চাঁদার দাবিতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে দোকানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে ২২ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন তারা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দুপুরে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের ‘তানিসা আচার ঘর’ নামের ওই দোকানের মালিক মনিরুল হাওলাদার মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে কুয়াকাটার হুইসেন পাড়া মহল্লার মাকসুদ আকন, শাহীন মুসল্লী, আবদুর রহিমসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয় জন এ ঘটনায় জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা কুয়াকাটা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দোকানের মালিক মনিরুল হাওলাদার বলেন, ‘চাঁদার দাবিতে লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে হঠাৎ দোকানে ঢুকে ভাঙচুর চালান স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় দোকানের কর্মচারী হাসানকে পেটানো হয়। একপর্যায়ে মাকসুদ আকন দোকানের ভেতরে ঢুকে গালাগাল করেন। পরে দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে ২২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে পালিয়ে যান তারা। এ বিষয়ে জানতে মাকসুদ আকনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘অভিযুক্তরা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী-সমর্থক। দলে তাদের কোনও পদ-পদবি নেই। ওই দোকানের মালিকানা নিয়ে বিরোধ আছে। তারপরও কারও দোকানে হামলা-ভাঙচুর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখবো। এ ছাড়া দলের নেতাদের জানানো হবে। কোনও অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’ মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। সাধারণ আসনে প্রাপ্ত সংখ্যার ভিত্তিতে দলটি প্রায় ৩৫টি নারী আসন পাচ্ছে। একই হিসাবে জামায়াতে ইসলামী পাচ্ছে ১১টি আসন। এতেই সংরক্ষিত নারীর আসনের সিংহভাগই যাবে বিএনপির ঝুলিতে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন ও সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইন বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া যায়। সংরক্ষিত নারী আসনের হিসাব কীভাবে নির্ধারিত সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সংসদে প্রাপ্ত সাধারণ আসনের ভিত্তিতে প্রতিটি দলের নারী আসনের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত প্রাপ্ত আসন সংখ্যা × ৫০ ÷ ৩০০—এই সূত্রে নারী আসনের হিসাব করা হয়। সাধারণ আসনে কারা কতটি আসন পেয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন—প্রতিটি দল পেয়েছে ১টি করে আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৭টি আসন। আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকায় এখন পর্যন্ত ২৯৭ আসনের ফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-১ আসন ছেড়ে দেওয়ায় সংসদে দলটির প্রতিনিধি সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৮ জনে। জাতীয় সংসদের নারী আসনের নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, বিএনপি ৩৪ দশমিক ৬৬ আসন বা ৩৫টি আসন পাবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১ দশমিক ৩৩ বা ১১ টি আসন পাবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ১টি আসন পাবে (যদি জোট করে) । জাতীয় নাগরিক পার্টি পাবে ১টি আসন। অন্য ছোট দলগুলো নিজেদের মধ্যে জোট না করলে কোনো আসন পাবে না। তবে জোট করলে পাবে ১টি আসন। এক্ষেত্রে বিএনপির আরো একটি আসন বেড়ে দাঁড়াবে ৩৬টি। আবার জোটগত ভাবে যদি নির্বাচন করে তাহলে বিএনপি ৩৫ টি আসনই পাবে। তবে জামায়াতের দুটি আসন বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ টি হবে। দল/জোট নারীর আসন (আনুমানিক) বিএনপি ৩৫–৩৬টি জামায়াতে ইসলামী ১১–১৩টি জাতীয় নাগরিক পার্টি ১টি স্বতন্ত্র/ছোট দল (জোট করলে) ১টি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংসদের নারী সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছি। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে চাই আমরা। এছাড়া শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন ঈদের পরে করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে ভোট হয় শেরপুর-৩ আসনের একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ার কারণে। ওই আসনে পরবর্তীতে নতুন তফসিলের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। এছাড়া তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচন পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ গ্রহণ করে। জাতীয় পার্টিসহ ৪১ টি দল কোনো আসন পাইনি।
দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও দুঃশাসনে ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দলীয় প্রভাব বা জোরজবরদস্তি নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় আইনের শাসনই হবে শেষ কথা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভাষণে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ বাস্তবতায় নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তারেক রহমান বলেন, সারা দেশে জুয়া ও মাদকের বিস্তার সামাজিক অস্থিরতা এবং অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইতোমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি সাংবিধানিক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিধিবদ্ধ নীতি ও নিয়ম মেনেই পরিচালিত হবে। কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব, রাজনৈতিক চাপ বা ব্যক্তিগত ক্ষমতার অপব্যবহার বরদাশত করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দলীয় প্রভাব বা জোরজবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা। সরকারের এই অবস্থান বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।
বরিশাল, ১৯ ফেব্রুয়ারি: বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী নামের এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাতে স্থানীয় বৌসেরহাট বাজারের অদূরে বাদামতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর বিমানবন্দর থানা পুলিশ রাতেই লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী বৌসেরহাট বাজারে ইজারা উত্তোলনের কাজ করতেন। তারাবির নামাজ চলাকালে তিনি বাইসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন। পথে বাদামতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ রাস্তার পাশে হাঁটুসমান পানিতে ফেলে রেখে যায়। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মরদেহের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। রাত ১টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) মর্গে পাঠায়। এদিকে, রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন চৌধুরী ও তার ছোট ভাই কবির চৌধুরীর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। জমি সংক্রান্ত সেই বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তাদের দাবি। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজ বলেন, “দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে চাচাতো ভাইয়ের সন্তান আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরীর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জেরেই তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।” তবে এ হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত—তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), সিআইডি এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের শিবপাশা গ্রামের বাদামতলা এলাকায় বসুরহাট-কাশিপুর বাজার সড়কের উত্তর পাশে একটি গোলপাতার ক্ষেতে বৃদ্ধ দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা বৃদ্ধের মাথার বাম পাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। পরে সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়ে নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দুইবারের সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিপুল ভোটে বিজয় এবারের নির্বাচনে স্বপন পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট। প্রায় ৪৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে তিনি সরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ১৮ বছর পর এ আসনে বিএনপির জয় দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার সরিকল গ্রামে জন্ম নেওয়া স্বপনের রাজনৈতিক উত্থান ছাত্র রাজনীতি থেকে। আশির দশকে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৩ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে দলের মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-র উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল বলে দলীয় সূত্র জানায়। আন্দোলন চলাকালে তিনি একাধিকবার কারাভোগ করেন। সংসদীয় অভিজ্ঞতা স্বপন ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-1 আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিলেও পরে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূমিকা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও রয়েছে তার অভিজ্ঞতা। তিনি দুইবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়া আইনপ্রণেতাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক পার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশনের এশিয়া অঞ্চলের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষাজীবন ও প্রতিক্রিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা স্বপন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই। দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে দায়িত্ব পালন করব। আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাই।” এলাকায় উৎসবের আমেজ দীর্ঘ ১৮ বছর পর এ আসনে বিএনপির জয় এবং এলাকার একজন নেতার মন্ত্রী হওয়ায় গৌরনদী–আগৈলঝাড়া এলাকায় উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ উদযাপন ও মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় বরিশাল অঞ্চলে বিএনপির রাজনৈতিক পুনরুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মব জাস্টিস নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা যতটুকু খারাপ ছিল, এটাকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করতেই হবে। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকার গঠনের পর প্রথম কর্মদিবসে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এই সময়ের চ্যালেঞ্জ, সরকারের চ্যালেঞ্জটা কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসছি আমরা। চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে— টু বিল্ড দ্য নেশন (দেশকে গড়ে তোলা)। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, যিনি আমাদের এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তার প্রথম কথাটি ছিল বাংলাদেশের জন্য, আই হ্যাভ এ প্ল্যান (আমার একটা পরিকল্পনা আছে)। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি তার মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। মন্ত্রিসভা তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে, বাংলাদেশের মানুষের সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করবে এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সামনের দিকে।’ ফখরুল বলেন, ‘ডেমোক্রেসি হচ্ছে আমাদের প্রধান... ইনগ্রেডিয়েন্ট (উপাদান), যাকে নিয়ে আমরা সামনে এগোচ্ছি। অর্থাৎ আমাদের সবকিছুর মধ্যেই গণতন্ত্র থাকবে। আমরা সেই গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, এটার পুরোপুরি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, একেবারে গ্রাসরুট (তৃণমূল) মানুষের সঙ্গে। আমার একটা অ্যাডভান্টেজ আছে, আমি কিন্তু একসময় নিজে লোকাল গভর্নমেন্টে ছিলাম।’ ‘তো আমরা এই জিনিসগুলো সম্পর্কে কিছু ধারণা রাখি। আমি বিশ্বাস করি যে আপনাদের এই মন্ত্রণালয়কে অত্যন্ত ডাইনামিক (গতিময়) একটা মন্ত্রণালয়ে পরিণত করতে পারব। মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে, সেই সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা কাজ করতে পারব।’ দেশের ‘আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি ভঙ্গুর’ দাবি করে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না না, অতটা খারাপ না। আপনারা যতটা খারাপভাবে দেখছেন, অতটা খারাপ না। আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ইমপ্রুভ (উন্নত) হয়েছে। অর্থনীতি, ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি (ব্যাষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা) এটা অনেক ফিরে এসেছে। ব্যাংক তো অনেকটা কন্ট্রোলে এসেছে। এগুলো তো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আমরা মনে করি, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এটাকে আরও ভালো করতে পারব।’ ‘গেল দেড় বছর ব্যাপক মবজাস্টিস হয়েছে,’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অবশ্যই। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা যতটুকু খারাপ ছিল, এটাকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করতেই হবে। একটা বড় ঝড় গেছে আমাদের। একটা বিপ্লব হয়েছে, বিদ্রোহ হয়েছে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এসব মুহূর্তের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে, এটা মনে করার কারণ নেই। এক-দেড় বছর আমরা পার হয়েছি একটা ইন্টারিম গভর্নমেন্টের অধীনে। তারা একটা ইলেকশন দিয়ে গেছে। ইলেকশন করে একটা গভর্নমেন্ট হয়েছে, ইলেকটেড গভর্নমেন্ট হয়েছে। এটাই তো একটা বড় অ্যাচিভমেন্ট (অর্জন)। আমি তো মনে করি, দ্যাটস অলসো এ ভেরি বিগ অ্যাচিভমেন্ট (এটা একটা ভালো অর্জন)।’ ‘আওয়ামীলীগ বিহীন’ নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে কিনা, প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না, এটা কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সবাই বলছে, এটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন (অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন) হয়েছে। এবং এটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন হয়েছে বলেই আজকে এটা একসেপ্টেবল টু অল (গ্রহণযোগ্য) হয়েছে, সকলের কাছে।’ আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কী হবে, প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমরা পলিটিক্যালি পরে আপনাদের জানাব। আমাদের গভর্নমেন্টের আলোচনার পরে জানাব।’ অন্তর্বর্তী সরকারের কার্ক্রম নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করবেন কিনা, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রয়োজন নেই। কারণ তারা একটা বিশেষ মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়েছে। সেই সময়, আমি মনে করি, আমার দলও মনে করে যতটুকু প্রয়োজন ছিল, তারা সেই কাজের সিংহভাগ করতে পেরেছে। মূল সমস্যাটা কী ছিল? ট্রানজিশন টু ডেমোক্রেসি। সেটা তো তারা করে দিয়ে গেছে। সুতরাং ইউ মাস্ট গিভ ক্রেডিট টু দেম (তাদের সেই কৃতিত্ব)। দিতেই হবে। তারা অনেক ভালো কাজ করেছে।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে। সংবিধানে এই পরিষদের শপথ নেওয়ার বিধান নেই উল্লেখ করে বিএনপি দলীয় সদস্যরা এমপি হিসেবে শপথ নিলেও প্রস্তাবিত এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপতির জারি করা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবেও কাজ করবেন। ৬০ সদস্যের কোরাম হলেই এই পরিষদ কাজ করতে পারে। ওই আদেশের ভিত্তিতে যে গণভোট হয়েছে, সেখানে 'হ্যাঁ' ভোট জয় লাভ করেছে। ওদিকে বিএনপি আজ এ পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলেও জামায়াত-এনসিপির ৭৭ জন নির্বাচিত সদস্য একই সাথে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বিএনপির সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় এনসিপি দলীয়ভাবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করে। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, "গণভোটে জনরায়ের সাথে প্রতারণা করে শপথ নিতে যাচ্ছে সরকার"। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, বিএনপি দুটি শপথ না নিলে সংসদে যাওয়াই তো অর্থহীন। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণভোটের রায়ের কারণে যদি জুলাই আদেশ বাস্তবায়নযোগ্যই হয়ে যায়, তাহলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রয়োজনীয়তাই থাকে না। আবার অন্যদিকে যেসব সদস্যরা শপথ নিয়েছেন তারা নিজেরাই জুলাই আদেশ অনুযায়ী নিজেরাই সংবিধান বানিয়ে ফেলতে পারেন। তাদের মতে, জুলাই আদেশে এ ধরনের সুযোগ থাকায় একে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও ফলাফল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে। নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যদের শপথের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদ। বিশেষ করে বিএনপি এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবে কি-না, তা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছিল। সকালে সংসদ ভবনে দলটির নির্বাচিত এমপিরা শপথ নেবার ঠিক আগ মুহূর্তে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ একটি সাদা ও একটি নীল রংয়ের ফরম হাতে নিয়ে মাইকের সামনে দাঁড়ান। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সিনিয়র নেতারা তখন সেখানে সামনের সাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। মি. আহমদ সাদা ও নীল রংয়ের দুটি ফরম হাতে নিয়ে বলেন, "আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এখনো এটা ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেয়াবেন সেটার বিধান করতে হবে। এমন ফরম সংবিধানের তৃতীয় তপশিলে আসবে। সেগুলো সাংবিধানিকভাবে সংসদে গৃহীত হবার পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে। আমরা সংবিধান মেনে এ পর্যন্ত চলেছি। আশা করি সামনের দিনেও চলবো"। এরপর তিনি দলীয় সদস্যদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, "আমি মাননীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে ওনার উপস্থিতিতে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত জানালাম"। প্রসঙ্গত, বিএনপি আগে থেকেই ক্ষমতা গ্রহণের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দলটি সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার কথা বলে আসছে। বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় প্রাথমিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির দিক থেকে। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বেলা সোয়া এগারটায় ফেসবুকে তার পাতায় লিখেন "গণভোটের জনরায়কে প্রথম দিনেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শুরু হলো নতুন সংসদের যাত্রা"। বেলা ১২টা ৩৭ মিনিটে এনসিপির আরেকজন নেতা সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় লিখেন "জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সাথে গাদ্দারি করে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হলো!" বেলা একটা দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় জানায় যে তারা মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না। জামায়াতের একজন সিনিয়র নেতা প্রথমে সংবাদমাধ্যমকে শপথ না নেওয়ার কথা বললেও পরে তারা এমপি হিসেবে শপথ নেন ও একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন তারা। জামায়াত জোটে থাকা এনসিপি সদস্যরাও একই পথ অনুসরণ করেন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি শপথের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে কিন্তু এখন বিএনপি যদি একটি শপথ নেয় তাহলে সেই সংসদে গিয়ে কী হবে? সোমবার কমিশনের চিঠিতে বলা হয় 'মঙ্গলবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার'। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলছেন, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬০ জন পরিষদ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে। "জামায়াত-এনসিপির তো ৭৭ জন ওই আদেশ অনুযায়ী পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আদেশ বলছে কোরামের জন্য দরকার ৬০ জন। তাহলে ওই আদেশ অনুযায়ী তারা তো চাইলে নিজেদের মতো করে একটি সংবিধান বানিয়ে ফেলতে পারে। সেই পথে গেলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী হবে কিংবা তারা সেটি করবে কি-না তা ভবিষ্যতে দেখা যাবে," বলছিলেন তিনি। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১৩ই নভেম্বর গেজেট হওয়া ওই আদেশে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ত্রিশ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহবান করা হবে অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহবান করা হবে। এতে বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিষদের মোট সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে এবং অন্য বিষয়ে উপস্থিত ও ভোট দানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিষদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। মনজিল মোরসেদ বলছেন, এ আদেশ মানলে এসব নিয়ম অনুযায়ী জামায়াত-এনসিপি নিজেরাই পরিষদ আহবান করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এমনকি নতুন সংবিধানও বানিয়ে ফেলতে পারেন। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ পরিষদের গঠন সম্পর্কে বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রতিনিধিগন একই সাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং এই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন। এই ধারায় আরও বলা হয়েছে, আরও বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্য দিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং তা সম্পন্ন করবার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে। কিন্তু বিএনপি শপথ না নেওয়ায় কার্যত এটি করার আর সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক। শাহদীন মালিক বলছেন, যেই ৭৭ জন শপথ নিয়েছেন তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারেন সেই আদেশ বলে। কিন্তু তেমন কিছু করার জন্য সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইলে সেটি আর জনগণের সমর্থন পাবে না বলে মনে করেন তিনি। "জুলাই আদেশ অনুযায়ী গণভোটের জেতার কারণেই যদি এটি বাস্তবায়নযোগ্য হয়ে যায়, তাহলে এমনিতেও আর সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রয়োজন হয় না। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক সংকট তৈরির চেষ্টা আর সফল হবে না, কারণ এখন স্থিতিশীলতা চায়," বলেছেন তিনি। মনজিল মোরসেদ বলছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মধ্যে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলা বীজ রাখা হয়েছে এবং তার মতে, এটি করাই হয়েছে দেশে আবারো অনির্বাচিত সরকার আনার প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য। তিনি বলেন, নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই দেশ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় চলে এসেছে এবং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা ও এমপিদের শপথ হয়েছে সংবিধান অনুযায়ী। বাংলাদেশের বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় সংসদ বহাল না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ বা নতুন আইন জারি করা হলে তা সংসদ বহাল হওয়ার পর উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন করতে হয়। না হলে সেটি বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করে জুলাই বাস্তবায়ন আদেশের যে গণভোট হয়েছে, সেক্ষেত্রে কি হবে, সেটি পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে মনজিল মোরশেদ বলছেন, ''যে অধ্যাদেশে গণভোট হয়েছে, সেটা হয়েছে রাষ্ট্রপতির নামে জারি করা একটি আদেশের ওপর নির্ভর করে। এভাবে অধ্যাদেশ হতে পারে কিনা, সেটি নিয়ে আইনি প্রশ্ন রয়ে গেছে। আবার সেই অধ্যাদেশকে বা গণভোটকে বৈধতা দিতে হলে সংসদে উত্থাপন করে পাশ করাতে হবে। বিএনপি এখন সেটা সংসদে তুলবে কিনা, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।'' তিনি আরো জানান, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষেত্রে সংবিধানে কিছু সীমাবদ্ধতা বেধে দিয়েছে। সংবিধানে যা নেই অর্থাৎ সংসদ যে বিষয়ে আইন করতে পারে না বা সংবিধানের কোনো বিধান পরির্বতন হয়ে যায়, সেসব বিষয়ে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন না। সংবিধানে যেহেতু গণভোটের বিধান নেই, তাই এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির নেই বলে মনে করেন মনজিল মোরশেদ। ফলে এসব বিষয় নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এর মধ্যেই মঙ্গলবার গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও ফলাফল স্থগিত চেয়ে রিট আবেদন করেছেন একজন আইনজীবী। সেই রিটে গণভোট বাতিল চাওয়া হয়েছে। ওদিকে সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণের সময় বিএনপির দিক থেকে যেই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে তারা সংবিধান অনুযায়ী পদক্ষেপ নিবেন। তবে এর আগে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সংবিধান সংস্কারের কিছু বিষয়ে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, নির্বাচনে তাদের ইশতেহার জনগণের ম্যান্ডেট পেলে তার সে অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের পদক্ষেপ নিবে। মনজিল মোরসেদ বলছেন, সংবিধানে সংস্কার আনার বিষয়ে বিএনপি তাদের যে পরিকল্পনার কথা আগে জানিয়েছিল সে অনুযায়ী সংসদে বিল উত্থাপনের মাধ্যমে সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন তারা করতে পারবে। "এবং এটিই হবে সাংবিধানিক পন্থা। এর অন্যথা কিছু হলে সেটি জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে," বলছিলেন তিনি।
২০১৫ সাল। বিরোধী দলীয় রাজনীতিতে চরম দমন-পীড়নের সময়। খালেদা জিয়া গৃহবন্দি, মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর গ্রেফতার, পরে কার্যালয় থেকে আটক হন রুহুল কবির রিজভী। দলীয় বহু সিনিয়র নেতা ছিলেন কারাগারে কিংবা আত্মগোপনে। সেই দুঃসময়ে দলের পক্ষে ধারাবাহিক ও কঠোর বিবৃতি দিয়ে আলোচনায় আসেন বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ। আত্মগোপন থেকে পাঠানো তার বিবৃতিগুলো সরাসরি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনামূলক ছিল। রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এসব বক্তব্য। ১০ মার্চের রহস্য: নিখোঁজ থেকে শিলং ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন সালাহউদ্দিন আহমদ। দীর্ঘ ৬২ দিন পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ভারতীয় পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিলংয়ে উদভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরির সময় স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তাকে আটক করা হয়। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সালাহউদ্দিন বলেন, চোখ বেঁধে তাকে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং তিনি ধারণা করেছিলেন তাকে ‘ক্রসফায়ারের’ জন্য নেওয়া হচ্ছে। পরে শিলংয়ে চোখ খোলার পর বুঝতে পারেন তিনি ভারতে আছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশের কাছে গেলে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন সন্দেহে হাসপাতালে পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি। আইনি লড়াই: ফরেনার্স অ্যাক্ট মামলা ভারতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে মেঘালয় পুলিশ তার বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা করে। ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে খালাস পেলেও ভারত সরকার আপিল করলে তাকে সেখানেই অবস্থান করতে হয়। অবশেষে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিলেও খালাস পান তিনি। আদালত তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ভ্রমণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট দিল্লি থেকে ঢাকায় ফেরেন তিনি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পুনরুত্থান ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যায়। সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আবারও সক্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন সালাহউদ্দিন আহমদ। বিএনপির মনোনয়নে কক্সবাজার-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন—যা তার রাজনৈতিক জীবনের এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। শৈশব, শিক্ষা ও কর্মজীবন ১৯৬২ সালে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার পেকুয়া ইউনিয়নের সিকদার পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। মাধ্যমিক: পেকুয়া শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় (রেকর্ড নম্বরসহ উত্তীর্ণ) উচ্চমাধ্যমিক: চট্টগ্রাম কলেজ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ (এলএলবি ১৯৮৪, এলএলএম ১৯৮৬) ১৯৮৫ সালে ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। গুম, কারাবাসের আশঙ্কা, বিদেশে মামলা, দীর্ঘ আইনি লড়াই—সব পেরিয়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে আসীন হওয়া সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক নাটকীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। দমন-পীড়নের সময় আত্মগোপন থেকে বিবৃতি দেওয়া এক নেতা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় নি
বাবা ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য। মেয়ে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। বলছি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের কথা। ফরিদপুর- ২ আসনের সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা, সালথা) আসনে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। শামা ওবায়েদ প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রয়াত কেএম ওবায়দুর রহমানের কন্যা। শামা ওবায়েদ তার নির্বাচনি এলাকায় জনগণের পাশে থেকে ব্যাপক কাজ করেছেন। সেই কারণে ভোটারদের ভালোবাসায় তিনি বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন।নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন ছিল তার মন্ত্রিত্ব পাওয়ার। এবার সে গুঞ্জনই সত্যি হলো। শামা ওবায়েদের বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। তিনি ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ফরিদপুর-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩-১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও তার প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর তিনি খোন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকারে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালের জেল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে জেল হত্যা মামলায় তিনি খালাস পেয়েছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন এবং ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।এ সময় তিনি প্রথমে মৎস্য ও পশুপালন এবং পরে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬-১৯৮৮ সালে তিনি বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। জুন ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে ফরিদপুর-২ আসনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।আমৃত্যু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
বরিশাল অফিস: বরিশাল বিআরটিসি ডিপোতে বহিরাগতদের চাঁদাবাজি করতে গিয়ে হামলা লুটপাটের অভিযোগ। অতর্কিত হামলায় ডিপোর একজন সুপারভাইজার আহত হয়েছে।এ ঘটনায় আতংকে রয়েছে বিআরটিসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বিআরটিসি ডিপো ও যাত্রী সুত্রে জানা গেছে,২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট থেকে একদল চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা বিআরটিসি ডিপো দখলের পায়তারা করে আসছিল। তাদের দাবি ডিপো থেকে বিআরটিসির বাস বের হলেই চাঁদাবাজদের নির্দিষ্টহারে চাঁদা দিতে হবে।ডিপো ম্যানেজার শক্ত অবস্থানে থাকায় চাঁদাবাজদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। ১২ ফেব্রুয়ারী বিএনপি তিনশত আসনের ২১২ টা আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে। এখন বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারী'২৬ তারিখ বেলা দুটার দিকে লেবার সর্দার মোতালেব মোল্লা, বিআরটিসির চালক হাফিজ,ফিসারী রোডের রাব্বিসহ সাত -আটজনের একটি সন্ত্রাসী দল অতর্কিত হামলা করে বিআরটিসি ডিপোতে কর্মরতদের । হামলায় আহত হয়েছে বিআরটিসির সুপারভাইজার মিরাজ।এ সময় তার নিকট থেকে চাঁদাবাজরা টাকা হাতিয়েও নিয়ে যায়। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। সুত্র জানায়,লেবার সর্দার ও তার পুত্র বিআরটিসির চালক হাফিজের নেতৃত্বে একটি বড় সিন্ডিকেট নৈরাজ্য করে আসছিল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনামলে।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে কোনঠাসা হয়ে পরে।সুযোগবুঝে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে তারা বিআরটিসি ডিপো দখলে নেয়ার জন্য গত সোমবার বাপ-পুত্রের নেতৃত্বে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কে কোন মন্ত্রণালয় পেয়েছেন তার তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু পেয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে দেওয়া হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পেয়েছেন আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট)। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পেয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।আব্দুল আউয়াল মিন্টু পেয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেওয়া হচ্ছে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে। ভূমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পেয়েছেন যথাক্রমে মিজানুর রহমান মিনু ও নিতাই রায় চৌধুরী। আ ম ন এহসানুল হক মিলন পেয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; ফকির মাহবুব আনাম পেয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। শেখ রবিউল আলম পেয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; জহির উদ্দিন স্বপন পেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ পেয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়; আফরোজা খানম পেয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পেয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আসাদুল হাবিব দুলু পেয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; মো. আসাদুজ্জামান পেয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; জাকারিয়া তাহের পেয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং দীপেন দেওয়ান পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
বাংলাদেশে প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় পর আবার নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ। সকালে সংসদ ভবনে নতুন এমপিদের শপথের পর বিকেলেই নতুন সরকারের শপথ নিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংসদ ভবনের খোলা মাঠে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে আরো শপথ নিয়েছেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথ অনুষ্ঠানে দেশ বিদেশের অতিথিরাও অংশ নিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। একই অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভাকেও শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এবার বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশীয় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক দেশি ও বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণ করেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ গ্রহণ করেন বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথেরও আয়োজন করে কর্তৃপক্ষ। প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি এবং জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে। আদালতের নির্দেশনার কারণে দুটি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়নি। আর একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিতকারণে একটি আসনে নির্বাচন হয়নি। এবার নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে রেখে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেয়নি। ফলে নির্বাচনটি হয়েছে বিএনপি ও তার পুরনো মিত্র জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে। অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন: বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সতের বছরের শাসনের অবসান হওয়ার তিন দিন পর ৮ই অগাস্ট সরকার গঠন করেছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এরপরই থেকে দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার জন্য দাবি জানাতে শুরু করে বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দল।ওদিকে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য সব মিলিয়ে এগারটি কমিশন ও পরে সংবিধান সংস্কারের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। ওই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর কয়েকটি বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় নির্বাচনের সাথেই। এদিকে নির্বাচন প্রধান উপদেষ্টা প্রথমে ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে হবে বললেও পরে লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের সাথে বৈঠকের পর দু পক্ষই রোজার আগে নির্বাচনে সম্মত হয়ে একটি যৌথ বিবৃতিতে প্রকাশ করে। এরপর নানা ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন সিইসি এবং এর মাধ্যমেই নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার আপাত অবসান ঘটে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত তারিখেই নির্বাচন হলো এবং তাতে বিএনপি এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে। তারেক রহমান নিজেও দুটি আসনে জয়ের পর ঢাকা-১৭ আসন রেখে বগুড়া -৬ আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।তবে সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর কথা বিদায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার কিংবা তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সংসদ নেই, স্পিকারও নেই। এমনকি ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে।এমন পরিস্থিতিতে সংবিধানে থাকা বিকল্প পন্থা হিসেবে সিইসি এবার এমপিদের শপথ পড়াবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নির্বাচন তফসিল হয়ে গেলেও তখনো লন্ডন থেকে দেশে ফেরেননি তারেক রহমান। কিন্তু এক পর্যায়ে ঢাকায় তার মা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সপরিবারে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর তিনি ২৫শে ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরেছিলেন এবং ৩০শে ডিসেম্বর তার মা খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কয়েকদিন পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। ২০০৬ সালের অক্টোবরে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার প্রায় দুই দশক পর তার নেতৃত্বেই দলটি আবার ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হচ্ছে। ২০০৭ সালে মার্চে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে আটক হয়েছিলেন তারেক রহমান। তখন আঠারো মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন তিনি।তিনিই দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। অন্যদিকে এবারই প্রথম সংসদের প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি এককভাবে ৬৮ ও জোটগতভাবে ৭৭টি আসন পেয়েছে এবারের নির্বাচনে।দলটির নেতারা একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন বলে জানিয়েছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন এই মন্ত্রিসভার চেহারা কেমন হতে যাচ্ছে এবং সেখানে কারা জায়গা পেতে যাচ্ছেন, সেটি নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।নতুন মন্ত্রিসভায় দলের তরুণ নেতারা কতটা স্থান পাচ্ছেন এবং সমমনা দলগুলোকে রাখা হচ্ছে কি-না, এসব প্রশ্ন ঘিরেও বিভিন্ন মহলে নানান আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা হতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি মন্ত্রিসভায় রাখার জন্য বিজয়ীদের কারো কারো পক্ষে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানোর ঘটনাও চোখে পড়ছে।যদিও বিএনপি'র পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন মন্ত্রিসভার আকার ও চেহারার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।তবে তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা বা সরকারের আকার ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের তুলনায় 'অনেকটাই ছোট' । নিজ দলের বাইরে ভোটে জয় পাওয়া সমমনা অন্য দলগুলোর নেতাদের মধ্যেও অনেকে সেই মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন বলে আভাস দিয়েছেন বিএনপি'র সিনিয়র নেতারা।নতুন মন্ত্রিসভায় নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। ২০ বছর পর যেভাবে ক্ষমতায় এলো বিএনপি ২০০৬ সালের অক্টোবরে ক্ষমতা থেকে বিদায়ের প্রায় দুই দশক পর আবারও ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকার গঠন করলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি। এর আগে সর্বশেষ বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে ছিল ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। সেই সরকারের অন্যতম অংশীদার এবং দলটির দীর্ঘদিনের মিত্র রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এবার বসছে বিরোধী দলের আসনে। এবারই প্রথম দলের নির্বাচনী লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিলেন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বেই সংসদ নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে দলটি। দীর্ঘদিন লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত ২৫শে ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। নির্বাচনের মাত্র মাসখানেক আগে মায়ের মৃত্যুর পর দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছিলেন তিনি। এর আগে ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিকে ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন-এই ইস্যুতে রাজনৈতিক সংকট তুঙ্গে উঠেছিল। সেই সরকারের সময়েই ২০০৭ সালে মার্চে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে আটক হয়েছিলেন তারেক রহমান। তখন আঠারো মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন তিনি। খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে একটি দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবার পর লন্ডনে থেকেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন মি. রহমান। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা জানালেন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রিসভার সদস্যদের অনেকে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার কথা জানান মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “রাজনীতিকে ডেমোক্রাটাইজেশন করলে হবে না অর্থনীতিকেও গণতন্ত্রায়ন করতে হবে।”এছাড়া বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন তার সবই নিতে চান নতুন এই মন্ত্রী।দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে চান মন্ত্রিসভার নতুন সদস্য গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, শহীদের আকাঙ্খা পূরণ করাই এই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলাসহ সব খাতে সরকারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া বিএনপি নেতা শামা ওবায়েদ। নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন যারা: নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সালাহউদ্দিন আহমদ ইকবাল হাসান মাহমুদ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এ জেড এম জাহিদ হোসেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ মিজানুর রহমান মিনু নিতাই রায় চৌধুরী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরিফুল হক চৌধুরী জহির উদ্দিন স্বপন মোঃ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আফরোজা খানম রিতা আসাদুল হাবিব দুলু মোঃ আসাদুজ্জামান জাকারিয়া তাহের দীপেন দেওয়ান সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল আ ন ম এহসানুল হক মিলন মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট) ফকির মাহবুব আনাম শেখ রবিউল আলম প্রতিমন্ত্রী হিসাবে যারা শপথ নিয়েছেন: এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মোঃ শরীফুল আলম শামা ওবায়েদ ইসলাম সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কায়সার কামাল ফরহাদ হোসেন আজাদ মোঃ আমিনুল হক (টেকনোক্ৰ্যাট) মোঃ নূরুল হক নূর ইয়াসের খান চৌধুরী এম ইকবাল হোসেন এম এ মুহিত আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর ববি হাজ্জাজ আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন হাবিবুর রশিদ মোঃ রাজিব আহসান মোঃ আব্দুল বারী মীর শাহে আলম মোঃ জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি ইশরাক হোসেন ফারজানা শারমীন শেখ ফরিদুল ইসলাম
বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। গতকাল ইসি সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন। ঢাকা-১৭ আসন রেখেছেন। তার এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে বিজয়ী হলে তিনি কেবল একটি আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারেন। বাকিগুলো ছেড়ে দিতে হয়। সেগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী উপনির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আশানুরূপ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে দলটি এককভাবে ৬৮টি আসন এবং জোটগতভাবে মোট ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছে। ভোটের হিসেবে দলটির প্রাপ্ত ভোট ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। নির্বাচন কী দিল জামায়াতকে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে জামায়াতের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে বসার সুযোগ পাওয়া। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি বিশ্লেষণকারী ড. মুবাশ্বার হাসান বলেন, আদর্শিক ভোটের পাশাপাশি দলটি “এন্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট” ভোটও পেয়েছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে একই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রচারণা চালানো তাদের কৌশলগত সফলতা এনে দিয়েছে। দৈনিক নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর মনে করেন, “আসন ও ভোটের দিক থেকে জামায়াত নিজেদের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে—এটাই তাদের বড় অর্জন।” অতীতের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় স্বাধীনতার পর ভিন্ন নামে ১৯৭৯ সালে ৬টি আসন দিয়ে নির্বাচনী যাত্রা শুরু করে জামায়াত। ১৯৯১ সালে এককভাবে সর্বোচ্চ ১৮টি আসন ২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটে ১৭টি আসন ২০০৮ সালে মাত্র ২টি আসন ১৯৯৬ সালে ৩টি আসন এবারের ৬৮টি একক আসন ও ৭৭টি জোটগত আসন দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আঞ্চলিক ফলাফল: কোথায় শক্তিশালী, কোথায় দুর্বল খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫টিতেই জয় পেয়েছে জামায়াত। খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা জেলায় ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে দলটি। বিশেষ করে সাতক্ষীরার চারটি আসনের সবকটিতে জয় দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। উত্তরাঞ্চল: রংপুরে উত্থান রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ১৭টিতে জয় পেয়েছে দলটি। রংপুর জেলার ৬টির মধ্যে ৫টিতেই জয় জামায়াতের। কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা জেলাতেও উল্লেখযোগ্য ফলাফল এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য, স্থানীয় সমস্যা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম এখানে দলটির সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে। রাজধানী ঢাকায় চমক সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা এসেছে ঢাকায়। ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়েছে জামায়াত। দলটির অভ্যন্তরে এটিকে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজধানীতে অবস্থান শক্তিশালী হওয়া ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যেসব জেলায় দুর্বলতা স্পষ্ট যদিও সামগ্রিকভাবে সাফল্য এসেছে, তবে দেশের বহু জেলায় দলটির অবস্থান দুর্বল রয়ে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় কার্যত কোনো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি জামায়াত। সিলেটে সরাসরি জয় না পেলেও জোটসঙ্গী দল একটি আসনে জয় পেয়েছে। আমিরের বক্তব্য দলের আমির শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেছেন: “জামায়াতে ইসলামী অতীতের অনেক রেকর্ড ভঙ্গ করে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখ নাগরিক আমাদের জোটের প্রতি আস্থা রেখেছেন।” তিনি এটিকে “ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার শুরু” হিসেবে উল্লেখ করেন। সামনে কী? বিশ্লেষকদের মতে, এখন দেখার বিষয়—প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে জামায়াত কী ধরনের ভূমিকা পালন করে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, সংখ্যালঘু অধিকার, নারী ইস্যু এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতিগত অবস্থান—এসব প্রশ্ন এখন নতুন করে সামনে আসবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নির্বাচন জামায়াতকে শুধু আসন ও ভোটই দেয়নি—দিয়েছে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় মঞ্চে একটি নতুন অবস্থান। তবে এই অর্জন ভবিষ্যতে কতটা টেকসই হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক ডেস্ক বিভাগ: জাতীয় রাজনীতি প্রকাশের তারিখ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আগামীর নবগঠিত সরকারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনার ৫৫/১ সিদ্ধেশ্বরী রোডে দলের আমির মুফতি রেজাউল করীম-এর বাসভবনে তারেক রহমান-এর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। মুফতি রেজাউল করীম বলেন, বৈঠকটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারেক রহমান অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন, যা দেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করছি। নির্বাচনে অনিয়ম বা ত্রুটি-বিচ্যুতির অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন—এ বাস্তবতাকে সামনে রেখে তারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চান। তিনি জানান, দেশ গঠনে সহযোগিতা চেয়ে তারেক রহমান আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার জনকল্যাণমূলক কাজ করলে তারা পাশে থাকবে। তবে জনবিরোধী, দেশবিরোধী বা ইসলামবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে দল প্রতিবাদ জানাবে এ ধরনের অবস্থানকে তারেক রহমান স্বাগত জানিয়ে বলেছেন অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলো স্বাধীনভাবে রাজনীতি করবে। তবে প্রতিবাদ করার আগে, আন্দোলন করার আগে আমাদেরকে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। মুফতি রেজাউল করীম বলেন, প্রতিবাদ বা আন্দোলনের আগে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দেশে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করা হবে। নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সহিংসতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আশ্বাস দিয়েছে। প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করে সবার জন্য উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মতভেদ থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদসহ দলের অন্যান্য নেতারা।
দৈনিক দিনকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশকের পদ ছেড়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে যোগ দিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন। সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, সাংবাদিক, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’–এর আহ্বায়ক ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন দৈনিক দিনকালের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে যোগদান করেছেন।
নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আহমেদ। সংবিধানের ১৫৮ অনুচ্ছেদের ২(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তিনি এই শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র নিয়ে সোমবার ( ১৬ ফেব্রুয়ারি) সিইসির বাসভবনে যান সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। সংসদ সচিবালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২১২ আসনে জয় পেয়ে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর পরই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আপত্তি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধানে এ ধরনের কোনো পরিষদের শপথ পড়ানোর এখতিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেই। তিনি আরও বলেন, যদি ভবিষ্যতে সংবিধানে এ বিষয়ে বিধান যুক্ত করা হয় এবং কে শপথ পাঠ করাবেন তা নির্ধারিত হয়, তাহলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ আয়োজন করা সম্ভব হবে। অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পুনর্গঠনের প্রয়োজন এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের প্রায় সব খাতেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এগুলোকে নতুন করে পুনর্গঠন করতে হবে। তবে মন্ত্রিসভায় কে কোন দায়িত্ব পাবেন—এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা ও ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানান। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে ২৫৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা প্রতীকে ৩৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে ১৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। ইসি সচিব জানান, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ২৯৭টি আসনের প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া ৭টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। আখতার আহমেদ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর গণভোটে কাস্টিং ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।
সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নানারকম রাজনীতি হয়েছে। দল ত্যাগ, জোট গঠন ও এক পক্ষ ত্যাগ করে আরেক পক্ষে যোগ দেওয়াসহ বিভিন্ন খেলা দেশবাসী দেখেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যা আলোচিত হয়েছে তা হলো- নিজের দল বিলুপ্ত করে অন্যের ছাতার নিচে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা। এতে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি দল। ২০২৫ সালে সর্বশেষ সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ তথা আরপিও অনুযায়ী জোট গঠন করলেও ভোটে লড়তে হবে নিজ দলের প্রতীক নিয়ে। যেখানে ছোট দলগুলোর বেধেছে বিপত্তি। পরাজিত হওয়ার আশঙ্কায় তারা দলই বিলুপ্ত করে ধানের শীষে নির্বাচন করার জন্য বিএনপিতে ভেড়েন। অর্ধ ডজনের বেশি রাজনৈতিক নেতা এবার সংসদে যাওয়ার আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু তাদের দলের অবস্থা ও জনপ্রিয়তা এর জন্য উপযোগী ছিল না। এক পর্যায়ে দল বিলুপ্ত বা বদল করে অন্য দলে যোগ দেন তারা। এরপরও তাদের অনেকের কপাল খোলেনি। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর জানা যায়, তাদের মধ্যে কয়েকজন নির্বাচনি বৈতরণী পাড় হতে পারেননি। যারা এবারের নির্বাচনে হেরেছেন তাদের কয়েকজনের বিবরণ দেওয়া হলো: সৈয়দ এহসানুল হুদা গত ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ যোগদান করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ফুল দিয়ে সৈয়দ এহসানুল হুদাকে বরণ করে নেন। এহসানুল হুদা নির্বাচনের মাঠে নামার আগে ধানের শীষ প্রতীক পান। কিন্তু তিনি ভোটযুদ্ধে সুবিধা করতে পারেননি। হেরেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে। কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর ও নিকলী) আসনে হাঁস প্রতীকে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট। ড. রেদোয়ান আহমেদ গত ২৪ ডিসেম্বর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের কথা ঘোষণা দেন তিনি। পরে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে লড়েন। কিন্তু বিএনপির বিদ্রোহী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের কাছে পরাজিত হন। এ আসনে পাঁচবারের সাবেক এমপি ড. রেদোয়ান পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯২৫ ভোট, অপরদিকে শাওন পেয়েছেন ৯০ হাজার ৮১৯ ভোট। রাশেদ খান গত ২৭ ডিসেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটিতে যোগদানের ঘোষণা দেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান। এর আগে তিনি নিজ দল থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি ঝিনাইদহ-৪ (সদর ও কালীগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রাশেদ ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তালেবের কাছে হেরেছেন। আবু তালেব পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯ ভোট, আর রাশেদ তৃতীয় অবস্থানে থেকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট। ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির(এনপিপি) চেয়ারম্যান এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক পান। নড়াইল-২ আসনে (লোহাগড়া ও সদরের একাংশ) লড়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। এ নিয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো হারলেন। এ আসনে জেলা জামায়াতের আমির আতাউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীক নিয়ে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট এবং ধানের শীষের প্রার্থী ফরিদুজ্জামান ফরহাদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট। রশীদ বিন ওয়াক্কাস দলের নিবন্ধন না থাকায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের নেতা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু তারও কপাল পুড়েছে। যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ত্রিমুখী লড়াই হয়েছে। এ আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গাজী এনামুল হক বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৫৮। বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে এ আসনে নির্বাচন করা শহীদ মো. ইকবাল হোসেন দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৮৫ হাজার ৫১৭। তৃতীয় অবস্থানে আছেন বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন পাওয়া রশীদ বিন ওয়াক্কাস। তার প্রাপ্ত ভোট ৫৫ হাজার ৪১৯। কেউ কেউ আবার দলবদলের খেলায় সাফল্য পেয়েছেন। তারা ভোটযুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি গত ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- বিএলডিপির (একাংশ) চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ও পান। ড. রেজা কিবরিয়া গত ১ ডিসেম্বর বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর তাকে হবিগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ও পান। এছাড়া এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। পরে ধানের শীষ পেয়ে ঢাকা-১৩ আসনে নির্বাচন করে জয় পান।
নোয়াখালীর হাতিয়ায় নির্বাচনের পরদিন একজন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। ওই নারী অভিযোগ করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কারণে তাকে ধর্ষণ ও লাঞ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে যখন এই অভিযোগ করছিলেন, সে সময়ের ভিডিও বিবিসির কাছে এসেছে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি এ-ও অভিযোগ করছিলেন যে, বৃহস্পতিবার নির্বাচনের পর থেকেই তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিলো। শুক্রবার রাতে তার স্বামীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে ওই নারী অভিযোগ এনেছেন, তারা বিএনপির কর্মী বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট চিকিৎসক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, শনিবার বিকাল পাঁচটার দিকে একজন মহিলা ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তার শারীরে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণ হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে এখনও পরীক্ষা করা হয়নি। এই পরীক্ষার জন্য পুলিশ বা আদালতের চাহিদা বা অনুমতি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন ওই চিকিৎসক। এদিকে, রোববার সকালে দশটায় নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ওই নারীকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তবে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং ধর্ষণের পরীক্ষার জন্য হাসপাতালেও পুলিশ থেকে কোনো পত্র দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এমন অভিযোগের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, ঘটনাটি তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতার কাছে তুলবেন। একইসাথে দলটির অঙ্গ সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে। এদিকে, হাতিয়ার ওই এলাকাটি নোয়াখালী - ৬ আসনে পড়েছে। এই আসনে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন এনসিপির নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মি. মাসউদ। ঘটনাটির তদন্তের আগেই নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন মন্তব্য করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মি. মাসউদ। যদিও বিএনপি নেতারা বলছেন, নির্বাচন পরবর্তীতে একটি ঘটনাকে ইস্যু বানিয়ে তদন্ত হওয়ার আগেই পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ওই নারীর সাথে মোবাইলে কথা বলে আইনী সহযোগীতাসহ সব ধরনের সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিকেলে গণমাধ্যমকে হাতিয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার রাতে কী ঘটেছে? ওই নারী নোয়াখালীর নলেরচর এলাকার একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা বলে জানান। সরকারের তৈরি এই আশ্রয়ন প্রকল্পগুলোতে ভূমিহীন মানুষের বাসস্থান। শনিবার বিকেলে নোয়াখালীর জেনারেল হাসপাতালে স্থানীয় সাংবাদিকরা ওই নারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। সেই সাক্ষাৎকারের ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী দাবি করেন, নির্বাচনের দিন বৃহস্পতিবার থেকে হুমকি পাওয়ায় শুক্রবার রাতে চাচাতো বোনের বাড়িতে চলে যান তিনি। সেখানেও ভাংচুর ও হামলা চালানো হয়। পরে তার স্বামী তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে রাত ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি এসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই নারী। তিনি দাবি করেন, শুক্রবার রাতে ধর্ষণ করার পর আবার শনিবার ভোর ছয়টা সাড়ে ছয়টার দিকে আবার ১০-১২ জন ব্যক্তি আসেন। সেসময় তার স্বামীকে মারধর করে আবার তাকে নিয়ে যায় বলে দাবি করেন এই নারী। এই ঘটনার পর ওই নারীর নিরাপত্তায় হাসপাতালে সাত সদস্যের একটি পুলিশের দল মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ "বানোয়াট ও মিথ্যা"। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ধর্ষণের পরীক্ষার জন্য পুলিশ বা আদালতের রিকুইজিশন লাগে। বিবিসি বাংলাকে মি. চৌধুরী বলেন, "আমরা যথারীতি ওনাকে হাসপাতালে ভর্তি করলাম। পরে চিকিৎসার অংশ হিসেবে ওনাকে যতটুকু পরীক্ষা করার সেটা পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণের ক্ষেত্রে আইনী কর্তৃপক্ষের চাহিদা লাগে, রিকুইজিশন লাগে ধর্ষণের বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য। সেটি আসলে ফরমালি আমরা এখনো পাইনি। এসপি সাহেবের সাথে কথা হয়েছে আমার। ওনারা যদি আমাদের কাছে রিকুইজিশন পাঠান তাহলে আমরা পরীক্ষা করতে পারবো।" এই চিকিৎসক জানান, রোববার সকাল দশটার দিকে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক ওই নারীকে দেখতে হাসপাতালে গেলে চাহিদাপত্রের বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। "আমি ওনাকে বলেছি, ফরমাল পরীক্ষার জন্য আমাদের তো আইনী কর্তৃপক্ষের চাহিদাপত্র লাগে। আপনারা দেবেন বা ভিকটিম যদি কোর্টে মামলা করে, আমাদের কাছে চাইতে হবে। তখন আমরা একটা মেডিকেল বোর্ড করে যাবতীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করে পরীক্ষা শেষে একটা প্রতিবেদন দিতে পারবো" বলেন মি. চৌধুরী। তবে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে হাসপাতালে কোনো চাহিদাপত্র দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। পুলিশ কী বলছে? নোয়াখালীর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ওই নারীর সাথে সকালেই দেখা করেছেন পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন। এ বিষয়ে জানতে কয়েকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লিয়াকত আকবর বিবিসি বাংলাকে জানান, শনিবার আশ্রয়ন প্রকল্পের ওই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি। "আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মারধরের আমরা সত্যতা পেয়েছি। কিন্তু ধর্ষণের বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি" বলেন মি. আকবর। নোয়াখালী – ৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ দাবি করেন, নির্বাচনের ফলাফলের পর ওই এলাকায় ব্যাপক হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছে। মি. মাসউদ বলেন, "মহিলার অভিযোগ সত্যও হইতে পারে, মিথ্যাও হইতে পারে। এটার আমার ধারণা নাই। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, লিগ্যাল প্রসেসেতো যাবে। যেই নিয়মে হওয়ার কথা, মহিলার আগে শারীরিক পরীক্ষা করবে তারপর মন্তব্য করবে। তার আগে কিভাবে এসপি মন্তব্য করে?" এদিকে, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন। মি. নাসিরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে তিনি এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে উল্লেখ করেছেন। "সকল প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, ভিডিও বক্তব্য, চিকিৎসা নথি এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিস্তারিত যাচাই-বাছাই পর্যালোচনা করে এ পর্যন্ত হাতিয়ার ঘটনাটি অনেকের কাছেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত বয়ান বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে" ফেসবুকে লিখেছেন তিনি। গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিভ্রান্তি ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর দাবি-জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে তার ওপর হামলা ও যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির দাবি এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এদিকে, ভুক্তভোগীর স্বামী নিখোঁজ থাকায় মামলা হয়নি। ওই নারীর নিরাপত্তায় হাসপাতালে বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার নোয়াখালীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা দিলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে শনিবার রাতে ঢাকায় এনসিপি বিক্ষোভ করে। এদিকে, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে কমিটি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে প্রথমবারের মতো বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা জয় পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবার নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হারিয়েছে। মাঠের রাজনীতিতে তিন দশকের বেশি সময় সক্রিয় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু-কে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে জয় পান জামায়াতের খুলনা মহানগর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই ছিল এ পরাজয়ের প্রধান কারণ। অতীতের শক্ত ঘাঁটি, ভাঙল দীর্ঘ ঐতিহ্য ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে খুলনা-২ আসন ছিল বিএনপির দখলে। এমনকি ২০০৮ সালের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও জয় ধরে রেখেছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আওয়ামী লীগ সরকারের কঠিন সময়েও তিনি এলাকায় ছিলেন সক্রিয় ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় বিএনপি শিবিরে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি তৈরি হয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রার্থী ঘোষণার পরও প্রথমদিকে মাঠে সক্রিয়তা না থাকা নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে। টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রার্থী ঘোষণার পরও মঞ্জু ভাইকে প্রথম পর্যায়ে মাঠে দেখা যায়নি। নির্দিষ্ট কার্যক্রম ছাড়া ডোর টু ডোর প্রচার ছিল না। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী শুরু থেকেই মাঠে সক্রিয় ছিল।” পরিকল্পিত প্রচারে এগিয়ে জামায়াত জামায়াত প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল ছিলেন কৌশলী ও সংগঠিত। দলটির নেতাকর্মীরা পাড়া-মহল্লাভিত্তিক ছোট ইউনিটে ভাগ হয়ে ঘরে ঘরে প্রচারণা চালান। বিশেষ করে নারী ভোটারদের কেন্দ্রে আনার বিষয়ে ছিল আলাদা উদ্যোগ। বিএনপির প্রচারণা যেখানে মূল সড়ক ও বাজারকেন্দ্রিক ছিল, জামায়াত সেখানে অলিগলি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সংগঠিত উপস্থিতি নিশ্চিত করাই ছিল তাদের প্রধান কৌশল। দলটির কর্মী জিকু আলম জানান, “বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আমাদের মাথায় ছিল। ভোটারদের আস্থা থাকলেও তাদের বিশৃঙ্খলার সুযোগ আমরা কাজে লাগিয়েছি।” দলীয় কোন্দল: পরাজয়ের বড় কারণ ২০২১ সালে খুলনা মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়। মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড কমিটি থেকে তার অনুসারীদের বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। নির্বাচনের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐক্যের ছবি দেখা গেলেও বাস্তবে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। বর্তমান কমিটির অনেক প্রভাবশালী নেতা মাঠে সক্রিয় হননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সেকেন্দার আলী খান সাচ্চু বলেন, “কোন্দলের প্রভাব পড়েছে। আমরা দুই অংশ এক হলেও সবাই সেভাবে কাজ করেনি।” খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “এ আসনে তুলনামূলক ভোট কম পড়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে।” ভবিষ্যৎ সমীকরণে নতুন বার্তা খুলনা-২ আসনে জামায়াতের এই জয় দলটির জন্য কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর পরিকল্পিতভাবে প্রার্থী দিয়ে তারা একটি ঐতিহ্যবাহী আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, “এখনো বুঝে উঠতে পারছি না কেন হারলাম। বিষয়টি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ চলছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খুলনা-২ আসনের ফলাফল শুধু একটি আসনের পালাবদল নয়—এটি ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। দলীয় ঐক্য, মাঠভিত্তিক সংগঠন এবং ভোটার ব্যবস্থাপনা—এই তিনটি উপাদানই আগামী দিনের রাজনীতিতে নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান Press Institute of Bangladesh (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পিআইবি থেকে অবসর গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পাওনা সংক্রান্ত বিষয় ঝুলিয়ে রেখে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং তারা অভিযোগ করছেন যে তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা নিষ্পত্তি না করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৪ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নীতিমালার বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে পিআইবির কর্মচারী ফরিদ আহমেদ-এর সঙ্গে অমানবিক আচরণের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এই অনিয়ম দুর্নীতি অবৈধ নিয়ম বিষয়ে কথা বলায়,মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে পিআইবির সিনিয়র পরীক্ষক পারভীন সুলতানা রাব্বিকে যড়যন্ত্র ও কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে বদলি করা হয়েছে এবং আলী হোসেনের সুনিশ্চিত কারণ ছাড়া অবসর দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হয়েছে বলেও জানা যায়। এভাবে অবসরপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গেই তিনি অনুরূপ আচরণ করে থাকেন। এছাড়াও, তিনি প্রায় ৩৪ জন লোককে পিআইবিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন। ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী: বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের অনিয়মের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে মহাপরিচালক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়ম ও লুটপাটের মহোৎসবে পরিণত করেছেন—এমন অভিযোগ বিভিন্ন মহলে উত্থাপিত হয়েছে। তাই দ্রুত তাকে অপসারনের দাবী জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। তিনি ডিজি পদে টিকে থাকার লক্ষ্যে তিনি নানামুখী তৎপরতা ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলেও জানা যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি রাখে।তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে, বিষয়টির প্রতি যাতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।