বাংলাদেশের ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ও ভ্লগার ইকরা সম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন। ইকরা শুধু একজন তারকা হিসেবে পরিচিত ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন ভ্লগার ও উপস্থাপিকা হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়। তার মৃত্যু শোবিজ অঙ্গনে একটি বড় আঘাত হয়ে এসেছে, বিশেষ করে তার একমাত্র ছেলেকে একাই রেখে চলে যাওয়া কারও কাছে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এদিকে, এই ঘটনার পর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী তমা মির্জা সামাজিক মাধ্যমে ইকরাকে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি বলেছেন, যখন একজন নারী তার ভালোবাসার মানুষকে পূর্ণ সমর্থন দেয়, তার পাশে থাকে এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সাহায্য করে, তখন সেই মানুষটি যখন সফলতা পায়, তখন বেশিরভাগ সময় তাকে ঠকানো হয়, অবহেলা করা হয়, এবং মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়। তমা মির্জা তার চিঠিতে আরও বলেন, একজন নারী অনেক কিছু সহ্য করতে পারে, কিন্তু যখন তার ভালোবাসার মানুষের এই বদলে যাওয়া চেহারা সে দেখেন, তখন তার কাছে জীবন অর্থহীন হয়ে ওঠে। জীবন থেকে মুক্তি পেতে অনেক সময় এইসব পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যাওয়াই একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায়। ইকরার এই অসম্মানজনক পরিণতি, বিশেষত তার একমাত্র সন্তানের দিকে তাকালে, যেন একটি বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে পড়ছে। তমা মির্জা মনে করেন, ইকরার চলে যাওয়ার পর তার মানসিক যন্ত্রণা কিছুটা হলেও কমে গেছে, যদিও তার এই সিদ্ধান্তের ফলে কোনো উপলব্ধি বা পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা জানেন না তিনি। শোবিজ অঙ্গনে ইকরার মৃত্যু নিয়ে শোক এবং আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে, এবং অনেকেই এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করছেন। তমার মতামত শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে নয়, বরং একটি বড় সামাজিক ইস্যুরও প্রতিফলন। নারী-পুরুষের সম্পর্কের নানা দিক এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপের ওপর তমার খোলা চিঠি গভীরভাবে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া, আত্মহত্যার মতো জটিল বিষয়টি নিয়ে সকলের আরও সচেতন হওয়া জরুরি, বিশেষত মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সহায়তা এবং নারীদের জন্য একে অপরকে সহায়তা করার গুরুত্ব আরও বেশি বেড়ে যায় এই ধরনের পরিস্থিতিতে।
ঢাকা : ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার দাফন আজ (রোববার) সম্পন্ন হয়েছে। ইকরাকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের রান্দিয়া গ্রামে তার নানা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে তার মরদেহ ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মরদেহ আসার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে এলাকার আকাশ-বাতাস। একের পর এক অমানবিক ঘটনা যেন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। স্বজনদের দাবি, ইকরার মৃত্যু ছিল এক গভীর মানসিক যন্ত্রণার ফল। তার বাবা, যিনি এখন পাগলপ্রায়, তার মেয়ের মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, অভিনেতা যাহের আলভী এবং তার মায়ের একাধিক মানসিক নির্যাতন ও ক্রমাগত প্ররোচনাই ইকরাকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছে। তার ভাষায়, “এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।” আলভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তার অবহেলা এবং অনৈতিক জীবনযাপন ইকরাকে অবর্ণনীয় মানসিক যন্ত্রণায় ফেলেছিল। ইকরার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তিনি সব সময় অবহেলিত ছিলেন এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকরার একটি ব্যক্তিগত চ্যাট স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে তার চরম মানসিক বিপর্যস্ত হওয়ার বিষয়টি ফুটে ওঠে এবং আলভীর বিরুদ্ধে এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগও তোলা হয়। গুরুতর অভিযোগের পর, বেশ কিছুদিন ধরে ইকরার পরিবার এবং এলাকাবাসী দাবি করছিল যে, এই ঘটনার তদন্ত সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত হওয়া উচিত এবং যারা এই মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। ইকরার মৃত্যু বাংলাদেশের সারা দেশে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ময়মনসিংহের ভালুকার গ্রামে এবং তার ভক্তদের মধ্যে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার বাসিন্দারা দাবি করছেন, যদি এই মৃত্যুর পেছনে কারো প্ররোচনা থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় অভিনেতা যাহের আলভী ঈদুল ফিতরের নাটকের শুটিংয়ের জন্য নেপালে ছিলেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা দেশের মিডিয়া অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে এই ঘটনায় আলভীর শাস্তি দাবি করছেন।
বাংলাদেশি ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আফজাল সুজন আবারও চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগের শিকার হয়েছেন। তার স্ত্রী জান্নাত দীপ্তি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি বিস্ফোরক স্ট্যাটাস শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি অভিযোগ তুলেছেন, তার স্বামী আফজাল সুজনের বিরুদ্ধে পরকীয়া, মাদকাসক্তি এবং শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ। দীপ্তির দাবি, আফজাল সুজন বর্তমানে মডেল সুমাইয়া খন্দকার তৃষ্ণার সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত। এ বিষয়ে প্রমাণ হিসেবে তিনি তৃষ্ণার সঙ্গে সুজনের অশালীন কথোপকথন এবং আপত্তিকর ছবির স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, দীপ্তি তার শরীরে আঘাতের চিহ্নসহ ছবি পোস্ট করে অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ ৬ বছরের সংসার জীবনে তাকে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। দীপ্তি জানান, তার অসুস্থ বাবার সামনে এবং নিজের বাড়িতে সুজন তাকে মারধর করতেন। এমনকি, তিনি যখন গর্ভবতী ছিলেন, তখন আফজাল সুজন অন্য একটি নারীর সঙ্গে ৪-৫ মাস লিভ-ইন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। দীপ্তি জানান, তিনি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এতদিন চুপ ছিলেন, তবে সুজনের মিথ্যা অপবাদ সহ্য করতে না পেরে তিনি অবশেষে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন। এদিকে, আফজাল সুজন তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘টাকার লোভে সংসার ছাড়ার’ অভিযোগ তুলেছেন। এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দীপ্তি প্রশ্ন তুলেছেন, "একজন জালিমের ঘর ছেড়ে শান্তিতে বাঁচার চেষ্টা করা কি চরিত্রের দোষ?" দীপ্তি আরও বলেন, "আত্মহত্যা করলেই কি সমাজ আমাকে ভালো বলত?" এছাড়া, দীপ্তি জানিয়েছেন যে, মিডিয়াতে তার স্বামীর ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার ভয়ে সুজন তাকে তালাক দিতে চাইছেন না এবং তাকে সামাজিকভাবে মর্যাদাহীন করার চেষ্টা করছেন। অভিনেতা আফজাল সুজন এই বিষয়ে মুখ খুলতে অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, "এই বিষয়ে আমি এখন কিছু বলতে চাই না। আমি নিজেই সবার সঙ্গে কথা বলব, ওইটুকু পর্যন্ত সময় আমাকে দিন।" তবে, তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মডেল তৃষ্ণা কোনো সাড়া দেননি। বর্তমান পরিস্থিতি এ ঘটনার পর, আফজাল সুজন বর্তমানে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ২০১৮ সালে ঈগল মিউজিকের ব্যানারে ক্যারিয়ার শুরু করা এই অভিনেতা বর্তমানে বাংলাদেশী টেলিভিশন নাটকগুলিতে নিয়মিত অভিনয় করছেন। তার স্ত্রীর এমন গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত, এই অভিযোগগুলো নিয়ে কোন আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি, তবে মিডিয়া ও শোবিজ অঙ্গনে এই বিতর্কে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের চেহারা নিয়ে নানান কু-মন্তব্যের শিকার হয়েছেন। দিন-প্রতিদিনের এই ধরনের অবমাননাকর মন্তব্যের কারণে তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। এবার এই বিষয়ে আইনের সাহায্য নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রাবন্তী। শুক্রবার কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় একটি ইমেল মারফত অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারা অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর অভিযোগ পেয়েছেন এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। শ্রাবন্তী এই বিষয়ে বলেন, "আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারলাম না। আমরা শিল্পীরা এমনিই ‘সফ্ট টার্গেট’। কিন্তু, শুধুমাত্র শিল্পী হিসেবে বলছি না, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেও বলছি—এভাবে সমাজমাধ্যমে দিনের পর দিন নোংরা মন্তব্য করা খুবই কু-রুচিকর। আমার সম্পর্কে নেতিবাচক কথা তো বলা হচ্ছে। একটু ভেবে দেখা উচিত, কেন আমার চেহারায় পরিবর্তন হয়েছে।" শ্রাবন্তী আরও জানান, তিনি সম্প্রতি "ঠাকুমার ঝুলি" নামের একটি ওয়েব সিরিজের শুটিং শেষ করেছেন। সেখানে ঠাকুরমার চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। এই চরিত্রের জন্য তাকে প্রায় ১০ কেজি ওজন বাড়াতে হয়েছে। অভিনেত্রী বলেন, "ঠাকুরমার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আমাকে সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। ঠাকুরমার গড়ন তো ছিপছিপে নায়িকা-সুলভ হতে পারে না।" প্রতিদিনের এই নোংরা মন্তব্যের জন্য শ্রাবন্তী কেবল পুরুষদেরই দায়ী করছেন না, নারীদেরও এই ধরণের মন্তব্য করার বিষয়টি তিনি অবাক হয়েছেন। শ্রাবন্তী যোগ করেন, "মানুষ কিছু না জেনেই মন্তব্য করতে ভালোবাসেন।" এখন, ওয়েব সিরিজের শুটিং শেষ হওয়ার পর আবার শরীরচর্চায় মনোযোগী হয়েছেন শ্রাবন্তী। সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, "শুধু আমাকে না, প্রতিটি শিল্পীকে সম্মান দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।" এমন পরিস্থিতিতে শিল্পীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি, সমাজমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। এখন প্রশ্ন ওঠে—এমন মন্তব্য করার মানুষদের বিরুদ্ধে কি যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে? অভিনেত্রীর সাইবার ক্রাইম শাখায় করা অভিযোগের পর পুলিশের তদন্ত কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে।
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ও ব্যস্ত অভিনেত্রী শবনম বুবলী। গত কয়েক বছর ধরে ঈদ মানেই বুবলীর সিনেমা, যা দর্শকদের মাঝে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করে। এবারও ঈদে আসছে দুটি নতুন সিনেমা, যা তার অভিনয় কৌশল ও পারফরম্যান্সে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ছবিগুলো হলো রায়হান রাফী পরিচালিত "প্রেশার কুকার" এবং জাহিদ জুয়েল পরিচালিত "পিনিক"। প্রেশার কুকার: "চারজন নারীর গল্প বলা হয়েছে সিনেমায়, যার প্রধান চরিত্রে রয়েছেন বুবলী। এই ঢাকা শহর আসলে মেয়েদের জন্য একটা প্রেশার কুকার। তাদের চিৎকার সহ্য না করতে পারলে এই প্রেশার কুকারে সিটি বেজে ওঠে। না তারা এই শহর থেকে বের হতে পারে, না এই শহর তাদের থেকে- এমন গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছে ছবিটি। অন্যদিকে ‘পিনিক’ সিনেমায় আদর আজাদের বিপরীতে দেখা যাবে বুবলীকে। পিনিক: অন্যদিকে, "পিনিক" সিনেমাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের, যেখানে বুবলী অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। সিনেমাটিতে বুবলীকে অ্যাডভেঞ্চার ও অ্যাকশন দৃশ্যে দেখা যাবে, যা তার আগের কাজের থেকে একেবারেই ভিন্ন। এখানে আদর আজাদ সহ আরো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের সাথে তার পারফরম্যান্স সিনেমাটির আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সিনেমা দর্শকদের জন্য এক ধরনের থ্রিল এবং একশন মুভির নতুন অভিজ্ঞতা হতে চলেছে। বুবলীর অনুভূতি: ঈদে দুটি সিনেমা মুক্তি নিয়ে শবনম বুবলী বলেন, "ঈদে সিনেমা মুক্তি পাওয়া আমার জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত। গত কয়েক ঈদেই আমি সিনেমার আনন্দ উপভোগ করতে পেরেছি এবং এবার দুটি সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। দুটি সিনেমা দুটি ভিন্ন ধরণের, তাই আমি আশা করছি, দর্শকদের ভালো লাগবে।" এই দুই সিনেমার মধ্য দিয়ে শবনম বুবলী আরও একবার প্রমাণ করছেন যে, তিনি কেবলমাত্র রোমান্টিক চরিত্রের জন্য নয়, বরং শক্তিশালী নারীকেন্দ্রিক এবং অ্যাকশনধর্মী চরিত্রেও সমান দক্ষ। ঈদে মুক্তি পেতে চলা বুবলীর দুটি সিনেমা "প্রেশার কুকার" ও "পিনিক" কেবল তার ক্যারিয়ারের এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে, তা নয়, একই সঙ্গে এই ছবিগুলো নারীর ক্ষমতায়নের গল্পও বলবে। দর্শকরা এই ঈদে বুবলীর নতুন প্রতিভা এবং অভিনয়ের একটি ভিন্ন রূপ উপভোগ করতে পারবেন।
বলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা নেহা কক্কড় এবার এক অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। মুম্বইয়ের একটি ট্রেডিং ওয়েবসাইট নেহার নাম ব্যবহার করে প্রচারণা চালিয়ে একজন আইনজীবীকে ৫ লাখ রুপি প্রতারিত করেছে। ঘটনাটি বর্তমানে মুম্বইয়ের উয়োরলি পুলিশ তদন্ত করছে। সম্প্রতি, ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া.কম’ এ খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। জানা গেছে, মুম্বাইয়ের এক আইনজীবী শবনম মহম্মদ হুসেন সইদ, যিনি এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তিনি ওয়েবসাইটটির প্রচারে নেহা কক্কড়ের ছবি ও ভিডিও দেখেছিলেন। ভিডিওতে দাবি করা হয়, নেহা কক্কড় নিজেই এই প্ল্যাটফর্মের প্রচারণা করছেন এবং এটি পুরোপুরি বৈধ। বিশ্বাস করে ওই ওয়েবসাইটে ট্রেডিং করতে শুরু করেন শবনম। তাকে বিজয় এবং জিমি ডি’সুজা নামে দুজন ব্যক্তি সমর্থন দেন এবং আশ্বাস দেন যে, অ্যাকাউন্ট খুললেই বিশাল লাভ পাওয়া যাবে। এর পর, গত ১৮ জুন তিনি নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ লাখ রুপি পাঠান। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও সেই টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি মুম্বই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। এ বিষয়ে তদন্তের পর, পুলিশ ধারণা করছে যে, নেহা কক্কড়ের ছবি ও নাম বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নেহা কক্কড়ের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ধরনের অনলাইন প্রতারণা আরও আগে বলিউডের একাধিক তারকার নাম ও ছবি ব্যবহার করে ঘটেছে। ইন্ডাস্ট্রিতে এরকম ঘটনা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা তৈরি করেছে, যা অনেক ভোক্তাকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করছে। এটি নতুন একটি সতর্কবার্তা হিসেবে উঠে এসেছে যে, অনলাইনে বিনিয়োগের সময় বিশদভাবে যাচাই-বাছাই করা জরুরি।
দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের পর অবশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন দক্ষিণী তারকা রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। রাজস্থানের উদয়পুরে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় শুরু হয় তাদের বিয়ের রজকীয় আয়োজন। তেলুগু রীতি অনুযায়ী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর, সন্ধ্যায় তারা কোডাভা রীতি অনুযায়ী দ্বিতীয় দফা বিয়েতে বসেন। তেলুগু রীতি ও কোডাভা রীতি—দ্বৈত সংস্কৃতির মেলবন্ধন বৃহস্পতিবার সকালে, রাশমিকা ও বিজয় তেলুগু রীতি মেনে প্রথম বিয়ের অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করেন। এই বিয়ের পোশাকে রাশমিকা পরেছিলেন অত্যন্ত নান্দনিক এবং ঐতিহ্যবাহী সিল্ক শাড়ি, যা পুরো আয়োজনের রাজকীয়তা বাড়িয়ে দেয়। এর পরে, সন্ধ্যায় কোডাভা রীতি অনুযায়ী রাশমিকা পরেন ঐতিহ্যবাহী কোডাভা স্টাইলের শাড়ি, যার শাড়ির ভাঁজ থাকে পেছনের দিকে, যা কুর্গ অঞ্চলের নারীদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম অংশ। এদিন সন্ধ্যায়, ৫টার সময় কোডাভা বিবাহানুষ্ঠান শুরু হয়, যা এক থেকে দুই ঘণ্টা ধরে চলে। এতে তারা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করেন। রাশমিকা ও বিজয়ের বিশেষ মুহূর্ত এই বিশাল আয়োজনের পর, রাশমিকা ও বিজয়ের বিয়ে কেবল একটি সাধারণ সম্পর্কের মিলন নয়, বরং দুটি সংস্কৃতির সম্মিলন ও একে অপরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার চিহ্নও ছিল। তাদের বিয়ের আয়োজনে এক অনন্য রাজকীয়তা ছিল যা উপভোগ করেছে ভক্তরা এবং সর্বস্তরের মানুষ। বিজয়ের সাথে রাশমিকার সম্পর্ক শুরু হয় সাত বছর আগে, আর সেই সম্পর্ক এখন পূর্ণতা পেলো এক ঐতিহ্যবাহী বিয়ের মাধ্যমে। রাশমিকা ও বিজয়ের এই বিয়ে শুধুমাত্র তাদের জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্ত নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক মিলনের প্রমাণও বটে। এই বিয়ের মাধ্যমে তারা তাদের নিজ নিজ ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে, ভবিষ্যতের পথে একত্রে হাঁটার অঙ্গীকার করেছেন।
লাইমলাইটে থাকতে কীভাবে নজর কাড়তে হয়, তা ভালো করেই জানেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও টেলিভিশন অভিনেত্রী উরফি জাভেদ। কোনো বড় বাজেটের সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় না করেও আজ তিনি বলিউডের পরিচিত মুখ। তার সাহসী ও ব্যতিক্রমী ফ্যাশন স্টেটমেন্টই তাকে বারবার এনে দিয়েছে শিরোনামে। স্টাইল নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা উরফির কাছে নতুন কিছু নয়। কখনও রিসাইকেল করা উপকরণ, কখনও অদ্ভুত ডিজাইনের পোশাক—সবকিছুতেই তিনি চমক দিতে ভালোবাসেন। তবে এবার যেন নিজেকেও ছাপিয়ে গেলেন এই অভিনেত্রী। কেকে তৈরি পোশাকে নজরকাড়া উপস্থিতি সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে কালো রঙের অভিনব একটি পোশাক পরে হাজির হন উরফি। প্রথম দর্শনে অনেকেই ভেবেছিলেন, পোশাকটিতে কেকের নকশা করা হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই দেখা যায়, সেটি আসলে সত্যিকারের কেক দিয়ে তৈরি বিশেষ কস্টিউম। সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি নিজের পোশাক থেকেই কেক কেটে উপস্থিত অতিথিদের পরিবেশন করতে শুরু করেন। মুহূর্তেই সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। এমন অভিনব প্রচারণা বা স্টাইল স্টেটমেন্ট আগে খুব কমই দেখা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয় নানা প্রতিক্রিয়া। কেউ তার সৃজনশীলতার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ সমালোচনায় সরব হয়েছেন। একজন মন্তব্য করেন, “এই কেকটা কেউ খাবেন না, ওর গ্যাসের সমস্যা রয়েছে।” আরেকজন লেখেন, “আজ আমার জন্মদিন, আর আজকেই উনি এমন ড্রেস পরে এলেন!” অন্য এক নেটিজেনের ভাষ্য, “আমি জানি না কীভাবে উনি এমন জামা পরে এলেন! আর এরাও বা কেমন মানুষ যে কেকটা খেয়েও নিচ্ছেন। ভীষণ নোংরা লাগছে।” কটাক্ষকে তোয়াক্কা নয় সমালোচনা উরফির জীবনের নতুন কিছু নয়। বরং বিতর্ক যেন তার ক্যারিয়ারেরই অংশ। তবে এসব কটাক্ষকে বরাবরই উপেক্ষা করে নিজের শর্তে চলেন তিনি। ফ্যাশনকে তিনি দেখেন আত্মপ্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে—যেখানে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নিজস্বতা তুলে ধরাই তার লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, আবারও প্রমাণ হলো—ভাইরাল হতে হলে আলাদা কিছু করতেই হয়, আর সেই জায়গায় উরফি জাভেদ নিঃসন্দেহে এক ধাপ এগিয়ে। তার এই কেক-পোশাক বিতর্কিত হলেও বিনোদন দুনিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা জুটি দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী শহর উদয়পুরে রাজকীয় আয়োজনে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। দুই রীতিতে সম্পন্ন বিয়ে উদয়পুরে প্রথমে তেলেগু রীতিতে বিয়ে সেরেছেন এই তারকা যুগল। দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জা, মন্ত্রোচ্চারণ ও আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় বিবাহ। এরপর বিকেলে রাশমিকার পরিবারের কর্ণাটকের কোডাভা সম্প্রদায়ের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় দফা বিয়ের আয়োজন করা হয়। দুই পরিবারের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে অনন্য ও বর্ণাঢ্য। খাঁটি দক্ষিণী আমেজে আয়োজন বিয়ের প্রতিটি আয়োজনে ছিল দক্ষিণী সংস্কৃতির ছোঁয়া। অতিথিদের স্বাগত জানানো হয় নারিকেল পানির মাধ্যমে। ভোজের আয়োজন ছিল কলাপাতায় পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে। মেনুতে স্থান পেয়েছিল তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটকের বিভিন্ন জনপ্রিয় পদ। সাজপোশাকেও ফুটে উঠেছে নিজ নিজ শিকড়ের প্রতি ভালোবাসা ও গর্ব। প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিয়ে উপলক্ষে আগের দিনই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তায় নবদম্পতির নতুন জীবনের জন্য আন্তরিক শুভকামনা জানানো হয়। পাশাপাশি দুই পরিবারকেও অভিনন্দন জানিয়ে সুখী ও সফল দাম্পত্য জীবনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। হায়দরাবাদে বসছে সংবর্ধনা উদয়পুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শোবিজ অঙ্গনের বন্ধু ও সহকর্মীদের জন্য হায়দরাবাদে আগামী ৪ মার্চ বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজনের পরিকল্পনা করেছেন বিজয়-রাশমিকা। দক্ষিণী চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে এই বিয়ে নিঃসন্দেহে বছরের অন্যতম আলোচিত আয়োজন হয়ে থাকবে। ঐতিহ্য, আভিজাত্য ও পারিবারিক আবেগের মেলবন্ধনে নতুন জীবনের পথচলা শুরু করলেন এই জনপ্রিয় তারকা জুটি।
কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কৌশানী মুখার্জি। ক্যারিয়ারে অনেক চড়াই-উৎরাই পার করেছেন। কঠিন সময় পার করেছেন। তবুও ভেঙে পড়েননি কৌশানী। সম্প্রতি সে বিষয় টেনেই এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি জীবনে সমস্ত রকম খারাপ দেখে ফেলেছি। ক্যারিয়ারের গ্রোথ একেবারে তলানিতে গিয়েও ঠেকতে দেখেছি। ওই সময়েই মা’কে হারিয়েছি। তারপর থেকে ভয়টা একেবারে চলে গেছে। অনেক সময় এমনও এসেছে, যখন ভিড়ের মাঝে সবাই শুধু বনির সঙ্গে সেলফি তুলতে চেয়েছেন, কিন্তু আমাকে কেউ লক্ষ্য পর্যন্ত করেননি। তখন নিজের আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতো। সে কঠিন সময় পার করা প্রসঙ্গে কৌশানী বলেন, বনির আগে আমার একটা সম্পর্ক ছিল এবং খুব সিরিয়াস রিলেশনশিপেই ছিলাম আমরা। সেই সময়ে আমার ক্যারিয়ারের শুরু। ইন্ডাস্ট্রির চাকচিক্য, কাজ, প্রতিষ্ঠা, সঙ্গে ইমম্যাচুরিটি- সবটা মিলিয়েই ওই সম্পর্কটা সাসটেন করেনি। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছি বলতে পারেন। কাজটা কাজের জায়গায়, আর সম্পর্কটা সম্পর্কের মতো। মাঝেমধ্যে আমি বনিকে বলতাম ‘তুমি এত ভালো ভালো কাজ করছো, আমাকে কেন কোথাও রিকমেন্ড করো না? সত্যি কথা বলতে কাজ চাইতে আমার কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। আমি যত বড় অভিনেত্রী হয়ে যাই না কেন, কাজ চাইতে আমার কোনো লজ্জা নেই। কারণ আমি কাউকে কাজের জন্যই প্রস্তাব দিচ্ছি, অন্যায় কিছু না। এখন সময় হয়তো বদলেছে। এ পর্যায়ে এসে কাজই আমার কাছে আসছে। আমার যেতে হচ্ছে না। খারাপ সময় না পার করলে ভালো সময়ের মর্ম বোঝা যায় না আসলে।
সম্প্রতি দেশের কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক খবরে দাবি করা হয়, বিদেশ থেকে অবৈধভাবে মদ আনার সময় বিমানবন্দরে আটক হয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী নির্মাতা আদনান আল রাজীব এবং চলচ্চিত্র পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্ত। প্রকাশিত খবরে আরও বলা হয়, রহস্যজনক কারণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। তবে এ বিষয়ে শুরুতে মেহজাবীন কিংবা রাজীবের কোনো বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয় এবং গুঞ্জন আরও বাড়তে থাকে। সামাজিক মাধ্যমে অভিনেত্রীর বক্তব্য আজ দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন মেহজাবীন চৌধুরী। তিনি লিখেছেন, “কিছুদিন ধরে আমি লক্ষ্য করছি, আমাকে নানা বিষয়ে টার্গেট করা হচ্ছে। আপনারা অনেকেই জানেন, কিছুদিন আগেও একটি মিথ্যা মামলায় আমাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। বিজ্ঞ আদালত সেই মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন, সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” অভিনেত্রীর দাবি, তিনি যখন নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করেছেন, ঠিক তখনই আবারও তার মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে। এআই অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ মেহজাবীন তার বক্তব্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহারের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “সাম্প্রতিক সময়ে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিওর কারণে আমার মতো অনেক শিল্পী বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, যা একেবারেই কাম্য নয়।” তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নারীরা সহজ টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন। কারা এর পেছনে রয়েছে তা তিনি জানেন না, তবে তিনি কেবল নিজের কাজ নিয়েই আলোচনা চান। নীরব স্বামী রাজীব এদিকে এ ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি নির্মাতা আদনান আল রাজীব। ফলে বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সমালোচনা বনাম সমর্থন খবরটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে একদিকে যেমন সমালোচনা দেখা গেছে, অন্যদিকে অনেক ভক্ত ও সহকর্মী মেহজাবীনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রকাশ ও শেয়ার করার প্রবণতা অনেক সময় ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নতুন ধরনের বিভ্রান্তি ও মানহানির ঝুঁকি তৈরি করছে। বিমানবন্দর বিতর্ক ঘিরে প্রকৃত ঘটনা কী, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে মেহজাবীন চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মানহানির অপচেষ্টা। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্ত সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্টীকরণ আসে কি না।
ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে দর্শকমহলে পরিচিতি পেলেও গানের প্রতিও রয়েছে তার আলাদা ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার প্রকাশ ঘটল এবারে। প্রকাশিত হয়েছে তার নতুন মৌলিক গান ‘দু’জন দু’জনার’। নব্বই দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের গানের আবহে নির্মিত এই গানটি প্রকাশের পর থেকেই ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন হিমি। বর্তমান সময়ের আধুনিক বিট বা সমসাময়িক মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্টের বাইরে গিয়ে সচেতনভাবেই কিছুটা পুরনো ধাঁচের আমেজ রাখা হয়েছে গানে। ফলে অনেক শ্রোতাই গানটি শুনে নব্বই দশকের বিশেষ ফ্লেভারের কথা স্মরণ করছেন। হিমির ভাষ্য, দর্শকদের এমন প্রতিক্রিয়া তাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। তিনি বলেন, “আমি তো গানের মানুষ না। গান গাইতে সব সময় ভয়ে থাকি—মানুষ ট্রল না করে দেয় কিংবা যদি পছন্দ না করে! এই গান শ্রোতারা পছন্দ করেছেন, এটা আমার জন্য বড় পাওয়া।” অভিনয়ের বাইরে গান গাওয়া নিয়ে এক ধরনের জড়তা কাজ করে বলেও স্বীকার করেন এই অভিনেত্রী। তবে শ্রোতাদের ভালোবাসা তাকে সাহস জুগিয়েছে। যদিও আপাতত গান নিয়ে বড় কোনো পরিকল্পনা নেই তার। হিমির সব মনোযোগ ও পরিকল্পনা এখনো অভিনয়কেন্দ্রিক। ছোট পর্দায় নিজের অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি শখের জায়গা থেকে গান প্রকাশ—এই দুইয়ের সমন্বয়ে ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করলেন হিমি। নব্বই দশকের সুর-স্মৃতিকে ধারণ করা ‘দু’জন দু’জনার’ গানটি ভালোবাসা দিবসের আবহে শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
গত দেড় দশকের ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত ও সফল নায়িকা মাহিয়া মাহি। রূপালি পর্দায় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে বারবার শিরোনামে এসেছেন তিনি। তবে এবার খবরের কেন্দ্রবিন্দুতে তার যুক্তরাষ্ট্র অধ্যায়। গ্রিনকার্ড জটিলতায় বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন মাহি। স্বামী-সন্তানসহ নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনাও ছিল তার। কিন্তু সম্প্রতি কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতায় তার আবেদন বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও তিনি পুনরায় আবেদন করার চেষ্টা করছেন, তবুও প্রক্রিয়াটি তার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তার স্বামী রকিব সরকার ও পুত্র অবস্থান করছেন ভারতে। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে সন্তানের সঙ্গে সরাসরি দেখা হয়নি মাহির। কাজী মারুফের বাসায় অবস্থান জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে তিনি থাকছেন চিত্রনায়ক কাজী মারুফ-এর বাসায়। সেখান থেকে মারুফের স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত ছবি শেয়ার করতেও দেখা গেছে তাকে সামাজিক মাধ্যমে। সিনেমা থেকে রাজনীতি ২০১২ সালে জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ‘ভালোবাসার রঙ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে মাহির। এরপর একই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে একাধিক ব্যবসাসফল ছবি উপহার দেন। নায়ক বাপ্পীর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়ালেও তা স্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনও শোনা যায়। দ্বন্দ্বের জেরে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে অন্য ব্যানারে কাজ শুরু করেন তিনি। বিয়ে, বিচ্ছেদ ও নতুন অধ্যায় ২০১৬ সালে মাহমুদ পারভেজ অপুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মাহি। তবে দাম্পত্যে অমিলের অভিযোগে ২০২১ সালে ডিভোর্স দেন। একই বছর গাজীপুরের আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা রকিব সরকারকে বিয়ে করেন তিনি। দুই বছর পর রাজনীতিতে সরব হন মাহি। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট-এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও পাননি দলীয় সমর্থন। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেখানেই কার্যত ইতি ঘটে তার রাজনৈতিক অধ্যায়ের। আড়ালে যাওয়া ও কর্মহীনতা ২০২৫ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর অনেকটাই আড়ালে চলে যান মাহি। চলচ্চিত্রেও কাজ কমতে থাকে। একপ্রকার কর্মহীন অবস্থায় পড়েন তিনি। নির্বাচনের আগে রকিব সরকারের সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়নি বলে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েই জানান মাহি। গত বছরের অক্টোবরে অনেকটা নীরবে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। অনিশ্চয়তার প্রহর যুক্তরাষ্ট্রে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, সবমিলিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মাহি। একদিকে গ্রিনকার্ড জটিলতা, অন্যদিকে স্বামী-সন্তান থেকে দূরত্ব—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছেন তিনি। আওয়ামী ট্যাগ থাকায় দেশে ফেরার বিষয়েও দ্বিধায় আছেন বলে জানা গেছে। রূপালি পর্দার ঝলমলে জীবন পেরিয়ে বাস্তবের চড়াই-উতরাই এখন যেন হার মানাচ্ছে সিনেমাকেও। সামনে কী অপেক্ষা করছে মাহিয়া মাহির জীবনে—সেই উত্তরই খুঁজছে তার ভক্ত-অনুরাগীরা।
লন্ডনে ছুটির মেজাজে বলি অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। তবে একা নন সঙ্গে রয়েছেন প্রেমিক কবীর বাহিয়াও। কৃতি আর কবীরের প্রেমের গুঞ্জন অনেকদিন ধরেই। এর আগে বোন নূপুরের বিয়েতেও একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল কবীর ও কৃতিকে। এবার ভাইরাল নেটপাড়ায় তাদের লন্ডন ট্যুরের ছবি। যদিও কবীর ও কৃতি- কেউই তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি।
দুই বাংলাতেই অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ জয়া আহসান। অভিনয়ের দক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের জোরে সমানভাবে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের দর্শকদের হৃদয়ে। তবে কেবল রূপালি পর্দাতেই নয়, ব্যক্তিজীবনেও তিনি বরাবরই আলাদা এক স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে চলেন। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, নিজের মতো করে সময় কাটানো—এসবই যেন তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্যক্তিগত জীবন আড়ালেই রাখতে ভালোবাসেন এই অভিনেত্রী। তবুও প্রকৃতির প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ভক্তদের অজানা নয়। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা এক ভিডিওতে জয়া তুলে ধরেছেন বাড়ির বাগানচর্চার এক সুন্দর মুহূর্ত। সেখানে দেখা যায়, নিজের হাতে মাটি থেকে টেনে তুলছেন টাটকা মূলা। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “যখন তুমি আলতো করে মাটি থেকে মূলা টেনে বের করো, আর হঠাৎ করেই সেই উজ্জ্বল সাদা বা লাল মূলাটি বেরিয়ে আসে, কী যে এক শান্তির অনুভূতি বলে বোঝানো কঠিন। ছোট ছোট জিনিসে এই বড় আনন্দ, বিশেষ করে যখন এটি তোমার নিজের বাগানের ফসল।” এর আগেও বিভিন্ন মরশুমে ফল ও সবজির বাগান পরিচর্যার মুহূর্ত ভাগ করে নিতে দেখা গেছে তাকে। কখনও ঝুড়িভর্তি সবজি, কখনও বা পোষ্যদের সঙ্গে বাগানে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে তার এক গভীর বন্ধন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কলকাতায় নিয়মিত যাতায়াত থাকলেও অধিকাংশ সময় তিনি দেশেই কাটান। জন্মভূমিতে থাকলে প্রায়ই নো-মেকআপ লুকে ধরা দেন জয়া। গ্ল্যামার দুনিয়ার বাইরে, একেবারে সাধারণ জীবনের সরল মুহূর্তগুলোই যেন তাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়। রুপালি পর্দার আলো ঝলমলে জীবনের আড়ালে, মাটির গন্ধ আর সবুজের মাঝে খুঁজে পাওয়া এই শান্তির মুহূর্তই যেন জয়া আহসানের আসল জগৎ। ছোট ছোট সাফল্যে বড় আনন্দ খুঁজে নেওয়ার এই বার্তাই নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে তার ভক্তদের।
শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের গ্ল্যামার আর স্লিম ফিগার দেখে মুগ্ধ হন অসংখ্য ভক্ত। আলোঝলমলে এই দুনিয়ায় নিজেকে ফিট ও আকর্ষণীয় রাখতে তারকাদের খাবারদাবারেও থাকে বিশেষ সতর্কতা। তবে পছন্দের খাবার সামনে পেলে লোভ সামলানো সবার পক্ষেই কঠিন—গ্ল্যামার কন্যারাও এর ব্যতিক্রম নন। ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি আগেই জানিয়েছেন, দুধ দিয়ে তৈরি যেকোনো খাবার তার ভীষণ প্রিয়। বিশেষ করে দুধের পায়েস তার অন্যতম পছন্দের। তিনি স্মরণ করেন, তার নানী ও বড় খালার হাতের রান্না ছিল অত্যন্ত প্রিয়—যদিও তারা এখন আর বেঁচে নেই। রমজানে সাদামাটা সেহরি চলছে পবিত্র রমজান মাস। সম্প্রতি এক শোরুম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরীমণি জানান, সেহরিতে খুব ভারী কিছু খান না তিনি। তার ভাষায়, “দুধ-কলা আর ভাত বেশি পছন্দ করি, ওটাতেই চলে যায়।” সহজপাচ্য ও হালকা খাবারেই সেহরি সেরে ফেলেন এই চিত্রনায়িকা। ইফতারে ভাজাপোড়া নয় ইফতারের সময়ও খুব বেশি ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার খান না পরীমণি। তিনি জানান, নিজের জন্যের চেয়ে সবার জন্য আয়োজন করতেই তার বেশি ভালো লাগে। “আমি শরবত, খেজুর দিয়ে ইফতারি করে ফেলি,”—বলেছেন তিনি। রমজানের একটি মজার অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন এই নায়িকা। একবার শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকার সময় ভুলে পানি খেয়ে ফেলেছিলেন তিনি। মুক্তির অপেক্ষায় একাধিক সিনেমা অভিনয়ের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমণি। তার অভিনীত বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সম্প্রতি ‘গোলাপ’ নামের নতুন একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। এতে তার সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করবেন নিরব। জানা গেছে, খুব শিগগিরই সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে। গ্ল্যামারের ঝলকানির আড়ালে সাদামাটা জীবনযাপন আর সাধারণ খাবারেই ভরসা রাখেন পরীমণি—এমন খোলামেলা স্বীকারোক্তি ভক্তদের মাঝে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। রমজানের এই সময়ে তার খাদ্যাভ্যাস ও নতুন সিনেমার খবর শোবিজ অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঢাকার চলচ্চিত্র নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন-এর সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ এবার বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের বিশেষ অনুদান প্রাপ্তি ঘোষণা করে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ইতালির ফ্যাশন হাউস প্রাডার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ফন্ডাজিওনে প্রাডা থেকে ছবিটির পোস্ট প্রোডাকশন প্রক্রিয়ার জন্য ৮০ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা) অনুদান প্রদান করা হয়েছে। এবারের বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে মোট ১৪টি দেশের সিনেমা অনুদান পাচ্ছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের সিনেমাটিও বিশেষভাবে নির্বাচিত। ইতোমধ্যে রুবাইয়াত হোসেনের সিনেমাটি ২০২২ সালে ওয়ার্ল্ড সিনেমা ফান্ড-এর ৩৭তম অধিবেশনে ৫০ হাজার ইউরো (প্রায় ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা) অনুদান পেয়েছিল। ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এ অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। ছবির গল্পে দেখা যায় এক তরুণীর রূপকথার মতো বিয়ের স্বপ্ন, যা একটি জটিল অসুস্থতার কারণে অনিশ্চয়তায় পড়ে। প্রচলিত চিকিৎসায় সমাধান না পাওয়ায় তার মানসিক চাপ বাড়তে থাকে এবং বিভ্রম দেখা দেয়। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে ভৌতিক উপাদান মিশিয়ে নারীর অন্তর্দ্বন্দ্ব ও মনস্তাত্ত্বিক সংকট চিত্রিত করা হয়েছে। ছবিটির শুটিং ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জায়নীন করিম চৌধুরী। যৌথ প্রযোজনার এই সিনেমায় রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে প্রযোজক হিসেবে যুক্ত আছেন ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল ও নরওয়ের প্রযোজকরা। রুবাইয়াত হোসেন জানান, বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের মতো মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে এই অনুদান প্রাপ্তি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য একটি বড় মাইলফলক। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই তহবিল সিনেমাটির প্রযোজনা প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশি সিনেমার মান ও প্রতিভা তুলে ধরবে।
ঢাকা: জনপ্রিয় ঢাকাই গায়ক সামিরা খান মাহি সামাজিক মাধ্যমে একটি বিশেষ বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি কিছুদিনের জন্য বিরতি নিচ্ছেন। মাহি নিজের ভক্তদের সচেতন করে বলেছেন, এটি কোনো স্থায়ী বিদায় নয়, বরং ব্যক্তিগত ও মানসিক পুনরায় থিতু হওয়ার জন্য নেওয়া অল্প সময়ের থামা। মাহি লিখেছেন, “প্রিয় ভক্তরা, জীবনের প্রতিটি যাত্রায় মাঝেমধ্যে একটু বিরতি দরকার হয়। এইবার সেই বিরতিটাই নিচ্ছি। মনটা একটু ভারী, কারণ কাজ আর তোমাদের ভালোবাসা ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ। তবে এটা বিদায় নয়, শুধু অল্প সময়ের জন্য থামা। দোয়া রেখো, খুব তাড়াতাড়ি আবার ফিরব, ইনশাআল্লাহ।” তার এই পোস্টের পর ভক্তরা তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। কেউ মন্তব্য করছেন যে কাজের চাপে মানসিক প্রশান্তির জন্য বিরতি জরুরি, আবার কেউ দ্রুত পর্দায় ফিরে আসার অনুরোধ জানাচ্ছেন। সূত্র জানায়, মাহি ১৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফ্লাইটে উঠে নিজের বোনের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন। এই সিদ্ধান্তকে অনেকে ভক্তদের মধ্যে চমক হিসেবে দেখছেন। যেমন আগে মোনালিসা, নওশীন, বন্যা মির্জা, তমালিকা কর্মকাররা করেছিল, ঠিক তেমনিভাবে মাহিও নিজের মানসিক শান্তির জন্য কিছুদিনের জন্য মিডিয়া থেকে বিরতি নিচ্ছেন। মাহির এই বিরতি কার্যক্রমের মাধ্যমে ভক্তরা আশা করছেন, তিনি আরও সতেজ ও উদ্দীপনাময় ফিরে আসবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের প্রশংসা করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। এক পোস্টের মাধ্যমে জাইমা রহমানকে নিয়ে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন হালের এই অভিনেত্রী। তানজিন তিশা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জাইমার দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করার বিষয়ে তুলে ধরেছেন তানজিন তিশা। জাইমাকে মাটির মানুষ আখ্যা দিয়ে ওই পোস্টে তিশা লেখেন, ‘বিদেশে বেড়ে উঠলেও তিনি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অত্যন্ত সৌন্দর্য, মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে ধারণ করেন। তিনি আরো বলেন, ‘কেউ যেখানে বেড়ে উঠুক না কেন, নিজের শিকড়কে এভাবে দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে দেখা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।’ বলে রাখা যায়, তরুণ প্রজন্মের মানুষদের কাছে জাইমা রহমান এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ কিংবা কৌতূহলও তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যে। যদিও এখন পর্যন্ত সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন তিনি। এতেই মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি।
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাপসী পান্নু ও ডেনমার্কের ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় মাথিয়াস বো এক দশকের সম্পর্কের পর ২০২৩ সালে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দীর্ঘ সময়ের সম্পর্কের পর, বিয়ে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করলেও তাপসী পান্নু জানিয়েছেন, বিয়ের পর তার জীবনে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি। বরং, তিনি তার স্বামীর সঙ্গে সুখী ও শান্তিপূর্ণ জীবন উপভোগ করছেন। তাপসী পান্নুর বিয়ে: কোন ধরনের পরিবর্তন হয়নি তাপসী পান্নু সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, বিয়ের পরেও তার জীবনযাত্রায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেছেন, “আমার স্বামী কখনোই এই সম্পর্ককে বোঝা হতে দেননি। বিয়ের আগে আমার একটাই শর্ত ছিল—সবকিছু যেন আগের মতোই থাকে। সম্পর্কের রসায়ন বদলে গেলে, বিয়ের কোনো মানে নেই।” তিনি আরও জানান, "বিয়ে আমাকে অনেক কিছু শেখাতে চেয়েছে, তবে আমি জানতাম, আমাদের সম্পর্কের মূলত্ব কখনোই বদলাবে না।" তাপসী বললেন, মাঝে মাঝে এমন হয় যে, তিনি ভুলে যান যে তিনি বিবাহিত। তবে, এর মানে এই নয় যে তাদের সম্পর্কের মধ্যে কোনো অশান্তি রয়েছে। বরং, এটি তার ও মাথিয়াসের সম্পর্কের স্বাভাবিকতা এবং সুখী সম্পর্কের প্রতীক। পুরনোপন্থী জীবনদৃষ্টিভঙ্গি বিয়েকে তিনি একটি আজীবনের বন্ধন হিসেবেই দেখেন। তাপসী বলেছেন, "আমি পুরনোপন্থী, আমার বিশ্বাস, বিয়ে একটি স্থায়ী বন্ধন। আমি এমন জীবনসঙ্গী চাইনি, যে আমার কথা মতো চলবে। সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং স্বাধীনতা থাকা উচিত।” তাপসী ও মাথিয়াসের সম্পর্কের দৃঢ়তা অনেকটাই তাদের বাস্তববাদী মানসিকতার কারণে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর, তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্কের বন্ধন গড়ে উঠেছে, যা এখনো অটুট। তাপসী ও মাথিয়াসের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখন পর্যন্ত, তাপসী এবং মাথিয়াসের সম্পর্ক দৃঢ় ও সুন্দর রয়েছে। তারা একে অপরকে নিজের জীবনের অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখেন এবং তাদের সম্পর্কের মধ্যে কোনো বড় ধরনের জটিলতা নেই। তাপসী এই বিষয়ে বলেছেন, "আমাদের সম্পর্ক কখনোই পরিপূর্ণ নয়, তবে একে অপরকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং ব্যক্তিগত জায়গায় স্বাধীনতা দেওয়ার মাধ্যমে এটি আরো দৃঢ় হয়েছে।
টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় দম্পতি শুভশ্রী গাঙ্গুলি ও রাজ চক্রবর্তী—দাম্পত্য জীবনের ৮ বছর পেরিয়ে আজ দুই সন্তানের গর্বিত অভিভাবক। প্রেম থেকে পরিণয়, আর সেখান থেকে পারিবারিক পূর্ণতা—সব মিলিয়ে তারা এখন টলিউডের ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবে সুপরিচিত। ২১ ফেব্রুয়ারি ৫১ বছরে পা দিলেন নির্মাতা রাজ চক্রবর্তী। প্রতি বছরের মতো এবারও স্বামীর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন করতে ভোলেননি শুভশ্রী। ঘড়ির কাঁটা রাত ১২ ছুঁই ছুঁই করতেই রাজের সঙ্গে একগুচ্ছ অন্তরঙ্গ ছবি পোস্ট করেন নায়িকা। ছবিতে শুভশ্রীর পরনে ছিল মেরুন হল্টার নেক টপ ও কালো ট্রাউজার। অন্যদিকে জন্মদিনের ‘বার্থডে বয়’ রাজ সেজেছিলেন কালো টি-শার্টে। সরল অথচ উষ্ণ মুহূর্তেই ধরা পড়েছে তাদের ভালোবাসা। 💖 আবেগঘন বার্তায় ভালোবাসার প্রকাশ ছবি পোস্ট করে শুভশ্রী লেখেন— “ঈশ্বর জানেন একে-অপরকে আমাদের কতটা প্রয়োজন। আমি তোমায় সবচেয়ে ভালোবাসি। আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো ঘটনা তোমার সঙ্গে থাকা। শুভ জন্মদিন আমার ভালোবাসা।” স্বামীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে কখনও কার্পণ্য করেন না নায়িকা। আবার রাজও বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সামাজিক মাধ্যমে স্ত্রীকে নিয়ে তার মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন একাধিকবার। 🎁 বিশেষ আয়োজন ও চমকপ্রদ উপহার রাজের জন্মদিন মানেই শুভশ্রীর বিশেষ পরিকল্পনা। অতীতে কখনও দামি স্মার্টফোন, কখনও রাজের পছন্দের সুগন্ধি উপহার দিয়েছেন তিনি। এমনকি খুব প্রয়োজন না হলে এই দিনে কাজও রাখেন না নায়িকা। নিজের হাতে রান্না করে স্বামীকে চমক দেওয়াও তার অভ্যাসের অংশ। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জন্মদিনের আগাম উদযাপন ইতিমধ্যেই সেরে ফেলেছেন রাজ। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক রেস্তোরাঁয় নৈশভোজে অংশ নেন তিনি। সেই ছবিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। 🎥 ব্যস্ততা ‘প্রলয় ২’-এর প্রচারে জন্মদিনের আনন্দের মাঝেই কাজের ব্যস্ততা রয়েছে নির্মাতার। তার নতুন ছবি প্রলয় ২-এর প্রচারে এখন সময় কাটছে রাজের। তবে ব্যস্ত সূচির মধ্যেও পারিবারিক মুহূর্তকে গুরুত্ব দিতে ভোলেননি এই তারকা দম্পতি। 🌟 টলিউডের আদর্শ দম্পতি দীর্ঘ ৮ বছরের দাম্পত্য জীবনে শুভশ্রী ও রাজ একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছেন। পারিবারিক মূল্যবোধ, পেশাগত সাফল্য ও পারস্পরিক সম্মান—সব মিলিয়ে তারা আজ টলিউডের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ী জুটি। ভালোবাসা, দায়িত্ব ও বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ এই দম্পতির আগামীর পথচলা আরও সাফল্যমণ্ডিত হোক—এমনটাই কামনা করছেন তাদের অনুরাগীরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েলসহ একাধিক গণমাধ্যমও সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে, এই দাবি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই ইরান সরকার কঠোর ভাষায় তার নেতার জীবিত থাকার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আলম জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও বলা হয়, তিনি দেশের সেনাবাহিনী এবং সরকারের নেতা হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। খামেনি বেঁচে আছেন, দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন:ইরানের গণমাধ্যমের দাবি এদিকে, এনবিসিতে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ স্থানে আছেন।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও তাদের নেতার বেঁচে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তবে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি, ইরান সরকার তাদের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এ ঘটনার পর বিশ্বের নজর তেহরানে, এবং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।