Brand logo light

নির্বাচিত সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায়  তেহরানে
ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের বিবৃতি নিয়ে সমালোচনা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এছাড়াও এই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ উচ্চ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শুধুমাত্র তেহরানেই মারা গেছেন অন্তত ৫৭জন নাগরিক। এই ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শোক ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকও প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে শনিবার ইরান পাল্টা হামলা চালায় ইরান। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালায় ইরান। এমন অবস্থার মধ্যে রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে। যেখানে ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের 'কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে দাবি করে এর নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের এই বিবৃতিতে কোথাও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নামও উল্লেখ করা হয়নি। সেই সাথে ইরানে হামলার ঘটনায়ও কোনো নিন্দা জানানো হয়নি। রোববার সন্ধ্যায় ওই বিবৃতিটি প্রকাশের পর সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা যায়। এ নিয়ে মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে বিবিসি বাংলা। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন অবস্থানকে 'একপেশে' মনে করছেন কূটনীতিক বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকরা। সাবেক কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত ন্যায় সঙ্গত হওয়া উচিত ছিল। আমরা জানি না এই বিবৃতি কী কারো চাপে পড়ে দিয়েছে, নাকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজে থেকেই দিয়েছে"। এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে এই বিবৃতিতে এ-ও বলেছে, চলমান শত্রুতা কেবল আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বেসামরিক জনগণের কল্যাণকেও বিপন্ন করবে। যা আছে বাংলাদেশের বিবৃতিতে শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরই এর জবাব দিতে শুরু করে ইরান। প্রথম ইসরায়েল ও পরে মধ্যপ্রাচ্যের যে সব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সে সব ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান পাল্টা হামলা চালায়। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকও করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঐ অঞ্চলে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিও দেয়। সেখানে বাংলাদেশ সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা পরিহার এবং অবিলম্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানায়। রোববার ভোরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলে উত্তেজনা আরো বাড়তে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যে। বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার তীব্র প্রতিবাদও জানানো হয়। রোববার বিকেলে ঢাকায় বিক্ষোভ করে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীও। এই অবস্থার মধ্যে রোববার বিকেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনায় একটি বিবৃতি দেয়। এতে ইরানে হামলার পর সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সতর্ক করে এই বিবৃতিতে বলেছে, চলমান শত্রুতা কেবল আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বেসামরিক জনগণের কল্যাণকে বিপন্ন করবে। দেশটি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং মতপার্থক্য নিরসনের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ এই অঞ্চলের কিছু দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দাও জানায় বাংলাদেশ। কূটনীতিক বিশ্লেষকেরা কী বলছেন? মূলত এই বিবৃতির পরই এ নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা তৈরি হয় বাংলাদেশে। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কূটনীতি বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের সংবিধানেই বলা আছে দেশের অবস্থান হবে যে কোনো ধরনের আগ্রাসন বিরোধী। কিন্তু এই ইস্যুতে বাংলাদেশ বেশ সতর্ক অবস্থানে থেকেছে বলেও মনে করছেন কূটনীতিক বিশ্লেষকরা। সাবেক কূটনীতিকদের কেউ কেউ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিকে একপেশে বলে বর্ণনা করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, "সংবিধান বলছে আগ্রাসনের বিরোধিতা করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের পক্ষে থাকতে হবে। একই সাথে কেউ যদি অবৈধভাবে বলপ্রয়োগ করে তার বিরুদ্ধেও অবস্থান থাকা উচিত"। তিনি মনে করেন, এই ইস্যুতে বর্তমান সরকারের উচিত ছিল বিবৃতিতে সব পক্ষের নাম উল্লেখ করা। একই সাথে দুই পক্ষের হামলার নিন্দা জানানো। কিন্তু সেটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করেনি। চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন মুন্সি ফয়েজ আহমেদ, তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সম্প্রতি যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে ইরান আগে আক্রান্ত হয়েছে। ইরানে আগ্রাসন চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যখন ইরান আক্রান্ত হয়েছে, তখন জবাব দিয়েছে তারা। তিনি বলছিলেন, যখন মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইরানে হামলা হয়ে থাকে, ইরান যখন আক্রান্ত হচ্ছে, তখন অবশ্যই তার অধিকার আছে তা প্রতিহত করার। 'বাংলাদেশের এই বিবৃতি কারো চাপে পড়ে দিয়েছে কী-না,' এই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আগ্রাসন তো আগে চালিয়েছে ইসরায়েল- যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন এমন অবস্থান নিচ্ছে সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে যে ধরনের বক্তব্য আশা করেছিলাম সে ধরনের বক্তব্য পাই নি"। একজন বাংলাদেশিসহ নিহত তিনজন ইরানের পাল্টা হামলায় দুবাই এয়ারপোর্ট, কাতার, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোববারও ইরান ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলা চালাতে দেখা গেছে। ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আরব আমিরাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এই হামলায় একজন বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও নেপালি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন অন্তত ৫৮ জন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ১৬৫ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে এবং এগুলোর মধ্যে ১৫২ টি ধ্বংস করেছে। এছাড়াও দু্ইটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ২, ২০২৬ 0
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
দরিদ্র পরিবার থেকে যেভাবে ক্ষমতার শীর্ষে উঠে এসেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মারা গেছেন। ইরানে ৭ দিনের ছুটি ও ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনির মেয়ে এবং নাতিও মারা গেছেন বলে জানা যাচ্ছে।  চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে...............................         ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের একটি ধর্মীয় পরিবারে ১৯৩৯ সালের ১৯শে এপ্রিল জন্ম হয়েছিল আলী খামেনির। আট ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।   তার বাবা সৈয়দ জওয়াদ খামেনি ছিলেন স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত একজন শিয়া পণ্ডিত। মা খাদিজে মির্দামাদীও একজন ধার্মিক নারী ছিলেন।   শৈশবে মায়ের কাছেই কোরআন শিক্ষাসহ ইসলাম ধর্মের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রাথমিক জানাশোনা হয় আলী খামেনির।   মি. খামেনির বিভিন্ন স্মৃতিকথা থেকে জানা যায়, তার মা খাদিজে মির্দামাদী কোরআন তেলাওয়াতের কণ্ঠ 'খুব ভালো' ছিল। তিনি এটাও উল্লেখ করেছেন যে, শৈশবে তার চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা ছিল 'অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ'। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মারা গেছেন। ইরানে ৭ দিনের ছুটি ও ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনির মেয়ে এবং নাতিও মারা গেছেন বলে জানা যাচ্ছে। ব্রেকিং নিউজ জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে...............................       আলী খামেনির বয়স যখন চার বছর, তখন বড় ভাই মোহাম্মদের সঙ্গে তিনি স্থানীয় একটি মক্তবে যাওয়া শুরু করেন। নিজের স্মৃতিকথায় মি. খামেনি বলেছেন যে, তিনি মক্তবের শিক্ষককে ভয় পেতেন।   কারণ ওই শিক্ষক প্রতি শনিবার শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত পেটাতেন।   আলী খামেনির শৈশব কেটেছে অভাবের সংসারে। দারিদ্র্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন যে, ছোটবেলায় তাকে ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের মাঝে মধ্যেই ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হতো।   এছাড়া মলিন ও পুরোনো পোশাকের জন্য শৈশবে মি. খামেনিকে তার মাদ্রাসার সহপাঠীরা প্রায়ই কটাক্ষ করতো। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে তাদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদও লেগে যেতো।   স্মৃতিকথায় মি. খামেনি উল্লেখ করেছেন যে, ছোটবেলায় তার একজোড়া 'ফিতাওয়ালা জুতা'র খুব শখ ছিল।   মক্তবের পর স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি হন আলী খামেনি। যদিও তার বাবা সৈয়দ জওয়াদ খামেনি পাশ্চাত্যের শিক্ষাব্যবস্থার বিরোধিতা করতেন।   ছোট থেকেই আলী খামেনি চোখে কম দেখতেন। দুর্বল দৃষ্টিশক্তির কারণে তিনি শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ড ও শিক্ষকদের ঠিকমত দেখতে পেতেন না।   কিন্তু দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিষয়টি কেউ ধরতে পারেনি। ফলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া পর্যন্ত তাকে 'ভীষণ বোকা ও অলস ছাত্র' হিসেবে বর্ণনা করা হতো।   দুর্বল দৃষ্টিশক্তির বিষয়টি ধরা পড়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, মি. খামেনি চশমা ব্যবহার শুরু করেন।   এরপর তিনি লেখাপড়ায় নিজের উজ্জ্বল প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের শীর্ষ মেধাবী শিক্ষার্থীদের একজন হয়ে ওঠেন।   তবে বাবার বিরোধিতার মুখে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি আলী খামেনি। তখন ধর্মীয় শিক্ষার জন্য তাকে শিয়া মুসলিমদের পবিত্র নগরী কোমে পাঠানো হয়।   স্মৃতিকথায় আলী খামেনি বলেছেন যে, কৈশোরে সাহিত্যের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ জন্মেছিল, বিশেষত উপন্যাস ও কবিতার প্রতি।   পরবর্তীতে তিনি কবিদের বিভিন্ন সভা ও কবিতার আসরে যোগ দিতে শুরু করেন।   সাহিত্যের প্রতি অনুরোগ এতটাই বেশি ছিল যে, কোমে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগেই তিনি এক হাজারেরও বেশি উপন্যাস পড়ে ফেলেছিলেন বলে স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন মি. খামেনি।   সেসব উপন্যাসের মধ্যে লিও টলস্টয়, ভিক্টর হুগো এবং রোমা রোলার মতো বিখ্যাত লেখকদের বইও ছিল।   যৌবনে আলী খামেনি 'আমিন' ছদ্মনামে কবিতাও লেখা শুরু করেন।   ছাত্র থাকাকালে মি. খামেনি ১৯৫৫ সালে কোমে একটি সভায় যোগ দেন। সেখানে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সঙ্গে তার দেখা হয়, যার নেতৃত্বে পরে ইরানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়।   কোমে পড়াশোনা করার সময় আলী খামেনি ইরানের তৎকালীন শাসক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধাচরণ শুরু করেন।   ১৯৬২ সালে তিনি আয়াতুল্লাহ খোমেনির ধর্মীয় আন্দোলনে যোগ দেন।   এরপর তরুণ আলী খামেনি ধীরে ধীরে মি. খোমেনির একজন একনিষ্ঠ অনুসারী হয়ে ওঠেন। মৃত্যুর আগে বিভিন্ন স্মৃতিকথায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জীবনে যা কিছু শিখেছেন এবং যা বিশ্বাস করেন, সবই খোমেনির ইসলামী ভাবধারা থেকে প্রাপ্ত।   শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধে সরাসরি বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েছিলেন আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন।   বিপ্লবের আগ পর্যন্ত আলী খামেনির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত মাশহাদ শহরকেন্দ্রিক ছিল।এরপর ১৯৭৭ সালে তিনি সপরিবারে তেহরানে চলে যান।   একই বছরের ডিসেম্বরে গ্রেফতার এড়াতে আলী খামেনি ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বৃহত্তম প্রদেশ সিস্তান ও বেলচিস্তানে চলে যান।   ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি পুনরায় তেহরানে ফিরে আসেন। সেসময় বিপ্লবী পরিষদে দায়িত্ব পান আলী খামেনি।   পরবর্তীতে তিনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরকে সংগঠিত করতে সহায়তাও করেন।   এই বিপ্লবী গার্ড ইরানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।   ১৯৮১ সালের জুন মাসে, তেহরানের একটি মসজিদে বোমা হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। তার ওপর ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল দেশটির বামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ওপর। এই ঘটনায় তার ডান হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে।   দুই মাস পর, একই বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইরানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ-আলী রাজাইকে হত্যা করে।   রাজাইয়ের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে আলী খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আট বছর ধরে আনুষ্ঠানিক এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি।   ওই সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মির হোসেইন মুসাভির সঙ্গে নানা মতবিরোধে জড়ান। কারণ তিনি মনে করতেন, মুসাভি ইরানের ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সংস্কার আনতে চাইছেন।   ১৯৮৯ সালের জুনে খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ (ধর্মীয় আলেমদের একটি পরিষদ) আলী খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করে।   যদিও তিনি সংবিধানে নির্ধারিত শিয়া ধর্মগুরুদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদমর্যাদা বা 'গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ' উপাধি অর্জন করতে পারেননি।   পরে ইরানের সংবিধানে সংশোধন আনা হয়। সংশোধনীনে বলা হয়েছিল যে, সর্বোচ্চ নেতাকে "ইসলামী পাণ্ডিত্য অর্জন করতে হবে এবং আলী খামেনি নির্বাচিত হতে পারবেন। পরে রাতারাতি তাকে হোজ্জাতুল ইসলাম থেকে আয়াতুল্লাহ পদে উন্নীত করা হয়েছিল।   ইরানের সংবিধানে তখন আরও একটি পরিবর্তন আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী পদ বাতিল করা হয় এবং প্রেসিডেন্টের হাতে অধিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়।   নিজের শাসনামলে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ছয়জন প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন। যাদের অনেকেই খামেনির কর্তৃত্বকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ করলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেননি।   তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর গত শনিবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৩, ২০২৬ 0
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কে?

১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে এক ধর্মীয় পণ্ডিতের ঘরে জন্ম নেওয়া আলী খামেনি নিজ শহরের ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে পড়াশোনা করেন, পরে যান শিয়া মুসলিমদের পবিত্র নগরী কোমে। ১৯৬২ সালে তিনি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধাচরণকারী আয়াতুল্লাহ খোমেনির ধর্মীয় আন্দোলনে যোগ দেন। তরুণ আলী খামেনি খোমেনির একজন একনিষ্ঠ অনুসারী হয়ে ওঠেন। তার নিজের ভাষায়, তিনি যা করেছেন এবং এখন যা বিশ্বাস করেন, সবই খোমেনির ইসলামী ভাবধারা থেকে প্রাপ্ত। আলী খামেনি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধে সরাসরি বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং বেশ কয়েকবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর, আলী খামেনি বিপ্লবী পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরকে সংগঠিত করতে সহায়তাও করেন। এই বিপ্লবী গার্ড ইরানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ১৯৮১ সালের জুন মাসে, তেহরানের একটি মসজিদে বোমা হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। তার ওপর ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল দেশটির বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ওপর। এই ঘটনায় তার ডান হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। দুই মাস পর, একই বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইরানের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ-আলী রাজাইকে হত্যা করে। রাজাইয়ের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে আলী খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আট বছর ধরে আনুষ্ঠানিক এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি। এই সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মির হোসেইন মুসাভির সঙ্গে নানা মতবিরোধে জড়ান। কারণ তিনি মনে করতেন, মুসাভি ইরানের ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সংস্কার আনতে চাইছেন। আলী খামেনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরে ১৯৮৯ সালের জুনে খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ (ধর্মীয় আলেমদের একটি পরিষদ) আলী খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। যদিও তিনি সংবিধানে নির্ধারিত শিয়া ধর্মগুরুদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদমর্যাদা বা 'গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ' অর্জন করতে পারেননি। পরে ইরানের সংবিধানে সংশোধন আনা হয়। সংশোধনে বলা হয়েছিল যে, সর্বোচ্চ নেতাকে "ইসলামী পাণ্ডিত্য অর্জন করতে হবে এবং আলী খামেনি নির্বাচিত হতে পারবেন। পরে রাতারাতি তাকে হোজ্জাতুল ইসলাম থেকে আয়াতুল্লাহ পদে উন্নীত করা হয়েছিল। ইরানের সংবিধানে তখন আরও একটি পরিবর্তন আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী পদ বাতিল করা হয় এবং রাষ্ট্রপতির হাতে অধিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। ইরানের সংবিধানও পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রপতির হাতে বৃহত্তর কর্তৃত্ব ন্যস্ত করা হয়েছিল। আয়াতুল্লাহ খামেনি শাসনামলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ছয়জন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেন। যাদের অনেকেই খামেনির কর্তৃত্বকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ করলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেননি। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সংস্কারপন্থী নেতা মোহাম্মদ খাতামি। মি. খাতামি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চেয়েছিলেন। মি. খাতামি প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ইরানের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও তখন সর্বোচ্চ নেতা খামেনি এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। মি. খাতামির পরে তার উত্তরসূরি হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রক্ষণশীল নেতা মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে। মি. আহমাদিনেজাদকে কেউ কেউ আয়াতুল্লাহ খামেনির অনুসারী মনে করতেন। কিন্তু অর্থনীতি এবং বৈদেশিক নীতি নিয়ে আহমাদিনেজাদ সরকারের অবস্থান তখন ইরানে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। একই সাথে মি. আহমাদিনেজাদ নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সাথে তার বিরোধিতা হয়। ২০০৯ সালে আহমাদিনেজাদের বিতর্কিত পুনঃ-নির্বাচন ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় আন্দোলনের জন্ম দেয়। সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ওই নির্বাচনের ফলাফল বৈধ বলে ঘোষণা দেন এবং তীব্র আন্দোলন দমনে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। এই দমন অভিযানে অনেক বিরোধী কর্মী নিহত হন, গ্রেফতার হন হাজার হাজার মানুষ। ২০১৩ সালে ইরানের উদারপন্থী নেতা হাসান রুহানি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং বিশ্বশক্তিগুলোর সাথে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি করেন। এই চুক্তি খামেনির সম্মতিতেই সম্পন্ন হয়। তবে রুহানির নাগরিক অধিকার প্রসার ও অর্থনৈতিক সংস্কার উদ্যোগে বাধা দেন সর্বোচ্চ নেতা খামেনি। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে এসে ইরানের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সাধারণ ইরানিদের অর্থনৈতিক দুর্দশা আরও বাড়তে শুরু করে। রুহানি সেই চাপ সামলাতে ব্যর্থ হন এবং ২০১৯ সালের নভেম্বরে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের মাটিতে একটি ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করে। সোলেইমানি আয়াতুল্লাহ খামেনির ঘনিষ্ঠ মিত্র ও ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন। এই হামলার পর খামেনি সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধের ঘোষণা দেন। ইরাকের দুটি মার্কিন ঘাটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। পরে তিনি বলেছিলেন, ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের প্রতিশোধমূলক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল 'আমেরিকার গালে চপেটাঘাত'। খামেনি তখন জোর দিয়ে বলেছিলেন, "এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।" শীর্ষ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ খামেনি বহুবারই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি ইসরায়েলকে "একটি ক্যানসার আক্রান্ত টিউমার" আখ্যা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইসরায়েলকে মুছে ফেলার ফেলার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি প্রকাশ্যে হলোকাস্ট বা 'ইহুদি গণহত্যা' আদৌ ঘটেছিল কি-না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। ২০১৪ সালে তার টুইটার অ্যাকাউন্টে উদ্ধৃত একটি বার্তায় বলা হয়েছিল: "হলোকাস্ট এমন এক ঘটনা যার বাস্তবতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে, আর যদি ঘটেও থাকে, সেটা কীভাবে ঘটেছিল, তাও স্পষ্ট নয়। " ২০২০ সালে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং ইরানের সরকার দুটি বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। প্রথম সংকটটি শুরু হয় ওই বছর আটই জানুয়ারি। তখন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি ভুল করে ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান তেহরানের কাছে ভূপাতিত করে। এতে বিমানে থাকা ১৭৬ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন। যাদের অনেকেই ছিলেন ইরানি নাগরিক। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার ফলে ইরানের ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কট্টরপন্থী সংবাদপত্রগুলি পদত্যাগের দাবি জানায় এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভের নতুন ঢেউ ওঠে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলির ব্যবহারও করে বলে অভিযোগ ছিল। সে সময় শুক্রবারের জুমার নামাজের বিরল এক খুতবায় আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, "বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তিনি মর্মাহত"। তবে তিনি তখন সামরিক বাহিনীর পক্ষই নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের শত্রুরা এই ট্র্যাজেডিকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে, ইরানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ছড়িয়ে পড়ে। আয়াতুল্লাহ খামেনি প্রথমে করোনাভাইরাসের হুমকিকে খাটো করে দেখেছিলেন, বলেছিলেন যে ইরানের শত্রুরা এটিকে ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবে অতিরঞ্জিত করছে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বাছাই হয় কিভাবে? ২০২১ সালে ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা এব্রাহিম রাইসি। চলতি বছরের জুনে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৯শে মে ইব্রাহিম রাইসি এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা গেলে প্রেসিডেন্ট পদটি শূন্য হয়ে যায়। রাইসির মৃত্যুর পর জুলাইয়েই ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন সংস্কারপন্থী নেতা মাসুদ পেজেশকিয়ান। প্রায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ খামেনি স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যায় ভুগছেন গত কয়েক বছর ধরে। তিনি মারা গেলে বা পদত্যাগ করলে কে হবেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা, এই প্রশ্ন ঘিরে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। আয়াতুল্লাহ খামেনির বয়স এবং সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তিনি যে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে, সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে কে তার উত্তরসূরি হতে পারেন তা নিয়ে অবিরাম জল্পনা-কল্পনা চলছে। আয়াতোল্লোহ খামেনির পরবর্তীতে ইব্রাহিম রাইসিকেই পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচিত হবেন বলেই মনে করা হচ্ছিল। সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষের সময় তাকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় সম্ভাব্য তিনজন উত্তরসূরির নাম জানিয়েছিলেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এই পদে কে থাকবেন তা নির্ধারণ করেন বিশেষজ্ঞমণ্ডলী বা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস নামে ৮৮ জন ধর্মীয় নেতার একটি পরিষদ। ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতোল্লা আলি খামেনেই দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন দ্বিতীয় ব্যক্তি। এই মণ্ডলীর সদস্যদের নির্বাচন করা হয় প্রতি আট বছর অন্তর। কিন্তু কারা গোষ্ঠীর সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন তা নির্ভর করে দেশটির গার্ডিয়ান কাউন্সিল নামে একটি কমিটির অনুমোদনের ওপর। আর এই গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচন করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। অর্থাৎ এই দুটি পরিষদ বা মণ্ডলীর ওপর সর্বোচ্চ নেতার প্রভাব থাকে। গত তিন দশক ধরে আলী খামেনি নিশ্চিত করেছেন যে বিশেষজ্ঞ মণ্ডলীর নির্বাচিত সদস্যরা যেন রক্ষণশীল হয় - যারা তার উত্তরসূরি নির্বাচনের সময় তারই নির্দেশ মেনে চলবে। নির্বাচিত হবার পর, সর্বোচ্চ নেতা তার পদে আজীবন বহাল থাকতে পারেন। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা হতে হবে একজন আয়াতুল্লাহকে, অর্থাৎ যিনি একজন শীর্ষস্থানীয় শিয়া ধর্মীয় নেতা। কিন্তু আলী খামেনিকে যখন নির্বাচন করা হয়েছিল, তিনি আয়াতুল্লাহ ছিলেন না। তখন তিনি যাতে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন, তার জন্য আইন পরিবর্তন করা হয়েছিল।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১, ২০২৬ 0
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
খামেনির মৃত্যু হলে থমকে যাবে না ইরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি ১৯৮৯ সাল থেকে দেশটি শাসন করছেন, বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হচ্ছেন। ৮৬ বছর বয়সী এই শিয়া ইসলামি নেতা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হন। যদিও খামেনি তেহরানে ছিলেন না এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, তবুও এই হামলা ইরানের আঞ্চলিক শক্তি এবং পারমাণবিক কার্যক্রমের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। গত কয়েক দশক ধরে খামেনি উপসাগরীয় অঞ্চলে সুন্নি মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন এবং পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়ন করেছেন। এই কর্মকাণ্ডগুলি পার্শ্ববর্তী দেশগুলির জন্য এক ধরনের আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক এখন উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা পরবর্তী সময়ে। ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এর আগে, জুন মাসে বেশ কয়েকজন রেভল্যুশনারি গার্ড কমান্ডারের প্রাণহানির পর খামেনি আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। ইরান সরকারের বিরুদ্ধে গত জানুয়ারিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছিল, যা কঠোরভাবে দমন করা হয়েছিল এবং হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। ইরান সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটিকে একটি বড় সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নিরাপত্তা শনিবার সকালে তেহরানসহ একাধিক শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা চললেও, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্পর্কে নিশ্চিত করা হয়েছে যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তার কোনো ক্ষতি হয়নি। এই হামলার পর শহরগুলোর আকাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিস্থিতির চরম উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বিশ্ব রাজনীতিতে ইরানের ভূমিকা এই হামলা শুধু ইরান নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল করে তুলবে। আয়াতুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বের পরবর্তীকালে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে, এবং সামরিকভাবে তেহরানকে মোকাবিলা করার জন্য আন্তর্জাতিক শক্তিগুলি আরও পদক্ষেপ নিতে পারে।   ইরানের উপর এই হামলা, দেশের রাজনৈতিক সংকট এবং আঞ্চলিক প্রভাবের উপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে হচ্ছে। বিশ্বের নজর এখন ইরানের পরিস্থিতির দিকে। বিশেষত, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিরাপত্তা এবং তার শাসন ব্যবস্থার ভবিষ্যত কেমন হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১, ২০২৬ 0
ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইউক্রেন থেকে মধ্যপ্রাচ্য: ইরানের ড্রোন কৌশল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভুল হিসাব কি বড় যুদ্ধের ইঙ্গিত?

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহৃত ইরানি ‘শাহেদ’ ড্রোন যখন প্রথম বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে, তখন পশ্চিমা বিশ্ব একে তুলনামূলকভাবে কম খরচের একটি ‘উপদ্রব’ অস্ত্র হিসেবেই দেখেছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই ড্রোনই এখন তেহরানের সামরিক কৌশলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসি -এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের এই কৌশলগত রূপান্তরের ভাষা বুঝতে ওয়াশিংটন গুরুতর ভুল করছে—যার ফল হতে পারে একটি অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক যুদ্ধ। উত্তেজনার পুনরুত্থান ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী সংঘাতের পর পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চুক্তিতে ফেরার জন্য সীমিত সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে তেহরান প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘কারবালা’র আদর্শে চূড়ান্ত প্রতিরোধের। পশ্চিমা কৌশলগত ধারণা ছিল—অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা এখন ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। ‘শাহেদ’ ড্রোন: সস্তা অস্ত্র, বড় প্রভাব ‘শাহেদ’ সিরিজের ড্রোন কম খরচে উৎপাদনযোগ্য, সহজে মোতায়েনযোগ্য এবং সমন্বিত আক্রমণে কার্যকর। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে ইরান ইসরায়েলের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে স্বল্পমূল্যের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ইরানের সক্ষমতা বেড়েছে। দুই ভিন্ন কৌশলগত ভাষা ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে সামরিক চাপ হলো কূটনৈতিক দর-কষাকষির একটি হাতিয়ার। কিন্তু ইরানের কাছে এটি আদর্শিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্প্রতি ‘কৌশলগত সংযম’ থেকে সরে এসে ‘কারবালার লড়াই’-এর ভাষা ব্যবহার করছেন। শিয়া রাজনৈতিক দর্শনে ‘কারবালা’ মানে অন্যায়ের কাছে নতিস্বীকার না করে আত্মত্যাগের পথ বেছে নেওয়া। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘সীমিত হামলা’র পরিকল্পনাও করে, তেহরান সেটিকে অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। প্রক্সি শক্তির অনিশ্চিত প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা—ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো যেমন হিজবুল্লাহ , হুথি কিংবা কাতাইয়িব হিজবুল্লাহর মতো দুর্বল হয়ে পড়ায় ঝুঁকি কমেছে। কিন্তু সমরবিদদের মতে, অস্তিত্ব সংকটে পড়া পক্ষ প্রায়ই আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ইরানের ওপর সরাসরি হামলা হলে এসব গোষ্ঠী কেবল তেহরানকে রক্ষার জন্য নয়, নিজেদের শক্তি ও প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণের লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে পারে। উত্তরাধিকার রাজনীতি ও কট্টরপন্থার সম্ভাবনা পশ্চিমা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, খামেনি-পরবর্তী ইরান হয়তো নরম নীতি গ্রহণ করবে। কিন্তু তেহরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় থাকা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস ইতোমধ্যে সম্ভাব্য উত্তরাধিকার পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে—যা আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সীমিত হামলা ইরানের কট্টরপন্থি অংশকে আরও ঐক্যবদ্ধ করে তুলতে পারে। ‘নিয়ন্ত্রিত হামলা’ না অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ? প্রুশীয় সমরবিদ ক্লজউইৎস বলেছিলেন, “যুদ্ধে সব কিছুই খুব হজ, কিন্তু সহজ বিষয়গুলোই করা সবচেয়ে কঠিন।” ওয়াশিংটনের মানচিত্রে যা একটি ‘নিয়ন্ত্রিত হামলা’ বলে মনে হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল বাস্তবতায় তা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের আদর্শিক ও কৌশলগত ভাষা সঠিকভাবে বুঝতে পারছে? নাকি ভুল ব্যাখ্যা ও পারস্পরিক অবিশ্বাস মধ্যপ্রাচ্যকে আরেকটি বিস্তৃত যুদ্ধে ঠেলে দেবে? বিশ্ব রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায় নির্ভর করছে এই কৌশলগত বোঝাপড়ার ওপরই।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে বিদেশে স্টেশন ম্যানেজার পদায়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এ বিদেশি স্টেশনগুলোতে স্টেশন ম্যানেজার পদায়নকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনভিজ্ঞ ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   নীতিমালা উপেক্ষা, অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিদেশে পদায়ন প্রচলিত গ্রাউন্ড সার্ভিস ম্যানুয়াল (ICAO/IOSA) অনুযায়ী বিদেশে স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে দেশের অভ্যন্তরে ঢাকার বাইরে অন্তত একবার তিন বছরের জন্য স্টেশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সদ্য পদায়িত একাধিক কর্মকর্তারই ঢাকার বাইরে কোনো স্টেশনে কাজের অভিজ্ঞতা নেই। বিশেষ করে কুয়েত স্টেশনে নতুন স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে শামীমা পারভীনকে পদায়ন ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তার আগে একই স্টেশনে দায়িত্বে ছিলেন তার স্বামী মো. শাহজাহান। স্বামীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একই কর্মস্থলে স্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়ার নজির অতীতে নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যোগ্যতার নির্ধারিত অভিজ্ঞতাও তার নেই।   ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা—ইব্রাহিম, মো. মিজানুর ও তন্ময় কান্তি বিশ্বাস—চাকরির বয়স মাত্র পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পরই বিদেশে পদায়ন পেয়েছেন। পূর্ববর্তী নীতিমালায় বিদেশে স্টেশন পরিচালনার জন্য ন্যূনতম ৮ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন ছিল। তবে ২০২৩ সালের প্রশাসনিক আদেশে তা কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, এই সংশোধনটি করা হয়েছিল বিশেষ গোষ্ঠীকে সুযোগ করে দিতে। যদিও সংস্থার সভায় আদেশটি পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।   সিনিয়রিটি লঙ্ঘনের অভিযোগ ডেপুটি ম্যানেজারদের মধ্যে সিনিয়র কর্মকর্তা মো. ফারুক তালুকদার এবং শাহীনা আক্তার দেশে ঢাকার বাইরে স্টেশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশে পদায়ন পাননি। একইভাবে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারদের মধ্যেও সিনিয়রিটি তালিকার শীর্ষে থাকা মোহাম্মদ সালেহউদ্দিনসহ অন্তত ১৩ জন পদায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক আদেশ ৩৬/২০২৩ অনুযায়ী ভাইভা বোর্ডে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রার্থী ডাকার বিধান থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।   মানব পাচার মামলার আসামিকেও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে দায়িত্ব ম্যানচেস্টার স্টেশনে স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে মনিরুল ইসলাম প্রধানের পদায়ন নিয়েও তীব্র সমালোচনা চলছে। প্রায় চার বছর আগে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কর্মরত অবস্থায় মানব পাচার মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তিনি আটক হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে দায়িত্ব দেওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ বলছেন কর্মকর্তারা।   গুয়াংজু ও দিল্লি স্টেশনেও বিতর্ক গুয়াংজু স্টেশনে আশরাফুল হকের পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অতীতে অতিরিক্ত ব্যাগেজ সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি স্টেশনে ইয়ারত হোসেনের পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ অতীতে তিনি ভিভিআইপি সফরসঙ্গী হিসেবে ঘনিষ্ঠতার সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   সিন্ডিকেট ও উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে, পুরো পদায়ন প্রক্রিয়ার নেপথ্যে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করেছে। এতে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিকুর রহমান, সিএফও নওশাদ হোসেনসহ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা জড়িত বলে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া সাবেক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তিনি একসময় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিমানের চেয়ারম্যান—দুই পদেই দায়িত্বে ছিলেন। তার আমলে দুর্নীতির মাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।   লোকদেখানো সাক্ষাৎকারের অভিযোগ গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত স্টেশন ম্যানেজার পদায়নের মৌখিক পরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, নির্বাচিত ব্যক্তিদের নাম আগেই চূড়ান্ত ছিল; সাক্ষাৎকার ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। প্রশাসনিক আদেশ অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তি থাকলে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে ভাইভায় ডাকা যাবে না। অথচ বিতর্কিত অতীত থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন কর্মকর্তা ভাইভা দিয়ে পদায়ন পেয়েছেন।   নীরব কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিমান মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি।   দেশের ভাবমূর্তি, প্রবাসী যাত্রীদের আস্থা ও বৈদেশিক রাজস্বের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থায় এ ধরনের অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উদ্বেগজনক। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংস্থাটির ভেতরের বহু কর্মকর্তা-কর্মচারী।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর:গোপনীয়তা ও তদারকিতে বিতর্ক

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদদের সম্মাননা এবং তৎকালীন শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে ঘোষিত সময়েও জাদুঘর উদ্বোধন সম্ভব হয়নি। এখনো চলছে নির্মাণকাজ—আর সেই কাজকে ঘিরেই বাড়ছে প্রশ্ন ও বিতর্ক। উদ্বোধন হয়নি, প্রবেশ নিষিদ্ধ গত বছরের ৫ আগস্ট উদ্বোধনের ঘোষণা থাকলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। ১৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেয় প্রফেসর ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও জাদুঘর এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করছেন বিদায়ী সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। জাদুঘরে প্রবেশাধিকার এখনো সীমিত। সাংবাদিক পরিচয়েও ভেতরে ঢোকার অনুমতি মিলছে না। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া প্রবেশ সম্ভব নয়। অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সহকারী রসায়নবিদ মো. আনিছুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব জানিয়েছেন, “এখন কাউকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। আগামী মাসে উন্মুক্ত করা হবে।” উল্লেখ্য, জাদুঘরটি প্রশাসনিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর-এর সঙ্গে সংযুক্ত রাখা হয়েছে, যদিও আলাদা কোনো ওয়েবসাইট বা বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ১১১ কোটি টাকার প্রকল্প ও সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি জাদুঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১১ কোটি ১৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা। শুরুতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দুটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইএম (ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল) অংশের কাজ পায় ‘শুভ্রা ট্রেডার্স’ এবং পূর্ত অংশের কাজ পায় ‘দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’। পরে সমালোচনার মুখে গণপূর্ত বিভাগ পুনরায় দরপত্র আহ্বান করলেও শেষ পর্যন্ত একই প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের সুযোগে অনিয়মের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিদায়ী উপদেষ্টার কমিটি গঠন নিয়ে প্রশ্ন দায়িত্ব ছাড়ার দুইদিন আগে নির্মাণকাজ তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়, যার সভাপতি হন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিজেই। পদত্যাগের পরও কমিটিতে নাম রেখে নিয়মিত জাদুঘরে যাতায়াত করছেন তিনি। এ বিষয়ে যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) মু. বিল্লাল হোসেন খান জানান, “কমিটিতে নাম থাকায় তিনি সেখানে যেতে পারেন।” তবে পদত্যাগের পরও কমিটিতে দায়িত্ব পালন করার আইনগত ভিত্তি নিয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ফারুকী দাবি করেন, “আমি শুধু কাজটি নির্বিঘ্নে শেষ করার সহায়তা করছি। পুরো কিউরেটোরিয়াল ডিজাইন আমার করা।” নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও বিতর্ক জাদুঘর পরিচালনায় ৯৬ জন লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াও বিদায়ী উপদেষ্টার প্রভাবাধীন—এমন আলোচনা বিভিন্ন মহলে ছড়িয়েছে। যদিও ফারুকী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ৯৯ বছরের লিজ ও প্রশাসনিক কাঠামো গণভবনের সম্পূর্ণ জমি ও স্থাপনা ৯৯ বছরের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ নামে লিজ দেওয়া হয়েছে। জমির আয়তন ১৭.৪৬৭৯ একর। বার্ষিক খাজনা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার টাকা। লিজ দলিলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান স্বাক্ষর করেন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে জাদুঘর পরিদর্শন করেন। যদিও তাঁর পুরো মেয়াদেও জাদুঘর উদ্বোধন সম্ভব হয়নি। প্রশ্ন উঠছে—গণভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে কেন্দ্র করে নির্মাণাধীন এই জাদুঘরের কাজ কেন এত গোপনীয়তার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে? পদত্যাগের পরও বিদায়ী উপদেষ্টার সক্রিয় ভূমিকার আইনগত ভিত্তি কী? সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ? জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলছে, অধিকাংশ কাজ শেষ। কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বাকি। দ্রুতই এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে ১১১ কোটি টাকার এই প্রকল্প ঘিরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’-এর স্মৃতি সংরক্ষণের এই উদ্যোগই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে যেতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
বরিশাল আদালত ভাঙচুর -আইনজীবী গ্রেফতার
বরিশাল আদালতে ভাঙচুর : ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা,আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকন কারাগারে

বরিশালের অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনকে কেন্দ্র করে বিচারকের উপস্থিতিতেই হট্টগোল, ভাঙচুর ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, বিচার কার্যক্রম চলাকালে কয়েকজন আইনজীবী এজলাস কক্ষে প্রবেশ করে চেয়ার-টেবিল উল্টে দেন এবং বিচারকের দিকে আঙুল তুলে প্রতিবাদ জানান। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার বরিশাল জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকন-কে বুধবার দুপুরে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।   কী ঘটেছিল এজলাসে? মঙ্গলবার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ একটি মামলার শুনানি করছিলেন। এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন কোর্ট রেজিস্ট্রার ও কোর্ট পুলিশের সদস্যরাও। এজলাসে হঠাৎ কয়েকজন আইনজীবী প্রবেশ করে উত্তেজিত আচরণ শুরু করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তারা বিচারকের দিকে আঙুল তুলে উচ্চস্বরে কথা বলছেন। একপর্যায়ে আদালত কক্ষে থাকা অন্য আইনজীবীদের বের করে দেওয়া হয় এবং চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও ধমকাতে শোনা যায়।   জামিন ইস্যু থেকেই উত্তেজনা জানা গেছে, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস-কে জামিন দেওয়াকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা তৈরি হয়। জেলা আইনজীবী সমিতির ডাকে সেদিন আদালত বর্জনের কর্মসূচিও চলছিল। অভিযুক্ত আইনজীবীরা দাবি করেন, জামিন অযোগ্য মামলায় অর্থের বিনিময়ে জামিন দেওয়া হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। গ্রেফতারের আগে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে সাদিকুর রহমান লিংকন বলেন, “যেসব মামলায় উচ্চ আদালত জামিন দেয়নি, সেসব মামলায়ও ম্যাজিস্ট্রেট জামিন বিবেচনা করছিলেন। আমরা আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই।”   মামলা ও গ্রেফতার   বিএনপিপন্থী ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।দ্রুত বিচার আইনে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ মামলা করেন বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, আদালতের বেঞ্চ সহকারী বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এজাহারভুক্ত ১২ জনসহ অজ্ঞাত আরও ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। নামধারী অন্যান্য আসামিরা হলেন- বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিমউদ্দিন পান্না, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন এবং বসিরউদ্দিন সবুজ। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি মামলার আসামির জামিনকে কেন্দ্র করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালের মুখ্য ও অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং বিচারকদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়। আসামিরা বিচারকদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে আদালতে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেন এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেন। দুপুর আড়াইটার দিকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়তুল্লাহর এজলাসে প্রবেশ করে তারা শুনানিরত আইনজীবীকে শুনানি করতে নিষেধ করেন এবং তাকে হুমকি দেন। এ সময় সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন এজলাসে উপস্থিত আইনজীবীদের বের হয়ে যেতে নির্দেশ দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, এক আইনজীবীকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। আইনজীবী মিজানুর রহমান বিচারককে এজলাস থেকে নেমে যেতে বলেন। এছাড়া জিআরও শম্ভু কাঞ্চি লাল ও কোর্ট পরিদর্শক তারক বিশ্বাসকে ধাক্কা দিয়ে এজলাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় ডায়াসের মাইক্রোফোন ভাঙচুর, এজলাসের বেঞ্চ ও টেবিল ভাঙচুর এবং মামলার রেজিস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকনকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।  লিংকনকে গ্রেফতার করা হলে আদালত প্রাঙ্গণে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের একটি অংশ তার মুক্তির দাবিতে আদালত বর্জন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।   বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন ঘটনাটি নিয়ে দেশের আইন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, আদালতের এজলাসে বিচারকের সামনেই যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবীরা মত দেন, কোনো আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে উচ্চতর আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জেলা জজ, হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি প্রতিকার পাওয়ার পথ খোলা। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, আদালতের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে। কেউ আহত হয়ে থাকলে ফৌজদারি মামলাও হতে পারে। তিনি আরও বলেন, “মব ভায়োলেন্স বা দলীয় প্রভাব থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।”   রাজনৈতিক প্রভাব ও আইন পেশা বিশ্লেষকদের মতে, আইন পেশাকে রাজনৈতিক সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়ছে। এতে বিচার বিভাগ ও আইন পেশার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তারা বলছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।   বরিশাল আদালতের এ ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ভাঙচুরের ঘটনা নয়—এটি বিচার বিভাগের মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে নেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
বিএনপি
জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতিতে বিএনপি,দল পুনর্গঠনে জোর, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে আসছে নতুন নেতৃত্ব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এবার দল পুনর্গঠনে মনোযোগী হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রমজান ও আসন্ন ঈদের পর জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। প্রায় এক দশক পর হতে যাচ্ছে দলটির জাতীয় কাউন্সিল, যা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ বিরতির পর কাউন্সিল বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। এরপর নানা প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আর কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়া, পরে অসুস্থতা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর দেশের বাইরে অবস্থান এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলার কারণে দল সাংগঠনিক কার্যক্রমে চাপে ছিল। দলীয় সূত্র মতে, বর্তমান অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশে এবার পূর্ণাঙ্গ ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বেই সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। দলীয় নেতাকর্মীরা আশা করছেন, তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় কাউন্সিল হবে অধিকতর সফল ও কার্যকর। জানা গেছে, এবারের কাউন্সিলে দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে। নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে দলকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত পুনর্গঠন জাতীয় কাউন্সিলের আগে সারাদেশে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো দ্রুত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও অন্যান্য ইউনিট পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকি করবেন সিনিয়র নেতা ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও এই কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি করবেন বলে জানা গেছে। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী— আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয়দের পরিবর্তে তরুণ ও সক্রিয় নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ত্যাগী নেতাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে পুরনো কমিটি, শূন্য পদ ও পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা বর্তমানে ৫৯২ সদস্যের পুরনো কেন্দ্রীয় কমিটি দিয়েই চলছে দলীয় কার্যক্রম। এতে অর্ধশতাধিক পদ শূন্য রয়েছে এবং শতাধিক নেতা নিষ্ক্রিয় বলে জানা গেছে। জাতীয় কাউন্সিল হলে অন্তত দেড়শতাধিক নেতা নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে কেন্দ্রীয় কমিটির পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে এখন থেকেই ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিটে কাউন্সিলর হওয়ার প্রতিযোগিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতা ও বাস্তবতা দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কাউন্সিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকেও নির্দিষ্ট সময় পরপর কাউন্সিল আয়োজন করতে হয়। বিএনপি বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন কমিশনকে পরিস্থিতির কথা জানিয়ে সময় বাড়িয়ে নিয়েছিল। প্রস্তুতি কমিটি গঠন শিগগিরই ঈদের পর সিনিয়র ও মধ্যম সারির নেতাদের নিয়ে একটি প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হবে। তারা সারাদেশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাউন্সিলের সকল প্রস্তুতি এগিয়ে নেবে। সুবিধাজনক সময়ে অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলেই গঠন করা হবে নতুন নির্বাহী কমিটি। দলীয় সূত্রের দাবি, এবারের জাতীয় কাউন্সিল আগের ছয়টি কাউন্সিলের চেয়েও বেশি জাঁকজমকপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হবে। নির্বাচনী বিজয়ের পর বিএনপির সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা। প্রায় এক দশক পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন সেই প্রক্রিয়ারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দল নতুন নেতৃত্ব ও কৌশল নির্ধারণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।  

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
জহির উদ্দিন স্বপন
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে কারাভোগ করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়ে নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দুইবারের সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিপুল ভোটে বিজয় এবারের নির্বাচনে স্বপন পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট। প্রায় ৪৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে তিনি সরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ১৮ বছর পর এ আসনে বিএনপির জয় দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার সরিকল গ্রামে জন্ম নেওয়া স্বপনের রাজনৈতিক উত্থান ছাত্র রাজনীতি থেকে। আশির দশকে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৩ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে দলের মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-র উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল বলে দলীয় সূত্র জানায়। আন্দোলন চলাকালে তিনি একাধিকবার কারাভোগ করেন। সংসদীয় অভিজ্ঞতা স্বপন ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-1 আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিলেও পরে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূমিকা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও রয়েছে তার অভিজ্ঞতা। তিনি দুইবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়া আইনপ্রণেতাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক পার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশনের এশিয়া অঞ্চলের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষাজীবন ও প্রতিক্রিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা স্বপন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই। দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে দায়িত্ব পালন করব। আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাই।” এলাকায় উৎসবের আমেজ দীর্ঘ ১৮ বছর পর এ আসনে বিএনপির জয় এবং এলাকার একজন নেতার মন্ত্রী হওয়ায় গৌরনদী–আগৈলঝাড়া এলাকায় উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ উদযাপন ও মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় বরিশাল অঞ্চলে বিএনপির রাজনৈতিক পুনরুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কে কোন মন্ত্রণালয় পেয়েছেন তার তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি
নতুন মন্ত্রিসভা কোন মন্ত্রণালয় কে পেলেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কে কোন মন্ত্রণালয় পেয়েছেন তার তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু পেয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে দেওয়া হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পেয়েছেন আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট)। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পেয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।আব্দুল আউয়াল মিন্টু পেয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেওয়া হচ্ছে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে। ভূমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পেয়েছেন যথাক্রমে মিজানুর রহমান মিনু ও নিতাই রায় চৌধুরী। আ ম ন এহসানুল হক মিলন পেয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; ফকির মাহবুব আনাম পেয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। শেখ রবিউল আলম পেয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; জহির উদ্দিন স্বপন পেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ পেয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়; আফরোজা খানম পেয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পেয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আসাদুল হাবিব দুলু পেয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; মো. আসাদুজ্জামান পেয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; জাকারিয়া তাহের পেয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং দীপেন দেওয়ান পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
বিএনপি- জামায়াত
২০ বছর পর চতুর্থবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি, প্রথমবার বিরোধী দলে জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রায় দুই দশক পর আবারও সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, দলটি এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে অনেক বেশি আসনে জয় পেয়েছে। ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলন–সংগ্রামের পর নতুন সরকার গঠনের পথ এখন প্রায় নিশ্চিত। নিরঙ্কুশ জয় বিএনপির নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২১০টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং তাদের মিত্ররা পেয়েছে আরও ৩টি আসন। ফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মোট আসন দাঁড়িয়েছে ২১২। সরকার গঠনের জন্য যেখানে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে কমপক্ষে ১৫১টি আসনে জয় প্রয়োজন, সেখানে বিএনপি এককভাবেই সেই সাংবিধানিক শর্ত পূরণ করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন এবং তাদের মিত্ররা আরও ৩টি আসন অর্জন করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি আসনে জয় পেয়েছে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৭টি আসনে। সব মিলিয়ে সংসদে একটি নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি হতে যাচ্ছে। তারেক রহমানের উত্থান এই নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর রাজনৈতিক উত্থান। তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—এই দুই আসনেই বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি অংশ নিয়ে জয় পেলেন তিনি। বিএনপির পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, দল সরকার গঠন করলে তারেক রহমানই হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে গত বছরের শেষ দিকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফিরে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দল পুনর্গঠন, জোট সম্প্রসারণ এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন তার রাজনৈতিক জীবনে বড় মোড় এনে দিয়েছে। বিএনপির সরকার গঠনের ইতিহাস সবশেষ ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলে সেই মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে। এরপর দীর্ঘ সময় দলটি বিরোধী দলে বা আন্দোলনের রাজনীতিতে ছিল। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার নেতৃত্বে দলটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। সংসদে নতুন সমীকরণ এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদে প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। অতীতে তারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে সরকার ও বিরোধী দলে ছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নিয়ে তারা সংসদে শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে অবস্থান নিতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক মেরুকরণের পর একটি নতুন ক্ষমতার কাঠামো তৈরি হচ্ছে, যেখানে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। সামনে কী চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর সংসদের প্রথম অধিবেশন, সরকার গঠন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ—এসব ধাপ সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফল বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখন নজর থাকবে নতুন সরকার কীভাবে অর্থনীতি, গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে নীতিগত পরিবর্তন আনে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
গণভোট
গণভোট: ৪ কোটি ৮০ লাখ ‘হ্যাঁ’, ২ কোটি ২৫ লাখ ‘না’

গণভোটে চার কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ‘হ্যাঁ’ এবং ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার জন ‘না’ ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুায়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। ইসি সচিব জানান, গণভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। তথ্যের বিভ্রাট যেন না হয়, সেই কারণে ফল প্রকাশে দেরি হলো। আখতার আহমেদ জানান, ২৯৭টা আসনের বেসরকারি ফলাফলে ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তিনি আরও জানান, বিএনপি ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণ অধিকার ১টি, বিজেপি ১টি, গণসংহিত ১টি, খেলাফত মজলিস ১টি এবং স্বতন্ত্র ৭টিতে জয়ী হয়েছে। সারা দেশে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ২৯৯টি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বড় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে আগেই ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাদের অধীনেই দীর্ঘ ১৮ মাস পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল। বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সামগ্রিকভাবে ‘সন্তোষজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার সকালে গুলশানে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে বলেন, ‘আজকের দিনটি নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আগামীর বাংলাদেশ গড়বে।’

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের নেতৃত্বে ইতিহাস রচিত

একটা অনির্বাচিত সরকারের হাত থেকে দেশকে গণতন্ত্রায়নের পথে নিয়ে যেতে সশস্ত্রবাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) সদস্যরা যে ভূমিকা রেখেছেন তা ইতিহাসে অবস্মরণীয় হয়ে থাকবে, বলছেন দেশের আপামর সচেতন মানুষ। সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন এখন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ করে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তাঁর বিশেষ প্রচেষ্টায় এবং নেতৃত্বেই ঐতিহাসিক এক অকল্পনীয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো, দেশে ফিরে এলো গণতন্ত্র। প্রতিটি সাধারণ-সচেতন মানুষ এমন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রশংসা করছেন। ৫ আগস্ট, ২০২৪ এর পরে মানুষ সুশাসন, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং পরিবর্তনের যে স্বপ্ন দেখেছিল তা ধুলিস্মাৎ করে দিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মানুষেকে হতাশ করেছেন। যে কারণে মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখছিল অনির্বাচিত সরকারের পরিবর্তে নতুন একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশের। কিন্তু ড. ইউনূস ক্ষমতা ছাড়াতও কোনো ক্রমেই রাজি হচ্ছিলেন না। রাজনৈতিক দলগুলোর রোডম্যাপের দাবিকে তিনি বার বারই এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানই প্রথম এক বক্তৃতায় ঘোষণা করেন, ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচনে সেনাবাহিনী সরকারকে সহযোগিতা করবে। তাক্ষণিকভাবে সরকারের তরফ থেকে সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করা হয়। কিন্ত জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর লক্ষ্যে অটল থাকেন। অনেকে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে এও গুজব ছড়িয়েছে, ‘আর্মি ক্ষমতা টেকওভার করছে।’ কোনো কোনো মহল থেকে এ ব্যাপারে নেপথ্যে উস্কানিও দেওয়া হয়েছে। এত কিছু সত্ত্বেও ওয়াকার উজ জামান অত্যন্ত ধৈর্য্যরে সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। গণতন্ত্রায়নের পথে ছিলেন অবিচল। গত বছরের মে মাসে সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে তিন বাহিনীর প্রধানরা যমুনায় ড. ইউনূসের সাক্ষাত করে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোর দাবি জানান। এসবের কারণেই মূলতঃ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাধ্য হন লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক ও নির্বাচন আয়োজনের সমঝোতায় যেতে। কিন্তু লন্ডন বৈঠকের সমঝোতায়ও ড. ইউনূস পরবর্তীতে ঠিক থাকতে চাননি। একেক সময় একেক কথা বলেছেন। জামায়াত-এনসিপির নির্বাচন বিরোধী ভূমিকায় নেপথ্য থেকে তা দিয়েছেন। নানামুখী চাপে পড়ে অবশেষে ৫ আগস্ট, ২০২৫ বাধ্য হয়ে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্ধারণের কথা ঘোষণা করেন। এর ধারাবাহিকতায় নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ ও পরবর্তীতে তফসিল ঘোষণা হয়। তবে বরাবরই এমনকি নির্বাচন হয়ে যাওয়ার মুহূর্তেও দফায় দফায় বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে নির্বাচন নিয়ে। অনিশ্চয়তা, গুজব ও নেতিবাচক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে। এতসব বাধা অতিক্রম করে কল্পনাতীত অবাধ, সুষ্ঠু-নিরপক্ষে পরিবেশে নির্বাচন হয়ে গেলো। ‘কল্পনাতীত’ বলা হচ্ছে এ কারণে যে, তফসিল ঘোষণার পরদিনই ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সারা দেশ উত্তাল হয়ে উঠে। তখনই মনে করা হয়েছিল, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কত ঘটনা যে ঘটবে এর ইয়ত্তা নেই। বিশেষ করে নির্বাচনের দিনকে সামনে রেখে সর্বমহলেরই বড় আশংকা ছিল। সব আশংকা এবং জল্পনা-কল্পনাকে মিথ্যা প্রমাণ করে অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশের মধ্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক নির্বাচন হয়ে গেছে। এত বাধা-বিঘ্ন দূর করে দেশকে নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রধান কৃতিত্ব জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানেরই। বিশ্বে এবং বাংলাদেশেও অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে, সেনাবাহিনীর ভূমিকা থাকে গণতন্ত্র বিরোধী। নিজেদের কর্তৃত্ব এবং ক্ষমতা গ্রহণের প্রতি আগ্রহ থাকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্তমান নেতৃত্বের এ ক্ষেত্রে নতুন নজির স্থাপন করলো। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান (মাঝে) এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানেরও এতে ভূমিকা রয়েছে। সশস্ত্রবাহিনীর প্রধান হিসেবে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের আন্তরিকতা, উদ্যোগ ও একাগ্রতা বিশেষভাবে প্রশংসার দাবিদার। নির্বাচনের পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি প্রশংসায় ভাসছেন। অনেকে বলছেন, এই মানুষটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে তাঁর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে। সম্ভাব্য এক গৃহযুদ্ধের দুঃস্বপ্ন থেকে দেশকে রক্ষা করার কৃতিত্ব তাঁরই। ইতিহাস রচনা করে গেলেন তিনি। সেনাপ্রধানসহ সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের প্রতি স্যালুট জানাচ্ছে মানুষ।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
ইলিয়াস পত্নী লুনা ও রুমিন ফারহানাসহ জয়ী হলেন ৭ নারী
সংসদে যাচ্ছেন ৭ নারী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দীর্ঘ ২০ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২৯৯টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পেয়েছে দলটির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করেছে বিএনপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ দুই দশক পর দলের এ প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংসদে যাচ্ছেন ৭ নারী বিজয়ীদের মধ্যে বিএনপি থেকে ছয়জন নারী প্রার্থী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। এছাড়া একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বিজয়ী নারী প্রার্থীরা হলেন: মানিকগঞ্জ-৩: আফরোজা খান রিতা ঝালকাঠি-2: ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো সিলেট-২: তাহসিনা রুশদীর লুনা ফরিদপুর-২: শামা ওবায়েদ ফরিদপুর-৩: নায়াব ইউসুফ কামাল নাটোর-১: ফারজানা শারমিন পুতুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (স্বতন্ত্র) রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নারী প্রার্থীদের এই উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি সংসদে নারীর অংশগ্রহণ আরও জোরদার করবে এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ২০ বছর পর চতুর্থবার বিএনপি এর আগে তিন দফা সরকার গঠন করেছিল। এবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের পথে দলটি। দীর্ঘ ২০ বছর পর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনকে দলীয় নেতাকর্মীরা ‘গণরায়ের বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নির্বাচন-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিস্তারিত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
চরমোনাই পীর ফয়জুল করীম
বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে পরাজিত মুফতি ফয়জুল করিম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর -০৫ ও বরিশাল-০৬ বাকেরগঞ্জ এ দুইটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটি আসনেই পরাজিত হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম। এরমধ্যে বরিশাল সদর-৫ আসনে বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১৭৬টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ফয়জুল করিম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ২১৬ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৯, নারী ভোটার দুই লাখ ৩২ হাজার ৯১৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার তিনজন। নির্বাচনে এ আসনে ৪৮ পার্সেন্ট ভোট কাস্ট হয়। বিজ্ঞাপন একইভাবে বরিশাল ৬ বাকেরগঞ্জ সংসদীয় আসনে বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮১ হাজার ৮৭ ভোট সে বিজয় হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাহামুদুন্নবী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট। তৃতীয় স্থানে ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ফজলুল করিম। তিনি হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট। বাকেরগঞ্জ উপজেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এ আসনে মোট ভোটার দুই লাখ ৯৫ হাজার ৫০৯। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৪৯ হাজার ৬০০, নারী ভোটার এক লাখ ৪৫ হাজার ৯০৬ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার তিনজন। এই আসনে মোট ১ লক্ষ ৭০হাজার ভোট কাস্ট হয়। এদিকে দুটি আসনে নির্বাচন করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েন। তবে দুটি আসনেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ খুঁজছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। অনেকের মতে নগরবাসীর সঙ্কাই সত্যি হলো। জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়ায্য়ম হোসাইন হেলাল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই মানতে পারেননি জামাত ইসলামের অনেক নেতা কর্মীরা। এছাড়া জামাতের বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিষাদগার হাত পাখার প্রার্থীর বিজয় অন্যতম কারন বলে মনে করছেন অনেকেই। এক প্রকার ক্ষোভের কারণে জামায়াতে ইসলামের অনেক ভোটার হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিতে কেন্দ্রে জাননি। যার ফলশ্রুতিতেই বরিশাল সদর আসনে পরাজয়ের গ্লানি মেনে নিতে হচ্ছে দলটিকে। একইভাবে বরিশাল ৬ বাকেরগঞ্জ আসনেও তৃতীয় হয়েছেন ফয়জুল করিম। এ আসনে জামাত প্রার্থী বিএনপি'র প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
নিরঙ্কুশ জয় বিএনপির, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পথ সুগম

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, জোটটি মোট ২১০টি আসনে জয়লাভ করেছে—যা এককভাবে সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত এবং শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোট গণনা শেষে বিভিন্ন আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান-ই নতুন সরকারের নেতৃত্ব দেবেন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশ আবারও একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধু সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়; বরং দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের সূচনা। ইতিহাসের প্রেক্ষাপট: তিন দশকের নারী নেতৃত্বের অবসান? বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কাজী জাফর আহমেদ। ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশে আর কোনো পুরুষ প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেননি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা। তাদের নেতৃত্বে প্রায় তিন দশকের বেশি সময় দেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে। এবার সেই ধারাবাহিকতায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিজয় উদযাপনে সংযমের নির্দেশ নিরঙ্কুশ জয় সত্ত্বেও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি সংযমের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। কোনো ধরনের মিছিল বা উচ্ছ্বাসমূলক শোভাযাত্রা না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলের প্রেস উইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে— “নিরঙ্কুশ বিজয় উপলক্ষে বাদজুমা সারা দেশে শুকরিয়া আদায় করে বিশেষ দোয়া করা হবে। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংযত অবস্থান দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বার্তা বহন করছে। সামনে কী? এখন দৃষ্টি নতুন সরকার গঠন, মন্ত্রিসভা বিন্যাস এবং প্রথম দফার নীতিগত ঘোষণা ঘিরে। অর্থনীতি, নির্বাচন-পরবর্তী স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—সবকিছুই নতুন সরকারের অগ্রাধিকারে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি ক্ষমতার পালাবদল নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা—যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোয় প্রতিফলিত হতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
অর্থ সংকট
নতুন সরকার পাচ্ছে ভঙ্গুর অর্থনীতি

আসছে নতুন নির্বাচিত সরকার একটি স্বস্তিদায়ক অর্থনীতি পাচ্ছে না। পাচ্ছে কঠিন চ্যালেঞ্জিং, অস্বস্তিদায়ক ও বন্ধুর পথে এগোনোর অর্থনীতি। ভঙ্গুর এই অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে নতুন সরকারকে অজনপ্রিয় অনেক সিদ্ধান্তই হয়তো নিতে হবে। এসব সিদ্ধান্তের বেশির ভাগই আসবে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) চাপ থেকে। এদিকে আইএমএফের চাপ এড়িয়ে যাওয়াও নতুন সরকারের জন্য বেশ কঠিন হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক তাদের পৃথক প্রতিবেদনে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দিক থেকে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার বিষয়ে মন্তব্য করেছে। এসব মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কেও পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু সরকারের জন্য এগুলো বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং।   বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রতিবেদনে বলেছে, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারলে বিনিয়োগের দুয়ার খুলতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না এলে ফের অর্থনীতিতে অস্থিরতা বাড়বে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এতদিন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করা যায়। তখন বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থার সঞ্চার ঘটাতে গ্যাস, বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে বিনিয়োগের পদ্ধতিকে সহজ করতে হবে। ঋণের সুদের হার কমাতে হবে। নির্বাচিত সরকারের ওপর রাজনৈতিক ব্যয় বাড়ানোর চাপ থাকবে। এই চাপ মোকাবিলা করতে হলে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করলেও রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। কারণ রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করলে ও রাজনৈতিক ব্যয় বাড়ালে সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়বে। তখন বেসরকারি খাতের ঋণের দুয়ার সংকুচিত হয়ে পড়বে। পাশাপাশি ঋণের সুদের হার বেড়ে যাওয়ার চাপ থাকবে। এতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যেই ঋণের সুদের হার কমানোর জোর দাবি করেছেন। কিন্তু মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত সোমবার ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নীতি সুদের হার না কমিয়ে ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ঋণের সুদের হার কমবে না। এদিকে আইএমএফও ঋণের সুদের হার না কমানোর পক্ষে। ফলে সরকার কোনদিকে সিদ্ধান্ত নেবে-এটি একটি বড় প্রশ্ন। কারণ সুদের হার কমালে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে। আইএমএফ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, মূল্যস্ফীতির হার ৭ শতাংশের মধ্যে না নামলে নীতি সুদের হার কমানো যাবে না। মূল্যস্ফীতি বেড়ে এখন ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ফলে ঋণের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা আপাতত নেই বললেই চলে। এতে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হবেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরেই অর্থনীতিতে মন্দা চলছে। মন্দার কারণে রাজস্ব আয় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর মন্দা আরও বেড়েছে। রাজস্ব বোর্ড সংস্কার করতে গিয়ে সেখানেও অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে রাজস্ব আয় আরও কমেছে। একদিকে রাজস্ব আয় হ্রাস পেয়েছে, অন্যদিকে সরকারের ব্যয় বেড়েছে। ফলে আয়-ব্যয়ের মধ্যকার ভারসাম্যহীনতা বেড়েছে। ঘাটতি মেটাতে সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিতে বড় ঘাটতি রেখে যাচ্ছে। যে কারণে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়বে। এছাড়া রাজনৈতিক সরকারের খরচও বাড়বে। একদিকে আয় কম, অন্যদিকে খরচ বেশি। ফলে ঘাটতি মেটাতে সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হবে। লুটপাটের কারণে ব্যাংকগুলোর অবস্থাও ভালো নয়, অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। সরকারকে মোটা অঙ্কের ঋণের জোগান দিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়বে না। সরকার এমন উভয় সংকটের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসছে। তিনি আরও বলেন, এ সংকট কাটাতে দ্রুত সরকারকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। উদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করতে হবে। যাতে তারা বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ ও রেমিট্যান্স বাড়ানোর দিকে জোর দিতে হবে। এর মাধ্যমে ব্যবসা চাঙা হলে রাজস্ব আয় বাড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, নির্বাচন, রোজা ও সরকারি কর্মীদের বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করলে বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়বে। এতে চাহিদা বেড়ে আগামী কয়েক মাস মূল্যস্ফীতির হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে নতুন সরকারকে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির ধারায় ক্ষমতায় এসে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ আইএমএফ বরাবরই চাপ দিয়ে আসছে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করতে। এটি করলে টাকার মান আরও কমে যাবে। আইএমএফ মনে করে ডলারের বিপরীতে টাকা অতিমূল্যায়িত। ফলে টাকার মান কমালে আবার মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাবে। বৈদেশিক দায়দেনাও বাড়বে। আইএমএফের মতে, তখন ডলারের দাম বাড়ার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে এবং রিজার্ভ বেড়ে নিরাপদ মাত্রায় পৌঁছবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই অর্থনৈতিক মন্দা যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের সময়ে এসব খাতে আরও অবনতি ঘটেছে। ফলে রাজস্ব আয় হ্রাস পেয়েছে ব্যাপকভাবে। যে কারণে বর্তমান সরকার ঋণ করে চলছে। দেশি ঋণের পাশাপাশি বৈদেশিক খাত থেকেও ঋণ নিচ্ছে। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকায় সীমিত ঋণ নিচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের ছাপানো টাকায় নেওয়া ঋণ পরিশোধও করেছে। ব্যবসায়িক মন্দার কারণে নতুন সরকারের পক্ষে রাজস্ব আয় বাড়ানো একেবারেই সম্ভব নয়। অথচ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে সরকারকে খরচ বাড়াতে হবে। তখন সরকার প্রবল আর্থিক সংকটে পড়বে। এ সংকট মোকাবিলায় নতুন সরকারেরও নির্ভরতা বাড়াতে হবে। আর ঋণ করে রাজনৈতিক ব্যয় করলে মূল্যস্ফীতির হার আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নতুন সরকার আস্থার সঞ্চার করে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড গতিশীল করে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লেগে যাবে। দেশের রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ায় ও বৈদেশিক দেনা কমে যাওয়ায় সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ আমদানি করে শিল্পে দিতে পারবে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, চাঁদাবাজি বন্ধ করা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করা হবে আরেক চ্যালেঞ্জ। নতুন সরকারের জন্য ব্যাংকিং খাত নতুন চ্যালেঞ্জ। এ খাতে যেসব সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তার বিরোধিতা করছে রাজনৈতিক দলের নেতারা। ফলে সংস্কার করা কঠিন হবে। আওয়ামী লীগ আমলে লুটপাটের কারণে এ খাতে তারল্যের চাপ এখনো রয়েছে। লুটের ঋণ খেলাপি হচ্ছে। এতে ব্যাংক খাত দুর্বল হচ্ছে। এমন দুর্বল আর্থিক খাতে অর্থনীতির চাহিদা অনুযায়ী ঋণের জোগান দেওয়া কঠিন। এজন্য পাচার করা টাকা ফেরাতে হবে। কিন্তু এটি বেশ সময়সাপেক্ষ। নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে তাদের চলমান কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এসব করতে অনেক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচিত সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন। নতুন সরকারকে বাংলাদেশের দুর্বল অর্থনীতি ও আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্বল রাজস্ব ব্যবস্থায় ব্যাপকভিত্তিক সংস্কার করে আয় বাড়ানো, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারের নতুন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি আগামী সরকারের জন্য অর্থনীতিতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিও শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে না পারলে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে। আইএমএফের মতে ভর্তুকি কমাতে হবে। এটি করলে পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে। যা নতুন সরকারের জন্য জনঅসন্তোষের কারণ হতে পারে। বিশ্ব ব্যাংক বলেছে, নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে চাহিদা তৈরি হবে। এতে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি সরকারের খরচের চাহিদা বাড়বে। তখন অবকাঠামোর উন্নয়ন হবে। এসব করতে সরকারকে সংস্কার চলমান রাখতে হবে ও রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। এদিকে বর্তমান সরকার অর্থনীতির ক্ষতগুলো চিহ্নিত করে লুটপাট বন্ধ করেছে, টাকা পাচার বহুলাংশে রোধ করেছে। হুন্ডির প্রভাব কমিয়ে রেমিট্যান্স বাড়িয়েছে। নিম্নমুখী রিজার্ভ করেছে ঊর্ধ্বমুখী।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: ভোটে আজ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরীক্ষা

নানা জল্পনা-কল্পনা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।   বিগত শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর এ নির্বাচন ঘিরে দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তা ছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এ নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত হওয়ায় শুরুতে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সংশয় থাকলেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।  দুই দিনের সরকারি ছুটি এবং অতিরিক্ত ছুটির সুযোগে অনেকেই গ্রামে ফিরেছেন; বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ছিল ঈদের আমেজ। আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া ভোট হলেও বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে সারাদেশে। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানে ভোট স্থগিত হওয়ায় সারাদেশে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৭৫৫ জন প্রার্থী। পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গোলাপি ব্যালটে গণভোটে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ তরুণ ভোটার, যাদের একটি বড় অংশ প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ তরুণ ভোটাররাই ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে, যার মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন ৯ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ, সিসি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে নির্বাচনকে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব হবে। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল গণনা শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ধারণা দিচ্ছেন, চূড়ান্ত ফল পেতে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও আস্থাহীনতার পর আজকের নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
বিএনপি
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
নির্বাচিত সরকার দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করবে : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচন হয়ে গেলে নির্বাচিত সরকার দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এবং গৌরবের সঙ্গে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে, তাদের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করে বিদায় নিয়ে নিজ নিজ কাজে ফিরে যাব। আমরা এই শুভ মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’তিনি এই সময় গুজব ও অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানান। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে নাগরিকদের মনে সন্দেহ, ভয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্য একটাই— নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করা, জনগণের আস্থাকে দুর্বল করা।’ গুজব ও অপতথ্যের বিষয়ে সতর্ক করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন নতুন করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নাকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিঘ্ন সৃষ্টি করা। আপনারা নিশ্চিত থাকুন, নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার দায়িত্ব সমাপ্ত করবে।’

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, ইরান বলছে বেঁচে আছেন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েলসহ একাধিক গণমাধ্যমও সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে, এই দাবি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই ইরান সরকার কঠোর ভাষায় তার নেতার জীবিত থাকার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আলম জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও বলা হয়, তিনি দেশের সেনাবাহিনী এবং সরকারের নেতা হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।   খামেনি বেঁচে আছেন, দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন:ইরানের গণমাধ্যমের দাবি এদিকে, এনবিসিতে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ স্থানে আছেন।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও তাদের নেতার বেঁচে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তবে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি, ইরান সরকার তাদের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এ ঘটনার পর বিশ্বের নজর তেহরানে, এবং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

Top week

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, ইরান বলছে বেঁচে আছেন

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১, ২০২৬ 0