জিএম কাদের এবং ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। জিএম কাদের ২৪৩ আসনে প্রার্থী দিলেও একটি আসনেও জিততে পারে নি। অন্যদিকে জাপার অপর অংশ ২৮টি আসনে প্রার্থী দিলেও একটি আসনেও জিততে পারে নি। কেন এই পরাজয়?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্ব সংকট, সাংগঠনিক দুর্বলতা, জোটনির্ভর রাজনীতি এবং ভোটারদের আস্থাহীনতাই এ পরাজয়ের অন্যতম কারন। বৃহত্তর রংপুরের জাতীয় পার্টির দুর্গ ভেঙ্গে খানখান হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির কোনো প্রার্থী মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি।
সূত্রমতে, মতে রাজনীতিতে টিকে থাকতে শক্তিশালী তৃণমূল সংগঠন অপরিহার্য। কিন্তু জাতীয় পার্টির অনেক জেলা ও উপজেলা কমিটি কাগুজে অবস্থায় রয়েছে। নিয়মিত কর্মসূচি, রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ও জনসংযোগ কার্যক্রমে ঘাটতি থাকায় দলটি ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেনি। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার মতো নতুন নেতৃত্ব ও বার্তাও দৃশ্যমান ছিল না।
দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টি বড় দলের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করেছে। এতে স্বল্পমেয়াদে কিছু আসন পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে। ভোটারদের একটি অংশ দলটিকে ‘কিংমেকার’ বা ক্ষমতাসীনদের সহযোগী হিসেবেই দেখে, বিকল্প শক্তি হিসেবে নয়। ফলে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় সমর্থন কমেছে।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে জাপা নির্বাচনে অংশ নেয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলেমিশে মন্ত্রিসভায় থাকে, আবার বিরোধী দলেরও ভূমিকা পালন করে জাতীয় পার্টি। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও সমঝোতার মাধ্যমে আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দল হয়। এরপর ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও জাপা মাত্র ১১ আসন পেয়েছিল।
নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কেন ভরাডুবি এ বিষয়ে পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে জনকণ্ঠ থেকে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। যার ফলে পার্টির কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায় নি। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির অপর অংশের নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু জনকণ্ঠকে বলেন, জিএম কাদেরের একরোখার কারণে এমন ভরাডুবি হয়েছে। আমরা বলেছিলাম নির্বাচনে না যেতে। তিনি আমাদের কথা শুনলেন না। দল থেকে আলাদা হয়ে গেলেন। ঐক্যবদ্ধ থাকলে নির্বাচনে ভরাডুবি হতো না। এ দায়-দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। নির্বাচনে পার্টির ভরাডুবির বিষয়ে আমরা বসে আলোচনা করবো। এই অংশের অপর নেতা সুনীল শুভ রায় বলেন, এই পরাজয়ের দায় দায়িত্ব জিএম কাদেরের। কারণ তিনিই দলকে ভেঙেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ভোট বিএপির প্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপি প্রার্থী ভোট পেয়েছেন। আমাদের জাপা ছোটখাটো জোট ছিল। সম্মিলিত জাতীয় জোট নির্বাচনে ২৮ প্রার্থী দিয়েছিল। কিন্ত কোনো প্রার্থীই জয়লাভ করতে পারেনি।
১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাত ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল জাতীয় পার্টির। ওই বছরের ৭ মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে দলটি। এর দুই বছরের মধ্যে ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল বর্জন করলে জাপা ২৫১ আসনে জয়লাভ করে। তবে ওই সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন ঘটে এরশাদ শাসনের। এরপর আর ক্ষমতায় যাওয়া হয়নি দলটির। পরবর্তীতে যত নির্বাচন হয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদন্ধ হয়ে নির্বাচন করেছে।
জাতীয় পার্টির জন্ম হয়েছে সামরিক শাসনের প্রেক্ষাপটে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলটি গণতান্ত্রিক ধারায় সক্রিয় থাকলেও বিরোধীরা অতীতের শাসনামলকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করে। তরুণ প্রজন্মের কাছে দলটির ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে ইতিবাচক বর্ণনা তুলে ধরতে না পারাও একটি কারণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে স্থানীয় জনপ্রিয়তা বড় ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি এমন প্রার্থী দিয়েছে, যাদের এলাকায় সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল ছিল। আবার কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে ভোট বিভক্ত হয়েছে। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল না থাকায় ফলাফল নেতিবাচক হয়েছে।
কয়েকটি নির্বাচন বিশ্লেষণ করেল দেখা যায় জাতীয় পার্টি একক ভাবে নির্বাচন করে কোন আশানুরূপ ফল অর্জন করতে পারেনি। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি সারাদেশে ৩৫টি আসনে জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও এককভাবে অংশ নিয়ে সারাদেশে ৩২টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় পার্টি। ২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে জাতীয় পার্টি পায় মাত্র ১৪টি আসন। ২০০৬ সালে জাতীয় পার্টি যোগ দেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে। আর এই মহাজোটে গিয়েই ধস নামতে শুরু করে জাতীয় পার্টির। ২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ২৯টি আসন ছাড় পায় এরশাদের জাপা। ২০০৯ সালে গঠিত হাসিনা সরকারের মন্ত্রী ছিলেন জিএম কাদের।
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভমি ধস হয়েছে জাতীয় পার্টির। পাটিৃর চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুর–৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে তৃতীয় হয়েছেন। এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিন্দ্বী বিএনপির শামসুজ্জামান শামু পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। অন্যদিকে জিএম কাদের পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট। জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ আসনে নির্বাচন করে নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। দলের ‘দুর্গ’খ্যাত কুড়িগ্রামে একটি আসনেও জয় পাননি জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থীরা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতে লাঙ্গল প্রতীকে দলটির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনোটিতেই বিজয়ী হতে পারেননি। বরং চারটি আসনের তিনটিতেই জামানত হারিয়েছেন দলটির প্রার্থীরা।
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতেগড়া দল জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বারবার ভাঙনের মুখে পড়ে। এর মধ্যে নব্বইয়ের গণআন্দোলনে এরশাদের পতনের পর প্রথমবারের মতো ভাঙন ধরে জাতীয় পার্টিতে। দ্বিতীয় দফার ভাঙন হয় ১৯৯৭ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে। কাজী জাফর ও শাহ মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে, ২০০১ সালে নাজিউর রহমানের নেতৃত্বে চতুর্থ দফা এবং ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে জাপায় পঞ্চমবারের মতো ভাঙন ধরে। ২০১৯ সালে এরশাদ মারা যাওয়ার পর সবশেষ ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল তার স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একটি অংশ ভাগ হয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০(ক) ধারায় দলের চেয়ারম্যানকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের শোকজ কিংবা কারণ দর্শনোর নোটিস ছাড়াই যে কাউকে বহিষ্কার করতে পারবেন। এর আগে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে মহাসচিব থেকে বহিষ্কার করে মুজিবুল হক চুন্নুকে মহাসচিব করা করেছিলেন জিএম কাদের। দলের গঠনতন্ত্রের ‘বিতর্কিত’ ২০(ক) ধারাকে কেন্দ্র করে ফের ভাঙতে যাচ্ছে জাপা।
একই সঙ্গে দলের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরকে শীর্ষপদ থেকে সরাতে জোট বাঁধে। অবশেষে রুহুল আমিন হাওলাদার ও ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন আরেকটি জাপার সৃষ্টি হয়। কাউন্সিলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তম বারের মতো ভেঙে যায় জাতীয় পার্টি। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চেয়ারম্যান ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জাতীয় পার্টির মহাসচিব নির্বাচিত হন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার এক সময়ের আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তান থেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরগুনা সমবায় ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে। তার আয়-ব্যয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের অসামঞ্জস্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, নলছিটি উপজেলার নাঙ্গুলি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওহাব মল্লিক ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতেন। তার ছেলে নাজমুল ইসলাম সুজন কয়েক বছর আগে সমবায় ব্যাংকে চাকরি পান। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের মাধ্যমে তিনি চাকরিটি লাভ করেন। গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে আসা বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই সুজনের আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সমবায় ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালে সুজন তার নানা বাড়ির পাশেই বাবার নামে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি ক্রয় করেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর ফাঁকি দিতে দলিলে প্রকৃত মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ২০২১ সালে একই এলাকায় আরও একটি জমি কেনার পর সেখানে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, সরকারি চাকরির বেতনের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, বরিশাল, ঢাকা ও ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সুজনের নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকার গুঞ্জন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নথি বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে পারিবারিক বিরোধ নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুজনের মায়ের দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে, যা স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একজন সরকারি সমবায় ব্যাংক কর্মকর্তার স্বল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, আয়-ব্যয়ের হিসাব, সম্পদের উৎস এবং ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাজমুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ভিত্তিহীন। জমি কিনেছে আমার বাবা। এছাড়া জমি ক্রয়ের সময় ঋণ নেওয়া হয়েছে।”
বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাবর্তন: প্রশ্নের মুখে পুলিশ সংস্কারের অঙ্গীকার ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট দেশের প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে একটি খবর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে—বদলির আদেশ পাওয়ার পর তিনি থানার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), টেলিভিশন, আইপিএস ও সোফা সেট খুলে বাসায় নিয়ে গেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তীব্র সমালোচনার মুখে তাকে ভূঞাপুর থানা থেকে সরিয়ে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই ফরিদুল ইসলাম এখন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বনানী থানার ওসি। ফরিদুল ইসলাম দাবি করেন, সে সময় সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি “অতিরঞ্জিতভাবে” উপস্থাপন করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, তিনি নিজেও প্রশাসনিকভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে শুধু একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি দমন কিংবা ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে সমালোচিত বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ থানা ও প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে পুলিশের ভেতর থেকেই। ‘শাস্তিমূলক বদলি’ থেকে আবার রাজধানীতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যেসব কর্মকর্তাকে ঢাকা বা গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট থেকে সরিয়ে দূরবর্তী স্টেশনে পাঠানো হয়েছিল, তাদের অনেকেই আবার রাজধানীতে ফিরছেন। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উচ্চপর্যায়কে “ম্যানেজ” করেই এসব পদায়ন হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে এখনো প্রভাবশালী একটি বলয় সক্রিয় রয়েছে, যারা আগের সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখছে। এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে পুলিশ ভয়াবহ ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে। গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা হয়েছিল। এখন আবার বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে সেই প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” হত্যা মামলার আসামি, তবু এসপি পদে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) পদে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানের পদায়ন। ৫ মে তাকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের দমন, হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ বহুদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে ছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে শিবগঞ্জ যুবদল নেতা মিজান হত্যাকাণ্ডের মামলাটি বিশেষভাবে আলোচিত। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিজান। নিহতের বাবা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হত্যা মামলা দায়ের করলে মাহবুব আলম খানকে আসামি করা হয়। আরেকটি হত্যা মামলাতেও তার নাম রয়েছে। তবে মাহবুব আলম খান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলে তিনি দায়মুক্ত হবেন। ডিএমপিতে ফিরছেন পুরোনো মুখ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালন করা নুরুল মুত্তাকিনও আবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরেছেন। আওয়ামী আমলে তিনি ডেমরা, ভাটারা, তুরাগ ও লালবাগ থানার ওসি ছিলেন। পরবর্তীতে ডিএমপির সহকারী কমিশনার (এসি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তাকে এপিবিএনে পাঠানো হলেও মার্চ মাসে আবার ডিএমপিতে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুর জোনে এসি (প্যাট্রোল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে গুলশান থানার বর্তমান ওসি দাউদ খানও দীর্ঘদিন ডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ডিএমপির বহু কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে পাঠানো হলেও তিনি রাজধানীতেই থেকে যান। পরে পর্যায়ক্রমে খিলগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট হয়ে গুলশান থানার ওসি হন। ‘বঞ্চিত’ কর্মকর্তাদের ক্ষোভ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে এ নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আওয়ামী আমলে তাদের “ব্ল্যাকলিস্টেড” রাখা হয়েছিল। ছাত্রদল বা বিএনপিপন্থি পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তারা পদোন্নতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন থেকে বঞ্চিত হন। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা বৈষম্য দূর হওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে আগের সরকারের সুবিধাভোগীরাই আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন। এক কর্মকর্তা বলেন, “যারা বিগত সময়ে নির্যাতন-নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারাই এখন পুনর্বাসিত হচ্ছেন। অথচ বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।” সমালোচনার মুখে একাধিক পদায়ন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও কয়েকটি পদায়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মাহাবুব রহমান, যিনি আওয়ামী সরকারের শেষদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার ওসি ছিলেন, তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ওসি করা হয়েছে। আমির হোসেন সেরনিয়াবাতকে মাদারীপুরের শিবচর থানার ওসি করা হলেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে চার দিনের মাথায় প্রত্যাহার করা হয়। ভোলা ছাত্রদল নেতা নুরে আলম হত্যা মামলার আসামি আরমান হোসেনকে কক্সবাজারের রামু থানার ওসি করার আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত সেই পদায়ন কার্যকর হয়নি। চট্টগ্রামে নূর হোসেন মামুন ও আতিকুর রহমানের মতো কর্মকর্তারাও গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া সাভার, আশুলিয়া, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ রেঞ্জের কয়েকটি থানার ওসি পদায়ন নিয়েও পুলিশের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে। ভাবমূর্তি বনাম প্রশাসনিক বাস্তবতা বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল বা গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন জনমনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তাদের মতে, প্রশাসনিক দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত না হলে পুলিশ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, তিনি সম্প্রতি প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার পর মন্তব্য করবেন। তবে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশ বাহিনীর ভেতরে কি সত্যিই পরিবর্তন এসেছে, নাকি পুরোনো প্রভাববলয় নতুন বাস্তবতায় আবারও নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে?
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর মূসক বাস্তবায়ন, সেবা ও পণ্য শাখার এক প্রথম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে ঘিরে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার আয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন। এর ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্বের বড় অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে তিনি এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সম্পদ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার ঘোষিত আয় ও সরকারি বেতনের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার ও পরিবারের নামে একাধিক স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় তার নামে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া ঢাকার উপকণ্ঠে জমি ক্রয় এবং উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায় একাধিক জমির মালিকানার নথি পাওয়া গেছে, যা বিভিন্ন সময়ে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। শুধু নিজের নামেই নয়, তার স্ত্রীর নামেও জমি থাকার তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকার আশপাশের এলাকায় কয়েক শতাংশ জমি এবং উত্তরাঞ্চলে বড় আকারের জমি তার স্ত্রীর নামে নথিভুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে প্রায় ১৪ শতক জমির দুটি প্লটে শেয়ার কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ির তথ্যও সামনে এসেছে। এনবিআরের একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছু সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রভাব খাটিয়ে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। এর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং এনবিআরের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শাখার সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তদন্তের সুযোগ রয়েছে।