বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) অধীন বাস্তবায়নাধীন “বিদ্যমান বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প” ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে শতাধিক দরপত্র আহ্বান, সময়সীমা না বাড়ানো এবং বিশেষ ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।
গত ২৬ জানুয়ারি ই-জিপি পোর্টালে ১২৬টি দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর আগে ডিসেম্বর মাসে প্রায় ১০০টি টেন্ডার আহ্বান ও খোলা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগমুহূর্তে অস্বাভাবিক দ্রুততায় এত বিপুলসংখ্যক টেন্ডার আহ্বান ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি দরপত্র আহ্বান করে জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় ১৬ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু ৪ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ই-জিপি সিস্টেম আপগ্রেডেশনের কারণে কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে প্রশাসনিক ও ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ফলে কার্যত প্রায় ১০ কার্যদিবস নষ্ট হয়।
একাধিক ঠিকাদার অন্তত তিন কার্যদিবস সময় বৃদ্ধির জন্য লিখিত আবেদন করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, একযোগে বিপুলসংখ্যক টেন্ডার লাইভ থাকায় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাস্তবসম্মত ছিল না। এতে প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
২৯২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার চার বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের আওতায় মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ২০০ কোটি টাকারও বেশি দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের আগেই দ্রুত টেন্ডার সম্পন্ন করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। তবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্প মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ছয় মাস পূর্ব পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ থাকতে হয়।
অভিযোগ উঠেছে, ড. ইব্রাহিম খলিলের চাকরির মেয়াদ প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাবে। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা ও প্রকিউরমেন্ট প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত আবশ্যকতার ক্ষেত্রেও ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। তা সত্ত্বেও তাকে পিডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র দাবি করেছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী একটি চক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই এই পদে নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
মেসার্স গাজী এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর মো. নেছার উদ্দিন বলেন, “বিএডিসির চেয়ারম্যান ও প্রকল্প পরিচালকের কাছে লিখিতভাবে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছি। কিন্তু সময় বাড়ানো হয়নি। বিপুল সংখ্যক দরপত্র একসাথে থাকায় প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়নি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, ঘুষ ছাড়া কাজ পাওয়া কঠিন ছিল। তাদের দাবি, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের ব্যাংক হিসাব, স্থাবর সম্পত্তি ও সাম্প্রতিক আর্থিক লেনদেন তদন্ত করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টরা নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন—
দরপত্র মূল্যায়নের পূর্ণাঙ্গ অডিট
ই-জিপি ডেটা বিশ্লেষণ
দুর্নীতি দমন কমিশন-এর স্বাধীন তদন্ত
তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান
তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সব অনিয়ম প্রকাশ পাবে।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ড. ইব্রাহিম খলিলের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) অধীন বাস্তবায়নাধীন “বিদ্যমান বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প” ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে শতাধিক দরপত্র আহ্বান, সময়সীমা না বাড়ানো এবং বিশেষ ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা। স্বল্প সময়ে বিপুল টেন্ডার আহ্বান গত ২৬ জানুয়ারি ই-জিপি পোর্টালে ১২৬টি দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর আগে ডিসেম্বর মাসে প্রায় ১০০টি টেন্ডার আহ্বান ও খোলা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগমুহূর্তে অস্বাভাবিক দ্রুততায় এত বিপুলসংখ্যক টেন্ডার আহ্বান ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ঠিকাদারদের অভিযোগ, ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি দরপত্র আহ্বান করে জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় ১৬ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু ৪ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ই-জিপি সিস্টেম আপগ্রেডেশনের কারণে কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে প্রশাসনিক ও ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ফলে কার্যত প্রায় ১০ কার্যদিবস নষ্ট হয়। একাধিক ঠিকাদার অন্তত তিন কার্যদিবস সময় বৃদ্ধির জন্য লিখিত আবেদন করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্তের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, একযোগে বিপুলসংখ্যক টেন্ডার লাইভ থাকায় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাস্তবসম্মত ছিল না। এতে প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ২৯২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার চার বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের আওতায় মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ২০০ কোটি টাকারও বেশি দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের আগেই দ্রুত টেন্ডার সম্পন্ন করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। তবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্প মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ছয় মাস পূর্ব পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ থাকতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, ড. ইব্রাহিম খলিলের চাকরির মেয়াদ প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাবে। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা ও প্রকিউরমেন্ট প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত আবশ্যকতার ক্ষেত্রেও ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। তা সত্ত্বেও তাকে পিডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র দাবি করেছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী একটি চক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই এই পদে নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। ঠিকাদারদের বক্তব্য মেসার্স গাজী এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর মো. নেছার উদ্দিন বলেন, “বিএডিসির চেয়ারম্যান ও প্রকল্প পরিচালকের কাছে লিখিতভাবে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছি। কিন্তু সময় বাড়ানো হয়নি। বিপুল সংখ্যক দরপত্র একসাথে থাকায় প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়নি।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, ঘুষ ছাড়া কাজ পাওয়া কঠিন ছিল। তাদের দাবি, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের ব্যাংক হিসাব, স্থাবর সম্পত্তি ও সাম্প্রতিক আর্থিক লেনদেন তদন্ত করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। তদন্তের দাবি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টরা নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন— দরপত্র মূল্যায়নের পূর্ণাঙ্গ অডিট ই-জিপি ডেটা বিশ্লেষণ দুর্নীতি দমন কমিশন-এর স্বাধীন তদন্ত তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সব অনিয়ম প্রকাশ পাবে। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ড. ইব্রাহিম খলিলের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিগত সরকারের আমলে গণপূর্ত অধিদপ্তর–এ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বহুল আলোচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন পর্যায়ের বহু প্রকৌশলী বরখাস্ত, বদলি ও শাস্তির মুখোমুখি হলেও অভিযোগ রয়েছে—কিছু বিতর্কিত কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে উঠে এসেছে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল–৩-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার নাম। টেন্ডার কারসাজি ও দুদকের অভিযান সরকারি একটি অফিস ভবন নির্মাণের প্রায় ১২০ কোটি টাকার প্রকল্পে দরপত্র (আইডি ১১২০৮৫৩) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাতিল হওয়া দরপত্র পুনরায় আহ্বান করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও সামনে আসে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযানে নামে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তদন্তে প্রাথমিক অনিয়মের ইঙ্গিত মিললেও দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় দরপত্রটি বাতিল করে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই একই প্রকল্প নতুন আইডি (১২০৭৪৯৯) দিয়ে পুনরায় আহ্বান করা হয়—যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও সুপারিশ গণপূর্তের অভ্যন্তরীণ তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হয়ে নুরুল আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি বলেই দাবি সংশ্লিষ্টদের। গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তার বিরুদ্ধে বহুবার অভিযোগ হয়েছে, কিন্তু ফলাফল শূন্য।” তাদের অভিযোগ—প্রভাব ও অর্থবল ব্যবহার করে অভিযোগগুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। যদিও এই দাবির স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব ও পদোন্নতির প্রশ্ন অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি একাধিকবার পদোন্নতি পেয়েছেন। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও তাকে চিহ্নিত করেন অনেক কর্মকর্তা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অবৈধ সম্পদের অভিযোগ নুরুল আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়— রাজধানীর সেগুনবাগিচায় উচ্চমূল্যের ভাড়া বাসায় বসবাস গুলশানে ফ্ল্যাট ক্রয় কুমিল্লায় ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ স্ত্রী ও সন্তানের নামে গাড়ি ও ব্যাংক আমানত সমালোচকদের দাবি, তার ঘোষিত বৈধ আয় ও জীবনযাপনের ব্যয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। যোগাযোগের চেষ্টা নুরুল আমিন মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে খুদে বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। প্রশ্নের মুখে জবাবদিহিতা সংশ্লিষ্টদের মতে, গণপূর্ত অধিদপ্তর–এর সাম্প্রতিক ও পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলো নিরপেক্ষভাবে পুনঃতদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। বর্তমানে প্রশ্ন উঠেছে—দুদকের তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতদূর এগোবে, এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।
গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে শিক্ষা খাতের অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম প্রধান সংস্থা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) ঘিরে যে অভিযোগগুলো সাম্প্রতিক সময়ে সামনে এসেছে, তা দেশের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই অভিযোগগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহজাহান আলীর নাম, যাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দুর্নীতির সিন্ডিকেট। অনুসন্ধান ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ বছরে এমন কোনো সরকারী প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও ব্যক্তিস্বার্থের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুশাসন ব্যাহত হয়নি। সেই তালিকায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর অন্যতম। এই অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে বদলি-পদায়ন, টেন্ডার বণ্টন, প্রকল্প অনুমোদন ও বিল ছাড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘদিন ধরেই একটি নির্দিষ্ট বলয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এই বলয়ের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে শাহজাহান আলীর নাম বারবার উঠে আসছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শাহজাহান আলী ছিলেন অধিদপ্তরের সাবেক ক্যাশিয়ার ও ডেস্ক-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী। সেই সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি ও পদোন্নতিতে ঘুষ বাণিজ্য এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ জমতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তিনি ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সেই রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় তিনি নিজস্ব বলয় গড়ে তোলেন। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অধিদপ্তরের ভেতরে শাহজাহান আলীর প্রভাব এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, তার পছন্দের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত বদলির মুখে পড়তে হতো। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অধিদপ্তরের অন্তত তিনজন নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলির প্রজ্ঞাপন জারি হলেও শাহজাহান আলীর হস্তক্ষেপে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এর ফলে একজন নির্বাহী প্রকৌশলী প্রায় এক মাস ধরে বদলিকৃত কর্মস্থল যশোরে যোগ দিতে না পেরে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটান। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলানোর কথা থাকলেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ। জুলাই আন্দোলনের পর শাহজাহান আলী কৌশলে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় পুনর্গঠন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থী হিসেবে উপস্থাপন করে নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন এবং এরই ধারাবাহিকতায় একের পর এক পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। প্রশাসনের ভেতরে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও প্রকাশ্যে খুব কমই কেউ মুখ খুলতে সাহস করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, শাহজাহান আলীর এই রাজনৈতিক রূপান্তর কোনো আদর্শগত পরিবর্তনের ফল নয়, বরং ব্যক্তিগত ক্ষমতা ও প্রভাব ধরে রাখার কৌশলমাত্র। এর ফলে অধিদপ্তরের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দুর্নীতির সিন্ডিকেট নতুন বাস্তবতায়ও কার্যকর রয়েছে। জেলা পর্যায়ের প্রকৌশলীদের নিয়ে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের নেপথ্য সমন্বয়কারী হিসেবেও তার নাম উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সর্বশেষ চারজন প্রধান প্রকৌশলীই বিভিন্ন সময়ে শাহজাহান আলীর চাপ ও নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়-ঘনিষ্ঠ লবির ইঙ্গিতে স্বস্তিতে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। অভিযোগ রয়েছে, তার পছন্দের বাইরে সিদ্ধান্ত নিলে সংশ্লিষ্ট প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বদলি কিংবা প্রশাসনিক চাপের ফাইল দ্রুত এগিয়ে যেত। এতে করে অধিদপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও কার্যত একটি অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ বলয়ের অধীনে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। জুলাই আন্দোলনের পর নতুন করে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ জেলা পর্যায়ে সামনে আসছে, তার নেপথ্য সমন্বয়কারী হিসেবেও শাহজাহান আলীর নাম উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন, আসবাবপত্র ক্রয় ও অবকাঠামো নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের ফল। আর সেই নিয়ন্ত্রণের সুতো টেনে ধরেছেন শাহজাহান আলী। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো চূড়ান্ত বিল ছাড়ের আগে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ আদায়। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট শতাংশ আদায় না হলে বিল আটকে রাখা হতো কিংবা অযৌক্তিক আপত্তি তুলে বিল ছাড়ে বিলম্ব করা হতো। একই সঙ্গে উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও উৎকোচ গ্রহণ ও স্বজনপ্রীতিভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে আসবাবপত্র সরবরাহ প্রকল্পে আহবান করা দরপত্রগুলোর বড় একটি অংশ নির্দিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের অনুকূলে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্র মূল্যায়নের সময় যোগ্যতার মানদণ্ড উপেক্ষা করে প্রভাবশালী ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের ওপর প্রশাসনিক ও অনানুষ্ঠানিক চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঠিকাদারদের একাংশ তখন অভিযোগ করেছিলেন, দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকায় তারা আর অংশ নিতে আগ্রহী নন। কেউ কেউ অভিযোগ করলেও পরবর্তীতে নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকল্প বণ্টন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ। শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও নতুন নয়। বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে তিনি রংপুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেছেন, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট কিনেছেন এবং নিজ এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় করেছেন। এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তিনি দ্রুত বদলি নিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন বলে তখন দাবি করা হয়। যদিও এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তদন্ত বা নিষ্পত্তি জনসম্মুখে আসেনি। রংপুর বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে হঠাৎ করেই তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি দ্রুত ‘স্নান ত্যাগ’ করে অর্থাৎ দায়িত্ব ছেড়ে অন্যত্র বদলি নেন, যাতে তদন্তের চাপ এড়ানো যায়। তবে বদলির মাধ্যমে অভিযোগের সমাধান না হয়ে বরং তা ধামাচাপা পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। বিশ্বস্ত সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে তার পদোন্নতির ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি, তবে প্রশাসনের ভেতরে এই অভিযোগ নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। অনেক কর্মকর্তা মনে করেন, রাজনৈতিক পরিচয় বদল এবং আর্থিক লেনদেনের সমন্বয়েই তিনি বারবার বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের এসব অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় বদলের বিতর্ক এবং সিন্ডিকেটভিত্তিক অনিয়মের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা খাতের অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে যদি এভাবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি চলে, তবে এর প্রভাব সরাসরি শিক্ষার পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সুশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বারবার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে একই ব্যক্তি যদি প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রাখতে পারেন, তবে প্রশাসনিক সংস্কার কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তাদের মতে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত ছাড়া দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে শাহজাহান আলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার নীরবতাও অভিযোগগুলোকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। অনেকের প্রশ্ন, যদি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন হয়, তবে তিনি প্রকাশ্যে এসে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করছেন না কেন? সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একজন কর্মকর্তার বিষয় নয়; এটি একটি দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার প্রতিফলন। তবে শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর গুরুত্ব ও ব্যাপ্তি বিবেচনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। অন্যথায় শিক্ষা খাতের উন্নয়নের নামে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।