২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদদের সম্মাননা এবং তৎকালীন শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে ঘোষিত সময়েও জাদুঘর উদ্বোধন সম্ভব হয়নি। এখনো চলছে নির্মাণকাজ—আর সেই কাজকে ঘিরেই বাড়ছে প্রশ্ন ও বিতর্ক।
গত বছরের ৫ আগস্ট উদ্বোধনের ঘোষণা থাকলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। ১৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেয় প্রফেসর ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও জাদুঘর এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করছেন বিদায়ী সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
জাদুঘরে প্রবেশাধিকার এখনো সীমিত। সাংবাদিক পরিচয়েও ভেতরে ঢোকার অনুমতি মিলছে না। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া প্রবেশ সম্ভব নয়। অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সহকারী রসায়নবিদ মো. আনিছুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব জানিয়েছেন, “এখন কাউকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। আগামী মাসে উন্মুক্ত করা হবে।”
উল্লেখ্য, জাদুঘরটি প্রশাসনিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর-এর সঙ্গে সংযুক্ত রাখা হয়েছে, যদিও আলাদা কোনো ওয়েবসাইট বা বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
জাদুঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১১ কোটি ১৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা। শুরুতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দুটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইএম (ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল) অংশের কাজ পায় ‘শুভ্রা ট্রেডার্স’ এবং পূর্ত অংশের কাজ পায় ‘দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’।
পরে সমালোচনার মুখে গণপূর্ত বিভাগ পুনরায় দরপত্র আহ্বান করলেও শেষ পর্যন্ত একই প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের সুযোগে অনিয়মের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দায়িত্ব ছাড়ার দুইদিন আগে নির্মাণকাজ তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়, যার সভাপতি হন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিজেই। পদত্যাগের পরও কমিটিতে নাম রেখে নিয়মিত জাদুঘরে যাতায়াত করছেন তিনি।
এ বিষয়ে যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) মু. বিল্লাল হোসেন খান জানান, “কমিটিতে নাম থাকায় তিনি সেখানে যেতে পারেন।” তবে পদত্যাগের পরও কমিটিতে দায়িত্ব পালন করার আইনগত ভিত্তি নিয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ফারুকী দাবি করেন, “আমি শুধু কাজটি নির্বিঘ্নে শেষ করার সহায়তা করছি। পুরো কিউরেটোরিয়াল ডিজাইন আমার করা।”
জাদুঘর পরিচালনায় ৯৬ জন লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াও বিদায়ী উপদেষ্টার প্রভাবাধীন—এমন আলোচনা বিভিন্ন মহলে ছড়িয়েছে। যদিও ফারুকী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গণভবনের সম্পূর্ণ জমি ও স্থাপনা ৯৯ বছরের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ নামে লিজ দেওয়া হয়েছে। জমির আয়তন ১৭.৪৬৭৯ একর। বার্ষিক খাজনা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার টাকা।
লিজ দলিলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান স্বাক্ষর করেন।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে জাদুঘর পরিদর্শন করেন। যদিও তাঁর পুরো মেয়াদেও জাদুঘর উদ্বোধন সম্ভব হয়নি।
প্রশ্ন উঠছে—গণভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে কেন্দ্র করে নির্মাণাধীন এই জাদুঘরের কাজ কেন এত গোপনীয়তার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে? পদত্যাগের পরও বিদায়ী উপদেষ্টার সক্রিয় ভূমিকার আইনগত ভিত্তি কী? সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ?
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলছে, অধিকাংশ কাজ শেষ। কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বাকি। দ্রুতই এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তবে ১১১ কোটি টাকার এই প্রকল্প ঘিরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’-এর স্মৃতি সংরক্ষণের এই উদ্যোগই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে যেতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এ বিদেশি স্টেশনগুলোতে স্টেশন ম্যানেজার পদায়নকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনভিজ্ঞ ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নীতিমালা উপেক্ষা, অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিদেশে পদায়ন প্রচলিত গ্রাউন্ড সার্ভিস ম্যানুয়াল (ICAO/IOSA) অনুযায়ী বিদেশে স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে দেশের অভ্যন্তরে ঢাকার বাইরে অন্তত একবার তিন বছরের জন্য স্টেশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সদ্য পদায়িত একাধিক কর্মকর্তারই ঢাকার বাইরে কোনো স্টেশনে কাজের অভিজ্ঞতা নেই। বিশেষ করে কুয়েত স্টেশনে নতুন স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে শামীমা পারভীনকে পদায়ন ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তার আগে একই স্টেশনে দায়িত্বে ছিলেন তার স্বামী মো. শাহজাহান। স্বামীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একই কর্মস্থলে স্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়ার নজির অতীতে নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যোগ্যতার নির্ধারিত অভিজ্ঞতাও তার নেই। ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা—ইব্রাহিম, মো. মিজানুর ও তন্ময় কান্তি বিশ্বাস—চাকরির বয়স মাত্র পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পরই বিদেশে পদায়ন পেয়েছেন। পূর্ববর্তী নীতিমালায় বিদেশে স্টেশন পরিচালনার জন্য ন্যূনতম ৮ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন ছিল। তবে ২০২৩ সালের প্রশাসনিক আদেশে তা কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, এই সংশোধনটি করা হয়েছিল বিশেষ গোষ্ঠীকে সুযোগ করে দিতে। যদিও সংস্থার সভায় আদেশটি পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। সিনিয়রিটি লঙ্ঘনের অভিযোগ ডেপুটি ম্যানেজারদের মধ্যে সিনিয়র কর্মকর্তা মো. ফারুক তালুকদার এবং শাহীনা আক্তার দেশে ঢাকার বাইরে স্টেশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশে পদায়ন পাননি। একইভাবে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারদের মধ্যেও সিনিয়রিটি তালিকার শীর্ষে থাকা মোহাম্মদ সালেহউদ্দিনসহ অন্তত ১৩ জন পদায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক আদেশ ৩৬/২০২৩ অনুযায়ী ভাইভা বোর্ডে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রার্থী ডাকার বিধান থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। মানব পাচার মামলার আসামিকেও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে দায়িত্ব ম্যানচেস্টার স্টেশনে স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে মনিরুল ইসলাম প্রধানের পদায়ন নিয়েও তীব্র সমালোচনা চলছে। প্রায় চার বছর আগে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কর্মরত অবস্থায় মানব পাচার মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তিনি আটক হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে দায়িত্ব দেওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ বলছেন কর্মকর্তারা। গুয়াংজু ও দিল্লি স্টেশনেও বিতর্ক গুয়াংজু স্টেশনে আশরাফুল হকের পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অতীতে অতিরিক্ত ব্যাগেজ সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি স্টেশনে ইয়ারত হোসেনের পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ অতীতে তিনি ভিভিআইপি সফরসঙ্গী হিসেবে ঘনিষ্ঠতার সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সিন্ডিকেট ও উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে, পুরো পদায়ন প্রক্রিয়ার নেপথ্যে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করেছে। এতে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিকুর রহমান, সিএফও নওশাদ হোসেনসহ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা জড়িত বলে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া সাবেক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তিনি একসময় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিমানের চেয়ারম্যান—দুই পদেই দায়িত্বে ছিলেন। তার আমলে দুর্নীতির মাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। লোকদেখানো সাক্ষাৎকারের অভিযোগ গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত স্টেশন ম্যানেজার পদায়নের মৌখিক পরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, নির্বাচিত ব্যক্তিদের নাম আগেই চূড়ান্ত ছিল; সাক্ষাৎকার ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। প্রশাসনিক আদেশ অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তি থাকলে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে ভাইভায় ডাকা যাবে না। অথচ বিতর্কিত অতীত থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন কর্মকর্তা ভাইভা দিয়ে পদায়ন পেয়েছেন। নীরব কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিমান মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি। দেশের ভাবমূর্তি, প্রবাসী যাত্রীদের আস্থা ও বৈদেশিক রাজস্বের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থায় এ ধরনের অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উদ্বেগজনক। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংস্থাটির ভেতরের বহু কর্মকর্তা-কর্মচারী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়ে নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দুইবারের সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিপুল ভোটে বিজয় এবারের নির্বাচনে স্বপন পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট। প্রায় ৪৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে তিনি সরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ১৮ বছর পর এ আসনে বিএনপির জয় দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার সরিকল গ্রামে জন্ম নেওয়া স্বপনের রাজনৈতিক উত্থান ছাত্র রাজনীতি থেকে। আশির দশকে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৩ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে দলের মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-র উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল বলে দলীয় সূত্র জানায়। আন্দোলন চলাকালে তিনি একাধিকবার কারাভোগ করেন। সংসদীয় অভিজ্ঞতা স্বপন ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-1 আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিলেও পরে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূমিকা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও রয়েছে তার অভিজ্ঞতা। তিনি দুইবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়া আইনপ্রণেতাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক পার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশনের এশিয়া অঞ্চলের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষাজীবন ও প্রতিক্রিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা স্বপন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই। দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে দায়িত্ব পালন করব। আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাই।” এলাকায় উৎসবের আমেজ দীর্ঘ ১৮ বছর পর এ আসনে বিএনপির জয় এবং এলাকার একজন নেতার মন্ত্রী হওয়ায় গৌরনদী–আগৈলঝাড়া এলাকায় উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ উদযাপন ও মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় বরিশাল অঞ্চলে বিএনপির রাজনৈতিক পুনরুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।
একটা অনির্বাচিত সরকারের হাত থেকে দেশকে গণতন্ত্রায়নের পথে নিয়ে যেতে সশস্ত্রবাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) সদস্যরা যে ভূমিকা রেখেছেন তা ইতিহাসে অবস্মরণীয় হয়ে থাকবে, বলছেন দেশের আপামর সচেতন মানুষ। সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন এখন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ করে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তাঁর বিশেষ প্রচেষ্টায় এবং নেতৃত্বেই ঐতিহাসিক এক অকল্পনীয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো, দেশে ফিরে এলো গণতন্ত্র। প্রতিটি সাধারণ-সচেতন মানুষ এমন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রশংসা করছেন। ৫ আগস্ট, ২০২৪ এর পরে মানুষ সুশাসন, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং পরিবর্তনের যে স্বপ্ন দেখেছিল তা ধুলিস্মাৎ করে দিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মানুষেকে হতাশ করেছেন। যে কারণে মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখছিল অনির্বাচিত সরকারের পরিবর্তে নতুন একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশের। কিন্তু ড. ইউনূস ক্ষমতা ছাড়াতও কোনো ক্রমেই রাজি হচ্ছিলেন না। রাজনৈতিক দলগুলোর রোডম্যাপের দাবিকে তিনি বার বারই এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানই প্রথম এক বক্তৃতায় ঘোষণা করেন, ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচনে সেনাবাহিনী সরকারকে সহযোগিতা করবে। তাক্ষণিকভাবে সরকারের তরফ থেকে সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করা হয়। কিন্ত জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর লক্ষ্যে অটল থাকেন। অনেকে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে এও গুজব ছড়িয়েছে, ‘আর্মি ক্ষমতা টেকওভার করছে।’ কোনো কোনো মহল থেকে এ ব্যাপারে নেপথ্যে উস্কানিও দেওয়া হয়েছে। এত কিছু সত্ত্বেও ওয়াকার উজ জামান অত্যন্ত ধৈর্য্যরে সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। গণতন্ত্রায়নের পথে ছিলেন অবিচল। গত বছরের মে মাসে সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে তিন বাহিনীর প্রধানরা যমুনায় ড. ইউনূসের সাক্ষাত করে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোর দাবি জানান। এসবের কারণেই মূলতঃ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাধ্য হন লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক ও নির্বাচন আয়োজনের সমঝোতায় যেতে। কিন্তু লন্ডন বৈঠকের সমঝোতায়ও ড. ইউনূস পরবর্তীতে ঠিক থাকতে চাননি। একেক সময় একেক কথা বলেছেন। জামায়াত-এনসিপির নির্বাচন বিরোধী ভূমিকায় নেপথ্য থেকে তা দিয়েছেন। নানামুখী চাপে পড়ে অবশেষে ৫ আগস্ট, ২০২৫ বাধ্য হয়ে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্ধারণের কথা ঘোষণা করেন। এর ধারাবাহিকতায় নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ ও পরবর্তীতে তফসিল ঘোষণা হয়। তবে বরাবরই এমনকি নির্বাচন হয়ে যাওয়ার মুহূর্তেও দফায় দফায় বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে নির্বাচন নিয়ে। অনিশ্চয়তা, গুজব ও নেতিবাচক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে। এতসব বাধা অতিক্রম করে কল্পনাতীত অবাধ, সুষ্ঠু-নিরপক্ষে পরিবেশে নির্বাচন হয়ে গেলো। ‘কল্পনাতীত’ বলা হচ্ছে এ কারণে যে, তফসিল ঘোষণার পরদিনই ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সারা দেশ উত্তাল হয়ে উঠে। তখনই মনে করা হয়েছিল, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কত ঘটনা যে ঘটবে এর ইয়ত্তা নেই। বিশেষ করে নির্বাচনের দিনকে সামনে রেখে সর্বমহলেরই বড় আশংকা ছিল। সব আশংকা এবং জল্পনা-কল্পনাকে মিথ্যা প্রমাণ করে অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশের মধ্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক নির্বাচন হয়ে গেছে। এত বাধা-বিঘ্ন দূর করে দেশকে নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রধান কৃতিত্ব জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানেরই। বিশ্বে এবং বাংলাদেশেও অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে, সেনাবাহিনীর ভূমিকা থাকে গণতন্ত্র বিরোধী। নিজেদের কর্তৃত্ব এবং ক্ষমতা গ্রহণের প্রতি আগ্রহ থাকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্তমান নেতৃত্বের এ ক্ষেত্রে নতুন নজির স্থাপন করলো। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান (মাঝে) এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানেরও এতে ভূমিকা রয়েছে। সশস্ত্রবাহিনীর প্রধান হিসেবে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের আন্তরিকতা, উদ্যোগ ও একাগ্রতা বিশেষভাবে প্রশংসার দাবিদার। নির্বাচনের পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি প্রশংসায় ভাসছেন। অনেকে বলছেন, এই মানুষটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে তাঁর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে। সম্ভাব্য এক গৃহযুদ্ধের দুঃস্বপ্ন থেকে দেশকে রক্ষা করার কৃতিত্ব তাঁরই। ইতিহাস রচনা করে গেলেন তিনি। সেনাপ্রধানসহ সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের প্রতি স্যালুট জানাচ্ছে মানুষ।