Brand logo light

মিডিয়া

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধন: সাংবাদিক নিবন্ধনের পথে বাংলাদেশ?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং বার কাউন্সিলের আদলে নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “সরকার স্বাধীন, দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।” তিনি বলেন, “মোবাইল জার্নালিজমের নামে অনুমোদনহীন, অপেশাদার বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সরকার সমর্থন করে না।” তথ্যমন্ত্রী জানান, প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করার প্রস্তাবে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, বার কাউন্সিলের আদলে নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু এবং মিথ্যা, হয়রানিমূলক বা নীতিবিরোধী সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানার বিধান যুক্ত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থার বিস্তার, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রচারসংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।” এ ছাড়া সংরক্ষিত আসনের সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, পডকাস্ট, ব্লগ এবং ইনফ্লুয়েন্সারভিত্তিক ডিজিটাল কনটেন্টের প্রচার ও প্রকাশ বর্তমানে প্রচলিত আইন ও নীতিমালার আওতায় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থের ভারসাম্য বজায় রেখে নতুন নীতিগত কাঠামো তৈরির বিষয়েও কাজ চলছে। অন্যদিকে যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন জানান, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত পত্রিকার সংখ্যা ৩ হাজার ৩৩৮টি। এর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৪৩৬টি দৈনিক, ১ হাজার ২৩১টি সাপ্তাহিক, ৪৫২টি মাসিক, ২১৫টি পাক্ষিক এবং অর্ধসাপ্তাহিক, দ্বিমাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক মিলিয়ে আরও ৫৪টি প্রকাশনা।   কেন  এই উদ্যোগ? গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকদের জন্য নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে পেশাদার সাংবাদিকতার মান ও জবাবদিহিতা বাড়তে পারে। তবে একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং নিবন্ধন ব্যবস্থার অপব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা তৈরি হতে পারে। প্রস্তাবিত আইন সংশোধনী চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৯, ২০২৬ 0
গোলাম ফারুক মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মুহাম্মদ আবু আবিদ
এসএসপির নির্বাচন: সভাপতি মজনু, সম্পাদক আবু আবিদ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের তৃণমূল সাংবাদিকদের সংগঠন সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম ফারুক মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মুহাম্মদ আবু আবিদ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রতিনিধিরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জেলা কমিটি থেকে দুই থেকে তিনজন প্রতিনিধি ভোটগ্রহণে অংশ নেন। নবনির্বাচিত সভাপতি গোলাম ফারুক মজনু দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক বিপ্লবী জনতা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে সাংবাদিকতায় যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে মুহাম্মদ আবু আবিদ বর্তমানে মোহনা টিভির চিফ এডিটর (প্ল্যানিং, অনলাইন ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলছেন, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকার কারণে নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক নির্যাতন, হয়রানি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি হলে অতীতেও তারা সরব ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. নেছার উদ্দিন, মো. ফজলে নেওয়াজ ও মো. আনোয়ারুজ্জামান আজাদ। যুগ্ম সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট হাসান আলম সুমন ও মো. হাবিবুর রহমান। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. কামরুল ইসলাম, মো. মিরাজ হোসেন, মো. জামাল শিকদার ও মো. শহিদুল ইসলাম। এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে শুভঙ্কর সেন শুভ, দপ্তর সম্পাদক পদে মীম আক্তার, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে আব্দুল মান্নান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মো. জাকির হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে নিপা আক্তার, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে আর কে রিপন এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল নোমান নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এনায়েত হোসেন খান রিমন, শরিফুল ইসলাম, মোকাম্মেল হোসেন চৌধুরী, রঞ্জন লোদ রাজু, সুমা রানী কর্মকার ও মো. ফারুক হোসেন বাপ্পি। নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সভাপতি গোলাম ফারুক মজনু ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু আবিদ সংগঠনের সদস্য, প্রতিনিধি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, তৃণমূল সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা, পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় এসএসপি ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
এইচআরএসএস
৭৫ সাংবাদিক হয়রানির শিকার, মব সহিংসতায় ২২ নিহত: মানবাধিকার প্রতিবেদন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি। মঙ্গলবার (৫ মে) প্রকাশিত সংগঠনটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাসজুড়ে অন্তত ৭৫ জন সাংবাদিক বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। মোট ৪০টি ঘটনায় সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪২ জন আহত, ১৭ জন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং ১০ জন হুমকির মুখে পড়েন। এছাড়া তিনজন সাংবাদিককে আটক করা হয় এবং চারটি মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি বলছে, একই সময়ে দেশে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৪৪টি ঘটনায় ২২ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব সহিংসতা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়। রাজনৈতিক সহিংসতাও এপ্রিলে অব্যাহত ছিল। ৯৮টি ঘটনায় ছয়জন নিহত এবং ৫৩৩ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদাবাজি এসব ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, সাতটি জনসভা ও সমাবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ৪৯ জন আহত এবং দুজন আটক হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টকে কেন্দ্র করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রও প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক হিসেবে উঠে এসেছে। এপ্রিল মাসে ২৯৪ জন নারী ও কিশোরী সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৮টি ধর্ষণ এবং ৭৯টি যৌন হয়রানির ঘটনা রয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় মারা গেছেন ৬৪ জন নারী। শ্রম খাতেও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র পাওয়া গেছে। কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা ও অনিরাপদ পরিবেশে ১৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা
গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে সাংবাদিক গ্রেপ্তার ও মামলা: ন্যায়বিচার না দমননীতি?

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২৪-এর ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের হলে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর পর থেকেই শুরু হয় সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও নির্যাতন। এ সময়ে চারজন সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মগোপনে রয়েছেন অনেকেই। দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) জানিয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২৬৬ জনকে অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত হত্যা বা সহিংসতার মামলায় আসামি করা হয়েছে। গত বছরের ৪ আগস্ট এ তথ্য প্রকাশ করে সংস্থাটি। এদিকে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে দেশে ৩৮৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া চার সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা হয়েছে। আসক বলছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের কমবেশি নির্যাতন বা হয়রানি করেছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বিমানবন্দর থেকে একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক-উপস্থাপক ফারজানা রুপাকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ফজলুল করিম নামের একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ছাড়া রাজধানীর আদাবরে পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলাতেও তাদের দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তারা কারাগারে আছেন, এখনো জামিন পাননি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত এলাকা থেকে আটক হন একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হওয়া কয়েকটি হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এবং জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ গ্রেপ্তার হন। তিনি বর্তমানে কারাগারে। গত বছরের এপ্রিলে ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয়। দলটির চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় গত বছরের আগস্টে মাইটিভির চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এসব সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়ে মাসের পর মাস কারাগারে বিনা বিচারে কারাবন্দি রয়েছেন। বারবার জামিনের জন্য আবেদন করলেও সেই আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। সাংবাদিকদেরই অনেকে বলছেন, সাংবাদিকেরা বিতর্কের ঊর্ধ্বে নন। তাদের লেখালেখি বা বক্তব্যে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত মনে করলে তার আইনি প্রতিকার রয়েছে। এমনকি কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও আছে। কিন্তু ঢালাওভাবে হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে নাম ধরে ধরে আসামি করা ন্যায়বিচারের ধারণাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ বিষয়ে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যদি আইনের শাসনের কথা বলি, তাহলে বিনা বিচারে কাউকে আটকে রাখা এবং দিনের পর দিন জামিন না দেওয়া সমীচীন নয়। বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। আমরা নোয়াবের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি বলেছি। শিগগিরই বিষয়টির সুরাহা হবে বলে আশা রাখছি।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের প্রধান ফটকের সামনে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাংবাদিক শাহনাজ শারমীন। সেখান থেকেই তিনি লাইভ সম্প্রচার করেন। অন্য টেলিভিশনেও সেই সম্প্রচারের দৃশ্য দেখা গেছে, যার তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। কিন্তু একই দিন বিকেলে মিরপুরের ভাষানটেক এলাকায় এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় অন্য অনেকের সঙ্গে তাঁকেও আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে একাত্তর টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহনাজ শারমীন এসব তথ্য উল্লেখ করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর প্রশ্ন, একই ব্যক্তি একসঙ্গে দুই জায়গায় থাকেন কীভাবে? এখন বিষয়টি দেখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। শাহনাজ শারমীনের ঘটনাটিই একমাত্র ঘটনা নয়। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হত্যা ও সহিংসতার অভিযোগে করা বিভিন্ন মামলায় সাংবাদিকদের ঢালাওভাবে আসামি করা হয়েছিল। বিভিন্ন পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ও সম্পাদকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ সাংবাদিক এখনো মামলার বোঝা বহন করছেন এবং কারাবন্দীদের অনেকেই জামিন পাচ্ছেন না। নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৪ মার্চ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর জামিন পেয়েছেন। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছিল। প্রথমে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও পরে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ জামাল হোসাইন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগেরও সদস্য। গত বছরের আগস্টে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিতে গিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম (পান্না)। মাস তিনেক পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২৮ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এসব ঘটনায় অন্যদের মধ্যেও কিছুটা আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি নেই, মামলাগুলোর দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের ক্ষেত্রে আদালত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেবেন। এর আগে গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের জামিন পাওয়ারও প্রত্যাশা করছেন তারা। কারাবন্দি সাংবাদিকদের জামিন বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলো সংবেদনশীল। প্রতিটি মামলা যাচাই-বাছাই করে দেখছে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে দায় পাওয়া না গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করছেন। কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির একটি চিত্র তুলে ধরে। বিষয়টি সংবেদনশীল এবং এতে নানা পক্ষের দাবি–পাল্টা দাবি আছে। সংক্ষেপে এবং বিশ্লেষণ করে বললে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে:  ১. সংখ্যাগত চিত্র   * Transparency International Bangladesh (টিআইবি) অনুযায়ী:   * ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার   * ২৬৬ জন হত্যা/সহিংসতার মামলায় আসামি * Ain o Salish Kendra (আসক):   * এক বছরে ৩৮৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন/হয়রানির শিকার * Manabadhikar Sangskriti Foundation:   * ২৬৮ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা   * অন্তত ১৪ জন গ্রেপ্তার অর্থাৎ, বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়—সংখ্যা ভিন্ন হলেও “বড় আকারে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও চাপ” একটি বাস্তব প্রবণতা হিসেবে উঠে এসেছে।   ২. মামলার ধরন নিয়ে বিতর্ক * অধিকাংশ মামলাই **হত্যা বা সহিংসতা সংক্রান্ত**, যা খুব গুরুতর অভিযোগ * অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ:   * একই ঘটনায় বহুজনকে আসামি করা হয়েছে   * কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঘটনাস্থলে ছিলেন না—এমন দাবিও এসেছে * আইনজীবীদের মতে, এসব মামলার “প্যাটার্ন প্রায় একই” এতে প্রশ্ন উঠছে—আইন কি নির্দিষ্ট অপরাধ বিচারের জন্য ব্যবহার হচ্ছে, নাকি কখনো কখনো **রাজনৈতিক বা প্রতিশোধমূলক চাপের হাতিয়ার** হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে?   ৩. দীর্ঘদিন জামিন না পাওয়া * অনেক সাংবাদিক:   * মাসের পর মাস, এমনকি দেড়–দুই বছর কারাগারে   * এখনো চার্জশিট হয়নি * অভিযোগ:   * জামিন শুনানিতে বারবার সময় নেওয়া   * হাইকোর্টে জামিন পেলেও স্থগিত হয়ে যাচ্ছে  এটি **ন্যায়বিচারের গতি ও প্রক্রিয়া** নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।   ৪. রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট   * গণ-অভ্যুত্থানের পর কিছু গোষ্ঠী সাংবাদিকদের “পূর্ববর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে * বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধেও সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগ এসেছে * ফলে বিষয়টি শুধু রাষ্ট্র বনাম সাংবাদিক নয়, বরং **বহুমাত্রিক চাপের পরিবেশ** তৈরি হয়েছে   ৫. আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া * Committee to Protect Journalists (CPJ) * Reporters Without Borders * Article 19 এসব সংগঠন বলছে: * অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই * সাংবাদিকতার কারণে টার্গেট করা হতে পারে * মুক্তি ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে   ৬. মূল দ্বন্দ্ব: আইন বনাম স্বাধীনতা   এই পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে: **একদিকে:** * কেউ অপরাধ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি **অন্যদিকে:** * ঢালাও মামলা, দীর্ঘ আটক, প্রমাণহীন অভিযোগ   → এগুলো হলে তা **মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের ওপর চাপ** হিসেবে দেখা হয়  ৭. সারসংক্ষেপ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলো হলো: * মামলার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা * দীর্ঘ প্রি-ট্রায়াল আটক * সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে “গণহারে” অভিযোগ * বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: আইন কি সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, নাকি কখনো তা নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হয়ে উঠছে?** আইন যেন নিপীড়নের হাতিয়ার না হয়' গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বেশ উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল অভিযোগ সাংবাদিকদের অনেকের। সংবাদমাধ্যমের অফিসে হামলা, শত শত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং তিন দফায় সাংবাদিকদের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে এমন মামলা ও গ্রেফতারের সমালোচনা করছেন মানবাধিকারকর্মী এবং আইনজীবীরা। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, আর্টিকেল ১৯, রিপোর্টারস উইদাউট বর্ডারস এর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোও এ ঘটনার সমালোচনা করে আসছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) এর আগে এক বিবৃতিতে, সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং হত্যা মামলার আসামি করা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বা সিপিজে সম্প্রতি চারজন সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করেছে- তারা হলেন, মোজাম্মেল হক বাবু, শ্যামল দত্ত, ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ। সিপিজের চিঠিতে বলা হয়েছে, নথিপত্র, স্বজনদের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা বলছে, তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। কোনো অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়নি। ”আটক রাখার ধরন দেখে মনে হয় মূলত সাংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই তাদের এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে”- লিখেছে সিপিজে। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের সময়েও এরকম ঢালাও মামলা করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছিল। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে অবশ্যই আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মানবাধিকারকর্মী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, "আইন যেন নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করা হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেবে, কিন্তু যাতে কাজের ক্ষেত্র সংকুচিত না করা হয় এবং মতপ্রকাশে বাধা দেওয়া না হয়। আইনের অবশ্যই নিরপেক্ষ, সুষ্ঠ এবং সৎ প্রয়োগ হতে হবে।" বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের এই উপদেষ্টা বলছেন, "মানবাধিকারকর্মী হিসেবে স্বাধীন মত প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয় এরকম কাজের বিরোধিতা করি।" এদিকে, নোয়াবের সভাপতি ও সাংবাদিক নেতা মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, নির্বাচিত এই বিএনপি সরকার সাংবাদিকদের এই প্রসঙ্গে ইতিবাচক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিক নেতাদের জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের মামলাগুলো এই সরকারের আমলে দায়ের হয়নি কিংবা কেউ গ্রেফতারও হয়নি। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সুরাহা করার আশ্বাস দিয়েছেন উল্লেখ করে মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক বলেন, "আমরা আশা করি যেহেতু পুরোনো মামলা, এই মামলাগুলো সরকার রিভিউ করে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে"।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
সিলেট পুলিশ
সিলেটে আল্টিমেটাম: অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সাম্প্রতিক এক নির্দেশনায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। অপতথ্য ছড়ানো নিয়ে চলমান জাতীয় আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ, নাকি সংবাদমাধ্যমকে শৃঙ্খলায় আনার প্রয়াস? বাংলাদেশে অনলাইন সংবাদমাধ্যম নিবন্ধনের বিষয়টি কয়েক বছর ধরেই বিতর্কিত। তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহ্বান করা হলে হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানই অনুমোদন পায়। সমালোচকদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে এবং অনেক পেশাদার প্ল্যাটফর্ম নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি মোকাবিলায় নিবন্ধন ব্যবস্থা জরুরি। তবে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন—অপতথ্য কি কেবল নিউজ পোর্টালেই সীমাবদ্ধ, নাকি সামাজিক মাধ্যমেও সমানভাবে বিস্তার লাভ করছে? সামাজিক মাধ্যমের ক্ষেত্রে যেখানে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা নেই, সেখানে শুধু নিউজ পোর্টালকে লক্ষ্যবস্তু করা কতটা কার্যকর—সে প্রশ্নও সামনে আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে সহজলভ্য প্রযুক্তির কারণে যে কেউ অনলাইন পোর্টাল চালু করতে পারছে, যা পেশাদার সাংবাদিকতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ফলে খাতটিকে একটি নীতিমালার আওতায় আনা প্রয়োজন—তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য। এদিকে, অনেক অনিবন্ধিত পোর্টালে কর্মরত সাংবাদিকদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আকস্মিকভাবে এসব প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হলে বহু সংবাদকর্মী কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নীতিমালা তৈরির জন্য প্রয়োজন ব্যাপক পর্যালোচনা, স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে নিবন্ধিত গণমাধ্যমের জন্য সুযোগ-সুবিধা এবং দায়বদ্ধতার বিষয়গুলোও স্পষ্ট করা জরুরি। সামগ্রিকভাবে, সিলেটে জারি হওয়া এই নির্দেশনা দেশের অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের আরও গভীর ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
Amal Khalil was a journalist with the Lebanese newspaper Al-Akhbar
ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট সংঘাতে সাংবাদিক নিহতের সংখ্যা বাড়ছে: কণ্ঠরোধ করছে ইসরায়েল ? সাংবাদিকদের মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ

লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সাংবাদিকরা কি পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাচ্ছেন, নাকি তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন? লেবাননের দৈনিক আল-আখবার-এর প্রতিবেদক খলিল বুধবার এক হামলায় নিহত হন। তিনি তখন ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী জেইনাব ফারাজের সঙ্গে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। লেবাননের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে “যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে চলতি বছরে লেবাননে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় অন্তত ২৯৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন—যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে লক্ষ্যবস্তু করা নিয়ে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, একাধিক ঘটনায় সন্দেহ দেখা যাচ্ছে—সাংবাদিকদের কি তাদের পেশাগত পরিচয়ের কারণেই টার্গেট করা হচ্ছে? কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক সারা কুদাহ বলেন, “এই ঘটনার অনেক প্রশ্ন এখনো উত্তরহীন রয়ে গেছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, হামলার পর কেন উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। তার মতে, চিকিৎসা সহায়তা বাধাগ্রস্ত হলে তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। ইসরায়েলের অবস্থান ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের “বৈধ সামরিক লক্ষ্য” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সিপিজে ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব দাবির পক্ষে অনেক সময় পর্যাপ্ত বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয় না। বিতর্কিত উদাহরণ ২০২৫ সালের আগস্টে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের কাছে এক হামলায় আল জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরিফ নিহত হন। পরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তিনি হামাসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সিপিজে বলছে, তারা যে তথাকথিত প্রমাণ পেয়েছে তা ছিল একটি স্প্রেডশিটে নামের পাশে একটি লোগো—যা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত নয়। একইভাবে, সাংবাদিক আলি শোয়েইবের ক্ষেত্রেও একটি ছবি প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়, যা পরে বিকৃত বলে জানা যায়। আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন জাতিসংঘ বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে কোনো বেসামরিক ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করতে হলে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানান, শুধুমাত্র “সম্পৃক্ততা”র অভিযোগ যথেষ্ট নয়—এটি স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হতে হবে। প্রবেশাধিকার ও আটক গাজায় আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের প্রবেশ দীর্ঘদিন ধরে সীমাবদ্ধ। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সংগঠনগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে গেলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এদিকে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের আটক নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২০০-র বেশি সাংবাদিক আটক হন, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন তখনও হেফাজতে ছিলেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আটক থাকা কিছু সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগ বিভিন্ন ঘটনায় তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হলেও সেগুলোর ফলাফল খুব কম ক্ষেত্রেই প্রকাশিত হয়—এমন অভিযোগ তুলেছে সিপিজে। জাতিসংঘ বলছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কার্যকর প্রয়োগ নির্ভর করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর। তথ্যপ্রবাহে প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিক নিহত হওয়া, প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধতা এবং আটক—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে স্বাধীন তথ্যপ্রবাহকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। সংঘাতের বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য যেখানে নিরপেক্ষ তথ্য জরুরি, সেখানে প্রতিটি সাংবাদিকের মৃত্যু একটি সম্ভাব্য তথ্যসূত্র হারিয়ে যাওয়ার সমান।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
বিবিসি
বিবিসিতে বড় আকারে ছাঁটাই: চাকরি হারাতে পারেন প্রায় ২০০০ কর্মী

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা বিবিসি বড় আকারে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, শিগগিরই প্রায় ২০০০ জন কর্মী চাকরি হারাতে পারেন, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছাঁটাই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে বিবিসির মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ২১ হাজার ৫০০। পরিকল্পিত এই ছাঁটাইয়ের ফলে প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী প্রভাবিত হবেন। বুধবার এক বৈঠকে কর্মীদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। সংস্থাটির এই সিদ্ধান্ত বৃহৎ কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ। আগামী মাসে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ম্যাট ব্রিটিন। তার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খরচ কমানোর লক্ষ্যে বিবিসি ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি সাশ্রয় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর আওতায় কর্মী সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি কিছু অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। সাবেক মহাপরিচালক টিম ডেভি আগেই জানিয়েছিলেন, আগামী তিন বছরে সংস্থার মোট ব্যয়ের প্রায় ১০ শতাংশ কমাতে হবে। উল্লেখ্য, টিম ডেভি গত ২ এপ্রিল পদত্যাগ করেন। এর আগে তিনি নভেম্বর মাসেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার সময়কালজুড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প, গাজা পরিস্থিতি এবং ট্রান্স অধিকার ইস্যু নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এদিকে, বিবিসি বর্তমানে সরকারের সঙ্গে তাদের রয়্যাল চার্টার নবায়ন নিয়ে আলোচনা করছে, যার মেয়াদ আগামী বছরের শেষে শেষ হবে। একইসঙ্গে লাইসেন্স ফি মডেল নিয়েও আলোচনা চলছে। গত ১ এপ্রিল লাইসেন্স ফি ১৭৪.৫০ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১৮০ পাউন্ড করা হয়েছে। গত বছর প্রায় ২ কোটি ৩৮ লাখ পরিবারের কাছ থেকে বিবিসি ৩.৮ বিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছে। এছাড়া বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আরও প্রায় ২ বিলিয়ন পাউন্ড এসেছে। তবে লাইসেন্স ফি প্রদানকারী পরিবারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে—এক বছরে প্রায় ৩ লাখ পরিবার কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দর্শকদের মধ্যে নেটফ্লিক্স ও ডিজনির মতো ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের প্রতি ঝোঁক বাড়ায় বিবিসি চাপে পড়ছে। গত বছর নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম সতর্ক করে বলেছিল, পাবলিক সার্ভিস টেলিভিশন ‘বিপন্ন প্রজাতি’ হয়ে যেতে পারে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিবিসি তাদের আইপ্লেয়ার সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউটিউবের সঙ্গে কনটেন্ট চুক্তিও করেছে সংস্থাটি। বিবিসি জানিয়েছে, গত তিন বছরে তারা ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করতে সক্ষম হয়েছে, যার বড় অংশ কনটেন্ট তৈরিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
দৈনিক ‘শাহনামা’
বরিশালের প্রাচীন দৈনিক ‘শাহনামা’ ৩৬ বছরে পদার্পণ

বরিশাল অফিস :   বরিশাল থেকে প্রকাশিত প্রাচীন আঞ্চলিক সংবাদপত্র দৈনিক শাহনামা আজ ৩৬ বছরে পদার্পণ করেছে। ১৯৯১ সালের ১৪ এপ্রিল যাত্রা শুরু করা পত্রিকাটি দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পাঠকসমাজে আস্থা অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই পত্রিকাটি বরিশালসহ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের কথা তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কেবল সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ না থেকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রেও অবদান রেখে এটি একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে আঞ্চলিক গণমাধ্যম হিসেবে। দৈনিক শাহনামার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বরিশালের প্রবীণ সাংবাদিক মরহুম মো. হোসেন শাহ। তাঁর দূরদর্শিতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতেই পত্রিকাটি একটি নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী আবুল কালাম আজাদ। উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে যুক্ত আছেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর শাহ সাজেদা। সিনিয়র সাংবাদিকদের মতে, বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে সংবাদপত্রের যে বিকাশ ঘটেছে, তার পেছনে দৈনিক শাহনামার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলের অনেক সাংবাদিক ও সাহিত্যসেবীর লেখালেখির হাতেখড়িও হয়েছে এই পত্রিকার মাধ্যমে। ৩৬ বছরে পদার্পণের এই সময়ে পত্রিকাটি আবারও তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে—সত্য ও নিরপেক্ষতার পথে থেকে মানুষের পাশে থাকার। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, পাঠক, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের সমর্থনে ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। আঞ্চলিক সাংবাদিকতায় অবদান রাখার পাশাপাশি বরিশালের শিক্ষা ও সংস্কৃতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দৈনিক শাহনামা। পত্রিকাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাষায়, সংবাদপত্র প্রকাশনা তাদের কাছে পেশার পাশাপাশি এক ধরনের দায়বদ্ধতা—যা মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
টুলু- শফিকুল
বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাব নির্বাচন: সভাপতি টুলু, সম্পাদক শফিকুল নির্বাচিত

বরিশাল অফিস :   উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে মোস্তাফিজুর রহমান টুলু সভাপতি এবং মোঃ শফিকুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে বিরতিহীনভাবে এই ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচন ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সিনিয়র সাংবাদিক শাহজাহান খান এবং মোস্তাফিজুর রহমান টুলু। এর মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান টুলু ১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহজাহান খান পান ৯ ভোট। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোঃ শফিকুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। শফিকুল ইসলাম ১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল্লাহ আল মামুন পেয়েছেন ৯ ভোট। ভোটগ্রহণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নতুন এই কমিটির নেতৃত্বে বাবুগঞ্জ উপজেলার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ফারুক ওয়াসিফ
১৮ মাসে পিআইবির সুনাম ক্ষুন্ন করেছে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ!

ইত্তেহাদ নিউজ : রাষ্ট্রীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগকেন্দ্রিক অনিয়ম  সংক্রান্ত বিরূপ প্রতিক্রিয়া তীব্র আকার ধারণ করেছে। ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পিআইবি মহাপরিচালক পদে ফারুক ওয়াসিফ যোগদানের কিছুদিন পর থেকে বিধি বর্হিভূত ভাবে পরিচালক (প্রশাসন), উপ-পরিচালক, সিনিয়র রিসোর্স অফিসার, সিনিয়র প্রশিক্ষক সহ বিভিন্ন পদে অস্থায়ী ভাবে অর্থের বিনিময়ে তার বন্ধু, বান্ধবী ও আত্মীয় স্বজন নিয়োগ দিয়েছেন।  আর্থিক অনিয়ম ও অস্থায়ী ভাবে পরিচালক নিয়োগ নিয়ে নিয়মের কথা বলায় মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে হিসাব রক্ষক (চ.দা.) মোঃ আলী হোসেন-কে অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক অবসরে পাঠান। অবৈধভাবে ডেপুটেশনে পাঠানো হয় পারভীন সুলতানা রাব্বী (লাকী)কে গত ১৭ বছর আওয়ামীলীগের অন্যায় অত্যাচার, পদোন্নতি বঞ্চিত ও নির্যাতনের শিকার পরিচালক (অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ, অতি.দা.) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শামসুন নাহার হলের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রেসিডেন্ট (সাবেক) পারভীন সুলতানা রাব্বী (লাকী)কে এক রাতে নোটিশে সংযুক্ত করে পাঠিয়ে দেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে।অথচ পিআইবি'র চাকুরি ডেপুটেশন বা বদলিযোগ্য নয়। পিআইবি বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রশিক্ষণ মডিউল, জেন্ডার টুলকিট, রিসোর্স পেপারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করিয়ে নানা অপবাদ দিয়ে সেই কাজ ছিনিয়ে নিয়ে তার বান্ধবী সহযোগী অধ্যাপক মনিরা পরমিন (অস্থায়ী নিয়োগ), বন্ধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল মামুন, আত্মীয় ফারুকসহ নিজের লোকদের কাছে দিয়ে নিজের নামে প্রকাশ করেছেন। স্টলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর বই দেখে রেগে যান ডিজি ফারুক ওয়াসিফ অন্তবর্তী সরকারের সময়ে জুলাই নিয়ে কিছু কাজ করলেও, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও  বিএনপির হাজার হাজার নেতা কর্মীদের নিপিড়ন ও নির্যাতন, মামলা -হামলা নিয়ে কোন কাজ করেননি, বরং তারুন্য উৎসবের মেলায় পারভীন সুলতানা রাব্বী পিআইবি'র বইয়ের স্টলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর উপরে লেখা কিছু বই প্রদর্শনী করতে গেলে "এটা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়" বলে ভূচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে রাগারাগি করেন ফারুক ওয়াসিফ।  নতুন মলাটে পুরাতন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ২০০৩ সালে প্রকাশিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে লিখিত বইকে  নতুন মলাটে ঢেকে পূণর্মুদ্রণ দেখিয়ে পুরাতন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান করেন বিএনপির মহাসচিবকে দিয়ে, অথচ গত ১৮ মাসে অফিস চেম্বারে বসে প্রতিনিয়াত বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল এবং দলের সর্বোচ্চ নেতাকে দুর্নীতিবাজ উল্লেখ করে পিআইবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিপীড়ন করেছেন ডিজি ফারুক ওয়াসিফ।  বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর নির্যাতন নীপিড়ন ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর  পিআইবি মহাপরিচালক পদে ফারুক ওয়াসিফ যোগদানের পর সাবেক ছাত্রদল নেতা পারভীন সুলতানা রাব্বীর নেতৃত্বে বিএনপি ঘরানার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি তাকে সকল কাজে শতভাগ সমর্থন সহযোগিতা করেছে। কিন্তু কিছু দিন পর থেকেই প্রতারণামূলক আচরণ শুরু করে নিজের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত অযোগ্য (২৫ থেকে ৩০জনকে  অবৈধ উপায়ে নিয়োগ দেন এবং ধীরেধীরে বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর নির্যাতন নীপিড়ন শুরু করেন।  এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- বিএনপি সমর্থিত ও জাতীয়তাবাদ আদর্শের কয়েকজন কর্মকর্তাদের কর্মবিহিন করে রাখা হয়েছে। তাদেরকে নানা ভাবে হয়রানি ও চাকুরিচ্যুত করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষক  মোহাম্মদ শাহ আলম-কে শোকজ দিয়ে চাকুরিচ্যুত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।  এম এল এস এস মো: মাহবুব আলম-কে ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারী দেরকে নানা ভাবে তার পালিত লোকজন দ্বারা অত্যাচার, নির্যাতন ও চাকুরী খেযে নেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। সদ্য অবসর প্রাপ্ত একেএম ফরিদ উদ্দিন এর দেনা পাওনা চাইতে গেলে ডিজি ফারুক ওয়াসিফ তাকে অফিস থেকে রেব করে দেয়। স্থায়ী ভাবে কর্মরত সকলের নামে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব এর নিকট মিথ্যা বনোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে তার (ফারুক ওয়াসিফ) নিজের অনিয়ম, চুরি, দুর্নীতি, নিয়োগ বানিজ্য ও কুকীর্তি আড়াল করছেন।                    আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি পিআইবিতে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ      এক দিনে ৪ কর্মশালা: ভুয়া বিল ভাউচার,২৩ লক্ষ ৯৭ হাজার পাঁচ শত টাকা আত্মসাত ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ তারিখে তারুণ্যের উৎসব-২০২৫, জুলাই গণ অভ্যুত্থান। সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনার, গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে একই দিনে ৪-টি কর্মশালা দেখিয়ে ২৩ লক্ষ ৯৭ হাজার পাঁচ শত) টাকার ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করেছেন। এ বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, টিভি , অনলাইন পত্রিকায় অনুসন্ধানী মুলক সংবাদ ছাপা হয়েছে। নয় মাসের কর্মকান্ডের ১৭ অডিট আপত্তি সদ্য সমাপ্ত সরকারী অডিটে ফারুক ওয়াসিফ-এর ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের মাত্র নয় মাসের কর্মকান্ডের উপর ১৭-টি অডিট আপত্তি করেছে। যার মধ্যে রয়েছে আর্থিক অনিয়ম, অবৈধ নিযোগকৃত দের প্রদত্ত বেতন- বোনাস, তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ নামে ২৩,৯৭,৫০০ টাকা নগদে বিল পরিশোধ, এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয়। ফারুক ওয়াসিফ আপত্তি নিয়ে তিনি কর্মকর্তাদের বলছেন, এ সব কিছু হবে না তথ্য সচিব-কে সব অবহিত করা হয়েছে। তথ্য সচিব আমাকে বলেছেন আপনি চিন্তা করবেন না আমি অডিটের ডিজিকে বলে আপত্তি নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করব। আপনি যত দ্রুত পারেন অস্থায়ীদের স্থায়ী করার ব্যবস্থা নেন। আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির উদ্দীন চৌধুরী এই সব কাজে সহযোগিতা করছেন পিআইবির সুবিধাভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা, কর্মচারী এর মধ্যে এক জন অবসর গ্রহণকারী হিসাব অফিসার মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরী যাকে বর্তমান মহাপরিচালক বিধিবর্হিভূত ভাবে অস্থায়ী ভাবে উচ্চবেতনে উপ-পরিচালক প্রশাসন পদে বসিয়ে অবৈধ ভাবে আয়ন- ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়ে চুরি, দুর্নীতি ও লুটপাট করে যাচ্ছেন।  একজন অস্থায়ী ভাবে কর্মরত কর্মকর্তা কখনই সরকারী অর্থ লেনদেনের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হতে পারে না।   অবৈধ কাজে সহযোগিতা করার জন্য ভয় ভীতি প্রদর্শন এ ছাড়া ফারুক ওয়াসিফ অবৈধ কাজে সহযোগিতা করা, তার পক্ষে কথা বলা, স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রুমে রুমে গিয়ে ভয় ভীতি দেখান কয়েকজন কর্মচারী-কে অবৈধ ভাবে পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, কোর্সের আর্থিক সুবিধা প্রদান করার মাধ্যমে অফিসে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরী করে রেখেছেন। আওয়ামী সমর্থকদের নিয়ে বিএনপি সমর্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিতাড়িত করার চেষ্টা বর্তমানে ফারুক ওয়াসিফ আওয়ামীলীগের সময়ে নিয়োগকৃতদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সমর্থিত ও জাতীয়তাবাদ আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিতাড়িত করার কাজে ব্যস্ত। অন্য দিকে তিনি বিএনপির উপর মহলে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজে বিএনপি সাজার চেষ্টা করছে। ২০০৯-২০২৩ পর্যন্ত প্রথমআলো ও সমকালে বিএনপির বিরদ্ধে অসংখ্য উপ-সম্পাদকীয় লিখেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ করেছেন পি়আইবির নিপিড়ীত ও নির্যাতিত কর্মকর্তা -কর্মচারীরা।  পিআইবির ব্যয় ফারুক ওয়াসিফের নাম ঘিরে এই বিতর্ক সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম উন্নয়নে কাজ করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ—পিআইবির সম্প্রতি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আলোচনায় এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক  ফারুক ওয়াসিফের নাম ঘিরে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে গণমাধ্যম অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠছে। পিআইবির নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উপলক্ষে কয়েকটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল একটি সংগীতসন্ধ্যা, একটি প্রদর্শনী এবং দুটি সেমিনার। চারটি কর্মসূচির জন্য মোট প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একটি জাতীয় দৈনিক। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। নথিতে উল্লেখ আছে—সেমিনার দুটিতে অংশগ্রহণকারী ২০০ জন করে মোট ৪০০ জনকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আলোচকদের সম্মানী, নাশতা ও মধ্যাহ্নভোজ, যাতায়াত ভাতা এবং সাজসজ্জাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ দেখানো হয়েছে। তালিকায় থাকা কয়েকজন সাংবাদিক ও পেশাজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, সংশ্লিষ্ট সেমিনারে তারা অংশ নেননি। কেউ কেউ তাদের নামে দেওয়া স্বাক্ষরকেও ভুয়া বলে দাবি করেছেন।এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষক ও সাংবাদিকের নাম আলোচক হিসেবে দেখানো হলেও তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, ওই সময় পিআইবির কোনো সেমিনারে তারা উপস্থিত ছিলেন না। অনুষ্ঠানগুলোর জন্য জমা দেওয়া বিভিন্ন ভাউচারও যাচাই করে কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিল নিয়ে সংশ্লিষ্ট দোকান বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই ধরনের কাজ তারা করেনি বা ভাউচারের স্বাক্ষর তাদের নয়।খাবারের বিল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁর কর্মীরা জানিয়েছেন, ওই সময় এত বড় কোনো অর্ডারের তথ্য তাদের কাছে নেই। পিআইবির ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে সাধারণত প্রতিষ্ঠানটির কর্মসূচির ছবি ও তথ্য প্রকাশ করা হয়। কিন্তু বিতর্কিত সেমিনার দুটির কোনো ছবি, ভিডিও বা প্রেস বিজ্ঞপ্তি সেখানে পাওয়া যায়নি। এছাড়া পিআইবির ভবনে একসঙ্গে ২০০ জনের সেমিনার আয়োজনের উপযুক্ত কক্ষ রয়েছে কি না—সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মহাপরিচালকের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগকারীরা বলেছেন, মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ  নিয়োগ বানিজ্য,অনিয়ম,দুর্নীতির বিষয়গুলো আড়াল করতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের  চাপ দিচ্ছেন। এদিকে পিআইবি ভবনে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সুবিধা অর্জনের মাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নানা অভিযোগের মুখে বর্তমানে মহাপরিচালকের বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি  গবেষণা, সিনিয়র সাংবাদিক,গণমাধ্যম সংগঠন ও সাংবাদকর্মীদের তরফ থেকে করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
১৮ মাসে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ইমেজ সংকট!

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে সবচেয়ে বেশি ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের। এ সময়ে এ মন্ত্রণালয়ে তেমন কোনো কাজ হয়নি। সচিব মাহবুবা ফারজানা তথ্য মন্ত্রণালয়কে তেমন কোনো কিছুই দিতে পারেননি।সচিব মাহবুবা ফারজানার সময় কেটেছে উপদেষ্টাদের প্রটোকল দিয়ে ও নিজেকে পরিপাটি রেখে। সচিব মাহবুবা ফারজানার পরিচিতি ছিল ‘প্রটোকল অফিসার’ হিসেবে।তার দ্বারা কিছু টাউট-বাটপারের ব্যক্তিগত উপকার হলেও গণমাধ্যমের কোনো উপকার হয়নি। এমনকি প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের মর্যাদাও রক্ষা করতে পারেনি। স্বাধীনতার পর থেকে ২০২১ সালের  ১৪ মার্চ পর্যন্ত এ মন্ত্রণালয়ের নাম ছিল তথ্য মন্ত্রণালয়। আওয়ামী সরকারের সময়ে ড. হাসান মাহমুদ যখন মন্ত্রী তখন এর নাম পরিবর্তন করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় করা হয়। মন্ত্রণালয়টির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলাদেশের সব বিখ্যাত ব্যক্তিরা এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ডাকসাইটের আমলারা এ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। যাদের নাম এখনো শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এটি সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়। শুধু গণমাধ্যম নিয়ে এ মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, দেশের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ইমেজ তৈরির কাজটি করার দায়িত্বও অনেকখানি। গুরুত্বপূর্ণ এ মন্ত্রণালয়টির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন শুরু হয় ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে, যখন মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ। তার পর শেখ মুজিবুর রহমান, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী, শেখ আবদুল আজিজ, এম কোরবান আলী, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, হাবিবুল্লাহ খান, শামসুল হুদা চৌধুরী, তোফাজ্জল হোসেন খান, সৈয়দ নাজিমুদ্দিন হাশিম, এ আর ইউসুফ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী জাফর আহমেদ, বেগম খালেদা জিয়া, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, এম শামসুল ইসলাম, শেখ হাসিনা, ড. আবদুল মঈন খান, তরিকুল ইসলামসহ বিখ্যাত ও খ্যাতিমান রাজনৈতিক নেতারা। সাংবাদিকদের মধ্যে তথ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন তাহের উদ্দিন ঠাকুর, সিরাজুল হোসেন খান, আনোয়ার জাহিদ, সৈয়দ দিদার বখত, ড. মিজানুর রহমান শেলী। বিভিন্ন সময়ে এ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ড. আকবর আলী খান, শামসুল হুদা চৌধুরী, এ আর এস দোহা, মাহবুবুল আলম, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম সচিব ছিলেন এম হোসেন আলী। তার পর বাহাউদ্দিন চৌধুরী, খোরশেদ আলম সিএসপি, আনিসুজ্জামান খান সিএসপি, জহুরুল হক সিআইএস, এটিএম শামসুল হক সিএসপি, এবিএম গোলাম মোস্তফা সিএসপি, আনম ইউসূফ সিএসপি, মনজুর মোরশেদ সিএসপি, এজেডএম নাসিরুদ্দিন সিএসপি, কাজী মুহাম্মদ মনজুরে মওলা সিএসপি, নুরুদ্দিন আহমেদ, আলম মাসুদ সিএসপি, সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ সিএসপি, ড. মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার হায়দার আলী, হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, মরতুজা আহমেদসহ ডাকসাইটের ও অভিজ্ঞ, সিনিয়র আমলাদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হতো। আওয়ামী লীগ সরকার খাজা মিয়াকে সচিবের দায়িত্ব দিয়ে এ মন্ত্রণালয়ের ইমেজ অনেকটা ম্লান করেছে। তার পর থেকে মেধাবী, যোগ্য, দক্ষ কোনো আমলাকে এ মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমান তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পদোন্নতি পেয়েছেন। ১৮ মাসে  যোগ্যতা, দক্ষতা বা মেধার কোনো প্রমাণ তিনি রাখতে পারেননি বলে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জীবন বাজি রেখে রাজনীতি করছেন। মৃত্যুর দুয়ার থেকে তিনি ফিরে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরে তিনি দলের অত্যন্ত ত্যাগী নেতা জহির উদ্দিন স্বপনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি একজন সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা। অনেক ত্যাগ ও কাঠখড় পুড়িয়ে তিনি রাজনীতিতে টিকে আছেন। হামলা-মামলা মোকাবিলা করে তিনি আজ মন্ত্রী হয়েছেন। ইয়াসের খান চৌধুরী হলেন প্রতিমন্ত্রী। ইয়াসের খান চৌধুরী একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানী। দীর্ঘদিন বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক লন্ডনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আগে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কম্পিউটার টেকনোলজি কোম্পানি আইবিএম ও ভোডাফোনে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ক্লিন ইমেজের মানুষ। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় উপদেষ্টা নিযুক্ত হয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান। গণমাধ্যমে তিনি পরিচিত মুখ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে তার যোগাযোগ ভালো। তাদেরও চেয়ারের ওপরে অনার বোর্ডে বিখ্যাতদের নামও আছে, অখ্যাতদের নামও আছে। তারা  যদি খ্যাতিমান ব্যক্তিদের কাতারে নিজেদের নাম রাখতে চান, তাহলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের হারানো ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে আগের মর্যাদায় ফিরিয়ে নিতে হবে বলে মনে করেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রতি প্রত্যাশা—তারা অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন—এই তিনটি ক্ষেত্রেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
অভিযোগের পাহাড়, তবুও বহাল পিআইবি মহাপরিচালক—কার ছত্রছায়ায় ফারুক ওয়াসিফ?

পিআইবিতে অনিয়মের নকশা: অভিযোগ, নথি ও টাইমলাইনে ফারুক ওয়াসিফ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একের পর এক অভিযোগ সামনে এলেও রহস্যজনকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং অভিযোগ, সবকিছু প্রকাশ্যে আসার পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন—যা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে সাংবাদিক সমাজ ও পিআইবির ভেতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সম্প্রতি এসব অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সরাসরি মহাপরিচালকের অপসারণ দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, “এটি আর শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিষয় নয়, এটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি।” আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি অভিযোগ কী কী? পিআইবির একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, বর্তমান মহাপরিচালকের আমলে— আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতার অভাব, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে পক্ষপাতিত্ব, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ।   প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এগুলো প্রকাশ্যে আসে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পরও নীরবতা কেন? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এত অভিযোগ, এত প্রতিবেদন, এমনকি প্রকাশ্য প্রতিবাদ কর্মসূচির পরও কেন কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি এখন “প্রশাসনিক উদাসীনতা”র সীমা ছাড়িয়ে “প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া”র ইঙ্গিত দিচ্ছে। পিআইবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অভিযোগগুলো নতুন নয়। কিন্তু এখন যেভাবে প্রমাণসহ সামনে এসেছে, তাতে ব্যবস্থা না নেওয়া মানে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া।” ভেতরের অসন্তোষ বেড়েই চলেছে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে কাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোতে স্বচ্ছতা নেই, মতামতের কোনো মূল্য দেওয়া হচ্ছে না এবং ভিন্নমত পোষণকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবেন। সাংবাদিক সমাজের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন। তাদের মতে, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ পুরো খাতের জন্যই নেতিবাচক বার্তা বহন করে।   কী বলছে নথি  অনুসন্ধানে পাওয়া কয়েকটি অভ্যন্তরীণ নথি (অফিস নোটশিট, বিল-ভাউচার, প্রকল্প অনুমোদনপত্র) বিশ্লেষণে দেখা যায়— প্রশিক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধি: একই সরবরাহকারীকে একাধিক কাজ: অন্তত ৩টি প্রকল্পে একই ভেন্ডর/সরবরাহকারীকে কাজ দেওয়ার নথি পাওয়া গেছে।  টেন্ডার প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতামূলক ছিল  না । বিল-ভাউচারে অসঙ্গতি: কিছু খাতে বিলের অঙ্ক ও অনুমোদিত বাজেটের মধ্যে অমিল লক্ষ্য করা গেছে।  নিয়োগ ও পদোন্নতি: প্রশ্নের মুখে প্রক্রিয়া নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে— নির্ধারিত যোগ্যতার বাইরে গিয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের উপেক্ষা করে পছন্দের প্রার্থীদের পদোন্নতি নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “বোর্ডে যা ঠিক হয়, শেষ পর্যন্ত সেটাই থাকে না—উচ্চপর্যায় থেকে পরিবর্তন আসে।” অডিট টিমকে দুই লক্ষ টাকা! জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি অডিট টীম পিআইবি তে কাজ করছে। ডিজির সাথে এই দুর্নীতির সহকারী নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও হিসাব কর্মকর্তা ফখরুল অডিট টিমকে দুই লক্ষ টাকা দিয়ে এই চুরির হিসাব নিকাশ সঠিক করছেন ফারুক ওয়াসিফ। মানববন্ধন: প্রকাশ্যে অপসারণ দাবি বর্তমান: কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেই  মাঠের প্রতিক্রিয়া মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন— “প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অস্বচ্ছ সিদ্ধান্তে চলছে” “ভিন্নমত দমন করা হচ্ছে” “অভিযোগ করলেই প্রশাসনিক চাপ আসে” তাদের দাবি, অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগ যাচাই করতে হবে। বড় প্রশ্নগুলো এই অনুসন্ধানে সামনে আসা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে— টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি? ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিক ব্যাখ্যা কোথায়? নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ম ভাঙার অভিযোগ তদন্ত হচ্ছে না কেন? একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নীরব কেন?  কর্তৃপক্ষের অবস্থান প্রতিবেদন তৈরির সময় ফারুক ওয়াসিফের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে— পিআইবির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা আরও দুর্বল হবে। নথি, সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক অভিযোগ—সব মিলিয়ে পিআইবির বর্তমান পরিস্থিতি একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, নাকি অভিযোগগুলো কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। প্রশ্ন রয়ে গেল অভিযোগগুলো তদন্তে বাধা কোথায়? কার প্রভাবে বহাল আছেন মহাপরিচালক? প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে কে? যতক্ষণ এসব প্রশ্নের উত্তর মিলছে না, ততক্ষণ পিআইবিকে ঘিরে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসন
বাগদাদে মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে অপহরণ, ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ার জড়িত থাকার আশঙ্কা

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :  মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে বাগদাদে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান-সমর্থিত একটি ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির মধ্যে এ ঘটনা ঘটল।   কিটলসন দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল ও ইরাক-সিরিয়ার গোত্রভিত্তিক বাস্তবতা নিয়ে গভীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তাকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্ত করার জন্য তারা কাজ করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গ্লোবাল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডিলান জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহর সঙ্গে জড়িত একজনকে এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইরাকি কর্তৃপক্ষ আটক করেছে।   যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ইরাকেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বারবার এসব গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়েছে, আর মিলিশিয়ারা ইরাকে মার্কিন দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করেছে।   ইরাক জানিয়েছে, সন্দেহভাজনরা পালানোর সময় একটি গাড়ি উল্টে গেলে সেটি আটক করা হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নিরাপত্তা বাহিনী একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।’   মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘জড়িত অন্যান্যদের খুঁজে বের করা এবং অপহৃত সাংবাদিককে মুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এক ইরাকি নিরাপত্তা সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, অপহরণের ঘটনা বাগদাদেই ঘটেছে। তবে ইরাকি কর্তৃপক্ষ অপহরণকারী বা ভুক্তভোগীর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।   সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এক বিবৃতিতে কিটলসনের অপহরণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তার নিরাপদ ও দ্রুত মুক্তি দাবি করেছে। তারা বলেছে, ‘আমরা তার গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিকতার পাশে আছি এবং তাকে দ্রুত ফিরে এসে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই।’   ইরাকের পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বেসামরিক পোশাক পরা চারজন ব্যক্তি তাকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, বাগদাদের রাস্তায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।তারা আরও জানান, অপহরণকারীদের গাড়ি রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের দিকে যাওয়ায় সেখানেই তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।   একসময় অপহরণ ও অপহরণের চেষ্টার জন্য কুখ্যাত ছিল বাগদাদ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এসব ঘটনা কমে আসে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতন এবং মিলিশিয়াদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্তির ফলে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর শক্তিও কিছুটা কমেছে।   তবে ইরান যুদ্ধ নতুন করে এসব মিলিশিয়া ও ইরাকি রাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৩ সালে বাগদাদে ইসরায়েলি-রুশ গবেষক এলিজাবেথ সুরকভ অপহৃত হন। তাকে দুই বছর আটকে রাখা হয় এবং গত বছর মুক্তি দেওয়া হয়। আটক অবস্থায় তিনি গুরুতর নির্যাতনের শিকার হন, যার ফলে স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি হয়।   যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরাকে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলার পর ইরাকে ঝুঁকি বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর ইরানের প্রভাব রয়েছে।   ডিলান জনসন বলেন, সাংবাদিককে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগেই সতর্ক করার মাধ্যমে পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের দায়িত্ব পালন করেছে এবং তিনি আবারও মার্কিন নাগরিকদের ইরাক ত্যাগের আহ্বান জানান।   তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র দপ্তর সাংবাদিকসহ সব মার্কিন নাগরিককে সব ভ্রমণ সতর্কতা মেনে চলার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দিচ্ছে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
মো. তাইজুল ইসলাম
কুড়িগ্রামের তাজু: হাসির খোরাক নাকি নাগরিক সাংবাদিকতার নতুন উদাহরণ?

হুমায়ুন ইসলাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার তাজু, যার আসল নাম তাইজুল ইসলাম, সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন। এক সাধারণ মানুষ হলেও তার সরল ভিডিওগুলো আজ একটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সরল প্রশ্ন, বড় প্রতিধ্বনি তাজুর ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির বিষয়বস্তু ছিল একটি দোকানে জিলাপির দাম সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন করা—“জিলাপি কত করে বিক্রি করছেন? সাদাডা কত, লালডা কত?”। যদিও প্রশ্নটি দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ অংশ, সামাজিক মিডিয়ায় এটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। অনেকেই তাকে হাস্যরসের খোরাক হিসেবে গ্রহণ করে, আবার অনেকে তার সরলতাকে প্রশংসা করেছেন। তাজু নিজে বলেন, “আমি সাংবাদিক নই। সাংবাদিকরা আমাদের চরাঞ্চলে আসেন না, তাই আমি নিজেই ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে। আমাকে ট্রল করলেও আমার কষ্ট নেই, আমি শুধু চাই আমাদের এলাকার উন্নয়ন হোক।” নাগরিক সাংবাদিকতার উদাহরণ সরাসরি সাংবাদিকতা না হলেও তাজুর উদ্যোগ নাগরিক সাংবাদিকতা বা সিটিজেন জার্নালিজমের উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন প্রথাগত মিডিয়া পুরো দেশব্যাপী পৌঁছাতে পারে না, তখন সাধারণ মানুষ তাদের নিজস্ব অঞ্চলের ঘটনা তুলে ধরতে পারে। ডা. মেহেদী হাসান, গণমাধ্যম গবেষক, মন্তব্য করেন, “তাজুর মতো মানুষ সমাজের প্রতিটি প্রান্তে ঘটে যাওয়া সমস্যাগুলো তুলে আনতে পারে। এটি মিডিয়ার ফাঁক পূরণ করার একটি নতুন পদ্ধতি।” প্রতিক্রিয়ার বিভাজন তাজুর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দুইভাবে দেখা গেছে: প্রশংসা: সরল ভাষায় জনগণের কষ্ট তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। বিনোদনমূলক ব্যঙ্গ: ভিডিওকে মজা করা, সরল প্রশ্নগুলোকে হাস্যরস হিসেবে দেখানো। তবে ইনভেস্টিগেটিভ দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আমরা কি শুধু তার সরলতাকে উপহাসের খোরাক বানাচ্ছি, নাকি প্রকৃত সমস্যার দিকে নজর দিচ্ছি? প্রান্তিক জনগণের কণ্ঠ তাজুর সরলতা প্রকৃতপক্ষে প্রতিফলিত করে প্রান্তিক মানুষের দৈনন্দিন দুঃখ। ব্রিজ, সেতু, রাস্তা, যোগাযোগের সমস্যা—এসব তার ভিডিওর আড়ালে লুকিয়ে থাকে। তার কণ্ঠ শুধু নিজের সমস্যা নয়, পুরো অঞ্চলের জনগণের এক ধরনের ক্ষোভ এবং দাবি প্রকাশ করে। সামাজিক বিশ্লেষক রুবিনা আক্তার বলেন, “যারা সামাজিক মিডিয়ায় তার ভিডিওকে মজা করছে, তারা হয়তো সেই অঞ্চলের বাস্তবতা বুঝতে পারছে না। তাজুর সরলতা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে—সামাজিক উন্নয়ন কি সবসময় মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, নাকি প্রান্তিক জনগণ নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসতে পারবে?”   তাজু ভাইরাল হয়েছেন হাসির খোরাক হিসেবে, কিন্তু তার ভিডিও আমাদের ভাবার সুযোগ দেয়—কীভাবে সাধারণ মানুষ সমাজের দুঃখ এবং সমস্যা তুলে ধরতে পারে। তার সরলতা এবং সাহস আমাদের শিখিয়ে দেয় যে নাগরিক সাংবাদিকতা শুধু প্রথাগত সাংবাদিকদের কাজ নয়; এটি যেকোনও মানুষের দায়িত্ব হতে পারে। তাজুর মতো কণ্ঠস্বর শোনার সুযোগ না দিলে সমাজ কি প্রকৃত সমস্যাগুলোর দিকে নজর দিতে পারত? সম্ভবত না। তাই তাজু শুধুমাত্র হাসির খোরাক নয়—সে প্রান্তিক জনগণের কণ্ঠ, যা আমাদের শোনার প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
তথ্য অধিদফতর
১৬৮ সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড এখনো অনিশ্চিত

ঢাকা: দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাতিল হওয়া ১৬৮ জন সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পুনর্বহাল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। আপিলের সুযোগ দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত গঠিত আপিল বোর্ড কোনো বৈঠকই করেনি, ফলে এসব সাংবাদিকের পেশাগত কার্যক্রম ঝুলে আছে অনিশ্চয়তায়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য অধিদফতর ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর ২০ জন, ৩ নভেম্বর ৩০ জন এবং ৭ নভেম্বর ১১৮ জনসহ মোট ১৬৮ জন সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সে সময়ের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা নিজামুল কবীরের সই করা পৃথক তিনটি আদেশে ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন নীতিমালা ২০২২’-এর একাধিক ধারা উল্লেখ করা হয়। কার্ড বাতিল হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে সম্পাদক, উপসম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক, টেলিভিশনের বার্তাপ্রধানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাজীবীরা রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলেও অধিকাংশের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলে জানা গেছে। এমনকি যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেসব মামলারও এখনো চার্জশিট দাখিল হয়নি। এদিকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার বাতিল হওয়া এসব কার্ড পুনর্বহালের সুযোগ দিয়ে আপিলের ব্যবস্থা করে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন আপিল কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং সদস্য সচিব তথ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. ইয়াকুব আলী। এছাড়া কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক নেতারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিক আপিল করলেও এখনো পর্যন্ত কমিটির কোনো বৈঠক হয়নি। ফলে আপিল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে আছে। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও আপিল কমিটির সদস্য শহীদুল ইসলাম জানান, আপিল বোর্ড থেকে অনুমোদন পাওয়া আবেদনগুলো সরাসরি তথ্য অধিদফতরে পাঠানো হলে নতুন কার্ড ইস্যু করা হবে। তবে এখনো কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। অন্যদিকে কমিটির সদস্য সচিব মো. ইয়াকুব আলীও স্বীকার করেছেন যে আপিল কমিটির বৈঠক এখনো হয়নি। তিনি বলেন, বৈঠকে যাচাই শেষে অনুমোদিত আবেদনগুলোর ভিত্তিতে দ্রুত কার্ড ইস্যু করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন নীতিমালা ২০২৫’-এ নতুন করে কিছু শিথিলতা আনা হয়েছে, যেখানে ফৌজদারি মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট না হওয়া পর্যন্ত কার্ড বাতিল না করার বিধান রাখা হয়েছে। এতে অনেক সাংবাদিক পুনরায় কার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন। তবে আগের বাতিলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ না থাকায় প্রশ্নও উঠেছে। নীতিমালার ধারা উল্লেখ করা হলেও কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ— তা পরিষ্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার আরও সুশৃঙ্খল করতে অ্যাক্রেডিটেশন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নীতিমালা-ভিত্তিক করা হবে। একই সঙ্গে অপব্যবহার রোধে প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরি করা হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো সাংবাদিক অন্যায়ভাবে বাদ পড়লে নীতিমালা অনুযায়ী তাদের কার্ড পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের মতামত নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ অবস্থায় ১৬৮ জন সাংবাদিকের পেশাগত ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আপিল বোর্ডের প্রথম বৈঠক ও সিদ্ধান্তের ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদ
বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদের পদত্যাগ

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ পদত্যাগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে তিনি পদত্যাগ করেছেন। বাসসের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, এমডি ও প্রধান সম্পাদকের জায়গায় এখন আর মাহবুব মোর্শেদের নাম নেই। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদকে দুই বছর মেয়াদে বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিল সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। এখন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন তিনি। সম্প্রতি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতির’ অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি গঠিত এ কমিটিকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ওই দিন সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘বাসসে যা ঘটেছে, তা দুঃখজনক। বাসস একটা সরকারি সংবাদ সংস্থা। এখানে নিয়োগ বহাল বা বাতিলের একটা বিধিবদ্ধ নিয়ম আছে। সরকার সেই নিয়মের মধ্যেই সবকিছু বিবেচনা করবে। যে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আলোচনা সাপেক্ষে বিধিবিধান অনুযায়ী তার সমাধান বের করা হবে।’ এর আগে রাজধানীর পল্টনে বাসসের কার্যালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংবাদ সংস্থার এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সাংবাদিক-কর্মচারীদের একটি অংশ কার্যালয়ে তাঁকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। বিক্ষোভের মুখে মাহবুব মোর্শেদ অফিস ছেড়ে চলে যান। পরে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন মাহবুব মোর্শেদ। সেখানে তিনি ‘মব তৈরি করে’ তাঁকে ‘অপসারণের’ জন্য চাপ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ব্রিটিশ গণমাধ্যমে মুসলিমবিদ্বেষ সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে
ব্রিটিশ গণমাধ্যমে মুসলিমবিদ্বেষ

আসুন আমরা এই ভদ্রোচিত মিথ্যাটি বাদ দিই যে ব্রিটিশ সাংবাদিকতা মুসলিমদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করে। তারা তা করে না। আর বর্তমানের তথ্য-উপাত্ত, যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত, তা সন্দেহাতীতভাবেই এটি প্রমাণ করে।   'সেন্টার ফর মিডিয়া মনিটরিং' ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে মুসলিমদের উপস্থাপনার ওপর এযাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের ফলাফল প্রকাশ করেছে। গবেষণায় ৩০টি প্রধান সংবাদমাধ্যমের ৪০ হাজর ৯১৩টি নিবন্ধ পরীক্ষা করা হয়েছে—পুরো এক বছরের সংবাদ কাভারেজকে ব্যবচ্ছেদ ও কোডিং করা হয়েছে এবং পক্ষপাতের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে পরিমাপ করা হয়েছে। এর উপসংহারটি অত্যন্ত ভয়াবহ: ২০২৫ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে মুসলিমদের নিয়ে করা মোট কাভারেজের প্রায় অর্ধেকই ছিল পক্ষপাতদুষ্ট। 'অর্ধেক'—এই সংখ্যা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনাকে নির্দেশ করে না, বরং এটি একটি পদ্ধতিগত বা কাঠামোগত সমস্যাকে তুলে ধরে। বিশ্লেষণ করা নিবন্ধগুলোর ৭০ শতাংশই মুসলিম বা ইসলামকে নেতিবাচক বিষয় বা আচরণের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আর এখানে পদ্ধতিগত একটি বিষয় রয়েছে, যা এই পরিসংখ্যানকে অস্বীকার করা আরও কঠিন করে তোলে: গবেষণাটি কেবল সেই নিবন্ধগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না যেখানে মুসলিমরা মূল বিষয় ছিল।  তথ্যভাণ্ডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য কোনো নিবন্ধে মুসলিমদের সম্পর্কে একটিমাত্র সাধারণ উল্লেখই যথেষ্ট ছিল। সেই বিচারে, গবেষণার পদ্ধতি ছিল বেশ উদার, এমনকি শিথিলও বলা চলে। তা সত্ত্বেও প্রায় অর্ধেক নিবন্ধই পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই ৫০ শতাংশের পরিসংখ্যান সম্ভবত পক্ষপাতের সর্বনিম্ন সীমা, সর্বোচ্চ নয়। এবার ঐতিহাসিক রেকর্ডের দিকে তাকানো যাক। পাঁচ বছর আগে, এই কেন্দ্রটি ২০১৮-১৯ সালের ১২ মাসের ব্যবধানে প্রকাশিত ৪৮ হাজারেরও বেশি নিবন্ধের ওপর একই প্যারামিটার ব্যবহার করে একটি মূল্যায়ন প্রকাশ করেছিল। তখন নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের হার ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ; যা এখন ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি কোনো সামান্য বিচ্যুতি নয়, বরং কাঠামোগত অবনতি। মুসলিমদের নিয়ে সংবাদ পরিবেশন কেবল শত্রুতাপূর্ণই হয়ে ওঠেনি, বরং এটি এখন একটি বার বার একই অপরাধ করার রোগে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এখন মুসলিমদের নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি অবজ্ঞাভরে নিবন্ধ প্রকাশ করছে।  ভাষ্যকার পিটার ওবোর্ন যখন বলেছিলেন যে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে—অনেক বেশি খারাপ—তখন তিনি মোটেও বাড়িয়ে বলেননি। উপাত্তগুলোই তা নিশ্চিত করছে। বিকৃত শব্দচয়ন ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো এখন আর মুসলিমদের নিয়ে প্রতিবেদন করছে না; বরং তারা তাদের বিরুদ্ধে রীতিমতো প্রচারণা চালাচ্ছে। একটি সম্প্রদায় নিয়ে সংবাদ প্রচার করা আর তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; একটি ধর্মকে পর্যবেক্ষণ করা আর সেটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের মধ্যেও তফাত আছে। এই সংকটের মূলে থাকা সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের পথ বেছে নিয়েছে: দ্য স্পেকটেটর, জিবি নিউজ, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, দ্য জিউস ক্রনিকল, দ্য ডেইলি এক্সপ্রেস, দ্য ডেইলি মেইল ও দ্য টাইমস। এগুলো কোনো প্রান্তিক কণ্ঠস্বর নয়। এগুলো সেই প্রতিষ্ঠান যারা জনমতের গতিপথ নির্ধারণ করে। আর এই প্রতিবেদনের প্রমাণ অনুযায়ী, তারা পদ্ধতিগতভাবে ব্রিটিশ মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ। তাদের ভাষা লক্ষ্য করুন। প্রতিবেদনে বিকৃত পরিভাষা ব্যবহারের যে বিশ্লেষণ দেওয়া হয়েছে, তা পড়লে মনে হবে এটি এমন এক শব্দকোষ যা তৈরি করেছে তারা যারা মুসলিমদের অস্তিত্ব মুছে দিতে চায়: ‘মুসলিম পুরুষদের গ্যাং’, ‘ঘাতক আদর্শ’, ‘ঘৃণা মিছিল’, ‘মৃত্যুর কাল্ট’, ‘ইসলামপন্থী ইহুদি-বিদ্বেষী’, ‘আধুনিকতাকে উৎখাত করা’, ‘তাণ্ডব চালানো’। এগুলো কোনো বর্ণনামূলক শব্দ নয়, এগুলো অস্ত্র। জিবি নিউজ নতুন যাত্রা শুরু করলেও পক্ষপাতের সব সূচকে তারা নিকৃষ্টতমদের কাতারে রয়েছে। ২০২৫ সালের একটি শিরোনাম তাদের সম্পাদকীয় সংস্কৃতিকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে: ‘আমাকে অভদ্র হতে দিন: মুসলিমরা ইহুদিদের প্রতি বর্ণবাদী’। এখানে লেখকের অবজ্ঞাকে ‘সাহস’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গোঁড়ামিকে যখন বীরত্ব হিসেবে বাজারজাত করা হয়, তখন সেটি আর সাংবাদিকতা থাকে না, উস্কানিতে পরিণত হয়। দ্য স্পেকটেটর-এ চরম পক্ষপাতের হার সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে; তাদের প্রতি চারটির মধ্যে একটি নিবন্ধকে ‘ভীষণ পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি এমন কোনো প্রকাশনা নয় যা মাঝেমধ্যে কুসংস্কারে হোঁচট খায়; বরং এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে মুসলিম-বিদ্বেষ ধারাবাহিকভাবে ফুটে ওঠে। দ্য স্পেকটেটর একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিল যেখানে তারা আপাত বিস্ময় প্রকাশ করেছে যে কেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মানুষকে ‘ঈদ মোবারক’ জানাবেন! একজন ব্রিটিশ নেতা এ দেশের অন্যতম পালিত একটি ধর্মীয় উৎসবের স্বীকৃতি দেওয়াকে যখন ব্যাখ্যা করার মতো বিষয় হিসেবে দেখা হয়, তখন এটিই আপনাকে বুঝিয়ে দেয় যে জনজীবনে মুসলিমদের উপস্থিতিকে কতটা প্রতিকূলতার চোখে দেখা হচ্ছে। আর এই প্রচারণা নতুন বছরেও থেমে নেই। ২০২৬ সালেও এটি অব্যাহত রয়েছে, যেখানে মুসলিমদের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। মুসলিম ভোটাররা তাদের অধিকার প্রয়োগ করাকে ‘সাম্প্রদায়িক ভোট’, ‘পারিবারিক ভোট ব্যাংক’ বা সন্দেহজনক ও সমন্বিত কিছু হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামভীতিমূলক শব্দকোষের সর্বশেষ সংযোজন। যখন একজন মুসলিম ভোট দেন, সেটি হয় ‘ব্লক ভোটিং’। যখন একটি মুসলিম সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়, সেটি হয় ‘গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’। এগুলো তাদের ব্যবহৃত ভাষা যারা প্রিন্ট মিডিয়ায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়—এবং তাদের ভাষা যারা লোকদেখানো ভণ্ডামি ছেড়ে স্রেফ আমাদের অস্তিত্বই মুছে দিতে চায়। বিপজ্জনক ও বিষাক্ত একটি তথ্য কেবল ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম নয়, বরং সবাইকে অভিযুক্ত করে। সেটি হলো ‘প্রাসঙ্গিক তথ্যের অনুপস্থিতি’ —অর্থাৎ পাঠককে একটি ঘটনা সঠিকভাবে বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়া। ৪৪ শতাংশ পক্ষপাতদুষ্ট নিবন্ধে এই চিত্র পাওয়া গেছে। পুরো ডেটাসেটে এটিই মিডিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এর জন্য সবসময় বিদ্বেষের প্রয়োজন হয় না। অত্যন্ত নগণ্য সংখ্যক মানুষের সম্পৃক্ততা আছে এমন চরমপন্থার কোনো খবর দেওয়ার সময় প্রেক্ষাপট উল্লেখ না করা; কোনো রাজনীতিবিদের উস্কানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে কোনো পাল্টা যুক্তি না দিয়েই তা উদ্ধৃত করা—এর জন্য ঘৃণার প্রয়োজন নেই, কেবল অবহেলাই যথেষ্ট। কিন্তু হাজার হাজার নিবন্ধ এবং ডজন ডজন সংবাদমাধ্যমে এই অবহেলার পুনরাবৃত্তি যখন ঘটে, তখন এর প্রভাবের দিক থেকে এটি আর বিদ্বেষের চেয়ে আলাদা থাকে না। বিবিসি সব সূচকেই পক্ষপাতের সর্বনিম্ন হার রেকর্ড করেছে। এই হতাশাজনক পরিস্থিতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি প্রমাণ করে যে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে মুসলিম ও ইসলাম নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা সম্ভব। জনসেবা বা পাবলিক সার্ভিসের দায়িত্বগুলো কেবল নিয়ন্ত্রণমূলক আমলাতন্ত্র নয়। এগুলো শিল্পের নিকৃষ্টতম প্রবৃত্তিগুলোকে ঠেকানোর একটি কার্যকর উপায়—যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের রক্ষা করার দাবিকে আগের চেয়ে আরও জরুরি করে তুলেছে। ব্রিটিশ সাংবাদিকতার অন্যতম অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব কেভিন ম্যাগুইয়ার কেন্দ্রের এই ফলাফলগুলোকে ‘লজ্জাজনক, বিপজ্জনক এবং বিষাক্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সঠিক। আর তার মতো একজন সাংবাদিক যখন জনসমক্ষে এটি বলতে বাধ্য হন, সেটিই প্রমাণ করে পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে। প্রশ্ন এখন আর এটা নয় যে এমনটা ঘটছে কিনা। উপাত্তগুলো তা পরিষ্কার করে দিয়েছে। প্রশ্ন হলো এখন কী হবে? সম্পাদকরা কি এই প্রতিবেদন পড়বেন এবং কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও তাদের নিউজরুমের সংস্কৃতিতে প্রকৃত কোনো পরিবর্তন আনবেন? নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো—যারা এতদিন এড়িয়ে যাওয়ার অবিশ্বাস্য মানসিকতা দেখিয়েছে—তারা কি শেষ পর্যন্ত প্রমাণের ভিত্তিতে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করবে? রাজনীতিবিদরা—যাদের অনেকে নির্বাচনি ফায়দার জন্য এই বিদ্বেষকে পুঁজি করেছেন ও ছড়িয়ে দিয়েছেন—তারা কি সততার সঙ্গে তাদের নিজেদের দায় স্বীকার করবেন? নাকি আমরা এই প্রতিবেদনটিকেও আগেরগুলোর মতো ফাইলবন্দি করে রাখব এবং উপযুক্ত জায়গায় কেবল উদ্বেগ প্রকাশ করে পরের গবেষণার জন্য অপেক্ষা করব, যা আমাদের ইতোমধ্যেই জানা সত্যগুলোকেই আবার নিশ্চিত করবে? ব্রিটিশ মুসলিমরা বিশেষ কোনো সুবিধা চাচ্ছে না। তারা কেবল তথ্যের নির্ভুলতা এবং ন্যায্যতার সেই মৌলিক মানদণ্ডটুকুই চাইছে যা সব সম্প্রদায়ের প্রাপ্য। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে কার্যকর গণমাধ্যমের জন্য এটিই সর্বনিম্ন চাহিদা। কিন্তু সেই সর্বনিম্ন চাহিদাটুকুও পূরণ হচ্ছে না। যারা এটি পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে তারা ভালো করেই জানে তারা কারা। আর এখন, বাকি সবাইও তা জেনে গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
গোপালগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর ছাত্রদলের হামলা
গোপালগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর ছাত্রদলের হামলা

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সিনিয়র সাংবাদিককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক কালাম তালুকদারকে রাতে গোপালগঞ্জের ২৫০-শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত কালাম তালুকদার কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। তিনি রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীফলবাড়ি গ্রামের প্রয়াত জবেদ আলী তালুকদারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিক কালাম তালুকদার জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার খবর সংগ্রহ করতে তিনি হলরুমে যান। সভা চলাকালে কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ, সদস্য সচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফা এবং ধারাবাশাইল সরকারি আদর্শ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হামিম বিশ্বাসসহ ১০-১২ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং টেনে-হিঁচড়ে নিচতলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা সাংবাদিক কালামকে উপজেলায় না যাওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোরা আর সাংবাদিকতা করতে পারবি না। তোদের যেন আর কোথাও না দেখি।’ পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বারবার ফোন করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গোপালগঞ্জের জেলা-উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ-জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
মিডিয়ার লাইসেন্স বাতিল করবেন ট্রাম্প
মিডিয়ার লাইসেন্স বাতিল করবেন ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ পরিবেশনে মার্কিন গণমাধ্যমকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচার নিয়ন্ত্রন সংস্থার প্রধান ব্র্যান্ডেন কার। যুদ্ধের খবর প্রচার পছন্দ না হলে মিডিয়ার সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প- বলে জানান তিনি।  শনিবার (১৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ব্রেন্ডন কার বলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে গুজব ও বিকৃত খবর প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে জনস্বার্থে কাজ করতে হবে, না হলে তাদের লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরও লেখেন, ইতিমধ্যে যেসব সম্প্রচারমাধ্যম ভুয়া খবর বা বিকৃত তথ্য প্রচার করছে, তাদের এখনই লাইসেন্স নবায়নের আগে নিজেদের সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে তার এই বক্তব্যের পরই সমালোচনার ঝড় ওঠে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এ মন্তব্যকে ‘স্পষ্টতই সংবিধানবিরোধী’ বলে আখ্যা দেন। সমালোচকদের দাবি, সংবাদ পরিবেশনের কারণে সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। অনেক ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক ও নাগরিক অধিকারকর্মী এই সতর্কবার্তাকে সেন্সরশিপের সঙ্গে তুলনা করেছেন।  হাওয়াইয়ের সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এই বার্তা মূলত এমন ইঙ্গিত দেয় যে যুদ্ধে ইতিবাচক কভারেজ না দিলে সম্প্রচার লাইসেন্স নবায়ন নাও হতে পারে। তার ভাষায়, এটি সংবাদমাধ্যমকে বলে দেওয়ার চেষ্টা যে যুদ্ধ কীভাবে কাভার করতে হবে। ব্রেন্ডন কার এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন। গত বছর কমেডিয়ান জিমি কিমেলের শো-তে প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করায় তিনি এবিসি চ্যানেলকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
পিআইবির মহাপরিচালকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন
পিআইবির মহাপরিচালকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

পিআইবির মহাপরিচালককে অপসারণের দাবি ,জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন ঢাকা: অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ‘পিবিআই বাঁচাও, ফারুক ওয়াসিফ হটাও’, ‘এক দফা এক দাবি, ফারুক ওয়াসিফ কবে যাবি?’, ‘ইয়ে করে দেখায়ে দিয়ে টাকাটাও ইয়ে করে দিও’, ‘মিথ্যায় হাবুডুবু ফারুক ওয়াসিফ’ ইত্যাদি প্লাকার্ড দেখা গেছে। আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং আসিফ নজরুল পক্ষপাতিত্ব করে অযোগ্য লোকদেরকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছিলেন সেই প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। বিজ্ঞাপন তারা বলেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পিএস ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছে। পিএস যদি ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয় তাহলে উনি কত কোটি টাকার মালিক হয়েছে এটা আপনারা চিন্তা করেন। কারণ সে যদি দুর্নীতিগ্রস্ত না হয় তার পিএস দুর্নীতিগ্রস্ত হতে পারে না। সে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। আপনারা দেখেছেন যে ইতিমধ্যে এই সজীবের সম্পদের হিসাব চাচ্ছে দুদক। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগগুলো তারা কিভাবে দিয়েছে এটা তদন্ত করতে হবে। তারা টাকা খেয়ে দিয়েছে না তারা পক্ষপাতিত্ব আত্মীয়স্বজনকে দিয়েছে এইটাও তদন্ত করে বের করে নিয়ে আসতে হবে। মানববন্ধন থেকে তথ্যমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, তথ্যমন্ত্রীর কাছে আহ্বান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ফারুক সাহেবকে সরিয়ে এখানে একটা যোগ্য অভিজ্ঞ একটা মহাপরিচালক দিবেন। কারণ এটা একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো। এখানে সাংবাদিকদের আস্থা। সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন গবেষণা হয়। সেই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে অযোগ্য অপদার্থ এবং স্বজনীতি প্রাপ্ত কিছু লোকজনের মাধ্যমে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ফারুক ওয়াসিফ
পিআইবি মহাপরিচালকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠছে সাংবাদিক সমাজ,অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন ১৫ মার্চ

ঢাকা: পিআইবি মহাপরিচালকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠছে সাংবাদিক সমাজ,অপসারনের দাবীতে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে। পিআইবি'র মহাপরিচালকের সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ মানববন্ধনের আয়োজন করেছে।  ১৫ মার্চ (রবিবার) বিকেল ৩ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হবে। পিআইবির মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ।   আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি     বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় মানবসম্পদ উন্নয়নের অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং প্রকাশনাসহ গণমাধ্যম সেক্টরের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ-পিআইবি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করলেও গত ১৭ বছরে এটি তার ভিশন, মিশন ও অভীষ্ট কর্মসূচি থেকে বহুদূরে গিয়ে দায়সারা ও এনজিওতাড়িত কর্মতৎপড়তায় তার কাজ ও দায়বদ্ধতা সীমিত করে ফেলেছে। রাষ্ট্রের অর্থে পরিচালিত হলেও পিআইবি আজ পুরোপুরি সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব করতে ব্যর্থ। আর এর প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের সাবাদিকতায় বিদ্যমান। অতীতে বহু কীর্তিমান জৈষ্ঠ সাংবাদিক ও গণমাধ্যম শিক্ষক-ব্যক্তিত্ব পিআইবি'র মহাপরিচালকের দায়িত্ব সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় ফারুক ওয়াসিফ নামে অপেক্ষাকৃত এক জুনিয়র সাংবাদিককে ডিজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় যার সাংবাদিকতায় কোনো অ্যাকাডেমিক সনদ এমনকি একটি ডিপ্লোমা ডিগ্রিও নেই। অথচ তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল হিসেবে মাস্টার্স ও পোস্ট-গ্রাজুয়েট ডিগ্রি দেওয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সম্পাদকীয় ডেস্কের বাইরে মাঠ পর্যায়েও তাঁর কোনো সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাও নেই। গত ১৮ মাস দায়িত্ব পালনকালে তিনি পিআইবিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেছেন। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দৈনিকে তাঁর অনিয়ম, দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতার ওপর  অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশে পিআইবির অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে অবিলম্বে অপসারণ এবং তার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবীতে  ১৫ মার্চ (রবিবার), ২০২৬ তারিখ ববকেল ৩ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ একটি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, আয়োজকরা বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে অবিলম্বে অপসারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করতে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0