ঝালকাঠি জেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সেখানকার আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শংকর মুখার্জীকে গত ২৭শে ডিসেম্বর নিজ বাড়ি থেকে সাদা পোশাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। এর একদিন পর ২০২২ সালে দায়ের করা এক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।অভিযোগ করা হয়, তিনি বিএনপি অফিস হামলা-ভাঙচুরের সাথে যুক্ত ছিলেন।
তবে পরিবারের দাবি, বাজারে থাকা তাদের জমি-জমা দখল ও খামারের দখল নিতেই তার বিরুদ্ধে ওই মামলা দেওয়া হয়েছে। কারণ, ২০২২ সালে যখন মামলাটি করা হয় সেখানে মি. মুখার্জীর নাম ছিল না।
কেবল শংকর মুখার্জীই নয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নির্বিচার আটক যেমন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও তা জারি থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ – এইচআরডব্লিউ'র বার্ষিক প্রতিবেদনে।
এতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের শত শত নেতা, কর্মী ও সমর্থককে সন্দেহভাজন হত্যা মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে, যাদের মধ্যে আছেন অভিনয়শিল্পী, আইনজীবী এবং রাজনৈতিক কর্মীরাও।
অথচ বাংলাদেশের সংবিধানে এবিষয়ে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, বিনা বিচারে কাউকে আটকে রাখা যাবে না। তারপরও পরিস্থিতি না বদলের কারণ হিসেবে 'মব সহিংসতা করে বিচার ব্যবস্থাকে জিম্মি' এবং সরকারের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার দিকেই আঙ্গুল তুলছেন আইনজ্ঞরা।
বিনা বিচারে একজন ব্যক্তিকে কতক্ষণ আটক রাখা যেতে পারে?
শংকর মুখার্জীর মামলাটি পরিচালনা করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। 'মিথ্যা মামলা' উল্লেখ করে আদালতের কাছে দুইবার জামিন চাওয়া হলেও তা মঞ্জুর করা হয়নি বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের মানবাধিকারের নানা দিক নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন – ২০২৬'এ বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কিংবা প্রতিশ্রুত মানবাধিকার সংস্কারে ব্যর্থ হয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
জোরপূর্বক গুমসহ ভয়ভীতি ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি কমে এলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হাজার হাজার ব্যক্তিকে নির্বিচারে আটক করেছে এই সরকার।
অথচ বাংলাদেশের আইনে বিচার ছাড়া কাউকে 'এক মুহূর্তও' আটকে রাখা যায় না বলে বিবিসি বাংলাকে জানান আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
প্রয়োজন মনে হলে কাউকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে, তবে সেক্ষেত্রেও ২৪ ঘণ্টার বেশি হলে তাকে আদালতে পাঠাতে হবে।
"এমনিতে কাউকে আটক করার কোনো ক্ষমতা নাই তার বিরুদ্ধে মামলা না থাকলে বা আদালতের কোনো নির্দেশনা না থাকলে," বলেন মি. মোরসেদ।
বাংলাদেশের সংবিধানে আইন বহির্ভূতভাবে কাউকে আটকে রাখাকে স্পষ্টভাবে মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংবিধানের ৩৩ ধারায় বলা আছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব গ্রেফতারের কারণ না জানিয়ে আটক রাখা এবং তাকে তার আইনজীবীর সাথে পরামর্শ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
গ্রেফতার কিংবা আটক ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে এবং ম্য্যাজস্ট্রেটের আদেশ ছাড়া তাকে আটক রাখা যাবে না।
কিন্তু বিদেশি শত্রু এবং নিবর্তনমূলক আইনের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। তবে সেক্ষেত্রেও আবার এমন ব্যক্তিকে ছয় মাসের বেশি আটকে রাখতে হলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদমর্যাদার দুইজন এবং প্রবীণ সরকারি কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত পর্ষদের অনুমতি প্রয়োজন হবে।
এছাড়াও সংবিধানের ১০২ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারা অনুযায়ী, আইনের বাইরে কিছু হলে সুপ্রিম কোর্ট নিজে অথবা কেউ যদি নিজে কোনো আবেদন নিয়ে আসে – উভয় ক্ষেত্রেই যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে কোনো ব্যক্তির মুক্তি নিশ্চিতের ক্ষমতা আদালতকে দেয়া হয়েছে।
গ্রেফতার হবার পর আইন অনুযায়ী ব্যক্তির জামিন পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু "সেটা অহরহ ভঙ্গ হচ্ছে, আগেও ভঙ্গ হয়েছে, এখন ব্যাপক আকারে দেখা দিয়েছে", বলছিলেন মি. মোরসেদ।
ফলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনে নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হলেও বাস্তবিকভাবে তার বিপরীত দৃশ্যই সামনে আসছে। বরং পতিত আওয়ামী লীগ আমলের চেয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আরও বেড়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
দেদারসে চলছে মামলা বাণিজ্য
সংবিধান সমুন্নত রাখার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের। ফলে সংবিধানে উল্লিখিত মানবাধিকার লঙ্ঘন হলেও 'সুপ্রিম কোর্ট এবিষয়ে যথেষ্ট সক্রিয় নয়' বলেই মনে করছেন আইনজীবীরা।
মামলা নিয়ে গেলে বিচারকদের তা শুনতে অনীহা প্রকাশ এবং "হাজার হাজার মামলা হলেও লিস্টে আসছে অল্প কিছু সংখ্যক, এ ব্যবস্থাটা করা হয়েছে – যার ফলে এই দায় বা দায়িত্ব বিচার বিভাগের ওপর দেওয়া হয়েছে, সেই বিচার বিভাগও এখানে ব্যর্থ হয়েছে এই মানুষগুলোর অধিকার রক্ষা করার জন্য", বলছিলেন মনজিল মোরসেদ।
তার কারণ হিসেবে 'মব' আর সরকারের ভূমিকা – এই দুইটি বিষয়কেই সামনে আনছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।
তারা অভিযোগ করছেন, ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে বিচারকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে।
একদিকে সরকার হস্তক্ষেপ করছে, অন্যদিকে "মব করে বিচারকদের ওপরে আক্রমণ করা হয়েছে। বিচারকদের অপসারণ করা হয়েছে", বলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
একই কথা বলছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিকও। "বিচারকদের যে এত বরখাস্ত করা হলো, বিচারকরদের মধ্যে একটা চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে"।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ছোটো কোনো ঘটনাতেও যেমন আশেপাশের বিএনপির একশো-দুশো নেতা কর্মীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হতো "বর্তমান আমলে এসে সেটা আরও বেড়ে গেছে। কারণ পুলিশ অজ্ঞাতনামায় ফাঁসিয়ে দিয়ে বলবে এই মামলায় আপনার নাম ঢুকায় দেবো, আমাকে পয়সা দেন"।
আর এখানেই সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল যে, একটি অপরাধের অভিযোগ করতে গিয়ে অনেক বেশি মানুষের নাম যখন মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই 'এবসার্ড' বা অর্থহীন কাজকে না থামানো।
শাহদীন মালিকের মতে, পুলিশের দায়িত্ব ছিল 'প্রিলিমিনারি প্রবাবিলিটি যাচাই করা। "ওইটা পুলিশ করে নাই কারণ নাম বাদ দিয়ে দিলে তো তার ব্যবসা কমে যাবে"।
মামলা বাণিজ্যে ভুক্তভোগীদের হয়রানির কথা বলছিলেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটনও।
তার মতে, যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, তারা আসলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করছে, জনগণের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন না"।
তার ওপর পাঁচই অগাস্টের পর যে মব সন্ত্রাস দেখা গেছে, যার ফলে কিছু মানুষ কাউকে বা কোনো দলকে আটক করে পুলিশের হাতে দিচ্ছে, "এবং পুলিশ তখন বাধ্য হচ্ছে মবের কাছে নতি শিকার করে মামলা নিতে বা তাদের আটক করতে"।
এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের যে ধরনের বার্তা দেওয়া প্রয়োজন ছিল, তা দিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে বলেও মনে করেন মি. লিটন।
তবে আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীদের এসব অভিযোগের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের মানবাধিকারের নানা দিক নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন – ২০২৬'র তথ্যমতে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নির্বিচার আটকের ধারা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়াও নারী ও ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে আশঙ্কাজনক হারে রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বাইরের গোষ্ঠীর মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশি মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে, ২০২৫ সালের জুন থেকে আগস্টের মধ্যে মব সহিংসতায় অন্তত ১২৪ জন নিহতের খবর উঠে এসেছে।
'অপারেশন ডেভিল হান্ট' অভিযানের আওতায় অন্তত আট হাজার ৬০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মতপ্রকাশ দমনে অতীতে ব্যবহৃত দমনমূলক দুটি আইন—বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনেও আরও বহু মানুষ গ্রেপ্তার হয়ে থাকতে পারেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত বছরের জুলাইয়ে গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে ঘটা সহিংসতায় পাঁচজন নিহত হন।
এরপর পুলিশ নির্বিচারে শত শত কথিত আওয়ামী লীগ সমর্থককে আটক করে এবং আট হাজার ৪০০'র বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১০টি হত্যা মামলা দায়ের করে, যাদের বেশিরভাগই অজ্ঞাতনামা।
যদিও সরকার এই 'গণগ্রেফতার'-এর অভিযোগ অস্বীকার করে।
অক্টোবরে প্রকাশিত মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের বরাত দিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে নির্যাতনের ফলে ১৪ জনের মৃত্যু হবার অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে এ-ও বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতায় আহত হয়েছেন প্রায় আট হাজার মানুষ আর নিহত হয়েছেন ৮১ জন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
ইরানের হামলায় ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবের একটি সড়কে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রকাশ্যে এসেছে ধ্বংসযজ্ঞের ছবিও। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আলজাজিরার লাইভ আপডেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। লাইভ সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলের তেল আবিব এলাকার একটি অংশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। একটি স্থানে দেখা যায়, জরুরি কর্মী ও পুলিশ ভাঙাচোরা ধ্বংসাবশেষে ভরা একটি ব্যস্ত রাস্তায় জড়ো হয়েছেন। সেখানে বেশ কয়েকটি গাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—একটি গাড়ি উল্টে পাশের দিকে পড়ে আছে এবং অন্য কয়েকটি গাড়ি মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরাইল সংঘাতে তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং কিছু স্থানে ভবন ও যানবাহনের ক্ষতি হয়েছে। আরও একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। বিমানটি মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েতে বিধ্বস্ত হয়েছে দাবি করে প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ফুটেজটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বিমান ধোঁয়া ও আগুন ছড়াতে ছড়াতে নিচের দিকে নামছে। পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। এর আগে গত রোববার (২২ মার্চ) একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণে হরমুজ দ্বীপের কাছে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার এই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবিগুলোকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে: ‘গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে ইরানি শাসকগোষ্ঠী সম্প্রতি ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে।’ আরও বলা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন মার্কিন বাহিনী ৮ হাজারেরও বেশিবার যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছে। ইরানের গুলিতে কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি।’ সেন্টকম আরও দাবি করেছে যে, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সমস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান সচল রয়েছে এবং ইরানের গুলিতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই মার্কিন বিমান ব্যাপক তৎপর রয়েছে। এর আগে মার্চের শুরুর দিকে কুয়েতের আকাশে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, এটা ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ারের’ কারণে ঘটেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায় যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত বিমানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। তবে ছয়জন ক্রু সদস্যই নিরাপদে ইজেক্ট করেন এবং স্থিতিশীল অবস্থায় সুস্থ হয়ে ওঠেন। কুয়েত এই ভুল স্বীকার করে এবং মার্কিন কর্মকর্তারা বৃহত্তর এই অভিযানে কুয়েতের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মূলত ইরান সংঘাতের তৃতীয় দিন ২ মার্চ কুয়েতের আল জাহরা বা অন্যান্য এলাকার কাছে এফ-১৫ বিমানগুলোকে বিধ্বস্ত হতে দেখা যায়। প্রকাশিত ফুটেজে বিমানের সর্পিল গতি এবং ইজেক্ট করার বর্ণনার সাথে মিলে যায় এবং তখন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়। কিছু বিশ্লেষক ও গণমাধ্যম মনে করছে যে, বর্তমান ভাইরাল ক্লিপটি হয়তো ইরানের নতুন কোনো বিমান ভূপাতিত করার প্রমাণ নয়, বরং এটি পূর্ববর্তী সেই ঘটনার নতুন কোনো দৃষ্টিকোণ বা পুনঃপ্রচারিত ভিডিও। ইরান একটি মার্কিন এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে, যেটি ইরানের আকাশসীমায় একটি অভিযানের সময় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর একটি আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে বলে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া অন্তত তিনটি ইসরাইলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। গত শনিবার (২১ মার্চ) ইরানের আইআরজিসি জানায়, তারা ইরানের মধ্যাঞ্চলের আকাশে একটি ইসরাইলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এটি ইসরাইলের তৃতীয় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান যা গত তিন সপ্তাহে ভূপাতিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘটিত ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৭০ জন নিহত হয়েছেন—যাদের বেশিরভাগই শিশু। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নতুন তদন্তে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, সোমবার প্রকাশিত এই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে শক্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। কী ঘটেছিল মিনাবে? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হঠাৎই ভয়াবহ বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ঘটনাস্থলেই বহু শিশু নিহত হয় এবং অনেকে গুরুতর আহত হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তদন্ত অনুযায়ী: স্কুলটি সরাসরি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় আশপাশের অন্তত এক ডজন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ৬–১২ বছর বয়সী শিশু এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে মর্মান্তিক বেসামরিক হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের স্যাটেলাইট চিত্র, ভিডিও ফুটেজ এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে—এই হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এই ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য: অত্যন্ত নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে প্রতিবেদনে বলা হয়, “বর্তমান সংঘাতে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে,”—যা হামলার উৎস নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। স্কুল না সামরিক লক্ষ্যবস্তু? তদন্তে উঠে এসেছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে যে স্থানটি চিহ্নিত করা হয়েছিল, সেটি আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি কমপ্লেক্সের অংশ ছিল। তবে: সাম্প্রতিক সময়ে সেটি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় শিশুদের নিয়মিত ক্লাস চলছিল কোনো সক্রিয় সামরিক উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি অ্যামনেস্টি বলছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলা চালিয়ে থাকে, তাহলে তা “গুরুতর অবহেলা” হিসেবে গণ্য হবে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে অ্যামনেস্টি। আইন অনুযায়ী: বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে হামলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু থাকলেও বেসামরিক ক্ষতি কমাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিতে হয় শিশুদের ওপর হামলা বিশেষভাবে গুরুতর অপরাধ অ্যামনেস্টির জ্যেষ্ঠ পরিচালক এরিকা গেভারা-রোসাস বলেন: “যদি লক্ষ্যবস্তুটিকে স্কুল হিসেবে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়, তবে এটি গোয়েন্দা ও পরিকল্পনার বড় ধরনের ব্যর্থতা।” তিনি আরও বলেন: “আর যদি জানা সত্ত্বেও হামলা চালানো হয়ে থাকে, তবে তা নির্বিচার হামলা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ।” যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধাপরাধ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচ্য: লক্ষ্যবস্তু বেসামরিক ছিল কি না হামলার সময় সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল কি না সামরিক প্রয়োজনীয়তা বনাম বেসামরিক ক্ষতির অনুপাত এই তিনটি ক্ষেত্রেই মিনাব হামলা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপট এই হামলাটি এমন এক সময় ঘটেছে, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে: এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেই শুরু হয়েছে আঞ্চলিক শক্ত
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের জেরে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি— ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি তাদের সামরিক অভিযানের অংশ, যার নাম ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’। হাইফার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার দাবি ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন হামলায় ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী হামলার লক্ষ্য ছিল— ইসরায়েলের হাইফা শহরের তেল ও গ্যাস শোধনাগার জ্বালানি মজুদ ট্যাংক তেলআবিবের কাছাকাছি একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ইরানি সামরিক বাহিনী বলছে, এই হামলা ছিল তাদের সামরিক অভিযানের ৩৩তম ধাপ। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে তা ইসরায়েলের শিল্প ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পাল্টা হামলার যুক্তি ইরানের সামরিক বাহিনী বলছে, তাদের তেল ডিপোতে ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে— “ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার জবাব দিতেই এই প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযান।” ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোও দাবি করছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল কৌশলগত অবকাঠামো, বেসামরিক এলাকা নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে আরেকটি ঘটনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের বিরুদ্ধে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে— দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে নাগরিক ও অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে যেকোনো হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত দেশটি এখনো পর্যন্ত কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে আরেকটি খবর। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানো শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী— গত কয়েক দিনে কয়েক ডজন নৌমাইন স্থাপন করা হয়েছে ইরানের মাইন স্থাপনকারী জাহাজের মাত্র ২০ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে চাইলে হাজার হাজার মাইন বসানোর সক্ষমতা রয়েছে এই তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে— বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয় প্রতিদিন কয়েক কোটি ব্যারেল তেল ও গ্যাস ট্যাংকার চলাচল করে যদি এখানে মাইন পাতা হয় বা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তবে— বৈশ্বিক তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট দেখা দিতে পারে গালফ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে বিপ্লবী গার্ডের হুঁশিয়ারি গত সপ্তাহে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) এক সতর্কবার্তায় বলেছিল— “হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো শত্রু জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে ধ্বংস করা হবে।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু সামরিক হুমকি নয়, বরং আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির কৌশলও হতে পারে। ইরানের নৌ সক্ষমতা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নৌবাহিনী এবং বিপ্লবী গার্ড যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। তাদের কাছে রয়েছে— নৌমাইন দ্রুতগতির আক্রমণ নৌকা উপকূলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন বোট এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে তারা খুব দ্রুত ওই অঞ্চলে বড় ধরনের নৌ অবরোধ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের উদ্বেগ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে— গালফে মার্কিন নৌবহর কাতার ও বাহরাইনে সামরিক ঘাঁটি সৌদি আরব ও আমিরাতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই কারণে হরমুজ প্রণালীতে কোনো সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে। তেলের বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত বাড়ে, তবে বৈশ্বিক তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে। সম্ভাব্য প্রভাবগুলো হলো— আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি,জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত,শিপিং বীমা খরচ বেড়ে যাওয়া,গালফ অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা? বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, উত্তেজনা দ্রুত বাড়লেও এখনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হয়নি। তবে তিনটি বিষয় পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে— সরাসরি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত গালফ রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি যদি এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলোচনার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে— ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্র গালফ সহযোগিতা পরিষদ তারা উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে— ১. সীমিত সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে পারে ২. কূটনৈতিক চাপ বাড়তে পারে ৩. গালফ অঞ্চলে নৌ নিরাপত্তা জোরদার হতে পারে তবে যদি হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।