রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান Press Institute of Bangladesh (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পিআইবি থেকে অবসর গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পাওনা সংক্রান্ত বিষয় ঝুলিয়ে রেখে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং তারা অভিযোগ করছেন যে তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা নিষ্পত্তি না করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৪ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নীতিমালার বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে পিআইবির কর্মচারী ফরিদ আহমেদ-এর সঙ্গে অমানবিক আচরণের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এই অনিয়ম দুর্নীতি অবৈধ নিয়ম বিষয়ে কথা বলায়,মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে পিআইবির সিনিয়র পরীক্ষক পারভীন সুলতানা রাব্বিকে যড়যন্ত্র ও কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে বদলি করা হয়েছে এবং আলী হোসেনের সুনিশ্চিত কারণ ছাড়া অবসর দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হয়েছে বলেও জানা যায়। এভাবে অবসরপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গেই তিনি অনুরূপ আচরণ করে থাকেন। এছাড়াও, তিনি প্রায় ৩৪ জন লোককে পিআইবিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন। ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী: বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের অনিয়মের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে মহাপরিচালক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়ম ও লুটপাটের মহোৎসবে পরিণত করেছেন—এমন অভিযোগ বিভিন্ন মহলে উত্থাপিত হয়েছে। তাই দ্রুত তাকে অপসারনের দাবী জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। তিনি ডিজি পদে টিকে থাকার লক্ষ্যে তিনি নানামুখী তৎপরতা ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলেও জানা যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি রাখে।তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে, বিষয়টির প্রতি যাতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
দৈনিক দিনকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশকের পদ ছেড়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে যোগ দিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন। সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, সাংবাদিক, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’–এর আহ্বায়ক ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন দৈনিক দিনকালের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে যোগদান করেছেন।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হয় বিখ্যাত সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন ও অনলাইন বিজ্ঞাপন থেকে অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে কোম্পানিটি। গত বুধবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ২৬ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই–সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে ৪ লাখ ৬০ হাজার ডিজিটাল-অনলি সাবস্ক্রাইবার যুক্ত করেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিন মাসে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। গ্রাহকদের জন্য ‘মাল্টি-প্রোডাক্ট বান্ডেল সাবস্ক্রিপশন’ কৌশল সফল হওয়ায় এই প্রবৃদ্ধি এসেছে। বর্তমানে মোট গ্রাহকের অর্ধেকের বেশি একাধিক পণ্যের সাবস্ক্রিপশন ব্যবহার করছেন। নিউজ রিপোর্ট, কুকিং, গেমস, অয়্যারকাটার ও দ্য অ্যাথলেটিকসহ বিভিন্ন সেবায় নিউইয়র্ক টাইমসের মোট গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজারে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী মেরিডিথ কপিত লেভিয়েন বলেন, ব্যবহারকারী ও গভীরভাবে যুক্ত গ্রাহক বাড়ানোর সক্ষমতার বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী। তিনি আরও জানান, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ গ্রাহকসংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজস্ব ও মুনাফার চিত্র মোট রাজস্ব: ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৭০ কোটি ৮ লাখ ডলার পরিচালন মুনাফা: সমন্বিত পরিচালন মুনাফা ১৩ কোটি ১৪ লাখ ডলার বিজ্ঞাপন আয়: আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৮১ লাখ ডলার অ্যাফিলিয়েট ও লাইসেন্সিং আয়: মূলত অয়্যারকাটার থেকে আয় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলার ডিজিটাল এআরপিইউ: গ্রাহকপ্রতি গড় আয় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৭৯ ডলার—যার পেছনে মূল্য সমন্বয় ও প্রচারমূলক মূল্যের অবসান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ডিজিটাল কনটেন্টে গ্রাহক ঝুঁকে পড়ায় প্রিন্ট সাবস্ক্রিপশন কমছে। তৃতীয় ত্রৈমাসিকে প্রিন্ট গ্রাহক ৫০ হাজার কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭০ হাজারে। এ খাত থেকে প্রতিষ্ঠানের আয় কমেছে ৩ শতাংশ, যা এখন ১২ কোটি ৭২ লাখ ডলার। ২০২২ সালে ৫৫০ মিলিয়ন ডলারে কেনা দ্য অ্যাথলেটিক বহুদিন লোকসানে থাকলেও ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রথমবারের মতো লাভজনক হয়। তবে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এর পৃথক আর্থিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে পরিচালন ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। সেপ্টেম্বর শেষে নিউইয়র্ক টাইমসের হাতে নগদ অর্থ ও দ্রুত বিক্রয়যোগ্য সিকিউরিটিজ মিলে ছিল ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।
পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সংবাদপত্রের প্রচলন ক্রমেই কমছে। সর্বশেষ কয়েক বছরে অঞ্চলটিতে সংবাদপত্রের সার্কুলার ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুত বৃদ্ধি ও সরকারী সহায়তার অভাব একসময়ের সমৃদ্ধশালী খাতটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একসময় যা একটি প্রাণবন্ত ক্ষেত্র ছিল, আজ তা কম পাঠকসংখ্যা ও খরচ বৃদ্ধির কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিক্রেতা ও প্রকাশকরা জানিয়েছেন যে, সেই শিল্পখাতটি যা দশকের পর দশক ধরে হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা নিশ্চিত করত, এখন তার আগের পাঠকসংখ্যার কেবল এক ভগ্নাংশের ওপর টিকে আছে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে এই পেশায় কাজ করেছেন, তাদের মতে, করোনা মহামারির পর থেকে এ শিল্পের পতন শুরু হয়। তখন কাগজের দাম কয়েকগুন বৃদ্ধি ও সরবারহ ব্যবস্থা ভেঙে যাওয়ায় সংবাদপত্রের দাম বেড়ে যায়। সরকারের কাছে এ খাতটি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য অনুদান চেয়েও কোন সাড়া মিলেনি।ফলে কর্মীরা আর্থিক অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে বলেন, তাদের দৈনন্দিন আয় এখন আগের আয়ের চতুর্থাংশের থেকেও কমে গেছে। সংকটের কারণ হিসেবে জম্মু-কাশ্মীরের গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো সোশ্যাল মিডিয়ার আধিপত্য। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে এখন সংবাদপত্রের স্ক্যান করা কপি বিনামূল্যে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মুদ্রিত সংস্করণের পাঠক সংখ্যা সীমিত হয়ে গেছে। বাকি পাঠকের বেশিরভাগই ৫০ বছরের ওপরে, আর সরকারি অফিসগুলো একমাত্র বড় প্রতিষ্ঠানগত গ্রাহক হিসেবে টিকে আছে। সার্কুলেশন কমার বিষয়টি সংবাদপত্র বিক্রেতাদের জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, শিক্ষার খরচ এবং স্বাস্থ্যসেবা এখন বিলাসিতা হয়ে গেছে, এমনকি মাসিক ভাড়া জোগাতেও পরিবারগুলো হিমশিম খাচ্ছে। মুজাফফরাবাদ ও আশেপাশের অঞ্চলের কয়েকজন পত্রিকা বিক্রেতা জানিয়েছেন, তারা বারবার সংবাদপত্র ব্যবসা চালু রাখতে প্রেস সহায়তা তহবিলের জন্য আবেদন করেছেন, কিন্তু এখনও এমন কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরজুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ পত্রিকা সরবারহ কমে গেছে। কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, জরুরি সংস্কার ছাড়া শিল্পটি টিকে থাকতে নাও পারে।
আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রত্যাহার এবং ২০২১ সালের আগস্টে তালেবানদের পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর আফগানিস্তানের একসময়কার বৈচিত্র্যময় ও সক্রিয় গণমাধ্যমখাত কার্যত ভেঙে পড়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং সেন্সরশিপের চাপে শত শত গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে গেছে, কর্মহীন হয়েছেন হাজারো সাংবাদিক। এই শূন্যতার সুযোগেই আফগানিস্তানে দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে বিস্তৃতি ঘটাচ্ছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ২০২১ সালের পর থেকে আফগানিস্তানে চীনের মিডিয়া উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টিএর সঙ্গে কথা বলা একাধিক আফগান সাংবাদিক জানিয়েছেন, চীনা গণমাধ্যমগুলো মূলত এমন সব সংবাদ ও ডকুমেন্টারি তৈরি করছে, যা বেইজিংয়ের ‘ইতিবাচক ভূমিকা’ তুলে ধরে; অথচ দারিদ্র্য, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দমন-পীড়ন কিংবা সাধারণ মানুষের দুর্দশার মতো বিষয়গুলো সচেতনভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে। কাবুলে কর্মরত এক আফগান সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের বলা হয় কেবল ইতিবাচক বিষয় নিয়ে কাজ করতে—যাতে তালেবান সরকারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। মাঠে গেলে আমরা ক্ষুধা ও কষ্ট দেখি, কিন্তু সেসব গল্প প্রকাশ করতে দেওয়া হয় না। বাস্তবতাকে আড়াল করা হচ্ছে।’ চীনা গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের অন্য মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতেও নিষেধ করা হয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, নির্দেশ অমান্য করলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। তালেবান ক্ষমতার আগে চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) ও চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন)-এর আফগান কর্মীরা জানান, সে সময় চীনা কনটেন্টে আগের আফগান সরকারের দুর্বলতা, দুর্নীতি ও অস্থিরতার দিকগুলো জোর দিয়ে তুলে ধরা হতো—যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে সহায়তা করত। তালেবান শাসনের পর সেই কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে চীনা গণমাধ্যমগুলো আঞ্চলিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে, বিশেষ করে আফগানিস্তান–পাকিস্তান উত্তেজনা নিয়ে। একই সঙ্গে তালেবান নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম—যেমন বাখতার নিউজ এজেন্সির সঙ্গে যৌথ অনুষ্ঠান, কনটেন্ট আদান-প্রদান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চীনের বৃহত্তর ‘সফট পাওয়ার’ কৌশলের অংশ। পশ্চিমা গণমাধ্যম ও দাতা সংস্থাগুলো আফগানিস্তান থেকে সরে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেখানে চীন নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেখছে। জার্মানির লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হযরত বাহার বলেন, ‘বিদেশি গণমাধ্যমে বিনিয়োগ অনেক সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উদ্দেশ্যেই করা হয়। আফগান মিডিয়ার পতনের পর চীন এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে।’ গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বেসরকারি আফগান টিভি চ্যানেল ও মিডিয়া হাউস চীনা অর্থনৈতিক সহায়তা পেয়েছে। চায়না রেডিও ইন্টারন্যাশনালের (সিআরআই) পশতু সার্ভিস কাবুল ও কান্দাহারে নিয়মিত সম্প্রচার চালাচ্ছে এবং সামাজিক মাধ্যমে বিপুল অনুসারী তৈরি করেছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ও সিজিটিএন কাবুলে অফিস চালু রেখে ইংরেজি ভাষার কনটেন্ট তৈরি করছে। ভারতের থিঙ্ক ট্যাংক সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক প্রোগ্রেস (সিএসইপি)-এর ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন অর্থায়ন, কনটেন্ট অংশীদারত্ব এবং সাংবাদিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আফগান গণমাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করছে। লক্ষ্য একটাই—চীনকে একটি ‘স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে তুলে ধরা। তবে সাবেক আফগান সরকারের শেষ চীনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জাওয়েদ কাইম মনে করেন, চীনের ভূমিকা এখনো মূলত বাস্তববাদী। তার ভাষায়, ‘আফগানিস্তান চীনের কাছে অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে নিরাপত্তার দিক থেকে এটি আঞ্চলিক কৌশলের অংশ। চীন চায়, আফগানিস্তান থেকে কোনো হুমকি যেন তাদের সীমান্তে না আসে।’ এই অবস্থার বিপরীতে আফগানিস্তানের স্বাধীন গণমাধ্যম খাত ক্রমেই অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। বহু সাংবাদিক দেশ ছেড়েছেন, অসংখ্য গণমাধ্যম বন্ধের মুখে। পশ্চিমা সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়া, তালেবানের কঠোর সেন্সরশিপ, বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধকরণ এবং নারী সাংবাদিকদের ওপর বিধিনিষেধ—সব মিলিয়ে আফগান গণমাধ্যম এক গভীর অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে। রেডিও ফ্রি ইউরোপ রেডিওলিবার্টি- মিশর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ানের অনুবাদ
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালী এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিবি) সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংবাদ সংগ্রহের সময় এ ঘটনা ঘটে। তার সাথে থাকা মোটরসাইকেল চালক সাকিবও হামলার শিকার হন। আহত মিরাজ জানায়, গামছাখালী এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের কাজে গেলে, সেখানে তার ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার সঙ্গে থাকা বাইক চালক সাকিবও বর্তমানে চিকিৎসাধীন। হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিষয়টি মাত্র শুনেছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বিদেশ থেকে আগত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ‘মিডিয়া সেন্টার’ স্থাপন করেছে তথ্য অধিদপ্তর। ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ মিডিয়া সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মিডিয়া সেন্টারের কার্যক্রম চালু থাকবে। নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ সফররত বিদেশি সাংবাদিকরা মিডিয়া সেন্টার থেকে তথ্য ও লজিস্টিক সেবা পাবেন। নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য দুটি হটলাইন সেবা চালু করা হয়েছে। হটলাইন নম্বর দুটি হলো: ৪৮৩২২৩৪৪ এবং ৪৮৩২২৪৩৫।
তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর সংশোধনকল্পে অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়াকে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রহসন বলে মন্তব্য করেছে তথ্য অধিকার ফোরাম। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ফোরামের ধারাবাহিক তাগিদ সত্ত্বেও দীর্ঘ সময়ে প্রধান তথ্য কমিশনার ও কমিশনার নিয়োগ করা হয়নি। ফলে জনগণের অর্থে পরিচালিত তথ্য কমিশনকে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে তা নিন্দনীয়। অন্তর্বর্তী সরকারের অসচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের এটিও একটি উদাহরণ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তথ্য অধিকার ফোরাম তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারার ওপর ৩৭টি সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করে গত বছরের ৬ মার্চ একটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করে এবং একই দিনে প্রধান উপদেষ্টার বরাবর পাঠানো হয়। পরে তথ্য অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ পর্যালোচনা ও সংশোধনের বিষয়গুলোতে তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় মতামত দেওয়া হয়। সবশেষ উপদেষ্টা পরিষদে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর সংশোধনকল্পে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদনের বিষয়টি অবগত হওয়ায় ফোরামের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অতি জরুরি সংশোধনীসমূহ অন্তর্ভুক্ত করতে গত ২৫ জানুয়ারি তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় ফোরামের পক্ষ থেকে সরাসরি উপদেষ্টাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, তথ্য অধিকার ফোরাম মনে করে তথ্য অধিকার আইনের অন্তস্থিত চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে ন্যূনতম পক্ষে নিম্নলিখিত সংশোধনীসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, যার প্রতিফলন এই অধ্যাদেশে পরিলক্ষিত হয়নি। যেমন: তথ্যের সংজ্ঞায় নোট সিট অন্তর্ভুক্ত করা যা মাধ্যমে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নথি পরিচালনকারী প্রত্যেক কর্মকর্তা বা কর্মচারী কে কী ভূমিকা পালন করেছেন তা স্পষ্ট বোঝা যায়। কর্তৃপক্ষের আওতা বৃদ্ধি করে সরকারের পক্ষে অথবা সরকার বা সরকারি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কোনো বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন দ্বারা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বা স্থানীয় সরকার সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যুক্ত করা; প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তাদের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি যথাক্রমে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের অনুরূপ নির্ধারিত করা এবং জরিমানায় আপিল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা। বিবৃতিতে জানানো হয়, তথ্য অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে এই বিবৃতিতে সহমত পোষণ করেছেন, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, নিজেরা করি'র কোঅর্ডিনেটর খুশী কবির, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, বাংলাদেশ ইন্সিটিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস্) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, বিএনএনআরসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম বজলুর রহমান, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, আইসোশ্যাল চেয়ারপারসন ড. অনন্য রায়হান, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন, মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এমআরডিআই) নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের (রিইব) ডেপুটি ডাইরেক্টর সদস্য রুহী নাজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ ও টোবাকো ট্যাক্স প্রজেক্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম হিল্লোল।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান Press Institute of Bangladesh (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পিআইবি থেকে অবসর গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পাওনা সংক্রান্ত বিষয় ঝুলিয়ে রেখে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং তারা অভিযোগ করছেন যে তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা নিষ্পত্তি না করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৪ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নীতিমালার বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে পিআইবির কর্মচারী ফরিদ আহমেদ-এর সঙ্গে অমানবিক আচরণের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এই অনিয়ম দুর্নীতি অবৈধ নিয়ম বিষয়ে কথা বলায়,মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে পিআইবির সিনিয়র পরীক্ষক পারভীন সুলতানা রাব্বিকে যড়যন্ত্র ও কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে বদলি করা হয়েছে এবং আলী হোসেনের সুনিশ্চিত কারণ ছাড়া অবসর দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হয়েছে বলেও জানা যায়। এভাবে অবসরপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গেই তিনি অনুরূপ আচরণ করে থাকেন। এছাড়াও, তিনি প্রায় ৩৪ জন লোককে পিআইবিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন। ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী: বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের অনিয়মের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে মহাপরিচালক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়ম ও লুটপাটের মহোৎসবে পরিণত করেছেন—এমন অভিযোগ বিভিন্ন মহলে উত্থাপিত হয়েছে। তাই দ্রুত তাকে অপসারনের দাবী জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। তিনি ডিজি পদে টিকে থাকার লক্ষ্যে তিনি নানামুখী তৎপরতা ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলেও জানা যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি রাখে।তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে, বিষয়টির প্রতি যাতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।