ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আশানুরূপ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে দলটি এককভাবে ৬৮টি আসন এবং জোটগতভাবে মোট ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছে। ভোটের হিসেবে দলটির প্রাপ্ত ভোট ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। নির্বাচন কী দিল জামায়াতকে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে জামায়াতের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে বসার সুযোগ পাওয়া। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি বিশ্লেষণকারী ড. মুবাশ্বার হাসান বলেন, আদর্শিক ভোটের পাশাপাশি দলটি “এন্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট” ভোটও পেয়েছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে একই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রচারণা চালানো তাদের কৌশলগত সফলতা এনে দিয়েছে। দৈনিক নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর মনে করেন, “আসন ও ভোটের দিক থেকে জামায়াত নিজেদের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে—এটাই তাদের বড় অর্জন।” অতীতের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় স্বাধীনতার পর ভিন্ন নামে ১৯৭৯ সালে ৬টি আসন দিয়ে নির্বাচনী যাত্রা শুরু করে জামায়াত। ১৯৯১ সালে এককভাবে সর্বোচ্চ ১৮টি আসন ২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটে ১৭টি আসন ২০০৮ সালে মাত্র ২টি আসন ১৯৯৬ সালে ৩টি আসন এবারের ৬৮টি একক আসন ও ৭৭টি জোটগত আসন দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আঞ্চলিক ফলাফল: কোথায় শক্তিশালী, কোথায় দুর্বল খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫টিতেই জয় পেয়েছে জামায়াত। খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা জেলায় ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে দলটি। বিশেষ করে সাতক্ষীরার চারটি আসনের সবকটিতে জয় দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। উত্তরাঞ্চল: রংপুরে উত্থান রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ১৭টিতে জয় পেয়েছে দলটি। রংপুর জেলার ৬টির মধ্যে ৫টিতেই জয় জামায়াতের। কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা জেলাতেও উল্লেখযোগ্য ফলাফল এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য, স্থানীয় সমস্যা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম এখানে দলটির সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে। রাজধানী ঢাকায় চমক সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা এসেছে ঢাকায়। ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়েছে জামায়াত। দলটির অভ্যন্তরে এটিকে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজধানীতে অবস্থান শক্তিশালী হওয়া ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যেসব জেলায় দুর্বলতা স্পষ্ট যদিও সামগ্রিকভাবে সাফল্য এসেছে, তবে দেশের বহু জেলায় দলটির অবস্থান দুর্বল রয়ে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় কার্যত কোনো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি জামায়াত। সিলেটে সরাসরি জয় না পেলেও জোটসঙ্গী দল একটি আসনে জয় পেয়েছে। আমিরের বক্তব্য দলের আমির শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেছেন: “জামায়াতে ইসলামী অতীতের অনেক রেকর্ড ভঙ্গ করে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখ নাগরিক আমাদের জোটের প্রতি আস্থা রেখেছেন।” তিনি এটিকে “ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার শুরু” হিসেবে উল্লেখ করেন। সামনে কী? বিশ্লেষকদের মতে, এখন দেখার বিষয়—প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে জামায়াত কী ধরনের ভূমিকা পালন করে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, সংখ্যালঘু অধিকার, নারী ইস্যু এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতিগত অবস্থান—এসব প্রশ্ন এখন নতুন করে সামনে আসবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নির্বাচন জামায়াতকে শুধু আসন ও ভোটই দেয়নি—দিয়েছে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় মঞ্চে একটি নতুন অবস্থান। তবে এই অর্জন ভবিষ্যতে কতটা টেকসই হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক ডেস্ক বিভাগ: জাতীয় রাজনীতি প্রকাশের তারিখ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানান। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে ২৫৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা প্রতীকে ৩৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে ১৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। ইসি সচিব জানান, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ২৯৭টি আসনের প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া ৭টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। আখতার আহমেদ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর গণভোটে কাস্টিং ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।
সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নানারকম রাজনীতি হয়েছে। দল ত্যাগ, জোট গঠন ও এক পক্ষ ত্যাগ করে আরেক পক্ষে যোগ দেওয়াসহ বিভিন্ন খেলা দেশবাসী দেখেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যা আলোচিত হয়েছে তা হলো- নিজের দল বিলুপ্ত করে অন্যের ছাতার নিচে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা। এতে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি দল। ২০২৫ সালে সর্বশেষ সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ তথা আরপিও অনুযায়ী জোট গঠন করলেও ভোটে লড়তে হবে নিজ দলের প্রতীক নিয়ে। যেখানে ছোট দলগুলোর বেধেছে বিপত্তি। পরাজিত হওয়ার আশঙ্কায় তারা দলই বিলুপ্ত করে ধানের শীষে নির্বাচন করার জন্য বিএনপিতে ভেড়েন। অর্ধ ডজনের বেশি রাজনৈতিক নেতা এবার সংসদে যাওয়ার আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু তাদের দলের অবস্থা ও জনপ্রিয়তা এর জন্য উপযোগী ছিল না। এক পর্যায়ে দল বিলুপ্ত বা বদল করে অন্য দলে যোগ দেন তারা। এরপরও তাদের অনেকের কপাল খোলেনি। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর জানা যায়, তাদের মধ্যে কয়েকজন নির্বাচনি বৈতরণী পাড় হতে পারেননি। যারা এবারের নির্বাচনে হেরেছেন তাদের কয়েকজনের বিবরণ দেওয়া হলো: সৈয়দ এহসানুল হুদা গত ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ যোগদান করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ফুল দিয়ে সৈয়দ এহসানুল হুদাকে বরণ করে নেন। এহসানুল হুদা নির্বাচনের মাঠে নামার আগে ধানের শীষ প্রতীক পান। কিন্তু তিনি ভোটযুদ্ধে সুবিধা করতে পারেননি। হেরেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে। কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর ও নিকলী) আসনে হাঁস প্রতীকে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট। ড. রেদোয়ান আহমেদ গত ২৪ ডিসেম্বর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের কথা ঘোষণা দেন তিনি। পরে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে লড়েন। কিন্তু বিএনপির বিদ্রোহী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের কাছে পরাজিত হন। এ আসনে পাঁচবারের সাবেক এমপি ড. রেদোয়ান পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯২৫ ভোট, অপরদিকে শাওন পেয়েছেন ৯০ হাজার ৮১৯ ভোট। রাশেদ খান গত ২৭ ডিসেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটিতে যোগদানের ঘোষণা দেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান। এর আগে তিনি নিজ দল থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি ঝিনাইদহ-৪ (সদর ও কালীগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রাশেদ ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তালেবের কাছে হেরেছেন। আবু তালেব পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯ ভোট, আর রাশেদ তৃতীয় অবস্থানে থেকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট। ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির(এনপিপি) চেয়ারম্যান এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক পান। নড়াইল-২ আসনে (লোহাগড়া ও সদরের একাংশ) লড়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। এ নিয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো হারলেন। এ আসনে জেলা জামায়াতের আমির আতাউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীক নিয়ে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট এবং ধানের শীষের প্রার্থী ফরিদুজ্জামান ফরহাদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট। রশীদ বিন ওয়াক্কাস দলের নিবন্ধন না থাকায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের নেতা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু তারও কপাল পুড়েছে। যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ত্রিমুখী লড়াই হয়েছে। এ আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গাজী এনামুল হক বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৫৮। বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে এ আসনে নির্বাচন করা শহীদ মো. ইকবাল হোসেন দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৮৫ হাজার ৫১৭। তৃতীয় অবস্থানে আছেন বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন পাওয়া রশীদ বিন ওয়াক্কাস। তার প্রাপ্ত ভোট ৫৫ হাজার ৪১৯। কেউ কেউ আবার দলবদলের খেলায় সাফল্য পেয়েছেন। তারা ভোটযুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি গত ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- বিএলডিপির (একাংশ) চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ও পান। ড. রেজা কিবরিয়া গত ১ ডিসেম্বর বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর তাকে হবিগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ও পান। এছাড়া এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। পরে ধানের শীষ পেয়ে ঢাকা-১৩ আসনে নির্বাচন করে জয় পান।
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান—এমন তথ্য জানিয়েছে দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র। পাশাপাশি বিরোধীদলীয় উপনেতা পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন নাহিদ ইসলাম। তবে এসব পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও হুইপ পদ নিয়েও দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। চিফ হুইপ বা হুইপ হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ ছাড়া চট্টগ্রামের শাহজাহান চৌধুরী ও সাতক্ষীরার গাজী নজরুল ইসলাম-কে বিরোধী দলে সম্মানজনক কোনো পদে রাখা হতে পারে বলেও জানা গেছে। বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডেপুটি স্পিকার পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আলোচনায় আছেন দলের সাবেক আমির মওলানা মতিউর রহমান নিজামী-এর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং প্রয়াত নেতা মীর কাসেম আলি-এর ছেলে, আয়নাঘর থেকে ফেরত আসা ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান। তবে দলীয় ভেতরে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের সম্ভাবনা বেশি বলে আলোচনা রয়েছে। ১১ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্য থেকেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হতে পারে। জোটের শরিক এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বিরোধী দলের হুইপ হতে পারেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মাসুম বলেন, সংসদের এসব পদ নিয়ে এখনো দলের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি জানান, ১১ দলীয় জোট অটুট রাখতে শরিক দলগুলোর জন্যও কিছু পদ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। জোটের বৈঠকের পরই বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা, চিফ হুইপ, হুইপ ও ডেপুটি স্পিকারসহ সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে আভাস দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে প্রথমবারের মতো বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা জয় পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবার নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হারিয়েছে। মাঠের রাজনীতিতে তিন দশকের বেশি সময় সক্রিয় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু-কে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে জয় পান জামায়াতের খুলনা মহানগর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই ছিল এ পরাজয়ের প্রধান কারণ। অতীতের শক্ত ঘাঁটি, ভাঙল দীর্ঘ ঐতিহ্য ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে খুলনা-২ আসন ছিল বিএনপির দখলে। এমনকি ২০০৮ সালের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও জয় ধরে রেখেছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আওয়ামী লীগ সরকারের কঠিন সময়েও তিনি এলাকায় ছিলেন সক্রিয় ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় বিএনপি শিবিরে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি তৈরি হয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রার্থী ঘোষণার পরও প্রথমদিকে মাঠে সক্রিয়তা না থাকা নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে। টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রার্থী ঘোষণার পরও মঞ্জু ভাইকে প্রথম পর্যায়ে মাঠে দেখা যায়নি। নির্দিষ্ট কার্যক্রম ছাড়া ডোর টু ডোর প্রচার ছিল না। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী শুরু থেকেই মাঠে সক্রিয় ছিল।” পরিকল্পিত প্রচারে এগিয়ে জামায়াত জামায়াত প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল ছিলেন কৌশলী ও সংগঠিত। দলটির নেতাকর্মীরা পাড়া-মহল্লাভিত্তিক ছোট ইউনিটে ভাগ হয়ে ঘরে ঘরে প্রচারণা চালান। বিশেষ করে নারী ভোটারদের কেন্দ্রে আনার বিষয়ে ছিল আলাদা উদ্যোগ। বিএনপির প্রচারণা যেখানে মূল সড়ক ও বাজারকেন্দ্রিক ছিল, জামায়াত সেখানে অলিগলি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সংগঠিত উপস্থিতি নিশ্চিত করাই ছিল তাদের প্রধান কৌশল। দলটির কর্মী জিকু আলম জানান, “বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আমাদের মাথায় ছিল। ভোটারদের আস্থা থাকলেও তাদের বিশৃঙ্খলার সুযোগ আমরা কাজে লাগিয়েছি।” দলীয় কোন্দল: পরাজয়ের বড় কারণ ২০২১ সালে খুলনা মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়। মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড কমিটি থেকে তার অনুসারীদের বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। নির্বাচনের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐক্যের ছবি দেখা গেলেও বাস্তবে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। বর্তমান কমিটির অনেক প্রভাবশালী নেতা মাঠে সক্রিয় হননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সেকেন্দার আলী খান সাচ্চু বলেন, “কোন্দলের প্রভাব পড়েছে। আমরা দুই অংশ এক হলেও সবাই সেভাবে কাজ করেনি।” খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “এ আসনে তুলনামূলক ভোট কম পড়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে।” ভবিষ্যৎ সমীকরণে নতুন বার্তা খুলনা-২ আসনে জামায়াতের এই জয় দলটির জন্য কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর পরিকল্পিতভাবে প্রার্থী দিয়ে তারা একটি ঐতিহ্যবাহী আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, “এখনো বুঝে উঠতে পারছি না কেন হারলাম। বিষয়টি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ চলছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খুলনা-২ আসনের ফলাফল শুধু একটি আসনের পালাবদল নয়—এটি ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। দলীয় ঐক্য, মাঠভিত্তিক সংগঠন এবং ভোটার ব্যবস্থাপনা—এই তিনটি উপাদানই আগামী দিনের রাজনীতিতে নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।
শুধু দীর্ঘ কারাবাস নয়; প্রহসনের বিচারে রীতিমতো মৃত্যুদণ্ড। বলা যায়, মাথার উপরেই ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি। কিন্তু নিয়তির পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। জুলাইয়ের রক্ত বন্যায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যায়। এরপর আসে বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের মাহেন্দ্রক্ষণ। স্বৈরাচারের কারাগার থেকে বেরিয়ে জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়ান নেতারা—এবং রায় দেন ভোটাররাই। বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। বাবর: ১৮ বছরের অন্ধকার শেষে আলোর পথে ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৭ সালে গ্রেফতার হন। এরপর একদিনের জন্যও জামিন মেলেনি তার। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই কেটে যায় দীর্ঘ ১৮ বছর। পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে মলিন মুখে আদালতে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য ছিল চিরচেনা। অনেকেই মনে করতেন, বাবর আর কোনোদিন জেল থেকে মুক্তি পাবেন না। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামলা থেকে খালাস পান তিনি। গত বছর ১৬ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরে যান নিজের নির্বাচনি এলাকা নেত্রকোনায়। মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুরি নিয়ে গঠিত আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পিন্টু: মৃত্যুদণ্ড থেকে সংসদ ভবন বাবরের মতোই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু। দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাজীবনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর। মুক্তির পর তিনি ফিরে যান জন্মস্থান টাঙ্গাইলে। স্থানীয় গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। ভোটযুদ্ধে প্রায় দুই লাখ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। দীর্ঘ কারাবাস ও মৃত্যুদণ্ডের রায় পেরিয়ে তার এই বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আজহার: ফাঁসির মঞ্চ থেকে ভোটের মঞ্চে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামও হয়েছেন সংসদ সদস্য। রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করেন তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক বছরের মধ্যে গ্রেফতার হন আজহার। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ এক যুগ কারাবন্দি ছিলেন তিনি। গত বছর ২৮ মে কারাগার থেকে মুক্তি পান। আর কিছুদিন গেলেই হয়তো তাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হতো—এমন ধারণা ছিল রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু সেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতাই আজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ এই তিন নেতার বিজয় শুধু ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নাটকীয় পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ কারাবাস, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং বিতর্কিত বিচার প্রক্রিয়া—সবকিছুর পর জনগণের ভোটে তাদের জয় রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলেই মনে করা হচ্ছে। জনতার রায়ে কারাগার পেরিয়ে সংসদ ভবনে—এই প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রায় দুই দশক পর আবারও সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, দলটি এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে অনেক বেশি আসনে জয় পেয়েছে। ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলন–সংগ্রামের পর নতুন সরকার গঠনের পথ এখন প্রায় নিশ্চিত। নিরঙ্কুশ জয় বিএনপির নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২১০টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং তাদের মিত্ররা পেয়েছে আরও ৩টি আসন। ফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মোট আসন দাঁড়িয়েছে ২১২। সরকার গঠনের জন্য যেখানে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে কমপক্ষে ১৫১টি আসনে জয় প্রয়োজন, সেখানে বিএনপি এককভাবেই সেই সাংবিধানিক শর্ত পূরণ করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন এবং তাদের মিত্ররা আরও ৩টি আসন অর্জন করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি আসনে জয় পেয়েছে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৭টি আসনে। সব মিলিয়ে সংসদে একটি নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি হতে যাচ্ছে। তারেক রহমানের উত্থান এই নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর রাজনৈতিক উত্থান। তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—এই দুই আসনেই বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি অংশ নিয়ে জয় পেলেন তিনি। বিএনপির পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, দল সরকার গঠন করলে তারেক রহমানই হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে গত বছরের শেষ দিকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফিরে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দল পুনর্গঠন, জোট সম্প্রসারণ এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন তার রাজনৈতিক জীবনে বড় মোড় এনে দিয়েছে। বিএনপির সরকার গঠনের ইতিহাস সবশেষ ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলে সেই মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে। এরপর দীর্ঘ সময় দলটি বিরোধী দলে বা আন্দোলনের রাজনীতিতে ছিল। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার নেতৃত্বে দলটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। সংসদে নতুন সমীকরণ এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদে প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। অতীতে তারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে সরকার ও বিরোধী দলে ছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নিয়ে তারা সংসদে শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে অবস্থান নিতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক মেরুকরণের পর একটি নতুন ক্ষমতার কাঠামো তৈরি হচ্ছে, যেখানে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। সামনে কী চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর সংসদের প্রথম অধিবেশন, সরকার গঠন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ—এসব ধাপ সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফল বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখন নজর থাকবে নতুন সরকার কীভাবে অর্থনীতি, গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে নীতিগত পরিবর্তন আনে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে।
যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরেন তারেক রহমান। এর দেড় মাসের মাথায় তাঁকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল দেখাচ্ছে, বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। টাইম সাময়িকী গত জানুয়ারিতে দলটির নেতা তারেক রহমানের মুখোমুখি হয়েছিল। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, প্রথম অগ্রাধিকার নিয়ে। জবাবে তিনি আইনের শাসন নিশ্চিত করার কথা বলেছিলেন। তাঁর কাছে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হলো অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তৃতীয়ত, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা। তারেক রহমান বলেছেন, যতই রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা নীতি নেওয়া হোক না কেন, ঐক্যবদ্ধ হতে না পারলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। আস্থা ফিরিয়ে ঐক্যবদ্ধ করা ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশে অন্তত ১ হাজার ৪০০ লোক প্রাণ হারায়। এর আগে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বিচারবহির্ভূতভাবে গুমের শিকার হয় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। সেই ক্ষতগুলো এখনও বেশ তাজা। শেখ হাসিনার সময় যেসব প্রতিষ্ঠানে রাজনীতিকরণ হয়েছিল সেগুলোর ওপর এখন মানুষের আস্থা ফেরাতে তারেক রহমানকে কাজ করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে সেনাবাহিনী, আদালত, সিভিল সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এর আগে ক্ষমতায় বসেছিল ২০০১ সালে। এর পরপরই আওয়ামী লীগ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দেশে ফিরে আসার পর থেকে তারেক রহমান ঐক্যের বাণী প্রচার করছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিহিংসা কিছুই ফিরিয়ে আনবে না। বরং আমরা যদি এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারি, দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারি, তাহলে হয়তো ভালো কিছু পাব।’ অর্থনীতির মেরামত আওয়ামী লীগের আমলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল দ্রুত বর্ধনশীল। জিডিপি ২০০৬ সালের ৭১ বিলিয়ন থেকে ২০২২ সালে ৪২০ বিলিয়নে পৌঁছায়। কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈষম্য ও বেকারত্বের কারণে দলটির বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। কিন্তু শেখ হাসিনার পতনের পরও মানুষের জীবনযাত্রার মানের খুব একটা উন্নতি হয়নি। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও টাকার মান কমে যাওয়ায় সাধারণ পরিবারগুলোর প্রকৃত আয় সংকুচিত হয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। অথচ যুব বেকারত্বের হার বর্তমানে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়েছে। এটি জ্বালানি সরবরাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রায় ৪ কোটির বেশি বাংলাদেশি চরম দারিদ্রতার মধ্যে বসবাস করছে। এ অবস্থায় বিএনপি তাদের নির্বাচনী প্রচারে নারীদের ভাতা ও বেকারদের ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু এতে অর্থায়ন কীভাবে হবে তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন আছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে যুক্ত করতে তারেক রহমান সংযোগ ব্যবস্থা জোরদার করতে চান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্যোক্তাদের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতের উদারীকরণও তাঁর লক্ষ্য। বর্তমানে বিদেশে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী আছেন। তারা যাতে ভালো বেতনের চাকরি পান সেজন্য দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আছে তারেক রহমানের। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ভাষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে পারি।’ ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের উন্নয়ন করতে দুটি শক্তিধর দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করা জরুরি। একটি প্রতিবেশী দেশ ভারত, অন্যটি বাংলাদেশি পণ্যের অন্যতম শীর্ষ আমদানিকারক যুক্তরাষ্ট্র। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কে অবনতি ঘটেছে। ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়াটা এই উত্তেজনার সবশেষ উদাহরণ। বাংলাদেশও আইপিএল সম্প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এখনও বিএনপির সঙ্গে ভারতের কাজ করার আগ্রহের কিছু ইঙ্গিত আছে। গত ডিসেম্বরে ঢাকা সফরের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পরাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তবে তিস্তা নদীসহ বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। কারণ, বিএনপি ১৯৯৭ সালের জাতিসংঘ ওয়াটার কনভেনশনে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ‘পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি’ করে আসছে। তারেক রহমান বলেছেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সঠিক পুনর্গঠনের জন্য আগেকার চুক্তির সংশোধন প্রয়োজন। শেখ হাসিনার সময়ে হওয়া অনেক চুক্তিতে অসামঞ্জস্যতা আছে। আমরা প্রতিবেশী হলেও বাংলাদেশের ও মানুষের স্বার্থ রক্ষা করাটা সবার আগে। এরপর সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক। আলোচনার মাধ্যমে চলতি মাসে তা ১৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। কিন্তু এর বিনিময়ে মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার আরও উন্মুক্ত করতে রাজি হয়েছে ঢাকা। এছাড়া, মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি নির্দিষ্ট কিছু পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য এখন শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। এটি একটি অগ্রগতি, তবে তারেক রহমানের লক্ষ্য হলো দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে শুল্কের ক্ষেত্রে আরও ছাড় পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। সম্ভবত বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ ও মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামো কেনার মাধ্যমে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রসঙ্গে তারেক বলেন, ‘আমরা একে অপরকে সাহায্য করতে পারি।’ ইসলামপন্থীদের উত্থান সামলানো বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে আসন প্রাপ্তির সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির গঠনতন্ত্রে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থাকলেও কট্টরপন্থী অবস্থান কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। এখন তারা সামাজিক কল্যাণ ও নিজেদেরকে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ হিসেবে প্রচারের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। কিন্তু সমালোচকরা মনে করেন, ‘স্বভাব কখনও বদলায় না’। নারীদের নিয়ে দলটির আমির শফিকুর রহমানের মন্তব্য মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জামায়াত এক সময় বিএনপির নির্বাচনী জোট সঙ্গী ছিল। এবার জাতীয়তাবাদী দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, দেশ পরিচালনায় ইসলামপন্থীদের প্রভাব সীমিত থাকবে। কিন্তু ভবিষ্যতের রাজনীতিতে জামায়াত একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবেই থাকবে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান বলেছেন, ‘বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য সব দলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।’ তারেক রহমান বলেন, ‘এটি কেবল বিএনপির দায়িত্ব নয়, বরং গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকারে বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব। আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যাতে আমরা ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে না যাই। মানুষ যাতে তাদের রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে সেজন্য আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের জন্য কী? শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল চাকরিতে কোটা বৈষম্য ঘিরে। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিল। কিন্তু ছাত্র নেতাদের গঠন করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতের নির্বাচনী জোট সঙ্গী হওয়ায় অনেক নারী ও সংখ্যালঘু সদস্য মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকারী ছাত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী আধিপত্য অনেক তরুণকে হতাশ করেছে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের সময় সামনের সারিতে থাকা নারীরা সংস্কার প্রক্রিয়ায় ব্যাপকভাবে অবহেলিত হয়েছেন। এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা বলছেন, তিনি বিশ্বাস করেন এখনও প্রকৃত রাজনৈতিক বিকল্পের আশা আছে। তবে তা রাতারাতি তৈরি হবে না। এ জন্য কিছু মানুষকে পেশাগত সততা নিয়ে রাজনীতিতে এসে, নীতিতে অবিচল থেকে মানুষের মাঝে ধীরে ধীরে আস্থা তৈরি করতে হবে। এমনকি যদি একটি আসনেও কেউ সফল হয়, সেটিও প্রমাণ করবে, পুরনো রাজনৈতিক নেতৃত্বই একমাত্র ভবিষ্যৎ নয়। নিজের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেছেন, যারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানাতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি এক গভীর দায়িত্ব আছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপি মনোনীত দুই সহোদর প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। আজ টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জয়লাভ করেছেন। বড়ভাই আবদুস ছালাম পিন্টু ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী হুমায়ুন কবির পান ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট। ১৩৯টি কেন্দ্রে এ আসনে ৬৪.৫৬ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে। বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৫৫৫টি ভোট। অন্যদিকে ছোটভাই সুলতান সালাউদ্দিন বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পান ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আহসান হাবিব মাসুদ পেয়েছেন ৮০ হাজার ৮২৩ জন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরহাদ ইকবাল ৬৯ হাজার ৪০৮ ভোট পান। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, টাঙ্গাইল-৫ আসনে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২টি ভোটারের মধ্যে কাস্টিং হয় ২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০ ভোট। এর মধ্যে বাতিল হয় ৪ হাজার ৪০১ ভোট। শতকরা হিসাবে মোট ৬৩.২৫ ভাগ ভোট কাস্টিং হয়।
পটুয়াখালী-২ আসন এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সহকারী রিটার্নিং অফিসার আবু সালেহ বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহ শেষে উপজেলা নতুন অডিটরিয়ামের ভোট কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ মনিটরিং সেল থেকে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। ভোটের ফলাফল পোস্টাল ভোট ছাড়া ড. মাসুদ মোট ৯৯ হাজার ৪৩৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. সহিদুল আলম তালুকদার পেয়েছেন ৭২ হাজার ১৯১ ভোট। এ ছাড়া— হাতপাখা প্রতীকের মালেক হোসেন পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৯ ভোট ঈগল প্রতীকের মো. রুহুল আমিন পেয়েছেন ৪০৫ ভোট ট্রাক প্রতীকের মো. হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ৩৪৮ ভোট সর্বমোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৯৩ ভোট গৃহীত হয়। ভোটার পরিসংখ্যান আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে— নারী ভোটার: ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৯ জন পুরুষ ভোটার: ১ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার: ২ জন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। ছোটখাট কিছু ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিজয়ীর প্রতিক্রিয়া ফলাফল ঘোষণার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, এলাকায় প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি নয়—ন্যায় ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হবে তার মূল লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, কেউ অন্যায় অপকর্ম করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় তিনি ৬০ দিনের মধ্যে এলাকা মাদকমুক্ত এবং ৯০ দিনের মধ্যে বাউফলকে দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়ে এককভাবে সরকার গঠনের যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ঘোষিত ২৯৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৭টি আসন। অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন, যার মধ্যে এনসিপি পেয়েছে ৬টি আসন। স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন ১২টি আসনে। শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-৪ ও চট্টগ্রাম-৬ আসনের ফলাফল মামলার কারণে স্থগিত রয়েছে। এছাড়া প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বড় জয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত সংস্কারবিষয়ক গণভোটেও বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ‘হ্যাঁ’। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, গণভোটে ৭৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৬১ শতাংশ। প্রথমবারের মতো ব্যাপক পরিসরে পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৭৩ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে ৬ লাখ ১ হাজার ৫২৪ জন। তারেক রহমানের দ্বৈত আসনে জয় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো দুটি আসনে নির্বাচন করে দুটিতেই জয়লাভ করেছেন। তিনি বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে জয় পান এবং ঢাকা-১৭ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও সামান্য ব্যবধানে বিজয়ী হন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। জামায়াতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন লাভ করে সংসদের প্রধান বিরোধী দল হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। রাজধানী ঢাকায় তুলনামূলকভাবে ভালো ফলাফল করে দলটি। ঢাকা-১৫ আসনে দলটির আমির জয়লাভ করেছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকা-৮ আসনে রাতভর উত্তেজনার পর বিএনপির মির্জা আব্বাস ৪ হাজার ৯৮০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। শান্তিপূর্ণ ভোটে ‘ঈদ উৎসব’ আমেজ জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী মুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনকে ভোটাররা ‘ঈদ উৎসব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভোট প্রদান শেষে সবাইকে ‘ঈদ মোবারক’ জানান এবং বলেন, “এ নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন। এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো।” সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই ভোট গণনা করা হয় এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। সারাদেশে উল্লেখযোগ্য ফলাফল বগুড়া, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও জামায়াত জোটের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। রাজধানী ঢাকায় কয়েকটি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে এবং কয়েকটি আসনে ফলাফল নিয়ে আপত্তিও উত্থাপিত হয়েছে। রাতভর বিতর্ক ও চরম উত্তেজনার পর ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির মির্জা আব্বাসকে রিটার্নিং কর্মকর্তা বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর চেয়ে ৪ হাজার ৯৮০ ভোট বেশি পেয়েছেন। মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৫৫২, পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট। ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির আমিনুল হক হেরে গেছেন। এ আসনে জামায়াতের কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা-১৩ আসনে মাওলানা মামুনুল হকের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ববি হাজ্জাজকে বিজয়ী ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশিনে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে মামুনুল হক। জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান করছিল। ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে নীলফামারী-১ আসনে জামায়াতের মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২ (সদর) আসনে জামায়াতের আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে জামায়াতের ওবায়দুল্লাহ সালাফী, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের আব্দুল মুনতাকিম, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুরা) আসনে জামায়াতের মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতের মোস্তাফিজুর রহমান, রংপুর-২ আসনে জামায়াতের এটিএম আজহারুল ইসলাম, রংপুর-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আখতার হোসেন, বগুড়া-১ আসনে বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনে বিএনপির মীর শাহে আলম, বগুড়া-৩ আসনে বিএনপির আবদুল মহিত তালুকদার, বগুড়া-৫ আসনে বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৬ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বগুড়া-৭ আসনে (গাবতলী ও শাজাহানপুর) বিএনপির মোরশেদ মিল্টন, পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনে জামায়াতের নাজিবুর রহমান মোমেন, মাগুরা-১ আসনে বিএনপির মনোয়ার হোসেন, মাগুরা-২ আসনে বিএনপির নিতাই রায় চৌধুরী, ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপির মো. আসাদুজ্জামান, খুলনা-৩ আসনে (সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড, যোগীপোল ও আড়ংঘাটা ইউনিয়ন) বিএনপির রকিবুল ইসলাম (বকুল), খুলনা-৪ আসনে বিএনপির আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ (ফুলতলা, ডুমুরিয়া ও গিলাতলা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা) বিএনপির আলী আসগার (লবি), বরিশাল-৫ আসনে মজিবর রহমান সরওয়ার, নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির কায়সার কামাল, নেত্রকোনা-৪ আসনে বিএনপির লুৎফুজ্জামান বাবর, জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে এম রশিদুজ্জামান (মিল্লাত), জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে সুলতান মাহমুদ (বাবু), জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে মোস্তাফিজুর রহমান (বাবুল), জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে ফরিদুল কবীর তালুকদার (শামীম), জামালপুর-৫ (সদর) আসনে শাহ্ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী (মামুন), ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে বিএনপির তমিজ উদ্দিন, মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মুন্সীগঞ্জ-২ (টঙ্গীবাড়ী-লৌহজং) আসনে বিএনপির আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) আসনে বিএনপির মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, নরসিংদী-৩ আসনে মনজুর এলাহী, সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির নাছির চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে (জগন্নাপুর ও শান্তিগঞ্জ) বিএনপির মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) বিএনপির নূরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) বিএনপির কলিম উদ্দিন আহমেদ, সিলেট-২ আসনে বিএনপির ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর (লুনা), সিলেট-৩ আসনে বিএনপির এমএ মালিক, সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির রেজা কিবরিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিএনপির নুরুল আমিন, ঢাকা-২ আসনে বিএনপির আমানউল্লাহ আমান, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জামায়াতের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন। প্রথমবারের মতো এবার সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা বড় পরিসরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এর আগে আইনে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের সুযোগ থাকলেও এর প্রচলন ছিল না। ইসির তথ্যানুযায়ী, ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রবাসী চার লাখ ৭১ হাজার ৯৭৩ জন এবং দেশের ছয় লাখ এক হাজার ৫২৪ জন। প্রায় ১ শতাংশ ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় বিএনপি নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী, অন্তর্বর্তী সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী বলেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য এক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় দলই গণতন্ত্রের উত্তরণে জনগণের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে।
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ এবং বদরগঞ্জ) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ টি এম আজহারুল ইসলাম। আসনটির ১৩৭টি কেন্দ্রে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার ৭৯ হাজার ৯১০ ভোট পেয়েছেন। তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে এ আসন গঠিত। দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তর থেকে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের এক সহকারী প্রোগ্রামারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম। তবে তার সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় দলটির পক্ষ থেকে হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। বিষয়টি সাইবার অপরাধসংক্রান্ত হওয়ায় তদন্তের দায়িত্ব ডিবিকে দেওয়া হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। ডিবিপ্রধান আরও জানান, এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে এবং মামলাটি নিবিড় তদন্তের জন্য ডিবির কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় আটক ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কম্পিউটারের হার্ডডিস্কসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এসব আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। আটক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ছরওয়ারে আলমের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়। এ সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে অহেতুক বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে একটি আপত্তিকর মন্তব্যের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে সেই পোস্টটি অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সাইবার হামলার মাধ্যমে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে এবং এটি জামায়াত আমিরের বক্তব্য নয়।
এরশাদের পতনের পর দেশে গণতান্ত্রিক ধারায় অনুষ্ঠিত প্রায় সব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ব্যতিক্রম ছিল ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন। তবে সাময়িক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না দলটি। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে দলীয় প্রতীক নৌকাও বাতিল করা হয়েছে। এমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে— নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকলে তাদের বিপুল ভোটব্যাংক কোন দিকে যাবে এবং এর প্রভাবই বা কতটা পড়বে ফলাফলে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপট ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জুলাই আন্দোলনের পক্ষের দলগুলোর চাপের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এরপর ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে দলটির কার্যক্রম স্থগিত এবং একই দিনে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করে। ফলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সাংবিধানিক পথ বন্ধ হয়ে যায়। ‘ভোট নেই, ব্যালট নেই’— শেখ হাসিনার নির্দেশ ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠকে নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে নিরুৎসাহিত করেছেন। পাশাপাশি ‘ব্যালট নেই, ভোট নেই’— এই বার্তা সাধারণ ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেন তিনি। তার মতে, নৌকা প্রতীক ছাড়া ভোটে অংশ নেওয়া মানেই অন্যায়কে বৈধতা দেওয়া। ভোটের সমীকরণ ও রাজনৈতিক কৌশল নৌকা প্রতীক না থাকলেও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের টানতে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন দল নানা কৌশল নিচ্ছে। কেউ নিরাপত্তার আশ্বাস দিচ্ছে, কেউ সহানুভূতির ভাষায় কথা বলছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের পাশে দাঁড়ানো তাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের নেতারাও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্যের পেছনে মূলত ভোটের অঙ্কই কাজ করছে। জরিপে কী উঠে এসেছে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে— আগে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন, তাদের ৪৮.২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দিতে চান নতুন ভোটারদের মধ্যে ৩৭.৪ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ২৭ শতাংশ বিএনপি, ১৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন ১৮.৬ শতাংশ এখনও সিদ্ধান্তহীন এই জরিপে দেশের ৬৪ জেলার ১৮০টি সংসদীয় আসনের ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার অংশ নেন। বিশ্লেষকদের মত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ মনে করেন, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি অংশ ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। যারা যাবেন, তাদের ভোট বিভক্ত হতে পারে— কেউ বিএনপি, কেউ জামায়াত কিংবা অন্য প্রার্থীর দিকে ঝুঁকতে পারেন। সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দনের মতে, আওয়ামী লীগের একটি স্থায়ী ভোটব্যাংক রয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে নিয়ামক ভূমিকা রাখতে পারে। নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কি? রাজনীতিবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগ না থাকলেও নির্বাচন স্বাভাবিক হবে। আবার কেউ মনে করছেন, দলটির অনুপস্থিতি ভোটের চরিত্র বদলে দিতে পারে। বাসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ভীতি না থাকলে আওয়ামী লীগের অনেক সমর্থক ভোট দিতে যাবেন। অন্যদিকে জামায়াত নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ না থাকলেও ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। সব মিলিয়ে, নৌকাবিহীন এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করেছে। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যাবে— সেটিই এখন নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান Press Institute of Bangladesh (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পিআইবি থেকে অবসর গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পাওনা সংক্রান্ত বিষয় ঝুলিয়ে রেখে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং তারা অভিযোগ করছেন যে তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা নিষ্পত্তি না করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৪ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নীতিমালার বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে পিআইবির কর্মচারী ফরিদ আহমেদ-এর সঙ্গে অমানবিক আচরণের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এই অনিয়ম দুর্নীতি অবৈধ নিয়ম বিষয়ে কথা বলায়,মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে পিআইবির সিনিয়র পরীক্ষক পারভীন সুলতানা রাব্বিকে যড়যন্ত্র ও কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে বদলি করা হয়েছে এবং আলী হোসেনের সুনিশ্চিত কারণ ছাড়া অবসর দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হয়েছে বলেও জানা যায়। এভাবে অবসরপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গেই তিনি অনুরূপ আচরণ করে থাকেন। এছাড়াও, তিনি প্রায় ৩৪ জন লোককে পিআইবিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন। ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী: বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের অনিয়মের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে মহাপরিচালক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়ম ও লুটপাটের মহোৎসবে পরিণত করেছেন—এমন অভিযোগ বিভিন্ন মহলে উত্থাপিত হয়েছে। তাই দ্রুত তাকে অপসারনের দাবী জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। তিনি ডিজি পদে টিকে থাকার লক্ষ্যে তিনি নানামুখী তৎপরতা ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলেও জানা যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি রাখে।তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে, বিষয়টির প্রতি যাতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।