Brand logo light
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

বিএনপি শপথ না নেওয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম অনিশ্চিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
বাংলাদেশের সাংবিধানে বেশ কিছু সংস্কারের প্রস্তাব করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন
বাংলাদেশের সাংবিধানে বেশ কিছু সংস্কারের প্রস্তাব করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে।

সংবিধানে এই পরিষদের শপথ নেওয়ার বিধান নেই উল্লেখ করে বিএনপি দলীয় সদস্যরা এমপি হিসেবে শপথ নিলেও প্রস্তাবিত এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির জারি করা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবেও কাজ করবেন। ৬০ সদস্যের কোরাম হলেই এই পরিষদ কাজ করতে পারে।

ওই আদেশের ভিত্তিতে যে গণভোট হয়েছে, সেখানে 'হ্যাঁ' ভোট জয় লাভ করেছে।

ওদিকে বিএনপি আজ এ পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলেও জামায়াত-এনসিপির ৭৭ জন নির্বাচিত সদস্য একই সাথে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

বিএনপির সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় এনসিপি দলীয়ভাবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করে। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, "গণভোটে জনরায়ের সাথে প্রতারণা করে শপথ নিতে যাচ্ছে সরকার"।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, বিএনপি দুটি শপথ না নিলে সংসদে যাওয়াই তো অর্থহীন।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণভোটের রায়ের কারণে যদি জুলাই আদেশ বাস্তবায়নযোগ্যই হয়ে যায়, তাহলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রয়োজনীয়তাই থাকে না। আবার অন্যদিকে যেসব সদস্যরা শপথ নিয়েছেন তারা নিজেরাই জুলাই আদেশ অনুযায়ী নিজেরাই সংবিধান বানিয়ে ফেলতে পারেন।

তাদের মতে, জুলাই আদেশে এ ধরনের সুযোগ থাকায় একে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও ফলাফল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে।

নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যদের শপথের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদ। বিশেষ করে বিএনপি এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবে কি-না, তা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছিল।

সকালে সংসদ ভবনে দলটির নির্বাচিত এমপিরা শপথ নেবার ঠিক আগ মুহূর্তে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ একটি সাদা ও একটি নীল রংয়ের ফরম হাতে নিয়ে মাইকের সামনে দাঁড়ান।

দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সিনিয়র নেতারা তখন সেখানে সামনের সাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।

মি. আহমদ সাদা ও নীল রংয়ের দুটি ফরম হাতে নিয়ে বলেন, "আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এখনো এটা ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেয়াবেন সেটার বিধান করতে হবে। এমন ফরম সংবিধানের তৃতীয় তপশিলে আসবে। সেগুলো সাংবিধানিকভাবে সংসদে গৃহীত হবার পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে। আমরা সংবিধান মেনে এ পর্যন্ত চলেছি। আশা করি সামনের দিনেও চলবো"।

এরপর তিনি দলীয় সদস্যদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, "আমি মাননীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে ওনার উপস্থিতিতে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত জানালাম"।

প্রসঙ্গত, বিএনপি আগে থেকেই ক্ষমতা গ্রহণের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দলটি সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার কথা বলে আসছে।


বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় প্রাথমিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির দিক থেকে।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বেলা সোয়া এগারটায় ফেসবুকে তার পাতায় লিখেন "গণভোটের জনরায়কে প্রথম দিনেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শুরু হলো নতুন সংসদের যাত্রা"।

বেলা ১২টা ৩৭ মিনিটে এনসিপির আরেকজন নেতা সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় লিখেন "জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সাথে গাদ্দারি করে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হলো!"

বেলা একটা দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় জানায় যে তারা মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না।

জামায়াতের একজন সিনিয়র নেতা প্রথমে সংবাদমাধ্যমকে শপথ না নেওয়ার কথা বললেও পরে তারা এমপি হিসেবে শপথ নেন ও একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন তারা। জামায়াত জোটে থাকা এনসিপি সদস্যরাও একই পথ অনুসরণ করেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ  বলেছেন নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি শপথের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে কিন্তু এখন বিএনপি যদি একটি শপথ নেয় তাহলে সেই সংসদে গিয়ে কী হবে?

সোমবার কমিশনের চিঠিতে বলা হয় 'মঙ্গলবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার'।
 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলছেন, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬০ জন পরিষদ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে।

"জামায়াত-এনসিপির তো ৭৭ জন ওই আদেশ অনুযায়ী পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আদেশ বলছে কোরামের জন্য দরকার ৬০ জন। তাহলে ওই আদেশ অনুযায়ী তারা তো চাইলে নিজেদের মতো করে একটি সংবিধান বানিয়ে ফেলতে পারে। সেই পথে গেলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী হবে কিংবা তারা সেটি করবে কি-না তা ভবিষ্যতে দেখা যাবে," বলছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১৩ই নভেম্বর গেজেট হওয়া ওই আদেশে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ত্রিশ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহবান করা হবে অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহবান করা হবে।

এতে বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিষদের মোট সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে এবং অন্য বিষয়ে উপস্থিত ও ভোট দানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিষদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

মনজিল মোরসেদ বলছেন, এ আদেশ মানলে এসব নিয়ম অনুযায়ী জামায়াত-এনসিপি নিজেরাই পরিষদ আহবান করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এমনকি নতুন সংবিধানও বানিয়ে ফেলতে পারেন।

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ পরিষদের গঠন সম্পর্কে বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রতিনিধিগন একই সাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং এই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।

এই ধারায় আরও বলা হয়েছে, আরও বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্য দিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং তা সম্পন্ন করবার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

কিন্তু বিএনপি শপথ না নেওয়ায় কার্যত এটি করার আর সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক।
 

শাহদীন মালিক বলছেন, যেই ৭৭ জন শপথ নিয়েছেন তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারেন সেই আদেশ বলে। কিন্তু তেমন কিছু করার জন্য সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইলে সেটি আর জনগণের সমর্থন পাবে না বলে মনে করেন তিনি।

"জুলাই আদেশ অনুযায়ী গণভোটের জেতার কারণেই যদি এটি বাস্তবায়নযোগ্য হয়ে যায়, তাহলে এমনিতেও আর সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রয়োজন হয় না। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক সংকট তৈরির চেষ্টা আর সফল হবে না, কারণ এখন স্থিতিশীলতা চায়,"  বলেছেন তিনি।

মনজিল মোরসেদ বলছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মধ্যে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলা বীজ রাখা হয়েছে এবং তার মতে, এটি করাই হয়েছে দেশে আবারো অনির্বাচিত সরকার আনার প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য।

তিনি বলেন, নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই দেশ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় চলে এসেছে এবং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা ও এমপিদের শপথ হয়েছে সংবিধান অনুযায়ী।

বাংলাদেশের বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় সংসদ বহাল না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ বা নতুন আইন জারি করা হলে তা সংসদ বহাল হওয়ার পর উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন করতে হয়। না হলে সেটি বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করে জুলাই বাস্তবায়ন আদেশের যে গণভোট হয়েছে, সেক্ষেত্রে কি হবে, সেটি পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে মনজিল মোরশেদ বলছেন, ''যে অধ্যাদেশে গণভোট হয়েছে, সেটা হয়েছে রাষ্ট্রপতির নামে জারি করা একটি আদেশের ওপর নির্ভর করে। এভাবে অধ্যাদেশ হতে পারে কিনা, সেটি নিয়ে আইনি প্রশ্ন রয়ে গেছে। আবার সেই অধ্যাদেশকে বা গণভোটকে বৈধতা দিতে হলে সংসদে উত্থাপন করে পাশ করাতে হবে। বিএনপি এখন সেটা সংসদে তুলবে কিনা, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।''

তিনি আরো জানান, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষেত্রে সংবিধানে কিছু সীমাবদ্ধতা বেধে দিয়েছে। সংবিধানে যা নেই অর্থাৎ সংসদ যে বিষয়ে আইন করতে পারে না বা সংবিধানের কোনো বিধান পরির্বতন হয়ে যায়, সেসব বিষয়ে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন না।

সংবিধানে যেহেতু গণভোটের বিধান নেই, তাই এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির নেই বলে মনে করেন মনজিল মোরশেদ। ফলে এসব বিষয় নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও ফলাফল স্থগিত চেয়ে রিট আবেদন করেছেন একজন আইনজীবী। সেই রিটে গণভোট বাতিল চাওয়া হয়েছে।

ওদিকে সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণের সময় বিএনপির দিক থেকে যেই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে তারা সংবিধান অনুযায়ী পদক্ষেপ নিবেন।

তবে এর আগে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সংবিধান সংস্কারের কিছু বিষয়ে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল।

তখন বলা হয়েছিল, নির্বাচনে তাদের ইশতেহার জনগণের ম্যান্ডেট পেলে তার সে অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের পদক্ষেপ নিবে।

মনজিল মোরসেদ বলছেন, সংবিধানে সংস্কার আনার বিষয়ে বিএনপি তাদের যে পরিকল্পনার কথা আগে জানিয়েছিল সে অনুযায়ী সংসদে বিল উত্থাপনের মাধ্যমে সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন তারা করতে পারবে।

"এবং এটিই হবে সাংবিধানিক পন্থা। এর অন্যথা কিছু হলে সেটি জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে," বলছিলেন তিনি।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

View more
তিন বছর ধরে ঈদ নেই গাজায়
তিন বছর ধরে ঈদ নেই গাজায়: নেই কোরবানির পশু, ভেঙে পড়েছে পুরো অর্থনীতি: পশু প্রায় বিলুপ্ত,যুদ্ধ, অবরোধ ও খাদ্য সংকটে নেই উৎসবের আমেজও

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : বছরের এই সময়টাতে গাজার খামারগুলোতে থাকার কথা ছিল ঈদুল আজহার ব্যস্ততা। কোরবানির পশুর হাঁকডাক, পশু কেনাবেচা, বাজারের ভিড়—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ। কিন্তু এখন সেই গাজায় নেই কোরবানির পশু, নেই উৎসবের আমেজও। যুদ্ধ, অবরোধ ও খাদ্য সংকটে টানা তৃতীয় বছরের মতো কার্যত থমকে গেছে ঈদুল আজহার প্রধান ধর্মীয় অনুষঙ্গ কোরবানি। গাজার পরিচিত পশু খামারি মাজেন আল-জেরজাউই একসময় ঈদের আগে শত শত ভেড়া ও গরু বিক্রি করতেন। এখন তিনি একটি ছোট রেস্তোরাঁ চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সেখানে পরিবেশিত খাবারের জন্যও তাকে নির্ভর করতে হচ্ছে সীমিত পরিমাণে প্রবেশ করা হিমায়িত মাংসের ওপর। গাজা সিটির বাসিন্দা জেরজাউই বলেন, “এই সময়ে আমি প্রায় ২০০টি ভেড়া ও গরু বিক্রি করতাম। এখন আমার কাছে একটি পশুও নেই। গাজায় জীবন্ত পশু ঢুকতেই দেওয়া হচ্ছে না।” তার ভাষায়, ইসরায়েলের কঠোর নিয়ন্ত্রণ গাজার মানুষকে এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে, যেখানে টিকে থাকাই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। যুদ্ধের আগে বছরে আসত ৬০ হাজার পশু ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের আগে প্রতি বছর গাজায় ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার ভেড়া ও বাছুর আমদানি হতো। স্থানীয় খামারগুলোও ছিল সক্রিয়। কোরবানির পশুকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল বড় একটি অর্থনৈতিক চক্র। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ ও অবরোধ পরিস্থিতি পুরো খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, গবাদিপশু খাতের ৯০ শতাংশের বেশি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। শুধু খামার নয়, ধ্বংস হয়েছে গোয়ালঘর, পশুখাদ্যের গুদাম, পশু চিকিৎসা কেন্দ্র এবং কৃষিভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থা। আকাশছোঁয়া পশুর দাম যুদ্ধের আগে গাজায় একটি ভেড়ার দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ ডলারের মধ্যে। বর্তমানে হাতে গোনা যে কয়েকটি পশু টিকে আছে, সেগুলোর দাম পৌঁছেছে প্রায় ৭ হাজার ডলারে। এই পরিস্থিতিতে অনেক প্রবাসী ফিলিস্তিনি এখনও গাজায় থাকা স্বজনদের নামে কোরবানি দিতে চাইছেন। তবে জেরজাউই তাদের নিরুৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, “একটি ভেড়ার পেছনে ২০ হাজার শেকেল খরচ করার চেয়ে সেই অর্থ দিয়ে একটি পরিবারের বিয়ের খরচ চালানো সম্ভব। এখন ৫০ কেজি হিমায়িত মাংস কিনে মানুষকে খাওয়ানোই বেশি বাস্তবসম্মত।” নিশ্চিহ্নের পথে গবাদিপশু জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরের মধ্যেই গাজার ৮০ শতাংশ ভেড়া এবং ৭০ শতাংশ ছাগল মারা গেছে বা হত্যা করা হয়েছে। গাজার কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে যেখানে উপত্যকাটিতে প্রায় ৬০ হাজার ভেড়া ও ছাগল ছিল, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৩ হাজারে। গরু ও বাছুর প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাফাত আসালিয়া বলেন, “যে অল্পসংখ্যক পশু বেঁচে আছে, সেগুলো যাযাবর রাখালদের কাছে রয়েছে এবং ঈদের বাজারে আনার মতো পরিস্থিতি নেই।” তার মতে, পানির সংকট ও কৃষি অবকাঠামোর ধ্বংস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে এই খাত পুনরুদ্ধারের বাস্তব সম্ভাবনাও প্রায় নেই। বোমা হামলায় মারা গেছে পশু জেরজাউই জানান, যুদ্ধের মধ্যে পশু বাঁচিয়ে রাখাই হয়ে উঠেছিল অসম্ভব। তিনি বলেন, “পশুগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা পাস্তা পর্যন্ত খাইয়েছি। কিন্তু পাশের বাড়িতে বোমা হামলার পর আমার অনেক ভেড়া মারা যায়।” শুধু বোমা হামলাই নয়, বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনাও গবাদিপশু খাতকে চূড়ান্ত ধসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালানোর সময় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে কম দামে পশু বিক্রি বা জবাই করে দেয়। জেরজাউই বলেন, “প্রতিটি উচ্ছেদ আদেশের সঙ্গে সঙ্গে গাজায় গবাদিপশুর সংখ্যা কমে গেছে। শেষ পর্যন্ত মানুষ পরিবারকে বাঁচাবে, নাকি পশুর যত্ন নেবে—এই কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়েছে সবাই।” ‘কোরবানি ছাড়া ঈদ নেই’ গাজার সাধারণ মানুষের কাছেও ঈদের অনুভূতি এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। স্কুলশিক্ষক মুহাম্মদ আবু রিয়ালা বলেন, “মনে হচ্ছে আমরা তিন বছর ধরে ঈদই উদযাপন করছি না। কোরবানির আনন্দ, ভাগাভাগি করার অনুভূতি—সবকিছু হারিয়ে গেছে।” তিনি জানান, সংকট শুধু পশুর অভাবেই সীমাবদ্ধ নয়। বহু পরিবার এখন দৈনিক খাবার জোগাড় করতেই সংগ্রাম করছে। তার ভাষায়, “অনেকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হিমায়িত মাংসও খেতে পারেনি। গাজায় কী ঢুকবে, তা পুরোপুরি সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ফলে বাজারে জিনিসপত্রের দামও অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে।” খাদ্য সংকটে ১৬ লাখ মানুষ জাতিসংঘ সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)-এর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ গাজার প্রায় ১৬ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিল। যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও মানবিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশে কড়াকড়ি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ হয়ে গেলে বাজার থেকে খাদ্যপণ্য প্রায় উধাও হয়ে যায়। ধসে পড়ছে পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিশেষজ্ঞদের মতে, গবাদিপশু খাত ধ্বংস হওয়ায় শুধু কোরবানির ঐতিহ্যই নয়, গাজার একটি বড় অর্থনৈতিক ভিত্তিও ভেঙে পড়ছে। মুহাম্মদ আবু রিয়ালা বলেন, “গবাদিপশু প্রবেশের অনুমতি থাকলে পশু চিকিৎসক, খামারি, কৃষক, কসাই ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা সবাই উপকৃত হতেন। কিন্তু পুরো সমাজকে অকার্যকর করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।” গাজার বাস্তবতা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ঈদ মানে আর উৎসব নয়; বরং বেঁচে থাকার সংগ্রামের আরেকটি দিন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৬, ২০২৬ 0
নতুন সামরিক হুঁশিয়ারির নেপথ্যে কী

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি: হরমুজ, পারমাণবিক কর্মসূচি ও নতুন সামরিক হুঁশিয়ারির নেপথ্যে কী?

গাজায় গণহত্যা

গাজায় গণহত্যার অভিযোগের মধ্যেও থামেনি অস্ত্র সরবরাহ, আইসিজের রায়ের পরও ইসরাইলকে সহায়তা ৫১ দেশের

আমিরাতের তেল ডিপোতে বিশেষ সুরক্ষা

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা: ড্রোন হামলার আশঙ্কায় আমিরাতের তেল ডিপোতে বিশেষ সুরক্ষা, হরমুজ নিয়ে অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র
ইসরায়েলকে বাঁচাতে থাড ক্ষেপণাস্ত্রের অর্ধেক ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের, ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ডোনাল্ড ট্রাম্পইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেদের কৌশলগত প্রতিরক্ষা মজুদের বড় অংশ ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে ইরানের শতবর্ষী চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাস্তুর ইনস্টিটিউটে হামলাকে ‘স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিযোগ তুলেছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ঘিরে সামরিক, কূটনৈতিক ও মানবিক—তিনটি ক্ষেত্রেই নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। থাড ইন্টারসেপ্টরের অর্ধেকের বেশি ব্যবহার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের থাড অ্যান্টি-মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের অর্ধেকেরও বেশি ব্যবহার করেছে। প্রতিবেদনটি উদ্ধৃত করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট এবং টাইমস অফ ইসরায়েল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ২০০টিরও বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি ১০০টির বেশি এসএম-৩ ও এসএম-৬ ইন্টারসেপ্টরও উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ১০০টির কম অ্যারো ইন্টারসেপ্টর এবং প্রায় ৯০টি ডেভিডস স্লিং ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হতে পারে। কারণ, ইসরায়েল তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরিয়ে নিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, “ইসরায়েল নিজের সক্ষমতায় যুদ্ধ জেতার মতো অবস্থায় নেই, তবে বাইরের বিশ্ব প্রকৃত পরিস্থিতি দেখতে পায় না।” পেন্টাগনের ভিন্ন অবস্থান তবে পরিস্থিতিকে সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ Pentagon। পেন্টাগনের ভাষ্য, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা শুধু বৃহৎ সামরিক সক্ষমতার একটি অংশমাত্র। ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক অংশীদারিত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। দূতাবাসের মতে, “সামরিক প্রস্তুতি, অভিন্ন স্বার্থ এবং সক্ষমতার দিক থেকে ইসরায়েলের মতো অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের আর নেই।” যদিও নিজেদের ইন্টারসেপ্টর মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ার খবর বরাবরই অস্বীকার করে আসছে ইসরায়েল। গত মাসে দেশটি অ্যারো ইন্টারসেপ্টর উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে। ৬৫০ ক্ষেপণাস্ত্র, বহু প্রাণহানি যুদ্ধ চলাকালে ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে প্রায় ৬৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলায় ইসরায়েলে ২১ জন ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীরে নিহত হয়েছেন অন্তত চারজন ফিলিস্তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। ইউরেনিয়াম নিয়ে ট্রাম্পের কড়া বার্তা এদিকে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কোনওভাবেই হস্তান্তর করবে না বলে অবস্থান জানালেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পহুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সেটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এটি উদ্ধার করবই। আমাদের এটি প্রয়োজন নেই, চাইও না। তবে আমরা কোনওভাবেই এটি তাদের কাছে রাখতে দেব না।” তিনি আরও বলেন, “যেভাবেই হোক, আমরা এটি নিয়ে নেব। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।” ট্রাম্প একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য টোল বা শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করেন। তার ভাষায়, এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং সেখানে কোনও ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক অর্থ আদায় গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, সামুদ্রিক চলাচলে নানা বিধিনিষেধের কারণে ইরান ইতোমধ্যে বড় ধরনের আর্থিক চাপে রয়েছে। পাস্তুর ইনস্টিটিউটে হামলা ঘিরে ‘যুদ্ধাপরাধ’ অভিযোগ অন্যদিকে ইরানের শতবর্ষী চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইরানের পাস্তুর ইনস্টিটিউট-এ মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইসামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে এই হামলাকে “স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, এই হামলা শুধু একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নয়, বরং ইরানের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও বেঁচে থাকার অধিকারের ওপরও আঘাত। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বিশ্বখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, পাস্তুর ইনস্টিটিউট ধ্বংস হওয়ায় আঞ্চলিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থানিশ্চিত করেছে যে সাম্প্রতিক হামলার পর প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর অবস্থায় নেই এবং স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারছে না। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় দুর্বল হয়ে পড়া ইরানের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা সাম্প্রতিক হামলার পর আরও গভীর সংকটে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২২, ২০২৬ 0
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ, ক্ষুদ্র ব্যবসায় মুনাফা কমছে | নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত

মার্কিন প্রস্তাবে ট্রাম্পের বিপক্ষে ৪ রিপাবলিকান, সিনেটে পাস

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে চাপে ফেলল মার্কিন সিনেট, নতুন নিষেধাজ্ঞা ও তেহরানের হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র

পশ্চিমবঙ্গে গরু কোরবানিতে বিধিনিষেধ, হিন্দু ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত!

ভারতের বিজেপি সরকারের নতুন আইনে পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির গরু সংকট: নতুন বিধিনিষেধে বিপাকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা

ইরান
ইরানকে ঘিরে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা: ট্রাম্পের হুমকি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভেদের অভিযোগ তেহরানের

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ঘনীভূত হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বে বিভেদ সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ভাষার হুমকি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানি প্রেসিডেন্টের দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া। পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও “জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী” ইরানে হামলার মাধ্যমে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিল, যাতে দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তার অভিযোগ, পশ্চিমা শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস ও বিভাজন তৈরির কৌশল অনুসরণ করছে, যাতে আঞ্চলিক ঐক্য দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়। ‘পুনরায় হামলা হলে ভয়াবহ জবাব’ এদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফজল শেকারচি মার্কিন প্রশাসনকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার প্রতিক্রিয়া হবে “নজিরবিহীন”। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি আবারও ইরানে হামলার পথ বেছে নেয়, তবে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ “আকস্মিক ও তীব্র আঘাতের” মুখে পড়বে। শেকারচির ভাষায়, ইরান একটি দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা ও সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে। শান্তি আলোচনা অচলাবস্থায় ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে তেহরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত কোনও বড় ছাড় দিতে রাজি হয়নি। বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানকে মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখার অনুমতি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদের সামান্য অংশও ছাড় করতে রাজি হয়নি। একই সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য কোনও ধরনের ক্ষতিপূরণ নিয়েও ওয়াশিংটনের আগ্রহ নেই বলে দাবি তেহরানের। ইরানের দৃষ্টিতে এসব শর্ত “শান্তির প্রস্তাব” নয়; বরং কৌশলগত চাপ সৃষ্টির অংশ। মেহর নিউজ এজেন্সিও একই ধরনের অভিযোগ তুলে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে, যা তারা সামরিকভাবে অর্জন করতে পারেনি। ইরানের পাল্টা প্রস্তাব কী ছিল তেহরানের প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। বিশেষ করে, ইসরায়েলের লেবানন অভিযান বন্ধ, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানায় ইরান। এ ছাড়া বিদেশে অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্ত করার আহ্বানও ছিল ওই প্রস্তাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ যুদ্ধের শুরু থেকেই কার্যত সীমিত অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্পের নতুন হুমকি এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে উদ্দেশ করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “সময় ফুরিয়ে আসছে। তাদের খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্যথায় আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।” একই পোস্টে বড় অক্ষরে তিনি লেখেন, “সময় অত্যন্ত মূল্যবান।” এর আগে ট্রাম্প নিজের একটি ছবি পোস্ট করে সেটির ক্যাপশনে লিখেছিলেন, “এটি ছিল ঝড়ের আগের শান্ত অবস্থা।” ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ফোনালাপের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইরান। যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চীনের উদ্বেগ নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার কয়েক দিন আগেই চীন সফর শেষ করেন ট্রাম্প। সফরকালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও শি সরাসরি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি, তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের ভাষ্য, এটি এমন একটি যুদ্ধ “যা কখনও শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং যার অব্যাহত থাকারও কোনও যৌক্তিকতা নেই।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
ইরান সংকটে অচলাবস্থা

নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন কাঁটাতার তৎপরতা: মালদহে দ্রুত বেড়া নির্মাণ, ‘পুশ-ইন’ আশঙ্কায় উদ্বেগ

ইসরাইল

গাজা যুদ্ধের পর বিশ্বে সবচেয়ে নেতিবাচক ভাবমূর্তির দেশ ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রও নেমেছে ‘হুমকি রাষ্ট্র’ তালিকায়

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0