Brand logo light
নির্বাচিত সংবাদ

৫০০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী সোনামসজিদ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
সোনামসজিদ
সোনামসজিদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামে অবস্থিত সোনামসজিদ ৫০০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মধ্যযুগীয় সুলতানি স্থাপত্যশৈলীর এই মসজিদ শুধু ইতিহাসপ্রেমী নয়, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী দেশি-বিদেশি পর্যটকদেরও এক অনন্য আকর্ষণ।

রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিশ্বরোড মোড় থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মসজিদে যাতায়াতের জন্য বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি বা অটোরিকশা সহজলভ্য।

মসজিদটি বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রি.) শাসনামলে নির্মিত হয়। প্রধান প্রবেশপথের শিলালিপি অনুযায়ী, জনৈক মজলিস-ই-মাজালিস মজলিস মনসুর ওয়ালী মুহাম্মদ বিন আলী এটি নির্মাণ করেন। যদিও ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ১৯০০ সালে ব্রিটিশ সরকার এটি পুনঃনির্মাণ করে। ইটের তৈরি মসজিদের ওপর পাথরের স্তর বসানো হয়েছে।

মসজিদটির বাইরের পরিমাপ ৮২ ফুট × ৫২.৫ ফুট, ভেতরের পরিমাপ ৭০ ফুট ৪ ইঞ্চি × ৪০ ফুট ৯ ইঞ্চি এবং উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট। এতে রয়েছে তিনটি মাঝারি গম্বুজ, পাশের দিকে ছয়টি করে গোলাকার গম্বুজ এবং তিনটি চৌচালা গম্বুজ—যা স্থাপত্যশৈলীতে অনন্য। চারদিকে চারটি অষ্টকোণাকৃতির বুরুজ, প্রবেশপথে তোরণ, দেয়ালে খোদাইকৃত পাথরের কারুকার্য এবং ইটের সজ্জা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর ও শহীদ মেজর নাজমুল হক টুলুর কবর, যা দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে।

পর্যটকরা এখানে এসে নামাজ আদায় ছাড়াও আশপাশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখেন। বগুড়ার কায়েস আলী বলেন, “ছোটবেলা থেকেই সোনামসজিদের গল্প শুনেছি, আজ নিজ চোখে দেখে খুব ভালো লাগলো।”
রাজশাহীর মাইনুল ইসলাম দিপু যোগ করেন, “ছোটবেলা থেকেই এখানে আসার ইচ্ছে ছিল। সবকিছু দেখে আনন্দিত হলাম।”

সোনামসজিদের আশপাশে রয়েছে দারাসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসা, খঞ্জন দিঘির মসজিদ, তহখানা কমপ্লেক্স, তিন গম্বুজ মসজিদ, শাহ নিয়ামতউল্লাহর মাজার ও ধনিয়াচক মসজিদ, যা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্র।

স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কে ভারী যানবাহনের গতিবেগের কারণে মসজিদে কম্পন অনুভূত হয়, যা স্থাপনাটিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, “পুরাতন মসজিদ কোনো ক্ষতি না হয়, সেই আশঙ্কা থাকেই।” শাহবাজপুর ইউনিয়নের কবির আলী জানান, পর্যটকরা সড়ক, টয়লেট ও বিশ্রামাগারের অভাবে সমস্যায় পড়েন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আসিফ জানান, “সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য ৪৮১ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান। মসজিদের সামনে ঢালাই ও উন্নত প্রযুক্তির কাঁচের দেওয়াল নির্মাণ করা হবে, যাতে কম্পনের কারণে কোনো ক্ষতি না হয়।”
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহার আলী বলেন, “সোনামসজিদসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

৫০০ বছরের গৌরবময় ইতিহাসের ধারক এই সোনামসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটনের এক উজ্জ্বল প্রতীক। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটি চিরকালই এক অপূর্ব দর্শনীয় স্থান হিসেবে সমাদৃত থাকবে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচিত সংবাদ

View more
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস
যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশে গণহত্যার স্বীকৃতির প্রস্তাব উত্থাপন

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ কংগ্রেসে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি তুলে নতুন একটি প্রস্তাব তোলা হয়েছে। গত শুক্রবার (২০মার্চ) কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান এই প্রস্তাবটি কংগ্রেসে উত্থাপন করেন।  এতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, লাখ লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া ও নারীদের ওপর চালানোর নির্যাতনের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এখন এটি পর্যালোচনার জন্য বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাবে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সঙ্গে করা বৈষম্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, একাত্তরে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি সেনাদের সরাসরি সহায়তা করেছিল, ফলে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলা হয়েছে।  পাকিস্তানি সেনারা বাংলাদেশের মানুষের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে সেটি উল্লেখ করে প্রস্তাবে বলা হয়েছে— সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বিখ্যাত ‘জেনোসাইড’ লেখাটি বা ঢাকার তৎকালীন মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাডের পাঠানো সেই ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’—সবই প্রমাণ করেয ওই সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অপারেশন সার্চলাইট নামে চালানো অভিযান ছিল ছিল একটি পরিকল্পিত গণহত্যা। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে দাবি জানানো হয়েছে যেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট একাত্তরের এই বীভৎসতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে যেন স্বীকৃতি দেন। সেই সাথে অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ইতিহাসকে সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে : জাতিসংঘ মহাসচিব

ট্রাম্প

ইরানের কৌশল: যুদ্ধ দীর্ঘায়িত, ব্যয় বাড়ানো ও ট্রাম্পকে অপসারণের চেষ্টা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী - ২০১৬ সালের ছবি

ইরান–ইসরায়েল সংঘাতে ভারতের নীরবতা : মোদী সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায়  তেহরানে
ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের বিবৃতি নিয়ে সমালোচনা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এছাড়াও এই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ উচ্চ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শুধুমাত্র তেহরানেই মারা গেছেন অন্তত ৫৭জন নাগরিক। এই ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শোক ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকও প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে শনিবার ইরান পাল্টা হামলা চালায় ইরান। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালায় ইরান। এমন অবস্থার মধ্যে রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে। যেখানে ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের 'কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে দাবি করে এর নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের এই বিবৃতিতে কোথাও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নামও উল্লেখ করা হয়নি। সেই সাথে ইরানে হামলার ঘটনায়ও কোনো নিন্দা জানানো হয়নি। রোববার সন্ধ্যায় ওই বিবৃতিটি প্রকাশের পর সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা যায়। এ নিয়ে মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে বিবিসি বাংলা। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন অবস্থানকে 'একপেশে' মনে করছেন কূটনীতিক বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকরা। সাবেক কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত ন্যায় সঙ্গত হওয়া উচিত ছিল। আমরা জানি না এই বিবৃতি কী কারো চাপে পড়ে দিয়েছে, নাকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজে থেকেই দিয়েছে"। এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে এই বিবৃতিতে এ-ও বলেছে, চলমান শত্রুতা কেবল আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বেসামরিক জনগণের কল্যাণকেও বিপন্ন করবে। যা আছে বাংলাদেশের বিবৃতিতে শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরই এর জবাব দিতে শুরু করে ইরান। প্রথম ইসরায়েল ও পরে মধ্যপ্রাচ্যের যে সব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সে সব ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান পাল্টা হামলা চালায়। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকও করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঐ অঞ্চলে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিও দেয়। সেখানে বাংলাদেশ সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা পরিহার এবং অবিলম্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানায়। রোববার ভোরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলে উত্তেজনা আরো বাড়তে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যে। বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার তীব্র প্রতিবাদও জানানো হয়। রোববার বিকেলে ঢাকায় বিক্ষোভ করে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীও। এই অবস্থার মধ্যে রোববার বিকেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনায় একটি বিবৃতি দেয়। এতে ইরানে হামলার পর সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সতর্ক করে এই বিবৃতিতে বলেছে, চলমান শত্রুতা কেবল আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বেসামরিক জনগণের কল্যাণকে বিপন্ন করবে। দেশটি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং মতপার্থক্য নিরসনের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ এই অঞ্চলের কিছু দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দাও জানায় বাংলাদেশ। কূটনীতিক বিশ্লেষকেরা কী বলছেন? মূলত এই বিবৃতির পরই এ নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা তৈরি হয় বাংলাদেশে। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কূটনীতি বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের সংবিধানেই বলা আছে দেশের অবস্থান হবে যে কোনো ধরনের আগ্রাসন বিরোধী। কিন্তু এই ইস্যুতে বাংলাদেশ বেশ সতর্ক অবস্থানে থেকেছে বলেও মনে করছেন কূটনীতিক বিশ্লেষকরা। সাবেক কূটনীতিকদের কেউ কেউ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিকে একপেশে বলে বর্ণনা করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, "সংবিধান বলছে আগ্রাসনের বিরোধিতা করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের পক্ষে থাকতে হবে। একই সাথে কেউ যদি অবৈধভাবে বলপ্রয়োগ করে তার বিরুদ্ধেও অবস্থান থাকা উচিত"। তিনি মনে করেন, এই ইস্যুতে বর্তমান সরকারের উচিত ছিল বিবৃতিতে সব পক্ষের নাম উল্লেখ করা। একই সাথে দুই পক্ষের হামলার নিন্দা জানানো। কিন্তু সেটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করেনি। চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন মুন্সি ফয়েজ আহমেদ, তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সম্প্রতি যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে ইরান আগে আক্রান্ত হয়েছে। ইরানে আগ্রাসন চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যখন ইরান আক্রান্ত হয়েছে, তখন জবাব দিয়েছে তারা। তিনি বলছিলেন, যখন মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইরানে হামলা হয়ে থাকে, ইরান যখন আক্রান্ত হচ্ছে, তখন অবশ্যই তার অধিকার আছে তা প্রতিহত করার। 'বাংলাদেশের এই বিবৃতি কারো চাপে পড়ে দিয়েছে কী-না,' এই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আগ্রাসন তো আগে চালিয়েছে ইসরায়েল- যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন এমন অবস্থান নিচ্ছে সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে যে ধরনের বক্তব্য আশা করেছিলাম সে ধরনের বক্তব্য পাই নি"। একজন বাংলাদেশিসহ নিহত তিনজন ইরানের পাল্টা হামলায় দুবাই এয়ারপোর্ট, কাতার, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোববারও ইরান ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলা চালাতে দেখা গেছে। ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আরব আমিরাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এই হামলায় একজন বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও নেপালি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন অন্তত ৫৮ জন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ১৬৫ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে এবং এগুলোর মধ্যে ১৫২ টি ধ্বংস করেছে। এছাড়াও দু্ইটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

দরিদ্র পরিবার থেকে যেভাবে ক্ষমতার শীর্ষে উঠে এসেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কে?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

খামেনির মৃত্যু হলে থমকে যাবে না ইরান

ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইউক্রেন থেকে মধ্যপ্রাচ্য: ইরানের ড্রোন কৌশল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভুল হিসাব কি বড় যুদ্ধের ইঙ্গিত?

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহৃত ইরানি ‘শাহেদ’ ড্রোন যখন প্রথম বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে, তখন পশ্চিমা বিশ্ব একে তুলনামূলকভাবে কম খরচের একটি ‘উপদ্রব’ অস্ত্র হিসেবেই দেখেছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই ড্রোনই এখন তেহরানের সামরিক কৌশলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসি -এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের এই কৌশলগত রূপান্তরের ভাষা বুঝতে ওয়াশিংটন গুরুতর ভুল করছে—যার ফল হতে পারে একটি অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক যুদ্ধ। উত্তেজনার পুনরুত্থান ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী সংঘাতের পর পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চুক্তিতে ফেরার জন্য সীমিত সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে তেহরান প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘কারবালা’র আদর্শে চূড়ান্ত প্রতিরোধের। পশ্চিমা কৌশলগত ধারণা ছিল—অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা এখন ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। ‘শাহেদ’ ড্রোন: সস্তা অস্ত্র, বড় প্রভাব ‘শাহেদ’ সিরিজের ড্রোন কম খরচে উৎপাদনযোগ্য, সহজে মোতায়েনযোগ্য এবং সমন্বিত আক্রমণে কার্যকর। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে ইরান ইসরায়েলের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে স্বল্পমূল্যের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ইরানের সক্ষমতা বেড়েছে। দুই ভিন্ন কৌশলগত ভাষা ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে সামরিক চাপ হলো কূটনৈতিক দর-কষাকষির একটি হাতিয়ার। কিন্তু ইরানের কাছে এটি আদর্শিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্প্রতি ‘কৌশলগত সংযম’ থেকে সরে এসে ‘কারবালার লড়াই’-এর ভাষা ব্যবহার করছেন। শিয়া রাজনৈতিক দর্শনে ‘কারবালা’ মানে অন্যায়ের কাছে নতিস্বীকার না করে আত্মত্যাগের পথ বেছে নেওয়া। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘সীমিত হামলা’র পরিকল্পনাও করে, তেহরান সেটিকে অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। প্রক্সি শক্তির অনিশ্চিত প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা—ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো যেমন হিজবুল্লাহ , হুথি কিংবা কাতাইয়িব হিজবুল্লাহর মতো দুর্বল হয়ে পড়ায় ঝুঁকি কমেছে। কিন্তু সমরবিদদের মতে, অস্তিত্ব সংকটে পড়া পক্ষ প্রায়ই আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ইরানের ওপর সরাসরি হামলা হলে এসব গোষ্ঠী কেবল তেহরানকে রক্ষার জন্য নয়, নিজেদের শক্তি ও প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণের লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে পারে। উত্তরাধিকার রাজনীতি ও কট্টরপন্থার সম্ভাবনা পশ্চিমা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, খামেনি-পরবর্তী ইরান হয়তো নরম নীতি গ্রহণ করবে। কিন্তু তেহরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় থাকা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস ইতোমধ্যে সম্ভাব্য উত্তরাধিকার পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে—যা আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সীমিত হামলা ইরানের কট্টরপন্থি অংশকে আরও ঐক্যবদ্ধ করে তুলতে পারে। ‘নিয়ন্ত্রিত হামলা’ না অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ? প্রুশীয় সমরবিদ ক্লজউইৎস বলেছিলেন, “যুদ্ধে সব কিছুই খুব হজ, কিন্তু সহজ বিষয়গুলোই করা সবচেয়ে কঠিন।” ওয়াশিংটনের মানচিত্রে যা একটি ‘নিয়ন্ত্রিত হামলা’ বলে মনে হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল বাস্তবতায় তা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের আদর্শিক ও কৌশলগত ভাষা সঠিকভাবে বুঝতে পারছে? নাকি ভুল ব্যাখ্যা ও পারস্পরিক অবিশ্বাস মধ্যপ্রাচ্যকে আরেকটি বিস্তৃত যুদ্ধে ঠেলে দেবে? বিশ্ব রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায় নির্ভর করছে এই কৌশলগত বোঝাপড়ার ওপরই।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে বিদেশে স্টেশন ম্যানেজার পদায়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর:গোপনীয়তা ও তদারকিতে বিতর্ক

বরিশাল আদালত ভাঙচুর -আইনজীবী গ্রেফতার

বরিশাল আদালতে ভাঙচুর : ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা,আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকন কারাগারে

অর্থনীতি

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ৪৭ ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র

বাংলাদেশে ৪৭টি তেল-গ্যাস ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র শিগগির: এলএনজি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0




অপরাধ

বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা  দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0