ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ হয়েছেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বরগুনা-২ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মানবসম্পদ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। একই দিন সংসদের হুইপ হিসেবে নিয়োগ পান ছয়জন সংসদ সদস্য। তারা হলেন—হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউছ, খুলনা-৩ আসনের রকিবুল ইসলাম বকুল, শরীয়তপুর-৩ আসনের মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, নাটোর-২ আসনের রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, দিনাজপুর-৪ আসনের আখতারুজ্জামান মিয়া এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজান। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায় দলটি দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু ফুসফুসের সংক্রমণসহ কিছু জটিলতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইতোমধ্যে তার জরুরি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ডা. মাহমুদা মিতুর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান তার স্বামী। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আসসালামু আলাইকুম। আপনাদের সকলের দোয়া ও ভালোবাসার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কিছু জরুরি বিষয় জানাচ্ছি। আমার স্ত্রী ডা. মাহমুদা মিতুর গত ২৩ তারিখ হঠাৎ গাইনোকোলজিকাল ইমার্জেন্সি দেখা দেওয়ায় জরুরি অপারেশন করতে হয়েছে। অপারেশনের পূর্বে তিনি প্রায় শক অবস্থায় ছিলেন এবং পেটের ভিতরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই দৌড়ে এসে রক্ত দিয়ে গেছেন। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আপনাদের সহায়তা, আল্লাহর অশেষ রহমত এবং চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় সেই কঠিন সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে অপারেশনের পর কিছু জটিলতা দেখা দেয়। বর্তমানে অপারেশনজনিত সমস্যা না থাকলেও পোস্ট-অপারেটিভ ফুসফুসের সংক্রমণসহ আরও কিছু জটিলতার কারণে তিনি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সেপটিসেমিয়ার ফিচারসহ, ডি ডাইমার, লিভার এনজাইম, সি আর পি, WBC সব প্যারামিটার রেইজসড সাথে নিউট্রোফিলিয়া। নতুন করে হাই ডায়বেটিক (অন ইন্সুলিন) অবস্থায় আছে। অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়া তার এখনো স্যাচুরেশন ফল করছে, তবে যেগুলো বেশি ছিল সেগুলো এখন কমে আসছে, আজকে শুধু WBC বেড়েছে। এই সকল প্যারামিটার রেইজ যেহেতু এবং বর্তমানে তার ফুসফুস আক্রান্ত, তাই আপাতত কোনো ভিজিটর অনুমোদন করা হচ্ছে না, বিষয়টি সবাই সহানুভূতির সাথে গ্রহণ করবেন বলে আশা করছি। দুদিন আগে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। আল্লাহর অশেষ রহমত এবং চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা আপাতত সেই কঠিন সময় অতিক্রম করতে পেরেছি, তবে এখনও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নন। চিকিৎসকরা ধারণা করছেন আরও ৪/৫ দিন সময় লাগতে পারে। পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর বিষয়টি জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু গত কয়েকদিন তার অনলাইনে অনুপস্থিতি দেখে আপনাদের শত শত কল ও বার্তা এবং এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীদের উদ্বিগ্ন যোগাযোগের কারণে বিষয়টি জানানোকে দায়িত্ব মনে করেছি। অনেকে হাসপাতালের ঠিকানা জানতে চেয়েছেন। তিনি পাশ করার পর প্রায় ৯ বছর যে গাইনি ক্লিনিকে কাজ করেছেন, সেটিকেই তিনি নিজের দ্বিতীয় ঘর মনে করেন। আমি ঢাকা মেডিকেলে ডিউটিরত থাকার সময়ও তিনি নিজ সিদ্ধান্তে সেখানে ভর্তি হয়েছেন। তার কমফোর্ট জোন বিবেচনায় আমরা তাকে সেখানেই রেখেছি। গত ২২-২৩ তারিখ থেকেই তিনি অনেক বেশি শারীরিক কষ্ট পেয়েছেন। আমি দেশবাসীর কাছে আমার স্ত্রীর জন্য আন্তরিক দোয়া প্রার্থনা করছি। তার কথা বা অবস্থানের কারণে যদি কেউ কোনোভাবে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে নিজ গুণে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার বাচ্চারা, আমরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে এই মুহূর্তে কিছুটা ভঙ্গুর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। পবিত্র রমযান মাসের বরকতময় সময়ে আপনাদের আন্তরিক দোয়ার উছিলায় মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন এই কামনাই করছি। আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ, তার নাম মনে পড়লেই নাম ধরে আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন আমাদের জন্য অনেক বড় শক্তি। মহান রাব্বুল আলামিন আপনাদের অন্তরে তার জন্য যে ভালোবাসা ও সম্মান সৃষ্টি করেছেন, সেই ভালোবাসা ও দোয়াতেই তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন এবং আপনাদের আশানুরূপ স্থানে আমরা অতি দ্রুতই তার কণ্ঠস্বর শুনতে পাবো ইনশাআল্লাহ।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক বরিশাল-৩ বাবুগঞ্জ মুলাদী আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, নির্বাচনে জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে হেরে গেলেও আমি আপনাদের সেবক হয়ে থাকতে চাই। আমি আপনাদের কারো ভাই, কারো সন্তান ছিলাম; এমপি না হয়েও আমি নিজেকে আপনাদের কাতারে রাখতে চাই। আপনারা আমার কাছে যেকোনো কাজে বাধা-বিপত্তি ছাড়া আসবেন। সাধ্যমতো চেষ্টা করব যেকোনো সমস্যা সমাধান করতে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা বাজারে ১১ দলীয় জোটের দলীয় কার্যালয় নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের সঙ্গে ইফতারের আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফুয়াদ বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে হারানো হয়েছে। নির্বাচনে নদীবেষ্টিত মুলাদী উপজেলায় প্রশাসনের তৎপরতা কম থাকায় আমার প্রতিপক্ষ নেতাকর্মীরা এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে প্রভাব বিস্তার করে আমার নেতাকর্মীদের ভয় দেখিয়ে সেন্টারে আসতে দেয়নি। এদের ব্যাপারে সব শ্রেণিপেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মাধবপাশা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি সৈয়দ আলতাব হোসেনের সভাপতিত্বে ও মহানগর এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক অলিদ, অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন খায়ের, এবি পার্টির সদস্য সচিব বিএম রাব্বি, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সালাম মাঝি, আজিজুর রহমান খান, মোয়াজ্জেন বিশ্বাস, আক্কেল আলী জমাদ্দার, নুরুজ্জামান মাস্টার প্রমুখ।
রাজধানীর মিন্টো রোডের ঐতিহাসিক ২৯ নম্বর বাড়ি, যা দীর্ঘদিন রাজনীতির নীরব সাক্ষী ছিল, আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমানের নামে বরাদ্দ দিয়েছে। ব্রিটিশ আমলের স্থাপনা: ‘লাল বাড়ি’ ব্রিটিশ আমলে প্রায় আড়াই একর জমির ওপর নির্মিত এই দোতলা লাল রঙের ভবনটি স্থানীয়ভাবে ‘লাল বাড়ি’ নামে পরিচিত। স্বাধীনতার পর এটি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবন হিসেবে নির্ধারিত হয়। রাজনৈতিক পালাবদলের নানা অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী এই বাড়ি। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে এখানে ওঠেন শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই বাসভবন থেকে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। সেই সময় বাড়িটি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর ছিল। ২৫ বছরের নীরবতা ২০০১ সালে খালেদা জিয়া বাসভবনটি ছেড়ে দেওয়ার পর দীর্ঘদিন এখানে কোনো বিরোধীদলীয় নেতা বসবাস করেননি। একাধিকবার বরাদ্দ চাওয়া হলেও কার্যকর হয়নি। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদের পর রওশন এরশাদ বরাদ্দ চেয়েও পাননি। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদের পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আবেদন করেও বরাদ্দ পাননি। দ্বাদশ সংসদের পর জিএম কাদের বরাদ্দ পেয়েও রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে সেখানে ওঠেননি। নতুন সংস্কার ও প্রস্তুতি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বাড়িটি বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মেরামত ও সংস্কার কাজ চলছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের অভাবে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ; রঙের ফিনিশিং ও বাইরের অংশের কাজ চলছে। বসবাস উপযোগী করতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে। যদিও জামায়াতে ইসলামি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়নি, দলীয় ফোরামে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, জানিয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। রাজনৈতিক গুরুত্ব মিন্টো রোডের এই বাড়িটি কেবল একটি সরকারি বাসভবন নয়; এটি দেশের বিরোধী রাজনীতির প্রতীকী কেন্দ্র। ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোটের আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই বাড়ি। অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে এখানে। এছাড়া বাড়িটির আশপাশেই রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইজিপি, বিভাগীয় কমিশনার, ডিএমপি কমিশনার, বিচারপতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তার বাসভবন। নিরাপত্তা ও কৌশলগত দিক থেকেও বাড়িটির গুরুত্ব অপরিসীম। ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দীর্ঘদিনের নীরবতার পর আবারও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনায় ২৯ মিন্টো রোডের ‘লাল বাড়ি’ নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এখন দেখার বিষয়, বিরোধীদলীয় নেতা কবে নাগাদ ঐতিহাসিক বাসভবনে উঠবেন।
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সমাবেশে চালানো অভিযানের ঘটনায় তদন্ত শেষ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর তদন্ত সংস্থা। তদন্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে এই ঘটনার প্রধান নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করে তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। একটি গণমাধ্যমের হাতে আসা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ অন্তত ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সরাসরি গণভবন থেকে অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কারা আছেন আসামির তালিকায় তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার পর যাদের নাম এসেছে তারা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। এছাড়া যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, গণজাগরণ মঞ্চের ইমরান এইচ সরকার, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর, পুলিশের সাবেক আইজি হাসান মাহমুদ খোন্দকার, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ও পুলিশের আরও কয়েকজন কর্মকর্তার নাম রয়েছে। অভিযানের বর্ণনা তদন্ত প্রতিবেদনে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে সারাদেশ থেকে হেফাজতের নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসতে দেওয়া হয়। দিনভর বিভিন্ন স্থানে তাদের বাধা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে বলা হয়, গণমাধ্যমে ভাঙচুরের খবর প্রচারের মাধ্যমে সমাবেশকে বিতর্কিত করা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রাত ১০টার পর শাপলা চত্বরে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে রাত ১টা ৪৫ মিনিটে লাইট নিভিয়ে একদিক খোলা রেখে সমন্বিতভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘ক্র্যাকডাউন’ শুরু করে। তবে মোট কতজন নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তদন্ত সংস্থা চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করতে পারেনি। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের নিহতদের নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সমাবেশের পটভূমি কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন বাতিল, ধর্ম অবমাননাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ ডাকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সারাদেশ থেকে মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হন। তৎকালীন ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দিনভর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যদিও ওই সময় সরকারিভাবে বড় ধরনের প্রাণহানির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছিল। তদন্তের প্রেক্ষাপট ও গ্রেপ্তার গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ ঘটনায় তদন্ত চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে হেফাজতে ইসলাম। জাতীয় নির্বাচনের আগেই তদন্ত সংস্থা তাদের অনুসন্ধান শেষ করেছে বলে জানা গেছে। এ মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন— সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম। আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ায় চিকিৎসাসেবায় জড়িত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন মুফতি আমির হামজা। তিনি বলেন, “সবাই ওপরের জনকে দোষ দেয়। ওপরওয়ালা কুষ্টিয়ায় কেউ নেই, ওপরওয়ালা এখন আমি। কেউ যদি দুই নম্বর কিছু করতে চায়, তাহলে আমার কথা বলবেন। এত ক্ষমতা নিয়ে কে চলে কুষ্টিয়ায়, আমি তা দেখব।” বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-এর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মুফতি আমির হামজা বলেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা তাদের আবেগ ও অগ্রাধিকার। তিনি জানান, বর্তমানে কয়েকটি বিভাগ চালু থাকলেও পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচির ভেতরে প্রত্যেকটি সরকারি অফিস-আদালতকে জনবান্ধব করার চেষ্টা করব। বিশেষ করে মানুষ ডিসি, এসপি, ইউএনও অফিস ও থানায় যেতে ভয় পান। সিভিল সার্জন, এলজিইডির মতো অফিসগুলোতেও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করতে চাই।” দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসা খাতে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সভায় হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, জনবল সংকট নিরসন এবং চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের নিয়োগ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দলটির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। ‘মেধাভিত্তিক প্রশাসনের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি’ বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল মেধাভিত্তিক ও দক্ষ প্রশাসন প্রতিষ্ঠা। কিন্তু বর্তমান গভর্নর নিয়োগ সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার দাবি, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন শিল্পপতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ পদে বসানো হয়েছে। ঋণ পুনঃতফসিল নিয়ে প্রশ্ন জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, নিয়োগের অল্প সময় আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৯ কোটি টাকা (প্রায় ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ বিশেষ নীতিমালার আওতায় পুনঃতফসিল করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বর্তমান শাসক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলেও জানা গেছে। ‘আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে’ মিয়া গোলাম পরওয়ারের মতে, রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যিনি নিজের মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, তিনি কীভাবে দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা ও মুদ্রানীতি রক্ষা করবেন? বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, কোটা আন্দোলন কেবল কোটা সংস্কারের দাবি ছিল না; এটি ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় গুণগত পরিবর্তনের আহ্বান। যোগ্যতা উপেক্ষা করে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংক-এর স্বাধীনতা অবসানের সংকেত দিচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংরক্ষিত নারী সংসদীয় আসনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে এক পরিচিত নাম—ফাতেমা রহমান। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ তাকে এই আসনে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে জেলা রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত তার সক্রিয় উপস্থিতি তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি, সংগঠন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকে তিনি নিজেকে একজন নিবেদিতপ্রাণ ও সাহসী নারী নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বরিশালের রাজনীতিতে নারী জাগরণের এক দৃঢ় প্রতীক হিসেবে পরিচিত ফাতেমা রহমান। শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বেগম খালেদা জিয়া-র আদর্শকে ধারণ করে ছাত্রজীবন থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলি প্রকাশ করেন তিনি। ১৯৮৫ সালে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তার শিক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হয়। তার রাজনৈতিক পথচলা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০০১ সালে, আবুল হোসেনের অনুপ্রেরণায়। সে সময় তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংগঠনে তার দক্ষতা, কর্মঠতা ও নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৩ সালে বরিশাল জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে জেলা মহিলা দলের সেক্রেটারি এবং ২০২১ সালে বরিশাল জেলা মহিলাদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে সংগঠনকে তৃণমূল থেকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তার হাত ধরে বহু নারী রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এবং নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন—এমনটাই জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিক হামলা ও মামলার সম্মুখীন হয়েছেন। প্রতিকূলতা, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার চাপ সত্ত্বেও তিনি রাজপথ ছাড়েননি। বরং প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করে সংগঠনের প্রতি তার অটুট আনুগত্য প্রমাণ করেছেন। নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ফাতেমা রহমান হিংসা বা প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, আদর্শভিত্তিক ও সাংগঠনিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। দল ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত নারী সংসদীয় আসনে তার নাম আলোচনায় আসায় তৃণমূল পর্যায়ে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সংগ্রামী মানসিকতা তাকে এই আসনের একজন যোগ্য দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছে। সব মিলিয়ে, বরিশালের রাজনীতিতে ফাতেমা রহমান আজ শুধু একটি নাম নয়—তিনি নারী নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, সাহস ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক, এবং অনেকের কাছে আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরে একটি ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে তিনি অসুস্থবোধ করেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইফতার মাহফিলে যাওয়ার সময় গাড়িতে থাকা অবস্থায় তিনি আকস্মিকভাবে শারীরিকভাবে প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বিবেচনায় সঙ্গে সঙ্গেই তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে রয়েছেন। তার আকস্মিক অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আমিরের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশবাসীর কাছেও তার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও দলীয় সূত্র আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, তিনি শিগগিরই সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারবেন।
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় জামায়াতের নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিন নারীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঝালকাঠি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন আহত পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তারাবুনিয়া এলাকার হালদারখালী বাজার সংলগ্ন মৃত নাজেম আলী মুন্সির ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে মৃত আব্দুল বয়াতী ও সুফিন কাজীর ছেলে-মেয়েদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভের পর পূর্ব বিরোধের জের ধরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে। অভিযোগ করা হয়, নাজেম আলী মুন্সির স্ত্রী সুফিয়া বেগম, তার মেয়ে মরিয়ম বেগম ও তাছলিমা বেগম জামায়াতের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতা মনির কাজী ও জাকির কাজীর নেতৃত্বে সুমনা, ফাহিমা ও হাসিনাসহ আরও কয়েকজন তাদের মারধর করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা তিন নারীকে গুরুতর আহত করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়। পরে ভুক্তভোগী পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুফিয়া বেগম ও তাছলিমা বেগমকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তবে মরিয়ম বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মনির কাজীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। পূর্বের জমিজমা বিরোধের জের ধরে আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।” এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির নারী নেত্রী লায়ন আলিজা শারমিন মুন্নী জাতীয় সংসদের নারী সংরক্ষিত আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন। স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাহসিকতার কারণে তিনি এ মনোনয়নের যোগ্য দাবিদার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন শারমিন মুন্নী। সময়ের পরিক্রমায় তিনি দলের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার, কারাভোগ এবং নির্যাতনের শিকার হলেও দলীয় আদর্শ থেকে একচুলও বিচ্যুত হননি বলে জানান সহকর্মীরা। একজন নারী নেত্রী হিসেবে রিমান্ডে নেওয়ার মতো কঠিন অভিজ্ঞতাও তাঁকে দমাতে পারেনি। বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাঁর দৃঢ় অবস্থান ও নেতৃত্বগুণ তৃণমূল পর্যায়ে তাকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে বলে মনে করেন স্থানীয় নেতারা। তাঁদের ভাষ্য, “দুঃসময়ে দলের পাশে ছিলেন মুন্নী আপা, তাই সুসময়ে দলও তাঁর মূল্যায়ন করবে।” রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন লায়ন আলিজা শারমিন মুন্নী। বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং স্বাবলম্বী করে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং তৃণমূল উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। নারী সংরক্ষিত আসনে তাঁর মনোনয়ন দলকে যেমন শক্তিশালী করবে, তেমনি নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণও আরও বেগবান হবে বলে মত দেন অনেকে। এ বিষয়ে লায়ন আলিজা শারমিন মুন্নী বলেন, “দলের জন্য সবসময় কাজ করেছি। তৃণমূলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করাই আমার লক্ষ্য। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে, তাহলে আমি সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।” এখন দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন মঠবাড়িয়ার রাজনৈতিক সচেতন মহল।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চাকধ বাজার এলাকায় বিএনপির একটি ক্লাবে হাতবোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে নড়িয়া উপজেলার চাকধ বাজারে অবস্থিত ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ’ নামক স্থানীয় বিএনপি ক্লাবের সামনে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই দুর্বৃত্ত হঠাৎ ক্লাব লক্ষ্য করে কয়েকটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এলাকাজুড়ে মুহূর্তের মধ্যে চরম ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে নড়িয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করে এবং একটি অবিস্ফোরিত হাতবোমা উদ্ধার করে। ভুমখাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল পেদা বলেন, “এটি একটি ন্যক্কারজনক ও পরিকল্পিত হামলা। যারা এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।” নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।” ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
চাঁদাবাজি ও গণছিনতাই রোধের দাবিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর থানা ঘেরাও করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে চাঁদাবাজি ও গণছিনতাইয়ের প্রতিকার চেয়ে থানা ঘেরাওয়ের পাশাপাশি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন তারা। জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর আদাবরে চাঁদার জন্য এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিকদের কুপিয়ে আহত করে স্থানীয় কতিপয় যুবক। এ ঘটনার বিচার চাওয়ার পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও গণছিনতাই প্রতিরোধের দাবিতে ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা রাতে আদাবর থানা ঘেরাও করেন।
কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়কে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার চালকসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের বাইপাস এলাকার কুষ্টিয়া স্টোরের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি অটোরিকশা শহরের কবুরহাট এলাকা থেকে বাইপাস সড়ক হয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য বাইপাস সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল ওবায়েদ পাঁচজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। আহত দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদেরও মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই প্রথমবারের মতো পুষ্পস্তবক অর্পণ করল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন জামায়াত আমিরসহ ১১ দলের সংসদ সদস্যরা। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটের দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছেন জামায়াত আমিরের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এরপর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদে বিরোধীদলের হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, এটিএম আজহারসহ জোটের অন্যান্য নেতারা। এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। একুশের প্রথম প্রহর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়।
আগামী তিন বছরের (২০২৬-২০২৮) জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন এই কমিটিতে পুনরায় সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়া কমিটিতে ৪ জন নায়েবে আমির ও ৭ জন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হয়েছেন।শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে নেতাদের পরামর্শে এ কমিটি গঠন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হলেও নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা সশরীরে এতে অংশ নেন। জামায়াতের আমির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সঙ্গে পরামর্শ করে ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতাদের নির্বাচিত করেন এবং তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। জামায়াতের নতুন এই কমিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালে।এর আগে গত বছরের ২ নভেম্বর ডা. শফিকুর রহমানকে আমির নির্বাচনের তিন মাস পর এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করল দলটি। নতুন কমিটিতে কে কোন পদে কমিটিতে নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চারজন। তারা হলেন-এটিএম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (এমপি) ও মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম।সেক্রেটারি জেনারেল পদে বহাল রয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। সাতজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হলেন-মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। ২১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা হলেন-এটিএম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (এমপি), মিয়া গোলাম পরওয়ার, মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, আবদুর রব, সাইফুল আলম খান মিলন (এমপি), অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দীন, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ (এমপি), অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মো. মোবারক হোসাইন, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল (এমপি), মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি) ও ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম। সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৮৮ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও ৫৯ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় শূরা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে নারী সদস্য রয়েছেন ২১ জন এবং ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় নারী সদস্য রয়েছেন ১৭ জন।এছাড়া ৫ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রয়েছেন মাওলানা এটিএম মাছুম। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন-অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল, আবদুর রব, মোবারক হোসাইন ও মাওলানা আ. ফ. ম. আবদুস সাত্তার। সাংগঠনিক কাজে গতি আনতে ঢাকাসহ সারাদেশকে ১৪টি ভাগে বিভক্ত করে অঞ্চল পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে জামায়াত। তারা হলেন-রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে মাওলানা আবদুল হালিম, বগুড়ায় এটিএম আজহারুল ইসলাম, রাজশাহীতে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কুষ্টিয়া-যশোরে মো. মোবারক হোসাইন, খুলনায় অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ, বরিশালে অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল, ময়মনসিংহে অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দীন, ঢাকা মহানগরে মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা উত্তরে সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা দক্ষিণে আবদুর রব, ফরিদপুরে ড. হামিদুর রহমান আযাদ, সিলেটে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কুমিল্লা-নোয়াখালীতে মাওলানা এটিএম মাছুম এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান।
ইত্তেহাদ নিউজ,বরগুনা : সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন বরগুনা জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রী,বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক সফল মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফরুল হাসান ফরহাদের বড় মেয়ে এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল টিটুর সহধর্মিণী মোসাঃ শারমিন সুলতানা আসমা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দেলনে সক্রিয় ভুমিকা,রাজপথের নেত্রী এবং নারী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন শারমিন সুলতানা আসমা। অসুস্থ্যতা নিয়েও বরগুনার রাজপথে ছিলেন তিনি । শারমিন সুলতানা আসমা বরগুনা সদর উপজেলার বাসিন্দা। শুরু থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেত্রী উপজেলা, থানা ও জেলা পর্যায়ে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। অসুস্থতা নিয়েও তিনি বরগুনার রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। শারমিন সুলতানা আসমা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সুযোগ পেলে নারীর অধিকার, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিয়ে কাজ করতে চাই। স্থানীয় মহিলা দলের নেত্রীরা জানান, “তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলকে সময় দিয়েছেন এবং তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর। আমরা মনে করি তিনি যোগ্য প্রার্থী।” তারা বলেন, “শুধু রাজনীতিবিদ নন, তিনি দক্ষ সংগঠকও। নারী উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির আদর্শে অবিচল রয়েছেন তিনি। সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে গেলে দল আরও শক্তিশালী হবে। নারী অধিকার ও সামাজিক সচেতনতায় তাঁর ভূমিকা সবসময় অগ্রগণ্য।
দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আজ গণ ইফতার করলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে রাজধানীর আল রাজী কমপ্লেক্সের সামনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গণ ইফতারে গণঅধিকার পরিষদ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অংশ নেন। পুরো রমজান মাস জুড়ে এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে দলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও দুঃশাসনে ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দলীয় প্রভাব বা জোরজবরদস্তি নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় আইনের শাসনই হবে শেষ কথা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভাষণে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ বাস্তবতায় নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তারেক রহমান বলেন, সারা দেশে জুয়া ও মাদকের বিস্তার সামাজিক অস্থিরতা এবং অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইতোমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি সাংবিধানিক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিধিবদ্ধ নীতি ও নিয়ম মেনেই পরিচালিত হবে। কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব, রাজনৈতিক চাপ বা ব্যক্তিগত ক্ষমতার অপব্যবহার বরদাশত করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দলীয় প্রভাব বা জোরজবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা। সরকারের এই অবস্থান বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগ রাজশাহী ও রংপুরের ১৬ জেলার ৭২টি সংসদীয় আসনে একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ফারজানা শারমিন পুতুল পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। বর্তমানে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বিশেষ সহকারী, মানবাধিকারবিষয়ক কমিটির সদস্য এবং দলের মিডিয়া সেলের সদস্য ও নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। ফজলুর রহমান পটল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন এবং এই আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে টানা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
মন্ত্রী মর্যাদা দিয়ে ৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় আরো ৫ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রেসিডেন্টের আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টারা হলেন, মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হয়েছেন, হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদুর রহমান, ড. মাহাদি আমিন, রেহান আসিফ আসাদ। অবিলম্বে এই আদেশ কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েলসহ একাধিক গণমাধ্যমও সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে, এই দাবি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই ইরান সরকার কঠোর ভাষায় তার নেতার জীবিত থাকার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আলম জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও বলা হয়, তিনি দেশের সেনাবাহিনী এবং সরকারের নেতা হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। খামেনি বেঁচে আছেন, দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন:ইরানের গণমাধ্যমের দাবি এদিকে, এনবিসিতে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ স্থানে আছেন।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও তাদের নেতার বেঁচে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তবে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি, ইরান সরকার তাদের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এ ঘটনার পর বিশ্বের নজর তেহরানে, এবং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।