Brand logo light
অন্যান্য...

গুগল সার্চ: ইন্টারনেটের যুগান্তকারী শক্তি

নিজেস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
গুগলে সার্চ
গুগলে সার্চ

গত দশকে ইন্টারনেটের ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে গেছে। এক ক্লিকেই তথ্য পাওয়া, শেখা ও বিনোদনের সুযোগ ইন্টারনেটকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ করে দিয়েছে। তবে ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তা শুধু ব্যবহারের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; সার্চের প্রযুক্তিও ক্রমবর্ধমান উন্নতি করেছে।

প্রাথমিক সময়ে ইয়াহু, আর্চি, লাইকোস এবং আল্টা ভিস্তার মতো সার্চ ইঞ্জিনগুলো জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গুগল সার্চ ইঞ্জিন প্রযুক্তিগত দিক থেকে এগিয়ে যাওয়ায় বাকি সার্চ ইঞ্জিনগুলোর ব্যবহার অনেকাংশে কমে গেছে।

গুগল মূলত যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। এটি শুধু সার্চ ইঞ্জিন নয়, বরং ইন্টারনেটের তথ্য ব্যবস্থাপনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ইন্টারনেটে কিছু খুঁজতে হলে বিশ্বজুড়ে গুগলই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

 

ক্রম শব্দ যতবার সার্চ করা হয়েছে
Facebook ১.৪ বিলিয়ন
Youtube ১.২ বিলিয়ন
Google ৫৯৪.১ মিলিয়ন
Gmail ৪২৮.৬ মিলিয়ন
Amazon ৩৫০.৭ মিলিয়ন
Weather ২৯৯.৪ মিলিয়ন
Hotmail ২৭২.১ মিলিয়ন
Translate ২৬৬.৭ মিলিয়ন
google translate ২৪৩.৬ মিলিয়ন
১০ Instagram ২২৪.৭ মিলিয়ন
১১ Traductor ২২০.৯ মিলিয়ন
১২ Fb ২১৪ মিলিয়ন
১৩ Whatsapp web ২০৯.৭ মিলিয়ন
১৪ Clima ২০১.৮ মিলিয়ন
১৫ Cricbuzz ১৪২.৪ মিলিয়ন
১৬ google maps ১৪১.৫ মিলিয়ন
১৭ Yahoo ১২৬.৬ মিলিয়ন
১৮ Maps ১০৮.১ মিলিয়ন
১৯ Netflix ১০৫.৭ মিলিয়ন
২০ yahoo mail ১০৫ মিলিয়ন
২১ Ebay ১০০.১ মিলিয়ন
২২ you tube ৯৪.৮ মিলিয়ন
২৩ Twitter ৯১.৯ মিলিয়ন
২৪ Tiempo ৯১.৪ মিলিয়ন
২৫ Вк ৯০.১ মিলিয়ন
২৬ Yt ৮৩.১ মিলিয়ন
২৭ Facebook login ৮২.৯ মিলিয়ন
২৮ Погода ৮২.১ মিলিয়ন
২৯ Tradutor ৮০.১ মিলিয়ন
৩০ Outlook ৭৪.১ মিলিয়ন
৩১ Переводчик ৬৫.৪ মিলিয়ন
৩২ Whatsapp ৬৫ মিলিয়ন
৩৩ Walmart ৬৪.৮ মিলিয়ন
৩৪ Coronavirus ৬৪.৪ মিলিয়ন
৩৫ Meteo ৬৯.৬ মিলিয়ন
৩৬ Livescore ৫৮.৫ মিলিয়ন
৩৭ BBC News ৫৬.৬ মিলিয়ন
৩৮ News ৫৬.৩ মিলিয়ন
৩৯ previsão do tempo ৫৬.১ মিলিয়ন
৪০ Satta ৫৬.১ মিলিয়ন
৪১ satta king ৫৫.৭ মিলিয়ন
৪২ Sarkari result ৫৫.৭ মিলিয়ন
৪৩ Ютуб ৫৩.৮ মিলিয়ন
৪৪ Roblox ৫২.৬ মিলিয়ন
৪৫ google traduction ৫২.২ মিলিয়ন
৪৬ Olx ৫০.৬ মিলিয়ন
৪৭ satta Matka ৪৫.৮ মিলিয়ন
৪৮ Pinterest ৪৫.৩ মিলিয়ন
৪৯ Restaurants ৪৪.৯ মিলিয়ন
৫০ Wetter ৪৪.৭ মিলিয়ন

 


গুগল সার্চের কাজের পদ্ধতি

গুগল কীভাবে কাজ করে তা বোঝার জন্য অ্যালগরিদম ও আর্কিটেকচার জানা জরুরি। গুগল সার্চের ফলাফল তৈরি করার জন্য প্রধানভাবে তিনটি উপাদান ব্যবহার করে:

  1. স্পাইডার বা ক্রলার:
    এটি একধরনের স্বয়ংক্রিয় বট, যা ওয়েবের বিভিন্ন পেজ ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করে ইনডেক্সে রাখে। সার্চ রেজাল্টে কোন ওয়েবসাইট প্রদর্শিত হবে, তা এই স্পাইডার নির্ধারণ করে।

  2. কীওয়ার্ড ডাইরেক্টরি:
    গুগলের বিশাল আয়তনের কীওয়ার্ড ডাইরেক্টরি সার্চ রেজাল্ট সাজানোর ক্ষেত্রে সাহায্য করে।

  3. অ্যালগরিদম:
    ব্যবহারকারীর সার্চ রেজাল্ট প্রদর্শনের জন্য গুগল অ্যালগরিদম ব্যবহার করে। এই অ্যালগরিদম নিশ্চিত করে যে, ব্যবহারকারী যেই শব্দটি সার্চ করেছেন, সেই শব্দযুক্ত কনটেন্ট বা ওয়েবসাইটই তালিকার শুরুর দিকে দেখানো হবে।


গুগল ট্রেন্ডস: কোন কীওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি সার্চ হয়

গুগলে কোন বিষয় বা কীওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি সার্চ করা হচ্ছে, তা জানতে গুগল ট্রেন্ডস (Google Trends) ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হয়। এখানে গ্রাফ ও মানচিত্রের মাধ্যমে প্রতিটি অঞ্চলে কী কী শব্দ সার্চ হচ্ছে, তা সহজেই দেখা যায়।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি জানতে পারবেন কোন শব্দ কোন অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, বা সময়ের সঙ্গে কী কীওয়ার্ডের সার্চ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে গুগলে সবচেয়ে বেশি সার্চ করা ৫০টি শব্দের তালিকাও প্রকাশিত হয়েছে, যা বিভিন্ন নিউজ ও অনলাইন গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


 

ইন্টারনেট ও সার্চ ইঞ্জিনের ব্যবহার যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি তথ্যের সহজলভ্যতা ও ট্রেন্ড বিশ্লেষণও আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। গুগল সার্চ শুধুমাত্র তথ্য খোঁজার মাধ্যম নয়, এটি বিশ্বব্যাপী মানুষের মনোভাব ও আগ্রহের প্রতিফলনও। গুগল ট্রেন্ডস ব্যবহার করে ব্যবসা, শিক্ষা, মিডিয়া ও গবেষণার জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বরিশালে সাংবাদিকদের ওপর ডিসির ক্ষোভ: নির্বাচনী কার্ড ইস্যুতে হয়রানির অভিযোগ

বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! ​নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ​সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। ​জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। ​স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি  খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা  ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার  নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক

অন্যান্য...

View more
এআই কনটেন্ট
এআই কনটেন্টে বদলে যাচ্ছে ডিজিটাল নির্মাণের ধারণা

ডিজিটাল যুগে কনটেন্ট তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, আর এর কেন্দ্রে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। এখন আর কনটেন্ট মানেই বড় প্রোডাকশন হাউস, ক্যামেরা বা অভিনেতা নয়—একজন নির্মাতা কম্পিউটার ও কিছু সফটওয়্যার ব্যবহার করে পুরো ভিডিও তৈরি করতে পারছেন। বিশেষ করে ইউটিউব ও ফেসবুক-এ দেখা যাচ্ছে, বানর, বিড়াল, সিংহের মতো ভার্চুয়াল চরিত্র দিয়ে গল্প বলা ভিডিওগুলো খুবই ভাইরাল হচ্ছে। অনেক ভিডিওর ভিউ সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে কোটি হচ্ছে, আর নির্মাতারাও উল্লেখযোগ্য আয় পাচ্ছেন। এআই কনটেন্টের জনপ্রিয়তার কারণ এ ধরনের কনটেন্ট এত দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে কিছু বড় কারণ রয়েছে: কম খরচে উৎপাদন – আগে যেখানে বড় স্টুডিও দরকার হতো, এখন একটি কম্পিউটার ও সফটওয়্যারেই কাজ সম্ভব। দ্রুত উৎপাদন – স্ক্রিপ্ট লেখা, ভয়েস ও চরিত্র ডিজাইন সবকিছু কয়েক মিনিটে সম্পন্ন। আকর্ষণীয় ভিডিও – ছোট, মনোযোগ ধরে রাখার মতো ভিডিও প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমকে প্রভাবিত করে। বৈশ্বিক দর্শক পৌঁছানো সহজ – একই ভিডিওকে বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব। কনটেন্ট নির্মাতাদের নতুন আয়ের পথ এই প্রযুক্তি নির্মাতাদের নতুন আয়ের সুযোগ খুলে দিয়েছে। একজন নির্মাতা দিনে একাধিক ভিডিও তৈরি করতে পারছেন, একই কনটেন্ট বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করতে পারছেন এবং বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় বাড়াচ্ছেন। কম বিনিয়োগে বেশি আয়ের সুযোগ থাকায় নতুন নির্মাতাদের প্রবেশও বেড়েছে। ভবিষ্যৎ কনটেন্ট ইকোসিস্টেম যদিও এই পরিবর্তন অবশ্যই হবে, বিশেষজ্ঞদের মতে তা ধীরে ধীরে এবং আংশিকভাবে হবে। ভার্চুয়াল বা AI-নির্ভর কনটেন্টের বৃদ্ধি দেখা যাবে, ফেসলেস চ্যানেল জনপ্রিয় হবে, এবং একক নির্মাতারা ছোট স্টুডিওর কাজ একাই করতে সক্ষম হবেন। তবে মানুষের সৃজনশীলতা, মৌলিক গল্প বলার দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক কনটেন্টের মূল্য কখনো কমবে না। অর্থাৎ, আগামী দিনে কনটেন্ট জগত হবে মানব ও AI-এর যৌথ সহযোগিতার যুগ। চ্যালেঞ্জ ও সতর্কতা এআই কনটেন্ট বৃদ্ধির সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জও যুক্ত: মানের নিম্নগতি ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর ভিডিও মৌলিক নির্মাতাদের জন্য প্রতিযোগিতা প্ল্যাটফর্মের নতুন নীতিমালা তবুও, ব্যক্তিগতকৃত ভিডিও, রিয়েল-টাইম জেনারেটেড গল্প, ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার ও ইন্টারঅ্যাকটিভ ভিডিও হবে নতুন বাস্তবতা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
গুগলে সার্চ

গুগল সার্চ: ইন্টারনেটের যুগান্তকারী শক্তি

মাদক

বাংলাদেশে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব

ইত্তেহাদ নিউজ

সততা, নিরপেক্ষতা ও সাহসী সাংবাদিকতার নির্ভরযোগ্য জনপ্রিয় অনলাইন ইত্তেহাদ নিউজ

ইত্তেহাদ নিউজ
ডিজিটাল ও স্মার্ট সাংবাদিকতায় ‘ইত্তেহাদ নিউজ’

etihad news is one of the famous Bangla news portals published from Abudhabi-UAE. It has begun with a commitment to fearless, investigative, informative, and independent journalism. This online portal has started to provide real-time news updates with maximum use of Smart Technology   ডিজিটাল ও স্মার্ট সাংবাদিকতার ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলা ভাষায় যাত্রা শুরু করেছে জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম “ইত্তেহাদ নিউজ”। ২০২০ সালে এই গণমাধ্যমটির প্রচার ও প্রকাশনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে কার্যক্রম কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়। তবে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বর্তমানে পূর্ণোদ্যমে এগিয়ে চলেছে ইত্তেহাদ নিউজ। ইত্তেহাদ নিউজের মূল লক্ষ্য—বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সকল বাংলাভাষী মানুষের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য, আধুনিক ও অংশগ্রহণমূলক সংবাদমাধ্যম তৈরি করা। এখানে অনুসৃত নীতিই হলো—“যারাই লেখক, তারাই পাঠক”। অর্থাৎ পাঠকরাই তাদের নিজস্ব ভাষা, অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সংবাদ তৈরি ও প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন। বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক, ফিচার, অনুসন্ধানী সংবাদ, প্রযুক্তি, মতামতসহ বিভিন্ন বিভাগে পাঠকদের চাহিদা ও পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে থাকছে ভিডিও সংবাদ, যা দেখা যাবে অ্যাপ, ইউটিউব, টুইটারসহ সকল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। “ইত্তেহাদ নিউজ” অনলাইন সাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিদিন পরিবেশন করছে নানামুখী খবর, বিশ্লেষণধর্মী লেখা এবং শিক্ষণীয় প্রতিবেদন—ভিডিও ও টেক্সট উভয় ফরম্যাটে। এই সংবাদমাধ্যম থেকে প্রচারিত উন্নতমানের ও বিশ্বাসযোগ্য কনটেন্ট বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পাঠক ও দর্শক ইন্টারনেটের মাধ্যমে পড়তে, শুনতে ও দেখতে পারছেন। ইত্তেহাদ নিউজের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবী সদর দপ্তর থেকে। এছাড়া ঢাকা, বরিশাল, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও সাইপ্রাসে রয়েছে নিজস্ব সংবাদদাতা। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কর্মরত সংবাদদাতাদের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ইত্তেহাদ নিউজের প্রতিনিধিরা নিয়মিত পাঠাচ্ছেন তরতাজা সংবাদ, তথ্য ও বিশ্লেষণ, যা দ্রুততম সময়ে প্রকাশ করা হচ্ছে এই প্ল্যাটফর্মে। ডিজিটাল সাংবাদিকতার এই নতুন উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাভাষী পাঠকদের জন্য একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এম. এম. রহমান প্রধান সম্পাদক ইত্তেহাদ নিউজ   ইমেইল: [email protected] Web: https://etihad.news .সংবাদের জন্য: [email protected] .বিজ্ঞাপনের জন্য: [email protected] .যেকোনো তথ্যের জন্য: [email protected]   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম …… .ফেসবুক: https://www.facebook.com/Etihadnewsuae .ইউটিউব:https://www.youtube.com/@etihadnewsmail .টুইটার: https://twitter.com/EtihadNews24 .ইনস্টাগ্রাম : https://www.instagram.com/etihadnewsuae

নিজেস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
এআইয়ের যুগে ডিজিটাল নিরাপত্তা সুরক্ষায় করণীয়

এআইয়ের যুগে ডিজিটাল নিরাপত্তা সুরক্ষায় করণীয়

হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির বাসা

হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির বাসা

ফুলের বাগান

মরুর বুকে ফুলের বাগান

সাইবার ঝুঁকিতে তারবিহীন অডিও ডিভাইস
সাইবার ঝুঁকিতে তারবিহীন অডিও ডিভাইস

তারবিহীন প্রযুক্তির ব্যবহার আজ আর বিলাসিতা নয় বরং দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। অফিসে কাজের সময়, যাত্রাপথে গান শোনা বা বাসায় স্মার্ট স্পিকারের সহায়তাÑ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা ব্লটুথ হেডফোন, ওয়্যারলেস ইয়ারবাড বা ওয়াই-ফাই ভিত্তিক অডিও সিস্টেম ব্যবহার করছি। তবে আরামের পাশাপাশি নীরবে বাড়ছে সাইবার ঝুঁকিও। কারণ এই ডিভাইসগুলো এখন শুধু অডিও শোনার মাধ্যম নয়; এগুলো ব্যবহারকারীর কণ্ঠ, অভ্যাস, অবস্থানসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ডেটাও ধারণ করছেÑ যা অসতর্ক হলে সহজেই হ্যাকারদের টার্গেটে পরিণত হতে পারে। ব্লটুথে আড়িপাতার সুযোগসবচেয়ে প্রচলিত তারবিহীন প্রযুক্তি ব্লুটুথ। কিন্তু অনেক ডিভাইসই এখনও দুর্বল বা পুরনো এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এর ফলে সাইবার অপরাধীরা খুব সহজেই আপনার ব্লুটুথ সিগন্যাল ক্যাপচার করতে পারে। এনক্রিপশন ভেঙে কথোপকথন শুনতে পারে। অথবা অডিও ট্রান্সমিশন জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবর্তন করতে পারে। আরও বড় ঝুঁকি তৈরি হয় পেয়ারিংয়ের সময়। যখন আপনি নতুন হেডফোন বা স্পিকার কানেক্ট করেন, তখন ডিভাইস ‘ডিস্কভারেবল মোডে থাকে। এই সুযোগে হ্যাকার ভুয়া ডিভাইস হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে পারে। আপনার পেয়ারিং সিগন্যাল ইন্টারসেপ্ট করতে পারে। এমনকি নকল কানেকশনের মাধ্যমে আপনার অডিও ট্র্যাফিক শুনে ফেলতে পারে। পাবলিক জায়গায় ব্লটুথ স্ক্যানিং ক্যাফে, রেলস্টেশন বা বিমানবন্দরে ব্লুটুথ অন অবস্থায় রাখলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। কারণ হ্যাকাররা বিশেষ স্ক্যানিং টুল দিয়ে আশপাশের সব ব্লুটুথ সিগন্যাল খুঁজে দুর্বল ডিভাইস শনাক্ত করে। এরপর অডিও স্ট্রিমে গোপনে প্রবেশের চেষ্টা করে। স্মার্ট অডিও ডিভাইস : অদৃশ্য ডেটা সংগ্রহকারী নতুন প্রজন্মের ওয়্যারলেস ইয়ারবাড বা স্মার্ট স্পিকার এখন সেন্সর, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ও অ্যাপ কানেকশনসহ নানা সুবিধা দেয়। কিন্তু একই সঙ্গে তারা ব্যবহারকারীর ভয়েস কমান্ড, লোকেশন ডেটা, শোনার অভ্যাস এমনকি বায়োমেট্রিক তথ্যও সংগ্রহ করে। এগুলো যদি কোম্পানি সঠিকভাবে সুরক্ষিত না রাখে, কিংবা ডেটা ফাঁস হয়Ñ তাহলে বড় মাত্রার গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সম্ভাবনা থাকে। ওয়াই-ফাই স্পিকারের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক হ্যাকিং বড় মাপের স্মার্ট স্পিকার বা হোম অডিও সিস্টেম মূলত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে কাজ করে। রাউটারের দুর্বল পাসওয়ার্ড, পুরনো ফার্মওয়্যার বা অনিরাপদ নেটওয়ার্কের কারণে হ্যাকাররা ঘরের নেটওয়ার্কে প্রবেশ, অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ, এমনকি র‌্যানসমওয়্যার ছড়িয়ে পুরো সিস্টেম লক করে দিতে পারে। এভাবে একটি সাধারণ অডিও ডিভাইস পুরো স্মার্ট হোমকে বিপদে ফেলতে পারে। ভয়েস ক্লোনিং হুমকি AI দিয়ে ভয়েস কপি এখন সহজ। হ্যাকার ইয়ারবাড বা স্মার্ট স্পিকার থেকে কণ্ঠস্বর সংগ্রহ করে ব্যাংক কল যাচাই, পরিচিতির ছদ্মবেশÑ এসবও করতে পারে। ঝুঁকি কমানোর উপায় ফার্মওয়্যার সব সময় আপডেট রাখুন। ব্লটুথ ডিসকভারেবল মোড বন্ধ রাখুন। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ পারমিশন বন্ধ করুন। পাবলিক জায়গায় নতুন ডিভাইস পেয়ারিং এড়ান। সন্দেহজনক কানেকশন দেখলে রিসেট করুন। তারবিহীন অডিও ডিভাইস আমাদের জীবনকে সহজ ও কার্যকর করেছে। তবে নিরাপত্তার দিকে সামান্য অসাবধানতা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবহারকারীর সচেতনতাও সমান জরুরি।  

নিজেস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0