Brand logo light
ইত্তেহাদ স্পেশাল

জনসমর্থন হারিয়েছে জাতীয় পার্টি,ভরাডুবির কারণ নেতৃত্ব সংকট!

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
জাতীয় পার্টি
জাতীয় পার্টি

জিএম কাদের এবং ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। জিএম কাদের ২৪৩ আসনে প্রার্থী দিলেও একটি আসনেও জিততে পারে নি। অন্যদিকে জাপার অপর অংশ ২৮টি আসনে প্রার্থী দিলেও একটি আসনেও জিততে পারে নি। কেন এই পরাজয়? 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্ব সংকট, সাংগঠনিক দুর্বলতা, জোটনির্ভর রাজনীতি এবং ভোটারদের আস্থাহীনতাই এ পরাজয়ের অন্যতম কারন।  বৃহত্তর রংপুরের জাতীয় পার্টির দুর্গ ভেঙ্গে খানখান হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির কোনো প্রার্থী মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি। 
সূত্রমতে, মতে রাজনীতিতে টিকে থাকতে শক্তিশালী তৃণমূল সংগঠন অপরিহার্য। কিন্তু জাতীয় পার্টির অনেক জেলা ও উপজেলা কমিটি কাগুজে অবস্থায় রয়েছে। নিয়মিত কর্মসূচি, রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ও জনসংযোগ কার্যক্রমে ঘাটতি থাকায় দলটি ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেনি। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার মতো নতুন নেতৃত্ব ও বার্তাও দৃশ্যমান ছিল না।
দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টি বড় দলের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করেছে। এতে স্বল্পমেয়াদে কিছু আসন পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে। ভোটারদের একটি অংশ দলটিকে ‘কিংমেকার’ বা ক্ষমতাসীনদের সহযোগী হিসেবেই দেখে, বিকল্প শক্তি হিসেবে নয়। ফলে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় সমর্থন কমেছে।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে জাপা নির্বাচনে অংশ নেয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলেমিশে মন্ত্রিসভায় থাকে, আবার বিরোধী দলেরও ভূমিকা পালন করে জাতীয় পার্টি। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও সমঝোতার মাধ্যমে আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দল হয়। এরপর ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও জাপা মাত্র ১১ আসন পেয়েছিল।
নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কেন ভরাডুবি এ বিষয়ে পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে জনকণ্ঠ থেকে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। যার ফলে পার্টির কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায় নি। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির অপর অংশের নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু জনকণ্ঠকে বলেন, জিএম কাদেরের একরোখার কারণে এমন ভরাডুবি হয়েছে। আমরা বলেছিলাম নির্বাচনে না যেতে। তিনি আমাদের কথা শুনলেন না। দল থেকে আলাদা হয়ে গেলেন। ঐক্যবদ্ধ থাকলে নির্বাচনে ভরাডুবি হতো না। এ দায়-দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে।  নির্বাচনে পার্টির ভরাডুবির বিষয়ে আমরা বসে আলোচনা করবো। এই অংশের অপর নেতা সুনীল শুভ রায় বলেন, এই পরাজয়ের দায় দায়িত্ব জিএম কাদেরের। কারণ তিনিই দলকে ভেঙেছেন। 
তিনি আরও বলেন, আমাদের ভোট বিএপির প্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপি প্রার্থী ভোট পেয়েছেন। আমাদের জাপা ছোটখাটো জোট ছিল। সম্মিলিত জাতীয় জোট নির্বাচনে ২৮ প্রার্থী দিয়েছিল। কিন্ত কোনো প্রার্থীই জয়লাভ করতে পারেনি। 
১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রয়াত  হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাত ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল জাতীয় পার্টির। ওই বছরের ৭ মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে দলটি। এর দুই বছরের মধ্যে ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল বর্জন করলে জাপা ২৫১ আসনে জয়লাভ করে। তবে ওই সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন ঘটে এরশাদ শাসনের। এরপর আর ক্ষমতায় যাওয়া হয়নি দলটির। পরবর্তীতে যত নির্বাচন হয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদন্ধ হয়ে নির্বাচন করেছে। 
জাতীয় পার্টির জন্ম হয়েছে সামরিক শাসনের প্রেক্ষাপটে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলটি গণতান্ত্রিক ধারায় সক্রিয় থাকলেও বিরোধীরা অতীতের শাসনামলকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করে। তরুণ প্রজন্মের কাছে দলটির ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে ইতিবাচক বর্ণনা তুলে ধরতে না পারাও একটি কারণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে স্থানীয় জনপ্রিয়তা বড় ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি এমন প্রার্থী দিয়েছে, যাদের এলাকায় সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল ছিল। আবার কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে ভোট বিভক্ত হয়েছে। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল না থাকায় ফলাফল নেতিবাচক হয়েছে।
কয়েকটি নির্বাচন বিশ্লেষণ করেল দেখা যায় জাতীয় পার্টি একক ভাবে নির্বাচন করে কোন আশানুরূপ ফল অর্জন করতে পারেনি। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি সারাদেশে ৩৫টি আসনে জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও এককভাবে অংশ নিয়ে সারাদেশে ৩২টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় পার্টি। ২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে জাতীয় পার্টি পায় মাত্র ১৪টি আসন। ২০০৬ সালে জাতীয় পার্টি যোগ দেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে। আর এই মহাজোটে গিয়েই ধস নামতে শুরু করে জাতীয় পার্টির। ২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ২৯টি আসন ছাড় পায় এরশাদের জাপা। ২০০৯ সালে গঠিত হাসিনা সরকারের মন্ত্রী ছিলেন জিএম কাদের।
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভমি ধস হয়েছে জাতীয় পার্টির। পাটিৃর চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুর–৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে তৃতীয় হয়েছেন। এখানে  জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিন্দ্বী বিএনপির শামসুজ্জামান শামু পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। অন্যদিকে জিএম কাদের পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট। জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ আসনে নির্বাচন করে নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। দলের ‘দুর্গ’খ্যাত কুড়িগ্রামে একটি আসনেও জয় পাননি জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থীরা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতে লাঙ্গল প্রতীকে দলটির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনোটিতেই বিজয়ী হতে পারেননি। বরং চারটি আসনের তিনটিতেই জামানত হারিয়েছেন দলটির প্রার্থীরা।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতেগড়া দল জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বারবার ভাঙনের মুখে পড়ে। এর মধ্যে নব্বইয়ের গণআন্দোলনে এরশাদের পতনের পর প্রথমবারের মতো ভাঙন ধরে জাতীয় পার্টিতে। দ্বিতীয় দফার ভাঙন হয় ১৯৯৭ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে। কাজী জাফর ও শাহ মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে, ২০০১ সালে নাজিউর রহমানের নেতৃত্বে চতুর্থ দফা এবং ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে জাপায় পঞ্চমবারের মতো ভাঙন ধরে। ২০১৯ সালে এরশাদ মারা যাওয়ার পর সবশেষ ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল তার স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একটি অংশ ভাগ হয়ে যায়। 
প্রসঙ্গত, জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০(ক) ধারায় দলের চেয়ারম্যানকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের শোকজ কিংবা কারণ দর্শনোর নোটিস ছাড়াই যে কাউকে বহিষ্কার করতে পারবেন। এর আগে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে মহাসচিব থেকে বহিষ্কার করে মুজিবুল হক চুন্নুকে মহাসচিব করা করেছিলেন জিএম কাদের। দলের গঠনতন্ত্রের ‘বিতর্কিত’ ২০(ক) ধারাকে কেন্দ্র করে ফের ভাঙতে যাচ্ছে জাপা।

একই সঙ্গে দলের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরকে শীর্ষপদ থেকে সরাতে জোট বাঁধে। অবশেষে রুহুল আমিন হাওলাদার ও ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন আরেকটি জাপার সৃষ্টি হয়। কাউন্সিলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তম বারের মতো ভেঙে যায় জাতীয় পার্টি। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চেয়ারম্যান ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জাতীয় পার্টির মহাসচিব নির্বাচিত হন।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বরিশালে সাংবাদিকদের ওপর ডিসির ক্ষোভ: নির্বাচনী কার্ড ইস্যুতে হয়রানির অভিযোগ

বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! ​নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ​সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। ​জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। ​স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি  খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা  ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার  নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী

 রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান Press Institute of Bangladesh (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পিআইবি থেকে অবসর গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পাওনা সংক্রান্ত বিষয় ঝুলিয়ে রেখে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং তারা অভিযোগ করছেন যে তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা নিষ্পত্তি না করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিষ্ঠানে প্রায়  ৩৪ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নীতিমালার বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে পিআইবির কর্মচারী ফরিদ আহমেদ-এর সঙ্গে অমানবিক আচরণের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এই অনিয়ম দুর্নীতি অবৈধ নিয়ম বিষয়ে কথা বলায়,মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে পিআইবির সিনিয়র পরীক্ষক পারভীন সুলতানা রাব্বিকে যড়যন্ত্র ও কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে বদলি করা হয়েছে এবং আলী হোসেনের সুনিশ্চিত  কারণ ছাড়া অবসর দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হয়েছে বলেও জানা যায়। এভাবে অবসরপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গেই তিনি অনুরূপ আচরণ করে থাকেন। এছাড়াও, তিনি প্রায় ৩৪ জন লোককে পিআইবিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন।  ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী: বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের অনিয়মের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে মহাপরিচালক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়ম ও লুটপাটের মহোৎসবে পরিণত করেছেন—এমন অভিযোগ বিভিন্ন মহলে উত্থাপিত হয়েছে। তাই দ্রুত তাকে অপসারনের দাবী জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। তিনি ডিজি পদে টিকে থাকার লক্ষ্যে তিনি নানামুখী তৎপরতা ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলেও জানা যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি রাখে।তথ্যমন্ত্রীর  দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে, বিষয়টির প্রতি যাতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।

নিজেস্ব প্রতিবেদক nomani

ইত্তেহাদ স্পেশাল

View more
জাতীয় পার্টি
জনসমর্থন হারিয়েছে জাতীয় পার্টি,ভরাডুবির কারণ নেতৃত্ব সংকট!

জিএম কাদের এবং ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। জিএম কাদের ২৪৩ আসনে প্রার্থী দিলেও একটি আসনেও জিততে পারে নি। অন্যদিকে জাপার অপর অংশ ২৮টি আসনে প্রার্থী দিলেও একটি আসনেও জিততে পারে নি। কেন এই পরাজয়?  রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্ব সংকট, সাংগঠনিক দুর্বলতা, জোটনির্ভর রাজনীতি এবং ভোটারদের আস্থাহীনতাই এ পরাজয়ের অন্যতম কারন।  বৃহত্তর রংপুরের জাতীয় পার্টির দুর্গ ভেঙ্গে খানখান হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির কোনো প্রার্থী মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি।  সূত্রমতে, মতে রাজনীতিতে টিকে থাকতে শক্তিশালী তৃণমূল সংগঠন অপরিহার্য। কিন্তু জাতীয় পার্টির অনেক জেলা ও উপজেলা কমিটি কাগুজে অবস্থায় রয়েছে। নিয়মিত কর্মসূচি, রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ও জনসংযোগ কার্যক্রমে ঘাটতি থাকায় দলটি ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেনি। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার মতো নতুন নেতৃত্ব ও বার্তাও দৃশ্যমান ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টি বড় দলের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করেছে। এতে স্বল্পমেয়াদে কিছু আসন পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে। ভোটারদের একটি অংশ দলটিকে ‘কিংমেকার’ বা ক্ষমতাসীনদের সহযোগী হিসেবেই দেখে, বিকল্প শক্তি হিসেবে নয়। ফলে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় সমর্থন কমেছে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে জাপা নির্বাচনে অংশ নেয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলেমিশে মন্ত্রিসভায় থাকে, আবার বিরোধী দলেরও ভূমিকা পালন করে জাতীয় পার্টি। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও সমঝোতার মাধ্যমে আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দল হয়। এরপর ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও জাপা মাত্র ১১ আসন পেয়েছিল। নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কেন ভরাডুবি এ বিষয়ে পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে জনকণ্ঠ থেকে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। যার ফলে পার্টির কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায় নি। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির অপর অংশের নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু জনকণ্ঠকে বলেন, জিএম কাদেরের একরোখার কারণে এমন ভরাডুবি হয়েছে। আমরা বলেছিলাম নির্বাচনে না যেতে। তিনি আমাদের কথা শুনলেন না। দল থেকে আলাদা হয়ে গেলেন। ঐক্যবদ্ধ থাকলে নির্বাচনে ভরাডুবি হতো না। এ দায়-দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে।  নির্বাচনে পার্টির ভরাডুবির বিষয়ে আমরা বসে আলোচনা করবো। এই অংশের অপর নেতা সুনীল শুভ রায় বলেন, এই পরাজয়ের দায় দায়িত্ব জিএম কাদেরের। কারণ তিনিই দলকে ভেঙেছেন।  তিনি আরও বলেন, আমাদের ভোট বিএপির প্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপি প্রার্থী ভোট পেয়েছেন। আমাদের জাপা ছোটখাটো জোট ছিল। সম্মিলিত জাতীয় জোট নির্বাচনে ২৮ প্রার্থী দিয়েছিল। কিন্ত কোনো প্রার্থীই জয়লাভ করতে পারেনি।  ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রয়াত  হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাত ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল জাতীয় পার্টির। ওই বছরের ৭ মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে দলটি। এর দুই বছরের মধ্যে ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল বর্জন করলে জাপা ২৫১ আসনে জয়লাভ করে। তবে ওই সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন ঘটে এরশাদ শাসনের। এরপর আর ক্ষমতায় যাওয়া হয়নি দলটির। পরবর্তীতে যত নির্বাচন হয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদন্ধ হয়ে নির্বাচন করেছে।  জাতীয় পার্টির জন্ম হয়েছে সামরিক শাসনের প্রেক্ষাপটে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলটি গণতান্ত্রিক ধারায় সক্রিয় থাকলেও বিরোধীরা অতীতের শাসনামলকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করে। তরুণ প্রজন্মের কাছে দলটির ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে ইতিবাচক বর্ণনা তুলে ধরতে না পারাও একটি কারণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে স্থানীয় জনপ্রিয়তা বড় ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি এমন প্রার্থী দিয়েছে, যাদের এলাকায় সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল ছিল। আবার কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে ভোট বিভক্ত হয়েছে। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল না থাকায় ফলাফল নেতিবাচক হয়েছে। কয়েকটি নির্বাচন বিশ্লেষণ করেল দেখা যায় জাতীয় পার্টি একক ভাবে নির্বাচন করে কোন আশানুরূপ ফল অর্জন করতে পারেনি। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি সারাদেশে ৩৫টি আসনে জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও এককভাবে অংশ নিয়ে সারাদেশে ৩২টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় পার্টি। ২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে জাতীয় পার্টি পায় মাত্র ১৪টি আসন। ২০০৬ সালে জাতীয় পার্টি যোগ দেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে। আর এই মহাজোটে গিয়েই ধস নামতে শুরু করে জাতীয় পার্টির। ২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ২৯টি আসন ছাড় পায় এরশাদের জাপা। ২০০৯ সালে গঠিত হাসিনা সরকারের মন্ত্রী ছিলেন জিএম কাদের। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভমি ধস হয়েছে জাতীয় পার্টির। পাটিৃর চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুর–৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে তৃতীয় হয়েছেন। এখানে  জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিন্দ্বী বিএনপির শামসুজ্জামান শামু পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। অন্যদিকে জিএম কাদের পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট। জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ আসনে নির্বাচন করে নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। দলের ‘দুর্গ’খ্যাত কুড়িগ্রামে একটি আসনেও জয় পাননি জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থীরা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতে লাঙ্গল প্রতীকে দলটির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনোটিতেই বিজয়ী হতে পারেননি। বরং চারটি আসনের তিনটিতেই জামানত হারিয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতেগড়া দল জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বারবার ভাঙনের মুখে পড়ে। এর মধ্যে নব্বইয়ের গণআন্দোলনে এরশাদের পতনের পর প্রথমবারের মতো ভাঙন ধরে জাতীয় পার্টিতে। দ্বিতীয় দফার ভাঙন হয় ১৯৯৭ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে। কাজী জাফর ও শাহ মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে, ২০০১ সালে নাজিউর রহমানের নেতৃত্বে চতুর্থ দফা এবং ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে জাপায় পঞ্চমবারের মতো ভাঙন ধরে। ২০১৯ সালে এরশাদ মারা যাওয়ার পর সবশেষ ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল তার স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একটি অংশ ভাগ হয়ে যায়।  প্রসঙ্গত, জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০(ক) ধারায় দলের চেয়ারম্যানকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের শোকজ কিংবা কারণ দর্শনোর নোটিস ছাড়াই যে কাউকে বহিষ্কার করতে পারবেন। এর আগে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে মহাসচিব থেকে বহিষ্কার করে মুজিবুল হক চুন্নুকে মহাসচিব করা করেছিলেন জিএম কাদের। দলের গঠনতন্ত্রের ‘বিতর্কিত’ ২০(ক) ধারাকে কেন্দ্র করে ফের ভাঙতে যাচ্ছে জাপা। একই সঙ্গে দলের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরকে শীর্ষপদ থেকে সরাতে জোট বাঁধে। অবশেষে রুহুল আমিন হাওলাদার ও ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন আরেকটি জাপার সৃষ্টি হয়। কাউন্সিলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তম বারের মতো ভেঙে যায় জাতীয় পার্টি। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চেয়ারম্যান ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জাতীয় পার্টির মহাসচিব নির্বাচিত হন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর

পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুরের ঐতিহাসিক বিজয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যাওয়া হেভিওয়েট প্রার্থীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন: হেভিওয়েটদের চমকপ্রদ পরাজয়

বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: রেকর্ড ২১৩ আসনে জয় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির

সেনাবাহিনী
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: মাঠে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ সদস্যের বিশাল নিরাপত্তা বলয়। নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যরা একযোগে কাজ করছেন। বাহিনীগুলোর প্রধানদের ভাষ্য—এবারের নির্বাচনকে তারা একটি ‘উদাহরণমূলক’ নির্বাচনে পরিণত করতে চান, যেখানে ভোট হবে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক। সেনাবাহিনী মোতায়েন, চলছে যৌথ অভিযান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় আগেই সেনাবাহিনীকে সারা দেশে মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি নির্বাচনি মহড়া পরিচালনা করছে সেনাসদস্যরা। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সহিংসতা প্রতিরোধে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে। তারা ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ বিপুল প্রস্তুতির মাঝেও জনমনে শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। নেত্রকোনায় পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ এবং বগুড়ায় দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, এতে নিহত হয়েছেন পাঁচজন। এসব ঘটনার মধ্যে ৮৯টি সংঘর্ষ হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে। বগুড়ার পারশুন গ্রামে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. আতোয়ার হোসেন। অন্যদিকে, নেত্রকোনার পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক ভোটকেন্দ্রে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আকাশ, নৌ ও স্থল—তিন স্তরের নিরাপত্তা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় আকাশপথে দায়িত্ব পালন করবে বিমানবাহিনী উপকূল ও নদী এলাকায় থাকবে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড স্থলভাগে কাজ করবে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সশস্ত্র বাহিনী: ১ লাখ ৮ হাজার বিজিবি: ৩৭ হাজারের বেশি কোস্টগার্ড: ৩ হাজার ৫০০ পুলিশ: ১ লাখ ৫৭ হাজার আনসার: ৫ লাখ ৬৭ হাজার এছাড়া র‍্যাব সদস্যরাও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবেন। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, সারা দেশে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে স্ট্যাটিক ফোর্স, বাইরে মোবাইল টিম এবং জরুরি পরিস্থিতিতে স্ট্রাইকিং ফোর্স। তিনি জানান, ৮০–৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহারের প্রস্তুতি অবৈধ অস্ত্রকে বড় হুমকি উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, লুট হওয়া লাইসেন্সকৃত অস্ত্রের মধ্যে ১ হাজার ৩৩০টি উদ্ধার করা হয়েছে, বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। রাজধানীতে কড়া নজরদারি ঢাকা মহানগরীতে যৌথবাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ধানমন্ডি, বনানী, খামারবাড়ি, বসিলা ও শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চলছে। শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, অবৈধ অস্ত্র ও দ্রব্য ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি চলছে। বনানী থানার ওসি কাজী রফিক আহমেদ জানান, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যাশা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সব মিলিয়ে প্রশাসনের প্রত্যাশা—কঠোর নিরাপত্তা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও সমন্বিত বাহিনীর উপস্থিতির মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
তারেক রহমান

বিএনপির একক নেতায় পরিণত হলেন তারেক রহমান: প্রথম নির্বাচনেই নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং তাদের স্ত্রী-স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদবিবরণী প্রকাশ: শেখ বশিরউদ্দীনের সম্পদ সর্বোচ্চ, মাহফুজের ১২ লাখ

আমলনামা

মূল সংস্কার কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের বই প্রকাশ

বন্দর ইজারা থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার
বন্দর ইজারা থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ইজারা নিয়ে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। ফের রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি, ১৬ কর্মচারীর বদলিসহ শাস্তি প্রত্যাহার, বন্দরের স্বার্থ-বিরোধী কোনো চুক্তি না করা এবং ডিপি ওয়ার্ল্ড নামের প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে আনা যাবে না দাবি এমন দাবি জানিয়ে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এ সময় বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে, থেমে আছে পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও।এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি কোম্পানিকে চট্টগ্রামের নিউমোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা থেকে আপাতত সরে আসছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তবে চুক্তির আলোচনা চলমান থাকবে। অন্যদিকে এম সাখাওয়াত হোসেন রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, লাগাতার কর্মবিরতি দমনে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। ন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন, এই সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না। তারা আমাদের কাছে একটু সময় চেয়েছেন। কিন্তু আমাদের হাতে মাত্র ২টি কার্যদিবস বাকি আছে। তাই এ সময়ের মধ্যে হচ্ছে না। আশিক চৌধুরী বলেন, ‘প্রজেক্টটা ২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল। গত এক মাসে ফাইনাল বোঝাপড়ার ধাপটা শুরু হয়েছিল। যা এখনো চলমান। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে। যা চলমান থাকবে। এটা সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।’ আশিক চৌধুরী জানান, এনসিটি ইজারা প্রসঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তারা একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে তারা আলোচনা বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে চুক্তির শর্ত পর্যালোচনা করতে তাদের আরো কিছু সময় লাগবে। সেক্ষেত্রে আলোচনা চলমান থাকলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া এখনো সময় সাপেক্ষ। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, যেহেতু আমাদের হাতে আর দুই কার্যদিবস সময় আছে। তাই আশা করছি এ আলোচনা এ সরকার পার হয়ে, নির্বাচন পার হয়ে আগামী দিনেও চলমান থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে এটি ফলপ্রসূ হবে।   এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট চলতে দেওয়া যায় না উল্লেখ করে নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। কতিপয় লোক পুরো বন্দরকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে। আর কয়েকদিন পরে রোজা। আমরা প্রতিনিয়ত নদীতে অভিযান চালাচ্ছি। বহির্নোঙরে পড়ে আছে ছোলা, ডাল ও তেল। ১৮ কোটি মানুষকে তারা (ধর্মঘটকারীরা) জিম্মি করেছে। এটা চলতে দেওয়া যায় না। সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে ধরা হয়েছে, বাকিদেরও ধরা হবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামান রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দাবি করেন, সেখানকার অবস্থা স্বাভাবিক। শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনি ব্যবস্থা নেবে। তবে সরেজমিনে দেখা যায়- রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন। বিভিন্ন জেটিতে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে, থেমে আছে পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও। সকাল থেকে বন্দরের ভেতরে কোনো ধরনের ট্রেলার বা পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন প্রবেশ করেনি। আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন আন্দোলন দমাতে ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে। বন্দর ও আশেপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্য মোতয়েন রয়েছে। সংগ্রাম পরিষদের দুজনকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন বলেন, সকাল থেকেই আমাদের ধর্মঘট চলছে, কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে শতভাগ সমর্থন দিয়ে কাজে যোগ দেননি। আন্দোলন দমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামে আমাদের দুজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়েছে বলে খবর পেয়েছি। এনসিটি পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে তারা বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে যান। গত মঙ্গলবার থেকে সংগ্রাম পরিষদ লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। তার সঙ্গে বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ দুইদিনের জন্য তাদের কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান অচলাবস্থা নিয়ে আবারও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ)। ইউরোচ্যাম জানিয়েছে, বর্তমানে ১৩ হাজার কনটেইনারে আনুমানিক ৬৬০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় আট হাজার কোটি টাকা) মূল্যের পণ্য আটকে আছে। ফলে রপ্তানিসূচি ভেঙে পড়ছে, পণ্য সময়মতো সরবরাহ করা যাচ্ছে না এবং লজিস্টিক খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোচ্যাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় চালু করার আহবান জানিয়েছে। এর আগে গত শনিবার ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। প্রধান উপদেষ্টাকে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর নেতারা এ উদ্বেগের কথা জানান।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
খেলাপিদেরকেই ঋণ দিতে উৎসাহী অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বখতিয়ার

ঋণ খেলাপিদেরকেই ঋণ দিতে উৎসাহী অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বখতিয়ার

ইসির ব্যালট প্রকল্পে ২০ লাখ ডলার দিচ্ছে কানাডা

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ব্যালট প্রকল্পে ২০ লাখ ডলার দিচ্ছে কানাডা

খাদ্য মূল্যস্ফীতি

জানুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে:বিবিএস’র প্রতিবেদন