ হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই ২,৫০০ টাকা শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি মানুষের প্রতি সরকারের আস্থারও প্রতিফলন। এতে মানুষ অনুভব করছে সরকার তাদের পাশে রয়েছে।” সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের সমন্বয় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত নেই এবং এটি একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ডিজিটাল ঋণ
ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

ছোট অঙ্কের ঋণের জন্য এখন আর ব্যাংকের শাখায় গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয় না। আত্মীয়–পরিচিতের কাছে ধরনা দেওয়ার দরকার নেই। হাতে শুধু একটি স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট থাকলেই কয়েক মিনিটে পাওয়া যায় জামানতবিহীন ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ। ফলে সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনে এটি ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে। দেশে এই সেবার যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে। বেসরকারি সিটি ব্যাংক ও বিকাশের যৌথ উদ্যোগে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ চালু করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেবার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। বর্তমানে সিটি ব্যাংকের পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক এই খাতে সক্রিয়। ব্যাংক এশিয়া ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) পরীক্ষামূলক ধাপ পেরিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। যেভাবে পাওয়া যায় ঋণ: নতুন এই ঋণসেবা ডিজিটাল ওয়ালেট ও মোবাইল অ্যাপভিত্তিক। গ্রাহককে ব্যাংকে যেতে হয় না। কাগজপত্রের ঝামেলা বা দীর্ঘ যাচাই-বাছাইও লাগে না। জামানত বা জামিনদারের প্রয়োজন নেই। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ তদারকি সহজ হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ সাধারণ মানুষকে মহাজনি ঋণের ফাঁদ থেকে দূরে রাখছে। তবে এখনো অধিকাংশ ব্যাংক অ্যাকাউন্টধারী গ্রাহক এবং তাদের বেতনভুক্ত কর্মচারীরা এই সেবা নিতে পারছেন। সিটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে বিকাশের সক্রিয় গ্রাহকরা ঋণ পান। যারা সেবাটি দিচ্ছে: বর্তমানে সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ দিচ্ছে। ঋণের সীমা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা। অ্যাপের মাধ্যমে টাকা গ্রাহকের হিসাবের মধ্যে চলে যায় এবং কিস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হয়। সিটি ব্যাংক বিকাশের মাধ্যমে জামানতবিহীন অতি ক্ষুদ্রঋণ দিচ্ছে। মাত্র তিন বছরে বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৯ লাখের বেশি গ্রাহক ঋণ নিয়েছেন। বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশনস শামসুদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও জরুরি অর্থের প্রয়োজনের মানুষদের কাছে ঋণটি বিশেষ ভরসার জায়গা। ঢাকা ব্যাংকের গ্রাহক মোবাইল অ্যাপ ‘ঢাকা ব্যাংক গো প্লাস’ ব্যবহার করে ই-ঋণ আবেদন করতে পারেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহক ৮৫ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছেন। ঢাকা ব্যাংকের রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঋণের সুদের হার মাত্র ৯ শতাংশ। জামানত বা কাগজপত্র ছাড়াই দ্রুত ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়। প্রাইম ব্যাংক ‘প্রাইম অগ্রিম’ নামে ডিজিটাল ঋণসেবা চালু করেছে। যাঁদের বেতন ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হয়, তাঁরা অ্যাপ ব্যবহার করে ঋণ পাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ৫০ হাজার গ্রাহক প্রায় ৫০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছেন, মোট ঋণ প্রদানের সংখ্যা ৭৫ হাজার। প্রাইম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম এ চৌধুরী বলেন, গ্রাহক সহজে ও নিশ্চিন্তে সেবা ব্যবহার করছেন। চলতি বছরে সব গ্রাহকের জন্য ডিজিটাল ঋণসেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকও তাদের বেতনভুক্ত গ্রাহককে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল ঋণ দিচ্ছে। ইতিমধ্যে ৫৮ হাজার গ্রাহক মোট ৯৬০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। আগে সর্বোচ্চ ঋণ ৫ লাখ টাকা ছিল, এখন তা ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের ডিএমডি মাহীয়ুল ইসলাম জানান, ঋণের খেলাপির হার কম। মানুষ মূলত জীবনধারণ ও মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে ঋণ নিচ্ছেন। আসছে আরও ব্যাংক: মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়া পরীক্ষামূলকভাবে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল ঋণ দিচ্ছে। ব্যাংক দুটি বড় পরিসরে সেবা চালুর পরিকল্পনা করছে। ব্যাংক এশিয়ার এমডি সোহেল আর কে হুসেইন জানান, এমএফএস ও মোবাইল অপারেটরের ডেটা ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
Etihad Airways
Etihad Airways Joins Forces With McLaren Racing to Revolutionise Global Travel and Motorsport – Here’s How It Will Impact F1 and Beyond!

Global Motorsport Meets World-Class Travel Etihad Airways’ extensive global network, serving over 100 destinations worldwide, makes it the perfect partner for McLaren’s far-reaching race calendar. By combining the unmatched reach of one of the world’s leading airlines with the sheer excitement of McLaren’s high-speed motorsport operations, fans from around the globe will have access to convenient, luxury travel options directly linked to Formula 1, World Endurance Championship, and Formula E events. Fans can now seamlessly travel from major global hubs such as Abu Dhabi, Melbourne, Silverstone, and Suzuka to race venues, making race weekends even more accessible and exciting. This collaboration isn’t just about convenience; it’s about delivering a premium travel experience for the discerning motorsport traveller. Etihad’s high-end services will elevate the overall race experience, ensuring that fans arrive in comfort and style, ready to witness McLaren’s exciting performances. Boosting McLaren’s Global Reach with Cutting-Edge Branding One of the most striking elements of this partnership is the massive exposure Etihad Airways will receive on the world stage. Beginning in 2026, Etihad’s logo will be featured on McLaren’s Formula 1 cars—specifically on the rear wing and cockpit halo of the 2026 MCL40 car. This branding extends to the team’s driver helmets, making Etihad’s presence hard to miss in every race. The impact of this branding is twofold: not only does it put Etihad’s name in front of millions of F1 fans, but it also aligns the airline with McLaren’s reputation for speed, precision, and cutting-edge innovation. Whether you’re watching the Abu Dhabi Grand Prix, the Monaco Grand Prix, or Spa Francorchamps, Etihad’s logo will now be a staple of these iconic racing moments. Custom Etihad-McLaren Livery on a Boeing 787 Dreamliner But the excitement doesn’t stop at the racetrack. As part of the partnership, Etihad Airways will also be rolling out a custom McLaren livery on one of its Boeing 787 Dreamliner aircraft. This unique plane will travel to global destinations and become a symbol of the airline’s partnership with McLaren. Passengers will not only enjoy world-class travel but also get a first-hand look at this co-branded aircraft, promoting the exhilarating world of motorsports while soaring through the skies. For race fans, this aircraft represents more than just a plane; it’s a direct connection to the Formula 1 circuit and McLaren’s elite racing status. Etihad will be flying in style, and fans will be able to ride along with them, literally experiencing the partnership in the air as well as at the track. What This Partnership Means for Motorsports and Tourism The McLaren- Etihad alliance is bound to have a transformative effect on motorsport tourism. As Etihad helps McLaren’s global fanbase travel to Formula 1 races, World Endurance Championship events, and more, it brings race fans closer to their passion like never before. This partnership offers exclusive travel packages to major motorsport destinations, with flights, hotels, and VIP experiences all bundled together for ultimate convenience.  

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ইলিশ
জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ড. মোঃ মাসুদ রানা: দেশের জাতীয় মাছ ইলিশ শুধু দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, বরং অর্থনীতি ও পুষ্টির ক্ষেত্রেও অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে। ইলিশ মূলত পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, তেঁতুলিয়া, আড়িয়াল খাঁ প্রভৃতি নদীতে প্রজনন ও বংশবিস্তার করে। সাগর থেকে নদীতে এসে ডিম ছাড়ে এবং পরবর্তীতে জাটকা (ইলিশের পোনা) নদীতে বেড়ে ওঠে। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান সর্বোচ্চ (প্রায় ১২%) এবং জিডিপিতে অবদান এক শতাংশ। বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৮০ শতাংশের বেশি আহরিত হয় এ দেশের নদ-নদী থেকে। ইলিশ শুধু জাতীয় অর্থনীতির জন্য নয়, উপকূলীয় জেলে, মৎস্যনির্ভর জনগোষ্ঠী এবং উপকূলের সাধারণ মানুষের জীবিকার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রায় ছয় লক্ষ মানুষ সরাসরি ইলিশ আহরণে নিয়োজিত, আর পরিবহন, বাজারজাতকরণ, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণসহ নানা কার্যক্রমে আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে। ইলিশে উচ্চমাত্রায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য অপরিহার্য। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ঋঅঙ) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড স্টেট অব ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৪ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিঠা পানির মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। একইসঙ্গে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে এবং  ইলিশ আহরণে প্রথম স্থান দখল করে আছে। এ ছাড়া ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট ইলিশ মাছকে ভৌগোলিক নির্দেশক (এও) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়। গত এক দশকে সরকার জাটকা সংরক্ষণ, মা-ইলিশ রক্ষা, প্রজননকালীন নিষেধাজ্ঞা ও বিকল্প কর্মসংস্থান কার্যক্রমের মাধ্যমে উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি করেছে। গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে, ইলিশের ডিমের অর্ধেক যদি নিষিক্ত হয় এবং তার মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ বেঁচে থাকে, তাহলে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি পোনা ইলিশ জন্ম নিতে পারে। ইলিশের ডিম পাড়ার মৌসুম শেষ হলেও ছোট ইলিশের বৃদ্ধি হওয়ার জন্য কিছু সময় থাকে। তাই জাটকা ধরা দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখলে ইলিশ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মা-ইলিশকে রক্ষা করলে তারা ডিম পাড়ার সুযোগ পায় এবং সেই ডিম থেকে জন্ম নেয়া জাটকা পরবর্তীতে বড় ইলিশে পরিণত হয়। একটি মা-ইলিশ সাধারণত চার থেকে পাঁচ লাখ ডিম দেয়। মা-ইলিশ দেশের নদী ও নদীর মোহনায় ডিম ছাড়লেও এই ডিম থেকে ইলিশ সাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ কোনো পরিচর্যা ছাড়াই ইলিশ দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং সাগর ও নদীর বিশাল জলরাশিকে পরিপূর্ণ করে। সাধারণত মাঝ অক্টোবরে, যখন সাগর ও নদীর পানি উত্তাল থাকে, তখন মা-ইলিশ পদ্মা ও মেঘনার দিকে ডিম ছাড়ার জন্য আসে। এই সময় মা-ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে নদীর জলরাশি ইলিশের ডিমে পরিপূর্ণ হয়। প্রায় ৫ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে, বিশেষ করে আশ্বিন মাসের ভরা পূর্ণিমার পাঁচ দিন আগে ও পরে, মা-ইলিশ সাগরের গভীর থেকে মিঠা পানিতে নির্দিষ্ট এলাকায় জড়ো হয় এবং পুরুষ মাছও তাদের অনুসরণ করে। কখনও কখনও ডিম ছাড়ার সময় আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে, ফলে নিষেধাজ্ঞার সময় পার হওয়ার পরও জেলেদের হাতে প্রচুর ডিমওয়ালা ইলিশ ধরার সুযোগ আসে। কিন্তু ইলিশের প্রধান প্রজননস্থল ও বিচরণক্ষেত্র পদ্মা-মেঘনার পানির প্রবাহ হ্রাস এবং পানিদূষণের কারণে ইলিশের বংশবিস্তার হ্রাস পাচ্ছে। উপরন্তু নৌকার যান্ত্রিকায়ন ব্যাহত করছে রূপালী ইলিশ উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা। বেড়ে ওঠার আগেই জাটকা ধরে ফেলার কারণে ইলিশ উৎপাদন ব্যাহত হয়। এ ছাড়াও, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা, অতিরিক্ত আহরণ, অকাল প্রজনন ধরা, দূষণ এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে ইলিশের উৎপাদন এক সময় হুমকির মুখে পড়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার, গবেষক ও জেলেদের সহযোগিতায় আধুনিক প্রযুক্তি, নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গ্রহণের ফলে ইলিশ উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। উৎপাদন বৃদ্ধির এই ধারা বজায় রাখতে ও ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণ করতে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা অপরিহার্য। ইলিশের কৃত্রিম প্রজনন ও হ্যাচারি প্রযুক্তি ইলিশ মূলত প্রাকৃতিক উৎস থেকে আহরিত হলেও বর্তমানে কৃত্রিম প্রজনন ও হ্যাচারিতে ইলিশ পোনা উৎপাদনের গবেষণা চলছে। হরমোন প্রয়োগ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে প্রজননের মাধ্যমে ইলিশ চাষের পথ সুগম করা হচ্ছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইঋজও) এ বিষয়ে বিশেষ গবেষণা করছে। সফল হলে কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত ইলিশ প্রাকৃতিক মজুদের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হবে। জেনেটিক উন্নয়ন ও নির্বাচনী প্রজনন ডিএনএ বারকোডিং ও আণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইলিশের ভিন্ন ভিন্ন জনসংখ্যা শনাক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রজননগোষ্ঠী সংরক্ষণ করা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদে নির্বাচনী প্রজনন কর্মসূচি ইলিশের বৃদ্ধি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং টিকে থাকার হার উন্নত করতে পারে। আবাসস্থল পুনরুদ্ধার প্রযুক্তি ইলিশ প্রজনন ও পোনা বিকাশের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ ও প্রবাহমান নদী ব্যবস্থা। এজন্য নদী খনন, মাছ-বান্ধব বাঁধ ও ফিশ পাস নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে ইলিশের অভিবাসন নির্বিঘœ হয়। পাশাপাশি মেঘনা, পদ্মা ও তেতুলিয়া নদীতে অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে বৈজ্ঞানিক মডেল ব্যবহার করে। এসব উদ্যোগ ইলিশের প্রাকৃতিক প্রজননচক্র টিকিয়ে রাখতে সহায়ক। ভূতথ্য ব্যবস্থা ও রিমোট সেন্সিং উপগ্রহ চিত্র ও এওঝ প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশের আবাসস্থল, অভিবাসন পথ ও মাছ ধরার হটস্পট নির্ধারণ করা হচ্ছে। ফিশিং ভেসেলে ভিএইচএফ রেডিও, জিপিএস, ফিশ ফাইন্ডার প্রভৃতি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। নদীর প্রবাহ, পলি জমা এবং পানির মান পর্যবেক্ষণ করা হয়, যা ইলিশের প্রজননের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।  ডিজিটাল মনিটরিং  ইন্টারনেট অব থিংস ডিভাইস দিয়ে নদীর পানির তাপমাত্রা, দ্রবীভূত অক্সিজেন, লবণাক্ততা ও ঘোলাটে ভাব পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গবেষকরা এসব তথ্য ব্যবহার করে ইলিশের অভিবাসনের সময় পূর্বাভাস দিতে পারেন। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এসব তথ্য জেলেদের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছ। মৎস্য কো-ম্যানেজমেন্ট ও ই-গভর্নেন্স ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাছ ধরার লাইসেন্স, নিবন্ধন ও নিষিদ্ধ মৌসুমে মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। স্মার্টকার্ড ও ই-মনিটরিং সিস্টেম জেলেদের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা (যেমন চাল বিতরণ) সময়মতো পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ইলিশ চাষ প্রায়োগিক পর্যায়ে ইলিশকে আধা-ক্যাপটিভ বা আবদ্ধ পরিবেশে চাষের চেষ্টা চলছে। নদীর মতো পরিবেশ তৈরি করে খাঁচা বা আধা-নোনা পানির পুকুরে ইলিশ চাষের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। সফল হলে এটি বাংলাদেশের চাষভিত্তিক মৎস্য খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি ইলিশ পোনার জন্য ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য তৈরি করার গবেষণা চলছে। প্রোটিন, লিপিড ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য দ্রুত বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার হার বাড়ায়। প্রোবায়োটিক ও সিনবায়োটিক সমৃদ্ধ খাদ্য রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক। কোল্ড চেইন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি পোস্ট-হারভেস্ট ক্ষতি কমাতে আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি যেমন আইস স্লারি, রেফ্রিজারেটেড ট্রান্সপোর্ট ও ভ্যাকুয়াম প্যাকেজিং ব্যবহার হচ্ছে। সৌরশক্তি চালিত কোল্ডস্টোরেজও কিছু এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে। প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্টে ফ্রিজিং, ফিলে তৈরি ও প্যাকেজিং করা হচ্ছে। বোনলেস ইলিশ, ক্যানড ইলিশ ও রেডি-টু-কুক ইলিশের মতো পণ্য জনপ্রিয় হচ্ছে। এতে রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ছে। আগাম সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা বন্যা, ঝড় ও লবণাক্ততার মতো জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম সতর্কীকরণ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। পূর্বাভাস ব্যবস্থা ইলিশের অভিবাসনের উপযুক্ত সময় জানাতে সহায়ক। টেকসই জাল ও মাছ ধরার পদ্ধতি বাই-ক্যাচ কমাতে এবং জাটকা সংরক্ষণে পরিবেশবান্ধব জাল ও নির্ধারিত ফাঁস ব্যবহারের প্রচলন হয়েছে। জাটকা ধরা বন্ধ রাখতে নির্দিষ্ট সময়ে (১ নভেম্বর ৩০জুন) জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সৌরচালিত নৌকা ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী ইঞ্জিন ব্যবহার করে কার্বন নিঃসরণও কমানো হচ্ছে। বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে জেলেদের ভিজিএফ কার্ড, খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। জাটকা ও মা-ইলিশ সংরক্ষণে আইনের কঠোর প্রয়োগ ইলিশ আহরণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করতে হবে। জাটকা ও মা-ইলিশ ধরা রোধে নিয়মিত নজরদারি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একইসাথে জেলেদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। বিকল্প কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারকরণ নিষিদ্ধ মৌসুমে জেলেদের জীবিকা রক্ষায় বিকল্প কর্মসংস্থান জরুরি। হাঁস-মুরগি পালন, সবজি চাষ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের আয়ের উৎস বহুমুখী করা যেতে পারে। এ ছাড়া খাদ্য সহায়তা, নগদ অর্থভাতা ও ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন। নদী দখল ও দূষণ রোধ ইলিশের প্রধান আবাসস্থল নদী দখল ও দূষণের কারণে হুমকির মুখে পড়ছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বজায় রাখা ও শিল্প-নগর বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত খনন ও ড্রেজিং কার্যক্রম নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়ক হবে। গবেষণায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ইলিশের প্রজনন, অভিবাসন ও আবাসস্থল ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ জরুরি। স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং, জিপিএস ও জিআইএস ব্যবহার করে ইলিশের গতিপথ নির্ধারণ করা সম্ভব। জেনেটিক গবেষণা, ডিএনএ বারকোডিং ও বায়োটেকনোলজির মাধ্যমে ইলিশের জৈববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজনমূলক পদক্ষেপ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইলিশের আবাসস্থলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, পানির তাপমাত্রা পরিবর্তন ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। এসব প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজনমূলক কৌশল যেমন আবাসস্থল সংরক্ষণ, টেকসই নীতি প্রণয়ন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলে সম্প্রদায়ের জন্য দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ শুধু একটি খাদ্য নয়, বরং এটি জাতির পরিচয়, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হয়েছে, যার ফলে উৎপাদনে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। জাটকা সংরক্ষণ, মা-ইলিশ রক্ষা, অভয়ারণ্য সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, জেনেটিক গবেষণা ও বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ার উন্নয়ন ইলিশ উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। তবে টেকসই উৎপাদনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা ও জেলেদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এভাবে বাংলাদেশ জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, খাদ্য নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করতে সক্ষম হবে। লেখক : সহকারী অধ্যাপক, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
কৃষি
কৃষিঋণে আগ্রহ কম ব্যাংকগুলোর

বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হাঁকিয়ে রাখছে কৃষিক্ষেত্র; কিন্তু এই খাতে ব্যাংকঋণের বাস্তব প্রবাহ এখনও তেমন বৃদ্ধি পায়নি, যা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, একদিকে পুরনো কিস্তি আদায়ে ব্যাংকগুলো কঠোর, অন্যদিকে নতুন ঋণ বিতরণে তারা অনীহা। ফলে উৎপাদন পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে, নির্ধারিত বিনিয়োগ থেমে যাচ্ছে এবং অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তত্ত্বাবধায়ক নীতিমালার সঙ্গে বাস্তবতা এখনও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ❗ মাঠপর্যায়েও সমালোচনা ও অভিজ্ঞতা কৃষকদের অভিযোগ, ঋণ নিতে এখনো দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও কাগজপত্রের চাপ সহ্য করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে দালালদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যার ফলে সৎ কৃষক সময়মতো ঋণ পায় না এবং আস্থা কমছে। 📊 বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী: চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর শেষে কৃষি খাতে মোট ঋণের স্থিতি ৬০,০০০ কোটি টাকার মতো। দেশের সব খাতে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৮,০৩,৮৩৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট ঋণের মাত্র **২.১৬%**ই কৃষিতে গেছে। এ তুলনায় দেশে প্রায় ৪৬% শ্রমশক্তি কৃষিকাজে নিয়োজিত এবং জিডিপিতে খাতটির অবদান ১০.৯৪%। তবুও ব্যাংকগুলোর নিট ঋণ লক্ষ্যমাত্রা কৃষিতে মাত্র ২.৫% নির্ধারিত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি খাতের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী অনেক কম এবং এটি নীতিগতভাবে অবহেলার ইঙ্গিত বহন করে। 📈 ঋণ বিতরণ ও আদায়ের গতিসূত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই‑ডিসেম্বর সময়ে: ব্যাংকগুলো ২১,০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে, ‌ যা আগের বছরের একই সময় ১৬,০০০ কোটি টাকা ছিল — প্রায় ৯.৭% বৃদ্ধি। একই সময়ে ঋণ আদায় হয়েছে ২১,৭৭৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩.৮৯% বেশি। ‌ এই তুলনায় দেখা যাচ্ছে, বিতরণ বাড়লেও আদায়ও প্রায় সমানভাবে হয়েছে। তবে কৃষকদের অভিমত, নতুন ঋণ পাওয়ার কষ্ট ও জটিলতা আগের মতোই বিরাজ করছে। 🧑‍🌾 বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পূর্ববর্তী বন্যার কারণে পুনরুদ্ধার ও উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের আরও ঋণ প্রয়োজন ছিল, কিন্তু ব্যাংকগুলোর অনীহা কারণে কেবল প্রত্যাশিত পরিমাণে ঋণই বিতরণ হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র এবং নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, বর্তমানে ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রা কৃষকের চাহিদার তুলনায় কম। তবে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে ঋণ বিতরণ আরও সহজ করতে ব্যাংক শাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং, সাব‑ব্রাঞ্চ, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ও এরিয়া অ্যাপ্রোচ পদ্ধতিতে জোর দেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ঝুঁকিতে বেসরকারি ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণসীমা অমান্য: বেসরকারি ও ইসলামি ব্যাংকে বাড়ছে ঝুঁকি

বাংলাদেশ ব্যাংক-এর বেঁধে দেওয়া ঋণসীমা অমান্য করে অতিরিক্ত হারে ঋণ বিতরণের কারণে দেশের বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গুরুতর ঝুঁকিতে পড়েছে। আগ্রাসী ঋণ বিতরণ নীতির ফলে এসব ব্যাংক এখন ঋণ আদায়ে হিমশিম খাচ্ছে। সময়মতো ঋণ আদায় না হওয়ায় বাড়ছে খেলাপি ঋণ। একই সঙ্গে ইমেজ সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না আমানত প্রবাহ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ঋণসীমা অমান্য করছে কারা? প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকারি খাতের ব্যাংক ও বিদেশি ব্যাংকগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যেই ঋণ বিতরণ করছে। তবে বেসরকারি ও শরিয়াভিত্তিক ইসলামি ব্যাংকগুলো ঋণসীমা মানছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী— সাধারণ ব্যাংকগুলো মোট আমানতের ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করতে পারে। ১৩ শতাংশ বিধিবদ্ধ আমানত (Statutory Reserve) হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে মোট আমানতের ৯.৫ শতাংশ বিধিবদ্ধ আমানত রাখতে হয়। বাকি ৯০.৫ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ হিসেবে বিতরণ করা যায়। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ বেসরকারি ও ইসলামি ব্যাংক এই সীমা অতিক্রম করেছে। চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী— বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক: মোট আমানতের গড়ে ৯৪.১০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে। যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১১.১০ শতাংশ বেশি। ইসলামি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক: মোট আমানতের তুলনায় ১২১.৮০ শতাংশ বিনিয়োগ করেছে। যা সীমার চেয়ে ৩১.৩০ শতাংশ বেশি। অতিরিক্ত অর্থের জোগান দিতে এসব ব্যাংক অন্য ব্যাংক ও বন্ড মার্কেট থেকে ধার করেছে—যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণ বেআইনি। কেন বাড়ছে তারল্য সংকট? ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী, দৈনন্দিন গ্রাহক লেনদেন নিষ্পত্তির জন্যও নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ নিজস্ব রিজার্ভে রাখতে হয়। কিন্তু সীমা অতিক্রম করে ঋণ বিতরণের ফলে— নগদ তারল্য কমে গেছে আমানতকারীদের আস্থা কমেছে আন্তঃব্যাংক নির্ভরতা বেড়েছে সময়মতো ঋণ আদায় না হওয়ায় খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ফলে সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দখল ও লুটপাটের অভিযোগ প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশ কয়েকটি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক একটি বিশেষ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। দখল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব ব্যাংকে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। শুধু ইসলামি ব্যাংক নয়, বেসরকারি খাতের কয়েকটি ব্যাংকেও একইভাবে প্রভাব বিস্তার করে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে সম্ভাব্য প্রভাব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে— তারল্য সংকট আরও তীব্র হবে নতুন ঋণ বিতরণ সীমিত হয়ে যেতে পারে আমানতকারীদের আস্থাহীনতা বাড়বে আর্থিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকি ও নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।   বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ঋণসীমা কঠোরভাবে মানা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দখলদারিত্ব ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
মেট্রোরেলে
রাজধানীর নতুন দুই মেট্রো প্রকল্পে ব্যয় দ্বিগুণের বেশি, কিলোমিটারে খরচ ৩,৬১৮ কোটি টাকা

ঢাকা: রাজধানীর নতুন দুটি মেট্রো রেল প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। সংশ্লিষ্ট সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)–এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সীমিত দরপত্র প্রতিযোগিতা ও ঋণশর্তের কারণে প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোর (এমআরটি লাইন-৬) নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয়েছিল ১,৫৭৪ কোটি টাকা। কিন্তু নতুন দুই প্রকল্পে কিলোমিটারে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩,৬১৮ কোটি টাকা। ফলে মোট অনুমোদিত ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এমআরটি লাইন-১: কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর     নতুন প্রকল্পগুলোর একটি হলো MRT Line-1, যা কমলাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। দৈর্ঘ্য: ৩১ কিলোমিটার অনুমোদন: ডিসেম্বর ২০১৯ প্রাথমিক ব্যয়: ৫২,৫৬১ কোটি টাকা ঠিকাদারদের দর অনুযায়ী সম্ভাব্য ব্যয়: ৯৬,৫০০ কোটি টাকা ডিএমটিসিএলের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দরপত্রে সীমিত প্রতিযোগিতার কারণে প্রকল্প ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর): হেমায়েতপুর–ভাটারা     অন্য প্রকল্পটি হলো MRT Line-5 (North), যা হেমায়েতপুর থেকে মিরপুর ও গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত যাবে। দৈর্ঘ্য: ২০ কিলোমিটার অনুমোদন: অক্টোবর ২০১৯ প্রাথমিক ব্যয়: ৪১,২৩৮ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় (দর অনুযায়ী): ৮৮ হাজার কোটি টাকা বিশেষ করে মিরপুর–কচুক্ষেত এবং কচুক্ষেত–ভাটারা অংশে ঠিকাদারদের অস্বাভাবিক ব্যয় প্রস্তাবের কারণে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির কারণ কী? ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, দরপত্রে প্রতিযোগিতা মূলত জাপানি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সীমিত ছিল। কারণ, প্রকল্পগুলোর বড় অংশের অর্থায়ন করছে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা  জাইকা। ঋণের শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদার নিয়োগে জাপানি প্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকার থাকায় উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা হয়নি। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে দরপত্রে উন্মুক্ত ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশ অনেক বেশি ব্যয়বহুল ডিএমটিসিএলের তথ্যমতে, বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের তুলনায় বাংলাদেশে ব্যয় অত্যন্ত বেশি। ভারতে মেট্রো রেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয় ১৫০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকার মধ্যে—যা বাংলাদেশের তুলনায় কয়েকগুণ কম। বিশেষজ্ঞ মতামত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, ঠিকাদার নিয়োগে প্রকৃত প্রতিযোগিতা না থাকাই ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ। নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে ঋণের শর্ত পুনর্বিবেচনা করে ব্যয় কমানো। সম্প্রসারণ প্রকল্পেও উচ্চ ব্যয় উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোর সম্প্রসারিত অংশ কমলাপুর পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। দৈর্ঘ্য: ২১.২৬ কিলোমিটার ব্যয়: ৩৩,৪৭২ কোটি টাকা এই ব্যয়ও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।   রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে মেট্রোরেল গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হলেও ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধি উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণের শর্ত শিথিল করে এবং উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া নিশ্চিত করলেই কেবল ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। অন্যথায় ভবিষ্যৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোও একই ধরনের উচ্চ ব্যয়ের ফাঁদে পড়তে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
নির্বাচন-পরবর্তী অর্থনীতি ও পোশাক খাত
নির্বাচনে জয়ের পর বিএনপি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তবে ক্ষমতায় আসার পরপরই দলটির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে স্থবির অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বাড়তে থাকা বেকারত্ব। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৯টি পেয়ে বিজয়ী হয় বিএনপি। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। 📉 অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও প্রবৃদ্ধির ধীরগতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়ায় ৩.৭ শতাংশে, যেখানে আগের বছর ছিল ৪.২ শতাংশ এবং ২০২৩ অর্থবছরে ছিল ৫.৮ শতাংশ। চলতি ও পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪.৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মন্দার প্রভাবেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি কমেছে। অথচ গত কয়েক দশক ধরে প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে ছিল। 🎯 কর্মসংস্থান ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বড় অগ্রাধিকার এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আফটার দি ভোট: ডেমোক্রেসি, রিফর্ম, ফরেন পলিসি’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিই হবে নতুন সরকারের সাফল্যের প্রধান সূচক। ‘কাউন্টার পয়েন্ট’-এর সম্পাদক জাফর সোবহান বলেন, তরুণদের চাকরির অভাবই আন্দোলনের অন্যতম কারণ ছিল, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পথ তৈরি করে। তিনি আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার, টাকার মান স্থিতিশীল রাখা এবং খেলাপি ঋণ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 💼 নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা বিশ্লেষকদের মতে, নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানর অভিজ্ঞতা অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে। স্পেন, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত শহীদ আখতার বলেন, নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও তরুণ প্রজন্মের সমন্বয় রয়েছে এবং মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়েছে। 🏭 এলডিসি উত্তরণ ও রপ্তানি ঝুঁকি অক্সফোর্ড ইকোনমিকস মনে করছে, উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থাকলেও বিএনপি বাজারমুখী অর্থনৈতিক নীতি বজায় রাখবে। সংস্থাটির মতে, আগামী নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে রপ্তানি আয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে এলডিসি মর্যাদার কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারসহ নানা সুবিধা পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার পর ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো দেশের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা বাড়বে। এদিকে মোডি’স জানিয়েছে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলার বিচ্ছিন্ন অবনতি এবং পোশাক খাতে বিক্ষোভ অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। তবে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন জোরদার এবং বিনিময় হার আরও নমনীয় করার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 🌏 পররাষ্ট্রনীতি ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে উদ্যোগ নিতে পারেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়া এবং উভয় দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ঢাকা ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আহ্বান জানিয়েছে এবং একটি ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ও.পি. জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্য শত্রুতার লক্ষণ নেই এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করতে পারে। 🔎 ভবিষ্যৎ রাজনীতির নির্ধারক চার ক্ষেত্র বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনের রাজনীতি নির্ভর করবে চারটি বিষয়ে— অর্থনৈতিক সংস্কার বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি নতুন সরকার প্রাথমিকভাবে জনসমর্থনের সুবিধা পেলেও, তা দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে দৃশ্যমান অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেখাতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক চাপ দ্রুত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ঋণের চাপ
পরিচালন ব্যয় মেটাতে ঋণ—প্রথম বাজেটে কঠিন পরীক্ষায় বিএনপি সরকার

ঢাকা: বাংলাদেশের সরকারি অর্থব্যবস্থায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সৃষ্টি হয়েছে এক নজিরবিহীন বাস্তবতা। প্রায় চার দশকের মধ্যে এই প্রথম—সরকারকে নিয়মিত পরিচালন ব্যয় মেটাতেই ঋণ নিতে হয়েছে। অর্থাৎ বেতন-ভাতা, সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি ও অন্যান্য দৈনন্দিন প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহে রাজস্ব আয় যথেষ্ট হয়নি। অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন ব্যয় তো দূরের কথা—যখন রাষ্ট্রের নিয়মিত প্রশাসনিক ব্যয়ও রাজস্ব দিয়ে সামাল দেওয়া যায় না, তখন সেটি অর্থনীতির জন্য বড় সতর্ক সংকেত। নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে দায়িত্ব নেওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে তাই প্রথম বাজেটেই দেখা দিয়েছে কঠিন আর্থিক সমীকরণ। পরিচালন ব্যয়ে ঋণ: ২৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকার কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ-পানি বিল ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় ২৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে। ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, আশির দশকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর শাসনামলের পর এমন পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি। একই অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ ও উন্নয়ন ব্যয় কমানোর পরও ঋণের বোঝা হালকা হয়নি। রাজস্ব আয় বনাম ব্যয়: দ্বিগুণ গতিতে বাড়ছে খরচ সরকারি হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা—বৃদ্ধি মাত্র ৬.৪ শতাংশ। অন্যদিকে নিয়মিত পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ১৫.৫ শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকায়। ফলে— রাজস্ব ঘাটতি: ১ লাখ কোটি টাকার বেশি সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি: ৬০ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা (আগের বছরের প্রায় তিনগুণ) পরিচালন ব্যয়ে ঋণ: ২৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি আর্থিক ভারসাম্যহীনতার স্পষ্ট ইঙ্গিত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঋণ বৃদ্ধি মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাসে মোট সরকারি ঋণ বেড়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ডেবট বুলেটিন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্য বিষয়—উন্নয়ন ব্যয় কমলেও ঋণ কমেনি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বৈদেশিক ঋণে দ্রুত সম্প্রসারণ ২০২২ সালের জুনে বৈদেশিক ঋণ ছিল প্রায় ৪ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকায়—প্রায় দ্বিগুণ। এই সময়ে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-সহ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৩৪৪ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা নিয়েছে। টাকার অবমূল্যায়নের কারণে বৈদেশিক ঋণের টাকায় পরিমাণ আরও বড় হয়ে দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সুদ ও আসল পরিশোধে বাড়তি চাপ তৈরি করবে। ব্যাংকনির্ভর ঋণ: বেসরকারি খাতে সংকট অভ্যন্তরীণ ঋণে ব্যাংকনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে— ২০২২ সালে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ: ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর: ৭ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য এটি উদ্বেগজনক। ঋণ-জিডিপি অনুপাত: সতর্ক সংকেত ২০২২ সালে ঋণ-জিডিপি অনুপাত ছিল ৩৩.৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা ৩৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিপজ্জনক না হলেও দ্রুত ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতা ভবিষ্যতে ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় কম থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। প্রথম বাজেটেই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ নতুন সরকারের সামনে দুই বড় চ্যালেঞ্জ— ১. নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ২. বাজেট ঘাটতি ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ বিএনপির প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে— স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় জিডিপির ৫% বরাদ্দ ফ্যামিলি কার্ড ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ নতুন বেতন কাঠামো বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন-এর মতে, নতুন বেতন কাঠামোর এক-তৃতীয়াংশ বাস্তবায়ন করলেও অতিরিক্ত প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। কাঠামোগত সংকট: রাজস্ব সংস্কার অনিবার্য বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক নয়—এটি কাঠামোগত দুর্বলতার ফল। প্রয়োজন— করজাল সম্প্রসারণ ডিজিটাল ভ্যাট ও আয়কর প্রশাসন কর অব্যাহতির যৌক্তিকীকরণ প্রত্যক্ষ করের অংশ বৃদ্ধি ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ জনপ্রিয়তার রাজনীতি নয়—আর্থিক টেকসইতা এখন সময়ের দাবি। তিনটি স্পষ্ট প্রবণতা ১. মোট ঋণের দ্রুত বৃদ্ধি ২. ব্যাংকনির্ভর অভ্যন্তরীণ ঋণ ৩. বৈদেশিক ঋণের ত্বরান্বিত সম্প্রসারণ উন্নয়ন ব্যয় কমলেও ঋণ কমেনি—যা নির্দেশ করে পরিচালন ব্যয় ও সুদ পরিশোধই এখন কেন্দ্রীয় সংকট। সামনে যে প্রশ্ন ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধির এই ধারা কতটা টেকসই? রাজস্ব সংস্কার, ব্যয় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সক্ষমতা জোরদার না হলে আগামী বাজেটগুলো আরও কঠিন হয়ে উঠবে। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট কেবল একটি আর্থিক দলিল নয়—এটি হবে রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রথম বড় পরীক্ষা। সময়ের দাবি—সাহসী সংস্কার। কারণ এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—হিসাবের অঙ্ক মেলানো।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
এলডিসি উত্তরণ
এলডিসি উত্তরণ: তিন বছর স্থগিত চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি দিলো বাংলাদেশ

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়া তিন বছরের জন্য স্থগিতের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।   অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীর সই করা চিঠিটি সিডিপির কাছে পাঠানো হয়। আগামী ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি সিডিপির বৈঠকে বাংলাদেশের এ অনুরোধসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে।   চিঠিতে বলা হয়েছে, কোভিড-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাপ্ত প্রস্তুতিমূলক সময়কালটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকলেও পরপর একাধিক বৈশ্বিক ধাক্কায় সেই লক্ষ্য পূরণ ব্যাহত হয়েছে। কোভিড ১৯ প্যানডেমিকের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার আগেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি, বিশ্বব্যাপী কড়াকড়ি মুদ্রানীতি, সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে।   এছাড়া অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও বিনিয়োগ হ্রাস, রাজস্ব প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় কাঠামোগত সংস্কারের গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ও নীতিগত সমন্বয় সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।   সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে উচ্চমাত্রার অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের নীতিগত পরিবর্তন বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তিন বছরের জন্য একটি ‘ক্রাইসিস অ্যাসেসমেন্ট’ পরিচালনা এবং সম্ভাব্য সময় বৃদ্ধি চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে।   ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, ফেব্রুয়ারির বৈঠকের পর প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত হতে পারে। এরপর সিডিপি তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ দেবে। চূড়ান্ত সুপারিশ যাবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে, যেখানে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।   সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, গত বছর জাতিসংঘ বাংলাদেশের অনুরোধে একটি মূল্যায়ন পরিচালনা করেছিল। সেখানে দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হলেও নির্দিষ্ট কোনও সুপারিশ দেওয়া হয়নি। বরং এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়াকে বাংলাদেশের জন্য ‘চ্যালেঞ্জিং’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।   কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এবং চলমান মূল্যায়নের ফলাফলের ওপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ডলারের দাম বাড়ছে: কী প্রভাব পড়ছে আমদানি-রপ্তানিতে?

ডলারের দাম বাড়ার ফলে বাংলাদেশে আমদানি ও রপ্তানি খাতে দেখা দিচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে আমদানিকারকরা পড়ছেন চাপের মুখে, অন্যদিকে রপ্তানিকারীরা কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন। আমদানি খাতে ডলারের দর বাড়ায় বিদেশ থেকে পণ্য আনতে খরচ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জ্বালানি, ভোজ্যতেল, কাঁচামাল, ওষুধের উপাদান এবং প্রযুক্তিপণ্য—এসব আমদানিতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ব্যাংকগুলো ডলার সংকটে ভুগছে, ফলে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে এবং অনেক সময় ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাজারে — পণ্যের দাম বাড়ছে, মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, রপ্তানির ক্ষেত্রে ডলার মূল্য বৃদ্ধির ফলে রপ্তানিকারকরা প্রতি ডলারে বেশি টাকা পাচ্ছেন। এতে তাদের আয় কিছুটা বাড়ছে, যা রপ্তানি খাতকে কিছুটা চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে ডলারের দরবৃদ্ধি একটি প্রণোদনার মতো কাজ করছে। তবে এর একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে — আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অনেক সময় অর্ডারের মূল্য সমন্বয় করে দেয়, ফলে অতিরিক্ত লাভ সবসময় নিশ্চিত হয় না। রেমিট্যান্স প্রেরকদের জন্যও ডলারের দাম বাড়া স্বস্তির খবর। প্রবাসীরা এখন প্রতি ডলারে বেশি টাকা পাচ্ছেন, ফলে ব্যাংক চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে, যদিও আমদানি ব্যয় এখনও বেশি থাকায় চাপে রয়েছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে রপ্তানি ও রেমিট্যান্সকে উৎসাহ দিচ্ছে, অন্যদিকে আমদানির চাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে নানা নীতিগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিয়ন্ত্রিত বিনিময় হার ব্যবস্থা বা managed floating system এর মাধ্যমে ডলারের বাজারে ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে। ডলারের দাম বৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। আমদানিকারকদের উচিত দীর্ঘমেয়াদি মূল্য চুক্তি ও বিকল্প উৎস নির্ধারণ করা। রপ্তানিকারকদের বাজার বৈচিত্র্য ও উৎপাদন দক্ষতায় নজর দেওয়া দরকার। একইসাথে সরকারের উচিত ডলার সংকট মোকাবিলায় কাঠামোগত সংস্কার ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আমদানিনির্ভর শিল্প ও সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ আরও বাড়বে। তাই এখনই প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা, সুচিন্তিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং রপ্তানি ও রেমিট্যান্সকে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে টেকসই করা।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা: বাজারে কেমন প্রভাব পড়বে?
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা: বাজারে কেমন প্রভাব পড়বে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতিতে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস, এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট প্রেক্ষাপটে এই নীতিমালা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। মুদ্রানীতিতে রেপো রেট আগের মতো ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সুদের হারও মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এতে ঋণের খরচ আগের মতোই থাকবে, যার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর কিছুটা চাপ অব্যাহত থাকবে। এই নীতিমালায় মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা শিথিল করে ৭ থেকে ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে। যদিও আগের মুদ্রানীতিতে তা ৬ দশমিক ৫ শতাংশের আশপাশে রাখা হয়েছিল। সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌথভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও বৈশ্বিক বাজারে খাদ্য, জ্বালানি ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধি তা কঠিন করে তুলছে। ফলে নতুন লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাস্তবভিত্তিক বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। নতুন নীতিমালায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং সরকারি খাতে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগে কিছুটা মন্থরতা থাকতে পারে, যদিও সরকারের বড় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে ব্যাংক খাতের সম্পৃক্ততা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশি মুদ্রার বাজারে চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যবস্থাপনা নির্ভর ভাসমান বিনিময় হার’ (managed floating exchange rate) নীতিতে অটল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করবে এবং রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে উৎসাহ দেবে। রপ্তানিকারকদের জন্য প্রণোদনা অব্যাহত রাখা, এবং রেমিট্যান্স উৎসাহে প্রবাসীদের ব্যাংক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এনবিএফআই তথা নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখা সম্প্রসারণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কোনো নতুন শাখা খোলার ক্ষেত্রে এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এতে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই মুদ্রানীতি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হলেও স্বল্পমেয়াদে কিছু চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। উচ্চ সুদের পরিবেশে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ কমে যেতে পারে, যা উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা রক্ষায় স্বচ্ছতা, স্থিতিশীল নীতিমালা ও নিয়মিত তথ্যপ্রবাহ অত্যন্ত জরুরি। এই মুহূর্তে বাজারে প্রতিটি সিদ্ধান্তকেই গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। মুদ্রানীতির বাস্তব প্রয়োগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় তদারকি ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক গতি-প্রবাহ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
শেয়ার বাজারে অস্থিরতা: বিনিয়োগকারীদের কী করণীয়?
শেয়ার বাজারে অস্থিরতা: বিনিয়োগকারীদের কী করণীয়?

বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছে টানা অস্থিরতা। সূচকের উত্থান-পতন, লেনদেনের নিম্নগতি এবং কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে হঠাৎ দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। অনেকেই দিনশেষে লোকসান নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, আবার কেউ কেউ বিনিয়োগ না করেই ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ অবস্থানে রয়েছেন। অস্থিরতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে অর্থনীতির সামগ্রিক চাপ, বিশেষ করে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট। এসব কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ খাতে ঝুঁকছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে দূরে থাকছেন। অন্যদিকে, কিছু কোম্পানির দুর্বল মৌলভিত্তি এবং গুজবের ভিত্তিতে দর বাড়া কিংবা কমা — বাজারকে আরও বেশি অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে উঠেছে কঠিন। বিশেষ করে যারা স্বল্প অভিজ্ঞ, তাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেশি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সময়ে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন ঠান্ডা মাথায় বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগের। প্রথমত, যেসব কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক, যাদের ব্যবসার ভিত্তি শক্ত এবং ডিভিডেন্ড প্রদানে নিয়মিত, সেসব কোম্পানিতেই বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। এই সময় ‘শেয়ার কম দামে কিনে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা’ কৌশল বেশ কার্যকর হতে পারে। দ্বিতীয়ত, গুজব বা বাজারে হঠাৎ ওঠা কোনো খবরের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। অনেক সময় কিছু 'পাম্প অ্যান্ড ডাম্প' স্টকে আকর্ষণীয় মুনাফার লোভ দেখিয়ে ফাঁদ পাতা হয়, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির মুখে ফেলে। তৃতীয়ত, কারও যদি অর্থনৈতিক সংকট থাকে বা ধার করা অর্থ দিয়ে শেয়ার কেনার চিন্তা থাকে, তাহলে আপাতত বাজারে প্রবেশ না করাই উত্তম। কারণ বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল, এবং সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়া প্রযুক্তি ও নিউজভিত্তিক এনালাইসিসের পাশাপাশি মৌলিক বিশ্লেষণ (ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস) করা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেউ চাইলে শেয়ার বাজার সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ নিতে পারে বা অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীর পরামর্শও গ্রহণ করতে পারে। সবশেষে বলা যায়, শেয়ার বাজারে অস্থিরতা নতুন কিছু নয়। ইতিহাস বলছে, প্রতিটি পতনের পরই বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেই ঘুরে দাঁড়ানোর সময়টা ধরতে পারে কেবল ধৈর্যশীল ও সচেতন বিনিয়োগকারীরা। তাই আতঙ্ক নয়, জ্ঞান ও কৌশলের মাধ্যমে বিনিয়োগ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয়।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
ই-কমার্স ব্যবসায় আবারো চাঙ্গা ভাব: পুনর্জাগরণের সময়?
ই-কমার্স ব্যবসায় আবারো চাঙ্গা ভাব: পুনর্জাগরণের সময়?

গত কয়েক বছর ধরে নানা চ্যালেঞ্জ ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর, বাংলাদেশে ই-কমার্স খাত আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিচ্ছে। কিছু বড় বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পতনের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হলেও, বর্তমানে ধীরে ধীরে গ্রাহকদের আস্থা ফিরছে। নতুন উদ্যোক্তারা এ খাতে প্রবেশ করছে, পুরোনো খেলোয়াড়রাও নিজেদের পুনর্গঠনে ব্যস্ত। সব মিলিয়ে ই-কমার্সে এক ধরনের চাঙ্গাভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ই-কমার্স খাত একটি বড় সুযোগ পেয়েছিল। ঘরে বসে কেনাকাটা মানুষের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু প্রতিষ্ঠান সেই আস্থা ধরে রাখতে পারেনি। গ্রাহকের টাকা আটকে যাওয়া, পণ্যের সময়মতো ডেলিভারি না পাওয়া এবং অনিয়মিত রিফান্ড প্রক্রিয়ার কারণে এই খাত সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। সরকারের হস্তক্ষেপ ও নীতিমালার অনুপস্থিতিও সংকটকে আরও তীব্র করেছিল। তবে সেই ধস কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে এই খাতটি। এখন অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারের ডিজিটাল কমার্স গাইডলাইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন (ই-ক্যাব) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বেশ কিছু কঠোর নিয়ম-কানুন বাস্তবায়ন করছে, যাতে গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। এতে ক্রেতারা আবারো আগ্রহী হচ্ছেন অনলাইন কেনাকাটায়। নতুন উদ্যোক্তারা অনেক বেশি স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অনেকেই কাস্টমার কেয়ার, ট্র্যাকিং সিস্টেম, ক্যাশ অন ডেলিভারি এবং সহজ রিফান্ড পলিসি চালু করে গ্রাহকের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। এর পাশাপাশি ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও ছোট ছোট অনলাইন দোকান গড়ে উঠেছে, যারা স্থানীয়ভাবে দ্রুত সার্ভিস দিয়ে মানুষের চাহিদা পূরণ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ই-কমার্সের এখনও বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের তরুণ প্রজন্ম, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এবং স্মার্টফোন প্রবৃদ্ধি ই-কমার্সকে শক্ত ভিত্তি দিচ্ছে। তবে এই খাতকে স্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং গ্রাহকসেবায় উদ্ভাবন খুব জরুরি। সব মিলিয়ে বলা যায়, ই-কমার্স আবারো জেগে উঠছে। এটি শুধু ব্যবসার পুনর্জাগরণ নয়, বরং গ্রাহক-ভিত্তিক একটি নতুন ও সুসংগঠিত ডিজিটাল বাণিজ্য সংস্কৃতির সূচনা। এখন সময়, আস্থার সেই ভাঙা সেতু পুনরায় গড়ে তোলার।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ উচ্চতায়, কেন এত চাহিদা?
স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ উচ্চতায়, কেন এত চাহিদা?

বর্তমানে বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে সর্বোচ্চ উচ্চতায়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। স্বর্ণের প্রতি এই অস্বাভাবিক চাহিদা ও মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একাধিক অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক কারণ। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রাস্ফীতি যখন বাড়ছে, তখন বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছে। ইতিহাস বলছে, মন্দার সময়ে কিংবা রাজনৈতিক অস্থিরতায় স্বর্ণকে মানুষ সবসময় নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখে এসেছে। বর্তমানে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং স্থানীয় মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় বাংলাদেশেও আমদানিকৃত স্বর্ণের মূল্য বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে চীন ও ভারতের মতো বড় দেশের পক্ষ থেকে ব্যাপক পরিমাণে স্বর্ণ কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিয়ের মৌসুম, ধর্মীয় উৎসব এবং ঋতুভিত্তিক চাহিদা এই কেনাকাটাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এই বৈশ্বিক চাহিদা সরবরাহে টান তৈরি করছে, যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের বাজারেও। স্থানীয়ভাবে ব্যাংকে সুদের হার কমে যাওয়ায় অনেকেই আর টাকা জমা না রেখে স্বর্ণে বিনিয়োগ করছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া যারা বিদেশে থাকেন এবং দেশে টাকা পাঠান, তারাও রেমিট্যান্সের টাকা দিয়ে স্বর্ণ কিনে রাখছেন ভবিষ্যতের জন্য। বাংলাদেশে স্বর্ণ আমদানির ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকায় সরবরাহের সমস্যা প্রায়শই দেখা যায়। এই সরবরাহ সংকটও মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। আবার স্থানীয় জুয়েলারি ব্যবসায়ীরাও বাজারে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কখনও কখনও দাম বাড়িয়ে দেন। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে রয়েছে একটি বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জটিল সমীকরণ। যদিও কেউ কেউ আশা করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দাম কমে আসবে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের প্রতি মানুষের আগ্রহ এবং বিনিয়োগ প্রবণতা এখনই কমছে না। ফলে দাম কিছুটা উঠানামা করলেও স্বর্ণের বাজার আরও কিছুদিন চাঙা থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম

বাংলাদেশের অর্থনীতি চলতি (২০২৪–২৫) অর্থবছরে প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৩ শতাংশ হতে পারে, যা সরকার নির্ধারিত ৭.৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক কম। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, মূল্যস্ফীতির চাপ, বিদেশি রিজার্ভ সংকট, এবং টাকার অবমূল্যায়ন এই প্রবৃদ্ধি হ্রাসের পেছনে বড় কারণ। মূল্যস্ফীতি ও আমদানি নির্ভরতা এপ্রিল মাসে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.২ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম উচ্চ। খাদ্যদ্রব্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল ও মুরগির মাংসে। বাজারে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। একজন ভ্যানচালক বলেন, “আগে ২০০ টাকায় একবেলার বাজার হতো, এখন ৫০০ টাকায়ও পেট ভরে না।” রেমিটেন্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২৩ সালের তুলনায় রেমিটেন্স প্রবাহ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এখনও তা পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬.৫ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ২০২১ সালে এটি ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। এর ফলে এলসি খোলা, আমদানি পণ্য ছাড়, এবং আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধে চাপে পড়ছে সরকার ও বেসরকারি খাত। সরকার কী বলছে? অর্থমন্ত্রী কামাল সংসদে বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, যুদ্ধ ও জলবায়ুজনিত সমস্যার কারণে আমাদের কিছুটা ধাক্কা খেতে হচ্ছে। তবে সরকার দক্ষভাবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।” সরকার এবার কৃষি, গার্মেন্টস, ও এসএমই খাতে বেশি বিনিয়োগের দিকে নজর দিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি বলেন, “আমদানিতে জটিলতা, ঋণের উচ্চ সুদহার, এবং কর কাঠামোর অনিশ্চয়তা ব্যবসার পরিবেশকে কঠিন করে তুলছে। সরকারের উচিত প্রণোদনা ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।” বিশ্লেষকদের মত অর্থনীতিবিদ ড. সালেহীন মাহমুদ বলেন, “সরকার যদি অবকাঠামো উন্নয়ন ও মুদ্রানীতি সঠিকভাবে পরিচালনা করে, তবে পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে সতর্ক থাকতে হবে—মূল্যস্ফীতির লাগাম না টানলে সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।” বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে। যেখানে উন্নয়নের চিত্র আছে, সেখানেই আছে দুর্বল মুদ্রানীতি, রিজার্ভ সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপ। আগামী ছয় মাসে সরকারের নীতিগত পদক্ষেপগুলোই নির্ধারণ করবে—বাংলাদেশ সামনের দিকে এগোবে না কি আরও চাপে পড়বে।

Admin জুন ২৫, ২০২৫ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

অর্থনীতি

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ৪৭ ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র

বাংলাদেশে ৪৭টি তেল-গ্যাস ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র শিগগির: এলএনজি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৯, ২০২৬ 0




অপরাধ

বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ২০, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা  দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৯, ২০২৬ 0