Brand logo light
বাংলাদেশ

গুম থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
সালাহউদ্দিন
সালাহউদ্দিন

২০১৫ সাল। বিরোধী দলীয় রাজনীতিতে চরম দমন-পীড়নের সময়। খালেদা জিয়া গৃহবন্দি, মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর গ্রেফতার, পরে কার্যালয় থেকে আটক হন রুহুল কবির রিজভী। দলীয় বহু সিনিয়র নেতা ছিলেন কারাগারে কিংবা আত্মগোপনে।

সেই দুঃসময়ে দলের পক্ষে ধারাবাহিক ও কঠোর বিবৃতি দিয়ে আলোচনায় আসেন বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ। আত্মগোপন থেকে পাঠানো তার বিবৃতিগুলো সরাসরি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনামূলক ছিল। রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এসব বক্তব্য।

১০ মার্চের রহস্য: নিখোঁজ থেকে শিলং

২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন সালাহউদ্দিন আহমদ। দীর্ঘ ৬২ দিন পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ।

ভারতীয় পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিলংয়ে উদভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরির সময় স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তাকে আটক করা হয়।

এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সালাহউদ্দিন বলেন, চোখ বেঁধে তাকে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং তিনি ধারণা করেছিলেন তাকে ‘ক্রসফায়ারের’ জন্য নেওয়া হচ্ছে। পরে শিলংয়ে চোখ খোলার পর বুঝতে পারেন তিনি ভারতে আছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশের কাছে গেলে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন সন্দেহে হাসপাতালে পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি।

আইনি লড়াই: ফরেনার্স অ্যাক্ট মামলা

ভারতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে মেঘালয় পুলিশ তার বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা করে।

২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে খালাস পেলেও ভারত সরকার আপিল করলে তাকে সেখানেই অবস্থান করতে হয়। অবশেষে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিলেও খালাস পান তিনি। আদালত তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে ভ্রমণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট দিল্লি থেকে ঢাকায় ফেরেন তিনি।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পুনরুত্থান

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যায়। সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আবারও সক্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিএনপির মনোনয়নে কক্সবাজার-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন—যা তার রাজনৈতিক জীবনের এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের প্রতীক।

শৈশব, শিক্ষা ও কর্মজীবন

১৯৬২ সালে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার পেকুয়া ইউনিয়নের সিকদার পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

  • মাধ্যমিক: পেকুয়া শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় (রেকর্ড নম্বরসহ উত্তীর্ণ)

  • উচ্চমাধ্যমিক: চট্টগ্রাম কলেজ

  • স্নাতক ও স্নাতকোত্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ (এলএলবি ১৯৮৪, এলএলএম ১৯৮৬)

১৯৮৫ সালে ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পান।

 

গুম, কারাবাসের আশঙ্কা, বিদেশে মামলা, দীর্ঘ আইনি লড়াই—সব পেরিয়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে আসীন হওয়া সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক নাটকীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

দমন-পীড়নের সময় আত্মগোপন থেকে বিবৃতি দেওয়া এক নেতা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় নি

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ
সিলেট ও ময়মনসিংহে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হামের বিস্তার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে শুধু সিলেট বিভাগেই—যেখানে কয়েক মাস ধরেই শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগটির বিস্তার নিয়ে স্বাস্থ্যখাতে সতর্কতা বাড়ছিল। শনিবার (২৩ মে) সকালে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। নতুন এই মৃত্যুর পর চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চাপ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুজন চিকিৎসাধীন ছিল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকি দুজন শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অন্তত ২৯৫ জন রোগী। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় নতুন কোনো রোগী নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়নি, একই সময়ে আরও ৪৩ জন শিশু ও রোগীকে সন্দেহভাজন হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আক্রান্তদের বড় অংশই টিকাবঞ্চিত অথবা নির্ধারিত সময়ে টিকা সম্পন্ন করতে পারেনি। সংখ্যার ভেতরের বাস্তবতা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১৫৮ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে—মৃত ৫১ শিশুর মধ্যে মাত্র চারজনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে। বাকি মৃত্যুগুলোকে “হামের উপসর্গজনিত সন্দেহভাজন মৃত্যু” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল পরিসংখ্যানগত সীমাবদ্ধতার বিষয় নয়; বরং মাঠপর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, পরীক্ষার সক্ষমতা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতারও ইঙ্গিত দেয়। কেন বাড়ছে ঝুঁকি? স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে— অনেক শিশু সময়মতো এমআর (Measles-Rubella) টিকা পাচ্ছে না দুর্গম এলাকায় টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে উপসর্গ শুরুর পর হাসপাতালে আনতে দেরি হচ্ছে অপুষ্টি আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জটিলতা দ্রুত বাড়ছে গ্রামীণ পর্যায়ে সচেতনতার অভাব এখনও বড় চ্যালেঞ্জ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাম সাধারণ ভাইরাসজনিত রোগ হলেও অপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ প্রাণঘাতী জটিলতায় রূপ নিতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেট অঞ্চলে টিকাদান জোরদার, হাসপাতাল পর্যায়ে বিশেষ নজরদারি এবং সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত শনাক্তের উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—শিশুর জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা না গেলে এই সংক্রমণ আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণ

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগ: অভিযুক্তকে ঘিরে রাতভর রণক্ষেত্র, প্রশ্নে জনরোষ ও আইনশৃঙ্খলা

গলদা-বাগদা রেণুপোনা

বরগুনায় কোটি টাকার গলদা-বাগদা রেণুপোনা জব্দ, নদী থেকে অবৈধ আহরণের অভিযোগ

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি)

হাবিপ্রবিতে হল সংঘর্ষ: ভাঙচুর, হামলা ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় ৩১ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

পবিপ্রবি
পবিপ্রবির ২২ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভ্যানচালককে মারধরের মামলা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) চলমান প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্যে এবার ভ্যানচালককে মারধরের অভিযোগে ২২ শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই এ ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকালে পটুয়াখালীর দুমকি আমলি আদালতের বিচারক আবু বকর মামলাটি সিআর মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের দায়িত্ব পটুয়াখালী পিবিআইকে দিয়েছেন। এর আগে বুধবার বিকালে দুমকি উপজেলার পীরতলা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. বশির উদ্দিন বাদী হয়ে পটুয়াখালীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ও পটুয়াখালী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এটিএম মোজাম্মেল হোসেন তপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলায় যেসব অভিযোগ মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১১ মে সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের সামনে ভ্যানচালক আইয়ুব আলীকে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এ সময় ভ্যানে থাকা প্রায় এক লাখ টাকার মালামালও নষ্ট করা হয়। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। আন্দোলনের প্রেক্ষাপট গত কয়েকদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ড. কাজী মো. রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একটি অংশ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীদের পক্ষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেন, চলমান আন্দোলনের সময় সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসনের দায়ের করা মামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই নতুন এই মামলা করা হয়েছে। তার ভাষ্য, “যারা উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে আন্দোলন করছেন, মূলত তাদেরই আসামি করা হয়েছে। এটি একটি সাজানো ও মিথ্যা মামলা।” প্রশাসনের নীরবতা তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রশাসনিক বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তদন্তে কী খতিয়ে দেখবে পিবিআই আদালতের নির্দেশে এখন মামলাটির তদন্ত করবে পিবিআই। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, হামলার ঘটনাস্থল, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই মামলা নতুন করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
শওকত হাচানুর রহমান রিমন

বরগুনার সাবেক এমপি রিমনের সম্পদ জব্দের নির্দেশ, ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ

ডা. আশীষ কুমার হালদার

বরিশালে চিকিৎসা অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু: দুঃখ প্রকাশ করলো ডা. আশীষ কুমার হালদার

ঝালকাঠির পুরাতন পৌর গোরস্থান পরিষ্কার করল ‘প্রত্যয় তরুণ সংঘ’

ঝালকাঠির পুরাতন পৌর গোরস্থান পরিষ্কার করল ‘প্রত্যয় তরুণ সংঘ’ | সম্প্রীতি ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত

ঝালকাঠির সারেংগল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতিতে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

হাসনাইন তালুকদার দিবস,ঝালকাঠি: ঝালকাঠির কেওড়া ইউনিয়নের “সারেংগল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি” ঘিরে উঠেছে অর্থ আত্মসাত, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ। সমিতির সভাপতি শেখ মজিবরের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে তদন্ত দাবি করেছেন সদস্যরা। অভিযোগের পক্ষে ৮০ জনের বেশি সদস্য স্বাক্ষর করে ঝালকাঠি জেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে ৪৯ ধারায় তদন্তের আবেদন জমা দিয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্রে জানা যায়, সমিতির সভাপতি শেখ মজিবর এলাকায় “জ্বীনের বাদশা” নামেও পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, সমিতির কার্যালয় ব্যবহার করে প্রতি শুক্রবার সেখানে তাবিজ-কবজ ও ঝাড়ফুঁকের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। চলতি বছরের শুরুতে সমিতির সদস্য নম্বর ৪৯২-এর সদস্য মো. ইলিয়াস হোসেন সদস্যদের পক্ষে জেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। ওই আবেদনে সমিতির আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদন্তের দাবি জানানো হয়। এরপর গত ১০ মে সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন মৃধা স্বাক্ষরিত আরও একটি আবেদন জেলা সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা পড়ে। সেখানে সদস্যদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, সমিতির কার্যালয় ও নথিপত্র উদ্ধার এবং নিয়ম অনুযায়ী নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। অচল সমিতি, কার্যালয়ে তাবিজ বাণিজ্যের অভিযোগ সরেজমিনে সারেংগল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির কার্যালয়টি সভাপতির বাড়ির ভেতরে অবস্থিত। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সমিতির কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে আছে। অভিযোগ রয়েছে, সমিতির অফিসে নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের পরিবর্তে প্রতি শুক্রবার ঝাড়ফুঁক, জ্বীন চালান ও তাবিজ বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগের বিষয়ে শেখ মজিবর বলেন, “এই অভিযোগকে আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি না, বিষয়টি আমার কাছে কিছুই না।” সদস্যদের অভিযোগ: হিসাব নেই, নির্বাচন নেই সারেংগল বাজার এলাকায় সমিতির সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই সমিতির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সদস্য আবু সুফিয়ান মিন্টু, খাদেমুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন বাবুল, শাহীন মৃধা ও ইলিয়াস হোসেনসহ একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, সভাপতি শেখ মজিবর কোনো ধরনের স্বচ্ছ হিসাব উপস্থাপন ছাড়াই সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিধি অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন না করে কাগজে-কলমে নিজের স্ত্রী মোসা. নাছিমা বেগমকে সভাপতি দেখিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অভিযোগকারী সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সমিতির নামে লিজ নেওয়া রাস্তার পাশের কিছু আমড়া গাছের ফল বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয়। পরে বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায় এবং স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এরপর নিজের অবস্থান শক্ত করতে শেখ মজিবর সমিতির সদস্য সচিব হিসেবে শাহীন মৃধা এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে হাসান মাহামুদ রিন্টুকে দায়িত্ব দিলেও তাদের কাছে কোনো নথিপত্র বা কার্যকর দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সদস্যদের দাবি, নানা গড়িমসির মাধ্যমে কমিটির মেয়াদ শেষ করা হলেও কোনো আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের আশ্বাস জেলা সমবায় কর্মকর্তার এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগপত্র হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, সমিতির কার্যক্রম সচল করতে নতুন অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২২, ২০২৬ 0
অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড

এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ : তদন্তে দুদক ও ভ্যাট গোয়েন্দা

বরিশালে ডিবি পুলিশের অভিযান,আটক ৬

বরিশালে ডিবি পুলিশের অভিযান,আটক ৬

সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজ

সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুস সালামের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0