সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ যখন অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তখন পূবালী ব্যাংক থেকে একটি রুগ্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ কিনে নিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে ওই ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ কোটি টাকা। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ ঋণ বেড়ে ৩০ কোটি হয়েছে। ঋণের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করায় ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। খেলাপি হয়ে পড়ায় দুইবার ঋণ নবায়ন করিয়েছে। কিন্তু ব্যাংকের টাকা ফেরত দেয়নি।
বর্তমানে আবু নাসের বখতিয়ার অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান। এখন আবার তিনি মেসার্স চৌধুরী এন্ড কোম্পানী নামের হিমায়িত মৎস্য রফতানিকারী প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দিতে চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের ইচ্ছা আর নিজের সুবিধার বাস্তবায়নে কাজ করছেন চট্টগ্রামের সার্কেল মহাব্যবস্থাপক এ কে এম শামীম রেজা।
জানা গেছে, দীর্ঘ একদশক ধরে চট্টগ্রামের এ প্রতিষ্ঠানটির রফতানি কার্যক্রম বন্ধ। এমন প্রতিষ্ঠানকেই ঋণ দিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন অগ্রণী ব্যাংকের নয়া চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মেসার্স চৌধুরী এন্ড কোম্পানিকে ঋণ দিতে। এমনকি নিজ হাতে ফাইলে কাটাকাটি করে ঋণের টাকার পরিমাণ বাড়িয়েছেন। আর এসব অভিযোগ নিজ মুখে স্বীকারও করে নিয়েছেন চেয়ারম্যান। আপন দেশকে তিনি জানিয়েছেন, সববাধা ভেদ করেই এ খেলাপি প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণ দিতে চান তিনি।
অগ্রণী ব্যাংকে চৌধুরী এন্ড কোম্পানী লিমিটেডের বর্তমাণ ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি টাকা। গত ১৭ বছরে প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার পুনঃতফসিলের সুযোগ দিলেও ঋণের টাকা পরিশোধ করেনি। উল্টো নতুন করে ৪০ কোটি টাকা ঋণ পেতে তোরজোর চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ঋণটি পাইয়ে দিতে খেলাপি ঋণকে নিয়োমিত দেখানো হয়েছে চেয়ারম্যানের নির্দেশে। এটি ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী গুরুতর অনিয়ম।
এছাড়া ডিএমডি সহ কর্মকর্তারা পরিদর্শনে গেলে অন্য মালিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নিজের ব্যবসা হিসেবে দেখিয়েছেন। পরিদর্শক দলের একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য স্বীকার করেছেন। এমনকি চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি স্বীকার করেন, চৌধুরী এন্ড কোম্পানির ব্যবসা বন্ধ থাকায় এখানে ভাড়ায় অন্য প্রতিষ্ঠান চলছে।
অগ্রণী ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট শাখার কোন সুপারিশ বা প্রস্থাব ছাড়াই চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রামের সার্কেল জিএম মিলে এ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অথচ রফতানির মাধ্যমে চৌধুরী এন্ড কোম্পানির অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদক) তদন্ত করছে।
অগ্রণী ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, নতুন ঋণের জন্য ১৯৭৫ সালে নির্মিত ভবন ও ব্যবহার অযোগ্য যন্ত্রপাতি জামানত হিসেবে দিচ্ছে এ গ্রাহক।
যেভাবে অগ্রণী ব্যাংকে ঢুকল চৌধুরী এন্ড কোম্পানী
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখায় চৌধুরী এন্ড কোম্পানী (বিডি) লিমিটেডের অনুকূলে সর্বপ্রথম ২০০৭ সালের ২৪ জানুয়ারি ১২ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। এ ঋণের মধ্যে পূবালী ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানটির দায়দেনা টেক-ওভার করা হয় ৮ কোটি টাকার। বাকি ৪ কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসাবে বিতরণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি পূবালী ব্যাংকে থাকা অবস্থায় রুগ্ন ছিল।
পূবালী ব্যাংক থেকে ঋণটি টেক-ওভারের সময় বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের ব্যাংকের এমডির দায়িত্বে ছিলেন। তার তত্বাবধানেই রুগ্ন গ্রাহককে বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছিল।
এদিকে অগ্রণী ব্যাংকে এ ঋণের সীমা দিন দিন বেড়েছে। ঋণগ্রহীতার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ৫ এপ্রিল ১২ কোটি টাকার ঋণসীমা ১৮ কোটি টাকায় বর্ধিত করা হয়। যা সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর মেয়াদে নবায়ন করা হয়েছিল।
বর্ধিত ৬ কোটি টাকা ঋণ দ্বারা ওই গ্রাহক মাত্র ৩ কোটি টাকার মাছ রফতানি করে। বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছিল বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। বন্ধ প্রতিষ্ঠান মেসার্স চৌধুরী এন্ কোং লিমিটেডের অনুকূলে ২৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা ঋণ প্রদানের বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়েছিল দুদকে। ২০১৫ সালেল ৩১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্য উপান চাওয়া হয় ব্যাংকের কাছে।
এ ঋণটি অনুমোদন থেকে বিতরণ পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যাতে অনিয়মের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। এরপরও সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৭ মে ১৮ কোটি টাকা ঋণসীমা ২৫ কোটি টাকায় বর্ধিত করা হয়।
পূবালী ব্যাংক থেকে টেক-ওভার করার চৌধুরী এন্ড কোম্পানির অনুকূলে তিন দফায় মোট ১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা চলতি মূলধন ঋণ বিতরণ করা হয়। ঋণগ্রহীতা ঋণের টাকা যথাযথভাবে ব্যবসায় বিনিয়োগ না করে ফান্ড ডাইভার্টের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায় মর্মে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি নথি গেছে। এতে বলা হয়েছে, মেসার্স চৌধুরী এন্ড কোম্পানী একটি ১০০% হিমায়িত মৎস্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান। মঞ্চজুরীকৃত ১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার হিমায়িত মৎস্য রফতানি করা হলে রফতানি মূল্য বা এক্সপোর্ট প্রসিড আসেনি। ঋণগ্রহীতা ফান্ড ডাইভার্ট করে টাকা আত্মসাৎ করায় বর্তমানে ঋণ হিসাবে ২৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা দায়স্থিতি রয়ে গেছে।
এদিকে নতুন করে ৪০ কোটি টাকা ঋণের জন্য গ্রাহকের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্রেডিট ডিভিশন-২ এর প্রকৌশলীরা কারখানা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের ভিত্তিতে গত ৩ অক্টোবর একটি রিপোর্ট দিয়েছেন তারা। উক্ত রিপোর্টে কারখানার যন্ত্রপাতি ১৭ বছরের পুরাতন এবং প্রায় ব্যবহারের অযোগ্য মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ এবং বর্তমানেও ঋণগ্রহীতার ব্যবসা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ আছে মর্মে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
পরিদর্শন টিমের ‘না’, চেয়ারম্যানের ‘হ্যা’
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মেসার্স চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানীকে নতুন ঋণ দেয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠাতে আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখার কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন সার্কেল জিএম শামিম রেজা। শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ফয়ছল মোর্শেদ, চট্টগ্রাম সার্কেলের উপ-মহাব্যবস্থাপক সফিউল আজম ও আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখার এসপিও মোহাম্মদ শাহজাহানকে দুই বার প্রধান কার্যালয়ে ডেকে এনে রীতিমতো শাসিয়েছেন তিনি।
এদিকে গত ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ক্রেডিট কমিটির সভায় শাখার প্রস্তাব ছাড়াই ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবু নাসের বখতিয়ার এ মেমো কাটাকাটি করে ৫ কোটির পরিবর্তে ৮ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করেন৷
অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, পরিচালনা পর্ষদের কোন চেয়ারম্যান নিজ হাতে কাটাকাটি করে ক্রেডিট কমিটির মেমো সংশোধন করেছেন- এমন নজির অগ্রণী ব্যাংকের ইতিহাসে নাই। অথচ বর্তমান চেয়ারম্যান ঋণগ্রহীতাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণসুবিধা প্রদানের জন্য নিজ হাতে কাটাকাটি করে ক্রেডিট কমিটির মেমো সংশোধন করেছেন। কর্মকর্তা বলেন, দ্রুততার সঙ্গে একটি মৃত প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ অনুমোদন প্রচেষ্ঠার রহস্য কি? কোনো ভালো গ্রাহকের ঋণ প্রস্তাবও এত দ্রুততার সঙ্গে পর্ষদ সভায় উপস্থাপিত হয় না।
অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের বক্তব্য
এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, আমি চৌধুরী এন্ড কোং লিমিটেডকে টেকওভার করতে সহায়তা করেছি। তখন আমি এ ব্যাংকের এমডি ছিলাম। তিনি বলেন, ব্যাংক চাইলে একটি প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে আবার চাইলে পথেও বসাতে পারে। গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক কারণেই অনেক প্রতিষ্ঠানকে বেকায়দায় ফেলা হয়েছে। তারমধ্যে মেসার্স চৌধুরী অ্যান্ড কোং লিমিটেডে একটি।
তিনি সাফ বললেন, যে যাই বলুক আমি এ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিতে চাই। রাজনৈতিক কারণে বিগতদিনে আরও যেসব প্রতিষ্ঠান খেলাপি হয়েছে তাদেরকেও ঋণ দেব। এ সময় তিনি পারটেক্স বেভারেজ-এর এমডি রুবেল আজিজের নাম উল্লেখ করে বলেন, উনিও খেলাপি, তারপরও তাকে আমি ঋণ দেব…।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
ডলারের দাম বাড়ার ফলে বাংলাদেশে আমদানি ও রপ্তানি খাতে দেখা দিচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে আমদানিকারকরা পড়ছেন চাপের মুখে, অন্যদিকে রপ্তানিকারীরা কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন। আমদানি খাতে ডলারের দর বাড়ায় বিদেশ থেকে পণ্য আনতে খরচ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জ্বালানি, ভোজ্যতেল, কাঁচামাল, ওষুধের উপাদান এবং প্রযুক্তিপণ্য—এসব আমদানিতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ব্যাংকগুলো ডলার সংকটে ভুগছে, ফলে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে এবং অনেক সময় ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাজারে — পণ্যের দাম বাড়ছে, মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, রপ্তানির ক্ষেত্রে ডলার মূল্য বৃদ্ধির ফলে রপ্তানিকারকরা প্রতি ডলারে বেশি টাকা পাচ্ছেন। এতে তাদের আয় কিছুটা বাড়ছে, যা রপ্তানি খাতকে কিছুটা চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে ডলারের দরবৃদ্ধি একটি প্রণোদনার মতো কাজ করছে। তবে এর একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে — আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অনেক সময় অর্ডারের মূল্য সমন্বয় করে দেয়, ফলে অতিরিক্ত লাভ সবসময় নিশ্চিত হয় না। রেমিট্যান্স প্রেরকদের জন্যও ডলারের দাম বাড়া স্বস্তির খবর। প্রবাসীরা এখন প্রতি ডলারে বেশি টাকা পাচ্ছেন, ফলে ব্যাংক চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে, যদিও আমদানি ব্যয় এখনও বেশি থাকায় চাপে রয়েছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে রপ্তানি ও রেমিট্যান্সকে উৎসাহ দিচ্ছে, অন্যদিকে আমদানির চাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে নানা নীতিগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিয়ন্ত্রিত বিনিময় হার ব্যবস্থা বা managed floating system এর মাধ্যমে ডলারের বাজারে ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে। ডলারের দাম বৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। আমদানিকারকদের উচিত দীর্ঘমেয়াদি মূল্য চুক্তি ও বিকল্প উৎস নির্ধারণ করা। রপ্তানিকারকদের বাজার বৈচিত্র্য ও উৎপাদন দক্ষতায় নজর দেওয়া দরকার। একইসাথে সরকারের উচিত ডলার সংকট মোকাবিলায় কাঠামোগত সংস্কার ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আমদানিনির্ভর শিল্প ও সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ আরও বাড়বে। তাই এখনই প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা, সুচিন্তিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং রপ্তানি ও রেমিট্যান্সকে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে টেকসই করা।
বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence বা AI) প্রযুক্তির ব্যবহার বিস্ময়কর হারে বাড়ছে। তবে এর বিপুল সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা বিভ্রান্তি, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ। এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে এবং নীতিমালার আওতায় আনতে বিশেষজ্ঞরা এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত "এআই অ্যান্ড সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট" শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা বলেন, অতি দ্রুত এই প্রযুক্তির প্রসার ঘটলেও এর যথাযথ ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা এখনও প্রয়োজনীয় মাত্রায় পৌঁছায়নি। ভুয়া তথ্য ছড়ানোর আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই দিয়ে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও (ডিপফেইক), অটোমেটেড ভুয়া সংবাদ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্ট ইতিমধ্যেই সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক বলেন, "অনেকেই এখন বিশ্বাস করছে না কোন ছবি বা ভিডিও আসল। এর ফলে সত্য-মিথ্যার সীমা মুছে যাচ্ছে। রাজনীতি, আইন ও সামাজিক সম্প্রীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।" চাকরির বাজারে শঙ্কা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে অনেক শ্রমনির্ভর ও মধ্যম স্তরের পেশা অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হতে পারে। বিশেষ করে কল সেন্টার, কনটেন্ট লেখক, গ্রাফিক ডিজাইনার এবং হিসাবরক্ষণ পেশায় ঝুঁকি বাড়ছে। নীতিমালার ঘাটতি বাংলাদেশে এখনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন বা জাতীয় নীতিমালা নেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থাকলেও তা এআই-নির্ভর প্রযুক্তির গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তারা বলছেন, এখনই উচিত শিক্ষা, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক মহলে এআই ব্যবহারের রূপরেখা তৈরি করা। নৈতিক ও নিরাপদ এআই উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপদেরও একসঙ্গে কাজ করা জরুরি।
ঢাকা, ২৫ জুন ২০২৫ – জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে দিন দিন বেড়ে চলেছে খাদ্য নিরাপত্তা সংকট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বিস্তার, অনিয়মিত বৃষ্টি ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষিজ উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এক সমীক্ষায় জানিয়েছে, ২০২৪ সালে উপকূলীয় ১২টি জেলার মধ্যে অন্তত ৭টিতে ধানের উৎপাদন কমেছে ২০ শতাংশের বেশি। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, ভোলা ও খুলনার কিছু অঞ্চলে একাধিক মৌসুমে চাষ সম্ভব হচ্ছে না। জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. ফারজানা রহমান বলেন, “উপকূলীয় মাটিতে লবণাক্ততার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ গুণ বেড়ে গেছে। এতে ধান, পাট, সবজি এমনকি মাছের চাষেও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ফলস্বরূপ এলাকার মানুষ বিকল্প জীবিকার সন্ধানে স্থানান্তর হচ্ছে।” স্থানীয় চাষিরা বলছেন, আগে যেখানে বছরে তিনবার ফসল হতো, এখন একবারও সঠিকভাবে ফসল ঘরে তোলা যাচ্ছে না। অনেকেই জমি ফেলে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা উপকূলীয় মানুষের জীবনে নতুন করে আঘাত হানে। ২০২৫ সালের মে মাসেই ঘূর্ণিঝড় ‘নির্মল’-এর আঘাতে বরগুনা ও পটুয়াখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে বহু কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে পড়ে এবং মিষ্টি পানির পুকুরে লবণাক্ত পানি ঢুকে যায়। পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার ২০২৫–৩০ সময়কালের জন্য একটি ‘জলবায়ু সহনশীল কৃষি কর্মপরিকল্পনা’ তৈরি করেছে, যার আওতায় উপকূলীয় কৃষকদের লবণসহিষ্ণু ফসল চাষে উৎসাহিত করা হবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড উপকূলবর্তী এলাকায় নতুন করে বাঁধ নির্মাণ ও পুরাতন বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করেছে, যাতে জোয়ারের পানি কৃষিজমিতে প্রবেশ না করতে পারে। তবে গবেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগগুলো কার্যকর করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরণের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, যদি জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় কৃষিজ উৎপাদন আরও ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের শঙ্কা নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তব ও প্রতিদিনকার চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ইজারা নিয়ে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। ফের রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি, ১৬ কর্মচারীর বদলিসহ শাস্তি প্রত্যাহার, বন্দরের স্বার্থ-বিরোধী কোনো চুক্তি না করা এবং ডিপি ওয়ার্ল্ড নামের প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে আনা যাবে না দাবি এমন দাবি জানিয়ে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এ সময় বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে, থেমে আছে পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও।এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি কোম্পানিকে চট্টগ্রামের নিউমোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা থেকে আপাতত সরে আসছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তবে চুক্তির আলোচনা চলমান থাকবে। অন্যদিকে এম সাখাওয়াত হোসেন রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, লাগাতার কর্মবিরতি দমনে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। ন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন, এই সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না। তারা আমাদের কাছে একটু সময় চেয়েছেন। কিন্তু আমাদের হাতে মাত্র ২টি কার্যদিবস বাকি আছে। তাই এ সময়ের মধ্যে হচ্ছে না। আশিক চৌধুরী বলেন, ‘প্রজেক্টটা ২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল। গত এক মাসে ফাইনাল বোঝাপড়ার ধাপটা শুরু হয়েছিল। যা এখনো চলমান। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে। যা চলমান থাকবে। এটা সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।’ আশিক চৌধুরী জানান, এনসিটি ইজারা প্রসঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তারা একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে তারা আলোচনা বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে চুক্তির শর্ত পর্যালোচনা করতে তাদের আরো কিছু সময় লাগবে। সেক্ষেত্রে আলোচনা চলমান থাকলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া এখনো সময় সাপেক্ষ। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, যেহেতু আমাদের হাতে আর দুই কার্যদিবস সময় আছে। তাই আশা করছি এ আলোচনা এ সরকার পার হয়ে, নির্বাচন পার হয়ে আগামী দিনেও চলমান থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে এটি ফলপ্রসূ হবে। এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট চলতে দেওয়া যায় না উল্লেখ করে নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। কতিপয় লোক পুরো বন্দরকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে। আর কয়েকদিন পরে রোজা। আমরা প্রতিনিয়ত নদীতে অভিযান চালাচ্ছি। বহির্নোঙরে পড়ে আছে ছোলা, ডাল ও তেল। ১৮ কোটি মানুষকে তারা (ধর্মঘটকারীরা) জিম্মি করেছে। এটা চলতে দেওয়া যায় না। সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে ধরা হয়েছে, বাকিদেরও ধরা হবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামান রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দাবি করেন, সেখানকার অবস্থা স্বাভাবিক। শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনি ব্যবস্থা নেবে। তবে সরেজমিনে দেখা যায়- রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন। বিভিন্ন জেটিতে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে, থেমে আছে পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও। সকাল থেকে বন্দরের ভেতরে কোনো ধরনের ট্রেলার বা পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন প্রবেশ করেনি। আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন আন্দোলন দমাতে ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে। বন্দর ও আশেপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্য মোতয়েন রয়েছে। সংগ্রাম পরিষদের দুজনকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন বলেন, সকাল থেকেই আমাদের ধর্মঘট চলছে, কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে শতভাগ সমর্থন দিয়ে কাজে যোগ দেননি। আন্দোলন দমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামে আমাদের দুজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়েছে বলে খবর পেয়েছি। এনসিটি পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে তারা বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে যান। গত মঙ্গলবার থেকে সংগ্রাম পরিষদ লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। তার সঙ্গে বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ দুইদিনের জন্য তাদের কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান অচলাবস্থা নিয়ে আবারও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ)। ইউরোচ্যাম জানিয়েছে, বর্তমানে ১৩ হাজার কনটেইনারে আনুমানিক ৬৬০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় আট হাজার কোটি টাকা) মূল্যের পণ্য আটকে আছে। ফলে রপ্তানিসূচি ভেঙে পড়ছে, পণ্য সময়মতো সরবরাহ করা যাচ্ছে না এবং লজিস্টিক খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোচ্যাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় চালু করার আহবান জানিয়েছে। এর আগে গত শনিবার ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। প্রধান উপদেষ্টাকে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর নেতারা এ উদ্বেগের কথা জানান।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ উপলক্ষে চারদিনের জন্য মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) মাধ্যমে লেনদেনে নতুন সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। লেনদেনের নতুন এই সীমা আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে কার্যকর হবে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত বহাল থাকবে। এই সময়ে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকরা দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন; এর বেশি লেনদেন করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে সীমা অনুযায়ী লেনদেন পরিচালনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অর্থ পাচার ঠেকাতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যাংক তথ্য প্রদানে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।